যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা অনেকের নাগালের বাইরে, কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকাই সাশ্রয়ী
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের একটি বাড়ি কেনা কিংবা ভাড়ায় থাকা দুটোই সাধারণ মানুষের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। একসময় নিজের একটি দোতলা বা ছিমছাম বাড়ি আমেরিকান স্বপ্নের অন্যতম প্রধান অংশ ছিল। কিন্তু এখন শুধু বাড়ি কেনাই নয়, পরিবারের জন্য একটি বাড়ি ভাড়া পাওয়াও বেশ দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি রিয়েল এস্টেট প্ল্যাটফর্ম রিয়েলটর ডটকম একটি নতুন সমীক্ষা প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রধান মেট্রোপলিটন এলাকায় বর্তমানে একটি নতুন বা প্রাথমিক বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকা অনেক বেশি সাশ্রয়ী। তবে যারা ভাড়ায় থাকতে চান, তাদের জন্যও একক পরিবারের বাড়ির বা সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে।
রিয়েলটর ডটকমের জুলাই ২০২৬ এর রেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৫০টি মেট্রো শহরে শূন্য থেকে দুই বেডরুমের সম্পত্তির জন্য জাতীয় গড় ভাড়া ছিল ১,৬৯৫ ডলার। এটি এক বছর আগের তুলনায় ২৪ ডলার বা ১.৪ শতাংশ কম। তবে একই এলাকায় এ ধরনের একটি প্রাথমিক বা স্টার্টার হোম কেনার মাসিক খরচ গত মাসে ছিল ২,৫৫৩ ডলার, যা ভাড়ার চেয়ে ৮৫৮ ডলার বেশি।
এই মাসিক খরচের হিসাবটি করা হয়েছে শূন্য থেকে দুই বেডরুমের বাড়ির তালিকাভুক্ত গড় দাম, ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট, ৩০ বছর মেয়াদি নির্ধারিত বন্ধকি বা মর্টগেজ রেট, হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ফি, কর এবং মেট্রো স্তরের গড় হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের ওপর ভিত্তি করে।
স্টার্টার হোমের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জন্য সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম ভাড়া পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত রেডফিনের একটি বিশ্লেষণে সেনসাস ডেটা বা আদমশুমারির তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে মাত্র ১৩.৭ শতাংশ বা ১ কোটি ১৩ লাখ সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করছিলেন। এটি ইতিহাসের তৃতীয় সর্বনিম্ন রেকর্ড।
এর বিপরীতে একই বছরে বড় বহুতল বা মাল্টিফ্যামিলি ভবনে ভাড়ায় বসবাসকারী ইউনিটের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২১ লাখ, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এছাড়া ছোট মাল্টিফ্যামিলি ভবনে ১ কোটি এবং টাউনহোমে ৩১ লাখ ভাড়াটিয়া ইউনিট ছিল।
এটি এখন আমেরিকার জন্য এক নতুন বাস্তবতা। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, ২০২১ সালেও দেশটির ভাড়ার বাজারের সবচেয়ে বড় অংশ ছিল সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম। অন্যদিকে ২০১৯ সালের আগে এবং মহামারির সময় যখন বাড়ি কেনার হিড়িক পড়েছিল, তখন বড় মাল্টিফ্যামিলি ভবনগুলো ছিল পছন্দের তালিকার তৃতীয় স্থানে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছে বহুকাল ধরেই নিজের একটি সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে বসবাস করা আত্মপরিচয় ও ব্যক্তিগত সাফল্যের প্রতীক। কিন্তু এখন সেই স্বপ্নে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানগুলো থেকে বোঝা যায়, যারা এখনও নিজস্ব সম্পত্তির মালিক হতে পারেননি, তাদের জন্য আমেরিকান স্বপ্নের সংজ্ঞা কতটা বদলে গেছে। এখন বেশিরভাগ ভাড়াটিয়া তাদের স্বপ্নের সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে বসবাস করছেন না, বরং বড় অ্যাপার্টমেন্ট ভবনেই তাদের থাকতে হচ্ছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩.১ শতাংশ নাগরিকের প্রধান বাসস্থান হয়ে উঠেছে এসব বড় অ্যাপার্টমেন্ট।
২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে এবং বিশেষ করে মহামারির সময় সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের চেয়ে ২০ বা তার বেশি ইউনিটের মাল্টিফ্যামিলি ভবনগুলো বেশি দ্রুত গতিতে নির্মিত হয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো মহামারির সময় এসব ভবনের বেশিরভাগই ভাড়াটিয়াদের বদলে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল।
ফ্রেডি ম্যাকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে জাতীয় পর্যায়ে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড রেট মর্টগেজের গড় ছিল ৬.৬৫ শতাংশ। চড়া সুদের হারের কারণে অনেক বাড়ির মালিক এখন তাদের বাড়ি বিক্রি করতে চাইছেন না। এর ফলে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভাড়ার জন্য বহুতল ভবনগুলোই এখন মানুষের কাছে বেশি সাশ্রয়ী বিকল্প। অন্যদিকে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমগুলো কেবল মুষ্টিমেয় বিত্তবানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।
নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি, কঠোর জোনিং আইন, জমির ন্যূনতম আয়তন সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং আবাসন শিল্পের পরিবর্তনের কারণে সারা দেশেই এখন স্টার্টার হোম নির্মাণের হার কমে গেছে। হোমবায়িং ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৮০ এর দশকের শুরুতে নতুন নির্মাণের প্রায় ৪০ শতাংশই ছিল স্টার্টার হোম, কিন্তু ২০১৯ সালে তা নেমে আসে মাত্র ৭ শতাংশে। ২০২৬ সালে এসে এগুলো পাওয়া আগের দশকগুলোর চেয়ে আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতাদের সামর্থ্যের চাপের কারণে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম নির্মাণও সার্বিকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রথমবার বাড়ি কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প না থাকায় লাখো মানুষ এখন আবাসন বাজারের বাইরে ছিটকে পড়ছেন, যার গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমেরিকান সমাজে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্স এর মতে, ২০২৫ সালে মোট বাড়ি বিক্রির মাত্র ২১ শতাংশ কিনেছেন প্রথমবার ক্রেতারা। ঐতিহাসিকভাবে এই হার সাধারণত ৪০ শতাংশ থাকে। এছাড়া প্রথমবার বাড়ি কেনার গড় বয়সও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ বছরে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ।
তবে যারা এখনও বাড়ির মালিক হননি তাদের জন্য কিছুটা আশার আলোও রয়েছে। রিয়েলটর ডটকম বলছে, একটি স্টার্টার হোম ভাড়া নেওয়া এবং কেনার খরচের ব্যবধান কিছুটা কমতে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে স্টার্টার হোমের মাসিক খরচ ২,৬৪২ ডলার থেকে কমে ২,৫৫৩ ডলারে নেমেছে।
এর মধ্যে ৫৭ ডলার কমেছে বাড়ির তালিকাভুক্ত দাম কমার কারণে এবং ৩৩ ডলার কমেছে মর্টগেজ রেট কমার কারণে। গত এক বছরে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজ রেট ৬.৭২ শতাংশ থেকে কমে ৬.৫৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভাড়ায় থাকা এখনও সস্তা হলেও এমন অনেক বাজার তৈরি হচ্ছে যেখানে ভাড়ার চেয়ে স্টার্টার হোমের দাম দ্রুত কমছে এবং মানুষের সাপ্তাহিক গড় আয় জাতীয় হার ৩.৮ শতাংশের বেশি বা সমান গতিতে বাড়ছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা সিটি, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো, সিয়াটল, মিয়ামি, ফ্লোরিডার টাম্পা, লাস ভেগাস এবং ন্যাশভিল।
শীর্ষ ৫০টি মেট্রো শহরে জুলাই মাসে স্টার্টার হোমের তালিকাভুক্ত গড় দাম বার্ষিক ২.৯ শতাংশ কমেছে, যেখানে ভাড়ার হার কমেছে ১.৪ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ফুল-টাইম চাকরি করেও অনেকের মাসিক আয় থেকে বাড়তি সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাড়িভাড়া, মর্টগেজ, গাড়ির খরচ, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, সন্তানের শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের কারণে অনেক পরিবারই মূল চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের পথ খুঁজছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের জন্য এমন কাজ গুরুত্বপূর্ণ, যা মূল চাকরির সময়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এবং সপ্তাহের সন্ধ্যা বা ছুটির দিনে করা যায়। বর্তমানে পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ শুধু রাইডশেয়ার বা ফুড ডেলিভারির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং হাতে থাকা সময় অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের কাজ থেকে অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব। তবে কোন কাজ থেকে কত আয় হবে, তা নির্ভর করবে কাজের ধরন, অবস্থান, সময়, অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট খরচের ওপর। চাকরির পাশাপাশি বিবেচনা করা যেতে পারে এমন ১০টি কাজ হলো: ১. রাইডশেয়ার ড্রাইভিং - নিজের গাড়ি থাকলে উবার বা লিফট এর মতো রাইডশেয়ার প্ল্যাটফর্মে ড্রাইভিং অনেকের জন্য অতিরিক্ত আয়ের একটি পরিচিত পথ। অফিসের আগে বা পরে কয়েক ঘণ্টা কিংবা সপ্তাহান্তে কাজ করা যায়। তবে আয় হিসাব করার সময় গ্যাস, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, ইনস্যুরেন্স এবং গাড়ির মূল্য কমে যাওয়ার মতো খরচও বিবেচনায় রাখতে হবে। ২. ফুড ডেলিভারি - ডোরড্যাশ, উবারইটস সহ বিভিন্ন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে পার্ট-টাইম কাজ করা যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যার ডিনার সময় বা সপ্তাহান্তে কয়েক ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ রয়েছে। যারা যাত্রী বহনের পরিবর্তে খাবার বা পণ্য ডেলিভারি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাদের জন্য এটি একটি বিকল্প হতে পারে। ৩. অনলাইন বা প্রাইভেট টিউটরিং - যাদের গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি, কম্পিউটার সায়েন্স বা অন্য কোনো বিষয়ে ভালো দক্ষতা রয়েছে, তারা শিক্ষার্থীদের টিউটরিং করতে পারেন। অনেক টিউটর সন্ধ্যা ও সপ্তাহান্তে কাজ করেন, ফলে এটি ফুল-টাইম চাকরির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, টিউটরদের বড় একটি অংশ পার্ট-টাইম কাজ করেন এবং তাদের সময়সূচিতে সন্ধ্যা ও সপ্তাহান্তের কাজও রয়েছে। ৪. ফ্রিল্যান্সিংআইটি, সফটওয়্যার টেস্টিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, অ্যাকাউন্টিং, বুককিপিং, অনুবাদ বা কনটেন্ট তৈরির মতো দক্ষতা থাকলে ফ্রিল্যান্সিং হতে পারে বাড়তি আয়ের একটি সুযোগ। এ ক্ষেত্রে নতুন কোনো কাজ শেখার চেয়ে নিজের বর্তমান পেশাগত দক্ষতাকে কাজে লাগানো অনেকের জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে। ৫. ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি - বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিয়ে, আকিকা, জন্মদিন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়মিত হয়। যাদের ক্যামেরা পরিচালনা, ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি বা ভিডিও এডিটিংয়ের দক্ষতা রয়েছে, তারা মূল চাকরির পাশাপাশি সপ্তাহান্তে এসব কাজ করতে পারেন। ৬. ক্লিনিং সার্ভিস - বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা ছোট অফিস পরিষ্কারের কাজও পার্ট-টাইম আয়ের একটি সম্ভাব্য পথ। কেউ কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করতে পারেন, আবার প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ও স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে নিজস্ব ছোট ক্লিনিং সার্ভিসও গড়ে তুলতে পারেন। সপ্তাহান্তে কয়েক ঘণ্টা সময় দেওয়ার সুযোগ থাকায় অনেকের জন্য এই কাজটি সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব। ৭. চাইল্ডকেয়ার বা বেবিসিটিং - যাদের শিশুদের দেখাশোনার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারা পার্ট-টাইম চাইল্ডকেয়ার বা বেবিসিটিংয়ের কাজ বিবেচনা করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে চাইল্ডকেয়ার সেক্টরে পার্ট-টাইম কাজ প্রচলিত এবং কিছু ক্ষেত্রে সন্ধ্যা বা রাতের সময়ও কাজের প্রয়োজন হয়। তবে শিশু দেখাশোনার ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন, লাইসেন্স এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম অবশ্যই আগে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। ৮. হ্যান্ডিম্যান ও হোম সার্ভিস - ফার্নিচার অ্যাসেম্বলি, পেইন্টিং, ইয়ার্ডের কাজ বা ছোটখাটো মেরামতের মতো কাজে দক্ষ হলে সপ্তাহান্তে বাড়তি আয় করা সম্ভব। তবে ইলেকট্রিক্যাল, প্লাম্বিং বা লাইসেন্স প্রয়োজন এমন কোনো কাজ করার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ম জানা জরুরি। ৯. অনলাইন রিসেলিং - বাড়িতে অব্যবহৃত জিনিসপত্র বিক্রি দিয়ে অনলাইন রিসেলিং শুরু করা যায়। পরে পোশাক, অ্যাকসেসরিজ, হস্তশিল্প বা অন্যান্য পণ্য নিয়ে ছোট পরিসরে ব্যবসা করা সম্ভব। তবে পণ্য কেনা, স্টোরেজ, শিপিং এবং প্ল্যাটফর্মের ফি হিসাব করে লাভ-ক্ষতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ১০. সোশ্যাল মিডিয়া ও কনটেন্ট সার্ভিস - ছোট ব্যবসা বা কমিউনিটি সংগঠনের জন্য ফেসবুক পেজ পরিচালনা, ছবি তৈরি, ভিডিও এডিটিং, পোস্ট লেখা বা সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট তৈরির কাজও করা যেতে পারে। বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক ছোট ব্যবসা ও সংগঠনের নিয়মিত ডিজিটাল কনটেন্টের প্রয়োজন থাকায় এই ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। তবে পার্ট-টাইম কাজ শুরু করার আগে শুধু সম্ভাব্য আয় নয়, সংশ্লিষ্ট খরচও হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রাইডশেয়ার বা ডেলিভারি কাজের ক্ষেত্রে গাড়ির গ্যাস, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত আয় কত থাকে, সেটি বিবেচনা করা উচিত। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে পার্ট-টাইম বা গিগ কাজের আয়ও ট্যাক্সের আওতায় পড়ে। আইআরএসের তথ্য অনুযায়ী, গিগ কাজ থেকে পাওয়া আয় পার্ট-টাইম, অস্থায়ী বা সাইড কাজের আয় হলেও তা ট্যাক্স রিটার্নে রিপোর্ট করতে হয়। কোনো ব্যক্তির self-employment থেকে নেট আয় ৪০০ ডলার বা তার বেশি হলে সাধারণত self-employment tax-এর নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। আয় ও খরচের রেকর্ড এবং প্রয়োজনীয় রসিদ সংরক্ষণ করার পরামর্শও দিয়েছে আইআরএস। তাই ফুল-টাইম চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের সময়, দক্ষতা, খরচ এবং সম্ভাব্য নেট আয় বিবেচনা করা। সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টার একটি পার্ট-টাইম কাজও সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা গেলে পরিবারের মাসিক বাজেটে অতিরিক্ত অর্থের জোগান দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় একই পরিবারের ৮ জনকে গুলি করে হত্যা, নিহতদের মধ্যে রয়েছে চার শিশু
বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসার আবেদন সাময়িক স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশিদের ওপরও
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা অনেকের নাগালের বাইরে, কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকাই সাশ্রয়ী
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যে হামে (মিজলস) আক্রান্ত হয়ে অন্তত দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তিদের কেউই হামের টিকা নেননি। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, এটি ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হামে মৃত্যুর প্রথম ঘটনা। একই সাথে পেনসিলভেনিয়ায় গত ৩৫ বছরের ইতিহাসে এটিই প্রথম হামজনিত মৃত্যুর রেকর্ড। পেনসিলভেনিয়ার স্বাস্থ্য সচিব ড. ডেবরা বোগেন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজ্যটিতে হাম প্রায় নির্মূল অবস্থায় থাকায় সাধারণ মানুষ এই রোগের ভয়াবহতা ও সম্ভাব্য জটিলতা সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে 'এমএমআর' (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এটি হামের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত আজীবন সুরক্ষা নিশ্চিত করে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মৃত দুজনই ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টির বাসিন্দা ছিলেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত পেনসিলভেনিয়ায় মোট ৩৯৩ জনের হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা নিউমোনিয়া এবং মস্তিষ্কে প্রদাহসহ মারাত্মক স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। আক্রান্তদের প্রায় ২০ শতাংশেরই হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। সিডিসির তথ্যমতে, দেশটিতে হামের সংক্রমণ গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে, যার ৯৩ শতাংশ রোগীই টিকাবিহীন এবং এর ৬৯ শতাংশের বয়স ১৯ বছর বা তার কম। এর আগে ২০২৫ সালে ৪৩টি অঙ্গরাজ্যে ২ হাজার ২৮৯ জনের সংক্রমণ শনাক্তের মাধ্যমে ৩০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছিল, যার ফলে দুটি শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। এদিকে টিকা কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ১০ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে শিশুদের টিকা গ্রহণের নিয়ম শিথিল করার পাশাপাশি কম্বাইন্ড এমএমআর টিকাকে আলাদা তিনটি ভাগে বিভক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্প এমএমআর টিকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তা জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সেন্টার্স ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেসের প্রধান ড. মেহমেট ওজ সিবিএসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের দাবির বিরোধিতা করে নিশ্চিত করেছেন যে, এমএমআর টিকা কোনোভাবেই প্রাণঘাতী নয়, বরং এটি অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর।
ভার্জিনিয়ায় মেজবানে খাবার নিয়ে বিশৃঙ্খলা, দুঃখপ্রকাশ করে ভুল স্বীকার আয়োজকদের
মিনিয়াপলিসে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চার্চে গোপন অভিযান, অভিযুক্ত মার্কিন প্রশাসন
নিউইয়র্কে রেস্টুরেন্টে গুলিতে বাংলাদেশি কর্মী নি হত রাজুর মরদেহ দেশে নিতে সহায়তার আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় 'অপারেশন স্টেটওয়াইড শিল্ড'-এর মাধ্যমে এক ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই অভিযানের মাধ্যমে ২ মাস থেকে শুরু করে ১৭ বছর বয়সী মোট ১৬৩ জন নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এটি ফ্লোরিডার ইতিহাসে এ ধরনের সবচেয়ে বড় এবং রাজ্যব্যাপী পরিচালিত প্রথম শিশু উদ্ধার অভিযান। উদ্ধারকৃত শিশুদের ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্রের আরও ছয়টি অঙ্গরাজ্য, পুয়ের্তো রিকো এবং বিশ্বের ১২টি ভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই যৌথ আইনি অভিযানে এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও অনেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই বিশাল অভিযানটি পরিচালনা করেছে একটি বহুমুখী টাস্কফোর্স, যারা ফ্লোরিডার টাম্পা, মায়ামি, জ্যাকসনভিল, অরল্যান্ডো, ফোর্ট মায়ার্স, পেনসাকোলা এবং টালাহাসি শহরে পৃথকভাবে উপ-অভিযান চালায়। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল এনফোর্সমেন্টের নেতৃত্বে এবং মানবপাচার বিষয়ক বিশেষ কৌঁসুলি রিটা পিটার্সের সার্বিক সহযোগিতায় টানা পাঁচ দিন ধরে এই তদন্ত কার্যক্রম চলে। অভিযানের পরিধি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সীমানায় আটকে থাকেনি, বরং ব্রাজিল, কানাডা, কলম্বিয়া, স্পেন, ফিনল্যান্ড, মেক্সিকো, তাইওয়ানসহ ১২টি দেশে বিস্তৃত ছিল। উদ্ধার হওয়া শিশুদের দ্রুত বিশেষায়িত সেবাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা, সামাজিক সুরক্ষা এবং মানসিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। শিশু পাচার ও শোষণের মতো অবৈধ চক্রের মূল হোতাদের ধরতে এখনো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এই চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে জ্যাকসনভিল থেকে মাইকেল প্রেসকট, লি কাউন্টি থেকে রবার্ট ফেরাল অ্যালিসন এবং জেডেন অ্যালেন হারউড নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর অশালীন আচরণ, শারীরিক হামলা ও শিশুর আইনগত অভিভাবকত্বে বেআইনি হস্তক্ষেপসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল উথমিয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, শিশু নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউটররা সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাবেন, যার মধ্যে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের বেশি ফি বসানোর প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের
মিনেসোটায় অভিবাসীকে গুলি, আইসিই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলার প্রস্তুতি