সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে বিশ্বজুড়ে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন (ছবি: সংগৃহীত)
বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসার আবেদন সাময়িক স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশিদের ওপরও

সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে এমন আবেদনকারীদের চিহ্নিত করে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নিবিড় প্রশিক্ষণ দিতে বিশ্বজুড়ে মার্কিন ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব ভিসা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকারের সূচি নির্ধারিত ছিল, তাদের ইমেইল করে জানানো হয়েছে যে সেই সূচিগুলো পরিবর্তন করা হচ্ছে। পরবর্তীতে নতুন তারিখ ও সময় তাদের জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, আরও সমৃদ্ধ আমেরিকা গড়ার অর্থ হলো, এটা নিশ্চিত করা যে ভিসা আবেদনকারীরা মার্কিন আইন ও বিধি অনুযায়ী কোনোভাবেই রাষ্ট্রের জন্য বোঝা বা পাবলিক চার্জ হয়ে দাঁড়াবেন না। পাশাপাশি, তারা যেন অভাবগ্রস্ত যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।   মুখপাত্র আরও জানান, প্রতিটি ভিসা আবেদনকারীকে যেন সামগ্রিক ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তারা পুরোপুরি প্রস্তুত থাকেন, তা নিশ্চিত করতে চলতি মাসে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ উদ্যোগ চালু করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর।   যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথ আরও সংকুচিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, আর বিশ্বজুড়ে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের ঘটনাটি সেগুলোরই সর্বশেষ সংযোজন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাকে অন্যতম প্রধান নীতি বানিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের ওপর নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন এবং প্রায় সব ধরনের শরণার্থী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।   গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক ট্রাম্পের একটি নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দেওয়ার পরই ভিসা স্থগিতের এই নতুন সিদ্ধান্তটি এলো। ওই নিষেধাজ্ঞায় ৭৫টি দেশের অভিবাসীদের ভিসা আবেদন আটকে দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের ধারণা ছিল, এসব দেশের নাগরিকদের সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব দেশের বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের দেশ।   ওয়াশিংটনভিত্তিক অভিবাসন আইন সংস্থা ফ্রেগোমেন এর আইনজীবী ব্রায়ান সিমন্স জানান, ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীদের অনেকেই নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে এরই মধ্যে হাজার হাজার ডলার খরচ করেছেন এবং নিজেদের দৈনন্দিন রুটিন ব্যাহত করেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাদের সাক্ষাৎকার বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।   কবে নাগাদ এসব সাক্ষাৎকার পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি। দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, এই নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি ভালোভাবে সম্পন্ন করতে ভিসা সেবার নির্ধারিত সূচিগুলোর সমন্বয় করা হবে।   ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অভিবাসন নীতির কারণে বারবার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তার প্রথম মেয়াদের শুরুর দিকে সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার একটি উদ্যোগ ফেডারেল আদালত আটকে দিয়েছিল। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট নীতিটির একটি সীমিত সংস্করণ কার্যকরের অনুমতি দেয়।   যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ জ্যানেট ভার্গাস গত শুক্রবার এক রায়ে জানান, ৭৫টি দেশের অভিবাসন আবেদনের ওপর ট্রাম্পের স্থগিতাদেশ কংগ্রেসের দেওয়া কনস্যুলার কার্যালয়গুলোর ভিসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে লঙ্ঘন করেছে। গত জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র দপ্তর ওই স্থগিতাদেশের ঘোষণা দিয়েছিল।   বিচারক ভার্গাস ট্রাম্পের এই নীতি এবং এর ভিত্তিতে হওয়া সব ভিসা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছেন। একইসঙ্গে, মামলার বাকি বিষয়গুলো সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।   গত বছর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন নিয়ম করেছে যে, অভিবাসী ভিসা প্রত্যাশীদের নিজ দেশের নাগরিকত্ব থেকেই আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অথচ তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করছেন। এমনকি কেউ কেউ মার্কিন নাগরিকদের বিয়ে করেছেন বা তাদের সন্তানরা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক।   ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় এই সর্বশেষ বাধায় ইন্টারনেট মেসেজ বোর্ডগুলোতে মুম্বাই থেকে শুরু করে নেপলস পর্যন্ত অনেকেই চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে একজন লিখেছেন, মানুষজন এই কাজটুকু সম্পন্ন করার জন্য দেশের বাইরে ভ্রমণ করে আসে, আর তারা শেষ মুহূর্তে এসে সাক্ষাৎকার বাতিল করে দেয়, বিষয়টি সত্যিই খুব বিরক্তিকর।   আরেকজন সতর্ক করে লিখেছেন, প্রায় ৮ মাস আগে ভারতে এইচ-১বি ভিসার সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রেও হুবহু একই ঘটনা ঘটেছিল। তিনি আরও জানান, ওই ঘটনার কারণে এখনও অনেকে বিদেশে আটকা পড়ে আছেন এবং অনেকেই তাদের চাকরি হারিয়েছেন।   তথ্যসূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ২১:২৭
দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাং যেতে গিয়ে ভুল করে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন ড্যানিয়েল ওলোমায়ে ওলে সাপিত। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ কোরিয়া যেতে চেয়েছিলেন, শহরের নামের ভুলে পৌঁছে গেলেন উত্তর কোরিয়ায়

দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাং শহরে একটি সম্মেলনে যোগ দিতে চেয়েছিলেন কেনিয়ার ড্যানিয়েল ওলোমায়ে ওলে সাপিত। কিন্তু গন্তব্যের নামের সামান্য ভুলে তার যাত্রা শেষ হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দেশে। দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ের বদলে ভুল করে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের টিকিট কেটে ফেলেছিলেন তিনি। সেখানে পৌঁছানোর পর কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় তাকে।   ঘটনাটি ঘটে ২০১৪ সালে। কেনিয়ার মাসাই সম্প্রদায়ের সদস্য সাপিত তখন জীববৈচিত্র্যবিষয়ক একটি জাতিসংঘ সম্মেলনে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাং যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তার ভ্রমণ সংস্থা গন্তব্যের নাম গুলিয়ে পিয়ংচ্যাংয়ের পরিবর্তে পিয়ংইয়ংয়ের টিকিট করে দেয়। দুই শহরের নামের উচ্চারণ ও বানানে মিল থাকায় ভুলটি সময়মতো ধরা পড়েনি। সাপিতের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানে ওঠার পরও তিনি বুঝতে পারেননি যে গন্তব্য ভুল হয়েছে। বিমানটি যখন অবতরণের দিকে যাচ্ছিল, তখন জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে তার সন্দেহ হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার আধুনিক ও ঘনবসতিপূর্ণ নগরীর বদলে নিচে তার চোখে পড়ে তুলনামূলক ছোট একটি বিমানবন্দর ও ভিন্ন ধরনের পরিবেশ।   পরে উত্তর কোরিয়ার সুনান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর ভুলটি তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। সেখানে বিপুলসংখ্যক সামরিক সদস্য ও উত্তর কোরিয়ার নেতাদের ছবি দেখতে পান তিনি। তখনই বুঝতে পারেন, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ে নয়, উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে এসে পৌঁছেছেন। উত্তর কোরিয়ায় বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। সাপিতের কাছে বৈধ উত্তর কোরীয় ভিসা না থাকায় দেশটির কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকে কয়েক ঘণ্টা আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তিনি কীভাবে ভুল করে সেখানে পৌঁছেছেন, তা ব্যাখ্যা করার সুযোগ পান।   সাপিতকে শেষ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে তার আগে তাকে একটি নথিতে স্বাক্ষর করতে হয় এবং প্রায় ৫০০ ডলার জরিমানা ও নতুন টিকিটের খরচ দিতে হয় বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এরপর তাকে সঠিক গন্তব্য দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সাপিত পরে ঘটনাটি বর্ণনা করে বলেন, পিয়ংইয়ং ও পিয়ংচ্যাংয়ের নামের মধ্যে বিভ্রান্তি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে বিদেশিদের জন্য দুই নামের মিল সহজেই ভুলের কারণ হতে পারে।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দক্ষিণ কোরিয়াতেও বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়। কারণ পিয়ংচ্যাং ও পিয়ংইয়ংয়ের নামের মিল নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল। পিয়ংচ্যাং দক্ষিণ কোরিয়ার গ্যাংওন প্রদেশের একটি শহর, আর পিয়ংইয়ং উত্তর কোরিয়ার রাজধানী। দুই শহর একই দেশ বা একই ধরনের গন্তব্য নয়, বরং দুই ভিন্ন রাষ্ট্রে অবস্থিত। পিয়ংচ্যাংয়ের নাম নিয়ে বিভ্রান্তি কমাতে পরে দক্ষিণ কোরিয়া শহরটির ইংরেজি বানানকে বিশেষভাবে “PyeongChang” হিসেবে প্রচার শুরু করে। নামের মাঝখানে বড় হাতের ‘C’ ব্যবহারের উদ্দেশ্য ছিল পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে পার্থক্য আরও স্পষ্ট করা। ২০১৮ সালের শীতকালীন অলিম্পিক আয়োজনের সময় এই বানানটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।   ২০১৮ সালের শীতকালীন অলিম্পিকের আয়োজক শহর ছিল পিয়ংচ্যাং। অলিম্পিকের প্রচারণার সময় আয়োজকেরা বিদেশি দর্শকদেরও সতর্ক করেছিলেন, যেন নামের মিলের কারণে কেউ ভুল করে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের দিকে না চলে যান। পিয়ংচ্যাং ও পিয়ংইয়ংয়ের বিভ্রান্তির এই ঘটনা শুধু একটি ভ্রমণ ভুলের গল্প নয়, দুই কোরিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণেও এটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়া technically একই কোরীয় উপদ্বীপে অবস্থিত হলেও তাদের মধ্যে সীমান্ত বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত সীমান্ত। ফলে একটি দেশের নির্ধারিত গন্তব্যের বদলে অন্য দেশের রাজধানীতে ভুল করে পৌঁছে যাওয়া সাধারণ ভ্রমণভুলের মতো সহজ বিষয় নয়।   ড্যানিয়েল ওলোমায়ে ওলে সাপিত পরে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। জাতিসংঘের নথিতেও তাকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সাপিতের এই অভিজ্ঞতা পরে পিয়ংচ্যাংয়ের নামের বানান পরিবর্তনের আলোচনাতেও উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন, পিয়ংচ্যাংকে আলাদা করে চেনাতে ইংরেজি বানানে বড় হাতের ‘C’ ব্যবহার করলে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে বিভ্রান্তি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।   একটি ভুল টিকিট কীভাবে একজন যাত্রীর গন্তব্যই বদলে দিতে পারে, সাপিতের ঘটনা তারই বিরল উদাহরণ। দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সাধারণ ভ্রমণ পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে গিয়েছিল বিশ্বের অন্যতম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রের রাজধানীতে। কয়েক ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ, জরিমানা ও নতুন টিকিটের পর অবশেষে তিনি নিজের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ পান।   এই ঘটনার পর পিয়ংচ্যাংয়ের নাম উচ্চারণ বা লেখার সময় সতর্কতার প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে আলোচনায় আসে। কারণ পিয়ংচ্যাং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে পার্থক্য মাত্র কয়েকটি অক্ষরের হলেও, ভুল গন্তব্যে পৌঁছালে তার পরিণতি যে কতটা ভিন্ন হতে পারে, সাপিতের অভিজ্ঞতাই তার সবচেয়ে স্মরণীয় উদাহরণ।   সংবাদসূত্র: ইউপিআই ও দ্য কোরিয়া টাইমস।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ২১:৭
আবাসন ব্যয় বাড়ায় অনেক আমেরিকানের জন্য নিজের বাড়ির মালিক হওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা অনেকের নাগালের বাইরে, কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকাই সাশ্রয়ী

যুক্তরাষ্ট্রে নিজের একটি বাড়ি কেনা কিংবা ভাড়ায় থাকা দুটোই সাধারণ মানুষের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। একসময় নিজের একটি দোতলা বা ছিমছাম বাড়ি আমেরিকান স্বপ্নের অন্যতম প্রধান অংশ ছিল। কিন্তু এখন শুধু বাড়ি কেনাই নয়, পরিবারের জন্য একটি বাড়ি ভাড়া পাওয়াও বেশ দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।   সম্প্রতি রিয়েল এস্টেট প্ল্যাটফর্ম রিয়েলটর ডটকম একটি নতুন সমীক্ষা প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রধান মেট্রোপলিটন এলাকায় বর্তমানে একটি নতুন বা প্রাথমিক বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকা অনেক বেশি সাশ্রয়ী। তবে যারা ভাড়ায় থাকতে চান, তাদের জন্যও একক পরিবারের বাড়ির বা সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে।   রিয়েলটর ডটকমের জুলাই ২০২৬ এর রেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৫০টি মেট্রো শহরে শূন্য থেকে দুই বেডরুমের সম্পত্তির জন্য জাতীয় গড় ভাড়া ছিল ১,৬৯৫ ডলার। এটি এক বছর আগের তুলনায় ২৪ ডলার বা ১.৪ শতাংশ কম। তবে একই এলাকায় এ ধরনের একটি প্রাথমিক বা স্টার্টার হোম কেনার মাসিক খরচ গত মাসে ছিল ২,৫৫৩ ডলার, যা ভাড়ার চেয়ে ৮৫৮ ডলার বেশি।   এই মাসিক খরচের হিসাবটি করা হয়েছে শূন্য থেকে দুই বেডরুমের বাড়ির তালিকাভুক্ত গড় দাম, ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট, ৩০ বছর মেয়াদি নির্ধারিত বন্ধকি বা মর্টগেজ রেট, হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ফি, কর এবং মেট্রো স্তরের গড় হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের ওপর ভিত্তি করে।   স্টার্টার হোমের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জন্য সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম ভাড়া পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত রেডফিনের একটি বিশ্লেষণে সেনসাস ডেটা বা আদমশুমারির তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে মাত্র ১৩.৭ শতাংশ বা ১ কোটি ১৩ লাখ সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করছিলেন। এটি ইতিহাসের তৃতীয় সর্বনিম্ন রেকর্ড।   এর বিপরীতে একই বছরে বড় বহুতল বা মাল্টিফ্যামিলি ভবনে ভাড়ায় বসবাসকারী ইউনিটের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২১ লাখ, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এছাড়া ছোট মাল্টিফ্যামিলি ভবনে ১ কোটি এবং টাউনহোমে ৩১ লাখ ভাড়াটিয়া ইউনিট ছিল।   এটি এখন আমেরিকার জন্য এক নতুন বাস্তবতা। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, ২০২১ সালেও দেশটির ভাড়ার বাজারের সবচেয়ে বড় অংশ ছিল সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম। অন্যদিকে ২০১৯ সালের আগে এবং মহামারির সময় যখন বাড়ি কেনার হিড়িক পড়েছিল, তখন বড় মাল্টিফ্যামিলি ভবনগুলো ছিল পছন্দের তালিকার তৃতীয় স্থানে।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছে বহুকাল ধরেই নিজের একটি সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে বসবাস করা আত্মপরিচয় ও ব্যক্তিগত সাফল্যের প্রতীক। কিন্তু এখন সেই স্বপ্নে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।   সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানগুলো থেকে বোঝা যায়, যারা এখনও নিজস্ব সম্পত্তির মালিক হতে পারেননি, তাদের জন্য আমেরিকান স্বপ্নের সংজ্ঞা কতটা বদলে গেছে। এখন বেশিরভাগ ভাড়াটিয়া তাদের স্বপ্নের সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে বসবাস করছেন না, বরং বড় অ্যাপার্টমেন্ট ভবনেই তাদের থাকতে হচ্ছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩.১ শতাংশ নাগরিকের প্রধান বাসস্থান হয়ে উঠেছে এসব বড় অ্যাপার্টমেন্ট।   ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে এবং বিশেষ করে মহামারির সময় সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের চেয়ে ২০ বা তার বেশি ইউনিটের মাল্টিফ্যামিলি ভবনগুলো বেশি দ্রুত গতিতে নির্মিত হয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো মহামারির সময় এসব ভবনের বেশিরভাগই ভাড়াটিয়াদের বদলে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল।   ফ্রেডি ম্যাকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে জাতীয় পর্যায়ে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড রেট মর্টগেজের গড় ছিল ৬.৬৫ শতাংশ। চড়া সুদের হারের কারণে অনেক বাড়ির মালিক এখন তাদের বাড়ি বিক্রি করতে চাইছেন না। এর ফলে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভাড়ার জন্য বহুতল ভবনগুলোই এখন মানুষের কাছে বেশি সাশ্রয়ী বিকল্প। অন্যদিকে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমগুলো কেবল মুষ্টিমেয় বিত্তবানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।   নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি, কঠোর জোনিং আইন, জমির ন্যূনতম আয়তন সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং আবাসন শিল্পের পরিবর্তনের কারণে সারা দেশেই এখন স্টার্টার হোম নির্মাণের হার কমে গেছে। হোমবায়িং ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৮০ এর দশকের শুরুতে নতুন নির্মাণের প্রায় ৪০ শতাংশই ছিল স্টার্টার হোম, কিন্তু ২০১৯ সালে তা নেমে আসে মাত্র ৭ শতাংশে। ২০২৬ সালে এসে এগুলো পাওয়া আগের দশকগুলোর চেয়ে আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতাদের সামর্থ্যের চাপের কারণে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম নির্মাণও সার্বিকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।   প্রথমবার বাড়ি কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প না থাকায় লাখো মানুষ এখন আবাসন বাজারের বাইরে ছিটকে পড়ছেন, যার গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমেরিকান সমাজে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্স এর মতে, ২০২৫ সালে মোট বাড়ি বিক্রির মাত্র ২১ শতাংশ কিনেছেন প্রথমবার ক্রেতারা। ঐতিহাসিকভাবে এই হার সাধারণত ৪০ শতাংশ থাকে। এছাড়া প্রথমবার বাড়ি কেনার গড় বয়সও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ বছরে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ।   তবে যারা এখনও বাড়ির মালিক হননি তাদের জন্য কিছুটা আশার আলোও রয়েছে। রিয়েলটর ডটকম বলছে, একটি স্টার্টার হোম ভাড়া নেওয়া এবং কেনার খরচের ব্যবধান কিছুটা কমতে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে স্টার্টার হোমের মাসিক খরচ ২,৬৪২ ডলার থেকে কমে ২,৫৫৩ ডলারে নেমেছে।   এর মধ্যে ৫৭ ডলার কমেছে বাড়ির তালিকাভুক্ত দাম কমার কারণে এবং ৩৩ ডলার কমেছে মর্টগেজ রেট কমার কারণে। গত এক বছরে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজ রেট ৬.৭২ শতাংশ থেকে কমে ৬.৫৪ শতাংশে নেমে এসেছে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভাড়ায় থাকা এখনও সস্তা হলেও এমন অনেক বাজার তৈরি হচ্ছে যেখানে ভাড়ার চেয়ে স্টার্টার হোমের দাম দ্রুত কমছে এবং মানুষের সাপ্তাহিক গড় আয় জাতীয় হার ৩.৮ শতাংশের বেশি বা সমান গতিতে বাড়ছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা সিটি, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো, সিয়াটল, মিয়ামি, ফ্লোরিডার টাম্পা, লাস ভেগাস এবং ন্যাশভিল।   শীর্ষ ৫০টি মেট্রো শহরে জুলাই মাসে স্টার্টার হোমের তালিকাভুক্ত গড় দাম বার্ষিক ২.৯ শতাংশ কমেছে, যেখানে ভাড়ার হার কমেছে ১.৪ শতাংশ।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ২০:৪৬
পেনসিলভেনিয়ায় হামে ২ জনের  মৃ ত্যু, ৩৫ বছর পর প্রথম প্রাণহানি; টিকাবিহীন ছিলেন উভয়েই
পেনসিলভেনিয়ায় হামে ২ জনের মৃ ত্যু, ৩৫ বছর পর প্রথম প্রাণহানি; টিকাবিহীন ছিলেন উভয়েই

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যে হামে (মিজলস) আক্রান্ত হয়ে অন্তত দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তিদের কেউই হামের টিকা নেননি।   রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, এটি ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হামে মৃত্যুর প্রথম ঘটনা। একই সাথে পেনসিলভেনিয়ায় গত ৩৫ বছরের ইতিহাসে এটিই প্রথম হামজনিত মৃত্যুর রেকর্ড।   পেনসিলভেনিয়ার স্বাস্থ্য সচিব ড. ডেবরা বোগেন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজ্যটিতে হাম প্রায় নির্মূল অবস্থায় থাকায় সাধারণ মানুষ এই রোগের ভয়াবহতা ও সম্ভাব্য জটিলতা সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নন।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে 'এমএমআর' (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এটি হামের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত আজীবন সুরক্ষা নিশ্চিত করে।   স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মৃত দুজনই ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টির বাসিন্দা ছিলেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত পেনসিলভেনিয়ায় মোট ৩৯৩ জনের হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।   হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা নিউমোনিয়া এবং মস্তিষ্কে প্রদাহসহ মারাত্মক স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। আক্রান্তদের প্রায় ২০ শতাংশেরই হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।   সিডিসির তথ্যমতে, দেশটিতে হামের সংক্রমণ গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে, যার ৯৩ শতাংশ রোগীই টিকাবিহীন এবং এর ৬৯ শতাংশের বয়স ১৯ বছর বা তার কম।   এর আগে ২০২৫ সালে ৪৩টি অঙ্গরাজ্যে ২ হাজার ২৮৯ জনের সংক্রমণ শনাক্তের মাধ্যমে ৩০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছিল, যার ফলে দুটি শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়।   এদিকে টিকা কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ১০ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে শিশুদের টিকা গ্রহণের নিয়ম শিথিল করার পাশাপাশি কম্বাইন্ড এমএমআর টিকাকে আলাদা তিনটি ভাগে বিভক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানান।   ট্রাম্প এমএমআর টিকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তা জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সেন্টার্স ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেসের প্রধান ড. মেহমেট ওজ সিবিএসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের দাবির বিরোধিতা করে নিশ্চিত করেছেন যে, এমএমআর টিকা কোনোভাবেই প্রাণঘাতী নয়, বরং এটি অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৯:৪৩
ভার্জিনিয়ায় মেজবানে খাবার নিয়ে বিশৃঙ্খলা, দুঃখপ্রকাশ করে ভুল স্বীকার আয়োজকদের I ছবি: আমেরিকা বাংলা
ভার্জিনিয়ায় মেজবানে খাবার নিয়ে বিশৃঙ্খলা, দুঃখপ্রকাশ করে ভুল স্বীকার আয়োজকদের

গত ২৩ আগস্ট ভার্জিনিয়ায় বাইটপোর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মেজবানকে ঘিরে ব্যাপক মানুষের সমাগম হলেও খাবার বিতরণ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও খাবার না পাওয়ার অভিযোগ করেন।   অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি একপর্যায়ে কিছুটা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে বলে অংশগ্রহণকারীদের অনেকে জানিয়েছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যায়।   আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনার কিছু ভুল-ত্রুটি স্বীকার করা হয়েছে এবং আগামী আয়োজন আরও সুশৃঙ্খলভাবে করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।   আমেরিকা বাংলার হাতে আসা আয়োজকদের সেই লিখিত বক্তব্যটি হুবহু তুলে ধরা হলো— ডিএমভিতে স্মরণকালের সফল আয়োজন—বাইটপোর মেজবান: কৃতজ্ঞতা, ভুল-ত্রুটির স্বীকারোক্তি ও আগামী দিনের পরিকল্পনা   গত ২৩ আগস্ট বাইটপোর উদ্যোগে ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত মেজবান আমাদের জন্য ছিল অত্যন্ত আনন্দের, আবেগের এবং স্মরণীয় একটি আয়োজন। বিপুলসংখ্যক দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে ডিএমভি এলাকার অন্যতম বৃহৎ ও সফল কমিউনিটি আয়োজনে পরিণত করেছে।   শুধু ডিএমভি নয়—পেনসিলভানিয়া, নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক, টেক্সাসসহ বিভিন্ন স্টেট থেকে অনেকেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আমাদের মেজবানে অংশ নিয়েছেন। আপনাদের প্রত্যেকের প্রতি জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা।   শুরু থেকেই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল কেবল একটি খাওয়া-দাওয়ার অনুষ্ঠান আয়োজন করা নয়। আমরা চেয়েছিলাম আমাদের ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা সন্তানদের শেকড়ের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করতে।   একদিকে অতিথিরা উপভোগ করেছেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও অথেনটিক মেজবানি খাবারের স্বাদ, অন্যদিকে ডিএমভিতে প্রথমবারের মতো উপভোগ করেছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খানের গান। পাশাপাশি বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় শিল্পী প্রতীক হাসানের পরিবেশনা এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নাচ, গান ও ফ্যাশন শো অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছিল।   হাজারো দর্শক-শ্রোতা শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানস্থলে থেকে পুরো আয়োজন উপভোগ করেছেন। একটি সুশৃঙ্খল, মানসম্মত ও সময়ানুবর্তী অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার চেষ্টা আমাদের ছিল, আর আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই সেই প্রচেষ্টাকে সার্থক করেছে।   শুধু উপস্থিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানালেই আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ সম্পূর্ণ হবে না। গত প্রায় তিন মাস ধরে যাঁরা নিজেদের মূল্যবান সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করেছেন—আমাদের কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, ডোনার, স্পন্সর, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং নানাভাবে সহযোগিতা করা প্রত্যেক মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এত বড় একটি আয়োজন কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।   এত বড় একটি আয়োজনের অনেক সফলতার পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতা ও ভুল-ত্রুটিও ছিল। আমরা সেগুলো এড়িয়ে যেতে চাই না। আমাদের মেজবানি অনুষ্ঠান নিয়ে কমিউনিটিতে যে আলোচনা, সমালোচনা ও কিছু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কিছু বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছি।   প্রথমেই আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমাপ্রার্থী তাঁদের কাছে, যাঁরা অনুষ্ঠানে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও খাবার পাননি অথবা অন্য কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। আপনাদের কষ্ট আমাদেরও কষ্ট দিয়েছে।   আমাদের প্রস্তুতি মূলত রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যাকে ভিত্তি করেই করা হয়েছিল। রেজিস্ট্রেশনের তুলনায় অনেক বেশি মানুষের জন্য—রেজিস্ট্রেশন থেকে তিনগুণ বেশি মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা আমরা করেছিলাম। কিন্তু অনুষ্ঠানের দিন আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি মানুষের উপস্থিতি ঘটে।   পার্কটি চারদিক থেকে উন্মুক্ত হওয়ায় রেজিস্ট্রেশন ছাড়া অনেক মানুষও অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। ফলে প্রবেশকারীর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।   মেজবানির প্রতি কমিউনিটির ভালোবাসা এবং আমাদের আগের আয়োজনগুলোর প্রতি মানুষের আস্থার কারণে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হবেন—এটি আমরা সঠিকভাবে অনুমান করতে পারিনি। এখানেই আমাদের পরিকল্পনার একটি বড় ঘাটতি ছিল, এবং আমরা সেটি স্বীকার করছি।   আগের ঘোষণা ও ভিডিওগুলোতেও আমরা বারবার জানিয়েছিলাম যে, যেহেতু কিংবদন্তি শিল্পী নকীব খানের কনসার্টসহ সাংস্কৃতিক আয়োজন ছিল, তাই দুপুর ১টা থেকে ৩টার মধ্যেই খাবার পরিবেশনের মূল পর্ব শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। এরপর পুরো টিমকে কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনায় ব্যস্ত থাকতে হয়েছে।   কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি মানুষের উপস্থিতির কারণে খাবারের জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। অতিরিক্ত চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাবার ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা আমরা যত দ্রুত করা প্রয়োজন ছিল, তত দ্রুত করতে পারিনি।   যেহেতু অনুষ্ঠানটি একটি পার্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, তাই শেষ মুহূর্তে নতুন করে বিপুল পরিমাণ খাবার রান্না ও সরবরাহের ব্যবস্থা করাও বাস্তবসম্মতভাবে সম্ভব হয়নি। এসব কারণে যাঁরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন কিংবা শেষ পর্যন্ত খাবার পাননি—তাঁদের কাছে আমরা আবারও আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।   অনুষ্ঠানে সংগৃহীত অর্থ নিয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই—এই আয়োজন কোনো ব্যবসায়িক বা লাভজনক উদ্দেশ্যে করা হয়নি। অনুষ্ঠানের ব্যয় নির্বাহে কমিউনিটির সদস্যরা স্বেচ্ছায় যে সহযোগিতা করেছেন, সেটিই ছিল সংগৃহীত অর্থের মূল উৎস।   কাউকে বাধ্যতামূলকভাবে অর্থ প্রদানের কথা বলা হয়নি। শিল্পী, খাবার, প্যান্ডেল, সাউন্ড, স্টেজ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনাসহ এত বড় আয়োজন সম্পন্ন করতে যে পরিমাণ ব্যয় হয়েছে, তার তুলনায় সংগৃহীত অর্থ কোনোভাবেই ব্যবসায়িক লাভের পর্যায়ে ছিল না। প্রয়োজনে আয়-ব্যয়ের হিসাব কমিউনিটির সামনে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করতেও আমরা প্রস্তুত।   একটি অনুষ্ঠান সফল হয়েছে বলেই তার ভুলগুলো অস্বীকার করতে হবে—আমরা এমনটি বিশ্বাস করি না। বরং আমরা স্বীকার করছি, আমাদের পরিকল্পিত উপস্থিতি এবং বাস্তব উপস্থিতির মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছিল।   সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাবার বিতরণ, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং সারিবদ্ধ ব্যবস্থাপনায় আরও ভালো প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন ছিল। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিক্ষা নিচ্ছি।   ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই আগামী বছরের বাইটপোর মেজবানের তারিখ ঘোষণা করা হবে। আগামী আয়োজনে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আরও কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ, প্রবেশব্যবস্থা, সারিবদ্ধতা, ভলান্টিয়ার টিম এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আরও বড় পরিসরে ও আরও সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি নেওয়া হবে।   বিশেষ করে, এ বছর যাঁরা রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত খাবার পাননি, তাঁদের জন্য আগামী মেজবানে একটি বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা আমরা শিগগিরই জানাব।   আমাদের লক্ষ্য খুব পরিষ্কার—এ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামী বছরের আয়োজনকে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণবান্ধব করা।   একটি বড় কমিউনিটি আয়োজনের ভুল-ত্রুটি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক। আমরা সেই সমালোচনাকে সম্মান করি এবং তা থেকে শেখার চেষ্টা করি। তবে কিছু ফেইক আইডি থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার চালানোর বিষয়টিও আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা হয়েছে।   কমিউনিটির সবার প্রতি অনুরোধ—যাচাই না করে কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার করবেন না। গঠনমূলক পরামর্শ দিন, ভুল ধরিয়ে দিন এবং আমাদের জবাবদিহির মধ্যে রাখুন। একই সঙ্গে কমিউনিটির ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করুন, যাতে ভবিষ্যতে আমরা আরও বড় ও সুন্দর আয়োজন আপনাদের উপহার দিতে পারি।   আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু হাজারো মানুষের উপস্থিতি নয়। সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—একটি মেজবানকে কেন্দ্র করে দূর-দূরান্তের মানুষ একত্রিত হয়েছেন, পুরোনো ও নতুন প্রজন্ম পাশাপাশি বসেছেন, আমাদের খাবার, গান, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে উদ্‌যাপন করেছেন। এটাই ছিল আমাদের স্বপ্ন।   যেখানে ভুল হয়েছে, আমরা তা স্বীকার করছি। যেখানে ঘাটতি ছিল, আমরা তা সংশোধন করব। আর যেখানে আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছি, সেটিকে সঙ্গে নিয়েই আরও ভালো কিছু করার পথে এগিয়ে যাব। বাইটপোর চট্টগ্রামের মেজবান আপনাদের অনুষ্ঠান—আপনাদের ভালোবাসা, অংশগ্রহণ ও সহযোগিতাই এর সবচেয়ে বড় শক্তি।   আবারও আমাদের সকল অতিথি, শিল্পী, কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, ডোনার, স্পন্সর, সহযোগী ও শুভাকাঙ্ক্ষী এবং পুরো কমিউনিটির প্রতি জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা।   ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে, সাফল্যকে সঙ্গে নিয়ে—ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আবার দেখা হবে আরও বড়, আরও সুন্দর এবং আরও সুশৃঙ্খল বাইটপোর মেজবানে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৯:১২
যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইরানি সাইবার হা মলা, সামনে আরও ভয়াবহ বিপদের শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইরানি সাইবার হা মলা, সামনে আরও ভয়াবহ বিপদের শঙ্কা

সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া এক কিশোরও চাইলে মিউনিসিপ্যাল বা নগর অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থায় অনায়াসেই হ্যাক করতে পারে। এর জন্য তাকে খুব উঁচু মাপের কোনো সাইবার বিশেষজ্ঞ হতে হবে এমন নয়, বরং শুধু জানতে হবে দুর্বলতাগুলো কোথায় লুকিয়ে আছে।   ঠিক এমনভাবেই সাধারণ ডিফল্ট পাসওয়ার্ড আর উন্মুক্ত পোর্টের সুযোগ নিয়ে চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা।   তারা পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয় এবং বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষকে ম্যানুয়াল পাম্প ও ভালভ ব্যবহারের দিকে ফিরে যেতে হয়। সাবেক হ্যাকার এবং সাইবার সিকিউরিটি স্টার্টআপ 'রিমেডিও'-এর সিইও তাল কোলান্ডার জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তিনি মোটেও বিস্মিত হননি, বরং এটি হতে এত বেশি সময় কেন লাগল, সেটাই তার আশ্চর্যের বিষয়।   এই সাইবার হামলার সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো, পানির মতো এত গুরুত্বপূর্ণ একটি মৌলিক ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে খুব বেশি উন্নত বা জটিল কোনো প্রযুক্তিরও প্রয়োজন হয়নি। বছরের পর বছর ধরে এসব সাইবার দুর্বলতা রয়েই গেছে। তবে ইরানের সাথে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এই হামলার মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের দৈনন্দিন নির্ভরতার জায়গাগুলোতে—যেমন: ট্যাপের নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, কিংবা ট্রেনের সময়সূচিতে—অস্থিরতা তৈরি করে জনগণের আস্থায় চিড় ধরানো।   এটি এক ধরনের অসম যুদ্ধ, যেখানে সরাসরি সীমান্তে যুদ্ধ না করেও বহুগুণ ক্ষতিসাধন করা যায়। কোনো ব্যাংকের সার্ভার হ্যাক না করে বা সীমান্ত অতিক্রম না করেই তারা মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে, যেন মানুষ খোদ নিজেদের পানযোগ্য পানির নিরাপত্তা নিয়েই সন্দিহান হয়ে পড়ে।   বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ খাতের তুলনায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা অনেক বেশি অরক্ষিত। কারণ, এই ব্যবস্থাগুলোর বেশিরভাগই স্থানীয় সরকারের অধীন, যাদের সীমিত বাজেটের বড় অংশ স্কুল, যাতায়াত ব্যবস্থা ও অন্যান্য স্থানীয় অগ্রাধিকার খাতে ব্যয় করতে হয়।   হামলাকারীরা এখন জেনে গেছে ঠিক কোন উপায়ে আঘাত করতে হবে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের সাইবার হামলা কেবল পানিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বিদ্যুৎ, গণপরিবহন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো সম্পূর্ণ মিউনিসিপ্যাল অবকাঠামোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।   বর্তমানে হ্যাকাররা তাদের সক্ষমতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার করছে। তারা অনুভূমিকভাবে একসঙ্গে হাজার হাজার সিস্টেমে দুর্বলতা খুঁজতে পারে, যা কোনো মানুষের পক্ষে এককভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। অথচ সাইবার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা এখনো সনাতন পদ্ধতিতে একটির পর একটি ডিভাইসের সমস্যা উলম্বভাবে সমাধান করে যাচ্ছেন।   এ অবস্থায়, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিআইএসএ) এবং এফবিআই যতই সতর্কবার্তা দিক না কেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না দুর্বলতাগুলো মেরামত করা হচ্ছে, ততক্ষণ ঝুঁকি থেকেই যায়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যা সমাধানে বিরাট কোনো প্রযুক্তির প্রয়োজন নেই, বরং 'সাইবার হাইজিন' বা সাইবার স্বাস্থ্যবিধিকে একটি সার্বক্ষণিক পরিকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।   নিরবচ্ছিন্ন মনিটরিং ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকি শনাক্ত করে তা দ্রুত সমাধান করাই হতে পারে এই সাইবার যুদ্ধের মোক্ষম হাতিয়ার।   ইরান যেহেতু তাদের পরবর্তী সাইবার আক্রমণের জন্য যুদ্ধের সমাপ্তির অপেক্ষা করবে না, তাই যুক্তরাষ্ট্রেরও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৮:৫৭
মিনিয়াপলিসে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চার্চে গোপন অভিযান, অভিযুক্ত মার্কিন প্রশাসন
মিনিয়াপলিসে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চার্চে গোপন অভিযান, অভিযুক্ত মার্কিন প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসের ইউনিভার্সিটি ব্যাপটিস্ট চার্চসহ দেশটির বেশ কয়েকটি চার্চ ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ চলাকালে এবং পরবর্তী সময়ে আইনি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ধর্মীয় উপাসনালয়ে ছদ্মবেশী এজেন্ট পাঠিয়ে গোপন নজরদারি চালিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস)।   গত সপ্তাহে ডিএইচএস-এর প্রকাশিত গোপন নথিপত্রে এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নটি সামনে এসেছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ম্যাসাচুসেটসের একজন বিচারক ইউনিভার্সিটি ব্যাপটিস্ট চার্চকে ‘সুরক্ষিত এলাকা’ বা প্রোটেক্টেড এরিয়া হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, যেখানে অভিবাসন সংক্রান্ত কোনো আইনি বলপ্রয়োগ বা অভিযান পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।   কিন্তু নতুন প্রকাশিত নথিগুলো বলছে, আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত একাধিকবার এই চার্চের ভেতরে গিয়ে তদন্ত চালিয়েছেন ছদ্মবেশী এজেন্টরা। এমনকি অন্তত একটি ক্ষেত্রে গোপনে আড়িপাতার যন্ত্র (ওয়্যার) পরিধান করে চার্চের ভেতরে অডিও রেকর্ড করার প্রমাণও মিলেছে।   গত ২৮ মে চার্চের বেসমেন্টে আয়োজিত একটি আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ ক্লাসেও এক ছদ্মবেশী এজেন্ট অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। গত ১১ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন চার্চ ও বৈঠকে এই ধরনের ছদ্মবেশী উপস্থিতির রেকর্ড রয়েছে।   আইনজীবী কেভিন রিয়াচের দায়ের করা একটি নথির অংশ হিসেবে ডিএইচএস-এর ‘অপারেশন পাপেট মাস্টার’ এবং ‘প্রজেক্ট হুইপল শিল্ড’ সংক্রান্ত এসব অভ্যন্তরীণ নথি প্রকাশ্যে আসে। রিয়াচ মূলত আইজ্যাক স্যান্ট নামের এক ব্যক্তির পক্ষে আইনি লড়াই করছেন, যিনি ফেডারেল কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত ১৫ জনের একজন।   ডিএইচএস কর্তৃপক্ষের দাবি, সহিংস সুযোগসন্ধানী এবং ফেডারেল কর্মকর্তাদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করতেই এসব অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে চার্চের নেতারা একে ধর্মীয় পবিত্রতার মারাত্মক লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।   ইউনিভার্সিটি ব্যাপটিস্ট চার্চের এক নেতা জানান, এটি তাদের পবিত্র স্থানের চরম অবমাননা; চার্চ হলো আশ্রয় ও নিরাপত্তার স্থান, সরকারি এজেন্টদের অনুপ্রবেশের জায়গা নয়। এদিকে, মিনিয়াপলিসের ফার্স্ট ইউনিভার্সালিস্ট চার্চের রেভারেন্ড জেনিফার ক্রো এই নজরদারিকে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার আখ্যা দিয়ে বলেছেন, তারা কেবল সাধারণ ধর্মীয় স্বাধীনতা চর্চা করতে চেয়েছিলেন।   তিনি আরও বলেন, যদিও এ ধরনের সরকারি নজরদারি এখন অনেকটাই সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে, তবু এটিকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। তবে পুরো ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে ডিএইচএস-এর একজন মুখপাত্র চলমান তদন্ত ও পদ্ধতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৮:৩৯
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে কর্মরত অবস্থায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি কর্মী মোহাম্মদ ইউসুফ
নিউইয়র্কে রেস্টুরেন্টে গুলিতে বাংলাদেশি কর্মী নি হত রাজুর মরদেহ দেশে নিতে সহায়তার আহ্বান

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে কর্মরত অবস্থায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি কর্মী মোহাম্মদ ইউসুফ, পরিচিতজনদের কাছে তিনি রাজু নামে পরিচিত, তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। আকস্মিক এই ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে স্ত্রী, মা ও দুই ছোট মেয়েকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিবারটি। একই সঙ্গে রাজুর মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে দাফনের খরচ জোগাড় করাও পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   গত ২৩ আগস্ট রাতে ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে কর্মরত অবস্থায় গুলিতে নিহত হন ৪৪ বছর বয়সী রাজু। ঘটনাটি ইতোমধ্যে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপকভাবে পরিচিত। তাই তার মৃত্যুর ঘটনার বিস্তারিতের চেয়ে এখন পরিবারের জরুরি প্রয়োজনই সামনে এসেছে।   পরিবারের স্বজনরা জানিয়েছেন, রাজুই ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আয়ের ওপরই স্ত্রী, মা এবং ১২ ও ৩ বছর বয়সী দুই মেয়ে নির্ভরশীল ছিলেন। হঠাৎ করে তাকে হারানোর পর পরিবারের নিয়মিত খরচ চালানোর মতো কোনো আয় এখন নেই। এমন পরিস্থিতির জন্য পরিবারটি আগে থেকে প্রস্তুতও ছিল না।   সবচেয়ে জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজুর মরদেহ দেশে পাঠানো ও দাফনের ব্যবস্থা করা। এর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের আগামী কয়েক মাসের মৌলিক জীবনযাত্রার খরচ চালানোর জন্যও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।   এই পরিস্থিতিতে রাজুর পরিবারকে সহায়তা করতে গোফান্ডমি এর মাধ্যমে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হয়েছে। সংগৃহীত অর্থ দিয়ে প্রথমে রাজুর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো ও দাফন-সংক্রান্ত খরচ মেটানো হবে। এরপর তার স্ত্রী, মা ও দুই মেয়ের জরুরি জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে অর্থ ব্যবহার করা হবে।   স্বজনরা বলছেন, রাজুর মৃত্যুতে পরিবারটি শুধু একজন প্রিয় মানুষকেই হারায়নি, হারিয়েছে পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎসও। বিশেষ করে দুই ছোট মেয়েকে নিয়ে সামনে কীভাবে সংসার চলবে, সেটিই এখন পরিবারের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।   এই কঠিন সময়ে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছে রাজুর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা করার পাশাপাশি যারা সরাসরি সহযোগিতা করতে পারবেন না, তারা তহবিল সংগ্রহের আবেদনটি অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।   পরিবারের স্বজনদের মতে, এই অর্থ রাজুকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। তবে তার মরদেহ শেষবারের মতো পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে এবং স্বামী, বাবা ও একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারানো পরিবারটিকে অন্তত সামনের কঠিন কয়েকটি মাস পার হতে সহায়তা করতে পারে।   রাজুর পরিবারের জন্য শুরু করা গোফান্ডমি তহবিলে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে।   সহায়তার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করুন: https://gofund.me/e97a3bd4b

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৮:৪২
ফ্লোরিডায় নজিরবিহীন অভিযানে উদ্ধার ১৬৩ নিখোঁজ শিশু, গ্রেপ্তার ৩ সন্দেহভাজন I ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় নজিরবিহীন অভিযানে উদ্ধার ১৬৩ নিখোঁজ শিশু, গ্রেপ্তার ৩ সন্দেহভাজন

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় 'অপারেশন স্টেটওয়াইড শিল্ড'-এর মাধ্যমে এক ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই অভিযানের মাধ্যমে ২ মাস থেকে শুরু করে ১৭ বছর বয়সী মোট ১৬৩ জন নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।   ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এটি ফ্লোরিডার ইতিহাসে এ ধরনের সবচেয়ে বড় এবং রাজ্যব্যাপী পরিচালিত প্রথম শিশু উদ্ধার অভিযান। উদ্ধারকৃত শিশুদের ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্রের আরও ছয়টি অঙ্গরাজ্য, পুয়ের্তো রিকো এবং বিশ্বের ১২টি ভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।   এই যৌথ আইনি অভিযানে এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও অনেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   এই বিশাল অভিযানটি পরিচালনা করেছে একটি বহুমুখী টাস্কফোর্স, যারা ফ্লোরিডার টাম্পা, মায়ামি, জ্যাকসনভিল, অরল্যান্ডো, ফোর্ট মায়ার্স, পেনসাকোলা এবং টালাহাসি শহরে পৃথকভাবে উপ-অভিযান চালায়। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল এনফোর্সমেন্টের নেতৃত্বে এবং মানবপাচার বিষয়ক বিশেষ কৌঁসুলি রিটা পিটার্সের সার্বিক সহযোগিতায় টানা পাঁচ দিন ধরে এই তদন্ত কার্যক্রম চলে।   অভিযানের পরিধি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সীমানায় আটকে থাকেনি, বরং ব্রাজিল, কানাডা, কলম্বিয়া, স্পেন, ফিনল্যান্ড, মেক্সিকো, তাইওয়ানসহ ১২টি দেশে বিস্তৃত ছিল। উদ্ধার হওয়া শিশুদের দ্রুত বিশেষায়িত সেবাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা, সামাজিক সুরক্ষা এবং মানসিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।   শিশু পাচার ও শোষণের মতো অবৈধ চক্রের মূল হোতাদের ধরতে এখনো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এই চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে জ্যাকসনভিল থেকে মাইকেল প্রেসকট, লি কাউন্টি থেকে রবার্ট ফেরাল অ্যালিসন এবং জেডেন অ্যালেন হারউড নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   তাদের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর অশালীন আচরণ, শারীরিক হামলা ও শিশুর আইনগত অভিভাবকত্বে বেআইনি হস্তক্ষেপসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল উথমিয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, শিশু নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউটররা সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাবেন, যার মধ্যে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৭:৫৯
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের বেশি ফি বসানোর প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের বেশি ফি বসানোর প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসার ক্ষেত্রে একটি বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন এইচ-ওয়ানবি ভিসার ফি হিসেবে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে একটি প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করা হয়েছে।   গত সোমবার মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের (ডিএইচএস) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এই প্রস্তাবনাটি বছরের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত হতে পারে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন সাময়িকভাবে এই বিশাল অঙ্কের ফি আরোপ করলেও মার্কিন আদালত তা আটকে দিয়েছিল। কিন্তু নতুন এই প্রস্তাবনার মাধ্যমে সেই অভূতপূর্ব ফি-কে স্থায়ী রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলো।   মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং গবেষণা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি মেধাবী কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে এইচ-ওয়ানবি ভিসার ওপর নির্ভরশীল। ট্রাম্প প্রশাসনের এই আদেশের আগে এইচ-ওয়ানবি ভিসার ফি সাধারণত ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।   গত বছর সাময়িকভাবে ১ লাখ ডলারের বেশি ফি আরোপ করা হলে জুন মাসে একজন ফেডারেল বিচারক সেটিকে বেআইনি ঘোষণা করে ফি আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দেন। বর্তমানে বোস্টনভিত্তিক একটি আপিল আদালতে ওই রায়ের পর্যালোচনা চলছে।   এদিকে আগামী সেপ্টেম্বরেই প্রথম সাময়িক আদেশের মেয়াদ শেষ হতে যাওয়ায় ডিএইচএস এই নতুন স্থায়ী বিধিমালা প্রস্তাব করেছে। আগের আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর এই ফি প্রযোজ্য না হলেও নতুন প্রস্তাবে তাদেরও এর আওতায় আনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   এইচ-ওয়ানবি ভিসা কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ এই কর্মসূচির সমালোচকদের অভিযোগ, অনেক মার্কিন কোম্পানি সস্তায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিয়ে আমেরিকানদের কর্মসংস্থান কেড়ে নিচ্ছে।   অন্যদিকে, ইউএস চেম্বার অব কমার্সসহ ব্যবসায়িক লবিং গ্রুপগুলোর দাবি, কিছু সুনির্দিষ্ট পদে যোগ্য মার্কিন কর্মীর অভাবেই তাদের বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে হয় এবং বিশ্বমানের মেধা আকর্ষণের জন্য এই ভিসা অপরিহার্য।   মার্কিন অভিবাসন আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে এমন বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার কথা উল্লেখ করেই এই ফি বাড়ানো হয়েছিল।   আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলোতে দাবি করা হয়েছে, ভিসা কর্মসূচি তৈরি করা মূল আইনকে পাশ কাটানোর ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। এছাড়া কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ডিএইচএস রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে এ ধরনের কোনো কর বা ফি বসাতে পারে না বলেও বাদীদের অভিযোগ।   তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এটি কোনো সাধারণ কর নয় এবং দেশের ভেতরে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার এখতিয়ার আদালতের নেই।   ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাবে এমনিতেই এইচ-ওয়ানবি ভিসার চাহিদা কমেছে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার এইচ-ওয়ানবি ভিসার আবেদন জমা পড়েছিল, যা ২০২৩ সালের ৭ লাখ ৫৯ হাজার আবেদনের অর্ধেকেরও কম।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৭:৩৬
মিনেসোটায় অভিবাসীকে গুলি, আইসিই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলার প্রস্তুতি
মিনেসোটায় অভিবাসীকে গুলি, আইসিই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলার প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় গত জানুয়ারি মাসে জুলিও সিজার সোসা-সেলিস নামের এক ভেনেজুয়েলান অভিবাসীকে পায়ে গুলি করার ঘটনায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের কথা বিবেচনা করছেন ফেডারেল প্রসিকিউটররা।   ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রো নামের ওই অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগে মে মাসে মিনেসোটার স্থানীয় প্রসিকিউটররা দ্বিতীয় মাত্রার হামলার চারটি অভিযোগ এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার একটি অভিযোগ এনেছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে মিনেসোটায় অভিবাসন বিরোধী অভিযানের সময় এই ঘটনাটি ঘটেছিল, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।   জানুয়ারির ওই ঘটনার পরপরই কাস্ত্রোকে টেক্সাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বর্তমানে তিনি ক্যামেরন কাউন্টির একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তবে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট তাকে মিনেসোটায় ফেরত পাঠাতে (প্রত্যর্পণ) অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।   এর জেরে গত সপ্তাহে মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসন টেক্সাস গভর্নরের এই পদক্ষেপকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। কাস্ত্রোকে মিনেসোটায় প্রত্যর্পণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মঙ্গলবার টেক্সাসের একটি ফেডারেল আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন ফেডারেল প্রসিকিউটররা। সরকারি ক্ষমতায় থেকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কারও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।   এছাড়া সরকারকে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে ঘটনার পর ওই ভেনেজুয়েলান অভিবাসী ও তার এক সঙ্গীর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ফেডারেল অভিযোগ আনা হলেও পরে তা খারিজ করে দেয় মার্কিন বিচার বিভাগ।   মূলত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সাথে প্রাপ্ত প্রমাণের ব্যাপক অসঙ্গতি পাওয়ায় ফেব্রুয়ারিতে ওই মামলা চিরতরে বাতিল করা হয়।   গুলি করার পর কাস্ত্রোর দেওয়া মিথ্যা বিবৃতির কারণেই মূলত তার বিরুদ্ধে ফেডারেল আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। আইসিই-এর সাবেক প্রধান টড লায়ন্স জানান, ভিডিও প্রমাণে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় কাস্ত্রোসহ দুই কর্মকর্তাকে আগেই প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল।   ঘটনার বিষয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) এবং এফবিআই-এর দেওয়া প্রাথমিক বিবৃতিতেও ব্যাপক অমিল ছিল। ডিএইচএস দাবি করেছিল, সোসা-সেলিস গাড়ি নিয়ে পালানোর সময় ধরা পড়লে দুই ব্যক্তি ঝাড়ু ও বরফ পরিষ্কারের বেলচা নিয়ে আইসিই এজেন্টের ওপর হামলা চালায় এবং আত্মরক্ষার্থে ওই কর্মকর্তা গুলি করেন।   অন্যদিকে এফবিআইয়ের দাবি ছিল, সোসা-সেলিস নয়, বরং আলজোর্না নামের অন্য এক ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে পালিয়েছিলেন এবং হামলাকারীর পরিচয় নিয়েও তাদের তথ্যে অস্পষ্টতা ছিল।   এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক নারীকে বলতে শোনা যায়, তার স্বামীকে আইসিই এজেন্টরা তাড়া করে বাড়ির সামনে এনে পরিবারের সামনেই গুলি করেছে। এই অসঙ্গতিগুলোর কারণেই ঘটনাটি এখন ফেডারেল পর্যায়ে গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৭:১৩
৮০ বছর বয়সে চিরবিদায় নিলেন কান্ট্রি মিউজিকের কিংবদন্তি গায়িকা ডলি পার্টন I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
৮০ বছর বয়সে চিরবিদায় নিলেন কান্ট্রি মিউজিকের কিংবদন্তি গায়িকা ডলি পার্টন

যুক্তরাষ্ট্রের কান্ট্রি মিউজিক ইতিহাসের অন্যতম সফল ও যুগান্তকারী সংগীতশিল্পী ডলি পার্টন ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। মঙ্গলবার তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এই শোকাবহ সংবাদ নিশ্চিত করা হয়। ডলি পার্টনের ভাতিজা এবং তাঁর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রায়ান সিভার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা একটি পূর্বরেকর্ড করা ভিডিওতে মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।   আবেগঘন ওই ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, এই বিদায় চরম বিষাদ ও পরম গর্বের মিশ্রণ। ডলি সারা জীবন আলো ছড়িয়েছেন এবং এখন তিনি যিশুর আশ্রয়ে শান্তিতে আছেন।   সিভারের ভিডিওতে পার্টনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে গত বছরের অক্টোবরে তাঁর বোন ফ্রেইডা পার্টন সামাজিক মাধ্যমে ডলির জন্য প্রার্থনা চাইলে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়।   পরবর্তীতে গত মে মাসে ডলি নিজেই একটি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছিলেন যে, গত কয়েক বছর ধরে তিনি কিডনিতে পাথর, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও পরিপাকতন্ত্রের নানা জটিলতায় ভুগছেন এবং চিকিৎসায় ভালো সাড়াও পাচ্ছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই সে সময় লাস ভেগাসের বেশ কয়েকটি নির্ধারিত কনসার্ট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিলেন এই প্রবীণ তারকা।   তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। হোয়াইট হাউস থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মৃত্যুকে ‘লাখো মানুষের জন্য এক সত্যিকারের ক্ষতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।   তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সারা দেশে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বর্ষীয়ান গায়িকা লিন্ডা রনস্ট্যাড এবং হলিউড অভিনেত্রী জুলিয়া রবার্টসসহ অসংখ্য তারকা তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।   হলিউড চেম্বার অব কমার্স তাকে ‘যুগে একবার জন্ম নেওয়া প্রতিভা’ হিসেবে স্মরণ করে হলিউড ওয়াক অব ফেমে তাঁর তারকায় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর ঘোষণা দিয়েছে।   ১৯৬৭ সালে ‘হ্যালো, আই অ্যাম ডলি’ অ্যালবামের মাধ্যমে সংগীতাঙ্গনে পা রাখার পর থেকে তাকে আর কখনো পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ছয় দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় ৫০টি স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন এবং বিশ্বজুড়ে তাঁর ১০ কোটির বেশি রেকর্ড বিক্রি হয়েছে।   অসাধারণ প্রতিভাধর এই গীতিকার তাঁর ক্যারিয়ারে ১০টি গ্র্যামি পুরস্কার জেতার পাশাপাশি ৫৫ বার মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালে ‘জোলিন’ এবং ১৯৭৪ সালে ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’-এর মতো কালজয়ী গানগুলো তাকে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে দেয়, যা পরে হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠেও দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।   সংগীতাঙ্গনের গণ্ডি পেরিয়ে হলিউডে ‘নাইন টু ফাইভ’ এবং ‘স্টিল ম্যাগনোলিয়াস’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও তিনি অসামান্য সাফল্য ও অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন।   ১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি টেনেসির এক দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করা ডলি পার্টন তাঁর পরোপকারী সত্তার জন্যও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ছিলেন। ১৯৮৮ সালে ডলিউড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি নিজ এলাকার শিক্ষায় ব্যাপক অবদান রাখেন।   কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে মডার্নার টিকা গবেষণায় তিনি ১ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছিলেন, যা লাখো মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছিল। ২০২২ সালে তাঁর এই দাতব্য কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস তাকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের ‘কারেজ অ্যান্ড সিভিলিটি’ পুরস্কার প্রদান করেন।   উল্লেখ্য, প্রায় ৬০ বছরের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের পর ২০২৫ সালের মার্চে ডলি পার্টনের স্বামী কার্ল ডিন ৮২ বছর বয়সে মারা যান। নিজেদের পছন্দে নিঃসন্তান থাকা এই দম্পতির ভালোবাসার গল্প ভক্তদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৬:৫২
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে শিশুসহ নি হত ৮, বাড়িতে আ গুন I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে শিশুসহ নি হত ৮, বাড়িতে আ গুন

যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যের বিলিংস শহরে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার সন্ধ্যায় একটি পারিবারিক কলহের জেরে এক বন্দুকধারী এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে চার শিশুসহ অন্তত আটজনকে হত্যা করেছে। শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি ওই ঘাতক, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর বাড়িটিতে দাউ দাউ করে আগুন ধরিয়ে দেয় সে।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন বা সাধারণ সন্ত্রাসী হামলা নয়, বরং পারিবারিক শত্রুতার জের ধরেই এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।   নিহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী শার্লট ঘেকিয়েরে এবং তার ১৫ বছর বয়সী ভাই ল্যান্ডনসহ তাদের সৎ মা মেগান ঘেকিয়েরে রয়েছেন। পেশায় বিমানবন্দর উদ্ধারকর্মী অ্যাডাম ঘেকিয়েরে জানান, তিনি কর্মরত অবস্থায় পুলিশের রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থায় তার শ্বশুরবাড়ির ঠিকানায় গোলাগুলির খবর শুনতে পান। তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানদের ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। কিন্তু পরিস্থিতি 'অ্যাক্টিভ শুটার' পর্যায়ে থাকায় পুলিশ তাকে বাড়ির কাছে যেতে দেয়নি।   অ্যাডামের দাবি, দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের সাথে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এছাড়া এই ঘটনায় ৭ ও ১৩ বছর বয়সী আরও দুই শিশু এবং হুইলচেয়ারে চলাফেরা করা ৯২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাও প্রাণ হারিয়েছেন।   বিলিংস পুলিশ জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যা ৬টার পরপরই তারা গোলাগুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছানোর পর তারা বাড়ির পেছন থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান এবং ধোঁয়াচ্ছন্ন বাড়ির উঠোনে এক ব্যক্তিকে দেখতে পান।   এর মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই পুরো বাড়িটি আগুনে পুরোপুরি ভস্মীভূত হতে শুরু করে, যা উদ্ধারকাজকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। বিলিংস পুলিশের সহকারী প্রধান শন মেয়ো জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ভুক্তভোগীদের উদ্ধারের চেয়ে আগুন নেভানোর কাজকেই বেশি অগ্রাধিকার দিতে হয়েছিল।   পরবর্তীতে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিটে সন্দেহভাজন ওই ঘাতকও নিজের চালানো গুলিতেই (আত্মহত্যা) মারা যায়।   ইয়েলোস্টোন কাউন্টির শেরিফ কেন্ট ও'ডোনেল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আগুনে পুড়ে যাওয়া এবং তা নেভাতে ব্যবহৃত পানির কারণে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে।   প্রাপ্ত ৯১১ কলের অডিও রেকর্ডিংয়ে ঘটনাস্থলের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে, যেখানে একজন অজ্ঞান শিশুর কথা উল্লেখ করা হয়েছিল এবং পেছনে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ডেভ হিলার জানান, তিনি গুলির শব্দের পরপরই বাড়িটিতে দাউ দাউ করে ধোঁয়া ও আগুন জ্বলতে দেখেন।   স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, সাধারণ জনগণের জন্য আর কোনো হুমকি নেই এবং ঘটনাটির পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে বুধবার আরও একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৬:৩৫
ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনার সেরা ঠিকানা ইরভাইন, পিছিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস-সান ফ্রান্সিসকো I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনার সেরা ঠিকানা ইরভাইন, পিছিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস-সান ফ্রান্সিসকো

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে বাড়ি কেনার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী আবাসন বাজার হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছে অরেঞ্জ কাউন্টির শহর ইরভাইন। আর্থিক গবেষণা সংস্থা ‘ওয়ালেটহাব’-এর ২০২৬ সালের সর্বশেষ আবাসন বাজার র‍্যাঙ্কিংয়ে অঙ্গরাজ্যের মধ্যে প্রথম এবং পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দশম সেরা বাজারের স্বীকৃতি পেয়েছে এই শহরটি। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার ঐতিহ্যবাহী বড় ও জনপ্রিয় শহর যেমন লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ফ্রান্সিসকো এই তালিকায় বেশ পেছনের দিকে অবস্থান করছে।   যুক্তরাষ্ট্রের মোট ৩০০টি শহরের ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকের ওপর ভিত্তি করে এই বিশদ গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়ির মূল্যবৃদ্ধি, সাশ্রয়ী সক্ষমতা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বন্ধকী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতা (মর্টগেজ ডিলিংকুয়েন্সি), নতুন নির্মাণ কার্যক্রম এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ।   গবেষণায় ৬৪ দশমিক ২৮ স্কোর অর্জন করে ইরভাইন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর মধ্যে নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লট শহরের ঠিক পরেই দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো জানিয়েছেন, সেরা আবাসন শহরগুলো হয়তো সবসময় সবচেয়ে সস্তা হয় না, তবে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব এবং চমৎকার জীবনমানের নিশ্চয়তা দেয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার পরবর্তী সেরা শহরগুলোর মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে রোজভিল ১২তম, সান্তা ক্লারা ২৯তম, ক্লোভিস ৩৩তম, ওন্টারিও ৩৪তম এবং এলক গ্রোভ ৩৯তম স্থানে রয়েছে। এছাড়া সেরা দশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে মুরিয়েটা (৫৮তম), সানিভেল (৬৬তম), সান ডিয়েগো (৭০তম) ও সান্তা মারিয়া (৭২তম)।   তবে ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনার খরচের সাথে আয়ের অসঙ্গতি বেশ স্পষ্ট। উদাহরণস্বরূপ, সান্তা ক্লারা বাজারের দিক থেকে শক্তিশালী হলেও সাশ্রয়ী সক্ষমতার দিক থেকে ২৫০তম স্থানে পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে ক্লোভিস শহর সাশ্রয়ী সক্ষমতায় ষষ্ঠ হলেও সামগ্রিক বাজার শক্তিতে ৭২তম স্থানে রয়েছে।   এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার মেগা শহরগুলোর অবস্থান এই তালিকায় বেশ হতাশাজনক। সামগ্রিক র‍্যাঙ্কিংয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস ২৩৭তম, সান ফ্রান্সিসকো ২৭৩তম এবং ওকল্যান্ড ২৮২তম স্থানে নেমে গেছে।   পাশাপাশি গ্লেনডেল, বার্কলে, সান্তা বারবারা ও সান্তা মনিকার মতো শহরগুলো আয়ের তুলনায় বাড়ির উচ্চমূল্যের কারণে তলানির দিকে (২৯৭তম) অবস্থান করছে।   অঙ্গরাজ্যটির সবচেয়ে দুর্বল আবাসন বাজার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ল্যাঙ্কাস্টার (২৯১তম) ও পামডেল (২৯২তম)। তবে ঋণ সংকটের ঝুঁকি কম থাকার দিক থেকে সান জোসে, সান্তা ক্লারা ও সানিভেলের মতো শহরগুলো জাতীয় পর্যায়ে ইতিবাচক অবস্থান ধরে রেখেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৬:১৬
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানকে নিশানা করতে চীনের নতুন হাইপারসনিক ক্ষে পণাস্ত্র I  গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানকে নিশানা করতে চীনের নতুন হাইপারসনিক ক্ষে পণাস্ত্র

আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অত্যাধুনিক হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল (এইচজিভি) প্রযুক্তির নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে চীন। এর মাধ্যমে হাজার মাইল দূরে থাকা মার্কিন সামরিক বিমানগুলোকে সহজেই নিখুঁত নিশানায় পরিণত করা সম্ভব হবে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর সামরিক তথ্য জানানো হয়েছে।   ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার অস্ত্রের ঘাটতির এই সময়ে চীনের নতুন প্রযুক্তির খবরটি সামনে এল। বেইজিং বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা এই অত্যাধুনিক এইচজিভি প্রযুক্তির অস্ত্র উন্নয়ন ও চালনা করছে।   সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্ত্রের সাহায্যে বহুদূরে থাকা আমেরিকার রিফুয়েলিং ট্যাংকার ও আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া বিমানগুলোকে সহজেই লক্ষ্যবস্তু করা যাবে।   চীনের ‘ডিএফ-১৭’ ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নির্গত এইচজিভি প্রায় ২ হাজার ৪১৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে, যা প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি গুয়ামের খুব কাছাকাছি।   অন্যদিকে, তাদের উন্নত ‘ডিএফ-২৭’ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার, যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জকেও হামলার আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে চীনের অস্ত্রভাণ্ডারে ৩ হাজার ১৫০টির বেশি ব্যালিস্টিক ও ৩০০টির বেশি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।   তবে দূরপাল্লার এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে চলন্ত বিমানে হামলা চালানো বেশ কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্লুমবার্গের মতে, দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে এটি ২০ মিনিট বা তার বেশি সময় নিতে পারে এবং এর জন্য সার্বক্ষণিক নিখুঁত রিয়েল-টাইম তথ্যের প্রয়োজন হয়।   সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এ ধরনের হামলা পারমাণবিক হামলার ভুল ধারণা তৈরি করে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে বসে নেই যুক্তরাষ্ট্রও।   মার্কিন সামরিক বাহিনী বর্তমানে দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ‘এইম-১৭৪বি’ ও ৩০০ মাইল পাল্লার ‘এইম-৪২৪ ম্যালিস’ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে।   পাশাপাশি প্রতিরক্ষাসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের ‘এইম-২৬০’ বর্তমানে উৎপাদন পর্যায়ে রয়েছে এবং ইউরোপে ব্যবহৃত হচ্ছে ১০০ মাইল পাল্লার ‘মিটিওর’ ক্ষেপণাস্ত্র।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৫:৩৮
আজ ১২ রবিউল আউয়াল: সারা দেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী I ছবিঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
আজ ১২ রবিউল আউয়াল: সারা দেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল আজ। বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করছেন।   ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসুল হিসেবে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আবির্ভাব এবং তাঁর প্রচারিত শান্তির বাণী বিশ্বজুড়ে এক ঐতিহাসিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। দিনটির পবিত্রতা রক্ষায় এবং দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি ও সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।   পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে পক্ষকালব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানমালা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ বিশ্বমানবতার জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ। সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষমাশীলতা ও পরম মমত্ববোধের অনন্য সমন্বয়ে গঠিত তাঁর চরিত্র থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের ওপর তিনি জোর দেন। ধর্ম, বর্ণ বা সামাজিক অবস্থানের কারণে কাউকে অবজ্ঞা না করার যে শিক্ষা মহানবী (সা.) দিয়ে গেছেন, তা সবার জীবনে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।   দিনটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এক বাণীতে তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, মহানবী (সা.)-এর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য মহিমান্বিত ঘটনা এবং তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করেই একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।   এদিকে ধর্মীয় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, নাশকতা ও গুজব ঠেকাতে সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে র‍্যাব। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি এবং সাইবার প্যাট্রলিং জোরদার করা হয়েছে।   ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে আরবের মক্কা নগরীর বিখ্যাত কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন মহানবী (সা.) এবং ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের একই দিনে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। জন্মের আগেই তিনি পিতৃহারা হন এবং ছয় বছর বয়সে মাতৃহারা হন। আজকের এই পুণ্যময় দিনে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দান-খয়রাতসহ নফল ইবাদতের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছেন এবং অনেকেই নফল রোজা রাখছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৫:২১
ইরানের শীর্ষ ৫ কমান্ডারের খোঁজে ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের  I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
ইরানের শীর্ষ ৫ কমান্ডারের খোঁজে ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি এবার ইরানের ইসলামিক রিভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তার সন্ধানে বিশাল অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে।   মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই পাঁচ কমান্ডারের বিষয়ে সঠিক ও কার্যকর তথ্য দিলে ১ কোটি বা ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। শুধু আর্থিক পুরস্কারই নয়, যোগ্য তথ্য প্রদানকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অন্য স্থানে পুনর্বাসনের সুবিধাও দেওয়া হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।   মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া এই পাঁচ শীর্ষ আইআরজিসি কর্মকর্তা হলেন— আইআরজিসির কমান্ডার আহমেদ ওয়াহিদি, খাতামুল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের প্রধান আলি আব্দুল্লাহি, আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের ড্রোন (ইউএভি) কমান্ডার সাঈদ আগাজানি, আইআরজিসি সাইবার-ইলেকট্রনিক কমান্ডের প্রধান হামিদরেজা লশগরিয়ান এবং গোয়েন্দা দপ্তরের কমান্ডার মজিদ খাদেমি।   মার্কিন সরকারের দাবি, এই ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, সাইবার হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু ও অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনার সাথে সরাসরি জড়িত।   তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক খবর যাচাই করে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র যে পাঁচজনের তালিকা প্রকাশ করেছে, তাদের মধ্যে অন্তত দুজন— সাঈদ আগাজানি ও মজিদ খাদেমি সম্প্রতি চলমান সংঘাতে নিহত হয়েছেন। বিশেষ করে, গত এপ্রিলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন বলে এর আগে নিশ্চিত করা হয়েছিল।   নিহত ব্যক্তিদের বিষয়েও তথ্য চেয়ে পুরস্কার ঘোষণার এই বিষয়টি মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মূলত ইরানের অভ্যন্তরে থাকা সাধারণ মানুষ বা সরকার বিরোধীদের কাছ থেকে গোপন তথ্য বের করে আনার একটি কৌশলগত অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এমন অভিনব প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৫:৫
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান
ইরান ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞা বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি চীনের

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে কেন্দ্র করে তাদের নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়িয়ে চীনা কোম্পানিগুলোকে এর আওতায় আনে, তবে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং। মঙ্গলবার মার্কিন সরকারের প্রস্তাবিত 'সেকেন্ডারি স্যাংশন' বা দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন।   লিন জিয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিজেদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে চীন। আন্তর্জাতিক আইন কিংবা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া একতরফাভাবে আরোপ করা অবৈধ নিষেধাজ্ঞার তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেন, এ ধরনের চাপ প্রয়োগের নীতি পরিস্থিতিকে কেবল আরও ঘোলাটে করবে। তাই উত্তেজনা না বাড়িয়ে দ্রুত সংলাপ ও আলোচনায় ফেরার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন এই চীনা কর্মকর্তা।   এর আগে সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট 'অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট' নামে ইরানের বিরুদ্ধে এক নতুন আর্থিক নিষেধাজ্ঞার কাঠামো তুলে ধরেন। এই উদ্যোগের আওতায় হংকং ও চীনের মূল ভূখণ্ডের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হলেও, এখনো দেশটির বড় কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়নি।   তবে বেসেন্ট সতর্ক করেছেন যে, যেসব দেশ বা প্রতিষ্ঠান ইরানের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদের বৈশ্বিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে এবং কেউই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঊর্ধ্বে নয়।   উল্লেখ্য, বিশ্বে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলো চীন, যা দেশটির মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ। চীনের বাজারে ইরানি তেলের এই ব্যাপক চাহিদার কারণে বেইজিংয়ের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত হলে দুই পরাশক্তির সম্পর্ক নতুন করে চরম উত্তেজনার মুখে পড়তে পারে।   এমন পরিস্থিতি সামনে আসছে ঠিক এমন এক সময়ে, যখন আগামী মাসেই ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   সাধারণত চীনের বড় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে ইরানের অপরিশোধিত তেল কেনা থেকে বিরত থাকে। তবে দেশটির ছোট বেসরকারি রিফাইনারিগুলো নিয়মিতভাবেই ইরান থেকে তেল কিনে তা প্রক্রিয়াজাত করে আসছে।   চলতি বছরের শুরুতে এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও, চীন বরাবরই নিজেদের কোম্পানির ওপর বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে।   এ ধরনের একতরফা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীন ইতোমধ্যে নিজস্ব 'নিষেধাজ্ঞা-বিরোধী' আইনি কাঠামো তৈরি করেছে, যার আওতায় চীনা প্রতিষ্ঠান বা সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বিদেশি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি সুযোগ রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:৩৩
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কানাডার পাল্টা আ ঘাত, মার্কিন পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কানাডার পাল্টা আ ঘাত, মার্কিন পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য আলোচনায় কোনো সুরাহা না হওয়ায় এবার প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে কানাডা। মঙ্গলবার কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা শত শত মার্কিন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে।   এর মধ্যে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, আসবাবপত্র, পোশাক, কাগজ এবং দুগ্ধজাত সামগ্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য রয়েছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এই নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর হবে। গত সপ্তাহান্তে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন শুল্কের জবাবে কানাডার এই পদক্ষেপ বাণিজ্যযুদ্ধকে আরও ভয়াবহ রূপ দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন অটোয়াতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটি কানাডার ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ, তবে কানাডা এই পরিস্থিতি শক্ত হাতে মোকাবিলা করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন শুল্কের জবাবে কানাডাও 'ডলারে ডলার এবং হারে হার' মিলিয়ে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক বসাবে।   এই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার ফলে প্রায় ২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের মার্কিন পণ্য সরাসরি প্রভাবিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্সাস ব্যুরোর ২০২৫ সালের তথ্যমতে, এই পরিমাণটি কানাডায় মোট মার্কিন রপ্তানির প্রায় ৮ শতাংশ।   দুই দেশের মধ্যে এই চরম উত্তেজনা শুরু হয় মূলত গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কানাডায় তৈরি গাড়ি, অটো পার্টস, ইস্পাত এবং ট্রাকের ওপর তিনি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করবেন।   ট্রাম্প আরও বলেন, কানাডার সাথে কাজ করা সবচেয়ে কঠিন এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজন, যুক্তরাষ্ট্রের তাদের প্রয়োজন নেই। এর আগে গত শনিবার কানাডার কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক কার্যকর হওয়ার পরই কানাডা পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য মার্কিন আলোচকদের একগুঁয়েমিকে দায়ী করে বলেন, তারা অযৌক্তিকভাবে অনেক বেশি সুবিধা চেয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে খুব সামান্যই প্রস্তাব দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে মেক্সিকোর পর কানাডাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার, যেখানে মার্কিন রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৭৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:১১
ফ্লোরিডায় ১৯ বছর ধরে বসবাসকারী মার্কিন নৌসেনার বাবাকে আটক করল আইসিই
ফ্লোরিডায় ১৯ বছর ধরে বসবাসকারী মার্কিন নৌসেনার বাবাকে আটক করল আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক মার্কিন নৌসেনার বাবাকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, যখন তাকে আটক করা হয় তখন তার ছেলে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরীতে করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হয়ে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করছেন।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ফ্লোরিডার কি ওয়েস্ট এলাকায় নিয়মিত গাড়ি তল্লাশিকালে লুইস ম্যানুয়েল আভিলেস রোয়া নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করেন বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টরা।   আটক লুইসের স্ত্রী আর্জেলিয়া আভিলেস জানান, পেশায় 'হ্যান্ডিম্যান' বা খুচরা মেরামতকর্মী তার স্বামী নিজের গাড়িটি মেকানিকের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। মূলত নিকারাগুয়া থেকে আসা লুইস গত ১৯ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং এখানে কাজ করার বৈধ অনুমতিপত্রও (ওয়ার্ক পারমিট) তার রয়েছে।   আর্জেলিয়া আক্ষেপ করে বলেন, তার স্বামী পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে দিনরাত পরিশ্রম করেন এবং তিনি সন্তানদের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ একজন আদর্শ বাবা। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন ছেলে জশুয়া আভিলেস ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে লেখেন, যে দেশ তাকে সবকিছু দিয়েছে, সেই দেশের জন্যই তিনি গত নয় মাসের বেশি সময় ধরে সাগরে যুদ্ধ করছেন।   এমন অবস্থায় দেশে তার বাবাকেই অপরাধীর মতো আটকে রাখা হয়েছে জেনে তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। জশুয়া আরও জানান, তারা বাবার গ্রিন কার্ড অনুমোদনের জন্য ইমিগ্রেশনের সব নিয়ম মেনে আবেদন করেছিলেন এবং বর্তমানে কেবল অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিলেন।   তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট এই আটকের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। তাদের দাবি, পরিবারের কোনো সদস্য মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত থাকলেও তা ইমিগ্রেশন বা অভিবাসন আইন থেকে অব্যাহতি পাওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি হতে পারে না। ফলে আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত লুইসকে আইসিই-এর ডিটেনশন সেন্টার বা আটককেন্দ্রেই থাকতে হবে।   ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে সামরিক পরিবারের সুরক্ষার বিষয়টি সম্প্রতি মারাত্মক প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অভিবাসন সংক্রান্ত হাজার হাজার মামলায় ভরে গেছে ফেডারেল আদালত। গত এক বছরেই ফেডারেল বিচারকরা ১৬ হাজারেরও বেশিবার আইসিই-এর আটকে রাখার নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন।   এর আগে এক মার্কিন সেনার স্ত্রীকেও জোরপূর্বক ব্রাজিলে নির্বাসন ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যদিও পরে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। অন্যদিকে, টানা ২০০ দিনের বেশি সময় ধরে সাগরে ভাসমান ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন জাহাজের নৌসেনাদের মানসিক অবস্থা ও অমানবিক কর্মপরিবেশ নিয়েও ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৩:৫০