হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরানের নতুন শর্ত, শুরু নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা
ইরান যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধের পর প্রণালীটি পুনরায় খুলতে নিজেদের শর্তের তালিকা তৈরিতে সম্মত হয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে ইরান ও ওমান একটি নৌ চলাচল করিডোর নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরানের একজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বৃহস্পতিবার তেহরানে ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আলোচনা থেকে সরে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পর তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
কাতার ও পাকিস্তান এর আগে জুনে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরিতে মধ্যস্থতা করেছিল। ওই সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের প্রধান পথ ছিল।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানকে প্রণালী পুনরায় খোলার শর্ত নির্ধারণ করতে বলার পর ইরান সেই তালিকা প্রস্তুত করছে। তিনি জানান, ইরান ও ওমান প্রণালীর মধ্য দিয়ে একটি নৌ চলাচল করিডোর নিয়ে একমত হয়েছে। এর কিছু অংশ ওমানের জলসীমায় এবং কিছু অংশ ইরানের জলসীমায় থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত পূরণ করলে জাহাজগুলো নির্ধারিত একটি কেন্দ্রীয় পথ ব্যবহার করতে পারবে।
অতীতে ইরানের শর্তের মধ্যে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি ছিল। এবার এসব শর্তের কোনগুলো অপরিবর্তিত থাকবে বা পরিবর্তন করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল পরিচালনা ও রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়েও ইরান ও ওমান নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে পরে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চুক্তির বিস্তারিত নিয়ে দুই দেশ এখনো কাজ করছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। ইরান এখনো জুনের সমঝোতা স্মারকে ফিরে যাওয়ার ওপর জোর দিয়ে আসছে। তবে ওই সমঝোতা স্বাক্ষরের পর জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরানের কর্তৃত্ব নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি হওয়ায় তা দ্রুত ভেঙে পড়ে। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতাটি শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা করেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কয়েক মাস আগে হরমুজ প্রণালীতে যে সমুদ্র মাইন পেতেছিল, মার্কিন বাহিনী সেগুলো সরিয়ে দিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন বাহিনী প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী ১ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক জাহাজকে প্রণালী পার হতে সহায়তা করেছে।
তবে ইরানের হুমকির কারণে অনেক জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে চলছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর হিসাবে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে এই পথে জাহাজ চলাচল প্রায় ৫ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে ৭০টি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যাতে ১৯ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreগাজায় জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক পরিবার জানিয়েছে, গত ৩০ দিনের মধ্যে অন্তত একবার তাদের ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাতে ঘুমাতে যেতে হয়েছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আগস্টের খাদ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া ৪৬ শতাংশ পরিবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। ওই ৩০ দিনের মধ্যে ৭ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, তারা ১০ বারের বেশি ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাতে ঘুমাতে গেছে। একই সময়ে জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেক পরিবার জানিয়েছে, অন্তত একবার তাদের ঘরের খাবার পুরোপুরি শেষ হয়ে গিয়েছিল। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, জরিপ করা ২১ শতাংশ পরিবার দিনে মাত্র একবেলা খাবার খাচ্ছে। প্রায় ৩৮ শতাংশ পরিবার প্রতিদিনের খাবারের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ১৭ শতাংশ পরিবার শিশুদের খাবারকে অগ্রাধিকার দিতে প্রতিদিন প্রাপ্তবয়স্কদের খাবারের পরিমাণ সীমিত করেছে। খাদ্য কেনা ও বাজারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছে পরিবারগুলো। জরিপে অংশ নেওয়া তিন-চতুর্থাংশ পরিবার জানিয়েছে, বাজারে যেতে বা প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করতে তারা বাধার মুখে পড়ছে। নগদ অর্থের সংকট এবং খাদ্যের উচ্চমূল্য এসব সমস্যার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে। ইসরায়েলি বিধিনিষেধের মধ্যে গাজায় খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের প্রবেশ এখনো মারাত্মকভাবে সীমিত রয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, গত বছরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে প্রতিদিন গড়ে ২১৭টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় প্রতিদিন ৬০০টি ট্রাক প্রবেশের কথা ছিল। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যেও গাজায় খাদ্যসংকটের ভয়াবহতা উঠে এসেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির হিসাবে, গাজার প্রায় ১৪ লাখ মানুষ এখনো তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তার উচ্চ পর্যায়ের মুখোমুখি এবং পরিবারগুলোর বড় অংশ মৌলিক খাদ্য চাহিদা পূরণে সংগ্রাম করছে।
সহকর্মীদের সিগারেটের ধোঁয়া সহ্য করতে না পেরে চাকরি ছাড়লেন বেঙ্গালুরুর নারী
নেপাল সীমান্তে হিমবাহের হ্রদ উপচে পড়ছে, নতুন বন্যার শঙ্কায় থামল উদ্ধার অভিযান
হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরানের নতুন শর্ত, শুরু নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা
যুক্তরাজ্যে যৌন অভিমুখিতার কারণে নিপীড়নের আশঙ্কা দেখিয়ে করা আশ্রয় আবেদনে পাকিস্তানি নাগরিকদের অংশ অন্য দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। দেশটির হোম অফিসের ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই বছর যৌন অভিমুখিতা বা এলজিবি পরিচয়কে আবেদনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা ১ হাজার ৩৭৭টি আশ্রয় আবেদনের মধ্যে ৫৭৮টি করেছিলেন পাকিস্তানি নাগরিকরা, যা মোটের ৪২ শতাংশ। হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছর ধরেই যৌন অভিমুখিতার বিষয়টি উল্লেখ করে করা আশ্রয় আবেদনে পাকিস্তানি নাগরিকদের সংখ্যা সর্বোচ্চ ছিল। ২০২৩ সালে এই ধরনের আবেদনে পাকিস্তানিদের অংশ ৪২ শতাংশ হলেও সব ধরনের আশ্রয় আবেদনের হিসাবে পাকিস্তান ছিল চতুর্থ সর্বোচ্চ আবেদনকারী দেশ। ওই বছর যুক্তরাজ্যে করা মোট আশ্রয় আবেদনের ৬ শতাংশ এসেছিল পাকিস্তানি নাগরিকদের কাছ থেকে। অর্থাৎ, সামগ্রিক আশ্রয় আবেদনে পাকিস্তানি নাগরিকদের যে অংশ, যৌন অভিমুখিতাকে আবেদনের ভিত্তি করা মামলায় তাদের অংশ তার তুলনায় অনেক বেশি। তবে এই পরিসংখ্যানকে পাকিস্তানি নাগরিকদের যৌন অভিমুখিতা সম্পর্কে কোনো সাধারণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাবে না। হোম অফিস নিজেই সতর্ক করেছে, এসব তথ্য মূলত আবেদনকারীরা তাদের আবেদনে যৌন অভিমুখিতার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন কি না, তার ওপর নির্ভরশীল। কোনো ব্যক্তি নিজের যৌন অভিমুখিতা প্রকাশ না করলে তা এই পরিসংখ্যানে নাও আসতে পারে। ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যে যৌন অভিমুখিতাকে আবেদনের ভিত্তির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা আশ্রয় মামলায় প্রাথমিক পর্যায়ে ৩ হাজার ৪৩০টি সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৬২ শতাংশ ক্ষেত্রে আশ্রয় বা অন্য কোনো ধরনের সুরক্ষা বা থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। সংখ্যার হিসাবে ২ হাজার ১৩৩টি সিদ্ধান্তে আবেদনকারীরা প্রাথমিক পর্যায়েই সুরক্ষা বা অন্য ধরনের অনুমতি পেয়েছেন। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৩ সালে করা আবেদন এবং ২০২৩ সালে দেওয়া সিদ্ধান্ত একই বিষয় নয়। হোম অফিস জানিয়েছে, কোনো আবেদনের সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে দেওয়া হতে পারে। ফলে ওই বছরের ৬২ শতাংশ অনুমোদনের হারকে শুধু ২০২৩ সালে জমা পড়া আবেদনগুলোর ফল হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। হোম অফিসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, এসব পরিসংখ্যানে এমন আশ্রয় আবেদন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে লেসবিয়ান, গে বা বাইসেক্সুয়াল পরিচয় বা যৌন অভিমুখিতা আবেদনের ভিত্তির অংশ হিসেবে কোনো পর্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি আবেদনকারীকে কেবল যৌন অভিমুখিতার কারণেই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, কোনো আবেদনকারী যৌন অভিমুখিতার বিষয় উল্লেখ না করেও অন্য কোনো ভিত্তিতে সুরক্ষা পেতে পারেন। ফলে পাকিস্তানি নাগরিকদের এই ধরনের আবেদনের উচ্চ হার নিয়ে পরিসংখ্যান একটি স্পষ্ট প্রবণতা দেখালেও, কতগুলো আবেদন সত্যিকার অর্থে যৌন অভিমুখিতার কারণে নিপীড়নের আশঙ্কার ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং কতগুলো ক্ষেত্রে অন্য কারণ কাজ করেছে, তা শুধু এই তথ্য দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। হোম অফিসের পরিসংখ্যানও আবেদনকারীদের দাবির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, কোনো ব্যক্তির যৌন পরিচয় বা দাবির সত্যতা সম্পর্কে স্বতন্ত্র যাচাইয়ের ফল নয়। সূএ: ইউকে বাংলা পোস্ট
অন্য ছেলের হাত বসেছিল শরীরে, বদলে গেল চামড়ার রংও! যেন নিজেরই হাত ফিরে পেলেন তরুণী
বিমানে খাবার নিয়ে উঠলেন পরিবার, খাবারের আয়োজন ঘিরে ভারতীয় পরিবার নিয়ে নেটদুনিয়ায় বিতর্ক
১০ বছরের ছেলেকে বিমানবন্দরে ফেলে ছুটিতে চলে গেলেন বাবা-মা, হতবাক সবাই
ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এক অর্থোডক্স ইহুদি ব্যক্তি ব্যক্তির গালে চুমু দিচ্ছেন এক মুসলিম ব্যক্তি - এমন একটি মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে । ছবিতে থাকা ইহুদি ব্যক্তি ইসরায়েলবিরোধী ও জিওনিজমবিরোধী সংগঠন নেটুরেই কার্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নেটুরেই কার্তা একটি ছোট অর্থোডক্স ইহুদি গোষ্ঠী, যারা জিওনিজম এবং আধুনিক ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্বের বিরোধিতা করে। সংগঠনটির সদস্যদের বিভিন্ন সময়ে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ও কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, তারা ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মুসলিমদের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছে। নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্থানে নেটুরেই কার্তার সদস্যদের ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশে অংশ নেওয়ার নজির রয়েছে। ২০২২ সালে নিউইয়র্কে আল-আকসা ইস্যুতে একটি ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ও মিছিলে সংগঠনটির ধর্মীয় ইহুদিরা অংশ নিয়েছিলেন। তবে ভাইরাল হওয়া ছবিটির নির্দিষ্ট সময়, স্থান এবং ছবিতে থাকা দুই ব্যক্তির পরিচয় নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে ছবিটিকে কোনো নির্দিষ্ট সাম্প্রতিক বিক্ষোভের ঘটনা হিসেবে নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন না করে, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে মুসলিম ও ইহুদি বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংহতির একটি প্রতীকী দৃশ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। নেটুরেই কার্তার সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনপন্থী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আসছেন। ২০২২ সালে লন্ডনে ইন্টারন্যাশনাল কুদস ডে উপলক্ষে মুসলিম ও ইহুদি ফিলিস্তিনপন্থীরা একসঙ্গে কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ১২ বছরের আইটি ক্যারিয়ার ছেড়ে কৃষিতে, এখন বার্ষিক আয় ‘৬০০ কোটি রুপি’
ইরানের ওপর মার্কিন একতরফা নিষেধাজ্ঞা মানতে সরাসরি অস্বীকৃতি পাকিস্তানের