- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। দেশটির জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের অবিশ্বাস্য সীমা অতিক্রম করেছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির মোট জাতীয় ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ ট্রিলিয়ন ৪৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এই বিশাল অঙ্কের ঋণকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার। এর মানে হলো, দেশটিতে আজ যে শিশুটি জন্মগ্রহণ করছে, তার নামে আলাদা করে কোনো ঋণ তৈরি না হলেও, গাণিতিক হিসাবে তার কাঁধেও প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ডলারের ঋণের বোঝা চেপে যাচ্ছে। ঋণের এই উল্লম্ফন বেশ দ্রুতগতিতেই ঘটছে। মাত্র কয়েক মাস আগে, চলতি বছরের মার্চেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল এবং এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তা ছিল ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো দীর্ঘদিনের ফেডারেল বাজেট ঘাটতি। সরকারের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় ঘাটতি মেটাতে প্রতিনিয়ত ঋণ নিতে হচ্ছে, যার ফলে এই ঋণের সুদ পরিশোধের চাপও ক্রমাগত বাড়ছে। পাশাপাশি, জনসংখ্যার বয়স বাড়ার কারণে সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ারের মতো খাতে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি ভবিষ্যৎ বাজেটের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস বলছে, বর্তমান আইন ও নীতিগুলো অপরিবর্তিত থাকলে ২০২৬ অর্থবছরে ফেডারেল বাজেট ঘাটতি প্রায় ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে, যা ২০৩৬ সাল নাগাদ বেড়ে ৩ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। শুধু তাই নয়, অর্থনীতির আকারের তুলনায় ঋণের এই বোঝা আরও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সিবিও ধারণা করছে, জনসাধারণের হাতে থাকা ফেডারেল ঋণ ২০২৬ সালে জিডিপির ১০১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০৩৬ সালে ১২০ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে, যা ১৯৪৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রেকর্ড হওয়া ১০৬ শতাংশের সর্বোচ্চ মাত্রাকেও ছাড়িয়ে যাবে। যদিও বাস্তবে এই মাথাপিছু ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক দায় নয়, তবে এই হিসাব থেকে দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর ঋণের বিশালত্ব ও ভবিষ্যৎ চাপ সহজেই অনুমান করা যায়। ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের এই মাইলফলক মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি বাজেট ঘাটতি, মাত্রাতিরিক্ত সুদ ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য এক বিশাল সতর্কবার্তা হিসেবেই সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিয়ারবর্ন শহরে আয়োজিত এক উগ্র ডানপন্থী ও ইসলামবিদ্বেষী সমাবেশে অভিযান চালিয়ে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, মঙ্গলবার ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল দাঙ্গায় জড়িত জেইক ল্যাংয়ের নেতৃত্বে একদল খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদী ওই সমাবেশে অংশ নেন। এ সময় তারা হেনরি ফোর্ড সেন্টেনিয়াল লাইব্রেরি ভবন ঘেরাও করেন, যেখানে সিটি কাউন্সিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল। সমাবেশের কথা আগেই জানতে পেরে কর্মকর্তারা তাদের নিয়মিত স্থান থেকে বৈঠকটি এই লাইব্রেরিতে সরিয়ে নিয়েছিলেন। ‘খ্রিষ্টান ক্রুসেডার মার্চ’ নামের এই বিতর্কিত সমাবেশের নেতৃত্বে জেইক ল্যাংয়ের পাশাপাশি ডেট্রয়েটের যাজক লরেঞ্জো সিওয়েলও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ভবনের বাইরে জড়ো হওয়া শত শত বিক্ষোভকারী একপর্যায়ে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালান। ডিয়ারবর্নের পুলিশপ্রধান ইসা শাহিন এক বিবৃতিতে জানান, পুলিশ অত্যন্ত পেশাদারির সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিটি কাউন্সিলকে নির্বিঘ্নে তাদের কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ করে দিয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বয়স ১৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে। তাদের বিরুদ্ধে শান্তি ভঙ্গ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের অনেকেই বহিরাগত এবং তারা নিউইয়র্ক ও টেনেসিসহ অন্যান্য অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছিলেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ আরব-আমেরিকান ও মুসলিম অধ্যুষিত শহর হিসেবে পরিচিত ডিয়ারবর্ন। সেখানে এ ধরনের উসকানিমূলক সমাবেশের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট পদপ্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। তিনি বহিরাগত এই আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করে বলেন, তারা মিশিগানের চমৎকার সম্প্রীতি ও আমেরিকার আদর্শকে অবমাননা করে এখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে এসেছে। জেইক ল্যাং, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাইক রজার্সের মতো ব্যক্তিরা আমেরিকাকে ছোট করে দেখাতে চান উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মানুষ কীভাবে প্রার্থনা করে তার চেয়ে তারা কীসের জন্য প্রার্থনা করে, সেটিই সাধারণ আমেরিকানদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নিউইয়র্কের ইস্ট হারলেমে মেয়র জোহরান মামদানির পরিকল্পিত ৩০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি গ্রোসারি স্টোরের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেছেন সম্ভাব্য ভেন্ডর বা দরদাতারা। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মেট্রো-নর্থ ভায়াডাক্টের নিচে লা মার্কেটার পাশের যে স্থানটি তারা পরিদর্শন করেছেন, তা মূলত একটি আবর্জনাপূর্ণ খালি প্লট। বুধবার নগরীর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (ইডিসি) নেতৃত্বে আয়োজিত এই সফরে অংশ নেওয়া ভেন্ডররা মাথায় হার্ডহ্যাট পরে থাকলেও সেখানে এখনো নির্মাণের কোনো কাজই শুরু হয়নি। এই সফর শেষে অনেক দরদাতাই গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে রাজি হননি। এমনকি তাদের প্রতিষ্ঠান আদৌ কোনো দরপত্র জমা দেবে কি না, তা নিয়েও অনেকে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়িক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফিলিপ গ্রান্ট অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের প্রতিষ্ঠাতা ফিলিপ গ্রান্ট এই প্রকল্পকে একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে জানান, খাদ্য সংকট থাকা এলাকাগুলোতে এই উদ্যোগটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর জন্য একটি স্বচ্ছ অংশীদারিত্ব ও নমনীয় মডেল তৈরি করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মেয়র মামদানি নিউইয়র্কের প্রতিটি বরোতে একটি করে মোট পাঁচটি সরকারি সুপারমার্কেট খোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ৭০ মিলিয়ন ডলারের এই বিশাল প্রকল্পে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ বাজারের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রির কথা বলা হয়েছে। ব্রঙ্কসে আগামী বছর প্রথম স্টোরটি চালু হওয়ার কথা থাকলেও লা মার্কেটার এই স্টোরটি ২০২৯ সালে উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, সরকারি এই বিশাল উদ্যোগ স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। প্রস্তাবিত স্থানটির পাশেই অবস্থিত আমেরিকান ডেলি মিনি মার্টের ৩৩ বছর বয়সী মালিক এলভিস আরিয়াস জানান, চড়া করের বোঝায় এমনিতেই তারা জর্জরিত; তার ওপর সরকারের এই সরাসরি প্রতিযোগিতা তাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা। তবে মেয়রের স্টোরে অ্যালকোহল বিক্রি না হওয়ার বিষয়টি তাকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে, কারণ এর মাধ্যমে তিনি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার আশা দেখছেন। এদিকে, ইডিসি এই পুরো প্রকল্পটি পরিচালনার জন্য কেবল একজন একক অপারেটর খুঁজছে, যা অনেক সরবরাহকারীর জন্যই বেশ চ্যালেঞ্জিং। এতসব বিতর্কের পরও ইডিসির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েভারলি নীর এই সফরকে ফলপ্রসূ বলে দাবি করে জানিয়েছেন, এই সুযোগ নিয়ে স্থানীয়রা বেশ রোমাঞ্চিত।
সম্প্রতি ফাঁস হওয়া কিছু নথিতে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই তেহরানের অনুরোধে নির্দিষ্ট কিছু ইরানি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল। ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের করা একটি তথ্যের অধিকার (ফ্রিডম অফ ইনফরমেশন অ্যাক্ট বা ফোয়া) সংক্রান্ত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই গোপন নথিগুলো প্রকাশ্যে আসে। এতে দেখা যায়, ইসরায়েলে অবস্থিত আইসিই কার্যালয়, কাতার সরকার এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে একটি গোপন যোগাযোগ ব্যবস্থা কাজ করছিল। এই বিষয়টিকে অনেকেই অত্যন্ত বিতর্কিত বলে মনে করছেন, কারণ যে সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানিদের স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে মুক্ত করার কথা বলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই সময়েই তারা বিরোধী মতাবলম্বীদের একই সরকারের হাতে তুলে দিচ্ছিল। নথিগুলো থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আইসিই-এর এক কর্মকর্তা ইমেইলে নিশ্চিত করেন যে, ইরান দূতাবাস নির্দিষ্ট তিনজনের জন্য ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যু করেছে এবং তাদের ২৯ সেপ্টেম্বরের ফ্লাইটে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করেছে। আইসিই কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বন্দিশিবির থেকে এই ইরানিদের জড়ো করে তেহরানের সেই অনুরোধ রক্ষা করেছিলেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ফেরত পাঠানো এই ইরানিদের মধ্যে প্রকাশ্যে সমকামী এবং খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণকারী ব্যক্তিরাও ছিলেন, যা ইরানের আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ ও কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইমেইলগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি সরাসরি হোয়াইট হাউসের নির্দেশে বা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছিল। এমনকি তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও আইসিই ভুল করে এক ইরানিকে ওই ফ্লাইটে তুলে দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল। ২০২৫ সালের আগস্টে কাতারের মাধ্যমে ইরানিদের ফেরত পাঠানোর একটি পরিকল্পনা করা হলেও দুই দেশের মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে তা ভেস্তে যায়। পরবর্তীতে সেপ্টেম্বরের শেষে সফলভাবে ফ্লাইটটি পরিচালনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের কোনো আনুষ্ঠানিক দূতাবাস না থাকায় ওয়াশিংটনে পাকিস্তান দূতাবাসের মাধ্যমে ইরানি কূটনীতিকরা এসব বিষয় পরিচালনা করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। আইসিই-এর হেফাজতে থাকা ইরানিদের অভিযোগ, এক ইরানি কূটনীতিক তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। আইসিই মোট ১০০ জনেরও বেশি ইরানিকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল, যাদের মধ্যে অনেককে ইরানে পৌঁছানোর পরপরই সেদেশের গোপন পুলিশ তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ করে। সবশেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।
রাশিয়ায় একটি আদালত কর্তৃক 'চরমপন্থী' বা এক্সট্রিমিস্ট হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পর নিজেদের সব ধরনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির অন্যতম শীর্ষ এলজিবিটিকিউ অধিকার গোষ্ঠী 'রাশিয়ান এলজিবিটি নেটওয়ার্ক'। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক বিবৃতির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। এর আগে, গত এপ্রিলে রাশিয়ার বিচার মন্ত্রণালয়ের দায়ের করা এক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি আদালত ওই অধিকার গোষ্ঠীটিকে চরমপন্থী হিসেবে আখ্যা দেয়। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত রাশিয়ান এলজিবিটি নেটওয়ার্ক দীর্ঘ সময় ধরে দেশজুড়ে অধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছিল। তবে চরমপন্থী তকমা পাওয়ার পর সংগঠনটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ঝুঁকির বিষয়টি গভীরভাবে মূল্যায়নের পরই তারা কার্যক্রম বন্ধের এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চরমপন্থী হিসেবে ঘোষণার পর আগের মতো প্রকাশ্যে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তারা জানায়, বর্তমানে এই সংগঠনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সম্পর্ক সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। দমনমূলক এই পরিবেশে মানুষের নিরাপত্তাকেই তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। গত এক দশক ধরেই এলজিবিটিকিউ অধিকারের ওপর ক্রেমলিনের কঠোর দমনপীড়ন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৩ সালে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট 'আন্তর্জাতিক এলজিবিটি আন্দোলন'-কে চরমপন্থী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে 'ইলগা ওয়ার্ল্ড' নামক একটি বৈশ্বিক অধিকার গোষ্ঠীকেও 'অবাঞ্ছিত' ঘোষণা করে মস্কো, যার সঙ্গে যুক্ত থাকলে রাশিয়ায় ছয় বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, রাশিয়ান এলজিবিটি নেটওয়ার্ক হলো এ বছর রাশিয়ায় চরমপন্থী আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করা নয়টি অধিকার গোষ্ঠীর মধ্যে একটি। সবশেষে বিদায়বেলায় সংগঠনটি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম হয়তো বন্ধ হচ্ছে, কিন্তু মানুষের মর্যাদা, সংহতি এবং নিজস্ব পরিচয়ে বাঁচার অধিকার কখনোই ধ্বংস করা যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে (এনওয়াইপিডি) গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন একেএম আলম। তাঁকে এনওয়াইপিডির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট ব্যুরো ম্যানহাটন টাস্কফোর্সের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর এই নতুন পদোন্নতি ও অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। বাপা-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তাদের সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়ে আসা একেএম আলম নিজের পেশাদারি দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমাণ রেখেই এই সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছেছেন। একজন কমান্ডিং অফিসার হিসেবে তিনি এখন থেকে নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ম্যানহাটনের ট্রানজিট বা পরিবহন ব্যবস্থার সার্বিক নিরাপত্তা ও টাস্কফোর্সের কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করবেন। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ নতুন নেতৃত্ব শুধু পুলিশ ডিপার্টমেন্টের জন্যই নয়, বরং পুরো নিউইয়র্ক শহরের সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বড় ধরনের অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্যাপ্টেন একেএম আলমকে বিভিন্ন মহল থেকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁর এই অর্জনকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য এক বিশাল গর্বের বিষয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নিউইয়র্ক শহর ও পুলিশ ডিপার্টমেন্টের প্রতি তাঁর এই নিরলস সেবার প্রশংসা করে অনেকেই প্রত্যাশা করছেন যে, নতুন এই পদেও তিনি সফলতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন এবং সামনের দিনগুলোতে নিজ কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশি কমিউনিটির মুখ আরও উজ্জ্বল করবেন।
স্কটল্যান্ডের ক্যামবাসল্যাং শহরের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী তরুণী এরিন ল্যাভেরি। ২১ বছর বয়সে স্টেজ-৩ হজকিন লিম্ফোমা নামক ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ এক বছর ধরে চিকিৎসকদের কাছে তার উপসর্গগুলো অবহেলিত হওয়ার পর হঠাৎ করেই ক্যানসার ধরা পড়ে। রোগটি মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা শুরু করতে হয়েছিল। এর ফলে চিকিৎসা শুরুর আগে ডিম্বাণু সংরক্ষণের কোনো সুযোগ তিনি পাননি, যা সেই সময় যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বা এনএইচএস কর্তৃক বিনামূল্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। টানা ছয় মাসের কেমোথেরাপি এবং এক মাসের রেডিওথেরাপি শেষে তিনি ক্যানসারমুক্ত হলেও, চিকিৎসকরা জানান তিনি চিকিৎসাজনিত মেনোপজে চলে গেছেন এবং তার প্রজনন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি ক্যানসারমুক্ত এরিন জানতে পারেন, এখনো তার ডিম্বাণু সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে সন্তান জন্মদানের সুযোগ রয়েছে। সবসময় মা হওয়ার স্বপ্ন লালন করা এরিন কালক্ষেপণ না করে দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেন। তবে তাকে জানানো হয়, ডিম্বাণু সংরক্ষণের প্রক্রিয়াটি সাধারণত ক্যানসারের চিকিৎসা শুরুর আগে করা হলে এনএইচএস এর ব্যয়ভার বহন করে। কিন্তু চিকিৎসার পর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাইলে এনএইচএস তা আর বহন করবে না। ফলে এই চিকিৎসার জন্য এখন তাকে নিজের পকেট থেকে ১০ হাজার ডলারেরও বেশি খরচ করতে হবে। এমন অদ্ভুত নিয়মে হতাশ এরিন বলেন, ক্যানসারের মতো কঠিন রোগ নিয়ে লড়াই করা এমনিতেই একাকীত্বের, তার ওপর প্রজননহীনতার এই কষ্ট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তার মতে, চিকিৎসার আগে যদি সরকারি তহবিল থেকে অর্থায়ন করা সম্ভব হয়, তবে চিকিৎসার পরেও তা থাকা উচিত। পেশায় নেইল টেকনিশিয়ান এরিন সৌভাগ্যবশত পরিবার ও বন্ধুদের সহায়তায় এই খরচ জোগাতে পারছেন। কিন্তু যেসব ক্যানসারজয়ীর এই আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাদের কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বর্তমানে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে এই সেকেলে নীতির পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। এরিনের এই জোরালো প্রতিবাদ ও প্রচারণা এরই মধ্যে স্কটল্যান্ড সরকারের নজরে এসেছে। সরকার আইভিএফ পরিষেবাগুলোর নীতি পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী মেরি টড একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এরিনের সাহসিকতা ও মানসিক শক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ক্যানসারজয়ীদের জন্য আরও বেশি সহায়তার পক্ষে এরিনের এই ব্যক্তিগত লড়াই ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আগামী দিনে দেশটির স্বাস্থ্যনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে চলতি বছর প্রথমবারের মতো এক বাসিন্দার শরীরে বিপজ্জনক ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। বুধবার নগরীর স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আক্রান্ত ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি নিউইয়র্ক শহর এবং এর বাইরের বেশ কিছু স্থানে বাড়ির বাইরে সময় কাটানোর পরই মশাবাহিত এই ভাইরাসে সংক্রমিত হন। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি সারা দেশে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত ২২ বিবেচিত ২২ জন রোগী শনাক্ত করেছে, যাদের বেশিরভাগই অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া এবং টেক্সাসের বাসিন্দা। গত জুন মাস থেকেই নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতেই ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস বহনকারী মশার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, গত গ্রীষ্মের তুলনায় এবার ভাইরাসবাহী মশার নমুনার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। নগরীর স্বাস্থ্য কমিশনার আলিস্টার মার্টিন এক বিবৃতিতে বলেন, সুসংবাদ হলো এই রোগটি প্রতিরোধযোগ্য। বর্তমানে মশার প্রজনন মৌসুম চলায় নগরবাসীকে মশার কামড় থেকে বাঁচতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ভোর ও সন্ধ্যায় শরীর ঢেকে রাখা, ইনসেক্ট রিপেলেন্ট বা পোকামাকড় নিরোধক ব্যবহার করা এবং বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করার মতো সহজ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক শহরে ১৯৯৯ সালে প্রথম ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস শনাক্ত হয় এবং এরপর থেকে প্রতি বছরই বেশ কিছু মানুষ এতে সংক্রমিত হচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের রেকর্ড অনুযায়ী, গত বছর নগরীতে এই ভাইরাসে ১৮ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে কর্মকর্তাদের মতে, নিউইয়র্ক শহরে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩১ জন মানুষ ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের কারণে অসুস্থ হন। এই ভাইরাসে আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষের শরীরেই প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে জ্বর, র্যাশ, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং বমির মতো মৃদু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এছাড়া, প্রতি ১৫০ জনের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে এটি নিউরোইনভেসিভ ডিজিজ বা গুরুতর হয়ে মস্তিষ্কে সংক্রমণ এবং স্পাইনাল কর্ডের মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
কেনিয়ায় সাফারি ভ্রমণের সময় পর্যটকবাহী একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ মার্কিন নাগরিকসহ আরোহী সাতজনের সবাই নিহত হয়েছেন। বুধবার উত্তর কেনিয়ার প্রত্যন্ত সামবুরু কাউন্টির মাউন্ট ওলোলোকওয়ের পাদদেশে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। কেনিয়া সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৩ মিনিটে লইসাবা কনজারভেন্সি থেকে ইওয়াসো নায়িরো এলাকায় যাওয়ার পথে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। উড়োজাহাজটিতে ছয়জন যাত্রী ও একজন পাইলট ছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিহতদের মধ্যে পাঁচজন আমেরিকান নাগরিক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। মার্কিন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এনবিসিইউনিভার্সাল জানিয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠান টেলেমুন্ডো ৩১, টেলেমুন্ডো ৪৯ এবং টেলেমুন্ডো ফোর্ট মায়ার্স-নেপলসের প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল ম্যানেজার হোসে আলবার্তো সুয়ারেজ এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাঁকে একজন শ্রদ্ধেয় নেতা ও অভিভাবক হিসেবে স্মরণ করে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইকুয়েডরের পরিবহনমন্ত্রী রবার্তো লুকে নিশ্চিত করেছেন যে, দুর্ঘটনায় তাদের দেশের জাতীয় গোয়েন্দাপ্রধান মিশেল সেন্সি-কন্তুগি এবং তাঁর স্ত্রী স্তেফানিও নিহত হয়েছেন। স্থানীয় ট্রাভেল কোম্পানি '&বিয়ন্ড'-এর অতিথিদের নিয়ে লেডি লরি হেলিকপ্টারস কোম্পানির ইউরোকপ্টার ইসি১৩০ বি৪ মডেলের চার্টার্ড বিমানটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল। কেনিয়া রেড ক্রস জানিয়েছে, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল এবং দুর্ঘটনাস্থলে আগুন জ্বলে ওঠার কারণে উদ্ধার তৎপরতা বেশ ব্যাহত হয়। স্থানীয় সাফারি অপারেটর ট্রপিক এয়ারের দুটি হেলিকপ্টার অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে সহায়তা প্রদান করে। বিমান দুর্ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে কেনিয়া সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে পর্যটক পরিবহনে অভ্যন্তরীণ বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এমন দুর্ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতায় গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের আর্থিক সক্ষমতা আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। সম্প্রতি প্রকাশিত চূড়ান্ত নীতিমালায় ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, অভিবাসীরা যেন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেরা স্বাবলম্বী হন, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর বা এর পরে জমা দেওয়া ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ বা ফর্ম আই-৪৮৫ আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন এই নিয়ম পুরোপুরি প্রযোজ্য হবে। নতুন নীতি অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনকারী কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন কি না, তা নির্ধারণ করতে পাঁচটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। এগুলো হলো—আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি, সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতা এবং শিক্ষা ও দক্ষতা। এর পাশাপাশি স্পন্সরের দেওয়া আর্থিক নিশ্চয়তাপত্র বা ফর্ম আই-৮৬৪-ও বিবেচনা করা হবে। নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ফুড স্ট্যাম্প, আবাসন সহায়তা, নগদ অর্থ কিংবা কলেজে পড়ার জন্য আর্থিক অনুদানের মতো যেকোনো ধরনের সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই তা যাচাই-বাছাইয়ে প্রভাব ফেলবে। তবে এর আগে নেওয়া সুবিধার ক্ষেত্রে পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী শুধুমাত্র নগদ অর্থ সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি সরকারি চিকিৎসাসেবা বিবেচনা করা হবে। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেবেন। অবশ্য এই কঠোর নিয়মের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে বিশেষ কিছু শ্রেণির অভিবাসীদের। এর মধ্যে রয়েছেন শরণার্থী বা অ্যাসাইলাম প্রাপ্তরা, মানবপাচার ও পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তি এবং বিশেষ অভিবাসী কিশোর-কিশোরীরা। এছাড়া, কোনো আবেদনকারী যদি শুধুমাত্র ‘পাবলিক চার্জ’ বা সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কায় বাতিল হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন, তবে তাকে ‘পাবলিক চার্জ বন্ড’ বা আর্থিক গ্যারান্টি জমা দেওয়ার সুযোগ দিতে পারে ইউএসসিআইএস। এটি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ বা গ্যারান্টি, যা প্রমাণ করে যে আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হবেন না। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার দেওয়া চিঠির ভিত্তিতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে বন্ড জমা দিতে পারলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী গ্রিন কার্ড পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
বলিউড সিনেমা বা তথ্যচিত্র বানিয়ে যুদ্ধের পরাজয়ের স্মৃতি মুছে ফেলা কিংবা ইতিহাস বদলে ফেলা একেবারেই অসম্ভব বলে কড়া মন্তব্য করেছে পাকিস্তান। ভারতের তৈরি ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামক একটি সাম্প্রতিক তথ্যচিত্রের তীব্র সমালোচনা করে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ভারত তাদের সামরিক ব্যর্থতা ও পরাজয় স্বীকার না করে নাটকীয় ও সিনেমাটিক উপায়ের আশ্রয় নিয়ে ইতিহাসকে নিজেদের মতো করে নতুন রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর মতে, তথাকথিত ওই তথ্যচিত্রে ভুল তথ্য ও অতিরঞ্জিত ঘটনার মাধ্যমে নিজেদের একতরফা জয় হিসেবে দেখানোর যে চেষ্টা করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ হাস্যকর এবং বাস্তবতাবহির্ভূত। সত্য গোপন করার উদ্দেশ্যে নির্মিত এই ভিডিওটিকে একই সঙ্গে একটি ট্র্যাজেডি এবং কমেডি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। তাদের মতে, ভারত মূলত নিজেদের জনগণের কাছে মুখরক্ষার জন্যই বারবার এ ধরনের কল্পকাহিনির আশ্রয় নিচ্ছে। আইএসপিআর তাদের বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে, ‘মারকা-ই-হক’ এবং পাকিস্তানের পাল্টা পদক্ষেপ ‘অপারেশন বুনিয়ানোম মারসুস’-এর প্রকৃত নথি, বৈশ্বিক প্রতিবেদন এবং ভারতের নিজস্ব স্বীকারোক্তিই ওই যুদ্ধের আসল সত্য তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট। সেখানে ভারতের একাধিক সামরিক বিমান ভূপাতিত করা এবং ২৬টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলার যে ইতিহাস পাকিস্তান রচনা করেছে, তা কখনোই ঢেকে রাখা সম্ভব নয়। কোনো ধরনের সিনেমাটিক কারসাজি বা অপপ্রচার চালিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের চরম সত্য ও পরাজয়কে জয়ে রূপান্তর করা যায় না উল্লেখ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সতর্ক করেছে যে, ভবিষ্যতে ভারত এমন কোনো সামরিক দুঃসাহস দেখালে তার আরও কঠিন জবাব দেওয়া হবে।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোসের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই খবরের পর তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. ইয়াসির আদ-দোসারি। বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কার্লোসের একটি ছবি শেয়ার করে কাবার এই প্রখ্যাত ইমাম লেখেন, ‘রহমতের ধর্মে তোমাকে স্বাগতম।’ পাশাপাশি তিনি সাবেক এই ফুটবল তারকার হেদায়েত, জীবনে বরকত এবং দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়াও করেন। কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের এই চাঞ্চল্যকর খবরটি গত মঙ্গলবার প্রথম সামনে আনেন তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল একে পার্টির সংসদ সদস্য আলি শাহিন। সম্প্রতি ব্রাজিল সফরে গিয়ে স্থানীয় মুসলিম প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এই দাবি করেন। আলি শাহিন জানান, ব্রাজিলের প্রখ্যাত ইসলামী স্কলার শায়খ জিহাদ হাম্মাদের মাধ্যমে কার্লোসের ধর্মান্তরিত হওয়ার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। জানা গেছে, শায়খ জিহাদের সঙ্গে এই ফুটবল তারকার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। প্রায় চার সপ্তাহ আগে সাও পাওলোতে তাদের এক বিশেষ বৈঠকেই রবার্তো কার্লোস কালিমা শাহাদাত পাঠ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামে প্রবেশ করেন বলে দাবি করা হয়েছে। এদিকে পুরো বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলবিষয়ক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম গোল ডটকম একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে রবার্তো কার্লোসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চয়তা না মিললেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বের নানা প্রান্তের ফুটবল ভক্ত থেকে শুরু করে বিশিষ্ট মুসলিম ব্যক্তিত্বরা এই তারকাকে ক্রমাগত অভিনন্দন জানিয়ে চলেছেন। সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক
আফগানিস্তানে ৭০ বছর বয়সী এক প্রভাবশালী তালেবান কমান্ডারকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোয় বিবি সেদিকা নামের এক কিশোরীকে প্রায় দুই বছর ধরে কারাগারে বন্দি রেখে চরম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। দেশটির বাদঘিস প্রদেশে ঘটা এই অমানবিক ঘটনার শিকার ওই কিশোরী দীর্ঘ কারাবাস ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের কারণে বর্তমানে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। জানা যায়, বাবার ঋণের অজুহাতে স্থানীয় ওই ক্ষমতাধর তালেবান কমান্ডার সেদিকাকে মাত্র ১২ বছর বয়সে জোরপূর্বক নিজের বাড়িতে তুলে নিয়ে যান। এরপর থেকে তাকে বিয়ের জন্য ক্রমাগত চাপ দেওয়া হতে থাকে। কিন্তু সেদিকা কোনোভাবেই এই অসম ও জোরপূর্বক বিয়েতে রাজি হননি। নিজের আধিপত্য ও প্রভাব খাটিয়ে ওই কমান্ডার স্থানীয় এক আদালতের মাধ্যমে মাত্র ১৪ বছর বয়সেই সেদিকাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। বর্তমানে ১৭ বছর বয়সী এই কিশোরী গত ২১ মাস ধরে তালেবানের একটি কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। সেখানে তাকে বিয়েতে রাজি করাতে নিয়মিত শারীরিক মারধরসহ নানাভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। মেয়ের এই করুণ পরিণতি ও দীর্ঘ অন্যায়ের শোকে সেদিকার মা-ও মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই আফগানিস্তানে নারী অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। জোরপূর্বক বিয়ে এবং বাল্যবিবাহের মতো ঘটনাগুলোর মাধ্যমে আফগান নারীদের মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছে তালেবান প্রশাসন। সেদিকার এই অমানবিক ঘটনাটি আফগান নারীদের বর্তমান করুণ বাস্তবতারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে উঠে এসেছে। সূত্রঃ ডেইলি মেইল
ফিলিস্তিনের গাজায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু হিন্দ রাজাব ও তার ছয় স্বজনকে বহনকারী গাড়িতে গুলি চালানোর কথা প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। ২০২৪ সালের ওই বর্বরোচিত হামলায় প্রথমে বেঁচে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে রেড ক্রিসেন্টের কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল ছোট্ট হিন্দ। তাকে উদ্ধারে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে যাওয়া একটি অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালানো হয়, যাতে নিহত হন দুই ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যকর্মী। ঘটনার পর ব্যাপক আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখে পড়া ইসরায়েল এখন জানিয়েছে, তারা হিন্দ, তার পরিবার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের হত্যার ঘটনায় একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করবে। একইসঙ্গে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে রাফাহতে ১৫ জন ফিলিস্তিনিকে (যাদের মধ্যে চিকিৎসক ও জাতিসংঘ কর্মীও ছিলেন) হত্যার ঘটনারও তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। হিন্দের মৃত্যুর ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। হামলার পর গাড়ির ভেতর থেকে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (পিআরসিএস) কাছে ফোন করেছিল হিন্দ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলা সেই কলে ট্যাংকের সামনে মৃত্যুর ভয়ে লুকিয়ে থাকা এক শিশুর আর্তনাদ নাড়া দিয়েছিল পুরো বিশ্বকে। ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্বানুমতি নিয়েই ইউসুফ আল-জেইনো এবং আহমেদ আল-মাধৌন নামের দুই স্বাস্থ্যকর্মী হিন্দকে উদ্ধারে গিয়েছিলেন। কিন্তু অন্ধকারে তাদের অ্যাম্বুলেন্সেও বোমাবর্ষণ করে ইসরায়েলি বাহিনী। আইডিএফ প্রথমে দাবি করেছিল যে, ঘটনার সময় সেখানে তাদের কোনো সেনাসদস্য ছিল না। তবে পরবর্তীতে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসে তারা জানায়, রেড ক্রিসেন্টের অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের সমন্বয়ে ব্যর্থতার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। হিন্দের এই করুণ কাহিনি নিয়ে পরবর্তীতে 'দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব' নামে একটি অস্কার-মনোনীত চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়। আইডিএফ-এর এই তদন্তের ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রাসেলস-ভিত্তিক 'হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন'। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলের এই অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি ত্রুটিপূর্ণ এবং এর প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই। মূলত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য আইনি ব্যবস্থা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থেকে বাঁচতেই ইসরায়েল নিজেদের তদন্ত করার এই নাটক সাজিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা 'ইয়েশ দিন'-এর নির্বাহী পরিচালক জিভ স্টাহলও জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তুলনায় খুব কম ক্ষেত্রেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। আর দু-একটি ক্ষেত্রে দোষী সাব্যস্ত হলেও তাদের অত্যন্ত লঘু শাস্তি দেওয়া হয়। হিন্দের ঘটনা ছাড়াও আইডিএফ ২০২৫ সালের মার্চে রাফাহতে অ্যাম্বুলেন্স ও জাতিসংঘের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় ফৌজদারি তদন্তের কথা বললেও, অন্যান্য বেশ কয়েকটি আলোচিত হত্যার দায় এড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে দুই বছর আগে সেন্ট্রাল কিচেনের (ডব্লিউসিকে) সাত কর্মী এবং এমএসএফ-এর চার কর্মীকে হত্যার ঘটনায় কোনো ফৌজদারি তদন্তের ভিত্তি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তারা। ডব্লিউসিকে এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি করেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, যে পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ।
ব্রিটেনের সাসেক্সের শোরহ্যাম-বাই-সি উপকূলে সপরিবারে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে এক ফিলিস্তিনি দম্পতি ও তাদের ১৪ বছর বয়সী কিশোরী কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। লন্ডনের ফিলিস্তিনি দূতাবাস নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। নিহতরা হলেন বাবা হোসাম আল-খাওয়াস, মা জেইনা আলায়ন এবং তাদের মেয়ে সারা আল-খাওয়াস। তারা লেবাননের রাশিদিয়েহ শরণার্থী শিবির থেকে আসা ফিলিস্তিনি। মঙ্গলবার ঘটা এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় তাদের ছয় বছর বয়সী আরেক কন্যাকে উদ্ধারকর্মীরা জীবিত উদ্ধার করলেও বর্তমানে সে হাসপাতালে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, পানিতে নামার পর পরিবারের এক শিশু মাছ ধরার জালে আটকে পড়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারটি সম্ভবত ওই এলাকায় ক্যাম্পিং করছিল এবং একপর্যায়ে হার্বারে সবাই মিলে সাঁতার কাটতে নামে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শোরহ্যাম হার্বারের সমুদ্রের তলদেশ হঠাৎ করেই অনেক গভীর হয়ে গেছে, যার ফলে সাঁতারুদের ভারসাম্য বজায় রাখা সেখানে বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ব্রিটেনে ফিলিস্তিনি ফোরাম ও ফিলিস্তিনি দূতাবাস গভীর শোক প্রকাশ করেছে। নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করার পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছোট মেয়েটির দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পুরো পরিবারটি বর্তমানে চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ নিহতদের স্বজনদের খবর দিয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এটি একটি চরম পারিবারিক ট্র্যাজেডি। সরকারের পক্ষ থেকে পানি নিরাপত্তা বিষয়ে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি গ্রীষ্মের দাবদাহে উন্মুক্ত জলাশয়ে সাঁতার কাটার বিপদ সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করেন। আবহাওয়া গরম থাকলেও উন্মুক্ত জলাশয়ের শীতল পানি যে হঠাৎ বিপদ ডেকে আনতে পারে, সে বিষয়ে তিনি জোর দেন। একই সঙ্গে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য জরুরি সেবাকর্মীদের প্রশংসাও করেন তিনি। ইস্ট ওয়ার্দিং এবং শোরহ্যামের সংসদ সদস্য টম রুটল্যান্ডও এই ঘটনায় স্থানীয়দের শোকাহত হওয়ার কথা জানিয়ে সমুদ্র উপকূলে সাঁতারের বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে পারমাণবিক হামলা চালানোর মতো কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তেহরানও ঠিক সমান শক্তিতে তার চরম ও ভয়াবহ পাল্টা জবাব দেবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। বুধবার (১৯ আগস্ট) ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য ফাদা হোসেন মালেকি স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই কঠোর বার্তা দেন। এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের আক্রমণাত্মক ও অনমনীয় সামরিক অবস্থানের বিষয়টিই নতুন করে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাক্ষাৎকারে ফাদা হোসেন মালেকি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের ভুল পদক্ষেপ বা হঠকারিতার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত এমন কোনো চরম পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস দেখাবেন না; কারণ তেমন কিছু ঘটলে তা গোটা বিশ্বকেই এক ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে। মালেকি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরানের ওপর ঠিক যে ধরনের বা যে মাত্রার অস্ত্র দিয়ে আঘাত হানা হবে, তেহরানও বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে ঠিক একই মাত্রায় তার জবাব নিশ্চিত করবে। তবে পাল্টা আঘাতের ক্ষেত্রে ইরানের নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডার রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের চূড়ান্ত জবাব দেওয়ার জন্য তেহরানের হাতে এখনও বহু গোপন ও শক্তিশালী বিকল্প প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের এই শীর্ষ আইনপ্রণেতা আরও জানান, তেহরান এখন তাদের চিরাচরিত আত্মরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে এসে পুরোপুরি 'আক্রমণাত্মক প্রতিরোধ' নীতি গ্রহণ করেছে। এদিকে, দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত হওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটনকেই সরাসরি দায়ী করেছেন তিনি। মালেকি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আগের কোনো সমঝোতা বা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। ওয়াশিংটন যদি নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়, তবে ইরান আর কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এর ফলে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আঞ্চলিক সংকট অমীমাংসিতই থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া, ওমানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনাকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি প্রক্রিয়া হিসেবে আখ্যায়িত করে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের অংশগ্রহণ ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও নিশ্চিত করেন এই আইনপ্রণেতা।
পর্তুগালে জনসমক্ষে এমনভাবে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ করে নতুন আইন কার্যকর করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন এই আইনের ফলে জনসমক্ষে বোরকা ও নিকাব পরা মুসলিম নারীরাও সরাসরি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছেন, যা দেশটিতে নতুন করে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আইন অনুযায়ী, জনসমক্ষে পরিচয় গোপনকারী কোনো পোশাক বা উপকরণ ব্যবহার করলে অমান্যকারীদের ন্যূনতম ১৫০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে। তবে এই আইনটি সব ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে প্রযোজ্য হবে না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ কিছু যৌক্তিক পরিস্থিতিতে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যগত জরুরি প্রয়োজন, পেশাগত দায়িত্ব পালন, শিল্প ও সংস্কৃতির কোনো বিশেষ আয়োজন, বৈরী আবহাওয়া এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের ভেতরের কার্যক্রম। মূলত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার সুবিধার্থেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইনের পক্ষের সমর্থক ও নীতিনির্ধারকরা। অন্যদিকে, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ এই নতুন আইনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা সরাসরি মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নারীদের নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরার মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন তারা। পর্তুগালের এই পদক্ষেপের রেশ কাটতে না কাটতেই স্পেনের বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জেও বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার এক নতুন উদ্যোগ সামনে এসেছে। স্পেনের ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ভক্স ও পিপলস পার্টির পক্ষ থেকে আনা এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আইন বারবার লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এমনকি কাউকে জোর করে বোরকা বা নিকাব পরতে বাধ্য করলে চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের কঠোর বিধানেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মুখঢাকা পোশাক নিয়ে একের পর এক এমন আইন ও প্রস্তাবের ফলে জননিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত মানবাধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিতর্কটি এখন পুরো মহাদেশ জুড়েই আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ করছে। যুদ্ধ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলো আগের মতো করে পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তেও এই বিশ্লেষণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জয়েন্ট স্টাফ ও ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা শুরু হয়নি। অর্থাৎ সেনা কমানোর বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতায় জর্ডান থেকে ওমান পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে প্রায় ২০টি স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনায় সাধারণত প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকে। বাহরাইনে রয়েছে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর। এ ছাড়া কুয়েতসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশেও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের আগের এক বিশ্লেষণে স্যাটেলাইট ছবি পর্যালোচনা করে দেখা হয়েছিল, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের ১৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অন্তত ২১৭টি অবকাঠামো ও ১১টি সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এসব হামলায় হ্যাঙ্গার, ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো, বিমান, রাডার, যোগাযোগব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও উঠে আসে। যুদ্ধের সময় কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়েও নেওয়া হয়েছিল। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকির কারণে এসব স্থাপনার কিছু অংশে স্বাভাবিক সংখ্যায় সেনা রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলো পুনর্গঠন করে সেখানে আগের মতো বড় সামরিক উপস্থিতি রাখা হবে কি না, সেটি নতুন করে বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এদিকে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের শেষ কবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন। এর আগে ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলার কথা জানিয়েছিলেন। ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে, তবে নিজেদের শর্তের ওপর জোর দিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই দীর্ঘ সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও পড়ছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে যুদ্ধ শেষে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ধরন কী হবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সেনা প্রত্যাহার বা সামরিক ঘাঁটি বন্ধের সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ফলে আপাতত বিষয়টি পর্যালোচনা ও সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে দেশটির দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। মঙ্গলবারের এই ঘটনায় আমিরাতজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হলেও ক্ষেপণাস্ত্র দুটির কারণে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে। পরে মূল্যায়নে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়ে থাকতে পারে। দুটিই শেষ পর্যন্ত সাগরে পড়ে। ঘটনার পর আমিরাতের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়। কিছু এলাকায় মোবাইল ফোনে নিরাপত্তা সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়। পরে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা জানিয়ে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফেরার আহ্বান জানায়। তবে ইরান এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আমিরাতের বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তেহরানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ইরান থেকে ছোড়া হয়েছিল—এমন দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৯ আগস্ট ঘোষণা করেছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত থাকবে। আবুধাবি বলেছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানের জন্য এই সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। দুবাই দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও পুনঃরপ্তানি কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে আমিরাতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত হলে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর ঘিরে সামরিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা তীব্র। ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে এবং তেলের সরবরাহ নিয়েও আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা জরুরি—সংযুক্ত আরব আমিরাত বলছে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ইরান থেকে ছোড়া এবং সমুদ্রপথের লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করে ছিল; অন্যদিকে ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাই এটিকে নিশ্চিতভাবে ‘ইরানের আমিরাতের ভূখণ্ডে হামলা’ হিসেবে না লিখে ‘আমিরাতের দাবি, ইরান থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে’—এই ভাষা ব্যবহার করাই সবচেয়ে তথ্যনির্ভর।
কানেকটিকাটের স্টেট সিনেট নির্বাচনে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া মুসলিম নারী রাজনীতিক মেরিয়াম খানের সামনে। ১১ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে ২য় সিনেট ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়ে তিনি নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের জন্য দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। নভেম্বরে জয়ী হলে তিনি কানেকটিকাটের প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হবেন। প্রাইমারিতে খান ৩ হাজার ৫২১ ভোট পেয়ে বর্তমান স্টেট সিনেটর ডগ ম্যাকক্রোরিকে পরাজিত করেন। উইন্ডসর বোর্ড অব এডুকেশনের প্রেসিডেন্ট আয়ানা টেলর পান ২ হাজার ৮৭৪ ভোট এবং ম্যাকক্রোরি পান ২ হাজার ২৫৫ ভোট। এর মধ্য দিয়ে খান তার নিজ দলের প্রাইমারিতে জয়ী হয়ে নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে যাওয়ার পথ তৈরি করেন। ২য় সিনেট ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে হার্টফোর্ড, ব্লুমফিল্ড ও উইন্ডসরের অংশ রয়েছে। মেরিয়াম খান এর আগে কখনো স্টেট সিনেটর ছিলেন না। তিনি ২০২২ সালের মার্চে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে কানেকটিকাট স্টেট হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রবেশ করেন। ওই জয়ের মাধ্যমে তিনি কানেকটিকাটের প্রথম মুসলিম হিসেবে স্টেট হাউসে নির্বাচিত হন এবং প্রথম মুসলিম নারী হিসেবেও ইতিহাস তৈরি করেন। পরে তিনি ২০২২ সালের নভেম্বরে পূর্ণ মেয়াদে এবং ২০২৪ সালে পুনর্নির্বাচিত হন। তবে মেরিয়াম খান কানেকটিকাটের প্রথম মুসলিম আইনপ্রণেতা নন এবং স্টেট সিনেটেও তিনি প্রথম মুসলিম প্রার্থী নন। তার আগে ডেমোক্র্যাট সৌদ আনোয়ার ২০১৯ সালে কানেকটিকাট স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হন। তিনি বর্তমানে ৩য় সিনেট ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং কানেকটিকাটের প্রথম মুসলিম স্টেট সিনেটর হিসেবে পরিচিত। সুতরাং মেরিয়াম খানের সম্ভাব্য ইতিহাসটি হবে ভিন্ন। নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি কানেকটিকাটের প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হবেন। অর্থাৎ স্টেট হাউসে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়ার পর এবার রাজ্যের সিনেটে মুসলিম নারীদের প্রতিনিধিত্বের নতুন অধ্যায় যোগ করার সুযোগ রয়েছে তার। মেরিয়াম খানের রাজনৈতিক পথচলার সঙ্গে শিক্ষা ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাও জড়িত। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি বিশেষ শিক্ষা শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে স্টেট হাউসে তিনি ডেপুটি মেজরিটি লিডার এবং স্পেশাল এডুকেশন সিলেক্ট কমিটির চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, ২য় সিনেট ডিস্ট্রিক্টে তার প্রাইমারি জয় আসে বর্তমান সিনেটর ডগ ম্যাকক্রোরিকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে। ম্যাকক্রোরি ২০১৭ সালে বিশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রথমবার এই সিনেট আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২৬ সালের প্রাইমারির আগে তিনি দলীয় মনোনয়ন হারিয়েছিলেন এবং মেরিয়াম খান দলীয় সমর্থন পেয়েছিলেন। মেরিয়াম খানের জন্য এখন মূল লক্ষ্য নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচন। সেখানে জয় পেলে স্টেট হাউস থেকে স্টেট সিনেটে তার রাজনৈতিক যাত্রা এগিয়ে যাবে এবং একই সঙ্গে কানেকটিকাটের মুসলিম নারী প্রতিনিধিত্বের ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক তৈরি হবে।