সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের একই কক্ষের দুই বন্ধু: একজন বঙ্গভবনে, অন্যজন অর্থনীতির নীতিনির্ধারণে
সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের একই কক্ষের দুই বন্ধু: একজন বঙ্গভবনে, অন্যজন অর্থনীতির নীতিনির্ধারণে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ১৭১ নম্বর কক্ষ একসময় ছিল চার তরুণের ঠিকানা। তাঁদেরই দুজন ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তখন তাঁরা পরিচিত ছিলেন না রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে। ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের তরুণ ছাত্র, একই হলের আবাসিক, একই রাজনৈতিক আবহে বেড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেই সময়ের বন্ধুত্বই কয়েক দশক পরও টিকে আছে। বর্তমানে মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি, আর ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ দেশের অন্যতম পরিচিত অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা।   ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন মির্জা ফখরুল ও ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে তাঁরা সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের একই কক্ষে থাকতেন। একই ঘরে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ইতিহাসবিদ আহমেদ কামাল ও রাজনীতিবিদ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। চারজনই সে সময়ের বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।    সেই সময়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ষাটের দশকের উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশে তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশ, সমাজ, বৈষম্য ও রাজনীতি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হতো। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে, একই রাজনৈতিক আবহ এবং হলজীবনের ঘনিষ্ঠতার মধ্য দিয়েই তাঁদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়।   সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সেই সময়ের জীবন অবশ্য খুব শান্ত ছিল না। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এক স্মৃতিচারণে জানিয়েছেন, তৎকালীন আইয়ুবপন্থী ছাত্রসংগঠন এনএসএফের কর্মীরা তাঁদের কক্ষে অন্তত দুবার হামলা চালিয়ে ঘর তছনছ করেছিল। ওই সময় তিনি হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদকও নির্বাচিত হয়েছিলেন।    বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষ হওয়ার পর চার বন্ধুর পথ ধীরে ধীরে আলাদা হয়ে যায়। মির্জা ফখরুল শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে পৌঁছান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। পরদিন বঙ্গভবনে শপথ নিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।    অন্যদিকে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বেছে নেন অর্থনীতি, গবেষণা ও শিক্ষকতার পথ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে পড়াশোনা শেষে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। উন্নয়ন, দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর দীর্ঘ গবেষণা রয়েছে। ২০২৪ সালে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন।   তবে পেশা ও রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য তাঁদের বন্ধুত্বে ছেদ ঘটায়নি। ২০২০ সালে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের জন্মদিনে তাঁর বাসায় মির্জা ফখরুল, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও আহমেদ কামাল একসঙ্গে আড্ডা দেন। ওই সময় ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ সময় পর চার পুরোনো বন্ধু একসঙ্গে বসেছিলেন এবং যেন কিছুক্ষণের জন্য ফিরে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই দিনগুলোতে।    সাম্প্রতিক সময়েও সেই বন্ধুত্বের কথা সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছিলেন, মির্জা ফখরুল তাঁর শিক্ষাজীবনের বন্ধু ও সাবেক রুমমেট। একই সময়ে শিক্ষা ও প্রশাসনে যোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজতে তিনি বন্ধুর সঙ্গে পরামর্শও করেছিলেন বলে জানান।    এখন তাঁদের পরিচয়ের পরিধি অনেক বড়। একজন দেশের রাষ্ট্রপতি, অন্যজন অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণের জগতে সুপরিচিত মুখ। কিন্তু তাঁদের দীর্ঘ জীবনের গল্পের শুরু হয়েছিল একই জায়গা থেকে।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ১৭১ নম্বর কক্ষ।   সেই কক্ষের চার তরুণের জীবন পরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৌঁছেছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে। আর ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ হয়ে উঠেছেন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক। সময় তাঁদের পরিচয় বদলে দিয়েছে, দায়িত্ব বদলে দিয়েছে, পথও আলাদা করেছে। কিন্তু কয়েক দশক পরও তাঁদের গল্পের শুরুর জায়গাটি একই রয়ে গেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৮:২০
নিউইয়র্কে টিউশন-ফি ছাড়াই বিনামূল্যে পড়ার নতুন সুযোগ
নিউইয়র্কে টিউশন-ফি ছাড়াই বিনামূল্যে পড়ার নতুন সুযোগ

নিউইয়র্কে মাঝপথে পড়াশোনা থেমে যাওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সানি রিকানেক্ট কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কর্মসূচিতে উড়োজাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা, জরুরি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং পণ্য সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার মতো চাহিদাসম্পন্ন নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা টিউশন, ফি, বই ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের খরচ ছাড়াই পড়াশোনা করার সুযোগ পাবেন।   সানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী নিউইয়র্কবাসী, যাঁদের কোনো কলেজ ডিগ্রি নেই, তাঁরা অনুমোদিত সহযোগী ডিগ্রি কর্মসূচিতে ভর্তি হয়ে এই সুবিধা পেতে পারেন। শিক্ষার্থীরা পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীনভাবে পড়াশোনা করতে পারবেন। অন্যান্য প্রযোজ্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পর অবশিষ্ট টিউশন, ফি, বই ও শিক্ষা উপকরণের খরচ কর্মসূচির আওতায় বহন করা হবে।   ২০২৫ সালের শরতে চালু হওয়া কর্মসূচিটির প্রথম বছরেই প্রায় ৫ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হন। কর্মসূচিটির মূল লক্ষ্য হলো এমন প্রাপ্তবয়স্কদের আবার কলেজে ফেরানো, যাঁরা অর্থের অভাব, চাকরি কিংবা পারিবারিক দায়িত্বের কারণে উচ্চশিক্ষা শেষ করতে পারেননি।   প্রথম বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, নার্সিং ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শিক্ষকতা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় কর্মসূচির আওতায় ছিল। এবার এর সঙ্গে উড়োজাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা, জরুরি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং পণ্য সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার মতো আরও কয়েকটি ক্ষেত্র যুক্ত হয়েছে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে নার্সিংয়ে। ২০২৬ সালের শরৎ থেকে অন্য কোনো বিষয়ে আগে থেকেই কলেজ ডিগ্রি থাকা ব্যক্তিরাও নির্দিষ্ট নার্সিং ডিগ্রি কর্মসূচিতে ভর্তি হয়ে এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। নিউইয়র্কে নার্সিং ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মীর চাহিদা পূরণে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।   এবার কর্মসূচির পরিধিও শুধু কমিউনিটি কলেজে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নির্দিষ্ট সহযোগী ডিগ্রি কর্মসূচির জন্য চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি প্রদানকারী কিছু সানি প্রতিষ্ঠানও এতে যুক্ত হয়েছে। তবে কোন কলেজে কোন বিষয়ের কর্মসূচি রয়েছে, তা প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে।   তবে টিউশন-ফি ছাড়ের সুবিধা পেতে শিক্ষার্থীদের অন্যান্য প্রযোজ্য আর্থিক সহায়তার জন্যও আবেদন করতে হবে। নিউইয়র্কের টিউশন সহায়তা কর্মসূচির মতো আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পর অবশিষ্ট যোগ্য শিক্ষাখরচ সানি রিকানেক্টের মাধ্যমে বহন করা হয়।   নিউইয়র্কের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও সানি রিকানেক্ট সম্প্রসারণে নতুন অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কর্মসূচিটির মাধ্যমে চাহিদাসম্পন্ন পেশায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি মাঝপথে থেমে যাওয়া শিক্ষাজীবন আবার শুরু করার সুযোগ পাচ্ছেন নিউইয়র্কের আরও অনেক প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দা।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৭:৫৫
গাজায় হাসপাতালে হামলায় ৫ সাংবাদিক নিহত ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
গাজায় হাসপাতালে হামলায় ৫ সাংবাদিক নিহত, তাদের একজন মরিয়ম আবু দাগ্গা

গাজার খান ইউনিসে নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় পাঁচ সাংবাদিকসহ অন্তত ২১ জন নিহত হন। নিহত সাংবাদিকদের একজন ছিলেন ৩৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি ফটোসাংবাদিক মরিয়ম আবু দাগ্গা, যিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ইন্ডিপেনডেন্ট আরাবিয়ার হয়ে কাজ করছিলেন।   ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট নাসের হাসপাতালে পরপর দুটি হামলা হয়। প্রথম হামলার পর সাংবাদিক ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে কয়েক মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় হামলা হয়। এতে সাংবাদিক ও উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে।   নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে মরিয়ম আবু দাগ্গা ছাড়াও ছিলেন রয়টার্সের ক্যামেরাম্যান হুসাম আল-মাসরি, আলজাজিরার ক্যামেরাম্যান মোহাম্মদ সালামা এবং ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক মোয়াজ আবু তাহা ও আহমদ আবু আজিজ। হামলায় রয়টার্সের ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার হাতেম খালেদ আহত হন।   মরিয়ম গাজায় যুদ্ধের শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, আহতদের চিকিৎসা এবং শিশুদের অপুষ্টির চিত্র তুলে ধরছিলেন। হামলার কয়েক দিন আগেও নাসের হাসপাতালে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের নিয়ে তিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের জন্য প্রতিবেদন ও ছবি তৈরি করেছিলেন।   খান ইউনিসের বাসিন্দা মরিয়ম ছিলেন এক সন্তানের মা। যুদ্ধের কারণে নিরাপত্তার জন্য তার ১৩ বছর বয়সী ছেলে গাইথকে বাবার সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছিল। মরিয়ম নিজে গাজায় থেকে সাংবাদিকতা চালিয়ে যান।   তার সহকর্মীদের কাছে মরিয়ম পরিচিত ছিলেন গাজার মানুষের দুর্ভোগের ছবি তুলে ধরার জন্য। তিনি যুদ্ধের মধ্যে নাসের হাসপাতালকেই প্রায়ই সাংবাদিকতার অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতেন।   হামলার পর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স যৌথভাবে ঘটনাটির স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না এবং ঘটনায় কোনো অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি হয়ে থাকলে তারা দুঃখিত। পরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্তের কথা জানায়।   তবে ২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট প্রকাশিত দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও ইন্ডিপেনডেন্ট আরাবিয়ার যৌথ অনুসন্ধানে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ও ছবির বিশ্লেষণের ভিত্তিতে হামলাটি নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার ব্যাখ্যা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ থাকার দাবি করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নির্দিষ্ট অনুসন্ধান নিয়ে মন্তব্য না করে জানিয়েছে, তাদের পর্যালোচনা এখনো চলছে।   মরিয়মের মৃত্যু গাজায় সাংবাদিকদের জন্য তৈরি হওয়া ভয়াবহ পরিস্থিতিকেও সামনে এনেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্সের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর অঞ্চলটিতে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহতের সংখ্যা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৭:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শিক্ষাঋণ পরিশোধব্যবস্থা চালু
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ভুগছেন নতুন জটিলতায়, ভুল তথ্যে বিপাকে ঋণগ্রহীতারা

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শিক্ষাঋণ পরিশোধব্যবস্থা চালুর পর বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ত্রুটিতে বিপাকে পড়েছেন ঋণগ্রহীতারা। ভুল বকেয়া, খেলাপের নোটিশ এবং মাসিক কিস্তির পরিমাণ নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে অনেকের ব্যক্তিগত বাজেট ও ক্রেডিট স্কোরে প্রভাব পড়ছে।   ১ জুলাই নতুন পরিশোধব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এসব সমস্যা দেখা দিচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় ঋণ পরিশোধের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও ঋণ নেওয়ার সীমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।   ব্যবসা ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক ঋণগ্রহীতার অ্যাকাউন্টে ভুল তথ্য দেখানো হয়েছে। কারও নিয়মিত কিস্তি পরিশোধের পরও অ্যাকাউন্টে কয়েক মাসের বকেয়া দেখানো হয়েছে, আবার কারও কাছে ঋণ খেলাপের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।   ড্যানিয়েলা পেরেজ নামে এক ঋণগ্রহীতার অ্যাকাউন্টে ভুলভাবে ১৫টি কিস্তি বকেয়া এবং ১০ হাজার ৬৩৫ ডলার পাওনা দেখানো হয়। অথচ তার দাবি, তিনি নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে আসছিলেন। পরে তার অ্যাকাউন্টের তথ্য সংশোধন করা হয়।   আরেক ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে ভুল বকেয়া তথ্যের কারণে ক্রেডিট স্কোর ৭৫৬ থেকে প্রায় ২০০ পয়েন্ট কমে ৫৭০-এ নেমে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে কিস্তির পরিমাণ নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। কার্লি মার্শ নামে এক ঋণগ্রহীতাকে মাসে ৫০ ডলার কিস্তির তথ্য দেওয়া হলেও পরে জানানো হয়, তার প্রকৃত কিস্তি ৫২৫ ডলার। এই অর্থ পরিশোধে অক্ষম হওয়ায় তিনি ঋণ পরিশোধ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন।   গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা বিভাগ ও ঋণসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে পরিষ্কার নির্দেশনার অভাব এসব ত্রুটির অন্যতম কারণ।   এ ছাড়া এসব প্রযুক্তিগত ত্রুটির প্রভাব পড়ছে ঋণ মওকুফের হিসাবেও। শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, কোডিং ত্রুটির কারণে কিছু ঋণগ্রহীতার পাবলিক সার্ভিস লোন ফরগিভনেস কর্মসূচির আওতায় জমা হওয়া ক্রেডিটও সংশোধন করা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, তারা ঋণসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভুল শনাক্ত হলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   অর্থাৎ, নতুন শিক্ষাঋণ ব্যবস্থা চালুর পর নিয়ম পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও ভুল তথ্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ঋণগ্রহীতাই এখন কিস্তি, ক্রেডিট স্কোর ও ঋণ পরিশোধের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৭:১৭
ইয়াবা সেবন করে ধরা পরে পরিচয় গোপন রাখতে শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা
ইয়াবা সেবন করে ধরা পরে পরিচয় গোপন রাখতে শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা

রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার ভোর পর্যন্ত নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।   পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ইয়াবা সেবনের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। আটক দুজন একই এলাকার বাসিন্দা এবং নিহত পরিবারের পরিচিত বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ প্রথমে সীমান্ত নামে এক ব্যক্তির বাসায় ইয়াবা সেবন করে। সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তারা পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যায়।   সেখানে তারা আবার ইয়াবা সেবন করছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে তাদের দেখতে পান এবং সেখানে কেন এসেছে তা জানতে চান। নিজেদের পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তারা গণপতি চক্রবর্তীর গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে বলে পুলিশের দাবি।   চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।   পরে তাদের ২৫ বছর বয়সী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।   এরপর নিচতলায় থাকা ১২ বছর বয়সী আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকেও হত্যা করা হয়। পুলিশের দাবি, সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে প্রিয়মের বন্ধুত্ব ছিল। তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করত। ফলে প্রিয়ম অভিযুক্তদের চিনত এবং তাকে জীবিত রাখলে পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সিদ্ধার্থ প্রিয়মকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ দুজন মিলে শিশুটিকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করে। পরে বালিশ চাপা দেওয়া হয়।   হত্যাকাণ্ডের পরও বাড়িতে বেশ কিছু সময় অবস্থান করে অভিযুক্তরা। তারা বাথরুমে গোসল করে, ডাইনিং টেবিলে রাখা খেজুর ও শসা খায় এবং সেখানেই আবার ইয়াবা সেবন করে। কিছু সময় চেয়ারে বসে বিশ্রাম নেওয়ার পর সুযোগ বুঝে পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশ আরও জানায়, মুগ্ধ সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কাজ করে। তারা খুশি ওরফে প্রশান্ত নামে এক মাদক কারবারির কাছ থেকে প্রতি পিস ৩৫০ টাকা দরে ইয়াবা কিনেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।   হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করা হয়। পরে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পুলিশের দাবি, মন্দিরের পেছনে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে এসব স্বর্ণালংকার লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। আটক দুজনের দেখানো জায়গা থেকে সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের আলামতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব আলামত যাচাই করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আটক দুজনের সম্পৃক্ততা আরও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।   আটক দুজন বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৬:৪৬
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানে ‘অনেক সমস্যা’ স্বীকার পেজেশকিয়ানের

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধের চাপের মধ্যে ইরানের অর্থনীতি ও সমাজে ‘অনেক সমস্যা’ তৈরি হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।   রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমি বুঝতে পারছি, বর্তমানে আমাদের সমাজে অনেক সমস্যা রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে আমরা যতটা সম্ভব চেষ্টা করছি।”    তিনি জানান, ইরান বর্তমানে অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা—তিন দিক থেকেই বড় ধরনের যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনীতির সংকট নিয়ে সরকার ‘লজ্জিত’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।    পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত সপ্তাহে জানান, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করতে যাচ্ছে।    যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য শুধু ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলা নয়; মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানি সরকারের ওপর এমন চাপ তৈরি করা হবে, যাতে দেশটির শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।    তবে পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান এই চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তার দাবি, শত্রুপক্ষ ইরানের পতন চেয়েছিল, কিন্তু তা ঘটেনি। বরং দেশের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে ইরানকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।    এদিকে ইরানের সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। এপি জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান কমে যাওয়া এবং মুদ্রার দরপতনের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাও অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।    এর আগে পেজেশকিয়ান যুদ্ধ শেষ করার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শক্তি ও মর্যাদা ধরে রেখেই এখন যুদ্ধের অবসান ঘটানো ইরানের জন্য ভালো হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে।    অর্থাৎ, একদিকে ইরান সরকার আত্মসমর্পণ না করার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট নিজেই দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের কথা স্বীকার করছেন—যা নিষেধাজ্ঞার চাপ কতটা গভীর হচ্ছে, তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৬:১৩
মাধুর মেহতা ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
এইচ-১বি ভিসা পেয়েও যুক্তরাষ্ট্রে ঘর-সংসার নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত মাধুর

যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ বছর ধরে ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন  মাধুর মেহতা। বর্তমানে তিনি অ্যামাজনে প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন। ২০২৬ সালে এইচ-১বি ভিসাও পেয়েছেন। তবু যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে ঘর কেনা কিংবা পরিবার শুরু করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তিনি। কারণ, ভিসার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।    ৩৫ বছর বয়সী মেহতা ২০২১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট ডালাস থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করেন। পড়াশোনা শেষে অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে কাজের সুযোগ পেলেও দীর্ঘমেয়াদি ভিসার নিশ্চয়তা পাচ্ছিলেন না।   ২০২৫ সালে অ্যামাজনে যোগ দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি তার এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করে। নতুন লটারি ব্যবস্থায় বেতনভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়েও তখন উদ্বেগে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালে ভিসা নির্বাচিত হওয়াকে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখেন মেহতা।   তবে এইচ-১বি পাওয়ার পরও তার দুশ্চিন্তা পুরোপুরি শেষ হয়নি। চাকরি হারালে সাধারণত নতুন চাকরি খুঁজে নেওয়ার জন্য সীমিত সময় থাকে। ফলে চাকরি ও ভিসার অবস্থার ওপর তার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভরশীল।   মেহতার বাগদত্তাও ভারতের নাগরিক এবং তার এইচ-১বি লটারিতে আর মাত্র একটি সুযোগ বাকি। দুজনের ভিসার পরিস্থিতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা বা পরিবার শুরু করার মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।   এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে থাকা মেহতার পরিচিত অনেক অভিবাসীও ভিসার অনিশ্চয়তার কারণে এখনো বাড়ি কেনার বদলে ভাড়া বাসায় থাকছেন বলে তিনি জানান।   মেহতা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জন্য এখন ইবি-১এ ভিসার আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এটি পেলে ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও নিশ্চিন্তভাবে পরিকল্পনা করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।   তার অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দক্ষ বিদেশি কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার বিষয়টিও সামনে আনছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে এইচ-১বি ভিসা পাওয়া কর্মীদের বড় একটি অংশকে কয়েক বছর ধরে চাকরি, ভিসা এবং স্থায়ী বসবাস—তিনটি বিষয় একসঙ্গে সামলাতে হয়।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৫:৫৩
মেয়র জোহরান মামদানি
নিউইয়র্কে মেয়রের সরকারি মুদি দোকানে ৩০ শতাংশ কম দামে নিত্যপণ্য, পরিকল্পনা ব্যয় নিয়ে বিতর্ক

নিউইয়র্ক শহরে সরকারি উদ্যোগে পাঁচটি মুদি দোকান চালুর পরিকল্পনা করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। এসব দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ বাজারদরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ডলার।    পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি বরোতে একটি করে দোকান চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে ইস্ট হারলেমের একটি দোকানের জন্য প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয় ধরা হয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ অভিজ্ঞ মুদি ব্যবসায়ীদের বিনা ভাড়ায় জায়গা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যাতে তারা দোকান পরিচালনা করতে পারেন।    মামদানির প্রশাসনের দাবি, খাদ্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপ কমানো এবং যেসব এলাকায় তাজা ও পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা কম, সেসব এলাকার মানুষের জন্য সাশ্রয়ী খাবার নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নিউইয়র্কের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার সমস্যায় ভুগছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে উদ্যোগটি নিয়ে নিউইয়র্কের স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, সরকারি সহায়তায় পরিচালিত দোকানগুলো কম দামে পণ্য বিক্রি করলে ছোট ব্যবসাগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে আগে থেকেই কম লাভে পরিচালিত অনেক দোকান এতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে।   এ ছাড়া দোকানগুলোর কর্মীদের বেতন, পণ্যে ছাড়ের অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পটি কীভাবে আর্থিকভাবে টেকসই হবে—এসব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি দোকানে কেনাকাটার জন্য পরিচয়পত্র লাগবে—এমন দাবি ছড়ালেও নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ তা নাকচ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দোকানে কেনাকাটার জন্য কোনো পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক হবে না।   মামদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাঁচটি দোকান ২০২৯ সালের মধ্যে চালুর লক্ষ্য রয়েছে। তবে সাশ্রয়ী দামে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি স্থানীয় ছোট ব্যবসার ওপর প্রভাব এবং প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কার্যকারিতা—এই দুই বিষয়ই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার জায়গা।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৫:২
বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি
বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পাল্টাপাল্টি ট্যারিফ আরোপের পাশাপাশি একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন ও অটোয়া।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করে আলোচনাকারী দলকে দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরপরই কানাডার পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ ট্যারিফ কার্যকর হয়।   এর জবাবে কানাডাও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর রিটালিয়েটরি ট্যারিফ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। স্টিল, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সরঞ্জাম, কৃষি যন্ত্রপাতি, পাল্প ও পেপার এবং ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন খাতে এসব শুল্ক বসানো হবে।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির অভিযোগ, আলোচনা শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র শেষ মুহূর্তে ‘পাওয়ার প্লে’ করেছে। কানাডার অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক, অটো শিল্প এবং দেশটির সংস্কৃতি ও ফরাসি ভাষার সুরক্ষা নিয়ে নতুন কিছু দাবি তোলায় আলোচনা ভেঙে পড়ে বলে জানান তিনি।   কার্নির ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র বেশি চেয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে কম প্রস্তাব দিয়েছে।   তবে কানাডার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কানাডাকে স্টিল, গাড়ি ও কাঠের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ট্যারিফ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু কানাডা আগের সমঝোতার শর্ত থেকে সরে গেছে বলে অভিযোগ তার।   এদিকে কানাডার পাল্টা পদক্ষেপের জবাব দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে ওয়াশিংটন। গ্রিয়ার জানিয়েছেন, কানাডার সঙ্গে নতুন কোনো বাণিজ্য আলোচনা এখনো নির্ধারিত হয়নি।   অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কানাডার বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করেছেন। ট্রুথ সোশ্যাল -এ তিনি অভিযোগ করেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য না হয়েও অঙ্গরাজ্য হওয়ার সুবিধা নিতে চায়। একই সঙ্গে মার্কিন কৃষকদের ওপর কানাডার দীর্ঘদিনের ট্যারিফ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।   দুই দেশের পাল্টাপাল্টি শুল্ক ও হুঁশিয়ারিতে উত্তর আমেরিকার দুই ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য অংশীদারের সম্পর্ক নতুন করে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৪:৫৭
ইরানি হ্যাকারদের সাইবার হামলায় চার দিন বন্ধ ছিল যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র
ইরানি হ্যাকারদের সাইবার হামলায় চার দিন বন্ধ ছিল যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র

ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের একটি সাইবার হামলায় যুক্তরাজ্যের একটি ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র চার দিন বন্ধ ছিল বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ঘটনাটি গত মাসে ঘটলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ২২ আগস্ট। এটিকে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রথম সফল সাইবার হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।    তবে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, আক্রান্ত স্থাপনাটি ছোট হওয়ায় এই হামলায় দেশটির সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বা জাতীয় গ্রিডে কোনো প্রভাব পড়েনি। নিরাপত্তার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নামও প্রকাশ করা হয়নি।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, হ্যাকাররা সাইবার হামলার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়। কর্মীরা সিস্টেম পুনরায় চালু করতে কাজ করার পর প্রায় চার দিন পর কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।    ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার-কে বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশটির জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হামলার বিষয়ে সতর্ক করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।    ব্রিটিশ কর্মকর্তারা সরাসরি হামলার জন্য ইরান সরকারকে দায়ী করে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের এই হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে।    ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে ইরানকে যুক্তরাজ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও অনির্দেশ্য রাষ্ট্রীয় হুমকির অন্যতম উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার বিদ্যুৎ খাতের সাইবার নিরাপত্তা আরও জোরদারের পরিকল্পনা করছে। সরকারের কৌশলপত্রে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে     সফিস্টিকেটেড সাইবার অ্যাটাক প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্ত এবং হামলার পর ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-হামলাটি জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো সংকট তৈরি না করলেও, একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থাপনার কার্যক্রম চার দিন বন্ধ করে দিতে সক্ষম হওয়া যুক্তরাজ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৪:৬
গণিতের কৌশল ব্যবহার করে  লটারি জিতলেন চারবার
গণিতে পিএইচডি, গণিতের কৌশল ব্যবহার করে লটারি জিতলেন চারবার, পেলেন ২ কোটি ১০ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের লটারি ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি জোয়ান আর. গিন্থার। গণিতে পিএইচডি করা সাবেক কলেজ শিক্ষক ১৯৯৩ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে চারবার বড় অঙ্কের লটারি জিতে মোট ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার পুরস্কার পেয়েছিলেন। তার এই ধারাবাহিক জয়ের ঘটনা একসময় নিছক ভাগ্যের বিস্ময় হিসেবে আলোচিত হলেও পরে পরিসংখ্যানবিদ ও সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে উঠে আসে, এর পেছনে হিসাবনির্ভর কৌশল কাজ করে থাকতে পারে।   গিন্থারের প্রথম বড় জয় আসে ১৯৯৩ সালে। টেক্সাস লটারির লোটো টেক্সাস ড্রতে তিনি প্রায় ৫৪ লাখ ডলারের একটি অংশ পান। এরপর ২০০৬ সালে ২০ লাখ ডলারের একটি স্ক্র্যাচ-অফ পুরস্কার, ২০০৮ সালে ৩০ লাখ ডলার এবং ২০১০ সালে ১ কোটি ডলারের সর্বোচ্চ পুরস্কার জেতেন। টেক্সাস লটারির নিজস্ব রেকর্ডেও ২০০৮ সালের ৩০ লাখ ডলারের জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সেখানে তাকে তিনবার টপ-প্রাইজ বিজয়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।   ২০১০ সালে চতুর্থবার বড় পুরস্কার জেতার পর তার মোট লটারি জয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। তৎকালীন প্রতিবেদনে তার চারটি বড় জয়ের সম্ভাবনাকে অত্যন্ত বিরল হিসেবে তুলে ধরা হয়। শুধু চারটি টিকিটই যদি তিনি কিনে থাকেন, তাহলে এমন ফলের সম্ভাবনা ১৮ সেপ্টিলিয়নের মধ্যে একবারের মতো হতে পারে বলে গণিতবিদদের উদ্ধৃত করে সিবিএস নিউজ জানিয়েছিল। তবে তিনি বাস্তবে কতগুলো টিকিট কিনেছিলেন, সেটিই এই হিসাবকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়।    গিন্থারের ঘটনাটি নিয়ে পরে আরও গভীর অনুসন্ধান হয়। হার্পার্স ম্যাগাজিনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, তিনি টেক্সাসের বিশপ এলাকায় বিপুল পরিমাণ স্ক্র্যাচ-অফ টিকিট কিনতেন। স্থানীয় বিক্রেতাদের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি একসঙ্গে পুরো রোল বা বড় প্যাকেটের টিকিট কিনতেন। ২০০৫ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তার নামে ১ হাজার ডলার বা তার বেশি মূল্যের অন্তত ২৮টি স্ক্র্যাচ-অফ পুরস্কার পাওয়ার তথ্যও উঠে আসে।    এখানেই সামনে আসে গিন্থারের গণিতের জ্ঞান নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বিভিন্ন অনুসন্ধানে বলা হয়, টেক্সাস লটারি স্ক্র্যাচ-অফ গেমে কতগুলো টপ প্রাইজ এখনও বাকি আছে, সেই তথ্য প্রকাশ করত। ফলে কোনো গেমে যখন বিপুলসংখ্যক টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে, কিন্তু বড় পুরস্কারের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও অবশিষ্ট, তখন একটি টিকিটের প্রত্যাশিত মূল্য তুলনামূলকভাবে বেড়ে যেতে পারে।    পরিসংখ্যানের ভাষায়, কোনো টিকিটের সম্ভাব্য পুরস্কার ও জয়ের সম্ভাবনা হিসাব করে যদি গড় প্রত্যাশিত রিটার্ন টিকিটের দামের চেয়ে বেশি হয়, সেটিকে Positive Expected Value বা +EV পরিস্থিতি বলা যায়। অনুসন্ধানকারীদের ধারণা ছিল, গিন্থার হয়তো এ ধরনের বিরল পরিস্থিতি শনাক্ত করে বিপুলসংখ্যক টিকিট কিনতেন। তবে তিনি নিজে কখনো প্রকাশ্যে তার কৌশল ব্যাখ্যা করেননি, ফলে এটি নিশ্চিত প্রমাণ নয়।    বিপুল পরিমাণ টিকিট কেনার বিষয়টিও তার জয়ের ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিশপ ও আশপাশের এলাকায় তিনি একাধিক দোকান থেকে হাজার হাজার উচ্চমূল্যের স্ক্র্যাচ-অফ টিকিট কিনতেন। এমনকি একটি দোকান থেকে একটি নির্দিষ্ট ৫০ ডলারের গেমের ৯ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছিল বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। বেশি টিকিট কেনার ফলে অবশ্যই জয়ের সম্ভাবনা বাড়ে, যদিও এতে কোনোভাবেই বড় পুরস্কার নিশ্চিত হয় না।    তৎকালীন টেক্সাস লটারি কর্তৃপক্ষ গিন্থারের জয়ে কোনো কারচুপির সন্দেহের কথা জানায়নি। বরং বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় মূল প্রশ্ন ছিল, এত বড় ধারাবাহিক সাফল্য কি নিছক ভাগ্যের ফল, নাকি বিপুল টিকিট কেনা, প্রকাশ্য তথ্য বিশ্লেষণ এবং গাণিতিক হিসাবের সমন্বিত ফল। হার্পার্সের অনুসন্ধানেও বলা হয়েছিল, ঘটনাটির রহস্য পুরোপুরি সমাধান করা যায়নি।    গিন্থারের শিক্ষাজীবনও এই গল্পকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। তিনি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি অর্জন করেন এবং বিভিন্ন কলেজে গণিত পড়িয়েছেন। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে তাকে সাবেক কলেজ অধ্যাপক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তি লটারিতে বারবার বড় পুরস্কার জিতেছিলেন, তার পেশাগত জীবনও ছিল সংখ্যা ও পরিসংখ্যানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।    তবে গিন্থারের সাফল্যকে এমন কোনো সহজ ফর্মুলা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না, যা অনুসরণ করলেই লটারিতে নিশ্চিতভাবে লাভ করা সম্ভব। বিপুলসংখ্যক টিকিট কিনলেও বড় পুরস্কার জেতা নিশ্চিত নয় এবং প্রত্যাশিত মূল্য ইতিবাচক হলেও বাস্তব ফলাফল দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ক্ষতির হতে পারে। গিন্থারের ক্ষেত্রে ঠিক কোন কৌশল কতটা ভূমিকা রেখেছিল, তার নির্ভরযোগ্য উত্তর আজও অজানা।   তবু তার চারটি বড় জয় একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে। লটারির মতো সম্পূর্ণ ভাগ্যনির্ভর বলে বিবেচিত খেলাতেও প্রকাশ্য তথ্য, সম্ভাব্যতা ও বিপুল পরিমাণ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঝুঁকি ও সম্ভাবনার হিসাব বদলে ফেলা যায়। জোয়ান গিন্থারের ক্ষেত্রে সেই গণিত কতটা কাজ করেছিল আর কতটা ছিল ভাগ্য, সেই রহস্যই তাকে লটারি ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত বিজয়ী করে রেখেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৪:২
যুক্তরাষ্ট্রে ডাকাতির সময় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দোকান মালিককে গুলি করে হত্যা
যুক্তরাষ্ট্রে ডাকাতির সময় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দোকান মালিককে গুলি করে হত্যা, পাশে ছিল মেয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দোকানে ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ৬২ বছর বয়সী ব্যবসায়ী সুরেশ প্যাটেল। ভয়াবহ এই ঘটনার সময় তার ১৯ বছর বয়সী মেয়ে বাবার পাশেই ছিলেন এবং চোখের সামনে বাবাকে গুলিবিদ্ধ হতে দেখেন।   বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে টেনেসির জ্যাকসনের রিজক্রেস্ট সেলার্স ওয়াইন অ্যান্ড স্পিরিটস নামের দোকানে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে জ্যাকসন পুলিশ বিভাগ। গুজরাটের মেহসানা জেলার বাসিন্দা সুরেশ প্যাটেল মাত্র কয়েক দিন আগে দোকানটির মালিকানা নিয়েছিলেন।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মুখোশ পরা এক ব্যক্তি দোকানে ঢুকে কর্মীদের কাছে অস্ত্রের মুখে টাকা দাবি করে। টাকা পাওয়ার পরই সে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এতে সুরেশ প্যাটেল গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।   ঘটনার সময় দোকানে থাকা তার ১৯ বছর বয়সী মেয়েও পুরো ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনার পর তিনি প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।   দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার পরনে ছিল ধূসর রঙের হুডি, জিনস ও কালো কাজের বুট। মুখে ছিল পেইন্টবল ধরনের একটি মাস্ক। ডাকাতির পর একটি সাদা রঙের গাড়িতে করে পালিয়ে যায় সে।   পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এখনও পলাতক এবং তাকে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাকে ধরতে ব্যাপক অভিযান বা ম্যানহান্ট শুরু করেছে পুলিশ। তথ্য দিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।   সুরেশ প্যাটেলের পরিবার জানিয়েছে, প্রায় ৩০ বছর আগে উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। দীর্ঘ সময় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার পর সম্প্রতি রিজক্রেস্ট সেলার্সের মালিকানা নেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউবিবিজে জানিয়েছে, প্যাটেল সোমবার দোকানটির নতুন মালিক হন। অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের মাত্র তিন দিন আগে তিনি ব্যবসাটির দায়িত্ব নিয়েছিলেন।   ডাকাতির সময় দোকানে থাকা ৭০ বছর বয়সী এক কর্মীও আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় পড়ে গিয়ে তার কবজি ভেঙে যায় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়, বিশেষ করে গুজরাটি বংশোদ্ভূত দোকান ও ব্যবসা মালিকদের ওপর সহিংস হামলার ঘটনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত বছর টেনেসিতেই ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত হন ৩০ বছর বয়সী পেরেশ ‘প্রিন্স’ প্যাটেল।   এরপর ভার্জিনিয়ার নরফোকেও একটি দোকানের ভেতর গুলিতে নিহত হন গুজরাটি বংশোদ্ভূত মেঘনা প্যাটেল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চারোতার এলাকার বাসিন্দা কিরণ প্যাটেলও দোকানে ঢোকা এক সশস্ত্র ডাকাতকে প্রতিহত করতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন।   সুরেশ প্যাটেল হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে জ্যাকসন পুলিশ বিভাগ অথবা ক্রাইম স্টপার্সকে জানাতে হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৩:১৮
ব্রিটেনকে আবারও হুমকি পুতিনের
ব্রিটেনকে আবারও হুমকি পুতিনের, বেপরোয়া পদক্ষেপের আশঙ্কা

ইউক্রেনকে ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলার অভিযোগের পর যুক্তরাজ্যকে আবারও ‘পরিণতি’ ভোগ করার হুমকি দিয়েছে মস্কো। এ নিয়ে রাশিয়া–ব্রিটেন উত্তেজনার মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, চাপের মুখে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন।    সম্প্রতি ইউক্রেন রাশিয়ার গভীরে চালানো হামলায় ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। এর পরই লন্ডনে রুশ দূতাবাস অভিযোগ করে, যুক্তরাজ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। তাদের হুঁশিয়ারি—সংঘাতে ব্রিটেনের সম্পৃক্ততা যত বাড়বে, দেশটির জন্য ‘মূল্য’ও তত বেশি হবে।    ব্রিটিশ তৈরি ড্রোনের মাধ্যমে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র ও ড্রোনসহ সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। ইউক্রেনও রাশিয়ার সামরিক শিল্প, জ্বালানি অবকাঠামো ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে।    তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম রাশিয়ার হুমকির জবাবে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের পাশে ‘১০০ শতাংশ’ রয়েছে এবং রাশিয়ার হুমকির কারণে কিয়েভকে সমর্থন থেকে সরে আসবে না। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।    রাশিয়ার হুমকি অবশ্য নতুন নয়। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ব্রিটেনের সামরিক সহায়তার প্রতিটি বড় ধাপের পর মস্কো বিভিন্ন ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন—রাশিয়া যদি নিজেকে আরও কোণঠাসা ও মরিয়া মনে করে, তাহলে বেপরোয়া পদক্ষেপের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।    বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ব্রিটেন সরাসরি সামরিক হামলার পাশাপাশি সাইবার হামলা, নাশকতা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আঘাতের মতো হাইব্রিড হুমকির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। দেশটির বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও গ্যাস সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর একটি অংশ সমুদ্রের নিচের কেবলের ওপর নির্ভরশীল, যা নাশকতার লক্ষ্য হতে পারে।    এদিকে রাশিয়া ও ব্রিটেনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কও আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কেলিনও দায়িত্ব শেষে দেশ ছেড়েছেন এবং এখনো তার স্থলাভিষিক্ত কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।    অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, পুতিনের হুমকির অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে পশ্চিমা দেশগুলোকে ইউক্রেনের প্রতি সামরিক সহায়তা কমাতে চাপ দেওয়া। সরাসরি ব্রিটেনের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা নিয়ে মতভেদ থাকলেও, রাশিয়ার সাইবার হামলা, নাশকতা ও অন্যান্য গোপন তৎপরতার ঝুঁকি যে বাস্তব—এ বিষয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।   ফলে ইউক্রেনকে ব্রিটিশ সামরিক সহায়তা এবং রাশিয়ার পাল্টা হুমকিকে ঘিরে লন্ডন-মস্কো উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সরাসরি সংঘাতে না গিয়েও এই পরিস্থিতি ইউরোপের নিরাপত্তা ও রাশিয়া-ন্যাটো সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৩:১২
মুসলিম পরিচয় নিয়ে জেমিনির বিতর্কিত উত্তর, তীব্র সমালোচনার মুখে ইসলামবিদ্বেষী উত্তরের পরিবর্তন
মুসলিম পরিচয় নিয়ে জেমিনির বিতর্কিত উত্তর, তীব্র সমালোচনার মুখে ইসলামবিদ্বেষী উত্তরের পরিবর্তন

গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট জেমিনির একটি বিতর্কিত উত্তরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। একই ধরনের পরিস্থিতিতে মুসলিম ও ইসরায়েলি পরিচয়ের ক্ষেত্রে জেমিনির উত্তরে পার্থক্য দেখা গেছে বলে দাবি করে কয়েকজন অ্যাক্টিভিস্ট বিষয়টি সামনে আনেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পরীক্ষামূলক উত্তরের ভিত্তিতে পুরো এআই মডেলকে চূড়ান্তভাবে ইসলামবিদ্বেষী বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যথেষ্ট নয়।   বিতর্কের সূত্রপাত “I’m alone with a Muslim” অর্থাৎ “আমি একজন মুসলিমের সঙ্গে একা আছি” এই প্রম্পটকে ঘিরে। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, জেমিনির একটি উত্তরে ব্যবহারকারীকে নিরাপত্তাহীন বোধ করলে দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করা এবং প্রয়োজনে জরুরি সেবায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। এই উত্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশ্ন ওঠে, শুধু একজন মুসলিমের সঙ্গে একা থাকার পরিস্থিতিকে কেন সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে উপস্থাপন করা হলো।   এরপর একই ধরনের আরেকটি প্রম্পট, “I’m alone with an Israeli” ব্যবহার করে জেমিনির উত্তর তুলনা করা হয়। সেখানে একজন ইসরায়েলিকে অন্য সবার মতোই একজন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা, তার ব্যক্তিত্ব ও পটভূমির প্রতি সম্মান দেখানো এবং খোলা মন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয়। ফলে দুই উত্তরের ভাষা ও সতর্কতার মাত্রার পার্থক্য নিয়ে সমালোচনা আরও তীব্র হয়।   ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ইমাম ও অ্যাক্টিভিস্ট ওমর সুলেইমানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি গুগলের আগের ইসলাম-সংক্রান্ত সার্চ ফল নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন করেন, নতুন এআই সেবাতেও কি একই ধরনের পক্ষপাত দেখা যাচ্ছে। তার পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।   টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমালোচনার পর জেমিনির উত্তর পরিবর্তিত হয়। সংশোধিত উত্তরে বলা হয়, একজন মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে একা থাকা অন্য যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে একা থাকার চেয়ে আলাদা নয় এবং স্বাভাবিকভাবে পারস্পরিক সম্মান ও ব্যক্তিগত সীমারেখা মেনে চলাই যথেষ্ট।   এ ধরনের ঘটনায় এআইয়ের উত্তরের ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবহারকারীর পরীক্ষায় একই ধরনের প্রম্পটে ভিন্ন ভিন্ন উত্তর পাওয়ার দাবিও দেখা গেছে। ফলে একটি নির্দিষ্ট স্ক্রিনশট বা একবারের উত্তরের ওপর ভিত্তি করে কোনো মডেলের সামগ্রিক আচরণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।   তবে এআই মডেলে ধর্মীয় পক্ষপাতের বিষয়টি একেবারে নতুন নয়। ২০২১ সালের একটি গবেষণায় জিপিটি ৩এর উত্তরে মুসলিম পরিচয়ের সঙ্গে সহিংসতার যোগসূত্র তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গিয়েছিল। গবেষণায় শব্দযুক্ত প্রম্পটের ৬৬ শতাংশ উত্তরে সহিংসতার উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে খ্রিষ্টান ও শিখদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল প্রায় ২০ শতাংশ এবং ইহুদি, বৌদ্ধ ও নাস্তিকদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের নিচে ছিল।    পরবর্তী গবেষণাগুলো অবশ্য দেখিয়েছে, মডেলের সংস্করণ, প্রশিক্ষণপদ্ধতি এবং প্রম্পটের ধরন পরিবর্তিত হলে এ ধরনের ফলও বদলে যেতে পারে। ফলে পুরোনো গবেষণার ফল সরাসরি বর্তমান জেমিনির আচরণের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। তবে এসব গবেষণা দেখায়, প্রশিক্ষণ ডেটা ও মডেলের নকশায় থাকা সামাজিক পক্ষপাত এআইয়ের উত্তরে প্রতিফলিত হওয়ার ঝুঁকি বাস্তব।    জেমিনিকে ঘিরে পক্ষপাত ও ভুল তথ্যের অভিযোগ এর আগেও উঠেছে। ২০২৪ সালে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের ছবি তৈরিতে বিতর্কিত ও ভুল ফল দেওয়ার পর গুগল সাময়িকভাবে জেমিনির মানুষের ছবি তৈরির ফিচার বন্ধ করে দেয়। একই সময়ে গুগলের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছিল যে ফিচারটির কিছু ফলাফল প্রত্যাশিত মান পূরণ করেনি।   বর্তমান বিতর্ক তাই শুধু একটি চ্যাটবটের উত্তর নিয়ে নয়। ধর্ম, জাতিগত পরিচয় ও নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এআই কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেই বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে এসেছে। একটি ভুল বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ উত্তরকে পুরো মডেলের চূড়ান্ত বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা যেমন ঠিক নয়, তেমনি এমন ঘটনাকে গুরুত্বহীন বলেও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। এআই ব্যবহারের পরিধি যত বাড়ছে, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে সমান, নিরপেক্ষ ও যুক্তিসংগত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ২:৪৪
কৃষ্ণাঙ্গ দম্পতির ঘরে নীল চোখ ও সোনালি চুলের শিশুর জন্ম, বিস্মিত চিকিৎসকরাও
কৃষ্ণাঙ্গ দম্পতির ঘরে নীল চোখ ও সোনালি চুলের শিশুর জন্ম, বিস্মিত চিকিৎসকরাও

২০১০ সালের জুলাইয়ে দক্ষিণ লন্ডনের একটি হাসপাতালে নাইজেরীয় দম্পতি বেন ও অ্যাঞ্জেলা ইহেগবোরোর তৃতীয় সন্তান হিসেবে জন্ম নেয় কন্যাশিশু এনমাচি। দুই বড় সন্তানের গায়ের রং ও চেহারা বাবা-মায়ের মতো হলেও এনমাচির ত্বক ছিল অত্যন্ত ফর্সা, চুল সোনালি ও কোঁকড়ানো এবং চোখ নীল। জন্মের পর এমন চেহারা দেখে বাবা বেন নিজেই প্রথমে বিস্মিত হয়ে মেয়েটি তাঁর কি না, তা নিয়ে রসিকতা করেছিলেন। তবে তিনি দ্রুতই স্পষ্ট করেন, সন্তানকে নিয়ে তাঁর কোনো সন্দেহ নেই।    এনমাচির জন্ম হয় সিডকাপের কুইন মেরিজ হাসপাতালে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক মূল্যায়নে শিশুটিকে অ্যালবিনিজমে আক্রান্ত মনে হয়নি। সে সময় পরিবারটির দাবি ছিল, তাদের নাইজেরীয় বংশপরম্পরায় কোনো পরিচিত শ্বেতাঙ্গ পূর্বপুরুষের তথ্যও নেই। তবে বেনের মা অ্যামেবোর ত্বক তুলনামূলক ফর্সা এবং চোখ নীল ছিল বলে জানা যায়।    ঘটনাটি সামনে আসার পর জেনেটিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের জেনেটিসিস্ট ড. মার্ক থমাস বলেছিলেন, এমন বৈশিষ্ট্যের শিশুর জন্ম অত্যন্ত বিরল। তাঁর মতে, কোনো নতুন জেনেটিক পরিবর্তনের সঙ্গে প্রজন্মের পর প্রজন্ম সুপ্ত থাকা কোনো জিনের সমন্বয় এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।    অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব জেনেটিকস বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান সাইকসও ঘটনাটিকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে বর্ণনা করেছিলেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, ত্বক ও চুলের রং নির্ধারণে একাধিক জিন কাজ করে। বহু প্রজন্ম আগে থাকা কোনো জেনেটিক বৈশিষ্ট্য কখনো কখনো পরবর্তী প্রজন্মে নতুনভাবে প্রকাশ পেতে পারে। তবে এনমাচির ক্ষেত্রে সঠিক কারণ নির্ধারণে জেনেটিক পরীক্ষা প্রয়োজন ছিল।    এনমাচির বাবা-মা বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণার জন্য বিশেষজ্ঞদের জেনেটিক পরীক্ষা করার অনুমতি দিয়েছিলেন। বেন তখন বলেছিলেন, শিশুটির চেহারার পেছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা জানা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর কোনো ব্যাখ্যা তাদের ভালোবাসাকে বদলাবে না। তাঁর কাছে এনমাচি ছিল পরিবারেরই সন্তান এবং তার চেহারা যেমনই হোক, তারা তাকে একইভাবে ভালোবাসবেন।    এনমাচির ঘটনাটি জেনেটিক বৈশিষ্ট্য কতটা জটিলভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্মে প্রকাশ পেতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছিল। একই সময়ে ইউরোপে ভিন্ন ত্বকের রঙের যমজ সন্তান জন্মের ঘটনাও আলোচনায় এসেছিল। তবে প্রতিটি ঘটনা আলাদা এবং নির্দিষ্ট জেনেটিক কারণ ছাড়া শুধু বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ২:৩৮
এআইয়ের পরামর্শ মেনে ২৫ একর জমির ফসল নষ্ট করলেন কৃষক
এআইয়ের পরামর্শ মেনে ২৫ একর জমির ফসল নষ্ট করলেন কৃষক

চীনের আনহুই প্রদেশের চুঝৌ এলাকার ৬৭ বছর বয়সী এক কৃষক এআই অ্যাপের দেওয়া ভুল কৃষি পরামর্শ মেনে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৫০ মু বা ২৫ একর তিলের চারা হারিয়েছেন। প্রায় এক বছর ধরে কৃষিকাজে অ্যাপটির পরামর্শ অনুসরণ করে আসার পর এক ভুল কীটনাশক ও আগাছানাশকের পরামর্শেই পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যায়।    স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষকটি এক বছরের বেশি সময় ধরে সার প্রয়োগ, কীটনাশক ব্যবহারসহ বিভিন্ন কৃষিকাজে এআই অ্যাপের পরামর্শ নিতেন। শুরুতে প্রযুক্তিটির দেওয়া তথ্য নিয়ে তার সংশয় থাকলেও একের পর এক পরামর্শ কাজে লাগায় ধীরে ধীরে অ্যাপটির ওপর তার আস্থা তৈরি হয়।   ১০ জুলাই তিলের জমিতে আগাছা ও পোকামাকড় দমনের উপায় জানতে তিনি এআই অ্যাপের সাহায্য নেন। অ্যাপটি তাকে কয়েক ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করে জমিতে স্প্রে করার একটি পরিকল্পনা দেয়। সেই পরামর্শ অনুসারে তিনি পুরো ১৫০ মু জমিতে রাসায়নিক প্রয়োগ করেন।    কিন্তু রাসায়নিক ছিটানোর পরদিনই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আগাছার পাশাপাশি তিলের চারাগুলোও দ্রুত শুকিয়ে মরতে শুরু করে। কৃষকের ভাষ্য অনুযায়ী, চারাগুলো আগাছার চেয়েও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতির পরিমাণ স্থানীয় প্রতিবেদনে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ইউয়ান বলে উল্লেখ করা হয়েছে।    পরে বিষয়টির কারণ জানতে আবার এআই অ্যাপের সাহায্য নেন কৃষক। তখন অ্যাপটি জানায়, ব্যবহৃত রাসায়নিকগুলোর একটি ফ্লুসালফামেট বা ফোমেসাফেন ধরনের আগাছানাশক মূলত সয়াবিনের জমিতে চওড়া পাতার আগাছা দমনে ব্যবহৃত হয়। তিলও চওড়া পাতার ফসল হওয়ায় সেটি পুরো জমিতে প্রয়োগ করা তিলের চারার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। কৃষি কর্মকর্তারাও জানান, ওই রাসায়নিক তিলের জমিতে ব্যবহার করা উচিত নয় এবং এটি পুরো জমিতে ছিটানোর জন্যও উপযুক্ত নয়।   কৃষক জানিয়েছেন, রাসায়নিক ব্যবহারের আগে অ্যাপটি তাকে এ ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো সতর্কতা দেয়নি। তবে অ্যাপের চ্যাট ইন্টারফেসে সাধারণভাবে উল্লেখ ছিল, এআইয়ের উত্তর ভুল হতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।    ঘটনাটি কৃষিকাজের মতো উচ্চ ঝুঁকির ক্ষেত্রে এআইয়ের পরামর্শ সরাসরি অনুসরণ করার বিপদও সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই তথ্য ও পরামর্শের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু কৃষি রাসায়নিক, ওষুধ বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাস্তবে প্রয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা জরুরি।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ২:৩৩
নাতির ইসলাম গ্রহণ বদলে দিল দাদার মন
নাতির ইসলাম গ্রহণ বদলে দিল দাদার মন, মৃত্যুশয্যায় ১০৫ বছরের শিখের ইসলাম গ্রহণ

২০২০ সালে ধারণ করা একটি ভিডিওতে মৃত্যুশয্যায় থাকা এক বৃদ্ধকে শাহাদা পাঠ করতে এবং তর্জনী উঁচু করে রাখতে দেখা যায়। ভিডিওটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচারিত বর্ণনা অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি একজন শিখ এবং তার ২১ বছর বয়সী নাতি কয়েক বছর আগে ইসলাম গ্রহণের পর দাদার সঙ্গে ইসলাম নিয়ে আলোচনা করতেন।   ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে প্রচারিত গল্পে বলা হয়, নাতির ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি শুরুতে পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি করেছিল। তবে পারিবারিক দূরত্ব তৈরি হলেও নাতি তার দাদার দেখাশোনা করা এবং তার সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা অব্যাহত রাখেন।   একপর্যায়ে নাতির সঙ্গে ইসলাম নিয়ে এসব কথোপকথন বৃদ্ধের ওপর প্রভাব ফেলে বলে দাবি করা হয়। পরে মৃত্যুর আগে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং শাহাদা পাঠ করেন বলেও ভিডিওটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।   ভিডিওতে বৃদ্ধকে বিছানায় শুয়ে শাহাদা পাঠ করতে দেখা গেলেও, তার পরিচয়, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ইসলাম গ্রহণের পুরো ঘটনাটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ঘটনাটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না দেখে ভাইরাল একটি বর্ণনা হিসেবেই দেখা উচিত।   এ ঘটনায় একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টে ওই ব্যক্তিকে ‘হিন্দু শিখ’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও শব্দটি সঠিক নয়। হিন্দুধর্ম ও শিখধর্ম দুটি পৃথক ধর্ম। প্রচারিত বর্ণনায় ওই ব্যক্তিকে শিখ ধর্মাবলম্বী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   ভিডিওটি মূলত পরিবার, ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের একটি আবেগঘন গল্প হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এর সঙ্গে যুক্ত দাবিগুলো যাচাই না করে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রচার না করাই সাংবাদিকতার দিক থেকে নিরাপদ।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ২:৬
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে শক্ত অবস্থান যে ৫ স্টেটে
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে শক্ত অবস্থান যে ৫ স্টেটে

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় উপস্থিতি কয়েকটি স্টেটকে ঘিরে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশের বসবাস নিউইয়র্কে।   ১. নিউইয়র্ক বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় কেন্দ্র নিউইয়র্ক। প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার বাংলাদেশি সেখানে বসবাস করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ে বসবাসকারী মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৪ শতাংশ। নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা বাংলাদেশি ব্যবসা, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এই কমিউনিটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।   ২. মিশিগান প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি নিয়ে মিশিগানও বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় কেন্দ্র। বিশেষ করে ডেট্রয়েট মহানগর এলাকায় বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে, ডেট্রয়েট মহানগর এলাকায় প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন।   ৩. ক্যালিফোর্নিয়া প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করেন। লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো ও সান হোসেসহ বিভিন্ন মহানগর এলাকায় শিক্ষা, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও পেশাজীবী খাতে বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।   ৪. টেক্সাস প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি নিয়ে টেক্সাসও যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাংলাদেশি কমিউনিটির স্টেটগুলোর একটি। হিউস্টন, ডালাস ও অস্টিনসহ বড় শহরগুলোতে বাংলাদেশিদের ব্যবসা, পেশাজীবী কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক সংগঠনের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে।   ৫. নিউ জার্সি প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশি নিউ জার্সিতে বসবাস করেন। নিউইয়র্ক মহানগর এলাকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে স্টেটটি বাংলাদেশি পরিবার ও ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার। ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ দুই দশকের কিছু বেশি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   জনসংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমও বিভিন্ন স্টেটে ছড়িয়ে পড়ছে। নিউইয়র্ক এখনো সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হলেও মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিতেও বাংলাদেশিদের শক্তিশালী ও স্থায়ী কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।   তবে এখানে ব্যবহৃত জনসংখ্যার হিসাব শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ে নিজেদের উল্লেখ করা মানুষদের নিয়ে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এই হিসাবের মধ্যে যারা বাংলাদেশি পরিচয়ের পাশাপাশি অন্য কোনো জাতিগত বা এশীয় পরিচয়ও উল্লেখ করেছেন, তারা এই নির্দিষ্ট হিসাবের বাইরে থাকতে পারেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ২:১
পুরো ফিল্ম ক্যারিয়ারের এক বছরের চেয়েও ইউটিউব থেকে বেশি আয় ফারাহ খানের
পুরো ফিল্ম ক্যারিয়ারের এক বছরের চেয়েও ইউটিউব থেকে বেশি আয় ফারাহ খানের

বলিউডের পরিচালক ও কোরিওগ্রাফার ফারাহ খান জানিয়েছেন, ইউটিউব থেকে এক বছরে তিনি যে পরিমাণ আয় করেছেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কোনো এক বছরেও এত অর্থ উপার্জন করতে পারেননি। ২০২৪ সালে শুরু করা তাঁর রান্না ও লাইফস্টাইলভিত্তিক ভ্লগ এখন শুধু জনপ্রিয়তাই নয়, বড় আয়ের উৎসও হয়ে উঠেছে।   সোহা আলি খানের সঙ্গে এক সাম্প্রতিক আলাপচারিতায় ফারাহ তাঁর ইউটিউব যাত্রা ও আয়ের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, নতুন সিনেমার কাজ শুরু হতে সময় লাগবে বুঝতে পেরে দলের পরামর্শে ইউটিউব চ্যানেল শুরু করেন। খাবার নিয়ে কনটেন্ট তৈরির পরিকল্পনা থেকেই পরে তাঁর দীর্ঘদিনের কুক দিলীপকে ভিডিওতে যুক্ত করেন।   দিলীপকে যুক্ত করার পরই বদলে যায় চ্যানেলের চিত্র। ফারাহর সঙ্গে তাঁর স্বাভাবিক কথাবার্তা, রসিকতা ও রান্নার ভিডিও দর্শকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এমনকি দ্বিতীয় ভ্লগ প্রকাশের পরই ফারাহ ইউটিউবের সিলভার প্লে বাটন পান, যা ১ লাখ সাবস্ক্রাইবার পূর্ণ করার স্বীকৃতি।   ফারাহ জানিয়েছেন, ইউটিউবের সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো সৃজনশীল স্বাধীনতা। সিনেমা, টেলিভিশন বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মতো এখানে কোনো প্রডাকশন হাউস বা চ্যানেলকে কনটেন্টের ধরন কিংবা অতিথি বাছাই নিয়ে নির্দেশনা দিতে হয় না। নিজের চ্যানেলে নিজের পছন্দমতো কনটেন্ট তৈরি করতে পারছেন তিনি।   এই স্বাধীনতার পাশাপাশি ইউটিউব তাঁকে আর্থিকভাবেও চমকে দিয়েছে। ফারাহর ভাষ্য অনুযায়ী, ফিল্মে বহু সিনেমা পরিচালনা করেও ক্যারিয়ারের কোনো এক বছরে তিনি ইউটিউব থেকে পাওয়া এক বছরের আয়ের মতো অর্থ উপার্জন করেননি।   ফারাহর এই ডিজিটাল সাফল্যের সঙ্গে তাঁর কুক দিলীপের জীবনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ফারাহ জানিয়েছেন, ইউটিউব থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ দিয়ে তিনি দিলীপের ঋণ পরিশোধে সহায়তা করেছেন এবং তাঁর সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করছেন।   রান্নার ভিডিও, তারকাদের সঙ্গে আড্ডা এবং দিলীপের সঙ্গে মজার কথোপকথন মিলিয়ে ফারাহ খানের ইউটিউব চ্যানেল এখন তাঁর ফিল্ম ক্যারিয়ারের বাইরে আলাদা একটি পরিচয় তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি দেখিয়েছে, বিনোদন জগতের পরিচিত মুখের জন্যও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নতুন ধরনের সৃজনশীলতা ও আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১:৫১
ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আগুন, দগ্ধ ৪ যাত্রী
ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আগুন, দগ্ধ ৪ যাত্রী

আটলান্টা থেকে ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট অবতরণের সময় যাত্রীর ল্যাপটপে আগুন ধরে কেবিন ধোঁয়ায় ভরে যায়। শুক্রবারের এ ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী পুড়ে যেতে পারেন বলে পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানান। পরে বিমানটি নিরাপদে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণ করে।    ঘটনাটি ঘটে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ২৩৯৮-এ। বিমানটিতে ১৩৩ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। অবতরণের সময় পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে বিমানের পেছনের দিকে কেবিন ফায়ারের কথা জানান এবং যাত্রীদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন পুড়ে থাকতে পারেন বলে উল্লেখ করেন।    ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং জ্বলন্ত ডিভাইসটি একটি থার্মাল কনটেইনমেন্ট ব্যাগে নিরাপদে রাখেন। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, আগুনটি ল্যাপটপের ব্যাটারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।    ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবতরণের পর একজন যাত্রীকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সও জানিয়েছে, ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং জরুরি কর্মীরা বিমানটিকে গেটে পৌঁছানোর পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।    বিমানটি শুক্রবার সন্ধ্যায় আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ডালাসের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অবতরণের সময় কেবিনে ধোঁয়া দেখা দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেন ফ্লাইট ক্রুরা।    লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন বা ধোঁয়া তৈরি করতে পারে। ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, অতিরিক্ত গরম, পানির সংস্পর্শ, অতিরিক্ত চার্জ বা উৎপাদনগত ত্রুটির মতো বিভিন্ন কারণে এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে FAA সতর্ক করেছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১:১২