ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটি, মধ্যপ্রাচ্যে সেনা কমাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ করছে। যুদ্ধ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলো আগের মতো করে পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তেও এই বিশ্লেষণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জয়েন্ট স্টাফ ও ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা শুরু হয়নি। অর্থাৎ সেনা কমানোর বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতায় জর্ডান থেকে ওমান পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে প্রায় ২০টি স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনায় সাধারণত প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকে। বাহরাইনে রয়েছে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর। এ ছাড়া কুয়েতসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশেও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ রয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের আগের এক বিশ্লেষণে স্যাটেলাইট ছবি পর্যালোচনা করে দেখা হয়েছিল, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের ১৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অন্তত ২১৭টি অবকাঠামো ও ১১টি সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এসব হামলায় হ্যাঙ্গার, ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো, বিমান, রাডার, যোগাযোগব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও উঠে আসে।
যুদ্ধের সময় কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়েও নেওয়া হয়েছিল। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকির কারণে এসব স্থাপনার কিছু অংশে স্বাভাবিক সংখ্যায় সেনা রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলো পুনর্গঠন করে সেখানে আগের মতো বড় সামরিক উপস্থিতি রাখা হবে কি না, সেটি নতুন করে বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এদিকে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের শেষ কবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন। এর আগে ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলার কথা জানিয়েছিলেন। ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে, তবে নিজেদের শর্তের ওপর জোর দিয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই দীর্ঘ সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও পড়ছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে।
ফলে যুদ্ধ শেষে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ধরন কী হবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সেনা প্রত্যাহার বা সামরিক ঘাঁটি বন্ধের সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ফলে আপাতত বিষয়টি পর্যালোচনা ও সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreফিলিস্তিনের গাজায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু হিন্দ রাজাব ও তার ছয় স্বজনকে বহনকারী গাড়িতে গুলি চালানোর কথা প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। ২০২৪ সালের ওই বর্বরোচিত হামলায় প্রথমে বেঁচে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে রেড ক্রিসেন্টের কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল ছোট্ট হিন্দ। তাকে উদ্ধারে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে যাওয়া একটি অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালানো হয়, যাতে নিহত হন দুই ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যকর্মী। ঘটনার পর ব্যাপক আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখে পড়া ইসরায়েল এখন জানিয়েছে, তারা হিন্দ, তার পরিবার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের হত্যার ঘটনায় একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করবে। একইসঙ্গে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে রাফাহতে ১৫ জন ফিলিস্তিনিকে (যাদের মধ্যে চিকিৎসক ও জাতিসংঘ কর্মীও ছিলেন) হত্যার ঘটনারও তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। হিন্দের মৃত্যুর ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। হামলার পর গাড়ির ভেতর থেকে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (পিআরসিএস) কাছে ফোন করেছিল হিন্দ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলা সেই কলে ট্যাংকের সামনে মৃত্যুর ভয়ে লুকিয়ে থাকা এক শিশুর আর্তনাদ নাড়া দিয়েছিল পুরো বিশ্বকে। ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্বানুমতি নিয়েই ইউসুফ আল-জেইনো এবং আহমেদ আল-মাধৌন নামের দুই স্বাস্থ্যকর্মী হিন্দকে উদ্ধারে গিয়েছিলেন। কিন্তু অন্ধকারে তাদের অ্যাম্বুলেন্সেও বোমাবর্ষণ করে ইসরায়েলি বাহিনী। আইডিএফ প্রথমে দাবি করেছিল যে, ঘটনার সময় সেখানে তাদের কোনো সেনাসদস্য ছিল না। তবে পরবর্তীতে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসে তারা জানায়, রেড ক্রিসেন্টের অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের সমন্বয়ে ব্যর্থতার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। হিন্দের এই করুণ কাহিনি নিয়ে পরবর্তীতে 'দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব' নামে একটি অস্কার-মনোনীত চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়। আইডিএফ-এর এই তদন্তের ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রাসেলস-ভিত্তিক 'হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন'। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলের এই অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি ত্রুটিপূর্ণ এবং এর প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই। মূলত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য আইনি ব্যবস্থা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থেকে বাঁচতেই ইসরায়েল নিজেদের তদন্ত করার এই নাটক সাজিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা 'ইয়েশ দিন'-এর নির্বাহী পরিচালক জিভ স্টাহলও জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তুলনায় খুব কম ক্ষেত্রেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। আর দু-একটি ক্ষেত্রে দোষী সাব্যস্ত হলেও তাদের অত্যন্ত লঘু শাস্তি দেওয়া হয়। হিন্দের ঘটনা ছাড়াও আইডিএফ ২০২৫ সালের মার্চে রাফাহতে অ্যাম্বুলেন্স ও জাতিসংঘের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় ফৌজদারি তদন্তের কথা বললেও, অন্যান্য বেশ কয়েকটি আলোচিত হত্যার দায় এড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে দুই বছর আগে সেন্ট্রাল কিচেনের (ডব্লিউসিকে) সাত কর্মী এবং এমএসএফ-এর চার কর্মীকে হত্যার ঘটনায় কোনো ফৌজদারি তদন্তের ভিত্তি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তারা। ডব্লিউসিকে এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি করেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, যে পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ।
সাগরে ডুবে ফিলিস্তিনি দম্পতি ও ১৪ বছরের মেয়ের মৃত্যু, জীবন-মৃ ত্যুর সন্ধিক্ষণে ৬ বছরের শিশু
যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হা মলার দুঃসাহস দেখালে সমান শক্তিতে পাল্টা আঘাত হানবে তেহরান
পর্তুগালে বোরকা-নিকাবসহ মুখঢাকা পোশাক পরলে গুনতে হবে ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ করছে। যুদ্ধ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলো আগের মতো করে পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তেও এই বিশ্লেষণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জয়েন্ট স্টাফ ও ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা শুরু হয়নি। অর্থাৎ সেনা কমানোর বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতায় জর্ডান থেকে ওমান পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে প্রায় ২০টি স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনায় সাধারণত প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকে। বাহরাইনে রয়েছে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর। এ ছাড়া কুয়েতসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশেও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের আগের এক বিশ্লেষণে স্যাটেলাইট ছবি পর্যালোচনা করে দেখা হয়েছিল, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের ১৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অন্তত ২১৭টি অবকাঠামো ও ১১টি সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এসব হামলায় হ্যাঙ্গার, ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো, বিমান, রাডার, যোগাযোগব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও উঠে আসে। যুদ্ধের সময় কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়েও নেওয়া হয়েছিল। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকির কারণে এসব স্থাপনার কিছু অংশে স্বাভাবিক সংখ্যায় সেনা রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলো পুনর্গঠন করে সেখানে আগের মতো বড় সামরিক উপস্থিতি রাখা হবে কি না, সেটি নতুন করে বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এদিকে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের শেষ কবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন। এর আগে ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলার কথা জানিয়েছিলেন। ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে, তবে নিজেদের শর্তের ওপর জোর দিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই দীর্ঘ সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও পড়ছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে যুদ্ধ শেষে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ধরন কী হবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সেনা প্রত্যাহার বা সামরিক ঘাঁটি বন্ধের সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ফলে আপাতত বিষয়টি পর্যালোচনা ও সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।
ইরান থেকে আমিরাতের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দাবি আবুধাবির; অভিযোগ অস্বীকার তেহরানের
প্রেম ভাঙার প্রতিশোধে প্রেমিকার নামে ভুয়া টিন্ডার, যৌন নিপীড়নের উদ্দেশ্যে পাঠান একের পর এক পুরুষ
ঘুরতে গিয়ে প্রেম, বিয়ে-সন্তানের পরও স্বামীকে যুক্তরাজ্যে নিতে পারছেন না ব্রিটিশ নারী
নিজেকে পরিবারের ‘রাজা’ হিসেবে দেখতেন পঙ্কজ লাম্বা। স্ত্রী হর্ষিতা ব্রেল্লার কাছ থেকে চাইতেন সম্পূর্ণ আনুগত্য। এর কিছুদিন পরই ২৪ বছর বয়সী হর্ষিতাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। হর্ষিতার মরদেহ পরে পূর্ব লন্ডনের একটি গাড়ির বুট থেকে উদ্ধার করা হয়। হত্যার ঘটনায় পঙ্কজের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে অভিযোগ গঠন করা হলেও তিনি এখনো পলাতক। হর্ষিতা ভারতের দিল্লির বাসিন্দা ছিলেন। পঙ্কজ লাম্বার সঙ্গে বিয়ের পর ২০২৪ সালের এপ্রিলে যুক্তরাজ্যে যান তিনি। তারা নর্থহ্যাম্পটনশায়ারের করবিতে বসবাস শুরু করেন। নতুন দেশে নতুন সংসার নিয়ে হর্ষিতা শুরুতে উচ্ছ্বসিত থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পর্কের পরিস্থিতি বদলে যায়। হর্ষিতার পরিবারের ভাষ্য ও তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, পঙ্কজ স্ত্রীর ওপর ক্রমেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিলেন। মৃত্যুর আগের কয়েক সপ্তাহে তিনি নিজেকে পরিবারের ‘রাজা’ হিসেবে উল্লেখ করতেন এবং হর্ষিতার কাছ থেকে সম্পূর্ণ আনুগত্য দাবি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ২০২৪ সালের আগস্টে স্বামীর বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে নর্থহ্যাম্পটনশায়ার পুলিশের কাছে যান হর্ষিতা। পুলিশের কাছে তিনি শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগসংক্রান্ত তথ্যও দিয়েছিলেন। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর পঙ্কজকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শর্তসাপেক্ষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং হর্ষিতার সঙ্গে যোগাযোগে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। আদালতের মাধ্যমে ২৮ দিনের জন্য একটি ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স প্রোটেকশন অর্ডারও কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু সেই সুরক্ষা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পঙ্কজ আবার হর্ষিতার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পান। পুলিশের ধারণা, ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর করবিতে হর্ষিতাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সেদিন হর্ষিতা তাদের বলেছিলেন পঙ্কজ তার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। ওই রাতের পর থেকেই তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। চার দিন পর, ১৪ নভেম্বর পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ডে ব্রিসবেন রোডে রাখা একটি সিলভার ভক্সহল করসা গাড়ির বুট থেকে হর্ষিতার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। করবি থেকে ইলফোর্ডের দূরত্ব প্রায় ১০০ মাইল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, হত্যার পর হর্ষিতার মরদেহ গাড়িতে করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই পঙ্কজ যুক্তরাজ্য ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে মনে করছে ব্রিটিশ পুলিশ। ২০২৫ সালের মার্চে পঙ্কজ লাম্বার অনুপস্থিতিতেই তার বিরুদ্ধে হর্ষিতাকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন এবং নিয়ন্ত্রণমূলক ও জবরদস্তিমূলক আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ঘটনার প্রায় দেড় বছর পরও পঙ্কজকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ২০২৬ সালের মে মাসে হর্ষিতার বাবা-মা ও বোন ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে গিয়ে নর্থহ্যাম্পটনশায়ার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। মেয়েকে হারানোর আগে তার নির্যাতনের অভিযোগ যথাযথভাবে মোকাবিলা করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নেরও উত্তর চান তারা। হর্ষিতার মৃত্যুর আগে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। তার করা পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ সামলানোর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ব্যর্থতা নিয়ে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়। নর্থহ্যাম্পটনশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, পঙ্কজকে খুঁজে বের করে হর্ষিতার পরিবারের জন্য বিচার নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ চলছে। যে তরুণী বিয়ের পর নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন, তার সেই জীবন শেষ হয় মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে। আর হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত স্বামী এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় হর্ষিতার পরিবার অপেক্ষা করছে সেই একটি দিনের জন্য, যেদিন তাকে আদালতের মুখোমুখি করা যাবে।
‘তোমার আর ক্যারিয়ার হবে না’, সেই মেয়েটিই এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্ব
গাজায় সমঝোতা ছাড়াই ফিরলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা, পরদিন ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৬ ফিলিস্তিনি