সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা অনেকের নাগালের বাইরে, কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকাই সাশ্রয়ী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ২০:৪৬
আবাসন ব্যয় বাড়ায় অনেক আমেরিকানের জন্য নিজের বাড়ির মালিক হওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। ছবি: সংগৃহীত
আবাসন ব্যয় বাড়ায় অনেক আমেরিকানের জন্য নিজের বাড়ির মালিক হওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নিজের একটি বাড়ি কেনা কিংবা ভাড়ায় থাকা দুটোই সাধারণ মানুষের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। একসময় নিজের একটি দোতলা বা ছিমছাম বাড়ি আমেরিকান স্বপ্নের অন্যতম প্রধান অংশ ছিল। কিন্তু এখন শুধু বাড়ি কেনাই নয়, পরিবারের জন্য একটি বাড়ি ভাড়া পাওয়াও বেশ দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

সম্প্রতি রিয়েল এস্টেট প্ল্যাটফর্ম রিয়েলটর ডটকম একটি নতুন সমীক্ষা প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রধান মেট্রোপলিটন এলাকায় বর্তমানে একটি নতুন বা প্রাথমিক বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকা অনেক বেশি সাশ্রয়ী। তবে যারা ভাড়ায় থাকতে চান, তাদের জন্যও একক পরিবারের বাড়ির বা সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে।

 

রিয়েলটর ডটকমের জুলাই ২০২৬ এর রেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৫০টি মেট্রো শহরে শূন্য থেকে দুই বেডরুমের সম্পত্তির জন্য জাতীয় গড় ভাড়া ছিল ১,৬৯৫ ডলার। এটি এক বছর আগের তুলনায় ২৪ ডলার বা ১.৪ শতাংশ কম। তবে একই এলাকায় এ ধরনের একটি প্রাথমিক বা স্টার্টার হোম কেনার মাসিক খরচ গত মাসে ছিল ২,৫৫৩ ডলার, যা ভাড়ার চেয়ে ৮৫৮ ডলার বেশি।

 

এই মাসিক খরচের হিসাবটি করা হয়েছে শূন্য থেকে দুই বেডরুমের বাড়ির তালিকাভুক্ত গড় দাম, ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট, ৩০ বছর মেয়াদি নির্ধারিত বন্ধকি বা মর্টগেজ রেট, হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ফি, কর এবং মেট্রো স্তরের গড় হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের ওপর ভিত্তি করে।

 

স্টার্টার হোমের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জন্য সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম ভাড়া পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত রেডফিনের একটি বিশ্লেষণে সেনসাস ডেটা বা আদমশুমারির তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে মাত্র ১৩.৭ শতাংশ বা ১ কোটি ১৩ লাখ সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করছিলেন। এটি ইতিহাসের তৃতীয় সর্বনিম্ন রেকর্ড।

 

এর বিপরীতে একই বছরে বড় বহুতল বা মাল্টিফ্যামিলি ভবনে ভাড়ায় বসবাসকারী ইউনিটের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২১ লাখ, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এছাড়া ছোট মাল্টিফ্যামিলি ভবনে ১ কোটি এবং টাউনহোমে ৩১ লাখ ভাড়াটিয়া ইউনিট ছিল।

 

এটি এখন আমেরিকার জন্য এক নতুন বাস্তবতা। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, ২০২১ সালেও দেশটির ভাড়ার বাজারের সবচেয়ে বড় অংশ ছিল সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম। অন্যদিকে ২০১৯ সালের আগে এবং মহামারির সময় যখন বাড়ি কেনার হিড়িক পড়েছিল, তখন বড় মাল্টিফ্যামিলি ভবনগুলো ছিল পছন্দের তালিকার তৃতীয় স্থানে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছে বহুকাল ধরেই নিজের একটি সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে বসবাস করা আত্মপরিচয় ও ব্যক্তিগত সাফল্যের প্রতীক। কিন্তু এখন সেই স্বপ্নে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

 

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানগুলো থেকে বোঝা যায়, যারা এখনও নিজস্ব সম্পত্তির মালিক হতে পারেননি, তাদের জন্য আমেরিকান স্বপ্নের সংজ্ঞা কতটা বদলে গেছে। এখন বেশিরভাগ ভাড়াটিয়া তাদের স্বপ্নের সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে বসবাস করছেন না, বরং বড় অ্যাপার্টমেন্ট ভবনেই তাদের থাকতে হচ্ছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩.১ শতাংশ নাগরিকের প্রধান বাসস্থান হয়ে উঠেছে এসব বড় অ্যাপার্টমেন্ট।

 

২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে এবং বিশেষ করে মহামারির সময় সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের চেয়ে ২০ বা তার বেশি ইউনিটের মাল্টিফ্যামিলি ভবনগুলো বেশি দ্রুত গতিতে নির্মিত হয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো মহামারির সময় এসব ভবনের বেশিরভাগই ভাড়াটিয়াদের বদলে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল।

 

ফ্রেডি ম্যাকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে জাতীয় পর্যায়ে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড রেট মর্টগেজের গড় ছিল ৬.৬৫ শতাংশ। চড়া সুদের হারের কারণে অনেক বাড়ির মালিক এখন তাদের বাড়ি বিক্রি করতে চাইছেন না। এর ফলে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভাড়ার জন্য বহুতল ভবনগুলোই এখন মানুষের কাছে বেশি সাশ্রয়ী বিকল্প। অন্যদিকে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমগুলো কেবল মুষ্টিমেয় বিত্তবানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।

 

নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি, কঠোর জোনিং আইন, জমির ন্যূনতম আয়তন সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং আবাসন শিল্পের পরিবর্তনের কারণে সারা দেশেই এখন স্টার্টার হোম নির্মাণের হার কমে গেছে। হোমবায়িং ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৮০ এর দশকের শুরুতে নতুন নির্মাণের প্রায় ৪০ শতাংশই ছিল স্টার্টার হোম, কিন্তু ২০১৯ সালে তা নেমে আসে মাত্র ৭ শতাংশে। ২০২৬ সালে এসে এগুলো পাওয়া আগের দশকগুলোর চেয়ে আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতাদের সামর্থ্যের চাপের কারণে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম নির্মাণও সার্বিকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

 

প্রথমবার বাড়ি কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প না থাকায় লাখো মানুষ এখন আবাসন বাজারের বাইরে ছিটকে পড়ছেন, যার গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমেরিকান সমাজে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্স এর মতে, ২০২৫ সালে মোট বাড়ি বিক্রির মাত্র ২১ শতাংশ কিনেছেন প্রথমবার ক্রেতারা। ঐতিহাসিকভাবে এই হার সাধারণত ৪০ শতাংশ থাকে। এছাড়া প্রথমবার বাড়ি কেনার গড় বয়সও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ বছরে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ।

 

তবে যারা এখনও বাড়ির মালিক হননি তাদের জন্য কিছুটা আশার আলোও রয়েছে। রিয়েলটর ডটকম বলছে, একটি স্টার্টার হোম ভাড়া নেওয়া এবং কেনার খরচের ব্যবধান কিছুটা কমতে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে স্টার্টার হোমের মাসিক খরচ ২,৬৪২ ডলার থেকে কমে ২,৫৫৩ ডলারে নেমেছে।

 

এর মধ্যে ৫৭ ডলার কমেছে বাড়ির তালিকাভুক্ত দাম কমার কারণে এবং ৩৩ ডলার কমেছে মর্টগেজ রেট কমার কারণে। গত এক বছরে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজ রেট ৬.৭২ শতাংশ থেকে কমে ৬.৫৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভাড়ায় থাকা এখনও সস্তা হলেও এমন অনেক বাজার তৈরি হচ্ছে যেখানে ভাড়ার চেয়ে স্টার্টার হোমের দাম দ্রুত কমছে এবং মানুষের সাপ্তাহিক গড় আয় জাতীয় হার ৩.৮ শতাংশের বেশি বা সমান গতিতে বাড়ছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা সিটি, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো, সিয়াটল, মিয়ামি, ফ্লোরিডার টাম্পা, লাস ভেগাস এবং ন্যাশভিল।

 

শীর্ষ ৫০টি মেট্রো শহরে জুলাই মাসে স্টার্টার হোমের তালিকাভুক্ত গড় দাম বার্ষিক ২.৯ শতাংশ কমেছে, যেখানে ভাড়ার হার কমেছে ১.৪ শতাংশ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ সারোগেট শিশুর ওপর নি র্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ধনকুবের দম্পতি
ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ সারোগেট শিশুর ওপর নি র্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ধনকুবের দম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি ১০ মিলিয়ন ডলারের বিলাসবহুল প্রাসাদে সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া অন্তত ১৪ জন শিশুর ওপর পৈশাচিক নির্যাতনের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গুওজুন জুয়ান (৬৬) এবং সিলভিয়া ঝাং (৩৯) নামের এই দম্পতির বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন, তথ্য গোপন এবং সাক্ষীদের ভয় দেখানোর মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নাথান হচম্যান এই ঘটনাকে 'নজিরবিহীন ও ঘৃণ্য' বলে আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, যাদের ওপর শিশুদের সুরক্ষার দায়িত্ব ছিল, তাদের হাতেই অবুঝ শিশুরা এমন ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যদিও আদালতে অভিযুক্তরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।   ২০২৫ সালের মে মাসে সিলভিয়া ঝাং তার দুই মাস বয়সী এক শিশুকে মাথায় গুরুতর আঘাত এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করলে এই ভয়াবহ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটিকে প্রচণ্ড জোরে ঝাঁকানো ও আঘাত করা হয়েছিল।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ওই দম্পতি শিশুটিকে হাসপাতালে নিতে দুই দিন দেরি করেছিলেন এবং খাট থেকে পড়ে যাওয়ার মিথ্যা গল্প ফেঁদেছিলেন। পরবর্তীতে পুলিশের উদ্ধার করা সিসিটিভি ফুটেজে দুই মাস থেকে ১৩ বছর বয়সী অন্তত ১৪ জন শিশুর ওপর ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়ে।   এছাড়া অন্য কয়েকটি বাড়ি থেকে তাদের সাথে সম্পৃক্ত আরও ছয়টি শিশু উদ্ধার করা হয়, ফলে ভুক্তভোগী শিশুর মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২১-এ।   বিলাসবহুল ওই প্রাসাদের ভেতরে তিনটি 'লার্নিং সেন্টার' তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে শিশুদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডেস্কে বসে থাকতে বাধ্য করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন না রেখেই শিশুদের মারধর করার জন্য আয়াদের নির্দেশ দিতেন ওই দম্পতি।   এমনকি জুয়ান নিজে এক শিশুকে নির্দয়ভাবে মারধর করতেন এবং শাস্তিস্বরূপ আরেক ছেলেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্কোয়াট বা 'হর্স স্ট্যান্স' পজিশনে দাঁড় করিয়ে রাখতেন।   জানা গেছে, এই দম্পতি নিজেদের বাড়ি থেকেই 'ফিউচার স্প্রিং সারোগেসি' নামের একটি প্রতিষ্ঠান চালাতেন এবং মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে সারোগেট মায়েদের বিপুল অর্থের বিনিময়ে সন্তান জন্মদানে যুক্ত করতেন।   তদন্তে ওই দম্পতির বিপুল সম্পদের সন্ধান মিলেছে। তাদের বাড়ি থেকে আয়াদের বেতন দেওয়ার নগদ অর্থ, মেক্সিকোসহ একাধিক দেশের পাসপোর্ট, ২০০টির বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং প্রায় ৮ থেকে ৯ মিলিয়ন ডলার মূল্যের মদ উদ্ধার করা হয়েছে।   অভিযুক্ত আয়া চুনমেই লি-র বিরুদ্ধে মারাত্মক শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হলেও তিনি এরই মধ্যে চীনে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।   বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলি সার্ভিসেস উদ্ধারকৃত ২১টি শিশুর চিকিৎসা, মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন ও আইনি অভিভাবকত্বের বিষয়টি তদারকি করছে।   একই সাথে অভিযুক্ত জুয়ানের অতীতের অবৈধ ক্যাসিনো ও মাদক ব্যবসার সম্পৃক্ততার বিষয়গুলোও নতুন করে খতিয়ে দেখছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৭:১১
law-concept-with-statue-of-justice-and-attorney

অন্যের সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মামলা

ট্রাম্পের নেভি ব্লু স্যুট তৈরি নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে, নিশ্চিত করলেন কারখানার এমডি

ট্রাম্পের নেভি ব্লু স্যুট তৈরি নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে, নিশ্চিত করলেন কারখানার এমডি

১০৮ বছর বয়সেও গাড়ি চালান মার্কিন নারী, ড্রাইভার লাইসেন্স নবায়ন করলেন ২০৩৩ সাল পর্যন্ত

১০৮ বছর বয়সেও গাড়ি চালান মার্কিন নারী, ড্রাইভার লাইসেন্স নবায়ন করলেন ২০৩৩ সাল পর্যন্ত

একসময় চাকরি দেয়নি প্রিন্সটন ও ম্যাকগিল, নোবেলজয়ীকে ঘিরে এখন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্ছ্বাস
একসময় চাকরি দেয়নি প্রিন্সটন ও ম্যাকগিল, নোবেলজয়ীকে ঘিরে এখন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্ছ্বাস

একসময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী শিক্ষকতার সুযোগ পাননি কানাডিয়ান কবি ও লেখক অ্যান কারসন। পরে কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটিতেও তাঁর কর্মজীবনে আসে অনিশ্চয়তা। অথচ সেই কারসনই এবার পেয়েছেন ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার। তাঁর এই অর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছে প্রিন্সটন ও ম্যাকগিল, দুই বিশ্ববিদ্যালয়ই। আর তাতেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অতীতের সম্পর্ক।   গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সুইডিশ একাডেমি ৭৬ বছর বয়সী অ্যান কারসনকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয়। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও আধুনিক লেখার ধারাকে মিলিয়ে নতুন ধরনের সাহিত্য সৃষ্টির জন্য তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ ও গদ্যের প্রচলিত সীমারেখা ভেঙে লেখালেখির স্বতন্ত্র ধরন তৈরি করেছেন তিনি।   নোবেল ঘোষণার পর প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির ক্ল্যাসিকস বিভাগ নিজেদের ওয়েবসাইটে কারসনকে অভিনন্দন জানায়। একইভাবে ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটিও সাবেক এই অধ্যাপকের অর্জন উদযাপন করে। তবে এই দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর অতীতের সম্পর্ক এক রকম ছিল না।   ১৯৮০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা শুরু করেন অ্যান কারসন। প্রথমে ইনস্ট্রাক্টর এবং পরে ক্ল্যাসিকস বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন তিনি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টিতে স্থায়ী শিক্ষকতার স্বীকৃতি, অর্থাৎ টেনিউর পাননি। এর পরই প্রিন্সটন ছেড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা শুরু করেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টেনিউর একজন শিক্ষকের দীর্ঘমেয়াদি চাকরির নিরাপত্তা ও একাডেমিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের শিক্ষকতা, গবেষণা ও অন্যান্য কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কারসনের ক্ষেত্রে সেই স্বীকৃতি না পাওয়ার ঘটনা এখন তাঁর নোবেলজয়ের পর নতুন করে সামনে এসেছে।   প্রিন্সটন ছাড়ার পর তিনি আটলান্টার এমোরি ইউনিভার্সিটিতে কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। এরপর ১৯৮৮ সালে কানাডার মন্ট্রিয়লের ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির ক্ল্যাসিকস বিভাগে যোগ দেন। সেখানে গ্রিক ও লাতিন ভাষা এবং প্রাচীন সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।   ম্যাকগিলে তাঁর কর্মজীবনেও পরিবর্তন আসে। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রাচীন গ্রিক ভাষার স্নাতকোত্তর কোর্স বন্ধ করে এবং ক্ল্যাসিকস বিভাগের কাঠামোয় পরিবর্তন আনে। ফলে কারসনের দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা ও গবেষণার পরিবেশেও প্রভাব পড়ে। তবে ম্যাকগিল তাঁকে সরাসরি চাকরিচ্যুত করেছিল, এমন দাবি প্রতিষ্ঠিত নয়।   বরং ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে অ্যান কারসনকে জন ম্যাকনটন প্রফেসর অব ক্ল্যাসিকস পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি ২০০২ সাল পর্যন্ত সেখানে শিক্ষকতা করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে যোগ দেন। ফলে ম্যাকগিল তাঁকে হারিয়েছিল বলে যে আলোচনা চলছে, সেটিকে সরাসরি চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   প্রিন্সটনের সঙ্গে কারসনের সম্পর্কও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। ২০২৫ সালে তিনি আবার বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ফিরে যান একটি বিশেষ বক্তৃতা দিতে। রবার্ট ফেগলস লেকচারে তাঁর বক্তব্য শুনতে চার শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সাহিত্য, অনুবাদ, শিল্প এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। নোবেলজয়ের পর প্রিন্সটন সেই অনুষ্ঠানের কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেছে।   অ্যান কারসনের জন্ম ১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে। টরন্টো ইউনিভার্সিটি থেকে ক্ল্যাসিকস বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও ভাষার প্রতি আগ্রহ থেকেই তাঁর সাহিত্যচর্চার শুরু। পরবর্তী সময়ে সেই জ্ঞানকে আধুনিক কবিতা ও গদ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিজস্ব লেখার ধরন গড়ে তোলেন।   তাঁর উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে অটোবায়োগ্রাফি অব রেড, ইরোস দ্য বিটারসুইট, দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড এবং নক্স। বিশেষ করে অটোবায়োগ্রাফি অব রেড বইয়ে প্রাচীন গ্রিক পুরাণকে আধুনিক কাব্যিক আখ্যানের মাধ্যমে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন তিনি।   নোবেল পাওয়ার আগেও আন্তর্জাতিক সাহিত্যজগতে প্রতিষ্ঠিত নাম ছিলেন অ্যান কারসন। তিনি ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ, গুগেনহাইম ফেলোশিপ, টি এস এলিয়ট পুরস্কারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য সম্মাননা পেয়েছেন। ২০০৫ সালে কানাডার অন্যতম রাষ্ট্রীয় সম্মাননা অর্ডার অব কানাডার সদস্য হন তিনি।   এবারের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে তিনি পাচ্ছেন ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। আগামী ডিসেম্বরে সুইডেনের স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।   কারসনের নোবেলজয়ের পর তাঁর সাবেক দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিনন্দনকে ঘিরে শিক্ষা ও গবেষণাজগতে একটি পুরোনো প্রশ্ন সামনে এসেছে। একজন শিক্ষকের সম্ভাবনা কিংবা সৃজনশীল প্রতিভা মূল্যায়নে প্রচলিত একাডেমিক ব্যবস্থা কতটা সফল হতে পারে?   প্রিন্সটনে টেনিউর না পাওয়া কিংবা ম্যাকগিলে বিভাগীয় পরিবর্তনের মুখোমুখি হওয়া কারসনের সাহিত্যচর্চাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি নিজের লেখালেখি অব্যাহত রেখেছেন এবং ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক সাহিত্যে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।   তাঁর নোবেলজয় একদিকে যেমন ব্যক্তিগত সাহিত্যিক অর্জনের স্বীকৃতি, অন্যদিকে একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন এবং একজন সৃজনশীল মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার পার্থক্য নিয়েও আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।   যে প্রিন্সটনে একসময় স্থায়ী শিক্ষকতার সুযোগ পাননি, সেই প্রতিষ্ঠান আজ তাঁর নোবেলজয় উদযাপন করছে। ম্যাকগিলও সাবেক অধ্যাপক হিসেবে তাঁর অর্জনকে নিজেদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। আর অ্যান কারসনের এই দীর্ঘ পথচলা দেখিয়েছে, কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তই একজন লেখকের ভবিষ্যৎ অর্জনের চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করে না।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৩:১২
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের গড়া মসজিদের লাউডস্পিকারে আজান, সুরে মনের প্রশান্তি

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের গড়া মসজিদের লাউডস্পিকারে আজান, সুরে মনের প্রশান্তি

মিশিগানের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি তরুণ মাহবুব রহমান নিহত

মিশিগানের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি তরুণ মাহবুব রহমান নিহত

টেক্সাসের মহাসড়ক থেকে উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশের গাড়ির সামনের সিটে বসে থাকা সেই আহত পেঁচা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

টহল দিতে গিয়ে আহত পেঁচার দেখা, উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন পুলিশ কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের দিনেই আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সাবেক বিচারকের নোবেল জয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বা আইসিসির একজন সাবেক বিচারক নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংস্থাটির ওপর নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শুক্রবার নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে আইসিসির সাথে চুক্তিবদ্ধ যেকোনো প্রতিষ্ঠানের লেনদেন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক কোনো চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর এ ধরনের আক্রমণ এর আগে কখনো দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে আইসিসি প্রতিষ্ঠার রোম চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও পরে তা অনুমোদন করেনি।   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে আমেরিকানদের বিচার করার সুযোগ দেবেন না। তিনি আইসিসিকে একটি 'বিপথগামী আদালত' হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এর মাধ্যমে সংস্থাটির সাথে সমস্ত লেনদেন নিষিদ্ধ করা হবে এবং তাদের পরিচালনার সক্ষমতা পুরোপুরি পঙ্গু করে দেওয়া হবে। তবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের একটি শিথিল মেয়াদ বা গ্রেস পিরিয়ড রাখা হয়েছে। এই সময়ে টেলিযোগাযোগ, সফটওয়্যার, পেনশন পরিশোধ এবং বন্দি সংক্রান্ত কিছু লেনদেনের সুযোগ থাকবে।   এই নিষেধাজ্ঞার কড়া নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। তারা এটিকে 'আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর ভিত্তির ওপর সরাসরি আঘাত' বলে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে আইসিসি তাদের ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রকে এই আদালত রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে যে, তারা একা লড়াই করতে পারবে না, তাদের ভাগ্য এখন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর হাতে। এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠান রক্ষার বিষয় নয়, বরং আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষার প্রশ্ন। আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজাত শামিম খান রয়টার্সকে বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য হলো স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কাজকে বাধাগ্রস্ত করা। তবে তারা তাদের তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।   মূলত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের কারণেই ওয়াশিংটন আইসিসির ওপর ক্ষুব্ধ। যদিও আইসিসি জানিয়েছে যে আফগানিস্তান তদন্তটি এখন তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। মার্কো রুবিও তার বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে কিছু বহিরাগত বিশেষজ্ঞ আমেরিকান সেনা, সীমান্তরক্ষী এবং নির্বাচিত নেতাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য আইসিসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে আইসিসি কর্মকর্তারা এমন কোনো পদক্ষেপ নেননি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস জানিয়েছেন, ছয় মাসের এই শিথিল মেয়াদ আলোচনার একটি সুযোগ তৈরি করেছে। তবে আইসিসি যাতে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাতেও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আদালতকে সুরক্ষার জন্য ইইউ ব্লকিং স্ট্যাটিউট কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন।   আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এ পর্যন্ত বিশ্বনেতা এবং বড় ধরনের সংঘাতের মূল হোতাসহ ৭০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এর মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, সুদানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির এবং লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির মতো নাম রয়েছে। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অবশ্য পরে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র সদস্য দেশগুলোকে আইসিসি ছাড়ার আহ্বান জানালেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ছাড়া ন্যাটোর প্রায় সব সদস্য রাষ্ট্রই আইসিসিকে জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছে। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এই আদালতটিকে রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর।   কাকতালীয়ভাবে শুক্রবার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের কয়েক ঘণ্টা আগেই আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগে দায়িত্ব পালন করা দক্ষিণ আফ্রিকার এই আইনজ্ঞকে পুরস্কৃত করার মাধ্যমে নোবেল কমিটি আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারকদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে। তারা জানিয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নির্যাতিতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বের জন্য অপরিহার্য। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও আইসিসি কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন, যা পরে জো বাইডেন প্রশাসন বাতিল করে দেয়। তবে গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই আইসিসি সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং বিকল্প ব্যাংকিং ও সফটওয়্যার ব্যবস্থা গড়ে তুলছিল।   উৎস: রয়টার্স

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ২৩:১০
দূষিত খাবার ও অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ানো এই ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার রোধে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ানো ডায়রিয়া প্রকট হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে, অ্যান্টিবায়োটিকেও মিলছে না ফল

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিকল্প হিসেবে লুক্সেমবার্গের পাসপোর্ট চাইছেন অনেক মার্কিনি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার বিকল্প খুঁজছেন আমেরিকানরা, পূর্বপুরুষের সূত্রে নিচ্ছেন লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব

ফ্রেসনো শহরের ব্রডওয়ে স্ট্রিট এবং ডাডলি অ্যাভিনিউয়ের কাছে ঘটনাস্থলে তদন্ত করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বাড়ির সামনে থেকে সরে যেতে বলায় বৃদ্ধকে মারধর, ক্যালিফোর্নিয়ায় গুলিবিদ্ধ আইসিই কর্মকর্তা

0 Comments