দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিখোঁজ ক্যালিফোর্নিয়ার বৈমানিক, ৮২ বছর পর শনাক্ত দেহাবশেষ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ইতালির আকাশে বি-২৪ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এক বৈমানিক। ঘটনার আট দশকেরও বেশি সময় পর অবশেষে তার দেহাবশেষ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ইউএস আর্মি এয়ার ফোর্সের সার্জেন্ট অ্যাডলফ পি. আগুইরে নামের ওই তরুণের বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর।
১৯৪৩ সালের ১৬ আগস্ট একটি মিশন শেষে ফেরার পথে তার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দীর্ঘ ৮২ বছর পর তার পরিবার অবশেষে প্রিয়জনের অন্তিম পরিণতির কথা জানতে পেরেছে।
চলতি মাসেই তুলারে কাউন্টির এক্সেটার ডিস্ট্রিক্ট সমাধিস্থলে বাবা-মায়ের পাশে তাকে সমাহিত করার প্রস্তুতি চলছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ভিসালিয়ায় ১৯২১ সালের ২৯ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন আগুইরে। তার বাবা মার্গারিটো আগুইরে এবং মা মারি পিমেন্টেল। ১৯৪১ সালে এক্সেটার ইউনিয়ন হাইস্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ১৯৪২ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
পরিবারের কাছে তিনি ‘পাঞ্চো’ বা ‘চিকো’ নামে পরিচিত ছিলেন। বি-২৪ লিবারেটর হেভি বোম্বারে রেডিও অপারেটর ও গানার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এই তরুণ পাইলট। বীরত্বপূর্ণ সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘পার্পল হার্ট’ এবং ‘এয়ার মেডেল’ লাভ করেছিলেন।
বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর নিখোঁজ হওয়ার খবর জানিয়ে তার বাবা-মাকে একটি টেলিগ্রাম পাঠানো হলেও, ঠিক কী ঘটেছিল তা তারা কখনই জানতে পারেননি। দশকের পর দশক ধরে তার পরিণতি অজানা থেকে যায়।
২০২১ সালে মার্কিন সেনাবাহিনী মামলাটি পুনরায় চালু করলে তদন্তে নতুন মোড় আসে। ইতালির লাসেডোনিয়া থেকে নেপলসে স্থানান্তরিত কিছু দেহাবশেষ নিয়ে কাজ শুরু হয়। এই শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় মূল ভূমিকা পালন করেন আগুইরের চাচাতো ভাই জুয়ান আগুইরে।
২০২২ সালের মে মাসে কেনটাকির ফোর্ট নক্স-এ অবস্থিত ইউএস আর্মি হিউম্যান রিসোর্সেস কমান্ড জুয়ানকে ডিএনএ নমুনা প্রদানের অনুরোধ জানায়। পরবর্তীতে নেপলসের একটি সমাধিস্থল থেকে দেহাবশেষ তুলে ডিএনএ বিশ্লেষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণাগারে আনা হয়।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জুয়ান ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে নিখোঁজ মার্কিন সেনাদের হিসাবরক্ষক সংস্থা 'পাও/এমআইএ অ্যাকাউন্টিং এজেন্সি'-এর সাথে বৈঠক করেন। সে সময় তদন্তকারীদের আরও নিখুঁত জেনেটিক তুলনা করার সুবিধার্থে জুয়ানের ছেলে জুলিয়ানও ডিএনএ নমুনা প্রদান করেন।
টানা কয়েক বছর ধরে চলা এই প্রক্রিয়ার পর, ২০২৬ সালের মে মাসে পরিবারটি কাঙ্ক্ষিত সেই খবরটি পায়—আগুইরেকে সফলভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এরপর ১৬ জুন তারা জানতে পারেন যে, এই বীর সেনানির দেহাবশেষ ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
আট দশক আগে যে বাবা-মা সন্তানের ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, আজ তাদের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি। শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর এক্সেটার মেমোরিয়াল বিল্ডিংয়ে বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় এক্সেটার ডিস্ট্রিক্ট সমাধিস্থলে তাকে সমাহিত করা হবে। অনুষ্ঠানে সর্বসাধারণকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিখোঁজ এক ডোরড্যাশ চালককে পিটিয়ে হত্যার পর তার লাশ টেসলা গাড়ির ডিকিতে (ট্রাংক) লুকিয়ে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের তিন মাস পর ৩৯ বছর বয়সী ম্যানুয়েল সালসেদা নামের এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল (সিএইচপি) জানিয়েছে, গত ৯ জুলাই মার্সিড কাউন্টির ১৫২ নম্বর স্টেট রুটের পাশে একটি টেসলা সেডান গাড়ির ভেতর থেকে ৪২ বছর বয়সী হ্যাভিয়ের বেসেরিল জুনিয়রের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে তার পরিবার তাকে নিখোঁজ বলে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করেছিল। লাশ উদ্ধারের পর থেকেই এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে মাঠে নামে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, টেসলার ডিকিতে লাশ রাখার আগে হ্যাভিয়েরকে নির্মমভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত বা পিটিয়ে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ তিন মাসের শ্বাসরুদ্ধকর তদন্ত শেষে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে পুলিশ ম্যানুয়েল সালসেদাকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতে ঘাতক সালসেদা একাধিক ছদ্মনাম ব্যবহার করে আসছিলেন। অবশেষে গত ১১ অক্টোবর বে এরিয়ার বেশ কয়েকটি কাউন্টিতে টানা তল্লাশির পর উডল্যান্ডের ৫ নম্বর ইন্টারস্টেট হাইওয়ে সংলগ্ন একটি গ্যাস স্টেশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। সিএইচপির সেন্ট্রাল ডিভিশন মেজর ক্রাইম ইউনিটের এই সফল অভিযানের পর গত ২০ অক্টোবর মার্সিড কাউন্টির সুপিরিয়র কোর্টে সালসেদার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সিএইচপি প্রধান ড্যামন গিলমোর জানিয়েছেন, অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনতে তাদের গোয়েন্দারা একাধিক কাউন্টিতে দিনরাত এক করে শারীরিক প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহ করেছেন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যারহস্যের জট খুলতে এবং ঘটনার সময়কার কোনো সূত্র পেতে পুলিশ টেসলা গাড়ির অনবোর্ড কম্পিউটার সিস্টেম ও ভিডিও ডেটাও নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করেছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের জালিয়াতি, পাকিস্তানে গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত
গাড়ি চালানোর সময় প র্নোগ্রাফি দেখতে মগ্ন ছিলেন চালক! মুহূর্তের অসতর্কতায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল এক যাত্রীর
নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ১১ হাজার ডলারের স্কলারশিপ, সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ব্রুকলিনে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁকর্মী মোহাম্মদ ইউসুফ রাজুকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জেসাস অ্যাকোস্টা নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১১ দফা অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর ব্রুকলিন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা, হত্যাচেষ্টা, বেআইনি হামলা এবং ডাকাতির চেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধ রয়েছে। মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট রাতে ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকার ৮৪২ রকওয়ে অ্যাভিনিউতে অবস্থিত বাংলাদেশি মালিকানাধীন 'আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজ্জা' নামের রেস্তোরাঁয় এই সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে কর্মরত ৪৪ বছর বয়সী ইউসুফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় ৩৯ বছর বয়সী রাসেল নামের অপর এক কর্মীও পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশি তল্লাশি শেষে গত ২৯ আগস্ট ব্রঙ্কসের একটি পার্ক থেকে অভিযুক্ত জেসাস অ্যাকোস্টাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জামিন অযোগ্য অবস্থায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৪ ডিসেম্বর। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের শিকার মোহাম্মদ ইউসুফ রাজুর দেশের বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগরে। উন্নত জীবনের আশায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেও তার স্ত্রী ও দুই সন্তান বর্তমানে বাংলাদেশেই বসবাস করছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে নিহতের পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের চিকিৎসা বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে
যুক্তরাষ্ট্রে খাবার ডেলিভারিতে ১৫–৩০% সাশ্রয়ের সুযোগ, ডোরড্যাশ-উবার ইটসকে টক্কর দিতে ওলোর নতুন অ্যাপ
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি এনামুলকে আটক করেছে আইস, তাঁর দুঃসময়ে নীরব পুরো কমিউনিটি
সত্যিকারের ভালোবাসা যে মৃত্যু দিয়েও মুছে ফেলা যায় না, তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ৯৩ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ক্ল্যারেন্স পারভিস। ১৯৪৮ সালে ক্যারোলিনের সঙ্গে পরিচয়ের পর ১৯৪৯ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। দীর্ঘ ৬৩ বছরের সুখী দাম্পত্য জীবনে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার রেইডসভিলের 'স্মিথস' রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়া তাদের প্রিয় একটি রুটিনে পরিণত হয়েছিল। দুজনে মিলে গল্প করতে করতে খাবার উপভোগ করতেন, যা তাদের সম্পর্কের অন্যতম সুন্দর দিক ছিল। ২০১৩ সালে স্ত্রী ক্যারোলিন মারা গেলে ক্ল্যারেন্স ভীষণভাবে একা হয়ে পড়েন। তবে স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দীর্ঘদিনের সেই স্মৃতি তিনি কিছুতেই ছাড়তে পারেননি। তাই আজও প্রিয় সেই রেস্তোরাঁয় খেতে বসে টেবিলের ওপাশে প্রিয়তমা স্ত্রীর একটি বাঁধানো ছবি রেখে দেন তিনি। ক্ল্যারেন্সের বিশ্বাস, শারীরিকভাবে না থাকলেও আত্মিকভাবে স্ত্রী ক্যারোলিন আজও তার পাশেই আছেন। কেবল রেস্তোরাঁতেই নয়, স্ত্রীর প্রতি গভীর অনুরাগে প্রতিদিন সকালে ক্যারোলিনের সমাধিতেও ছুটে যান এই বৃদ্ধ। এমনকি স্ত্রীর কাছাকাছি থাকার অনুভূতি পেতে দিনের মধ্যে একাধিকবার সেখানে যান তিনি। ২০১৭ সালে তাদের এই হৃদয়স্পর্শী গল্পটি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হলে তা লাখো মানুষের মন জয় করে নেয়। ক্ল্যারেন্স পারভিস প্রমাণ করেছেন, প্রিয় মানুষটি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও ছোট ছোট স্মৃতি আর অভ্যাসের মাঝেই সত্যিকারের ভালোবাসা চিরকাল বেঁচে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রে গরিবের টাকা আত্মসাৎ করে প্রাইভেট জেট-রোলস-রয়েস, ৪২ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি ফাঁস
ফিলাডেলফিয়ার ‘টপ ডক্টর’ তালিকায় ষষ্ঠবার বাংলাদেশি জিয়াউদ্দিন আহমেদ