সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
দুর্ঘটনায় হাত হারানোর পর অঙ্গদানের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা শ্রেয়া সিদ্ধানাগৌড়া। ছবি: সংগৃহীত
অন্য ছেলের হাত বসেছিল শরীরে, বদলে গেল চামড়ার রংও! যেন নিজেরই হাত ফিরে পেলেন তরুণী

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় দুই হাত হারিয়েছিলেন ভারতের শ্রেয়া সিদ্ধানাগৌড়া। ২০১৬ সালের ওই দুর্ঘটনায় বাস উল্টে তার দুই হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে কনুইয়ের নিচ থেকে দুই হাতই কেটে ফেলতে হয়। কিন্তু এক বছর পর অঙ্গদানের এক মানবিক সিদ্ধান্ত এবং চিকিৎসকদের অসাধারণ প্রচেষ্টায় আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পান তিনি।    ২০১৭ সালে কেরালার কোচির অমৃতা হাসপাতালে শ্রেয়ার দুই হাতে প্রতিস্থাপন করা হয় একজন পুরুষের দান করা হাত। ১৩ ঘণ্টার এই জটিল অস্ত্রোপচারটি ছিল এশিয়ায় প্রথম সফল ডাবল আপার-আর্ম হ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্ট। একই সঙ্গে পুরুষ দাতার দুই হাত একজন নারী রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপনের ঘটনাটিও ছিল বিশ্বে প্রথম বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল।    শ্রেয়ার জন্য দান করা হাত দুটি এসেছিল ২০ বছর বয়সী এক তরুণের কাছ থেকে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তাকে মস্তিষ্ক-মৃত ঘোষণা করা হলে তার পরিবার হাতসহ বিভিন্ন অঙ্গ দানের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তই শ্রেয়ার জীবনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।    অস্ত্রোপচারের পর শুরু হয় দীর্ঘ পুনর্বাসন। শরীর ও মস্তিষ্ককে নতুন হাতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শ্রেয়াকে এক বছরেরও বেশি সময় ফিজিওথেরাপি করতে হয়। ধীরে ধীরে তিনি নতুন হাতের নড়াচড়া ও অনুভূতি ফিরে পেতে শুরু করেন এবং দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতাও বাড়তে থাকে।    তবে চিকিৎসকদের সবচেয়ে বেশি অবাক করে আরেকটি পরিবর্তন। প্রতিস্থাপনের সময় হাত দুটি শ্রেয়ার নিজের হাতের তুলনায় বড়, গাঢ় রঙের ও বেশি লোমশ ছিল। কয়েক বছর পর দেখা যায়, হাত দুটি আগের তুলনায় সরু হয়েছে এবং ত্বকের রঙও শ্রেয়ার শরীরের রঙের সঙ্গে অনেকটাই মিলে গেছে। এমনকি তিনি নতুন হাত দিয়ে লিখতে, গয়না পরতে এবং নখে রং করতেও শুরু করেন।    এই পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। চিকিৎসকদের ধারণা, শরীরের হরমোন, মেলানিন উৎপাদন এবং দাতার হাতের আগের শারীরিক বৈশিষ্ট্যসহ একাধিক বিষয় এতে ভূমিকা রাখতে পারে। এ নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।  শ্রেয়ার এই ঘটনা শুধু একটি সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপনের গল্প নয়। অঙ্গদানের মাধ্যমে একজন মানুষের পরিবার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা আরেক তরুণীর জীবনকে নতুন করে গড়ে ওঠার সুযোগ দিয়েছে। ২০২৫ সালে অমৃতা হাসপাতাল জানিয়েছে, শ্রেয়া পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ও আইআইএম কলকাতা থেকে এমবিএ সম্পন্ন করে সফটওয়্যার পেশায় যোগ দিয়েছেন।    দুই হাত হারানোর পর যে জীবন থমকে যাওয়ার কথা ছিল, সেখান থেকেই শ্রেয়ার নতুন পথচলাশুরু হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান, অঙ্গদান এবং তার নিজের দৃঢ় মানসিকতার সমন্বয়ে এই ঘটনা আজও অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা ও মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২:২৬
ইন্ডিগো ফ্লাইটের ভেতর সহযাত্রীদের প্লেটে ঘরোয়া খাবার পরিবেশন করছেন এক নারী। ছবি: সংগৃহীত
বিমানে খাবার নিয়ে উঠলেন পরিবার, খাবারের আয়োজন ঘিরে ভারতীয় পরিবার নিয়ে নেটদুনিয়ায় বিতর্ক

ভারতের একটি ইন্ডিগো ফ্লাইটে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘটা করে ঘরোয়া খাবারের আয়োজনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে কয়েকজন যাত্রী থেপলা, ধোকলা, সমুচা, নামকিন ও বিভিন্ন চাটনি-সস বের করে ডিসপোজেবল প্লেটে খাবার পরিবেশন করে একসঙ্গে খেতে দেখা যায়। এ ঘটনায় ফ্লাইটের ভেতরে এমন আয়োজন কতটা শোভন ও যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক, তা নিয়ে অনলাইনে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে পরিবারের একজন নারী অন্যদের প্লেট দিয়ে খাবার পরিবেশন করছেন। পরিবারের কয়েকজনকে খাবার হাতে কেবিনের ভেতর চলাফেরা করতেও দেখা যায়। একই সময়ে কয়েকজন তরুণীকে নখে প্রেস-অন নেইল লাগাতেও দেখা যায়।   ভিডিওটি পোস্ট করা যাত্রী ইয়েশভি পরে সমালোচনার জবাব দিয়ে দাবি করেন, পরিবারটি অন্য যাত্রীদের বিরক্ত করেনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারা নাশতা না করেই ফ্লাইটে উঠেছিলেন এবং প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে খাবার শেষ করেন। পরে তার মা সবার ব্যবহৃত প্লেট ও অন্যান্য আবর্জনা একটি বড় ব্যাগে সংগ্রহ করেন। ফ্লাইটের আইলও খালি রাখা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।    তবে এসব ব্যাখ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিতর্ক থামেনি। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, উড়োজাহাজের মতো সীমিত জায়গার মধ্যে এত বড় পরিসরে খাবার পরিবেশন ও যাত্রীদের চলাচল কতটা উপযুক্ত। কেউ কেউ খাবারের গন্ধ এবং অন্য যাত্রীদের অস্বস্তির বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।    এদিকে ইন্ডিগোর প্রকাশিত নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীরা ফ্লাইটে কিছু খাবার সঙ্গে নিতে পারেন। তবে এলোমেলো, অতিরিক্ত তেলযুক্ত বা তীব্র গন্ধযুক্ত খাবার কেবিনে নেওয়ার অনুমতি নেই।    ফলে ভাইরাল ভিডিওটি শুধু খাবার বহন নিয়ে নয়, বরং উড়োজাহাজের মতো শেয়ার করা পাবলিক স্পেসে যাত্রীদের আচরণ, অন্যদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং কেবিন শিষ্টাচার নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২:৮
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা খাতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছেন গবেষকরা, ৪৮ জনকে নিয়োগ দিল কানাডা বিশ্ববিদ্যালয়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতিতে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা খাতে অনিশ্চয়তা বাড়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে শীর্ষ গবেষকদের কানাডায় নিয়ে যাচ্ছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। কানাডার ২১টি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন করে ৬৪ জন গবেষক নিয়োগ দিয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৮ জনই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কানাডায় যাচ্ছেন। এ তালিকায় হার্ভার্ড, ইয়েল ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষকরাও রয়েছেন।   নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডার এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা খাতে সরকারি অর্থায়ন কমে যাওয়া, অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়া এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরোধ। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের একাডেমিক অঙ্গনে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেটিকে নিজেদের গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখছে কানাডা।   নতুন নিয়োগ পাওয়া ৬৪ গবেষকের মধ্যে বাকি ১৬ জন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আরও ১২টি দেশ থেকে কানাডায় যাচ্ছেন। তাদের গবেষণার ক্ষেত্রের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্য, জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান, জীবচিকিৎসা, প্রোটিনবিজ্ঞান, জলবায়ু ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।   এই গবেষকদের কানাডায় আনার জন্য দেশটির সরকার প্রথম ধাপে প্রায় ৫০ কোটি ৪০ লাখ কানাডিয়ান ডলার অর্থায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকার গত বছর ১২ বছরে ১৭০ কোটি কানাডিয়ান ডলার ব্যয়ে এক হাজারের বেশি গবেষক নিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। এবারের নিয়োগ সেই বৃহৎ উদ্যোগের প্রথম ধাপ।   কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জলি ভ্যানকুভারে নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে বলেন, কিছু দেশ যখন গবেষণায় অর্থ কমাচ্ছে এবং একাডেমিক স্বাধীনতা থেকে সরে যাচ্ছে, তখন কানাডা বিজ্ঞান ও গবেষণায় আরও বিনিয়োগ করছে।   কানাডায় যাওয়া গবেষকদের মধ্যে কয়েকজন নিজ দেশের নাগরিকও রয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার পর দেশে ফিরছেন। ফলে এই উদ্যোগ শুধু যুক্তরাষ্ট্র থেকে গবেষক সরিয়ে নেওয়া নয়, বিদেশে থাকা কানাডীয় গবেষকদের দেশে ফেরানোরও একটি বড় প্রচেষ্টা।   যুক্তরাষ্ট্রের একাডেমিক খাতে সাম্প্রতিক সময়ে গবেষণা অর্থায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গবেষকদের আশঙ্কা, সরকারি অর্থায়ন ও নীতিগত স্থিতিশীলতা কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জীবপ্রযুক্তি, জলবায়ু গবেষণা ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মতো প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে দক্ষ গবেষক হারানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।   অন্যদিকে, কানাডা এই পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক গবেষণা প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। নতুন গবেষকদের সঙ্গে তাদের গবেষণাগার, গবেষণা দল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পও কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থানান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এই নিয়োগের প্রভাব শুধু কয়েক ডজন গবেষকের চাকরি পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং কানাডার গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২:০
দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের আমলে আইসিইর রেকর্ড গ্রেপ্তার, অর্ধেকের বেশি অভিবাসীর নেই অপরাধের রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। জুনে ৪৩ হাজারের বেশি এবং জুলাইয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। তবে জুলাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের অর্ধেকেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধে দণ্ড বা বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা ছিল না বলে নতুন ফেডারেল তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।   দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের পর্যালোচনা অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক নির্বাসন অভিযানের মধ্যে আইসিই এখন শুধু অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের নয়, বরং যাদের বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হয়েছে কিংবা যারা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটকে আছেন, তাদেরও বেশি হারে গ্রেপ্তার করছে। একই সময়ে অতীতে সহিংস অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের হার ৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।   অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযানের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। কারাগার থেকে অভিবাসীদের হেফাজতে নেওয়ার বদলে আইসিই এখন কর্মস্থল, বাড়ি এবং ট্রাফিক স্টপের মতো জায়গা থেকে সরাসরি গ্রেপ্তার বাড়িয়েছে। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আইসিইর প্রায় ৬৩ শতাংশ গ্রেপ্তার এখন এ ধরনের সরাসরি অভিযানের মাধ্যমে হচ্ছে।   এ ধরনের অভিযানে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পুলিশের অংশগ্রহণও বেড়েছে। ২৮৭(জি) কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে সহায়তার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মাধ্যমে আইসিইর হেফাজতে নেওয়া মানুষের সংখ্যা এখন মোট গ্রেপ্তারের প্রায় ১৪ শতাংশ।   অভিবাসন স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতায় থাকা ব্যক্তিরাও এখন ঝুঁকিতে পড়ছেন। ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন বা গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়া চলার সময় যাদের বৈধ স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদেরও আইসিই গ্রেপ্তার করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের প্রশাসনগুলোর সময়ে এ ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের সাধারণত আটক করা হতো না।   ট্রাম্প প্রশাসন একই সঙ্গে আইসিইর আটক ও নির্বাসন কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়াতে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেছে। চলতি বছরের শুরুতে আইসিই কর্মকর্তারা কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে প্রায় ১০ লাখ মানুষকে নির্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। যেকোনো সময়ে অন্তত ৯৯ হাজার মানুষকে আইসিইর আটক কেন্দ্রে রাখার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।   নির্বাসনসংক্রান্ত ফ্লাইটের সংখ্যাও বেড়েছে। হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে আইসিইর আটক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের জন্য ১ হাজার ৩৬৩টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে, যা অন্তত ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ মাসিক সংখ্যা। একই মাসে অন্তত ৩২৯টি নির্বাসন ফ্লাইট ৩৭টি দেশে পরিচালিত হয়েছে।   তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, অপরাধের রেকর্ড না থাকা ব্যক্তিদেরও ব্যাপকভাবে গ্রেপ্তার ও দ্রুত নির্বাসনের আওতায় আনা হলে তাদের আইনি অধিকার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়। বিশেষ করে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো অভিবাসীদের ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা এবং পরে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১:৪৪
মিস ইউএসএ ২০২৬-এর মুকুট জিতে ইতিহাস গড়েছেন ভার্জিনিয়ার জাস্টাস কেলি। ছবি: সংগৃহীত
মিস ইউএসএ জিতে ইতিহাস গড়লেন ভার্জিনিয়ার ৩১ বছরের দুই সন্তানের মা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের জাস্টাস কেলি মিস ইউএসএ ২০২৬-এর মুকুট জিতে ইতিহাস গড়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত ৭৫তম মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতায় তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ৩১ বছর বয়সী কেলি এই খেতাব জেতার মধ্য দিয়ে প্রথম মা এবং প্রথম বিবাহিত নারী হিসেবে মিস ইউএসএ হওয়ার নজির তৈরি করেছেন।   কেলি দুই শিশুর পালক মা, একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং শিশুদের বইয়ের লেখক। মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতার নিয়মে ২০২৩ সালে পরিবর্তন আনার পর বিবাহিত নারী ও মায়েদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়। পরের বছর বয়সের সর্বোচ্চ সীমাও তুলে দেওয়া হয়। নতুন নিয়মের পর কেলিই প্রথম মা ও প্রথম বিবাহিত নারী হিসেবে মিস ইউএসএ খেতাব জিতলেন।   মিয়ামির অ্যাড্রিয়েন আরশট সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসে এবারের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ৫১ জন প্রতিযোগী মিস ইউএসএ হওয়ার জন্য অংশ নেন। প্রাথমিক প্রতিযোগিতায় সাঁতারের পোশাক, সন্ধ্যার পোশাক ও সাক্ষাৎকার পর্ব ছিল। সেখান থেকে ধাপে ধাপে সেরা প্রতিযোগীদের বাছাই করে চূড়ান্ত পাঁচজনের মধ্যে কেলি বিজয়ী হন।   চূড়ান্ত পর্বে কেলিকে আমেরিকান নারীদের পরিবর্তিত পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে তিনি নিজের বয়স, বিবাহিত জীবন এবং দুই শিশুর পালক মা হওয়ার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একজন নারীকে নিজের পেশাগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা, পরিবার ও স্বপ্নের মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে হবে না।   বিজয়ের পর কেলি বলেন, প্রথম মা ও প্রথম বিবাহিত নারী হিসেবে মিস ইউএসএ হওয়ার সুযোগ তার জন্য বড় সম্মানের। তিনি এটিকে একটি দায়িত্ব হিসেবেও দেখছেন। তার বিশ্বাস, তিনি প্রথম হলেও শেষ নন এবং ভবিষ্যতে আরও মা ও বিবাহিত নারী এই প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করবেন।   এবারের প্রতিযোগিতায় নতুন একটি বিচার বিভাগও যুক্ত করা হয়েছিল। বাণিজ্যিক আকর্ষণ নামের এই বিভাগে প্রতিযোগীদের পৃষ্ঠপোষক আকর্ষণের সক্ষমতা বিবেচনা করা হয়। চূড়ান্ত পর্বে দর্শকদের ভোট দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছিল। তবে দর্শকদের ভোটের মোট ফলাফলে কতটা প্রভাব ছিল, তা স্পষ্ট করা হয়নি।   কেলি আগামী নভেম্বর পুয়ের্তো রিকোতে অনুষ্ঠিতব্য মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তার বিজয়ের মাধ্যমে ভার্জিনিয়া ১৯৭০ সালের পর আবার মিস ইউএসএ খেতাব পেল।   এবারের মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতাটি ছিল ৭৫তম আসর। প্রতিযোগিতাটিতে বিভিন্ন নিয়ম পরিবর্তনের পাশাপাশি সম্প্রচারের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। এবারের আয়োজন সরাসরি সম্প্রচারের জন্য অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১:২৮
১০ বছরের ছেলেকে বিমানবন্দরে একা রেখে বিমানে উঠে পড়ার অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত
১০ বছরের ছেলেকে বিমানবন্দরে ফেলে ছুটিতে চলে গেলেন বাবা-মা, হতবাক সবাই

স্পেনের বার্সেলোনা-এল প্রাত বিমানবন্দরে ১০ বছরের ছেলেকে একা রেখে ছুটির গন্তব্যে যাওয়ার বিমানে উঠে পড়ার অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। শিশুটির পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় ভিসা না থাকায় তাকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি। এরপর বাবা-মা একটি আত্মীয়কে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ডেকে নিজেরা ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বিমানে উঠে পড়েন বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি পরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নজরে এলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।    ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে বিমানবন্দরের এয়ার অপারেশন্স কো-অর্ডিনেটর হিসেবে পরিচয় দেওয়া লিলিয়ান নামে এক নারীর টিকটক ভিডিওর মাধ্যমে। তার দাবি, ভ্রমণের সময় পরিবারের বড় ছেলের কাগজপত্রে সমস্যা ধরা পড়ে। ছেলেটির একটি স্প্যানিশ পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসাও ছিল না। ফলে তাকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি।    লিলিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির বাবা-মা তখন তাকে টার্মিনালে রেখে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং এক আত্মীয়কে বিমানবন্দরে এসে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। এরপর তারা ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের ফ্লাইটে উঠে পড়েন। কিছুক্ষণ পর বিমানবন্দরের কর্মীরা শিশুটিকে একা অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশের খবর দেন।    পুলিশের কাছে শিশুটি জানায়, তার বাবা-মা ইতোমধ্যে বিমানে উঠে গেছেন এবং ছুটির উদ্দেশ্যে নিজেদের গন্তব্যের দিকে রওনা হয়েছেন। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে পুলিশ বাবা-মাকে শনাক্ত করে এবং তাদের বিমান থেকে নামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবারের বেশ কয়েকটি লাগেজও বিমান থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়। তবে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কোনো মামলা বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবারের জাতীয় পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি।    ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুরো ঘটনাটি মূলত বিমানবন্দরকর্মীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে এবং স্বাধীনভাবে এর সব দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে শিশুটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করা হয়েছিল কি না এবং পরবর্তী সময়ে পরিবারের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১:১৪
বিদেশি সরকারের কাছে জাতীয় প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত গোপন তথ্য সরবরাহের চেষ্টার তথ্য জানিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
গোপন তথ্য পাচারের দায় স্বীকার সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক এক বেসামরিক কর্মী বিদেশি সরকারের কাছে জাতীয় প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত গোপন তথ্য সরবরাহের চেষ্টা করার দায় স্বীকার করেছেন। ২৯ বছর বয়সী নাথান ভিলাস লাচ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ হুমকি বিভাগে কাজ করার সময় এই কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে।   ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ার বাসিন্দা লাচ ২০১৯ সালে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থায় বেসামরিক কর্মী হিসেবে যোগ দেন। তার কাছে সর্বোচ্চ গোপনীয়তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি একটি বন্ধুত্বপূর্ণ বিদেশি সরকারের কাছে গোপন তথ্য দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে তিনি এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যাকে তিনি ওই বিদেশি সরকারের প্রতিনিধি মনে করেছিলেন। কিন্তু ওই ব্যক্তি আসলে গোপনে কাজ করা ফেডারেল তদন্ত সংস্থার একজন কর্মকর্তা ছিলেন।   ২০২৫ সালের মার্চে তদন্তকারীরা লাচের প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে পারেন। এরপর তার সঙ্গে গোপনে থাকা তদন্তকারী কর্মকর্তার যোগাযোগ শুরু হয়। ওই সময় লাচ তার কর্মস্থলের কম্পিউটার থেকে শ্রেণিবদ্ধ তথ্য হাতে লিখে নেন এবং পরে সেগুলো কর্মস্থল থেকে বাইরে নিয়ে যান। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি এমন নথিও সংগ্রহ করেন, যেগুলো গোপন এবং অত্যন্ত গোপনীয় হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ ছিল।   ২০২৫ সালের মে মাসে উত্তর ভার্জিনিয়ার একটি জনসাধারণের পার্কে তথ্য সরবরাহের জন্য লাচ একটি তথ্য সংরক্ষণ যন্ত্র রেখে যান। তদন্তকারীরা সেটি উদ্ধার করে সেখানে গোপন এবং অত্যন্ত গোপনীয় হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ তথ্যসহ একাধিক নথি পান। পরে তিনি আরও গোপন তথ্য সরবরাহের প্রস্তুতি নেন এবং সেগুলো নিজের পোশাকের মধ্যে লুকিয়ে কর্মস্থল থেকে বের করে আনেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   তদন্তে আরও উঠে আসে, লাচ ওই বিদেশি দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, অন্য কোনো ধরনের সুবিধা বা ক্ষতিপূরণ পেতেও তার আপত্তি নেই। তবে তার দাবি ছিল, বস্তুগত বা আর্থিক ক্ষতিপূরণের প্রয়োজন তার নেই।   এরপর ২০২৫ সালের ২৯ মে আরও গোপন তথ্য সরবরাহের সময় লাচকে গ্রেপ্তার করা হয়। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, জাতীয় প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য বিদেশি সরকারের কাছে সরবরাহের অভিযোগে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। ফেডারেল তদন্ত সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্যের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন কর্মকাণ্ড জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।   মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, লাচের বিরুদ্ধে জাতীয় প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য বিদেশি সরকারের কাছে সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। তার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। আগামী ২৭ জানুয়ারি ২০২৭ তার সাজা নির্ধারণের কথা রয়েছে। চূড়ান্ত সাজা দেওয়ার সময় ফেডারেল সাজা নির্দেশিকা ও অন্যান্য আইনগত বিষয় বিবেচনা করবেন বিচারক।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১:০
ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের মালিকানায় অংশীদারত্ব নিতে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে মালিকানা চায় যুক্তরাষ্ট্র, চলছে গোপন আলোচনা

ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের মালিকানায় অংশীদারত্ব নিতে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার এক ডজনের বেশি উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্র থাকতে পারে, যেখানে প্রমাণিত মজুত রয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি ব্যারেল।   অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার বিষয়টি ভেনেজুয়েলার পুরো প্রমাণিত তেল মজুত নিয়ে নয়। দেশটির মোট প্রমাণিত তেল মজুত প্রায় ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল হলেও সম্ভাব্য চুক্তিতে এক ডজনের বেশি উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সম্ভাব্য ব্যবস্থার অধীনে যুক্তরাষ্ট্র এসব তেলক্ষেত্রে মালিকানার অংশ পাবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেসরকারি কোম্পানিগুলো তেলক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত তেল রাজস্ব তৈরি হবে, যা ভেনেজুয়েলা সরকারের আয় বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আলোচনায় উঠে এসেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান কর্মকর্তা স্টিফেন মিলারও আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন। চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার জনগণ উপকৃত হবে, এমন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।   ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে দেশটির ভেতরে সমালোচনার আশঙ্কা রয়েছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ কারণে সম্ভাব্য ব্যবস্থাটির ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে রাখতে চাইছে মার্কিন প্রশাসন। তবে চূড়ান্ত চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানা যায়নি।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট আগামী সপ্তাহে ভেনেজুয়েলা সফর করতে পারেন। সেখানে দেশটির তেল উৎপাদন বাড়াতে মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে নানা কারণে চাপ তৈরি হওয়ার সময়েই এই আলোচনা সামনে এসেছে।   ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে এবং এর প্রভাবে তেলের দাম বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুতও চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ও সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।   ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে দেশটির তেল শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম গোলার্ধে জ্বালানি ও পররাষ্ট্রনীতির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার তেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।   মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো আগামী প্রজন্মগুলোর জন্য পশ্চিম গোলার্ধের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের যুদ্ধের কারণে তৈরি মূল্যচাপ কমানো। এরই অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে পুনর্গঠনে ওয়াশিংটনের বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনাগুলো যুক্ত হয়েছে।   গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির তেল খাত নিয়ে ওয়াশিংটনের সম্পৃক্ততা আরও বেড়েছে। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করেছে এবং দেশটির জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি সম্পৃক্ততার জন্য কাজ করছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ০:৪৪
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতি দীপক ও মধু আহুজা। ছবি: সংগৃহীত
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নিখোঁজ টেক্সাসের দম্পতি, উৎকণ্ঠায় দুই মেয়ে

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতি দীপক আহুজা ও মধু আহুজা। কৈলাশ তীর্থযাত্রা শেষে ফেরার পথে গত ২৬ আগস্ট সীমান্তের গিরিয়ং পোর্ট ইমিগ্রেশন সেন্টারে থাকা অবস্থায় তাদের সঙ্গে পরিবারের শেষ যোগাযোগ হয়। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।    দীপক ও মধু আহুজা ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ডালাসে বসবাস করছেন। দীপকের ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে তারা ইশা ফাউন্ডেশনের একটি তীর্থযাত্রী দলের সঙ্গে টেক্সাস থেকে কৈলাশ পর্বতে যান। তীর্থযাত্রা শেষ করে তারা নেপাল-তিব্বত সীমান্ত দিয়ে ফেরার সময় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কবলে পড়েন।    তাদের দুই মেয়ে আশনা ও শ্রেয়া আহুজা এখন বাবা-মায়ের কোনো খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দুর্যোগের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে মেয়েদের একজনের সঙ্গে বাবা-মায়ের কথা হয়েছিল। পরে বন্যার খবর পাওয়ার পর তারা বারবার ফোন করলেও কোনো সাড়া পাননি। তীর্থযাত্রা আয়োজনকারী সংগঠন থেকেও পরিবারকে জানানো হয়, গিরিয়ং পোর্টের ইমিগ্রেশন সেন্টার এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছিল।    আহুজা পরিবারের স্বজনরা তাদের সন্ধানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। উদ্ধারকারী দলগুলোও দুর্যোগকবলিত এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।    এদিকে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে শত শত মানুষের মৃত্যুর পাশাপাশি এক হাজারের বেশি মানুষের নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। অনেকেই কৈলাশ তীর্থযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন।    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দুর্যোগের পর বেশ কিছু মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজদের সন্ধান ও নিরাপদে উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।   দীপক ও মধুর দুই মেয়ে এখন একটি খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন - তাদের বাবা-মা কোথায় আছেন এবং তারা নিরাপদে আছেন কি না। পরিবারের আশা, চলমান উদ্ধার অভিযানে দ্রুত তাদের সন্ধান মিলবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ০:৩৪
ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এক অর্থোডক্স ইহুদি ব্যক্তির গালে চুমু দিচ্ছেন এক মুসলিম ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিন কে সাপোর্ট করায় ইহুদির গালে মুসলিম ব্যক্তি চুমু

ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এক অর্থোডক্স ইহুদি ব্যক্তি ব্যক্তির গালে চুমু দিচ্ছেন এক মুসলিম ব্যক্তি - এমন একটি মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে । ছবিতে থাকা ইহুদি ব্যক্তি ইসরায়েলবিরোধী ও জিওনিজমবিরোধী সংগঠন নেটুরেই কার্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   নেটুরেই কার্তা একটি ছোট অর্থোডক্স ইহুদি গোষ্ঠী, যারা জিওনিজম এবং আধুনিক ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্বের বিরোধিতা করে। সংগঠনটির সদস্যদের বিভিন্ন সময়ে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ও কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, তারা ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মুসলিমদের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছে।    নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্থানে নেটুরেই কার্তার সদস্যদের ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশে অংশ নেওয়ার নজির রয়েছে। ২০২২ সালে নিউইয়র্কে আল-আকসা ইস্যুতে একটি ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ও মিছিলে সংগঠনটির ধর্মীয় ইহুদিরা অংশ নিয়েছিলেন।    তবে ভাইরাল হওয়া ছবিটির নির্দিষ্ট সময়, স্থান এবং ছবিতে থাকা দুই ব্যক্তির পরিচয় নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে ছবিটিকে কোনো নির্দিষ্ট সাম্প্রতিক বিক্ষোভের ঘটনা হিসেবে নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন না করে, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে মুসলিম ও ইহুদি বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংহতির একটি প্রতীকী দৃশ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।   নেটুরেই কার্তার সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনপন্থী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আসছেন। ২০২২ সালে লন্ডনে ইন্টারন্যাশনাল কুদস ডে উপলক্ষে মুসলিম ও ইহুদি ফিলিস্তিনপন্থীরা একসঙ্গে কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিলেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ০:২৪
৪৭ বছরের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করছে সিরিয়ার অর্থনীতি। ছবি: সংগৃহীত৪৭ বছরের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করছে সিরিয়ার অর্থনীতি। ছবি: সংগৃহীত
৪৭ বছর পর বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ফেরার পথে সিরিয়া, ভিসা কার্ডে বিল দিলেন আল-শারা

দামেস্কে এক কাপ কফির বিল পরিশোধের ঘটনাটি সিরিয়ার জন্য কেবল একটি সাধারণ কেনাকাটা নয়, বরং দীর্ঘদিনের আর্থিক বিচ্ছিন্নতার অবসানের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সিরিয়ার সরকারি সূত্র প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দামেস্কের পুরোনো শহরের একটি ক্যাফেতে ভিসা কার্ড ব্যবহার করে বিল পরিশোধ করছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোহাম্মদ সাফওয়াত রাসলান।   এর ঠিক আগে, ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ হিসেবে তালিকাভুক্তির অবস্থান থেকে সরিয়ে নেয়। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর জানিয়েছে, এর ফলে ওই তালিকার সঙ্গে যুক্ত নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞাগুলো আর সিরিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকবে না।   ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে সিরিয়ার অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্নতার কারণে দেশটির ব্যাংক ও ব্যবসাগুলো আন্তর্জাতিক লেনদেনে দীর্ঘদিন নানা বাধার মুখে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সিরিয়ার সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।   এই পরিবর্তনের সবচেয়ে দৃশ্যমান দিকগুলোর একটি হলো ভিসা ও মাস্টারকার্ডের আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেন চালু হওয়া। রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার সিরিয়ায় এই দুই বৈশ্বিক পেমেন্ট নেটওয়ার্কের প্রথম আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেন সম্পন্ন হয়। ভিসা স্থানীয় ও আঞ্চলিক অংশীদারদের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেছে, আর মাস্টারকার্ডও নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লেনদেন গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করেছে।   সিরিয়ায় ভিসা ও মাস্টারকার্ডের কার্যক্রম এর আগে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল। ফলে প্রেসিডেন্টের কার্ডে বিল পরিশোধকে দেশটির বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ফেরার একটি প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এই ঘটনাকে আর্থিক খাতের জন্য নতুন শুরুর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে সিরিয়ার ওপর থাকা সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা একসঙ্গে উঠে গেছে। নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কিছু নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় সিরিয়ার পূর্ণাঙ্গ পুনঃসংযোগ নির্ভর করবে ব্যাংকিং ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা দ্রুত পুনর্গঠিত হয় তার ওপর।   সিরিয়ার নতুন সরকার অবশ্য এই পরিবর্তনকে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। প্রেসিডেন্ট আল-শারা যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। দেশটির লক্ষ্য এখন দীর্ঘ যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে অবকাঠামো পুনর্গঠন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।   একটি কফির বিল দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতীকী লেনদেন তাই সিরিয়ার অর্থনীতির জন্য বড় পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর দেশটির নাগরিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আবারও আন্তর্জাতিক কার্ড ও অর্থপ্রদানের ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তবে এই পরিবর্তন কত দ্রুত বাস্তব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রূপ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।   সূত্র: রয়টার্স, মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়, আল জাজিরা ও ইউরোনিউজ।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ০:৮
নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখিয়ে তালিকা প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
নিজেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রেসিডেন্ট ঘোষণা ট্রাম্পের, অথচ ইতিহাসবিদদের মূল্যায়নে তিনি সবার নিচে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকেই দেশটির ইতিহাসের সেরা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখিয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন। অথচ ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মূল্যায়নে ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে খারাপ প্রেসিডেন্টদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। নিজের প্রকাশ করা তালিকায় তিনি জর্জ ওয়াশিংটন ও আব্রাহাম লিংকনের মতো ঐতিহাসিক প্রেসিডেন্টদেরও ওপরে নিজেকে রেখেছেন।   দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্টদের একটি তালিকার ছবি প্রকাশ করেন। এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত জরিপে রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে কোন প্রেসিডেন্টকে তারা সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা করেন, তা নিয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই জরিপে ৫৩ শতাংশ রিপাবলিকান ট্রাম্পকে সবচেয়ে বেশি পছন্দের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আব্রাহাম লিংকন ও রোনাল্ড রিগ্যানকে পেছনে ফেলেন।   এই প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্টদের একটি ‘সেরা’ তালিকা তুলে ধরেন। সেখানে নিজের নাম একেবারে শীর্ষে রাখেন তিনি। তবে তালিকাটি প্রকাশের পর এর নানা দিক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে তালিকায় রোনাল্ড রিগ্যান ও জর্জ ডব্লিউ বুশের মতো সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয় রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টদের নাম না থাকায় প্রশ্ন ওঠে। ইতিহাসবিদ ক্রিস্টোফার ডব্লিউ জোন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্তব্য করেন, ট্রাম্প যেন রিগ্যান ও বুশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অবস্থান নিয়েই কোনো মতামত দেননি।   আরেক মন্তব্যে ইতিহাস ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব নিয়ে কাজ করা মাইক রথশিল্ড দাবি করেন, ট্রাম্পের প্রকাশ করা তালিকাটি আসলে ১৯৪৮ সালে লাইফ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি তালিকার আদলে তৈরি। তার দাবি, ওই পুরোনো তালিকার ওপর ট্রাম্প নিজের নাম যোগ করেছেন এবং যেসব ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টকে তিনি পছন্দ করেন না, তাদের নিচের দিকে রেখেছেন।   তবে ট্রাম্প নিজেকে যতই ওপরে রাখুন, ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিজ্ঞানীদের মূল্যায়ন তার সঙ্গে একেবারেই মেলে না। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানী মাইকেল বেইলি সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, ট্রাম্পের সময়ে দুর্নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির যে ক্ষতি হয়েছে, তা অতীতের অন্য প্রেসিডেন্টদের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।   এর আগেও একই ধরনের মূল্যায়ন দেখা গেছে। ২০২৪ সালে ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিজ্ঞানীদের একটি জরিপে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টদের তালিকার একেবারে নিচে রাখা হয়েছিল। ওই জরিপে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ১৪তম অবস্থানে ছিলেন। শুধু বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নেই ট্রাম্প পিছিয়ে নেই। সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও তার জনপ্রিয়তা নিয়ে চাপের চিত্র দেখা গেছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ট্রাম্পের অনুমোদন হার প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসে।   ইতিহাস নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর হোয়াইট হাউসে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্টদের ছবি ও তাদের কর্মকাণ্ডের বর্ণনা নিয়ে একটি ‘ওয়াক অব ফেম’ স্থাপন করেন। সেখানে বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের অবদান তুলে ধরা হয়েছিল। তবে ইতিহাসবিদেরা ওই ফলকগুলোর তথ্যের পক্ষপাতদুষ্টতা ও নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।   একজন ইতিহাসবিদ মন্তব্য করেছিলেন, ওই ফলক তৈরিতে যে ধরনের গবেষণা করা হয়েছে, তা অন্যের ছবিতে গোঁফ এঁকে দেওয়ার মতোই দুর্বল। ট্রাম্পের ইতিহাসচর্চার আগ্রহ শুধু সাবেক প্রেসিডেন্টদের মূল্যায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে সংবেদনশীল ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে থাকা কিছু ফলক ও তথ্য সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। এসব বিষয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদ ও বৈষম্যের ইতিহাসও ছিল।   এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের প্রদর্শনী ও সংগ্রহে থাকা বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়। সমালোচকদের মতে, ইতিহাসের এমন অংশ বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রেসিডেন্ট হিসেবে তুলে ধরে ট্রাম্পের প্রকাশ করা তালিকা তাই নতুন করে তার ইতিহাস দেখার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে রিপাবলিকানদের বড় একটি অংশের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা এখনো রয়েছে, অন্যদিকে ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে তার অবস্থান একেবারেই বিপরীত।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

প্রকাশ : আগস্ট ২৭, ২০২৬ ২৩:৫০
হিউস্টনে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়ে ডেলিভারি চালকের অস্বাভাবিক আচরণ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নগ্ন অবস্থায় খাবার পৌঁছে দিলেন ডেলিভারিম্যান, বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়ল দৃশ্য

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর এক ডেলিভারি চালককে নগ্ন অবস্থায় বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়া ওই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান বাড়ির মালিক কিয়ান্তে ম্যাটলক।   ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ আগস্ট হিউস্টনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে, হোমস্টেড এলাকার কাছাকাছি ম্যাটলকের বাড়িতে। ম্যাটলক জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির ভেতরে বসে ভিডিও গেম খেলছিলেন। তার মেয়েও তখন বাড়িতে ছিল। মেয়ের কাছ থেকে ফোনে একটি নোটিফিকেশন আসার কথা জানতে পেরে ম্যাটলক বুঝতে পারেন, তার খাবারের অর্ডার পৌঁছে গেছে। এরপর তিনি বাড়ির রিং নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে গিয়ে অস্বাভাবিক দৃশ্যটি দেখতে পান।   ফুটেজে দেখা যায়, খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর ডেলিভারি চালকটি বাড়ির বাইরে নগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন। দৃশ্যটি দেখে তিনি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না বলে জানান ম্যাটলক। ম্যাটলক নিয়মিত ডোরড্যাশ ব্যবহার করেন। তবে ওই দিনের খাবার তিনি আর গ্রহণ করেননি। পরে ডোরড্যাশ কর্তৃপক্ষ তার অর্ডারের অর্থ ফেরত দেয়।   ঘটনার বিষয়ে ডোরড্যাশের সঙ্গে যোগাযোগ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ২৬ হিউস্টন। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র ঘটনাটিকে অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর ডোরড্যাশ সরাসরি ম্যাটলকের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং সংশ্লিষ্ট চালকের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। ডোরড্যাশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের যৌন হয়রানি বা অনুপযুক্ত আচরণ তারা মেনে নেয় না। ঘটনার তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজন হলে তাদের সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, তাদের অ্যাপের মাধ্যমে জমা পড়া অভিযোগগুলো ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি বিভাগ পর্যালোচনা করে। ডেলিভারির সময় কোনো গ্রাহক অস্বাভাবিক বা উদ্বেগজনক আচরণের মুখে পড়লে দ্রুত অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে অনিরাপদ মনে হলে স্থানীয় পুলিশকে জানানোর পরামর্শও দিয়েছে ডোরড্যাশ। তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা থাকলে জরুরি নম্বরে ৯১১-এ ফোন করতে বলা হয়েছে।   এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে হিউস্টন পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেছে ফক্স ২৬। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাড়ির বাসিন্দারা এ ধরনের ঘটনা ঘটলে পুলিশকে জানানো এবং ঘটনার সম্ভাব্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা উচিত। এর মধ্যে রিং ক্যামেরা, দরজার ক্যামেরা কিংবা বাড়ির অন্য কোনো নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে সে জন্য আগে ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রয়োজন এবং এরপর পুলিশ তদন্ত করে দেখবে ঠিক কী ঘটেছিল।   ফক্স ২৬ জানিয়েছে, টেক্সাসের আইনে এ ধরনের আচরণ কোন পরিস্থিতিতে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তা জানতে তারা একজন আইন বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করছে। ঘটনাটি আবারও বাড়িতে খাবার বা পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সময় নিরাপত্তা ক্যামেরার গুরুত্ব সামনে এনেছে। বিশেষ করে ডেলিভারি কর্মীর আচরণ নিয়ে কোনো উদ্বেগ তৈরি হলে ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: ফক্স ২৬ হিউস্টন (FOX 26), প্রতিবেদক লেসলি ডেলাসবোর।

প্রকাশ : আগস্ট ২৭, ২০২৬ ২৩:২২
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্স খাতে বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারের শীর্ষস্থান দখল করছে চীন। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের আমেরিকা যখন চীনের রোবট নিয়ে হাসছে, তখন রোবট প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে শি জিনপিংয়ের চীন

চীনে রোবট নিয়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই মজা করছেন। কোনো রোবট দৌড়াতে গিয়ে পড়ে যাচ্ছে, কোনোটি ভারসাম্য হারাচ্ছে, আবার কোনোটি নির্দিষ্ট কাজ করতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছে। কিন্তু এসব দৃশ্যের আড়ালে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিতে চীন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং এই দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবধান বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   বেইজিংয়ে ২২ থেকে ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমস। এবারের আয়োজনে ১৬টি দেশ ও অঞ্চল থেকে ৬৬৬টি দল এবং ২ হাজার ৫৬টি রোবট অংশ নেয়। পাঁচ দিনের এই আয়োজনে ছিল ৫১টি প্রতিযোগিতা এবং ১ হাজার ৩০১টি প্রতিযোগিতামূলক পর্ব। গত বছরের প্রথম আসরে যেখানে ২৮০টি দল অংশ নিয়েছিল, এবার সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   এই আয়োজন শুধু রোবটের দৌড় বা খেলাধুলার প্রদর্শনী ছিল না। কারখানা, হোটেল ও বাড়ির মতো বাস্তব পরিবেশে রোবট কীভাবে কাজ করতে পারে, সেটিও দেখানো হয়েছে। হোটেলের ঘর পরিষ্কার করা, অফিস পরিষ্কার, দোকানের তাক সাজানোসহ বিভিন্ন কাজে রোবটের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। এর ফলে আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল রোবটকে শুধু প্রদর্শনীর যন্ত্র হিসেবে নয়, ভবিষ্যতের উৎপাদনশীল কর্মী হিসেবে তুলে ধরা। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ১০০ মিটার দৌড়। প্রতিযোগিতার শুরুতেই একটি চীনা হিউম্যানয়েড রোবট ৯ দশমিক ৩৯ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করে। সময়টি ২০০৯ সালে জ্যামাইকান কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের করা ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডের মানব বিশ্ব রেকর্ডের চেয়ে দ্রুত। পরে একই প্রতিযোগিতায় টিয়াংগং আল্ট্রা নামে আরেকটি রোবট ৮ দশমিক ৮৬ সেকেন্ডের সময় করে। শেষ দিনে ৮ দশমিক ৬৪ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে সেটি আরও দ্রুত সময় গড়ে।   তবে রোবটগুলোর এই গতি এখনো মানুষের মতো স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ বা দক্ষতার প্রমাণ নয়। দৌড় শেষ করার পর কিছু রোবট ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যায় বা সুরক্ষাবেষ্টনীতে ধাক্কা খায়। অর্থাৎ দ্রুত দৌড়াতে পারলেও হঠাৎ থামা, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং মানুষের মতো পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনও বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতাই দেখাচ্ছে, হিউম্যানয়েড রোবটের বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা রোবটের হার্ডওয়্যার সক্ষমতা দ্রুত বাড়লেও বাস্তব কারখানার জটিল কাজে এগুলো এখনো মানুষের বিকল্প হওয়ার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অনেক রোবট নির্দিষ্ট প্রদর্শনী, নাচ, কুংফু বা পূর্বনির্ধারিত কাজ ভালোভাবে করতে পারলেও পরিবেশ পরিবর্তিত হলে তাদের সমস্যা হয়।   তারপরও চীনের অগ্রগতিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। দেশটি হিউম্যানয়েড রোবটকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উৎপাদন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বয়স্ক জনসংখ্যা ও ভবিষ্যৎ শ্রমিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি উৎপাদন খাতের দক্ষতা বাড়ানোর জন্যও রোবটকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। চীনের বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো এর বিশাল উৎপাদন অবকাঠামো। রোবটের যন্ত্রাংশ তৈরি, পরীক্ষামূলক উৎপাদন, সফটওয়্যার উন্নয়ন এবং বড় পরিসরে নতুন মডেল বাজারে আনার ক্ষেত্রে দেশটির শিল্পভিত্তি উদ্যোক্তাদের দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ দিচ্ছে।   বিশ্বের হিউম্যানয়েড রোবট বাজারেও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে এজিআইবট, ইউনিট্রি রোবোটিকস, গ্যালবট, ইউবিটেকসহ বেশ কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে রয়েছে। গবেষণা ও বাজার বিশ্লেষণগুলোও দেখাচ্ছে, চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে এই শিল্পে বড় অংশ দখল করে আছে। চীনের রোবট প্রতিযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়। একটি হিউম্যানয়েড রোবট শুধু দ্রুত দৌড়াতে পারলেই বাস্তব কাজে খুব বেশি কার্যকর হবে না। তাকে পরিবেশ বুঝতে হবে, বস্তু শনাক্ত করতে হবে, নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ফলে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা শুধু রোবটের শরীর বা যন্ত্রাংশের মধ্যে নয়, বরং রোবটের ‘মস্তিষ্ক’ বা সফটওয়্যার নিয়েও হবে।   এ জায়গায় চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ দেশটির হিউম্যানয়েড রোবট শিল্পকে আরও এগিয়ে দিতে পারে। রোবটের হার্ডওয়্যার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একসঙ্গে উন্নত হলে একই যন্ত্র ভবিষ্যতে কারখানা, গুদাম, হাসপাতাল, হোটেল কিংবা অন্যান্য সেবামূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও রোবোটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের গবেষণা ও বিনিয়োগ করছে। তবে চীনা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণ দুই দেশের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন বিদেশে তৈরি নতুন হিউম্যানয়েড রোবট আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। কর্তৃপক্ষ জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে।   এ ধরনের বিধিনিষেধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও গবেষকেরা চীনে তৈরি নতুন রোবটের সঙ্গে সরাসরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ হারাতে পারেন। আবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুক্তি হলো, চীনা প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংযোগ ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চীনের রোবট শিল্পও অবশ্য চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়। রোবটের দাম, সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতা, বাস্তব পরিবেশে কাজ করার সক্ষমতা এবং বাজারে প্রকৃত চাহিদা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিপুল বিনিয়োগের কারণে অতিরিক্ত উৎপাদন ও ভবিষ্যতে বাজারে একীভূত হওয়ার ঝুঁকির কথাও বিশ্লেষকেরা বলছেন।   তাই বেইজিংয়ের রোবট গেমসকে শুধু বিনোদন বা প্রযুক্তির প্রদর্শনী হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। এখানে একদিকে যেমন রোবটের বর্তমান সীমাবদ্ধতা চোখে পড়েছে, অন্যদিকে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তাদের গতি ও শারীরিক সক্ষমতার বড় উন্নতিও দেখা গেছে। এক বছর আগে যে রোবট ১০০ মিটার দৌড়াতে ২১ দশমিক ৫০ সেকেন্ড সময় নিয়েছিল, এবার সেই সময় কয়েক সেকেন্ডে নেমে এসেছে। আর প্রতিযোগিতার শেষ দিনে ৮ দশমিক ৬৪ সেকেন্ডের সময় দেখিয়েছে, উন্নতির গতি কতটা দ্রুত হতে পারে।   আজকের রোবট হয়তো দৌড় শেষ করে পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু আগামী দিনের প্রশ্ন হচ্ছে, তারা কতটা দ্রুত শিখতে পারবে এবং কতটা স্বাভাবিকভাবে মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পারবে। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রযুক্তি শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, বেইজিং মিউনিসিপ্যাল গভর্নমেন্ট ও দ্য আটলান্টিক।

প্রকাশ : আগস্ট ২৭, ২০২৬ ২২:৩৯
নেপালের নুয়াকোটে বন্যার পর কাদায় ঢেকে গেছে ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা। ছবি: সংগৃহীত
‘স্ত্রীর হাত ধরে টানছিলাম, কিন্তু কাদার স্রোত তাকে নিয়ে গেল’: নেপালের বন্যা নিয়ে বৃদ্ধের হৃদয়বিদারক বর্ণনা

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। এর মধ্যেই ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বারালের বেঁচে ফেরার গল্পটি সামনে এসেছে আরও এক করুণ বাস্তবতা নিয়ে। নিজের চোখের সামনে কাদার স্রোতে স্ত্রীকে হারিয়েছেন তিনি। চার ঘণ্টা পর হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা হলেও এখনো স্ত্রীর কোনো সন্ধান পাননি এই বৃদ্ধ।   নেপালের নুয়াকোট জেলার বাসিন্দা কেশব গত বুধবার বাড়িতে ছিলেন। হঠাৎ পাহাড়ের দিক থেকে প্রবল গতিতে কাদা, পানি ও পাথরের স্রোত নেমে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই স্রোত ঢুকে পড়ে তার বাড়িতে। কেশব তখন স্ত্রীকে নিয়ে ঘরের উঁচু অংশে ওঠার চেষ্টা করেন। রয়টার্সকে দেওয়া বর্ণনায় তিনি বলেন, কাদার স্রোত যখন বাড়ির ভেতরে ঢুকতে শুরু করে, তখন তিনি স্ত্রীর হাত ধরে তাকে বারান্দার দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই স্রোতের শক্তি তাদের আলাদা করে দেয়। স্ত্রী তার হাত থেকে ছিটকে কাদার নিচে হারিয়ে যান।   চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টার কেশবকে উদ্ধার করে। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু স্ত্রীকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেশবের ভাষায়, তিনি এখনো কাদার নিচেই কোথাও আছেন এবং তার বেঁচে থাকার আশা নেই। কেশবের এই বর্ণনা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বুধবার নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় পাহাড়ধসের সঙ্গে প্রবল বন্যা শুরু হয়। ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর পানি ও কাদার স্রোত বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি পর্যটন ও তীর্থযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ পথও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   প্রাথমিকভাবে এই দুর্যোগের কারণ হিসেবে পাহাড়ি এলাকায় বরফ ও হিমবাহ ধসের কথা বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিমবাহের একটি অংশ ধসে গিয়ে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটি নিচের দিকে নেমে আসায় এই ভয়াবহ স্রোতের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ এখনো চলছে। দুর্যোগের পর উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, দেশটিতে শত শত মানুষ এখনো নিখোঁজ। ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ১৬৫টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে রেডিও নেপাল। একই সময়ে নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, ৫৭৯ পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে নেপালি ও বিদেশি পর্যটক উভয়েই রয়েছেন।   নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, কানাডাসহ দুই ডজনের বেশি দেশের পর্যটকদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বতের গিরং এলাকায়ও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দুর্যোগের পর উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতুর কারণে। নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় বহু সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।   এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে রাজধানী কাঠমান্ডুর হাসপাতালগুলোতেও ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। কেউ আহত স্বজনের খোঁজ করছেন, আবার কেউ নিখোঁজ স্বজনের কোনো তথ্য পাওয়ার আশায় সরকারি তালিকা ও উদ্ধারকেন্দ্রগুলোতে যোগাযোগ করছেন। কেশব প্রসাদ বারালের গল্প তাই শুধু একজন মানুষের বেঁচে ফেরার কাহিনি নয়। এটি কয়েক মুহূর্তের একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ কীভাবে একটি পরিবারের জীবন পুরোপুরি বদলে দিতে পারে, তারও নির্মম উদাহরণ। স্ত্রীকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেও তাকে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। নিজে উদ্ধার হয়ে হাসপাতালে পৌঁছালেও এখনো অপেক্ষা করছেন এমন একটি খবরের জন্য, যা হয়তো আর কখনো আসবে না।   সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, রেডিও নেপাল।

প্রকাশ : আগস্ট ২৭, ২০২৬ ২২:১৩
জাকারবার্গের স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া আলোচনার একটি পোস্ট। ছবি: এক্স থেকে সংগৃহীত
জাকারবার্গের স্ত্রীর চেহারা নিয়ে কটাক্ষ, সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা জবাব, ‘ভালোবাসা টাকা দিয়ে কেনা যায় না’

মার্ক জাকারবার্গ বিশ্বের অন্যতম ধনী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। তার স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানকে নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একজনের মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। ওই ব্যক্তি প্রশ্ন তোলেন, এত বিপুল সম্পদের মালিক জাকারবার্গ কেন এমন একজন নারীকে বিয়ে করেছেন, যাকে তার কাছে ‘সাধারণ চেহারার’ মনে হয়েছে।   তবে মন্তব্যটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মনে করিয়ে দেন, জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যানের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অনেক আগেই। তাদের সম্পর্কের শুরুতে দুজনই ছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।   জাকারবার্গ ও চ্যানের পরিচয় ২০০৩ সালে। তখন দুজনেই হার্ভার্ডে পড়াশোনা করছিলেন। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সময় ফেসবুকও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অর্থাৎ জাকারবার্গের বর্তমান বিপুল সম্পদ, খ্যাতি কিংবা প্রযুক্তি ব্যবসার বিশাল সাফল্য তাদের সম্পর্কের শুরুতে কোনো বাস্তবতা ছিল না।   দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ২০১২ সালের মে মাসে তারা বিয়ে করেন। এরপর তাদের পরিবারে তিন কন্যাসন্তান আসে। ২০২৩ সালে তাদের তৃতীয় কন্যা অরেলিয়া জন্ম নেয়।   প্রিসিলা চ্যান নিজেও নিজের পেশাগত পরিচয় তৈরি করেছেন। তিনি একজন শিশু চিকিৎসক। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীববিজ্ঞানে স্নাতক করার পর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকো থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় ডিগ্রি নেন এবং শিশু চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি জাকারবার্গের সঙ্গে চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সহপ্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজ করছেন।   শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিনিয়োগ করা তাদের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। প্রিসিলা দীর্ঘদিন ধরেই শিশুস্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করে আসছেন। তিনি নিম্নআয়ের পরিবারের শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন।   এ কারণে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো মানুষের জীবনসঙ্গী বাছাইকে শুধু চেহারা বা সম্পদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা কতটা যুক্তিসঙ্গত। তাদের যুক্তি, জাকারবার্গ যখন প্রিসিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান, তখন তিনি আজকের বিলিয়নিয়ার ছিলেন না। দুজনের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে, যখন ভবিষ্যৎ জীবন কেমন হবে, সেটিও তারা জানতেন না।   অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী মন্তব্যটির জবাবে বলেন, মানুষের প্রতি আকর্ষণ বা ভালোবাসার মূল্যায়ন শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য দিয়ে করা যায় না। কারও জীবনসঙ্গীকে তার চেহারা দিয়ে বিচার করাও সম্পর্কের বাস্তবতাকে বোঝার জন্য যথেষ্ট নয়।   জাকারবার্গ ও চ্যানের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনও বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। ২০২২ সালে তাদের বিয়ের ১০ বছর পূর্তিতে জাকারবার্গ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রায় একই ভঙ্গিতে তোলা পুরোনো ও নতুন ছবি প্রকাশ করেছিলেন। সেই সময়ও তাদের দীর্ঘ সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।   সামাজিক মাধ্যমে প্রিসিলার চেহারা নিয়ে মন্তব্য নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালে জাকারবার্গ তার স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় তৈরি শিল্পী ড্যানিয়েল আরশামের একটি ভাস্কর্যের ছবি প্রকাশ করার পরও সেটি নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও রসিকতা হয়েছিল। তবে ওই ঘটনাতেও অনেকে প্রিসিলাকে শুধু ‘জাকারবার্গের স্ত্রী’ হিসেবে না দেখে তার নিজস্ব পেশাগত পরিচয় ও কাজের কথা সামনে আনেন।   সব মিলিয়ে জাকারবার্গ ও প্রিসিলার সম্পর্কের গল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তাদের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল সম্পদের শীর্ষে পৌঁছানোর আগে। সময়ের সঙ্গে জাকারবার্গের সম্পদ ও পরিচিতি ব্যাপকভাবে বদলেছে, কিন্তু তাদের পারিবারিক সম্পর্ক সেই পরিবর্তনের মধ্যেও টিকে রয়েছে।   সূত্র: চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভ, ইন্ডিয়া টুডে, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

প্রকাশ : আগস্ট ২৭, ২০২৬ ২১:৫৬
বাড়ির গ্যারাজে রান্নার ব্যবস্থা করার আগে স্থানীয় নির্মাণবিধি ও অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম জানা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত
গ্যারাজে রান্নার ব্যবস্থা করার আগে জানুন, পারমিট ছাড়া জরিমানার মুখে পড়তে পারেন মালিকেরা

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির অনেক পরিবার রান্নার সুবিধার জন্য বাড়ির গ্যারাজে অতিরিক্ত চুলা বসিয়ে নিয়মিত রান্না করেন। বিশেষ করে তেল-মসলা দিয়ে রান্না বা ভাজাপোড়ার জন্য অনেকে গ্যারাজে আলাদা রান্নার ব্যবস্থা করেন। তবে গ্যারাজে চুলা বসানো বা সেটিকে রান্নাঘরে রূপান্তর করার আগে স্থানীয় আইন ও পারমিটের নিয়ম জানা জরুরি। কারণ পরিস্থিতি অনুযায়ী এ ধরনের কাজ নির্মাণবিধি লঙ্ঘন হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে এ বিষয়ে সারা দেশের জন্য একক কোনো নিয়ম নেই। শহর, কাউন্টি ও অঙ্গরাজ্যভেদে নিয়ম আলাদা হতে পারে। তবে গ্যারাজে স্থায়ীভাবে চুলা বসানোর সঙ্গে গ্যাস বা প্রোপেন, বৈদ্যুতিক সংযোগ, পানির লাইন, ধোঁয়া বের করার ব্যবস্থা কিংবা ভবনের কাঠামোগত পরিবর্তন যুক্ত হলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পারমিট ও পরিদর্শনের প্রয়োজন হতে পারে।   এমনকি আলাদা গ্যাস লাইন না নিয়ে পোর্টেবল প্রোপেন সিলিন্ডার ব্যবহার করলেও সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যায় না। চুলাটি ওই জায়গায় ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত কি না, সিলিন্ডার কোথায় রাখা যাবে, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল ও অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে কি না, সেসব বিষয় স্থানীয় অগ্নিনিরাপত্তা ও নির্মাণবিধির আওতায় পড়তে পারে। বাইরে ব্যবহারের জন্য তৈরি প্রোপেন চুলা গ্যারাজের ভেতরে নিয়মিত রান্নার কাজে ব্যবহার করা যাবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।   নিউইয়র্ক সিটির নির্মাণ বিভাগের নিয়মেও রান্নাঘর সংস্কারের ক্ষেত্রে কাজের ধরন অনুযায়ী পারমিটের প্রয়োজন হতে পারে। গ্যাসের পাইপ পরিবর্তন, নতুন বৈদ্যুতিক সংযোগ, প্লাম্বিং বা ভবনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মতো কাজে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া নির্মাণ করলে জরিমানা বা ভায়োলেশনের মুখে পড়তে হতে পারে।   অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক ভবনে আগুন লাগার অন্যতম প্রধান কারণ রান্না। বিশেষ করে তেল ও চর্বি দিয়ে রান্নার সময় আগুনের ঝুঁকি থাকে। গ্যারাজে গাড়ি, জ্বালানি বা দাহ্য জিনিসপত্র থাকায় সেখানে রান্নার আগুন আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   বাড়ির ইন্স্যুরেন্সের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। অনুমোদনহীন পরিবর্তন বা ইন্স্যুরেন্স পলিসির শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো রান্নার ব্যবস্থা থাকলে ভবিষ্যতে আগুন বা অন্য ক্ষতির ঘটনায় ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে শুধু গ্যারাজে চুলা থাকার কারণে সব ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম বাড়বে বা ক্লেইম বাতিল হবে, এমন কোনো একক নিয়ম নেই। তাই আগে নিজের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বা এজেন্টের কাছ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া ভালো।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অন্য কেউ গ্যারাজে চুলা ব্যবহার করছেন দেখে নিজের বাড়িতেও একই কাজ করা নিরাপদ ধরে নেওয়া যাবে না। গ্যারাজে নিয়মিত রান্নার ব্যবস্থা করার আগে নিজের শহর বা কাউন্টির নির্মাণ ও অগ্নিনিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে পারমিট প্রয়োজন কি না জেনে নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে পারমিট নিয়ে এবং পরিদর্শন সম্পন্ন করেই কাজ করা সবচেয়ে নিরাপদ।

প্রকাশ : আগস্ট ২৭, ২০২৬ ২১:৩৭
ঘুমের মধ্যে মুখে বাদুড়ের সংস্পর্শে আসেন চিকিৎসক ক্রিস্টা এডেলম্যান। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ঘুমন্ত চিকিৎসকের মুখে ঢোকার চেষ্টা করছিল বাদুড়, ভয়ংকর অভিজ্ঞতার পর চিকিৎসকের সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে ঘুমের মধ্যে অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন চিকিৎসক ক্রিস্টা এডেলম্যান। স্বপ্নে ছোট একটি ইঁদুর মুখের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে মনে হলেও ঘুম ভাঙার পর তিনি বুঝতে পারেন, বিষয়টি কোনো স্বপ্ন নয়। সত্যিই একটি বাদুড় তার ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে মুখের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিল।   ঘটনাটি ঘটে রিচমন্ডে এডেলম্যানের প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো বাড়িতে। তিনি একজন পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে অভিজ্ঞতাটি তুলে ধরে মানুষকে বাদুড়ের সংস্পর্শে এলে কী ধরনের সতর্কতা নিতে হবে, সে বিষয়ে সচেতন করেছেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউটিভিআরও ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   এডেলম্যান জানান, প্রথমে তিনি স্বপ্ন দেখছিলেন একটি ছোট মাঠের ইঁদুর তার মুখের কাছে এসে মুখের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে। ঘুম ভাঙার সময় তিনি মুখের কাছে হাত নিয়ে কিছু একটা স্পর্শ করেন। সেটি ছিল পিচ্ছিল, লোমশ এবং ঠান্ডা। কিছুক্ষণ পরই তিনি বুঝতে পারেন, সেটি ইঁদুর নয়, একটি বাদুড়।   পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি বাদুড়টিকে ধরে ঘরের অন্যদিকে ছুড়ে দেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে স্বামীও জেগে ওঠেন। প্রথমে বাদুড়টিকে মেরে ফেলার কথা মনে হলেও চিকিৎসক হিসেবে এডেলম্যান জানতেন, সেটি করা ঠিক হবে না। বাদুড়টিকে ধরে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন, বিশেষ করে জলাতঙ্কের ভাইরাস রয়েছে কি না তা জানার জন্য।   পরে দ্রুত কী করা উচিত তা জানতে তিনি ফোনে খোঁজ করেন এবং একজন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ বন্ধুর সঙ্গে কথা বলেন। বন্ধুও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর এডেলম্যান তার কর্মস্থল সেন্ট মেরিস হাসপাতালে জরুরি বিভাগে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে জলাতঙ্কের সম্ভাব্য সংস্পর্শ হিসেবে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।   এডেলম্যানের স্বামী শেষ পর্যন্ত বাদুড়টিকে একটি পাত্রে আটকে ফেলতে সক্ষম হন। এরপর প্রাণীটিকে জলাতঙ্ক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষায় বাদুড়টির শরীরে জলাতঙ্কের ভাইরাস পাওয়া যায়নি। তবে সরাসরি সংস্পর্শের কারণে এবং আগে জলাতঙ্কের টিকা না নেওয়ায় এডেলম্যান সতর্কতামূলকভাবে জলাতঙ্কের টিকা ও ইমিউনোগ্লোবিউলিন গ্রহণ করেন।   ঘটনার পর এডেলম্যানের মূল বার্তা ছিল, বাড়িতে বাদুড় পাওয়া গেলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ঘুমন্ত অবস্থায় কেউ বাদুড়ের সংস্পর্শে এলে তিনি আদৌ কামড় বা আঁচড়ের শিকার হয়েছেন কি না, তা সবসময় বোঝা সম্ভব নাও হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র, সিডিসি বলছে, বাদুড়ের কামড়ের দাগ খুব ছোট হতে পারে এবং অনেক সময় তা চোখে পড়েও না। কোনো ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠে ঘরে বাদুড় দেখতে পেলে এবং সরাসরি সংস্পর্শ হয়েছিল কি না নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া উচিত।   বাদুড়ের ক্ষেত্রে জলাতঙ্কের ঝুঁকি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জলাতঙ্কে মানুষের মৃত্যুর ক্ষেত্রে বাদুড়ের সংস্পর্শ একটি প্রধান কারণ। দেশটিতে জলাতঙ্কে মারা যাওয়া অন্তত ১০ জনের মধ্যে সাতজনের সংক্রমণের সঙ্গে বাদুড়ের সম্পর্ক রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব বাদুড় জলাতঙ্কে আক্রান্ত। বরং যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বাদুড় সুস্থ এবং পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   জলাতঙ্কের চিকিৎসা সময়মতো শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাইরাসটির লক্ষণ প্রকাশের আগে সংস্পর্শের পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে রোগ প্রতিরোধ করা যায়। কিন্তু লক্ষণ প্রকাশের পর রোগটি প্রায় সবসময় প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়িতে বাদুড় ঢুকে পড়লে খালি হাতে সেটিকে ধরা উচিত নয়। নিরাপদে সম্ভব হলে উপযুক্ত সুরক্ষা নিয়ে পাত্রের মধ্যে আটকে রেখে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বা প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। তারা বাদুড়টি পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারে এবং মানুষের চিকিৎসা প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারে।   বাদুড় সাধারণত মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে। তবে বাড়ির ছাদ, চিমনি, চিলেকোঠা কিংবা দেয়ালের ছোট ফাঁক দিয়ে তারা ঘরে ঢুকতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, বাদুড় প্রায় এক-চতুর্থাংশ ইঞ্চি বা ৬ মিলিমিটারের মতো ছোট ফাঁক দিয়েও ঢুকতে পারে। তাই পুরোনো বাড়ির ছাদ, দরজা, জানালা, চিমনি ও অন্যান্য সম্ভাব্য প্রবেশপথ নিয়মিত পরীক্ষা করে বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।   নিজের অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের উদ্দেশ্যও এডেলম্যান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসক হয়েও এমন পরিস্থিতিতে ঠিক কী করা উচিত, তা নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে তাকে তথ্য খুঁজতে হয়েছিল। তাই অন্য কেউ যেন একই পরিস্থিতিতে পড়ে বিভ্রান্ত না হন, সে কারণেই তিনি ঘটনাটি প্রকাশ্যে এনেছেন। তার অভিজ্ঞতা এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।   সূত্র: ডব্লিউটিভিআর

প্রকাশ : আগস্ট ২৭, ২০২৬ ২১:২৭
নিউ জার্সির নিউ ব্রান্সউইক হাইস্কুলে চার দিন ক্লাস করার পর শিনের আসল বয়স ও পরিচয় সামনে আসে। ছবি: সংগৃহীত
একাকিত্ব কাটাতে ২৯ বছর বয়সে কিশোরী সেজে হাইস্কুলে ভর্তি, চার দিন ক্লাসের পর ধরা পড়লেন নারী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি হাইস্কুলে কিশোরী শিক্ষার্থী পরিচয়ে ভর্তি হয়ে চার দিন ক্লাস করার পর ধরা পড়েছেন ২৯ বছর বয়সী এক নারী। হায়েজিয়ং শিন নামের ওই নারী ভুয়া জন্মসনদ ব্যবহার করে নিজেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী হিসেবে দেখিয়ে নিউ ব্রান্সউইক হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নিউ জার্সির নিউ ব্রান্সউইক শহরে। নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জানুয়ারি শিনের বিরুদ্ধে পরিচয় বা বয়স যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ভুয়া সরকারি নথি দেওয়ার অভিযোগে তৃতীয় মাত্রার অপরাধের একটি মামলা করা হয়। তিনি স্কুল বোর্ডে একটি জাল জন্মসনদ জমা দিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।   ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার পর শিন প্রায় চার দিন স্কুলে যান। তিনি অন্যান্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই শ্রেণিকক্ষে ছিলেন এবং স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ তার জমা দেওয়া নথি যাচাই করার সময় তথ্যের অসঙ্গতি খুঁজে পায়। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয় এবং শিনকে স্কুলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।   নিউ ব্রান্সউইক পাবলিক স্কুলের তৎকালীন সুপারিনটেনডেন্ট অউব্রে জনসন স্কুল বোর্ডের এক বৈঠকে জানান, ভুয়া নথি জমা দিয়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী শিক্ষার্থী পরিচয়ে স্কুলে ভর্তি হতে সক্ষম হয়েছিলেন। পরে বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।   তবে ঘটনাটির পেছনে সহিংসতা বা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করার কোনো উদ্দেশ্য পাওয়া যায়নি বলে পরে নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ জানায়। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক ফলোআপ বিবৃতিতে পুলিশ বলেছিল, শিন কেন স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন তা বোঝার জন্য তদন্ত অব্যাহত ছিল। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তখনো কেবল অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ বলে গণ্য হবেন।   ঘটনার পর শিনের আইনজীবী ড্যারেন গেলবার তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। পরে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আইনজীবীর ভাষ্য ছিল, শিন একাকিত্বে ভুগছিলেন এবং নিজের স্কুলজীবনের তুলনামূলক নিরাপদ ও আনন্দের সময়টিতে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। আইনজীবী দাবি করেন, তার ক্লায়েন্টের উদ্দেশ্য কারও ক্ষতি করা ছিল না।   শিনের শিক্ষাগত পরিচয়ও পরে সামনে আসে। তিনি রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ ব্রান্সউইক ক্যাম্পাসের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি চীনা ভাষায় একটি বিষয়ে পড়াশোনা করেছিলেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন।   নিউ জার্সির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি সংক্রান্ত কিছু নিয়মও ঘটনাটিকে সম্ভব করে তুলেছিল। রাজ্যের আইন ও শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সব নথি না থাকলেও দ্রুত স্কুলে ভর্তি করার বিধান রয়েছে। পরে বয়স ও পরিচয় যাচাইয়ের জন্য নথি পরীক্ষা করা যায়। নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ জানিয়েছে, শিন এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে ভুয়া জন্মসনদ জমা দিয়েছিলেন।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কয়েকজন অভিভাবক স্কুলের নিরাপত্তা ও ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে ভুয়া নথি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া আরও পর্যালোচনা করার কথা জানায়।   পরবর্তী সময়ে শিন অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। মে ২০২৩ সালে মিডলসেক্স কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস জানায়, তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে প্রথমবারের অপরাধীদের জন্য নির্ধারিত একটি বিচারপূর্ব কর্মসূচিতে তিন বছর অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।   ঘটনাটি পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। বিশেষ করে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কীভাবে ভুয়া পরিচয় ও নথি ব্যবহার করে একটি উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরেছিলেন, সেটিই আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে ওঠে। তবে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে শিক্ষার্থী বা স্কুলের কর্মীদের ক্ষতি করার কোনো উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সূত্র: নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ বিভাগ

প্রকাশ : আগস্ট ২৭, ২০২৬ ২১:৬
বাড়ির দাম বাড়ার আগে সম্ভাবনাময় ৯ শহর চিহ্নিত করেছেন রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞরা। ছবি: সংগৃহীত
দাম বাড়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার সুযোগ, রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের নজরে ৯ শহর

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ির দাম ও বন্ধকি ঋণের সুদহার বাড়তে থাকায় বড় শহরে বাড়ি কেনা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে দেশটির কিছু শহরে এখনো তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও আবাসনের চাহিদা বাড়ছে। ফলে আগামী দিনে এসব এলাকায় বাড়ির দাম আরও বাড়তে পারে।   সম্প্রতি ট্রাভেল + লেজার-এর এক প্রতিবেদনে রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতামত ও স্থানীয় আবাসন বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন ৯টি শহরের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব, মধ্য-পশ্চিম ও পশ্চিমাঞ্চলের শহর রয়েছে। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোতে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ১৪ লাখ ডলার এবং মায়ামিতে তা প্রায় ৬ লাখ ডলারের কাছাকাছি। এর তুলনায় তালিকার শহরগুলোতে এখনো তুলনামূলক কম দামে বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে।   র‍্যালি, নর্থ ক্যারোলাইনা   তালিকার শীর্ষে রয়েছে নর্থ ক্যারোলাইনার র‍্যালি। বিশেষ করে শহরের উত্তরাঞ্চল নর্থ র‍্যালিকে সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে দেখছেন রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী রায়ান স্মিথ। তার মতে, প্রযুক্তি খাতের নতুন উদ্যোগ, বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প এবং উচ্চ সম্পদশালী মানুষের আগমনের কারণে ওই এলাকায় আবাসনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সময়ে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় বাড়ির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, র‍্যালিতে গড় বাড়ির মূল্য এখন ৫ লাখ ডলারের কিছুটা কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সম্প্রসারণের সঙ্গে আবাসনের চাহিদা বাড়তে থাকলে শহরটির তুলনামূলক সাশ্রয়ী অবস্থান বেশিদিন নাও থাকতে পারে।   গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস, মিশিগান   মিশিগানের গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে ২০২০ সালের পর বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তারপরও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের বড় শহরগুলোর মধ্যে এটি এখনো তুলনামূলক সাশ্রয়ী। এখানে গড় বাড়ির মূল্য ৩ লাখ ডলারের কিছু বেশি। শহরটির রেস্তোরাঁ, সংস্কৃতি, শিল্পচর্চা, হাঁটার উপযোগী এলাকা এবং বাইরে সময় কাটানোর সুযোগ তরুণ ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। ফলে জীবনযাত্রার মান ও বাড়ির তুলনামূলক কম দামের সমন্বয় ভবিষ্যতে আবাসনের চাহিদা আরও বাড়াতে পারে।   গ্রিনভিল, সাউথ ক্যারোলাইনা   সাউথ ক্যারোলাইনার গ্রিনভিলও বিশেষজ্ঞদের নজরে রয়েছে। শহরটির কাছে পাহাড়, বিকশিত শহরকেন্দ্র এবং বাড়তে থাকা স্বাস্থ্যসেবা খাত রয়েছে। পাশাপাশি মিশেলিন নর্থ আমেরিকার সদর দপ্তরও এখানে অবস্থিত। রেড বার্ন হোমবায়ার্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা কেন করসিনি বলেন, মানুষ শুধু কম দামের কারণে গ্রিনভিলে যাচ্ছে না। উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগই অনেককে শহরটির দিকে টানছে। ফলে বাড়ির দাম বাড়লেও ভবিষ্যতে চাহিদা শক্তিশালী থাকতে পারে। গত এক বছরে গ্রিনভিলে গড় বাড়ির মূল্য ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   স্পোকেন, ওয়াশিংটন   যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন খুঁজছেন এমন ক্রেতাদের জন্য ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেনকে সম্ভাবনাময় শহর হিসেবে ধরা হচ্ছে। স্পোকেনে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৪ লাখ ডলার। একই অঙ্গরাজ্যের সিয়াটলের তুলনায় এটি অনেক কম। বিশেষ করে প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপন পছন্দ করেন এবং সিয়াটলের উচ্চ বাড়ির দাম বহন করতে পারছেন না, এমন ক্রেতাদের কাছে স্পোকেন আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।   চ্যাটানুগা, টেনেসি   টেনেসির চ্যাটানুগাও তালিকায় রয়েছে। শহরটির বিশেষ আকর্ষণ হলো প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপন, বিকশিত শহরকেন্দ্র এবং তুলনামূলক কম বাড়ির দাম। কেন করসিনির মতে, কোনো শহরে যদি কর্মসংস্থান বাড়ে, বাইরে সময় কাটানোর সুযোগ থাকে এবং একই সঙ্গে আবাসন তুলনামূলক সাশ্রয়ী থাকে, তাহলে সেই বাজারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ভালো হতে পারে। চ্যাটানুগায় গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ডলার। এর তুলনায় কাছের বড় শহর ন্যাশভিলে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। ফলে ন্যাশভিলের উচ্চ আবাসন ব্যয়ের কারণে অনেক ক্রেতা চ্যাটানুগার দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।   রিচমন্ড, ভার্জিনিয়া   ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে ইতোমধ্যে বাড়ির বাজার বেশ প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, শহরটিতে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। এখানে একটি বাড়ি বিক্রির চুক্তিতে যেতে গড়ে প্রায় ছয় দিন সময় লাগছে এবং প্রায় অর্ধেক বাড়ি তালিকাভুক্ত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ঐতিহাসিক আবাসিক এলাকা, খাবার ও শিল্প-সংস্কৃতির পরিবেশ, বিনোদনের সুযোগ এবং বৈচিত্র্যময় অর্থনীতি নতুন বাসিন্দাদের আকৃষ্ট করছে। ওয়াশিংটন ডিসি ও উত্তর ভার্জিনিয়ার তুলনায় রিচমন্ড এখনো তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় ভবিষ্যতে এর চাহিদা আরও বাড়তে পারে।   এথেন্স, জর্জিয়া   জর্জিয়ার এথেন্সে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে বড় শিক্ষার্থী জনগোষ্ঠী রয়েছে। এই শিক্ষার্থী আবাসন বাজারে বাড়ির চাহিদা স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় নতুন উন্নয়ন অব্যাহত থাকলেও সেখানে নির্মাণের জন্য জমির পরিমাণ সীমিত। বর্তমানে রিয়েল্টর ডটকমের হিসাবে বাজারটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত বছরের তুলনায় মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলারে নেমেছে। এতে ক্রেতাদের দর-কষাকষির কিছুটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় বাড়ির দাম আবারও বাড়তে পারে বলে কেন করসিনি মনে করেন।   হিউস্টন, টেক্সাস   টেক্সাসের হিউস্টন দেশটির বড় শহরগুলোর মধ্যে তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন বাজারের একটি। সম্প্রতি ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো শহরটিতে বাড়ির দাম কমেছে। বর্তমানে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার ডলার। তবে হিউস্টনের বাজারকে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির দিকে এগোচ্ছে এমন বলা হচ্ছে না। তারপরও রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ কারেন কোস্টিউ শহরটির সম্ভাবনাকে শক্তিশালী বলে মনে করছেন। তার মতে, মহাকাশ, প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি, জ্বালানি, বাণিজ্য, উৎপাদন ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যবসা বাড়ছে। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশও শহরটির আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। এর পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর কারণে হিউস্টনে খাবার, শিল্প ও সংস্কৃতিরও শক্তিশালী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।   সিনসিনাটি, ওহাইও   ওহাইওর সিনসিনাটিকে আবাসন কেনার ক্ষেত্রে অন্যতম সম্ভাবনাময় শহর হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজ্যের সিনসিনাটি ও ক্লিভল্যান্ড তরুণ বাসিন্দা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আকৃষ্ট করছে মূলত তুলনামূলক কম আবাসন ব্যয়, বিদ্যমান বাড়ির বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন এলাকার পুনর্গঠনের কারণে। সিনসিনাটিতে গড় বাড়ির মূল্য এখনো ২ লাখ ডলারের মাঝামাঝি। ঐতিহাসিক এলাকা, পেশাদার ক্রীড়া দল, রেস্তোরাঁ ও পানীয় সংস্কৃতি এবং বাড়তে থাকা শিল্প-সংস্কৃতির পরিবেশ শহরটির ভাবমূর্তি বদলে দিচ্ছে। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় চাহিদা বাড়তে থাকলে বর্তমানে যে তুলনামূলক সাশ্রয়ী সুযোগ রয়েছে, তা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের এই তালিকা কোনো শহরের বাড়ির দাম নিশ্চিতভাবে কতটা বাড়বে, তার পূর্বাভাস নয়। বরং কর্মসংস্থান, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাসনের সরবরাহ, জীবনযাত্রার মান এবং আশপাশের ব্যয়বহুল শহর থেকে মানুষের স্থানান্তরের মতো বিষয় বিবেচনা করে সম্ভাবনাময় বাজারগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। ট্রাভেল + লেজারের প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় ১৩ আগস্ট ২০২৬। প্রতিবেদনের জন্য রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতামতের পাশাপাশি স্থানীয় আবাসন বাজারের তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়েছে।   ফলে যুক্তরাষ্ট্রে যারা বাড়ি কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য র‍্যালি, গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস, গ্রিনভিল, স্পোকেন, চ্যাটানুগা, রিচমন্ড, এথেন্স, হিউস্টন ও সিনসিনাটি নজরে রাখার মতো বাজার হতে পারে। তবে কোনো শহরে বাড়ি কেনার আগে স্থানীয় কর, বন্ধকি ঋণের সুদ, বীমা, সম্পত্তির কর, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ আবাসন সরবরাহসহ আরও অনেক বিষয় যাচাই করা জরুরি।

প্রকাশ : আগস্ট ২৭, ২০২৬ ২০:৪৭