সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কে ১৫ বছরের কিশোরকে মাথায় গু লি করে হ ত্যা, পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ ১৬ বছরের কিশোরের

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৭:৮
নিউইয়র্কে ১৫ বছরের কিশোরকে মাথায় গু লি করে হ ত্যা, পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ ১৬ বছরের কিশোরের
নিউইয়র্কে ১৫ বছরের কিশোরকে মাথায় গু লি করে হ ত্যা, পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ ১৬ বছরের কিশোরের

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১৫ বছর বয়সী কিশোর রাইলি বিলিংসলিকে গুলি করে হত্যার পর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে কালভিন ভেলোজ নামের ১৬ বছর বয়সী আরেক কিশোর। মর্মান্তিক এই খুনের ঘটনায় মঙ্গলবার কালভিনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ গঠন করেছে পুলিশ।

 

গত ১২ আগস্ট বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে কিংসব্রিজ হাইটসের ওয়েস্ট ১৯৭ স্ট্রিটের কাছে ক্ল্যাফলিন অ্যাভিনিউয়ের একটি অ্যাপার্টমেন্টের পঞ্চম তলায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, কালভিন তার ব্যাকপ্যাক থেকে একটি .৪৫ ক্যালিবারের আগ্নেয়াস্ত্র বের করে এবং "আমি কিছু ব্যথা দিতে যাচ্ছি" (I'm going to throw some pain) বলে হুংকার দিয়ে রাইলিকে মাথায় গুলি করে।

 

নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) চিফ অব ডিটেকটিভস জোসেফ কেনি জানান, ওই সময় রাইলিসহ একদল কিশোর একটি বেডরুমে আড্ডা দিচ্ছিল। হঠাৎ কালভিন তার বন্দুক বের করে ম্যাগাজিন লোড করে সরাসরি রাইলির মাথায় গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

 

রাইলির কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না বলেও নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ওই অ্যাপার্টমেন্টে থাকা ১৩ বছর বয়সী অপর এক কিশোরও আহত হয়। গুলি প্রথমে দেয়ালে লেগে ছিটকে তার বুকে আঘাত করে। বর্তমানে সে হাসপাতালে স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না, বরং কালভিনের উদ্দেশ্যই ছিল কাউকে গুলি করা।

 

এদিকে, নিহত রাইলির শোকার্ত দাদি এলেইন রজার্স কালভিনের আত্মসমর্পণের খবর শুনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ওই তরুণ যে কারণেই আত্মসমর্পণ করুক না কেন, এটি অন্তত কিছুটা স্বস্তিদায়ক; তবে তিনি জানতে চান কেন তার নাতিকে এভাবে হত্যা করা হলো।

 

পুলিশ কালভিনকে 'বুলিং' প্রবণ ও বদমেজাজি হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, সে এর আগেও এক কিশোরকে পুড়িয়ে আহত করেছিল, যদিও ওই ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়নি।

 

কালভিনের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অনিচ্ছাকৃত নরহত্যা এবং বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহত রাইলির দাদি এখন তার নাতির হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ক্যালিফোর্নিয়ার শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহারের আহ্বান নিউসমের
ক্যালিফোর্নিয়ার শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহারের আহ্বান নিউসমের

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সাধারণত ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা গেলেও, শিশুদের ভবিষ্যতের প্রশ্নে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসম।   সম্প্রতি অঙ্গরাজ্যটির শিশুদের শিক্ষা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য তিনি 'ক্যালিফোর্নিয়া গোল্ডেন স্টার্ট চ্যালেঞ্জ' নামের একটি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো 'ক্যালকিডস' (CalKIDS) প্রোগ্রামের প্রচার ও প্রসারে কাজ করা, যার মাধ্যমে যোগ্য শিশুরা তাদের উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সর্বোচ্চ দেড় হাজার ডলার পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে। ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব অর্থায়নে এই যুগান্তকারী কর্মসূচিটি চালু করা হয়েছিল।   সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ক্যালিফোর্নিয়ার এই কর্মসূচির পাশাপাশি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চালু করা ফেডারেল 'ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট' ব্যবহারেরও জোরালো প্রচার চালাচ্ছেন নিউসম।   সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে ট্রাম্পের এই উদ্যোগের প্রশংসাও করেন তিনি। নিউসম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই বিষয়গুলো কোনো দলীয় রাজনীতির অংশ নয়। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তিনি বলেন, ট্রাম্প অ্যাকাউন্টের অর্থ ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কোনো অর্থ নয়, বরং এটি নাগরিকদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা।   বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার ৬০ লাখেরও বেশি ক্যালকিডস অ্যাকাউন্টের জন্য ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থায়ন করেছে, তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ১০ লাখ পরিবার এই তহবিলের সুবিধা গ্রহণ করেছে।   গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের এই উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হলেও কিছু সমালোচনাও রয়েছে। প্যাসিফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ল্যান্স ইজুমির মতো বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (K-12) পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সঞ্চয় অ্যাকাউন্টের (ESA) ক্ষেত্রে নিউসম কেন বরাবরই বিরোধিতা করেন।   ক্যালিফোর্নিয়ার অনেক পাবলিক স্কুল শিশুদের মৌলিক শিক্ষা প্রদানে পিছিয়ে পড়ায় কম বয়সেই এই ধরনের সঞ্চয় অ্যাকাউন্টের সুবিধা দেওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।   তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন এখন সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের নেতাদেরও ক্যালকিডস এবং ফেডারেল অ্যাকাউন্টগুলোতে অনুদান প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৮:৩
নিউইয়র্কে ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্প্রীতির আহ্বান মেয়র মামদানির

নিউইয়র্কে ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্প্রীতির আহ্বান মেয়র মামদানির

নিউইয়র্কে ১৫ বছরের কিশোরকে মাথায় গু লি করে হ ত্যা, পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ ১৬ বছরের কিশোরের

নিউইয়র্কে ১৫ বছরের কিশোরকে মাথায় গু লি করে হ ত্যা, পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ ১৬ বছরের কিশোরের

মার্কিন কর্মীদের চাকরি রক্ষায় এইচ-১বি ভিসা বাতিলের জোরালো দাবি তুললেন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান

মার্কিন কর্মীদের চাকরি রক্ষায় এইচ-১বি ভিসা বাতিলের জোরালো দাবি তুললেন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান

দুই সপ্তাহ আইসিই হেফাজতে থাকার পর জামিন পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন শিক্ষিকা
দুই সপ্তাহ আইসিই হেফাজতে থাকার পর অবশেষে বাড়ি ফিরছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিক্ষিকা

দীর্ঘ প্রায় দুই সপ্তাহ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) হেফাজতে থাকার পর অবশেষে বাড়ি ফিরছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন শিক্ষিকা ভেঙ্কটা নরসমাম্বা ভাসামশেট্টি। একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তার সাড়ে সাত হাজার ডলারের জামিন মঞ্জুর করেছেন।   ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) ভেঙ্কটাকে 'পলাতক হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত এই রায় দেন।   নর্থ ক্যারোলিনার স্টেট সিনেটর জে চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে  দেওয়া এক পোস্টে মুক্তির খবরটি নিশ্চিত করে লেখেন, "ভেঙ্কটা বাড়ি ফিরছেন।" তার ভার্চুয়াল জামিন শুনানিতে ৫০ জনেরও বেশি স্বজন ও সহকর্মী অংশ নেন এবং তার মুক্তির দাবিতে খোলা একটি পিটিশনে আট হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছিলেন।   ভেঙ্কটার এই আইনি জটিলতার শুরু হয় ২০২২ সালে। অসুস্থ বাবাকে দেখতে সেসময় তিনি ভারতে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে তার ছয় মাসের বেশি সময় লেগে যায়।    এরপরই ডিএইচএস অভিযোগ তোলে যে, দীর্ঘসময় দেশের বাইরে থাকায় তিনি তার বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার (গ্রিন কার্ড) মর্যাদা হারিয়েছেন। গত ১৯ মে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক প্রমাণের অভাবে সরকারের এই অভিযোগ খারিজ করে দেন এবং তাকে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে থাকার অনুমতি দেন। তা সত্ত্বেও আইসিই কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ বহাল রাখে।   সবশেষ গত ১১ আগস্ট মেয়েকে নিয়ে শার্লটের আইসিই অফিসে হাজিরা দিতে গেলে ভেঙ্কটাকে আকস্মিকভাবে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাকে জর্জিয়ার আরউইন কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।   সেখানে এই বয়স্ক নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়। তার পরিবারের অভিযোগ, গুরুতর ইনসুলিন-নির্ভর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও বন্দিদশায় তাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা ও উপযুক্ত খাবার দেওয়া হয়নি।   ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো ভেঙ্কটা ২০১৩ সালে গ্রিন কার্ড পান। নর্থ ক্যারোলিনায় দীর্ঘ তিন দশক ধরে বসবাস করা এই নারী ওয়েক কাউন্টির পাবলিক স্কুলে শিক্ষকতা করতেন এবং তার দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনিরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।   অবশেষে জামিন পাওয়ায় পরিবারের কাছে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে সিনেটর জে চৌধুরী বলেন, এই দুঃস্বপ্নের অবসান হওয়ায় তিনি আনন্দিত, তবে ভেঙ্কটা বা অন্য কারও সঙ্গেই এমন অবিচার হওয়া উচিত হয়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৫:২২
নিজের অটিস্টিক সন্তানকে গ্যারেজে আটকে হ ত্যার দায়ে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার যাবজ্জীবন

অটিস্টিক সন্তানকে হাড়কাঁপানো শীতে গ্যারেজে আটকে হ ত্যার দায়ে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার যাবজ্জীবন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হাইস্পিড ‘বুলেট ট্রেন’ প্রকল্পে অর্থসংকট, মাঝপথে থেমে যাওয়ার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হাইস্পিড ‘বুলেট ট্রেন’ প্রকল্পে অর্থসংকট, মাঝপথে থেমে যাওয়ার আশঙ্কা

খন্দকার জামিল, মর্টগেজ লোন অফিসার, ইজারা ইসলামিক ফাইন্যান্স

ইজারা ইসলামিক ফাইন্যান্স কীভাবে কাজ করে, প্রচলিত মর্টগেজের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়

জন্মের আগে গর্ভপাত চেয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতি, জন্মের পর সেই শিশুরই অভিভাবকত্ব দাবি
জন্মের আগে গর্ভপাত চেয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতি, জন্মের পর সেই শিশুরই অভিভাবকত্ব দাবি

গর্ভের শিশুর গুরুতর হৃদ্‌যন্ত্রের ত্রুটি ধরা পড়ার পর গর্ভপাত চেয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক দম্পতি। কিন্তু তাদের সারোগেট মা ম্যাককেনা ওয়েস্ট সেই সিদ্ধান্তে রাজি না হয়ে টেক্সাসে চলে যান এবং শেষ পর্যন্ত শিশুটির জন্ম দেন।   এখন সেই শিশুই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, আর জন্মের পর তাকে নিজেদের সন্তান হিসেবে নিয়ে অভিভাবকত্বের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আদালতে লড়ছেন ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতি নওশীন গিলকার ও ওমর আহমেদ।    ডালাসের একটি আদালতে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে গিলকার ও আহমেদ দাবি করেন, তারা শিশুটির জেনেটিক বাবা-মা এবং শিশুটির চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদেরই।   অন্যদিকে সারোগেট ম্যাককেনা ওয়েস্টের আইনজীবীরা আদালতে তার পক্ষে শিশুটির একক কনজারভেটরশিপ বা অভিভাবকত্ব চেয়েছেন, যাতে তিনি শিশুটির চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আদালত মঙ্গলবার চূড়ান্ত কাস্টডি বা অভিভাবকত্বের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।    ঘটনার শুরু গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহে। তখন পরীক্ষায় দেখা যায়, শিশুটির হাইপোপ্লাস্টিক লেফট হার্ট সিনড্রোম বা HLHS রয়েছে। এটি একটি গুরুতর জন্মগত হৃদ্‌যন্ত্রের ত্রুটি, যেখানে হৃদ্‌যন্ত্রের বাম পাশ স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয় না এবং শরীরে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। চিকিৎসা না হলে এ ধরনের অবস্থায় জন্মের পর অল্প সময়ের মধ্যেই শিশুর মৃত্যু হতে পারে।    শিশুটির এই জটিলতা জানার পর গিলকার ও আহমেদ গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেন বলে আদালতের নথি ও শুনানিতে উঠে এসেছে। ওয়েস্টও আদালতে স্বীকার করেছেন, ২৩ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় তিনি দম্পতির অনুরোধে গর্ভপাতের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছিলেন।   তবে শেষ পর্যন্ত তিনি গর্ভপাত করাতে রাজি হননি। তার দাবি, শিশুটির বেঁচে থাকার এবং দীর্ঘ জীবন পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। এরপর তিনি আলাস্কা থেকে টেক্সাসে চলে যান, যেখানে শিশুটির জন্ম হয়।    ১২ আগস্ট টেক্সাসে শিশুটির জন্মের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। গিলকার ও আহমেদ শিশুটির নাম রেখেছেন রুমি। অন্যদিকে ওয়েস্ট শিশুটিকে গ্যাব্রিয়েল নামে ডাকেন।   শিশুটির গুরুতর হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার কারণে জন্মের পর দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। পরে তার প্রথম বড় ধরনের হার্ট সার্জারি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, HLHS আক্রান্ত শিশুদের জন্য একাধিক ধাপে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।    বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আদালতে গিলকার জানান, অস্ত্রোপচারের পর শিশুটির অবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়েছে এবং তাকে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। আদালতে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, শিশুটি তাদের সন্তান এবং তারা তাকে হারাতে চান না।    অন্যদিকে ওয়েস্টের আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন, গর্ভাবস্থায় শিশুটির গুরুতর অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর যে দম্পতি গর্ভপাত চেয়েছিলেন, তারা এখন শিশুটির জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের যুক্তি, শিশুটির চিকিৎসা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ওয়েস্টের কনজারভেটরশিপ থাকা উচিত।   শুনানিতে ওয়েস্টের আইনজীবী এমনও জানান, দম্পতি যদি শিশুটির প্রয়োজনীয় সার্জারি ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করেন, তাহলে ওয়েস্ট তার কাস্টডি দাবি প্রত্যাহার করতে পারেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৩:২৩
হামলার শিকার কায়লা হেইস

‘আর কাউকে চুমু দিতে দেব না’ বলেই প্রেমিকার ঠোঁট কামড়ে ছিঁ ড়ে ফেললেন প্রেমিক

অভিনেত্রী আনা নিকোল স্মিথ ও জে. হাওয়ার্ড মার্শাল

সম্পত্তির আশায় ২৬ বছর বয়সে ৮৯ বছরের বিলিয়নিয়ারকে বিয়ে, দুই দশকের মেলেনি সম্পত্তি

পরিবারের সম্পর্ক যাচাইয়ে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা বাড়াচ্ছে আইসিই

পরিবারের সম্পর্ক যাচাইয়ে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা বাড়াচ্ছে আইসিই

0 Comments