সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
তালেবানের ভয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সুরক্ষা পাওয়া আফগান তরুণকেও আফ্রিকায় পাঠিয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন
তালেবানের ভয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সুরক্ষা পাওয়া আফগান তরুণকেও আফ্রিকায় পাঠিয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন

তালেবানের হাতে নির্যাতনের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে বহিষ্কার থেকে আইনি সুরক্ষা পাওয়া এক আফগান নাগরিককেও আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠিয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।   ওই আফগান তরুণের বয়স ২০-এর কোঠায়। তার আইনজীবী আলমা ডেভিড জানিয়েছেন, তালেবানের কাছ থেকে তার পরিবারের সদস্যদের পাওয়া হুমকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত তাকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিয়েছিল।   তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, তালেবান ক্ষমতা দখলের আগে তার এক ভাই আফগান ন্যাশনাল আর্মিতে কাজ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন। আরেক ভাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলট ছিলেন, যিনি পরে তালেবানের হাতে নিহত হন।   দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ওই আফগান নাগরিককে শুধু ‘খলিল’ নামে শনাক্ত করেছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বাবা ও বোনও মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছেন।   মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের কর্মকর্তা সাভি আরভেরি জানিয়েছেন, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি নির্বাসন ফ্লাইট মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বাঙ্গুইয়ে পৌঁছেছে। ওই ফ্লাইটে ১২ জন আফগান ও আটজন ইরানিসহ নেপাল ও নিকারাগুয়ার কয়েকজন নাগরিক ছিলেন।   মানবাধিকার সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে এটি যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় নির্বাসন ফ্লাইট।   ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে এমন অনেক মানুষকে নিজ দেশের বাইরে পাঠাচ্ছে, যেসব দেশের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ ভ্রমণ সতর্কতায় মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে কোনো কারণেই ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে অস্থিরতা, অপরাধ, অপহরণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৬:১৫
নেপালি শিক্ষকের বুদ্ধিতে ভয়াবহ বন্যা থেকে বাঁচল ১,৬৪৩ শিশু
নেপালি শিক্ষকের বুদ্ধিতে ভয়াবহ বন্যা থেকে বাঁচল ১,৬৪৩ শিশু

নেপালে হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ১ হাজার ৬৪৩ শিশুর জীবন রক্ষা করেছেন এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে স্কুল খালি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে শিশুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন ৪৭ বছর বয়সী ইংরেজির শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি।   বুধবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে এক বন্ধুর কাছ থেকে ফোনে সতর্কবার্তা পান দাওয়াদি। তাকে জানানো হয়, পাহাড়ি নদীর পানি ভয়াবহ গতিতে বাড়ছে এবং গ্রামের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে নদীর স্রোতে বিলীন হয়ে গেছে।   প্রথমে দাওয়াদি মনে করেছিলেন, কংক্রিটের তৈরি তিনতলা স্কুল ভবনটি নিরাপদ। ভবনটি নদীর তলদেশ থেকে প্রায় ৬০ মিটার উঁচুতে ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক স্কুলে এসে জানান, পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে।   পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে সব শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষ খালি করার নির্দেশ দেন তিনি। স্কুলবাসের চালকদেরও দ্রুত শিশুদের সরিয়ে নিতে বলেন। এর মধ্যে একটি বাস সেতু পার হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়।   এরপর শিক্ষার্থীরা পায়ে হেঁটে উঁচু এলাকায় পালাতে শুরু করে। আতঙ্কে এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মোটরসাইকেলে করে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাওয়াদিও পেছন থেকে তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে থাকেন।   শেষ পর্যন্ত শিশুরা একটি বোধি গাছের নিচে আশ্রয় নেয়। এর কিছুক্ষণ পরই ভয়াবহ বন্যার স্রোতে তাদের স্কুল ভবনসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা ভেসে যায়।   এই ঘটনায় ১ হাজার ৬৪৩ শিশুর সবাই প্রাণে বেঁচে যায়। তবে স্কুলের দুই কর্মী প্রাণ হারান। ইতিহাসের শিক্ষক ৩২ বছর বয়সী সান্তোষ পারিয়ার সকালের নাশতা রান্না করতে নদীর পাশের ভাড়া বাসায় ফিরে গিয়ে স্রোতে ভেসে যান। স্কুলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুলতান লামাও দরজা বন্ধ করতে ফিরে গিয়ে মারা যান।   স্থানীয়রা দাওয়াদিকে বীর হিসেবে প্রশংসা করলেও তিনি নিজের ভূমিকা নিয়ে বলেন, “আমি আর কী করতে পারতাম?”   এই ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত হয় লাংটাং লিরুং শৃঙ্গের একটি বিশাল বরফ ও পাথরের অংশ ভেঙে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে লেন্দে খোলা নদীর ওপর পড়ে যাওয়ার পর। এতে পাহাড়ি নদীগুলোতে আকস্মিকভাবে বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, কাদা ও পাথরের স্রোত নেমে আসে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৫:২৯
ভেনেজুয়েলার তেল খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ
ভেনেজুয়েলার তেল খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, উৎপাদনের লক্ষ্য ১৫ লাখ ব্যারেল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নতুন তেল চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে তুলে ধরেছেন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। তাঁর দাবি, ২৫ বছরের এই চুক্তির আওতায় ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়ন করে দিনে ১৫ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।    শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে রদ্রিগেজ বলেন, এই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার দ্বিপক্ষীয় প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য। এর পাশাপাশি আরও আটটি নতুন তেল ব্লক উন্নয়নের বৃহত্তর পরিকল্পনাও রয়েছে।    এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি প্রমাণিত তেল মজুদের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে। তিনি চুক্তিটিকে ‘বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।    চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও একটি বেসরকারি ভেনেজুয়েলীয় অংশীদারের মাধ্যমে নতুন একটি কোম্পানি গঠনের কথা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কোম্পানি ১৭টি তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন করবে। যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর অংশীদারিত্ব হবে প্রায় ৫৫ শতাংশ, পাশাপাশি উৎপাদিত তেল নির্দিষ্ট শর্তে কেনার অধিকারও থাকবে।    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, চুক্তিটি ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আনতে পারে। এতে হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরি এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা হবে বলে দাবি করেন তিনি।    অন্যদিকে, রদ্রিগেজের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার সরকার সম্ভাব্যভাবে ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর রাজস্ব পেতে পারে। অর্থাৎ সংবাদে উল্লেখ করা ২০০ বিলিয়ন ডলার চুক্তির মূল্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে সম্ভাব্য সরকারি কর-আয়ের হিসাব।    রদ্রিগেজ একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলেছেন, ভেনেজুয়েলা তার প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব ধরে রাখবে। দেশটির দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও অব্যবস্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল খাত পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধন, প্রযুক্তি ও পরিচালনাগত দক্ষতা কাজে লাগানো হবে বলে তিনি জানান।    তবে চুক্তির সব বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার বহু পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত তেল অবকাঠামো পুনর্গঠনে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। ফলে দিনে ১৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে এবং চুক্তির বাস্তব প্রভাব এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।    ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের তেলের সরবরাহ বাড়াবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশটিতে জ্বালানির দাম কমাতে সহায়তা করবে। তবে উৎপাদন বাড়তে সময় লাগায় এর তাৎক্ষণিক প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৫:৭
হামলার শিকার ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করায়  ব্রিটিশ কর্মীকে আটক ইসরায়েলি পুলিশের
হামলার শিকার ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করায় ব্রিটিশ কর্মীকে আটক ইসরায়েলি পুলিশের

অধিকৃত পশ্চিম তীরের উম্ম আল-খায়ের গ্রামে এক ব্রিটিশ অধিকারকর্মীকে সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা আটক করে পরে ইসরায়েলি পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই কর্মীর নাম ফিন জফিন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মাসাফের ইয়াত্তায় ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ওপর বসতিস্থাপনকারীদের হামলার মধ্যে তাদের পাশে থাকার জন্য পরিচালিত একটি ‘প্রটেকটিভ প্রেজেন্স’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সেখানে অবস্থান করছিলেন।   ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার (WAFA) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বসতিস্থাপনকারীরা ওই বিদেশি কর্মীকে উম্ম আল-খায়ের থেকে জোর করে নিয়ে গিয়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থাপিত একটি ইসরায়েলি বসতিতে নিয়ে যায়।   এ সময় এক বসতিস্থাপনকারী তার মুখে পিপার স্প্রে করলে ওই কর্মীর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। আহতদের ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানায় ওয়াফা।   পরে ইসরায়েলি পুলিশ ওই কর্মীকে আটক করে অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে যায়।   তবে ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলি পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। পুলিশের দাবি, মাওন এলাকার একটি বসতির নিরাপত্তা দলের প্রধান ওই ব্যক্তিকে এক অপ্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের সন্দেহে আটক করেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   ইসরায়েলি সংগঠন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নাদাভ ওয়েইমান অবশ্য বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ওই কর্মীকে অপহরণের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, বসতির শিশুরা উম্ম আল-খায়েরের ফিলিস্তিনি শিশুদের একটি বল নিয়ে নেয়। এরপর সশস্ত্র প্রাপ্তবয়স্কদের ডেকে এনে ওই কর্মীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।   ঘটনার দিন অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকাতেও ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে।   তবে ব্রিটিশ কর্মীকে অপহরণের অভিযোগ এবং তার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি পুলিশের অভিযোগ—দুই পক্ষের বক্তব্যই আলাদাভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে; বিষয়টির স্বাধীন যাচাই এখনো স্পষ্ট নয়।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৪:১৭
'পায়ে ব্যথা, আর হাঁটতে পারছি না, জানি না কোথায় যাচ্ছি
'পায়ে ব্যথা, আর হাঁটতে পারছি না, জানি না কোথায় যাচ্ছি’: গাজার শিশু

গাজায় চলমান সংঘাত ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির মধ্যে এক ফিলিস্তিনি শিশুর অসহায় কথোপকথনের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। তুরস্কের সংবাদ টেলিভিশন চ্যানেল উলুসাল কানালের প্রচারিত ওই ভিডিওতে শিশুটিকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সঙ্গে অবস্থান করতে দেখা যায়।   ভিডিওতে শিশুটিকে বলতে শোনা যায়, “আমার পায়ে ব্যথা করছে। আমি আর হাঁটতে পারছি না। আমরা কোথায় যাচ্ছি, সেটাও জানি না।” দীর্ঘ সময় ধরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যেতে বাধ্য হওয়া মানুষের শারীরিক ক্লান্তি ও অনিশ্চয়তার চিত্র ফুটে ওঠে তার কথায়।   গাজায় সংঘাতের কারণে বহু পরিবার বারবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি গভীর মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।   উলুসাল কানালের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির প্রেক্ষাপট ও শিশুটির পরিচয় নিয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই ভিডিওতে থাকা বক্তব্যকে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রচারিত তথ্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবি বাস্তব ঘটনার বা ওই শিশুর প্রকৃত ছবি নয়। এটি কেবল প্রতিবেদনটির বিষয়বস্তু বোঝাতে তৈরি করা একটি প্রতীকী ছবি।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৩:৯
ভেনিসে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিরোধ , বাংলাদেশিদের ধর্মঘটের হুমকি
ভেনিসে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিরোধ , বাংলাদেশিদের ধর্মঘটের হুমকি

ইতালির ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির প্রস্তাবিত মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ তীব্র হয়েছে। ৮ হাজার বর্গমিটার জমিতে প্রকল্পটির অনুমোদন আটকে যাওয়ার পর আন্দোলন ও ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা। তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে দুই পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনার কথা বলছে।   মেস্ত্রের ভিয়া জিউস্তিজিয়া এলাকায় একটি পরিত্যক্ত করাতকলের জমিতে মসজিদ ও ইসলামিক কালচারাল সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি। জমিটি কিনে সেখানে একটি বড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা চলছিল।   তবে গত মে মাসে দায়িত্ব নেওয়া ভেনিসের নতুন কেন্দ্র-ডানপন্থি মেয়র সিমোনে ভেনতুরিনি প্রকল্পটির অনুমোদন আটকে দেন। মেয়রের বক্তব্য, প্রস্তাবিত স্থাপনাটি আকারে অনেক বড় এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক একীভূত হওয়ার বিষয়েও আরও অগ্রগতি প্রয়োজন। ইতালীয় ভাষা শেখা, নারীদের সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠানোর মতো বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।    মেয়রের অবস্থানে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা বলছেন, ভেনিস ও মেস্ত্রে এলাকায় বসবাসরত মুসলিমদের জন্য একটি স্থায়ী ও উপযুক্ত নামাজের স্থান প্রয়োজন। তাদের দাবি, আগের প্রশাসনের সময় থেকেই ভিয়া জিউস্তিজিয়া এলাকার জমিটি ধর্মীয় কেন্দ্র নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে আলোচনায় ছিল। স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য বলছে, আগের পর্যায়ে কোনো চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়নি।    কমিউনিটির প্রতিনিধি প্রিন্স হাওলাদার জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামতে পারেন। এমনকি ধর্মঘটের মাধ্যমে ফিনক্যানতিয়েরি শিপইয়ার্ডসহ স্থানীয় পর্যটন ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় প্রভাব ফেলার কথাও তিনি বলেছেন। ভেনিস, মেস্ত্রে ও মারঘেরার বিভিন্ন শিল্প ও সেবা খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির কারণে এমন কর্মসূচি স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে কমিউনিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।    তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিআইএল ধর্মঘটের এমন উদ্যোগ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারকে সমর্থন করলেও ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের দাবিতে এ ধরনের ধর্মঘটকে সমর্থন করছে না।    এদিকে বিরোধের মধ্যেই ৩০ আগস্ট দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়র ও বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে আলোচনায় বসার আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে প্রস্তাবিত মসজিদের আকার ও নগর পরিকল্পনা নিয়ে মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। প্রকল্পের নকশা আরও ছোট করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।    মসজিদ প্রকল্পটি নিয়ে ইতালির রাজনীতিতেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। উপ-প্রধানমন্ত্রী ও দ্য লিগ দলের নেতা মাত্তেও সালভিনি মসজিদ নির্মাণের দাবিতে ধর্মঘটের হুমকির সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে কেন্দ্র-বামপন্থি রাজনীতিক ও মানবাধিকারকর্মীদের একটি অংশ বাংলাদেশি মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানিয়েছেন।    দীর্ঘদিন ধরে ভেনিস অঞ্চলে বসবাস ও কাজ করা বাংলাদেশিরা রেস্টুরেন্ট, হোটেল, ক্যাফে এবং শিল্প খাতসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত। মেস্ত্রের প্রস্তাবিত মসজিদ তাই শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের বিষয় নয়, স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক অবস্থান, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নগর পরিকল্পনা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।   সূত্র: বিডিনিউজ ২৪

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৩:৩
অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন অভিযানে রোবট কুকুর ব্যবহার করবে আইসিই
অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন অভিযানে রোবট কুকুর ব্যবহার করবে আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) অভিবাসনবিরোধী অভিযান পরিচালনায় বস্টন ডায়নামিকসের তৈরি রোবট কুকুর ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এ জন্য সংস্থাটি ১০ লাখ থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একটি ক্রয়সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   নথি অনুযায়ী, আইসিই বস্টন ডায়নামিকসের ‘স্পট’ নামে পরিচিত চার পায়ের রোবট কিনতে চায়। এসব রোবট এমন জায়গায় ব্যবহার করা হবে, যেখানে কর্মকর্তাদের প্রবেশ করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিপজ্জনক বা দুর্গম এলাকায় পরিদর্শন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ঝুঁকি শনাক্ত করাই হবে এর প্রধান কাজ।   ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, রোবটগুলো বিপজ্জনক, সংকীর্ণ, অস্থিতিশীল কিংবা সহজে প্রবেশ করা যায় না এমন জায়গায় কর্মকর্তাদের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে। সন্দেহজনক প্যাকেজ পরীক্ষা, বিপজ্জনক গ্যাস শনাক্তকরণ, সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মূল্যায়নেও এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে।   তবে আইসিই ঠিক কতগুলো রোবট কিনবে এবং কবে থেকে এগুলো মাঠে নামানো হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটির পরিকল্পিত ক্রয়ের মূল্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার হতে পারে।   বস্টন ডায়নামিকস জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও পাবলিক সেফটি প্রতিষ্ঠানের কাছে রোবট বিক্রি করে। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে মানুষকে ঝুঁকির বাইরে রেখে জরুরি সাড়া দেওয়ার কাজে এসব রোবট ব্যবহারের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। একই সঙ্গে রোবটকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা তাদের নীতিমালায় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।   স্পট রোবট আগে থেকেই বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসও এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে। পুলিশের কিছু অভিযানে বিপজ্জনক বস্তু পরীক্ষা, বোমা সংক্রান্ত তদন্ত এবং জটিল পরিস্থিতিতে নিরাপদ দূরত্ব থেকে তথ্য সংগ্রহে রোবটটি ব্যবহার করা হয়েছে।   আইসিইর নতুন এই ক্রয় পরিকল্পনা সামনে এসেছে সংস্থাটির দেশজুড়ে অভিবাসন অভিযান জোরদারের সময়। একই সময়ে আইসিই কর্মকর্তাদের জন্য ইলেকট্রিক শক দিতে সক্ষম গ্লাভস কেনার পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। ফলে অভিবাসন enforcement-এ প্রযুক্তির ব্যবহার ও এ ধরনের সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   বস্টন ডায়নামিকসের রোবটকে অস্ত্রায়ন না করার নীতির কারণে আইসিই এগুলোকে কী ধরনের সরঞ্জাম দিয়ে ব্যবহার করবে, সেটিও নজরে রয়েছে। ক্রয়সংক্রান্ত নথিতে রোবটগুলোর নির্দিষ্ট সংযুক্ত সরঞ্জাম বা অ্যাড-অন সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ২:৫৩
নিউ ইয়র্কে মসজিদে চুরির ধারাবাহিক ঘটনায় নাবিল খুঁজছে এনওয়াইপিডি
নিউ ইয়র্কে মসজিদে চুরির ধারাবাহিক ঘটনায় নাবিল খুঁজছে এনওয়াইপিডি

নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন, কুইন্স ও ব্রঙ্কসের ছয়টি মসজিদে প্রায় দুই বছর ধরে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় ৪৮ বছর বয়সী নাবিল কারতাহকে খুঁজছে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি)। পুলিশের দাবি, এসব ঘটনায় নগদ অর্থ, মানিব্যাগ ও মূল্যবান জিনিসপত্র মিলিয়ে ১০ হাজার ডলারের বেশি চুরি হয়েছে। একই কৌশলে মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের অরক্ষিত জ্যাকেট ও ব্যাগ থেকে জিনিসপত্র নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।   এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, চুরির ঘটনাগুলো ঘটে ব্রুকলিনের দুটি, কুইন্সের তিনটি এবং ব্রঙ্কসের একটি মসজিদে। তদন্তকারীদের মতে, প্রতিটি ঘটনায় প্রায় একই ধরনের প্যাটার্ন দেখা গেছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে মুসল্লিদের অরক্ষিত অবস্থায় রাখা জ্যাকেট বা ব্যাকপ্যাক থেকে মানিব্যাগ ও নগদ অর্থ নিয়ে চলে যান। পরে কয়েকজন ভুক্তভোগী তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অনুমোদনহীন লেনদেনও দেখতে পান।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিক চুরির প্রথম ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর। ওই দিন ব্রুকলিনের মিডউড এলাকার মাক্কি মসজিদ মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারে একটি অরক্ষিত জ্যাকেট থেকে মানিব্যাগ চুরি করা হয়। ওই ঘটনায় নগদ অর্থ ও অন্যান্য জিনিসপত্রসহ প্রায় ২ হাজার ২৮০ ডলারের ক্ষতি হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।   এর প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আবারও ব্রুকলিনে চুরির ঘটনা ঘটে। সাইপ্রেস হিলস এলাকার আল আমান মসজিদের ভেতরে রাখা একটি অরক্ষিত ব্যাকপ্যাক থেকে মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে কারতাহর বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় প্রায় ৯৩০ ডলারের সম্পদ চুরি হয়।   সর্বশেষ মসজিদে চুরির ঘটনা ঘটে ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ব্রঙ্কসের গ্র্যান্ড কনকোর্স এলাকার ওমর মসজিদে। তদন্তকারীদের দাবি, সেখানে একটি জ্যাকেট থেকে মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যান সন্দেহভাজন ব্যক্তি। ওই ঘটনায় নগদ অর্থ ও অন্যান্য জিনিসপত্রসহ প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ ডলারের ক্ষতি হয়।   এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, বাকি তিনটি চুরির ঘটনা কুইন্সের বিভিন্ন মসজিদে ঘটেছে। তবে সেসব ঘটনার নির্দিষ্ট স্থান ও বিস্তারিত তথ্য পুলিশ প্রকাশ করেনি।   মসজিদে চুরির ছয়টি ঘটনার বাইরে আরও একটি চুরির ঘটনায় কারতাহ জড়িত বলে দাবি করছে পুলিশ। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ম্যানহাটনের লোয়ার ইস্ট সাইডে একটি পার্ক করা তালাবিহীন গাড়ি থেকে প্রায় ৫ হাজার ডলার চুরির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।   একাধিক বরোতে সংঘটিত এসব ঘটনার তদন্ত করছে এনওয়াইপিডির হেট ক্রাইম টাস্কফোর্স। তবে কারতাহকে এসব ঘটনার জন্য অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এমন কোনো তথ্য পুলিশ প্রকাশ করেনি।   নাবিল কারতাহ সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে এনওয়াইপিডির ক্রাইম স্টপারস হটলাইনে ১-৮০০-৫৭৭-টিপস (৮৪৭৭) নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছে পুলিশ।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ২:৭
মায়ের ইচ্ছায় সৈনিক, এরপর ডাক্তার - নিজের স্বপ্ন পূরণে শেষ পর্যন্ত মহাকাশচারী!
মায়ের ইচ্ছায় সৈনিক, এরপর ডাক্তার - নিজের স্বপ্ন পূরণে শেষ পর্যন্ত মহাকাশচারী!

মায়ের ত্যাগ ও নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে একের পর এক কঠিন পথ পেরিয়ে আজ নাসার মহাকাশচারী জনি কিম। মার্কিন নৌবাহিনীর নেভি সিল, যুদ্ধক্ষেত্রের মেডিক, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ডাক্তার এবং শেষ পর্যন্ত মহাকাশচারী হয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন অবিশ্বাস্য এক ক্যারিয়ার।   লস অ্যাঞ্জেলেসে বেড়ে ওঠা কোরিয়ান-আমেরিকান পরিবারের সন্তান জনি কিম ২০০২ সালে হাইস্কুল শেষ করে মার্কিন নৌবাহিনীতে যোগ দেন। পরে তিনি নেভি সিল হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন এবং ইরাক যুদ্ধসহ বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেন। নাসার তথ্য অনুযায়ী, তাঁর সামরিক জীবনে ১০০টির বেশি যুদ্ধ অভিযান ছিল। এসব অভিযানে তিনি কমব্যাট মেডিক, স্নাইপার ও নেভিগেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।   তবে যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাই তাঁর জীবনের পরবর্তী পথ বদলে দেয়। সহযোদ্ধাদের জীবন রক্ষার চেষ্টা এবং চিকিৎসকদের কাজ কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা তাঁকে চিকিৎসাবিদ্যার দিকে আগ্রহী করে তোলে। নাসার এক সাক্ষাৎকারে কিম জানান, যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতিতে চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষের জীবন বাঁচানোর অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসকদের দক্ষতা তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল। এরপরও মানুষের সেবা চালিয়ে যেতে তিনি মেডিসিনকে নিজের পরবর্তী পথ হিসেবে বেছে নেন।    এরপর শুরু হয় তাঁর আরেক কঠিন অধ্যায়। ইউনিভার্সিটি অব সান ডিয়েগো থেকে গণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল থেকে মেডিকেল ডিগ্রি নেন। পরে ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল ও ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেনস হাসপাতালে ইমার্জেন্সি মেডিসিনে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। একই সঙ্গে তিনি নেভাল অফিসার ও ফ্লাইট সার্জন হিসেবেও প্রশিক্ষণ নেন।    এরপর আসে মহাকাশ জয়ের অধ্যায়। ২০১৭ সালে নাসার মহাকাশচারী হিসেবে নির্বাচিত হন জনি কিম। দীর্ঘ প্রশিক্ষণের পর ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল রসকসমসের সোয়ুজ এমএস-২৭ মহাকাশযানে করে প্রথমবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।    আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে প্রায় আট মাস কাটিয়ে কিম বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রযুক্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে রক্তনালিযুক্ত বায়োপ্রিন্টেড টিস্যু নিয়ে গবেষণা, মহাকাশে রোবট নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন ধরনের ন্যানোম্যাটেরিয়াল তৈরির মতো কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি।    ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর পৃথিবীতে ফিরে আসেন জনি কিম। নাসার হিসাবে, তাঁর প্রথম মহাকাশ মিশনে মোট ২৪৫ দিন মহাকাশে কাটে। এ সময়ে তিনি পৃথিবীকে ৩ হাজার ৯২০ বার প্রদক্ষিণ করেন এবং প্রায় ১০ কোটি ৪ লাখ মাইল পথ পাড়ি দেন।    মায়ের ত্যাগ, যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা এবং মানুষের জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষা থেকে শুরু হওয়া সেই পথই শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিয়ে গেছে মহাকাশে। সৈনিক থেকে ডাক্তার, এরপর নাসার মহাকাশচারী হয়ে জনি কিমের জীবন তাই শুধু সাফল্যের গল্প নয়, বরং একের পর এক নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নিজেকে বদলে নেওয়ার এক অসাধারণ উদাহরণ।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১:৫৪
নিউইয়র্কে মেট্রো ভাড়া অর্ধেক, ফেয়ার ফেয়ারসে মিলছে $১.৪৫ ভাড়া
নিউইয়র্কে মেট্রো ভাড়া অর্ধেক, ফেয়ার ফেয়ারসে মিলছে $১.৪৫ ভাড়া

নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসকারী কম আয়ের মানুষের জন্য গণপরিবহনে ভাড়া কমানোর বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে ফেয়ার ফেয়ার্স নিউইয়র্ক। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য বাসিন্দারা সাবওয়ে ও নির্দিষ্ট বাসে ৫০ শতাংশ কম ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারেন। ২০২৬ সালে চার সদস্যের পরিবারের বার্ষিক আয় ৪৯ হাজার ৫০০ ডলার বা তার কম হলে এই সুবিধার জন্য যোগ্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটির মানবসম্পদ প্রশাসন পরিচালিত ফেয়ার ফেয়ার্স নিউইয়র্ক কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো কম আয়ের বাসিন্দাদের যাতায়াতের খরচ কমানো। সাবওয়ে ও যোগ্য বাসের পাশাপাশি বিশেষ পরিবহনসেবা ব্যবহারকারীরাও এই কর্মসূচির আওতায় ৫০ শতাংশ ছাড় পেতে পারেন।   বর্তমান সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী আয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক সদস্যের পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ বার্ষিক আয় ২৩ হাজার ৯৪০ ডলার, দুই সদস্যের জন্য ৩২ হাজার ৪৬০ ডলার, তিন সদস্যের জন্য ৪০ হাজার ৯৮০ ডলার, চার সদস্যের জন্য ৪৯ হাজার ৫০০ ডলার এবং পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য ৫৮ হাজার ২০ ডলার।   ফেয়ার ফেয়ার্সের জন্য সাধারণত আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরোর কোনো একটিতে বসবাস করতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে। যারা অন্য কোনো ছাড়যুক্ত গণপরিবহন কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছেন বা তার জন্য যোগ্য, তারা এই কর্মসূচির কিছু সুবিধা থেকে বাদ পড়তে পারেন।   অভিবাসন স্ট্যাটাস নিয়েও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ফেয়ার ফেয়ার্স কর্মসূচিতে আবেদন করার জন্য আবেদনকারীর অভিবাসন স্ট্যাটাস জানতে চাওয়া হয় না এবং এই তথ্য সংরক্ষণও করা হয় না। ফলে নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করলে বিভিন্ন অভিবাসন স্ট্যাটাসের নিউইয়র্কবাসী আবেদন করতে পারেন।   ফেয়ার ফেয়ার্স কর্মসূচিতে আর মেট্রোকার্ড ব্যবহার করা হয় না। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এই কর্মসূচি ওএমএনওয়াই ব্যবস্থায় স্থানান্তরিত হয়েছে। অনুমোদিত আবেদনকারীদের ফেয়ার ফেয়ার্স ওএমএনওয়াই কার্ড দেওয়া হয়। এই কার্ড দিয়ে সাবওয়ে, নির্দিষ্ট বাস, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড রেলওয়ে, রুজভেল্ট আইল্যান্ড ট্রাম এবং হাডসন রেল লিংকে ছাড়ের ভাড়া ব্যবহার করা যায়। তবে এক্সপ্রেস বাসে পূর্ণ ভাড়া দিতে হয়।   আবেদন করা যায় অনলাইনে ফেয়ার ফেয়ার্স নিউইয়র্কের মাধ্যমে অথবা অ্যাক্সেস এইচআরএ অ্যাপ ব্যবহার করে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচয়, বয়স, নিউইয়র্কে বসবাস এবং আয়ের প্রমাণ জমা দিতে হতে পারে। আবেদন অনুমোদিত হলে ফেয়ার ফেয়ার্স ওএমএনওয়াই কার্ড সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ডাকযোগে পাঠানো হয়।   নিউইয়র্ক সিটির এই কর্মসূচি ২০১৯ সালে চালু হয়। পরবর্তী সময়ে আয়ের যোগ্যতার সীমা বাড়ানো হয়েছে, যাতে আরও বেশি কম আয়ের নিউইয়র্কবাসী গণপরিবহনে ছাড়ের সুবিধা পেতে পারেন।   নিউইয়র্কে নিয়মিত সাবওয়ে বা বাস ব্যবহার করেন এবং পরিবারের আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকলে ফেয়ার ফেয়ার্স কর্মসূচির জন্য যোগ্যতা যাচাই করে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবার প্রতিদিন গণপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই সুবিধা মাসিক যাতায়াতের খরচ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১:৪৬
মুসলিম সহকর্মী সেনার অনুপ্রেরণায় শাহাদা পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ মার্কিন নারী সেনা কর্মকর্তার
মুসলিম সহকর্মী সেনার অনুপ্রেরণায় শাহাদা পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ মার্কিন নারী সেনা কর্মকর্তার

যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী সেনা কর্মকর্তা ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, ইসলাম ধর্মের শান্তি, সত্য ও সার্বজনীনতার বার্তায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি মুসলিম হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   ছড়িয়ে পড়া ওই বর্ণনায় বলা হয়েছে, তার এক মুসলিম সহকর্মী ইসলামের শিক্ষা ও মূল্যবোধের সঙ্গে তাকে পরিচিত করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ওই সেনার আচরণ, জীবনযাপন ও ধর্মীয় বিশ্বাস তাকে ইসলাম সম্পর্কে আরও জানতে উৎসাহিত করে বলে দাবি করা হয়েছে।   সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সামরিক পোশাক পরা ওই নারীকে শাহাদাহ পাঠ করতে দেখা যায় বলে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে অনেকেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।   তবে ওই নারী সেনা কর্মকর্তার নাম, ইসলাম গ্রহণের নির্দিষ্ট সময় ও স্থান এবং ভিডিওটির মূল উৎস সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত দাবিগুলোকে আপাতত যাচাই-সাপেক্ষ তথ্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   এর আগে আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন মার্কিন সেনাসদস্যের ইসলাম গ্রহণের খবরও প্রকাশ্যে এসেছিল। ২০০৭ সালে আফগানিস্তানে দুই মার্কিন সেনার ইসলাম গ্রহণের খবর প্রকাশিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ধর্মীয় স্বাধীনতা মার্কিন সংবিধানে সুরক্ষিত।   যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতেও মুসলিম সদস্যদের উপস্থিতি নতুন নয়। মার্কিন সেনাবাহিনীর নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, মুসলিম চ্যাপলিনরা দীর্ঘদিন ধরে সেনাসদস্যদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সহায়তা দিয়ে আসছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১:৮
অভিবাসনবিরোধী উসকানিদাতা ইয়ান্নোপোলোসকে গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার
অভিবাসনবিরোধী উসকানিদাতা ইয়ান্নোপোলোসকে গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার

যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করায় ব্রিটিশ ডানপন্থী ভাষ্যকার ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব মিলো ইয়ান্নোপোলোসকে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। নিউ অরলিন্সের লুই আর্মস্ট্রং নিউ অরলিন্স ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে গ্রেপ্তারের একদিন পর ২৮ আগস্ট তাকে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সী ইয়ান্নোপোলোস ২০১৯ সালের মে মাসে নিউইয়র্ক সিটি দিয়ে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তবে অনুমোদিত সময় শেষ হওয়ার পরও তিনি দেশটিতে অবস্থান করেন। চলতি বছরের ২২ জুলাই একটি ইমিগ্রেশন জাজ তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ দেন। নির্ধারিত ইমিগ্রেশন হিয়ারিংয়ে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় ওই আদেশ দেওয়া হয়।   আইসিই বৃহস্পতিবার নিউ অরলিন্স বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করে। পরদিনই তাকে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়। ইয়ান্নোপোলোসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   ঘটনাটির পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে তার দীর্ঘদিনের অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের কারণে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তিনি কঠোর ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। ২০২৫ সালের এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে বহিষ্কারের পক্ষে মত দেন। এমনকি চলতি বছরের জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার সুপারমার্কেট, গ্যাস স্টেশন ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলের প্রবেশপথে আইসিই চেকপয়েন্ট বসানোরও আহ্বান জানিয়েছিলেন।   ইয়ান্নোপোলোস একসময় যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী রাজনীতিতে বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন। প্রথম দফায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় তিনি ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম ব্রেইটবার্টের সম্পাদক হিসেবে পরিচিতি পান এবং ক্যাম্পাসে বক্তা হিসেবেও আলোচনায় আসেন। পরে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে রক্ষণশীল রাজনৈতিক অঙ্গনে তার প্রভাব কমে যায়।   তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচেষ্টায় র‍্যাপার ইয়ে, যিনি আগে কানিয়ে ওয়েস্ট নামে পরিচিত ছিলেন, তার সঙ্গে কাজ করেন। এর আগে জর্জিয়ার সাবেক কংগ্রেসওম্যান মার্জরি টেইলর গ্রিনের অফিসেও ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেছিলেন।   ইয়ান্নোপোলোসের বহিষ্কার নিয়ে ডানপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট লরা লুমারও প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইয়ান্নোপোলোসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকা লুমার দাবি করেছেন, তিনিই তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তবে তার অভিযোগই ইয়ান্নোপোলোসকে আটকের সরাসরি কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে ডিএইচএস কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।   ইয়ান্নোপোলোসের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট জোরদার করছে। তার ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈধভাবে প্রবেশের পর অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান এবং ইমিগ্রেশন হিয়ারিংয়ে অনুপস্থিতির কারণেই তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১:০
যৌনকর্মীর কাছে যাওয়ার ইতিহাস থাকলেও এফবিআইয়ে মিলবে চাকরির সুযোগ
যৌনকর্মীর কাছে যাওয়ার ইতিহাস থাকলেও এফবিআইয়ে মিলবে চাকরির সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) অতীতে যৌনকর্মীর সেবা নেওয়া ব্যক্তিদের চাকরির আবেদন সরাসরি বাতিল করার নীতি শিথিল করেছে। নতুন ব্যবস্থায় কিছু আবেদনকারীকে অতীত কর্মকাণ্ডের ধরন, সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।   তবে নতুন নীতির অর্থ এই নয় যে এফবিআই যৌনকর্মীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য করেছে। চলতি বছরের বসন্তে জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ১০ বছরের মধ্যে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, মোট তিনবার বা তার বেশি এ ধরনের কর্মকাণ্ড করা অথবা জননিরাপত্তার মতো দায়িত্বশীল পদে থাকা অবস্থায় এতে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে আবেদনকারীকে এখনও চাকরির জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।   এর বাইরে থাকা কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীর অতীত কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করার সুযোগ থাকবে। এ পরিবর্তনের ফলে অতীতে এমন ঘটনায় জড়িত ছিলেন এমন কিছু প্রার্থী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়বেন না।   এফবিআই জানিয়েছে, নীতির পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হলো এমন কিছু যোগ্য প্রার্থীকে বিবেচনার সুযোগ দেওয়া, যারা এমন দেশে অবস্থানকালে এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন যেখানে বিষয়টি বৈধ ছিল। পাশাপাশি অল্প বয়সে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   এফবিআই স্পষ্ট করেছে, অপরাধমূলক যৌন কর্মকাণ্ড এখনও চাকরির ক্ষেত্রে অযোগ্যতার কারণ। সংস্থাটির ভাষ্য, আবেদনকারীদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক ও ভেটিং প্রক্রিয়া এখনও ব্যাপক ও কঠোর।   এফবিআইয়ে চাকরির আবেদনকারীদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক, বিস্তারিত প্রশ্নপত্র, ক্রেডিট চেক, প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের সঙ্গে ইন্টারভিউ এবং পলিগ্রাফ টেস্টের মতো একাধিক ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অতীতের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এমন ব্যক্তিগত তথ্যও যাচাই করা হয়, যা ভবিষ্যতে কোনো কর্মীকে চাপ বা ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।   ফেলোনি কনভিকশন, ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের কনভিকশন, ইউরিনালাইসিসে ব্যর্থতা এবং সংস্থার ড্রাগ নীতির কিছু লঙ্ঘন এখনও স্বয়ংক্রিয় অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।   নীতির এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে এলো, যখন এফবিআইসহ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জনবল পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। নিয়োগের মানদণ্ড শিথিল হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে এফবিআই বলছে, সংস্থাটি এখনও আবেদনকারী ও কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যতম কঠোর উপযুক্ততা মানদণ্ড বজায় রেখেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ০:৩৬
থাকার জায়গা না পেয়ে যে স্কুলে কাজ করতেন, সেখানেই গোপনে ৬ মাস থাকলেন কাস্টোডিয়ান
থাকার জায়গা না পেয়ে যে স্কুলে কাজ করতেন, সেখানেই গোপনে ৬ মাস থাকলেন কাস্টোডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রে একটি স্কুলের কাস্টোডিয়ান প্রায় ছয় মাস ধরে গোপনে ওই স্কুলেই বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি স্কুল ভবনের ভেতরেই নিজের থাকার ব্যবস্থা করে নিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি গোপন রাখতে সক্ষম হন। তবে কীভাবে তিনি নিয়মিতভাবে স্কুলে অবস্থান করতেন এবং বিষয়টি এতদিন কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুলে কাস্টোডিয়ানের দায়িত্ব পালন করার সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তিনি ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম চললেও কর্তৃপক্ষ প্রথমদিকে তার সেখানে বসবাসের বিষয়টি জানতে পারেনি।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুলের নিরাপত্তা, কর্মীদের প্রবেশাধিকার এবং ভবন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কর্মীদের দায়িত্ব পালনের সময় ও দায়িত্বের বাইরে স্কুল ভবনে অবস্থানের নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।   তবে ওই কাস্টোডিয়ান কেন স্কুলে গোপনে বসবাস করছিলেন এবং তার এমন সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনাটি সামনে আসার পর স্কুল ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্মীদের জন্য নির্ধারিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ০:১৬
শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়ার কারণে দীর্ঘদিন পুকুরের পানিতে থাকতেন মুর্শিদাবাদের কিশোর ইকবাল শেখ। ছবি: সংগৃহীত
শরীরে অসহ্য জ্বালাপোড়া, পাঁচ বছর পুকুরের পানিতে দিন কাটানো কিশোরের চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন অনন্ত আম্বানি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ১৬ বছর বয়সী ইকবাল শেখের জীবন যেন আটকে ছিল পুকুরের পানিতে। দীর্ঘদিন ধরে শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়ার অনুভূতি হওয়ায় পানি থেকে উঠতে পারতেন না তিনি। পুকুরের পানিতে থাকলেই কিছুটা স্বস্তি মিলত বলে দাবি ইকবালের। এভাবেই প্রায় পাঁচ বছর ধরে দিনের বড় একটি সময় পানিতে কাটাতে হয়েছে তাকে।   ইকবালের এই অস্বাভাবিক জীবনযাপনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। ভিডিওতে তাকে পুকুরের পানিতে বসে খাবার খেতেও দেখা যায়। পরে তার শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পেরে ভারতের শিল্পপতি অনন্ত আম্বানি তার চিকিৎসায় সহায়তার উদ্যোগ নেন। বর্তমানে ইকবালকে মুম্বাইয়ের স্যার এইচএন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।   মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বাসিন্দা ইকবাল জানিয়েছেন, পানির বাইরে এলেই তার শরীরে অসহ্য জ্বালাপোড়া শুরু হয়। সেই কষ্ট থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে তিনি আবার পুকুরের পানিতে নেমে যেতেন। স্থানীয়ভাবে তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসার চেষ্টা করেছে। কিন্তু স্থায়ী সমাধান না পাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বিশেষায়িত চিকিৎসার খরচ বহন করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।   পরিস্থিতি বদলে যায় ইকবালের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে দীর্ঘ সময় পুকুরে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিষয়টি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ইকবালের চিকিৎসার জন্য সহায়তার উদ্যোগ নেন অনন্ত আম্বানি। পরে তাকে বিমানে মুম্বাইয়ে নেওয়া হয় এবং স্যার এইচএন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।   চিকিৎসকেরা এখনো ইকবালের সমস্যার চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে তার উপসর্গের সঙ্গে বিরল রোগ এরিথ্রোমেলালজিয়ার কিছু মিল রয়েছে বলে চিকিৎসকদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে। এ রোগে শরীরের বিশেষ করে হাত-পা বা অন্যান্য অংশে তীব্র জ্বালাপোড়া, অতিরিক্ত উষ্ণতা, লালচে হয়ে যাওয়া ও ব্যথা দেখা দিতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গও বেড়ে যায় এবং ঠান্ডা পরিবেশ বা পানিতে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। তবে ইকবালের ক্ষেত্রে এই রোগের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।   দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণেও তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ পানিতে থাকলে ত্বক নরম হয়ে যাওয়া, ক্ষত তৈরি হওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পুকুরের পানিতে অবস্থানকে চিকিৎসা হিসেবে না দেখে দ্রুত রোগের প্রকৃত কারণ নির্ণয় ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।   ইকবালের ঘটনা শুধু একটি বিরল শারীরিক সমস্যার গল্প নয়, বরং চিকিৎসা না পাওয়ার আর্থিক ও সামাজিক সংকটেরও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটির সমাধান খুঁজলেও প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ সীমিত ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি বড় পরিসরে সামনে আসে এবং শেষ পর্যন্ত মুম্বাইয়ে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হয়।   এখন ইকবালের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তার শরীরে জ্বালাপোড়ার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা। মুম্বাইয়ের চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার সমস্যার উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। এখন পর্যন্ত তার রোগের চূড়ান্ত নির্ণয় বা চিকিৎসার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইকবালের ঘটনা নিয়ে নানা ধরনের ব্যাখ্যা ছড়ালেও চিকিৎসকেরা তার সমস্যার বৈজ্ঞানিক কারণ নির্ণয়ের ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ায় এখন তার পরিবারও রোগটির প্রকৃত কারণ ও কার্যকর চিকিৎসার বিষয়ে আশাবাদী।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি, বিজনেস টুডে, এএনআই ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ০:১২
প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ফার্নান্দো ভিলাভিসেনসিও হত্যাকাণ্ডে তদন্তাধীন হোসে সেরানোকে ইকুয়েডরে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইকুয়েডরের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেশে ফেরত পাঠাল আইসিই, প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ

ইকুয়েডরের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে সেরানোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করে নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে। ২০২৩ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ফার্নান্দো ভিলাভিসেনসিও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইকুয়েডরের তদন্তে থাকা সেরানো শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইকুয়েডরে ফেরেন। দেশটিতে পৌঁছানোর পর তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।   সেরানো ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়ার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতিও ছিলেন। ভিলাভিসেনসিও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তিনি সাতজন সন্দেহভাজনের একজন হিসেবে রয়েছেন।   ইকুয়েডরের সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের অভিযোগ, সেরানো মাদক চোরাচালানকারী গোষ্ঠী লস লোবোসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ভিলাভিসেনসিওর চলাফেরা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তিনি পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   ভিলাভিসেনসিও ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট রাজধানী কুইটোতে নির্বাচনী প্রচারের একটি সমাবেশ শেষে বের হওয়ার সময় গুলিতে নিহত হন। ওই সময় তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী ছিলেন। হামলায় ছয়জন কলম্বীয় নাগরিককে হত্যাকারী হিসেবে আটক করা হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালের অক্টোবরে কারাগারে ওই ছয়জনই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।   সেরানোর বিরুদ্ধে তদন্তে আরও কয়েকজনের নাম এসেছে। এর মধ্যে লস লোবোসের নেতা উইলমার ‘পিপো’ চাভারিয়া রয়েছেন। তিনি নিজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে আত্মগোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে স্পেনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বর্তমানে তাকে ইকুয়েডরে প্রত্যর্পণের অপেক্ষায় রাখা হয়েছে। ভিলাভিসেনসিও হত্যাকাণ্ডে লস লোবোসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে ২০২৪ সালে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।   যুক্তরাষ্ট্রে সেরানোর অবস্থানও ছিল দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসনসংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে। তিনি ২০২১ সালের মে মাসে পর্যটন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং পাঁচ মাস পর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। ২০২৫ সালের আগস্টে ভিসার অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ কর্তৃপক্ষ আইসিই তাকে মিয়ামির বাসা থেকে আটক করে। এরপর তিনি অভিবাসন হেফাজতে ছিলেন।   চলতি বছরের মে মাসে মার্কিন অভিবাসন বিচারক রোমি লার্নার সেরানোর আশ্রয়ের আবেদন নাকচ করেন। তবে একই সঙ্গে জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের আওতায় তার বহিষ্কার স্থগিত করা হয়। ইকুয়েডরে ফেরত পাঠালে তিনি নির্যাতনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কার কারণে ওই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল।   তারপরও শেষ পর্যন্ত আইসিই সেরানোকে ইকুয়েডরে পাঠায়। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম গোলার্ধবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়ান পাবলো সেগুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দুর্নীতি ও মাদক চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ইন্টারপোলের কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি সেরানোকে ইকুয়েডরে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর বিদেশি অপরাধীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হবে না।   ইকুয়েডরে পৌঁছানোর পর সেরানোকে নিরাপত্তার মধ্যে কারাগারে নেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ আগস্ট রাতে তার বহনকারী বিমান গুয়ায়াকিলের জোসে জোয়াকিন দে ওলমেদো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর তাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগার এল এনকুয়েন্ত্রোতে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে দেশটিতে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হেফাজতে রাখার আদেশ কার্যকর ছিল।   সেরানোকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ইকুয়েডরের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোড়ন তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেরানোকে এল এনকুয়েন্ত্রো কারাগারের নতুন ‘অতিথি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই পোস্টে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরিয়ার দিকেও ইঙ্গিত করে লেখেন, ‘এবার আপনার পালা।’ কোরিয়া বর্তমানে বেলজিয়ামে বসবাস করছেন।   অন্যদিকে ভিলাভিসেনসিওর দুই মেয়ে আমান্ডা ও তামিয়া সেরানোর ইকুয়েডরে ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা ঘটনাটিকে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে সেরানোর পরিবারের পক্ষ থেকে তার বহিষ্কার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।   ফার্নান্দো ভিলাভিসেনসিও হত্যাকাণ্ড ইকুয়েডরের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। দুর্নীতি ও সংগঠিত অপরাধ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার জন্য পরিচিত এই রাজনীতিককে নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে হত্যা করা হয়েছিল। তার হত্যার তদন্তে মাদক চক্র, কারাগার ও রাজনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   সেরানোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইকুয়েডরে ফেরত পাঠানোর ফলে এখন তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার পরবর্তী ধাপ দেশটির আদালতেই এগোবে। তবে হত্যাকাণ্ডে তার প্রকৃত ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।   সংবাদ সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ২৩:৪৮
নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন আরএসএস প্রধানের অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ মুসলিমদের

নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করেছেন মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শনিবার অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে আরএসএসের আদর্শ এবং ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে সংগঠনটির ভূমিকার সমালোচনা করা হয়।   মোহন ভাগবত শনিবার ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের ইনফোসিস থিয়েটারে ‘সার্বজনীন একাত্মতা উদযাপন’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে আড়াই শতাধিক হিন্দু-আমেরিকান সংগঠন যুক্ত ছিল এবং কয়েক হাজার মানুষের অংশগ্রহণের কথা ছিল। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদার করা।   তবে অনুষ্ঠানের আগে থেকেই নিউইয়র্কে এর বিরোধিতা করে আসছিল বিভিন্ন আন্তধর্মীয়, মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সংগঠন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আরএসএসের হিন্দু জাতীয়তাবাদী আদর্শ ভারতের মুসলিম ও খ্রিস্টানসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা মোহন ভাগবতের সফরকে আরএসএসের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও প্রভাব বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবেও দেখছেন।   নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে আরএসএসের আদর্শকে বর্জনমূলক বলে সমালোচনা করেছেন। তবে অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি ভেন্যুতে হওয়ায় সিটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি বাতিল করার এখতিয়ার নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন মোহন ভাগবতের ভিসা প্রত্যাহার এবং আরএসএসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছে। তবে এই সুপারিশ বাধ্যতামূলক নয় এবং মার্কিন সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য নেই। আরএসএস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের হিন্দু সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে।   মোহন ভাগবতের নিউইয়র্ক সফর আরএসএসের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য সফরের অংশ। তাঁর ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে ভারতীয়-আমেরিকান কমিউনিটির মধ্যেও আরএসএসের আদর্শ, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং সংগঠনটির আন্তর্জাতিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ২৩:২৮
চাকরি হারানো এইচ-১বি কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব এগিয়ে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
চাকরি হারালেই দ্রুত ছাড়তে হবে যুক্তরাষ্ট্র, H-1B ভিসাধারীদের জন্য ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো এইচ-১বি ভিসাধারীসহ কয়েক ধরনের বিদেশি কর্মীর জন্য বড় পরিবর্তন আসতে পারে। চাকরি চলে যাওয়ার পর নতুন চাকরি খোঁজা বা অভিবাসন অবস্থান পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সুযোগ রয়েছে, তা বাতিলের প্রস্তাব এগিয়ে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএসের প্রস্তাবিত নিয়মটি ৬ আগস্ট হোয়াইট হাউসের তথ্য ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কার্যালয়ের পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, ২৭ আগস্ট প্রস্তাবটি সংশোধন সাপেক্ষে পর্যালোচনা শেষ করেছে ওই কার্যালয়। প্রস্তাবটির নিবন্ধন নম্বর আরআইএন ১৬১৫-এডি২২ এবং এর শিরোনাম ‘Eliminating the Discretionary 60-day Grace Period’।   তবে এখনই এই নিয়ম কার্যকর হয়নি। এটি এখনও প্রস্তাবিত নিয়মের পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত হওয়ার আগে ডিএইচএসকে প্রস্তাবটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করতে হবে। এরপর সাধারণত জনগণ, নিয়োগকর্তা, অভিবাসন আইনজীবী ও বিভিন্ন সংগঠনকে মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সেই মতামত পর্যালোচনার পর সরকার চূড়ান্ত নিয়ম জারি করতে পারবে।   বর্তমান নিয়মে যোগ্য এইচ-১বি কর্মীরা চাকরি হারানোর পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সুযোগ পান। তবে তাদের অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ যদি ৬০ দিনের আগেই শেষ হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে সেই আগের তারিখই প্রযোজ্য হয়। এই সুবিধা ২০১৭ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে।   এই সময়টুকু বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি হারানোর পর তারা নতুন কোনো নিয়োগকর্তা খুঁজে নিতে পারেন, নতুন অভিবাসন শ্রেণিতে যাওয়ার আবেদন করতে পারেন অথবা প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। এইচ-১বি কর্মীরা ইচ্ছামতো যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করতে পারেন না। নতুন চাকরির ক্ষেত্রেও সাধারণত নতুন নিয়োগকর্তার প্রয়োজনীয় অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া দরকার হয়।   প্রস্তাবিত নিয়মটি কার্যকর হলে চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বৈধ অভিবাসন অবস্থান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একইভাবে, ওই কর্মীর ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের অভিবাসন অবস্থানও প্রভাবিত হতে পারে।   তবে চাকরি হারানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেক কর্মীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে, এমন নয়। অভিবাসন আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাগোমেনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা কর্তৃপক্ষ বা ইউএসসিআইএস আলাদা বিবেচনামূলক ক্ষমতা ব্যবহার করে অবস্থান পরিবর্তন বা নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে যাওয়ার সুযোগ দিতে পারে। তাই বৈধ অবস্থান হারানোর ঝুঁকি এবং সরাসরি বহিষ্কার প্রক্রিয়া এক বিষয় নয়।   প্রস্তাবটি এগিয়ে যাওয়ার খবর এমন সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি কর্মসূচিতে আরও কঠোর পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি, গবেষণা, শিক্ষা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মীরা কাজ করেন।   এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মীদের মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে কর্মী নিয়োগ করে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বলে আসছে, বিশেষায়িত দক্ষতার কর্মীর ঘাটতি পূরণে এইচ-১বি কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ।   এরই মধ্যে নতুন এইচ-১বি নিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের একটি ফি প্রস্তাবও সামনে এসেছে। এ নিয়ে আলাদা নিয়ম প্রণয়নের উদ্যোগ চলছে। ফলে এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগের খরচ ও চাকরি হারানোর পর বৈধ অবস্থান বজায় রাখার সুযোগ, দুই দিক থেকেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।   সরকারি নথিতে অবশ্য ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাবকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখানো হয়নি। ২৭ আগস্টের পর্যালোচনা শেষ হওয়া মূলত নিয়ম প্রণয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপ।   এখন নজর থাকবে প্রস্তাবটি কবে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হয় এবং সেখানে ঠিক কী ধরনের ব্যতিক্রম বা সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়। প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এরপর সরকার চূড়ান্ত নিয়ম জারি করলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।   এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এইচ-১বি কর্মীদের জন্য বর্তমান ৬০ দিনের সুবিধাই কার্যকর রয়েছে। শুধু হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা শেষ হওয়ার কারণে তাদের এখনই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হচ্ছে না এবং এই পর্যালোচনার ফলে নিয়োগকর্তাদের ওপর নতুন কোনো তাৎক্ষণিক বাধ্যবাধকতাও তৈরি হয়নি।   সূত্র: নিউজউইক

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ২৩:১৮
লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ফোবানা আয়োজকেরা। ছবি: সংগৃহীত
ফোবানা কনভেনশনে যোগ দিতে লস অ্যাঞ্জেলেসে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছেছেন ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ এর প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।   শনিবার দুপুরে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ফোবানা হোস্ট কমিটির কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন, টাইটেল স্পন্সর মুনিরুল ইসলাম, চিফ প্যাট্রন শিপার চৌধুরীসহ হোস্ট কমিটির নেতৃবৃন্দ।   এ সময় লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল, ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, সাধারণ সম্পাদক এম. ওয়াহিদ রহমান, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মুনিম, সাধারণ সম্পাদক লায়েক আহমেদ, বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস অ্যাঞ্জেলেস (বাফলা)-এর সাধারণ সম্পাদক নাসির সৈয়দ জেবুলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং মন্ত্রীর নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।   তিন দিনব্যাপী ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটিতে অবস্থিত ইউনিভার্সল হিলটন এ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর এ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। ভেন্যুটির ঠিকানা ৫৫৫ Universal Hollywood Drive, Universal City, California কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।   উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে পরিচিত ফোবানা কনভেনশন। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও প্রদেশ থেকে বাংলাদেশি-আমেরিকান ও বাংলাদেশি-কানাডিয়ানরা এ আয়োজনে অংশ নেন। এবারের ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের হোস্ট সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া। লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড সংলগ্ন ইউনিভার্সাল সিটিতে আয়োজন হওয়ায় এবারের কনভেনশনকে ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   আয়োজকদেরা জানান, তিন দিনের এই কনভেনশনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা, বিভিন্ন প্রতিভা প্রদর্শন, যুব কার্যক্রম, সম্মাননা ও কমিউনিটি গ্যাদারিংয়ের পাশাপাশি খাবার, পরিবারকেন্দ্রিক আয়োজন ও বিভিন্ন কর্মশালার ব্যবস্থা থাকবে।   ফোবানা দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠন ও প্রবাসীদের একটি বৃহৎ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে আসছে। বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার করাও এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।   ৪০তম ফোবানা কনভেনশনে বাংলাদেশ সরকারের একজন মন্ত্রীর প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণকে তাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   লস অ্যাঞ্জেলেসে মন্ত্রীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ফোবানা হোস্ট কমিটি ও স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। কনভেনশনকে সফল করতে আয়োজকরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ২২:৫৬
প্রত্নতাত্ত্বিকদের দাবি, এল-আরাজ এলাকাতেই ছিল যিশুর সময়ের প্রাচীন বেথসাইদা শহর। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলে যিশুর অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী সেই হারানো শহরের সন্ধান পেলেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা

ইসরায়েলের গ্যালিলি সাগরের তীরে দীর্ঘদিনের প্রত্নতাত্ত্বিক খননে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন পাওয়ার পর প্রাচীন বেথসাইদা শহর শনাক্ত করার বিষয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়েছেন গবেষকেরা। খনন দলের একাডেমিক পরিচালক রবার্ট স্টিভেন নটলির দাবি, এ পর্যন্ত পাওয়া সম্মিলিত প্রমাণগুলো উত্তর ইসরায়েলের বর্তমান এল-আরাজ এলাকায় প্রাচীন বেথসাইদা শহরের অবস্থানের ধারণাকে শক্তিশালী করেছে।   বেথসাইদা খ্রিস্টীয় ধর্মগ্রন্থে উল্লেখিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন শহর। নতুন নিয়মের বর্ণনা অনুযায়ী, যিশু সেখানে কয়েকটি অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এর মধ্যে অন্ধ ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া এবং পাঁচটি রুটি ও দুটি মাছ দিয়ে হাজারো মানুষকে খাওয়ানোর ঘটনা উল্লেখযোগ্য। যিশুর তিন শিষ্য পিতর, আন্দ্রিয় ও ফিলিপও এই শহরের বাসিন্দা ছিলেন বলে ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।   প্রাচীন এই শহরের অবস্থান নিয়ে অবশ্য বহু বছর ধরে প্রত্নতাত্ত্বিকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। গ্যালিলি সাগরের উত্তর-পূর্ব তীরে অবস্থিত এল-আরাজ এবং কাছাকাছি এট-টেল, দুটি স্থানই বেথসাইদা হিসেবে চিহ্নিত করার প্রধান দাবিদার ছিল। ২০১৬ সালে এল-আরাজ এলাকায় বড় আকারে খননকাজ শুরু করে বেথসাইদা-জুলিয়াস প্রত্নতাত্ত্বিক দল। ২০২৬ সালে এসে তারা খননের দশম মৌসুমে পৌঁছেছে। এবারের অভিযানে রোমান যুগের দেয়াল, মুদ্রা, প্রদীপ, প্রসাধনসামগ্রী, পাথরের তৈরি পেষণপাত্র এবং একটি জনসম্মুখের ভবন সাজাতে ব্যবহৃত হতে পারে এমন ডোরিক স্থাপত্যের একটি অংশ পাওয়া গেছে।   গবেষকদের মতে, এসব নিদর্শন এল-আরাজ এলাকায় খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীর সময়েও বসতি ছিল এমন ধারণাকে শক্তিশালী করে। বিশেষ করে হেরোদীয় আমলের বেশ কয়েকটি অক্ষত প্রদীপ এবং চুনাপাথরের তৈরি পাত্র পাওয়া গেছে। খনন দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেরুজালেমে খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে তৈরি হওয়া এসব প্রদীপ ইহুদি জনগোষ্ঠীর বসবাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়। খননস্থলে পাওয়া স্থাপত্য নিদর্শনও গবেষকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। রোমান যুগের দেয়ালের পাশাপাশি একটি অর্ধেক ডোরিক স্তম্ভের অংশ পাওয়া গেছে, যা কোনো গুরুত্বপূর্ণ জনসাধারণের ভবনের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে এল-আরাজে গির্জা, মোজাইক, বসতবাড়ির দেয়াল এবং রোমান যুগের বিভিন্ন নিদর্শনও উদ্ধার করা হয়েছে।   প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, বেথসাইদা পরবর্তী সময়ে রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে জুলিয়াস নামে একটি নগরীতে রূপ নেয়। এবারের খনন সেই রূপান্তর সম্পর্কে আরও তথ্য দিয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রাচীন গ্যালিলি অঞ্চলের মানুষকে শুধু দরিদ্র ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখার প্রচলিত ধারণার সঙ্গেও এসব নিদর্শন পুরোপুরি মেলে না। বরং স্থাপত্য, নগর পরিকল্পনা ও পাওয়া সামগ্রী থেকে বোঝা যায়, অন্তত কিছু শহর ও জনপদ তখন যথেষ্ট সমৃদ্ধ ছিল। এল-আরাজকে বেথসাইদা হিসেবে চিহ্নিত করার পক্ষে এর আগেও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০২২ সালে সেখানে একটি বাইজেন্টাইন আমলের গির্জার মেঝেতে একটি শিলালিপি পাওয়া যায়, যেখানে পিতরের নামের সঙ্গে তাঁকে প্রেরিতদের প্রধান হিসেবে উল্লেখ করার ঐতিহ্যের প্রমাণ মিলেছে। গবেষকদের মতে, গির্জাটি পিতর ও আন্দ্রিয়ের বাড়ির ওপর নির্মিত হয়েছিল বলে পরবর্তী খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যে যে দাবি রয়েছে, তার সঙ্গে এই আবিষ্কারের সম্পর্ক থাকতে পারে।   তবে বেথসাইদার অবস্থান নিয়ে বৈজ্ঞানিক বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। অন্য একটি প্রত্নতাত্ত্বিক দল দীর্ঘদিন ধরে কাছের এট-টেল এলাকাকেই প্রাচীন বেথসাইদা হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। সেখানে লৌহ যুগের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন নিদর্শন পাওয়া গেছে। ফলে এল-আরাজকে বেথসাইদা হিসেবে শনাক্ত করার দাবি এখনো প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার আলোচনার অংশ। এল-আরাজ খনন প্রকল্পের গবেষকেরা অবশ্য বলছেন, সময়ের সঙ্গে পাওয়া তথ্যগুলো একই দিকে ইঙ্গিত করছে। একাডেমিক পরিচালক স্টিভেন নটলির মতে, মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি নতুন নিদর্শন প্রাচীন বেথসাইদার সঙ্গে এল-আরাজের সম্পর্কের ধারণাকে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি এই স্থানকে গসপেল বা সুসমাচারে উল্লেখিত হারিয়ে যাওয়া শহরগুলোর অন্যতম শেষ নিদর্শন হিসেবে দেখছেন।   প্রত্নতাত্ত্বিক খননের এই ধারাবাহিকতা শুধু একটি হারিয়ে যাওয়া শহরের অবস্থান শনাক্ত করার প্রশ্নেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। এর মাধ্যমে যিশুর সময়ের গ্যালিলি অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন, অর্থনীতি, ধর্মীয় পরিবেশ এবং রোমান শাসনের প্রভাব সম্পর্কেও নতুন তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আরও খনন ও গবেষণার মাধ্যমে এল-আরাজের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে বিতর্ক আরও পরিষ্কার হবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ২২:৩২