- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) টিএসসিতে একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে রসায়ন বিভাগের অন্তত চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাবি মেডিকেলের কর্তব্যরত চিকিৎসক। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে এবং দুই বিভাগের একাডেমিক ভবনে এ সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আহতরা হলেন- রসায়ন বিভাগের ফেরদৌস হাসান, সাজিদুর, নোমান ও সামিন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ফেরদৌস হাসান ও সাজিদুরকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে, টিএসসিসিতে একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিরোধ মেটেনি। একপর্যায়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। এতে রসায়ন বিভাগের দুই শিক্ষার্থী আহত হন। এর জেরে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একাডেমিক ভবন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনে হামলা ও ভাঙচুর করেন। এ সময় ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে রসায়ন বিভাগের আরও দুই শিক্ষার্থী আহত হন। পরে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা রসায়ন বিভাগের একাডেমিক ভবন জাবির ইবনে হাইয়ান ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘর্ষে রসায়ন বিভাগের ফেরদৌস হাসানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।’ রাবি মেডিকেলের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আমরা গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকে পেয়েছি। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা একটু আশঙ্কাজনক। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর দ্রুততার সঙ্গে আমরা অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে দুই বিভাগের সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ প্রায় দুই সপ্তাহ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) হেফাজতে থাকার পর অবশেষে বাড়ি ফিরছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন শিক্ষিকা ভেঙ্কটা নরসমাম্বা ভাসামশেট্টি। একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তার সাড়ে সাত হাজার ডলারের জামিন মঞ্জুর করেছেন। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) ভেঙ্কটাকে 'পলাতক হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত এই রায় দেন। নর্থ ক্যারোলিনার স্টেট সিনেটর জে চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মুক্তির খবরটি নিশ্চিত করে লেখেন, "ভেঙ্কটা বাড়ি ফিরছেন।" তার ভার্চুয়াল জামিন শুনানিতে ৫০ জনেরও বেশি স্বজন ও সহকর্মী অংশ নেন এবং তার মুক্তির দাবিতে খোলা একটি পিটিশনে আট হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছিলেন। ভেঙ্কটার এই আইনি জটিলতার শুরু হয় ২০২২ সালে। অসুস্থ বাবাকে দেখতে সেসময় তিনি ভারতে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে তার ছয় মাসের বেশি সময় লেগে যায়। এরপরই ডিএইচএস অভিযোগ তোলে যে, দীর্ঘসময় দেশের বাইরে থাকায় তিনি তার বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার (গ্রিন কার্ড) মর্যাদা হারিয়েছেন। গত ১৯ মে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক প্রমাণের অভাবে সরকারের এই অভিযোগ খারিজ করে দেন এবং তাকে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে থাকার অনুমতি দেন। তা সত্ত্বেও আইসিই কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ বহাল রাখে। সবশেষ গত ১১ আগস্ট মেয়েকে নিয়ে শার্লটের আইসিই অফিসে হাজিরা দিতে গেলে ভেঙ্কটাকে আকস্মিকভাবে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাকে জর্জিয়ার আরউইন কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে এই বয়স্ক নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়। তার পরিবারের অভিযোগ, গুরুতর ইনসুলিন-নির্ভর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও বন্দিদশায় তাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা ও উপযুক্ত খাবার দেওয়া হয়নি। ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো ভেঙ্কটা ২০১৩ সালে গ্রিন কার্ড পান। নর্থ ক্যারোলিনায় দীর্ঘ তিন দশক ধরে বসবাস করা এই নারী ওয়েক কাউন্টির পাবলিক স্কুলে শিক্ষকতা করতেন এবং তার দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনিরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। অবশেষে জামিন পাওয়ায় পরিবারের কাছে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে সিনেটর জে চৌধুরী বলেন, এই দুঃস্বপ্নের অবসান হওয়ায় তিনি আনন্দিত, তবে ভেঙ্কটা বা অন্য কারও সঙ্গেই এমন অবিচার হওয়া উচিত হয়নি।
যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে একটি সিনাগগে প্রাণঘাতী হামলার জেরে দুটি মসজিদে ফোন করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অপরাধে গ্যাব্রিয়েল লেভি নামের ২১ বছর বয়সী এক যুবককে ২৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার লিডস ক্রাউন আদালতে হত্যার হুমকির বিষয়টি স্বীকার করার পর বিচারক তাকে দুই বছরেরও বেশি সময়ের এই সাজা প্রদান করেন। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর বিকেলে ম্যানচেস্টারের চিথাম হিলের আল-সুন্নাহ মসজিদে বেনামে ফোন করেন লেভি। ফোন ধরা ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "আমি তোমাদের মসজিদে এসে তোমাদের হত্যা করব।" একই দিন বিকেলে তিনি ম্যানচেস্টারের ইকরা মসজিদেও ফোন করে সেখানকার এক কর্মীকে বলেন, "আমি তোমাকে হত্যা করব, মুসলিম।" গ্রেপ্তারের পর ইহুদি ধর্মাবলম্বী এই যুবক পুলিশকে জানান, মাত্র দুদিন আগে ম্যানচেস্টারের একটি সিনাগগে হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তিনি এই ফোন কলগুলো করেছিলেন। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে ইসলামোফোবিক ও বর্ণবাদী ঘৃণামূলক বার্তাও পায় পুলিশ। এর আগে, গত ২ অক্টোবর ইহুদিদের পবিত্র দিন 'ইয়োম কিপুর' চলাকালে ক্রাম্পসালের হিটন পার্ক হিব্রু কনগ্রেগেশন সিনাগগে ভয়াবহ ওই হামলাটি ঘটে। জিহাদ আল-শামি নামের ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে সিনাগগের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভুয়া আত্মঘাতী বেল্ট পরে ছুরি দিয়ে হামলা চালায়। পরে সশস্ত্র পুলিশের গুলিতে সে নিহত হয়। ওই হামলায় দুজন পুণ্যার্থী প্রাণ হারান। ৬৬ বছর বয়সী মেলভিন ক্রাভিটজ আল-শামির ছুরিকাঘাতে এবং ৫৩ বছর বয়সী আদ্রিয়ান ডলবি ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা এক পুলিশ কর্মকর্তার ভুল গুলিতে বুকে আঘাত পেয়ে মারা যান। এই মামলার রায়ের বিষয়ে সিনিয়র ক্রাউন প্রসিকিউটর আমির সাজাদ বলেন, নিজের দায়িত্ব পালনের সময় কাউকে হত্যার হুমকি দিয়ে আতঙ্কিত করার অধিকার কারও নেই। গ্যাব্রিয়েল লেভি যখন বেপরোয়াভাবে ফোন করে এই হুমকিগুলো দিচ্ছিলেন, তখন তিনি একবারও ভাবেননি অপর প্রান্তে কে আছেন। হত্যার হুমকি এবং ইসলামোফোবিক যেকোনো ঘৃণামূলক অপরাধকে আইনিভাবে সব সময়ই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে তীব্র শীতের রাতে নিজের আট বছর বয়সী অটিস্টিক ছেলে থমাস ভালভাকে গরমবিহীন গ্যারেজে আটকে রেখে হত্যার দায়ে মাইকেল ভালভা নামের এক সাবেক এনওয়াইপিডি (NYPD) কর্মকর্তাকে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ঘটা অমানবিক এই ঘটনার পর হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে আদালতে এই ঘটনাকে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা হিসেবে প্রমাণ করা হয়েছে। আদালতের তথ্যমতে, সাফোক কাউন্টির সেন্টার মোরিশেস এলাকায় বসবাসরত ওই পরিবারে থমাস ও তার বড় ভাই অ্যান্থনিকে নিয়মিত হিটারবিহীন ঠান্ডা গ্যারেজে ঘুমাতে বাধ্য করা হতো। ২০২০ সালের ১৭ জানুয়ারি রাতে বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ১৯ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নেমে যায়। ওই হাড়কাঁপানো শীতে টানা ১৬ ঘণ্টা গ্যারেজে আটকে থাকার কারণে গুরুতর হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয় থমাস। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নেমে দাঁড়িয়েছিল মাত্র ৭৬ দশমিক ১ ডিগ্রি ফারেনহাইটে, যা একজন মানুষের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে প্রায় ২০ ডিগ্রি কম। ঘটনার পর নিজেকে বাঁচাতে মাইকেল ভালভা পুলিশকে ফোন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তার ছেলে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছে এবং শ্বাস নিচ্ছে কি না তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তবে পুলিশি তদন্তে থমাসের মৃত্যুর আসল কারণ বেরিয়ে আসে এবং প্রসিকিউটররা আদালতে প্রমাণ করেন যে শিশু দুটির ওপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। ২০২২ সালের নভেম্বরে জুরি বোর্ড তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ডিসেম্বরে বিচারক উইলিয়াম কনডন তাকে এই সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করেন। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে মাইকেলের তৎকালীন বাগদত্তা অ্যাঞ্জেলা পোলিনাকেও ২০২৩ সালে সমপরিমাণ সাজা দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, থমাসের মৃত্যুর আগে থেকেই পরিবারটির ওপর শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের (সিপিএস) নজরদারি ছিল। তা সত্ত্বেও এমন মর্মান্তিক মৃত্যু ঠেকাতে না পারায় চাইল্ড প্রোটেক্টিভ সার্ভিসেসের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক বিশেষ গ্র্যান্ড জুরি তদন্ত প্রতিবেদনে সংস্থাটির চরম ব্যর্থতার কথা উঠে আসে, যার ফলে কাউন্টি কর্তৃপক্ষ শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক সংস্কার ও নজরদারি বাড়াতে বাধ্য হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি গোটা যুক্তরাষ্ট্রে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ও সরকারি সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা নিয়ে এক গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পূর্ণাঙ্গ হাইস্পিড রেল প্রকল্প ক্যালিফোর্নিয়া হাইস্পিড রেল এখন বড় ধরনের অর্থসংকটে পড়েছে। নতুন অর্থায়ন না হলে প্রকল্পটির বর্তমান অর্থ ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রকল্পটির ইন্সপেক্টর জেনারেল বেঞ্জামিন বেলন্যাপ। ৩১ জুলাই গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এবং ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আইনসভার নেতাদের কাছে পাঠানো এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বেলন্যাপ প্রকল্পটির অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান নির্মাণকাজ চালিয়ে যেতে আগামী কয়েক বছরে বড় ধরনের অর্থের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। শুধু ২০২৭-২৮ অর্থবছরেই মার্সেড থেকে বেকার্সফিল্ড অংশের নির্মাণকাজ চালিয়ে যেতে অতিরিক্ত প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়া হাইস্পিড রেল অথরিটি জানিয়েছে, প্রকল্পটির প্রথম ধাপে সান ফ্রান্সিসকো থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস ও আনাহেইম পর্যন্ত সংযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। তবে বর্তমানে নির্মাণের মূল কাজ চলছে সেন্ট্রাল ভ্যালির মার্সেড থেকে বেকার্সফিল্ড অংশে। অথরিটির ২০২৬ সালের বিজনেস প্ল্যানে প্রকল্পের এই অংশকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত সেবা চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয়ও বছরের পর বছর বেড়েছে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী পুরো প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ব্যয় ১২৬ বিলিয়ন ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২৩১ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। পুরো প্রকল্পের কার্যক্রম চালুর সময়সীমাও অনেক পিছিয়েছে, যা এখন প্রায় ২০৩৯ বা ২০৪০ সালের দিকে গিয়ে ঠেকেছে। অর্থসংকটের পাশাপাশি প্রকল্পটির বিলম্ব ও নির্মাণ ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইন্সপেক্টর জেনারেলের পর্যালোচনায় প্রকল্পের ব্যয়, সময়সূচি এবং অর্থায়নের ঝুঁকি নিয়ে আইনপ্রণেতাদের আরও স্বচ্ছ তথ্য দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। বেলন্যাপ অভিযোগ করেছেন, প্রকল্পের কিছু মৌলিক তথ্য যথেষ্ট স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়নি, যা আইনপ্রণেতাদের কার্যকর নজরদারিকে বাধাগ্রস্ত করছে। তবে প্রকল্পটি এখনো বন্ধ হয়ে যায়নি। ক্যালিফোর্নিয়া হাইস্পিড রেল অথরিটি ২০২৬ সালের বিজনেস প্ল্যানে নতুন অর্থায়ন, সম্ভাব্য বেসরকারি বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ রাজস্বের বিভিন্ন উৎস ব্যবহার করে প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সেন্ট্রাল ভ্যালিতে নির্মাণকাজও অব্যাহত রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এই প্রকল্পকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ‘true high-speed rail system’ হিসেবে তুলে ধরছে হাইস্পিড রেল অথরিটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্রেনগুলো ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্রায় ২২০ মাইল গতিতে চলতে পারবে। জুন ২০২৬-এ কর্তৃপক্ষ দেশের প্রথম হাইস্পিড রেল ট্র্যাক ও সিস্টেম নির্মাণের জন্য একটি টিম অনুমোদনের কথাও জানিয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পটি এখনো নির্মাণাধীন এবং পুরোপুরি থেমে যায়নি। তবে নতুন অর্থের ব্যবস্থা না হলে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বর্তমান অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বহু প্রতীক্ষিত এই হাইস্পিড ‘বুলেট ট্রেন’ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে নতুন অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের মধ্যে শরিয়াহসম্মত হোম ফাইন্যান্সিং নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। প্রচলিত মর্টগেজের বিকল্প হিসেবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইসলামিক শরিয়া ভিত্তিক লোন নিয়ে কাজ করে তার মধ্যে ইজারা ইসলামিক ফাইন্যান্স একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রচলিত সুদভিত্তিক লোনের পরিবর্তে লিজ বা ভাড়াভিত্তিক ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। ইজারার একটি প্রচলিত কাঠামো হলো ‘লিজ টু ওন’ বা ‘লিজ টু পারচেজ’, যেখানে ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন সম্পত্তি গ্রাহকের কাছে লিজ দেওয়া হয় এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পরবর্তীতে মালিকানা হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকে। প্রচলিত মর্টগেজে একজন ক্রেতা ব্যাংক বা লেন্ডারের কাছ থেকে অর্থ লোন নিয়ে বাড়ি কেনেন এবং সেই টাকার ওপর ইন্টারেস্ট পরিশোধ করেন। অন্যদিকে, ইজারা কাঠামোতে সম্পত্তির মালিকানা ও লিজের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে মাসিক পেমেন্ট নির্ধারণ করা হয়। তবে ইজারা ফাইন্যান্সের নির্দিষ্ট কাঠামো প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে। ইজারা ইসলামিক ফাইন্যান্স এবং প্রচলিত মর্টগেজের পার্থক্য সম্পর্কে ইজারা লোন নিয়ে কাজ করা ফাইন্যান্সিং অফিসার খন্দকার জামিল বলেন, “রেগুলার মর্টগেজে যখন আপনি বাড়ি কেনেন, ওই বাড়িতে আপনার ইন্টারেস্ট ইনভলভ থাকে। অর্থাৎ আপনি ধরেন ৫০০,০০০ ডলার লোন নিলেন, প্রতি মাসে আপনাকে যে পেমেন্ট করতে হবে, তার একটি অংশ যাবে ৫০০,০০০ ডলারের লোনের অংশ হিসেবে, আর বাকিটা যাবে ইন্টারেস্ট হিসেবে।” ইজারা পদ্ধতি সম্পর্কে খন্দকার জামিল বলেন, “ইজারা ইসলামী ফাইন্যান্স হচ্ছে লিজ টু ওন পদ্ধতি। এখানে ইন্টারেস্ট বিষয়টি ইনভলভ থাকে না। এটা কাজ করে এরকম যে ইজারা একটা ট্রাস্ট গঠন করে, বাড়ির মালিকানা থাকে ট্রাস্টের নামে এবং আপনি একজন টেন্যান্ট হিসেবে বাড়িতে বসবাস করেন।” তিনি আরও বলেন, “প্রতি মাসে আপনি যে পেমেন্ট দেবেন, পেমেন্টের একটি অংশ লোনের অংশ হিসেবে যাবে আর বাকিটা রেন্ট হিসেবে যাবে। এখানে আপনি ইন্টারেস্ট পেমেন্ট করছেন না। এখানে আপনি রেন্টের মাধ্যমে প্রফিটটা পে করছেন।” ইজারা কাঠামোর ক্ষেত্রে সম্পত্তির মালিকানা, লিজের শর্ত এবং মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চুক্তির ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। সাধারণ ইজারা নীতিতে ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠান বা লেসর সম্পত্তির মালিক হিসেবে সেটি গ্রাহকের কাছে লিজ দেয়। লিজ টু ওনকাঠামোয় পরবর্তীতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা গ্রাহকের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকে। খন্দকার জামিলের ব্যাখ্যায়, দুই ব্যবস্থার মূল পার্থক্য হলো প্রচলিত মর্টগেজে ঋণের ওপর ইন্টারেস্ট পরিশোধ করা হয়, আর ইজারা কাঠামোয় সম্পত্তি ব্যবহারের জন্য রেন্টভিত্তিক পেমেন্টের মাধ্যমে ফাইন্যান্সিং ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট ইজারা ফাইন্যান্সিং পণ্য শরিয়াহসম্মত কি না, তা নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চুক্তির সম্পূর্ণ কাঠামো, মালিকানা ব্যবস্থা, রেন্ট, প্রফিট এবং অন্যান্য শর্ত আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
গর্ভের শিশুর গুরুতর হৃদ্যন্ত্রের ত্রুটি ধরা পড়ার পর গর্ভপাত চেয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক দম্পতি। কিন্তু তাদের সারোগেট মা ম্যাককেনা ওয়েস্ট সেই সিদ্ধান্তে রাজি না হয়ে টেক্সাসে চলে যান এবং শেষ পর্যন্ত শিশুটির জন্ম দেন। এখন সেই শিশুই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, আর জন্মের পর তাকে নিজেদের সন্তান হিসেবে নিয়ে অভিভাবকত্বের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আদালতে লড়ছেন ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতি নওশীন গিলকার ও ওমর আহমেদ। ডালাসের একটি আদালতে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে গিলকার ও আহমেদ দাবি করেন, তারা শিশুটির জেনেটিক বাবা-মা এবং শিশুটির চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদেরই। অন্যদিকে সারোগেট ম্যাককেনা ওয়েস্টের আইনজীবীরা আদালতে তার পক্ষে শিশুটির একক কনজারভেটরশিপ বা অভিভাবকত্ব চেয়েছেন, যাতে তিনি শিশুটির চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আদালত মঙ্গলবার চূড়ান্ত কাস্টডি বা অভিভাবকত্বের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। ঘটনার শুরু গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহে। তখন পরীক্ষায় দেখা যায়, শিশুটির হাইপোপ্লাস্টিক লেফট হার্ট সিনড্রোম বা HLHS রয়েছে। এটি একটি গুরুতর জন্মগত হৃদ্যন্ত্রের ত্রুটি, যেখানে হৃদ্যন্ত্রের বাম পাশ স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয় না এবং শরীরে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। চিকিৎসা না হলে এ ধরনের অবস্থায় জন্মের পর অল্প সময়ের মধ্যেই শিশুর মৃত্যু হতে পারে। শিশুটির এই জটিলতা জানার পর গিলকার ও আহমেদ গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেন বলে আদালতের নথি ও শুনানিতে উঠে এসেছে। ওয়েস্টও আদালতে স্বীকার করেছেন, ২৩ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় তিনি দম্পতির অনুরোধে গর্ভপাতের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি গর্ভপাত করাতে রাজি হননি। তার দাবি, শিশুটির বেঁচে থাকার এবং দীর্ঘ জীবন পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। এরপর তিনি আলাস্কা থেকে টেক্সাসে চলে যান, যেখানে শিশুটির জন্ম হয়। ১২ আগস্ট টেক্সাসে শিশুটির জন্মের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। গিলকার ও আহমেদ শিশুটির নাম রেখেছেন রুমি। অন্যদিকে ওয়েস্ট শিশুটিকে গ্যাব্রিয়েল নামে ডাকেন। শিশুটির গুরুতর হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার কারণে জন্মের পর দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। পরে তার প্রথম বড় ধরনের হার্ট সার্জারি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, HLHS আক্রান্ত শিশুদের জন্য একাধিক ধাপে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আদালতে গিলকার জানান, অস্ত্রোপচারের পর শিশুটির অবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়েছে এবং তাকে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। আদালতে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, শিশুটি তাদের সন্তান এবং তারা তাকে হারাতে চান না। অন্যদিকে ওয়েস্টের আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন, গর্ভাবস্থায় শিশুটির গুরুতর অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর যে দম্পতি গর্ভপাত চেয়েছিলেন, তারা এখন শিশুটির জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের যুক্তি, শিশুটির চিকিৎসা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ওয়েস্টের কনজারভেটরশিপ থাকা উচিত। শুনানিতে ওয়েস্টের আইনজীবী এমনও জানান, দম্পতি যদি শিশুটির প্রয়োজনীয় সার্জারি ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করেন, তাহলে ওয়েস্ট তার কাস্টডি দাবি প্রত্যাহার করতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সাবেক প্রেমিকের ভয়াবহ হামলার শিকার হন কায়লা হেইস। ২০১৭ সালের ২১ অক্টোবর সিম্পসনভিল শহরে সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে সম্পর্ক পুনরায় শুরু করতে অস্বীকৃতি জানালে ওই ব্যক্তি তাকে জোর করে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তার নিচের ঠোঁটে এমনভাবে কামড় দেন যে ঠোঁটের বড় একটি অংশ ছিঁড়ে যায়। তখন কায়লার বয়স ছিল ১৯ বছর। হামলার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জরুরি প্লাস্টিক সার্জারি করে ঠোঁট পুনর্গঠনের চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্ষত এতটাই গুরুতর ছিল যে ছিঁড়ে যাওয়া অংশটি পুনরায় জোড়া লাগানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার ফলে তার মুখে স্থায়ী দাগ এবং মুখের নড়াচড়ায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়। কায়লা পরে জানান, সম্পর্কের সময় তার সাবেক প্রেমিকের আচরণ ছিল নিয়ন্ত্রণমূলক ও অস্বাস্থ্যকর। সম্পর্ক শেষ করার পরও তিনি শেষবারের মতো বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে দেখা করতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু সেই সাক্ষাৎই তার জীবনে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায়। হামলার পর শুধু শারীরিক ক্ষত নয়, গভীর মানসিক আঘাতের সঙ্গেও লড়তে হয় কায়লাকে। নিজের চেহারার পরিবর্তন মেনে নেওয়া এবং মানুষের সামনে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসার জন্য তাকে একাধিক অস্ত্রোপচার ও পুনর্গঠনমূলক চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। একপর্যায়ে তাকে কলেজের পড়াশোনাও বন্ধ করতে হয়েছিল এবং তার বৃত্তি হারানোর কথাও তিনি জানিয়েছিলেন। এই হামলার ঘটনায় সাবেক প্রেমিক শেথ অ্যারন ফ্লুরি ২০১৮ সালের অক্টোবরে গুরুতর ধরনের হামলার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেয়। সাজা ঘোষণার সময় প্রসিকিউটর ওয়াল্ট উইলকিন্স বলেন, ঘটনাটি দেখিয়েছে কীভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে সহিংসতা খুব দ্রুত ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ফ্লুরিকে অন্তত ৮৫ শতাংশ সাজা ভোগ করতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। তবে সেই ঘটনার পর কায়লার জীবন শুধু চিকিৎসা আর আঘাতের স্মৃতিতে আটকে থাকেনি। নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে তুলে ধরে তিনি পারিবারিক সহিংসতার শিকার অন্য মানুষদের সচেতন করার কাজ শুরু করেন। পরে লেখক আলিসা ডিভাইনের সঙ্গে যৌথভাবে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘শি রাইজেস’ নামে একটি বইয়েও তার গল্প তুলে ধরা হয়। কায়লার অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ, ভয় দেখানো কিংবা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তকে সম্মান না করার মতো আচরণকে শুরুতেই গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কারণ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যকার সহিংসতা অনেক সময় ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে গুরুতর হামলায় রূপ নিতে পারে। ভয়াবহ সেই হামলার পরও কায়লা নিজের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। নিজের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতকে আড়াল না করে বরং সেই অভিজ্ঞতাকেই অন্যদের পাশে দাঁড়ানোর শক্তিতে পরিণত করেছেন তিনি। তার গল্প এখন পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি এবং নির্যাতনের শিকার মানুষদের সহায়তা নেওয়ার গুরুত্ব বোঝানোর একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
মিসরের পশ্চিম মরুভূমির আবু-তারতুর মালভূমির নিচে প্রায় ৭ কোটি বছর আগের এক সমুদ্রজগতের অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকেরা। সেখানে পাওয়া জীবাশ্ম হাঙরের দাঁত বিশ্লেষণ করে অন্তত পাঁচটি বিলুপ্ত প্রজাতির হাঙরের উপস্থিতির তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, বর্তমানের শুষ্ক মরুভূমি একসময় ছিল উষ্ণ ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি সামুদ্রিক পরিবেশ। কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি সম্প্রতি গবেষণাপত্র প্রকাশকারী সাময়িকী ক্রিটেশিয়াস রিসার্চে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকেরা আবু-তারতুর এলাকার ডুই গঠনের ফসফেটসমৃদ্ধ স্তর থেকে হাঙরের জীবাশ্ম দাঁত সংগ্রহ করেন। এসব দাঁতের আকার ও গঠন বিশ্লেষণ করে বিলুপ্ত ল্যামনিফর্ম গোত্রের বিভিন্ন হাঙর শনাক্ত করা হয়। গবেষণায় শনাক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রেটালামনা, স্ক্যাপানোরাইনকাস, সেরাটালামনা ও স্কোয়ালিকোরাক্স গোত্রের হাঙর। গবেষকদের মতে, স্ক্যাপানোরাইনকাসের একটি প্রজাতির জীবাশ্ম দাঁত আফ্রিকায় এ ধরনের প্রথম আবিষ্কার হতে পারে। পাশাপাশি অন্তত দুটি প্রজাতির জীবাশ্ম এর আগে মিসরে নথিভুক্ত হয়নি। হাঙরের দাঁতের বৈচিত্র্যও গবেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কিছু দাঁত সরু ও সূচালো, আবার কিছু ছিল তুলনামূলক চওড়া ও করাতের মতো ধারযুক্ত। দাঁতের এই পার্থক্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ওই প্রাচীন সমুদ্রে বিভিন্ন প্রজাতির হাঙর ভিন্ন ধরনের খাবার ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বেঁচে ছিল। কেউ গভীর পানিতে শিকার করত, আবার কেউ অপেক্ষাকৃত অগভীর বা উপকূলীয় এলাকায় বিচরণ করত। গবেষণায় পাওয়া জীবাশ্মগুলো যে স্তর থেকে এসেছে, সেটি ডুই গঠনের অংশ। গবেষকদের মতে, প্রায় ৭ কোটি বছর আগে ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষভাগে ওই অঞ্চল ছিল উষ্ণমণ্ডলীয় সামুদ্রিক পরিবেশ। তখন পৃথিবীর তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি ছিল এবং সমুদ্রপৃষ্ঠও আজকের তুলনায় অনেক উঁচু ছিল। ফলে বর্তমানে উত্তর আফ্রিকার যে বিস্তীর্ণ এলাকা মরুভূমি, তার কিছু অংশ তখন সমুদ্রের নিচে ছিল। ওই প্রাচীন সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হওয়ার পেছনে পানির গভীর স্তর থেকে পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ পানি ওপরে উঠে আসার প্রক্রিয়া বা আপওয়েলিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন। এতে সমুদ্রের ওপরের স্তরে পুষ্টি বাড়ত এবং ছোট সামুদ্রিক প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেত, যা পুরো খাদ্যশৃঙ্খলকে সমৃদ্ধ করত। আবু-তারতুরের এই আবিষ্কার মিসরের মরুভূমিতে প্রাচীন সামুদ্রিক জীবনের অস্তিত্বের নতুন প্রমাণ যোগ করেছে। এর আগে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে বিভিন্ন সময় হাঙর, রে মাছ, কুমির এবং প্রাচীন তিমির জীবাশ্মও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ফায়ুম অঞ্চলের ওয়াদি আল-হিতান প্রাচীন তিমির জীবাশ্মের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এবং ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। নতুন গবেষণার গুরুত্ব শুধু কয়েকটি বিলুপ্ত হাঙরের প্রজাতি শনাক্ত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জীবাশ্মগুলো বিজ্ঞানীদের প্রায় ৭ কোটি বছর আগের উত্তর আফ্রিকার সামুদ্রিক পরিবেশ, খাদ্যশৃঙ্খল এবং জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। একই সঙ্গে সময়ের সঙ্গে কীভাবে সমুদ্র সরে গিয়ে ওই অঞ্চল আজকের শুষ্ক মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে, সেই দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রেও এসব আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্লেবয় মডেল ও অভিনেত্রী আনা নিকোল স্মিথ বিয়ে করেছিলেন ৮৯ বছর বয়সী তেল ব্যবসায়ী জে. হাওয়ার্ড মার্শালকে। বিয়ের মাত্র ১৪ মাস পর মার্শালের মৃত্যু হলে তার বিপুল সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই। প্রায় দুই দশক ধরে চলা সেই মামলা দুইবার যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত ওই সম্পত্তি থেকে কোনো অর্থই পাননি স্মিথ বা তার উত্তরাধিকারী সম্পত্তি। স্মিথের আসল নাম ছিল ভিকি লিন হোগান। বিয়ের সময় তার বয়স ছিল ২৬ বছর। ১৯৯৫ সালের আগস্টে মার্শাল মারা যাওয়ার পর তার উইল ও জীবিত অবস্থায় করা সম্পত্তির অছি চুক্তিতে ছেলে ই. পিয়ার্স মার্শালকে প্রধান উত্তরাধিকারী করা হয়। সেখানে স্মিথের জন্য কোনো অংশ রাখা হয়নি। তবে স্মিথ দাবি করেন, মার্শাল তাকে মৌখিকভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে বিয়ের সময় তার সম্পদের অর্ধেকের জন্য একটি আলাদা অছি তহবিল তৈরি করা হবে। এই দাবির ভিত্তিতে তিনি মার্শালের ছেলে পিয়ার্সের বিরুদ্ধে সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে আইনি লড়াই শুরু করেন। প্রথমে টেক্সাসের আদালতে বিষয়টি ওঠে। সেখানে স্মিথের দাবি প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে একই বিরোধ নতুন মোড় নেয়। একপর্যায়ে স্মিথের পক্ষে প্রায় ৪৭৫ মিলিয়ন ডলারের একটি রায় দেওয়া হয়। পরে সেই অর্থ কমিয়ে প্রায় ৮৯ মিলিয়ন ডলার করা হয়। তবে এসব রায় শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। মামলাটি ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছে যায়। মার্শাল বনাম মার্শাল মামলায় আদালত রায় দেয়, টেক্সাসের সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলার কারণে স্মিথের ফেডারেল দাবি শোনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। এই রায়ে স্মিথকে কোনো অর্থ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, তবে তার ফেডারেল আইনি দাবি নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম চালানোর সুযোগ তৈরি হয়। এরপর ২০১১ সালে মামলাটি আবারও সর্বোচ্চ আদালতে যায়। এবার মূল প্রশ্ন ছিল, ক্যালিফোর্নিয়ার দেউলিয়া আদালত স্মিথের পক্ষে যে চূড়ান্ত রায় দিয়েছিল, সেটি দেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা ওই আদালতের ছিল কি না। সর্বোচ্চ আদালত জানায়, ওই ধরনের চূড়ান্ত রায় দেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা দেউলিয়া আদালতের ছিল না। ফলে স্মিথের পক্ষে দেওয়া আগের বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণের রায় আর বহাল থাকেনি। এর মধ্যে মামলার দুই প্রধান ব্যক্তিই মারা যান। ই. পিয়ার্স মার্শাল ২০০৬ সালে মারা যান। পরের বছর ২০০৭ সালে ৩৯ বছর বয়সে মারা যান আনা নিকোল স্মিথ। তবে তাদের মৃত্যুর পরও দুই পক্ষের সম্পত্তির উত্তরাধিকারীরা আইনি লড়াই চালিয়ে যান। স্মিথের মৃত্যুর পর তার সম্পত্তির পক্ষে মামলাটি চালিয়ে যাওয়া হয়। তার কন্যা ড্যানিলিন মার্শাল-বির্কহেডের স্বার্থও এই বিরোধের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর মার্শাল পরিবারের বিতর্কিত সম্পত্তি থেকে স্মিথের সম্পত্তির উত্তরাধিকারীরা কোনো অর্থ পাননি। প্রায় দুই দশকের এই মামলা শুধু একজন তারকার উত্তরাধিকার দাবি নিয়ে আলোচিত হয়নি। এটি যুক্তরাষ্ট্রে সম্পত্তির উত্তরাধিকার, দেউলিয়া আদালতের ক্ষমতা এবং অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আদালতের এখতিয়ার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির তৈরি করে। অর্থাৎ, ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বিশাল সম্পত্তির দাবিতে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে আনা নিকোল স্মিথ বিভিন্ন পর্যায়ে আদালতে বড় ধরনের সাফল্য পেলেও শেষ পর্যন্ত সেই বিপুল সম্পদের কোনো অংশ তার নিজের বা তার উত্তরাধিকারীদের হাতে পৌঁছায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কার্যক্রমের সময় দাবি করা পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করতে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা ব্যবহারের কর্মসূচি সম্প্রসারণ করছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। এ জন্য ভার্জিনিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসএনএ ইন্টারন্যাশনালকে এক বছরের জন্য ১ কোটি ১০ লাখ ডলারের কাছাকাছি একটি চুক্তি দিয়েছে সংস্থাটি। ফেডারেল ব্যয়সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ১০ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের এই চুক্তি গত ১০ আগস্ট শুরু হয়েছে এবং ২০২৭ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস বা ইআরওর বিভিন্ন ফিল্ড অফিসে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সেবা সরবরাহ করা হবে। চুক্তির সরকারি বিবরণে বলা হয়েছে, এসব পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো দাবি করা জৈবিক পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করা। বিশেষ করে অভিবাসন কার্যক্রমের সময় কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কোনো শিশুর বাবা-মা বা আত্মীয় বলে দাবি করলে সেই সম্পর্ক সত্য কি না, তা দ্রুত পরীক্ষা করার সুযোগ তৈরি হবে। দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষার এই পদ্ধতি আইসিইর জন্য নতুন নয়। ২০১৯ সালে আইসিইর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস বিভাগ এ ধরনের পরীক্ষার পাইলট কার্যক্রম শুরু করেছিল। ২০২২ সালে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ হাজার ৫১৬টি দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩০০টি পরীক্ষায় দাবি করা বাবা-মা ও সন্তানের জৈবিক সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। পরে ২০২১ সালে সীমান্তে পারিবারিক ডিএনএ পরীক্ষার দায়িত্ব কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপির হাতে যায়। ২০২৫ সালে একই উদ্দেশ্যে ৬ দশমিক ২৪ মিলিয়ন ডলারের আরেকটি চুক্তি দেওয়া হয়েছিল। নতুন চুক্তিসহ এই কর্মসূচিতে দুই দফায় ১৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল অর্থ বরাদ্দ হয়েছে বলে সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিউজউইক জানিয়েছে। তবে ডিএনএ পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো নিয়ে গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। অভিবাসী অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, অনেক অভিবাসী কেন তাদের ডিএনএ নেওয়া হচ্ছে এবং সেই তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হবে, তা পুরোপুরি বুঝতে নাও পারেন। জেনেটিক তথ্য অন্য বায়োমেট্রিক তথ্যের তুলনায় আলাদা, কারণ এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তির পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া সম্ভব। নিউজউইকের প্রতিবেদনে জর্জটাউন ল স্কুলের সেন্টার অন প্রাইভেসি অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক স্টিভি গ্ল্যাবারসন বলেন, অনেক মানুষ তাদের ডিএনএ কেন নেওয়া হয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে, তা বুঝতে পারেন না। সরকারি নথিতে নতুন চুক্তির আওতায় ডিএনএ নমুনা নেওয়ার ক্ষেত্রে সম্মতির নিয়ম, তথ্য কতদিন সংরক্ষণ করা হবে, কখন তা ধ্বংস করা হবে কিংবা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করা হয়নি। কোনো পরীক্ষায় দাবি করা জৈবিক সম্পর্ক প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য কী ধরনের প্রক্রিয়াগত সুযোগ থাকবে, সেটিও এসব নথিতে স্পষ্ট নয়। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির আগের নীতিমালা অনুযায়ী, পারিবারিক ডিএনএ পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল অভিবাসন কার্যক্রমে ভুয়া বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ক শনাক্ত করা এবং প্রকৃত পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করা। সরকারি ব্যাখ্যায় এর আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত পরিবারকে একসঙ্গে রাখার ক্ষেত্রে সহায়তা করা। এদিকে নতুন চুক্তির সময় এমনিতেই আইসিইর ডিএনএ সংগ্রহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ওয়্যারড জানিয়েছে, ২০২৫ সালে আইসিইর হেফাজতে থাকা বিপুলসংখ্যক মানুষের ডিএনএ সংগ্রহ করে এফবিআইয়ের জাতীয় ডিএনএ ডেটাবেসে যুক্ত করা হয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে পারিবারিক সম্পর্ক যাচাইয়ের দ্রুত ডিএনএ কর্মসূচি এবং অপরাধ তদন্তের ডিএনএ ডেটাবেসে প্রোফাইল জমা দেওয়ার কার্যক্রম আলাদা প্রক্রিয়া।
বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেট ও ট্রিস্টান টেটের আইনজীবীরা স্বীকার করেছেন, অনলাইনে তাদের বিপুল সম্পদের যে প্রদর্শন দেখা যেত, তার বড় অংশই ছিল সাজানো। যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণ ঠেকানোর আইনি লড়াইয়ের মধ্যে আদালতে দেওয়া নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেট ভাইদের আইনজীবীরা আদালতকে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখানো বিলাসবহুল গাড়িগুলোর কয়েকটি তারা ভাড়া নিয়েছিলেন। এমনকি প্রায় ৫ কোটি ডলার মূল্যের একটি সুপারইয়টও তাদের মালিকানাধীন ছিল না। সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের বিনিময়ে তারা অর্থ পেয়েছিলেন। আইনজীবীদের এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল টেট ভাইদের জামিনে মুক্তি দিলে তারা পালিয়ে যেতে পারেন, এমন দাবির বিরোধিতা করা। প্রসিকিউশন তাদের বিপুল সম্পদ ও একাধিক পাসপোর্টকে সম্ভাব্য ফ্লাইট রিস্কের প্রমাণ হিসেবে দেখিয়েছে। ২৮ পৃষ্ঠার এক আইনি আবেদনে টেট ভাইদের আইনজীবীরা দাবি করেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলোকে বাস্তব সম্পদের সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পোস্টে ব্যঙ্গ, অতিরঞ্জন ও প্রচারণার উপাদান ছিল এবং বেশি ভিউ ও লাইক পাওয়ার মাধ্যমে আয় বাড়ানোই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিডিওতে দেখা একটি অ্যাস্টন মার্টিনের মূল্য প্রায় ২১ লাখ ডলার এবং দুটি বুগাটির সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ডলার হলেও গাড়িগুলো টেট ভাইদের নিজস্ব ছিল না। এগুলো ভিডিও তৈরির জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। একইভাবে, প্রায় ৫ কোটি ডলার মূল্যের যে সুপারইয়ট তাদের বিলাসী জীবনযাপনের অংশ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখানো হয়েছিল, আদালতের নথি অনুযায়ী সেটিও তাদের মালিকানাধীন নয়। টেট ভাইয়েরা সেটি প্রচারের জন্য অর্থ পেয়েছিলেন। আইনজীবীরা আরও দাবি করেছেন, অ্যান্ড্রু টেটের একাধিক পাসপোর্ট থাকার বিষয়ে আগের কিছু বক্তব্যও গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন নেই। প্রসিকিউশন তার এমন বক্তব্যকে সম্ভাব্য পালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করলেও আইনজীবীরা সেটিকে রসিকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অ্যান্ড্রু টেট বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ধর্ষণ, মানবপাচার ও অন্যান্য গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি ও চরম পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত আরও ১৯টি অভিযোগ আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার ভাই ট্রিস্টান টেটের বিরুদ্ধেও ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও মানবপাচারের অভিযোগ রয়েছে। দুই ভাই দীর্ঘদিন রোমানিয়ায় বসবাস করেছেন। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার, ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও অর্থপাচারসহ আলাদা তদন্ত চলছে। গত ১৮ জুলাই মিয়ামিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন এবং যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণ ঠেকাতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। আদালতে সম্পদের প্রদর্শন নিয়ে আইনজীবীদের এই স্বীকারোক্তি তাদের জামিন ও প্রত্যর্পণসংক্রান্ত মামলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা, পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ খুঁজছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা। শিক্ষার্থী থেকে শিক্ষক, উন্নয়নকর্মী, নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবী কিংবা কমিউনিটি পর্যায়ে কাজ করা তরুণদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের এক্সচেঞ্জ ও ফেলোশিপ প্রোগ্রাম। তবে প্রতিটি প্রোগ্রামের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া আলাদা। এ ধরনের প্রোগ্রামে শুধু ভালো ফলাফল নয়, নিজের কাজের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের সম্ভাবনা, উদ্যোগ, কমিউনিটিতে অবদান এবং ভবিষ্যতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই আবেদনকারীর কাজের প্রমাণ ও ডকুমেন্টেশনও গুরুত্বপূর্ণ। ১. Fulbright Program যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত এক্সচেঞ্জ ও স্কলারশিপ প্রোগ্রাম Fulbright। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক এক্সচেঞ্জের সুযোগ রয়েছে। Fulbright-এর বিভিন্ন ক্যাটাগরির মধ্যে Foreign Student Program এবং Foreign Language Teaching Assistant Program রয়েছে। কোন প্রোগ্রামে কোন যোগ্যতা প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট বছরের বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করে। ২. Community College Initiative বা CCI বাংলাদেশি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য CCI Program যুক্তরাষ্ট্রের কমিউনিটি কলেজে এক একাডেমিক বছর পড়াশোনার সুযোগ দেয়। প্রোগ্রামটিতে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নেতৃত্ব, কমিউনিটি সার্ভিস, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ এই প্রোগ্রামের অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর একটি। ৩. Global Undergraduate Exchange বা Global UGRAD বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য Global UGRAD একটি সেমিস্টারভিত্তিক নন-ডিগ্রি এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিনিময়, কমিউনিটি সার্ভিস ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ থাকে। আবেদন ও যোগ্যতার শর্ত সংশ্লিষ্ট বছরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যাচাই করতে হয়। ৪. Study of the U.S. Institutes বা SUSI বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য Study of the U.S. Institutes একটি স্বল্পমেয়াদি একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম। বিভিন্ন নির্দিষ্ট বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা, সমাজ, সংস্কৃতি ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ থাকে। কোন দেশের জন্য কোন SUSI প্রোগ্রাম চালু হবে, সেটি বছর ও প্রকল্পভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। ৫. Kennedy-Lugar Youth Exchange and Study বা YES হাই স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য YES Program যুক্তরাষ্ট্রে এক একাডেমিক বছর পড়াশোনা ও থাকার সুযোগ দেয়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আমেরিকান হোস্ট পরিবারের সঙ্গে থাকে, স্থানীয় হাই স্কুলে পড়াশোনা করে এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি কার্যক্রমে অংশ নেয়। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও দীর্ঘদিন ধরে এই প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছে। সাধারণত ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা এর জন্য বিবেচিত হয়, তবে নির্দিষ্ট বয়সসীমা প্রতিবছরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দেখতে হয়। ৬. Hubert H. Humphrey Fellowship পেশাজীবীদের জন্য Hubert H. Humphrey Fellowship একটি গুরুত্বপূর্ণ নন-ডিগ্রি গ্র্যাজুয়েট-লেভেল ফেলোশিপ। বিভিন্ন পেশা ও খাতে অভিজ্ঞতা থাকা ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ পান। নীতিনির্ধারণ, শিক্ষা, উন্নয়ন ও বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে কাজ করা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের জন্য এ ধরনের ফেলোশিপ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ৭. International Visitor Leadership Program বা IVLP পেশাজীবী ও উদীয়মান নেতাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পরিচিত প্রফেশনাল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামগুলোর একটি IVLP। সাধারণত প্রায় তিন সপ্তাহের প্রকল্পে অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কমিউনিটিতে গিয়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রের পেশাজীবীদের সঙ্গে বৈঠক, প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নেন। তবে অন্য অনেক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মতো IVLP-তে সরাসরি আবেদন করার সুযোগ নেই। অংশগ্রহণকারীদের সাধারণত বিদেশে থাকা মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা মনোনীত করেন। তবে এসব প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। শুধু কোনো সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্য হওয়া যায় না। প্রতিটি প্রোগ্রামের নিজস্ব যোগ্যতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া রয়েছে। আপনার কাজটি কী, সেটি কেন করছেন, কী ধরনের পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন এবং সেই কাজের বাস্তব প্রভাব কী, আবেদন করার সময় এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হয়। এ কারণে নিজের কাজের ডকুমেন্টেশন শুরু থেকেই রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সামাজিক উদ্যোগ, গবেষণা, কমিউনিটি প্রজেক্ট, স্বেচ্ছাসেবা বা পেশাগত কাজ করলে তার ছবি, প্রতিবেদন, প্রকাশনা, ফলাফল, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা, সংবাদ coverage বা অন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা ভবিষ্যতে কাজে আসতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইংরেজিতে নিজের কাজ ও লক্ষ্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার দক্ষতা। ভালো কাজ করার পাশাপাশি সেই কাজের উদ্দেশ্য, প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সুন্দরভাবে লিখে উপস্থাপন করতে পারাটাও অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব প্রোগ্রামের বিজ্ঞপ্তি প্রতি বছর একই সময়ে আসে না। বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, আবেদনের সময়সীমা ও অন্যান্য শর্তও পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বছরের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বা প্রোগ্রামের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি দেখে যোগ্যতা যাচাই করা উচিত।
নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে পুরনো একটি স্যানিটেশন গ্যারেজের জায়গায় ২৩২টি সাশ্রয়ী অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। নতুন স্যানিটেশন কমপ্লেক্স চালু হওয়ায় ৫৩৯ জার্সি স্ট্রিটের পুরনো গ্যারেজটি খালি করা হয়েছে। এখন ওই জায়গায় ‘হিলসাইড গ্রোভ’ নামে সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, ১৮ আগস্ট স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের ফ্রেশ কিলসে ২৩ কোটি ডলারের নতুন স্যানিটেশন কমপ্লেক্স চালু করা হয়েছে। নতুন এই স্থাপনায় আগে জার্সি স্ট্রিটের গ্যারেজ থেকে পরিচালিত স্যানিটেশন কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়েছে। এর ফলে পুরনো গ্যারেজের জায়গাটি এখন সাশ্রয়ী আবাসনসহ নতুন কমিউনিটি উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা যাবে। পুরনো ৫৩৯ জার্সি স্ট্রিটের জায়গায় প্রস্তাবিত হিলসাইড গ্রোভ প্রকল্পে তিনটি আবাসিক ভবনে মোট ২৩২টি সাশ্রয়ী অ্যাপার্টমেন্ট থাকবে। এর পাশাপাশি থাকবে একটি গ্রোসারি স্টোর, কমিউনিটি সুবিধা এবং ৪৬ হাজার বর্গফুটের বেশি উন্মুক্ত সবুজ জায়গা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটির ৯০টি অ্যাপার্টমেন্ট প্রবীণদের জন্য নির্ধারিত থাকবে। আরও ১০৫টি হবে বিভিন্ন আয়ের পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী রেন্টাল অ্যাপার্টমেন্ট। এছাড়া প্রায় ৩৭টি অ্যাপার্টমেন্ট থাকবে সাশ্রয়ী হোমওনারশিপের জন্য। নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগ জানিয়েছে, প্রকল্পটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অ্যাপার্টমেন্ট অত্যন্ত নিম্ন ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য রাখা হবে। এর মধ্যে প্রায় ৬০টি বাসা ডিপার্টমেন্ট অব হোমলেস সার্ভিসেসের শেল্টার সিস্টেম থেকে আসা পরিবারের জন্য নির্ধারিত থাকবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২৩২টি অ্যাপার্টমেন্টের ভবন নির্মাণ এখনো শেষ হয়নি এবং নতুন আবাসিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে এমন তথ্যও সিটি কর্তৃপক্ষ দেয়নি। সর্বশেষ অগ্রগতি হলো, নতুন স্যানিটেশন কমপ্লেক্স চালু হয়েছে এবং পুরনো গ্যারেজের স্যানিটেশন কার্যক্রম সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে হিলসাইড গ্রোভ নির্মাণের জন্য পুরনো সাইটটি পুনঃউন্নয়নের পথ তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নিউইয়র্ক সিটির এইচপিডি প্রথম হিলসাইড গ্রোভ প্রকল্পের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। তখন সিটি কর্তৃপক্ষ জানায়, পুরনো স্যানিটেশন গ্যারেজকে সাশ্রয়ী আবাসন, গ্রোসারি স্টোর, কমিউনিটি সুবিধা ও উন্মুক্ত জায়গাসহ একটি নতুন মিশ্র-ব্যবহারের উন্নয়নে রূপ দেওয়া হবে। নতুন স্যানিটেশন কমপ্লেক্স চালুর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আরেকটি পরিবর্তন আসবে। জার্সি স্ট্রিটের আবাসিক এলাকায় ভারী স্যানিটেশন ট্রাকের চলাচল কমবে বলে জানিয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ। এতে যানজট, শব্দদূষণ এবং পথচারীদের নিরাপত্তার ওপর চাপ কমার আশা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, একসময় যেখানে নিউইয়র্ক সিটির আবর্জনা সংগ্রহের ট্রাক ও স্যানিটেশন কার্যক্রম পরিচালিত হতো, সেই জায়গাটিই এখন ২৩২টি সাশ্রয়ী অ্যাপার্টমেন্ট, গ্রোসারি স্টোর ও উন্মুক্ত সবুজ জায়গাসহ একটি নতুন আবাসিক কমিউনিটিতে রূপ নেওয়ার পথে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটি ও বিশ্বের মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘মাওলিদ আল-নবী মোবারক’। বার্তায় মামদানি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও দীর্ঘস্থায়ী আদর্শের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, মহানবীর দয়া, উদারতা, ন্যায়বিচার, বিশ্বাস ও মানুষের সেবার শিক্ষা ১ হাজার ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সম্প্রদায়কে অনুপ্রাণিত করে আসছে। নিউইয়র্কের প্রসঙ্গ তুলে মামদানি বলেন, মহানবীর আদর্শ একে অপরের যত্ন নেওয়া, বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করা এবং নিজেদের কমিউনিটির সেবায় কাজ করার কথা মনে করিয়ে দেয়। এসব মূল্যবোধ সবার জন্য আরও ভালো নিউইয়র্ক সিটি গড়ে তুলতে মানুষকে শক্তি জোগায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মামদানি তার বার্তার শেষাংশে মিলাদুন্নবী পালনকারী সবার জন্য আনন্দ, শান্তি ও বরকাময় জীবনের শুভকামনা জানান। মিলাদুন্নবী মুসলিমদের কাছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও জীবনাদর্শ স্মরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলিমরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি পালন করে থাকেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যের বিলিংস এলাকায় রোববারের পারিবারিক নৈশভোজে গুলিতে নিজের আট স্বজনকে হত্যা করেছেন ৪৪ বছর বয়সী অ্যালান স্মিথ। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। পরিবারের এক সদস্যের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। পরিবারের সদস্য ব্র্যাড আয়ারল্যান্ড জানান, নিহতদের মধ্যে তার সাবেক স্ত্রী ও দুই সন্তানও রয়েছে। স্মিথের বাবা-মাও নিহত হয়েছেন। আয়ারল্যান্ডের দাবি, ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে স্মিথকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেছিলেন তার বাবা-মা। রোববার সন্ধ্যায় তিনি আবার সেই বাড়িতে ফিরে এসে গুলি চালান। নিহতরা একই মিশ্র পরিবারের চার প্রজন্মের সদস্য। তাদের মধ্যে ৯০-এর কোঠায় থাকা এক বৃদ্ধা থেকে শুরু করে মাত্র ৭ বছর বয়সী এক শিশুও ছিল। পরিবারের বন্ধু ও প্রতিবেশী জেনিফার মার্সারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে শিশুদের বয়স ৭ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। রোববার সন্ধ্যার দিকে বাড়িটিতে গুলির শব্দ শোনার পর পুলিশ সেখানে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে কর্মকর্তারা বাড়ির পেছন দিক থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান। এর কিছুক্ষণ পর পুরো বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেন, ঘটনায় আটজন নিহত হয়েছেন এবং সন্দেহভাজন স্মিথও আত্মঘাতী গুলিতে আহত হয়ে মারা যান। আগুনে বাড়িটি প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তদন্তকারীদের কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিলিংস পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র জেফ স্টোভাল জানান, আগুনে বাড়ির কাঠামো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেখানে প্রবেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। দমকলকর্মীরা সোমবার রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। প্রতিবেশী ডেভিড হিলার জানান, রোববার সন্ধ্যা ৬টার কিছু পর তিনি প্রথমে গুলির শব্দকে আতশবাজি মনে করেছিলেন। পরে এক প্রতিবেশী ফোন করে ওই এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে সতর্ক করলে তিনি বাইরে বের হন। তখন পুলিশ কর্মকর্তাদের কৌশলগত সরঞ্জাম নিয়ে গাড়ির আড়ালে অবস্থান করতে এবং বাড়ি থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখেন। ঘটনার কারণ ও হামলার আগে কী ঘটেছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্মিথ দীর্ঘদিন তার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন এবং সম্প্রতি তাকে বাড়ি ছাড়তে বলা হয়েছিল। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্তকারীরা এখনো চূড়ান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
দক্ষিণ লেবাননের বিনত জবাইল জেলায় অবস্থিত তিনটি খ্রিষ্টান শহর রমেইশ, দেবেল ও আইন এবেলে চলাচলে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এসব শহরের বাসিন্দাদের নির্ধারিত কনভয় ছাড়া একা যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ফলে কয়েক হাজার মানুষ কার্যত সীমিত চলাচলের মধ্যে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে আশরাক আল আওসাত জানিয়েছে, তিন শহরে প্রবেশ বা বের হওয়ার আগে বাসিন্দাদের গাড়ির তথ্য ও যাত্রীদের পরিচয় নিবন্ধন করতে হচ্ছে। এরপর লেবাননের সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী ইউনিফিলের সমন্বয়ে নির্ধারিত কনভয়ের মাধ্যমে তাদের চলাচল করতে হচ্ছে। প্রতিদিন অন্তত একটি কনভয়ে কয়েকটি গাড়ি বা বাস শহরগুলোর একটি থেকে বের হয়। কনভয়গুলো দক্ষিণ তীর এলাকার উপকূলীয় সড়ক দিয়ে নাকুরা হয়ে বিনত জবাইলের শহরগুলোতে যায়। লেবাননের সেনাবাহিনী প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ইসরায়েলি সীমান্তের কাছাকাছি কুলাইলে পর্যন্ত কনভয়কে নিরাপত্তা দেয়। এরপর ইউনিফিলের গাড়ি তাদের সঙ্গে থাকে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, যাত্রীদের পরিচয় যাচাই এবং গাড়িতে তল্লাশির পর ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। কোনো গাড়িকে একা চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ভ্যাটিকানও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। লেবাননে নিযুক্ত ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপ করে খ্রিষ্টান শহরগুলোর বাসিন্দাদের চলাচলে ইসরায়েলের বিধিনিষেধ বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে দক্ষিণ লেবাননের মারজায়ুন জেলার খ্রিষ্টান শহরগুলোতে একই ধরনের বিধিনিষেধ নেই। কুলাইয়া, জেদিদেত মারজায়ুন, বুর্জ আল-মুলুক ও দেইর মিমাসের বাসিন্দারা তুলনামূলকভাবে স্বাধীনভাবে যাতায়াত করতে পারছেন। তারা পূর্ব লেবাননের পশ্চিম বেকা হয়ে হাসবায়া এবং সেখান থেকে মারজায়ুনের দিকে যাতায়াত করছেন। এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনীর স্থাপনা ও বাড়িঘর ধ্বংসের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে আশরাক আল আওসাত জানিয়েছে, ইসরায়েলি টহল দলের সঙ্গে বিস্ফোরক বহনকারী ট্রাকও দেখা যাচ্ছে। এসব বিস্ফোরক ব্যবহার করে দখল করা এলাকাগুলোর পরিত্যক্ত বা লুট করা বাড়িঘর ধ্বংস করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। মারজায়ুন জেলার মাইস আল-জাবাল শহরে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা সবচেয়ে বেশি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তাদের দাবি, শহরটিতে ৫ হাজারের বেশি বাড়িঘর ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে এবং এখন মাত্র কয়েক ডজন আবাসিক ইউনিট অবশিষ্ট রয়েছে। সাম্প্রতিক ধ্বংসের মধ্যে একটি স্কুল কমপ্লেক্সও রয়েছে। ইরাক সরকারের সহায়তায় তৈরি ওই কমপ্লেক্সের পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি বাড়িও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ধ্বংস হওয়া ভবনগুলোর কংক্রিট গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং সেখান থেকে রডসহ ধাতব সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এদিকে লেবাননের সরকারি ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের পশ্চিমাঞ্চলেও ইসরায়েলি হামলা ও গোলাবর্ষণ বেড়েছে। মানসুরি ও তাইর হারফার ওয়াদি হাসান এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। মানসুরি ও মাজদাল জউনে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের খবরও পাওয়া গেছে। বিনত জবাইল জেলার আইনাতা ও বেইত লিফেও ইসরায়েলি বাহিনী গোলাবর্ষণ করেছে বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা। যুদ্ধবিমান থেকে মানসুরি ও তাইর হারফার উপকণ্ঠে হামলার খবরও পাওয়া গেছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি আগামী শনিবার ম্যানহাটানে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবতের বক্তব্য দেওয়ার অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছেন। তবে অনুষ্ঠানটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজন করা হওয়ায় এটি বাতিল করার ক্ষেত্রে সিটি প্রশাসনের আইনগত ক্ষমতা আছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। ২৫ আগস্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মামদানি বলেন, তিনি এই অনুষ্ঠান সমর্থন করেন না। তবে কোনো ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের আয়োজন বাতিল করার এখতিয়ার নিউইয়র্ক সিটির আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠেয় এই আয়োজনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’। এতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ২০০টির বেশি হিন্দু আমেরিকান সংগঠন অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি, নাগরিক দায়িত্ব ও বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে সংলাপ জোরদার করা। অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। যুক্তরাষ্ট্রে তার এ সফরকে সংগঠনটির শতবর্ষ উদযাপন এবং বৈশ্বিক সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজকদের ভাষ্য, অনুষ্ঠানে প্রায় ৫ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা রয়েছে। মামদানি বলেন, ভারতে বেড়ে ওঠার সময় তিনি যে দেশের ধারণার সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন, সেটি ছিল বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ একটি সমাজ, যেখানে ভারতের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও অন্তর্ভুক্তির জায়গা রয়েছে। সেই দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীতে কোনো দেশকে বাদ দেওয়ার বা বিভাজনের ভিত্তিতে পরিচালিত করার ধারণার উত্থান তাকে উদ্বিগ্ন করে বলেও জানান তিনি। আরএসএসকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রেও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন সংগঠনটির বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের প্রতি অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে মোহন ভাগবতের সফর নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তবে আরএসএস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন হিসেবে তুলে ধরে। মামদানির অবস্থানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠনও ভাগবতের নিউইয়র্ক সফর ও অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে আয়োজক হিন্দু আমেরিকান সংগঠনগুলো অনুষ্ঠানটিকে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করছে। এদিকে অনুষ্ঠানটি বাতিল করার দাবি উঠলেও এখন পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন এটি বন্ধ করার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। মামদানির বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগতভাবে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করার আইনগত এখতিয়ার সিটির রয়েছে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একসময় মোবাইল ফোনের বাজারে নোকিয়া ১১০০ ছিল পরিচিত এক নাম। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই বাটন ফোনটি এখন স্মার্টফোনের যুগে অনেকটাই অতীতের স্মৃতি। তবে প্রায় দুই দশক পরও নোকিয়া ১১০০ অনলাইনে কেনাবেচা হচ্ছে। পুরোনো এই ফোনটি কেউ সংগ্রহের জন্য, আবার কেউ সেই সময়ের স্মৃতি ফিরে পেতে কিনতে চাইলে এখনো বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে সেট খুঁজে পাওয়া যায়। নোকিয়া ১১০০ বাজারে আসে ২০০৩ সালে। ফোনটি তৈরি করা হয়েছিল সহজ ব্যবহার, কম দাম এবং টেকসই গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে। এতে ছিল সাদাকালো ডিসপ্লে, কল ও এসএমএসের সুবিধা, অ্যালার্ম, ক্যালকুলেটর, গেম এবং সবচেয়ে আলোচিত ফিচারগুলোর একটি টর্চলাইট। শক্তপোক্ত বডি ও সহজ ব্যবহারের কারণে ফোনটি দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া যায় এর বিক্রির পরিসংখ্যানে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, নোকিয়া ১১০০-এর ২৫ কোটির বেশি ইউনিট বিক্রি হয়েছে। এই বিক্রির পরিমাণের কারণে মডেলটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোনের রেকর্ড ধরে রেখেছে। গিনেসের হিসাবে, বিক্রির দিক থেকে নোকিয়া ১১০০ তার সময়ের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নোকিয়ার ৩২১০ ও ৩৩১০ এবং মটোরোলা রেজর ভি৩-এর চেয়েও অনেক এগিয়ে ছিল। অর্থাৎ ২৫ কোটি ইউনিট বিক্রি মানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ কোনো না কোনো সময় এই ফোনটি ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মোবাইল যোগাযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সময় নোকিয়া ১১০০ বড় ভূমিকা রাখে। কম দাম, দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ, সহজ ব্যবহার এবং তুলনামূলকভাবে শক্তপোক্ত নকশা ফোনটির জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ ছিল। নোকিয়া ১১০০-এর জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ ছিল এর সময়োপযোগী নকশা। তখনকার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মোবাইল ফোনের মূল প্রয়োজন ছিল ফোন করা, এসএমএস পাঠানো এবং দীর্ঘ সময় চার্জ ছাড়া ফোন ব্যবহার করা। ইন্টারনেট, ক্যামেরা, অ্যাপ কিংবা টাচস্ক্রিন তখনো স্মার্টফোনের মতো দৈনন্দিন প্রয়োজন হয়ে ওঠেনি। ফলে নোকিয়া ১১০০ অনেকের কাছে প্রয়োজনীয় মোবাইল ফোনের প্রায় আদর্শ উদাহরণ হয়ে উঠেছিল। নোকিয়া নিজেও ২০০৫ সালের এক প্রতিবেদনে ১১০০ মডেলের ভালো পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করেছিল। কোম্পানির ওই বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নোকিয়া ১১০০ এবং নোকিয়া ৬০১০ ভালো পারফর্ম করেছে। সময়ের সঙ্গে মোবাইল প্রযুক্তিতে বড় পরিবর্তন আসে। রঙিন ডিসপ্লে, ক্যামেরা, মোবাইল ইন্টারনেট এবং পরে স্মার্টফোনের ব্যাপক বিস্তারের কারণে নোকিয়া ১১০০-এর মতো বাটন ফোন ধীরে ধীরে বাজারের মূলধারা থেকে সরে যায়। কিন্তু বিক্রির রেকর্ডের কারণে ফোনটি মোবাইল প্রযুক্তির ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। আজও পুরোনো নোকিয়া ১১০০ সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যায়নি। বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ব্যবহৃত, পুরোনো এবং সংস্কার করা সেট পাওয়া যায়। ফলে কেউ চাইলে এখনো এই ঐতিহাসিক ফোনটি সংগ্রহ করতে পারেন। তবে অনলাইনে কেনার ক্ষেত্রে ফোনটি আসল কি না, সেটি ব্যবহৃত নাকি সংস্কার করা, এর অবস্থা কেমন এবং বর্তমান মোবাইল নেটওয়ার্কে সেটি কাজ করবে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। ২০০৩ সালে বাজারে আসা একটি সাধারণ বাটন ফোন কীভাবে ২৫ কোটির বেশি মানুষের হাতে পৌঁছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোনের রেকর্ড গড়েছিল, নোকিয়া ১১০০ তারই একটি বড় উদাহরণ। স্মার্টফোনের আধুনিক যুগে ফোনটির প্রযুক্তি হয়তো অনেক পুরোনো, কিন্তু নোকিয়া ১১০০ এখনো কোটি কোটি মানুষের কাছে একটি বিশেষ নস্টালজিয়ার নাম।
ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি কমেছে। বুধবারের দরপতনে দুই ধরনের বেঞ্চমার্ক তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সৌদি সময় সকাল ৭টা ৪৭ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৩০ ডলার বা ২.৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৬.২৮ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২.০৮ ডলার বা ২.৫৩ শতাংশ কমে ৮০.২৯ ডলারে নেমে আসে। এর আগে ব্রেন্ট ১৩ আগস্টের পর এবং ডব্লিউটিআই ১০ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। এর আগের দিন মঙ্গলবারও দুই বেঞ্চমার্কের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছিল। তেলের বাজারে এই দরপতনের প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের চালান পরিবহন করা হতো। বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার তেহরানে বৈঠকে বসেন ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে একটি যৌথ অস্থায়ী নৌ চলাচল করিডর চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে প্রণালিটি মাইনমুক্ত করার জন্য যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। ওমান ও ইরানের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশ নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরায় চালুর জন্য ধাপে ধাপে একটি কাঠামো তৈরির বিষয়ে আলোচনা করেছে। ভবিষ্যতে স্থায়ী নৌ চলাচল করিডর, জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা, তথ্য আদান প্রদান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে আরও কারিগরি আলোচনা হবে। তবে এখনো হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি পার হয়েছে। এর মধ্যে দুটি এলপিজি ট্যাংকার ও একটি বিটুমিন ট্যাংকার ছিল, পাশাপাশি দুটি খালি প্রোডাক্ট ট্যাংকারও চলাচল করেছে। যেখানে আগের ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১৫টি জাহাজ। ফুজিতোমি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক মিৎসুরু মুরাইশি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে তেল বিক্রির চাপ বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় কিছু বিনিয়োগকারী কম দামে তেল কিনছেন, ফলে দরপতন সীমিত থাকছে। এদিকে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। ওয়াশিংটন সোমবার ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে এবং তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোকেও শাস্তির হুমকি দিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জরিমানা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুতও বেড়েছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২১ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির ক্রুড অয়েল ইনভেন্টরি প্রায় ৪২ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকেরা গড়ে প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বুধবার মজুতের সরকারি তথ্য প্রকাশ করার কথা। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের অবসান নিয়েও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরানে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনায় সংঘাতের অবসান ও শান্তির পথ নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে স্থায়ীভাবে জাহাজ চলাচল কবে স্বাভাবিক হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।