পাকিস্তানে হাসপাতালের এসির কম্প্রেসার বি স্ফোরণ, আগুনে পুড়ে ১৪ নবজাতকের মৃ ত্যু
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি প্রধান সরকারি হাসপাতালের নার্সারিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস) হাসপাতালে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই নার্সারিতে অন্তত ১৫ জন নবজাতক ছিল, যাদের মধ্যে কেবল একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
উদ্ধারকর্মী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বুধবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে গাইনোকোলজি ওয়ার্ডের নার্সারির ভেতরে থাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসার বিস্ফোরিত হয়ে এই আগুনের সূত্রপাত হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উদ্ধারকারী দল সেখানে শীতলীকরণ বা কুলিং প্রক্রিয়া শুরু করে। এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য সম্পর্কে হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ নার্স নরীন খান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "ওয়ার্ডের ভেতরের দৃশ্য সহ্য করার মতো নয়। পৃথিবীতে মাত্র এক বা দুদিন আগে চোখ মেলা ১৪টি শিশু এভাবে মারা গেল।"
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা পাকিস্তানে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি তীব্র শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী একে 'অপূরণীয় ক্ষতি' আখ্যা দিয়ে ঘটনার তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এবং নবজাতক ওয়ার্ডগুলোতে কার্যকর অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘটনার প্রকৃত কারণ, আগুন ছড়িয়ে পড়ার মাত্রা এবং হাসপাতালের জরুরি প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ইসলামাবাদের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একটি বহুমুখী তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেছেন, যাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, নিষ্পাপ সন্তানদের হারিয়ে হাসপাতাল চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা। সন্তানহারা মোহাম্মদ সামি নামের এক মা জানান, মাত্র তিন দিন আগে জন্ম নেওয়া তার শিশুটিকে ওই নার্সারিতে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছিল।
কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, "আমি কী বলব বা কাকে দোষ দেব জানি না, আমি আমার সন্তানকে হারিয়েছি।" আমির আব্বাসি নামের আরেক ব্যক্তি তার সদ্যোজাত ভাতিজাকে হারানোর শোক প্রকাশ করে বলেন, "গতকালই আমি তার নরম মুখ ও হাত ছুঁয়েছিলাম, আর আজ সে শুধুই ছাই।"
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে তদন্ত তদারকি করতে করাচি থেকে ইসলামাবাদে যাচ্ছেন।
হাসপাতালের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিশুদের মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ এবং সিনেটসহ অত্যন্ত সংবেদনশীল একাধিক সরকারি সংস্থায় চীনা হ্যাকারদের বড় ধরনের অনুপ্রবেশ ও সাইবার হামলার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। বুধবার মার্কিন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা চীনা হ্যাকারদের একটি বিশাল সাইবার অভিযান সফলভাবে নস্যাৎ করেছে। মার্কিন বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হ্যাকিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত 'কিউস্ক্যান' (QScan) এবং 'কিউটিরউটার' (QTRouter) নামের দুটি প্ল্যাটফর্মের ডোমেইন তারা জব্দ করেছে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি, ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ) ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চারটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছিল। মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি অনুযায়ী, এই হ্যাকিং প্ল্যাটফর্মগুলো মূলত চীনের নানজিংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'নানজিং শিনজিউওয়েই নেটওয়ার্ক টেকনোলজি কোম্পানি' পরিচালনা করত। এই টেক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক তালিকায় চীনের বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা 'মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটি' এবং সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) যুক্ত রয়েছে। তবে চীনা কর্তৃপক্ষ সবসময়ই হ্যাকিংয়ের এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তদন্ত নথির তথ্য অনুযায়ী, এই হ্যাকার চক্রটি অন্তত ২০১৮ সাল থেকে নিজস্ব প্রযুক্তির টুলস ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সংবেদনশীল নেটওয়ার্কে আঘাত হেনে আসছে। ২০১৯ সালের আগস্টে ভিপিএনের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নাসার নেটওয়ার্কে প্রবেশের ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছিল তারা। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এনার্জি ডিপার্টমেন্টের তিনটি ল্যাবরেটরি, এনআইএইচ, স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি সিকিউরিটি ডিভাইস প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হয় হ্যাকাররা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা সংযোগ থাকা সাইবার হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষে অনেক বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে এই ধরনের উচ্চমাত্রার সাইবার অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সেন্টিনেলওয়ানের বিশ্লেষক ডাকোটা ক্যারি জানান, গত এক দশকে এই ধরনের আক্রমণাত্মক সেবা প্রদানকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর ওপর একের পর এক সাইবার হামলার এই ঘটনা ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
পাকিস্তানে হাসপাতালের এসির কম্প্রেসার বি স্ফোরণ, আগুনে পুড়ে ১৪ নবজাতকের মৃ ত্যু
ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কমছে কানাডীয় পর্যটক, ক্ষতির মুখে ১৫ অঙ্গরাজ্য
নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে ৪৭ মার্কিন পর্যটকসহ নিখোঁজ শত শত, প্রাণহানি ১৫৭ জনের
যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে একটি সিনাগগে প্রাণঘাতী হামলার জেরে দুটি মসজিদে ফোন করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অপরাধে গ্যাব্রিয়েল লেভি নামের ২১ বছর বয়সী এক যুবককে ২৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার লিডস ক্রাউন আদালতে হত্যার হুমকির বিষয়টি স্বীকার করার পর বিচারক তাকে দুই বছরেরও বেশি সময়ের এই সাজা প্রদান করেন। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর বিকেলে ম্যানচেস্টারের চিথাম হিলের আল-সুন্নাহ মসজিদে বেনামে ফোন করেন লেভি। ফোন ধরা ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "আমি তোমাদের মসজিদে এসে তোমাদের হত্যা করব।" একই দিন বিকেলে তিনি ম্যানচেস্টারের ইকরা মসজিদেও ফোন করে সেখানকার এক কর্মীকে বলেন, "আমি তোমাকে হত্যা করব, মুসলিম।" গ্রেপ্তারের পর ইহুদি ধর্মাবলম্বী এই যুবক পুলিশকে জানান, মাত্র দুদিন আগে ম্যানচেস্টারের একটি সিনাগগে হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তিনি এই ফোন কলগুলো করেছিলেন। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে ইসলামোফোবিক ও বর্ণবাদী ঘৃণামূলক বার্তাও পায় পুলিশ। এর আগে, গত ২ অক্টোবর ইহুদিদের পবিত্র দিন 'ইয়োম কিপুর' চলাকালে ক্রাম্পসালের হিটন পার্ক হিব্রু কনগ্রেগেশন সিনাগগে ভয়াবহ ওই হামলাটি ঘটে। জিহাদ আল-শামি নামের ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে সিনাগগের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভুয়া আত্মঘাতী বেল্ট পরে ছুরি দিয়ে হামলা চালায়। পরে সশস্ত্র পুলিশের গুলিতে সে নিহত হয়। ওই হামলায় দুজন পুণ্যার্থী প্রাণ হারান। ৬৬ বছর বয়সী মেলভিন ক্রাভিটজ আল-শামির ছুরিকাঘাতে এবং ৫৩ বছর বয়সী আদ্রিয়ান ডলবি ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা এক পুলিশ কর্মকর্তার ভুল গুলিতে বুকে আঘাত পেয়ে মারা যান। এই মামলার রায়ের বিষয়ে সিনিয়র ক্রাউন প্রসিকিউটর আমির সাজাদ বলেন, নিজের দায়িত্ব পালনের সময় কাউকে হত্যার হুমকি দিয়ে আতঙ্কিত করার অধিকার কারও নেই। গ্যাব্রিয়েল লেভি যখন বেপরোয়াভাবে ফোন করে এই হুমকিগুলো দিচ্ছিলেন, তখন তিনি একবারও ভাবেননি অপর প্রান্তে কে আছেন। হত্যার হুমকি এবং ইসলামোফোবিক যেকোনো ঘৃণামূলক অপরাধকে আইনিভাবে সব সময়ই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
মরুভূমির নিচে ৭ কোটি বছরের প্রাচীন হাঙরের জগতের সন্ধান
ইসলামাবাদের হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, ১৪ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু
পুলিশকে ফাঁকি দিতে ল্যাব্রাডরকে ফেলে পালালেন, কুকুরই ধরিয়ে দিল মালিককে
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাকার্তার পালমেরাহ এলাকায় ২০১৫ সালের মার্চে জব্দ করা ৩ দশমিক ৩ টন গাঁজা প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে পুলিশ। আগুনের ধোঁয়া বাতাসে ছড়িয়ে আশপাশের আবাসিক এলাকায় পৌঁছে যায়। এতে ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও অস্বস্তির কথা জানান। ১১ মার্চ পালমেরাহ পুলিশ স্টেশনের মাঠে জব্দ করা মাদকদ্রব্য ধ্বংসের এই আয়োজন করা হয়। মাদক ধ্বংসের প্রক্রিয়াটি প্রত্যক্ষ করতে সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা, সাংবাদিক এবং পশ্চিম জাকার্তার কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সদস্যরা গাঁজার বিশাল স্তূপে আগুন দেওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করছিলেন। কিন্তু ধোঁয়া কোন দিকে যাবে, সে বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। আগুন জ্বলার পর ধোঁয়া প্রথমে ওপরে উঠলেও বাতাসের কারণে দ্রুত আশপাশের বসতবাড়ির দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসা স্থানীয়দের কয়েকজন পরে মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরার কথা জানান। একজন বাসিন্দা বলেন, মাস্ক না পরায় তার মাথাব্যথা শুরু হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ধোঁয়ার তীব্র গন্ধের কথাও উল্লেখ করা হয়। সাংবাদিকদের মধ্যেও একই ধরনের অস্বস্তির খবর পাওয়া যায়। পুলিশের এই অভিযান ছিল জব্দ করা বিপুল পরিমাণ মাদক ধ্বংসের অংশ। ওই দিন ৩ দশমিক ৩ টন গাঁজার পাশাপাশি প্রায় ১ দশমিক ৮ কেজি মেথামফেটামিন এবং ২ হাজার ৫৩৮টি এক্সট্যাসি বড়িও ধ্বংস করা হয়। গাঁজা আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হলেও অন্য মাদকগুলো ব্লেন্ড করে নষ্ট করা হয়েছিল। ঘটনার পর ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মাদকবিরোধী সংস্থার এক প্রতিনিধি জানান, অল্প সময়ের জন্য ওই ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসায় দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি হওয়ার আশঙ্কা নেই। ঘটনাটি পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এমনকি পরবর্তী বছরগুলোতে মাদক ধ্বংসের পদ্ধতি নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় আলোচনার সময় ২০১৫ সালের পালমেরাহর ঘটনাটিও উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে। ২০১৮ সালে পুলিশের এক কর্মকর্তাও জানান, ওই ঘটনার পর মাদক ধ্বংসের স্থান ও পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবা হয়েছিল। মাদকদ্রব্য ধ্বংস করে প্রমাণ নষ্ট করা এবং জনসাধারণের সামনে প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখাই ছিল পুলিশের উদ্দেশ্য। তবে পালমেরাহর ঘটনায় দেখা যায়, জব্দ করা মাদক প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস করার সময় আশপাশের মানুষের অনিচ্ছাকৃত ধোঁয়া গ্রহণের ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
স্যুট পরে ফ্রাইড রাইস বিক্রি করে মাসে আয় প্রায় ৭ হাজার ৪০০ ডলার! তরুণ রাঁধুনি ভাইরাল
ইসরায়েলি সেনাদের পাহারায় ফিলিস্তিনি স্মৃতিসৌধ ভাঙলেন উগ্র ডানপন্থী আইনপ্রণেতা