সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরানের নতুন শর্ত, শুরু নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৪:৪১
হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল চালুর বিষয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল চালুর বিষয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধের পর প্রণালীটি পুনরায় খুলতে নিজেদের শর্তের তালিকা তৈরিতে সম্মত হয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে ইরান ও ওমান একটি নৌ চলাচল করিডোর নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরানের একজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

 

কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বৃহস্পতিবার তেহরানে ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আলোচনা থেকে সরে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পর তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

 

কাতার ও পাকিস্তান এর আগে জুনে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরিতে মধ্যস্থতা করেছিল। ওই সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের প্রধান পথ ছিল।

 

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানকে প্রণালী পুনরায় খোলার শর্ত নির্ধারণ করতে বলার পর ইরান সেই তালিকা প্রস্তুত করছে। তিনি জানান, ইরান ও ওমান প্রণালীর মধ্য দিয়ে একটি নৌ চলাচল করিডোর নিয়ে একমত হয়েছে। এর কিছু অংশ ওমানের জলসীমায় এবং কিছু অংশ ইরানের জলসীমায় থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত পূরণ করলে জাহাজগুলো নির্ধারিত একটি কেন্দ্রীয় পথ ব্যবহার করতে পারবে।

 

অতীতে ইরানের শর্তের মধ্যে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি ছিল। এবার এসব শর্তের কোনগুলো অপরিবর্তিত থাকবে বা পরিবর্তন করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল পরিচালনা ও রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়েও ইরান ও ওমান নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে পরে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চুক্তির বিস্তারিত নিয়ে দুই দেশ এখনো কাজ করছে।

 

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। ইরান এখনো জুনের সমঝোতা স্মারকে ফিরে যাওয়ার ওপর জোর দিয়ে আসছে। তবে ওই সমঝোতা স্বাক্ষরের পর জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরানের কর্তৃত্ব নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি হওয়ায় তা দ্রুত ভেঙে পড়ে। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতাটি শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা করেন।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কয়েক মাস আগে হরমুজ প্রণালীতে যে সমুদ্র মাইন পেতেছিল, মার্কিন বাহিনী সেগুলো সরিয়ে দিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন বাহিনী প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী ১ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক জাহাজকে প্রণালী পার হতে সহায়তা করেছে।

 

তবে ইরানের হুমকির কারণে অনেক জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে চলছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর হিসাবে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে এই পথে জাহাজ চলাচল প্রায় ৫ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে ৭০টি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যাতে ১৯ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।

 

সূত্র: রয়টার্স


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
আজারবাইজানে হিজাব পরা ছাত্রীদের স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়ায় স্কুলের গেটের বাইরে ক্লাস বর্জন ও প্রতিবাদে অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
আজারবাইজানে হিজাব নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে স্কুলগেটে ক্লাস করলেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা

আজারবাইজানে হিজাব পরা ছাত্রীদের স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ক্লাস বর্জন ও স্কুলের বাইরে প্রতিবাদ করেছে শিক্ষার্থীরা। অক্টোবরের শুরুতে বাকু ও মাসাল্লি জেলার অন্তত দুটি স্কুলে এ প্রতিবাদ হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, হিজাব পরা সহপাঠীদের ক্লাসে ফেরার সুযোগ দিতে হবে। ডেইলি অবজারভারের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মেইদান টিভির বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়।    প্রতিবেদনে বলা হয়, বাকুর ৬৯ নম্বর স্কুল এবং মাসাল্লি জেলার মোল্লাওবা গ্রামের বি শিরিয়েভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। হিজাবের কারণে সহপাঠীদের পড়াশোনার সুযোগ সীমিত করার বিরোধিতা করে তারা।    বিতর্কের সূত্রপাত সরকারি স্কুলের পোশাকবিধিতে পরিবর্তনের পর। দ্য টার্কিশ পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের পোশাকসংক্রান্ত বিধি সংশোধন করে আজারবাইজানের মন্ত্রিসভা। এতে স্কুল ইউনিফর্মের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ কিংবা শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়। তবে বিধিতে সরাসরি হিজাবের নাম উল্লেখ নেই।    ৬ অক্টোবর শিক্ষকদের পোশাক নিয়েও আলাদা বিধি গ্রহণ করা হয়। এরপর বাকু ও সুমগাইতের কয়েকটি স্কুলের শিক্ষিকারা অভিযোগ করেন, তাঁদের হিজাব খুলে কর্মস্থলে আসতে অথবা পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। দ্য টার্কিশ পোস্ট জানায়, তাদের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় এসব অভিযোগ নিয়ে শিক্ষা ও বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।    বাকুর রিচার্ড সর্গে ৯০ নম্বর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক হিজাব পরা শিক্ষিকাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। মেইদান টিভির প্রকাশিত ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের তাঁকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে ডেইলি অবজারভার।    নতুন বিধিতে হিজাবের সুস্পষ্ট উল্লেখ না থাকলেও কয়েকটি স্কুলে এর প্রয়োগ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, পোশাকের কারণে স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়া হিজাব পরা মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ ক্ষুণ্ন করছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১১:৫৪
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসপ্রীতি অসীমা চৌধুরী ও তাঁর ছেলে অরিত্র বিশ্বাস নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

আবুধাবিতে পারিবারিক অনুষ্ঠানের যোগদানের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি মা ও ছেলে নিহত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনে বাংলাদেশের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দিলীপ ঘোষ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ‘ইশারা’য় দিল্লিতে আন্দোলন হচ্ছে: পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী

বিহারে পুলিশ হেফাজতে যুবক দিলশাদ আনসারির মৃত্যুর ঘটনায় ছয় পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে পুলিশি হেফাজতে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করে মুসলিম যুবক দিলশাদ আনসারির মৃত্যু

বিদেশে বসে কাজ করায় চাকরি হারালেন কর্মী
অস্ট্রেলিয়ার অফিসে সিঙ্গাপুর থেকে কাজ, বসের ট্র্যাকিংয়ে ধরা পড়তেই গেল চাকরি

অনুমতি ছাড়াই বিদেশে বসে অফিসের কাজ করায় চাকরি হারিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক মুদ্রা লেনদেনকারী চার্লস গ্রাহাম। ছুটি কাটাতে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় না ফিরে সেখান থেকেই কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। পরে তাঁর ল্যাপটপের অবস্থান শনাক্ত করে বিষয়টি জানতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় অন্যায্যতা ছিল বলে সিদ্ধান্ত দিলেও অস্ট্রেলিয়ার ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহাল বা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি। দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রাহাম প্রায় ২০ মাস ধরে এইচআইএফএক্স অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি ‘এক্সই’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করে। এর আগে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করে কাজ করার অনুমতি চেয়েছিলেন তিনি। তবে তাঁর সেই আবেদন নাকচ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ছুটি কাটাতে সিঙ্গাপুরে যান গ্রাহাম। ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসার কথা থাকলেও তিনি সেখান থেকেই অফিসের কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তাঁর ব্যবস্থাপক তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহায়তা নেন। পরে গ্রাহামের অফিসের ল্যাপটপের অবস্থান অনুসরণ করে জানা যায়, তিনি সিঙ্গাপুরে রয়েছেন। গ্রাহামের দাবি, তাঁর সঙ্গী ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়ায় দেশে ফেরার ফ্লাইট পিছিয়ে দিতে হয়েছিল। এরপর তিনি কাজে যোগ দিলেও জমে থাকা ইমেইল, ফোনকল এবং গ্রাহকদের অভিযোগ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ কারণে নিজের অবস্থান সম্পর্কে ব্যবস্থাপককে জানানো হয়নি বলে ব্যাখ্যা দেন তিনি। তবে প্রতিষ্ঠান তাঁর ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি। তাদের বক্তব্য ছিল, দেশে ফেরার পরিকল্পনা পরিবর্তন এবং সঙ্গীর ভ্রমণে অক্ষমতার বিষয়ে গ্রাহাম যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনে শুনানি হলে গ্রাহামের বিদেশে বসে কাজ করার আগের একটি ঘটনাও সামনে আসে। এর আগে বালি থেকে কাজ করার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, বাসায় মেরামতের কাজ চলায় তাঁকে বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। তবে তাঁর ব্যবস্থাপকের বক্তব্য ছিল, গ্রাহাম যে বিদেশে অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। কমিশন চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় গ্রাহামকে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল বলে মনে করেছে। অর্থাৎ, তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পদ্ধতি পুরোপুরি ন্যায্য ছিল না। তবে কমিশনের সিদ্ধান্তে এটিও বিবেচনায় নেওয়া হয় যে, গ্রাহামের আচরণে অসদাচরণের বিষয় ছিল এবং তিনি এরই মধ্যে চার সপ্তাহের বেতন পেয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনা করে কমিশন তাঁকে আগের পদে ফিরিয়ে নেওয়া কিংবা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি। ফলে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় অন্যায্যতা চিহ্নিত হলেও গ্রাহাম চাকরি বা বাড়তি আর্থিক সুবিধা—কোনোটিই পাননি। ঘটনাটি বিদেশে অবস্থান করে দূর থেকে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ও কর্মস্থলের নীতিমালা মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষ করে, কোনো কর্মী ছুটিতে বিদেশে গেলে বা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন সেখানে অবস্থান করলে, সেখান থেকে কাজ করার অনুমতি আছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। অনুমতি ছাড়া কাজ চালিয়ে গেলে তা চাকরির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—চার্লস গ্রাহামের ঘটনা তারই একটি উদাহরণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৮:৪১
সৌদি আরবে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা পিছিয়ে দিল ডেল্টা

সৌদি আরবে ফ্লাইট চালুর তারিখ বদলাল ডেল্টা, যাত্রীদের জন্য রয়েছে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ

বলিউড অভিনেত্রী রিচা চাড্ডা

ক্যামেরার নজরদারি  এড়াতে মেকআপ করুন, ভারতে  বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলিউড অভিনেত্রী

২২ বছর পর উদ্ধারকারী জো ক্যাম্পবেলকে খুঁজে পান কিরান শেখ

চিপসের প্যাকেট ভেবে উদ্ধার করেন কয়েকদিনের নবজাতককে, ২২ বছর পর পুনর্মিলন

সিরিয়ায় ফিরে যাওয়া নিরাপদ বলে বিবেচনা করে লন্ডন
সিরিয়াকে নিরাপদ ঘোষণা করে শরণার্থী মর্যাদা বাতিল যুক্তরাজ্যের, ফেরত পাঠানোর শঙ্কা

সিরিয়ায় ফিরে যাওয়া নিরাপদ বলে বিবেচনা করে লন্ডনে বসবাসরত এক সিরীয় চিকিৎসকের শরণার্থী মর্যাদা বাতিল করেছে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর। এতে স্ত্রী ও ছয় সন্তানসহ তাঁর ব্রিটেনে থাকার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই চিকিৎসক এখন দেশ থেকে বহিষ্কারের মুখে রয়েছেন। তবে তাঁকে ইতোমধ্যে সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে, এমন তথ্য নেই।   সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের শাসনামলে নির্যাতনের আশঙ্কায় দেশ ছেড়ে ২০১৬ সালে ব্রিটেনে আসেন ওই চিকিৎসক। সিরিয়ায় তিনি প্লাস্টিক সার্জন হিসেবে কাজ করতেন। ব্রিটেনে চিকিৎসা পেশায় কাজের জন্য নিজের যোগ্যতার স্বীকৃতি নিয়ে জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিলের নিবন্ধন পেয়েছেন। বর্তমানে একটি জিপি ক্লিনিকে কর্মরত তিনি। তাঁর তিন সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্তে তিনি ও তাঁর পরিবার হতবাক। নিরাপদ জীবন গড়ার আশায় পরিবারকে ব্রিটেনে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, সিরিয়ায় যেসব উগ্রপন্থী গোষ্ঠী তাঁকে আগে লক্ষ্যবস্তু করেছিল, সেগুলো এখনও সক্রিয়। দেশে ফিরলে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা করছেন তিনি। বর্তমান সিরীয় সরকার এসব গোষ্ঠীর হাত থেকে তাঁদের সুরক্ষা দিতে পারবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে তাঁর।   গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত স্বরাষ্ট্র দপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, সিরিয়ার পরিস্থিতি জটিল থাকলেও সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নে, ওই চিকিৎসকের নির্যাতন বা গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা আর যথেষ্ট ভিত্তিসম্পন্ন নয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে শরণার্থী মর্যাদার অবসান ঘটানোর এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘সিজেশন’। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের অবস্থান ভিন্ন। সংস্থাটির ২০২৬ সালের আগস্টে হালনাগাদ করা নির্দেশনায় সিরীয় শরণার্থীদের জোর করে ফেরত পাঠানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউএনএইচসিআর বলছে, সিরিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতির ভিত্তিতে শরণার্থী মর্যাদা বাতিলের প্রয়োজনীয় শর্ত এখনও পূরণ হয়নি। প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত হতে হবে স্বেচ্ছায়, পর্যাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এবং নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে।    ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণ নির্দেশনাতেও সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল বলা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অনিশ্চিত সংঘর্ষ ও সহিংসতা, গোলাবর্ষণ এবং বিমান হামলার ঝুঁকির পাশাপাশি অবকাঠামো, পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতির কথা উল্লেখ রয়েছে।  পরিবারটির আইনজীবী মানিনি মেনন সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যে সিরীয় শরণার্থী ও তাঁদের পরিবারকে এভাবে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ উদ্বেগজনক। সিরিয়ার পরিস্থিতি নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের উপযোগী পর্যায়ে স্থিতিশীল হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। ব্রিটেনে নতুন জীবন গড়ে তোলা পরিবারগুলোর ওপর এমন সিদ্ধান্তের গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন মেনন।   অন্যদিকে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রকৃত শরণার্থীদের সুরক্ষা দেওয়া হবে এবং কাউকে বিপদের মুখে ফেরত পাঠানো হবে না। তবে নিজ দেশে নিরাপদে ফেরার পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ফিরে যেতে হবে। সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রত্যাবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে বলেও জানিয়েছে দপ্তরটি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১:৩৪
বুদাপেস্টের ইনার সিটি প্যারিশ চার্চে অটোমান আমলের একটি মিহরাব

হাঙ্গেরির গির্জার দেয়ালে আল্লাহর নাম! অটোমান আমলের ইতিহাস ঘিরে কৌতূহল

ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন সেনাসদস্য

ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন সেনাসদস্যের ৫০ মাসের কারাদণ্ড, চাচাতো ভাইকে জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করার অভিযোগ

সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি

গান্ধী-নেহরুর ওপর নির্ভরতা নয়, নিজেদের নেতা গড়ুন: আজমগড়ে ওয়াইসির আহ্বান

0 Comments