সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
মার্কিন তালিকা থেকে বাদ পড়ার ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে পুনঃএকীভূত হওয়ার পথ সুগম হবে সিরিয়ার। ছবি: সংগৃহীত
সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সিরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শনিবার সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির ওপর থাকা বিস্তৃত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে সিরিয়ার পুনঃএকীভূত হওয়ার পথে থাকা বড় একটি আইনি বাধা দূর হতে পারে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র দ্য নিউ আরবকে জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর জুলাইয়ের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রুবিওর মূল্যায়ন ছিল, তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও রাজনৈতিক শর্ত সিরিয়া পূরণ করেছে।   ১৯৭৯ সাল থেকে সিরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকায় রয়েছে। এই তালিকাভুক্তির কারণে দেশটির ওপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।    তালিকা থেকে বাদ পড়লে সিরিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবসা, বিনিয়োগ ও আর্থিক লেনদেন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। দেশটির দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কমিয়ে পুনর্গঠন ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফেরার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   তবে তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম বাদ গেলেই যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা একসঙ্গে উঠে যাবে না। বিভিন্ন আইন ও নির্বাহী আদেশের আওতায় থাকা পৃথক নিষেধাজ্ঞা এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা আলাদাভাবে বহাল থাকতে পারে।   সিরিয়াকে এখনো নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতে সিরিয়ায় ভ্রমণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দেশটিতে সন্ত্রাসবাদ, সংঘাত, অপহরণ ও অন্যান্য নিরাপত্তাঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।    ফলে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সিরিয়ার জন্য বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও, দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের পথে আরও কিছু বিধিনিষেধ ও চ্যালেঞ্জ রয়ে যাবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ১২:১৪
ফরিদপুরে নিজ বাড়ির ছাদে ইলেকট্রিশিয়ানকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুলিশ পরিদর্শক আবীর হোসেনের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত
ইলেকট্রিশিয়ানকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুলিশ পরিদর্শকের মৃত্যু

ফরিদপুর শহরে নিজ বাড়ির ছাদে বৈদ্যুতিক কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট এক ইলেকট্রিশিয়ানকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. আবীর হোসেন (৫৫) নামে এক পুলিশ পরিদর্শকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে শহরের গোয়ালচামট এলাকার খোদাবক্স রোডে নিজের নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহত আবীর হোসেন শরীয়তপুরের নড়িয়া সার্কেল অফিসে পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আবু বকর মোল্লার ছেলে। কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ফরিদপুরের নিজ বাড়িতে এসেছিলেন তিনি।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরে আবীর হোসেনের নতুন বাড়ির ছাদে বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ চলছিল। এ সময় ইলেকট্রিশিয়ান আবদুল আজিজ (২৫) হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। বিষয়টি দেখে তাকে উদ্ধারের জন্য দ্রুত এগিয়ে যান আবীর হোসেন। এ সময় তিনিও বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন।   পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবীর হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত আবদুল আজিজ বর্তমানে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিজের নতুন বাড়ির ছাদে বৈদ্যুতিক কাজ চলার সময় দুর্ঘটনায় পুলিশ পরিদর্শক আবীর হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ১২:৩
যুক্তরাষ্ট্রে বাবার মৃত্যুর পর সেখানেই কম খরচে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছিলেন এক ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত
টাকা বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রেই বাবার শেষকৃত্য, চার বছর পর আফসোস ‘কেন তাকে দেশে নিয়ে যেতে পারলাম না’

যুক্তরাষ্ট্রে বাবার মৃত্যুর পর কম খরচে সেখানেই তাঁর শেষকৃত্য করেছিলেন এক ব্যক্তি। কিন্তু চার বছর পর সেই সিদ্ধান্তই তার মনে গভীর অনুশোচনা তৈরি করেছে। এখন তার মনে বারবার প্রশ্ন জাগে, কেন বাবার মরদেহ নিজ দেশ পুয়ের্তো রিকোতে নিয়ে গিয়ে শেষকৃত্য করতে পারলেন না।   সম্প্রতি নিউজউইকে প্রকাশিত এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার লেখায় ওই ব্যক্তি বাবার মৃত্যু, শেষকৃত্য এবং পরবর্তী সময়ের অনুশোচনার কথা তুলে ধরেছেন।   ওই ব্যক্তি জানান, ২০২২ সালের জুনে তার বাবা মারা যান। বাবার মৃত্যুর সময় তিনি পেনসিলভানিয়া থেকে জর্জিয়ার দিকে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এর আগের দিন বাবার নার্সিংহোম থেকে তাকে জানানো হয়েছিল, তার বাবা জীবনের শেষ পর্যায়ে রয়েছেন।   বাবার মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রেই কম খরচে তাঁর ক্রিমেশন বা দাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে খরচ হয়েছিল ১ হাজার ডলারেরও কম। তখন অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় সিদ্ধান্তটি তার কাছে যুক্তিসঙ্গত মনে হয়েছিল।   কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাবার শেষকৃত্য নিয়ে তার ভাবনা বদলে যায়।   তার বাবা জীবনের বড় একটি সময় পুয়ের্তো রিকোর লোইজা এলাকায় কাটিয়েছেন। সেখানেই ছিল তার শিকড় এবং নিজের একটি বাড়িও ছিল। তাই চার বছর পর এখন ছেলের মনে হচ্ছে, বাবার শেষকৃত্য পুয়ের্তো রিকোতে করা হলে হয়তো তার মনে এই আফসোস থাকত না।   নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি মূলত দেখাতে চেয়েছেন, প্রিয়জনের মৃত্যুর পর শেষকৃত্য শুধু অর্থের হিসাবের বিষয় নয়। পরিবারের শিকড়, সংস্কৃতি, স্মৃতি এবং প্রিয়জনকে শেষবারের মতো নিজের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষাও সিদ্ধান্তটির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে।   বাবার মৃত্যুর সময় নেওয়া সিদ্ধান্তটি তখন হয়তো অর্থনৈতিকভাবে সহজ ছিল। কিন্তু চার বছর পর সেই সিদ্ধান্তের মানসিক মূল্যই তার কাছে বড় হয়ে উঠেছে। বাবাকে দেশে নিয়ে গিয়ে শেষ বিদায় জানাতে না পারার আক্ষেপ এখনো তাকে তাড়া করে।   নিউজউইকে প্রকাশিত এই ব্যক্তিগত লেখাটি মূলত একজন সন্তানের শোক, পারিবারিক শিকড় এবং মৃত্যুর পর নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী অনুশোচনার একটি মানবিক গল্প।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ১১:৫৭
স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য মার্টিন ডে কেরালার বিখ্যাত গুরুয়ায়ুর মন্দিরে বিয়ে করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
স্কটিশ পার্লামেন্ট সদস্যের কেরালার মন্দিরে বিয়ে, পূরণ হলো দীর্ঘদিনের ইচ্ছা

স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য মার্টিন ডে কেরালার ত্রিশূরের বিখ্যাত গুরুয়ায়ুর মন্দিরে মালয়ালি সঙ্গী নিধিন চন্দের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী রীতিতে বিয়ে করেছেন। যুক্তরাজ্যে বিয়ের আইনি নিবন্ধনের প্রায় নয় বছর পর মঙ্গলবার গুরুয়ায়ুর মন্দিরে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। নিধিনের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল গুরুয়ায়ুর মন্দিরে বিয়ে করা।   মন্দিরে সকাল ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত বিয়ের অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ স্বজন ও বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন। নিধিনের ২২ বছর বয়সী ছেলে ভেদিক শঙ্করও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। মন্দিরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পুষ্পাঞ্জলি অডিটোরিয়ামে বিয়ের পরবর্তী আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।    পিরাভোমের বাসিন্দা নিধিন ২০০৮ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে যান। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি আইটি ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করেন এবং পরে পিএইচডিও সম্পন্ন করেন।    যুক্তরাজ্যে থাকার সময় বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিবর্তনের প্রভাব তার ওপরও পড়ে। এরপর তিনি ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে তুলে ধরতে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন এবং পার্লামেন্টারি কমিটির কাছেও বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন। সেই সময়ই তৎকালীন ব্রিটিশ এমপি মার্টিন ডের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।    ২০১৬ সালে তাদের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। পরে যুক্তরাজ্যেই তাদের বিয়ে নিবন্ধিত হয়। তবে নিধিনের ইচ্ছা ছিল গুরুয়ায়ুর মন্দিরে ঐতিহ্যবাহী রীতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেই ইচ্ছা এবার পূরণ হলো। কেরালায় মার্টিনের আগের সফরগুলোতে বন্যা, কোভিড মহামারি ও পারিবারিক নানা কারণে গুরুয়ায়ুরে যাওয়া সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।    মার্টিন ডে এর আগে তিন মেয়াদে প্রায় নয় বছর যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সর্বদলীয় পার্লামেন্টারি গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ১১:৪৭
যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিই একমাত্র পথ নয়। ছবি: সংগৃহীত
৬ মাসে শেখা যায় এমন ১০ দক্ষতা, যা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে কাজে লাগতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে শুধু ডিগ্রিই একমাত্র পথ নয়। নির্দিষ্ট কিছু কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতা অর্জন করেও নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। তবে কোনো একটি দক্ষতা শিখলেই ছয় মাসের মধ্যে নির্দিষ্ট বেতন বা চাকরি নিশ্চিত হবে, এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়। বেতন, প্রশিক্ষণের সময়, লাইসেন্স এবং চাকরির চাহিদা অঙ্গরাজ্য, শহর, নিয়োগদাতা ও ব্যক্তির অভিজ্ঞতা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।   নতুনদের জন্য তাই এমন দক্ষতা বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলোর বাস্তব কর্মক্ষেত্রে ব্যবহার রয়েছে এবং প্রশিক্ষণ বা সনদের মাধ্যমে ধীরে ধীরে উন্নত করা যায়।   ১. ফর্কলিফট পরিচালনা ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ওয়্যারহাউস ও পণ্য বিতরণকেন্দ্রে ফর্কলিফট পরিচালনার দক্ষতার চাহিদা রয়েছে। পণ্য ওঠানো, নামানো ও সরানোর পাশাপাশি নিরাপদভাবে যন্ত্রপাতি ব্যবহারের প্রশিক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ।   তবে শুধু অনলাইনে ভিডিও দেখে ফর্কলিফট চালানো শেখা যথেষ্ট নয়। নিয়োগদাতার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা যাচাই লাগতে পারে। কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী ফর্কলিফট অপারেটরদের নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।   ২. বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রস্তুতি বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স বা সিডিএল অর্জন করতে পারলে ট্রাক ড্রাইভিংসহ পরিবহন খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু সিডিএল পারমিট পেলেই সব ধরনের ট্রাক চালানো যায় না। পূর্ণ সিডিএল পেতে লিখিত পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং প্রযোজ্য দক্ষতা পরীক্ষার ধাপ রয়েছে।   যারা দীর্ঘমেয়াদে ড্রাইভিং পেশায় যেতে চান, তাদের জন্য সিডিএল প্রস্তুতি একটি বাস্তব ক্যারিয়ার দক্ষতা হতে পারে। কোন ধরনের সিডিএল বা অতিরিক্ত অনুমোদন প্রয়োজন হবে, তা কাঙ্ক্ষিত কাজের ওপর নির্ভর করে।   ৩. তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা কম্পিউটার ও প্রযুক্তিতে আগ্রহ থাকলে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা বা আইটি সাপোর্ট একটি সম্ভাব্য ক্যারিয়ার পথ। কম্পিউটারের সমস্যা সমাধান, সফটওয়্যার ইনস্টলেশন, ব্যবহারকারীকে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং নেটওয়ার্কের মৌলিক বিষয় শেখা এই দক্ষতার অংশ।   তবে আইটি সাপোর্ট শিখলেই সরাসরি উচ্চ বেতনের চাকরি নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কম্পিউটার ব্যবহারকারী সহায়তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৬০ হাজার ৩৪০ ডলার। কিছু ক্ষেত্রে কলেজ পর্যায়ের পড়াশোনার পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রযুক্তি সনদ থাকলেও চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।   ৪. স্বাস্থ্যসেবা সহকারী হিসেবে প্রশিক্ষণ স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করতে চাইলে নার্সিং সহকারী বা অন্যান্য সহায়ক পেশার প্রশিক্ষণ বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এই ধরনের চাকরিতে অঙ্গরাজ্যভেদে অনুমোদিত প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা বা অন্যান্য যোগ্যতা প্রয়োজন হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা সহায়ক পেশাগুলোর ক্ষেত্রেও চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   ৫. ওয়েল্ডিং কারিগরি পেশায় যেতে চাইলে ওয়েল্ডিং একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। বিশেষ করে মিগ ওয়েল্ডিংসহ বিভিন্ন ধরনের ওয়েল্ডিং শেখার মাধ্যমে উৎপাদন, নির্মাণ ও অন্যান্য শিল্প খাতে কাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যায়।   তবে ওয়েল্ডিং শিখলেই নির্দিষ্ট ঘণ্টাপ্রতি বেতন নিশ্চিত নয়। বেতন নির্ভর করে অভিজ্ঞতা, সনদ, শ্রমিক ইউনিয়ন, নিয়োগদাতা এবং এলাকার ওপর। ট্রেড স্কুল, কমিউনিটি কলেজ বা অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়া বেশি কার্যকর।   ৬. রিয়েল এস্টেট রিয়েল এস্টেট পেশায় যেতে চাইলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের লাইসেন্সের নিয়ম জানতে হবে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কোর্স, পরীক্ষা এবং লাইসেন্সের নিয়ম এক নয়।   এই পেশায় সাধারণ চাকরির মতো নির্দিষ্ট মাসিক বেতন নাও থাকতে পারে। আয় অনেক ক্ষেত্রে কমিশনভিত্তিক হয়। একটি বাড়ি বিক্রি করলেই নির্দিষ্ট অঙ্কের কমিশন পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই। তাই লাইসেন্স নেওয়ার পাশাপাশি বিপণন, গ্রাহকসেবা এবং স্থানীয় আবাসন বাজার সম্পর্কে জ্ঞান প্রয়োজন।   ৭. হিসাবরক্ষণ ও কুইকবুকস ছোট ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব পরিচালনার জন্য হিসাবরক্ষণ বা বুককিপিং দক্ষতা কাজে লাগতে পারে। আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা, চালান, পেমেন্ট এবং আর্থিক রেকর্ড ব্যবস্থাপনার মতো কাজ এই দক্ষতার মধ্যে পড়ে।   কুইকবুকসের মতো হিসাবরক্ষণ সফটওয়্যার শেখা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তবে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সফটওয়্যার ব্যবহারের পাশাপাশি হিসাববিজ্ঞানের মৌলিক জ্ঞান এবং নির্ভুলভাবে হিসাব পরিচালনার দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ।   ৮. এইচভিএসি হিটিং, ভেন্টিলেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং বা এইচভিএসি যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ক্ষেত্র। ঘরবাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবনের হিটিং ও কুলিং ব্যবস্থা স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামতের কাজে এই দক্ষতা ব্যবহার হয়।   এইচভিএসি পেশায় যেতে হলে শুধু কয়েকটি অনলাইন ভিডিও দেখার চেয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষানবিশ কর্মসূচি বেশি কার্যকর। কিছু কাজে অতিরিক্ত লাইসেন্স বা সনদেরও প্রয়োজন হতে পারে।   ৯. বাণিজ্যিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সাধারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভবনের মেঝে পরিচর্যা, কার্পেট পরিষ্কার এবং বিভিন্ন যন্ত্র পরিচালনার মতো বিশেষ দক্ষতা অর্জন করলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।   এই কাজে ব্যবহৃত মেশিন ও রাসায়নিক নিরাপদভাবে পরিচালনা শেখা গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইনে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেলেও বাস্তব প্রশিক্ষণ ছাড়া পেশাদারভাবে কাজ শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। নিজের ব্যবসা শুরু করতে চাইলে স্থানীয় ব্যবসায়িক লাইসেন্স, বীমা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নিয়মও যাচাই করতে হবে।   ১০. ডিজিটাল বিপণন ও ভিডিও সম্পাদনা ছোট ব্যবসার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট, ভিডিও, গ্রাফিক ডিজাইন ও ডিজিটাল বিপণনের কাজের সুযোগ রয়েছে। ক্যানভা, ক্যাপকাট বা অন্যান্য সফটওয়্যার দিয়ে প্রাথমিক কাজ শেখা তুলনামূলক সহজ হলেও পেশাদার পর্যায়ে যেতে হলে কনটেন্ট কৌশল, বিজ্ঞাপন, তথ্য বিশ্লেষণ এবং গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগের মতো দক্ষতাও প্রয়োজন।   অনলাইনে বিনামূল্যে বা কম খরচের কোর্স দিয়ে শুরু করা যায়। পরে নিজের কাজের নমুনা বা পোর্টফোলিও তৈরি করে স্থানীয় ব্যবসা কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহক খোঁজা যেতে পারে।   কীভাবে শুরু করবেন? একসঙ্গে ১০টি দক্ষতা শেখার চেষ্টা না করে নিজের বর্তমান অভিজ্ঞতা, সময়, অর্থ এবং আগ্রহ অনুযায়ী একটি ক্ষেত্র বেছে নেওয়া ভালো। প্রতিদিন নিয়মিত সময় দেওয়ার পাশাপাশি বাস্তব অনুশীলন ও ছোট প্রকল্প তৈরি করলে দক্ষতা দ্রুত বাড়তে পারে।   যারা শারীরিক ও কারিগরি কাজে আগ্রহী, তারা এইচভিএসি, ওয়েল্ডিং বা ফর্কলিফট পরিচালনা বিবেচনা করতে পারেন। ড্রাইভিংয়ে আগ্রহ থাকলে সিডিএল একটি দীর্ঘমেয়াদি পথ হতে পারে। কম্পিউটারে কাজ করতে চাইলে আইটি সাপোর্ট, বুককিপিং বা ডিজিটাল বিপণন শেখা যেতে পারে। আর স্বাস্থ্যসেবায় ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অঙ্গরাজ্যের নিয়ম যাচাই করে নার্সিং সহকারীর মতো পেশা বিবেচনা করা যায়।   যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে দক্ষতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো একটি অনলাইন কোর্স শেষ করলেই নির্দিষ্ট বেতন বা চাকরি নিশ্চিত হয় না। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর মধ্যে বায়ু টারবাইন সার্ভিস টেকনিশিয়ান, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী, নার্স প্র্যাকটিশনার, তথ্যবিজ্ঞানী এবং তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতো পেশা রয়েছে। এসব পেশার অনেকগুলোর জন্য অতিরিক্ত শিক্ষা বা বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।   তাই নতুন দক্ষতা শেখার সময় শুধু দ্রুত বেশি বেতনের আশ্বাসের দিকে না তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট পেশার যোগ্যতা, লাইসেন্স, প্রশিক্ষণের খরচ, স্থানীয় চাকরির চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও বিবেচনা করা জরুরি। সঠিক দক্ষতা ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে পারলে বর্তমান চাকরি থেকে আরও ভালো ক্যারিয়ারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ১১:৪১
চালকদের অ্যাকাউন্ট বন্ধের কারণে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ উবারকে ৯৬৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা। ছবি: সংগৃহীত
ড্রাইভারদের অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করায় উবারকে ৯৬৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

ড্রাইভারদের অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় করায় উবারকে ৯৬৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে নেদারল্যান্ডসের ডেটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ। ১৭ আগস্ট দেওয়া সিদ্ধান্তে কর্তৃপক্ষ জানায়, উবার পর্যাপ্তভাবে না জানিয়ে এবং মানবীয় পর্যালোচনা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় ড্রাইভারদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে। শুক্রবার নেদারল্যান্ডসের কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করে।   উবারের বিরুদ্ধে আরোপ করা জরিমানার পরিমাণ ৮২৫ মিলিয়ন ইউরো, যা প্রায় ৯৬৬ মিলিয়ন ডলারের সমান। ইউরোপের সাধারণ তথ্য সুরক্ষা বিধিমালার আওতায় এটি এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় বৃহত্তম জরিমানা। এর আগে ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডে মেটাকে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো জরিমানা করা হয়েছিল।   নেদারল্যান্ডসের ডেটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের উপপ্রধান মনিক ভারডিয়ার বলেন, উবার সতর্কতা বা মানবীয় সম্পৃক্ততা ছাড়াই ড্রাইভারদের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করেছে। এর ফলে ড্রাইভাররা হঠাৎ করে তাদের আয়ের উৎস হারিয়েছেন। বড় ধরনের প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্ত কোনো কম্পিউটারের এককভাবে নেওয়া উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।   উবার অবশ্য এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা সিদ্ধান্ত এবং জরিমানার পরিমাণকে অযৌক্তিক মনে করছে। উবারের দাবি, তারা ড্রাইভারদের অধিকারকে গুরুত্ব দেয় এবং তাদের নীতিতে মানবীয় পর্যালোচনার পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট স্থগিতের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর সুযোগ রয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে।   ঘটনাগুলো ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ইউরোপে ঘটেছে। একটি ফরাসি অভিযোগের সূত্র ধরে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে। উবারের ইউরোপীয় সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসে হওয়ায় বিষয়টি দেশটির ডেটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের অধীনে তদন্ত করা হয়।   উবার প্রতারণার সন্দেহে কিছু ড্রাইভারের অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। এর মধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জন্য অপ্রয়োজনীয় পথে যাওয়া অথবা যাত্রা শেষ করার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও ভ্রমণ গ্রহণ করার মতো বিষয় ছিল। উবার জানিয়েছে, এসব স্থগিতাদেশ সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য ছিল এবং মানবীয় পর্যালোচনা ছাড়া স্থায়ীভাবে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হতো না।   তবে নেদারল্যান্ডসের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কম গ্রাহক রেটিং পাওয়া কিছু ড্রাইভারের অ্যাকাউন্ট কম্পিউটারের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল। উবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, স্থায়ীভাবে অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার সিদ্ধান্ত তারা কখনো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেয়নি।   উবার আরও জানিয়েছে, জরিমানার পরিমাণ অযৌক্তিক হওয়ার একটি কারণ হলো এতে ক্ষতিগ্রস্ত ড্রাইভারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ইউরোপে কম গ্রাহক রেটিংয়ের কারণে ১২৬ জন ড্রাইভারের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উবারের ২০২৫ সালের বার্ষিক আয়ের একটি অংশ হিসাব করে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।   ইউরোপের সাধারণ তথ্য সুরক্ষা বিধিমালা অনুযায়ী, মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্ত শুধু কম্পিউটার অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নেওয়া যাবে না। এ ধরনের সিদ্ধান্তে অর্থবহ মানবীয় পর্যালোচনা এবং সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকতে হবে।   সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ডিজিটাল অধিকার সংগঠন পারসোনালডাটা ডট আইও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটি ফরাসি উবার ড্রাইভারদের কর্মসংক্রান্ত অ্যালগরিদমিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে তথ্য পেতে সহায়তা করেছিল। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা পল অলিভিয়ের দেহায়ে জানিয়েছেন, ড্রাইভারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে উবারের বিরুদ্ধে একটি যৌথ মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ১১:৩১
নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা স্থগিত নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসন আপিল না করলে শিগগিরই শুরু হতে পারে ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেওয়া

ট্রাম্প প্রশাসন আপিল না করলে শিগগিরই ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য স্থগিত থাকা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু আবার শুরু হওয়ার পথ খুলে যেতে পারে। শুক্রবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের এই ভিসা স্থগিত নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন।   ম্যানহাটনের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট জজ জেনেট ভার্গাসের দেওয়া রায়ে বলা হয়েছে, ৭৫ দেশের নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু বন্ধ করার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। আদালত আরও বলেছে, এই নীতি ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু স্থগিত করে। এর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করা এসব দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রসেসিং কার্যত অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটকে যায়।   স্টেট ডিপার্টমেন্ট ওই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত ‘পাবলিক চার্জ’ ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছিল। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর কোনো আবেদনকারী সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, সেটিকে নীতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল।   এই নীতির বিরুদ্ধে ক্যাথলিক লিগাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক, ইএনসি ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভিসা আবেদনকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। মামলাটির নাম ক্লিনিক বনাম রুবিও।   শুক্রবারের রায়ে আদালত শুধু ৭৫ দেশের ওপর ভিসা স্থগিতের নীতিই বাতিল করেনি, এই নীতির ভিত্তিতে যেসব ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, সেগুলোও পুনর্বিবেচনার জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্টকে ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ভিসা আবেদনগুলো আবার আইন অনুযায়ী পৃথকভাবে, অর্থাৎ কেস -বাই-কেস ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে।   তবে আদালতের রায়ের অর্থ এই নয় যে ৭৫ দেশের সব আবেদনকারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা দেওয়া হবে। আবেদনকারীদের অন্যান্য সব ইমিগ্রেশন ও ভিসা সংক্রান্ত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে পর্যালোচনা করবেন।   এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ। প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না, অথবা রায় স্থগিত রাখার জন্য উচ্চ আদালতের কাছে আবেদন করবে কি না, সেটিই নির্ধারণ করবে ভিসা ইস্যু কত দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে।   শুক্রবারের রায়ের পর শনিবার সকাল পর্যন্ত স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রকাশ্য কোনো সিদ্ধান্ত বা নতুন নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ফলে ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যু এখনই শুরু হয়েছে বলা যাচ্ছে না।   মামলাটির বাদীপক্ষের আইনজীবী ও অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো অবশ্য আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল জানিয়েছে, আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে ৭৫ দেশের আবেদনকারীদের জন্য আবার আইন অনুযায়ী পৃথকভাবে ভিসা আবেদন পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্যও এই রায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব আবেদনকারী ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ইন্টারভিউ দিয়েছেন, ভিসা ইস্যুর অপেক্ষায় রয়েছেন অথবা শুধুমাত্র ৭৫ দেশের স্থগিত নীতির কারণে ভিসা পাননি, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।   তবে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের এখনই নতুন করে আবেদন করার আগে বা কোনো অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে নিজেদের কেসের সর্বশেষ স্ট্যাটাস এবং সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আদালতের রায় কার্যকর করার বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এলে তখন স্পষ্ট হবে কোন আবেদন কীভাবে আবার প্রসেস করা হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ১১:১০
ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীর সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেয়েছেন এক বাংলাদেশি তরুণ। ছবি: সংগৃহীত
ইমিগ্রেশন কড়াকড়ির মধ্যেও মেধাবী তরুণের গ্রিন কার্ড, জানালেন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কঠোর ইমিগ্রেশন পরিবেশের মধ্যেই এক মেধাবী তরুণের গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুখবর জানিয়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ওই তরুণের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে তিনি জানান, তার ল’ ফার্মের সহযোগিতায় তরুণটি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেয়েছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী তরুণটিকে ‘মেধাবী’ ও ‘দরিদ্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পোস্টে তিনি জানান, সঠিক উপায়ে এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় তার ল’ ফার্মের সহযোগিতায় তরুণটি আমেরিকান গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। একই পোস্টে মঈন চৌধুরী তার ল’ অফিসের দক্ষ ও অভিজ্ঞ স্টাফদের প্রশংসার কথাও উল্লেখ করেন।   তবে ওই পোস্টে গ্রিন কার্ডটি কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরির মাধ্যমে পাওয়া গেছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এটি পারিবারিক, কর্মসংস্থানভিত্তিক, অ্যাসাইলাম বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।   যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ইমিগ্রেশন আবেদন ও গ্রিন কার্ডের বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের ইমিগ্রেশন আবেদন প্রক্রিয়াকরণে কয়েক মাস থেকে এক বছরের বেশি সময়ও লাগতে পারে। ২০২৬ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক ভিত্তিতে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে মধ্যম প্রক্রিয়াকরণ সময় ছিল প্রায় ১০ দশমিক ৯ মাস। অন্যান্য অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস ক্যাটাগরিতে এই সময় আরও বেশি ছিল।   এর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন ইমিগ্রেশন নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতে একাধিক আইনি লড়াইও চলছে। সর্বশেষ ২১ আগস্ট এক ফেডারেল বিচারক ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করেছেন। আদালতের এই সিদ্ধান্ত বর্তমান ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে ঘিরে চলমান আইনি টানাপোড়েনের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে এসেছে।   এমন একটি পরিবর্তনশীল ইমিগ্রেশন পরিবেশে বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন তরুণের গ্রিন কার্ড পাওয়ার খবর তার পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের জন্য নিঃসন্দেহে আনন্দের। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন আবেদন নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা অনেকের কাছে এ ধরনের সফলতার খবর আশার বার্তাও হয়ে উঠতে পারে।   তবে অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট কেসে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পেছনে কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরি বা আইনি প্রক্রিয়া কাজ করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ১১:১
তিন দিন বন্ধ থাকার পর আবার চালু হয়েছে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। ছবি: সংগৃহীত
আবারও চালু এলএনজি এক্সিলারেটের টার্মিনাল, গ্যাস সরবরাহে স্বস্তি

বন্ধ হয়ে যাওয়া এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল আবার চালু হয়েছে। নতুন এলএনজিবাহী কার্গো দেশে পৌঁছানোর পর শনিবার টার্মিনালে এলএনজি খালাস শুরু হয়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।   শনিবার বিকেল ৪টার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৩০ কোটি ঘনফুটের কিছু বেশি। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে সরবরাহ হয়েছে ১৬২ কোটি ঘনফুটের কিছু বেশি। আর সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে এসেছে প্রায় ৬৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস।   এর আগে গত বুধবার দুপুরে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে থাকা এলএনজির মজুত শেষ হয়ে যায়। এরপর টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমে যায়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে।   এক্সিলারেটের টার্মিনালের জন্য স্পট মার্কেট থেকে কেনা ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের একটি এলএনজিবাহী কার্গো ২৩ আগস্ট দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই শনিবার কার্গোটি দেশে পৌঁছে যায়। এরপর টার্মিনালে এলএনজি খালাসের কার্যক্রম শুরু হয়।   পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. শোয়েব জানান, কার্গো পৌঁছানোর পর এলএনজি খালাস করে সেটিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে কিছুটা সময় লাগে। তাই কার্গো দেশে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই টার্মিনাল থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।   নতুন এলএনজি খালাস ও গ্যাসে রূপান্তরের কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে সরবরাহ আরও বাড়ার কথা। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতি কিছুটা কমে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ১০:৫০
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এসে ডিগ্রি বা দীর্ঘ কর্মঅভিজ্ঞতা ছাড়াও কিছু নির্দিষ্ট পেশায় প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নতুনদের জন্য তুলনামূলক সহজে শুরু করা যায় ১০টি চাকরি

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এসে চাকরি শুরু করতে চাইলে ডিগ্রি বা দীর্ঘ কর্মঅভিজ্ঞতা না থাকলেও কিছু পেশায় প্রবেশের সুযোগ তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকা ব্যক্তিরা গুদাম, পরিচ্ছন্নতা, রেস্টুরেন্ট, দোকান, নির্মাণ ও পণ্য সরবরাহের মতো কাজে শুরু করতে পারেন। তবে চাকরি পাওয়া, বেতন, কাজের সময় এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অঙ্গরাজ্য, শহর ও নিয়োগদাতা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।   ১. গুদামকর্মী গুদামকর্মীর কাজে পণ্য গোছানো, প্যাকেট তৈরি, অর্ডার প্রস্তুত করা, পণ্য স্ক্যান করা এবং মালামাল সরানোর মতো কাজ করতে হয়। এসব পেশায় সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয় না। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর কাজের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, পণ্য পরিবহন ও গুদামসংশ্লিষ্ট কাজে বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।   ২. পণ্য সরবরাহ বা যাত্রী পরিবহন চালক গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে পণ্য সরবরাহ বা যাত্রী পরিবহনের কাজ অনেকের জন্য ভালো একটি শুরু হতে পারে। উবার, লিফটসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজের নিয়ম, গাড়ির শর্ত, ড্রাইভার লাইসেন্স, গাড়ির বীমা এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের প্রয়োজনীয়তা কোম্পানি ও এলাকার ওপর নির্ভর করে।   শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ট্যাক্সি চালক, শাটল চালক ও ব্যক্তিগত গাড়িচালক পেশায় সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো উচ্চশিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয় না। ২০২৪ সালে এসব পেশার মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৩৬ হাজার ৬৬০ ডলার।   ৩. নার্সিং সহকারী হেলথ কেয়ার খাতে যেতে চাইলে নার্সিং সহকারী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা যেতে পারে। তবে এ কাজকে পুরোপুরি অভিজ্ঞতাহীন বা দ্রুত শুরু করা যায় এমন পেশা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অনেক অঙ্গরাজ্যে অনুমোদিত প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।   শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নার্সিং সহকারীদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৩৯ হাজার ৫৩০ ডলার। ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এ পেশায় প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২ লাখ ১১ হাজার ৮০০টি চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।   ৪. পরিচ্ছন্নতাকর্মী হোটেল, হাসপাতাল, স্কুল, অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ পাওয়া যায়। এ ধরনের কাজে সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয় না এবং কর্মক্ষেত্রেই কাজ শেখানো হয়।   শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ভবন ও প্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৩৫ হাজার ৯৩০ ডলার।   ৫. রেস্টুরেন্ট বা খাবার প্রস্তুতকারী কর্মী রেস্টুরেন্ট, ফাস্ট ফুডের দোকান ও খাবার প্রস্তুতের কাজে নতুনদের প্রবেশের সুযোগ তুলনামূলক বেশি। খাবার প্রস্তুতকারী কর্মী হিসেবে খাবার তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া, উপকরণ কাটা, রান্নাঘরে সহায়তা করা এবং অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ করতে হয়।   শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এ পেশায় সাধারণত আগের কাজের অভিজ্ঞতা বা নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয় না। কয়েক সপ্তাহের কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাজ শেখানো হয়। ২০২৪ সালে খাবার প্রস্তুতকারী কর্মীদের মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ছিল ১৬ ডলার ৪৫ সেন্ট।   ৬. দোকানের বিক্রয়কর্মী ওয়ালমার্ট, টার্গেট, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে। ক্রেতাদের সহায়তা করা, পণ্য সাজানো, মজুত পণ্য গোছানো এবং ক্যাশ রেজিস্টারে লেনদেন পরিচালনা করা এসব কাজের মধ্যে পড়ে।   বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ডিগ্রি প্রয়োজন হয় না এবং চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর কাজ শেখানো হয়। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে খুচরা বিক্রয়কর্মীদের মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ছিল ১৬ ডলার ৭০ সেন্ট। তবে অঙ্গরাজ্য ও শহরভেদে বেতন ভিন্ন হতে পারে।   ৭. নির্মাণশ্রমিক বা সহকারী শারীরিক পরিশ্রম করতে আগ্রহী হলে নির্মাণশ্রমিক বা নির্মাণকাজের সহকারী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা যেতে পারে। নির্মাণস্থলে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও উপকরণ সরানো, কাজের জায়গা প্রস্তুত করা এবং দক্ষ কর্মীদের কাজে সহায়তা করা এসব পেশার অন্যতম দায়িত্ব।   শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এ কাজে সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয় এবং কর্মক্ষেত্রেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে নির্মাণশ্রমিক ও সহকারীদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৪৬ হাজার ৫০ ডলার। ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এ পেশায় কর্মসংস্থান ৭ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।   ৮. নিরাপত্তাকর্মী অফিস, দোকান, হাসপাতাল, শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে এ পেশায় ঢোকার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণের নিয়ম জানা জরুরি। কিছু চাকরিতে হাইস্কুল ডিপ্লোমা বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতাও প্রয়োজন হতে পারে।   শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৩৮ হাজার ৩৭০ ডলার। অনেক অঙ্গরাজ্যে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতে রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স প্রয়োজন হয়।   ৯. রাঁধুনি বা রান্নাঘরের কর্মী রেস্টুরেন্টে রাঁধুনি, রান্নাঘরের কর্মী বা খাবার প্রস্তুতকারী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা যায়। রান্নার অভিজ্ঞতা থাকলে কিছু পদে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে অনেক রাঁধুনির চাকরিতে কাজের মধ্যেই প্রয়োজনীয় দক্ষতা শেখার সুযোগ থাকে।   ২০২৪ সালে রাঁধুনিদের মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ছিল ১৭ ডলার ১৯ সেন্ট। ফাস্ট ফুডের রাঁধুনিদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ১৪ ডলার ৫০ সেন্ট এবং রেস্টুরেন্টের রাঁধুনিদের ক্ষেত্রে ১৭ ডলার ৭১ সেন্ট।   ১০. ক্যাশিয়ার মুদি দোকান, গ্যাস স্টেশন, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্যাশিয়ারের কাজ পাওয়া যায়। টাকা গ্রহণ, গ্রাহকের পেমেন্ট প্রক্রিয়া করা এবং লেনদেনের হিসাব রাখা এ কাজের মূল দায়িত্ব।   শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতে সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয় না। স্বল্পমেয়াদি কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাজ শেখানো হয়। ২০২৪ সালে ক্যাশিয়ারদের মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ছিল ১৪ ডলার ৯৯ সেন্ট।   কোন চাকরি আপনার জন্য ভালো? শারীরিকভাবে পরিশ্রম করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে গুদাম, নির্মাণ বা পরিচ্ছন্নতার কাজ বিবেচনা করতে পারেন। গাড়ি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে পণ্য সরবরাহ বা যাত্রী পরিবহনের কাজ একটি বিকল্প হতে পারে। মানুষের সঙ্গে বেশি যোগাযোগ করে ইংরেজি চর্চা করতে চাইলে দোকান বা রেস্টুরেন্টের কাজ উপযোগী হতে পারে। আর হেলথ কেয়ার খাতে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে নার্সিং সহকারী হিসেবে শুরু করার কথা ভাবা যেতে পারে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করার আগে আপনার বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকতে হবে। কর্মসংস্থানের অনুমতির নথি বা ইএড যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমোদনের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে শুধু ইএড থাকলেই প্রতিটি চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা পূরণ হয়েছে এমন নয়। কিছু পেশায় অঙ্গরাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বা অন্যান্য শর্ত থাকতে পারে।   নতুন অবস্থায় প্রথম চাকরিটিকে শুধু আয়ের উৎস হিসেবে না দেখে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মঅভিজ্ঞতা অর্জন, ইংরেজি দক্ষতা বাড়ানো, পেশাগত যোগাযোগ তৈরি এবং ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার গড়ার একটি ধাপ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। চাকরিতে আবেদন করার আগে বেতন, কাজের সময়, সুযোগ-সুবিধা এবং নিয়োগের শর্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করা উচিত।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ১০:৩৭
খাবারের নতুন ও টেকসই উৎস খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে প্যাসিফিক বিটল ককরোচ। ছবি: সংগৃহীত
গরুর দুধের চেয়ে ৪ গুণ পুষ্টিকর তেলাপোকার দুধ, হতে পারে ভবিষ্যতের সুপারফুড

খাবারের নতুন ও টেকসই উৎস খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে এমন এক উপাদান, যা শুনলেই অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। প্যাসিফিক বিটল ককরোচ নামে পরিচিত এক ধরনের তেলাপোকার শরীর থেকে তৈরি দুধের মতো পুষ্টিকর পদার্থে রয়েছে প্রোটিন, চর্বি ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড। তবে এটি এখনো মানুষের খাবার হিসেবে ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।    এই তেলাপোকার বৈজ্ঞানিক নাম ডিপ্লোপ্টেরা পাংকটাটা। অন্য অনেক তেলাপোকার মতো ডিম পাড়ার বদলে এরা জীবন্ত বাচ্চা জন্ম দেয়। মায়ের শরীরে বেড়ে ওঠা ভ্রূণকে পুষ্টি দিতে বিশেষ ধরনের দুধসদৃশ তরল নিঃসৃত হয়, যা পরে ভ্রূণের অন্ত্রে প্রোটিন ক্রিস্টাল হিসেবে জমা হয়। গবেষণায় এসব ক্রিস্টালে উচ্চমাত্রার পুষ্টি উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে।    গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদার্থে লিপোক্যালিনজাতীয় প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, চর্বি ও কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। এসব প্রোটিন ভ্রূণের বেড়ে ওঠার সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে ভূমিকা রাখে। এ কারণেই বিজ্ঞানীদের একটি অংশ মনে করছেন, ভবিষ্যতে এর নির্দিষ্ট প্রোটিন বা পুষ্টি উপাদান খাদ্য প্রযুক্তিতে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা রয়েছে।    তবে এটিকে এখনই ‘সুপারফুড’ বা মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। গবেষণায় এর পুষ্টিগুণ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হলেও মানুষের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের নিরাপত্তা, উৎপাদন পদ্ধতি এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদন নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। ২০১৮ সালের একটি গবেষণা পর্যালোচনাতেও ভবিষ্যৎ গবেষণায় এর সঠিক গঠন ও মানুষের স্বাস্থ্যে সম্ভাব্য প্রভাব নির্ণয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছিল।    সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ব্যাপক পরিমাণে এই উপাদান সংগ্রহ করা। একটি তেলাপোকা থেকে সরাসরি দুধ সংগ্রহ করা বাণিজ্যিকভাবে বাস্তবসম্মত নয়। তাই বিজ্ঞানীরা সরাসরি তেলাপোকা থেকে সংগ্রহের বদলে এর পুষ্টিকর প্রোটিনের গঠন ল্যাবরেটরিতে উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ করছেন।   ফলে তেলাপোকার ‘দুধ’ এখনো মানুষের দৈনন্দিন খাবার নয়। তবে এর অস্বাভাবিক পুষ্টি কাঠামো ভবিষ্যতের খাদ্য প্রযুক্তি ও বিকল্প পুষ্টির উৎস নিয়ে গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ১০:২০
আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কামালকে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় রেখেছে এফবিআই। ছবি: সংগৃহীত
এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় কামাল, চাঁদাবাজির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) আন্তঃদেশীয় একটি অপরাধী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কামাল নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় রেখেছে। তার বিরুদ্ধে বাণিজ্যে চাঁদাবাজির মাধ্যমে হস্তক্ষেপের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।    এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, কামালের ব্যবহৃত জন্মতারিখ ২৭ জুলাই ২০০০। তিনি ভারতীয় নাগরিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়েছে।    এফবিআই বলছে, কামাল কথিত লরেন্স বিষ্ণোই অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সংগঠনটির উৎপত্তি ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে এবং এটি ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য এলাকায় কার্যক্রম চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।    এ অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ১ জুলাই কামালের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর থেকেই তাকে খুঁজছে এফবিআই।    তবে এফবিআইয়ের অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তিনি দোষী সাব্যস্ত নন।   এফবিআই জানিয়েছে, কামাল সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে তা সংস্থাটির কাছে জানাতে হবে। তার পরিচয় বা অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মাধ্যমে তা জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এফবিআই।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ১০:৫
আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকালে বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য ইসরায়েল ডেল তোরো জুনিয়র। ছবি: সংগৃহীত
৮০ শতাংশ শরীর পুড়ে ১৫ শতাংশ বাঁচার সম্ভাবনা, তবুও হাল ছাড়েননি মার্কিন সেনা

২০০৫ সালের ৪ ডিসেম্বর আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করছিলেন মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য ইসরায়েল ‘ডিটি’ ডেল তোরো জুনিয়র। তার গাড়ি একটি পুঁতে রাখা বিস্ফোরক ডিভাইসের ওপর উঠে বিস্ফোরিত হলে গুরুতর আহত হন তিনি। বিস্ফোরণে তার শরীরের ৮০ শতাংশের বেশি তৃতীয় মাত্রার দগ্ধ হয় এবং দুই হাতও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকেরা তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ১৫ শতাংশ বলে জানিয়েছিলেন।    বিস্ফোরণের পর প্রায় তিন মাস কোমায় ছিলেন ডেল তোরো। দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে তাকে সুস্থ হতে হয়। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, তার চিকিৎসায় ১০০টির বেশি অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা তাকে আর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে বা নিজে শ্বাস নিতে পারবেন না বলেও আশঙ্কা করেছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি সেই আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করেন।    শারীরিকভাবে গুরুতরভাবে অক্ষম হয়ে পড়ার পরও ডেল তোরোর লড়াই সেখানেই শেষ হয়নি। তাকে সামরিক বাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পথে যেতে বলা হলেও তিনি আবার দায়িত্বে ফিরতে চেয়েছিলেন। প্রায় চার বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি মার্কিন বিমানবাহিনীতে পুনরায় যোগ দেন।   এর মাধ্যমে ডেল তোরো মার্কিন বিমানবাহিনীর ইতিহাসে ১০০ শতাংশ প্রতিবন্ধী হিসেবে পুনরায় সক্রিয় দায়িত্বে যোগ দেওয়া প্রথম সদস্য হন। এরপর তিনি তরুণ বিমানসেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করেন এবং পরে বিমানবাহিনীর প্যারাশুট দলের সঙ্গেও যুক্ত হন।    সামরিক দায়িত্বের পাশাপাশি খেলাধুলাতেও নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দেন তিনি। ২০১৬ সালের ইনভিক্টাস গেমসে শটপুটে স্বর্ণপদক জেতেন ডেল তোরো। আহত ও অসুস্থ সাবেক সেনাদের জন্য আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তার অংশগ্রহণ পুনর্বাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে।    ২০১৭ সালে তার অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ইএসপিওয়াই অ্যাওয়ার্ডসে প্যাট টিলম্যান অ্যাওয়ার্ড ফর সার্ভিস লাভ করেন।    ২০১৯ সালে সিনিয়র মাস্টার সার্জেন্ট পদে মার্কিন বিমানবাহিনী থেকে অবসর নেন ডেল তোরো। আফগানিস্তানের সেই বিস্ফোরণের পর চিকিৎসকেরা যেখানে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ১৫ শতাংশ বলেছিলেন, সেখান থেকে তিনি শুধু জীবন ফিরে পাননি, আবার সামরিক দায়িত্বে ফিরেও ইতিহাস তৈরি করেছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ৯:৫৭
ক্যালিফোর্নিয়ার সব সরকারি স্কুলে বিনামূল্যে অ্যালবিউটেরল ইনহেলার দেওয়ার উদ্যোগ। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার সব সরকারি স্কুলে বিনামূল্যে ইনহেলার দেবে সরকার

ক্যালিফোর্নিয়ার সব সরকারি স্কুলে বিনামূল্যে অ্যালবিউটেরল ইনহেলার দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে অঙ্গরাজ্য সরকার।   ২০ আগস্ট এ উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়। সর্বশেষ রাজ্য বাজেটে আইনপ্রণেতাদের বরাদ্দ করা অর্থ থেকেই কর্মসূচিটির খরচ বহন করা হবে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি সরকারি স্কুল বছরে দুটি মিটারড-ডোজ ইনহেলার এবং ২৫টি সিঙ্গেল-ইউজ ইনহেলার পাবে। এভাবে টানা তিন বছর স্কুলগুলোকে ইনহেলার সরবরাহ করা হবে।   অ্যালবিউটেরলকে সাধারণত ‘রেসকিউ ইনহেলার’ বলা হয়। হঠাৎ অ্যাজমা অ্যাটাক বা শ্বাসকষ্ট হলে এটি শ্বাসনালির পেশি শিথিল করে দ্রুত শ্বাস নিতে সহায়তা করে।   ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বলেছেন, কোনো শিশুর স্কুলে ইনহেলার না থাকার কারণে শ্বাসকষ্টে ভুগতে হবে—এমনটা হওয়া উচিত নয়। স্কুলগুলোকে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়াই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।   ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যটিতে প্রায় ১০ লাখ শিশু অ্যাজমায় আক্রান্ত। তাদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সক্রিয় উপসর্গ রয়েছে এবং এসব কারণে তারা প্রতিবছর অন্তত এক সপ্তাহ স্কুলে অনুপস্থিত থাকে।   এই উদ্যোগের আওতায় বেসরকারি স্কুলগুলোও কম দামে ইনহেলার কিনতে পারবে। তারা একটি ইনহেলার ৯ ডলার ৫০ সেন্টে এবং ২৫টি সিঙ্গেল-ইউজ ইনহেলারের প্যাকেট ৯৩ ডলার ৭৫ সেন্টে কিনতে পারবে।   এদিকে স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য ইনহেলার ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগের একটি বাধ্যবাধকতাও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট পাবলিক হেলথ অফিসার এরিকা প্যানের আদেশে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলকে ইনহেলার সংগ্রহ করতে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজনীয়তা বাতিল করা হয়েছে।   উদ্যোগটির অংশ হিসেবে স্কুলের কর্মীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের নির্দেশিকাও দেওয়া হবে। সেখানে অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের জরুরি পরিস্থিতি কীভাবে শনাক্ত করতে হবে, কখন ইনহেলার ব্যবহার প্রয়োজন হতে পারে এবং প্রয়োজনে ৯১১-এ ফোন ও অভিভাবককে জানানোর প্রক্রিয়া শেখানো হবে।   এই কর্মসূচিতে ক্যালিফোর্নিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইনহেলার প্রস্তুতকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যামনিয়াল ফার্মাসিউটিক্যালস।   তিন বছর পর সরকারি অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেলেও স্কুলগুলো যাতে সরাসরি ইনহেলার কিনতে পারে, সে ব্যবস্থাও চালু রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   এটি ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালরেক্স উদ্যোগের তৃতীয় বড় কর্মসূচি। এর আগে কম দামে ইনসুলিন পেন এবং নালোক্সোন নেজাল স্প্রে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ৯:৫১
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির হজকিন লিম্ফোমায় আক্রান্ত তরুণী আলায়না রিওজি-বোডাইন। ছবি: সংগৃহীত
পর পর দুইবার ক্যানসার জয় করে দুই বছর ধরে সুস্থ কিশোরী, এখন হতে চান শিশু ক্যানসার নার্স

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির তরুণী আলায়না রিওজি-বোডাইন যখন হাইস্কুলের শেষ বর্ষে উঠেছিলেন, তখন তার সামনে ছিল ব্যস্ত কিন্তু স্বাভাবিক একটি বছর। স্থানীয় সমুদ্রসৈকতে লাইফগার্ড হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ট্রায়াথলনের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি।   কিন্তু হঠাৎ অস্বাভাবিক ক্লান্তি তাকে অসুস্থ করে তোলে। একটি প্রতিযোগিতার আগের দিন বাবাকে তিনি জানান, তার মনে হচ্ছে তিনি মারা যাচ্ছেন। এর এক মাস পর তার মা ডান কাঁধের হাড়ের কাছে গলফ বলের মতো একটি গুটি দেখতে পান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মাত্র ১৭ বছর বয়সে স্টেজ-২ হজকিন লিম্ফোমা ধরা পড়ে তার।   ক্যানসারের চিকিৎসা শুরু হলেও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন আলায়না। চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যৎ সন্তান ধারণের সম্ভাবনা সংরক্ষণের জন্য তিনি ডিম্বাণু হিমায়িত করে রাখেন।   চিকিৎসার সময় চুল হারানো নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাই কেমোথেরাপির সময় চুল পড়া কমাতে কোল্ড ক্যাপ ব্যবহারের জন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তখন লিম্ফোমার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অনুমোদিত ছিল না। এরপরও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেমোরিয়াল স্লোন কেটারিং ক্যানসার সেন্টারে এটি ব্যবহার করা প্রথম শিশু রোগী হন।   আলায়নার ভাষায়, এমন একটি পরিস্থিতিতে যেখানে নিজের হাতে তেমন কিছুই থাকে না, কোল্ড ক্যাপ তাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি দিয়েছিল।   তিনি মোট আটটি কেমোথেরাপি সেশন নেন। পাশাপাশি কলেজে ভর্তির প্রস্তুতিও চালিয়ে যান। চিকিৎসায় তিনি খুব ভালো সাড়া দেন এবং কলেজের প্রথম বর্ষে তাকে ক্যানসারমুক্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।   এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে একটি স্ক্যানে শরীরে ছোট একটি অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। পরীক্ষা করার আগেই আলায়নার মনে হয়েছিল ক্যানসার আবার ফিরে এসেছে। পরে বায়োপসিতে তার আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হয়।   এবার রোগটি আগের তুলনায় বেশি আক্রমণাত্মক ছিল। নতুন চিকিৎসায় কোল্ড ক্যাপ ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। তাই এবার নিজের চুল নিজেই কেটে ফেলেন তিনি।   এরপর শুরু হয় ইমিউনোথেরাপি ও আরও কেমোথেরাপি। চিকিৎসার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্টে নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন তিনি।   চিকিৎসার মাঝামাঝি সময়ে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন, তার স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন হবে।   এই চিকিৎসায় উচ্চমাত্রার কেমোথেরাপির মাধ্যমে ক্যানসার কোষ ও অস্থিমজ্জার কোষ ধ্বংস করার পর রোগীর স্টেম সেল শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে নতুন রক্ত ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা তৈরি হতে শুরু করে।   ট্রান্সপ্লান্টের দিন আলায়নার চিকিৎসক ও নার্সরা হাসপাতালের পরিবেশটিকে উৎসবের মতো করে তোলেন। সেখানে ছিল গান, টেলর সুইফটের থিমের পোস্টার ও ‘ইরাস ট্যুর’ টি-শার্ট। কঠিন একটি চিকিৎসার মুহূর্তও এতে তার জন্য কিছুটা আনন্দময় হয়ে ওঠে।   স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট সফল হওয়ার পর তাকে প্রায় ছয় সপ্তাহ আইসোলেশনে থাকতে হয়, যাতে তার রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ পায়।   অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তার চিকিৎসা শেষ হয়। মেমোরিয়াল স্লোন কেটারিংয়ে ঘণ্টা বাজিয়ে চিকিৎসা শেষ হওয়ার মুহূর্ত উদযাপন করেন তিনি।   এরপরও নিয়মিত পরীক্ষা চলতে থাকে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে করা স্ক্যানেও দেখা যায়, তিনি টানা দুই বছর ধরে ক্যানসারমুক্ত রয়েছেন।   চিকিৎসকদের মতে, হজকিন লিম্ফোমায় আক্রান্ত কোনো রোগী পাঁচ বছর ক্যানসারমুক্ত থাকলে ভবিষ্যতে আবার রোগটি ফিরে আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত কমে যায়।   এখন আলায়না একজন ক্যানসারমুক্ত কলেজ গ্র্যাজুয়েট। চলতি বছরের মে মাসে নার্সিং ডিগ্রি শেষ করার পর তিনি পেডিয়াট্রিক অনকোলজি নার্স হওয়ার জন্য আরও প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন—যাতে একসময় ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়াতে পারেন, যেমন তার চিকিৎসার সময় নার্সরা তার পাশে ছিলেন।   পাশাপাশি তিনি আলায়না জেইন ফাউন্ডেশন পরিচালনা করছেন। প্রতিষ্ঠানটি কিশোর-কিশোরী ক্যানসার রোগীদের বিভিন্ন সহায়তা দেয়, কোল্ড ক্যাপ ব্যবহারের পক্ষে কাজ করে এবং শিক্ষার্থীদের বৃত্তিও দেয়।   নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে আলায়নার ভাষায়, তিনি এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন—বেঁচে থাকার পাশাপাশি নিজের জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ৯:৩৮
টেক্সাসে বিরল জুভেনাইল মায়েলোমোনোসাইটিক লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত শিশু জাহস বোগান। ছবি: সংগৃহীত
লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ভাইকে বাঁচাতে অস্থিমজ্জা দিল ৫ বছরের শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মাত্র ৫ বছরের জুয়েলজ বোগান তার ছোট ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে অস্থিমজ্জা দান করেছে। বিরল ধরনের লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ১৯ মাস বয়সী ভাই জাহসের চিকিৎসায় পরিবারের সদস্যদের পরীক্ষা করা হলে জুয়েলজই সবচেয়ে উপযুক্ত দাতা হিসেবে শনাক্ত হয়। এখন প্রতিস্থাপন সফল হয়েছে কি না, তা জানার অপেক্ষায় পরিবার।    জাহসের অসুস্থতার শুরুটা ছিল বারবার সংক্রমণ, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ জ্বর এবং পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ডে-কেয়ারে যাওয়া শুরু করার পর তার অসুস্থতা বাড়তে থাকে। ২০২৬ সালের শুরুতে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারেন, সে জুভেনাইল মায়েলোমোনোসাইটিক লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত।   এটি শিশুদের মধ্যে অত্যন্ত বিরল এক ধরনের লিউকেমিয়া। ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০ লাখ শিশুর মধ্যে আনুমানিক ১ থেকে ২ জনের এই রোগ হতে পারে। রোগটির ক্ষেত্রে স্টেম সেল প্রতিস্থাপন বর্তমানে সুস্থ হওয়ার সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।    ভাইয়ের অসুস্থতার কথা জানার পর থেকেই জুয়েলজ তাকে বাঁচাতে নিজের অস্থিমজ্জা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। প্রতি সপ্তাহে সে মাকে একই প্রশ্ন করত, কখন তার ডাক্তার দেখানোর দিন আসবে, যাতে সে ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে পারে।   পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দাতা খোঁজার পরীক্ষা করা হলে জুয়েলজ সবচেয়ে ভালো মিল হিসেবে শনাক্ত হয়। ভয় থাকলেও ভাইকে বাঁচানোর জন্য চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সে প্রস্তুত ছিল। শেষ পর্যন্ত ১৮ আগস্ট তার অস্থিমজ্জা সংগ্রহ করে ছোট ভাই জাহসের জন্য প্রতিস্থাপন করা হয়।    অস্থিমজ্জা দেওয়ার পর জুয়েলজ এখন সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অন্যদিকে জাহসকে টেক্সাসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রতিস্থাপনের পর তার শরীর নতুন কোষগুলো গ্রহণ করছে কি না, সেটিই এখন পরিবারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।   ছোট ভাইয়ের চিকিৎসার কারণে পরিবারকে নিজেদের বাড়ি থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে হাসপাতালে অবস্থান করতে হচ্ছে। চিকিৎসার পাশাপাশি যাতায়াত ও থাকার খরচও পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। তবে জুয়েলজের এই দানের মধ্য দিয়ে ভাইয়ের সুস্থতার জন্য নতুন আশার আলো দেখছে পরিবার।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ৯:২৮
আইসিওতে ডাক্তার ছবি:সংগৃহীত
কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় কোলনোস্কপির সময় অচেতন এক রোগীকে নিয়ে চিকিৎসকের কটূক্তি ও অপমানজনক মন্তব্য তার নিজের মোবাইল ফোনের অডিও রেকর্ডে ধরা পড়ে। ২০১৩ সালের এ ঘটনায় পরে মামলা হলে ২০১৫ সালে ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টির একটি জুরি ওই রোগীকে ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেন।   ১৮ এপ্রিল ২০১৩ সালে রেস্টনে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে ওই রোগীর কোলনোস্কপি করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, রোগী আগে থেকেই জানতেন যে অ্যানেস্থেশিয়ার কারণে চিকিৎসার পর তিনি কিছু নির্দেশনা মনে রাখতে নাও পারেন। তাই চিকিৎসকের দেওয়া পরবর্তী নির্দেশনা রেকর্ড করার জন্য তিনি নিজের মোবাইল ফোনের রেকর্ডার চালু করেছিলেন।   কিন্তু অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ার পর ফোনটি বন্ধ করার কথা তিনি ভুলে যান। ফোনটি তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের সঙ্গে অস্ত্রোপচার টেবিলের নিচে পড়ে ছিল এবং প্রায় ৫০ মিনিট ধরে পুরো প্রক্রিয়ার কথোপকথন রেকর্ড হতে থাকে।   পরে বাড়ি ফেরার পথে রেকর্ডটি শুনতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, অচেতন অবস্থায় তাকে নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে নানা অপমানজনক আলোচনা হয়েছে। অ্যানেস্থেশিওলজিস্ট টিফানি ইনগ্রাম তার উদ্বেগ নিয়ে ঠাট্টা করেন এবং তাকে ঘুষি মারতে ইচ্ছা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন।   রেকর্ডে তার শরীরে থাকা একটি র‍্যাশ নিয়েও চিকিৎসককে কটূক্তি করতে শোনা যায়। তিনি রোগীর সিফিলিস বা যক্ষ্মা থাকতে পারে বলে রসিকতা করেন, যদিও ওই রোগগুলোর কোনোটিই রোগীর ছিল না।এখানেই শেষ নয়। চিকিৎসকের কথোপকথনে রোগীর মেডিকেল রেকর্ডে এমন একটি ভুয়া হেমোরয়েডসের রোগ নির্ণয় লেখার কথাও উঠে আসে, যার অস্তিত্ব রোগীর ছিল না।   ঘটনাটি জানার পর ওই রোগী মামলা করেন। আদালতের নথিতে তাকে শুধু ডি.বি. নামে উল্লেখ করা হয়। মামলায় চিকিৎসাগত অবহেলা ও মানহানির অভিযোগ আনা হয়।   তিন দিনের বিচার শেষে ২০১৫ সালের জুনে ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টির জুরি রোগীকে মোট ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন। এর মধ্যে মানহানির জন্য ১ লাখ ডলার, চিকিৎসাগত অবহেলার জন্য ২ লাখ ডলার এবং শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে আরও ২ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়।   মামলার পর চিকিৎসক টিফানি ইনগ্রাম ওই রেস্টন চিকিৎসাকেন্দ্রে আর কাজ করেননি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর চিকিৎসা পেশায় রোগীর প্রতি সম্মান, গোপনীয়তা এবং পেশাগত আচরণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।   রোগীর উদ্দেশ্য ছিল কেবল অ্যানেস্থেশিয়ার পর ভুলে যেতে পারেন এমন চিকিৎসা নির্দেশনা রেকর্ড করে রাখা। কিন্তু ফোনটি বন্ধ করতে ভুলে যাওয়ায় সেই রেকর্ডেই ধরা পড়ে এমন এক কথোপকথন, যা তিনি অচেতন না থাকলে হয়তো কখনোই শুনতে পেতেন না।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ৯:৯
প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত
চাঁদে শুধু নভোচারী নয়, সাধারণ মানুষও যেতে পারবে, ইলন মাস্কের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক চাঁদকে শুধু নভোচারীদের জন্য সীমাবদ্ধ না রেখে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জন্যও উন্মুক্ত করার স্বপ্ন দেখছেন। তাঁর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো চাঁদের বুকে স্থায়ী মানব বসতি গড়ে তোলা, যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘মুন বেস আলফা’।   মাস্কের পরিকল্পনায় স্পেসএক্সের স্টারশিপ ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ কার্গো চাঁদের পৃষ্ঠে পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আবাসন, রোভার, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপনের পথ তৈরি হতে পারে। স্পেসএক্সের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, স্টারশিপ চাঁদে কার্গো পরিবহন এবং ভবিষ্যতে মুন বেস তৈরিতে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।   নাসার আর্টেমিস কর্মসূচিতেও স্টারশিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নাসা ও স্পেসএক্স মিলে স্টারশিপ হিউম্যান ল্যান্ডিং সিস্টেম তৈরি করছে, যা আর্টেমিস-৩ ও আর্টেমিস-৪ মিশনে নভোচারীদের চাঁদের কক্ষপথ থেকে পৃষ্ঠে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।   তবে এই পরিকল্পনার সামনে বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পৃথিবীর কক্ষপথে স্টারশিপকে জ্বালানি দেওয়া। চাঁদে যাওয়ার আগে স্টারশিপকে কক্ষপথে থাকা একটি প্রপেল্যান্ট ডিপো থেকে ক্রায়োজেনিক জ্বালানি নিতে হবে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় একাধিক ট্যাংকার স্টারশিপ কক্ষপথে জ্বালানি সরবরাহ করবে। নাসার ইন্সপেক্টর জেনারেলের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্টেমিস-৩ ও আর্টেমিস-৪ মিশনের জন্য ১০টির বেশি ট্যাংকার উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে।   কক্ষপথে ক্রায়োজেনিক জ্বালানি স্থানান্তর প্রযুক্তি এখনো বড় ধরনের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নাসা জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ চন্দ্র ও গভীর মহাকাশ মিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্পেসএক্স ২০২৪ সালের একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে তরল অক্সিজেন স্থানান্তরের প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছিল।   মাস্কের এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে এখনো অনেক সময় ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি প্রয়োজন। তবে তাঁর লক্ষ্য শুধু কয়েকজন নভোচারীকে চাঁদে পাঠানো নয়। দীর্ঘমেয়াদে চাঁদের বুকে এমন একটি স্থায়ী মানব বসতি গড়ে তোলাই তাঁর পরিকল্পনা, যেখানে একদিন সাধারণ মানুষও ভ্রমণ করতে পারবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ৮:৪৮
আমিরাতের ভিসা ছবি:সংগৃহীত
বাংলাদেশিদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৩ ধরনের কাজের সুযোগ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস ও কাজ করা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্ক পারমিট কাজের অনুমতি রয়েছে।   কাজের ধরন ও ব্যক্তির অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এসব পারমিট দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রিল্যান্স ওয়ার্ক পারমিট, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও রয়েছে স্টুডেন্ট ট্রেনিং অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট পারমিট। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ বা প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া যায়।যারা একাধিক প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন কাজ করতে চান, তাদের জন্য রয়েছে পার্টটাইম ওয়ার্ক পারমিট। নির্দিষ্ট সময়ের কাজ বা প্রকল্পের জন্য রয়েছে টেম্পোরারি ওয়ার্ক পারমিট।   এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা গোল্ডেন ভিসাধারী বাংলাদেশিদের জন্যও আলাদা ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থা রয়েছে।পরিবারের স্পন্সরশিপে রেসিডেন্স ভিসায় থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্যও নির্দিষ্ট শর্তে কাজের অনুমতি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   আর যারা ব্যক্তিগতভাবে পড়াতে চান, তাদের জন্য রয়েছে প্রাইভেট টিউশন ওয়ার্ক পারমিট—ব্যক্তিগতভাবে পড়ানোর অনুমতি। নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে শিক্ষক ও অন্যান্য যোগ্য ব্যক্তিরা এই পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন।   অর্থাৎ, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুধু সাধারণ চাকরিই নয়, ফ্রিল্যান্সিং, পার্টটাইম কাজ, শিক্ষার্থীদের কাজ, প্রাইভেট টিউশন এবং বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী কাজের জন্যও আইনি সুযোগ রয়েছে।   তবে কোন পারমিটের জন্য আবেদন করা যাবে, তা নির্ভর করবে আবেদনকারীর ভিসার ধরন, কাজের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট যোগ্যতার ওপর। তাই কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিশ্চিত করতে হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ৮:৩৯
গ্যারেথ উইকস ছবি:সংগৃহীত
লিভার প্রতিস্থাপনের ৫ দিন আগে তীব্র জন্ডিস, ৬ সপ্তাহ পর বদলে গেল সেই ছবি

লিভার প্রতিস্থাপনের মাত্র ছয় সপ্তাহের ব্যবধানে গ্যারেথ উইকসের শারীরিক পরিবর্তন ফুটে উঠেছে দুটি ছবিতে। প্রথম ছবিতে ছয় বছরের মেয়ে জারাকে কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গ্যারেথের ত্বক ও চোখ ছিল তীব্র জন্ডিসে হলুদ। দ্বিতীয় ছবিতে একই জায়গায় মেয়েকে নিয়ে দাঁড়ানো গ্যারেথকে দেখা যায় অনেকটাই সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায়।   স্কটল্যান্ডের ডানফার্মলাইনের বাসিন্দা গ্যারেথ ২০১৬ সালে প্রাইমারি স্ক্লেরোজিং কোলাংজাইটিসে আক্রান্ত হন। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি লিভারের রোগ, যাতে পিত্তনালিতে প্রদাহ ও ক্ষত তৈরি হয়ে ধীরে ধীরে সেগুলো সংকুচিত বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে লিভারের ওপর গুরুতর চাপ পড়ে এবং একপর্যায়ে লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে।   ২০২২ সালের শুরুতে গ্যারেথের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। তার লিভার ফাংশন পরীক্ষার ফল খারাপ হচ্ছিল এবং তিনি তীব্র জন্ডিস ও ক্লান্তিতে ভুগছিলেন। একই বছরের ১৬ মে সকালে তিনি জানতে পারেন, তার জন্য সম্ভাব্য একজন দাতার লিভার পাওয়া গেছে।   এর পাঁচ দিন আগে, ১১ মে, তিনি মেয়ে জারাকে কাঁধে নিয়ে একটি ছবি তুলেছিলেন। ছবিতে তার ত্বক ও চোখের হলুদভাব স্পষ্ট ছিল। ১৬ মে এডিনবরায় তার লিভার প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার হয়।   অস্ত্রোপচারের ছয় সপ্তাহ পর, ২৯ জুন, গ্যারেথ ও জারা একই জায়গায় গিয়ে আগের ছবিটি আবার তোলেন। এবার গ্যারেথের শরীরে জন্ডিসের সেই হলুদভাব আর ছিল না। তিনি জানান, তার লিভার ফাংশন পরীক্ষার ফলও স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে এসেছিল।   লিভার ইউকে ও স্কটিশ অর্গান ডোনেশন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গ্যারেথ তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অঙ্গদানের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন। তার মতে, একজন দাতা ও তার পরিবারের সিদ্ধান্তই তাকে নতুন করে ভবিষ্যৎ দেখার সুযোগ দিয়েছে।   লিভার প্রতিস্থাপনের পরও গ্যারেথকে সারাজীবন নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। তবে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তোলা ওই দুটি ছবি তার জীবনে অঙ্গদানের প্রভাব কতটা বড় হতে পারে, তারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে আছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ৮:১৭