- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয়চন্দ্র দাস দাবি করেছেন, তার ছেলে মাদকাসক্ত নয় এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। তবে তদন্তে ছেলে দোষী প্রমাণিত হলে তার শাস্তি মেনে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিনয়চন্দ্র এসব কথা বলেন। নিহত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যরা ছিলেন সিদ্ধার্থদের নিকট প্রতিবেশী। বিনয়চন্দ্র বলেন, সিদ্ধার্থ নিয়মিত বাড়িতে থাকত এবং তার কথা শুনত। ছেলে কীভাবে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ল, তা তিনি বুঝতে পারেননি। পুলিশের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ শোনার পরও বিষয়টি তার কাছে বিশ্বাস করা কঠিন বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ সিদ্ধার্থকে পাশের তার কাকার বাড়ি থেকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যায়। তখন তিনি বুঝতে পারেননি কেন পুলিশ তাকে নিয়ে যাচ্ছে। পরে জানতে পারেন, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে চার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে চারজনকে হত্যার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন বিনয়চন্দ্র। তার প্রশ্ন, মাত্র দুজন যুবক কীভাবে একটি পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করতে পারে। এ ঘটনায় অন্য কোনো রহস্য বা সহযোগী রয়েছে কি না, তদন্তের মাধ্যমে তা বের করার আহ্বান জানান তিনি। ঘটনার দিন সিদ্ধার্থ বাড়িতে রাত কাটিয়েছিল কি না, জানতে চাইলে বিনয়চন্দ্র বলেন, শুক্রবারগুলোতে ছেলে বিভিন্ন জায়গায় ফুটবল বা ক্রিকেট খেলতে যেত। ওই রাতেও ভাত খাওয়ার পর পাশের এক বন্ধুর বাড়িতে থাকার কথা জানিয়েছিল সিদ্ধার্থ। এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাদের ছেলে ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত চারজন হলেন গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম। এ ঘটনায় গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পরে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার দুপুরে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশের দাবি, গণপতিদের বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনের সময় তাদের বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, অভিযুক্তরা একে একে পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করে এবং পরে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তাধীন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গ্রেপ্তার দুই যুবকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে আরও যাচাই করা হচ্ছে।
নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতার মঞ্চে কিশোরী রেবেকা শাফির যুক্তি, বুদ্ধিদীপ্ত বক্তব্য ও সাবলীল উপস্থাপনা নজর কেড়েছিল। কয়েক দশক পর সেই সময়ের একটি বিতর্কের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। ছোটবেলার সেই বিতার্কিক রেবেকাই পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে এখন মানুষের মস্তিষ্ক ও জেনেটিক্স নিয়ে গবেষণা করছেন। বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা রেবেকা নিজের পরিচিতিতে জানিয়েছেন, একই সময়ে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এসএসসি ও এইচএসসি এবং ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের ও এবং এ লেভেল সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, অর্থাৎ ক্যালটেকে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন রেবেকা। তাঁর নিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চার পয়েন্টের মধ্যে চার পয়েন্ট সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। ক্যালটেকের পর তাঁর একাডেমিক যাত্রা এগিয়ে যায় বোস্টনে। সেখানে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি করেন রেবেকা। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ব্ল্যাক হোল, বিশেষ করে ব্ল্যাক হোলের ঘূর্ণন বা স্পিন। পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের এই দীর্ঘ একাডেমিক পথ পেরিয়ে পরবর্তী সময়ে গবেষণার ক্ষেত্র বদলান তিনি। মানুষের মস্তিষ্ক ও জিনগত বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন রেবেকা। বর্তমানে তাঁর নিজের পরিচিতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথে গবেষণা ফেলো হিসেবে কাজ করছেন তিনি। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র নিউরোসায়েন্স ও মানব জেনেটিক্সের সংযোগস্থলে। মানুষের মস্তিষ্কের গঠন এবং জিনগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক রয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করছেন তিনি। রেবেকার এই পথচলায় তাই একের পর এক বদল এসেছে জ্ঞানের ক্ষেত্রেও। বাংলাদেশের স্কুল বিতর্কের মঞ্চ থেকে ক্যালটেকে পদার্থবিজ্ঞান, এরপর হার্ভার্ডে ব্ল্যাক হোল নিয়ে গবেষণা এবং এখন মানুষের মস্তিষ্ক ও জেনেটিক্স নিয়ে কাজ করছেন তিনি। তাঁর গল্পের বিশেষ দিক শুধু একাডেমিক সাফল্য নয়, বরং নতুন জ্ঞান অর্জনের প্রতি ধারাবাহিক আগ্রহ। ছোটবেলায় বিতর্কের মঞ্চে যে কিশোরী নিজের যুক্তি দিয়ে দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন, সেই রেবেকা শাফিই পরে বিজ্ঞানের ভিন্ন ভিন্ন শাখায় নিজেকে গড়ে তুলেছেন। বাংলাদেশের সেই বিতার্কিকের আন্তর্জাতিক একাডেমিক ও গবেষণার যাত্রা এখন অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞানের বিষয় বদলেছে, গবেষণার ক্ষেত্র বদলেছে, কিন্তু শেখার আগ্রহ ও নতুন কিছু জানার কৌতূহলই যেন তাঁর পথচলার সবচেয়ে বড় সঙ্গী।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় হিন্দু ও দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের জন্য দীপাবলি উদযাপনে নতুন স্বীকৃতি এসেছে। ২০ আগস্ট ২০২৬ ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলি হাউস রেজল্যুশন ১৩৭ গ্রহণ করে ২০২৬ সালের দীপাবলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ বছর দীপাবলি পালিত হবে ৮ নভেম্বর। রেজল্যুশনটি অ্যাসেম্বলিতে সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করা হয়। অ্যাসেম্বলি অধিবেশনে রেজল্যুশনটি উপস্থাপন করেন অ্যাসেম্বলিম্যান দর্শনা প্যাটেল। আলোচনায় তিনি দীপাবলিকে আলোর উৎসব হিসেবে উল্লেখ করে অন্ধকারের ওপর আলো, অশুভের ওপর শুভ এবং অজ্ঞতার ওপর জ্ঞানের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। রেজল্যুশনে হিন্দুদের পাশাপাশি শিখ, জৈন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যেও দীপাবলি পালনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যাসেম্বলিম্যান অ্যাশ কালরাও রেজল্যুশনের সমর্থনে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় দীপাবলি উদযাপন এখন দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষও এতে অংশ নিচ্ছেন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের ৮ নভেম্বরের দীপাবলি উদযাপনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে লিফোর্নিয়ায় দীপাবলিকে স্টেট হলিডে হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আইন করা হয়েছে। ২০২৫ সালে পাস হওয়া অ্যাসেম্বলি বিল ২৬৮ এর মাধ্যমে দীপাবলিকে ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত করা হয় এবং আইনটি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি নথিতেও কার্তিক মাসের ১৫তম দিনকে দীপাবলি হিসেবে রাজ্যের ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এই ছুটির ধরন সাধারণ সরকারি ছুটির মতো সব রাজ্য কর্মীর জন্য বাধ্যতামূলক বন্ধের দিন নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার মানবসম্পদ দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য রাজ্য কর্মীরা দীপাবলি পালনের জন্য নির্দিষ্ট ছুটির ক্রেডিট নেওয়ার সুযোগ পান। অন্যদিকে সরকারি স্কুল ও কমিউনিটি কলেজগুলো স্থানীয় সিদ্ধান্ত ও নিয়ম অনুযায়ী ওই দিনে বন্ধ রাখতে পারে। ২০২৬ সালের ক্যালিফোর্নিয়া শিক্ষা বিভাগের ক্যালেন্ডারেও ৮ নভেম্বরকে দীপাবলি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বছর দিনটি পড়েছে রোববার। ফলে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন মন্দির, সংগঠন, পরিবার ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানে দীপাবলি উপলক্ষে নানা আয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্টেট অ্যাসেম্বলির নতুন রেজল্যুশনের মাধ্যমে দীপাবলির সাংস্কৃতিক গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে। অধিবেশনে বক্তারা পরিবার, ঐক্য, শান্তি, জ্ঞান এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার সঙ্গে উৎসবটির সম্পর্কের কথা বলেন। অ্যাসেম্বলি রেজল্যুশনটি গ্রহণের সময় ৬৩ জন সহ-উদ্যোক্তার নামও যুক্ত করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বড় একটি সম্প্রদায় রয়েছে। ফলে দীপাবলিকে স্টেট হলিডে হিসেবে স্বীকৃতি এবং একই সঙ্গে স্টেট অ্যাসেম্বলির আনুষ্ঠানিক রেজল্যুশন হিন্দু ও অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের জন্য সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে সামনে এসেছে। এবার ৮ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ায় দীপাবলি পালনের সময় পরিবার ও কমিউনিটিগুলো শুধু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবই উদযাপন করবে না, বরং রাজ্য পর্যায়ে পাওয়া এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির বিষয়টিও বিশেষভাবে সামনে আসবে। স্টেট অ্যাসেম্বলির রেজল্যুশনেও ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের দীপাবলি উদযাপনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নারীদের জন্য বাধ্যতামূলক হিজাব আইন আবারও বড় বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা ও রাজনীতিকরা আইনটি কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবি জানালেও বহু নারী প্রকাশ্যে হিজাব না পরেই চলাফেরা করছেন। তবে আপাতত বড় ধরনের দমন অভিযান চালাতে সতর্ক রয়েছে কর্তৃপক্ষ বলে জানিয়েছে সিএনএন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলতি বছরের সংঘাতের তীব্র সময়ে সরকারি সমাবেশ ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও হিজাব ছাড়া নারীদের দেখা গেছে। তখন যুদ্ধ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় পোশাকবিধি প্রয়োগে কিছুটা শিথিলতা দেখা যায়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অবশ্য হিজাব আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবি আবারও জোরালো হয়েছে। এরই মধ্যে হিজাব আইন না মানার অভিযোগে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, ১৯ জুলাই তেহরানে অন্তত সাতটি ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সময়ে পোশাকবিধি অমান্যের অভিযোগে বেশ কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টও বন্ধ করা হয়েছে। তেহরানের প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ক্যাফে ও রেস্তোরাঁয় কথিত অশালীনতা এবং অনুমোদিত পোশাকবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হিজাববিধি লঙ্ঘন করে এমন পোশাক বিক্রির অভিযোগে কিছু দোকানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দেশটির দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশেও একই ধরনের অভিযান চলছে। প্রাদেশিক প্রসিকিউটর আহমেদ গাসেমির তথ্য অনুযায়ী, চলতি ফারসি বছরের শুরু থেকে সেখানে হিজাববিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০টি ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করা হয়েছে। একই সময়ে ২৮টি মোটরসাইকেল জব্দ এবং ৭০টি গাড়ির তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে সরকারি বার্তা সংস্থা মেহরের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ইরানে বাধ্যতামূলক হিজাবের বিরুদ্ধে নারীদের প্রকাশ্য অবস্থান নতুন নয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে পুলিশ হেফাজতে তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ‘ওম্যান, লাইফ, ফ্রিডম’ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। হিজাব-সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল। আন্দোলনটি পরে কঠোরভাবে দমন করা হলেও বহু নারী এখনও প্রকাশ্যে বাধ্যতামূলক হিজাবের নিয়ম অমান্য করে আসছেন। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২০২৪ সালে জানিয়েছিল, বাধ্যতামূলক হিজাব অমান্যকারী নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ইরানি কর্তৃপক্ষ নজরদারি, গ্রেপ্তার, আটক, জরিমানা, গাড়ি জব্দ এবং অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছিল। সংগঠনটি আরও বলেছিল, হিজাব আইন কার্যকর করতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনী সক্রিয় ছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নতুন একটি কঠোর হিজাব আইন কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে সেটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে অ্যামনেস্টির সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, নতুন আইন স্থগিত থাকলেও বিদ্যমান আইন ও বিধির মাধ্যমে কর্মক্ষেত্র, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য জনপরিসরে বাধ্যতামূলক হিজাব কার্যকর করা অব্যাহত রয়েছে। ফলে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও ইরানে নারীদের পোশাকের স্বাধীনতা নিয়ে পুরোনো সংঘাত আবারও সামনে এসেছে। একদিকে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে বহু নারী প্রকাশ্যেই সেই বিধি অমান্য করছেন। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানি কর্তৃপক্ষ কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের পরিবার শুধু চিকিৎসা বা শিক্ষাসহায়তাই নয়, যোগ্যতা অনুযায়ী নগদ অর্থ, খাবার কেনার সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা এবং আবাসন সহায়তার জন্যও আবেদন করতে পারে। তবে অটিজমের সনদ থাকলেই এসব সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। শিশুর প্রতিবন্ধিতার মাত্রা, পরিবারের আয় ও সম্পদ, শিশুর বয়স এবং বসবাসের অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। অটিজমসহ যোগ্য প্রতিবন্ধিতা থাকা শিশুদের জন্য ফেডারেল সরকারের মাসিক নগদ সহায়তা হিসেবে সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই পাওয়া যেতে পারে। ২০২৬ সালে সুবিধাপ্রাপ্তির উপযুক্ত ব্যক্তির জন্য এসএসআইয়ের সর্বোচ্চ মাসিক সুবিধা ৯৯৪ ডলার। তবে অটিজম থাকলেই এই অর্থ পাওয়া যায় না। শিশুর প্রতিবন্ধিতা সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়। ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের আয় ও সম্পদের একটি অংশও হিসাব করা হয়। ফলে প্রকৃত সুবিধা ৯৯৪ ডলারের কম হতে পারে। আবার পরিবারের আয় বেশি হলেও সরাসরি আবেদন না করে ধরে নেওয়া উচিত নয় যে শিশু অযোগ্য। সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, পরিবারভেদে হিসাব আলাদা হয় এবং নির্দিষ্ট আয়ের কিছু অংশ বাদ দেওয়ার পর শিশুর যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। পরিবারের আয় কম হলে অটিজম শিশুসহ সুবিধাপ্রাপ্তির উপযুক্ত পরিবার স্ন্যাপ বা ফুড স্ট্যাম্প সুবিধার জন্যও আবেদন করতে পারে। এটি সরাসরি নগদ টাকা নয়। ইবিটি কার্ডের মাধ্যমে অনুমোদিত খাবার কেনা যায়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আয় এবং অন্যান্য নিয়মের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যয়ের কিছু অংশ আয় হিসাব থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগও থাকতে পারে। ফলে অটিজম শিশুর পরিবার স্ন্যাপের আবেদন করার সময় শুধু বেতন নয়, পরিবারের অনুমোদিত খরচ ও প্রতিবন্ধী সদস্যের চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টিও যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসার জন্য মেডিকেইডও বড় ধরনের সহায়তা হতে পারে। মেডিকেইডে থাকা ২১ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ফেডারেল নিয়মে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। অটিজমের ক্ষেত্রে আচরণগত থেরাপি, কথা বলার থেরাপি, পেশাগত থেরাপি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার সুযোগ থাকতে পারে। তবে কোন থেরাপি কতটা এবং কী শর্তে দেওয়া হবে, তা অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। শিক্ষার ক্ষেত্রেও পরিবারের জন্য বড় ধরনের সরকারি সহায়তা রয়েছে। সুবিধাপ্রাপ্তির উপযুক্ত অটিজম শিশুরা সরকারি স্কুলে বিশেষ শিক্ষা এবং ব্যক্তিগত শিক্ষা পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারে। পরিবারের আয় এখানে প্রধান শর্ত নয়। শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী কথা বলার থেরাপি, আচরণগত সহায়তা, পেশাগত থেরাপি, সহায়ক প্রযুক্তি এবং অন্যান্য শিক্ষাসেবা যুক্ত হতে পারে। তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রাথমিক বিকাশ সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমেও বিভিন্ন থেরাপি ও পারিবারিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। পরিবারের আয় কম হওয়ায় অটিজম শিশুকে নিয়ে অ্যাপার্টমেন্টের রেন্ট দিতে সমস্যা হলে হাউজিং অ্যাসিস্ট্যান্সের জন্যও আবেদন করা যায়। কম আয়ের পরিবারগুলো হাউজিং চয়েস ভাউচার বা সেকশন ৮-এর মতো কর্মসূচির জন্য যোগ্য হতে পারে। যোগ্য হলে ভাড়ার একটি অংশ সরকার বহন করে। তবে অনেক এলাকায় এসব সুবিধার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকা রয়েছে। প্রতিবন্ধী সন্তানের প্রয়োজনের কারণে বাসস্থানে যুক্তিসংগত পরিবর্তন বা বিশেষ সুবিধার প্রয়োজন হলে ফেয়ার হাউজিং আইনের অধীনেও পরিবার কিছু অধিকার পেতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অটিজম ও উন্নয়নগত প্রতিবন্ধিতা থাকা শিশুদের জন্য পরিবার সহায়তা, অবকাশকালীন পরিচর্যা, সহায়ক প্রযুক্তি, বাড়িতে সেবা এবং বিশেষ থেরাপির কর্মসূচি রয়েছে। কিছু বিশেষ মেডিকেইড কর্মসূচিতে বাবা-মায়ের আয় সাধারণ নিয়মে বিবেচনা করা হয় না। জর্জিয়ার কেটি বেকেট মেডিকেইড এবং মিশিগানের শিশুদের বিশেষ মেডিকেইড কর্মসূচি এর উদাহরণ। তবে এসব সুবিধার ক্ষেত্রে শিশুর প্রতিবন্ধিতা, চিকিৎসাগত প্রয়োজন এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। অটিজম শিশুর পরিবারকে তাই শুধু এসএসআইয়ের জন্য আবেদন করেই থেমে গেলে চলবে না। শিশুর বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী এসএসআই, স্ন্যাপ, মেডিকেইড, বিশেষ শিক্ষা, থেরাপি, হাউজিং অ্যাসিস্ট্যান্স এবং অঙ্গরাজ্যের পরিবার সহায়তা কর্মসূচিগুলো আলাদাভাবে যাচাই করা উচিত। একই পরিবার একাধিক কর্মসূচির জন্য যোগ্য হতে পারে, আবার একটি সুবিধা না পেলেও অন্য কোনো সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিবারের আয় ভালো হলেই অটিজম শিশুর জন্য সব সরকারি সহায়তার সুযোগ শেষ হয়ে যায় না। কিছু সুবিধা পুরোপুরি আয়ভিত্তিক, কিছু শিশুর প্রতিবন্ধিতা ও চিকিৎসাগত প্রয়োজনের ওপর নির্ভরশীল, আবার কিছু ক্ষেত্রে পরিবারের আয় বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয় না। তাই পরিবারের পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক কর্মসূচিতে আবেদন করে যোগ্যতা যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ার পর নতুন দায়িত্বে ফিরছেন কারোলিন লেভিট। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে তিনি আবারও ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক তহবিল সংগ্রহকারী সংগঠন এমএজিএ ইনকের সঙ্গে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। ২১ আগস্ট এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় লেভিট তার পরবর্তী কাজের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে ১২ আগস্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, আগস্টের শেষেই হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন লেভিট। লেভিট জানান, কিছুদিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পর সেপ্টেম্বরে তিনি এমএজিএ ইনকের কাজে ফিরবেন। একই সঙ্গে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনী কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয় থাকবেন বলে জানা গেছে। ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, হোয়াইট হাউসের পদ ছাড়লেও লেভিট তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাইরের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন এবং রিপাবলিকান পার্টিতে প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে সক্রিয় থাকবেন। বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। লেভিট এর আগে এমএজিএ ইনকের সঙ্গে কাজ করেছেন। পরে তিনি ট্রাম্পের জাতীয় প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হন। ২৮ বছর বয়সী লেভিট হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি বছরের মে মাসে দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর তিনি কিছুদিন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন এবং জুলাইয়ে কাজে ফেরেন। পরিবারের সঙ্গে আরও সময় কাটানোর কারণ দেখিয়ে পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন না লেভিট। বরং নতুন ভূমিকায় থেকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রচেষ্টা ও রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
হলিউডের অ্যাকশন তারকা জ্যাকি চ্যান বড় হয়েছেন সাধারণ এক পরিবারে। অন্তত তিনি দীর্ঘদিন তাই বিশ্বাস করতেন। কিন্তু ৪০-এর কোঠায় পৌঁছে বাবার কাছ থেকে জানতে পারেন, তার পরিবারের অতীত মোটেও সাধারণ ছিল না। ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বাবা চার্লস চ্যান একদিন ছেলেকে জানান, তার নিজের জীবনে রয়েছে এক গোপন অধ্যায়। চীনের গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তিনি চিয়াং কাই-শেকের নেতৃত্বাধীন কুওমিনতাং সরকারের হয়ে গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করেছিলেন। কমিউনিস্টরা ক্ষমতায় আসার পর তিনি হংকংয়ে পালিয়ে যান। শুধু বাবার অতীতই নয়, মায়ের জীবন নিয়েও বড় ধাক্কা পান জ্যাকি। তার মা লি-লি সাংহাইয়ে আফিম পাচার ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে পারিবারিক ইতিহাসে উঠে এসেছে। প্রথম স্বামী জাপানি বোমা হামলায় নিহত হওয়ার পর তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে একাই জীবন চালিয়েছিলেন। পরে চার্লসের সঙ্গে তার পরিচয় হয় সাংহাইয়ে, যখন চার্লস তাকে আফিম পাচারের ঘটনায় আটক করেছিলেন বলে তথ্যচিত্রে বর্ণনা করা হয়েছে। আরও একটি বিস্ময় অপেক্ষা করছিল জ্যাকির জন্য। তিনি জানতে পারেন, ‘চ্যান’ তাদের প্রকৃত পারিবারিক পদবি নয়। তার বাবার আসল পদবি ছিল ফং। পারিবারিক নথি অনুযায়ী জ্যাকির চীনা নামও ফং শি-লং নামে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পারিবারিক রহস্য জানার পর জ্যাকি চ্যান বিষয়টি নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন। মেবল চিয়াং পরিচালিত ২০০৩ সালের ‘ট্রেসেস অব আ ড্রাগন: জ্যাকি চ্যান অ্যান্ড হিজ লস্ট ফ্যামিলি’তে তার বাবা-মায়ের অতীত, চীনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরিবারের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ইতিহাস তুলে ধরা হয়। তথ্যচিত্র নির্মাণের সময় আরও জানা যায়, জ্যাকির বাবা-মায়ের আগের সংসারে তার আরও দুই ভাই ও দুই বোন ছিলেন। যুদ্ধ, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং দেশত্যাগের কারণে পরিবারটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বহু বছর পর পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টাও করা হয়। জ্যাকি পরে জানিয়েছেন, বাবার মুখে এসব কথা শোনার পর তিনি ভীষণভাবে বিস্মিত হয়েছিলেন। যে বাবা-মাকে তিনি সাধারণ মানুষ হিসেবেই চিনতেন, তাদের জীবনের আড়ালে লুকিয়ে ছিল যুদ্ধ, গোয়েন্দা কার্যক্রম, পাচার, বিচ্ছেদ ও দেশত্যাগের এক জটিল ইতিহাস। জ্যাকি চ্যানের নিজের জীবনের মতোই তার পরিবারের অতীতও শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে এক অবিশ্বাস্য গল্প, যার অনেকটাই তিনি জীবনের চার দশক পার হওয়ার পর জানতে পেরেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অ্যামাজনের একটি বিশেষায়িত স্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য বই স্ক্যান করে পরে সেগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে বলে এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ৪০৪ মিডিয়ার অনুসন্ধানে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। অনুসন্ধানটি শুরু হয় বিরল ও পুরোনো বইয়ের বড় পরিমাণে অস্বাভাবিক কেনাকাটা নিয়ে সন্দেহ থেকে। ৪০৪ মিডিয়ার সাংবাদিকেরা এক স্বাধীন বই বিক্রেতার সহায়তায় প্রায় ১ হাজার বইয়ের একটি চালানের একটি বইয়ের ভেতরে অ্যাপলের এয়ারট্যাগ বসান। এরপর বইটির গতিপথ অনুসরণ করে দেখা যায়, চালানটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত লাস ভেগাসের একটি অ্যামাজন স্থাপনায় পৌঁছেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, লাস ভেগাসের ওই অ্যামাজন স্থাপনায় ভিজিটি৩ নামে একটি বিশেষায়িত কার্যক্রমে বই স্ক্যান করা হয়। সেখানে কর্মীরা বইয়ের বাঁধাই কেটে পৃষ্ঠাগুলো আলাদা করেন, এরপর সেগুলো দ্রুত স্ক্যান করে ডিজিটাল তথ্য হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। বাঁধাই কাটার ফলে মূল বইটি আর অক্ষত থাকে না। ৪০৪ মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুসরণ করা বইটি প্রথমে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিমানবন্দরে যায়। সেখান থেকে উইসকনসিনের মিলওয়াকি, পরে কেনোশার একটি বিতরণকেন্দ্র এবং এরপর ট্রাকে করে কলোরাডো হয়ে লাস ভেগাসে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত বইটি অ্যামাজনের এলএএস৮ নামের একটি বড় স্থাপনায় যায়, যার একটি অংশে ভিজিটি৩ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। অ্যামাজনের ওই কার্যক্রমে কর্মরত ব্যক্তিদের অনলাইন আলোচনার তথ্যও অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে। সেখানে কর্মীরা বইয়ের বারকোড বা আইএসবিএন স্ক্যান এবং বই কাটার কাজের কথা উল্লেখ করেছেন। আইএসবিএন হলো প্রকাশিত বই শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত একটি অনন্য নম্বর। এআই কোম্পানিগুলোর জন্য পুরোনো বই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ উপাদান হয়ে উঠেছে। কারণ এসব বইয়ের অনেক লেখা ইন্টারনেটে সহজে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ২০২২ সালের আগে প্রকাশিত বইগুলো এআই-নির্মিত লেখা থেকে মুক্ত থাকার সম্ভাবনা বেশি হওয়ায় প্রশিক্ষণ ডেটা হিসেবে এগুলোর আলাদা মূল্য রয়েছে। এর আগে লেখকদের করা একটি মামলায় অ্যানথ্রপিকের বই সংগ্রহ ও স্ক্যান করার একটি প্রকল্পের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। ওই প্রকল্পেও বইয়ের বাঁধাই কেটে দ্রুত স্ক্যান করার পদ্ধতি ব্যবহারের কথা উঠে এসেছিল। আদালতের রায়ে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বই স্ক্যান করে প্রশিক্ষণ ডেটা তৈরির বিষয়টিকে ন্যায্য ব্যবহারের আওতায় বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে বই কেটে ধ্বংস করার এই প্রক্রিয়া নিয়ে কপিরাইট, নৈতিকতা এবং মানবিক জ্ঞান সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে বিরল বইয়ের ক্ষেত্রে একটি মুদ্রিত কপি ধ্বংস হয়ে গেলে সেটি পুনরুদ্ধারের সুযোগ সীমিত হতে পারে। অ্যামাজন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গ্রাহকদের ব্যবহৃত পণ্য ও সেবা উন্নয়নে তারা বাণিজ্যিক চ্যানেলের মাধ্যমে বই কেনে। তবে ৪০৪ মিডিয়ার পক্ষ থেকে বই কাটার কারণ, এ ধরনের আরও কতটি স্থাপনা রয়েছে এবং বই ধ্বংস নিয়ে ওঠা সমালোচনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলেও অ্যামাজন সেসব প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। এ অনুসন্ধান দেখাচ্ছে, এআই মডেলকে আরও বড় ও বৈচিত্র্যময় মানব-লিখিত ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষিত করতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন শুধু অনলাইন কনটেন্টের ওপর নির্ভর করছে না। মুদ্রিত বই সংগ্রহ, ডিজিটাইজ করা এবং প্রয়োজনে মূল কপি ধ্বংস করার মতো প্রক্রিয়াও সেই প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে উঠছে।
২০২৬ সালের ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের র্যাঙ্কিংয়ে টেক্সাসের সেরা ৫০টি চার্টার স্কুলের তালিকায় জায়গা পেয়েছে হিউস্টনের ১৩টি স্কুল। রাজ্যের অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় হিউস্টনের স্কুলের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এই তালিকায় হিউস্টনের চারটি চার্টার স্কুল জাতীয় পর্যায়েও সেরা ১০০-এর মধ্যে রয়েছে। এগুলো হলো ওয়েস্টচেস্টার একাডেমি ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ, হারমনি স্কুল অব ইনোভেশন-কেটি, হারমনি স্কুল অব ডিসকভারি-হিউস্টন এবং ওয়াইইএস প্রেপ-নর্থ সেন্ট্রাল। টেক্সাসের সেরা চার্টার স্কুলগুলোর তালিকায় সবচেয়ে বেশি স্কুল রয়েছে আইডিয়া পাবলিক স্কুলসের। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ১৯টি স্কুল শীর্ষ তালিকায় জায়গা পেয়েছে। হারমনি পাবলিক স্কুলসের ১০টি এবং হিউস্টনভিত্তিক ওয়াইইএস প্রেপ পাবলিক স্কুলসের সাতটি ক্যাম্পাসও তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে, কেআইপিপি টেক্সাস থেকে শীর্ষ ৫০-এ জায়গা পেয়েছে শুধু কেআইপিপি হিউস্টন হাই স্কুল। টেক্সাসের সেরা চার্টার স্কুল হিসেবে প্রথম স্থানে রয়েছে সান আন্তোনিওর বেসিস শাভানো। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সান আন্তোনিও ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ইয়াং উইমেনস লিডারশিপ একাডেমি এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে গ্র্যান্ড প্রেইরি ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের গ্র্যান্ড প্রেইরি কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট। ইউএস নিউজের ২০২৬ সালের এই র্যাঙ্কিং তৈরিতে প্রায় ২৭ হাজার যোগ্য উচ্চবিদ্যালয়ের তথ্য মূল্যায়ন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মান নির্ধারণী পরীক্ষার ফলাফল, স্নাতক হওয়ার হার, কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি এবং অ্যাডভান্সড প্লেসমেন্ট ও ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালোরিয়েট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও ফলাফলসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশার তুলনায় কেমন ফল করছে, সেটিও মূল্যায়নের অংশ ছিল। এই র্যাঙ্কিংয়ের জন্য ব্যবহৃত তথ্য মূলত ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। ফলে পরবর্তী সময়ে নতুন তথ্য যুক্ত হলে স্কুলগুলোর অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে। হিউস্টনের ১৩টি চার্টার স্কুলের এই অবস্থান স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ওয়াইইএস প্রেপ ও হারমনি পাবলিক স্কুলসের একাধিক ক্যাম্পাস শীর্ষ তালিকায় থাকায় হিউস্টন অঞ্চলে বিকল্প সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার শক্ত অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান অভিভাবকদের জন্যও সন্তানদের উচ্চবিদ্যালয় বাছাইয়ের সময় এই তালিকা প্রাথমিকভাবে সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু র্যাঙ্কিংয়ের ওপর নির্ভর না করে স্কুলের শিক্ষার মান, অবস্থান, যাতায়াত ব্যবস্থা, ভর্তি নীতি, শিক্ষার্থীদের ফলাফল এবং কলেজে ভর্তির প্রস্তুতির সুযোগও যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
সাংহাইয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ডু ইংরং ও চিকিৎসক লু সুয়িংয়ের নিজেদের কোনো সন্তান ছিল না। তবে জীবনের শেষ সময়ে নিজেদের সঞ্চয়ের ৫০ লাখ ইউয়ান, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮০ কোটি টাকার সমপরিমাণ, দান করে জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত ৪৫৫ শিশুর চিকিৎসায় সহায়তা করেছেন এই দম্পতি। তাদের এই নীরব মানবিকতার গল্প প্রকাশ্যে আসে মৃত্যুর পর। চীনের সাংহাইয়ে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন ডু ও লু। অবসরপ্রাপ্ত এই দম্পতি একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করেছিলেন। নিজেদের জন্য খরচ কমিয়ে তারা সঞ্চয় করতেন এবং পুরোনো জিনিস মেরামত করে ব্যবহার করতেন। এমনকি কখনো কখনো প্রায় ১৭ থেকে ১৮ ইউয়ানের একটি খাবার দুজন মিলে ভাগ করে খেতেন। ২০১৮ সালের শুরুর দিকে সাংহাইয়ের একটি হৃদরোগ হাসপাতালের সামনে জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য সহায়তার আহ্বান জানানো একটি পোস্টার দেখতে পান ডু। এসব শিশুর অনেক পরিবারেরই অস্ত্রোপচারের খরচ বহনের সামর্থ্য ছিল না। পোস্টারটি দেখার পর স্ত্রী লুর সঙ্গে আলোচনা করে ডু প্রথমে ৫ লাখ ইউয়ান দান করেন। এই অর্থে ১০ শিশুর হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারে সহায়তা করা সম্ভব হয়। পরে তারা আরও ৪৫ লাখ ইউয়ান দান করেন। সব মিলিয়ে তাদের অনুদানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০ লাখ ইউয়ান। হাসপাতালের একজন কর্মী তাদের বাড়িতে গিয়ে দম্পতির জীবনযাপন দেখে নিজেদের জন্য কিছু অর্থ রেখে দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন। জবাবে ডু জানিয়েছিলেন, তাদের দুজনেরই বয়স হয়েছে, তারা পেনশন পান এবং কিছু সঞ্চয়ও রয়েছে। নিজেদের জন্য বেশি অর্থের প্রয়োজন নেই বলেই তারা মনে করতেন। ডু ২০১৮ সালে ৮১ বছর বয়সে মারা যান। তার স্ত্রী লু সুয়িং মারা যান ২০২৫ সালে, ৯২ বছর বয়সে। তাদের মৃত্যুর পরও তাদের দানের প্রভাব থেকে যায় শত শত পরিবারের জীবনে। তাদের দেওয়া অর্থে মোট ৪৫৫ শিশুর হৃদরোগের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারে সহায়তা করা হয়। দম্পতির এই মানবিক কাজ দীর্ঘদিন প্রায় অজানাই ছিল। সম্প্রতি সাংহাইয়ে তাদের স্মরণে আয়োজিত একটি দাতব্য প্রদর্শনীতে তাদের জীবনের এই অধ্যায় সামনে আসে। এরপর চীনের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তাদের গল্প। জীবনে নিজেদের জন্য খুব বেশি কিছু চাননি ডু ও লু। সীমিত খরচে জীবন কাটিয়ে তারা যে অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন, তার বড় অংশই শেষ পর্যন্ত চলে গেছে এমন শিশুদের চিকিৎসায়, যাদের অনেকের পরিবার হয়তো সেই খরচ কখনোই বহন করতে পারত না। নিজেদের সন্তান না থাকলেও ৪৫৫ শিশুর জীবনে তারা রেখে গেছেন এক অনন্য মানবিক উত্তরাধিকার।
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন বা চিকিৎসা এড়িয়ে যাচ্ছেন। ওয়েস্ট হেলথ ও গ্যালাপের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ৪৯ শতাংশ আমেরিকান নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রেসক্রিপশন ওষুধের খরচ বহন করার মতো আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে ছিলেন। এক বছরে প্রায় ২৮ লাখ মানুষ এই আর্থিক নিরাপত্তার অবস্থান থেকে ছিটকে পড়েছেন। চিকিৎসার খরচের চাপ শুধু নিম্নআয়ের বা হেলথ ইন্স্যুরেন্সবিহীন মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। কমনওয়েলথ ফান্ডের ২০২৪ সালের জরিপে দেখা গেছে, কর্মক্ষম বয়সী আমেরিকানদের ২৩ শতাংশ সারা বছর ইন্স্যুরেন্সের আওতায় থাকলেও উচ্চ ব্যক্তিগত খরচ ও বেশি ডিডাক্টিবলের কারণে তারা পর্যাপ্ত কভারেজ পাননি। এই শ্রেণির ৫৭ শতাংশ খরচের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেননি। চিকিৎসা নিতে দেরি করার প্রভাবও গুরুতর হতে পারে। জরিপে খরচের কারণে চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়া বা বাদ দেওয়া কর্মক্ষম বয়সী মানুষের ৪১ শতাংশ জানিয়েছেন, এতে তাদের স্বাস্থ্য সমস্যা আরও খারাপ হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত অনেক মানুষ ওষুধের খরচ বেশি হওয়ায় প্রয়োজনীয় ডোজ বাদ দিয়েছেন বা প্রেসক্রিপশন পূরণ করেননি। ডায়াবেটিস ও হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। চিকিৎসার ব্যয়ের সঙ্গে বাড়ছে মেডিকেল ঋণের চাপও। কমনওয়েলথ ফান্ডের জরিপ অনুযায়ী, কর্মক্ষম বয়সী মানুষের প্রায় ৩০ শতাংশ চিকিৎসা বা ডেন্টাল বিলের ঋণ কিস্তিতে পরিশোধ করছিলেন। যাদের মেডিকেল ঋণ রয়েছে, তাদের প্রায় ৪৮ শতাংশের বকেয়া ছিল ২ হাজার ডলার বা তার বেশি। এই ঋণের প্রভাব শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মেডিকেল ঋণ থাকা পরিবারের এক-তৃতীয়াংশের বেশি জানিয়েছে, ঋণের কারণে পরিবারের কেউ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা প্রেসক্রিপশন ওষুধ নেওয়া পিছিয়ে দিয়েছেন। একইভাবে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরিবার খাবার, ঘরের গরম রাখার খরচ বা ভাড়ার মতো মৌলিক ব্যয় কমাতে বাধ্য হয়েছে। অনেকেই সঞ্চয়ের অর্থ চিকিৎসা ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করেছেন। চিকিৎসার খরচের চাপ বয়স্কদেরও ছাড়ছে না। কমনওয়েলথ ফান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের ২১ শতাংশ খরচের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি করেছেন বা তা বাদ দিয়েছেন। প্রায় ১৮ শতাংশের চিকিৎসা বিল বা ঋণ পরিশোধ নিয়ে সমস্যাও রয়েছে। হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকলেও সব চিকিৎসা খরচ যে পুরোপুরি কভার হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বেশি ডিডাক্টিবল, কো-পেমেন্ট এবং ব্যক্তিগত খরচের কারণে অনেক বীমা করা মানুষও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক বাধার মুখে পড়ছেন। কমনওয়েলথ ফান্ডের জরিপে দেখা গেছে, সারা বছর ইন্স্যুরেন্স থাকা কিন্তু পর্যাপ্ত কভারেজ না থাকা ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ চিকিৎসার খরচ সামলাতে গিয়ে প্রয়োজনীয় সেবা বাদ দিয়েছেন বা পিছিয়ে দিয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার মোট ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। ওয়েস্ট হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় ৫ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে হাসপাতালের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং প্রেসক্রিপশন ওষুধের ব্যয় প্রায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় এখন শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, মানুষের চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সময়মতো না পাওয়া বা ওষুধের ডোজ বাদ দেওয়া একদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে, অন্যদিকে পরে আরও বড় চিকিৎসা ব্যয়ের কারণ হতে পারে। ওয়েস্ট হেলথ, গ্যালাপ ও কমনওয়েলথ ফান্ডের গবেষণাগুলো মিলিয়ে যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাতে চিকিৎসা ব্যয় কমানো, হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং মেডিকেল ঋণের ঝুঁকি কমানো যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। চিকিৎসা কতটা উন্নত, তার পাশাপাশি মানুষ সেই চিকিৎসা বাস্তবে কতটা বহন করতে পারছেন, সেটিও এখন স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
পারিবারিক সংকট, দীর্ঘ শিক্ষাজীবন, বারবার ব্যর্থতা আর আর্থিক অনিশ্চয়তা পেরিয়ে কুমিল্লার হোসাইন আহমেদ সোহাগ এখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে পড়াশোনা করা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া পর্যন্ত তার পথচলাটি ছিল দীর্ঘ ও কঠিন। পারিবারিক টানাপোড়েনের কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ হয়নি সোহাগের। ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। চার বছরের অনার্স শেষ করতে তার সময় লাগে সাত বছর। ফলাফলও প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে পড়তেন বলে একসময় নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় দিতেও সংকোচ বোধ করতেন তিনি। এর অন্যতম কারণ ছিল তার বড় ভাইয়ের সিলেট মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা। ২০১৩ সালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজিতে এমএস শুরু করেন সোহাগ। কিন্তু পরিবারের ক্লিনিকসংক্রান্ত সংকটের কারণে আবারও পড়াশোনা থেমে যায়। পরে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএস করেন। সেখানে ৩ দশমিক ৪২ সিজিপিএ নিয়ে ১৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম হন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণায়ও যুক্ত হন সোহাগ। তার গবেষণার ফল নিয়ে প্রকাশিত হয় নয়টি গবেষণাপত্র, যার মধ্যে দুটি এলসেভিয়ারে প্রকাশিত হয়েছে বলে তার দেওয়া তথ্যে জানা যায়। এরপর শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি। ইংরেজি ও গণিতের ভিত্তি দুর্বল থাকায় জিআরই পরীক্ষাকে শুরু থেকেই কঠিন মনে হতো তার কাছে। এমনকি প্রথমবার পরীক্ষায় বসার আগেও কয়েকবার পরিকল্পনা পিছিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত জিআরইতে ৩০৫ এবং আইইএলটিএসে ৬ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। তবে সেখানেও দ্রুত সাফল্য আসেনি। একের পর এক আবেদন, ফান্ডিং না পাওয়া, করোনা মহামারির প্রভাব এবং পরীক্ষার স্কোরের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পথ আরও দীর্ঘ হয়। ২০২১ সালে আটটি পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করেও কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পাননি তিনি। তবুও থেমে থাকেননি সোহাগ। দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রচেষ্টার পর অবশেষে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালি থেকে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজিতে ফুল ফান্ডিংসহ মাস্টার্স করার সুযোগ পান। ২০২৫ সালে সেই ডিগ্রি শেষ করার পর এখন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন তিনি। যে তরুণ একসময় পারিবারিক সংকটের কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিই নিতে পারেননি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে পড়ার কারণে নিজের পরিচয় দিতে সংকোচ বোধ করতেন, সময়ের ব্যবধানে তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছেন। সোহাগের এই যাত্রা দেখিয়েছে, শিক্ষাজীবনে শুরুটা প্রত্যাশামতো না হলেও ধারাবাহিক চেষ্টা, গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং ব্যর্থতার পরও এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা একজন শিক্ষার্থীর পথ বদলে দিতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে পবিত্র হিন্দু ধর্মীয় উৎসব ‘নিয়েপি’ বা নীরবতার দিনে নিয়ম ভেঙে সৈকতে যাওয়ার ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী এক সুইস পর্যটককে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই দিনের বিধিনিষেধ অমান্য করে ভিডিও প্রকাশ এবং ধর্মীয় রীতিকে অবমাননাকরভাবে উপস্থাপনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। দেনপাসার জেলা আদালত বৃহস্পতিবার পর্যটক লুজিয়ান আন্দ্রিন জগ্রাগেনকে ইন্দোনেশিয়ার নতুন ফৌজদারি আইনের অধীনে ধর্মীয় আচারের অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত জানায়, তিনি যে ভিলায় অবস্থান করছিলেন, সেখানকার কর্মীরা নিয়েপির বিধিনিষেধ সম্পর্কে তাকে সতর্ক করার পরও তিনি বাইরে বের হন। নিয়েপি বালির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু ধর্মীয় উৎসব। এদিন ২৪ ঘণ্টার জন্য পুরো দ্বীপ কার্যত নীরব হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকসহ সবাইকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নিজেদের বাসা বা থাকার জায়গার ভেতরে থাকার নিয়ম মানতে হয়। এ সময় রাস্তাঘাট ও সৈকত প্রায় জনশূন্য থাকে, বিমানবন্দর বন্ধ থাকে এবং ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়। জগ্রাগেন ওই বিধিনিষেধ অমান্য করে সৈকতের দিকে হাঁটার ভিডিও ধারণ করেন এবং তা ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তিনি ফাঁকা সৈকতের দৃশ্য দেখিয়ে নিয়েপির এই ঐতিহ্যকে ‘পাগলামি’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং অশালীন ভাষাও ব্যবহার করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ তাকে শনাক্ত করে লেজিয়ানের একটি ভিলা থেকে গ্রেপ্তার করে। বিচারের সময় জগ্রাগেন দাবি করেন, বালি বা স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। তিনি জানান, সেদিন ক্ষুধার্ত ও হতাশ হয়ে তিনি বাইরে বেরিয়েছিলেন এবং নিয়েপির বিধিনিষেধের ব্যাপ্তি পুরোপুরি বুঝতে পারেননি। আদালতে তিনি নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বালির মানুষের কাছে ক্ষমাও চান। তবে আদালত তার কর্মকাণ্ডকে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করে। বিচারক টজোকোর্দা পুত্র বুদি পাস্তিমা বলেন, ওই আচরণ বালির মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে, তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে কষ্ট দিয়েছে এবং জনমনে ক্ষোভ তৈরি করেছে। এর আগে নিয়েপির বিধিনিষেধ ভেঙে বাইরে বের হওয়ার ঘটনায় বিদেশি ও স্থানীয় পর্যটকদের আটক বা বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে। তবে সেসব ঘটনায় সাধারণত মামলা করে কারাদণ্ড পর্যন্ত গড়ায়নি। জগ্রাগেনের এক বছরের কারাদণ্ড তাই বালিতে ধর্মীয় রীতি ও স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি পর্যটকদের আচরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চিত্রনায়িকা তমা মির্জার ব্যাংকিং খাতে যোগদানের খবর প্রকাশ্যে আসার পর কয়েক বছর আগের পরীমণিকে ঘিরে বহুল আলোচিত গাড়ি বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সেই বিতর্কে ব্যবহৃত ‘মাসরুর’ নামটি নিয়ে এখন দাবি উঠেছে, আলোচিত ব্যক্তি সিটি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন নন। তবে নতুন এই দাবির স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি তমা মির্জা এবি ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে যোগদানের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকিং খাত ও বিনোদনজগতের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই সূত্র ধরে ২০২১ সালের পরীমণির গাড়ি বিতর্কের প্রসঙ্গও আবার সামনে আসে। ২০২১ সালে পরীমণিকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা মূল্যের একটি মাসেরাতি গাড়ি উপহার দেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে সিটি ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের নাম বিভিন্ন সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগটি শুরু থেকেই অস্বীকার করেন মাসরুর আরেফিন। তৎকালীন এক বক্তব্যে তিনি পরীমণিকে কখনো দেখেননি এবং তার সঙ্গে কোনো ধরনের পরিচয় বা যোগাযোগ নেই বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি ওই সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের নাম নিয়েও ভুলের বিষয়টি তুলে ধরেন। এর কয়েক দিন পর ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাক তাদের প্রথম পাতায় প্রকাশিত এক সংশোধনীতে আগের প্রতিবেদনে মাসরুর আরেফিনের নাম ভুলবশত ছাপা হয়েছিল বলে স্বীকার করে। সংবাদপত্রটি জানায়, ওই প্রতিবেদনে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মাসরুর আরেফিনের নাম এবং একই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে ‘শওকত রুবেল’ নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। দুটি তথ্যই ভুল ছিল বলে ইত্তেফাক স্বীকার করে এবং পরীমণির ঘটনার সঙ্গে মাসরুর আরেফিনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানায়। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবি ও কিছু সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, পরীমণির গাড়ি বিতর্কে আলোচিত ‘মাসরুর’ আসলে খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু। তিনি সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সাবেক স্বামী। তবে এই দাবির পক্ষে প্রকাশ্যে এমন কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যার ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে গাড়ি বিতর্কে আলোচিত ব্যক্তি মাসরুর হোসেন মিতুই ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বক্তব্যে পরীমণির সঙ্গে তার কথিত যোগাযোগ এবং পরবর্তী পারিবারিক ঘটনার যোগসূত্রের কথাও বলা হচ্ছে। কিন্তু এসব দাবির নির্ভরযোগ্য স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে নেই। এদিকে নতুন করে আলোচনায় আসা আরেকটি দাবি হলো, তৎকালীন ডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশীদের বক্তব্যে যে ‘মাসরুর’-এর ইঙ্গিত ছিল, সেটি খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতুকে ঘিরে ছিল। পরে নামের বিভ্রান্তির কারণে সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনের নাম সামনে আসে বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে এই বক্তব্যও বর্তমানে মূলত বিভিন্ন সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাবির ওপর নির্ভরশীল এবং এর স্বাধীন যাচাই মেলেনি। অন্যদিকে, ২০২১ সালের ঘটনাপ্রবাহে একটি বিষয় নথিভুক্তভাবে স্পষ্ট। মাসরুর আরেফিনের নাম প্রকাশের পর তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন এবং পরে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম নিজেরাই তার নাম ভুলভাবে প্রকাশের বিষয়টি স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছিল। ফলে কয়েক বছর পর পরীমণির সেই গাড়ি বিতর্ক আবার সামনে এলেও মূল প্রশ্ন এখন অভিযোগের সত্যতা নয়, বরং ‘মাসরুর’ নামটি নিয়ে তৈরি হওয়া পরিচয় বিভ্রান্তি। একদিকে রয়েছে ২০২১ সালের ভুলভাবে প্রকাশিত নাম ও তার পরবর্তী সংশোধন, অন্যদিকে রয়েছে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া দাবি। নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া এই দুই ব্যক্তিকে এক ব্যক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ব্রুস উইলিসের পরিবার তাঁর মৃত্যুর পর মস্তিষ্ক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দান করার পরিকল্পনা করেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়া বা এফটিডি নিয়ে গবেষণা এগিয়ে নিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ২০২৩ সালে উইলিসের পরিবার জানায়, তাঁর আগের অ্যাফেসিয়ার সমস্যা আরও জটিল হয়ে ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়ায় রূপ নিয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে শারীরিক অবস্থার কারণে অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়া মস্তিষ্কের সামনের ও পাশের অংশে প্রভাব ফেলে এবং এর কারণে ভাষা ও যোগাযোগের সমস্যা, আচরণ ও ব্যক্তিত্বের পরিবর্তনসহ নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে এই রোগের নিরাময় নেই এবং রোগের অগ্রগতি থামানোর নির্দিষ্ট চিকিৎসাও নেই। পরিবারের পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ভবিষ্যতে গবেষকেরা রোগটির সঙ্গে মস্তিষ্কের পরিবর্তনের সম্পর্ক আরও গভীরভাবে বোঝার সুযোগ পেতে পারেন। এর মাধ্যমে এফটিডির কারণ, রোগের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য চিকিৎসা নিয়ে গবেষণায় নতুন তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ‘ডাই হার্ড’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া উইলিসের অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর পরিবার নিয়মিতভাবে রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের পারিবারিক বিবৃতিতেও এফটিডি নিয়ে আরও গবেষণা ও জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছিল। ২০২৬ সালে তাঁর পরিবারের মস্তিষ্ক গবেষণায় দানের পরিকল্পনার খবর আবারও সামনে এসেছে। আলঝেইমার্স ফাউন্ডেশন অব আমেরিকাও সামাজিক মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রুস উইলিসের অভিনয়জীবন কয়েক প্রজন্মের দর্শকের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। তাঁর পরিবারের এই সিদ্ধান্ত তাই শুধু ব্যক্তিগত একটি উদ্যোগ নয়, বরং একটি জটিল স্নায়বিক রোগ সম্পর্কে ভবিষ্যৎ গবেষণায় অবদান রাখার একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ক্রেডিট তৈরি করছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার পরের প্রথম কয়েক মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে অতিরিক্ত ব্যালান্স রাখা, পেমেন্টে দেরি করা কিংবা অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করার মতো ভুল ক্রেডিট স্কোরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আই সি ও স্কোরের ক্ষেত্রে পেমেন্ট হিস্ট্রি সাধারণত ৩৫ শতাংশ এবং কত টাকা বকেয়া রয়েছে বা ক্রেডিটের কতটা ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবার ক্ষেত্রে একইভাবে এসব বিষয়ের প্রভাব পড়ে না। একজন ব্যক্তির পুরো ক্রেডিট প্রোফাইলের ওপর নির্ভর করে স্কোরে বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব পরিবর্তিত হতে পারে। প্রথম কয়েক মাসে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার ক্রেডিট ইউটিলাইজেশনে। অর্থাৎ আপনার মোট ক্রেডিট লিমিটের কত শতাংশ ব্যবহার করছেন। যেমন, ৫০০ ডলারের ক্রেডিট লিমিটের কার্ডে ৪০০ ডলার ব্যবহার করলে ইউটিলাইজেশন দাঁড়ায় ৮০ শতাংশ। এত বেশি ব্যবহার ক্রেডিট স্কোরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আই সি ও নির্দিষ্টভাবে ৩০ শতাংশকে বাধ্যতামূলক সীমা হিসেবে নির্ধারণ করেনি। তবে ক্রেডিট লিমিটের তুলনায় ব্যালান্স যত কম রাখা যায়, সাধারণত তত ভালো। তাই নতুন কার্ডধারীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে লিমিটের বড় অংশ ব্যবহার না করাই নিরাপদ অভ্যাস। শুধু মিনিমাম পেমেন্টের ওপর নির্ভর করাও ভালো অভ্যাস নয়। স্টেটমেন্টে নির্ধারিত মিনিমাম পেমেন্ট সময়মতো দিলে সাধারণত অ্যাকাউন্ট লেট পেমেন্ট হিসেবে রিপোর্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে। তবে বাকি ব্যালান্সের ওপর সুদ জমতে পারে। তাই সম্ভব হলে প্রতি মাসে পুরো স্টেটমেন্ট ব্যালান্স পরিশোধ করা ভালো। এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, ক্রেডিট স্কোর বাড়ানোর জন্য সুদ দিতে হয় না। বরং সময়মতো পেমেন্ট করা এবং ক্রেডিট লিমিটের তুলনায় ব্যালান্স কম রাখা ক্রেডিট গড়ার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পেমেন্টের সময় নিয়েও অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে। ডিউ ডেটের একদিন পর পেমেন্ট করলেই সাধারণত সেটি সঙ্গে সঙ্গে ক্রেডিট রিপোর্টে ৩০ দিনের লেট পেমেন্ট হিসেবে যুক্ত হয় না। তবে নির্ধারিত সময়ের পর পেমেন্ট করলে কার্ড কোম্পানি লেট ফি নিতে পারে। আর দীর্ঘ সময় বকেয়া থাকলে তা ক্রেডিট ব্যুরোতে নেতিবাচক তথ্য হিসেবে রিপোর্ট হতে পারে। সাধারণত ৩০ দিন বা তার বেশি সময় পেমেন্ট বকেয়া থাকলে তা ক্রেডিট রিপোর্টে লেট পেমেন্ট হিসেবে দেখা যেতে পারে। নেতিবাচক পেমেন্ট হিস্ট্রি সাধারণত সাত বছর পর্যন্ত রিপোর্টে থাকতে পারে। তাই নতুন কার্ডধারীদের জন্য অটো পে চালু রাখা এবং ডিউ ডেটের আগেই প্রয়োজনীয় অর্থ অ্যাকাউন্টে রাখা ভালো অভ্যাস। প্রথম কয়েক মাসে অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করাও এড়িয়ে চলা উচিত। নতুন ক্রেডিটের জন্য আবেদন করলে হার্ড ইনকোয়ারি হতে পারে। আই সি ও স্কোরে নিউ ক্রেডিটের ওজন প্রায় ১০ শতাংশ। স্বল্প সময়ে একাধিক নতুন ক্রেডিট অ্যাকাউন্ট খোলা, বিশেষ করে যাদের ক্রেডিট হিস্ট্রি এখনও ছোট, ঋণদাতার কাছে ঝুঁকির ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে প্রতিটি হার্ড ইনকোয়ারিতে সবার ক্রেডিট স্কোর নির্দিষ্ট ৫ বা ১০ পয়েন্ট কমে যাবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। এর প্রভাব ব্যক্তির ক্রেডিট প্রোফাইল এবং ব্যবহৃত স্কোরিং মডেলের ওপর নির্ভর করে। পুরনো ক্রেডিট কার্ড অপ্রয়োজনে বন্ধ করে দেওয়াও সবসময় ভালো সিদ্ধান্ত নয়। আই সি ও স্কোরে ক্রেডিট হিস্ট্রির দৈর্ঘ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এর ওজন সাধারণত প্রায় ১৫ শতাংশ। পুরনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলেই সঙ্গে সঙ্গে পুরো ক্রেডিট হিস্ট্রি মুছে যায় না। তবে দীর্ঘমেয়াদে ক্রেডিট প্রোফাইলে এর প্রভাব পড়তে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত ক্রেডিট রিপোর্ট পরীক্ষা করা। অ্যানুয়াল ক্রেডিট রিপোর্ট ডটকম এর মাধ্যমে বিনামূল্যে ক্রেডিট রিপোর্ট পাওয়া যায়। রিপোর্টে ভুল নাম, ভুল অ্যাকাউন্ট, ভুল ব্যালান্স কিংবা নিজের নয় এমন কোনো তথ্য থাকলে তা দ্রুত যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ক্রেডিট রিপোর্টিং কোম্পানির কাছে ডিসপিউট করা উচিত। ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য ভোক্তাদের নিজেরাই ডিসপিউট করার অধিকার রয়েছে। এ কাজের জন্য অবশ্যই কোনো ক্রেডিট রিপেয়ার কোম্পানিকে আসসালামু আলাইকুম টাকা দিতে হবে এমন নয়। নতুন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য মূল বিষয়গুলো তাই সহজ। সময়মতো পেমেন্ট করতে হবে, ক্রেডিট লিমিটের তুলনায় ব্যালান্স কম রাখতে হবে, অপ্রয়োজনে অল্প সময়ে একাধিক নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করা এড়িয়ে চলতে হবে এবং নিয়মিত ক্রেডিট রিপোর্ট দেখে ভুল তথ্য থাকলে তা সংশোধন করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রথম ছয় মাসেই সবার ক্রেডিট স্কোর ৬৮০ বা ৭২০-এ পৌঁছাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। নতুন ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি হতে সময় লাগে। কারও স্কোর কত দ্রুত বাড়বে, তা নির্ভর করে তার সম্পূর্ণ ক্রেডিট প্রোফাইল, অ্যাকাউন্টের ইতিহাস এবং পেমেন্টের অভ্যাসের ওপর। তাই নির্দিষ্ট কোনো স্কোরের পেছনে না ছুটে শুরু থেকেই সময়মতো পেমেন্ট, কম ব্যালান্স এবং দায়িত্বশীল ক্রেডিট ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ৭৭ বছর বয়সী জেফরি মাস প্রতারণার শিকার হয়ে অবসরের সঞ্চয় থেকে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার হারিয়েছেন। প্রতারকেরা প্রথমে পেপ্যালের পরিচয় দিয়ে তাকে ফোনে ফাঁদে ফেলে, পরে ভুল ব্যাংক লেনদেনের তথ্য দেখিয়ে সোনা কিনতে বাধ্য করে। ২০২৪ সালের ৫ জুন মাসের কাছে নরটন অ্যান্টিভাইরাসের নামে একটি ই-মেইল আসে। সেখানে ৬৯১ ডলার ৫ সেন্টের একটি পেমেন্টের কথা জানানো হয়। তিনি এমন কোনো সেবা নেননি বুঝতে পেরে ই-মেইলে দেওয়া হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেন। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে পেপ্যালের কর্মকর্তা ‘জেসন গ্রিন’ পরিচয় দিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এর মাধ্যমে প্রতারকেরা মাসের কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে প্রতারক মাসকে একটি জাল ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখিয়ে দাবি করে, ভুল করে তার অ্যাকাউন্টে ৩ লাখ ডলার জমা হয়েছে। এই অর্থ ফেরত না দিলে আইআরএসের জরিমানা হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়। এরপর আরেক প্রতারক তাকে সোনা কিনে সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার পরামর্শ দেয়। প্রতারকদের নির্দেশে মাস নিজের ব্যাংক থেকে ৩ লাখ ডলার স্থানান্তর করে নিউ জার্সির একটি মূল্যবান ধাতু বিক্রেতার কাছে। সেখানে গিয়ে সোনা কিনে তা প্রতারকদের লোকজনের হাতে তুলে দেন। পরদিন একই কৌশলে তাকে আবার জানানো হয়, তার অ্যাকাউন্টে আরও ১ লাখ ডলার জমা হয়েছে। এবার তিনি ব্যাংক থেকে আরও ৯০ হাজার ডলার তুলে সোনা কেনেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে মাস পুলিশে অভিযোগ করেন। তদন্তে সোনা সংগ্রহ করতে আসা এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে পুলিশ। জয়নেশ প্যাটেল নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ঘটনার পর মাস তার ব্যাংকের কাছে লেনদেনগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেও অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রতারণার ঘটনায় মাসের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যেরও গুরুতর প্রভাব পড়ে। প্রচণ্ড মানসিক চাপের কারণে তিনি দুবার জ্ঞান হারান এবং দুইবারই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পরে সামাজিক উদ্বেগ ও মানুষের সঙ্গে মেলামেশা এড়িয়ে চলার সমস্যাতেও ভুগেছেন বলে জানান তিনি। ঘটনাটি নিয়ে মাস ব্যাংক ও সোনা বিক্রেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযোগে ব্যাংকের কর্মীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের লেনদেনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যথেষ্ট প্রশ্ন না করার অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে ব্যাংক ও সোনা বিক্রেতার পক্ষ থেকে অভিযোগের দায় অস্বীকার করা হয়েছে। অবসরের পর স্ত্রীকে নিয়ে ইউরোপ ভ্রমণ, নাতি-নাতনিদের জন্য অর্থ রাখা এবং সন্তানদের উত্তরাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল মাস দম্পতির। প্রতারণায় সেই সঞ্চয়ের প্রায় অর্ধেক হারানোর পর এখন অন্যদের সতর্ক করতে চান ৭৭ বছর বয়সী এই ব্যক্তি।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সলভেন্সি বা আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখানোর ক্ষেত্রে সহায়তা দিতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষায়িত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এই ঋণ দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর গত ২৪ মার্চ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেসব শিক্ষার্থী ব্যাংক গ্যারান্টি বা ব্যাংক সলভেন্সির প্রয়োজনীয়তার মুখে পড়েন, তাঁদের সেই জটিলতা কমাতেই এই ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন বলে জানানো হয়েছে। ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা। তবে এই অর্থ শিক্ষার্থীদের হাতে নগদ হিসেবে তুলে দেওয়া হবে না। টিউশন ফি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পেমেন্টের ক্ষেত্রে সরাসরি সহায়তা হিসেবে অর্থ ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে অনেক শিক্ষার্থীকেই ভিসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। এ কারণে প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করা অনেক পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। নতুন এই ঋণ সুবিধা সেই আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ বা ব্যাংক গ্যারান্টি সংক্রান্ত চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রবাসী ও বিদেশগামী বাংলাদেশিদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ঋণসেবা দিয়ে থাকে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নিহতদের দাফনের জায়গাও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধে উপত্যকার ৪০টির বেশি কবরস্থান পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। ফলে অনেক পরিবারকে বাগান, তাঁবু, স্কুল, হাসপাতাল ও বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রের মতো অস্থায়ী জায়গায় স্বজনদের দাফন করতে হচ্ছে। আলজাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গাজার জেইতুন এলাকার ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-সাওহি গত ১০ জুন গুলিতে নিহত হন। তাঁর ছেলে ওমর বাবাকে দাফনের জন্য জেইতুন কবরস্থানে গেলে দেখতে পান, সেখানে নতুন কবর দেওয়ার মতো জায়গা প্রায় নেই। শেষ পর্যন্ত পরিবারের পুরোনো একটি কবরেই বাবাকে দাফন করতে হয়। যুদ্ধের কারণে শুধু কবরের জায়গার সংকটই নয়, মৃতদের পরিচয় সংরক্ষণও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কবরের ওপর পাথর, কাগজ বা ধ্বংস হওয়া ভবনের ইট-পাথর ব্যবহার করে মৃত ব্যক্তির নাম লেখা হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর তীব্র সংকটের কারণে কোথাও কাদা ও ঢেউটিন দিয়েও অস্থায়ীভাবে কবর চিহ্নিত করা হচ্ছে। গাজার ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষের হিসাবে, উপত্যকায় যুদ্ধের আগে প্রায় ৬০টি কবরস্থান ছিল। এর মধ্যে ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে। ফলে যেসব কবরস্থান এখনো ব্যবহারযোগ্য, সেগুলোতেও দ্রুত জায়গা ফুরিয়ে যাচ্ছে। কবরস্থানে প্রবেশের ওপর বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। খান ইউনিসের একটি কবরস্থানের কবরখোদক তাফেশ আবু হাতাব জানান, যুদ্ধের আগে সেখানে প্রায় ৬০টি কবর ছিল। এখন সেখানে কবরের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজারে পৌঁছেছে। যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র সময়ে তাকে দিনে প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে। হাসপাতালগুলোর প্রাঙ্গণও একপর্যায়ে অস্থায়ী দাফনস্থলে পরিণত হয়। গাজার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, হাসপাতাল এলাকায় তৈরি সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে অনেক মরদেহ দীর্ঘ সময় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং কিছু মরদেহ গণকবরেও দাফন করা হয়েছে। জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনেও গাজার হাসপাতাল এলাকায় ৫০০-এর বেশি মরদেহ গণকবরে পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ পেলেই অনেক পরিবার অস্থায়ী জায়গায় দাফন করা স্বজনদের মরদেহ তুলে স্থায়ী কবরস্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ধ্বংস হওয়া কবরস্থান, নতুন মরদেহের সংখ্যা এবং অনেক এলাকায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই কাজও সহজ হচ্ছে না। আলজাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও অন্তত ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করেছে সংবাদমাধ্যমটি। ফলে প্রতিদিনের প্রাণহানির সঙ্গে দাফনের জায়গার সংকটও আরও গভীর হচ্ছে। এভাবে গাজায় যুদ্ধের প্রভাব শুধু জীবিত মানুষের বাসস্থান ও অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ধ্বংস হচ্ছে কবরস্থানও, আর বহু পরিবার তাদের স্বজনদের শেষ ঠিকানাটুকু নিশ্চিত করতেও সংগ্রাম করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ১৭১ নম্বর কক্ষ একসময় ছিল চার তরুণের ঠিকানা। তাঁদেরই দুজন ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তখন তাঁরা পরিচিত ছিলেন না রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে। ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের তরুণ ছাত্র, একই হলের আবাসিক, একই রাজনৈতিক আবহে বেড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেই সময়ের বন্ধুত্বই কয়েক দশক পরও টিকে আছে। বর্তমানে মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি, আর ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ দেশের অন্যতম পরিচিত অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা। ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন মির্জা ফখরুল ও ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে তাঁরা সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের একই কক্ষে থাকতেন। একই ঘরে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ইতিহাসবিদ আহমেদ কামাল ও রাজনীতিবিদ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। চারজনই সে সময়ের বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সময়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ষাটের দশকের উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশে তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশ, সমাজ, বৈষম্য ও রাজনীতি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হতো। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে, একই রাজনৈতিক আবহ এবং হলজীবনের ঘনিষ্ঠতার মধ্য দিয়েই তাঁদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সেই সময়ের জীবন অবশ্য খুব শান্ত ছিল না। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এক স্মৃতিচারণে জানিয়েছেন, তৎকালীন আইয়ুবপন্থী ছাত্রসংগঠন এনএসএফের কর্মীরা তাঁদের কক্ষে অন্তত দুবার হামলা চালিয়ে ঘর তছনছ করেছিল। ওই সময় তিনি হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদকও নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষ হওয়ার পর চার বন্ধুর পথ ধীরে ধীরে আলাদা হয়ে যায়। মির্জা ফখরুল শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে পৌঁছান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। পরদিন বঙ্গভবনে শপথ নিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অন্যদিকে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বেছে নেন অর্থনীতি, গবেষণা ও শিক্ষকতার পথ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে পড়াশোনা শেষে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। উন্নয়ন, দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর দীর্ঘ গবেষণা রয়েছে। ২০২৪ সালে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। তবে পেশা ও রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য তাঁদের বন্ধুত্বে ছেদ ঘটায়নি। ২০২০ সালে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের জন্মদিনে তাঁর বাসায় মির্জা ফখরুল, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও আহমেদ কামাল একসঙ্গে আড্ডা দেন। ওই সময় ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ সময় পর চার পুরোনো বন্ধু একসঙ্গে বসেছিলেন এবং যেন কিছুক্ষণের জন্য ফিরে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই দিনগুলোতে। সাম্প্রতিক সময়েও সেই বন্ধুত্বের কথা সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছিলেন, মির্জা ফখরুল তাঁর শিক্ষাজীবনের বন্ধু ও সাবেক রুমমেট। একই সময়ে শিক্ষা ও প্রশাসনে যোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজতে তিনি বন্ধুর সঙ্গে পরামর্শও করেছিলেন বলে জানান। এখন তাঁদের পরিচয়ের পরিধি অনেক বড়। একজন দেশের রাষ্ট্রপতি, অন্যজন অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণের জগতে সুপরিচিত মুখ। কিন্তু তাঁদের দীর্ঘ জীবনের গল্পের শুরু হয়েছিল একই জায়গা থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ১৭১ নম্বর কক্ষ। সেই কক্ষের চার তরুণের জীবন পরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৌঁছেছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে। আর ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ হয়ে উঠেছেন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক। সময় তাঁদের পরিচয় বদলে দিয়েছে, দায়িত্ব বদলে দিয়েছে, পথও আলাদা করেছে। কিন্তু কয়েক দশক পরও তাঁদের গল্পের শুরুর জায়গাটি একই রয়ে গেছে।