- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
গত ১ মার্চ থেকে ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ হাজারেরও বেশি পাকিস্তানি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে পেশ করা নারকোটিক্স কন্ট্রোল মন্ত্রণালয়ের এক সরকারি পরিসংখ্যানে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুলসংখ্যক প্রবাসীকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে রয়েছে সৌদি আরব, যারা সর্বাধিক ১৫ হাজার ৫০০ জন পাকিস্তানিকে বহিষ্কার করেছে। এর পরপরই ৩ হাজার ৮০৩ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এছাড়াও ওমান থেকে ১ হাজার ৬০৬ জন, বাহরাইন থেকে ৫২১ জন, কাতার থেকে ৪২৯ জন এবং কুয়েত থেকে ৯৭ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, প্রধানত ভিক্ষাবৃত্তি, নিরাপত্তা শঙ্কা, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে উপসাগরীয় দেশগুলো এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বেআইনি প্রবেশ, ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে অবস্থান, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ এবং ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের মতো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬২৮ জন বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি এবং ১ হাজার ২৯৪ জন কারাদণ্ড ভোগের পর দেশে ফিরেছেন। পাশাপাশি, ৯৬৮ জনকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের সময় ইরানি হামলার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর দায়েও বেশ কয়েকজন পাকিস্তানিকে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে পাকিস্তানের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ড. তারিক ফজল চৌধুরী আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, সংসদে উপস্থাপিত এই পরিসংখ্যানটি উপসাগরীয় অঞ্চল ছেড়ে আসা মোট পাকিস্তানির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কেবল সে দেশের কর্তৃপক্ষের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে আটক হওয়ার পর যাদের দেশে ফেরাতে পাকিস্তান দূতাবাস জরুরি ভ্রমণ নথি বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট জারি করতে বাধ্য হয়েছে, শুধু তাদের তথ্যই এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেছেন বা যাদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট ও কাগজপত্র ছিল, তাদের হিসাব এই তালিকার বাইরে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বয়ফ্রেন্ডের হাতে ১৮ বছর বয়সী এক নারী ফুটবলারের মর্মান্তিক খুনের ঘটনায় দেশটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পেনওয়েস্ট ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির মেধাবী শিক্ষার্থী ও সকার খেলোয়াড় ক্যারোলিন হেইঞ্জকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর লাশ গুম করতে নিজের মাকে ব্যবহার করেছে অভিযুক্ত বয়ফ্রেন্ড রয়েস মোসার (১৮)। এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের পর ক্যারোলিনের পরিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যেন পিতা-মাতার জীবনের সবচেয়ে ‘ভয়ংকর দুঃস্বপ্নের’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। পেনসিলভানিয়া স্টেট পুলিশের মাধ্যমে দেওয়া ওই শোকবার্তায় পরিবারটি জানায়, ক্যারোলিন ছিল সবার কাছে প্রিয়, অত্যন্ত দয়ালু, বুদ্ধিমতী ও সুন্দর মনের অধিকারী। তারা তাদের এই আদরের মেয়ের হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, গত বুধবার রাতে নর্থ স্ট্র্যাবেইন টাউনশিপে মোসারের বাবার বাড়ির বাইরে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলছিল এই যুগল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে মোসার ক্যারোলিনকে কিছু দেওয়ার কথা বলে ঘরের ভেতর থেকে একটি বড় রান্নাঘরের ছুরি নিয়ে আসে। সে সময় ক্যারোলিন তার জিপ চেরোকি গাড়ির ভেতর বসা ছিলেন এবং মোসার সরাসরি তার বুকে মারাত্মকভাবে ছুরিকাঘাত করে। হামলার পর ক্যারোলিন গাড়ি থেকে নিচে পড়ে গেলে মোসার তড়িঘড়ি করে তার মরদেহ গাড়ির পেছনের অংশে লুকিয়ে ফেলে। এরপর সে তার মা র্যাচেল মোসারের (৫৭) কাছে ছুটে যায় এবং মা-ছেলে দুজনে মিলে গাড়ি ও নিজেদের শরীর থেকে হত্যাকাণ্ডের সব প্রমাণ মুছে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা করে। প্রমাণ গায়েব করার পর মা ও ছেলে মিলে ক্যারোলিনের গাড়িটি পেনওয়েস্ট ক্যালিফোর্নিয়া ক্যাম্পাসের বাইরে একটি পাবলিক লাইব্রেরির সামনে ফেলে রেখে আসে। এদিকে নির্দিষ্ট সময়ে ক্যারোলিন তার ডরমেটরিতে না পৌঁছানোয় এবং কোনো খোঁজ না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন পরিবার পুলিশের কাছে তল্লাশির আবেদন করে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ পরিত্যক্ত গাড়ির পেছন থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার সকালে মোসার ও তার মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোসারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যা, মৃতদেহের অবমাননা ও প্রমাণ নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং ছেলেকে হত্যার আলামত লুকাতে সাহায্য করায় তার মাকেও সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জেরার মুখে মোসার দাবি করেছে যে তার ওপর কোনো 'প্রেতাত্মা' ভর করেছিল এবং সেই তাকে ক্যারোলিনকে হত্যার নির্দেশ দেয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ক্যারোলিনের সকার দলের সতীর্থরা ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন শোকবার্তা দিয়ে তার স্মৃতিচারণ করেছেন। তারা ক্যারোলিনকে মাঠ ও মাঠের বাইরের এক ‘হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত সহখেলোয়াড়’ হিসেবে স্মরণ করে নিজেদের প্রতিটি খেলা তার নামে উৎসর্গ করার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া, শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং গার্হস্থ্য সহিংসতা রোধে কাজ করা সংস্থাগুলোকে আর্থিকভাবে সহায়তার জন্য ক্যারোলিনের নামে একটি তহবিল (GoFundMe) গঠন করেছেন তার বন্ধুরা। ক্যারোলিনের এই অকাল মৃত্যুতে পুরো কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সামরিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ইরান। এতদিন দেশটির সামরিক কৌশল মূলত ‘প্রতিরক্ষামূলক’ থাকলেও, এখন তা বদলে পুরোপুরি ‘আক্রমণাত্মক’ অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানি সেনাবাহিনী। শনিবার (২২ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, ১২ দিন ও ৪০ দিনের সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতার আলোকে তাদের এই কৌশলগত পরিবর্তন এসেছে। নতুন এই নীতির মূল লক্ষ্য হলো, যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও ব্যাপক পরিসরে পাল্টা জবাব দেওয়া এবং প্রয়োজনে আগাম প্রতিরোধমূলক অভিযান পরিচালনা করা। সম্ভাব্য মার্কিন স্থল হামলার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জেনারেল আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, মার্কিন সেনাদের হত্যা বা বন্দি করার জন্য বিশেষ পুরস্কারের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তেহরান। এই পরিকল্পনার আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর যেকোনো সদস্য বা বৈধ অস্ত্রধারী সাধারণ নাগরিক মার্কিন সেনা হত্যা বা বন্দি করতে পারলে তাকে ৫ বিলিয়ন তোমান (প্রায় ২৬ হাজার ডলার) পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো, কোনো নারী যদি এই কাজ সম্পন্ন করতে পারেন, তবে তার জন্য পুরস্কারের অঙ্ক দ্বিগুণ—অর্থাৎ ১০ বিলিয়ন তোমান (প্রায় ৫৩ হাজার ডলার) নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি মূল দামের দ্বিগুণ মূল্যে কিনে নিয়ে মালিকের নামে সেটি সামরিক জাদুঘরে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি তাকে নতুন একটি বিকল্প অস্ত্রও দেওয়া হবে। বিশ্বমঞ্চে এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এখন নাটকীয়ভাবে কমেছে বলে দাবি করেছেন এই ইরানি সামরিক কর্মকর্তা। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনকে পাশ কাটিয়ে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মিলে সম্পূর্ণ নতুন একটি স্বতন্ত্র প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। মার্কিন অংশগ্রহণ ছাড়াই ওই অঞ্চলে এমন একটি সামরিক জোট গঠনের উদ্যোগ এটাই প্রথম, যা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার রাজনৈতিক ও কৌশলগত পতনের একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ বলে মনে করছে ইরান।
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মুসলিমদের অজুর সময় এবং এশীয় সম্প্রদায়কে চাল ধোয়ার ক্ষেত্রে পানির অপচয় কমানোর আহ্বান জানিয়েছে দেশটির পানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'অফওয়াট'। 'ওয়াটার এফিসিয়েন্সি ইন ফেইথ অ্যান্ড ডাইভার্স কমিউনিটিজ' শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাউথ স্টাফোর্ডশায়ার ওয়াটার, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিভিনিটি অনুষদ এবং কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদসহ বেশ কয়েকটি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রকল্পে দৈনন্দিন পানি ব্যবহারের অভ্যাসে পরিবর্তন আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কেমব্রিজে পরিচালিত পাইলট প্রকল্পে মুসলিমদের নামাজের আগে অজুর জন্য মাত্র এক লিটার পানি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়। অফওয়াটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অনেকেই কল ছেড়ে অজু করতে গিয়ে ১২ লিটার পর্যন্ত পানি খরচ করেন। সংস্থাটির মতে, অজুর সময় এক লিটারের বোতল ব্যবহার করলে প্রতিদিন একজনের প্রায় ৫৫ লিটার পর্যন্ত পানি সাশ্রয় হতে পারে। এই প্রচারণার মাধ্যমে কেমব্রিজে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ৯০০ লিটার পানি সাশ্রয় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, এশীয়দের চাল ধোয়ায় পানি সাশ্রয়ের কৌশল শেখাতে করদাতাদের প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড খরচ করে যুক্ত করা হয় ২০১৪ সালের মাস্টারশেফ বিজয়ী শেফ পিং কুম্বসকে। তিনি এক ভিডিও বার্তায় জানান, অনেকেই পরিষ্কার পানি বের না হওয়া পর্যন্ত পাঁচ-সাতবার চাল ধুয়ে থাকেন, যা আদতে অপ্রয়োজনীয়। তবে অফওয়াটের এই অভিনব উদ্যোগটি ব্রিটেনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভ্যাসে পরিবর্তনের উপদেশ দেওয়ার চেয়ে পানি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর উচিত নিজেদের ত্রুটিপূর্ণ পাইপ ও অবকাঠামো মেরামতের দিকে নজর দেওয়া। গত জুলাইয়ে গ্রিনপিস ইউকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রতিদিন ছিদ্রযুক্ত পাইপের কারণে প্রায় ২.৮৭ বিলিয়ন লিটার পানি অপচয় হয়, যা দিয়ে এক হাজার ১৫০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুল ভর্তি করা সম্ভব। ক্যাবিনেট অফিসের শ্যাডো মিনিস্টার মাইক উড এই প্রকল্পের পেছনে করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের তীব্র সমালোচনা করে জানান, মানুষ এমনিতেই পানির বিল বৃদ্ধিতে চাপে আছে; সেখানে এমন প্রকল্পে জনগণের টাকা খরচ করা মোটেও যৌক্তিক নয়। তীব্র বিতর্কের মুখে অফওয়াটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ায় জনসাধারণকে সচেতন করার লক্ষ্যেই একাধিক ধর্মীয় গোষ্ঠী ও দাতব্য সংস্থার সঙ্গে এই পাইলট প্রকল্পটি চালানো হয়েছিল। এটি কারও ওপর বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দেয়নি বা ধর্মীয় রীতিনীতিতে হস্তক্ষেপ করেনি। উল্লেখ্য, দেশজুড়ে পানির ব্যবহার কমাতে গত জুন মাসে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে ‘লেটস সেভ ওয়াটার’ নামে একটি পৃথক প্রচার অভিযানও শুরু করেছে যুক্তরাজ্য সরকার।
জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজিতে ক্লান্ত সাত বছর বয়সী ছেলেকে একা ফেলে বড় ছেলেকে নিয়ে পর্বতারোহণ চালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এক বাবাকে কঠোর তিরস্কার করেছে স্থানীয় পুলিশ। কুয়াশাচ্ছন্ন ও বৃষ্টিভেজা বৈরী আবহাওয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার মিটার (সাড়ে ছয় হাজার ফুট) উঁচুতে অবস্থিত একটি বেঞ্চে শিশুটিকে একা বসে থাকতে দেখা যায়। খাবার হিসেবে শিশুটির কাছে ছিল মাত্র একটি কোমল পানীয় ও হালকা কিছু স্ন্যাকস। জানা গেছে, ৪৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি তার দুই ছেলেকে নিয়ে মাউন্ট ফুজির ফুজিনোমিয়া রুট দিয়ে চূড়ায় ওঠার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন। পথিমধ্যে ছোট ছেলে ক্লান্ত হয়ে পড়ার কথা জানালে বাবা তাকে সেখানে অপেক্ষা করতে বলে বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পর্বতারোহণ অব্যাহত রাখেন। পরবর্তীতে সামিটের দিকে যাওয়ার পথে ষষ্ঠ স্টেশনের কাছে অবস্থিত একটি মাউন্টেন হাটের কর্মীরা শিশুটিকে একা দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেন। প্রায় তিন ঘণ্টার হাঁটা দূরত্বে সপ্তম ও অষ্টম স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকা থেকে পুলিশ ওই বাবাকে খুঁজে বের করে। টানা প্রায় আট ঘণ্টা একা অপেক্ষা করার পর শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারের পর যখন তার বাবা ফিরে আসেন, তখন পুলিশ কর্মকর্তারা তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। এক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রয়োজনে পর্বতারোহণ বাতিল করা উচিত ছিল, কিন্তু কোনো পরিস্থিতিতেই এমন প্রতিকূল পরিবেশে একটি শিশুকে একা ফেলে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনার পর ওই বাবা নিজের অবিবেচক সিদ্ধান্তের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। উল্লেখ্য, ৩ হাজার ৭৭৬ মিটার উঁচু মাউন্ট ফুজি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত এবং প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ পর্যটক এখানে আরোহণ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনভিজ্ঞতা ও অসাবধানতার কারণে পর্বতটিতে দুর্ঘটনা ও উদ্ধার তৎপরতার সংখ্যা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন 'ওয়েন্ডিস'-এর একটি ডাবল চিজবার্গার খেয়ে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিকাগোর এক নারী। রক্সি এলিস ডগলাস (৬৮) নামের ওই নারীর দাবি, খাবারটি খাওয়ার পর তিনি 'ক্যাম্পিলোব্যাক্টেরিওসিস' নামের গুরুতর ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে আক্রান্ত হন। এর ফলে তীব্র গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল জটিলতা, ডিহাইড্রেশন ও কোলন প্রদাহ নিয়ে তাকে দুই দফায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় এবং চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয় ৯৩ হাজার ৫০০ ডলারেরও বেশি অর্থ। আদালতের নথি অনুযায়ী, ডগলাস শিকাগোর সাউথ স্টনি আইল্যান্ড অ্যাভিনিউর ওয়েন্ডিস আউটলেট থেকে ডোরড্যাশের মাধ্যমে একটি ডাবল চিজবার্গার ও বেকড পটেটো অর্ডার করেছিলেন। সিল করা ব্যাগে খাবার পৌঁছানোর পর আপাতদৃষ্টিতে কোনো সমস্যা মনে না হলেও, খাবার খাওয়ার পরদিনই তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রেস্তোরাঁ থেকে সরবরাহ করার সময়ই খাবারটি ক্ষতিকর ক্যাম্পিলোব্যাক্টার ও অন্যান্য রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত ছিল, যা মানুষের খাওয়ার সম্পূর্ণ অনুপযোগী। বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ জীবনঘাতী হতে পারে। চিকিৎসা ব্যয় সংক্রান্ত নথিতে দেখা যায়, অসুস্থতার কারণে ডগলাসকে প্রায় ২ হাজার ৮০০ ডলার ব্যয়ে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নিতে হয়। প্রথম দফায় তিন দিন এবং পরবর্তীতে জটিলতা বাড়ায় দ্বিতীয় দফায় আরও পাঁচ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এছাড়া পরবর্তীতে জটিলতা পর্যবেক্ষণে তার কোলনোস্কপিসহ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। নিরাপদ খাদ্য তৈরিতে ব্যর্থতা এবং খাদ্যের ঝুঁকি সম্পর্কে গ্রাহককে যথাযথ সতর্ক না করার অভিযোগ এনে ওয়েন্ডিসের কাছে ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ডগলাস। তবে এ বিষয়ে ওয়েন্ডিস কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইউরোপের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ছোট্ট অথচ বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ লিচেনস্টাইন। সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার মাঝে মাত্র ১৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটি যেন এক রূপকথার রাজ্য। মাত্র ৪১ হাজার জনসংখ্যার এই দেশটিতে মাথাপিছু আয় প্রায় ২ লাখ ১ হাজার ১১২ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার সমান। তবে বিপুল সম্পদের চেয়েও দেশটি বিশ্বজুড়ে বেশি সমাদৃত এর অভাবনীয় নিরাপত্তা ও শান্তিময় পরিবেশের জন্য। অবাক করা বিষয় হলো, লিচেনস্টাইনের নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী নেই। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পুরো দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে তাদের পুলিশ বাহিনী। দেশটিতে অপরাধের হার এতটাই কম যে, পুরো রাষ্ট্রের জন্য কারাগার রয়েছে মাত্র একটি। রাজধানী ফাডুৎসে অবস্থিত এই একমাত্র কারাগারটির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা মাত্র ২০ জন। ওয়ার্ল্ড প্রিজন ব্রিফের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে ওই কারাগারে বন্দির সংখ্যা ছিল মাত্র ১১ জন এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাদের প্রত্যেকেই ছিলেন বিদেশি নাগরিক। তবে এর পেছনে একটি আইনি কারণও রয়েছে। লিচেনস্টাইনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অপরাধীর যদি দুই বছরের বেশি মেয়াদের কারাদণ্ড হয়, তবে তাকে দেশের কারাগারে রাখা হয় না। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি সাজাপ্রাপ্ত সেসব বন্দিদের অস্ট্রিয়া অথবা সুইজারল্যান্ডের উন্নত পাহারাবেষ্টিত কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে লিচেনস্টাইনে নিজস্ব কোনো বিমানবন্দর বা সমুদ্রবন্দর নেই। আন্তর্জাতিক যাতায়াতের জন্য দেশটির নাগরিকদের মূলত সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিমানবন্দরের ওপরই নির্ভর করতে হয়। অপরাধমুক্ত শান্তিময় সমাজব্যবস্থা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং উচ্চ জীবনযাত্রার মান দেশটিকে বিশ্বের বুকে এক অনন্য ও আদর্শ রাষ্ট্রের মর্যাদা দিয়েছে।
নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ফেরিতে অবস্থিত 'ডানকিন ডোনাটস'-এর একটি আউটলেটে এক মুসলিম কর্মীর ওজু করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কর্মক্ষেত্রে ধর্মীয় অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, ওই কর্মী নামাজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কাউন্টারের পেছনের কিচেন সিঙ্কে নিজের পা পরিষ্কার করছেন এবং নিচে একটি জায়নামাজ বিছানো রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে ইবাদত পালনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা ওজুর সুব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই তাকে এই জায়গাটি বেছে নিতে হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আমেরিকায় কর্মরত মুসলিমদের প্রতিদিনের লড়াই এবং তাদের ধর্মীয় অধিকারের প্রতি অনেক নিয়োগকর্তার উদাসীনতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। ইসলাম ধর্মে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা বাধ্যতামূলক এবং এর পূর্বশর্ত হিসেবে ওজু বা পবিত্রতা অর্জন করা অপরিহার্য। ওজুর নিয়মানুযায়ী হাত, মুখ ও মাথা মাসেহ করার পাশাপাশি পা ধোয়াও একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভিডিওতে স্পষ্টতই বোঝা যায় যে, ওই কর্মী চরম প্রতিকূল পরিবেশেও তার ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার প্রতি কতটা নিবেদিত ছিলেন। অনলাইনে কেউ কেউ খাবার তৈরির স্থানে পা ধোয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যবিধির প্রশ্ন তুললেও, বিপুলসংখ্যক মানুষ ওই কর্মীর পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। সচেতন নেটিজেনরা বলছেন, একজন ধর্মপ্রাণ কর্মীকে কেন এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তার দায়ভার কর্তৃপক্ষেরও নেওয়া উচিত। যদি আউটলেটটিতে কর্মীদের জন্য আলাদা ওয়াশরুম বা ইবাদতের নির্দিষ্ট স্থান থাকত, তবে তাকে এমন আপস করতে হতো না। নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগ ও ফেরি পরিচালনাকারী সংস্থা ইতোমধ্যে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সহানুভূতিশীল সাধারণ মানুষ ডানকিন ডোনাটসসহ অন্যান্য কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আরও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, কেবল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই এর সুষ্ঠু সমাধান নয়, বরং মুসলিম কর্মীদের জন্য 'উপযুক্ত ধর্মীয় সুবিধা' বা রিলিজিয়াস অ্যাকোমোডেশন নিশ্চিত করা উচিত।
নিউইয়র্ক সিটিতে বাসে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাত্রীদের আর কোনো ভাড়া গুনতে হবে না—নির্বাচনী প্রচারণায় মেয়র জোহরান মামদানির দেওয়া অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল এটি। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তার সেই বহুল আলোচিত 'ফ্রি বাস' বা বিনামূল্যের বাস পরিষেবা চালুর পরিকল্পনাটি এখনো বাস্তবায়নের পথে আটকে আছে। তবে বাসের ভাড়া মওকুফ করার বিষয়টি বিলম্বিত হলেও, যাত্রীদের মূল্যবান সময় বাঁচাতে এবং বাস পরিষেবা উন্নত করতে বিশাল এক কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে বর্তমান সিটি প্রশাসন। সিটি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাস সম্পূর্ণ ফ্রি করার বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এমটিএ) এবং অ্যালবানির স্টেট প্রশাসনের সঙ্গে তাদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির অপারেশনস বিষয়ক ডেপুটি মেয়র জুলিয়া কারসন জানিয়েছেন, মামদানি প্রশাসনের মূল প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দ্রুতগতির বাস পরিষেবা নিশ্চিত করার কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এই লক্ষ্য পূরণে 'নেক্সট স্টপ: ফাস্ট বাসেস, বেটার সার্ভিস' শীর্ষক একটি নতুন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এই মেগা পরিকল্পনার আওতায় সিটির পাঁচ বরোর অন্তত ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ বাস করিডরে ব্যাপক কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হবে। প্রশাসন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে যে, এর মাধ্যমে বাসের গতি প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হবে, যা একজন যাত্রীর প্রতিটি যাত্রায় গড়ে অন্তত ছয় মিনিট সময় সাশ্রয় করবে। এর পাশাপাশি সিটির ১৭০টিরও বেশি বাস রুটের সার্বিক উন্নয়ন, নতুন বাস লেন তৈরি, বাস স্টপগুলোর আধুনিকায়ন এবং যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এসব অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ শুরুও হয়ে গেছে। তবে নিউইয়র্ক সিটির সব বাসের ভাড়া পুরোপুরি তুলে দেওয়ার বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে বেশ জটিল। কারণ বাস পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এমটিএ মূলত স্টেট নিয়ন্ত্রিত একটি সংস্থা। ফলে বাসের ভাড়া মওকুফ করতে হলে অ্যালবানির চূড়ান্ত অনুমোদন, বিপুল পরিমাণ প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং এমটিএ-এর পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা অপরিহার্য। মামদানি প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে যে, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ নগরবাসী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাসে যাতায়াতের সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি বা দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি। তাই নিউইয়র্কবাসীর জন্য আপাতত বাস্তবতা হলো, সম্পূর্ণ ফ্রি বাসের জন্য তাদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে; তবে দ্রুতগতির বাসের যে প্রতিশ্রুতি প্রশাসন দিয়েছিল, সেটি ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে বেশ কিছুটা এগিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলারের এক বিশাল প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ভারতীয় তরুণ কাতার পালিয়ে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে কানাডায় গ্রেফতার হয়েছেন। ২১ বছর বয়সী জয় সুনীলভারতী গোস্বামী নামের গুজরাটের এই বাসিন্দা মার্কিন আদালত থেকে জামিন পাওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে বসবাস করতেন এবং বয়স্ক নাগরিকদের টার্গেট করে গড়ে ওঠা একটি বিস্তৃত ইন্টারনেট ও টেলিফোনভিত্তিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জামিন পেয়ে তিনি সীমান্ত পার হয়ে কানাডায় প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে দোহা যাওয়ার টিকিট কাটেন, কিন্তু টরন্টো বিমানবন্দরে তাকে আটকে দেয় কানাডীয় কর্তৃপক্ষ। মার্কিন তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রতারক চক্রটি মূলত বয়স্ক নাগরিকদের ফোন করে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাক হওয়ার ভয় দেখাতো। এরপর তাদের বোঝানো হতো যে, নিজেদের সম্পদ রক্ষা করতে হলে সেগুলো দ্রুত নগদ অর্থ, স্বর্ণ বা গিফট কার্ডে রূপান্তর করতে হবে। নিজেদের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে তারা ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জন করত এবং সম্পদগুলো হস্তান্তরে বাধ্য করত। নগদ অর্থ ও স্বর্ণ সংগ্রহ করার জন্য চক্রটি 'মানি মিউল' বা বাহক ব্যবহার করত এবং অভিযোগ রয়েছে যে, জয় গোস্বামী ঠিক এই কাজটিই করতেন। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে কমপক্ষে ৯ জন বয়স্ক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অর্থ ও স্বর্ণ সংগ্রহ করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ৫৯ থেকে ৮৭ বছর বয়সী এই ভুক্তভোগীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলার খুইয়েছেন। মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, তদন্তকারীরা গোস্বামীর ব্যাংক লেনদেনের তথ্যও খতিয়ে দেখেছেন, যেখানে ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তার অ্যাকাউন্টে ৯০ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ জমা পড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রতারণা চক্রের হয়ে কাজ করার বিনিময়েই তিনি এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়েছিলেন। গত ১৭ আগস্ট মার্কিন আদালতে হাজির হওয়ার পর তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরের দিন সকালেই তিনি কানাডায় পালিয়ে যান। অবশেষে মার্কিন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে গত ২০ আগস্ট তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনতে বিচার বিভাগ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির হার গত দুই বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এখনো এই সংখ্যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়ে গেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) প্রকাশিত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ২০২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বছরে আনুমানিক ২০ হাজার ৪৯২ জন সামরিক সদস্য অনিচ্ছাকৃত যৌন সংস্পর্শ বা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। দুই বছর আগের পরিসংখ্যানের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় সাড়ে আট হাজার কম। মার্কিন কংগ্রেসের নির্দেশনায় পরিচালিত কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা জরিপের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে সামরিক বাহিনীতে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এবং হয়রানির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় নারী ও পুরুষ—উভয় সদস্যের ক্ষেত্রেই যৌন নিপীড়নের হার দৃশ্যমানভাবে কমেছে। নারী সদস্যদের মধ্যে ২০২৩ সালে যেখানে যৌন নিপীড়নের হার ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে পুরুষ সদস্যদের ক্ষেত্রে এই হার ১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ১ শতাংশে নেমে এসেছে। শুধু নিপীড়ন নয়, সামরিক বাহিনীতে সার্বিক যৌন হয়রানির ঘটনাও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। ২০২৩ সালে প্রায় ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ নারী সদস্য হয়রানির শিকার হলেও ২০২৫ সালে তা ১৭ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। আশার কথা হলো, নিপীড়নের শিকার হওয়ার পর তা কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর প্রবণতা সামরিক সদস্যদের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ ঘটনা সরকারি প্রক্রিয়ায় রিপোর্ট করা হতো, ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মতে, অভিযোগ জানানোর এই বৃদ্ধি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। এর ফলে ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও পুনর্বাসন সেবা সহজে পাচ্ছেন। পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনাও সম্ভব হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের জনবল ও প্রস্তুতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যান্থনি জে. টাটা এই প্রসঙ্গে বলেন, মর্যাদা, সম্মান ও শৃঙ্খলাই হলো সামরিক বাহিনীর মূল ভিত্তি। যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির মতো ঘটনা এসব মূল্যবোধকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে এবং বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রমকে হুমকির মুখে ফেলে। উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লেখিত ২০ হাজার ৪৯২ জনের হিসাবটি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নয়, বরং জরিপের মাধ্যমে উঠে আসা একটি প্রাক্কলন। এই পরিসংখ্যানে এমন অনেক ঘটনার কথাও যুক্ত রয়েছে, যা কখনোই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। হার কমার এই ইতিবাচক খবরের পরও বিপুলসংখ্যক সদস্যের এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হওয়ার বিষয়টি মার্কিন সামরিক প্রশাসনের জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।
মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ায় সমুদ্রসৈকতে বসার জায়গা নিয়ে বিতর্কের জেরে মর্মান্তিক এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিজের ১৫ বছর বয়সী ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে এক সৈকতকর্মীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এক নারী। ছুটির দিনে পরিবারের সঙ্গে সাগরের তীরে কাটানো আনন্দঘন মুহূর্তটি মুহূর্তেই রূপ নেয় এক বিষাদময় ট্র্যাজেডিতে। এই ঘটনার পরপরই আলেকজান্দ্রিয়া শহরের সমুদ্রসৈকতগুলোর নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক তদন্তের তথ্যানুযায়ী, পশ্চিম আলেকজান্দ্রিয়ার আগামি এলাকার ক্যানারি বিচে পানির কাছাকাছি বসার জায়গা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। নিহতের ১৫ বছর বয়সী ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ১৭ বছর বয়সী এক সৈকতকর্মীর বসার স্থান নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ওই নারী তার সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে সৈকতে অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি দুইজনকে ছাড়াতে এগিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, এ সময় অভিযুক্ত কর্মী ওই নারীর চুল ধরে টান দেন এবং বুকে ধাক্কা মারেন। এতে তিনি উপুড় হয়ে পড়ে গেলে, সৈকতের ছাতার একটি কাঠের খুঁটি দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ঘটনার পরপরই নিহতের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং তার মৃত্যুর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। আলেকজান্দ্রিয়ার প্রসিকিউটররা সন্দেহভাজন ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোর কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়াগুলো সতর্কতার সঙ্গে পালন করা হচ্ছে। এছাড়া একটি সরকারি হাসপাতালে সন্দেহভাজনের শারীরিক পরীক্ষা ও নিহতের চূড়ান্ত ফরেনসিক রিপোর্ট দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং সৈকতের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আলেকজান্দ্রিয়া গভর্নরেট ওই সৈকত পরিচালনাকারীর চুক্তি বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আলেকজান্দ্রিয়ার গভর্নর আহমেদ খালেদ হাসান সাঈদ শহরের সব সৈকতে নজরদারি ও নিরাপত্তা কঠোর করার নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সৈকত পরিচালনাকারীদের তাদের কর্মীদের অনুমোদিত তালিকা জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, নিয়োগের আগেই কর্মীদের অপরাধের রেকর্ড বা ব্যাকগ্রাউন্ড চেক এবং স্বাস্থ্যগত সনদ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে সৈকতগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শন বাড়ানোরও নির্দেশ দিয়েছেন শীর্ষ কর্মকর্তারা।
ভারতের কেরালায় এক চিকিৎসক কনে নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানে এমন এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা বর্তমানে নেট দুনিয়ায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। বিয়ের আনন্দ-উৎসব চলাকালেই হঠাৎ ক্যাটারিংয়ের দুই কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়লে নিজের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা থামিয়ে ত্বরিত তাদের সাহায্যে ছুটে যান ডা. শিরিন সুবায়ের। তার এই উপস্থিত বুদ্ধি ও পেশাদারিত্বের কারণে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ওই দুই কর্মী প্রাথমিক চিকিৎসা পান। জানা গেছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে কাজ করার সময় হঠাৎ করেই ক্যাটারিংয়ের এক কর্মীর নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে এবং অন্য আরেকজন কর্মী মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হন। এমন জরুরি পরিস্থিতিতে নিজের বিয়ের জমকালো সাজ বা উৎসবের কথা বিন্দুমাত্র চিন্তা না করে একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করেন ডা. শিরিন। তিনি যেহেতু জরুরি চিকিৎসা বিভাগের (ইমার্জেন্সি মেডিসিন) একজন চিকিৎসক, তাই তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামলে নিয়ে নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ওই দুই কর্মীকে ফার্স্ট এইড বা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। বিয়ের সাজে কনের এই মানবিক পদক্ষেপের একটি ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা এই চিকিৎসক কনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেও, ডা. শিরিন সুবায়ের নিজে বিষয়টিকে খুবই স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। এই প্রশংসনীয় কাজের বিষয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানান, এটি কেবলই একজন চিকিৎসক হিসেবে তার কর্তব্য ছিল, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের পরিচয় যাচাই ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও নির্ভুল, গতিশীল ও ব্যক্তি-কেন্দ্রিক করতে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয়ের একটি বৃহৎ প্রযুক্তি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)। 'ইমিগ্রেশন বায়োমেট্রিকস অ্যান্ড আইডেন্টিটি সার্ভিসেস' বা আইবিআইএস (IBIS) নামের এই প্রকল্পের মাধ্যমে মেশিন লার্নিং, ক্লাউড অ্যাপ্লিকেশন, উন্নত ডেটা অ্যানালিটিকস এবং এনটিটি রেজোলিউশন প্রযুক্তির একটি শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (DHS) অধিগ্রহণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২২ অক্টোবর এ সংক্রান্ত দরপত্র প্রকাশ করা হতে পারে এবং ২০২৭ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এই চুক্তির মেয়াদ ২০৩২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউএসসিআইএস আইবিআইএস (IBIS)-কে সম্পূর্ণ নতুন কোনো বায়োমেট্রিক ডেটাবেজ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেনি, বরং এটিকে সংস্থাটির পরিচয় ব্যবস্থাপনা, অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউলিং ও তথ্য বিশ্লেষণের একটি সমন্বিত ক্লাউডভিত্তিক আধুনিক আইটি সমাধান হিসেবে তুলে ধরেছে। এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো 'এনটিটি রেজোলিউশন' প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে নামের বানান, জন্মতারিখ বা অন্যান্য তথ্যের ভিন্নতা সত্ত্বেও সরকারি বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণ করে একই আবেদনকারীকে নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। আধুনিক এই ব্যবস্থার উন্নয়ন, ক্লাউড অ্যাপ্লিকেশন পরিচালনা, তথ্যপ্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এবং সিস্টেমের সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে নির্বাচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর। এই মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি দূর থেকেই আবেদনকারীদের পরিচয়পত্র ও কাজের অনুমতির নথি যাচাই করতে ৫ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের আলাদা বাণিজ্যিক সফটওয়্যার সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে ফেসিয়াল রিকগনিশন, নথির বারকোড ও মেশিন-রিডেবল জোন যাচাই এবং অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন (OCR)-এর মতো সুবিধার সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করা যাবে, যা প্রচলিত সরাসরি নথিপত্র পরীক্ষার ওপর নির্ভরতা কমাবে। একই সঙ্গে কাগজভিত্তিক আবেদন থেকে ধাপে ধাপে পুরোপুরি ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পথ তৈরি করছে সংস্থাটি। গত ১১ আগস্ট কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মের আওতায় পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ফর্ম অনলাইনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করার ক্ষমতা পেয়েছে ইউএসসিআইএস, যা বছরে প্রায় ৬০ লাখ আবেদনকারীকে প্রভাবিত করতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় তথ্য সংগ্রহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার ইমিগ্রেশন জালিয়াতি রোধ, স্বয়ংক্রিয় ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং জাতীয় নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় এক নতুন স্টুডেন্ট অফার নিয়ে এসেছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল। নতুন এই অফারের আওতায় যোগ্য শিক্ষার্থীরা পুরো ১২ মাসের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে গুগল এআই প্লাস ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এর সঙ্গে থাকছে ৪০০ জিবি ক্লাউড স্টোরেজ, যা ব্যবহারকারীরা তাদের জিমেইল, গুগল ড্রাইভ এবং গুগল ফটোসে স্বচ্ছন্দে ব্যবহার করতে পারবেন। পাশাপাশি জেমিনির বর্ধিত ব্যবহারসীমা এবং পড়াশোনা ও গবেষণায় সহায়ক অত্যাধুনিক সব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সুবিধাও উপভোগ করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য গুগল এআই প্লাস পরিকল্পনার আওতায় এই এক বছরের বিনামূল্যের সুবিধাটি দেওয়া হচ্ছে। গুগল এআই প্রো-এর ১২ মাসের বিনামূল্যের সুবিধাটি বর্তমানে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা চাইলে গুগল এআই প্রো ও ইউটিউব প্রিমিয়ামের সাধারণ শিক্ষার্থী সুবিধাগুলো গ্রহণ করতে পারবেন। গুগলের শর্তানুযায়ী, এই অফারটি পেতে হলে শিক্ষার্থীর বয়স কমপক্ষে ১৬ বছর হতে হবে এবং বাংলাদেশের কোনো স্বীকৃত উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রমাণ থাকতে হবে। ব্যক্তিগত গুগল অ্যাকাউন্ট ও পেমেন্ট পদ্ধতি যুক্ত করে নির্দিষ্ট যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিজেদের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র পরিচয়পত্র বা ফি জমার রসিদই নয়, চূড়ান্ত অনুমোদন নির্ভর করবে গুগলের নিজস্ব যাচাই প্রক্রিয়ার ওপর। অফারটি সক্রিয় করতে শিক্ষার্থীদের প্রথমে গুগল ওয়ানের স্টুডেন্ট অফার পেজে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সাবস্ক্রিপশন চালু করতে হবে। অফারটি বিনামূল্যের হলেও সাবস্ক্রিপশন চালুর সময় পেমেন্ট কার্ড যুক্ত করার প্রয়োজন হতে পারে। তাই ১২ মাসের মেয়াদ শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেইড সাবস্ক্রিপশন চালু হয়ে অর্থ কেটে নেওয়ার সম্ভাবনা থাকায়, ব্যবহারকারীদের সতর্কতার সঙ্গে শর্তাবলি পড়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের যে তথ্য প্রচারিত হচ্ছে, তা সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য কি না সেটি গুগলের বর্তমান শর্ত থেকে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই সাবস্ক্রাইব করার সময় প্রদর্শিত মূল্য ও মেয়াদ যাচাই করে নেওয়াই শ্রেয়। ক্লাউড স্টোরেজ ও এআই টুলের এই সমন্বিত উদ্যোগটি মূলত শিক্ষার্থীদের গবেষণা, ডেটা বিশ্লেষণ, প্রেজেন্টেশন ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির কাজকে আরও সহজ ও গতিশীল করে তুলবে।
কাতারে আটক থাকা ইরানি পাইলটদের শারীরিক অবস্থা চরম সংকটাপন্ন বলে দাবি করেছে তেহরান। অবিলম্বে তাদের সমুদ্র থেকে সরিয়ে স্থলভাগের কোনো উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের জোর দাবি জানিয়েছে ইরান। শনিবার (২২ আগস্ট) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিখোঁজ ব্যক্তি অনুসন্ধান কমিটির কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাইলটদের বর্তমান অবস্থানটি চিকিৎসা দেওয়ার জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয় উল্লেখ করে, তাদের জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে জানা যায়, অসুস্থ ও আহত এই বন্দিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে কাতারে একটি 'এয়ার অ্যাম্বুলেন্স' পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাঘেরজাদেহ। তবে এই পাইলটদের আটকের বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু অস্পষ্টতা ও মতবিরোধ রয়েছে। গত সপ্তাহেই দোহা তাদের হেফাজতে কোনো জীবিত ইরানি পাইলট থাকার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছিল। কাতারের দাবি ছিল, বছরের শুরুতে আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাইলটদের দিক থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। এমনকি নিহত এক পাইলটের মরদেহ হস্তান্তর এবং উদ্ধার অভিযানের তথ্য পর্যালোচনার জন্য তেহরানকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও সে সময় ইরানের দিক থেকে কোনো দৃশ্যমান সাড়া পায়নি দোহা। এদিকে, সম্প্রতি পাইলট ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানি প্রতিনিধি দলকে কাতার সফরের প্রস্তাব উন্মুক্ত রেখেছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দোহার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও ইরানি কর্মকর্তা বাঘেরজাদেহ অভিযোগ করেছেন যে, তাদের বিমান বাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ ও তথ্যানুসন্ধানকারী দল কয়েক মাস ধরে কাতারে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু কাতারি কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে তদন্ত কার্যক্রম বারবার ব্যাহত হচ্ছে। এখন দুই দেশের কূটনৈতিক সমঝোতার ওপরই নির্ভর করছে আটকে পড়া এই পাইলটদের ভাগ্য ও পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের ভবিষ্যৎ।
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে যোগ দিতে ভার্জিনিয়ার পথে রয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকীব খান ও প্রতীক হাসান। নিউইয়র্কের LaGuardia Airport-এর লবিতে অপেক্ষারত অবস্থায় দুই শিল্পীর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তা নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রতীক হাসান তার ফেসবুক পোস্টে নকীব খানের সঙ্গে তোলা ছবিটি প্রকাশ করেছেন। ছবিতে দুজনকে এয়ারপোর্টের লাউঞ্জে পাশাপাশি বসে থাকতে দেখা যায়। তারা নিউইয়র্ক থেকে ভার্জিনিয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে রয়েছেন। আগামীকাল ২৩ আগস্ট, রোববার, ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ার Fort Hunt Park-এর Shelter A-001-এ অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। বাংলাদেশি-আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন বা বাইটপোর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খানের লাইভ পারফরম্যান্স। তার সঙ্গে মঞ্চে গান পরিবেশন করবেন জনপ্রিয় শিল্পী প্রতীক হাসানসহ আরও কয়েকজন শিল্পী। বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকায় নকীব খানের এই লাইভ পরিবেশনা ঘিরে এরই মধ্যে প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মেজবানের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে থাকছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ফ্যাশন শো, বিভিন্ন গেমস এবং র্যাফেল ড্র। র্যাফেল ড্রতে হীরার আংটি, ল্যাপটপ ও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বাইটপোর প্রেসিডেন্ট সামছুদ্দীন মাহমুদ ও ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর স্যাম রিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের আয়োজনকে আগের বছরের তুলনায় আরও বড় পরিসরে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে এটি একটি বড় কমিউনিটি মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। এদিকে শিল্পীদের আগমন উপলক্ষে আজ শনিবার বিকেলে ভার্জিনিয়ার উডব্রিজে একটি বিশেষ মিট অ্যান্ড গ্রিট অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে আয়োজক, স্পন্সর ও শিল্পীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবারের স্বাদ, দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের সরাসরি সংগীত পরিবেশনা এবং নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন মিলিয়ে এবারের মেজবানকে ঘিরে উত্তর ভার্জিনিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস। শনিবার (২২ আগস্ট) দূতাবাসের এক ফেসবুক পোস্টে নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এই শুভেচ্ছা জানানো হয়। অভিনন্দন বার্তায় মার্কিন দূতাবাস জানায়, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ পান ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৩টি ভোট পড়েছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁকে শপথ পড়ান। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দলের মহাসচিবসহ দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এক নেতার নতুন সাংবিধানিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। মার্কিন দূতাবাসের অভিনন্দন বার্তায় বিশেষভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে নতুন সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের বোর্নমাউথে এক নারীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সিরীয় তরুণ মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। ২০২৫ সালের ৬ জুলাই ভোরে সমুদ্রসৈকতের কাছে একটি অস্থায়ী টয়লেটে ওই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। মামলার শুনানিতে আবদুল্লাহ দাবি করেছিলেন, তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্কটি সম্মতিতে হয়েছিল। তবে বোর্নমাউথ ক্রাউন কোর্টের জুরি তাকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালতে বলা হয়, ঘটনার রাতে ওই নারী এক বন্ধুর সঙ্গে বাইরে ছিলেন। পরে তারা আলাদা হয়ে গেলে তিনি বাড়ি ফেরার জন্য সমুদ্রসৈকত ধরে হাঁটছিলেন। তার ফোনের ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়ায় ট্যাক্সি ডাকতেও সমস্যায় পড়েন তিনি। এ সময় আবদুল্লাহ ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে ওই নারীর দেখা হয়। বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে আবদুল্লাহ তাকে বৈদ্যুতিক বাইকে তুলে নেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু দূর যাওয়ার পর তিনি তাকে একটি অস্থায়ী টয়লেটের কাছে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে যৌন নিপীড়ন এবং পরে টয়লেটের ভেতরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। আদালতে আরও জানানো হয়, ঘটনার পর ওই নারী জুতা খুলে দৌড়ে পালিয়ে সাহায্য চান। পরে এক পথচারীর ফোন ব্যবহার করে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন তাকে ঘটনার পর অত্যন্ত বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখেছিলেন বলে আদালতে জানান। আবদুল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ওই নারী নিজেই তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চেয়েছিলেন এবং তাদের যৌন সম্পর্ক সম্মতিতে হয়েছিল। তবে জুরি তার বক্তব্য গ্রহণ করেননি এবং তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ২০২৩ সালে সিরিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে আসেন। তিনি পারিবারিক পুনর্মিলন কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি পান এবং পরে স্থায়ীভাবে থাকার অধিকারও দেওয়া হয়। আদালত তাকে হেফাজতে পাঠিয়েছেন। বিচারক রবার্ট পসন জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে কারাদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানিতে সাজা নির্ধারণ করা হবে।
কানাডা সরকার ২০২৬ সালে দুটি প্রধান অস্থায়ী কর্মসূচির আওতায় মোট ২ লাখ ৩০ হাজার বিদেশি কর্মী নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ৬০ হাজার কর্মী নেওয়া হবে টেম্পোরারি ফরেন ওয়ার্কার প্রোগ্রামের মাধ্যমে এবং ১ লাখ ৭০ হাজার কর্মী নেওয়া হবে ইন্টারন্যাশনাল মোবিলিটি প্রোগ্রামের আওতায়। এই পরিকল্পনার ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য কানাডায় কাজের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির অভিবাসন ও চাকরিসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। শুধু কর্মী নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেই কোনো ব্যক্তির চাকরি বা ভিসা নিশ্চিত হয় না। এদিকে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু নিয়মেও পরিবর্তন এনেছে কানাডা। বিশেষ করে একাধিক ছোট কর্মস্থল থাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে আগের তুলনায় বেশি কম মজুরির অস্থায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ পেতে পারে। নতুন হিসাব পদ্ধতিতে পুরো প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীর সংখ্যা বিবেচনার পরিবর্তে প্রতিটি যোগ্য কর্মস্থল আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। কোনো কর্মস্থলে ১০ জনের কম কর্মী থাকলে সাধারণ খাতে একজন কম মজুরির অস্থায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা যেতে পারে। আর স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও খাদ্য উৎপাদনের মতো নির্দিষ্ট চাহিদাসম্পন্ন খাতে একই ধরনের ছোট কর্মস্থলে সর্বোচ্চ দুইজন পর্যন্ত নিয়োগের সুযোগ থাকতে পারে। তবে নিয়ম পরিবর্তন হলেও নিয়োগদাতারা ইচ্ছেমতো বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারবেন না। টেম্পোরারি ফরেন ওয়ার্কার প্রোগ্রামের আওতায় কম মজুরির কর্মী নিয়োগের আগে সাধারণত শ্রমবাজারের প্রভাব মূল্যায়ন নিতে হবে। এর মাধ্যমে কানাডার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে ওই কাজের জন্য উপযুক্ত কর্মী পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হয়। অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল মোবিলিটি প্রোগ্রাম সাধারণত শ্রমবাজারের প্রভাব মূল্যায়ন ছাড়াই বিদেশি কর্মীদের কানাডায় কাজের সুযোগ দেয়। এই কর্মসূচিতে কানাডার অর্থনীতি, সংস্কৃতি বা অন্যান্য বৃহত্তর স্বার্থে উপকারী হিসেবে বিবেচিত বিভিন্ন ধরনের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০২৬ সালের মোট ২ লাখ ৩০ হাজার কর্মীর লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে এই কর্মসূচির অংশই সবচেয়ে বড়। কানাডার নতুন হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মোট ২ লাখ ৩০ হাজার অস্থায়ী বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ ও যোগ্য কর্মীদের জন্য কানাডার শ্রমবাজারে সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রতিটি আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির যোগ্যতা, চাকরির শর্ত এবং কানাডার অভিবাসন আইন মেনে আবেদন করতে হবে।