সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ফ্লোরিডায় ১৯ বছর ধরে বসবাসকারী মার্কিন নৌসেনার বাবাকে আটক করল আইসিই
ফ্লোরিডায় ১৯ বছর ধরে বসবাসকারী মার্কিন নৌসেনার বাবাকে আটক করল আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক মার্কিন নৌসেনার বাবাকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, যখন তাকে আটক করা হয় তখন তার ছেলে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরীতে করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হয়ে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করছেন।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ফ্লোরিডার কি ওয়েস্ট এলাকায় নিয়মিত গাড়ি তল্লাশিকালে লুইস ম্যানুয়েল আভিলেস রোয়া নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করেন বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টরা।   আটক লুইসের স্ত্রী আর্জেলিয়া আভিলেস জানান, পেশায় 'হ্যান্ডিম্যান' বা খুচরা মেরামতকর্মী তার স্বামী নিজের গাড়িটি মেকানিকের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। মূলত নিকারাগুয়া থেকে আসা লুইস গত ১৯ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং এখানে কাজ করার বৈধ অনুমতিপত্রও (ওয়ার্ক পারমিট) তার রয়েছে।   আর্জেলিয়া আক্ষেপ করে বলেন, তার স্বামী পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে দিনরাত পরিশ্রম করেন এবং তিনি সন্তানদের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ একজন আদর্শ বাবা। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন ছেলে জশুয়া আভিলেস ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে লেখেন, যে দেশ তাকে সবকিছু দিয়েছে, সেই দেশের জন্যই তিনি গত নয় মাসের বেশি সময় ধরে সাগরে যুদ্ধ করছেন।   এমন অবস্থায় দেশে তার বাবাকেই অপরাধীর মতো আটকে রাখা হয়েছে জেনে তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। জশুয়া আরও জানান, তারা বাবার গ্রিন কার্ড অনুমোদনের জন্য ইমিগ্রেশনের সব নিয়ম মেনে আবেদন করেছিলেন এবং বর্তমানে কেবল অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিলেন।   তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট এই আটকের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। তাদের দাবি, পরিবারের কোনো সদস্য মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত থাকলেও তা ইমিগ্রেশন বা অভিবাসন আইন থেকে অব্যাহতি পাওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি হতে পারে না। ফলে আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত লুইসকে আইসিই-এর ডিটেনশন সেন্টার বা আটককেন্দ্রেই থাকতে হবে।   ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে সামরিক পরিবারের সুরক্ষার বিষয়টি সম্প্রতি মারাত্মক প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অভিবাসন সংক্রান্ত হাজার হাজার মামলায় ভরে গেছে ফেডারেল আদালত। গত এক বছরেই ফেডারেল বিচারকরা ১৬ হাজারেরও বেশিবার আইসিই-এর আটকে রাখার নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন।   এর আগে এক মার্কিন সেনার স্ত্রীকেও জোরপূর্বক ব্রাজিলে নির্বাসন ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যদিও পরে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। অন্যদিকে, টানা ২০০ দিনের বেশি সময় ধরে সাগরে ভাসমান ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন জাহাজের নৌসেনাদের মানসিক অবস্থা ও অমানবিক কর্মপরিবেশ নিয়েও ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৩:৫০
মিসিসিপিতে অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীর ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল মার্কিন নাগরিকের I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
মিসিসিপিতে অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীর ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল মার্কিন নাগরিকের

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে মহাসড়কের ওপর একটি সেমি-ট্রাকের ধাক্কায় ডেড্রিক গ্যারেট (৩৬) নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হাইন্ডস কাউন্টির ইন্টারস্টেট-২০ মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।   তবে এই দুর্ঘটনাটি সাধারণ কোনো সড়ক দুর্ঘটনার গণ্ডি পেরিয়ে সবার মনোযোগ কেড়েছে ঘাতক ট্রাক চালকের পরিচয়ের কারণে। মার্কিন ফেডারেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, সুবে সিং (২৬) নামের ওই চালক একজন ভারতীয় নাগরিক এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন।   মিসিসিপি হাইওয়ে প্যাট্রোল জানিয়েছে, ঘটনার দিন দুপুর দেড়টার দিকে টেরি শহরের বাসিন্দা ডেড্রিক গ্যারেট মহাসড়কের ২৯-মাইল মার্কারের কাছে তার হোন্ডা সিআর-ভি (২০১৬) গাড়ি থেকে নেমে রাস্তায় দাঁড়ান। এ সময় একই দিকে যাওয়া একটি মালবাহী ট্রাক (২০২১ ফ্রেইটলাইনার) তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। প্রথম সাড়াদানকারীরা (ফার্স্ট রেসপন্ডার) ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো শহরের বাসিন্দা ট্রাকচালক সুবে সিং এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি, তবে দুর্ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণগুলো খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।   দুর্ঘটনার পর সুবে সিংয়ের আইনি বৈধতার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে মার্কিন নাগরিকদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের (ডিএইচএস) তথ্যমতে, ২০১৭ সালের নভেম্বরে বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টরা প্রথম তাকে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক করেছিল।   পরবর্তীতে ২০১৮ সালের মে মাসে তাকে বন্ডের মাধ্যমে মুক্তি দেয় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। এরপর থেকে তিনি জিপিএস মনিটরের মাধ্যমে নজরদারির একটি বিকল্প প্রোগ্রামের অধীনে ছিলেন।   দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে থাকা একজন অবৈধ অভিবাসী কীভাবে বাণিজ্যিক গাড়ি চালানোর লাইসেন্স (সিডিএল) পেলেন এবং ভারী ট্রাক চালাচ্ছিলেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। অনেকেই চালকের নিয়োগকর্তা এবং স্টেট লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।   পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ডিএইচএস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারী যানবাহন চালানোর জন্য ট্রাফিক নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা এবং ইংরেজিতে দক্ষতা থাকা বাধ্যতামূলক। বাণিজ্যিক সড়কে অবৈধ চালকদের দৌরাত্ম্য বন্ধে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে কাজ চলছে। এদিকে মিসিসিপি হাইওয়ে প্যাট্রোল দুর্ঘটনার সার্বিক তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৩:২৭
কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের জবাবে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবে কানাডার বড় পাল্টা আঘাত, মার্কিন পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ

কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের জবাবে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার কানাডা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর আরোপিত এই পাল্টা শুল্কের হার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হবে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের চলমান বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র আকার নিয়েছে।   কানাডার ঘোষণার আওতায় প্রায় ৭০০ ধরনের মার্কিন পণ্য থাকছে। এসব পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। নতুন এই ব্যবস্থা আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।   কানাডার এই পদক্ষেপ এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের পর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সম্প্রতি কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এর জবাবেই কানাডা পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাব সমান হারে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে। মঙ্গলবারের ঘোষণায় সেই অবস্থান বাস্তবায়নের বিষয়টি সামনে এসেছে।   নতুন কানাডীয় শুল্কের আওতায় বিভিন্ন ধরনের মার্কিন পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে ইস্পাত, ইলেকট্রনিক পণ্য, সরঞ্জাম, খাদ্যপণ্য এবং বিভিন্ন শিল্পপণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর এই পাল্টা ব্যবস্থা কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।   দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে কয়েক দিন ধরে চলা আলোচনা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। এরপর যুক্তরাষ্ট্র কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।   এর প্রতিক্রিয়ায় কানাডা জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন শুল্কের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের জবাব দেওয়া হবে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এসব পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।   এই পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও চাপে পড়েছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধ এরই মধ্যে নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের পর কানাডার পাল্টা পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।   কানাডার ঘোষণায় প্রায় ৭০০ মার্কিন পণ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দেশটির পাল্টা ব্যবস্থা বিস্তৃত পরিসরে নেওয়া হয়েছে। এসব পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কের হার পণ্যের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হবে। কিছু পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ এবং কিছু পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।   যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়তে থাকায় দুই দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। কানাডার মঙ্গলবারের ঘোষণা সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের সরাসরি জবাব দিয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৩:১১
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বন্ধুর বাড়ি ভেবে ভুল ঠিকানায় গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন ২২ বছরের তরুণ গ্লেন পিশার। ছবি: সংগৃহীত
পেনসিলভানিয়ায় বন্ধুর বাড়ি ভেবে ভুল বাড়িতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে বন্ধুর বাড়ি ভেবে ভুল একটি বাড়িতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ২২ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হয়েছেন। গ্লেন পিশার নামের ওই তরুণ শনিবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে একটি বারে ছিলেন। পরে বন্ধুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য হেঁটে রওনা হলে ভুল করে অন্য একটি বাড়িতে গিয়ে পৌঁছান বলে তাঁর পরিবার জানিয়েছে।   ঘটনাটি ঘটে আপার পটসগ্রোভ এলাকায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধুর জন্মদিন উদ্‌যাপন করতে শনিবার রাতে গ্লেন বন্ধুদের সঙ্গে একটি বারে ছিলেন। রাত বাড়ার পর উদ্‌যাপন বন্ধুর বাড়িতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গ্লেন সেখানে যাওয়ার জন্য হেঁটে রওনা দেন। তবে পথ ভুল করে তিনি অন্য একটি বাড়িতে পৌঁছে যান।   গ্লেনের মা এরিন পিশারের ভাষ্য, তাঁর ছেলে বুঝতে পারেননি যে তিনি ভুল বাড়ির সামনে চলে এসেছেন। তিনি বাড়িটির পেছনের দরজায় গিয়ে কড়া নাড়েন এবং বন্ধুর বাড়ি ভেবে ভেতরে ঢোকার জন্য বলেন। বাড়ির ভেতরে থাকা দম্পতি আকস্মিক এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে জরুরি নম্বরে ফোন করেন।   স্থানীয় সময় রোববার রাত ১২টা ৩২ মিনিটের দিকে ওই বাড়ির বাসিন্দারা পুলিশের কাছে ফোন করেন। গ্লেন তখন বন্ধুদের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন বলে তাঁর মা জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, ফোনে কথা বলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে এবং গ্লেনকে গুলি করা হয়।   গ্লেনের পরিবার জানিয়েছে, ওই সময় তাঁর কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। তাঁর সঙ্গে শুধু একটি মুঠোফোন ও একটি ব্যাগ ছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তবে পুলিশের গুলি চালানোর পরিস্থিতি ঠিক কীভাবে তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনার সময় বাড়িটির পেছনের অংশে থাকা নজরদারি ক্যামেরায় পুরো ঘটনার কিছু অংশ ধারণ হয়ে থাকতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সেই ভিডিও তদন্তের কাজে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি সংবাদমাধ্যমকে দেখানো হয়নি।   ঘটনাটির তদন্ত করছে মন্টগোমারি কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত গ্লেনকে গুলি করার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে পুলিশের গুলি চালানোর কারণ সম্পর্কেও অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   গ্লেন পিশারের পরিবার জানিয়েছে, তিনি সম্প্রতি নিউ জার্সির সেন্ট এলিজাবেথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেখানে তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসবল দলে খেলার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিবারের কাছে তিনি বেসবালপ্রেমী এবং প্রাণবন্ত একজন তরুণ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।   পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁর মা জানিয়েছেন, ছেলে ছিলেন হাসিখুশি স্বভাবের এবং পরিবারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। হঠাৎ এই মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তারা।   ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। ভুল বাড়িতে পৌঁছে যাওয়া থেকে শুরু করে পুলিশ আসার পর গুলি চালানোর ঘটনা পর্যন্ত পুরো পরিস্থিতি তদন্তকারীরা পর্যালোচনা করছেন। বাড়ির পেছনের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করে ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১২:৪৬
নেত্রকোনার মদনে যৌন নিপীড়নের শিকার মাদ্রাসাছাত্রীর গর্ভধারণের ঘটনাটি প্রথম শনাক্ত করেন ডা. সায়মা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত
১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও অন্তসত্ত্বার অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক, হুমকির মুখেও তদন্তে চিকিৎসক

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় যৌন নিপীড়নের শিকার ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীর গর্ভধারণের ঘটনা প্রথম শনাক্ত করেছিলেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সামিয়া আক্তার। বিষয়টি নিয়ে মে মাসের শুরুতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে কথা বলার পর অনলাইনে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। নিরাপত্তার জন্য ৭ মে মদন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। এরপরও তদন্তে সহযোগিতা করে যান এই চিকিৎসক। সম্প্রতি ডিএনএ পরীক্ষার ফলেও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জৈবিক সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।   ঘটনার শুরুতে শিশুটির চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় গর্ভধারণের বিষয়টি শনাক্ত করেন ডা. সামিয়া। চিকিৎসকের কাছে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ঘটনাটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ হিসেবে সামনে আসে এবং তদন্ত শুরু হয়।   এরপর মে মাসের শুরুতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ঘটনাটি নিয়ে কথা বলেন ডা. সামিয়া। তার বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে লক্ষ্য করে একাধিক হুমকি দেওয়া হয়। এসব হুমকির মধ্যে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকিও ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।   নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ৭ মে মদন থানায় জিডি করেন এই চিকিৎসক। তবে হুমকির পরও তিনি তদন্ত থেকে সরে দাঁড়াননি এবং শিশুটির ঘটনায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখেন।   তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে। পরীক্ষায় শিশুটির গর্ভধারণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে জৈবিক সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। ফলে অভিযোগের তদন্তে ডিএনএ প্রতিবেদনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   একজন চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হুমকির মুখে পড়ার ঘটনাটিও বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। একই সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষার ফল যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্তকে আরও নির্দিষ্ট প্রমাণের দিকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১২:২৪
ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরের পানকি শিল্পাঞ্চলে ফেলে দেওয়া মেয়াদোত্তীর্ণ চকলেট কুড়াতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ছবি: সংগৃহীত
মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ময়লায় ফেলে দেওয়া হলো চকলেট, কুড়াতে মানুষের হুড়োহুড়ি

ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরের পানকি শিল্পাঞ্চলে রাস্তার পাশে ফেলে দেওয়া বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ চকলেট ও টফি কুড়িয়ে নিতে মানুষের ভিড়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, অনেকে ব্যাগ, বস্তা ও কার্টনে করে এসব চকলেট নিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনাটি খাদ্য নিরাপত্তা ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য নিষ্পত্তি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।    টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানপুরের পানকি এলাকায় একটি চকলেট কারখানা বিক্রির অনুপযোগী চকলেট ও টফি একটি ডাম্পিং সাইটে ফেলে দেয়। এরপর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পথচারীরাও সেখানে জড়ো হন।   ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, কেউ হাতে করে চকলেট তুলছেন, আবার কেউ ব্যাগ ও বস্তা ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছেন। কয়েকজনকে সাইকেল ও মোটরসাইকেলে করে বড় পরিমাণ চকলেট নিয়ে চলে যেতেও দেখা গেছে।    স্থানীয়দের দাবি, এসব চকলেটের মেয়াদ ২০২৪ সালেই শেষ হয়ে গেছে। তবে ঘটনাস্থলে থাকা অনেকেই প্যাকেটের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ যাচাই না করেই সেগুলো সংগ্রহ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি মানুষকে এসব চকলেট না খাওয়ার সতর্কতা দিলেও তা উপেক্ষা করা হয় বলে জানা গেছে।    ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য এভাবে জনসমাগমের জায়গার পাশে ফেলে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে কুড়িয়ে নেওয়া এসব পণ্য কেউ খেলে তা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কানপুর পুলিশ ভাইরাল ভিডিওটির বিষয়ে অবগত হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কারখানা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১২:২
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন জেমিমা গোল্ডস্মিথ। ছবি: সংগৃহীত
ইমরান খানের চিকিৎসা ও বন্দিত্ব নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ চান জেমিমা

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের চিকিৎসা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তার সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মেনে ইমরানের চিকিৎসা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ এবং দীর্ঘদিনের একাকী বন্দিত্বের অবসান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেমিমা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইমরান খানের পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটেন আর কতদিন নীরব থাকবে।   জেমিমার দাবি, ইমরান দীর্ঘদিন ধরে একাকী বন্দিত্বে রয়েছেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের কাছে যাওয়ার সুযোগসহ বিভিন্ন মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বিষয়টিকে শুধু পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে না দেখে মানবাধিকার সংকট হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।   ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। আদালত তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে চিকিৎসার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুক্ত থাকার বিষয়টিও নির্দেশনায় ছিল।   তবে আদালতের নির্দেশের পর ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের পরিবর্তে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে নেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণের কথা বলা হয়। এ নিয়ে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) আপত্তি জানায় এবং আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়।   পরে ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে বেশিক্ষণ রাখা হয়নি। সরকারি মেডিকেল টিমের মূল্যায়নের পর তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। ইমরানের পরিবার ও পিটিআই তার চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার তার প্রতি চিকিৎসা অবহেলা ও একাকী বন্দিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।   ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিশ্বের সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়কদের একটি দলও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি দিয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে এটি ছিল তাদের দ্বিতীয় আবেদন। তারা ইমরানের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।   জেমিমা তার দুই ছেলে সুলায়মান ও কাসিমের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন। তাদের বাবা ইমরান খানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সাক্ষাতের সুযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। জেমিমার সঙ্গে ইমরানের বিয়ে হয় ১৯৯৫ সালে এবং ২০০৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। তাদের দুই ছেলে বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন।   ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান। ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তারের পর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাবন্দি। তার দল ও সমর্থকেরা এসব মামলার অনেকগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। পাকিস্তান সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১১:৪৭
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন অভিযানের কারণে এক সেনা সার্জেন্টের স্ত্রীকে হন্ডুরাসে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
সেনা সার্জেন্টের স্ত্রীকে ডিপোর্ট, ৬ বছরের মেয়েকে নিয়ে বিপাকে পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় দায়িত্বে থাকা এক সেনা সার্জেন্টের স্ত্রী ক্রিস্টি মেরিওরি ভিলাফ্রাঙ্কা ত্রেহোকে সোমবার হন্ডুরাসে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তার স্বামী সার্জেন্ট হেদার লিওনেল তুরসিওস হুয়ারেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ছয় বছরের এক কন্যাসন্তানের মা ভিলাফ্রাঙ্কার এই বহিষ্কার যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন অভিযানে সামরিক সদস্যদের পরিবারের ওপর পড়া প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগও ভিলাফ্রাঙ্কাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিভাগের এক মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৪ আগস্ট তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে হন্ডুরাসে পাঠানো হয়। সরকারের দাবি, তার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।   গত ১১ জুলাই টেক্সাসের ফোর্ট ব্লিসের কাছে একটি দোকানের বাইরে ভিলাফ্রাঙ্কাকে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা আটক করেন। সে সময় তার ছয় বছরের মেয়ে গাড়িতে ছিল বলে তার স্বামী জানিয়েছেন। ভিলাফ্রাঙ্কা ২০১৬ সালে হন্ডুরাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তার স্বামীর দাবি, নিজ দেশের সহিংস পরিস্থিতির কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে এসেছিলেন।   সার্জেন্ট তুরসিওস হুয়ারেজও হন্ডুরাসে জন্মগ্রহণ করেন। ২০২৪ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান। এর আগে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে নয় মাস সামরিক দায়িত্ব পালন করেন। স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অভিবাসন প্রক্রিয়াও তিনি শুরু করেছিলেন বলে জানিয়েছেন।   স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভিলাফ্রাঙ্কার কোনো পরিচিত অপরাধের রেকর্ড নেই। তবে ২০১৭ সালে একটি অভিবাসন আদালতের শুনানিতে অনুপস্থিত থাকার পর তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ জারি হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই শুনানির বিষয়ে ভিলাফ্রাঙ্কা যথাযথভাবে অবহিত হয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   পরিবারটি তার অভিবাসন মামলা পুনরায় খোলার চেষ্টা করছিল। একই সঙ্গে সামরিক সদস্যদের পরিবারের জন্য প্রযোজ্য বিশেষ আইনি সুবিধার আওতায় তাকে যুক্তরাষ্ট্রে রাখার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।   এর আগে ভিলাফ্রাঙ্কাকে হন্ডুরাসে পাঠানোর একটি প্রচেষ্টা আইনি জটিলতার কারণে আটকে যায়। পরে ২৪ আগস্ট তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করে হন্ডুরাসে পাঠানো হয়।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান অভিবাসন অভিযানের মধ্যে ভিলাফ্রাঙ্কা অন্তত সপ্তম এমন স্ত্রী বা অভিভাবক, যিনি সক্রিয় দায়িত্বে থাকা কোনো মার্কিন সামরিক সদস্যের পরিবারের সদস্য হয়েও দেশ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। একই সময়ে ৫০টির বেশি ঘটনায় মার্কিন সামরিক সদস্যদের নিকট পরিবারের সদস্যদের ফেডারেল অভিবাসন হেফাজতে নেওয়ার তথ্যও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।   স্ত্রীকে হন্ডুরাসে ফেরত পাঠানোর পর সার্জেন্ট তুরসিওস হুয়ারেজকে সামরিক দায়িত্বের পাশাপাশি ছয় বছরের মেয়ের দেখাশোনার দায়িত্বও নিতে হচ্ছে। পরিবারকে একসঙ্গে রাখার চেষ্টা এবং একই সঙ্গে সামরিক দায়িত্ব পালন করা তার জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১১:৩০
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বাবার বিদায়ী বক্তব্য। ছবি: সংগৃহীত
বিয়ের দিন মেয়েকে দেয়া বাবার কথা, ‘তোমাকে আমরা বিক্রি করে দিয়েছি’

বিয়ের দিন মেয়েকে বিদায় দেওয়ার সময় এক মুসলিম বাবার বলা কিছু কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রচারিত ভিডিওতে ওই বাবা মেয়েকে বলেন, বিয়ের পর সে আর আগের মতো এই পরিবারের সদস্য হিসেবে ফিরবে না, বরং অতিথি হিসেবে আসবে।   বাবার বক্তব্য অনুযায়ী, মেয়েটি এখন তার স্বামীর পরিবারের অংশ। এমনকি তিনি বলেন, ‘তোমাকে তারা কিনেছে, আমরা তোমাকে বিক্রি করে দিয়েছি।’   ভিডিওটি কোথায় এবং কবে ধারণ করা হয়েছে, কিংবা সংশ্লিষ্ট বাবা ও মেয়ের পরিচয় কী, তা নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে ঘটনাটিকে পশ্চিম তীরের একটি বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করা হলেও এর স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   তবে ভিডিওতে উঠে আসা বক্তব্যটি বিয়ের পর একজন নারীর নিজের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ও পরিচয় কীভাবে বদলে যায়, সেই পুরোনো সামাজিক ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে মেয়েকে এক পরিবার থেকে আরেক পরিবারের কাছে ‘হস্তান্তর’ করার ধারণা নিয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মন্তব্য করেছেন, এমন ভাষা নারীর ব্যক্তিস্বাধীনতা ও পারিবারিক পরিচয়কে সংকুচিত করে। আবার কেউ কেউ এটিকে নির্দিষ্ট একটি সামাজিক ও পারিবারিক রীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।   তবে একটি ভিডিও বা বিচ্ছিন্ন বক্তব্যের ভিত্তিতে পুরো মুসলিম সমাজ কিংবা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সব পরিবারের বিয়ের সংস্কৃতি সম্পর্কে সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। বিয়ে, পারিবারিক সম্পর্ক ও নারীর সামাজিক অবস্থান নিয়ে রীতিনীতি অঞ্চল, পরিবার ও সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১১:২০
গবেষণাগারে বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা ডার্টমাউথ কলেজের রসায়ন অধ্যাপক কারেন ই. ওয়েটারহান। ছবি: সংগৃহীত
ল্যাটেক্স গ্লাভস পরেও রক্ষা মেলেনি, কয়েক ফোঁটা রাসায়নিক পড়ে অধ্যাপকের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমাউথ কলেজের রসায়ন অধ্যাপক কারেন ই. ওয়েটারহানের মর্মান্তিক মৃত্যু আজও গবেষণাগারে নিরাপত্তার ভয়াবহ ঝুঁকির উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়। ১৯৯৬ সালে অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক ডাইমিথাইলমারকারি নিয়ে কাজ করার সময় তাঁর ল্যাটেক্স গ্লাভসে কয়েক ফোঁটা রাসায়নিক পড়ে। গ্লাভস পরা থাকায় তখন তিনি সুরক্ষিত আছেন বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু পরে জানা যায়, ওই রাসায়নিক গ্লাভস ভেদ করে তাঁর শরীরে প্রবেশ করেছিল।    ঘটনার পরও বেশ কিছুদিন ওয়েটারহানের শরীরে বিষক্রিয়ার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি। ডার্টমাউথের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস পর তাঁর সমন্বয় ক্ষমতা কমে যাওয়া, বমিভাব, ওজন কমে যাওয়া এবং কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তিনি কোমায় চলে যান। ১৯৯৭ সালের ৮ জুন ৪৮ বছর বয়সে পারদের তীব্র বিষক্রিয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়।    ডাইমিথাইলমারকারি পারদের অত্যন্ত বিষাক্ত একটি যৌগ। ওয়েটারহানের ঘটনার পর গবেষণায় দেখা যায়, সাধারণ ল্যাটেক্স গ্লাভস এই রাসায়নিকের বিরুদ্ধে কার্যকর সুরক্ষা দিতে পারে না। পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা নির্দেশনাতেও পরিবর্তন আনা হয় এবং ডাইমিথাইলমারকারির ব্যবহার অত্যন্ত সীমিত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।    ওয়েটারহানের মৃত্যুর ঘটনাটি শুধু একজন বিজ্ঞানীর মর্মান্তিক পরিণতিই নয়, গবেষণাগারে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকিও সামনে নিয়ে আসে। তাঁর দুর্ঘটনার পর ডাইমিথাইলমারকারির মতো অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু হয়।    ডার্টমাউথ কলেজে ওয়েটারহান ছিলেন ধাতব বিষক্রিয়া নিয়ে গবেষণার বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষার্থীদের কাছে একজন নিবেদিত শিক্ষক ও মেন্টর। তাঁর স্মরণে কলেজে গবেষণা সিম্পোজিয়াম, ফেলোশিপসহ বিভিন্ন উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যু গবেষণাগারের নিরাপত্তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক সমাজে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১১:১১
যুক্তরাজ্যের ইভিসা ব্যবস্থার বিভ্রাটে স্পেনে আটকে পড়া নিদিয়া ওয়েব দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
যমজ বোনের সঙ্গে পরিচয় মিলে যাওয়ায় ই-ভিসা বিভ্রাটে ব্রিটেনে ফিরতে পারলেন না নারী

যুক্তরাজ্যে আট বছর ধরে বসবাস করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক নারী স্পেন থেকে দেশে ফেরার পথে ইভিসা ব্যবস্থার বিভ্রাটের কারণে বিমানে উঠতে পারেননি। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থায় তার পরিচয় তার অভিন্ন যমজ বোনের সঙ্গে গুলিয়ে যাওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়। নিদিয়া ওয়েব নামের ওই নারীকে পরে জানানো হয়, যমজদের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ব্যবস্থায় পরিচিত প্রযুক্তিগত ত্রুটি।   চলতি মাসের শুরুতে স্পেনে ছুটি কাটিয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরার চেষ্টা করেন নিদিয়া ওয়েব। বিমানবন্দরের বোর্ডিং গেটে তাকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি। তার নির্ধারিত বিমানটি তাকে ছাড়াই চলে যায়। এরপর তিনি সমস্যাটি সমাধানের জন্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সহায়তা নম্বরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যোগাযোগ করেন।   ওয়েব জানান, তার ইলেকট্রনিক স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা তার নিজের তথ্যের পরিবর্তে অভিন্ন যমজ বোনের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছিল। ফলে তার বসবাসের মর্যাদার তথ্য তার পরিচয়ের সঙ্গে সঠিকভাবে মেলানো সম্ভব হচ্ছিল না। পরে তাকে জানানো হয়, যমজদের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ব্যবস্থায় এমন প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিতে পারে।   ওয়েব বলেন, সমস্যাটি সমাধানের জন্য তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ফোনে যোগাযোগ না করলে কতদিন বিদেশে আটকে থাকতে হতো, তা তিনি জানেন না। তার অভিজ্ঞতাটি রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যমের কাছেও তুলে ধরা হয়েছে। ঘটনাটি ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থায় যমজ ব্যক্তিদের পরিচয় সঠিকভাবে আলাদা করার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।   ২০২৪ সালের শেষ দিকে বিদেশি নাগরিকদের জন্য কাগজের নথির ব্যবহার কমিয়ে ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থা চালু করা হয়। এরপর লাখ লাখ মানুষ ইভিসা ব্যবস্থায় নিবন্ধিত হয়েছেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে কাজ, পড়াশোনা, বাসা ভাড়া নেওয়া এবং দেশটিতে ভ্রমণের অধিকার প্রমাণ করা যায়। তবে ইভিসা ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের ভুলের কারণে কিছু মানুষ এসব অধিকার প্রমাণ করতে সমস্যায় পড়েছেন।   এর আগে এমন ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে বিদেশে থাকা ব্যক্তিরা ইভিসা নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে যুক্তরাজ্যে ফিরতে পারেননি। আবার কিছু ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির পরিচয় অন্য ব্যক্তির সঙ্গে ভুলভাবে যুক্ত হয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনার কারণে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থার তথ্যের নির্ভুলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি প্রচার সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মনিক হকিন্স বলেন, অন্য ব্যক্তির অভিবাসন মর্যাদা কারও ইভিসা হিসাবের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার মতো অনেক ঘটনা তারা দেখেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বারবার উদ্বেগ জানানোর পরও এমন সমস্যা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।   হকিন্সের মতে, ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থাকে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এটি মানুষের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ভ্রমণের সময় ইভিসার তথ্য সঠিকভাবে কাজ না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন।   এর আগেও যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থায় তথ্য বিভ্রাটের ঘটনা সামনে এসেছে। একটি ঘটনায় কানাডার এক নারীর পাসপোর্টের তথ্য, অভিবাসন ইতিহাস ও যোগাযোগের তথ্য ভুলভাবে রাশিয়ার এক নারীর কাছে চলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ওই ঘটনার মাধ্যমে দুই ব্যক্তির তথ্য একে অপরের সঙ্গে ভুলভাবে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।   গত মাসে মানবাধিকারকর্মীরাও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থার সমস্যাগুলো নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনা ও অভিযোগের সংখ্যা প্রকাশের দাবি করেন। একই সঙ্গে তথ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়েও তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।   তবে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এক কোটির বেশি মানুষ ইতোমধ্যে সফলভাবে ইভিসা ব্যবহার করে নিজেদের অভিবাসন মর্যাদা প্রমাণ করেছেন। সংস্থাটি বলেছে, ডিজিটাল ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং ইভিসা ব্যবহারকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা সহজলভ্য রাখার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে ভুল শনাক্ত হয়, সেগুলোর অধিকাংশই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করা হয়। তবে নিদিয়া ওয়েবের অভিজ্ঞতা ইভিসা ব্যবস্থায় যমজ ব্যক্তিদের পরিচয় সঠিকভাবে শনাক্ত ও আলাদা রাখার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সমস্যার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৩:২০
যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে কিশোরী ধর্ষণের মামলায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ছবি: আইটিভি নিউজ
ম্যানচেস্টারে ১৭ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আফগান যুবকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার শহরের কেন্দ্রস্থলে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ২৪ বছর বয়সী এক আফগান যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ। আবদুল শিনওয়ারি নামের ওই যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের দুটি অভিযোগের পাশাপাশি যৌন নিপীড়নের দুটি অভিযোগ, প্রাণঘাতী নয় এমন শ্বাসরোধ এবং সরবরাহের উদ্দেশ্যে মাদক রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।    পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৪ জুলাই রাত দেড়টার দিকে ম্যানচেস্টার সিটি সেন্টারের পিকাডিলি গার্ডেনের কাছে হোপ স্ট্রিটে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর তদন্তের ভিত্তিতে শিনওয়ারিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে তাকে হেফাজতে রাখা হয়।    গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শিনওয়ারির কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই। মামলায় তার বিরুদ্ধে মোট ছয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তার মধ্যে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পাশাপাশি নন-ফ্যাটাল স্ট্র্যাংলেশন এবং সরবরাহের উদ্দেশ্যে মাদক রাখার অভিযোগও রয়েছে।  শিনওয়ারিকে ২৫ আগস্ট ম্যানচেস্টার ক্রাউন কোর্টে হাজির করার কথা রয়েছে। এদিকে কিশোরী ভুক্তভোগীকে বিশেষায়িত সেফগার্ডিং কর্মকর্তারা সহায়তা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত চলমান থাকায় ঘটনার বিষয়ে এর বেশি তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১০:৩৭
প্রচলিত কাঠামো বদলে ৮০০ জনের বেশি যাত্রী বহনে সক্ষম সম্পূর্ণ নতুন নকশার উড়োজাহাজ তৈরি করছে চীন। ছবি: সংগৃহীত
চীনের নতুন ‘ফ্লাইং উইং’ বিমান, বি-২ বোমারু বিমানের চেয়ে ১.৬ গুণ বড় ডানায় ৮০০ যাত্রী বহনের পরিকল্পনা

৮০০ জনের বেশি যাত্রী বহনে সক্ষম একটি বিশাল যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের নতুন নকশা নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন। প্রচলিত টিউব আকৃতির ফিউজলাজ ও আলাদা ডানা ব্যবস্থার বদলে প্রস্তাবিত উড়োজাহাজটিতে পুরো কাঠামোকেই ডানার মতো করে তৈরি করার ধারণা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।    চীনের চায়না অ্যারোডায়নামিক্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার বা সিএআরডিসির গবেষকেরা এই নকশা নিয়ে কাজ করছেন। প্রস্তাবিত উড়োজাহাজটির ডানার বিস্তার প্রায় ৮৫ মিটার এবং দৈর্ঘ্য ৪৩ মিটার। এর সম্ভাব্য ক্রুজিং গতি ধরা হয়েছে ম্যাক ০.৮। ডানার বিস্তার যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্পিরিটের তুলনায় প্রায় ১.৬ গুণ।    এই ধরনের নকশাকে সাধারণভাবে ফ্লাইং উইং বা ব্লেন্ডেড উইং বডি বলা হয়। প্রচলিত যাত্রীবাহী বিমানে ফিউজলাজ, ডানা ও লেজ আলাদা কাঠামো হিসেবে থাকে। কিন্তু ফ্লাইং উইং নকশায় এগুলোকে অনেকটাই একীভূত করে একটি বড় লিফটিং কাঠামো তৈরি করা হয়। গবেষকদের লক্ষ্য হলো এর মাধ্যমে বায়ুরোধ কমিয়ে উড়োজাহাজের অ্যারোডায়নামিক দক্ষতা বাড়ানো এবং জ্বালানি ও শক্তির ব্যবহার কমানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা।    প্রকল্পটির পরীক্ষা অবশ্য পূর্ণ আকারের উড়োজাহাজে নয়। সিএআরডিসি ১:৫২ স্কেলে স্টেইনলেস স্টিলের একটি মডেল তৈরি করেছে। মডেলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার এবং ডানার বিস্তার ১.৬ মিটার। এটি সিএআরডিসির ২.৪ মিটার ট্রান্সসনিক উইন্ড টানেলে ম্যাক ০.৪ থেকে ০.৮ গতিতে পরীক্ষা করা হয়েছে।    পরীক্ষায় বায়ুপ্রবাহ, অ্যারোডায়নামিক কর্মক্ষমতা, স্থিতিশীলতা এবং কাঠামোগত বিকৃতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাক ০.৭-এর নিচে মডেলটির লিফট-টু-ড্র্যাগ অনুপাত প্রায় ২০ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ম্যাক ০.৮ গতিতে এই অনুপাত ছিল প্রায় ১৭.৬।    তবে এই প্রকল্পকে এখনই ভবিষ্যতের কোনো যাত্রীবাহী বিমানের ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পূর্ণ আকারের বিমান এখনো তৈরি হয়নি এবং কবে এটি বাস্তবে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা নেই। আপাতত উইন্ড টানেল পরীক্ষা ও অ্যারোডায়নামিক গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে প্রকল্পটি।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১০:২১
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনার জেরে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাব, ‘লেক অন্টারিও’র নাম হবে ‘লেক আমেরিকা’

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘লেক অন্টারিও’র নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার কথা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ প্রস্তাবের কথা জানান।    ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, কানাডার অন্টারিও প্রদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আর বেশি ব্যবসা করার প্রত্যাশা নেই। এ কারণেই লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার অন্টারিও প্রদেশের মাঝখানে অবস্থিত লেক অন্টারিও উত্তর আমেরিকার পাঁচটি গ্রেট লেকের একটি। হ্রদটির নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলেও এটি দুই দেশের অভিন্ন জলসীমার নাম নিয়ে নতুন কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে।   ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যটি এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার সময়। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর কানাডাও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।    এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ‘গালফ অব মেক্সিকো’র নাম যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবহারে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব সেই পদক্ষেপেরই আরেকটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।    তবে লেক অন্টারিও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা উভয় দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিকভাবে এর নাম পরিবর্তন করা যাবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বর্তমানে ট্রাম্পের বক্তব্যটি একটি প্রস্তাব হিসেবেই রয়েছে; নাম পরিবর্তনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ৯:৫২
মৌলিক চাহিদা পূরণে অক্ষম ব্যক্তিদের সন্তান নেওয়া নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কের মুখে আর্জেন্টিনার টিকটকার কেইলা রদ্রিগেজ। ছবি: সংগৃহীত
সন্তান নিতে দরিদ্রদের নিষেধ করা উচিত, আর্জেন্টাইন টিকটকারের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক

আর্জেন্টিনার টিকটকার কেইলা রদ্রিগেজের একটি মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত প্রায় এক মিনিটের একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, যারা নিজেদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন না, তাদের সন্তান নেওয়া উচিত নয়। ভিডিওটি পরে আবার ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।    রদ্রিগেজের যুক্তি ছিল, সন্তান লালনপালনে জন্মের পর থেকেই খাবার, দুধ, পোশাকসহ বিভিন্ন মৌলিক খরচ রয়েছে। শিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা, জুতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ও বাড়ে। নিজের বক্তব্যে তিনি বিশেষভাবে এমন মানুষের সন্তান নেওয়ার সমালোচনা করেন, যারা নিজেরাই পর্যাপ্ত খাবার জোগাড় করতে পারেন না।   তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। একদল ব্যবহারকারী রদ্রিগেজের বক্তব্যকে শ্রেণিবৈষম্যমূলক ও দরিদ্র মানুষকে হেয় করার মতো মন্তব্য হিসেবে সমালোচনা করেন। অন্যদিকে কেউ কেউ বলেন, সন্তান নেওয়ার আগে বাবা-মায়ের আর্থিক সক্ষমতা ও শিশুর মৌলিক চাহিদা পূরণের সামর্থ্য বিবেচনা করা দায়িত্বশীলতার অংশ।   রদ্রিগেজের বক্তব্যের একটি অংশে তিনি বলেন, পেটে খাবার না থাকলে পৃথিবীতে আরও ক্ষুধা নিয়ে আসা উচিত নয়। পরে তিনি সন্তান নেওয়ার আগে নিজের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করার আহ্বান জানান। এসব বক্তব্যই ভিডিওটি ঘিরে বিতর্ককে আরও তীব্র করে।    তবে বিতর্কটি শুধু সন্তান পালনের খরচ নিয়ে নয়। দারিদ্র্য, পারিবারিক পরিকল্পনা, সন্তান নেওয়ার অধিকার এবং আর্থিক সক্ষমতার সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, আর্থিক পরিকল্পনার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা এক বিষয়, আর একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক শ্রেণির মানুষকে সন্তান নেওয়া থেকে বিরত থাকার কথা বলা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।   ভিডিওটি প্রথম প্রকাশের কয়েক মাস পরও রদ্রিগেজের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে আর্জেন্টিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো প্রশ্নটিই নতুন করে সামনে এসেছে: পরিবার শুরু করার আগে আর্থিক স্থিতিশীলতাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত?

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ৯:৪০
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আর্থিক নথিতে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স কোম্পানিতে বিনিয়োগের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত
স্পেসএক্সে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ ট্রাম্পের, প্রকাশ পেল আর্থিক নথিতে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনে ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্সের শেয়ারে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছেন। ২২ আগস্ট প্রকাশিত প্রেসিডেন্টের আর্থিক নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বড় একটি কন্ট্রাক্টর কোম্পানিতে ট্রাম্পের সরাসরি আর্থিক অংশীদারিত্ব তৈরি হয়েছে।    নথি অনুযায়ী, ২৩ জুন ট্রাম্প ১৫ হাজার ১ ডলার থেকে ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে স্পেসএক্সের শেয়ার কিনেছেন। ১২ আগস্ট তিনি নথিতে স্বাক্ষর করেন। জুন মাসে করা এক হাজারের বেশি স্টক লেনদেনের মধ্যে এই বিনিয়োগও ছিল।    ট্রাম্পের এই বিনিয়োগের সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাত্র ১১ দিন আগে, ১২ জুন স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় এবং রেকর্ড গড়ে। ওই আইপিওতে কোম্পানিটির মূল্যায়ন করা হয়েছিল প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার।    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বিনিয়োগ পোর্টফোলিও তৃতীয় পক্ষের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালনা করে। তাদের দাবি, ট্রাম্প বা তার পরিবারের কেউ কোন শেয়ার কেনা বা বিক্রির সিদ্ধান্তে নির্দেশনা, প্রভাব বা মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখেন না।    ইলন মাস্ক একসময় ট্রাম্পের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ছিলেন। বর্তমানে স্পেসএক্স যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ কন্ট্রাক্টর এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছ থেকে নিয়মিত অনুমোদন ও চুক্তি পেয়ে থাকে। ফলে ট্রাম্পের স্পেসএক্সে বিনিয়োগ তাঁর প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলোর সঙ্গে কোম্পানিটির আর্থিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।   এদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক মহাকাশ উৎক্ষেপণের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য তাঁর প্রশাসনকে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই খাতে স্পেসএক্স অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হওয়ায় কোম্পানিটির সঙ্গে সরকারের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   তবে ফেডারেল আর্থিক নথিতে সম্পদের সঠিক মূল্য প্রকাশ না করে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে মূল্য দেখানো হয়। তাই ট্রাম্প স্পেসএক্সে ঠিক কত ডলার বিনিয়োগ করেছেন এবং কত শেয়ার কিনেছেন, তা প্রকাশিত নথি থেকে নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ৯:৩২
পূর্ব লন্ডনের মদের বার কিনে সেটিকে মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরকারী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জিয়া বিন রাসেল। ছবি: সংগৃহীত
৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে মদের বার কিনে মসজিদ বানালেন বাংলাদেশের জিয়া

পূর্ব লন্ডনের একটি ভবন, যেখানে একসময় মদের বার ও আড্ডার আয়োজন ছিল, সেটি এখন মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবনটি কিনে মসজিদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন লন্ডনপ্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জিয়া বিন রাসেল। তাঁর সঙ্গে যুক্ত মানবিক কার্যক্রমের দাবিগুলোর কিছু অংশ হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের প্রকাশিত তথ্যেও পাওয়া যায়।   জিয়া বিন রাসেলের উদ্যোগে ভবনটিতে বর্তমানে আজান, কুরআন তিলাওয়াত ও জামাতে নামাজ অনুষ্ঠিত হয় বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে ভবনটির আগের ব্যবহার, বর্তমান বাজারমূল্য ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি হওয়া এবং জিয়া বিন রাসেলের ব্যক্তিগত অর্থায়নের পরিমাণ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।   বাংলাদেশে তাঁর মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার তথ্য অবশ্য সংগঠনটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে রয়েছে। সংস্থাটি নিজেদের সরকার নিবন্ধিত, অরাজনৈতিক ও অলাভজনক মানবিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘হাফেজ্জী স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ চালু করা হয়েছে।    সংস্থাটির সাম্প্রতিক কার্যক্রমের তালিকায় প্রতিবন্ধী পরিবারকে সহায়তা, সেলাই মেশিন বিতরণ, বন্যার্তদের ত্রাণ এবং চট্টগ্রামের বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো কর্মসূচির তথ্য রয়েছে। গাজা ও সুদানেও খাদ্য, পানি ও অন্যান্য মানবিক সহায়তার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।   প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তার বাইরে প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি। তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা সহায়তা, হুইলচেয়ার ও অন্যান্য সহায়ক উপকরণ, থেরাপি সাপোর্ট এবং পরিবারকে সচেতন করার কার্যক্রমও এর আওতায় রয়েছে।    নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিনসহ আয়মুখী উপকরণ দেওয়ার কার্যক্রমও সংগঠনটির সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে দেখা যায়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ২০টি পরিবারের হাতে সেলাই মেশিন দেওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে তারা।    আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গাজা ও সুদানে সহায়তার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালে গাজায় পানি ও খাদ্য বিতরণ এবং সুদানে খাদ্য সহায়তার একাধিক কর্মসূচির উল্লেখ রয়েছে।    জিয়া বিন রাসেলের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব কার্যক্রমের কত অংশ পরিচালিত হয়েছে বা তিনি মোট কত অর্থ ব্যয় করেছেন, সে বিষয়ে স্বাধীন আর্থিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর ব্যক্তিগত অনুদানের পরিমাণ বা সম্পত্তির বাজারমূল্যকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উল্লেখ করার সুযোগ নেই।   তবে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটির প্রকাশিত কার্যক্রম থেকে স্পষ্ট যে, প্রতিবন্ধী সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং গাজা ও সুদানের মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংগঠনটির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের মানবিক কাজে সম্পৃক্ত করাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ৯:১২
৩ হাজার ৪০০ চুমুর দিয়ে  সাজানো গাড়ি
৩ হাজার ৪০০ চুমুর দিয়ে সাজানো গাড়ি, শেষ পর্যন্ত গুনতে হলো জরিমানা

ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ট্রেন্ড অনুসরণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক তরুণ। তার গাড়িজুড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪০০টি লিপস্টিকের চুমুর দাগ দেওয়ার পর ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। পরে সেই ছবি দেখে গাড়িটি শনাক্ত করে ট্রাফিক পুলিশ এবং নিয়ম ভাঙার অভিযোগে ৫ হাজার ৫০০ রুপি জরিমানা করা হয়।   গাড়িটির মালিক আদিত্য সিকারওয়ার। জানা গেছে, অনলাইনে দেখা একটি ট্রেন্ড থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তার প্রেমিকা গাড়িটিতে একের পর এক লিপস্টিকের ছাপ দেন। হাজার হাজার চুমুর দাগ দিতে সময় লাগে প্রায় চার ঘণ্টা।   ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ট্রাফিক পুলিশের নজরেও আসে। ভাইরাল ছবিতে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর স্পষ্ট থাকায় সেটি শনাক্ত করতে পুলিশের বেশি সময় লাগেনি।   পরে পুলিশ গাড়িটি জব্দ করে আদিত্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে ৫ হাজার ৫০০ রুপি জরিমানা করে। পরে গাড়ি থেকে সব লিপস্টিকের দাগ পরিষ্কার করে সেটি ধুয়ে ফেলা হয়। নিজের ভুলও স্বীকার করেন আদিত্য।   প্রেমের অভিনব প্রকাশ হিসেবে শুরু হওয়া ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত জরিমানা ও গাড়ি পরিষ্কারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ট্রেন্ড ভাইরাল হলেই তা অনুসরণ করার আগে সংশ্লিষ্ট আইন ও নিয়ম সম্পর্কে সতর্ক থাকার বিষয়টিও সামনে এনেছে ঘটনাটি।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ৮:৫১
৩ শতাংশ মর্টগেজ রেটের অপেক্ষা, নাকি ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে বাড়ি কেনা
৩ শতাংশ মর্টগেজ রেটের অপেক্ষা, নাকি ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে বাড়ি কেনা, কোনটি লাভজনক? জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের জন্য ৩ শতাংশ মর্টগেজ রেট এখন প্রায় অধরা লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেট গড়ে ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশের কাছাকাছি থাকায় অনেকেই সুদের হার কমার অপেক্ষা করছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শিগগিরই হার আবার ৩ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা খুবই কম।    মহামারির সময় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমিয়ে দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ রেট প্রায় ৩ শতাংশের আশপাশে নেমে গিয়েছিল। ২০২১ সালে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেট সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬৫ শতাংশে পৌঁছায়। কিন্তু ২০২২ সালের মার্চ থেকে ফেড সুদের হার বাড়াতে শুরু করলে মর্টগেজ রেটও আবার বাড়তে থাকে। রিয়েল্টর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেলের মতে, অদূর ভবিষ্যতে ৩ শতাংশ মর্টগেজ রেটে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই।    এই পরিস্থিতিতে ক্যালিফোর্নিয়ার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের সামনে বিকল্প হিসেবে আসতে পারে প্রস্তাবিত প্রপোজিশন ৩৭। আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা এই প্রস্তাবের ওপর সিদ্ধান্ত দেবেন। এটি অনুমোদিত হলে মধ্যম আয়ের যোগ্য বাসিন্দারা নতুন নির্মিত বাড়ির দামের সর্বোচ্চ ১৭ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ফলে ক্রেতার নিজস্ব ডাউন পেমেন্ট নেমে আসতে পারে মাত্র ৩ শতাংশে।    তবে এটি সরাসরি অনুদান নয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়া হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সি এই কর্মসূচি চালু করতে পারবে এবং সহায়তার অর্থ দ্বিতীয় মর্টগেজ হিসেবে দেওয়া হবে। অর্থাৎ বাড়ির মূল মর্টগেজের পাশাপাশি ক্রেতাকে আরেকটি ঋণের কিস্তিও পরিশোধ করতে হবে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সর্বোচ্চ ২৫ বিলিয়ন ডলারের রেভিনিউ বন্ড বিক্রির মাধ্যমে কর্মসূচিটির অর্থায়ন করা হতে পারে।    প্রস্তাবিত কর্মসূচির আওতায় শুধু ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা এবং নির্দিষ্ট দামের মধ্যে থাকা নতুন নির্মিত বাড়ি কেনার সুযোগ পাবেন। বাড়ির মূল্যসীমা কাউন্টিভেদে আনুমানিক ১০ লাখ থেকে ১৫ লাখ ডলারের মধ্যে হতে পারে। ক্রেতাকে অন্তত ৩ শতাংশ নিজস্ব অর্থ দিতে হবে এবং বাকি অর্থের জন্য মূল মর্টগেজ নিতে হবে। প্রস্তাবে সহায়তার ঋণের সুদের খরচ যতটা সম্ভব কম রাখার কথা বলা হলেও নির্দিষ্ট সুদের হার বা ঋণের শর্ত এখনো নির্ধারিত হয়নি।    রিয়েল্টর ডটকমের জুলাই ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য ছিল ৭ লাখ ৪৪ হাজার ৭৫০ ডলার। এই দামে ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট হলে প্রয়োজন হবে প্রায় ২২ হাজার ৩৪০ ডলার। তবে লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো ও মন্টেরির মতো এলাকায় বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য ১০ লাখ ডলারেরও বেশি হওয়ায় বাস্তব পরিস্থিতি এলাকাভেদে অনেকটা ভিন্ন হতে পারে।    প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে যোগ্য হতে ক্যালিফোর্নিয়ায় অন্তত এক বছর ধরে বসবাস করতে হবে, বাড়িটির প্রথম ক্রেতা হতে হবে এবং ক্লোজিংয়ের ৬০ দিনের মধ্যে বাড়িটিকে নিজের প্রধান বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের দ্বিগুণের বেশি হতে পারবে না। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৬ সালের আয়সীমা অনুযায়ী লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে চার সদস্যের পরিবারের যোগ্যতার সর্বোচ্চ আয় প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ২০০ ডলার হতে পারে। তবে চূড়ান্ত আয়সীমা ক্যালিফোর্নিয়া হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সি নির্ধারণ করতে পারে।   তাহলে ৩ শতাংশ মর্টগেজ রেটের জন্য অপেক্ষা করা ভালো, নাকি ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের সুযোগ নেওয়া ভালো?   বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি শুধু সুদের হার দিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না। বাড়ির দাম, মাসিক কিস্তি, ডাউন পেমেন্ট এবং ভবিষ্যতে ঋণ পুনঃঅর্থায়নের সুযোগও বিবেচনায় নিতে হবে। ৩ শতাংশ মর্টগেজ রেটের অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের জন্য অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে সুদের হার কমে গেলে এবং ক্রেতা অপেক্ষা করার মতো আর্থিক অবস্থায় থাকলে মাসিক খরচের দিক থেকে তারা বেশি সুবিধা পেতে পারেন।    অন্যদিকে, প্রপোজিশন ৩৭-এর মতো কর্মসূচি ব্যবহার করে কম ডাউন পেমেন্টে বাড়ি কেনার সুযোগ পেলেও দুটি মর্টগেজের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। ভবিষ্যতে মূল মর্টগেজ রিফাইন্যান্স করতে চাইলে দ্বিতীয় ঋণদাতার অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। ফলে সুদের হার কমে গেলেও দুটি ঋণ একত্র করার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।    রিয়েল্টর ডটকমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তে শুধু কম মর্টগেজ রেটের অপেক্ষা না করে নিজের আর্থিক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া বেশি বাস্তবসম্মত। সম্ভাব্য ক্রেতাদের একাধিক ঋণদাতার অফার তুলনা করা, ক্রেডিট ও অন্যান্য আর্থিক বিষয় গুছিয়ে নেওয়া এবং সম্ভব হলে বেশি ডাউন পেমেন্টের জন্য সঞ্চয় করা উপকারী হতে পারে। মাসিক কিস্তি বেশি হলে তুলনামূলক কম দামের এলাকায় বাড়ি খোঁজার কথাও বিবেচনা করা যেতে পারে।    অর্থাৎ, ৩ শতাংশ মর্টগেজ রেট ফিরে আসার অপেক্ষায় বসে থাকার চেয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলো নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়াই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর ক্যালিফোর্নিয়ার প্রপোজিশন ৩৭ অনুমোদিত হলে কিছু যোগ্য ক্রেতার জন্য কম ডাউন পেমেন্টে বাড়ির মালিক হওয়ার নতুন একটি পথ তৈরি হতে পারে। তবে এটি দ্বিতীয় মর্টগেজভিত্তিক কর্মসূচি হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ঋণের পূর্ণ শর্ত, সুদের হার এবং ভবিষ্যৎ রিফাইন্যান্সের প্রভাব ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ৮:২৮
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডেটনের কাছে বাড়ি
নার্সিং হোম থেকে ৮৫ বছর বয়সী স্ত্রীকে বাড়িতে এনে হত্যা, পরে নিজের মাথায় গুলি ৮৭ বছর বয়সী স্বামীর

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডেটনের কাছে নিজ বাড়ি থেকে এক বৃদ্ধ দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।   রোববার দুপুরের আগে মন্টগোমারি কাউন্টির মায়ামি টাউনশিপের স্ট্যানফোর্ড রিজ কোর্টের ওই বাড়িতে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, দম্পতির মেয়ে জরুরি নম্বরে ফোন করে জানান, তাঁর বাবা ফোন করে বলেছেন—তিনি নার্সিং হোম থেকে স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে এসেছেন, তাঁকে হত্যা করেছেন এবং এরপর নিজেকেও হত্যা করতে যাচ্ছেন।   পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৮৫ বছর বয়সী অ্যানি ফ্র্যাঙ্কলিন ও তাঁর ৮৭ বছর বয়সী স্বামী উইলিয়াম ফ্র্যাঙ্কলিনকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। ঘটনাস্থলে উইলিয়ামের মরদেহের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।   অ্যানি ফ্র্যাঙ্কলিন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় উইলিয়ামকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তাঁর মৃত্যু হয়।   মায়ামি টাউনশিপ পুলিশের প্রধান অ্যাডাম নিলসেন বলেন, “এটি পরিবারের জন্য একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা।” তদন্তের সময় পুলিশ সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতা ও যত্নের সঙ্গে কাজ করেছেন বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে ফ্র্যাঙ্কলিন পরিবারের স্বজন ও প্রতিবেশীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।   ঘটনার পর তদন্তকারীরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। দম্পতির মৃত্যুর পেছনের কারণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, স্বামী স্ত্রীকে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যার পর আত্মহত্যা হিসেবে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ৮:১০