সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আশানুরূপ বেতন না দেয়ায় ক্ষোভে ৫০ কোটি ডলারের গুদামে আগুন দিলেন কর্মী

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৮:৫৯
আশানুরূপ বেতন না দেয়ায় ক্ষোভে ৫০ কোটি ডলারের গুদামে আগুন দিলেন কর্মী
আশানুরূপ বেতন না দেয়ায় ক্ষোভে ৫০ কোটি ডলারের গুদামে আগুন দিলেন কর্মী

কর্মীদের বেতন নিয়ে ক্ষোভের জেরে ক্যালিফোর্নিয়ার অন্টারিওতে একটি বিশাল ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ২৯ বছর বয়সী এক গুদামকর্মীর বিরুদ্ধে। ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল ভোরে লাগা ওই আগুনে ১২ লাখ বর্গফুটের পুরো স্থাপনাটি ধ্বংস হয়ে যায়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের হিসাবে, এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার।

 

অভিযুক্ত চামেল আবদুলকারিম হাইল্যান্ড শহরের বাসিন্দা। তিনি ওই গুদামে সরাসরি পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কিম্বারলি-ক্লার্কের কর্মী ছিলেন না। তৃতীয় পক্ষের লজিস্টিকস কোম্পানি এনএফআই ইন্ডাস্ট্রিজের হয়ে সেখানে কাজ করতেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল রাত ১২টা ৩৪ মিনিটের দিকে অন্টারিওর একটি বড় ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে আগুনের খবর পায় পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, আবদুলকারিম গুদামের ভেতরে কাগজজাত পণ্যে ভরা একাধিক প্যালেটে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন ধরিয়ে দেন। তিনি সেই ঘটনার ভিডিওও ধারণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

ভিডিওতে বেতন নিয়ে তাকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের উদ্ধৃত করা বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বলেন, কর্মীদের জীবনযাপনের মতো বেতন দেওয়া হলে এমন ঘটনা ঘটত না। পরে ফোন কল ও মেসেজেও তিনি কর্মীদের উৎপাদিত মূল্যের আরও বেশি অংশ দেওয়ার কথা বলেন এবং শেয়ারহোল্ডারদের সমালোচনা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

আগুন দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বিপুল পরিমাণ টিস্যু, টয়লেট পেপার ও অন্যান্য কাগজজাত পণ্য মজুত ছিল। প্রচণ্ড আগুনে ভবনের ছাদ ধসে পড়ে এবং পুরো ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারটি ধ্বংস হয়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিপুলসংখ্যক দমকলকর্মী কাজ করেন। ওই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ভবনটির মূল্য এবং ভেতরে থাকা পণ্যের ক্ষতি মিলিয়ে মোট আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ৬০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। এর মধ্যে কাগজজাত পণ্যের মূল্যই ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

 

ঘটনার পর আবদুলকারিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে একাধিক অগ্নিসংযোগের অভিযোগের পাশাপাশি ফেডারেল পর্যায়ে বাণিজ্যিক স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার ন্যূনতম পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

 

১৩ এপ্রিল অঙ্গরাজ্যের মামলায় আদালতে হাজির হয়ে আবদুলকারিম অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

 

তদন্তকারীরা এফবিআই, ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস, অন্টারিও পুলিশ বিভাগ এবং অন্টারিও ফায়ার বিভাগের সঙ্গে মিলে তদন্ত চালাচ্ছেন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আবদুলকারিমকে আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের আদেশের জবাবে কানাডার তীরে স্থাপন করা বিশাল সাইনবোর্ড। ছবি: সংগৃহীত
‘ট্রাম্প চলে গেলেও নাম থাকবে লেক অন্টারিও!’ নাম বদলের জবাবে বিশাল সাইনবোর্ড কানাডার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্বাহী আদেশ দেওয়ার পর এর জবাবে বিশাল সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে কানাডা। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড কানাডার তীরে স্থাপন করা ওই সাইনবোর্ডে লিখেছেন, ‘লেক অন্টারিও, এখন এবং সবসময়’।   শনিবার অন্টারিওর গ্রিমসবির কাছে ফিফটি পয়েন্ট সংরক্ষণ এলাকায় সাইনবোর্ডটি উন্মোচন করেন ডাগ ফোর্ড। বিশাল আকারের সাইনবোর্ডটির উচ্চতা প্রায় দুই তলা ভবনের সমান। এতে লেকটির নামের নিচে ‘এখন এবং সবসময়’ বার্তাটি ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় লেখা হয়েছে।   ট্রাম্পের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের জবাবে ফোর্ড বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলে যাওয়ার অনেক পরও হ্রদটির নাম লেক অন্টারিওই থাকবে। তিনি জানান, কানাডা ও অন্টারিও নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় থাকার বিষয়টি বোঝাতেই এই সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।   এর আগে ২৭ আগস্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবহারে লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত কানাডার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও নাম পরিবর্তনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, হ্রদটির নাম লেক অন্টারিওই থাকবে।   লেক অন্টারিও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত। হ্রদটির নামের সঙ্গে স্থানীয় আদিবাসী ইতিহাসেরও সম্পর্ক রয়েছে। কানাডার কর্মকর্তারা বলছেন, নামটি ৪০০ বছরেরও বেশি পুরোনো এবং কানাডা প্রতিষ্ঠা ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণারও আগের।   লেকটির নাম পরিবর্তন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর আগে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। কানাডাও এর জবাবে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এই বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেই লেকটির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আরও তীব্র হয়েছে।   ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর কানাডার পক্ষ থেকে লেকটির তীরে বিশাল সাইনবোর্ড স্থাপনকে সেই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রতীকী জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাইনবোর্ডের বার্তায় কানাডা স্পষ্ট করেছে, দেশটির কাছে হ্রদটির নাম লেক অন্টারিওই থাকবে।   সূত্র: বিবিসি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১০:২৩
উডস্টকের একটি আবাসিক এলাকায় ২০৪০ সাল পর্যন্ত ডেভেলপারের প্রভাব বজায় থাকার চুক্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাড়ির মালিকরা। ছবি: সংগৃহীত

জর্জিয়ায় বাড়ির মালিকদের অভিযোগ, ২০৪০ সাল পর্যন্ত ডেভেলপারের হাতেই থাকবে আবাসন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ

অস্ত্রোপচারের সময় নির্ধারিত থাকলেও শেষ মুহূর্তে লাভজনক নয় অজুহাতে এক রোগীর চিকিৎসা বাতিল করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ছবি সংগৃহীত

অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা আগে রোগীকে ফোন, ‘খরচ লাভজনক নয়’ বলে চিকিৎসা বাতিল

কিশোরদের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত মা অ্যাশলি টন্টনের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার ডলার অনুদান দিয়েছেন টেলর সুইফট। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরদের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত মাকে ৫০ হাজার ডলার অনুদান দিলেন টেলর সুইফট

বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের সাধারণ মানুষের জন্য ৩৬ লাখ ডলারের বেশি মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
নেপালের বন্যাদুর্গতদের জন্য ৩৬ লাখ ডলারের মানবিক সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের জন্য ৩৬ লাখ ডলারের বেশি মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সহায়তার আওতায় বন্যাকবলিত সর্বোচ্চ ১০ হাজার পরিবারের জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।   শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই মানবিক সহায়তার ঘোষণা দেয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, নেপাল ও চীনে থাকা মার্কিন দূতাবাসগুলো মার্কিন নাগরিকদের সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার কার্যক্রমে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।   হিমালয় অঞ্চলে বুধবার একটি হিমবাহের অংশ ধসে পড়ার পর নেপাল ও তিব্বত সীমান্তজুড়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। আকস্মিক এই বন্যায় সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকরাও রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন মার্কিন নাগরিক বলে জানানো হয়েছে।   নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক। অন্যদিকে নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।   বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ব্যাপকভাবে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। প্রায় ৩ হাজার নিখোঁজ মানুষের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। একই সঙ্গে দুর্গত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত মানবিক সহায়তার একটি অংশ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খাদ্য সহায়তায় ব্যবহার করা হবে। সর্বোচ্চ ১০ হাজার পরিবার এই জরুরি খাদ্য সহায়তার আওতায় আসবে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নেপাল ও চীনে থাকা তাদের দূতাবাসগুলো মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করছে।   হিমালয়ের হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট বন্যায় নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন এবং বিদেশি নাগরিকদেরও উদ্ধার কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।   নেপালে বন্যার পর চলমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই ৩৬ লাখ ডলারের বেশি সহায়তা দুর্গত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে দেওয়া হচ্ছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৯:১৩
আশানুরূপ বেতন না দেয়ায় ক্ষোভে ৫০ কোটি ডলারের গুদামে আগুন দিলেন কর্মী

আশানুরূপ বেতন না দেয়ায় ক্ষোভে ৫০ কোটি ডলারের গুদামে আগুন দিলেন কর্মী

ইরান থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, ট্রাম্প প্রশাসন পাঠাল আফ্রিকায় ছবি: সিএনএন

ইরান থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, ট্রাম্প প্রশাসন পাঠাল আফ্রিকায়

১৩ ছেলেকে নিয়ে আমেরিকার সবচেয়ে বড় ছেলে-সন্তানের পরিবার এই দম্পতির

১৩ ছেলেকে নিয়ে আমেরিকার সবচেয়ে বড় ছেলে-সন্তানের পরিবার এই দম্পতির

এআই-নির্মিত 'শিশু যৌ/ন ছবি' রাখার মামলা বাক্‌স্বাধীনতার ভিত্তিতে খারিজ আপিল আদালতের
এআই-নির্মিত 'শিশু যৌ/ন ছবি' রাখার মামলা বাক্‌স্বাধীনতার ভিত্তিতে খারিজ আপিল আদালতের

যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদান ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে ফেডারেল আপিল আদালত। আদালত বলেছে, প্রায় ২৫ বছর আগের মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের কারণে এ ধরনের উপাদান ব্যক্তিগতভাবে রাখাকে নিষিদ্ধ করার সুযোগ তাদের নেই।   সপ্তম সার্কিট আপিল আদালত স্টিভেন অ্যান্ডেরেগ নামে এক ব্যক্তির মামলায় নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। তদন্তকারীদের দাবি, উইসকনসিনের ওই ব্যক্তির বাড়ি থেকে জব্দ করা ডিভাইসে শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক শত শত এআই-নির্মিত ছবি পাওয়া যায়।   অ্যান্ডেরেগের বিরুদ্ধে এআই-নির্মিত যৌন নিপীড়নমূলক উপাদান তৈরি ও বিতরণ, ১৬ বছরের কম বয়সী এক শিশুর কাছে তা পাঠানো এবং এসব উপাদান নিজের কাছে রাখার অভিযোগ আনা হয়। তবে ফেডারেল জেলা আদালত শুধু ব্যক্তিগতভাবে উপাদান রাখার অভিযোগটি বাতিল করে। এরপর বিচার বিভাগ সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে।   আপিল আদালতও ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণের অভিযোগ বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। আদালতের যুক্তি, ২০০২ সালে সুপ্রিম কোর্টের ‘ফ্রি স্পিচ কোয়ালিশন’ মামলার রায় অনুযায়ী, বাস্তব কোনো শিশুকে ব্যবহার না করে তৈরি কাল্পনিক শিশুদের যৌন ছবি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে প্রথম সংশোধনীর সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রযোজ্য হতে পারে।   তবে বর্তমান এআই প্রযুক্তি সেই পুরোনো আইনি সীমারেখাকে জটিল করে তুলেছে বলে সতর্ক করেছেন আপিল আদালতের দুই বিচারক। বিচারক জন লি লিখেছেন, ২৫ বছর আগে সুপ্রিম কোর্ট যে সময়ে রায় দিয়েছিল, তখন আজকের মতো বাস্তবসম্মত ছবি তৈরির এআই প্রযুক্তি কল্পনাও করা কঠিন ছিল।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতিতে আদালতের সামনে নতুন কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আগের সিদ্ধান্তের অধীনে থাকার কারণে আপিল আদালত নিজেরাই সেই আইনি সীমারেখা নতুন করে নির্ধারণ করতে পারেন না।   বিচারক লি ও বিচারক জোশুয়া কোলার আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এআই দিয়ে তৈরি ছবি এখন বাস্তব শিশুকে নিয়ে তৈরি যৌন নিপীড়নের উপাদান থেকে প্রায় আলাদা করা যায় না। এমনকি এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত কিছু বড় তথ্যভান্ডারে বাস্তব শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদান থাকার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করেছেন।   তবে বিচারকরা স্পষ্ট করেছেন, এই নির্দিষ্ট মামলায় সরকার বিষয়টি আদালতের সামনে উপস্থাপন করেনি এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্যও মামলার নথিতে নেই।   অন্যদিকে মার্কিন বিচার বিভাগের আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন, অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এআই-নির্মিত উপাদানের বিস্তার তদন্তকারীদের জন্য বাস্তব ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।   দুই দশকের বেশি আগে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ক্লারেন্স থমাসও প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নিয়ে একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তার মতে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে বাস্তব শিশুদের ওপর নির্যাতনের মাধ্যমে তৈরি অবৈধ উপাদান এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি উপাদানের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।   ফলে নতুন এই রায় যুক্তরাষ্ট্রে এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে পুরোনো আইন ও সাংবিধানিক নজিরের সংঘাত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৭:১৮
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ডানা নেসেল

ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভের আশঙ্কায় নিজ দলের সম্মেলন এড়ালেন মিশিগানের ইহুদি অ্যাটর্নি জেনারেল

তালেবানের ভয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সুরক্ষা পাওয়া আফগান তরুণকেও আফ্রিকায় পাঠিয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন

তালেবানের ভয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সুরক্ষা পাওয়া আফগান তরুণকেও আফ্রিকায় পাঠিয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন

ভেনেজুয়েলার তেল খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

ভেনেজুয়েলার তেল খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, উৎপাদনের লক্ষ্য ১৫ লাখ ব্যারেল

0 Comments