‘ক্ষমতা ছাড়লে কেউ স্মৃতিস্তম্ভ বানাবে না’, তাই সবকিছুতেই নিজের নাম দিচ্ছেন ট্রাম্প
প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়ার পর তার জন্য কেউ স্মৃতিস্তম্ভ বা স্থাপনা নির্মাণ করবে না - এমন কারণেই নিজের নামে বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রকল্প করার উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ‘নিউইয়র্ক ম্যাগাজিন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক বেন টেরিস ট্রাম্পকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের একটি মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। অসফের বক্তব্য ছিল, ট্রাম্প নিজের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করছেন, কারণ তিনি মনে করেন, ক্ষমতা ছাড়ার পর আর কেউ তাকে সম্মান জানিয়ে এমন স্থাপনা তৈরি করবে না।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, “এটা সত্যি। আমি চলে যাওয়ার পর কেউ এটা করবে না। আমি যখন এখান থেকে চলে যাব, তখন কেউ করবে না।”
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ওয়াশিংটন ডিসিতে একাধিক বড় নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে রয়েছে হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ের জায়গায় বিশাল বলরুম নির্মাণ, কেনেডি সেন্টারে তার নাম যুক্ত করার উদ্যোগ, লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার এবং আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেট্রির কাছে একটি প্রায় ২৫০ ফুট উচ্চতার বিজয় তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনা।
হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙে সেখানে নতুন বলরুম নির্মাণ নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক ও আইনি লড়াই হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, নতুন স্থাপনাটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পে একটি ভূগর্ভস্থ নিরাপত্তা স্থাপনা ও ছাদে ড্রোন পরিচালনার সুবিধার কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেট্রির কাছে প্রস্তাবিত বিজয় তোরণ নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার এক ফেডারেল বিচারক প্রশাসনকে সেখানে কোনো কার্যক্রম শুরুর আগে অন্তত ৪৮ ঘণ্টার নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তোরণটির চূড়ান্ত অনুমোদনও এখনো পাওয়া যায়নি।
নিজের নাম ব্যবহারের প্রবণতা শুধু স্থাপনা নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের নামেও তার নাম যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’, ‘ট্রাম্পআরএক্স’ এবং ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’। সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় তার ছবি ও নাম ব্যবহারের ঘটনাও নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ে ওয়াশিংটনের স্থাপত্য ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজের দীর্ঘমেয়াদি ছাপ রেখে যাওয়ার নানা প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। তার সমর্থকেরা এসবকে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখলেও সমালোচকেরা এগুলোকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচার ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View more২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রায় এক মাস পর, উদ্ধারকর্মীরা গ্রাউন্ড জিরোর ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করার সময় বিস্ময়কর এক আবিষ্কার করেন। সেখানে তারা একটি ‘ক্যালারি পিয়ার’ (Callery pear) গাছ খুঁজে পান, যা তখনও বেঁচে ছিল। গাছটির অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ; এর শিকড় ছিঁড়ে গিয়েছিল, শাখা-প্রশাখা পুড়ে ও ভেঙে গিয়েছিল এবং এর বড় একটি অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তবে গাছটিকে কেটে ফেলার পরিবর্তে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অফ পার্কস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন এটি উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেয়। তারা গাছটিকে ব্রঙ্কসের একটি নার্সারিতে নিয়ে যায় এবং বছরের পর বছর ধরে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করে। সব প্রতিকূলতাকে জয় করে গাছটি অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় এবং ধীরে ধীরে নতুন পাতা মেলতে শুরু করে। দীর্ঘ পরিচর্যার পর, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে গাছটিকে আবারও ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সেই একই স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে এটি ৯/১১ মেমোরিয়ালে সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে এবং ‘সারভাইভার ট্রি’ বা ‘বেঁচে ফেরা গাছ’ নামে পরিচিত। গাছটির নতুন, সতেজ শাখা-প্রশাখার মাঝে এর পুরোনো ক্ষতচিহ্নগুলো এখনও দৃশ্যমান। এই গাছটি এখন কেবল একটি উদ্ভিদ নয়, বরং এটি এক অদম্য জীবনীশক্তির প্রতীক; যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অকল্পনীয় ধ্বংসের পরও কীভাবে জীবন আবার নতুন করে শুরু হতে পারে।
এআই চ্যাটে স্কুলে হামলার পরিকল্পনা, এফবিআইয়ের কাছে তথ্য যাওয়ার পর টেক্সাসে যুবক গ্রেপ্তার
“আমেরিকান সড়ক, আমেরিকান গাড়িচালক” - ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসিইর অভিযান জোরদার
‘ক্ষমতা ছাড়লে কেউ স্মৃতিস্তম্ভ বানাবে না’, তাই সবকিছুতেই নিজের নাম দিচ্ছেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রগামী দুই যাত্রীর কাছ থেকে ঘোষণা না করা ১৯ হাজার ডলার জব্দ করেছে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)। প্রশিক্ষিত কুকুরের সংকেতের পর তাদের কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের সন্ধান পাওয়া যায়। ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার। সিবিপির তথ্য অনুযায়ী, ৩ বছর বয়সী চকলেট রঙের ল্যাব্রাডর কুকুর নাইট্রো সান্তো দোমিঙ্গোগামী একটি ফ্লাইটে আলাদাভাবে ওঠার চেষ্টা করা এক নারী ও এক পুরুষের বিষয়ে কর্মকর্তাদের সতর্ক করে। নাইট্রোকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ শনাক্ত করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সিবিপি জানায়, ৬৩ বছর বয়সী ওই নারী তার কাছে ৯ হাজার ডলার এবং ৭৯ বছর বয়সী ওই পুরুষ ৫ হাজার ডলার থাকার কথা জানান। পরে তাদের সিবিপির পরিদর্শনকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে তারা প্রথমে একসঙ্গে ভ্রমণের কথা অস্বীকার করলেও কর্মকর্তারা দেখতে পান, তাদের লাগেজ একই ধরনের। পরে দুজনই একসঙ্গে ভ্রমণের কথা স্বীকার করেন। তল্লাশিতে তাদের কাছে মোট ১৯ হাজার ৬৮১ ডলার পাওয়া যায়। এর মধ্যে মানবিক কারণে ৬৮১ ডলার ফেরত দেওয়া হয় এবং বাকি ১৯ হাজার ডলার জব্দ করে সিবিপি। পরে ওই দুই যাত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সিবিপির কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অর্থের পরিমাণ ভাগ করে এবং আলাদাভাবে ভ্রমণের দাবি করে ওই দুই যাত্রী মার্কিন মুদ্রা ঘোষণার নিয়ম এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। ফিলাডেলফিয়া এলাকার ভারপ্রাপ্ত বন্দর পরিচালক এলিয়ট অর্টিজ বলেন, প্রশিক্ষিত কুকুর ও কর্মকর্তাদের তৎপরতায় বিষয়টি ধরা পড়ে। মার্কিন আইনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা দেশ থেকে বের হওয়ার সময় ১০ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ বা আর্থিক উপকরণ বহন করলে তা ঘোষণা করতে হয়। এ জন্য ফিনসেন-১০৫ ফরম জমা দিতে হয়। নিয়ম না মানলে অর্থ জব্দের পাশাপাশি দেওয়ানি বা ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সিবিপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে সংস্থাটির কর্মকর্তা ও এজেন্টরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার ঘোষণা না করা বা অবৈধ মুদ্রা জব্দ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যরাতে পুলিশ বা আইস দরজায় এলে কী করবেন, আদালতের আদেশ ছাড়া ঘরে প্রবেশের নিয়ম কী
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ১৫ বছর বয়সে খুন, সেই কিশোরের ৪০ বছরের কারাদণ্ড
‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে নতুন প্রস্তাব!’ মস্কো ও কিয়েভ সফরে ট্রাম্পের দুই বিশেষ দূত
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে তুরস্কের একটি ব্যাংক ও এর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইস্তাম্বুলভিত্তিক গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংকাসি এবং এর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কথা জানায়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কুদস বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেনে সহায়তা করেছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংকাসি, গোল্ডেন গ্লোবাল পোর্টফয় পোনেতিমি এবং গোল্ডেন গ্লোবাল ভারলিক কিরালামা। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনটি প্রতিষ্ঠানকেই বিশেষভাবে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের লেনদেনের সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, গোল্ডেন গ্লোবাল ইরানের ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে চীন থেকে তুরস্কে তেল বিক্রির অর্থ স্থানান্তরে ভূমিকা রেখেছে। পরে সেই অর্থ নগদ অর্থ ও সোনায় রূপান্তরের সুযোগ তৈরি করা হতো বলেও অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন। প্রতিষ্ঠানটি ইরানের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার মাধ্যমে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কুদস বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত হিসাব ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে বলেও মার্কিন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে। ইরানের আর্থিক যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল করার বৃহত্তর মার্কিন উদ্যোগের অংশ হিসেবেই সর্বশেষ এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে অন্য দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে ওয়াশিংটন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রমে নেটো জোটভুক্ত কোনো দেশের ব্যাংকের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম এমন পদক্ষেপ। নিষেধাজ্ঞা বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্কের একটি ব্যাংককে লক্ষ্য করে এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আর্থিক যোগাযোগ রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, তুরস্কের ব্যাংকটির সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া অন্য বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানও পরবর্তী সময়ে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংক মার্কিন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ব্যাংকটি জানিয়েছে, তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং এবং নিয়মনীতি মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তারা তাদের গ্রাহক নয় এবং তাদের সঙ্গে ব্যাংকটির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্কও নেই বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে আইনি অধিকার প্রয়োগের কথাও জানিয়েছে ব্যাংকটি। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংকের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ হাজার কোটি তুর্কি লিরা। রয়টার্সের হিসাবে, এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫২ কোটি মার্কিন ডলারের সমান। আকারে ছোট হলেও তুরস্কের এই ব্যাংককে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াকে ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর চাপ বাড়ানোর বৃহত্তর মার্কিন উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। একজন নিষেধাজ্ঞা বিশেষজ্ঞ মনে করেন, গোল্ডেন গ্লোবালের ওপর পদক্ষেপ ইরানের ওপর চাপ কিছুটা বাড়াতে পারে। তবে এর মাধ্যমে যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। সর্বশেষ এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক ও আর্থিক যোগাযোগব্যবস্থার ওপর চাপ আরও জোরদার করল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কয়েকটি ব্যাংক শাখার বিরুদ্ধেও ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কাজে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। সূত্র: রয়টার্স
যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে মস্কোয় উইটকফ-কুশনার, কিয়েভ সফর ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
ছেলেকে ক্যানসারে হারিয়ে বাইডেনকে চিঠি, ৫ দিন পর যে উত্তর পেলেন মা