- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রগামী দুই যাত্রীর কাছ থেকে ঘোষণা না করা ১৯ হাজার ডলার জব্দ করেছে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)। প্রশিক্ষিত কুকুরের সংকেতের পর তাদের কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের সন্ধান পাওয়া যায়। ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার। সিবিপির তথ্য অনুযায়ী, ৩ বছর বয়সী চকলেট রঙের ল্যাব্রাডর কুকুর নাইট্রো সান্তো দোমিঙ্গোগামী একটি ফ্লাইটে আলাদাভাবে ওঠার চেষ্টা করা এক নারী ও এক পুরুষের বিষয়ে কর্মকর্তাদের সতর্ক করে। নাইট্রোকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ শনাক্ত করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সিবিপি জানায়, ৬৩ বছর বয়সী ওই নারী তার কাছে ৯ হাজার ডলার এবং ৭৯ বছর বয়সী ওই পুরুষ ৫ হাজার ডলার থাকার কথা জানান। পরে তাদের সিবিপির পরিদর্শনকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে তারা প্রথমে একসঙ্গে ভ্রমণের কথা অস্বীকার করলেও কর্মকর্তারা দেখতে পান, তাদের লাগেজ একই ধরনের। পরে দুজনই একসঙ্গে ভ্রমণের কথা স্বীকার করেন। তল্লাশিতে তাদের কাছে মোট ১৯ হাজার ৬৮১ ডলার পাওয়া যায়। এর মধ্যে মানবিক কারণে ৬৮১ ডলার ফেরত দেওয়া হয় এবং বাকি ১৯ হাজার ডলার জব্দ করে সিবিপি। পরে ওই দুই যাত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সিবিপির কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অর্থের পরিমাণ ভাগ করে এবং আলাদাভাবে ভ্রমণের দাবি করে ওই দুই যাত্রী মার্কিন মুদ্রা ঘোষণার নিয়ম এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। ফিলাডেলফিয়া এলাকার ভারপ্রাপ্ত বন্দর পরিচালক এলিয়ট অর্টিজ বলেন, প্রশিক্ষিত কুকুর ও কর্মকর্তাদের তৎপরতায় বিষয়টি ধরা পড়ে। মার্কিন আইনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা দেশ থেকে বের হওয়ার সময় ১০ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ বা আর্থিক উপকরণ বহন করলে তা ঘোষণা করতে হয়। এ জন্য ফিনসেন-১০৫ ফরম জমা দিতে হয়। নিয়ম না মানলে অর্থ জব্দের পাশাপাশি দেওয়ানি বা ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সিবিপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে সংস্থাটির কর্মকর্তা ও এজেন্টরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার ঘোষণা না করা বা অবৈধ মুদ্রা জব্দ করেছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৬৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৭৫ জন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) গাজ্জার চিকিৎসা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা। চিকিৎসা সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজ্জার বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে ১৭ জন নিহতের মরদেহ পৌঁছেছে। এর মধ্যে নতুন করে নিহত হয়েছেন ৫ জন। এছাড়া আগের হামলায় আহত হয়ে পরে মারা গেছেন আরও একজন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১১ জনের মরদেহ। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন। সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও গাজ্জায় প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। ওই সময়ের পর থেকে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৪৪ জনে এবং আহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৪৬৪ জনে পৌঁছেছে। এ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, নিহতের তালিকা যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষে গত আগস্ট মাসে আরও ১৬০ জনের নাম সামগ্রিক নিহতের পরিসংখ্যানে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতে গাজ্জায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেড়েছে। চিকিৎসা সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, গাজ্জার বিভিন্ন এলাকায় এখনো বহু নিহত ও আহত ব্যক্তি ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং সড়কে পড়ে আছেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন ও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অনেক এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারছে না। ফলে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার এবং মরদেহ উদ্ধারের কাজও ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসাসেবা দিতে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক আহত মানুষের চিকিৎসার পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে উদ্ধারকারী ও চিকিৎসাকর্মীদের। চিকিৎসা সূত্রগুলোর আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের সন্ধান ও মরদেহ উদ্ধারের কার্যক্রম পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হলে গাজ্জায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
নিউইয়র্ক: মধ্যরাতে হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ছে পুলিশ বা অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার কর্মকর্তারা। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে দরজা খুলে দেওয়ার আগে কর্মকর্তাদের পরিচয়, আসার কারণ এবং তাদের কাছে ঘরে প্রবেশের বৈধ অনুমতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর করা পরোয়ানা এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব প্রশাসনিক পরোয়ানার মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত পার্থক্য। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের অধিকারবিষয়ক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুলিশ বা অভিবাসন কর্মকর্তারা দরজায় এলেই বাসিন্দাকে দরজা খুলতে হবে এমন নয়। দরজা বন্ধ রেখেই কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা যায় এবং তাদের পরিচয়পত্র বা ব্যাজ দেখাতে বলা যায়। কর্মকর্তারা কেন এসেছেন এবং তাদের কাছে বিচারকের স্বাক্ষর করা পরোয়ানা আছে কি না, সেটিও জানতে চাওয়া যেতে পারে। আইসের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। আইসের কর্মকর্তাদের দেওয়া প্রশাসনিক পরোয়ানা সাধারণত আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর করা পরোয়ানা নয়। ২০২৬ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত একটি নীতিগত নথিতেও বলা হয়েছে, আইসের প্রশাসনিক পরোয়ানা ব্যক্তিগত স্থানে সম্মতি ছাড়া প্রবেশের সাধারণ আইনগত অনুমতি দেয় না। বিচারকের স্বাক্ষর করা বিচারিক পরোয়ানা এর থেকে আলাদা। নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলারের কার্যালয়ের অভিবাসীবিষয়ক অধিকার নির্দেশিকাতেও বলা হয়েছে, আইস কর্মকর্তারা বাড়িতে এলে বাসিন্দারা দরজা না খুলে ভেতর থেকে কথা বলতে পারেন। কর্মকর্তাদের বিচারকের স্বাক্ষর করা তল্লাশি বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কি না, তা জানতে এবং থাকলে পরোয়ানাটি দরজার নিচ দিয়ে বা জানালার মাধ্যমে দেখাতে বলতে পারেন। তবে পুলিশ এবং আইসের ক্ষেত্রে আইনগত নিয়ম পুরোপুরি এক নয়। পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য আদালতের বৈধ পরোয়ানা নিয়ে এলে এবং সেই ব্যক্তি বাড়ির ভেতরে আছেন বলে যুক্তিসংগত বিশ্বাস থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। আবার জরুরি পরিস্থিতি, সম্মতি বা আইনে স্বীকৃত কিছু বিশেষ অবস্থাতেও পরোয়ানা ছাড়া পুলিশের প্রবেশের প্রশ্ন আলাদাভাবে বিবেচিত হয়। নিউইয়র্কের আদালতের সাম্প্রতিক রায়গুলোতেও এ ধরনের ব্যতিক্রমের কথা উঠে এসেছে। বাড়িতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সম্মতি। বাসিন্দা নিজে দরজা খুলে কর্মকর্তাদের ভেতরে আসার অনুমতি দিলে পরবর্তী আইনগত পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। তাই কর্মকর্তারা দরজায় এলে না বুঝে বা আতঙ্কের কারণে তাদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়াই নিরাপদ। নিউইয়র্কের আদালতের সাম্প্রতিক একটি মামলাতেও ব্যক্তিগত বাসস্থানে তল্লাশি বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সম্মতি ও জরুরি পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। কর্মকর্তারা কোনো পরোয়ানা দেখালে সেটি ভালোভাবে দেখার সুযোগ চাওয়া যেতে পারে। সেখানে কার নাম রয়েছে, কোন ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে এবং তল্লাশি বা গ্রেপ্তারের জন্য কী অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কোনো কাগজ দেখানো হয়েছে বলেই সেটিকে আদালতের পরোয়ানা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আইসের কর্মকর্তারা জোর করে বাড়িতে প্রবেশ করলে শারীরিকভাবে বাধা না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে শান্ত থাকতে, প্রবেশে সম্মতি দেওয়া হয়নি তা স্পষ্টভাবে জানাতে এবং নিজের নীরব থাকার অধিকার প্রয়োগ করতে। কোনো নথিতে স্বাক্ষর করার আগে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের অভিবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া উচিত নয়। তবে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা ভুয়া নথি তৈরি করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। আইসের হাতে কেউ আটক হলে তার আইনজীবী রাখার অধিকার রয়েছে, যদিও ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির মতো সরকার থেকে বিনামূল্যে আইনজীবী পাওয়ার অধিকার অভিবাসন আটকের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে আদালতে আইসের বাড়িতে প্রবেশের ক্ষমতা নিয়েও আইনি লড়াই চলছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নসহ কয়েকটি সংগঠন এমন একটি নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে, যেখানে বিচারকের স্বাক্ষর করা পরোয়ানা ছাড়াই বাড়িতে প্রবেশের ক্ষমতা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে অভিবাসন কর্মকর্তাদের বাড়িতে প্রবেশের আইনগত সীমা নিয়ে বিষয়টি বর্তমানে আদালতেরও নজরে রয়েছে। নিউইয়র্কে বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষের অভিবাসীবিষয়ক দপ্তরের মাধ্যমে অভিবাসীরা নিজেদের পছন্দের ভাষায় আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পান। জরুরি পরিস্থিতিতে আগে থেকেই পরিবারের জন্য একজন আইনজীবী বা নির্ভরযোগ্য আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, কেউ নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে গভীর রাতে দরজায় এলে প্রথমে পরিচয় জানতে চাওয়া যেতে পারে। দরজা খুলে বাইরে গিয়ে কথা বলার পরিবর্তে দরজার ভেতর থেকেই কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা যায়। তবে জরুরি পরিস্থিতি বা বৈধ আইনগত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে পুলিশের ক্ষমতা ভিন্ন হতে পারে। তাই প্রতিটি পরিস্থিতিকে একই নিয়মে দেখা ঠিক নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো সচেতনতামূলক কার্ডকে সরাসরি আইনি পরামর্শ হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। মধ্যরাতে পুলিশ বা আইস দরজায় এলে প্রথমে শান্ত থাকতে হবে, কর্মকর্তাদের পরিচয় জানতে হবে, তারা কেন এসেছেন তা বুঝতে হবে এবং ঘরে প্রবেশের জন্য কী ধরনের আইনগত অনুমতি রয়েছে তা যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে অভিবাসন-সংক্রান্ত কোনো জটিল পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে কোনো নথিতে স্বাক্ষর না করে এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষে না জড়িয়ে দ্রুত একজন যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। নিজের অধিকার আগে থেকে জানা এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য পরিবারের সবাইকে প্রস্তুত রাখাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।
পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর স্ত্রী জর্জিনা রদ্রিগেজের হাতে দেখা গেছে প্রায় ২ লাখ ডলার মূল্যের বিরল একটি বার্কিন ব্যাগ। ৩ সেপ্টেম্বর ইতালির ভেনিসে যাওয়ার সময় তার হাতে ছিল হার্মেসের কুমিরের চামড়ায় তৈরি হিমালয়া বার্কিন ২৫। বিরল এই ব্যাগটি ঘিরে তার সাজসজ্জার পাশাপাশি এর বিপুল মূল্যও আলোচনায় এসেছে। ৩২ বছর বয়সী জর্জিনা এদিন বাদামি রঙের সাটিনের শার্ট ও সাদা ঢিলেঢালা জিনস পরেছিলেন। শার্টের কয়েকটি বোতাম খোলা ছিল, যার মধ্য দিয়ে তার পরনের লেসের অন্তর্বাসও দেখা যাচ্ছিল। পোশাকের সঙ্গে তিনি পরেছিলেন হালকা রঙের উঁচু হিলের জুতা ও কালো রোদচশমা। সাজ সম্পূর্ণ করতে ছিল তারকা আকৃতির গয়না, বড় গোলাপি সোনার ঘড়ি এবং হাতে সেই বিরল বার্কিন ব্যাগ। হার্মেসের হিমালয়া সিরিজের ব্যাগগুলো প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বিরল ও আকাঙ্ক্ষিত নকশার মধ্যে অন্যতম হিসেবে পরিচিত। কুমিরের চামড়া ব্যবহার করে এগুলো তৈরি করা হয় এবং ব্যাগের স্বতন্ত্র ধূসর-সাদা রঙের ধাপ তৈরি করতে হাতে রং করা হয়। জর্জিনার হাতে থাকা হিমালয়া বার্কিন ২৫-এর পুনর্বিক্রয়মূল্য প্রায় ২ লাখ ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই একই ধরনের ব্যাগের মালিক তারকা কিম কার্দাশিয়ানও। তার ব্যাগটিতে হীরাখচিত সোনার ধাতব অংশ রয়েছে, যার কারণে সেটির মূল্য আরও বেশি। কাইলি জেনারও একই ধরনের হিমালয়া কেলি ব্যাগ ব্যবহার করেন, যেটিতেও একই ধরনের বিশেষ অলংকরণ রয়েছে। হীরাখচিত হিমালয়া ব্যাগের মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারেরও বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জর্জিনার ভেনিস সফরের এই উপস্থিতি আসে তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী রোনালদোর সঙ্গে বিয়ের পরপরই। গত ১১ আগস্ট পর্তুগালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে জর্জিনা ২৫০ ক্যারেটের চোপার্ড হীরা পরেছিলেন। তার বিয়ের গয়নার মোট মূল্য ছিল প্রায় ৫ কোটি ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিয়ের গয়নার মধ্যে ছিল গার্ডেন অব কালাহারি নেকলেস। এই নেকলেসে ছিল ৫০ ক্যারেটের একটি উজ্জ্বল হীরা এবং আরও ১৪৬ ক্যারেটের ছোট ছোট পাথর। ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত মেট গালায় একই নেকলেস পরেছিলেন মার্কিন সংগীতশিল্পী বিয়ন্সে। ওই অনুষ্ঠানেই অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জর্জিনাও। এ ছাড়া বিয়ের সাজে জর্জিনা ২৫ ক্যারেটের নাশপাতি আকৃতির একটি হীরা এবং ২৬ ক্যারেটের হৃদয় আকৃতির একটি পাথর কানের দুল হিসেবে পরেছিলেন। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর রোনালদো ও জর্জিনা পর্তুগালে একটি বেসামরিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে করেন। বিয়ের অনুষ্ঠানের একটি মুহূর্তও জর্জিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন। সেখানে তাদের দুজনের হাত পাশাপাশি রাখা অবস্থায় দেখা যায় এবং হাতে ছিল সোনার বিয়ের আংটি। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর বিয়ের পরপরই ভেনিসে জর্জিনার এই উপস্থিতিতে আবারও তার পোশাক, গয়না ও বিলাসবহুল সামগ্রী আলোচনায় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ১৫ বছর বয়সে খুনের দায়ে ৪০ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন আইজ্যাক আরিস্পে। ২০২০ সালে ১৯ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার এল ট্রেভিনোকে হত্যার ঘটনায় তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের কাইল শহরে কিশোর বয়সে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায়ে এক যুবককে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০২০ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে ১৯ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার এল ট্রেভিনোকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আইজ্যাক আরিস্পের বিরুদ্ধে মামলাটি দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর নিষ্পত্তি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর ভোরে। গুলির শব্দের খবর পেয়ে কাইল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রেভিনোর মরদেহ উদ্ধার করে। তার বুকে গুলির আঘাত ছিল। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স থেকে তৎকালীন ১৫ বছর বয়সী আইজ্যাক আরিস্পেকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বিচার চলতি বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত হয়। হত্যার সময় আরিস্পের বয়স ১৮ বছরের কম হলেও তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন আরিস্পে ট্রেভিনোর ১৫ বছর বয়সী বোনের কাছ থেকে গাঁজা কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন। একই সময়ে তিনি কয়েকজন বন্ধু ও স্বজনের কাছে গুলি বা গুলির সরঞ্জাম চেয়ে বার্তা পাঠান। এসব বার্তায় তিনি কাউকে ডাকাতি করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন বলে আদালতে তথ্য উঠে আসে। ট্রেভিনোর বোন আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, হত্যার সকালে আরিস্পে একটি অস্ত্র বের করে তার দিকে তাক করেন। এ সময় তাকে রক্ষা করতে তার ভাই ক্রিস্টোফার এগিয়ে এলে আরিস্পে তার বুকে গুলি করেন। এরপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি। পরে মামলার বিচার শেষে হেইস কাউন্টির জুরি আরিস্পেকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করেন। শাস্তি ঘোষণার শুনানিতে আরিস্পের কারাগারে থাকা অবস্থার বিভিন্ন তথ্যও আদালতে তুলে ধরা হয়। সংশোধনাগারের কর্মকর্তারা জানান, বন্দি থাকা অবস্থায় অন্য কয়েদিদের ওপর হামলা এবং নিষিদ্ধ সামগ্রী রাখার মতো একাধিক ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, নিহত ক্রিস্টোফার ট্রেভিনোর পরিবারের সদস্যরাও আদালতে বক্তব্য দেন। তারা ক্রিস্টোফারের ব্যক্তিত্ব, পরিবার ও তার মৃত্যুর পর স্বজনদের ওপর তৈরি হওয়া গভীর মানসিক প্রভাবের কথা তুলে ধরেন। সব পক্ষের বক্তব্য ও মামলার বিভিন্ন তথ্য বিবেচনা করে আদালত আইজ্যাক আরিস্পেকে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেন। হত্যার সময় আরিস্পের বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। তবে গুরুতর অপরাধের কারণে তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়। দীর্ঘ সময় পর দেওয়া এই সাজা আবারও যুক্তরাষ্ট্রে কিশোর বয়সে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে বিচার ও শাস্তির বিষয়টি সামনে এনেছে।
ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। শনিবার মস্কোয় পৌঁছে তারা রুশ পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার দুই দূত যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব নিয়ে গেছেন। একই সময়ে উইটকফ ও কুশনারের সফরকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও ইউক্রেনের আকাশ হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, উইটকফ ও কুশনার ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ করার একটি প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছেন। তবে তিনি প্রস্তাবটির বিস্তারিত জানাননি। মস্কো এই পরিকল্পনায় কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত কি না, সে বিষয়েও তিনি কোনো ইঙ্গিত দেননি। রাশিয়ায় এটি উইটকফ ও কুশনারের তৃতীয় পরিচিত সফর। এর আগে তারা আরও দুইবার মস্কো সফর করেছেন। সর্বশেষ সফরটি হয়েছিল জানুয়ারিতে। তবে আগের দুই সফর থেকে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার বলেছেন, মস্কো সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তিনি সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার যুক্তি, এমন যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তি আনবে না এবং ইউক্রেনকে নতুন করে অস্ত্র সংগ্রহের সুযোগ দেবে। চলতি সপ্তাহে রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তকে একটি অর্থনৈতিক ফোরামে পুতিন বলেন, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ রয়েছে। তবে পরে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, এর জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট পূর্বশর্ত তৈরি হয়নি। মস্কো সফরের পর উইটকফ ও কুশনার রোববার ইউক্রেনে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন বলে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ইউক্রেনে এটিই তাদের প্রথম পরিচিত সফর হতে যাচ্ছে। কিয়েভে এই সফর নিয়ে প্রত্যাশা খুব বেশি নয়। ইউক্রেনীয় প্রশাসন মনে করছে, মার্কিন দূতদের দেশটির পরিস্থিতি সরাসরি দেখার সুযোগ পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহ দেখাচ্ছে না এবং আগামী কয়েক মাসে হামলা আরও বাড়াতে পারে বলে কিয়েভের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মার্কিন দূতদের সফর চলাকালে ইউক্রেন একতরফাভাবে রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তুতে আকাশ হামলা চালাবে না। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কোনো আকাশ হামলা হবে না এবং রাশিয়াকেও একই কাজ করতে হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, উইটকফ ও কুশনার ইতোমধ্যে রুশ পক্ষের সঙ্গে কাজ শুরু করেছেন। ইউক্রেনের প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা কিরিলো বুদানভ শনিবার বলেন, ইউক্রেন সামনের যুদ্ধক্ষেত্রেও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু মস্কোর কাছ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এর আগে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, উইটকফ ও কুশনারের রাশিয়া ও ইউক্রেন সফরের পুরো সময় পারস্পরিক ও ব্যাপক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল কিয়েভ। এই প্রস্তাব আলোচনার বিভিন্ন চ্যানেলের মাধ্যমে রুশ পক্ষের কাছে পাঠানোর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছেও দেওয়া হয়েছিল। তবে ক্রেমলিন ও রুশ আলোচকদের কাছ থেকে এর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এদিকে, জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, কুশনার ও উইটকফ যাতে সরাসরি বিমানে কিয়েভে পৌঁছাতে না পারেন, সে উদ্দেশ্যে রুশ বাহিনী রাতের বেলায় কিয়েভের দুটি প্রধান বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন দূতদের সরাসরি বিমানে কিয়েভে পৌঁছানো হলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর সেটিই হতো কোনো বিদেশি সরকারি প্রতিনিধিদলের প্রথম এমন সফর। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার এই পদক্ষেপের বিষয়টি তারা বিবেচনায় নিয়েছেন এবং পরবর্তী সময়ে রুশ আকাশসীমা নিয়ে নিজেদের কার্যক্রম পরিবর্তন করবেন। বিমান চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, উইটকফ ও কুশনারকে বহনকারী বিমানটি মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে প্রথমে হেলসিঙ্কিতে থামে। এরপর সেটি রাশিয়ার দিকে রওনা হয় এবং স্থানীয় সময় শনিবার দুপুরের দিকে মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে রুশ প্রেসিডেন্টের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ তাদের স্বাগত জানান। পরে মার্কিন দূতদের গাড়িবহর নিরাপত্তা যানসহ মস্কোর কেন্দ্রের দিকে যেতে দেখা যায়। এর আগে ইউক্রেন বাণিজ্যিক বিমান সংস্থা ও রাশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহারকারীদের সতর্ক করে বলেছিল, সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় রুশ আকাশসীমা অনিরাপদ হয়ে উঠছে। পুতিন এই পদক্ষেপকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, শান্তি আলোচনার জন্য ভবিষ্যতে কিয়েভের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন হতে পারে বলে রাশিয়া ইউক্রেনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবে। তবে শুক্রবার রাশিয়ার একটি ড্রোন কিয়েভে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার সদর দপ্তরে আঘাত হানে। ভবনটি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোর একটি এবং রাশিয়ার ভেতরে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থার কার্যালয়ও সেখানে রয়েছে। মস্কো ওই হামলার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। উইটকফ ও কুশনারের মস্কো সফরের পর কিয়েভ সফর এবং দুই পক্ষের সঙ্গে তাদের আলোচনার ফলাফলের দিকে এখন নজর রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন দূতদের এই সফর শুরু হলেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত এবং পারস্পরিক হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফলে নতুন এই কূটনৈতিক উদ্যোগ থেকে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কতটা অগ্রগতি হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া চারতলা একটি ভবন থেকে ১০ দিন পর ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার নুওয়াকোট জেলার বিদুর পৌরসভার বেত্রাবতী এলাকায় তাকে উদ্ধার করে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী। উদ্ধার হওয়া নারীর নাম চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠ। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী জানিয়েছে, চারতলা ভবনের ওপরের তলায় আটকে ছিলেন তিনি। নয় সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল পরিদর্শক সুমন কুমার বিকের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের সময় চান্দিকা অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরে হেলিকপ্টারে করে তাকে ত্রিশুলিতে নেপালি সেনাবাহিনীর মৈথিলি ব্যারাকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কাঠমান্ডুতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ভোটেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যার পর ১১তম দিনে এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। বন্যায় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। একই দিনে নেপালের আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেল থেকেও ১০ দিন পর এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠকে উদ্ধারের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে কাডমান্ডু পোস্ট, যা পরে আরটিভি অনলাইনও প্রকাশ করে।
তিন সন্তান ও সংসারের কথা ভেবে দীর্ঘদিন দাম্পত্য জীবনে ঘনিষ্ঠতার অভাব মেনে নিয়েছিলেন এক নারী। সম্প্রতি নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, বেশিরভাগ সময় তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই ছিল। তাই সংসার টিকিয়ে রাখার বিনিময়ে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার ঘাটতিকে মেনে নেওয়াই বেছে নিয়েছিলেন তিনি। ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনটি সন্তান তাদের দাম্পত্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের কিছু ক্ষেত্রে দূরত্ব তৈরি হলেও পরিবার ও সন্তানদের কথা বিবেচনা করে তিনি তা মেনে নেন। তিনি বলেন, সন্তানদের কথা মনে করিয়ে নিজেকে সান্ত্বনা দিতেন। তাদের সংসার বেশিরভাগ সময় ভালো থাকায় ঘনিষ্ঠতার অভাবকে তিনি জীবনের একটি মূল্য হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন। তার এই অভিজ্ঞতা মূলত দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে আবেগিক ও শারীরিক ঘনিষ্ঠতার গুরুত্ব এবং পরিবার টিকিয়ে রাখতে ব্যক্তিগত চাহিদা বিসর্জন দেওয়ার বাস্তবতা সামনে এনেছে।
‘সারভাইভার গ্রিস’ রিয়েলিটি শোর প্রতিযোগী স্তাভরোস ফ্লোরোস শুটিংয়ের বিরতিতে মাছ শিকার করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বাঁ পা হারানোর পর অনুষ্ঠানটির প্রযোজকদের বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন ডলারের মামলা করেছেন। ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রের সাওনা দ্বীপের কাছে সমুদ্রে মাছ শিকার করার সময় একটি পর্যটকবাহী নৌকার পাখা তার শরীরে আঘাত করে। এতে তার বাঁ পা হাঁটুর ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে মামলায় দাবি করেছেন তিনি। দুর্ঘটনাটি ঘটে শুটিংয়ের বিরতির সময়। ফ্লোরোস তখন সমুদ্রে মাছ শিকার করছিলেন। তার দাবি, প্রতিযোগীদের মাছ শিকারে অভ্যস্ত করে তোলা হয়েছিল এবং যে এলাকায় তারা মাছ শিকার করতেন, সেখানে পর্যটকবাহী নৌকার চলাচল ছিল বেশি। তার অভিযোগ, এই ঝুঁকি সম্পর্কে প্রযোজকেরা জানতেন। এরপরও প্রতিযোগীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। ফ্লোরোসের অভিযোগ, মাছ শিকারের জন্য ব্যবহৃত ওই সমুদ্র এলাকায় নিরাপত্তা নৌকা, সুরক্ষিত এলাকা কিংবা পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক চিহ্নের ব্যবস্থা ছিল না। তিনি আরও দাবি করেছেন, ওই জলসীমায় এর আগেও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং সেখানে একজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল। এসব বিষয় জানা থাকা সত্ত্বেও প্রযোজকেরা প্রতিযোগীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি বলে তিনি মামলায় অভিযোগ করেছেন। দুর্ঘটনার সময় একটি পর্যটকবাহী নৌকার পাখা ফ্লোরোসের শরীরে আঘাত করে। তার মামলার নথি অনুযায়ী, এতে তার বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সমুদ্রে পড়ে যাওয়া পাটি পরে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি দাবি করেছেন। দুর্ঘটনার পর একটি পর্যটকবাহী নৌকায় থাকা এক অপরিচিত ব্যক্তি তার ক্ষতস্থানে রক্তপাত বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থা নেন। ফ্লোরোসের দাবি, ওই ব্যক্তি টুর্নিকেট প্রয়োগ না করলে তিনি বেঁচে থাকতে নাও পারতেন। দুর্ঘটনার পর ফ্লোরোসকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে মিয়ামির একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয়। দুর্ঘটনার পর মোট ৬১ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শারীরিক পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। ফ্লোরোসের মামলায় আরও বলা হয়েছে, মাছ শিকারকে অনুষ্ঠানটির প্রতিযোগীদের জীবনের একটি অংশ হিসেবে রাখা হয়েছিল। সে কারণে প্রতিযোগীদের এমন উন্মুক্ত জলসীমায় যেতে হতো, যেখানে পর্যটকবাহী নৌযানের চলাচল ছিল। তার অভিযোগ, প্রতিযোগীদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল নির্ধারণ, নিরাপত্তা নৌকা রাখা কিংবা নৌযান চলাচলের বিষয়ে সতর্কতামূলক চিহ্ন স্থাপনের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফ্লোরোসের দাবি, দুর্ঘটনার আগে ওই জলসীমায় নৌযানের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রযোজনা কর্তৃপক্ষের জানা ছিল। তারপরও তারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি। মামলায় তিনি এই নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতিকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং এর জন্য প্রযোজকদের দায়ী করেছেন। তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আকুনমেদিয়া দুর্ঘটনার পর ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি রিয়েলিটি শোর প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে নয়, বরং প্রতিযোগিতার বাইরে মাছ শিকার করার সময় ঘটেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পর্যটকবাহী নৌকা মাছ শিকাররত অবস্থায় ফ্লোরোসকে আঘাত করে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই আহত প্রতিযোগীকে সহায়তা করা এবং নিরাপদে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে বলেও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। দুর্ঘটনার পর অনুষ্ঠানটির চলতি মৌসুমের শুটিং বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ফ্লোরোস হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি শারীরিক পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে থাকেন। গ্রিসে ফিরে আসার পরও তিনি নিজের শারীরিক অবস্থার বিভিন্ন আপডেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। সেখানে তাকে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে দেখা গেছে। ফ্লোরোস এখন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। মামলায় তিনি দুর্ঘটনার কারণে নিজের পা হারানো, দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা এবং একাধিক অস্ত্রোপচারের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে প্রতিযোগীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকার অভিযোগও করেছেন। তবে ফ্লোরোসের করা এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দুর্ঘটনার পর দ্রুত সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তদন্তের কথা উল্লেখ করেছে। ফলে মামলাটিতে প্রযোজকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার দায় নিয়ে ফ্লোরোসের অভিযোগগুলো এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচাই হবে।
কেরালা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনে ১৮ বছর দায়িত্ব পালনের পর অবসরে গেলেন চালক পল কুরিয়ান। দীর্ঘ কর্মজীবনে যে বাসটি বছরের পর বছর চালিয়েছেন, অবসরের শেষ দিনে সেই বাসকেই আবেগঘনভাবে বিদায় জানান তিনি। শেষ যাত্রা শেষে বাসটির স্টিয়ারিংয়ে চুমু দিয়ে এবং বাসটিকে স্যালুট করে নীরবে সেখান থেকে চলে যান পল। ২ সেপ্টেম্বর ইদুক্কির কুমিলি ডিপো থেকে নিজের শেষ যাত্রা শুরু করেন পল কুরিয়ান। দীর্ঘ ১৮ বছরের কর্মজীবনের পর এটিই ছিল তার শেষবারের মতো বাস চালানো। যাত্রা শেষে বাস থেকে নামার সময় প্রিয় বাসটির প্রতি নিজের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন তিনি। শেষ যাত্রা শেষ হওয়ার পর পল কুরিয়ান বাসটির স্টিয়ারিংয়ের কাছে যান। সেখানে কিছুক্ষণ থাকার পর তিনি স্টিয়ারিংয়ে চুমু দেন। এরপর বাসটির দিকে ফিরে স্যালুট করেন। সবশেষে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নীরবে বাসটি ছেড়ে চলে যান তিনি। পল কুরিয়ানের এই আবেগঘন বিদায়ের মুহূর্তটি কেরালা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। মুহূর্তটি প্রকাশের পর তা অনলাইনে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দীর্ঘদিন ধরে একই পেশায় থাকা একজন চালকের কর্মজীবনের শেষ মুহূর্তের এই দৃশ্য অনেকের মন ছুঁয়ে যায়। ১৮ বছর ধরে কেরালা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনে কাজ করার সময় বাসটি পল কুরিয়ানের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘ সময় ধরে বাসটি চালানোর পর অবসরের দিনে সেটির প্রতি এমন আবেগঘন বিদায় তার পেশার সঙ্গে তৈরি হওয়া গভীর সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এনেছে। শেষ যাত্রার পর বাসটির স্টিয়ারিংয়ে চুমু দেওয়ার পাশাপাশি পল কুরিয়ান সেটিকে স্যালুটও করেন। এরপর তিনি চুপচাপ সেখান থেকে হেঁটে চলে যান। অল্প সময়ের এই দৃশ্যেই ফুটে ওঠে দীর্ঘ কর্মজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আবেগ। কর্মকর্তাদের প্রকাশ করা ছবির ও ভিডিওর মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই পল কুরিয়ানের বিদায়ের আবেগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের পেশাগত জীবনের সঙ্গী একটি বাসকে অবসরের দিনে এভাবে বিদায় জানানোর দৃশ্যটি মানুষের কাছে বিশেষভাবে আবেগঘন হয়ে উঠেছে। পল কুরিয়ানের শেষ যাত্রার এই মুহূর্তে কোনো দীর্ঘ বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক বিদায় ছিল না। বরং বাসটির স্টিয়ারিংয়ে চুমু দেওয়া, সেটিকে স্যালুট করা এবং এরপর নীরবে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়েই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি। ১৮ বছর ধরে যে পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, অবসরের দিন সেই পেশার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে এভাবে বিদায় জানান পল কুরিয়ান। তার শেষ যাত্রা এবং বাসটির প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের দৃশ্য এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের মনোযোগ কেড়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষে পল কুরিয়ানের এই বিদায় তাই তার পেশার সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্কের একটি আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। কেরালা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের কর্মকর্তাদের প্রকাশ করা সেই দৃশ্যেই দেখা যায়, শেষবারের মতো প্রিয় বাসটিকে চুমু দিয়ে ও স্যালুট করে নীরবে বিদায় নিচ্ছেন তিনি।
ভারতের মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩৮৩ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে ২৯টি ঘটনায় বিয়ের জন্য পাত্রী না পাওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। তবে এসব আত্মহত্যার পেছনে শুধু বিয়ে না হওয়ার বিষয়টিই ছিল না। মাদকাসক্তি, হতাশা, পারিবারিক সমস্যা ও ঋণসহ বিভিন্ন কারণও পুলিশের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। মহারাষ্ট্র পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জলগাঁওয়ে পুরুষদের আত্মহত্যার ঘটনাগুলোতে একাধিক কারণ পাওয়া গেছে। ফলে ২৯টি ঘটনায় বিয়ে না হওয়াকে উল্লেখ করা হলেও পুলিশ এটিকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখছে না। পরিসংখ্যান প্রকাশের পর অবশ্য জলগাঁওয়ে পুরুষদের বিয়ে না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দা, তরুণ, পরিবার ও গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে এই পরিস্থিতির পেছনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন কারণের কথা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্রের চাকরি, নিয়মিত আয়, নিজস্ব বাড়ি, জমি ও আর্থিক স্থিতিশীলতাকে এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে বি ফার্ম ডিগ্রিধারী কৌস্তুভ পোটদারের ঘটনাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। নিজস্ব বাড়ি ও সরকারি চাকরি না থাকায় একাধিক বিয়ের সম্বন্ধে তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি আত্মহত্যা করেন। তবে তার মৃত্যুর পেছনে বিয়ে না হওয়াই একমাত্র কারণ ছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য জরিপের তথ্য অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের প্রায় ১১ শতাংশ অবিবাহিত ছিলেন। একই বয়সসীমায় পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ একই বয়সসীমায় অবিবাহিত পুরুষের হার নারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। গ্রামীণ মহারাষ্ট্র নিয়ে গবেষণাকারী ময়ূর কুডুপলে ও জোয়েল কাবালিয়ানের গবেষণাতেও বিয়ের ক্ষেত্রে পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাদের মতে, আগে গ্রামাঞ্চলে জমির মালিকানাকে বড় যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এখন স্থায়ী চাকরি, নিয়মিত আয় ও শহরে বসবাসের সুযোগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জাতপাতও বিয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বাধা হয়ে রয়েছে। লিঙ্গ সমতা প্রশিক্ষক দর্শনা পাওয়ারের মতে, কয়েক দশকের কন্যাভ্রূণ হত্যার প্রভাবেও বিবাহযোগ্য নারী ও পুরুষের অনুপাতে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে বেকারত্ব, অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক প্রত্যাশা এবং নারী-পুরুষের বদলে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গিও যুক্ত হয়েছে। ফলে জলগাঁওয়ের এই পরিসংখ্যানকে শুধু ‘পাত্রী সংকট’ হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। বিয়ে না হওয়ার সঙ্গে সামাজিক চাপ, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং দীর্ঘদিনের জনমিতিক পরিবর্তনের মতো একাধিক বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। পুলিশের তথ্যেও আত্মহত্যার পেছনে বিয়ে ছাড়াও বিভিন্ন কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে তুরস্কের একটি ব্যাংক ও এর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইস্তাম্বুলভিত্তিক গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংকাসি এবং এর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কথা জানায়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কুদস বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেনে সহায়তা করেছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংকাসি, গোল্ডেন গ্লোবাল পোর্টফয় পোনেতিমি এবং গোল্ডেন গ্লোবাল ভারলিক কিরালামা। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনটি প্রতিষ্ঠানকেই বিশেষভাবে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের লেনদেনের সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, গোল্ডেন গ্লোবাল ইরানের ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে চীন থেকে তুরস্কে তেল বিক্রির অর্থ স্থানান্তরে ভূমিকা রেখেছে। পরে সেই অর্থ নগদ অর্থ ও সোনায় রূপান্তরের সুযোগ তৈরি করা হতো বলেও অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন। প্রতিষ্ঠানটি ইরানের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার মাধ্যমে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কুদস বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত হিসাব ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে বলেও মার্কিন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে। ইরানের আর্থিক যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল করার বৃহত্তর মার্কিন উদ্যোগের অংশ হিসেবেই সর্বশেষ এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে অন্য দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে ওয়াশিংটন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রমে নেটো জোটভুক্ত কোনো দেশের ব্যাংকের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম এমন পদক্ষেপ। নিষেধাজ্ঞা বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্কের একটি ব্যাংককে লক্ষ্য করে এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আর্থিক যোগাযোগ রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, তুরস্কের ব্যাংকটির সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া অন্য বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানও পরবর্তী সময়ে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংক মার্কিন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ব্যাংকটি জানিয়েছে, তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং এবং নিয়মনীতি মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তারা তাদের গ্রাহক নয় এবং তাদের সঙ্গে ব্যাংকটির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্কও নেই বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে আইনি অধিকার প্রয়োগের কথাও জানিয়েছে ব্যাংকটি। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংকের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ হাজার কোটি তুর্কি লিরা। রয়টার্সের হিসাবে, এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫২ কোটি মার্কিন ডলারের সমান। আকারে ছোট হলেও তুরস্কের এই ব্যাংককে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াকে ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর চাপ বাড়ানোর বৃহত্তর মার্কিন উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। একজন নিষেধাজ্ঞা বিশেষজ্ঞ মনে করেন, গোল্ডেন গ্লোবালের ওপর পদক্ষেপ ইরানের ওপর চাপ কিছুটা বাড়াতে পারে। তবে এর মাধ্যমে যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। সর্বশেষ এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক ও আর্থিক যোগাযোগব্যবস্থার ওপর চাপ আরও জোরদার করল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কয়েকটি ব্যাংক শাখার বিরুদ্ধেও ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কাজে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। সূত্র: রয়টার্স
নারায়ণগঞ্জে আব্দুল মান্নান নামে সদর নৌ থানা পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) মাতলামির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে অসংলগ্ন আচরণ করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ভিডিওটি কখন, কোথায় ধারণ করা হয়েছে এবং ওই সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ভিডিওটির প্রেক্ষাপট এবং এর সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে জানানো হবে।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার। শনিবার মস্কোতে পৌঁছানোর পর তাদের স্বাগত জানান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিয়েভ। পরে পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদলের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মস্কো সফর শেষে উইটকফ ও কুশনার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যাবেন। যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম তারা কিয়েভ সফর করছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিনিধিদল যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা করবে। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প তাদের ‘দারুণ আলোচক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধ শেষ করার একটি প্রস্তাব তারা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের কিয়েভ সফরকে সামনে রেখে মস্কো থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এসেছে। শনিবার মধ্যরাত থেকে পরবর্তী তিন দিন কিয়েভে কোনো হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, আমেরিকান প্রতিনিধিদের কিয়েভ সফর ও সেখানে তাদের যোগাযোগের প্রস্তুতির সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সম্পর্ক রয়েছে। তবে এর মধ্যেই কিয়েভের কাছাকাছি দুটি বিমানবন্দরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এর মধ্যে বরিসপিল বিমানবন্দরও রয়েছে, যেটি একসময় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হতো। জেলেনস্কির ধারণা, ইউক্রেনে মার্কিন প্রতিনিধিদের বিমানযোগে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও প্রস্তুতির প্রতিক্রিয়াতেই এসব হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিদেশি নেতারা সাধারণত পোল্যান্ড থেকে রেলপথে কিয়েভে যাতায়াত করে আসছেন। বিমানবন্দরে হামলার খবরের কারণে উইটকফ ও কুশনারের কিয়েভ সফরের পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি। এর মধ্যেই শুক্রবার কিয়েভে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরেও রুশ হামলার খবর পাওয়া যায়। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরের তীব্র সংকট তৈরি হওয়ায় রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে কিয়েভ অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একই সময়ে পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরীগুলোর একটি অংশও রুশ বাহিনীর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে। অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় রাশিয়া যে সহজে ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়, তার ইঙ্গিতও দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, ইউক্রেন পরিস্থিতিতে মাটির বাস্তবতা যুক্তরাষ্ট্রকে বিবেচনায় নিতে হবে। তার দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি কিয়েভের অনুকূলে নেই এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রুশ বাহিনী ধীরে ধীরে আরও এগিয়ে যাচ্ছে। তবে কিয়েভে মার্কিন প্রতিনিধিদের সফরকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা যতটা সম্ভব গঠনমূলক ও বাস্তবভিত্তিক হওয়া দরকার। যুদ্ধ কীভাবে বাস্তবসম্মতভাবে শেষ করা যায়, সে বিষয়ে সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করাই তাদের লক্ষ্য। ফলে মস্কো ও কিয়েভে উইটকফ-কুশনারের ধারাবাহিক সফরকে যুদ্ধ অবসানের নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার মনেটার বাসিন্দা মেলিনা নিউকম্ব ২০১৯ সালে ক্যানসারে হারিয়েছেন তার ১৯ বছর বয়সী ছেলে লেভিকে। দীর্ঘদিন ধরে ছেলেকে হারানোর শোক বয়ে বেড়ানো এই মা সম্প্রতি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে একটি চিঠি লেখেন। বাইডেনের নিজেরও সন্তান হারানোর বেদনা রয়েছে—তার ছেলে বিউ বাইডেন ২০১৫ সালে মস্তিষ্কের ক্যানসারে মারা যান। নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে বাইডেনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেই চিঠিটি লিখেছিলেন মেলিনা। লেভির বয়স যখন মাত্র চার বছর, তখন তার শরীরে স্টেজ-৪ হাই-রিস্ক মেডুলোব্লাস্টোমা ধরা পড়ে। এটি মস্তিষ্কের একটি মারাত্মক ধরনের টিউমার। অস্ত্রোপচারের পর লেভিকে আবার গিলতে, কথা বলতে, হামাগুড়ি দিতে ও হাঁটতে শিখতে হয়েছিল। পাশাপাশি চলেছে রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপি। দীর্ঘ ১৪ বছর চিকিৎসার পর পরিবারটি স্বাভাবিক জীবনে ফেরার কিছুটা সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে জয়ী হতে পারেনি লেভি। ২০১৮ সালে চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, লেভির শরীরে আরেক ধরনের ক্যানসার তৈরি হয়েছে। এবার তার শরীরে ধরা পড়ে আনডিফারেনশিয়েটেড সারকোমা। ছোটবেলায় নেওয়া রেডিয়েশন চিকিৎসার কারণেই এই দ্বিতীয় ক্যানসার তৈরি হয়েছিল বলে জানান তার মা। ২০১৯ সালের বড়দিনের মাত্র চার দিন পর মারা যায় লেভি। ছেলেকে হারানোর পর থেকে মেলিনার জীবনে নেমে আসে গভীর শোক। প্রায় সাত বছর পরও প্রতিদিন ছেলের কথা মনে পড়ে বলে জানিয়েছেন তিনি। মেলিনা বলেন, লেভিকে নিয়ে চাইলে তিনি পুরো একটি বই লিখতে পারেন। স্কুলে প্রতি বছর ‘সিটিজেনশিপ অ্যাওয়ার্ড’ জিতত লেভি, আর তার মৃত্যুর পর স্কুল কর্তৃপক্ষ পুরস্কারটির নাম বদলে ‘লেভি মায়ো অ্যাওয়ার্ড’ রাখে। সুপারহিরো, মজার বাবার কৌতুক, ফ্রাইড চিকেন ও পরিবারের সদস্যদের খুব ভালোবাসত সে। ছেলের এসব স্মৃতি আজও মেলিনার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে। এদিকে বাইডেনের ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার খবর জানার পর মেলিনা মনে করেন, তার সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্টের একটি বিশেষ জায়গায় মিল রয়েছে। দুজনেই ক্যানসারে সন্তান হারানোর শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন। ২০২৫ সালের মে মাসে বাইডেনের দপ্তর জানিয়েছিল, তার প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়েছে এবং তা হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থ্রেডসে বাইডেনের জন্য শুভকামনা পাঠানোর সুযোগের কথা জানতে পারেন মেলিনা। গত ২০ আগস্ট বাইডেনকে একটি বার্তা পাঠান মেলিনা। সেখানে তিনি জানান, তার জন্য প্রার্থনা করছেন এবং ক্যানসারে সন্তান হারানোর একই ধরনের শোক তারা দুজনেই অনুভব করেন। তবে বার্তা পাঠানোর সময় তিনি কল্পনাও করেননি যে বাইডেন নিজে তাকে উত্তর দেবেন। কিন্তু মাত্র পাঁচ দিন পর নিজের ইনবক্সে একটি উত্তর দেখতে পান তিনি। উত্তরে বাইডেন মেলিনার প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ছেলেকে হারানোর কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মেলিনা যেন তার শোকের সময়েও সান্ত্বনা খুঁজে পান এবং তিনি তার জন্য প্রার্থনা করছেন। বাইডেন আরও লেখেন, জীবনের ভবিষ্যৎ কী নিয়ে আসবে তা আগে থেকে জানা সম্ভব নয়, তবে মানুষ আলো, আশা ও ভালোবাসায় ভরা জীবন খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। বাইডেনের বার্তায় আরও বলা হয়, শোক কাটিয়ে উঠতে হয়তো অনেক সময় লাগতে পারে। তবে ছেলের সঙ্গে মেলিনার যে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল, সেটি কোনোদিন হারিয়ে যাবে না—এই ভালোবাসাই তার সঙ্গে সবসময় থাকবে। অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া এই ব্যক্তিগত বার্তা মেলিনার কাছে হয়ে উঠেছে বিশেষ এক মুহূর্ত। ছেলেকে হারানোর দীর্ঘ শোকের মধ্যে বাইডেনের কাছ থেকে পাওয়া এই কথাগুলো তাকে নতুন করে স্পর্শ করেছে।
মধ্যপ্রদেশের দূষিত অজনার নদী নিজের উদ্যোগে পরিষ্কার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসা তরুণ সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী, যিনি ‘বিট্টু তাবাহি’ নামে পরিচিত, এবার নেদারল্যান্ডসের পরিবেশবিষয়ক সংগঠন দ্য ওশান ক্লিনআপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বয়ান স্লাটের কাছ থেকে কাজের প্রস্তাব পেয়েছেন। স্লাট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিট্টুর নদী পরিষ্কারের ছবি দেখে সরাসরি তাকে নিজের প্রতিষ্ঠানে কাজ করার আহ্বান জানান। মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার বিয়াওরা এলাকার বাসিন্দা বিট্টু একজন বিএসসি শিক্ষার্থী। চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি তিনি অজনার নদীর দূষণ পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন। প্রথম দিকে কয়েকজন বন্ধু তার সঙ্গে কাজ করলেও পরে বিট্টুই একাই কাজ চালিয়ে যান। নদীতে জমে থাকা প্লাস্টিক, বোতল, শ্যাওলা ও অন্যান্য আবর্জনা নিজের হাতে তুলে পরিষ্কার করতে থাকেন তিনি। এ কাজের বিভিন্ন ধাপ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। নদীর আগের ও পরের অবস্থার ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তার উদ্যোগ ব্যাপক পরিচিতি পায়। স্থানীয়দের কেউ কেউ শুরুতে তাকে নিয়ে কটাক্ষ করলেও কাজ থামাননি বিট্টু। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নদী পরিষ্কারের সরঞ্জাম কিনতে তিনি নিজের অর্থও ব্যয় করেছেন। তার কাজের জন্য প্রায় ৩০ হাজার ভারতীয় রুপি খরচ হয়েছে বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিট্টুর উদ্যোগ এর আগেই ভারতের শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রার নজরে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কাজের প্রশংসা করে মাহিন্দ্রা তাকে নিজের ‘মন্ডে মোটিভেশন’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। পরে অজনার নদী পরিষ্কারের কাজে স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষও সহায়তায় এগিয়ে আসে এবং বড় পরিমাণ আবর্জনা সরাতে যন্ত্র ব্যবহার করে। এবার আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেল তার উদ্যোগ। বিট্টুর নদী পরিষ্কারের আগে ও পরের ছবি দিয়ে করা একটি পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বয়ান স্লাট লেখেন, “আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আসুন।” দ্য ওশান ক্লিনআপ সমুদ্র ও নদী থেকে প্লাস্টিক দূষণ কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান নিয়ে কাজ করা নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি অলাভজনক সংগঠন। বিট্টুর ব্যক্তিগত উদ্যোগের সঙ্গে সংগঠনটির কাজের মিল থাকায় স্লাটের এই প্রস্তাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে স্লাটের প্রকাশ্য বার্তাটি চাকরির আনুষ্ঠানিক নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা নয়। এটি বিট্টুকে সংগঠনে কাজ করার জন্য দেওয়া একটি প্রকাশ্য আমন্ত্রণ বা প্রস্তাব হিসেবে এসেছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের তুরমুস আয়া শহরে একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়ির ছাদে উঠে বাসিন্দাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীর বিরুদ্ধে। শুক্রবারের এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ঘটনাটি রামাল্লাহর উত্তর-পূর্বে অবস্থিত তুরমুস আয়া শহরের আবু আওয়াদ পরিবারের বাড়িতে ঘটে। ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে বাড়ির ছাদে উঠে নিচে থাকা পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে হুমকি দিতে দেখা যায়। তার হাতে একটি লাঠি বা ক্লাবসদৃশ বস্তু ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ছাদে দাঁড়িয়ে ওই ব্যক্তি বলেন, “এটা আমার দেশ, এটা আমার জমি। ঈশ্বর আমাকে এটা দিয়েছেন।” ভিডিওতে তাকে বাড়িটির মালিকানা নিয়ে ধর্মীয় ও ভূখণ্ডগত দাবি জানাতেও শোনা যায়। তুরমুস আয়া ও আশপাশের এলাকায় ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ওপর বসতিস্থাপনকারীদের হামলা, বাড়িতে প্রবেশ, সম্পত্তির ক্ষতি এবং কৃষিজমিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও আবু আওয়াদ পরিবারের বাড়িতে বসতিস্থাপনকারীদের হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। জুনেও তুরমুস আয়ার আবু আওয়াদ পরিবারের বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় বসতিস্থাপনকারীদের ক্যারাভান ও শেড স্থাপনের খবর জানিয়েছিল ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা। ওই এলাকায় জমি দখল ও নতুন বসতি সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাটি পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর ওপর চলমান ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতার অভিযোগকে আবারও সামনে এনেছে। তবে ওই নির্দিষ্ট ঘটনায় কোনো গ্রেপ্তার বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাথা ন্যাড়া করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা এবং পুরুষতান্ত্রিক সৌন্দর্যের মানদণ্ড প্রত্যাখ্যানের প্রতীক হিসেবে তারা চুল কেটে ফেলার ভিডিও ও ছবি পোস্ট করছেন। নির্বাচনের পর টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। অনেক নারী মাথা ন্যাড়া করার আগে ও পরে নিজেদের ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করে এটিকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এই প্রবণতার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে শুরু হওয়া ৪বি আন্দোলনের নামও যুক্ত হয়েছে। আন্দোলনটির মূল ধারণার মধ্যে পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক, ডেটিং, বিয়ে ও সন্তান নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের জয় এবং নারীদের অধিকার, বিশেষ করে গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে উদ্বেগের পর আন্দোলনটির কিছু ধারণা নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে মাথা ন্যাড়া করে প্রতিবাদের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনাও হয়েছে। ক্যানসারের চিকিৎসা কিংবা অ্যালোপেশিয়ার কারণে চুল হারানো কয়েকজন নারী বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে মাথা ন্যাড়া করাকে পুরুষের কাছে কম আকর্ষণীয় হওয়ার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা তাদের অভিজ্ঞতাকে আঘাত করতে পারে। বিশেষজ্ঞ বা কোনো সরকারি সংস্থার হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে কত হাজার নারী এই প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন, তার নির্ভরযোগ্য সংখ্যা পাওয়া যায়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই প্রবণতাকে হাজারো নারীর সংগঠিত আন্দোলন হিসেবে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা যাচ্ছে না। বরং এটি মূলত অনলাইনভিত্তিক একটি প্রতিবাদী প্রবণতা হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
চিকিৎসায় অনিয়ম ও অনুমোদনহীন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগে চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একজন জ্যেষ্ঠ এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট রোগীটির ডায়াবেটিসের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পর বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসা চলাকালে রোগীকে অনুমোদনহীন কিছু সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে রোগীর মৃত্যু হলে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম, গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গঠিত তদন্ত কমিটিকে রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি, কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, ব্যবহৃত ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট এবং অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই করে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, তদন্ত কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি রোগীর চিকিৎসা এবং পরবর্তী মৃত্যুর সঙ্গে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতির সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে প্রমাণিত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মুখে টেপ মারা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে। নিহত ৫০ বছর বয়সী ইসমাইল হোসেন মেয়ের বিয়ের জন্য জমি বিক্রি করে পাওয়া ৫ লাখ টাকা নিয়ে জামালপুর থেকে গাজীপুরে ফিরছিলেন। পরিবারের দাবি, তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোনও পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সকালে এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মুখে টেপ লাগানো ছিল। পরনে ছিল অটোরিকশাচালকদের ইউনিফর্মের মতো নীল রঙের শার্ট ও লুঙ্গি। পরে আঙুলের ছাপ জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ইসমাইল জামালপুর সদর উপজেলার জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় স্ত্রী, দুই সন্তান ও ছেলের বউকে নিয়ে থাকতেন। এর আগে ডেল্টা স্পিনিং মিলে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করলেও অসুস্থতার কারণে প্রায় নয় মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় চার মাস আগে ইসমাইল জামালপুরের গ্রামের বাড়িতে চলে যান। সেখানে তার মা ও বড় বোন থাকেন। মেয়ের বিয়ের কথা চূড়ান্ত হওয়ায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে তিনি গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। ইসমাইলের ছেলে হাসান জানান, বিয়ের খরচের জন্য গ্রামের ১১ শতাংশ জমি ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন তার বাবা। এর মধ্যে ২ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ এবং গ্রামের বাড়িতে একটি ঘর তৈরিতে কিছু টাকা খরচ করার পর প্রায় ৫ লাখ টাকা নগদ নিয়ে গাজীপুরে ফিরছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিল একটি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন ফোন। পরিবারের পরিকল্পনা ছিল, গাজীপুরে ফিরে মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করবেন ইসমাইল। সকালে তার জিরানীতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও সেখানে অপেক্ষা করতে গিয়ে ছেলে রাসেল তার ফোন বন্ধ পান। পরে বনানী থানা থেকে পরিবারকে জানানো হলে স্বজনরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ইসমাইলকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর কোনো গাড়িতে করে মরদেহটি এক্সপ্রেসওয়েতে এনে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং কীভাবে মরদেহটি সেখানে নেওয়া হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নিরাপত্তা ক্যামেরা থাকায় সেগুলোর ফুটেজ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট গাড়ি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। সূত্রঃ বিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম