ইন্দোনেশিয়ায় স্কুলের খাবার খেয়ে ২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অসুস্থ, দেশজুড়ে ক্ষোভ
ইন্দোনেশিয়ায় সরকারের বিনা মূল্যের স্কুল খাবার কর্মসূচির খাবার খেয়ে চলতি সপ্তাহে পৃথক কয়েকটি ঘটনায় ২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। দেশটির অন্তত চারটি অঞ্চলে এসব ঘটনা ঘটেছে। বারবার খাবারজনিত অসুস্থতার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর শিশুদের অপুষ্টি দূর করার এই কর্মসূচি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের তানা তোরাজায় প্রায় ১৭০ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হন। স্থানীয় সরকারের প্রধান জাদরাক তমবেগ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে চলতি সপ্তাহে মধ্য জাভা, পূর্ব জাভা ও পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশে আরও ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পূর্ব জাভার আরেকটি এলাকায় এর আগে ২৫৬ শিক্ষার্থী স্কুলের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছিল।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, কমনাস হাম, পুলিশকে বিষয়গুলো তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে কমিশন বলেছে, নিরাপদ খাবার পাওয়ার অধিকারও মানবাধিকারের অংশ। খাবার প্রস্তুত ও বিতরণে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা না গেলে সরকারের পরিচালিত পুষ্টি কর্মসূচি তার নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে বলেও সতর্ক করেছে কমিশন।
কমিশন একই সঙ্গে যেসব রান্নাঘর থেকে দূষিত বা অনিরাপদ খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পুষ্টি সংস্থা কর্মসূচিটি পরিচালনা করে। সংস্থাটির প্রধান সুদারিয়োনো বৃহস্পতিবার বলেছেন, খাবারজনিত অসুস্থতার ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে শুক্রবার নির্ধারিত একটি সংবাদ সম্মেলন কোনো কারণ না জানিয়ে স্থগিত করা হয় এবং নতুন তারিখও জানানো হয়নি।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো গত বছর বিনা মূল্যের পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচি চালু করেন। শিশুদের অপুষ্টি কমানো এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সরকার দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক শিশুকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে। তবে কর্মসূচি চালুর পর থেকেই খাবারের মান, সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সামনে এসেছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার মধ্যে মধ্য জাভার লাসেমে ৭৫২ শিক্ষার্থী ও ২৫ শিক্ষক অসুস্থ হওয়ার ঘটনা বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় খাবার হিসেবে দেওয়া ভাজা মুরগি নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। খাবার ভোরে রান্না করে দুপুরে পরিবেশন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। খাবার সংরক্ষণ ও পরিবেশনের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পূর্ব জাভার সিদোয়ারজো এলাকায়ও ৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যায়। জাতীয় পুষ্টি সংস্থা জানিয়েছে, সন্দেহভাজন একটি রান্নাঘর ৩০ দিনের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে। এর আগে সরকারি কর্মসূচির খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাগুলোর সঙ্গে খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা এবং রান্না করা খাবার দেরিতে স্কুলে পৌঁছানোর মতো কারণের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
তবে সমস্যার ব্যাপকতা সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার চেয়েও বেশি হতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্য চার্লস হনোরিস স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এই সংখ্যা নিয়ে সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
কমনাস হামও এর আগে কর্মসূচিটির পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জুনে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় সংস্থাটি বলেছিল, বিনা মূল্যের পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ এবং মানবাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর ব্যবস্থাপনার সুপারিশও করেছিল কমিশন।
বারবার খাবারজনিত অসুস্থতার ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। তানা তোরাজার ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক শিশুর মা এস্টার পাতানদুং রয়টার্সকে বলেছেন, একজন অভিভাবক হিসেবে তাঁর প্রত্যাশা হলো কেন্দ্রীয় বা আঞ্চলিক সরকার যেন বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচি বাতিল করে।
জনসমর্থনের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। জুলাইয়ে সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিং পরিচালিত এক জরিপে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ইন্দোনেশীয় এই কর্মসূচির কার্যক্রমে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছিলেন। অসন্তুষ্টদের অনেকেই খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
কর্মসূচিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শিশুদের অপুষ্টি মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য সামনে রেখে চালু হওয়া উদ্যোগটি বড় পরিসরে পরিচালিত হওয়ায় খাবারের নিরাপত্তা, রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি, সংরক্ষণ এবং সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের আহ্বানের পর সরকার কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান পর্যালোচনার কথা বলার পর আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলোই আবারও দ্বীপগুলোর ওপর আর্জেন্টিনার দাবিকে জোরালো করেছেন। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর্জেন্টিনায় এগুলো ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত। দুই দেশের মধ্যে সার্বভৌমত্বের বিরোধের সবচেয়ে বড় অধ্যায় ছিল ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ। ওই যুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ জন এবং ব্রিটেনের ২৫৫ জন সামরিক সদস্য নিহত হন। জুনে আর্জেন্টিনার বাহিনী আত্মসমর্পণ করলে যুদ্ধের অবসান ঘটে। তবে যুদ্ধের পরও আর্জেন্টিনা দ্বীপগুলোর ওপর নিজের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাহার করেনি। অন্যদিকে দ্বীপের বাসিন্দারা ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ২০১৩ সালের গণভোটে ভোট দেওয়া ১ হাজার ৫১৭ জনের মধ্যে ১ হাজার ৫১৩ জনই ব্রিটিশ ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। সম্প্রতি ট্রাম্পের মন্তব্যের পর পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আগস্টের শেষ দিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পর্যালোচনা করছেন। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে আনুষ্ঠানিক কোনো পরিবর্তনের ঘোষণা দেননি। ঐতিহাসিকভাবে ওয়াশিংটন দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে, যদিও বাস্তবে ব্রিটিশ প্রশাসনকে স্বীকৃতি দিয়ে এসেছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে দ্রুত নিজের দেশের দাবির পক্ষে কাজে লাগান আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলোই। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার জন্য দ্বীপগুলো পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি দ্বীপগুলোর আশপাশে তেল অনুসন্ধান নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান। মিলোইয়ের সরকার ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষ করে ‘সি লায়ন’ তেল প্রকল্পকে ঘিরে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। আর্জেন্টিনা এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে অবৈধ বলে মনে করলেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো বলছে, তাদের অনুমোদন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সরকার এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া। মিলোইয়ের বক্তব্যে সামরিক সংঘাতের সরাসরি হুমকি না থাকলেও দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি তাঁর সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে। তিনি একই সঙ্গে দক্ষিণ আটলান্টিক অঞ্চলে আর্জেন্টিনার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলেছেন। এর মধ্যে ট্রাম্প ও মিলোইয়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্কও বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। মিলোই নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিশ্চয়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই সময় মিলোইয়ের রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী সাফল্যও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে ব্রিটেন দ্বীপগুলোর ওপর নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। ব্রিটিশ সরকার বলেছে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে এবং তারা ব্রিটিশ ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে থাকতে চায়। দ্বীপবাসীদের এই অবস্থানের প্রতি ব্রিটেনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। ফকল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সম্পর্কের টানাপোড়েনও ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ব্রিটেনের প্রত্যাশিত মাত্রায় সহযোগিতা না পাওয়ায় ট্রাম্পের অসন্তোষের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ নথিতেও ব্রিটেনের অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ফকল্যান্ড ইস্যুতে মার্কিন নীতি পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ১৯৮২ সালের যুদ্ধের পর ফকল্যান্ড ইস্যুতে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত আর হয়নি। কিন্তু আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি কখনো শেষ হয়নি। এখন ট্রাম্পের মন্তব্য, মিলোই সরকারের নতুন তৎপরতা এবং দ্বীপগুলোর সম্ভাব্য তেলসম্পদকে ঘিরে বিরোধ আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পুরোনো এই ভূখণ্ডগত বিরোধকে সামনে নিয়ে এসেছে।
তালেবানের চোখ ফাঁকি দিয়ে ছেলে সেজে পড়াশোনা, আজ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানজনক দায়িত্বে জাহরা
ইন্দোনেশিয়ায় স্কুলের খাবার খেয়ে ২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অসুস্থ, দেশজুড়ে ক্ষোভ
ফ্রান্সে হিজাব নিষেধের প্রস্তাব: মুসলিম নারীদের পাশে দাঁড়াতে হিজাব পরে ছবি-ভিডিও প্রকাশ ফরাসি নারীদের
প্রচলিত বিশ্ব মানচিত্রে আফ্রিকার আয়তন তুলনামূলকভাবে ছোট দেখানোর দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসানে নতুন মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। আফ্রিকান দেশগুলোর নেতৃত্বে আনা ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ প্রস্তাবটি ১৬৪ ভোটে পাস হয়েছে। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে শুধু যুক্তরাষ্ট্র। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। প্রস্তাবটিতে ২০১৮ সালে তৈরি ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্রের ব্যবহার উৎসাহিত করা হয়েছে। এই মানচিত্রে পৃথিবীর বিভিন্ন মহাদেশের প্রকৃত আপেক্ষিক আয়তন তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভুলভাবে দেখানো হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষা, গণমাধ্যম, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্মে বিশ্ব মানচিত্র উপস্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘মার্কেটর প্রজেকশন’ থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অসংখ্য মানচিত্রে ব্যবহৃত মার্কেটর প্রজেকশনটি ১৫৬৯ সালে ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মার্কেটর তৈরি করেন। মূলত সমুদ্রপথে নৌযান চলাচলের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই মানচিত্রের নকশা করা হয়েছিল। তবে পৃথিবীর গোলাকার পৃষ্ঠকে সমতল মানচিত্রে তুলে ধরার কারণে এতে বিষুবরেখা থেকে দূরে থাকা অঞ্চলগুলোর আয়তন বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় দেখায়। এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ গ্রিনল্যান্ড ও আফ্রিকা। মার্কেটর মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার কাছাকাছি আকারের মনে হতে পারে। বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ১৪ গুণ বড়। নতুন ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশনে এই ধরনের আয়তনগত বিভ্রান্তি অনেকটাই কমানো হয়েছে। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ টোগো। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসে জাতিসংঘের ভোটের আগে বলেন, ‘ন্যায্য বিশ্ব শুরু হয় একটি ন্যায্য মানচিত্র দিয়ে।’ তাঁর মতে, মানচিত্র শুধু ভৌগোলিক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের শিক্ষা, কল্পনা এবং পৃথিবী সম্পর্কে সামষ্টিক ধারণাকেও প্রভাবিত করে। আফ্রিকান দেশগুলোর বক্তব্য, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত বিকৃত মানচিত্র আফ্রিকাকে বিশ্বের তুলনায় ছোট ও প্রান্তিক হিসেবে দেখানোর একটি ধারণা তৈরি করেছে। তাই নতুন মানচিত্র ব্যবহারের উদ্যোগটি শুধু মানচিত্রবিদ্যার পরিবর্তন নয়, বরং ঔপনিবেশিক যুগের রেখে যাওয়া ধারণা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। তবে দুসে স্পষ্ট করেছেন, এই উদ্যোগ ইউরোপ বা অন্য কোনো সভ্যতার বিরুদ্ধে নয়। টোগোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটি চলতি বছরের মধ্যেই নিজেদের বিদ্যালয়ের ভূগোলের বই ও শিক্ষাসামগ্রীতে নতুন মানচিত্র যুক্ত করার উদ্যোগ নেবে। এরপর আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্র, অন্যান্য সমর্থক দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আরও ব্যাপকভাবে ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন ব্যবহারের পথ তৈরি করতে চায় দেশটি। তবে জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্ত কোনো দেশের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক না হওয়ায় কোনো দেশকে মার্কেটর মানচিত্র সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে না। টোগোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, সমুদ্র ও আকাশপথে নেভিগেশনের ক্ষেত্রে মার্কেটর প্রজেকশনের ব্যবহার নিয়ে এই প্রস্তাব কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে না। নৌ ও বিমান চলাচলের মতো নির্দিষ্ট কাজে এই প্রজেকশন এখনও কার্যকর। জাতিসংঘের ভোটে যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র দেশ হিসেবে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি একটি ‘আদর্শিক এজেন্ডা’কে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়। অন্যদিকে, উদ্যোগটির সমর্থকেরা মনে করছেন, বাস্তব আয়তনকে আরও সঠিকভাবে তুলে ধরা মানচিত্র শিক্ষা ও জনসাধারণের ভৌগোলিক ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। ‘আফ্রিকা নো ফিল্টার’সহ প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলো এখন বিদ্যালয়ের পাঠ্যবই, সংবাদমাধ্যম, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রতিদিন ব্যবহৃত ডিজিটাল মানচিত্রে আরও নির্ভুল মানচিত্র চালুর আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের মানচিত্র রাতারাতি বদলে যাবে না। তবে আফ্রিকার নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের প্রচারণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন স্বীকৃতি পেল। সামনে বিভিন্ন দেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কতটা এই নতুন মানচিত্র গ্রহণ করে, সেটিই হবে এই উদ্যোগের বাস্তব সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
ভিটামিন সি’র নামে প্রাণঘাতী ফেন্টানিলের রাসায়নিক পাচার, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়র কারাদণ্ড
ফিলিস্তিনি বন্দিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ মামলা
বিভেদের দেয়াল পেরিয়ে শান্তির দাবিতে একসঙ্গে আন্দোলন করছেন ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মায়েরা
হিলারিও রেইনোসার হাত দুটো রোদ আর বয়সের ভারে ক্লান্ত। কিন্তু মেক্সিকোর ভেরাক্রুজ রাজ্যের পোজা রিকা শহরের মোরেলোস এলাকায় তাদের বাড়িতে যখন বন্যার পানি ঢুকে পড়ে, তখন তার সেই হাত দুটোই ছিল পৃথিবীতে টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন। জীবনসঙ্গীকে বাঁচাতে নিজের জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়েছিলেন তিনি। গলাসমান পানিতে দীর্ঘক্ষণ স্বামীকে আঁকড়ে ধরে বেঁচেও ফিরেছিলেন স্ত্রী। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, বন্যার ঠিক ১৭ দিন পর সেই স্ত্রীরই দাফন করতে হলো স্বামী হিলারিওকে। সম্প্রতি আপসোকল নামের একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সাংবাদিক কৃষ্ণা মেদিনার এক প্রতিবেদনে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার বিস্তারিত উঠে এসেছে। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে। মেক্সিকোর ক্যানজোনস নদীর পানি উপচে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় অসংখ্য মানুষের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, স্মৃতিবিজড়িত ছবি, পোশাক এবং বছরের পর বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা হাজারো পরিবারের স্বপ্ন। সেই প্রলয়ংকরী বন্যায় আটকে পড়েন হিলারিও এবং তার স্ত্রী ইলোডিয়া রেইস। ইলোডিয়া সাঁতার জানতেন না। চারদিকে যখন কেবলই ঘোলা পানির স্রোত, তখন বাঁচার কোনো উপায় না পেয়ে হিলারিও তার স্ত্রীকে নিজের গলা শক্ত করে ধরে রাখতে বলেন। কারণ এছাড়া সামনে এগোনোর আর কোনো পথ খোলা ছিল না। তারা কোনোমতে একটি উঁচু স্থানে পৌঁছান এবং একে অপরকে জড়িয়ে ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকেন। তারা জানতেন না এভাবে কতক্ষণ তাদের থাকতে হবে। তবে একটি বিষয় তাদের কাছে পরিষ্কার ছিল, যদি মৃত্যু আসে তবে দুজনের একসঙ্গেই আসবে। বুকসমান ঘোলা পানিতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে থাকা এই বৃদ্ধ দম্পতির একটি ছবি সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায় পুরো বিশ্বে। বার্তা সংস্থা এএফপিসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছিল যে ছবিটি ওই দিন ওই জায়গারই ছিল। টিকটকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অনেকেই তাদের উদ্ধারের জন্য সাহায্যের আবেদন জানান। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর এক প্রতিবেশী একটি ছোট নৌকায় করে তাদের সেই মৃত্যুপুরী থেকে উদ্ধার করেন। ততক্ষণে তারা তাদের জীবনের প্রায় সব সম্বল হারিয়ে ফেলেছেন। উদ্ধারের পর সবাই যখন এই দম্পতির বেঁচে ফেরার আনন্দে ভাসছিল, তখন কেউ জানত না তাদের জন্য সামনে কী অপেক্ষা করছে। ভাইরাল হওয়া ওই ছবিটির রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৭ অক্টোবর মারা যান ইলোডিয়া। যে বাড়িটি তারা হারিয়েছিলেন, সেখান থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে নারাঞ্জোস আমাতলান এলাকায় তাকে সমাহিত করা হয়। ২৬ বছর ধরে একে অপরের সুখে দুঃখে পাশে ছিলেন হিলারিও এবং ইলোডিয়া। আজ ইলোডিয়া নেই, হিলারিওর কাছে রয়ে গেছে কেবল সেই ছবিটি। এটি যেন সেই মুহূর্তের এক নীরব সাক্ষী, যা প্রমাণ করে যে বন্যার পানি তাদের আলাদা করতে পারেনি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইলোডিয়া তার স্বামীকে আঁকড়ে ধরেছিলেন, আর হিলারিও তাকে ছেড়ে যাননি।
যুক্তরাষ্ট্রের আলুর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পথে জাপান, শঙ্কায় স্থানীয় কৃষকরা
শতবর্ষী হিন্দু মন্দির ভেঙে মাদ্রাসা নির্মাণ, পাকিস্তানে ক্ষোভ