গাজায় জীবিতদের আশ্রয় নেই, মৃতদেরও নেই শেষ ঠিকানা, ফুরিয়ে যাচ্ছে দাফনের জায়গাও
ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নিহতদের দাফনের জায়গাও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধে উপত্যকার ৪০টির বেশি কবরস্থান পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। ফলে অনেক পরিবারকে বাগান, তাঁবু, স্কুল, হাসপাতাল ও বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রের মতো অস্থায়ী জায়গায় স্বজনদের দাফন করতে হচ্ছে। আলজাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
গাজার জেইতুন এলাকার ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-সাওহি গত ১০ জুন গুলিতে নিহত হন। তাঁর ছেলে ওমর বাবাকে দাফনের জন্য জেইতুন কবরস্থানে গেলে দেখতে পান, সেখানে নতুন কবর দেওয়ার মতো জায়গা প্রায় নেই। শেষ পর্যন্ত পরিবারের পুরোনো একটি কবরেই বাবাকে দাফন করতে হয়।
যুদ্ধের কারণে শুধু কবরের জায়গার সংকটই নয়, মৃতদের পরিচয় সংরক্ষণও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কবরের ওপর পাথর, কাগজ বা ধ্বংস হওয়া ভবনের ইট-পাথর ব্যবহার করে মৃত ব্যক্তির নাম লেখা হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর তীব্র সংকটের কারণে কোথাও কাদা ও ঢেউটিন দিয়েও অস্থায়ীভাবে কবর চিহ্নিত করা হচ্ছে।
গাজার ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষের হিসাবে, উপত্যকায় যুদ্ধের আগে প্রায় ৬০টি কবরস্থান ছিল। এর মধ্যে ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে। ফলে যেসব কবরস্থান এখনো ব্যবহারযোগ্য, সেগুলোতেও দ্রুত জায়গা ফুরিয়ে যাচ্ছে। কবরস্থানে প্রবেশের ওপর বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
খান ইউনিসের একটি কবরস্থানের কবরখোদক তাফেশ আবু হাতাব জানান, যুদ্ধের আগে সেখানে প্রায় ৬০টি কবর ছিল। এখন সেখানে কবরের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজারে পৌঁছেছে। যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র সময়ে তাকে দিনে প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে।
হাসপাতালগুলোর প্রাঙ্গণও একপর্যায়ে অস্থায়ী দাফনস্থলে পরিণত হয়। গাজার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, হাসপাতাল এলাকায় তৈরি সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে অনেক মরদেহ দীর্ঘ সময় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং কিছু মরদেহ গণকবরেও দাফন করা হয়েছে। জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনেও গাজার হাসপাতাল এলাকায় ৫০০-এর বেশি মরদেহ গণকবরে পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ পেলেই অনেক পরিবার অস্থায়ী জায়গায় দাফন করা স্বজনদের মরদেহ তুলে স্থায়ী কবরস্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ধ্বংস হওয়া কবরস্থান, নতুন মরদেহের সংখ্যা এবং অনেক এলাকায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই কাজও সহজ হচ্ছে না।
আলজাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও অন্তত ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করেছে সংবাদমাধ্যমটি। ফলে প্রতিদিনের প্রাণহানির সঙ্গে দাফনের জায়গার সংকটও আরও গভীর হচ্ছে।
এভাবে গাজায় যুদ্ধের প্রভাব শুধু জীবিত মানুষের বাসস্থান ও অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ধ্বংস হচ্ছে কবরস্থানও, আর বহু পরিবার তাদের স্বজনদের শেষ ঠিকানাটুকু নিশ্চিত করতেও সংগ্রাম করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নিহতদের দাফনের জায়গাও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধে উপত্যকার ৪০টির বেশি কবরস্থান পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। ফলে অনেক পরিবারকে বাগান, তাঁবু, স্কুল, হাসপাতাল ও বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রের মতো অস্থায়ী জায়গায় স্বজনদের দাফন করতে হচ্ছে। আলজাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গাজার জেইতুন এলাকার ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-সাওহি গত ১০ জুন গুলিতে নিহত হন। তাঁর ছেলে ওমর বাবাকে দাফনের জন্য জেইতুন কবরস্থানে গেলে দেখতে পান, সেখানে নতুন কবর দেওয়ার মতো জায়গা প্রায় নেই। শেষ পর্যন্ত পরিবারের পুরোনো একটি কবরেই বাবাকে দাফন করতে হয়। যুদ্ধের কারণে শুধু কবরের জায়গার সংকটই নয়, মৃতদের পরিচয় সংরক্ষণও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কবরের ওপর পাথর, কাগজ বা ধ্বংস হওয়া ভবনের ইট-পাথর ব্যবহার করে মৃত ব্যক্তির নাম লেখা হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর তীব্র সংকটের কারণে কোথাও কাদা ও ঢেউটিন দিয়েও অস্থায়ীভাবে কবর চিহ্নিত করা হচ্ছে। গাজার ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষের হিসাবে, উপত্যকায় যুদ্ধের আগে প্রায় ৬০টি কবরস্থান ছিল। এর মধ্যে ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে। ফলে যেসব কবরস্থান এখনো ব্যবহারযোগ্য, সেগুলোতেও দ্রুত জায়গা ফুরিয়ে যাচ্ছে। কবরস্থানে প্রবেশের ওপর বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। খান ইউনিসের একটি কবরস্থানের কবরখোদক তাফেশ আবু হাতাব জানান, যুদ্ধের আগে সেখানে প্রায় ৬০টি কবর ছিল। এখন সেখানে কবরের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজারে পৌঁছেছে। যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র সময়ে তাকে দিনে প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে। হাসপাতালগুলোর প্রাঙ্গণও একপর্যায়ে অস্থায়ী দাফনস্থলে পরিণত হয়। গাজার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, হাসপাতাল এলাকায় তৈরি সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে অনেক মরদেহ দীর্ঘ সময় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং কিছু মরদেহ গণকবরেও দাফন করা হয়েছে। জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনেও গাজার হাসপাতাল এলাকায় ৫০০-এর বেশি মরদেহ গণকবরে পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ পেলেই অনেক পরিবার অস্থায়ী জায়গায় দাফন করা স্বজনদের মরদেহ তুলে স্থায়ী কবরস্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ধ্বংস হওয়া কবরস্থান, নতুন মরদেহের সংখ্যা এবং অনেক এলাকায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই কাজও সহজ হচ্ছে না। আলজাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও অন্তত ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করেছে সংবাদমাধ্যমটি। ফলে প্রতিদিনের প্রাণহানির সঙ্গে দাফনের জায়গার সংকটও আরও গভীর হচ্ছে। এভাবে গাজায় যুদ্ধের প্রভাব শুধু জীবিত মানুষের বাসস্থান ও অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ধ্বংস হচ্ছে কবরস্থানও, আর বহু পরিবার তাদের স্বজনদের শেষ ঠিকানাটুকু নিশ্চিত করতেও সংগ্রাম করছে।
গাজায় হাসপাতালে হামলায় ৫ সাংবাদিক নিহত, তাদের একজন মরিয়ম আবু দাগ্গা
ইরানি হ্যাকারদের সাইবার হামলায় চার দিন বন্ধ ছিল যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র
ব্রিটেনকে আবারও হুমকি পুতিনের, বেপরোয়া পদক্ষেপের আশঙ্কা
গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট জেমিনির একটি বিতর্কিত উত্তরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। একই ধরনের পরিস্থিতিতে মুসলিম ও ইসরায়েলি পরিচয়ের ক্ষেত্রে জেমিনির উত্তরে পার্থক্য দেখা গেছে বলে দাবি করে কয়েকজন অ্যাক্টিভিস্ট বিষয়টি সামনে আনেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পরীক্ষামূলক উত্তরের ভিত্তিতে পুরো এআই মডেলকে চূড়ান্তভাবে ইসলামবিদ্বেষী বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যথেষ্ট নয়। বিতর্কের সূত্রপাত “I’m alone with a Muslim” অর্থাৎ “আমি একজন মুসলিমের সঙ্গে একা আছি” এই প্রম্পটকে ঘিরে। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, জেমিনির একটি উত্তরে ব্যবহারকারীকে নিরাপত্তাহীন বোধ করলে দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করা এবং প্রয়োজনে জরুরি সেবায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। এই উত্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশ্ন ওঠে, শুধু একজন মুসলিমের সঙ্গে একা থাকার পরিস্থিতিকে কেন সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে উপস্থাপন করা হলো। এরপর একই ধরনের আরেকটি প্রম্পট, “I’m alone with an Israeli” ব্যবহার করে জেমিনির উত্তর তুলনা করা হয়। সেখানে একজন ইসরায়েলিকে অন্য সবার মতোই একজন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা, তার ব্যক্তিত্ব ও পটভূমির প্রতি সম্মান দেখানো এবং খোলা মন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয়। ফলে দুই উত্তরের ভাষা ও সতর্কতার মাত্রার পার্থক্য নিয়ে সমালোচনা আরও তীব্র হয়। ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ইমাম ও অ্যাক্টিভিস্ট ওমর সুলেইমানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি গুগলের আগের ইসলাম-সংক্রান্ত সার্চ ফল নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন করেন, নতুন এআই সেবাতেও কি একই ধরনের পক্ষপাত দেখা যাচ্ছে। তার পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমালোচনার পর জেমিনির উত্তর পরিবর্তিত হয়। সংশোধিত উত্তরে বলা হয়, একজন মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে একা থাকা অন্য যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে একা থাকার চেয়ে আলাদা নয় এবং স্বাভাবিকভাবে পারস্পরিক সম্মান ও ব্যক্তিগত সীমারেখা মেনে চলাই যথেষ্ট। এ ধরনের ঘটনায় এআইয়ের উত্তরের ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবহারকারীর পরীক্ষায় একই ধরনের প্রম্পটে ভিন্ন ভিন্ন উত্তর পাওয়ার দাবিও দেখা গেছে। ফলে একটি নির্দিষ্ট স্ক্রিনশট বা একবারের উত্তরের ওপর ভিত্তি করে কোনো মডেলের সামগ্রিক আচরণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। তবে এআই মডেলে ধর্মীয় পক্ষপাতের বিষয়টি একেবারে নতুন নয়। ২০২১ সালের একটি গবেষণায় জিপিটি ৩এর উত্তরে মুসলিম পরিচয়ের সঙ্গে সহিংসতার যোগসূত্র তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গিয়েছিল। গবেষণায় শব্দযুক্ত প্রম্পটের ৬৬ শতাংশ উত্তরে সহিংসতার উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে খ্রিষ্টান ও শিখদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল প্রায় ২০ শতাংশ এবং ইহুদি, বৌদ্ধ ও নাস্তিকদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের নিচে ছিল। পরবর্তী গবেষণাগুলো অবশ্য দেখিয়েছে, মডেলের সংস্করণ, প্রশিক্ষণপদ্ধতি এবং প্রম্পটের ধরন পরিবর্তিত হলে এ ধরনের ফলও বদলে যেতে পারে। ফলে পুরোনো গবেষণার ফল সরাসরি বর্তমান জেমিনির আচরণের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। তবে এসব গবেষণা দেখায়, প্রশিক্ষণ ডেটা ও মডেলের নকশায় থাকা সামাজিক পক্ষপাত এআইয়ের উত্তরে প্রতিফলিত হওয়ার ঝুঁকি বাস্তব। জেমিনিকে ঘিরে পক্ষপাত ও ভুল তথ্যের অভিযোগ এর আগেও উঠেছে। ২০২৪ সালে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের ছবি তৈরিতে বিতর্কিত ও ভুল ফল দেওয়ার পর গুগল সাময়িকভাবে জেমিনির মানুষের ছবি তৈরির ফিচার বন্ধ করে দেয়। একই সময়ে গুগলের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছিল যে ফিচারটির কিছু ফলাফল প্রত্যাশিত মান পূরণ করেনি। বর্তমান বিতর্ক তাই শুধু একটি চ্যাটবটের উত্তর নিয়ে নয়। ধর্ম, জাতিগত পরিচয় ও নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এআই কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেই বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে এসেছে। একটি ভুল বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ উত্তরকে পুরো মডেলের চূড়ান্ত বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা যেমন ঠিক নয়, তেমনি এমন ঘটনাকে গুরুত্বহীন বলেও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। এআই ব্যবহারের পরিধি যত বাড়ছে, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে সমান, নিরপেক্ষ ও যুক্তিসংগত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
কৃষ্ণাঙ্গ দম্পতির ঘরে নীল চোখ ও সোনালি চুলের শিশুর জন্ম, বিস্মিত চিকিৎসকরাও
এআইয়ের পরামর্শ মেনে ২৫ একর জমির ফসল নষ্ট করলেন কৃষক
নাতির ইসলাম গ্রহণ বদলে দিল দাদার মন, মৃত্যুশয্যায় ১০৫ বছরের শিখের ইসলাম গ্রহণ
নিজের ছেলের জন্য ৩ডি প্রিন্টারে কৃত্রিম হাত বানিয়ে আলোচনায় আসা এক বাবা এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা আরেক শিশুর গল্পে সাড়া দিয়ে তার জন্যও একই ধরনের হাত তৈরি করেছেন। ছয় বছর বয়সী কিয়েরা ক্যাম্পবেল জন্ম থেকেই বাঁ হাতের নিচের অংশ ছাড়া জন্মেছিল। চিকিৎসকেরা তখন জানিয়েছিলেন, বয়স কম হওয়ায় এখনই তার জন্য কৃত্রিম অঙ্গ দেওয়ার উপযুক্ত সময় হয়নি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিয়েরার গল্প জানার পর সাহায্যের সিদ্ধান্ত নেন ক্যালাম মিলার। কারণ তার নিজের ছেলে জেমিও জন্ম থেকেই একটি হাত ছাড়াই বেড়ে উঠছিল। ছেলের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শের বাইরে গিয়ে ৩ডি প্রিন্টার কিনে নিজেই একটি কৃত্রিম হাত তৈরি করেছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে গেজেট লাইভ জানিয়েছিল, মিলার এবার কিয়েরার জন্যও একই ধরনের কৃত্রিম হাত তৈরি করেছেন। কিয়েরার মা নিকি জানান, নতুন হাতটি পাওয়ার পর মেয়ের দৈনন্দিন জীবনে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে যে জিনিসগুলো ঠিকভাবে ধরতে পারত না, এখন সেগুলো ধরতে পারছে। এতে তার আত্মনির্ভরশীলতাও বাড়ছে। নিকির ভাষ্য অনুযায়ী, কিয়েরা প্রতিদিন একটু একটু করে কৃত্রিম হাতটি ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। এমনকি এখন সে নিজেই সেটি পরতে পারে। একবার মিল্কশেক পান করার সময়ও সে নতুন হাতটি ব্যবহার করেছে। মেয়ের এই পরিবর্তনে উচ্ছ্বসিত নিকি বলেন, কিয়েরাকে এতটা আনন্দিত আগে খুব কমই দেখেছেন। নতুন হাত পাওয়ার পর স্কুলে ফিরে যাওয়ার জন্যও সে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। শুধু দৈনন্দিন কাজ নয়, কিয়েরা এখন নিজের খেলনা ও পুতুল নিয়েও আগের চেয়ে সহজে খেলতে পারছে। একটি শিশুর জন্য হাতের স্বাভাবিক ব্যবহার যতটা গুরুত্বপূর্ণ, নিজের মতো করে বিভিন্ন কাজ করতে পারার সুযোগও তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে কিয়েরার পরিবারের অভিজ্ঞতায় সেটিই ফুটে উঠেছে। মিলারের নিজের ছেলে জেমির ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রয়োজন থেকেই এই উদ্যোগের শুরু। চিকিৎসকেরা অপেক্ষা করার পরামর্শ দিলেও তিনি বিষয়টি নিয়ে নিজেই সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন। ৩ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম খরচে কৃত্রিম হাত তৈরি করার উদ্যোগ নেন তিনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিয়েরার গল্প দেখে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তার জন্যও একটি কৃত্রিম হাত তৈরি করেন মিলার। এর ফলে একই ধরনের শারীরিক পার্থক্য নিয়ে বেড়ে ওঠা দুই শিশুর জীবনে প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যায়। ৩ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হলো প্রয়োজন অনুযায়ী তুলনামূলকভাবে কম খরচে বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম অঙ্গের নকশা তৈরি ও পরিবর্তন করা যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শরীরের আকার ও প্রয়োজন বদলে যায়। প্রচলিত কৃত্রিম অঙ্গের তুলনায় সহজে পরিবর্তনযোগ্য নকশা অনেক পরিবারের জন্য বিকল্প তৈরি করতে পারে। তবে ৩ডি প্রিন্টারে তৈরি এ ধরনের কৃত্রিম হাত সবসময় চিকিৎসাগতভাবে তৈরি বায়োনিক অঙ্গের সমতুল্য নয়। এগুলোর কার্যকারিতা নকশা, উপকরণ ও ব্যবহারকারীর প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে। তারপরও দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ কাজ করতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এগুলো শিশুদের জন্য কার্যকর হতে পারে। কিয়েরার ক্ষেত্রে এর প্রভাব শুধু কোনো জিনিস ধরতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। নিজের হাতে পুতুল নিয়ে খেলা, পানীয় ধরা কিংবা নিজে কৃত্রিম হাতটি পরতে পারার মতো ছোট ছোট কাজও তার আত্মবিশ্বাসে বড় পরিবর্তন এনেছে বলে জানিয়েছেন তার মা। একই সঙ্গে ঘটনাটি দেখিয়েছে, প্রযুক্তি কীভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও মানবিক সহায়তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে কারও জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। নিজের সন্তানের জন্য তৈরি করা একটি সমাধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য একটি পরিবারের কাছে পৌঁছে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আরেক শিশুর জন্যও সহায়ক হয়ে উঠেছে। কিয়েরা ও জেমির অভিজ্ঞতা নিয়ে তৈরি ভিডিওতেও তাদের নতুন কৃত্রিম হাতের ব্যবহার এবং এর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছিল। দুই শিশুর জন্যই এটি শুধু একটি যন্ত্র নয়; বরং নিজেদের দৈনন্দিন কাজ আরও স্বাধীনভাবে করার একটি নতুন সুযোগ হয়ে উঠেছে।
১০০ বছর পর এভারেস্টে মিলল নিখোঁজ পর্বতারোহীর দেহাবশেষ, বদলে যেতে পারে প্রথম এভারেস্ট জয়ীর ইতিহাস
জীবনের মূল্য শেখাতে সন্তানদের ‘কঠোর জীবনযাপনের ক্যাম্পে’ পাঠাচ্ছেন চীনা বাবা-মা