৮০ বছর বয়সে চিরবিদায় নিলেন কান্ট্রি মিউজিকের কিংবদন্তি গায়িকা ডলি পার্টন
যুক্তরাষ্ট্রের কান্ট্রি মিউজিক ইতিহাসের অন্যতম সফল ও যুগান্তকারী সংগীতশিল্পী ডলি পার্টন ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। মঙ্গলবার তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এই শোকাবহ সংবাদ নিশ্চিত করা হয়। ডলি পার্টনের ভাতিজা এবং তাঁর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রায়ান সিভার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা একটি পূর্বরেকর্ড করা ভিডিওতে মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
আবেগঘন ওই ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, এই বিদায় চরম বিষাদ ও পরম গর্বের মিশ্রণ। ডলি সারা জীবন আলো ছড়িয়েছেন এবং এখন তিনি যিশুর আশ্রয়ে শান্তিতে আছেন।
সিভারের ভিডিওতে পার্টনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে গত বছরের অক্টোবরে তাঁর বোন ফ্রেইডা পার্টন সামাজিক মাধ্যমে ডলির জন্য প্রার্থনা চাইলে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়।
পরবর্তীতে গত মে মাসে ডলি নিজেই একটি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছিলেন যে, গত কয়েক বছর ধরে তিনি কিডনিতে পাথর, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও পরিপাকতন্ত্রের নানা জটিলতায় ভুগছেন এবং চিকিৎসায় ভালো সাড়াও পাচ্ছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই সে সময় লাস ভেগাসের বেশ কয়েকটি নির্ধারিত কনসার্ট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিলেন এই প্রবীণ তারকা।
তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। হোয়াইট হাউস থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মৃত্যুকে ‘লাখো মানুষের জন্য এক সত্যিকারের ক্ষতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সারা দেশে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বর্ষীয়ান গায়িকা লিন্ডা রনস্ট্যাড এবং হলিউড অভিনেত্রী জুলিয়া রবার্টসসহ অসংখ্য তারকা তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
হলিউড চেম্বার অব কমার্স তাকে ‘যুগে একবার জন্ম নেওয়া প্রতিভা’ হিসেবে স্মরণ করে হলিউড ওয়াক অব ফেমে তাঁর তারকায় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর ঘোষণা দিয়েছে।
১৯৬৭ সালে ‘হ্যালো, আই অ্যাম ডলি’ অ্যালবামের মাধ্যমে সংগীতাঙ্গনে পা রাখার পর থেকে তাকে আর কখনো পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ছয় দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় ৫০টি স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন এবং বিশ্বজুড়ে তাঁর ১০ কোটির বেশি রেকর্ড বিক্রি হয়েছে।
অসাধারণ প্রতিভাধর এই গীতিকার তাঁর ক্যারিয়ারে ১০টি গ্র্যামি পুরস্কার জেতার পাশাপাশি ৫৫ বার মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালে ‘জোলিন’ এবং ১৯৭৪ সালে ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’-এর মতো কালজয়ী গানগুলো তাকে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে দেয়, যা পরে হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠেও দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
সংগীতাঙ্গনের গণ্ডি পেরিয়ে হলিউডে ‘নাইন টু ফাইভ’ এবং ‘স্টিল ম্যাগনোলিয়াস’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও তিনি অসামান্য সাফল্য ও অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি টেনেসির এক দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করা ডলি পার্টন তাঁর পরোপকারী সত্তার জন্যও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ছিলেন। ১৯৮৮ সালে ডলিউড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি নিজ এলাকার শিক্ষায় ব্যাপক অবদান রাখেন।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে মডার্নার টিকা গবেষণায় তিনি ১ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছিলেন, যা লাখো মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছিল। ২০২২ সালে তাঁর এই দাতব্য কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস তাকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের ‘কারেজ অ্যান্ড সিভিলিটি’ পুরস্কার প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, প্রায় ৬০ বছরের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের পর ২০২৫ সালের মার্চে ডলি পার্টনের স্বামী কার্ল ডিন ৮২ বছর বয়সে মারা যান। নিজেদের পছন্দে নিঃসন্তান থাকা এই দম্পতির ভালোবাসার গল্প ভক্তদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসের ইউনিভার্সিটি ব্যাপটিস্ট চার্চসহ দেশটির বেশ কয়েকটি চার্চ ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ চলাকালে এবং পরবর্তী সময়ে আইনি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ধর্মীয় উপাসনালয়ে ছদ্মবেশী এজেন্ট পাঠিয়ে গোপন নজরদারি চালিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস)। গত সপ্তাহে ডিএইচএস-এর প্রকাশিত গোপন নথিপত্রে এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নটি সামনে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ম্যাসাচুসেটসের একজন বিচারক ইউনিভার্সিটি ব্যাপটিস্ট চার্চকে ‘সুরক্ষিত এলাকা’ বা প্রোটেক্টেড এরিয়া হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, যেখানে অভিবাসন সংক্রান্ত কোনো আইনি বলপ্রয়োগ বা অভিযান পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু নতুন প্রকাশিত নথিগুলো বলছে, আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত একাধিকবার এই চার্চের ভেতরে গিয়ে তদন্ত চালিয়েছেন ছদ্মবেশী এজেন্টরা। এমনকি অন্তত একটি ক্ষেত্রে গোপনে আড়িপাতার যন্ত্র (ওয়্যার) পরিধান করে চার্চের ভেতরে অডিও রেকর্ড করার প্রমাণও মিলেছে। গত ২৮ মে চার্চের বেসমেন্টে আয়োজিত একটি আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ ক্লাসেও এক ছদ্মবেশী এজেন্ট অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। গত ১১ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন চার্চ ও বৈঠকে এই ধরনের ছদ্মবেশী উপস্থিতির রেকর্ড রয়েছে। আইনজীবী কেভিন রিয়াচের দায়ের করা একটি নথির অংশ হিসেবে ডিএইচএস-এর ‘অপারেশন পাপেট মাস্টার’ এবং ‘প্রজেক্ট হুইপল শিল্ড’ সংক্রান্ত এসব অভ্যন্তরীণ নথি প্রকাশ্যে আসে। রিয়াচ মূলত আইজ্যাক স্যান্ট নামের এক ব্যক্তির পক্ষে আইনি লড়াই করছেন, যিনি ফেডারেল কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত ১৫ জনের একজন। ডিএইচএস কর্তৃপক্ষের দাবি, সহিংস সুযোগসন্ধানী এবং ফেডারেল কর্মকর্তাদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করতেই এসব অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে চার্চের নেতারা একে ধর্মীয় পবিত্রতার মারাত্মক লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। ইউনিভার্সিটি ব্যাপটিস্ট চার্চের এক নেতা জানান, এটি তাদের পবিত্র স্থানের চরম অবমাননা; চার্চ হলো আশ্রয় ও নিরাপত্তার স্থান, সরকারি এজেন্টদের অনুপ্রবেশের জায়গা নয়। এদিকে, মিনিয়াপলিসের ফার্স্ট ইউনিভার্সালিস্ট চার্চের রেভারেন্ড জেনিফার ক্রো এই নজরদারিকে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার আখ্যা দিয়ে বলেছেন, তারা কেবল সাধারণ ধর্মীয় স্বাধীনতা চর্চা করতে চেয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, যদিও এ ধরনের সরকারি নজরদারি এখন অনেকটাই সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে, তবু এটিকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। তবে পুরো ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে ডিএইচএস-এর একজন মুখপাত্র চলমান তদন্ত ও পদ্ধতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
নিউইয়র্কে রেস্টুরেন্টে গুলিতে বাংলাদেশি কর্মী নি হত রাজুর মরদেহ দেশে নিতে সহায়তার আহ্বান
ফ্লোরিডায় নজিরবিহীন অভিযানে উদ্ধার ১৬৩ নিখোঁজ শিশু, গ্রেপ্তার ৩ সন্দেহভাজন
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের বেশি ফি বসানোর প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় গত জানুয়ারি মাসে জুলিও সিজার সোসা-সেলিস নামের এক ভেনেজুয়েলান অভিবাসীকে পায়ে গুলি করার ঘটনায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের কথা বিবেচনা করছেন ফেডারেল প্রসিকিউটররা। ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রো নামের ওই অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগে মে মাসে মিনেসোটার স্থানীয় প্রসিকিউটররা দ্বিতীয় মাত্রার হামলার চারটি অভিযোগ এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার একটি অভিযোগ এনেছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে মিনেসোটায় অভিবাসন বিরোধী অভিযানের সময় এই ঘটনাটি ঘটেছিল, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জানুয়ারির ওই ঘটনার পরপরই কাস্ত্রোকে টেক্সাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বর্তমানে তিনি ক্যামেরন কাউন্টির একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তবে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট তাকে মিনেসোটায় ফেরত পাঠাতে (প্রত্যর্পণ) অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এর জেরে গত সপ্তাহে মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসন টেক্সাস গভর্নরের এই পদক্ষেপকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। কাস্ত্রোকে মিনেসোটায় প্রত্যর্পণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মঙ্গলবার টেক্সাসের একটি ফেডারেল আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন ফেডারেল প্রসিকিউটররা। সরকারি ক্ষমতায় থেকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কারও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া সরকারকে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে ঘটনার পর ওই ভেনেজুয়েলান অভিবাসী ও তার এক সঙ্গীর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ফেডারেল অভিযোগ আনা হলেও পরে তা খারিজ করে দেয় মার্কিন বিচার বিভাগ। মূলত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সাথে প্রাপ্ত প্রমাণের ব্যাপক অসঙ্গতি পাওয়ায় ফেব্রুয়ারিতে ওই মামলা চিরতরে বাতিল করা হয়। গুলি করার পর কাস্ত্রোর দেওয়া মিথ্যা বিবৃতির কারণেই মূলত তার বিরুদ্ধে ফেডারেল আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। আইসিই-এর সাবেক প্রধান টড লায়ন্স জানান, ভিডিও প্রমাণে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় কাস্ত্রোসহ দুই কর্মকর্তাকে আগেই প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। ঘটনার বিষয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) এবং এফবিআই-এর দেওয়া প্রাথমিক বিবৃতিতেও ব্যাপক অমিল ছিল। ডিএইচএস দাবি করেছিল, সোসা-সেলিস গাড়ি নিয়ে পালানোর সময় ধরা পড়লে দুই ব্যক্তি ঝাড়ু ও বরফ পরিষ্কারের বেলচা নিয়ে আইসিই এজেন্টের ওপর হামলা চালায় এবং আত্মরক্ষার্থে ওই কর্মকর্তা গুলি করেন। অন্যদিকে এফবিআইয়ের দাবি ছিল, সোসা-সেলিস নয়, বরং আলজোর্না নামের অন্য এক ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে পালিয়েছিলেন এবং হামলাকারীর পরিচয় নিয়েও তাদের তথ্যে অস্পষ্টতা ছিল। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক নারীকে বলতে শোনা যায়, তার স্বামীকে আইসিই এজেন্টরা তাড়া করে বাড়ির সামনে এনে পরিবারের সামনেই গুলি করেছে। এই অসঙ্গতিগুলোর কারণেই ঘটনাটি এখন ফেডারেল পর্যায়ে গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
৮০ বছর বয়সে চিরবিদায় নিলেন কান্ট্রি মিউজিকের কিংবদন্তি গায়িকা ডলি পার্টন
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে শিশুসহ নি হত ৮, বাড়িতে আ গুন
ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনার সেরা ঠিকানা ইরভাইন, পিছিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস-সান ফ্রান্সিসকো
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক মার্কিন নৌসেনার বাবাকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, যখন তাকে আটক করা হয় তখন তার ছেলে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরীতে করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হয়ে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ফ্লোরিডার কি ওয়েস্ট এলাকায় নিয়মিত গাড়ি তল্লাশিকালে লুইস ম্যানুয়েল আভিলেস রোয়া নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করেন বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টরা। আটক লুইসের স্ত্রী আর্জেলিয়া আভিলেস জানান, পেশায় 'হ্যান্ডিম্যান' বা খুচরা মেরামতকর্মী তার স্বামী নিজের গাড়িটি মেকানিকের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। মূলত নিকারাগুয়া থেকে আসা লুইস গত ১৯ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং এখানে কাজ করার বৈধ অনুমতিপত্রও (ওয়ার্ক পারমিট) তার রয়েছে। আর্জেলিয়া আক্ষেপ করে বলেন, তার স্বামী পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে দিনরাত পরিশ্রম করেন এবং তিনি সন্তানদের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ একজন আদর্শ বাবা। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন ছেলে জশুয়া আভিলেস ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে লেখেন, যে দেশ তাকে সবকিছু দিয়েছে, সেই দেশের জন্যই তিনি গত নয় মাসের বেশি সময় ধরে সাগরে যুদ্ধ করছেন। এমন অবস্থায় দেশে তার বাবাকেই অপরাধীর মতো আটকে রাখা হয়েছে জেনে তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। জশুয়া আরও জানান, তারা বাবার গ্রিন কার্ড অনুমোদনের জন্য ইমিগ্রেশনের সব নিয়ম মেনে আবেদন করেছিলেন এবং বর্তমানে কেবল অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট এই আটকের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। তাদের দাবি, পরিবারের কোনো সদস্য মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত থাকলেও তা ইমিগ্রেশন বা অভিবাসন আইন থেকে অব্যাহতি পাওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি হতে পারে না। ফলে আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত লুইসকে আইসিই-এর ডিটেনশন সেন্টার বা আটককেন্দ্রেই থাকতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে সামরিক পরিবারের সুরক্ষার বিষয়টি সম্প্রতি মারাত্মক প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অভিবাসন সংক্রান্ত হাজার হাজার মামলায় ভরে গেছে ফেডারেল আদালত। গত এক বছরেই ফেডারেল বিচারকরা ১৬ হাজারেরও বেশিবার আইসিই-এর আটকে রাখার নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। এর আগে এক মার্কিন সেনার স্ত্রীকেও জোরপূর্বক ব্রাজিলে নির্বাসন ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যদিও পরে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। অন্যদিকে, টানা ২০০ দিনের বেশি সময় ধরে সাগরে ভাসমান ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন জাহাজের নৌসেনাদের মানসিক অবস্থা ও অমানবিক কর্মপরিবেশ নিয়েও ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মিসিসিপিতে অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীর ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল মার্কিন নাগরিকের
পেনসিলভানিয়ায় বন্ধুর বাড়ি ভেবে ভুল বাড়িতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত তরুণ