চুলে ক্লিপ পরে গাড়িতে যাতায়াত, দুর্ঘটনার সময় এটি মাথার খুলি পর্যন্ত ঢুকে যেতে পারে
গাড়িতে ওঠার সময় চুল বাঁধার জনপ্রিয় ক্লিপ ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করেছেন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাদের মতে, গাড়ি দুর্ঘটনার সময় মাথা পেছনের দিকে জোরে ধাক্কা খেলে শক্ত ধরনের দাঁতযুক্ত চুলের ক্লিপ মাথার ত্বকে ঢুকে গুরুতর আঘাতের কারণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ক্লিপটি মাথার ত্বকে আটকে গিয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের প্রয়োজনও হতে পারে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থ্রেডসে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সদের নিয়ে একটি আলোচনায় দৈনন্দিন জীবনের কোন কোন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ তারা নিজেরা এড়িয়ে চলেন, তা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে মোটরসাইকেল চালানো, নিরাপত্তা জাল ছাড়া ট্রাম্পোলিন ব্যবহার এবং দ্রুতগতিতে বৈদ্যুতিক স্কুটার চালানোর মতো বিষয় উঠে আসে। এর পাশাপাশি গাড়িতে চুলের ক্লিপ পরে থাকার বিষয়টিও চিকিৎসকদের আলোচনায় আসে।
বিশেষ করে পেছনের দিকে বড় দাঁতযুক্ত চুলের ক্লিপ পরে গাড়িতে বসার ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন তারা। এসব ক্লিপ সাধারণত মাথার পেছনে এমন জায়গায় থাকে, যেখানে গাড়ি দুর্ঘটনার সময় মাথা সিট বা হেডরেস্টের দিকে জোরে ধাক্কা খেতে পারে।
চিকিৎসক ডোরিয়ান ও'লিয়ারি এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিওর বর্ণনায় বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার সময় মাথা জোরে পেছনের দিকে চলে গেলে ধাতব চুলের ক্লিপ মাথা, ঘাড় ও মাথার ত্বরে আঘাত করতে পারে। তার মতে, ক্লিপ মাথার ত্বকে ঢুকে যেতে পারে, কেটে যাওয়ার মতো ক্ষত তৈরি করতে পারে এবং পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি বের করতে হতে পারে।
একজন অবসরপ্রাপ্ত নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের নার্সও একই ধরনের সতর্কতা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, গাড়ি দুর্ঘটনার সময় শক্ত ক্লিপ মাথার ভেতর পর্যন্ত ঢুকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। একজন মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানকারীও জানান, তিনি গাড়ি চালানোর সময় কখনো এ ধরনের ক্লিপ পরবেন না।
চুলের এই ক্লিপের জনপ্রিয়তা অবশ্য নতুন নয়। ১৯৮০-এর দশক থেকেই চুল দ্রুত গুছিয়ে রাখার জন্য এ ধরনের ক্লিপ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুরোনো ফ্যাশনের পুনরুত্থান এবং ওয়াই-টু-কে ধাঁচের পোশাক ও সাজসজ্জার জনপ্রিয়তার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও এটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। অভিনেত্রী ও মডেল হেইলি বিবার এবং কেন্ডাল জেনারকেও এ ধরনের ক্লিপ ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
তবে গাড়িতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঝুঁকির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। কারণ দুর্ঘটনার সময় শরীরের সঙ্গে গাড়ির ভেতরের শক্ত কোনো বস্তু আটকে গেলে সেটি অতিরিক্ত আঘাতের কারণ হতে পারে।
এর বাস্তব উদাহরণও রয়েছে। ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের ১৯ বছর বয়সী জিনা পানেসার গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। ডার্বিশায়ারে গাড়ি চালানোর সময় তার গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। তখন তার চুলে একটি দাঁতযুক্ত ক্লিপ লাগানো ছিল। সংঘর্ষের সময় ক্লিপটি মাথার পেছনে ঢুকে যায়। পরে হাসপাতালে সেটি অপসারণ করা হয়। দুর্ঘটনায় তার মাথা থেকে ভ্রু পর্যন্ত প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ ক্ষত তৈরি হয়েছিল।
পানেসার পরে অন্য গাড়িচালকদেরও গাড়িতে ওঠার আগে এ ধরনের ক্লিপ খুলে ফেলার পরামর্শ দেন। চুল বাঁধার প্রয়োজন হলে তিনি রাবারের ব্যান্ড ব্যবহারের কথা বলেন। তার নিজের অভিজ্ঞতা ছিল, দুর্ঘটনার সময় ক্লিপটি মাথার পেছনে আটকে যাওয়ার পর তিনি গুরুতর বিপদের আশঙ্কা করেছিলেন।
চীনের সিচুয়ান প্রদেশেও এ ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক নারী গাড়ি দুর্ঘটনার পর মাথার ত্বকে দাঁতযুক্ত চুলের ক্লিপ আটকে যাওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসকেরা প্রায় ১০ মিনিটের চেষ্টায় সেটি বের করেন। চিকিৎসক তিয়ান ফেংমিং জানিয়েছিলেন, ক্লিপটি মাথার খুলিতে পৌঁছে গেলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা অন্য জটিলতা ঠেকাতে নিউরোসার্জারির প্রয়োজন হতে পারত।
তবে এ বিষয়ে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। চুলের ক্লিপ ব্যবহার করলেই গুরুতর আঘাত হবে, এমন নয়। চিকিৎসকদের সতর্কতার মূল বিষয় হলো গাড়ি দুর্ঘটনার মতো উচ্চঝুঁকির পরিস্থিতিতে মাথার পেছনে শক্ত কোনো বস্তু থাকা। জরুরি চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও ঝুঁকির মাত্রা নিয়ে কিছুটা মতভেদ রয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এ ধরনের আঘাত সম্ভব হলেও তা তুলনামূলকভাবে বিরল এবং গাড়ির দুর্ঘটনায় আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করে অন্য কারণগুলো, যেমন নিরাপত্তাহীন বস্তু বা মনোযোগের ঘাটতি।
তাই গাড়ি চালানোর সময় বা যাত্রার ক্ষেত্রে চুলের পেছনে শক্ত ও বড় ক্লিপ ব্যবহার না করাই নিরাপদ বলে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চুল বাঁধার প্রয়োজন হলে তুলনামূলক নরম রাবার ব্যান্ড বা এমন কোনো উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে, যা মাথার পেছনে শক্তভাবে বেরিয়ে থাকে না।
দৈনন্দিন ব্যবহারের একটি সাধারণ ফ্যাশন সামগ্রী কীভাবে দুর্ঘটনার সময় অতিরিক্ত আঘাতের কারণ হতে পারে, সাম্প্রতিক এই আলোচনা সেটিই সামনে এনেছে। বিশেষ করে গাড়িতে দীর্ঘ সময় যাতায়াত করা ব্যক্তিদের জন্য চুলের সাজসজ্জার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, চ্যানেল নিউজএশিয়া, ৭নিউজ ও দ্য স্ট্যান্ডার্ড।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
লাইফস্টাইল
View moreচুল পড়া কমিয়ে নতুন চুল গজানো কিংবা চুল আরও ঘন করার আশায় অনেকেই দামি শ্যাম্পু, সিরাম, ভেষজ তেল ও বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট কিনছেন। এসব পণ্যের বিজ্ঞাপনে আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি থাকলেও সবগুলোর কার্যকারিতার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু পণ্য চুলকে নরম, চকচকে ও তুলনামূলক ঘন দেখাতে সাহায্য করলেও সেগুলো নতুন চুল গজায়—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। তাই চুলের যত্নে অর্থ ব্যয়ের আগে কোন পণ্য কী কাজে লাগে, তা জানা জরুরি। প্রসাধনবিষয়ক রসায়নবিদ পেরি রোমানোস্কির মতে, বাজারে চুল গজানোর দাবি করা অনেক পণ্যের উপাদান চুলের ফলিকলে কার্যকর প্রভাব ফেলে কি না, তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। চুলের গোড়া বা ফলিকল মাথার ত্বকের ভেতরে থাকে। কোনো উপাদানকে সেখানে পৌঁছে কার্যকর হতে হলে মাথার ত্বকে যথেষ্ট সময় থাকতে হবে, ত্বকের বাধা পেরোতে হবে এবং কার্যকর অবস্থায় লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। ফলে পণ্যের গায়ে আকর্ষণীয় উপাদানের নাম থাকলেই সেটি চুল গজাবে, এমন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল ঘন করার আশায় কেনার আগে পাঁচ ধরনের পণ্যের কার্যকারিতা নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত। ১. চুল গজানোর দাবি করা শ্যাম্পু ক্যাফেইন, পেপটাইড ও বিভিন্ন বিশেষ উপাদানযুক্ত শ্যাম্পু চুলের গোড়াকে সক্রিয় করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করার দাবি করে। কিন্তু এসব উপাদানের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। কিছু গবেষণার ফল প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, আবার কিছু গবেষণা পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। প্রসাধনবিষয়ক রসায়নবিদ কেলি ডোবসের মতে, শ্যাম্পু মাথায় বেশিক্ষণ থাকে না। ব্যবহারের অল্প সময় পরই তা ধুয়ে ফেলা হয়। ফলে এর উপাদান দীর্ঘ সময় ধরে মাথার ত্বকে কাজ করার সুযোগ পায় না। তবে ভালো শ্যাম্পু মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে এবং চুলের তন্তু মজবুত করতে সাহায্য করতে পারে। এতে চুল ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। কিন্তু শুধু শ্যাম্পু দিয়ে নতুন চুল গজানোর প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। ২. উচ্চমাত্রার বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট চুলের যত্নে বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭ বেশ জনপ্রিয়। অনেক সাপ্লিমেন্টে দৈনিক ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার মাইক্রোগ্রাম বায়োটিন থাকে। অথচ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত প্রস্তাবিত দৈনিক গ্রহণের পরিমাণ ৩০ মাইক্রোগ্রাম। ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট চুল গজাতে উপকারী—এমন গবেষণালব্ধ প্রমাণ নেই। আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজির তথ্য অনুযায়ী, বায়োটিনের ঘাটতিও বিরল। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রোন্ডা এস ফারাহ সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত মাত্রার বায়োটিন ক্ষতিকর হতে পারে এবং কিছু পরীক্ষাগারের পরীক্ষার ফলকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে কারও শরীরে বায়োটিনের ঘাটতি নিশ্চিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাত্রা গ্রহণ করা যেতে পারে। ঘাটতি না জেনে বেশি মাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের প্রয়োজন নেই। ৩. ক্যাস্টর অয়েল ও বাতানা তেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাস্টর অয়েল ও বাতানা তেলকে চুল গজানোর কার্যকর উপায় হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু এসব তেল নতুন চুল গজায়—এমন নির্ভরযোগ্য ক্লিনিক্যাল প্রমাণ নেই। কেলি ডোবসের মতে, ক্যাস্টর অয়েল চুলকে নরম রাখতে এবং চুলের ঘর্ষণজনিত ক্ষতি ও ভাঙন কমাতে সাহায্য করতে পারে। বাতানা তেলও চুলের পরিচর্যায় কন্ডিশনিং উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে চুল দেখতে কিছুটা ঘন, চকচকে ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল লাগতে পারে। তবে চুল ভেঙে যাওয়া কমা আর নতুন চুল গজানো এক বিষয় নয়। তাই শুধু এসব তেল ব্যবহার করে চুল পড়ার মূল কারণ দূর হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। ৪. চালের পানি চাল ভেজানো বা রান্নার পর পাওয়া শ্বেতসারযুক্ত পানিকে চুল লম্বা ও ঘন করার প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি নিয়ে নানা ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়। কিন্তু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রোন্ডা এস ফারাহর মতে, চালের পানি চুল গজাতে সাহায্য করে—এমন ভালো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এটি চুলের পরিচর্যায় কিছুটা সহায়ক হতে পারে বলে প্রচার করা হলেও এর শ্বেতসার চুলে জমে শুষ্কতা তৈরি করতে পারে। একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো মাথার ত্বকের সমস্যা থাকলে অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। তাই বোতলজাত চালের পানির স্প্রে কেনার আগে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা রাখা প্রয়োজন। ৫. প্রাকৃতিক ডিএইচটি ব্লকার পুরুষদের বংশগতভাবে চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ডিএইচটি নামের হরমোন। ফিনাস্টেরাইড নামের ওষুধ এই হরমোনের কার্যক্রমে বাধা দিতে পারে। এ কারণে রেড ক্লোভার ও বারডকের মতো উদ্ভিজ্জ উপাদানযুক্ত পণ্যও একই কাজ করতে পারে বলে প্রচার করা হয়। তবে নিউইয়র্কের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সেজাল শাহের মতে, বারডক ডিএইচটি কমিয়ে চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করে—এমন অর্থবহ প্রমাণ মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণায় খুবই সীমিত। তাই এসব ভেষজ উপাদানকে চুল পড়ার স্বতন্ত্র সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। নারীদের চুল পড়ার ক্ষেত্রে ডিএইচটির ভূমিকা কতটা, তা নিয়েও বিজ্ঞানীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কোন পণ্যগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ধরনের বংশগত চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশ মিনোক্সিডিল অন্যতম গবেষণাসমর্থিত ওষুধবিহীন বিকল্প। একটি ৪৮ সপ্তাহের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় পাঁচ শতাংশ মিনোক্সিডিল ব্যবহারকারীদের চুল পুনরায় গজানোর হার দুই শতাংশ ব্যবহারকারীদের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি ছিল। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে একই ফল দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। খুশকিবিরোধী শ্যাম্পু মাথার ত্বকের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। রোজমেরি তেল নিয়েও একটি গবেষণায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে, যদিও গবেষণাটির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিছু সিরাম চুলের ঘনত্ব ও চেহারায় উন্নতি আনতে পারে বলে পরীক্ষায় দেখা গেছে। আবার ২০২২ সালে প্রকাশিত ৩০টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় ভিভিস্কাল ও নুট্রাফলের মতো কিছু সাপ্লিমেন্ট নিষ্ক্রিয় উপাদানের তুলনায় ভালো ফল দেখিয়েছে। তবে এসব গবেষণার অধিকাংশে সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন ছিল। চুল পড়ার কারণ না জেনে একের পর এক পণ্য কেনার পরিবর্তে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। ভিটামিনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার মতো রোগের কারণে চুল পড়তে পারে। সঠিক রোগনির্ণয়ের পর চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা বা পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। এতে অকারণে অর্থ ব্যয় এড়ানো এবং সমস্যার উপযুক্ত সমাধান খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।
স্মার্টফোন ছাড়া জীবন কেমন, বদলে যেতে পারে আপনার প্রতিদিনের অভ্যাস
দুই সপ্তাহ কফি না খেয়ে শরীরের ভেতরে কী কী পরিবর্তন হয়, জানাল নতুন গবেষণা
১৪ বছর পর প্রথম মাংস খেয়েই “এত মজা!” বলে কেঁদে ফেললেন নিরামিষভোজী নারী
ব্রণকে সাধারণত কৈশোরের সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বয়স বাড়ার পরও অনেকের মুখে ব্রণ দেখা দিতে পারে। কারও ক্ষেত্রে কৈশোরের ব্রণ প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও থেকে যায়, আবার কারও ত্বকে নতুন করে ব্রণ দেখা দেয়। মুখের পাশাপাশি বুক, কাঁধ ও পিঠেও হতে পারে এই সমস্যা। সঠিক চিকিৎসা না নিলে ব্রণ থেকে ত্বকে কালচে দাগ ও স্থায়ী ক্ষত তৈরি হতে পারে। ফিলিপাইনে বসবাসকারী বিপণনকর্মী ও কনটেন্ট নির্মাতা গিলিয়ান মেগান মন্টালবোর অভিজ্ঞতা এর একটি উদাহরণ। কৈশোরে তাঁর কপাল ও নাকে অল্প কয়েকটি ব্রণ উঠত। তখন সমস্যা তেমন গুরুতর ছিল না। কিন্তু কর্মজীবনে প্রবেশের পর ব্রণ আবার দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে বেড়ে যায়। গাল ও থুতনিতে ব্রণ হওয়ায় তিনি কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চোখের দিকে তাকাতেও অস্বস্তি বোধ করতেন। মন্টালবোর ভাষায়, এই সমস্যা তাঁর আত্মবিশ্বাস ও নিজের প্রতি ইতিবাচক ধারণার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। পরে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন তিনি। প্রায় এক বছরের মধ্যে তাঁর ব্রণ অনেকটাই সেরে যায়। তবে ত্বকে থেকে যাওয়া দাগ নিয়ে তাঁকে আরও কিছুদিন ভুগতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ একটি পরিচিত সমস্যা। এ নিয়ে লজ্জা পাওয়া বা একা একা কষ্ট সহ্য করার প্রয়োজন নেই। ব্রণের ধরন ও কারণ বুঝে চিকিৎসা নিলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস স্কুল অব মেডিসিনের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও এথনিক স্কিন প্রোগ্রামের পরিচালক ডা. ক্রিস্টাল আগুহ বলেন, ব্রণের কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে চিকিৎসকদের যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে। তাই দীর্ঘদিন ব্রণের সমস্যায় ভুগলে একা কষ্ট না পেয়ে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত। প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণের কারণ কী? ত্বকের ক্ষুদ্র রন্ধ্র তেল, মৃত কোষ ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে বন্ধ হয়ে গেলে ব্রণ তৈরি হতে পারে। সাধারণ ছোট ব্রণ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে কমে যেতে পারে। কিন্তু বারবার ব্রণ উঠতে থাকলে, দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে কিংবা ত্বকের রং ও গঠনে পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কৈশোরে সাধারণত কপাল, নাক ও গালে ব্রণ বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্রণ চোয়ালের রেখা ও থুতনির আশপাশে বেশি দেখা যেতে পারে। স্টেরয়েডজাতীয় কিছু ওষুধ ব্যবহারের কারণেও কারও কারও ব্রণ হতে পারে। ব্রণের পেছনে বংশগত বৈশিষ্ট্য, হরমোন, পরিবেশ এবং খাদ্যাভ্যাসের মতো একাধিক বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে কারণ এক নয়। মুখ ও শরীরের অন্য অংশে ব্রণ তৈরির প্রক্রিয়ায় মিল থাকলেও শরীরের ব্রণের ক্ষেত্রে ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা কখনো কখনো বেশি হতে পারে। ব্রণ দেখতে একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়। কিছু ব্রণ ছোট, সাদা ও ব্যথাহীন দানার মতো দেখা যায়। আবার কিছু ব্রণ লাল, ফুলে থাকা ও ব্যথাযুক্ত হতে পারে। ত্বকের গভীরে তৈরি হওয়া বড় ও যন্ত্রণাদায়ক গুটিকে সিস্টিক ব্রণ বলা হয়। ব্রণের ধরন বুঝে চিকিৎসা নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্রণের চিকিৎসায় কী কী উপায় রয়েছে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রণের চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার তীব্রতা, কারণ এবং ত্বকের অবস্থার ওপর। হালকা ব্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইড, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড কিংবা অ্যাডাপালিনের মতো উপাদানযুক্ত ফেসওয়াশ বা ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। এসব উপাদান ত্বকের রন্ধ্র পরিষ্কার রাখতে এবং ব্রণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। ব্রণ বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক বা ট্রেটিনয়েনজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হতে পারে। গুরুতর সিস্টিক ব্রণ কিংবা অন্য চিকিৎসায় কাজ না হলে আইসোট্রেটিনয়েনের মতো ওষুধ বিবেচনা করা হয়। তবে এসব ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা রয়েছে। তাই নিজে থেকে ওষুধ শুরু না করে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। নারীদের হরমোনজনিত ব্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসাপদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি কিংবা স্পাইরোনোল্যাকটোনের মতো ওষুধ দিতে পারেন। কোন চিকিৎসা উপযুক্ত হবে, তা ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করতে হয়। কখনো কখনো দ্রুত কোনো নির্দিষ্ট ব্রণের ফোলা ও প্রদাহ কমাতে চিকিৎসকেরা কর্টিসোন ইনজেকশন ব্যবহার করেন। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার বিকল্প নয়। ব্রণ থেকে বের হওয়া তরল শোষণ করতে হাইড্রোকলয়েডযুক্ত প্যাচও ব্যবহার করা হয়। এসব প্যাচ ব্রণ খোঁচানো থেকে বিরত থাকতেও সাহায্য করতে পারে। তবে সব ধরনের ব্রণের জন্য এগুলো উপযুক্ত নয়। ত্বকে দাগ বা অন্য সমস্যা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ব্রণ খোঁচানো কেন ক্ষতিকর ব্রণ উঠলে অনেকেই তা নখ দিয়ে খুঁটতে বা চেপে বের করতে চান। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ফাইন ডার্মাটোলজির প্রতিষ্ঠাতা ডা. লরেন ফাইন বলেন, ব্রণ খোঁচানো বা চেপে ধরলে সমস্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে ত্বকের প্রদাহ আরও গভীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি নতুন ব্রণ তৈরি হওয়া, কালচে দাগ পড়া এবং স্থায়ী ক্ষতের ঝুঁকিও বাড়ে। গাঢ় ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে প্রদাহের পর অতিরিক্ত রঞ্জক পদার্থ তৈরি হওয়ায় দাগ দূর হতে বেশি সময় লাগতে পারে। ব্রণ সেরে যাওয়ার পরও ত্বকে দাগ থেকে যেতে পারে। এ ধরনের দাগ কমাতে গ্লাইকোলিক অ্যাসিডযুক্ত কিছু ত্বক পরিচর্যার পণ্য সহায়ক হতে পারে। অ্যাডাপালিন ও রেটিনলযুক্ত পণ্যও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে। তবে গভীর বা গুরুতর ক্ষতের জন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ লেজারের মতো চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন। চিকিৎসা শুরু করার পর ফল পেতে সময় লাগতে পারে। নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের শুরুতে কারও কারও ব্রণ সাময়িকভাবে বেড়ে যাওয়ার মতো পরিবর্তনও দেখা যায়। তাই ত্বকের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং সমস্যা বাড়লে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকের যত্নের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও জরুরি মন্টালবোর অভিজ্ঞতা দেখায়, ব্রণের প্রভাব শুধু ত্বকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর বাবা নিজেও ব্রণের সমস্যায় ভুগেছিলেন। তিনিই তাঁকে চিকিৎসকের কাছে যেতে এবং উপযুক্ত পণ্য খুঁজে নিতে উৎসাহিত করেন। কঠিন সময়ে এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সমর্থনও তাঁকে সাহস জুগিয়েছিল। মন্টালবো জানান, ব্রণের সমস্যা যখন সবচেয়ে বেশি ছিল, তখন ওই বন্ধু তাঁর সঙ্গে বিদেশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। একসময় বন্ধু তাঁকে জানান, তাঁর মুখের ব্রণ কখনো খেয়ালই করেননি। এই অভিজ্ঞতা মন্টালবোকে বুঝতে সাহায্য করে, অন্যের কাছে একজন মানুষের চেহারার চেয়ে তাঁর আচরণ ও ব্যক্তিত্ব অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ব্রণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে কিংবা ত্বকে কালচে দাগ ও ক্ষত তৈরি করলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক চিকিৎসা, ধৈর্য এবং কাছের মানুষের সহযোগিতা এই সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নিউইয়র্কের বিরিয়ানি সম্রাট খলিল: ঢাবিতে গণিতে মাস্টার্স, আজ ৬ রেস্টুরেন্টের মালিক
মেয়ের বিয়েতে বাবাকে দেখে ভাই ভাবলেন অনেকে, তারুণ্য ধরে রাখার রহস্য জানালেন বাবা
পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, বলছে গবেষণা
১০০ বছর বা তার বেশি বয়স পর্যন্ত সুস্থভাবে বেঁচে থাকা মানুষের জীবনযাপন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছে। বিশ্বের বিভিন্ন ‘ব্লু জোন’ হিসেবে পরিচিত এলাকায় তুলনামূলক বেশি সংখ্যক দীর্ঘায়ু মানুষের বসবাস। ইতালির সার্দিনিয়া, জাপানের ওকিনাওয়ার মতো এসব অঞ্চলের মানুষের খাবার, পানীয় ও দৈনন্দিন অভ্যাস নিয়ে গবেষকরা দীর্ঘায়ুর সম্ভাব্য কারণ খুঁজে দেখছেন। দীর্ঘায়ু গবেষক ড্যান বুয়েটনার সম্প্রতি এমন তিনটি পানীয়ের কথা তুলে ধরেছেন, যেগুলো ব্লু জোনের মানুষের মধ্যে নিয়মিত পান করার অভ্যাস দেখা যায়। এগুলো হলো পানি, চিনি ছাড়া কালো কফি এবং অল্প পরিমাণ রেড ওয়াইন। তবে এসব পানীয়ের সঙ্গে দীর্ঘায়ুর সম্পর্ক থাকলেও কোনো একটি পানীয় খেলেই ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকা নিশ্চিত হয়—এমন দাবি করার মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বুয়েটনারের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে পানি। তার মতে, দীর্ঘ জীবন ও সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পানীয় হলো পানি। ব্লু জোনের বাসিন্দারা সাধারণত দিনে কয়েক গ্লাস পানি পান করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। পর্যাপ্ত পানি পান শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের একটি গবেষণাতেও ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ১১ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্কের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, ভালোভাবে হাইড্রেটেড থাকা মানুষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী রোগ ও অকাল মৃ ত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলক কম ছিল। তবে গবেষণাটি কারণ ও ফলাফলের সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণ করেনি। ব্লু জোনের খাবার ও পানীয় নিয়ে প্রকাশিত নির্দেশনাতেও পানিকে প্রধান পানীয় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে কফি, চা, পানি ও ওয়াইনের উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় পানীয় কালো কফি। বুয়েটনারের মতে, চিনি বা অতিরিক্ত ক্রিম ছাড়া দিনে এক থেকে দুই কাপ কফি পান করা দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তিনি দিনের প্রথম ভাগেই কফি পান শেষ করার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ক্যাফেইনের কারণে রাতে ঘুমের সমস্যা কম হয়। কফিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনলের মতো উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় নিয়মিত কফি পান এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও কিছু স্নায়বিক রোগের তুলনামূলক কম ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক দেখা গেছে। তবে কফি সবার জন্য একইভাবে উপকারী—এমন নিশ্চয়তা নেই। অতিরিক্ত ক্যাফেইন উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। তৃতীয় পানীয় হিসেবে বুয়েটনার উল্লেখ করেছেন রেড ওয়াইনের কথা। সার্দিনিয়ার মতো কিছু ব্লু জোন এলাকায় মানুষ খাবারের সঙ্গে অল্প পরিমাণ রেড ওয়াইন পান করেন বলে তিনি জানান। রেড ওয়াইনে রেসভেরাট্রল ও ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে, যেগুলো হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে এই অংশটিই সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত। বুয়েটনার নিজেও স্বীকার করেছেন যে দীর্ঘায়ুর সঙ্গে রেড ওয়াইনের সম্পর্ক নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। কারণ অ্যালকোহল পান করার সঙ্গে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রের সার্জন জেনারেলের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অ্যালকোহল পান অন্তত সাত ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এর মধ্যে স্তন, কোলোরেক্টাল, খাদ্যনালি, স্বরযন্ত্র, যকৃৎ, মুখ ও গলার ক্যানসার রয়েছে। এ কারণে রেড ওয়াইনের কথাকে দীর্ঘায়ুর পরামর্শ হিসেবে সরাসরি নেওয়া ঠিক হবে না। যারা অ্যালকোহল পান করেন না, শুধু দীর্ঘায়ুর আশায় তাদের শুরু করারও কারণ নেই। বিশেষ করে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ব্লু জোনের মানুষের দীর্ঘায়ু শুধু তিনটি পানীয়ের ওপর নির্ভর করে না। তাদের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা, সামাজিক যোগাযোগ এবং জীবনযাপনের ধরনও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই পানি ও পরিমিত কফির মতো অভ্যাস স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে, কিন্তু এগুলোকে দীর্ঘ জীবনের একক সূত্র হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। সব মিলিয়ে, দীর্ঘায়ু নিয়ে গবেষণায় পানীয়ের ভূমিকা নিয়ে আগ্রহ থাকলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সামগ্রিক জীবনযাপন। পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং ভালো ঘুম—দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য এসব অভ্যাসের গুরুত্বই বেশি।
থ্যাংকসগিভিং ও বড়দিনের ছুটিতে সস্তায় বিমান টিকিট পেতে কখন বুক করবেন
দীর্ঘ ছয় মাস পর ঘরে ফিরে বিছানায় দেখতে পান শতাধিক ‘ডিম’! হতবাক ব্যক্তি