সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

‘ট্রাম্প প্রশাসন আমাকে মেরে ফেলতে চায়’, বিস্ফোরক দাবি সাবেক সীমান্ত কমান্ডারের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৭:৫৪
‘ট্রাম্প প্রশাসন আমাকে মেরে ফেলতে চায়’, বিস্ফোরক দাবি সাবেক সীমান্ত কমান্ডারের
‘ট্রাম্প প্রশাসন আমাকে মেরে ফেলতে চায়’, বিস্ফোরক দাবি সাবেক সীমান্ত কমান্ডারের

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা ও সাবেক বর্ডার পেট্রোল কমান্ডার-অ্যাট-লার্জ গ্রেগরি বোভিনো দাবি করেছেন, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন তাকে হত্যা করতে চায়। রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও পডকাস্টার টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইতোমধ্যেই ২০ লাখেরও বেশি বার দেখা ওই সাক্ষাৎকারে বোভিনো বলেন, “তারা কি আমাকে মেরে ফেলতে চায়? অবশ্যই।” তবে হোয়াইট হাউস তার এই দাবিকে পুরোপুরি ‘হাস্যকর ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

৫৬ বছর বয়সী বোভিনো ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের অন্যতম বিতর্কিত মুখ ছিলেন। মিনেসোটায় পরিচালিত অভিযানের সময় তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপসহ বিভিন্ন আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের কারণে তীব্র আইনি পর্যালোচনার মুখে পড়েন।

 

গত জানুয়ারিতে মিনেসোটায় ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান এবং কয়েক মাস পর অবসরে যান।

 

এই ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে তাকে ‘একটু বেশিই চরমপন্থী স্বভাবের’ বলে মন্তব্য করেন এবং অভিবাসনে তুলনামূলক ‘নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রহণের আহ্বান জানান।

 

সাক্ষাৎকারে বোভিনো অভিযোগ করেন, সরকারি চাকরি ছাড়ার পরপরই তার নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, যদিও তিনি প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছিলেন। তার দাবি, তাকে ‘চিরতরে স্তব্ধ’ করে দেওয়ার অংশ হিসেবেই পরিকল্পিতভাবে নিরাপত্তা বাতিল করা হয়েছে।

 

তবে এই চক্রান্তের পেছনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি জড়িত নন উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের নীতি-নির্ধারকদের, বিশেষ করে ‘বর্ডার জার’ টম হোম্যানকে দায়ী করেন।

 

এর জবাবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিস জানান, বোভিনোর বক্তব্য সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং টম হোম্যান একজন দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা, যার সাবেক বা বর্তমান কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে নাক গলানোর কোনো সুযোগ নেই।

 

বোভিনো আরও দাবি করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরের একটি অংশ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যাপক হারে অভিবাসী বিতাড়নের বিরোধী এবং বাস্তবে এমন কোনো বড় অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না।

 

এছাড়া কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি দাবি করেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ অবৈধ অভিবাসী বাস করছেন—যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। তবে মার্কিন আদমশুমারি ও পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে মোট অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি এবং এর মধ্যে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লাখ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
৯/১১ হা মলার ২৫তম বার্ষিকীতে নিউইয়র্কের বদলে পেন্টাগনে  নি হতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন ট্রাম্প
৯/১১ হা মলার ২৫তম বার্ষিকীতে নিউইয়র্কের বদলে পেন্টাগনে নি হতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন ট্রাম্প

আগামী মাসে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিজ শহর নিউইয়র্কে যাচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরিবর্তে তিনি পেন্টাগনে আয়োজিত স্মরণসভায় যোগ দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।   শুক্রবার এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি জানান, "কারণ আমি পেন্টাগনে যাচ্ছি।" তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া ম্যানহাটন, পেন্টাগন এবং পেনসিলভেনিয়ার শ্যাংকসভিল—এই তিনটি ঘটনাস্থলেই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করবেন।   কুইন্সের বাসিন্দা ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বশেষ ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সাথে গ্রাউন্ড জিরোর স্মরণসভায় অংশ নিয়েছিলেন। গত বছর তিনি মূল অনুষ্ঠানে না গেলেও নিউইয়র্কে ইয়াঙ্কিস বনাম টাইগার্সের একটি বেসবল ম্যাচে উপস্থিত থেকে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন।   হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, "একজন গর্বিত নিউইয়র্কার হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৯/১১-এর ভয়াবহ স্মৃতি নিয়ে বারবার কথা বলেছেন। ২৫তম বার্ষিকীর এই শোকাবহ দিনে প্রেসিডেন্ট সেইসব নিহতদের স্মরণ করবেন, তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাবেন এবং উদ্ধারকর্মীদের বীরত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।"   নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে প্রথম ট্রাম্পের ম্যানহাটনের অনুষ্ঠানে না যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম মেয়াদেও ট্রাম্প ম্যানহাটনের অনুষ্ঠানে যাননি; বরং পেন্টাগন বা পেনসিলভেনিয়ার ফ্লাইট ৯৩ ন্যাশনাল মেমোরিয়ালে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন।   ২০২১ সালে তিনি নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সাথে দেখা করেছিলেন। তবে ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি ম্যানহাটনের স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন।   আগামী মাসের ম্যানহাটনের স্মরণসভায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশ ও সাবেক ফার্স্ট লেডি লরা বুশ উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৯:৬
ক্যালিফোর্নিয়ায় রোলারকোস্টারে চড়ে কোমায় তরুণী, সিক্স ফ্ল্যাগসের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ পরিবার

ক্যালিফোর্নিয়ায় রোলারকোস্টারে চড়ে কোমায় তরুণী, সিক্স ফ্ল্যাগসের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ পরিবার

ফ্লোরিডায় দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা-মেয়ে, সেখান থেকেই আইসিইর গ্রেপ্তার; ছাড়তে হলো যুক্তরাষ্ট্র I ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা-মেয়ে, সেখান থেকেই আইসিইর গ্রেপ্তার; ছাড়তে হলো যুক্তরাষ্ট্র

‘ট্রাম্প প্রশাসন আমাকে মেরে ফেলতে চায়’, বিস্ফোরক দাবি সাবেক সীমান্ত কমান্ডারের

‘ট্রাম্প প্রশাসন আমাকে মেরে ফেলতে চায়’, বিস্ফোরক দাবি সাবেক সীমান্ত কমান্ডারের

মার্কিন অভিবাসী ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত, কখন কাটবে অচলাবস্থা?
মার্কিন অভিবাসী ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত, কখন কাটবে অচলাবস্থা? জানুন ৩টি দৃশ্যপট

ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করেছে, যা তাদের অভিবাসন নীতির ওপর চলমান কড়াকড়িরই একটি অংশ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার এই পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সব দূতাবাসে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এই প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে সাক্ষাৎকারের পর্যায়ে পৌঁছানো ভিসা আবেদনগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে সমন্বয় করা হবে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, কর্মকর্তাদের দিয়ে আবেদনকারীদের সার্বিক ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন নিশ্চিত করতেই এই প্রশিক্ষণ।   বিশেষ করে অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে কি না, সেটি যাচাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কথা বলে প্রবেশাধিকার সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন, যার ফলে অবৈধ অভিবাসী বিতাড়ন, ভিসা বাতিল এবং আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।   ভিসা প্রক্রিয়ায় আরও বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর অনুযায়ী, যারা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, এমন প্রায় ২ লাখ মানুষের ভিসা বাতিল করার পরিকল্পনা করছে প্রশাসন। এটি বাস্তবায়িত হলে তা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গণ-ভিসা বাতিলের ঘটনা।   তবে প্রশাসনের এসব কঠোর নীতি ও অভিবাসন বিরোধী পদক্ষেপ ক্রমাগত আইনি বাধার মুখে পড়ছে। সম্প্রতি মার্কিন জেলা জজ জ্যানেট ভারগাস রাশিয়া ও আফগানিস্তানসহ ৭৫টি দেশের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করার একটি সরকারি নীতি বাতিল করেছেন।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেওয়া ওই সিদ্ধান্তকে তিনি 'আইন পরিপন্থী এবং বিধিবদ্ধ ক্ষমতার অপব্যবহার' বলে আখ্যায়িত করেন। ফলে মার্কিন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিতের বর্তমান সিদ্ধান্তটিও ভবিষ্যতে আইনি বাধার সম্মুখীন হতে পারে।   চলমান এই ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিতাদেশ কবে নাগাদ শেষ হতে পারে, সে সম্পর্কে তিনটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট সামনে এসেছে। প্রথমত, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিজেই এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করতে পারে। এটি সবচেয়ে সহজ সমাধান, অর্থাৎ প্রশিক্ষণ শেষ হলেই ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে পারে। পররাষ্ট্র দপ্তর এই অবস্থাকে সাময়িক এবং বিশ্বব্যাপী চলমান প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।   প্রশিক্ষণ কতদিন চলবে তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে এটি নিছকই একটি সাময়িক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ হলে, নীতিগত বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই দ্রুতই সমস্যার সমাধান হতে পারে। দ্বিতীয় দৃশ্যপটটি হলো আদালতের হস্তক্ষেপ।   এই স্থগিতাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হতে পারে এবং বিচারক পররাষ্ট্র দপ্তরকে ফের ভিসা সাক্ষাৎকার শুরুর নির্দেশ দিতে পারেন। কারণ, প্রশাসন এটিকে সাময়িক বললেও দীর্ঘমেয়াদী ব্যাঘাত আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত অভিবাসন ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করার সমতুল্য হতে পারে।   এর আগে ৭৫টি দেশের ভিসা বাতিলের বিষয়ে বিচারক ভারগাস এবং বিচারক অমিত মেহতার রায় প্রমাণ করে যে, দীর্ঘমেয়াদী স্থগিতাদেশ যোগ্য আবেদনকারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করলে আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে।   তৃতীয় সম্ভাব্য দৃশ্যপট হিসেবে কংগ্রেসের হস্তক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে। মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থা মূলত কংগ্রেসের তৈরি। ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ বিলম্ব দেখা দিলে কংগ্রেস নতুন আইন পাস করে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে। তবে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে নতুন কোনো আইন পাসের সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।   অন্যদিকে, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিকভাবে অভিবাসন এবং ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাহী বিভাগকে যথেষ্ট স্বাধীনতা দিয়ে এসেছে। যেমন ১৯৭২ সালের 'ক্লাইনডিনস্ট বনাম ম্যান্ডেল', ২০১৫ সালের 'কেরি বনাম ডিন' এবং ২০১৮ সালের 'ট্রাম্প বনাম হাওয়াই' মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতির স্বার্থে প্রেসিডেন্টের বিদেশিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার ক্ষমতাকে সমর্থন করেছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত কী সমাধান আসে, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৬:৩১
মার্কিন শেয়ারবাজারে আসছে গাঁজা কোম্পানি, তালিকাভুক্তি নিয়ে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের লড়াই

মার্কিন শেয়ারবাজারে আসছে গাঁজা কোম্পানি, তালিকাভুক্তি নিয়ে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের লড়াই

নিউইয়র্কে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়িতে সংঘর্ষ ঘটিয়ে বীমার লাখো ডলার হাতানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ জন

নিউইয়র্কে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়িতে সংঘর্ষ ঘটিয়ে বীমার লাখো ডলার হাতানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ জন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক শিক্ষিকা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক শিক্ষিকা

মার্কিন নাগরিক পরিচয় দিয়ে ভোটার নিবন্ধনের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্রেপ্তার আইসিই-বিরোধী আন্দোলনকারী
মার্কিন নাগরিক পরিচয় দিয়ে ভোটার নিবন্ধনের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্রেপ্তার আইসিই-বিরোধী আন্দোলনকারী

ক্যালিফোর্নিয়ায় সম্ভাব্য নির্বাচন জালিয়াতি প্রতিরোধে শুরু হওয়া অভিযানের অংশ হিসেবে ডারউইন জোনাথন রিভেরা ফ্লোরেস (৩০) নামের হন্ডুরাসের এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এজেন্টরা। আইসিই (ICE)-বিরোধী এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আগেই পরিচিতি পাওয়া এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিক হিসেবে মিথ্যা দাবি করে ভোটার নিবন্ধন ফরম পূরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেসের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসাইলি জানান, শুক্রবার সকালে ভেনচুরার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে থেকে রিভেরা ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করা হয়।   তিনি আরও বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে অনাগরিকদের পক্ষে সহজেই ভোটার হওয়া এবং ডাকযোগে ব্যালট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে ঠিক কতজন অনাগরিক ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত আছেন, তা বলা কঠিন।   যুক্তরাষ্ট্রে আইনত স্থায়ী বাসিন্দা হলেও নাগরিকত্ব না থাকা রিভেরা ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তারের এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন লস অ্যাঞ্জেলেসে সম্ভাব্য নির্বাচন জালিয়াতির একাধিক মামলা তদন্ত করছে ফেডারেল এজেন্টরা।   এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে ক্যামারিলোতে আইসিই-বিরোধী এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ফেডারেল ভবনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে রিভেরাকে এক বছরের প্রবেশনে রাখা হয়েছিল।   পরবর্তীতে এপ্রিলে এক ফেডারেল এজেন্টকে অপমানজনক টেক্সট মেসেজ পাঠানোর পাশাপাশি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।   তদন্তে নেমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উইসকনসিনের ঠিকানায় "ডারউইন রিভেরা" নামে একটি অনলাইন ভোটার নিবন্ধনের রেকর্ড এবং তার স্বাক্ষরযুক্ত একটি আবেদনপত্র উদ্ধার করে।   ওই ফর্মে তিনি মার্কিন নাগরিক হিসেবে নিজেকে দাবি করেন এবং পরিচয়পত্র হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করেন। তবে তার নাগরিকত্ব চাওয়া বা পাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, এমনকি তিনি কোনো নির্বাচনে ভোটও দেননি।   ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসাইলির মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার শিথিল ভোটার নিবন্ধন আইন এ ধরনের জালিয়াতিকে উৎসাহিত করে। অঙ্গরাজ্যটি ফেডারেল সরকারের সাথে ভোটার তালিকা শেয়ার না করায় নিবন্ধিত ব্যক্তিরা সত্যিই মার্কিন নাগরিক কি না, তা যাচাই করা কর্তৃপক্ষের পক্ষে সম্ভব হয় না। তবে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে হলে প্রত্যেককে শপথের অধীনে নিশ্চিত করতে হয় যে তিনি মার্কিন নাগরিক।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৩:১৭
যুক্তরাষ্ট্রে স্ন্যাপ কার্ড নিয়ে বড় পরিবর্তন, জানুন সর্বশেষ ৩ আপডেট

যুক্তরাষ্ট্রে স্ন্যাপ কার্ড নিয়ে বড় পরিবর্তন, জানুন সর্বশেষ ৩ আপডেট

নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলে নিয়োগ চলছে

ডিগ্রি ছাড়াই স্কুলে চাকরি! নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলে নিয়োগ চলছে

হঠাৎ বাড়ির ছাদে উঠে গেল এসইউভি

হঠাৎ বাড়ির ছাদে উঠে গেল এসইউভি, নিহত ৭৮ বছরের বৃদ্ধ

0 Comments