- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী, ইউএস আর্মিতে যোগ দিতে আগ্রহীদের জন্য বর্তমানে ২০০টিরও বেশি সামরিক চাকরির সুযোগ রয়েছে। হেলথ কেয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রশাসন, পরিবহন, এভিয়েশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ থাকলেও পদভেদে যোগ্যতা ও বয়সসীমা আলাদা হতে পারে। ইউএস আর্মির অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ এনলিস্টেড পদে আবেদনকারীর বয়স ১৭ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে হতে হবে। ইউএস আর্মিতে এনলিস্টেড হিসেবে যোগ দিতে হলে আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা বৈধ গ্রিন কার্ডধারী পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হতে হবে। পাশাপাশি হাইস্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি থাকতে হবে, মেডিক্যাল ও শারীরিকভাবে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত হতে হবে এবং সেনাবাহিনীর প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় স্কোর অর্জন করতে হবে। এই প্রবেশিকা পরীক্ষা হলো এএসভিএবি। ইউএস আর্মির তথ্য অনুযায়ী, এনলিস্ট হওয়ার জন্য এএফকিউটি স্কোর কমপক্ষে ৩১ প্রয়োজন। পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করে একজন প্রার্থী কোন কোন সামরিক চাকরির জন্য যোগ্য হবেন, সেটিও নির্ধারিত হয়। তবে সব পদের নিয়ম এক নয়। যেমন এভিয়েশন বা স্পেশাল ফোর্সেসের মতো বিশেষায়িত পদে বয়স, নাগরিকত্ব, শারীরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তা ছাড়পত্রের অতিরিক্ত শর্ত থাকতে পারে। তাই শুধু সাধারণ বয়সসীমা পূরণ করলেই প্রতিটি পদে আবেদন করা যাবে, এমন নয়। বেতনের ক্ষেত্রে ইউএস আর্মির ২০২৬ সালের পে টেবিল অনুযায়ী, এনলিস্টেড সদস্যদের বেতন পদমর্যাদা ও চাকরির মেয়াদের ওপর নির্ভর করে। উদাহরণ হিসেবে, দুই বছরের কম চাকরির অভিজ্ঞতার একজন ই-১ সদস্যের বেসিক পে মাসে প্রায় ২ হাজার ১০০ ডলার থেকে শুরু হয়, আর একই পর্যায়ের ই-২ সদস্যের বেসিক পে প্রায় ২ হাজার ৩০০ ডলার। এর বাইরে আবাসন, খাবার ও অন্যান্য ভাতা এবং বিশেষ দায়িত্বের জন্য অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিয়োগের সময় যোগ্য প্রার্থীরা বিভিন্ন ধরনের বোনাসও পেতে পারেন। ইউএস আর্মির অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট চাকরি, দক্ষতা এবং দ্রুত বেসিক ট্রেনিংয়ে যোগ দেওয়ার মতো শর্তের ভিত্তিতে বিভিন্ন বোনাস মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এই অর্থ সবার জন্য নিশ্চিত নয় এবং যোগ্যতা ও চুক্তির শর্তের ওপর নির্ভর করে। শিক্ষার ক্ষেত্রেও বড় সুবিধা রয়েছে। ইউএস আর্মির টিউশন অ্যাসিস্ট্যান্স কর্মসূচির আওতায় যোগ্য সদস্যরা বছরে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত শিক্ষা বা পেশাগত প্রশিক্ষণের খরচে সহায়তা পেতে পারেন। এছাড়া আর্মির লোন রিপেমেন্ট কর্মসূচির আওতায় যোগ্য সদস্যদের প্রায় ৬৫ হাজার ডলার পর্যন্ত শিক্ষাঋণ পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবাও সামরিক চাকরির অন্যতম বড় সুবিধা। পূর্ণকালীন সদস্যদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিনা খরচে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরাও স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। এর পাশাপাশি আবাসন, খাবার, পোশাক এবং অন্যান্য ভাতার সুযোগ রয়েছে। ইউএস আর্মির তথ্য অনুযায়ী, সদস্যরা বছরে ৩০ দিন পেইড ছুটিও পান। আবেদন করতে হলে প্রথম ধাপে স্থানীয় ইউএস আর্মি রিক্রুটারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। এরপর এএসভিএবি পরীক্ষা, শারীরিক পরীক্ষা ও অন্যান্য যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। সব শর্ত পূরণ হলে প্রার্থী নিজের যোগ্যতা ও পরীক্ষার ফল অনুযায়ী চাকরির ক্ষেত্র বেছে নিয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে বেসিক ট্রেনিংয়ের প্রস্তুতি নেন। তবে বেতন, বোনাস, পদভেদে যোগ্যতা এবং অন্যান্য সুবিধা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে বোনাসের পরিমাণ নির্দিষ্ট চাকরি ও চুক্তির শর্তের ওপর নির্ভর করে। তাই আবেদন করার আগে ইউএস আর্মির সর্বশেষ অফিসিয়াল তথ্য এবং রিক্রুটারের কাছ থেকে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা উচিত।
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন বাজারে আসার আগেই এর সম্ভাব্য দাম নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। সিটিগ্রুপের বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই ডিভাইসের দাম ২ হাজার ডলারের বেশি হতে পারে। বিভিন্ন শিল্প বিশ্লেষণেও ডিভাইসটির সম্ভাব্য দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অ্যাপল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফোল্ডেবল আইফোনের নাম বা দাম ঘোষণা করেনি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ডিভাইসটির সম্ভাব্য নাম ‘আইফোন আলট্রা’ বলা হচ্ছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের অনুষ্ঠানে ডিভাইসটি উন্মোচনের সম্ভাবনা রয়েছে। গুজব ও বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বইয়ের মতো ভাঁজ করা এই আইফোনে প্রায় ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে এবং খুললে প্রায় ৭ দশমিক ৮ ইঞ্চির ভেতরের ওএলইডি ডিসপ্লে থাকতে পারে। ভাঁজ খোলা অবস্থায় এর পুরুত্ব প্রায় ৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার হতে পারে, যা এটিকে অ্যাপলের সবচেয়ে পাতলা আইফোনে পরিণত করতে পারে। ডিভাইসটিতে ফেস আইডির পরিবর্তে টাচ আইডি ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে। পাশাপাশি পেছনে দুটি ক্যামেরা থাকতে পারে এবং প্রো মডেলের মতো টেলিফটো ক্যামেরা নাও থাকতে পারে। বড় ডিসপ্লে কাজে লাগিয়ে আইপ্যাডের মতো একাধিক অ্যাপ পাশাপাশি ব্যবহারের সুবিধা দেওয়ারও গুঞ্জন রয়েছে। দামের বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ট্রেন্ডফোর্সের সাম্প্রতিক অনুমান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ফোল্ডেবল আইফোনের শুরুর দাম ২ হাজার ৯৯ থেকে ২ হাজার ২৯৯ ডলারের মধ্যে হতে পারে। উচ্চ স্টোরেজের সংস্করণের দাম ৩ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। অ্যাপলের এই ফোল্ডেবল আইফোন নিয়ে বাজারে প্রত্যাশা থাকলেও এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়নি। ফলে নাম, দাম, ফিচার ও বাজারে আসার সময় সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য অ্যাপলের ঘোষণার পরই নিশ্চিত হবে।
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে দায়িত্বের বাইরে থাকা এক এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা নিজের বন্দুকের গুলিতে পায়ে আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার পর কিংসব্রিজ হাইটস এলাকার বেইলি অ্যাভিনিউতে এ ঘটনা ঘটে। আহত ৩৩ বছর বয়সী কর্মকর্তাকে দ্রুত জ্যাকোবি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১২ জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তা তখন দায়িত্বে ছিলেন না। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে তাকে প্যারামেডিকদের সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্সে উঠতে দেখা যায়। ঘটনার সময় কীভাবে বন্দুকটি থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, কর্মকর্তাকে জ্যাকোবি হাসপাতালে নেওয়ার পর তার অবস্থা নিয়ে আশাবাদী চিকিৎসকেরা। পরিবারের পক্ষ থেকে কর্মকর্তার নাম ডেমিট্রিয়াস ক্যাসেরেস বলে জানানো হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাসেরেস ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে এনওয়াইপিডিতে কর্মরত এবং বর্তমানে ফার্স্ট প্রিসিঙ্কটে দায়িত্ব পালন করছেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসা থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতির সময় অস্ত্রটি হোলস্টারে রাখার মুহূর্তে গুলি ছোড়ে এবং তিনি পায়ে আঘাত পান। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। গুলি কীভাবে ছোড়া হয়েছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত শেষে আরও পরিষ্কার হবে।
সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে সন্দেহভাজন গ্যাং হামলায় নিহত ৪০ বছর বয়সী জোশুয়া ম্যাকডোনাল্ডকে পরিবারের পক্ষ থেকে এমন একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে, যিনি গুলির মুখে নিজের জীবনের কথা না ভেবে বন্ধুর দুই শিশুকন্যাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ বলছে, ম্যাকডোনাল্ডের সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র ছিল না এবং ঘটনাটি ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে। বুধবার বিকেলে সিডনির পশ্চিমাঞ্চলের মেরিল্যান্ডস ওয়েস্টের ব্রুস স্ট্রিটের একটি বাড়ির সামনে গুলিতে নিহত হন ম্যাকডোনাল্ড। তিনি পেশায় বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদার ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, একটি চুরি যাওয়া ধূসর অডি গাড়িতে থাকা বন্দুকধারীরা ওই বাড়ির সামনে এসে গুলি চালায়। ম্যাকডোনাল্ড মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় ম্যাকডোনাল্ড তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নিক ব্রাউন এবং ব্রাউনের দুই ছোট মেয়ের সঙ্গে বাড়িটির সামনে ছিলেন। গুলি শুরু হলে তিনি শিশুদের সামনে নিজেকে আড়াল হিসেবে দাঁড় করান। পরিবারের সদস্য ডার্লিন নর্টন জানিয়েছেন, তাঁর ভাগনে এমনই ছিলেন। বিপদে কাউকে দেখলে নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে সামনে দাঁড়াতেন তিনি। ব্রাউন নর্টন পরিবারকে পাঠানো এক বার্তায় ম্যাকডোনাল্ডকে তাঁর নিজের ও সন্তানদের ‘অভিভাবক দেবদূত’ হিসেবে স্মরণ করেছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। ম্যাকডোনাল্ডের স্বজনেরা বলেন, তাঁর শেষ কাজটিও ছিল অন্যদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা। ঘটনার তদন্তে পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেছে। এতে একটি ধূসর অডি গাড়িকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেখা গেছে। পুলিশের ধারণা, হামলাকারীরা যে ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেছিল, ম্যাকডোনাল্ড সম্ভবত সেই ব্যক্তি ছিলেন না। যে বাড়িতে তিনি গিয়েছিলেন, সেটির সঙ্গে অপরাধজগতের সংশ্লিষ্টতার তথ্য থাকলেও পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ম্যাকডোনাল্ড নিজে সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ম্যাকডোনাল্ড হত্যার মাত্র এক দিন আগে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্লেন অ্যালপাইনে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে। ৩১ আগস্ট ভোরে মুখোশধারী কয়েকজন একটি বাড়িতে ঢুকে ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মার্কো তাপিয়াকে গুলি করে হত্যা করে। তাপিয়াও অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সেই ঘটনাও ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই ঘটনার মধ্যে মাত্র প্রায় ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধান থাকায় সিডনিতে সংগঠিত অপরাধীদের সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পুলিশের তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এসব হামলার পেছনে একই অপরাধী চক্র বা বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা। ম্যাকডোনাল্ডের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁর খালা ডার্লিন নর্টন অভিযোগ করেন, হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি দীর্ঘ সময় ওই এলাকায় অবস্থান করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে আগে থেকে পুলিশি টহল বাড়ানো হলে হয়তো ঘটনাটি ঠেকানো সম্ভব হতো বলে তাঁর ধারণা। তবে নিউ সাউথ ওয়েলসের সরকার ও পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা কাজ করছে। পুলিশ কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন জানিয়েছেন, সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হবে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আদালতের মুখোমুখি করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীদের নির্দেশে স্থানীয় তরুণদের ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে কি না। এদিকে ম্যাকডোনাল্ডের স্বজনেরা তাঁকে পরিশ্রমী, সদয় ও পরিবারপ্রিয় মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। তাঁর খালা জানিয়েছেন, মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। জবাবে ম্যাকডোনাল্ড লিখেছিলেন, দেখা হওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি। সেই সাক্ষাৎ আর হয়নি। পুলিশ এখনো দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তদন্তকারীরা হামলাকারীদের শনাক্ত করতে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। সূত্র: ডেইলি মেইল, এবিসি নিউজ ও ৭নিউজ।
যুক্তরাজ্যে অসুস্থ এক তরুণীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থাকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২৪ বছর বয়সী ক্ল্যারিসা স্ট্রিটকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে এমন একটি অক্সিজেন মাস্ক দেওয়া হয়েছিল, যা কোনো অক্সিজেন সরবরাহের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। পরে এক ঘণ্টারও বেশি সময় হাসপাতালের করিডরে থাকার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ২০২৪ সালের আগস্টে ইংল্যান্ডের রয়্যাল ওল্ডহ্যাম হাসপাতালে ঘটে। চলতি বছরের মে মাসে রোচডেল কোরোনার আদালতে অনুষ্ঠিত তদন্তে তাঁর চিকিৎসার শেষ সময়ের বিভিন্ন ঘটনা উঠে আসে। ক্ল্যারিসা ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। তাঁর গবেষণার জন্য তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সৃজনশীল, প্রাণবন্ত এবং মানুষের সঙ্গে মিশুক তরুণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ক্ল্যারিসার প্রেমিক অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেন। আদালতে বলা হয়, এর আগের দুই দিন ধরেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। মাথা ঘোরা, বমি এবং বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তাঁকে রয়্যাল ওল্ডহ্যাম হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর অ্যাম্বুলেন্সকর্মীদের একজন তাঁকে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন এবং আতঙ্কজনিত সমস্যায় ভুগছেন বলে মনে করেছিলেন বলে তদন্তে জানানো হয়। এরপর দায়িত্বে থাকা নার্স মিশেল নিল ক্ল্যারিসাকে একটি অক্সিজেন মাস্ক দেন। কিন্তু সেটি কোনো অক্সিজেনের উৎসের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। নিল আদালতে স্বীকার করেন, কেন তিনি এমন একটি মাস্ক দিয়েছিলেন তা তিনি জানেন না এবং এমনটি করা উচিত হয়নি। তিনি অবশ্য দাবি করেন, মাস্কটি ক্ল্যারিসার শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছিল এবং তখন তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিলেন। তদন্তে আরও জানা যায়, ক্ল্যারিসার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম ছিল এবং তাঁর হৃদস্পন্দনও দ্রুত ছিল। এরপরও তাঁকে চিকিৎসাকক্ষের পরিবর্তে হাসপাতালের করিডরে রাখা হয়। সেখানে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা ছিলেন বলে আদালতে তথ্য উঠে আসে। নিল জানান, তিনি ক্ল্যারিসার জন্য ইসিজি, রক্ত পরীক্ষা এবং শিরার রক্তের গ্যাস পরীক্ষা করার অনুরোধ করেছিলেন। পরে তাঁর বিষয়টি একজন জ্যেষ্ঠ নার্সের কাছে তোলা হয়। নিলের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ নার্স ক্ল্যারিসা বয়সে তরুণ হওয়ায় তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁকে তরল দেওয়া হয় এবং পরে আবার পরীক্ষা করার কথা ছিল। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ল্যারিসার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে আরও উচ্চপর্যায়ের চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় এবং চিকিৎসক তাঁকে দেখেন। তবে ১৪ আগস্ট ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত ও তদন্তে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে পালমোনারি এমবোলিজম বা ফুসফুসের রক্তনালিতে রক্ত জমাটের কথা বলা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে ফ্যাটি লিভার রোগের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ল্যারিসার এর আগেও ২০১৭ সালে পালমোনারি এমবোলিজম ও গভীর শিরায় রক্ত জমাটের সমস্যা হয়েছিল। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে রক্ত পাতলা রাখার ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতে বলা হয়, ২০১৭ সালের ঘটনাটি সে সময়ের চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচিত হয়েছিল। তাই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা বা রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা তখন ছিল না। তদন্তে অবশ্য এটিও স্বীকার করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত পরীক্ষা বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হলে তাঁর শরীরে কোনো অন্তর্নিহিত কারণ শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে ২০১৭ সালের ঘটনা এবং ২০২৪ সালের পালমোনারি এমবোলিজম সরাসরি সম্পর্কিত ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি। ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে জরুরি বিভাগে রোগী মূল্যায়ন, রোগীর উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়া এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে বয়স বা প্রাথমিক ধারণার প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তে বিশেষভাবে উঠে এসেছে, ক্ল্যারিসার শারীরিক অবস্থার কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসাকক্ষে নেওয়া হয়নি। তবে ক্ল্যারিসার মৃত্যুর জন্য সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দায়ী করা হয়েছে এমনটি বলা ঠিক হবে না। কোরোনারের তদন্তের উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুর পরিস্থিতি ও চিকিৎসার ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখা। অক্সিজেনের সঙ্গে সংযোগহীন মাস্ক দেওয়ার বিষয়টি নার্স নিজেই ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান পর্যালোচনার কথা বলার পর আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলোই আবারও দ্বীপগুলোর ওপর আর্জেন্টিনার দাবিকে জোরালো করেছেন। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর্জেন্টিনায় এগুলো ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত। দুই দেশের মধ্যে সার্বভৌমত্বের বিরোধের সবচেয়ে বড় অধ্যায় ছিল ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ। ওই যুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ জন এবং ব্রিটেনের ২৫৫ জন সামরিক সদস্য নিহত হন। জুনে আর্জেন্টিনার বাহিনী আত্মসমর্পণ করলে যুদ্ধের অবসান ঘটে। তবে যুদ্ধের পরও আর্জেন্টিনা দ্বীপগুলোর ওপর নিজের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাহার করেনি। অন্যদিকে দ্বীপের বাসিন্দারা ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ২০১৩ সালের গণভোটে ভোট দেওয়া ১ হাজার ৫১৭ জনের মধ্যে ১ হাজার ৫১৩ জনই ব্রিটিশ ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। সম্প্রতি ট্রাম্পের মন্তব্যের পর পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আগস্টের শেষ দিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পর্যালোচনা করছেন। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে আনুষ্ঠানিক কোনো পরিবর্তনের ঘোষণা দেননি। ঐতিহাসিকভাবে ওয়াশিংটন দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে, যদিও বাস্তবে ব্রিটিশ প্রশাসনকে স্বীকৃতি দিয়ে এসেছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে দ্রুত নিজের দেশের দাবির পক্ষে কাজে লাগান আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলোই। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার জন্য দ্বীপগুলো পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি দ্বীপগুলোর আশপাশে তেল অনুসন্ধান নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান। মিলোইয়ের সরকার ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষ করে ‘সি লায়ন’ তেল প্রকল্পকে ঘিরে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। আর্জেন্টিনা এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে অবৈধ বলে মনে করলেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো বলছে, তাদের অনুমোদন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সরকার এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া। মিলোইয়ের বক্তব্যে সামরিক সংঘাতের সরাসরি হুমকি না থাকলেও দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি তাঁর সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে। তিনি একই সঙ্গে দক্ষিণ আটলান্টিক অঞ্চলে আর্জেন্টিনার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলেছেন। এর মধ্যে ট্রাম্প ও মিলোইয়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্কও বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। মিলোই নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিশ্চয়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই সময় মিলোইয়ের রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী সাফল্যও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে ব্রিটেন দ্বীপগুলোর ওপর নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। ব্রিটিশ সরকার বলেছে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে এবং তারা ব্রিটিশ ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে থাকতে চায়। দ্বীপবাসীদের এই অবস্থানের প্রতি ব্রিটেনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। ফকল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সম্পর্কের টানাপোড়েনও ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ব্রিটেনের প্রত্যাশিত মাত্রায় সহযোগিতা না পাওয়ায় ট্রাম্পের অসন্তোষের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ নথিতেও ব্রিটেনের অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ফকল্যান্ড ইস্যুতে মার্কিন নীতি পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ১৯৮২ সালের যুদ্ধের পর ফকল্যান্ড ইস্যুতে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত আর হয়নি। কিন্তু আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি কখনো শেষ হয়নি। এখন ট্রাম্পের মন্তব্য, মিলোই সরকারের নতুন তৎপরতা এবং দ্বীপগুলোর সম্ভাব্য তেলসম্পদকে ঘিরে বিরোধ আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পুরোনো এই ভূখণ্ডগত বিরোধকে সামনে নিয়ে এসেছে।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে যাওয়ার জন্য ছদ্মবেশ নিতে হয়েছিল আফগান সাংবাদিক জাহরা জোয়ারকে। তালেবানের প্রথম দফার শাসনামলে মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর তাঁর মা তাঁকে ছেলের পোশাক পরিয়ে ‘মোহাম্মদ’ নামে স্কুলে পাঠাতেন। বছরের পর বছর এভাবেই পরিচয় গোপন রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যান জাহরা। সেই শৈশবের অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে আফগান নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করার পথ তৈরি করে দেয় তাঁর জন্য। জাহরার বয়স তখন মাত্র পাঁচ বছর। ১৯৯৬ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী জাহরার সামনে তখন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথ ছিল না। কিন্তু শিক্ষার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ দেখে মা একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। মেয়েকে ছেলের মতো সাজিয়ে স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন তিনি। এরপর জাহরার নতুন পরিচয় হয় ‘মোহাম্মদ’। ছেলেদের পোশাক পরে তিনি প্রতিদিন স্কুলে যেতেন। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ছদ্মবেশ নেওয়ার পরিকল্পনাটি ছিল তাঁর মায়ের। তবে স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ ছিল সম্পূর্ণ তাঁর নিজের। জাহরা পরে স্মরণ করেছেন, তিনি সব সময় স্কুলে যেতে এবং ছেলেদের সঙ্গে বাইরে খেলতে চাইতেন। স্কুলে যাওয়ার পথটিও ছিল সহজ নয়। জাহরা তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা হেঁটে শ্রেণিকক্ষে পৌঁছাতেন। সঙ্গে থাকত ছেলের পোশাক ও পরিচয়। পরিবারের একজন আত্মীয় তাঁকে ছেলেদের মতো চলাফেরা ও ফুটবল খেলার কৌশলও শেখাতেন, যাতে বাইরে কেউ তাঁর আসল পরিচয় বুঝতে না পারে। এই সময়টিতে ছেলের পরিচয়ে চলার কারণে জাহরা এমন কিছু স্বাধীনতা পেয়েছিলেন, যা তখন আফগানিস্তানের মেয়েদের জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু প্রতিদিনই ছিল পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। তাঁর নিজের ভাষায়, তিনি নিজের পরিচয় লুকাতে চাননি, কিন্তু পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তখন তাঁর সামনে অন্য কোনো পথও ছিল না। তালেবানের প্রথম শাসন ২০০১ সালে শেষ হওয়ার পর জাহরা আর ছেলের ছদ্মবেশে থাকতে বাধ্য হননি। এরপর তিনি প্রকাশ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যান। ২০১১ সালে তিনি কাবুলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন। নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা তাঁর সাংবাদিকতার দৃষ্টিভঙ্গিকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। আফগান সমাজে নারীদের অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠস্বর অনেক সময় মূলধারার সংবাদে যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না বলে মনে করতেন তিনি। সেই জায়গা থেকেই ২০২০ সালে জাহরা ‘রুখশানা মিডিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন। সংবাদমাধ্যমটি বিশেষভাবে আফগান নারী ও মেয়েদের জীবন, অধিকার ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য কাজ করে। ২০২১ সালে তালেবান আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করলে জাহরার নিজের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ে। তিনি ব্রিটিশ সরকারের পরিচালিত আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়ার অভিযানের মাধ্যমে দেশ ছাড়েন এবং পরে যুক্তরাজ্যে বসবাস শুরু করেন। লন্ডন থেকে তিনি রুখশানা মিডিয়ার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমটি দেশটির নারীদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেয়। তালেবান শাসনের অধীনে আফগান নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জনজীবনে অংশগ্রহণের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ নিয়েও প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আফগানিস্তানের ভেতরে থাকা সাংবাদিকদের মাধ্যমেও এসব প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। জাহরার কাজ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২২ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। একই বছরে তিনি বিবিসির ‘১০০ উইমেন’-এর তালিকাতেও স্থান পান। তাঁর সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসেবে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার রয়েছে। বর্তমানে জাহরা যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউজ হলের বাই-ফেলো হিসেবে যুক্ত আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২৪ সালে তাঁর নিয়োগের কথা জানিয়ে বলেছিল, আফগান নারী ও মেয়েদের অধিকার, বিশেষ করে শিক্ষার অধিকার নিয়ে তাঁর কাজ এই স্বীকৃতির অন্যতম কারণ। শৈশবে নিজের পরিচয় গোপন করে স্কুলে যাওয়ার সেই অভিজ্ঞতা আজও জাহরার কাজের কেন্দ্রে রয়েছে। যে বয়সে একটি শিশুর স্বাভাবিকভাবে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই তাঁকে নিজের লিঙ্গপরিচয় গোপন করতে হয়েছিল শুধু পড়াশোনার সুযোগ পাওয়ার জন্য। পরে সেই শিশুই সাংবাদিক হয়ে আফগান নারীদের অধিকার ও শিক্ষার পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে কথা বলার অন্যতম পরিচিত কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন। জাহরার গল্প শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা নয়। এটি আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ, সামাজিক স্বাধীনতা এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবিও। ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর দেশটির নারী ও মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আবারও তীব্র হয়েছে। জাহরা নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে সেই বাস্তবতার কথাই তুলে ধরছেন। সংবাদসূত্র: বিবিসি, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, রুখশানা মিডিয়া ও দ্য গার্ডিয়ান।
ইন্দোনেশিয়ায় সরকারের বিনা মূল্যের স্কুল খাবার কর্মসূচির খাবার খেয়ে চলতি সপ্তাহে পৃথক কয়েকটি ঘটনায় ২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। দেশটির অন্তত চারটি অঞ্চলে এসব ঘটনা ঘটেছে। বারবার খাবারজনিত অসুস্থতার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর শিশুদের অপুষ্টি দূর করার এই কর্মসূচি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের তানা তোরাজায় প্রায় ১৭০ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হন। স্থানীয় সরকারের প্রধান জাদরাক তমবেগ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে চলতি সপ্তাহে মধ্য জাভা, পূর্ব জাভা ও পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশে আরও ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পূর্ব জাভার আরেকটি এলাকায় এর আগে ২৫৬ শিক্ষার্থী স্কুলের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছিল। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, কমনাস হাম, পুলিশকে বিষয়গুলো তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে কমিশন বলেছে, নিরাপদ খাবার পাওয়ার অধিকারও মানবাধিকারের অংশ। খাবার প্রস্তুত ও বিতরণে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা না গেলে সরকারের পরিচালিত পুষ্টি কর্মসূচি তার নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে বলেও সতর্ক করেছে কমিশন। কমিশন একই সঙ্গে যেসব রান্নাঘর থেকে দূষিত বা অনিরাপদ খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পুষ্টি সংস্থা কর্মসূচিটি পরিচালনা করে। সংস্থাটির প্রধান সুদারিয়োনো বৃহস্পতিবার বলেছেন, খাবারজনিত অসুস্থতার ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে শুক্রবার নির্ধারিত একটি সংবাদ সম্মেলন কোনো কারণ না জানিয়ে স্থগিত করা হয় এবং নতুন তারিখও জানানো হয়নি। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো গত বছর বিনা মূল্যের পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচি চালু করেন। শিশুদের অপুষ্টি কমানো এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সরকার দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক শিশুকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে। তবে কর্মসূচি চালুর পর থেকেই খাবারের মান, সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার মধ্যে মধ্য জাভার লাসেমে ৭৫২ শিক্ষার্থী ও ২৫ শিক্ষক অসুস্থ হওয়ার ঘটনা বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় খাবার হিসেবে দেওয়া ভাজা মুরগি নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। খাবার ভোরে রান্না করে দুপুরে পরিবেশন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। খাবার সংরক্ষণ ও পরিবেশনের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পূর্ব জাভার সিদোয়ারজো এলাকায়ও ৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যায়। জাতীয় পুষ্টি সংস্থা জানিয়েছে, সন্দেহভাজন একটি রান্নাঘর ৩০ দিনের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে। এর আগে সরকারি কর্মসূচির খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাগুলোর সঙ্গে খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা এবং রান্না করা খাবার দেরিতে স্কুলে পৌঁছানোর মতো কারণের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তবে সমস্যার ব্যাপকতা সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার চেয়েও বেশি হতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্য চার্লস হনোরিস স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এই সংখ্যা নিয়ে সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। কমনাস হামও এর আগে কর্মসূচিটির পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জুনে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় সংস্থাটি বলেছিল, বিনা মূল্যের পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ এবং মানবাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর ব্যবস্থাপনার সুপারিশও করেছিল কমিশন। বারবার খাবারজনিত অসুস্থতার ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। তানা তোরাজার ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক শিশুর মা এস্টার পাতানদুং রয়টার্সকে বলেছেন, একজন অভিভাবক হিসেবে তাঁর প্রত্যাশা হলো কেন্দ্রীয় বা আঞ্চলিক সরকার যেন বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচি বাতিল করে। জনসমর্থনের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। জুলাইয়ে সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিং পরিচালিত এক জরিপে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ইন্দোনেশীয় এই কর্মসূচির কার্যক্রমে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছিলেন। অসন্তুষ্টদের অনেকেই খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। কর্মসূচিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শিশুদের অপুষ্টি মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য সামনে রেখে চালু হওয়া উদ্যোগটি বড় পরিসরে পরিচালিত হওয়ায় খাবারের নিরাপত্তা, রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি, সংরক্ষণ এবং সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের আহ্বানের পর সরকার কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।
নিউইয়র্ক স্টেটে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বিপুলসংখ্যক পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশাসন, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবেশ, আর্থিক সেবা, পরিবহনসহ বিভিন্ন বিভাগে একাধিক পদে আবেদন চলছে। নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইটে সাধারণ প্রার্থীদের জন্য প্রকাশিত চলমান নিয়োগ তালিকায় এসব পদ পাওয়া যাচ্ছে। নিউইয়র্ক স্টেটের নিয়োগ তালিকায় সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অফিস সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নিরীক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, নিবন্ধিত নার্স, তথ্য বিশ্লেষক, পরিবেশবিষয়ক কর্মকর্তা, মানবাধিকারবিষয়ক তদন্তকারীসহ বিভিন্ন ধরনের পদ রয়েছে। পদভেদে শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, নিয়োগের ধরন এবং আবেদনের শেষ তারিখ আলাদা। ১ সেপ্টেম্বরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতেই সহকারী ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট, নিবন্ধিত নার্স, রক্তের নমুনা সংগ্রহকারী, মোটরযান পরিদর্শক, পার্ক ও বিনোদন বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক এবং শিশু ও পরিবারসেবা বিভাগের বিভিন্ন পদসহ বেশ কয়েকটি চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়। পরদিনও নতুন করে তথ্যপ্রযুক্তি, মানবাধিকার, শিক্ষা, প্রশাসন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রযুক্তি বিষয়ক ডেপুটি কমিশনার, তথ্যনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষা বিভাগের প্রশাসনিক সহকারী ও তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত পদ রয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হলো ‘এনওয়াই হেল্পস’ কর্মসূচি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা যোগ্য প্রার্থীদের কিছু পদে প্রচলিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রক্রিয়া ছাড়াই নিয়োগ দিতে পারে। সরকারি চাকরির জন্য তৈরি নিউইয়র্ক স্টেটের তথ্যপেজে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করে যোগ্য ও বৈচিত্র্যময় কর্মী দ্রুত নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। অভিবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিউইয়র্ক স্টেটের প্রতিটি সরকারি পদে একই যোগ্যতা প্রযোজ্য নয়। কোনো পদে নাগরিকত্ব বা নির্দিষ্ট কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত শর্ত থাকতে পারে, আবার কিছু পদে যোগ্যতা পূরণকারী অন্যান্য প্রার্থীর আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। তাই অভিবাসী আবেদনকারীদের প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে নাগরিকত্ব, কর্মসংস্থানের অনুমতি এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে দেখে আবেদন করা উচিত। চলমান নিয়োগ তালিকায় এমন অনেক পদও রয়েছে যেগুলোর আবেদনের শেষ তারিখ সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। যেমন, নিউইয়র্ক স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে অফিস সহকারী ও প্রশাসনিক সহকারী পদে সেপ্টেম্বরের ১১ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে কয়েকটি পদে আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর। স্বাস্থ্য ও সংশ্লিষ্ট বিভাগেও বিভিন্ন পদে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নিউইয়র্ক স্টেটের কর ও অর্থ বিভাগেও প্রশাসনিক সহকারী, করসংক্রান্ত তথ্য সহকারী এবং ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা ও তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। কিছু পদের আবেদনের শেষ তারিখ সেপ্টেম্বরের ১১ থেকে ১৭ তারিখের মধ্যে, আবার কিছু পদে আরও দীর্ঘ সময় আবেদন করা যাবে। আবেদনকারীদের মনে রাখতে হবে, সব সরকারি চাকরির জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। ‘এনওয়াই হেল্পস’ কর্মসূচির আওতাভুক্ত কিছু পদে পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে কিছু পদে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। কোন পদে কী ধরনের নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকে। নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইটে সাধারণ প্রার্থীদের জন্য বর্তমানে হাজারো চাকরির সুযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সেপ্টেম্বরের নিয়োগকে একটি নির্দিষ্ট এককালীন নিয়োগ পরীক্ষা হিসেবে না দেখে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রকাশিত পৃথক শূন্যপদের সমষ্টি হিসেবে দেখা উচিত। আগ্রহী প্রার্থীরা নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইট StateJobsNY-তে গিয়ে চলমান পদগুলো দেখতে পারবেন। সেখানে পদ অনুযায়ী যোগ্যতা, বেতন, কর্মস্থল, আবেদনের শেষ তারিখ এবং আবেদন করার পদ্ধতি দেওয়া থাকে। বিশেষ করে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পদের নাগরিকত্ব ও কর্মসংস্থানের যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। শুধু পদটি সাধারণ প্রার্থীদের জন্য উন্মুক্ত দেখালেই প্রত্যেক অভিবাসী স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্য হবেন, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আবেদন ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইট: StateJobsNY
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মাউন্ট শাস্তা পর্বতে ওঠার পরিকল্পনা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তা নিয়েছিলেন তিন অনভিজ্ঞ হাইকার। গুগলের জেমিনি থেকে পাওয়া পথ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসংক্রান্ত পরামর্শের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পর চূড়ায় উঠতে গিয়ে বিপাকে পড়েন তারা। পরে পথ হারিয়ে একজন হাঁটুতে আঘাত পাওয়ায় তিনজনকেই উদ্ধার করতে হয়। ঘটনাটি ঘটে ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলে, ওরেগন সীমান্তের কাছে ক্যাসকেড পর্বতমালার অংশ মাউন্ট শাস্তায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪ হাজার ১৭৯ ফুট উঁচু এই পর্বতটি অভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের কাছেও চ্যালেঞ্জিং হিসেবে পরিচিত। সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তিন হাইকারই ক্যালিফোর্নিয়ার রোজভিলের বাসিন্দা এবং পর্বতারোহণে তারা অনভিজ্ঞ ছিলেন। গত ২৯ আগস্ট শনিবার প্রায় ৮ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় তারা শিবির স্থাপন করেন। পরদিন ভোর ৩টার দিকে হালকা ব্যাগ নিয়ে চূড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যে ওঠা ও নামার কাজ শেষ করা। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর রাত ৭টার দিকে তারা মাউন্ট শাস্তার চূড়ায় পৌঁছান। অথচ পর্বত কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনায় দুপুর ১২টার মধ্যে চূড়ায় পৌঁছাতে না পারলে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ এরপর নামার সময় পর্যাপ্ত দিনের আলো না থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়। তিনজন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে চূড়ায় পৌঁছানোর পর অন্ধকারের মধ্যেই নামা শুরু করেন। নামার প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা পথনির্দেশনার জন্য সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের জরুরি যোগাযোগ নম্বরে ফোন করেন। এরপরও তারা নির্ধারিত ক্লিয়ার ক্রিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে মাড ক্রিক ক্যানিয়নের দিকে চলে যান। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন দলের একজন পড়ে গিয়ে হাঁটুতে আঘাত পান। দুর্গম ও খাড়া মাড ক্রিক ক্যানিয়নের ভেতরে আটকা পড়ে তিনজনকে সেখানেই রাত কাটাতে হয়। তাদের কাছে পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও জরুরি সরঞ্জামও ছিল না। পরদিন সকালে যুক্তরাষ্ট্রের বন বিভাগের পর্বতারোহণ উদ্ধারকারী দল তাদের সন্ধান পায়। উদ্ধারকারীরা আহত হাইকারকে চিকিৎসা দেন এবং তিনজনকেই নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনতে সহায়তা করেন। পরে সিসকিয়ু কাউন্টির অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবকেরাও অভিযানে যুক্ত হন। শেষ পর্যন্ত তিন হাইকার এবং উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা নিরাপদে ট্রেইলহেডে ফিরে আসেন। উদ্ধারের পর শেরিফের এক কর্মকর্তাকে তিন হাইকার জানান, মাউন্ট শাস্তায় ওঠার প্রস্তুতির সময় তারা গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী জেমিনির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছিলেন। কোন পথে উঠবেন এবং কতটা খাবার ও পানি সঙ্গে নেবেন, সেসব বিষয়েও তারা জেমিনির পরামর্শ নিয়েছিলেন। শেরিফের কার্যালয় ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ভুল’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, জেমিনি তাদের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম খাবার ও পানি সঙ্গে নিতে পরামর্শ দিয়েছিল। আট ঘণ্টার মধ্যে শেষ করার কথা থাকা যাত্রাটি যখন একাধিক দিনের পরিস্থিতিতে পরিণত হয়, তখন অপর্যাপ্ত সরঞ্জাম তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। তবে উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরামর্শকেই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দেখছে না। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে চূড়ায় ওঠা এবং অন্ধকারে নামার সিদ্ধান্তও পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় পথনির্দেশনার জন্য একাধিক নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি রাখার ওপরও জোর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় হাইকারদের মাউন্ট শাস্তা রেঞ্জার স্টেশনে যাওয়ার আগে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ পথ ও আবহাওয়ার তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। শুধু মুঠোফোন, স্মার্ট ঘড়ি বা কোনো একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে বিকল্প পথনির্দেশনার ব্যবস্থাও সঙ্গে রাখার কথা বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে দুপুর ১২টার ‘ফিরে আসার সময়সীমা’ মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ায় পৌঁছাতে না পারলে ফিরে আসা উচিত, যাতে দিনের আলো থাকতে নিরাপদে নিচে নামা যায়। মাউন্ট শাস্তার ক্লিয়ার ক্রিক পথকে প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত কঠিন পর্বতারোহণের পথ হিসেবে বিবেচনা না করা হলেও, সেখানে শারীরিক সক্ষমতা, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি এবং আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা প্রয়োজন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ভ্রমণ, পড়াশোনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারীদের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভর করছেন। মাউন্ট শাস্তার এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, দুর্গম বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে এআইয়ের পরামর্শকে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের তথ্য, সরকারি নির্দেশনা এবং বাস্তব পরিস্থিতি যাচাইয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ফ্রান্সে জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের নতুন ঢেউ দেখা দিয়েছে। মুসলিম নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এমন অনেক ফরাসি নারী, যারা সাধারণত হিজাব পরেন না, তারাও মাথায় স্কার্ফ বা হিজাব পরা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছেন। এই প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে উগ্র ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র্যালি বা আরএনের নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর। দলটির পক্ষ থেকে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে জনপরিসরে হিজাব পরিধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তা কার্যকর করতে জরিমানার বিধান আনার কথা বলা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরএনের এমপি জঁ-ফিলিপ তাগি বলেন, দলটি ক্ষমতায় এলে জনপরিসরে হিজাব পরিধানের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সম্ভাব্য জরিমানাকে সিটবেল্ট না বাঁধার জন্য গাড়িচালকদের যে ধরনের জরিমানা করা হয়, তার সঙ্গে তুলনা করেন। তবে জরিমানার নির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো ঠিক করা হয়নি। এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। হিজাব না পরা বেশ কয়েকজন নারী নিজেদের মাথা স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে ভিডিও প্রকাশ করেন। এসব ভিডিওতে তারা হিজাব পরা মুসলিম নারীদের প্রতি সংহতি জানান এবং পোশাক বেছে নেওয়ার স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান প্রকাশ করেন। তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এমন একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আরব নিউজভিত্তিক আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইন প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের কেউ কেউ নিজেদের প্রকাশনায় মুসলিম নারীদের সঙ্গে সংহতির কথা জানিয়েছেন। কেউ কেউ আবার বলেছেন, হিজাব নিষিদ্ধ করার মতো আইন কার্যকর হলে তারাও প্রতিবাদ হিসেবে হিজাব পরবেন। জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধের প্রস্তাবটি অবশ্য নতুন নয়। ন্যাশনাল র্যালির নেত্রী মারিন ল পেন দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধের কথা বলে আসছেন এবং ২০১৭ ও ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাতেও বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি আবারও ফ্রান্সের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ল পেন বর্তমানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি অনিশ্চয়তা থাকলেও ন্যাশনাল র্যালি হিজাব, অভিবাসন ও ইসলামকে ঘিরে কঠোর অবস্থানকে নির্বাচনী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। ফ্রান্সে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে এরই মধ্যে বেশ কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্য ধর্মীয় প্রতীক পরিধান ২০০৪ সাল থেকে নিষিদ্ধ। সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের সময়ও দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে ন্যাশনাল র্যালির প্রস্তাবটি এর চেয়ে অনেক বিস্তৃত, কারণ এর লক্ষ্য জনপরিসরে হিজাব পরিধানকে নিয়ন্ত্রণ করা। প্রস্তাবটির সমালোচকেরা মনে করছেন, এটি ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত পছন্দের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবটির সমালোচকেরা এর সাংবিধানিক বৈধতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি ন্যাশনাল র্যালির ভেতর থেকেও কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে দলটির নেতৃত্ব বলছে, হিজাবকে তারা ফ্রান্সের প্রজাতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখে। ফ্রান্সের এই বিতর্কের সঙ্গে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট হবে ১৮ এপ্রিল ২০২৭ এবং দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২ মে। ফ্রান্সের সংবিধান অনুযায়ী কোনো প্রেসিডেন্ট টানা দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। ফলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ২০২৭ সালের নির্বাচনে তৃতীয় টানা মেয়াদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে। ন্যাশনাল র্যালির জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। দলটির নেতারা অভিবাসন, জাতীয় পরিচয়, ইসলাম ও নিরাপত্তার মতো বিষয়কে নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন। হিজাব নিষেধের প্রস্তাব সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক অবস্থানেরই একটি অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে হিজাবকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাল্টা প্রচারণা দেখাচ্ছে, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। মুসলিম নারীদের পোশাকের স্বাধীনতার প্রশ্নে তাদের পাশে দাঁড়াতে অমুসলিম নারীদের একাংশও প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছেন। ফলে ২০২৭ সালের নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ফ্রান্সে ধর্মনিরপেক্ষতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রচলিত বিশ্ব মানচিত্রে আফ্রিকার আয়তন তুলনামূলকভাবে ছোট দেখানোর দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসানে নতুন মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। আফ্রিকান দেশগুলোর নেতৃত্বে আনা ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ প্রস্তাবটি ১৬৪ ভোটে পাস হয়েছে। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে শুধু যুক্তরাষ্ট্র। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। প্রস্তাবটিতে ২০১৮ সালে তৈরি ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্রের ব্যবহার উৎসাহিত করা হয়েছে। এই মানচিত্রে পৃথিবীর বিভিন্ন মহাদেশের প্রকৃত আপেক্ষিক আয়তন তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভুলভাবে দেখানো হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষা, গণমাধ্যম, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্মে বিশ্ব মানচিত্র উপস্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘মার্কেটর প্রজেকশন’ থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অসংখ্য মানচিত্রে ব্যবহৃত মার্কেটর প্রজেকশনটি ১৫৬৯ সালে ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মার্কেটর তৈরি করেন। মূলত সমুদ্রপথে নৌযান চলাচলের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই মানচিত্রের নকশা করা হয়েছিল। তবে পৃথিবীর গোলাকার পৃষ্ঠকে সমতল মানচিত্রে তুলে ধরার কারণে এতে বিষুবরেখা থেকে দূরে থাকা অঞ্চলগুলোর আয়তন বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় দেখায়। এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ গ্রিনল্যান্ড ও আফ্রিকা। মার্কেটর মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার কাছাকাছি আকারের মনে হতে পারে। বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ১৪ গুণ বড়। নতুন ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশনে এই ধরনের আয়তনগত বিভ্রান্তি অনেকটাই কমানো হয়েছে। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ টোগো। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসে জাতিসংঘের ভোটের আগে বলেন, ‘ন্যায্য বিশ্ব শুরু হয় একটি ন্যায্য মানচিত্র দিয়ে।’ তাঁর মতে, মানচিত্র শুধু ভৌগোলিক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের শিক্ষা, কল্পনা এবং পৃথিবী সম্পর্কে সামষ্টিক ধারণাকেও প্রভাবিত করে। আফ্রিকান দেশগুলোর বক্তব্য, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত বিকৃত মানচিত্র আফ্রিকাকে বিশ্বের তুলনায় ছোট ও প্রান্তিক হিসেবে দেখানোর একটি ধারণা তৈরি করেছে। তাই নতুন মানচিত্র ব্যবহারের উদ্যোগটি শুধু মানচিত্রবিদ্যার পরিবর্তন নয়, বরং ঔপনিবেশিক যুগের রেখে যাওয়া ধারণা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। তবে দুসে স্পষ্ট করেছেন, এই উদ্যোগ ইউরোপ বা অন্য কোনো সভ্যতার বিরুদ্ধে নয়। টোগোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটি চলতি বছরের মধ্যেই নিজেদের বিদ্যালয়ের ভূগোলের বই ও শিক্ষাসামগ্রীতে নতুন মানচিত্র যুক্ত করার উদ্যোগ নেবে। এরপর আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্র, অন্যান্য সমর্থক দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আরও ব্যাপকভাবে ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন ব্যবহারের পথ তৈরি করতে চায় দেশটি। তবে জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্ত কোনো দেশের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক না হওয়ায় কোনো দেশকে মার্কেটর মানচিত্র সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে না। টোগোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, সমুদ্র ও আকাশপথে নেভিগেশনের ক্ষেত্রে মার্কেটর প্রজেকশনের ব্যবহার নিয়ে এই প্রস্তাব কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে না। নৌ ও বিমান চলাচলের মতো নির্দিষ্ট কাজে এই প্রজেকশন এখনও কার্যকর। জাতিসংঘের ভোটে যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র দেশ হিসেবে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি একটি ‘আদর্শিক এজেন্ডা’কে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়। অন্যদিকে, উদ্যোগটির সমর্থকেরা মনে করছেন, বাস্তব আয়তনকে আরও সঠিকভাবে তুলে ধরা মানচিত্র শিক্ষা ও জনসাধারণের ভৌগোলিক ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। ‘আফ্রিকা নো ফিল্টার’সহ প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলো এখন বিদ্যালয়ের পাঠ্যবই, সংবাদমাধ্যম, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রতিদিন ব্যবহৃত ডিজিটাল মানচিত্রে আরও নির্ভুল মানচিত্র চালুর আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের মানচিত্র রাতারাতি বদলে যাবে না। তবে আফ্রিকার নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের প্রচারণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন স্বীকৃতি পেল। সামনে বিভিন্ন দেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কতটা এই নতুন মানচিত্র গ্রহণ করে, সেটিই হবে এই উদ্যোগের বাস্তব সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক বৈদেশিক সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্তে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য খাতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ‘রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল’-এর নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, মার্কিন সহায়তা বন্ধের জেরে বিগত ১৮ মাসে দেশটিতে কমপক্ষে ১৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার অর্ধেকই অন্তঃসত্ত্বা নারী বা প্রসূতি। এছাড়া এর মধ্যে ৩০টি নবজাতক ও ভ্রূণের মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা ও তহবিলের অভাবে ঘটা এই মৃত্যুগুলো ছিল ১০০ ভাগ প্রতিরোধযোগ্য। গবেষণা প্রতিবেদনে একটি মর্মান্তিক ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার আঞ্চলিক হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট ও সেপসিসে আক্রান্ত এক নবজাতককে ভর্তি করা হয়। শিশুটির নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেনের প্রয়োজন হলেও, মার্কিন সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালের অক্সিজেন প্ল্যান্টটি এক মাস আগেই অকেজো হয়ে পড়েছিল। ফলে অক্সিজেনের অভাবে শিশুটি মারা যায়। ইউএসএআইডি-এর (USAID) সাবেক প্রজেক্ট ম্যানেজার ডা. শাহ মোহাম্মদ কাজিজদা জানান, ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত স্বাস্থ্য প্রকল্পের অন্তত ১৮০ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈদেশিক সহায়তা কর্মসূচি কাটছাঁট করতে শুরু করে। এর অংশ হিসেবে ইউএসএআইডি-এর কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং আফগানিস্তানে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন (১৭০ কোটি) ডলারের সহায়তা আকস্মিকভাবে বাতিল করা হয়। আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল আফগানিস্তানের প্রসূতি ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা খাত এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শত শত ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নারীদের চিকিৎসা নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে আঞ্চলিক হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এমনকি পথিমধ্যে বা বিনা চিকিৎসায় বাড়িতে সন্তান জন্ম দিতে গিয়েও অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। ‘রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল’-এর সিনিয়র ফেলো প্রিয়ালি দীপ্তি সুর সারা দেশের প্রায় ৫৫০ জন স্বাস্থ্যকর্মীর সাক্ষাৎকার নিয়ে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন। তিনি জানান, তহবিল সংকটে ভেন্টিলেটর ও ইনকিউবেটরগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। চাকরি হারিয়ে উপার্জনহীন হয়ে পড়া অনেক স্বাস্থ্যকর্মী, বিশেষ করে ধাত্রীরা (মিডওয়াইফ) চরম হতাশায় আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছেন। সেভ দ্য চিলড্রেনের তথ্যমতে, আফগানিস্তানে বর্তমানে প্রতি ১০ জন শিশুর একজন তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে এবং প্রায় ৬০০ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হারও এখন বিশ্বে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের খরচ কমানোর দায়িত্বে থাকা ইলন মাস্ক সম্প্রতি সমালোচকদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছিলেন, মার্কিন সহায়তা বন্ধের কারণে মারা গেছে এমন একজনের নামও কেউ বলতে পারবে না। এর জবাবে প্রিয়ালি দীপ্তি সুর চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাওয়া এক প্রসূতির কথা উল্লেখ করে বলেন, "তার নাম ছিল হালিমা।"
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ধনকুবের জমির মালিকদের বিরুদ্ধে এক আইনি লড়াইয়ে অভাবনীয় জয় পেয়েছে একটি মধ্যবিত্ত সমবায় (কো-অপ) ভবন। 'বিলিয়নিয়ার্স রো' হিসেবে পরিচিত ওয়েস্ট ৫৭ নম্বর স্ট্রিটের 'কার্নেগি হাউস'-এর জমির ভাড়া একলাফে ৪৫০ শতাংশ বাড়ানোর পূর্ববর্তী এক সালিশি সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে বাতিল করে দিয়েছে নিউইয়র্কের একটি স্টেট আপিল আদালত। আদালতের এই যুগান্তকারী রায়ের ফলে ৩২৪ ইউনিটের ওই ভবনে বসবাসরত তিন শতাধিক মধ্যবিত্ত পরিবার নিশ্চিত আর্থিক বিপর্যয় ও উচ্ছেদের হাত থেকে আপাতত রক্ষা পেল। কার্নেগি হাউসের নিচের জমির মালিকানার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী রুবিন শ্রোয়েন, ডেভিড ওয়ার্নার এবং ডেল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল। গত গ্রীষ্মে এক সালিশি প্যানেল এই ধনকুবের জমির মালিকদের পক্ষে রায় দিয়ে কো-অপটির বার্ষিক গ্রাউন্ড রেন্ট (জমির ভাড়া) ৪.৩৬ মিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে এক ধাক্কায় ২৪ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার নির্দেশ দেয়। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে মালিকপক্ষ মাত্র ২০ দিনের নোটিশে ১০ মিলিয়ন ডলারের বকেয়া ভাড়াও দাবি করে বসে। কো-অপ বাসিন্দাদের মতে, এই অস্বাভাবিক ভাড়া মেটাতে গেলে ভবনটির প্রায় সব পরিবারকে ঋণখেলাপি ও দেউলিয়া হতে হতো। কার্নেগি হাউস কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই এই সালিশি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। আপিল আদালতের রায়েও তাদের দাবির সত্যতা মেলে। আদালত জানায়, সালিশি চলাকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরপেক্ষ বিচারক জমির মালিকদের আইনজীবীদের কাছ থেকে একটি চাকরির প্রস্তাব পেয়েছিলেন, যা তিনি সম্পূর্ণ গোপন রাখেন। এই তথ্য গোপন করার বিষয়টি স্পষ্ট পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ হওয়ায় আদালত পুরো সালিশি রায়টিই বাতিল করে দেয়। কার্নেগি হাউসের বোর্ড প্রেসিডেন্ট রিচার্ড হার্শ এই রায়কে একটি 'গুরুত্বপূর্ণ বিজয়' হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, এর ফলে তারা এখন একটি যৌক্তিক ভাড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে নিরপেক্ষ প্যানেলের সামনে নতুন করে দরকষাকষির সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, জমির মালিকদের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা নতুন সালিশিতেও একই রায় পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। এই মামলাটির দিকে শুধু কার্নেগি হাউস নয়, বরং পুরো নিউইয়র্কবাসীর নজর রয়েছে। শহরটিতে কার্নেগি হাউসের মতো প্রায় ১০০টি গ্রাউন্ড লিজ কো-অপ রয়েছে, যেখানে আনুমানিক ২৫ হাজার মানুষের বসবাস। দশকের পর দশক ধরে বসবাস করা এই মানুষগুলো বর্তমানে একুশ শতকের আকাশছোঁয়া রিয়েল এস্টেট মূল্যের কারণে চরম আইনি ও আবাসন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। রাজ্যজুড়ে এমন লিজহোল্ডারদের সুরক্ষায় একটি বিল গত বছর সিনেটে পাস হলেও তা এখনো চূড়ান্ত আইনে পরিণত হয়নি। আপাতত কার্নেগি হাউস নতুন করে আলোচনার সুযোগ পেলেও, মধ্যবিত্ত বাসিন্দা আর ধনকুবের মালিকদের এই দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের চূড়ান্ত সমাধান এখনো বহু দূর।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারান্ট কাউন্টিসহ বিশ্বজুড়ে বয়স্ক নাগরিকদের টার্গেট করে অভিনব কায়দায় সোনা চুরির এক বিশাল চক্রের মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশ ছেড়ে পালানোর সময় নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩৫ বছর বয়সী মোজাম্মিল আহমেদ নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ চুরি, বয়স্কদের আর্থিক শোষণ এবং অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউজার্সি থেকে ভুয়া বা শেল কোম্পানি খুলে বয়স্কদের কাছ থেকে চুরি করা বিপুল এই অর্থ পাচার করত মোজাম্মিল। এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৪০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার কানাডায় পালিয়ে যাওয়ার সময় শিকাগো এবং নিউয়ার্ক থেকে চক্রের আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানান, এই চক্রের সদস্যরা মূলত ভারতভিত্তিক বিভিন্ন কলসেন্টার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক নাগরিকদের ফোন করে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক বা হ্যাক হওয়ার ঝুঁকিতে আছে বলে ভয় দেখাত। এরপর অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখার অজুহাতে তাদের জমানো সব টাকা তুলে সোনার বার বা বিটকয়েন কিনতে বাধ্য করা হতো। পরবর্তীতে ভুয়া ফেডারেল এজেন্ট সেজে সেই সোনা সংগ্রহ করে ফ্লোরিডার একটি রিফাইনারিতে গলিয়ে গহনা তৈরি করা হতো এবং তা বিক্রি করে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে দেশের বাইরে টাকা পাচার করা হতো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, এই চক্রটি বয়স্কদের কাছ থেকে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার (২৫ কোটি ডলার) হাতিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে তদন্তকারীরা ১৩ কোটি ডলার মূল্যের সোনা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে এক ব্যক্তি একাই ২০ লাখ ডলার খুইয়েছেন। ট্যারান্ট কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ফিল সোরেলস এই জঘন্য অপরাধের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "কেউ যদি ট্যারান্ট কাউন্টির বয়স্কদের টার্গেট করে, তবে আমরা তাকে খুঁজে বের করবই। পালিয়ে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, তাদের প্রত্যেককেই আইনের মুখোমুখি হতে হবে।" মোজাম্মিল আহমেদকে বর্তমানে ট্যারান্ট কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে এবং নতুন গ্রেপ্তার হওয়া বাকি দুজনকেও সেখানে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন (ডিওসি)-এর বার্ষিক স্মরণসভায় ৯/১১ হামলায় উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া তিন অকুতোভয় কর্মকর্তাকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়েছে। শুক্রবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ক্যাপ্টেন জ্যাকুলিন পেডেন, রাউল গঞ্জালেজ এবং থমাস উইডকের নাম রাইকার্স আইল্যান্ড মেমোরিয়াল স্টোনে খোদাই করা হয়। ২০০১ সালের সেই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর উদ্ধারকাজে গিয়ে বিষাক্ত পরিবেশের কারণে ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় আড়াই দশকে এ পর্যন্ত ৩৯ জন ডিওসি কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন; এবার সেই তালিকায় চিরতরে যুক্ত হলো আরও তিন নাম। আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ এই তিন কর্মকর্তার পরিবারকে একটি সম্মাননা স্মারক ও ভাঁজ করা মার্কিন পতাকা উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মেয়ে জ্যাকুলিন পেডেনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর মা ডেইজি পেডেন। মাত্র ৫০ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মেয়েকে স্মরণ করে তিনি বলেন, "সে আমার জীবনের সবকিছু ছিল। সে জানতও না যে তার শরীরে ক্যানসার বাসা বেঁধেছে।" অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ২০১৩ সালে শ্বাসতন্ত্রের রোগে মারা যাওয়া ডিওসি তদন্তকারী স্টিভেন কাপজ্যাকের দুই বোন অ্যানি ক্যাপুটো এবং ক্যাথি পেনাফিল। ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁরা বলেন, স্টিভেন তাঁর কাজ ও পরিবারকে সমানভাবে ভালোবাসতেন। ৯/১১-এর উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া শত শত ডিওসি হিরোকে সম্মান জানাতে এদিন কালো পাথরের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি তাঁর বক্তব্যে ডিওসি-কে এমন একটি বিভাগ হিসেবে উল্লেখ করেন, ‘যেখানে কেউ কখনো দ্বিধা করে না।’ উদ্ধারকর্মীদের দিনের পর দিন বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো সান্ত্বনাই এই শূন্যতা পূরণ করতে পারবে না। তবে মেয়র অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান আমেরিকান ডে প্যারেডের একটি নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে যোগ দিতে চলে যান, যা উপস্থিত অনেকের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। ২৩ বছর আগে অবসর নেওয়া এবং ৯/১১-এর পর মর্গে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া কেন শোয়ার্টজ মেয়রের এই আচরণের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মেয়রের এই বিভাগের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই, এমনকি ডিওসি কর্মীদের আত্মত্যাগ মূল ৯/১১ মেমোরিয়ালেও যথাযথভাবে স্থান পায়নি। এদিকে, এই স্মরণসভার কয়েক ঘণ্টা আগেই মেয়র মামদানি ৯/১১ হামলার শিকার ও উদ্ধারকর্মীদের সম্মানার্থে দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। প্রথম আদেশের মাধ্যমে ১১ সেপ্টেম্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে শহরজুড়ে ‘ডে অব রিমেমব্রেন্স অ্যান্ড সার্ভিস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যেখানে সব সংস্থাকে নীরবতা পালন ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে অংশ নিতে বলা হয়েছে। দ্বিতীয় আদেশের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করতে শহরের প্রথম 'কন্টিনিউটি অ্যান্ড মিশন অ্যাসুরেন্স টিম (সিএমএটি)' গঠন করা হয়, যা আগের কন্টিনিউটি অব অপারেশন টিমের একটি আধুনিক সংস্করণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে তিন শিশু সন্তানকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিচারকাজ স্থগিত (মিসট্রায়াল) হওয়ার পর এই বিষয়ে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার জুরি বোর্ড কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিচারক মিসট্রায়াল ঘোষণার পরপরই পুরো ঘটনাটিকে একটি ‘ভয়ংকর পরিস্থিতি’ ও ‘ভয়ংকর ট্র্যাজেডি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন ট্রাম্প। দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এই মামলাটির খোঁজ রাখছেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "টেলিভিশনে এটি এত বেশি দেখানো হচ্ছে যে, খোঁজ না রাখাটাই কঠিন।" ২০২৩ সালের শুরুতে ডাক্সবারি শহরে নিজ বাড়িতে নিজের তিন সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন লিন্ডসে ক্ল্যান্সি। তবে তার আইনজীবীদের দাবি, সন্তান হত্যার পর তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। লিন্ডসের বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি বা পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ এনেছিলেন প্রসিকিউটররা। অন্যদিকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে লিন্ডসে জানান, তিনি অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ সেবন করছিলেন এবং 'পোস্টপার্টাম সাইকোসিস' বা মাতৃত্বকালীন তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন, তাই তাকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। বিচার চলাকালীন তার মানসিক অবস্থা নিয়ে একাধিক মনোবিজ্ঞানী ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য দিয়েছেন। আলোচিত এই মামলার রায় কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মত দেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে তিনি বলেন, "দেখুন, সে একটি ভয়ংকর, ভয়ংকর কাজ করেছে। এর চেয়ে খারাপ কিছু হতে পারে না। তবে আপনাদের দেখতে হবে এর জন্য তাকে কী মূল্য চোকাতে হয়। তাকে অবশ্যই এর মূল্য চোকাতে হবে। সেটা মানসিক হাসপাতাল হোক বা কারাগার, যে কোনো কিছুই হতে পারে।" মামলায় পুনরায় বিচারকাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনাকে তিনি ‘দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেন। টানা ৩৬ ঘণ্টা আলোচনার পরও জুরি বোর্ড সর্বসম্মত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় বিচারক শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে মিসট্রায়াল ঘোষণা করেন। তবে এর আগে মামলার শেষ মুহূর্তে কিছুটা নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়েছিল। জুরি বোর্ডের ফোরপারসনের একটি চিঠির সূত্র ধরে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে এক জুরিকে বাদ দেওয়ার আবেদন করেছিলেন লিন্ডসের আইনজীবী। বিচারক সেই আবেদন খারিজ করলেও ম্যাসাচুসেটসের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কোর্টে আপিল করার সুযোগ দিতে মিসট্রায়াল ঘোষণা কিছুটা স্থগিত রেখেছিলেন। কিন্তু রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানালে শেষ পর্যন্ত জুরিদের অব্যাহতি দিয়ে মিসট্রায়াল ঘোষণা করা হয়। প্রসিকিউটররা পুনরায় বিচার শুরু করবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেননি।
শহরের ব্যস্ত রাস্তার ধারের বড় বড় ডিজিটাল স্ক্রিন বা বিলবোর্ডগুলোতে সাধারণত চোখ ধাঁধানো সিনেমার তারকা কিংবা নামিদামি ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনই বেশি চোখে পড়ে। তবে সম্প্রতি চীনের বিভিন্ন শহরে দেখা যাচ্ছে এক ব্যতিক্রমী ও অনুপ্রেরণাদায়ক দৃশ্য। সেখানে ডিজিটাল স্ক্রিন ও বিলবোর্ডগুলোতে সগৌরবে জায়গা করে নিয়েছেন দেশের প্রখ্যাত সব বিজ্ঞানী, যাঁদের নাম এতদিন মূলত পাঠ্যবই বা গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ ছিল। চীনের হেনান প্রদেশের ঝেংঝৌ শহরের একটি মেট্রো স্টেশনে মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির পথিকৃৎ ছিয়েন শুয়েসেন এবং পরমাণু বিজ্ঞানী দেং চিয়াসিয়েনের বিশাল পোস্টার টানানো হয়েছে। এছাড়া সংকর ধান প্রযুক্তির জনক ইউয়ান লংপিং এবং আর্টেমিসিনিন আবিষ্কারক নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী তু ইউইউয়ের ছবিও বিভিন্ন শহরের জনপরিসরে প্রদর্শিত হচ্ছে। ব্যতিক্রমী এই প্রচারণার শুরুটা হয়েছিল শানডং প্রদেশ থেকে, যা পরবর্তীতে হেনান, আনহুই, ইনার মঙ্গোলিয়া, জিয়াংসি ও অন্যান্য অঞ্চলেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মূলত বিজ্ঞানীদের অসামান্য অবদানকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে তাঁদের জাতীয় রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করতেই এমন অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীনে বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীদের সম্মান জানানোর রেওয়াজ নতুন না হলেও, তারকা বা বিজ্ঞাপনের জন্য নির্ধারিত দামি বিলবোর্ডগুলোতে বিজ্ঞানীদের এই উজ্জ্বল উপস্থিতি আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টিতে অভিনব এক প্রতারণার ফাঁদে পড়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার খুইয়েছেন ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা। ভারতের দিল্লি পুলিশের ভুয়া পরিচয় দিয়ে এক নারী তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ এই অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার উডসাইড থেকে ৩২ বছর বয়সী অভিযুক্ত ওই নারীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, গত ২৯ জুন থেকে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়। অভিযুক্ত নারী ফোনে হিকসভিলের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধাকে জানান যে, তিনি ভারতে একটি অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তাকে অর্থ পাঠাতে হবে। ভয় পেয়ে ওই বৃদ্ধা এক মাসের ব্যবধানে ধাপে ধাপে মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার ২০০ ডলার তুলে ওই প্রতারকের কাছে পাঠিয়ে দেন। গত মঙ্গলবার প্রতারক নারী আবারও কল করে তদন্তের নামে সিআইএ এজেন্টের কাছে হস্তান্তরের জন্য আরও তিন লাখ ডলারের সোনার বার ও কয়েন কিনতে বলেন। এরপরই বৃদ্ধা বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হচ্ছেন এবং পুলিশের দ্বারস্থ হন। পরে নাসাউ কাউন্টি পুলিশ হিকসভিলের একটি পার্কিং লটে ফাঁদ (স্টিং অপারেশন) পাতে। সেখানে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৫০ ডলার সমমূল্যের নকল সোনার বার নিতে এলে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন ওই নারী। আদালতে তার বিরুদ্ধে চুরির চেষ্টার (গ্র্যান্ড লারসিনি) অভিযোগ আনা হয়েছে। নাসাউ কাউন্টির পুলিশ কমিশনার প্যাট্রিক রাইডার জানান, প্রতারকরা সফল হওয়ার জন্য হাজার হাজার কল করে থাকে, আর একটি সফল কলই তাদের পুরো বছরের আয়ের সমান হতে পারে। পুলিশ এই ঘটনায় বৃদ্ধাকে দোষারোপ না করে চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে কাজ করছে। পাশাপাশি এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ সদস্যদের সতর্ক রাখার আহ্বান জানিয়ে সন্দেহভাজন শিকারদের দ্রুত নাসাউ কাউন্টির ফ্রড অ্যান্ড ফোর্জারি সেকশনে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার বাসিন্দা গ্লেন্ডা ব্ল্যাকওয়েল। ২০১৬ সালে তার স্বামী তাকে দুটি 'পাওয়ারবল' লটারির টিকিট কিনে আনতে বললে তিনি বেশ বিরক্ত হয়েছিলেন। লটারির পেছনে টাকা খরচ করা যে স্রেফ বোকামি এবং এতে সাধারণত কোনো লাভ হয় না, সেটি স্বামীকে হাতে-কলমে প্রমাণ করে দেখাতে চেয়েছিলেন তিনি। তাই স্বামীর কথামতো পাওয়ারবল লটারি না কিনে তিনি ১০ ডলার দিয়ে একটি স্ক্র্যাচ-অফ টিকিট কেনেন। তবে গ্লেন্ডার এই পরিকল্পনাটি এমনভাবে ভেস্তে যাবে, তা হয়তো তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি। স্বামীকে শিক্ষা দিতে কেনা ওই ১০ ডলারের টিকিটেই তিনি জিতে নেন ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বিশাল পুরস্কার! পুরস্কার জেতার পর পুরো অর্থ এককালীন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন গ্লেন্ডা। কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্যের যাবতীয় কর পরিশোধের পর তার হাতে আসে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৫০৩ ডলার। স্বামীকে অর্থ অপচয়ের পাঠ শেখাতে গিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে তিনি নিজেই লটারির টিকিট কেনার সবচেয়ে বড় এবং সফল উদাহারণ হয়ে ওঠেন। মজার এই ঘটনাটি সেসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।