সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

শিকাগোতে ওয়েন্ডিসের বার্গার খেয়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, ৯৩ হাজার ডলারের চিকিৎসা বিল নিয়ে মামলা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৬:৩৩
শিকাগোতে ওয়েন্ডিসের বার্গার খেয়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, ৯৩ হাজার ডলারের চিকিৎসা বিল নিয়ে মামলা
শিকাগোতে ওয়েন্ডিসের বার্গার খেয়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, ৯৩ হাজার ডলারের চিকিৎসা বিল নিয়ে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন 'ওয়েন্ডিস'-এর একটি ডাবল চিজবার্গার খেয়ে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিকাগোর এক নারী। রক্সি এলিস ডগলাস (৬৮) নামের ওই নারীর দাবি, খাবারটি খাওয়ার পর তিনি 'ক্যাম্পিলোব্যাক্টেরিওসিস' নামের গুরুতর ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে আক্রান্ত হন।

 

এর ফলে তীব্র গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল জটিলতা, ডিহাইড্রেশন ও কোলন প্রদাহ নিয়ে তাকে দুই দফায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় এবং চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয় ৯৩ হাজার ৫০০ ডলারেরও বেশি অর্থ।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, ডগলাস শিকাগোর সাউথ স্টনি আইল্যান্ড অ্যাভিনিউর ওয়েন্ডিস আউটলেট থেকে ডোরড্যাশের মাধ্যমে একটি ডাবল চিজবার্গার ও বেকড পটেটো অর্ডার করেছিলেন। সিল করা ব্যাগে খাবার পৌঁছানোর পর আপাতদৃষ্টিতে কোনো সমস্যা মনে না হলেও, খাবার খাওয়ার পরদিনই তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

 

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রেস্তোরাঁ থেকে সরবরাহ করার সময়ই খাবারটি ক্ষতিকর ক্যাম্পিলোব্যাক্টার ও অন্যান্য রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত ছিল, যা মানুষের খাওয়ার সম্পূর্ণ অনুপযোগী। বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ জীবনঘাতী হতে পারে।

 

চিকিৎসা ব্যয় সংক্রান্ত নথিতে দেখা যায়, অসুস্থতার কারণে ডগলাসকে প্রায় ২ হাজার ৮০০ ডলার ব্যয়ে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নিতে হয়। প্রথম দফায় তিন দিন এবং পরবর্তীতে জটিলতা বাড়ায় দ্বিতীয় দফায় আরও পাঁচ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এছাড়া পরবর্তীতে জটিলতা পর্যবেক্ষণে তার কোলনোস্কপিসহ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

 

নিরাপদ খাদ্য তৈরিতে ব্যর্থতা এবং খাদ্যের ঝুঁকি সম্পর্কে গ্রাহককে যথাযথ সতর্ক না করার অভিযোগ এনে ওয়েন্ডিসের কাছে ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ডগলাস। তবে এ বিষয়ে ওয়েন্ডিস কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বয়ফ্রেন্ডের হাতে খু ন ১৮ বছরের নারী ফুটবলার
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বয়ফ্রেন্ডের হাতে খু ন ১৮ বছরের নারী ফুটবলার, লা শ গুমে মায়ের সহায়তা

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বয়ফ্রেন্ডের হাতে ১৮ বছর বয়সী এক নারী ফুটবলারের মর্মান্তিক খুনের ঘটনায় দেশটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পেনওয়েস্ট ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির মেধাবী শিক্ষার্থী ও সকার খেলোয়াড় ক্যারোলিন হেইঞ্জকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর লাশ গুম করতে নিজের মাকে ব্যবহার করেছে অভিযুক্ত বয়ফ্রেন্ড রয়েস মোসার (১৮)।   এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের পর ক্যারোলিনের পরিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যেন পিতা-মাতার জীবনের সবচেয়ে ‘ভয়ংকর দুঃস্বপ্নের’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। পেনসিলভানিয়া স্টেট পুলিশের মাধ্যমে দেওয়া ওই শোকবার্তায় পরিবারটি জানায়, ক্যারোলিন ছিল সবার কাছে প্রিয়, অত্যন্ত দয়ালু, বুদ্ধিমতী ও সুন্দর মনের অধিকারী। তারা তাদের এই আদরের মেয়ের হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।   পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, গত বুধবার রাতে নর্থ স্ট্র্যাবেইন টাউনশিপে মোসারের বাবার বাড়ির বাইরে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলছিল এই যুগল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে মোসার ক্যারোলিনকে কিছু দেওয়ার কথা বলে ঘরের ভেতর থেকে একটি বড় রান্নাঘরের ছুরি নিয়ে আসে।   সে সময় ক্যারোলিন তার জিপ চেরোকি গাড়ির ভেতর বসা ছিলেন এবং মোসার সরাসরি তার বুকে মারাত্মকভাবে ছুরিকাঘাত করে। হামলার পর ক্যারোলিন গাড়ি থেকে নিচে পড়ে গেলে মোসার তড়িঘড়ি করে তার মরদেহ গাড়ির পেছনের অংশে লুকিয়ে ফেলে। এরপর সে তার মা র‍্যাচেল মোসারের (৫৭) কাছে ছুটে যায় এবং মা-ছেলে দুজনে মিলে গাড়ি ও নিজেদের শরীর থেকে হত্যাকাণ্ডের সব প্রমাণ মুছে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা করে।   প্রমাণ গায়েব করার পর মা ও ছেলে মিলে ক্যারোলিনের গাড়িটি পেনওয়েস্ট ক্যালিফোর্নিয়া ক্যাম্পাসের বাইরে একটি পাবলিক লাইব্রেরির সামনে ফেলে রেখে আসে। এদিকে নির্দিষ্ট সময়ে ক্যারোলিন তার ডরমেটরিতে না পৌঁছানোয় এবং কোনো খোঁজ না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন পরিবার পুলিশের কাছে তল্লাশির আবেদন করে।   পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ পরিত্যক্ত গাড়ির পেছন থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার সকালে মোসার ও তার মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।   মোসারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যা, মৃতদেহের অবমাননা ও প্রমাণ নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং ছেলেকে হত্যার আলামত লুকাতে সাহায্য করায় তার মাকেও সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জেরার মুখে মোসার দাবি করেছে যে তার ওপর কোনো 'প্রেতাত্মা' ভর করেছিল এবং সেই তাকে ক্যারোলিনকে হত্যার নির্দেশ দেয়।   এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ক্যারোলিনের সকার দলের সতীর্থরা ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন শোকবার্তা দিয়ে তার স্মৃতিচারণ করেছেন। তারা ক্যারোলিনকে মাঠ ও মাঠের বাইরের এক ‘হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত সহখেলোয়াড়’ হিসেবে স্মরণ করে নিজেদের প্রতিটি খেলা তার নামে উৎসর্গ করার ঘোষণা দিয়েছেন।   এছাড়া, শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং গার্হস্থ্য সহিংসতা রোধে কাজ করা সংস্থাগুলোকে আর্থিকভাবে সহায়তার জন্য ক্যারোলিনের নামে একটি তহবিল (GoFundMe) গঠন করেছেন তার বন্ধুরা। ক্যারোলিনের এই অকাল মৃত্যুতে পুরো কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৭:৪৫
শিকাগোতে ওয়েন্ডিসের বার্গার খেয়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, ৯৩ হাজার ডলারের চিকিৎসা বিল নিয়ে মামলা

শিকাগোতে ওয়েন্ডিসের বার্গার খেয়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, ৯৩ হাজার ডলারের চিকিৎসা বিল নিয়ে মামলা

নিউইয়র্কে কর্মক্ষেত্রে ওজুর জায়গা না পেয়ে কিচেন সিঙ্কেই ওজু মুসলিম কর্মীর

নিউইয়র্কে কর্মক্ষেত্রে ওজুর জায়গা না পেয়ে কিচেন সিঙ্কেই ওজু মুসলিম কর্মীর, ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

নিউইয়র্কে ফ্রি বাসের প্রতিশ্রুতি অধরা, আপাতত ২০ শতাংশ গতি বাড়িয়ে যাত্রীদের সময় বাঁচাতে মামদানির উদ্যোগ

নিউইয়র্কে ফ্রি বাসের প্রতিশ্রুতি অধরা, আপাতত ২০ শতাংশ গতি বাড়িয়ে যাত্রীদের সময় বাঁচাতে মামদানির উদ্যোগ

মার্কিন সেনাবাহিনীতে যৌ ন নিপীড়নের শিকার ২০ হাজারের বেশি সদস্য, পেন্টাগনের রিপোর্টে উদ্বেগ I ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন সেনাবাহিনীতে যৌ ন নিপীড়নের শিকার ২০ হাজারের বেশি সদস্য, পেন্টাগনের রিপোর্টে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির হার গত দুই বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এখনো এই সংখ্যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়ে গেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) প্রকাশিত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ২০২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বছরে আনুমানিক ২০ হাজার ৪৯২ জন সামরিক সদস্য অনিচ্ছাকৃত যৌন সংস্পর্শ বা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।   দুই বছর আগের পরিসংখ্যানের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় সাড়ে আট হাজার কম। মার্কিন কংগ্রেসের নির্দেশনায় পরিচালিত কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা জরিপের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে সামরিক বাহিনীতে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এবং হয়রানির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।   প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় নারী ও পুরুষ—উভয় সদস্যের ক্ষেত্রেই যৌন নিপীড়নের হার দৃশ্যমানভাবে কমেছে। নারী সদস্যদের মধ্যে ২০২৩ সালে যেখানে যৌন নিপীড়নের হার ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।   একইভাবে পুরুষ সদস্যদের ক্ষেত্রে এই হার ১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ১ শতাংশে নেমে এসেছে। শুধু নিপীড়ন নয়, সামরিক বাহিনীতে সার্বিক যৌন হয়রানির ঘটনাও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। ২০২৩ সালে প্রায় ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ নারী সদস্য হয়রানির শিকার হলেও ২০২৫ সালে তা ১৭ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে।   আশার কথা হলো, নিপীড়নের শিকার হওয়ার পর তা কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর প্রবণতা সামরিক সদস্যদের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ ঘটনা সরকারি প্রক্রিয়ায় রিপোর্ট করা হতো, ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।   মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মতে, অভিযোগ জানানোর এই বৃদ্ধি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। এর ফলে ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও পুনর্বাসন সেবা সহজে পাচ্ছেন। পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনাও সম্ভব হচ্ছে।   মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের জনবল ও প্রস্তুতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যান্থনি জে. টাটা এই প্রসঙ্গে বলেন, মর্যাদা, সম্মান ও শৃঙ্খলাই হলো সামরিক বাহিনীর মূল ভিত্তি। যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির মতো ঘটনা এসব মূল্যবোধকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে এবং বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রমকে হুমকির মুখে ফেলে।   উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লেখিত ২০ হাজার ৪৯২ জনের হিসাবটি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নয়, বরং জরিপের মাধ্যমে উঠে আসা একটি প্রাক্কলন। এই পরিসংখ্যানে এমন অনেক ঘটনার কথাও যুক্ত রয়েছে, যা কখনোই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। হার কমার এই ইতিবাচক খবরের পরও বিপুলসংখ্যক সদস্যের এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হওয়ার বিষয়টি মার্কিন সামরিক প্রশাসনের জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:৫৯
ইমিগ্রেশনে জালিয়াতি ঠেকাতে ১০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন প্রযুক্তি আনছে ইউএসসিআইএস

ইমিগ্রেশনে জালিয়াতি ঠেকাতে ১০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন প্রযুক্তি আনছে ইউএসসিআইএস

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে যোগ দিতে ভার্জিনিয়ার পথে নকীব খান ও প্রতীক হাসান। ছবি: সংগৃহীত

ভার্জিনিয়ার মেজবানে যোগ দিতে পথে নকীব খান ও প্রতীক হাসান, এয়ারপোর্টে অপেক্ষার ছবি ফেসবুকে

মার্কিন তালিকা থেকে বাদ পড়ার ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে পুনঃএকীভূত হওয়ার পথ সুগম হবে সিরিয়ার। ছবি: সংগৃহীত

সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে বাবার মৃত্যুর পর সেখানেই কম খরচে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছিলেন এক ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত
টাকা বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রেই বাবার শেষকৃত্য, চার বছর পর আফসোস ‘কেন তাকে দেশে নিয়ে যেতে পারলাম না’

যুক্তরাষ্ট্রে বাবার মৃত্যুর পর কম খরচে সেখানেই তাঁর শেষকৃত্য করেছিলেন এক ব্যক্তি। কিন্তু চার বছর পর সেই সিদ্ধান্তই তার মনে গভীর অনুশোচনা তৈরি করেছে। এখন তার মনে বারবার প্রশ্ন জাগে, কেন বাবার মরদেহ নিজ দেশ পুয়ের্তো রিকোতে নিয়ে গিয়ে শেষকৃত্য করতে পারলেন না।   সম্প্রতি নিউজউইকে প্রকাশিত এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার লেখায় ওই ব্যক্তি বাবার মৃত্যু, শেষকৃত্য এবং পরবর্তী সময়ের অনুশোচনার কথা তুলে ধরেছেন।   ওই ব্যক্তি জানান, ২০২২ সালের জুনে তার বাবা মারা যান। বাবার মৃত্যুর সময় তিনি পেনসিলভানিয়া থেকে জর্জিয়ার দিকে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এর আগের দিন বাবার নার্সিংহোম থেকে তাকে জানানো হয়েছিল, তার বাবা জীবনের শেষ পর্যায়ে রয়েছেন।   বাবার মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রেই কম খরচে তাঁর ক্রিমেশন বা দাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে খরচ হয়েছিল ১ হাজার ডলারেরও কম। তখন অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় সিদ্ধান্তটি তার কাছে যুক্তিসঙ্গত মনে হয়েছিল।   কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাবার শেষকৃত্য নিয়ে তার ভাবনা বদলে যায়।   তার বাবা জীবনের বড় একটি সময় পুয়ের্তো রিকোর লোইজা এলাকায় কাটিয়েছেন। সেখানেই ছিল তার শিকড় এবং নিজের একটি বাড়িও ছিল। তাই চার বছর পর এখন ছেলের মনে হচ্ছে, বাবার শেষকৃত্য পুয়ের্তো রিকোতে করা হলে হয়তো তার মনে এই আফসোস থাকত না।   নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি মূলত দেখাতে চেয়েছেন, প্রিয়জনের মৃত্যুর পর শেষকৃত্য শুধু অর্থের হিসাবের বিষয় নয়। পরিবারের শিকড়, সংস্কৃতি, স্মৃতি এবং প্রিয়জনকে শেষবারের মতো নিজের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষাও সিদ্ধান্তটির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে।   বাবার মৃত্যুর সময় নেওয়া সিদ্ধান্তটি তখন হয়তো অর্থনৈতিকভাবে সহজ ছিল। কিন্তু চার বছর পর সেই সিদ্ধান্তের মানসিক মূল্যই তার কাছে বড় হয়ে উঠেছে। বাবাকে দেশে নিয়ে গিয়ে শেষ বিদায় জানাতে না পারার আক্ষেপ এখনো তাকে তাড়া করে।   নিউজউইকে প্রকাশিত এই ব্যক্তিগত লেখাটি মূলত একজন সন্তানের শোক, পারিবারিক শিকড় এবং মৃত্যুর পর নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী অনুশোচনার একটি মানবিক গল্প।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১১:৫৭
যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিই একমাত্র পথ নয়। ছবি: সংগৃহীত

৬ মাসে শেখা যায় এমন ১০ দক্ষতা, যা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে কাজে লাগতে পারে

নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা স্থগিত নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসন আপিল না করলে শিগগিরই শুরু হতে পারে ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেওয়া

ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীর সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেয়েছেন এক বাংলাদেশি তরুণ। ছবি: সংগৃহীত

ইমিগ্রেশন কড়াকড়ির মধ্যেও মেধাবী তরুণের গ্রিন কার্ড, জানালেন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী

0 Comments