নিউইয়র্কে ৩০ মিলিয়ন ডলারের গ্রোসারি স্টোর করবেন মামদানি, প্রকল্পের জায়গাজুড়ে এখনো আবর্জনার স্তূপ
নিউইয়র্কের ইস্ট হারলেমে মেয়র জোহরান মামদানির পরিকল্পিত ৩০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি গ্রোসারি স্টোরের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেছেন সম্ভাব্য ভেন্ডর বা দরদাতারা। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মেট্রো-নর্থ ভায়াডাক্টের নিচে লা মার্কেটার পাশের যে স্থানটি তারা পরিদর্শন করেছেন, তা মূলত একটি আবর্জনাপূর্ণ খালি প্লট।
বুধবার নগরীর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (ইডিসি) নেতৃত্বে আয়োজিত এই সফরে অংশ নেওয়া ভেন্ডররা মাথায় হার্ডহ্যাট পরে থাকলেও সেখানে এখনো নির্মাণের কোনো কাজই শুরু হয়নি। এই সফর শেষে অনেক দরদাতাই গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে রাজি হননি। এমনকি তাদের প্রতিষ্ঠান আদৌ কোনো দরপত্র জমা দেবে কি না, তা নিয়েও অনেকে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন।
ব্যবসায়িক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফিলিপ গ্রান্ট অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের প্রতিষ্ঠাতা ফিলিপ গ্রান্ট এই প্রকল্পকে একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে জানান, খাদ্য সংকট থাকা এলাকাগুলোতে এই উদ্যোগটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর জন্য একটি স্বচ্ছ অংশীদারিত্ব ও নমনীয় মডেল তৈরি করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মেয়র মামদানি নিউইয়র্কের প্রতিটি বরোতে একটি করে মোট পাঁচটি সরকারি সুপারমার্কেট খোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ৭০ মিলিয়ন ডলারের এই বিশাল প্রকল্পে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ বাজারের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রির কথা বলা হয়েছে। ব্রঙ্কসে আগামী বছর প্রথম স্টোরটি চালু হওয়ার কথা থাকলেও লা মার্কেটার এই স্টোরটি ২০২৯ সালে উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারি এই বিশাল উদ্যোগ স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। প্রস্তাবিত স্থানটির পাশেই অবস্থিত আমেরিকান ডেলি মিনি মার্টের ৩৩ বছর বয়সী মালিক এলভিস আরিয়াস জানান, চড়া করের বোঝায় এমনিতেই তারা জর্জরিত; তার ওপর সরকারের এই সরাসরি প্রতিযোগিতা তাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
তবে মেয়রের স্টোরে অ্যালকোহল বিক্রি না হওয়ার বিষয়টি তাকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে, কারণ এর মাধ্যমে তিনি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার আশা দেখছেন। এদিকে, ইডিসি এই পুরো প্রকল্পটি পরিচালনার জন্য কেবল একজন একক অপারেটর খুঁজছে, যা অনেক সরবরাহকারীর জন্যই বেশ চ্যালেঞ্জিং। এতসব বিতর্কের পরও ইডিসির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েভারলি নীর এই সফরকে ফলপ্রসূ বলে দাবি করে জানিয়েছেন, এই সুযোগ নিয়ে স্থানীয়রা বেশ রোমাঞ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে একটি ইসলামিক সেন্টারকে লক্ষ্য করে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া হুমকি ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা কেয়ার-এলএ। সংগঠনটির অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্যের ভিত্তিতে একটি ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইসলামোফোবিক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যার পর মসজিদ ও মুসল্লিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকিও দেখা দিয়েছে। কেয়ার-এলএ চলতি সপ্তাহে এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে একটি অনলাইন ‘অ্যান্টি-মুসলিম স্মিয়ার ক্যাম্পেইন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংগঠনটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গার্ডেন গ্রোভে অবস্থিত ইসলামিক সোসাইটি অব অরেঞ্জ কাউন্টি বা আইএসওসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো পোস্টে অভিযোগ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটি মসজিদের কাছে আরও কয়েকটি ভবন কিনে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রযোজ্য নয় এমন একটি ‘প্যারালাল সোসাইটি’ তৈরির চেষ্টা করছে। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কেয়ার-এলএ বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্যের কারণে মসজিদ ও এর মুসল্লিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং উদ্বেগজনক সহিংসতার হুমকি বেড়েছে। কেয়ার-এলএর নির্বাহী পরিচালক হুসাম আইলুশ আইএসওসিকে অরেঞ্জ কাউন্টিতে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি ও কমিউনিটি সার্ভিসের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটিকে লক্ষ্য করে এমন হুমকি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় মুসলিমরা ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষ ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হচ্ছেন। আইলুশ আরও বলেন, ইসলামোফোবিক বক্তব্য শুধু অনলাইনে সীমাবদ্ধ থাকে না। এ ধরনের বক্তব্য বাস্তব জীবনে সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘৃণা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার মতো মৌলিক মার্কিন মূল্যবোধ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। অরেঞ্জ কাউন্টির ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ক্যালিফোর্নিয়ার মুসলিম কমিউনিটি কয়েক মাসের ব্যবধানে আরেকটি ভয়াবহ ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। গত ১৮ মে সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে গুলির ঘটনায় তিনজন নিহত হন। দুই কিশোর সন্দেহভাজনও পরে আত্মঘাতী গুলিতে মারা যায়। সান ডিয়েগো পুলিশ ও এফবিআই ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হেট ক্রাইম হিসেবে তদন্ত করেছে। কেয়ার-এলএর অভিযোগ অনুযায়ী, অরেঞ্জ কাউন্টির ইসলামিক সেন্টারকে ঘিরে অনলাইনে ছড়ানো দাবিগুলোও একই ধরনের বিদ্বেষমূলক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। তবে অনলাইনে করা প্রতিটি মন্তব্য বা হুমকির পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো চূড়ান্ত তদন্তের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে এপ্রিলেও কেয়ার-এলএ ইসলামিক সোসাইটি অব অরেঞ্জ কাউন্টিকে ঘিরে অনলাইনে ছড়ানো হুমকি ও ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছিল। স্থানীয় কংগ্রেস সদস্যরাও তখন সহিংসতার হুমকির নিন্দা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানান। স্থানীয় মুসলিম নেতারা বলছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে মতবিরোধ বা সমালোচনা থাকতেই পারে। কিন্তু ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ঘৃণা, হুমকি বা সহিংসতার আহ্বান পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। এ কারণে অনলাইনে ছড়ানো এমন বক্তব্যের বিরুদ্ধে সতর্কতা এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ঋণের বোঝা, আজ জন্ম নেওয়া শিশুর মাথাপিছু হিসাবেও প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার
মিশিগানে ইসলামবিদ্বেষী উগ্র ডানপন্থীদের সমাবেশে পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ২২
নিউইয়র্কে ৩০ মিলিয়ন ডলারের গ্রোসারি স্টোর করবেন মামদানি, প্রকল্পের জায়গাজুড়ে এখনো আবর্জনার স্তূপ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে (এনওয়াইপিডি) গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন একেএম আলম। তাঁকে এনওয়াইপিডির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট ব্যুরো ম্যানহাটন টাস্কফোর্সের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর এই নতুন পদোন্নতি ও অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। বাপা-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তাদের সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়ে আসা একেএম আলম নিজের পেশাদারি দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমাণ রেখেই এই সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছেছেন। একজন কমান্ডিং অফিসার হিসেবে তিনি এখন থেকে নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ম্যানহাটনের ট্রানজিট বা পরিবহন ব্যবস্থার সার্বিক নিরাপত্তা ও টাস্কফোর্সের কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করবেন। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ নতুন নেতৃত্ব শুধু পুলিশ ডিপার্টমেন্টের জন্যই নয়, বরং পুরো নিউইয়র্ক শহরের সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বড় ধরনের অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্যাপ্টেন একেএম আলমকে বিভিন্ন মহল থেকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁর এই অর্জনকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য এক বিশাল গর্বের বিষয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নিউইয়র্ক শহর ও পুলিশ ডিপার্টমেন্টের প্রতি তাঁর এই নিরলস সেবার প্রশংসা করে অনেকেই প্রত্যাশা করছেন যে, নতুন এই পদেও তিনি সফলতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন এবং সামনের দিনগুলোতে নিজ কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশি কমিউনিটির মুখ আরও উজ্জ্বল করবেন।
নিউইয়র্কে মশাবাহিত ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত, সতর্কতা স্বাস্থ্য বিভাগের
১৮ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রিন কার্ডের আবেদনে ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি, সরকারি সুবিধা গ্রহণেও বাড়বে নজর
কানেকটিকাটের স্টেট হাউসের পর এবার সিনেটের পথে মেরিয়াম খান, জিতলে গড়বেন নতুন ইতিহাস
চিকিৎসাশিক্ষা ও গবেষণার জন্য হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে দান করা মরদেহ থেকে অঙ্গ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ চুরি করে কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় বড় অঙ্কের সমঝোতায় যাচ্ছে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর করা মামলার নিষ্পত্তিতে ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার দিতে সম্মত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। মঙ্গলবার বোস্টনের একটি স্টেট কোর্টের বিচারক প্রাথমিকভাবে এই ক্লাস অ্যাকশন সেটেলমেন্ট অনুমোদন করেছেন। ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মর্গের সাবেক ম্যানেজার সেড্রিক লজ। প্রায় তিন দশক সেখানে কাজ করা লজের বিরুদ্ধে গবেষণা ও চিকিৎসাশিক্ষার জন্য দান করা মরদেহ থেকে মাথা, মুখমণ্ডল, মস্তিষ্ক, ত্বক ও হাতসহ বিভিন্ন অংশ চুরি করে বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। গত ডিসেম্বরে তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেন ফেডারেল বিচারক। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২০১৮ সাল থেকে মরদেহের বিভিন্ন অংশ চুরি করছিলেন লজ। হার্ভার্ডের বোস্টন মর্গ থেকে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হতো নিউ হ্যাম্পশায়ারের গফসটাউনে তার বাড়িতে। পরে স্ত্রী ডেনিস লজের সহযোগিতায় বিভিন্ন ক্রেতার কাছে সেগুলো বিক্রি করা হতো। কিছু মানবদেহের অংশ ম্যাসাচুসেটস, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও পেনসিলভানিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছিল। তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, চুরি করা মানবদেহের অংশগুলোর কিছু পরবর্তী সময়ে আবারও লাভের জন্য বিক্রি করা হয়। মামলার নথিতে আরও ভয়াবহ কিছু ঘটনার বর্ণনা উঠে আসে। প্রসিকিউটররা জানান, এক ক্রেতার কাছে মানুষের ত্বক দেওয়া হয়েছিল, যা প্রক্রিয়াজাত করে চামড়ায় পরিণত করা হয়। একটি মানুষের মুখমণ্ডলও বিক্রি করেছিলেন লজ ও তার স্ত্রী। এই ঘটনায় ২০২৩ সালে সেড্রিক লজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে মামলা করতে শুরু করেন মরদেহ দানকারী ব্যক্তিদের স্বজনরা। তাদের অভিযোগ ছিল, প্রিয়জনদের মরদেহ সম্মান ও যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হলেও হার্ভার্ড প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। পরিবারগুলোর মামলায় হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তোলা হয়। তাদের দাবি ছিল, বছরের পর বছর লজের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি। প্রথমে মামলাগুলো খারিজ হয়ে গেলেও পরে ম্যাসাচুসেটস সুপ্রিম জুডিশিয়াল কোর্ট সেগুলো পুনরুজ্জীবিত করে। আদালত মনে করেন, দান করা মরদেহ ব্যবস্থাপনায় হার্ভার্ড সৎ বিশ্বাসে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে এমন দাবি এগিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি বাদীদের রয়েছে। এরপর হার্ভার্ড ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের এই সমঝোতা চূড়ান্ত হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর দাবি নিষ্পত্তির জন্য অর্থ ব্যবহার করা হবে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিনের ডিন জর্জ ডেলি এবং মেডিকেল এডুকেশনের ডিন বার্নার্ড চ্যাং বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটিকে পাঠানো এক বার্তায় লজের কর্মকাণ্ডের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, এই কাজ ছিল নিন্দনীয় এবং মেডিকেল কমিউনিটি হিসেবে হার্ভার্ডের মূল্যবোধের গুরুতর লঙ্ঘন। আর্থিক ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি সমঝোতার অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লজের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে নৈতিকভাবে নিন্দনীয় বলে স্বীকার করবে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল। একটি লাইভ ওয়েবিনারের মাধ্যমে পরিবারগুলোর কাছে এ বক্তব্য তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে একটি বার্ষিক স্কলারশিপ চালু করা হবে। চিকিৎসাশিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে নিজেদের মরদেহ দান করা ব্যক্তিদের সম্মানে এই স্কলারশিপ দেওয়া হবে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল বলেছে, এই ঘটনা তাদের অ্যানাটমিক্যাল গিফট প্রোগ্রামে মরদেহ দান করা ব্যক্তিদের প্রতি যে সম্মান রয়েছে, তার প্রতিফলন নয়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর দুঃখ ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পরিবারগুলোর পক্ষে মামলায় যুক্ত আইনজীবী জন মরগান বলেছেন, এই সমাধানের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।
ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে ফুটবল মাঠে গণপিটুনি! প্রাণ গেল ১৯ বছরের তরুণের
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আইসিসি প্রেসিডেন্টের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা