- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
চিকিৎসাশিক্ষা ও গবেষণার জন্য হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে দান করা মরদেহ থেকে অঙ্গ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ চুরি করে কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় বড় অঙ্কের সমঝোতায় যাচ্ছে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর করা মামলার নিষ্পত্তিতে ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার দিতে সম্মত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। মঙ্গলবার বোস্টনের একটি স্টেট কোর্টের বিচারক প্রাথমিকভাবে এই ক্লাস অ্যাকশন সেটেলমেন্ট অনুমোদন করেছেন। ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মর্গের সাবেক ম্যানেজার সেড্রিক লজ। প্রায় তিন দশক সেখানে কাজ করা লজের বিরুদ্ধে গবেষণা ও চিকিৎসাশিক্ষার জন্য দান করা মরদেহ থেকে মাথা, মুখমণ্ডল, মস্তিষ্ক, ত্বক ও হাতসহ বিভিন্ন অংশ চুরি করে বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। গত ডিসেম্বরে তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেন ফেডারেল বিচারক। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২০১৮ সাল থেকে মরদেহের বিভিন্ন অংশ চুরি করছিলেন লজ। হার্ভার্ডের বোস্টন মর্গ থেকে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হতো নিউ হ্যাম্পশায়ারের গফসটাউনে তার বাড়িতে। পরে স্ত্রী ডেনিস লজের সহযোগিতায় বিভিন্ন ক্রেতার কাছে সেগুলো বিক্রি করা হতো। কিছু মানবদেহের অংশ ম্যাসাচুসেটস, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও পেনসিলভানিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছিল। তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, চুরি করা মানবদেহের অংশগুলোর কিছু পরবর্তী সময়ে আবারও লাভের জন্য বিক্রি করা হয়। মামলার নথিতে আরও ভয়াবহ কিছু ঘটনার বর্ণনা উঠে আসে। প্রসিকিউটররা জানান, এক ক্রেতার কাছে মানুষের ত্বক দেওয়া হয়েছিল, যা প্রক্রিয়াজাত করে চামড়ায় পরিণত করা হয়। একটি মানুষের মুখমণ্ডলও বিক্রি করেছিলেন লজ ও তার স্ত্রী। এই ঘটনায় ২০২৩ সালে সেড্রিক লজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে মামলা করতে শুরু করেন মরদেহ দানকারী ব্যক্তিদের স্বজনরা। তাদের অভিযোগ ছিল, প্রিয়জনদের মরদেহ সম্মান ও যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হলেও হার্ভার্ড প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। পরিবারগুলোর মামলায় হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তোলা হয়। তাদের দাবি ছিল, বছরের পর বছর লজের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি। প্রথমে মামলাগুলো খারিজ হয়ে গেলেও পরে ম্যাসাচুসেটস সুপ্রিম জুডিশিয়াল কোর্ট সেগুলো পুনরুজ্জীবিত করে। আদালত মনে করেন, দান করা মরদেহ ব্যবস্থাপনায় হার্ভার্ড সৎ বিশ্বাসে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে এমন দাবি এগিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি বাদীদের রয়েছে। এরপর হার্ভার্ড ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের এই সমঝোতা চূড়ান্ত হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর দাবি নিষ্পত্তির জন্য অর্থ ব্যবহার করা হবে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিনের ডিন জর্জ ডেলি এবং মেডিকেল এডুকেশনের ডিন বার্নার্ড চ্যাং বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটিকে পাঠানো এক বার্তায় লজের কর্মকাণ্ডের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, এই কাজ ছিল নিন্দনীয় এবং মেডিকেল কমিউনিটি হিসেবে হার্ভার্ডের মূল্যবোধের গুরুতর লঙ্ঘন। আর্থিক ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি সমঝোতার অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লজের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে নৈতিকভাবে নিন্দনীয় বলে স্বীকার করবে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল। একটি লাইভ ওয়েবিনারের মাধ্যমে পরিবারগুলোর কাছে এ বক্তব্য তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে একটি বার্ষিক স্কলারশিপ চালু করা হবে। চিকিৎসাশিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে নিজেদের মরদেহ দান করা ব্যক্তিদের সম্মানে এই স্কলারশিপ দেওয়া হবে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল বলেছে, এই ঘটনা তাদের অ্যানাটমিক্যাল গিফট প্রোগ্রামে মরদেহ দান করা ব্যক্তিদের প্রতি যে সম্মান রয়েছে, তার প্রতিফলন নয়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর দুঃখ ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পরিবারগুলোর পক্ষে মামলায় যুক্ত আইনজীবী জন মরগান বলেছেন, এই সমাধানের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।
সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সাবেক প্রেমিকাকে ভয়াবহভাবে হয়রানির ঘটনায় যুক্তরাজ্যে আসাদ হুসেইন নামে ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাবেক প্রেমিকার ছবি ব্যবহার করে ভুয়া টিন্ডার প্রোফাইল খুলে অপরিচিত পুরুষদের তার বাড়িতে পাঠানোর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর চেস্টার ক্রাউন কোর্ট এই সাজা দেন। একই সঙ্গে ওই নারী ও তার মেয়েদের সুরক্ষায় হুসেইনের বিরুদ্ধে ১৫ বছরের রেস্ট্রেইনিং অর্ডার জারি করা হয়েছে। চেশায়ার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মিক রেনি’ ছদ্মনাম ব্যবহার করে ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন হুসেইন। এরপর তাদের কয়েকবার দেখা হয় এবং অল্প সময়ের জন্য সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে সম্পর্কের শুরু থেকেই হুসেইনের আচরণ ক্রমশ নিয়ন্ত্রণমূলক হয়ে উঠেছিল। একপর্যায়ে ওই নারীর বাড়িতে একজন পুরুষ বন্ধু আসায় সেখানে হাজির হন হুসেইন। তিনি টানা প্রায় দুই ঘণ্টা দরজার বেল বাজাতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত প্রতিবেশী পুলিশ ডাকলে তিনি সেখান থেকে চলে যান। ২০২৪ সালের ৬ মে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। আদালতে জানানো হয়, হুসেইন ওই নারীর ফোন নিয়ে তার পুরুষ বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথোপকথন দেখতে শুরু করেন। এ নিয়ে বিরোধের সময় তিনি ওই নারীর সঙ্গে শারীরিকভাবে আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। এরপরই তাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। কিন্তু বিচ্ছেদের পর শুরু হয় আরও ভয়ংকর হয়রানি। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সাবেক প্রেমিকার পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া টিন্ডার অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছিলেন হুসেইন। ওই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে অপরিচিত পুরুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি নিজেকে ওই নারী হিসেবে উপস্থাপন করতেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কথোপকথনে হুসেইন এমন বার্তা পাঠাতেন যাতে পুরুষদের বিশ্বাস করানো হতো, ওই নারী সহিংস যৌন আচরণে আগ্রহী এবং তাদের সরাসরি তার বাড়িতে যেতে বলেছেন। এমনকি দরজা বন্ধ থাকলেও ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করতে উৎসাহিত করার তথ্যও আদালতে উঠে আসে। এরপর একের পর এক অপরিচিত পুরুষ ওই নারীর বাড়িতে হাজির হতে শুরু করেন। চেশায়ার পুলিশ বলেছে, অন্তত ১৮ জনকে এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে তার ঠিকানায় পাঠানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। পরবর্তী আদালত শুনানিতে বলা হয়, এই হয়রানির পরিধি আরও বিস্তৃত ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আদালতের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মোট ৩৫ জন পর্যন্ত পুরুষকে ওই নারীর বাড়িতে যেতে প্ররোচিত করা হয়েছিল। এক রাতে চারজন পর্যন্ত সেখানে হাজির হন। এক ঘটনায় একজন পুরুষ বাড়ির দরজায় এত জোরে ধাক্কা দেন যে কাচের অংশ ভেঙে যায়। আরেক ঘটনায় ওই নারী বাড়িতে না থাকার সময় একজন ভেতরে ঢুকে পড়েন, তখন তার কিশোরী মেয়ে ওপরতলায় একা ছিল। নিজের পরিচয় গোপন রাখতেও একাধিক কৌশল নিয়েছিলেন হুসেইন। পুলিশ জানায়, ভুয়া পরিচয় ও টিন্ডার অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য আলাদা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন তিনি। গাড়ির রেজিস্ট্রেশনও পরিবর্তন করেছিলেন। এমনকি নিজের ব্যবসার সরকারি রেকর্ড থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সরানোর চেষ্টাও করেছিলেন। তবে ভুক্তভোগীর ভিডিও ডোরবেলের ফুটেজ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেয়। ‘মিক রেনি’ নামে পরিচিত ব্যক্তির ব্যবহৃত গাড়িটি পরীক্ষা করে পুলিশ সেটির সঙ্গে আসাদ হুসেইনের যোগসূত্র খুঁজে পায়। এরপর সিসিটিভি, গাড়ির নম্বর শনাক্তকারী ক্যামেরা, টেলিযোগাযোগ ও মোবাইল লোকেশন সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা তার বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করেন। ২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর এম৬ মোটরওয়েতে হুসেইনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ‘মিক রেনি’ হওয়ার কথা অস্বীকার করেন এবং ওই নারী ও ভুয়া টিন্ডার অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। নয় দিনের বিচার শেষে হুসেইনকে গুরুতর ভয় ও মানসিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে স্টকিং, মারধর এবং তদন্তে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল তথ্য দিতে আইনি নির্দেশনা না মানার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২০২৬ সালের ২৯ জুন চেস্টার ক্রাউন কোর্ট তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেন। চেশায়ার পুলিশ ঘটনাটিকে তাদের তদন্ত করা সবচেয়ে উদ্বেগজনক স্টকিং মামলাগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে। আদালতে দেওয়া বক্তব্যে ভুক্তভোগী জানান, সম্পর্ক চালিয়ে যেতে না চাওয়ার কারণে কারও তার নিজের বাড়িতেই তাকে অনিরাপদ করে তোলার অধিকার নেই। যে বাড়িকে তিনি নিজের ও সন্তানদের নিরাপদ আশ্রয় মনে করতেন, হুসেইনের তৈরি মিথ্যা গল্প সেই নিরাপত্তাবোধই কেড়ে নিয়েছিল।
কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার কথা ছিল মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে। স্বপ্ন ছিল একদিন ফায়ারফাইটার হওয়ার। কিন্তু অ্যারিজোনার ফিনিক্সে একটি পার্কে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একদল মানুষের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন ১৯ বছর বয়সী তুমুসিফু বাজিরাকে। ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়েই তিনি হামলার শিকার হন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। ঘটনাটি ঘটে গত ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় ফিনিক্সের সুয়েনো পার্কে। ফিনিক্স পুলিশ জানিয়েছে, পার্কের মাঠে ফুটবল খেলার সময় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন মিলে বাজিরাকাকে মারধর করেন। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। বাজিরাকার ভাই জিনপল জানিয়েছেন, খেলার ফলাফল নিয়ে প্রতিপক্ষ দলের কয়েকজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে প্রথমে উত্তেজনা এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকলে ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান বাজিরাকা। এরপর হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজিরাকাকে মাটিতে ফেলে ঘুষি ও লাথি মারা হয়। হামলার একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তাকে নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যায় বলে পরিবারের দাবি। রাত প্রায় ৮টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ সুয়েনো পার্কের কাছে পৌঁছে বাজিরাকাকে অচেতন অবস্থায় পায়। ফিনিক্স ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তখন তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর ১৩ আগস্ট মারা যান বাজিরাকা। তার মরদেহ মেরিকোপা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে পরীক্ষা চলছে। বাজিরাকার সামনে তখন জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। ২৪ আগস্ট তার কলেজে ক্লাস শুরু করার কথা ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, পড়াশোনা নিয়ে তিনি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং ভবিষ্যতে ফায়ারফাইটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। ফিনিক্স পুলিশ এখন ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং কোনো সন্দেহভাজনের পরিচয়ও প্রকাশ করেনি পুলিশ। কারা ওই রাতে মাঠে বাজিরাকার ওপর হামলা চালিয়েছিল, তা শনাক্ত করতে প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা ঘটনার বিষয়ে তথ্য থাকা ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। একটি সাধারণ ফুটবল ম্যাচ থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ শেষ পর্যন্ত একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি নিয়ে এসেছে। যে তরুণের কয়েক দিনের মধ্যে কলেজে যাওয়ার কথা ছিল, তার পরিবারকে এখন তার শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে চলমান বিরোধ আরও তীব্র করল যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং আদালতের সিনিয়র ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আকানে ও সেয়ের কোনো সম্পদ থাকলে তা জব্দ বা ফ্রিজ করা হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় তাদের প্রবেশাধিকারও কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। মার্কো রুবিওর অভিযোগ, আইসিসির বিচারিক এখতিয়ার স্বীকার করেনি এমন দেশের কর্মকর্তাদের তদন্ত, গ্রেপ্তার বা বিচারের আওতায় আনার প্রচেষ্টায় আকানে ও সেয়ে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, কোনো দেশ আইসিসির এখতিয়ার মেনে না নিলে সেই দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে আদালতের এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়। নিষেধাজ্ঞার পেছনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। গাজা যুদ্ধ ঘিরে কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা আবদুলায়ে সেয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়া প্রসিকিউশন টিমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে জাপানের নাগরিক তোমোকো আকানে ২০২৪ সাল থেকে আইসিসির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আইসিসি প্রতিষ্ঠাকারী রোম স্ট্যাটিউটের সদস্য হয়নি। ফলে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নাগরিকদের ওপর এই আদালতের বিচারিক ক্ষমতা থাকার দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের মতো আইসিসির সদস্য নয় এমন দেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতের পদক্ষেপ জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ। তবে আইসিসির যুক্তি ভিন্ন। রোম স্ট্যাটিউটের অধীনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি সদস্য নয় এমন দেশের নাগরিক হলেও আদালত বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক আদালতটি। আইসিসি বলেছে, এ ধরনের ব্যবস্থা আদালতের স্বাধীনতার ওপর আঘাত এবং আইনের শাসনকে দুর্বল করে। আদালত তার কর্মকর্তা ও কর্মীদের পাশে থাকার কথাও জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র জাপানও সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছে। জাপান সরকার তাদের নাগরিক ও আইসিসি প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে 'অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক' বলে উল্লেখ করেছে। নেদারল্যান্ডসও নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আইসিসির এই বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও আদালতের প্রধান প্রসিকিউটরসহ একাধিক বিচারক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন। আফগানিস্তানে মার্কিন কর্মীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আইসিসির তদন্ত এবং গাজা যুদ্ধ ঘিরে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতের পদক্ষেপের পর দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইসিসির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কো রুবিও। যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য আদালতটিকে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে সদস্য দেশগুলোকে আইসিসি থেকে সরে আসতে চাপ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। অন্যদিকে আইসিসি বলছে, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপের মুখেও যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব থেকে তারা সরে আসবে না। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন আরও গভীর হলো।
তুরস্কে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে গিয়ে হোটেলের এক গায়কের সঙ্গে পরিচয়। সেখান থেকে প্রেম, এরপর সন্তান এবং বিয়ে। কিন্তু সংসার গড়ার পরও স্বামীকে নিজের দেশ যুক্তরাজ্যে নিয়ে যেতে পারছেন না ব্রিটিশ নারী র্যাচেল ম্যাকে। একাধিক ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় আট মাসের মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে একাই থাকতে হচ্ছে তাকে। ২৯ বছর বয়সী র্যাচেলের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া ৩৪ বছর বয়সী কিয়ামুদ্দিন ম্যাকের পরিচয় হয় ২০২৪ সালের আগস্টে। তুরস্কে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটানোর সময় যে হোটেলে র্যাচেল ছিলেন, সেখানে গায়ক হিসেবে কাজ করতেন কিয়ামুদ্দিন। ছুটি শেষে র্যাচেল যুক্তরাজ্যে ফিরে গেলেও তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হয়। পরিচয়ের প্রায় ছয় মাসের মাথায় অন্তঃসত্ত্বা হন র্যাচেল। পরে তাদের মেয়ে এমারসিনের জন্ম হয়। ২০২৬ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে কিয়ামুদ্দিনকে বিয়ে করেন র্যাচেল। কিন্তু বিয়ের পরও স্বামীকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে গিয়ে একসঙ্গে সংসার করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি। দ্য সানকে র্যাচেল জানিয়েছেন, তার স্বামীর জন্য তিনবার ভিজিট ভিসা এবং এর আগে একবার ফিয়ঁসে ভিসার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সব আবেদনই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ভিজিট ভিসার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস সন্তুষ্ট হতে পারেনি যে সফর শেষে কিয়ামুদ্দিন যুক্তরাজ্য ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে যাবেন। তার আর্থিক অবস্থা ও কাজের ধরনও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিবেচনায় এসেছে। অন্যদিকে ফিয়ঁসে ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যানের প্রধান কারণ ছিল স্পনসর হিসেবে র্যাচেলের প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বার্ষিক আয় না থাকা। র্যাচেল স্বনির্ভর নেইল টেকনিশিয়ান হিসেবে বছরে প্রায় ২১ হাজার পাউন্ড আয় করেন। কিন্তু ওই আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম আয়ের সীমা ছিল বছরে ২৯ হাজার পাউন্ড। র্যাচেলের দাবি, ভিসা আবেদন, আইনি পরামর্শ, ভ্রমণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পেছনে এখন পর্যন্ত তাদের সাত হাজার পাউন্ডের বেশি খরচ হয়েছে। একটি ভিসা প্রক্রিয়াতেই ছয় হাজার পাউন্ডের বেশি খরচ হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। নতুন করে আবেদন করার জন্য তাকে ঋণও নিতে হয়েছে। সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্ত আসে মেয়ের জন্মের সময়। র্যাচেল চেয়েছিলেন কিয়ামুদ্দিন যুক্তরাজ্যে এসে সন্তানের জন্মের সময় পাশে থাকবেন। সেই উদ্দেশ্যে করা ভিজিট ভিসার আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়। ফলে মেয়ের জন্ম সরাসরি দেখার বদলে ভিডিও কলের মাধ্যমে দেখতে হয়েছিল বাবাকে। এখন মেয়ের বেড়ে ওঠার অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তও ফোনের পর্দাতেই দেখতে হচ্ছে কিয়ামুদ্দিনকে। মেয়ের প্রথম হাসি, প্রথম খাবার খাওয়া এবং হামাগুড়ি দেওয়ার মতো মুহূর্তগুলো তিনি ভিডিও ও ফেসটাইমে দেখেছেন। র্যাচেলের আগের সম্পর্কের আরও দুই সন্তান রয়েছে, যাদের বয়স ১১ ও ছয় বছর। তাদের বাবা যুক্তরাজ্যে থাকায় সন্তানদের নিয়ে অন্য দেশে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার বিষয়টিও বাস্তবসম্মত নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। সন্তানদের স্কুল, পরিবার এবং পরিচিত জীবনও যুক্তরাজ্যেই। এদিকে তাদের দ্রুত গড়ে ওঠা সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, কিয়ামুদ্দিন হয়তো শুধু যুক্তরাজ্যের ভিসা পাওয়ার জন্যই র্যাচেলের সঙ্গে সম্পর্ক করেছেন। র্যাচেল সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার ভাষ্য, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চাইছেন না। নিয়ম মেনেই প্রতিটি আবেদন করেছেন এবং প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তও মেনে নিয়েছেন। তবে একটি ব্রিটিশ শিশুকে বাবা থেকে আলাদা হয়ে বড় হতে হচ্ছে, এটিই তার সবচেয়ে বড় কষ্ট। কিয়ামুদ্দিন বর্তমানে মৌসুমি কাজের জন্য স্পেনে অবস্থান করছেন, যাতে স্ত্রী ও মেয়ের তুলনামূলক কাছাকাছি থাকতে পারেন। সুযোগ পেলে র্যাচেল মেয়েকে নিয়ে সেখানে যান। তবে নতুন ভিসা আবেদনের অর্থ জোগাড় করতে বর্তমানে তাদের ভ্রমণও সীমিত করতে হয়েছে। দম্পতি এখন একজন ইমিগ্রেশন সলিসিটরের সহায়তায় নতুন করে স্পাউস ভিসার আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। র্যাচেলও প্রয়োজনীয় আয়ের সীমায় পৌঁছাতে যতটা সম্ভব বেশি কাজ করার চেষ্টা করছেন। যুক্তরাজ্যের হোম অফিস ব্যক্তিগত এই ভিসা আবেদন নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। তবে জানিয়েছে, প্রতিটি ভিসা আবেদন সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন রুলস এবং আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পৃথকভাবে বিবেচনা করা হয়। তুরস্কের একটি ছুটির সফরে শুরু হওয়া সম্পর্ক এখন বিয়ে ও সন্তানে গড়ালেও র্যাচেল ও কিয়ামুদ্দিনের সংসার চলছে দুই দেশে। তাদের অপেক্ষা এখন নতুন একটি ভিসা আবেদনের, যা সফল হলে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে একই ছাদের নিচে পরিবার হিসেবে বসবাসের সুযোগ পাবেন তারা।
চাইলেই বিশ্বের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়েগুলোর একটি আয়োজন করতে পারতেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ। অর্থ, খ্যাতি কিংবা অতিথির তালিকায় তারকার অভাব ছিল না। কিন্তু প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর বিয়ের দিনটিতে তারা বেছে নিলেন ঠিক উল্টোটা। কোনো বিশাল আয়োজন বা রেড কার্পেট নয়, নিজেদের বাড়িতে খুব সীমিত পরিসরে বিয়ে করেছেন এই তারকা জুটি। গত ১১ আগস্ট পর্তুগালের কাসকাইসে নিজেদের বাড়িতে বিয়ে করেন রোনালদো ও জর্জিনা। দিনটির আরেকটি বিশেষ তাৎপর্য ছিল, ঠিক এক বছর আগে ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট নিজেদের বাগদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা। একই সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে তাদের প্রথম পরিচয়ের স্মৃতিও জড়িয়ে আছে এই সময়ের সঙ্গে। প্রকাশিত বিয়ের নথি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিভিল আনুষ্ঠানিকতায় চারজন সাক্ষী ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জর্জিনার বোন ইভানা রদ্রিগেজ এবং রোনালদোর দীর্ঘদিনের বন্ধু মিগেল পাইশাও। তবে পুরো আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তাদের পাঁচ সন্তান। বড় কোনো অতিথি তালিকার পরিবর্তে সন্তানদের নিয়েই ব্যক্তিগত মুহূর্তটি কাটাতে চেয়েছিলেন তারা। সিভিল বিয়ের পর রোনালদো, জর্জিনা ও তাদের সন্তানরা যান পর্তুগালের বিখ্যাত ফাতিমা ধর্মীয় তীর্থস্থানে। সেখানে একটি ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাদের বিবাহিত জীবনের জন্য আশীর্বাদ নেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রচলিত অর্থে বড় কোনো চার্চ ওয়েডিংয়ের পরিবর্তে ধর্মীয় অংশটিও রাখা হয়েছিল অত্যন্ত ব্যক্তিগত। বিয়ের ছবি ও বিস্তারিত প্রকাশের বিশেষ সুযোগ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভোগ। সেখানে জর্জিনা জানিয়েছেন, তাদের জীবনে বাড়ি, গাড়ি, ভ্রমণ কিংবা বিলাসবহুল জিনিস পাওয়াটা কঠিন নয়। বরং এত পরিচিত জীবনে সত্যিকারের ব্যক্তিগত একটি মুহূর্ত পাওয়াই তাদের কাছে অনেক বেশি বিরল ও মূল্যবান হয়ে উঠেছে। বিয়ের পোশাকেও ছিল তাদের সম্পর্কের শুরুর গল্পের ছোঁয়া। যে গুচি স্টোরে দুজনের প্রথম পরিচয় হয়েছিল, বিয়ের দিন দুজনেই সেই ফ্যাশন হাউসের তৈরি পোশাক পরেন। জর্জিনা প্রচলিত ভারী ওয়েডিং গাউনের পরিবর্তে সাদা সিল্কের পোশাক বেছে নেন, আর রোনালদো পরেছিলেন কাস্টম তৈরি হালকা রঙের স্যুট। তবে অনুষ্ঠান ছোট হলেও জর্জিনার গয়নায় বিলাসিতার কমতি ছিল না। বিয়েতে তিনি শোপার্ডের অত্যন্ত মূল্যবান ডায়মন্ড জুয়েলারি পরেছিলেন। ফলে আয়োজন ছিল ব্যক্তিগত, কিন্তু তারকাজুটির নিজস্ব স্টাইলও ছিল স্পষ্ট। রোনালদো ও জর্জিনার সম্পর্ক শুরু হয় ২০১৬ সালে। পরের বছর তারা প্রকাশ্যে একসঙ্গে আসেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তারা পরিবার গড়ে তুলেছেন, সন্তানদের বড় করেছেন এবং ব্যক্তিগত জীবনের সুখ-দুঃখ একসঙ্গে পার করেছেন। ২০২২ সালে যমজ সন্তানের জন্মের সময় তাদের নবজাতক ছেলে মারা যাওয়ার কঠিন অভিজ্ঞতাও একসঙ্গে সামলেছেন তারা। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বিয়ে নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। অবশেষে সেই বিয়েটা হলো এমনভাবে, যা তাদের তারকাখ্যাতির সঙ্গে যেন একেবারেই বিপরীত। বিশাল হলরুম, শত শত অতিথি কিংবা ক্যামেরার ভিড়ের বদলে নিজেদের বাড়ি, সন্তান এবং অল্প কয়েকজন কাছের মানুষকেই বেছে নিয়েছেন তারা। বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ক্রীড়া তারকাদের একজনের কাছে বিলাসিতা হয়তো প্রতিদিনের জীবনের অংশ। কিন্তু রোনালদো ও জর্জিনার বিয়ের আয়োজন দেখাল, তাদের কাছে সেই দিনের সবচেয়ে দামি বিষয়টি ছিল এমন কিছু, যা অর্থ দিয়ে সহজে কেনা যায় না - ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের মুহূর্তটুকু উপভোগ করার সুযোগ।
আলাস্কার ২০২৬ সালের ইউএস সিনেট নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সাবেক কংগ্রেসওম্যান মেরি পেল্টোলা। মঙ্গলবারের দলনিরপেক্ষ সিনেট প্রাইমারিতে রিপাবলিকান বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভানকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। আলাস্কার এই নির্বাচনে সব দলের প্রার্থীরা একই ব্যালটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং শীর্ষ চার প্রার্থী নভেম্বরের নির্বাচনে যাওয়ার সুযোগ পান। প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট গণনার সময় পেল্টোলা ৪৮ শতাংশ ভোট নিয়ে এগিয়ে ছিলেন। বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভান পেয়েছেন প্রায় ৪২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। তবে প্রাথমিক ফল এখনো আনঅফিশিয়াল এবং বাকি ভোট গণনার পর ব্যবধান পরিবর্তিত হতে পারে। আলাস্কা ডিভিশন অব ইলেকশনসের সূচি অনুযায়ী, অনুপস্থিত, আগাম ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যালটের গণনা পরবর্তী দিনগুলোতেও চলবে এবং ৩১ আগস্টের মধ্যে ফলাফল সার্টিফাই করার লক্ষ্য রয়েছে। এই প্রাইমারিতে মোট ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। দলনিরপেক্ষ ব্যবস্থায় প্রার্থীদের জন্য আলাদা রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি হয়নি। ভোটের ফল অনুযায়ী শীর্ষ চারজন নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। পেল্টোলা ও সুলিভান দুজনই নভেম্বরের নির্বাচনে পৌঁছেছেন। তাদের সঙ্গে একই নামের আরেক প্রার্থী ড্যানিয়েল জে. সুলিভানও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রার্থিতা নিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তদন্ত করছে। তবে তদন্ত চলমান থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বা অভিযোগে ফৌজদারি মামলা হবে। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে আলাস্কায় র্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং ব্যবহৃত হবে। অর্থাৎ ভোটাররা প্রার্থীদের পছন্দের ক্রমে র্যাঙ্ক করতে পারবেন। প্রথম পছন্দের ভোট গণনার পর কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সবচেয়ে কম ভোট পাওয়া প্রার্থী বাদ পড়বেন এবং তার ভোট পরবর্তী পছন্দ অনুযায়ী অন্য প্রার্থীদের মধ্যে পুনর্বণ্টন হবে। এভাবে একজন প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়া পর্যন্ত ধাপে ধাপে ভোট গণনা চলবে। মেরি পেল্টোলা ২০২২ সালে আলাস্কার ইউএস হাউস আসনের বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন। তিনি ছিলেন কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম আলাস্কা নেটিভ। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি হাউস আসনটি ধরে রাখতে পারেননি। এবার তিনি রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের বিরুদ্ধে সিনেটের আসন দখলের লড়াইয়ে নেমেছেন। নভেম্বরের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাই জাতীয়ভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সিনেটে দুই দলের আসনসংখ্যার ব্যবধান খুব বেশি না থাকায় আলাস্কার এই আসনের ফল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আগস্টের প্রাইমারি ফলকে নভেম্বরের চূড়ান্ত ফলের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা যাবে না। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে র্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিংয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারিত হবে।
নিজেকে পরিবারের ‘রাজা’ হিসেবে দেখতেন পঙ্কজ লাম্বা। স্ত্রী হর্ষিতা ব্রেল্লার কাছ থেকে চাইতেন সম্পূর্ণ আনুগত্য। এর কিছুদিন পরই ২৪ বছর বয়সী হর্ষিতাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। হর্ষিতার মরদেহ পরে পূর্ব লন্ডনের একটি গাড়ির বুট থেকে উদ্ধার করা হয়। হত্যার ঘটনায় পঙ্কজের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে অভিযোগ গঠন করা হলেও তিনি এখনো পলাতক। হর্ষিতা ভারতের দিল্লির বাসিন্দা ছিলেন। পঙ্কজ লাম্বার সঙ্গে বিয়ের পর ২০২৪ সালের এপ্রিলে যুক্তরাজ্যে যান তিনি। তারা নর্থহ্যাম্পটনশায়ারের করবিতে বসবাস শুরু করেন। নতুন দেশে নতুন সংসার নিয়ে হর্ষিতা শুরুতে উচ্ছ্বসিত থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পর্কের পরিস্থিতি বদলে যায়। হর্ষিতার পরিবারের ভাষ্য ও তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, পঙ্কজ স্ত্রীর ওপর ক্রমেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিলেন। মৃত্যুর আগের কয়েক সপ্তাহে তিনি নিজেকে পরিবারের ‘রাজা’ হিসেবে উল্লেখ করতেন এবং হর্ষিতার কাছ থেকে সম্পূর্ণ আনুগত্য দাবি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ২০২৪ সালের আগস্টে স্বামীর বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে নর্থহ্যাম্পটনশায়ার পুলিশের কাছে যান হর্ষিতা। পুলিশের কাছে তিনি শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগসংক্রান্ত তথ্যও দিয়েছিলেন। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর পঙ্কজকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শর্তসাপেক্ষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং হর্ষিতার সঙ্গে যোগাযোগে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। আদালতের মাধ্যমে ২৮ দিনের জন্য একটি ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স প্রোটেকশন অর্ডারও কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু সেই সুরক্ষা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পঙ্কজ আবার হর্ষিতার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পান। পুলিশের ধারণা, ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর করবিতে হর্ষিতাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সেদিন হর্ষিতা তাদের বলেছিলেন পঙ্কজ তার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। ওই রাতের পর থেকেই তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। চার দিন পর, ১৪ নভেম্বর পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ডে ব্রিসবেন রোডে রাখা একটি সিলভার ভক্সহল করসা গাড়ির বুট থেকে হর্ষিতার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। করবি থেকে ইলফোর্ডের দূরত্ব প্রায় ১০০ মাইল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, হত্যার পর হর্ষিতার মরদেহ গাড়িতে করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই পঙ্কজ যুক্তরাজ্য ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে মনে করছে ব্রিটিশ পুলিশ। ২০২৫ সালের মার্চে পঙ্কজ লাম্বার অনুপস্থিতিতেই তার বিরুদ্ধে হর্ষিতাকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন এবং নিয়ন্ত্রণমূলক ও জবরদস্তিমূলক আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ঘটনার প্রায় দেড় বছর পরও পঙ্কজকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ২০২৬ সালের মে মাসে হর্ষিতার বাবা-মা ও বোন ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে গিয়ে নর্থহ্যাম্পটনশায়ার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। মেয়েকে হারানোর আগে তার নির্যাতনের অভিযোগ যথাযথভাবে মোকাবিলা করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নেরও উত্তর চান তারা। হর্ষিতার মৃত্যুর আগে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। তার করা পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ সামলানোর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ব্যর্থতা নিয়ে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়। নর্থহ্যাম্পটনশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, পঙ্কজকে খুঁজে বের করে হর্ষিতার পরিবারের জন্য বিচার নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ চলছে। যে তরুণী বিয়ের পর নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন, তার সেই জীবন শেষ হয় মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে। আর হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত স্বামী এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় হর্ষিতার পরিবার অপেক্ষা করছে সেই একটি দিনের জন্য, যেদিন তাকে আদালতের মুখোমুখি করা যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিমানশিল্পে কর্মীর সংকট বাড়তে থাকায় মেট্রো আটলান্টার বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের পাইলট ও বিমানশিল্পের কর্মী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। জাতীয় বিমান দিবস উপলক্ষে বিমানশিল্পে কর্মীর ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিষয়টি সামনে এসেছে। জর্জিয়ার গুইনেট কাউন্টির ম্যাক্সওয়েল উচ্চবিদ্যালয়ের বিমান পরিচালনা কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের বিমান চালনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচিটির প্রশিক্ষক লিন্ডা মাইনর নিজেও ছোটবেলা থেকে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার বাবা ও ভাই বিমান চালাতেন এবং তার স্বামী ও ছেলেরাও বিমান চালনার সঙ্গে যুক্ত। ম্যাক্সওয়েল উচ্চবিদ্যালয়ের এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিমান চালনার প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আভা হিল জানান, কিশোর বয়সেই এমন প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, এ ধরনের সুযোগ না থাকলে পাইলটের সনদ অর্জন ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পেতে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে। ফুলটন, ডিকালব ও ক্লেটন কাউন্টির স্কুল জেলাগুলোতেও বিমানচালনা বিষয়ক কর্মসূচি চালু রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন অনুমোদিত বিমানচালনা সিমুলেটর ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ নেয়। সিমুলেটরে প্রশিক্ষণের কিছু সময় পাইলটের সনদ অর্জনের প্রয়োজনীয় সময়ের হিসাবেও যুক্ত হতে পারে। এসব কর্মসূচির সাবেক শিক্ষার্থীদের কেউ বাণিজ্যিক ও সামরিক পাইলট হয়েছেন। কেউ বোয়িং ও লকহিড মার্টিনে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছেন। আবার কেউ ডেল্টা এয়ার লাইন্সের কারিগরি পরিচালনা বিভাগে যুক্ত হয়েছেন। বিমানশিল্পে নতুন কর্মীর প্রয়োজনীয়তা দ্রুত বাড়ছে। বোয়িংয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৪৫ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে চাহিদা পূরণ করতে প্রায় ২৫ লাখ নতুন বিমানশিল্প পেশাজীবীর প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার পাইলটের প্রয়োজন হতে পারে। তবে বিমানশিল্পে শুধু পাইলটেরই চাহিদা নেই। প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু এবং বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকদেরও প্রয়োজন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন এপ্রিল মাসের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, পরবর্তী তিন বছরে প্রায় ৭ হাজার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। লিন্ডা মাইনরের মতে, বিমানশিল্পকে শুধু পাইলটের পেশা হিসেবে দেখলে এই খাতের বড় একটি অংশ বাদ পড়ে যায়। বিমান তৈরি, যন্ত্রাংশ উৎপাদন, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। জর্জিয়াতেও বিমানশিল্প বড় কর্মসংস্থান ক্ষেত্রগুলোর একটি বলে জানান মাইনর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে বিমান তৈরি, যন্ত্রাংশ উৎপাদন, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো বিভিন্ন কাজের সুযোগ রয়েছে। গালফস্ট্রিম ও লকহিডের মতো প্রতিষ্ঠানও সেখানে বিমানশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। মাইনর মনে করেন, তার শিক্ষার্থীদের অর্জিত দক্ষতা ভবিষ্যতে বিমানশিল্পের ক্রমবর্ধমান কর্মী চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষার্থীদের কেউ ইতোমধ্যে বিমানচালক হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, আবার অনেকে বিমানশিল্পের অন্যান্য পেশার দিকেও এগিয়ে যেতে পারেন। জাতীয় বিমান দিবসের সময়ে আটলান্টার উচ্চবিদ্যালয়গুলোর এসব কর্মসূচি তাই ভবিষ্যৎ বিমানশিল্পের কর্মী তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। শিল্পে পাইলটের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়তে থাকায় শিক্ষার্থীদের স্কুল পর্যায় থেকেই প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
হিউস্টনের সাবেক ট্রান্সপ্লান্ট চিকিৎসক ডা. জন স্টিভেনসন বাইনন জুনিয়রের বিরুদ্ধে রোগীদের চিকিৎসা নথিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ফেডারেল মামলা হয়েছে। অভিযোগ, এসব তথ্য পরিবর্তনের ফলে পাঁচজন লিভার ট্রান্সপ্লান্ট প্রার্থী কার্যত দাতা অঙ্গ পাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাইনন মেমোরিয়াল হারম্যান হেলথ সিস্টেমের টেক্সাস মেডিকেল সেন্টারে পেটের অঙ্গ প্রতিস্থাপন বিভাগের পরিচালক এবং লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের সার্জিক্যাল পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, রোগীদের লিভার ট্রান্সপ্লান্টের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখার পর তিনি তাদের চিকিৎসা নথিতে এমন তথ্য দেন, যার কারণে সম্ভাব্য দাতা অঙ্গ পাওয়ার সুযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে যায়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, রোগী, তাদের পরিবার এবং চিকিৎসা দলের অন্য সদস্যরা এসব পরিবর্তনের বিষয়টি জানতেন না। ফলে কয়েকজন রোগী কয়েক মাস পর্যন্ত দাতা অঙ্গ পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অভিযোগে পাঁচজন রোগীর ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন পরে মারা যান। অন্য দুজন মেমোরিয়াল হারম্যানের বাইরে অন্য হাসপাতালে গিয়ে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট পান। মামলায় বাইননের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার পাঁচটি ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ২০২৪ সালে মেমোরিয়াল হারম্যান তাদের ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। পরে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পর কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়। এদিকে বাইনন অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার আইনজীবীদের বক্তব্য, রোগীরা তখন ট্রান্সপ্লান্টের জন্য অত্যন্ত অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত ছিল তাদের চিকিৎসার স্বার্থে নেওয়া। ২০২৬ সালের জুনে আদালত তার বিরুদ্ধে আনা ফেডারেল অভিযোগ খারিজের আবেদন নাকচ করে দেয়। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমে এসব অভিযোগের সত্যতা বিচার করা হবে। তবে বাইননের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তিনি দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ।
বিয়ে হয়েছে মেডিকেলে পড়ার সময়, পরের বছরই কোলে এসেছে প্রথম সন্তান। তখন আশপাশের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, কুদসিয়া হুদার পেশাজীবন হয়তো আর খুব বেশি দূর এগোবে না। কিন্তু সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে বাংলাদেশের এই চিকিৎসক এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জেনেভা সদর দপ্তরে ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইউনিটের প্রধান। দীর্ঘদিন ধরে জনস্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সংকটে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বীকৃতিও এসেছে আন্তর্জাতিক পরিসরে। কুদসিয়া হুদা ঢাকায় বেড়ে উঠেছেন। পড়াশোনা করেছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও হলিক্রস কলেজে। এরপর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে। মেডিকেলের তৃতীয় বর্ষে বিয়ে এবং চতুর্থ বর্ষে প্রথম সন্তানের জন্ম হলেও পড়াশোনা থামাননি। ১৯৯১ সালে এমবিবিএস শেষ করে চিকিৎসা পেশায় প্রবেশ করেন। পরবর্তী সময়ে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দিয়ে পঞ্চগড়ে কাজ করেন তিনি। দেশের প্রান্তিক এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখার সেই অভিজ্ঞতাই তাকে ধীরে ধীরে জনস্বাস্থ্যের দিকে নিয়ে যায়। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত কাজে যুক্ত হন। সেখান থেকেই দুর্যোগের সময় মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা রক্ষার বিষয়টি তার পেশাজীবনের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। উচ্চশিক্ষার জন্য একসময় পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। দুই ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বোস্টনে সংসার, সন্তানদের দেখাশোনা এবং নিজের পড়াশোনা একসঙ্গে চালিয়ে যান। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যেও হার্ভার্ড, টাফটস, এমআইটি ও ইউনিভার্সিটি অব লিডসে তার উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যোগ দেওয়ার পর তার কাজের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। ইরানের ভূমিকম্প, দক্ষিণ এশিয়ার সুনামি, পাকিস্তানের বন্যা ও ভূমিকম্প থেকে শুরু করে আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও সিরিয়ার মানবিক সংকটে কাজ করেছেন তিনি। জিকা, ইবোলা এবং কোভিড-১৯ মহামারির প্রস্তুতি ও মোকাবিলার কাজেও যুক্ত ছিলেন কুদসিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান পরিষদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কুদসিয়া হুদার দুর্যোগ, জনস্বাস্থ্য, হেলথ সিকিউরিটি ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় দুই দশকের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হেলথ ইমার্জেন্সিস প্রোগ্রামের ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইউনিটের প্রধান। বিশ্বজুড়ে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে কার্যকর রাখার কৌশল তৈরিতে তার ইউনিট কাজ করে। এই দীর্ঘ পথচলার পেছনে আছে অনেক কঠিন অভিজ্ঞতাও। ইরানে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর একটি আশ্রয়শিবিরে চার বছরের এক শিশুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল তার। ভূমিকম্পে মাকে হারানো শিশুটি তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, তিনি তার মাকে ফিরিয়ে এনে দিতে পারবেন কি না। নিজের সন্তানদের কথা মনে পড়ে সেই মুহূর্তটি কুদসিয়াকেও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। এত ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের আরেকটি পরিচয় ধরে রেখেছেন তিনি। ‘দীপা ফিরোজ’ নামে লেখালেখি করেছেন, প্রকাশিত হয়েছে একাধিক বই। গান এবং লেখালেখিকে নিজের মানসিক প্রশান্তির জায়গা হিসেবে দেখেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করলেও শাড়ি ও বাঙালি সাজের প্রতি তার ভালোবাসাও রয়ে গেছে। তার দুই মেয়েও এখন নিজ নিজ পেশায় প্রতিষ্ঠিত। একজন বিশ্বব্যাংকে কাজ করছেন, অন্যজন স্থাপত্য পেশায় যুক্ত। কুদসিয়া হুদার পেশাগত পরিচয়ের সবচেয়ে বড় দিক সম্ভবত কোনো একটি পদ নয়। বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজের একজন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিশ্বের বড় বড় দুর্যোগ ও স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেওয়ার জায়গায় পৌঁছাতে তাকে একই সঙ্গে সামলাতে হয়েছে মাতৃত্ব, সংসার, উচ্চশিক্ষা ও পেশা। একসময় যাকে বলা হয়েছিল বিয়ে ও সন্তান হওয়ার পর তার ক্যারিয়ার আর এগোবে না, সেই কুদসিয়া হুদাই এখন জেনেভায় বসে বিশ্বজুড়ে দুর্যোগে মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন রক্ষার নীতি তৈরির কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার পথচলা তাই শুধু একজন বাংলাদেশি নারীর পেশাগত সাফল্যের গল্প নয়, জীবনের দায়িত্ব সামলিয়েও নিজের স্বপ্ন ধরে রাখার এক দীর্ঘ যাত্রা।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর অনেকেই মনে করেন নাগরিকত্বের পথ এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। বাস্তবে গ্রিন কার্ড থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিটিজেনশিপ নিশ্চিত হয় না। দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা, নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ট্যাক্স ফাইল করা কিংবা আইনগত অধিকার না থাকা অবস্থায় ভোট দেওয়ার মতো বিষয় ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের আবেদনে গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। ২০২৬ সালের কার্যকর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ন্যাচারালাইজেশনের সময় ইউএসসিআইএস আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিক বসবাস, বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস, ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্য এবং ভোট দেওয়া বা ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের মতো বিষয় যাচাই করতে পারে। প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা। সাধারণ নিয়মে নাগরিকত্বের জন্য একজন গ্রিন কার্ডধারীকে নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিকভাবে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হয়। অধিকাংশ আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এই সময় পাঁচ বছর। মার্কিন নাগরিকের যোগ্য স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে তিন বছরের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তবে একটানা ছয় মাসের বেশি কিন্তু এক বছরের কম যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলেই যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বাতিল হয়ে যাবে বা নাগরিকত্বের যোগ্যতা শেষ হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের অনুপস্থিতি ন্যাচারালাইজেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাস ভেঙে গেছে বলে ধরে নেওয়ার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তখন আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্রেই তার স্থায়ী বসবাস বজায় ছিল। আর একটানা এক বছর বা তার বেশি দেশের বাইরে থাকা সাধারণভাবে নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাসে আরও বড় বাধা তৈরি করে। একই সঙ্গে দীর্ঘ অনুপস্থিতি গ্রিন কার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা স্ট্যাটাস বজায় রাখা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা রয়েছে। রি-এন্ট্রি পারমিট থাকলেই নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্ষা হয় না। রি-এন্ট্রি পারমিট মূলত দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার ক্ষেত্রে স্থায়ী বাসিন্দার উদ্দেশ্য প্রমাণে সহায়ক হতে পারে। নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানভিত্তিক পরিস্থিতিতে ধারাবাহিক বসবাস সংরক্ষণের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ট্যাক্স রিটার্ন। আইআরএসের ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে বৈধ গ্রিন কার্ডধারী ব্যক্তি ফেডারেল ট্যাক্সের ক্ষেত্রে রেসিডেন্ট এলিয়েন হিসেবে বিবেচিত হন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মতোই বিশ্বব্যাপী আয় রিপোর্ট করার নিয়মের আওতায় পড়েন। তাই কোনো গ্রিন কার্ডধারী ভুলভাবে নিজেকে নন-রেসিডেন্ট হিসেবে দেখিয়ে ট্যাক্স রিটার্ন করলে বিষয়টি পরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এমন অবস্থান যদি যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে দাবি করার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হতে পারে। তবে ট্যাক্সের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ও আন্তর্জাতিক ট্যাক্স ট্রিটির নিয়ম থাকতে পারে। ফলে সব পরিস্থিতিতে একই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য নয়। বিদেশে আয়, দ্বৈত ট্যাক্স রেসিডেন্সি বা ট্যাক্স ট্রিটির সুবিধা নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ ট্যাক্স পেশাজীবী বা ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয় এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি হলো ভোট দেওয়া। গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজের অধিকার দিলেও এটি মার্কিন নাগরিকত্ব নয়। ফেডারেল নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তির ভোট দেওয়া বেআইনি। ইউএসসিআইএস ২০২৫ সালে ন্যাচারালাইজেশন সংক্রান্ত নীতিমালায় বেআইনি ভোট, বেআইনিভাবে ভোটার রেজিস্ট্রেশন এবং নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে মিথ্যা দাবি করার বিষয়গুলো নিয়ে নির্দেশনা আরও স্পষ্ট করেছে। তবে এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি ধরনের নির্বাচনের নিয়ম এক নয়। কিছু অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় এলাকায় নির্দিষ্ট স্থানীয় নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তাই "গ্রিন কার্ডধারী কোনো নির্বাচনেই ভোট দিতে পারবেন না" এমন সার্বিক বক্তব্য সঠিক নয়। কিন্তু ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিষিদ্ধ এবং অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো নির্বাচনে ভোট দিলে গুরুতর ইমিগ্রেশন পরিণতি হতে পারে। বিশেষ করে ভোটার রেজিস্ট্রেশনের সময় নিজেকে ভুলভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বেআইনি ভোট বা মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি কিছু ক্ষেত্রে শুধু ন্যাচারালাইজেশন আবেদনকেই প্রভাবিত করে না, ডিপোর্টেশনের আইনি ভিত্তিও তৈরি করতে পারে। তাই গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের প্রস্তুতি শুধু এন-৪০০ ফর্ম জমা দেওয়ার সময় শুরু হয় না। বিদেশে কতদিন থাকা হচ্ছে, ট্যাক্স কীভাবে ফাইল করা হচ্ছে এবং ভোট বা ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতা কী, এসব বিষয়ে শুরু থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি। কোনো ভুল ইতোমধ্যে হয়ে থাকলে তা গোপন করার পরিবর্তে নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে যোগ্য ইমিগ্রেশন আইনজীবীর সঙ্গে নিজের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা নিরাপদ। কারণ একই ঘটনা একজনের ক্ষেত্রে সামান্য ব্যাখ্যার বিষয় হলেও অন্য কারও ক্ষেত্রে তার ইমিগ্রেশন ইতিহাস ও পরিস্থিতির কারণে গুরুতর আইনি সমস্যা তৈরি করতে পারে।
প্রতিদিন হাজার হাজার ফুট ওপরে কাজ করা পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের জন্য সামনে এসেছে উদ্বেগজনক এক গবেষণা। যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ শতাধিক পেশার মানুষের মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, রেডিয়েশনের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে পরিচিত কয়েক ধরনের ক্যানসারে মৃত্যুর অনুপাত সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মধ্যে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন পাইলটরা। এমনকি নিয়মিত তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিয়ে কাজ করা কিছু পেশার কর্মীদের তুলনায়ও তাদের হার বেশি পাওয়া গেছে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষকদের নেতৃত্বে করা গবেষণাটি ১৭ আগস্ট জেএএমএ ইন্টারনাল মেডিসিনে প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস সিস্টেমের ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের এক কোটি ২০ লাখের বেশি ডেথ সার্টিফিকেট বিশ্লেষণ করা হয়েছে এতে। গবেষণায় পাঁচ শতাধিক পেশার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারে মৃত্যুর সম্পর্ক তুলনা করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার পাইলট এবং সাত হাজারের বেশি ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের মৃত্যুর তথ্য ছিল। ফলাফলে দেখা যায়, ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মোট মৃত্যুর প্রায় ৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং পাইলটদের মৃত্যুর প্রায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল এমন ক্যানসারে, যেগুলোকে গবেষণায় রেডিয়েশনের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্যানসারের শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। সাধারণ কর্মজীবী জনগোষ্ঠীতে এই হার ছিল প্রায় ৫ শতাংশ। গবেষকেরা স্তন ক্যানসার, সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের ক্যানসার, মাল্টিপল মায়েলোমা, নির্দিষ্ট ধরনের লিউকেমিয়া ও লিম্ফোমা, থাইরয়েড ক্যানসার, প্রোস্টেট ক্যানসার, মেলানোমা এবং নন-মেলানোমা স্কিন ক্যানসারকে বিশ্লেষণের আওতায় রেখেছিলেন। পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট উভয়ের মধ্যেই স্তন, সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম ও প্রোস্টেট ক্যানসার এবং মেলানোমায় মৃত্যুর হার পরিসংখ্যানগতভাবে বেশি পাওয়া গেছে। পাইলটদের ক্ষেত্রে লিউকেমিয়ায় মৃত্যুর হারও বেশি ছিল। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গবেষণায় পারমাণবিক বা তেজস্ক্রিয় উপাদান নিয়ে কাজ করা পেশাজীবীরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তারপরও রেডিয়েশনের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্যানসারে মৃত্যুর অনুপাতে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ও পাইলটরা তাদের ওপরে অবস্থান করেছেন। নিউক্লিয়ার টেকনোলজিস্টরা এই তালিকায় ১২তম অবস্থানে ছিলেন বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। কিন্তু বিমানকর্মীদের ক্ষেত্রে রেডিয়েশন আসে কোথা থেকে? মূল কারণ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে কসমিক আয়োনাইজিং রেডিয়েশন। মহাকাশ ও সূর্য থেকে আসা উচ্চশক্তির কণা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। ভূপৃষ্ঠে বায়ুমণ্ডলের পুরু স্তর মানুষের জন্য অনেকটা প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। কিন্তু বাণিজ্যিক বিমান যখন প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ে, তখন সেই সুরক্ষা অনেকটাই কমে যায়। ফলে দীর্ঘ সময় আকাশে থাকা পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা ভূপৃষ্ঠে থাকা মানুষের তুলনায় বেশি কসমিক রেডিয়েশনের সংস্পর্শে আসেন। এটি একবারের কোনো বড় রেডিয়েশন ডোজ নয়। বরং বছরের পর বছর নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার কারণে অল্প অল্প করে জমতে থাকা এক্সপোজার নিয়েই গবেষকদের উদ্বেগ। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও দীর্ঘদিন ধরে স্বীকার করে আসছে যে ফ্লাইট ক্রুরা পেশাগতভাবে আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের সংস্পর্শে আসেন। আগের গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লাইট ক্রুদের বছরে গড়ে প্রায় ৩ মিলিসিভার্ট কার্যকর রেডিয়েশন ডোজ পাওয়ার হিসাবও উঠে এসেছে। তবে নতুন গবেষণার ফলাফলকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না যে রেডিয়েশনই প্রত্যেক পাইলট বা ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের ক্যানসারের সরাসরি কারণ। গবেষকেরা ব্যক্তিভিত্তিক রেডিয়েশন এক্সপোজারের মাত্রা পরিমাপ করেননি। ডেথ সার্টিফিকেটের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন পেশার মধ্যে মৃত্যুর ধরন তুলনা করা হয়েছে। এ ছাড়া ফ্লাইট ক্রুদের কর্মজীবনে আরও কিছু বিষয় রয়েছে, যা ক্যানসারের ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখতে পারে। রাতের শিফট, বারবার টাইম জোন পরিবর্তন, শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের চক্র বা সার্কাডিয়ান রিদমে ব্যাঘাত এবং দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত চাপও সম্ভাব্য কারণ হিসেবে গবেষণায় আলোচিত হয়েছে। আগের গবেষণাগুলোতেও পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের হার বেশি পাওয়া গেছে। তবে কসমিক রেডিয়েশন এবং ক্যানসারের মধ্যে সরাসরি কারণ ও ফলাফলের সম্পর্ক এখনো নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নতুন গবেষণাটি মূলত ক্যানসারে মৃত্যুর ক্ষেত্রে পেশাভিত্তিক পার্থক্যকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট ক্রুদের কসমিক রেডিয়েশন এক্সপোজারের জন্য বর্তমানে অন্যান্য কিছু রেডিয়েশন কর্মীর মতো বাধ্যতামূলক ফেডারেল ডোজ সীমা বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিয়মিত রেডিয়েশন মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেই। গবেষকেরা মনে করছেন, নতুন ফলাফল বিমানকর্মীদের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি রেডিয়েশন এক্সপোজার পর্যবেক্ষণ, কর্মীদের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে সাধারণ বিমানযাত্রীদের জন্য গবেষণাটিকে আতঙ্কের কারণ হিসেবে দেখছেন না গবেষকেরা। পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা বছরের পর বছর কর্মজীবনের বড় একটি অংশ আকাশে কাটান। সাধারণ যাত্রীর কয়েক ঘণ্টার বিমান ভ্রমণের সঙ্গে সেই দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত এক্সপোজার সরাসরি তুলনা করা ঠিক নয়। নতুন গবেষণাটি তাই বিমান ভ্রমণের নিরাপত্তার চেয়ে বেশি প্রশ্ন তুলেছে তাদের নিয়ে, যাদের কর্মক্ষেত্রই আকাশ। প্রতিদিন যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি কীভাবে পর্যবেক্ষণ ও কমানো যায়, এখন সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়ার আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছেছেন মিশিগানের ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক আবদুল এল সাইদ। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রাইমারিতে কংগ্রেসওম্যান হেইলি স্টিভেন্সকে হারিয়ে মিশিগান থেকে ইউএস সিনেটের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা। নভেম্বরে রিপাবলিকান মাইক রজার্সকে হারাতে পারলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ইউএস সিনেটর। মিশিগানে ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির ফল পরদিন নিশ্চিত হয়। ভোট গণনা রাত পেরিয়ে বুধবার সকাল পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত খুব অল্প ব্যবধানে স্টিভেন্সকে পেছনে ফেলেন এল সাইদ। ফল ঘোষণার পর স্টিভেন্সও তাকে অভিনন্দন জানিয়ে সাধারণ নির্বাচনে সমর্থনের ঘোষণা দেন। এল সাইদের এই জয় শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য নয়। মিশিগানের ওপেন সিনেট আসনটি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর একটি। বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি এবার উন্মুক্ত হয়েছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে আসনটি ধরে রাখা ডেমোক্র্যাটদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাইমারি জয়ের পর নিজের পারিবারিক ইতিহাসও সামনে আনেন এল সাইদ। মিশরীয় বংশোদ্ভূত একটি পরিবারের সন্তান তিনি। তার বাবা মিশর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়ে ডেট্রয়েটে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন। এল সাইদ বলেছেন, তার বাবার সেই সিদ্ধান্ত না থাকলে পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো হয়তো তার জীবনও মিশরেই কাটত। কিন্তু অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচয়ের পাশাপাশি তার রাজনৈতিক অবস্থানই এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, রাজনীতিতে কর্পোরেট অর্থের প্রভাব কমানো, শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং ইসরায়েলসহ বিদেশি সামরিক বাহিনীতে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের বিরোধিতা তার প্রচারণার কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল। বিশেষ করে ইসরায়েল ইস্যুতে এল সাইদ ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হেইলি স্টিভেন্সের অবস্থানের মধ্যে বড় পার্থক্য ছিল। স্টিভেন্স ইসরায়েলের প্রতি জোরালো সমর্থনের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে এল সাইদ ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থ দেশের স্কুল, রাস্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন পূরণে ব্যয় হওয়া উচিত। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রাইমারিতে বিপুল পরিমাণ বাইরের অর্থও খরচ হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হিসাবে, এল সাইদের বিরুদ্ধে এবং স্টিভেন্সের পক্ষে কয়েক কোটি ডলার ব্যয় করে বাইরের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। এর মধ্যে ইসরায়েলপন্থী সংগঠনগুলোর ব্যয়ও ছিল উল্লেখযোগ্য। তারপরও অর্থের লড়াইয়ে অনেক পিছিয়ে থেকেও জয় পেয়েছেন এল সাইদ। নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবে স্টিভেন্সের তুলনায় তিনি বড় ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন। এই ফলকে তাই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এল সাইদকে সমর্থন করেছিলেন ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজসহ প্রগতিশীল রাজনীতির কয়েকজন পরিচিত নেতা। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের একটি বড় অংশ স্টিভেন্সের পাশে ছিল। মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমারও প্রাইমারির শেষ দিকে স্টিভেন্সকে সমর্থন করেন। এ কারণে এল সাইদের জয়কে দলের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধে প্রগতিশীল অংশের একটি বড় সাফল্য হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ইসরায়েল নিয়ে তার অবস্থান অবশ্য তাকে রাজনৈতিক আক্রমণের মুখেও ফেলেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান নেতারা তার বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। এল সাইদ ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ইসরায়েল সরকারের নীতির সমালোচনা এবং ইহুদি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ এক বিষয় নয়। নিজের নির্বাচনী এলাকার ইহুদি বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। রাজনীতিতে আসার আগে এল সাইদের পরিচিতি তৈরি হয়েছিল জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে। তিনি চিকিৎসক নন, বরং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষিত একজন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও প্রশাসক। ২০১৫ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডেট্রয়েট হেলথ ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোনো শহরের জনস্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়া সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন এল সাইদ। ডেট্রয়েটে দায়িত্ব পালনের সময় শিশু মৃত্যুহার কমানো, স্কুলশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং স্কুলে সীসার ঝুঁকি শনাক্ত করার মতো বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য উদ্যোগে কাজ করেন তিনি। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথমবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি পান এল সাইদ। সেই নির্বাচনেও তার প্রচারণার মূল বিষয় ছিল সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এবং রাজনীতিতে কর্পোরেট অর্থের প্রভাব হ্রাস করা। সে প্রাইমারিতে তিনি গ্রেচেন হুইটমারের কাছে পরাজিত হন। আট বছর পর এবার ইউএস সিনেটের প্রাইমারিতে সেই প্রগতিশীল রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নিয়েই বড় জয় পেয়েছেন তিনি। তবে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা এখনো সামনে। নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে এল সাইদের প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স। রিপাবলিকান প্রাইমারিতে রজার্স বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মনোনয়ন পেয়েছেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থনও তার সঙ্গে রয়েছে। মিশিগানকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজ্যটিতে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। ফলে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয় পেলেও সাধারণ নির্বাচনে এল সাইদের সামনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা অপেক্ষা করছে। নভেম্বরের ফলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ও জড়িয়ে আছে। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মুসলিম ইউএস সিনেটর নির্বাচিত হননি। সেই ইতিহাস পরিবর্তনের সুযোগ এখন আবদুল এল সাইদের সামনে। মাইক রজার্সকে হারাতে পারলে মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের এই সন্তান শুধু মিশিগানের নতুন সিনেটরই হবেন না, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে ইউএস সিনেটে প্রবেশ করবেন।
ভালোবাসার মানুষটির জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিয়েছিলেন নিউইয়র্কের চিকিৎসক রিচার্ড বাতিস্তা। কিন্তু চার বছর পর স্ত্রী ডনেল বাতিস্তা ডিভোর্সের আবেদন করলে তাদের বিচ্ছেদের মামলা নেয় এক অস্বাভাবিক মোড়। স্ত্রীকে দেওয়া কিডনি ফেরত চাওয়া, তা সম্ভব না হলে এর জন্য ১৫ লাখ ডলার দাবি করেন রিচার্ড। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের। রিচার্ড ও ডনেল ১৯৯০ সালে বিয়ে করেন। তাদের তিন সন্তান রয়েছে। কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন ডনেল এবং এর আগে তার দুটি কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সফল হয়নি। এরপর পরীক্ষা করে দেখা যায়, স্ত্রীর জন্য উপযুক্ত কিডনি ডোনার হতে পারেন রিচার্ড। ২০০১ সালের ১৮ জুন ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা মেডিকেল সেন্টারে নিজের একটি কিডনি স্ত্রীকে দান করেন তিনি। সে সময় রিচার্ড জানিয়েছিলেন, তার প্রথম লক্ষ্য ছিল স্ত্রীর জীবন বাঁচানো। একই সঙ্গে তিনি আশা করেছিলেন, এই ঘটনা তাদের দাম্পত্য সম্পর্কেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। কিন্তু কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের চার বছর পর, ২০০৫ সালের জুলাইয়ে ডিভোর্সের আবেদন করেন ডনেল। এরপর দীর্ঘ হতে থাকা ডিভোর্স প্রক্রিয়ার মধ্যে ২০০৯ সালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। রিচার্ড দাবি করেন, স্ত্রীকে দেওয়া কিডনি তাকে ফেরত দিতে হবে। সেটি সম্ভব না হলে কিডনিটির মূল্য হিসেবে ১৫ লাখ ডলার দেওয়ার দাবি তোলেন তিনি। রিচার্ডের এই দাবি দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। প্রশ্ন ওঠে, একজন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নিজের অঙ্গ অন্য কাউকে দান করার পর সম্পর্ক ভেঙে গেলে সেই অঙ্গের ওপর কোনো মালিকানা দাবি করতে পারেন কি না। শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি সুপ্রিম কোর্ট রিচার্ডের দাবি প্রত্যাখ্যান করে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া সিদ্ধান্তে আদালত জানায়, মানুষের অঙ্গ বা টিস্যুকে ডিভোর্সের সময় ভাগ করে নেওয়ার মতো বৈবাহিক সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। কিডনিটির আর্থিক মূল্য নির্ধারণের দাবিও আইনি বাধার মুখে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের অঙ্গ কেনাবেচা আইনত নিষিদ্ধ। ফলে স্বেচ্ছায় দান করা কিডনিকে পরবর্তী সময়ে সম্পত্তির মতো মূল্য নির্ধারণ করে অর্থ দাবি করার সুযোগ নেই। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরাও কিডনি ফেরত নেওয়ার ধারণাটি বাস্তবসম্মত নয় বলে জানিয়েছিলেন। একজন সুস্থ মানুষের শরীরে কার্যকরভাবে প্রতিস্থাপিত কিডনি শুধু দাতার ব্যক্তিগত দাবির কারণে অস্ত্রোপচার করে বের করে নেওয়া রোগীর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রিচার্ডের বক্তব্য ছিল, স্ত্রী ডিভোর্সের আবেদন করলেও কিডনি দানের সিদ্ধান্ত নিয়ে তার অনুশোচনা নেই। তবে বিচ্ছেদের সময় সেই কিডনির মূল্য বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। প্রায় দুই দশক পরও ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আলোচিত ডিভোর্স বিরোধগুলোর একটি হিসেবে ফিরে আসে। ভালোবাসার সম্পর্ক শেষ হয়ে যেতে পারে, কিন্তু কাউকে স্বেচ্ছায় দান করা একটি অঙ্গকে পরে সাধারণ সম্পত্তির মতো ফেরত চাওয়া বা তার দাম আদায় করা যায় না - বাতিস্তা দম্পতির আলোচিত মামলাটি সেই আইনি সীমারই একটি বিরল উদাহরণ।
বিয়ের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের এক যুগল বেছে নিয়েছেন একেবারেই ভিন্ন পথ। প্রচলিতভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু না করে স্কাইডাইভার মাইকেল মিসরুন ও মেগান ওয়ালশ আকাশে উড়ে যান এবং প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে লাফ দিয়ে শুরু করেন তাদের বিশেষ দিনের আয়োজন। নিউইয়র্কের ফিঙ্গার লেকস অঞ্চলের স্কাইডাইভ সেনেকা লেকের সঙ্গে যুক্ত মাইক ও মেগান দুজনই অভিজ্ঞ স্কাইডাইভার। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে তাদের অভিনব বিয়ের আয়োজনের কথা উঠে এসেছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় ছিল, শুধু বর-কনেই নন, তাদের বিয়ের কয়েকজন অতিথিও এই আকাশযাত্রায় অংশ নেন। বিমান থেকে লাফ দেওয়ার পর ঘণ্টায় প্রায় ১২০ মাইল গতিতে ফ্রি ফল করেন তারা। পরে প্যারাসুট খুলে নিরাপদে মাটিতে নেমে আসেন। বিশেষ এই দিনের জন্য মেগানের বিয়ের পোশাকও ছিল আলাদা। স্কাইডাইভিংয়ের সময় নিরাপদে ব্যবহার করা যায় এমনভাবে পরিবর্তন করা একটি সাদা বিয়ের পোশাক পরেছিলেন তিনি। আকাশ থেকে লাফ দেওয়ার সময় তার হাতে ছিল ফুলের তোড়াও। অন্যদিকে মাইক লাফ দেন স্যুট পরে। কয়েক হাজার ফুট ওপরে বিমান থেকে একসঙ্গে ঝাঁপ দেওয়ার পর দুজনই নিরাপদে নির্ধারিত স্থানে অবতরণ করেন।মাটিতে নামার পরও ছিল আরেক চমক। প্যারাসুটের আড়ালে মেগান স্কাইডাইভিংয়ের জন্য তৈরি পোশাক বদলে মূল বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য আরেকটি বিয়ের পোশাক পরে নেন। এরপর পরিবার ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে চলে তাদের বিয়ের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা। স্কাইডাইভিংয়ের সঙ্গে মাইক ও মেগানের সম্পর্ক অবশ্য শুধু পেশাগত নয়। তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তও জড়িয়ে আছে আকাশের সঙ্গে। মাইক মেগানকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন স্কাইডাইভিংয়ের সময় আকাশে থাকা অবস্থায়। তাই বিয়ের দিনেও সেই গল্পের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন তারা। যে আকাশে তাদের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় শুরু হয়েছিল, সেখান থেকেই লাফ দিয়ে এবার শুরু করলেন দাম্পত্য জীবন। মাইকেল মিসরুন ও মেগান ওয়ালশের স্কাইডাইভিং অভিজ্ঞতার বিষয়টি অন্য নথিতেও পাওয়া যায়। ইয়েটস কাউন্টির সরকারি নথিতে দুজনকে স্কাইডাইভ সেনেকা লেকের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিউইয়র্কের ফিঙ্গার লেকস অঞ্চলে ১১ হাজার থেকে ১৪ হাজার ফুট পর্যন্ত উচ্চতা থেকে স্কাইডাইভিংয়ের সুযোগ দিয়ে থাকে। তাদের বিয়ের ভিডিও ও ছবি প্রকাশের পর অভিনব আয়োজনটি নজর কেড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। সাধারণত যেখানে বিয়ের অনুষ্ঠানে বর-কনের প্রবেশ নিয়েই থাকে বিশেষ আয়োজন, সেখানে মাইক ও মেগান নিজেদের নতুন জীবনের শুরুটাই করলেন হাজার হাজার ফুট ওপর থেকে একসঙ্গে ঝাঁপ দিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বামীর মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন ইন্টারভিউতে গিয়ে আইসের হাতে আটক হয়েছেন ২১ বছর বয়সী এক মা। কেনটাকির লুইসভিলে ১২ আগস্ট ঘটে এ ঘটনা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মার্কিন নাগরিক স্বামী এবং তাদের দেড় বছরেরও কম বয়সী শিশু সন্তান। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক নারীর নাম আর্মেল বন্ডোঙ্গা। তিনি মূলত ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর নাগরিক। ২০১৩ সালে শিশু বয়সে বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন তিনি।তার আইনজীবী আরিয়ানিত ওসমানি জানান, বন্ডোঙ্গা ও তার স্বামী টেরেন্স ব্র্যাডশ তাদের বিয়ের ভিত্তিতে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ঠিক করার চেষ্টা করছিলেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তারা নির্ধারিত ইন্টারভিউতে উপস্থিত হয়েছিলেন। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইন্টারভিউ শেষে বন্ডোঙ্গাকে আইসের হেফাজতে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষকে এড়িয়ে যাওয়ার পরিবর্তে বন্ডোঙ্গা নিজেই নিয়ম অনুযায়ী ইমিগ্রেশন ইন্টারভিউতে হাজির হয়েছিলেন। বন্ডোঙ্গার স্বামী মার্কিন নাগরিক। তাদের ছোট সন্তানও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। স্ত্রী আটক হওয়ার পর শিশুসন্তানের দেখাশোনাসহ পরিবারের দৈনন্দিন দায়িত্ব এখন একাই সামলাচ্ছেন ব্র্যাডশ।তবে আইস এই ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। সংস্থাটি নিউজউইককে জানিয়েছে, বন্ডোঙ্গা ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয় ২০১৪ সালের মার্চে। এরপর তিনি অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন। আইসের দাবি, ২০২৫ সালের নভেম্বরে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক বন্ডোঙ্গার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রিমুভাল অর্ডার দিয়েছিলেন। অর্থাৎ তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণের একটি কার্যকর আদেশ আগে থেকেই ছিল। এ কারণে ঘটনাটি শুধু একটি সাধারণ গ্রিন কার্ড ইন্টারভিউতে গিয়ে হঠাৎ আটকের বিষয় নয়। বন্ডোঙ্গার বিরুদ্ধে আগে থেকেই চূড়ান্ত রিমুভাল অর্ডার থাকার বিষয়টি মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই কোনো বিদেশি নাগরিক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ স্ট্যাটাস বা গ্রিন কার্ড পান না। ইউএসসিআইএসের নীতিমালায়ও বলা হয়েছে, পরিবারের সদস্যের করা ইমিগ্রেশন পিটিশন নিজে থেকে কোনো ব্যক্তিকে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস দেয় না এবং সেটি রিমুভাল কার্যক্রমও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে না। বন্ডোঙ্গার আইনজীবী অবশ্য তার আটকের পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্য, বন্ডোঙ্গা যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস আইনগতভাবে সমাধানের চেষ্টা করছিলেন এবং সেই উদ্দেশ্যেই স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে সরকারি ইন্টারভিউতে গিয়েছিলেন। কেনটাকির ডেমোক্র্যাট স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং ইমিগ্রেশন আইনজীবী নিমা কুলকার্নিও বন্ডোঙ্গার আটকের সমালোচনা করেছেন। তবে আইস বলছে, তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই বৈধ রিমুভাল অর্ডার ছিল এবং তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ঠিক করার চেষ্টা করছেন এমন পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে আগে কোনো রিমুভাল অর্ডার, ভিসা ওভারস্টে বা ইমিগ্রেশন কোর্টের মামলা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করা বা গ্রিন কার্ডের আবেদন চলমান থাকা নিজে থেকে আইসের আটক বা রিমুভাল ঠেকায় না।বন্ডোঙ্গা বর্তমানে ফেডারেল ইমিগ্রেশন হেফাজতে রয়েছেন। তার পরিবার ও আইনজীবীরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছেন।
নিউইয়র্কের রাস্তায় দুটি বড় গর্ত দেখে ভিডিও করেছিলেন এক বাসিন্দা। কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নয়, ভিডিওটি টিকটকে পোস্ট করে শুধু নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে ট্যাগ করেছিলেন তিনি। কয়েক ঘণ্টা পর কাজ শেষে একই জায়গায় ফিরে এসে দেখেন, রাস্তার দুটি গর্তই মেরামত হয়ে গেছে। ঘটনার সময়ের এমন মিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তার ভিডিও। ভাইরাল ভিডিওতে ওই নিউইয়র্কারকে কাজে যাওয়ার পথে রাস্তার দুটি গর্ত দেখাতে দেখা যায়। কেন সেগুলো এখনও মেরামত করা হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি ভিডিওতে মেয়র মামদানিকে ট্যাগ করেন।ভিডিওতে তিনি ৩১১-এর মাধ্যমে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছিলেন বলে উল্লেখ করেননি। নিউইয়র্কে রাস্তার গর্তসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা জানানোর সরকারি ব্যবস্থা হলো ৩১১।এরপর নিজের কাজের শিফট শেষ করে ওই ব্যক্তি আবার একই জায়গায় ফেরেন। সেখানে গিয়ে দেখেন, কয়েক ঘণ্টা আগে ভিডিও করা দুটি গর্তই নতুন করে ভরাট করা হয়েছে। দ্রুত মেরামত দেখে বিস্মিত ওই ব্যক্তির প্রতিক্রিয়াও ভিডিওতে ধরা পড়ে। তিনি বলেন, মামদানি যে এভাবে কাজ করেন, তা তিনি জানতেন না। এরপরই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে মেয়রকে টিকটকে ট্যাগ করার কারণেই গর্ত দুটি মেরামত হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনও ওই নির্দিষ্ট ভিডিও দেখে মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেনি। গর্ত দুটি আগে থেকেই ৩১১-এ রিপোর্ট করা হয়ে থাকতে পারে অথবা নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের নিয়মিত মেরামত সূচিতে থাকতে পারে। ফলে টিকটক পোস্ট এবং মেরামতের সময়ের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।তবে ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মামদানি প্রশাসন নিউইয়র্কের রাস্তার গর্ত মেরামতকে দৃশ্যমান নাগরিক সেবার অন্যতম উদাহরণ হিসেবে সামনে আনছে। নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মামদানির প্রশাসনের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই শহরজুড়ে এক লাখ গর্ত মেরামত করা হয়। গত ১১ বছরের মধ্যে বছরের প্রথম ১০০ দিনে এটিই ছিল সবচেয়ে দ্রুতগতির গর্ত মেরামতের কার্যক্রম। এপ্রিলের শুরুতে স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের অলিম্পিয়া বুলেভার্ডে শহরের এক লাখতম গর্ত মেরামতের কাজে নিজেও অংশ নেন মামদানি। এরপর ১০০তম দিনে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন জানায়, বছরের শুরু থেকে এক লাখ দুই হাজারের বেশি গর্ত মেরামত করা হয়েছে। শীতের তীব্র আবহাওয়ার পর রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বিশেষ অভিযানও চালিয়েছে সিটি। মার্চে টানা তিন শনিবার ৮০টি করে ডিওটি টিম ভোর থেকে রাস্তায় নামে। তিনটি বিশেষ অভিযানে যথাক্রমে ৭ হাজার ২০০, ৮ হাজার এবং ৭ হাজার ৬০০ গর্ত মেরামত করা হয়। মামদানি তার এই প্রশাসনিক দর্শনকে ‘পটহোল পলিটিক্স’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্য হলো, সরকার যদি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ছোট সমস্যাগুলো কার্যকরভাবে সমাধান করতে পারে, তাহলে বড় সমস্যার সমাধানেও মানুষের আস্থা অর্জন করা সম্ভব। ভাইরাল হওয়া ওই টিকটক ভিডিওর ক্ষেত্রে একটি প্রশ্নের উত্তর অবশ্য এখনও অজানা। মেয়রকে ট্যাগ করায় কি সত্যিই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গর্ত দুটি মেরামত হয়েছিল, নাকি এটি ছিল আগে থেকেই নির্ধারিত কাজ? এর নিশ্চিত উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে কাজে যাওয়ার সময় যে দুটি গর্ত ওই ব্যক্তি ক্যামেরায় দেখিয়েছিলেন, শিফট শেষে ফিরে এসে সেগুলো আর আগের অবস্থায় পাননি।
মাত্র সাত বছর বয়সে ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মাকে হারানো। এর তিন মাস পর দাদা-দাদির হাত ধরে পাড়ি যুক্তরাষ্ট্রে। ইংরেজি না জানা এক বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে নতুন জীবন শুরু। সেই শিশুই পরে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে, আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করেন এবং উচ্চশিক্ষার পথ ধরে মেডিকেল স্কুলে প্রবেশ করেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আহমেদ মনজুর নিজের জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রার কথা তুলে ধরেছেন এক ব্যক্তিগত লেখায়। নাটশেল টুডেতে ১৮ আগস্ট প্রকাশিত ‘দ্য মেকিং অব অ্যান আমেরিকান’ শিরোনামের লেখায় নিজের শৈশব, অভিবাসী জীবন, সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন এবং ২৫ বছর পর বাংলাদেশে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন সাবেক মার্কিন মেরিন আহমেদ মনজুর। তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় ২০০১ সালের ১২ জানুয়ারি। আহমেদ মনজুরের বর্ণনা অনুযায়ী, ঢাকায় রিকশায় যাওয়ার সময় একটি বাসের ধাক্কায় হিট অ্যান্ড রান দুর্ঘটনায় তার মা নিহত হন। তখন তার বয়স মাত্র সাত বছর। মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে থানায় গিয়ে মায়ের মরদেহ শনাক্ত করার সেই স্মৃতি এখনও তার মনে গেঁথে আছে। শৈশবের ওই অভিজ্ঞতাকেই নিজের জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়া ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে দ্রুত বাংলাদেশে আসেন তার দাদা-দাদি। পরিবারের সিদ্ধান্তে আহমেদকে তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে ভিসা আবেদনের পর তার ভিসা অনুমোদন হয়। জানুয়ারিতে মাকে হারানোর মাত্র কয়েক মাস পর, ২০০১ সালের এপ্রিলেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বিমানে ওঠেন। সেই যাত্রার সময় কেউ জানতেন না, বাংলাদেশে আবার পা রাখতে তার লেগে যাবে প্রায় ২৫ বছর।নিউইয়র্কে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। প্রায় ষাটের কাছাকাছি বয়সী দাদা-দাদিকে সাত বছরের নাতিকে নিয়ে নতুন করে জীবন গড়তে হয়। আহমেদ বড় হয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে। প্রথমে জ্যামাইকা এবং পরে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত এলাকা জ্যাকসন হাইটসে ছিল তার বসবাস। যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় ইংরেজি প্রায় জানতেন না বলে জানিয়েছেন আহমেদ। নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, স্কুলে নিজের জায়গা তৈরি করা এবং চারপাশের সংস্কৃতি বোঝা তার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। স্কুলজীবনে গ্যাং, সহিংসতা এবং মারামারির অভিজ্ঞতার কথাও লিখেছেন তিনি। এর মধ্যেই আসে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলা এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি। মুসলিম পরিবারের সন্তান হিসেবে ইসলামবিদ্বেষ ও বর্ণবাদী মন্তব্যের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতাও তার লেখায় উঠে এসেছে। তবে কুইন্সের বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ তার জীবনকে অন্যভাবেও সমৃদ্ধ করে। জ্যাকসন হাইটসের রাস্তায় বাংলা, স্প্যানিশ, হিন্দি, ম্যান্ডারিন, নেপালিসহ বিভিন্ন ভাষা শুনতে শুনতে বড় হয়েছেন তিনি। বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব তাকে আমেরিকার বৈচিত্র্যময় সমাজকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ দেয়। পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পান। কিন্তু এর সঙ্গে তৈরি হয় পরিচয়ের আরেক প্রশ্ন। ঘরের ভেতরে বাঙালি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ, আর বাইরে আমেরিকান সমাজ। এই দুই পরিচয়ের মধ্যে নিজের অবস্থান কোথায়, তা নিয়েও একসময় দ্বিধায় ছিলেন আহমেদ। জীবনের পরবর্তী বড় অধ্যায় শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে। মেরিনদের পোশাক প্রথমে তাকে আকৃষ্ট করলেও পরে বাহিনীর মূল্যবোধই তাকে সেখানে ধরে রাখে বলে জানিয়েছেন তিনি। বুটক্যাম্প এবং পরবর্তী সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ করে তিনি একজন ইনফ্যান্ট্রি মেরিন হিসেবে সেকেন্ড ব্যাটালিয়ন, এইটথ মেরিন রেজিমেন্টে যোগ দেন। ২০১৩ সালে সাত মাসের কমব্যাট ডিপ্লয়মেন্টে আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশের গারমসির জেলায় যান আহমেদ। অপারেশন এনডিউরিং ফ্রিডমের অংশ হিসেবে তার ইউনিট সেখানে কাউন্টারইনসার্জেন্সি অপারেশনে অংশ নেয় বলে নিজের লেখায় জানিয়েছেন তিনি। দুই বছর পর ২০১৫ সালে আবারও বিদেশে দায়িত্ব পালন করেন। এবার পূর্ব ইউরোপে ন্যাটো মিত্রদের প্রশিক্ষণের কাজে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন তিনি। মেরিন কোরে আহমেদ ছিলেন তার ইউনিটের একমাত্র বাঙালি আমেরিকান বলে জানিয়েছেন। সহকর্মীদের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ থাকলেও সে সময় নিজের জন্মভূমির সঙ্গে তার যোগাযোগ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।সহকর্মীদের কিছু বাংলা শব্দ শেখানো বা বাঙালি খাবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া ছাড়া বাংলাদেশ সম্পর্কে খুব বেশি কিছু বলতে পারতেন না বলে স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি। মেরিন কোর থেকে সম্মানজনকভাবে অবসর নেওয়ার পর উচ্চশিক্ষায় মন দেন আহমেদ। ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রির সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করলেও বাংলাদেশে ফেরা হয়নি। পরবর্তী সময়ে মেডিকেল স্কুলে ডক্টরেট পর্যায়ের পড়াশোনার সুযোগ পাওয়ার পর আবার বাংলাদেশে ফেরার কথা ভাবতে শুরু করেন তিনি। সামনে দীর্ঘ মেডিকেল শিক্ষা ও সার্জিক্যাল রেসিডেন্সির ব্যস্ততা থাকবে বুঝতে পেরে জন্মভূমিকে নতুন করে জানার সিদ্ধান্ত নেন। অবশেষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, প্রায় ২৫ বছর পর ঢাকায় ফিরে আসেন আহমেদ মনজুর। প্রায় এক মাস বাংলাদেশে অবস্থান করেন তিনি। এবারের বাংলাদেশ সফর তার কাছে শুধু একটি দেশ ঘুরে দেখা ছিল না। এত বছর ধরে যে পরিচয় থেকে নিজেকে অনেকটা দূরে রেখেছিলেন, সেই বাঙালি পরিচয়কেও নতুন করে আবিষ্কার করেন তিনি। আহমেদ লিখেছেন, দীর্ঘদিন তার ধারণা ছিল পুরোপুরি আমেরিকান হয়ে ওঠার জন্য বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে আসতে হবে। দুটি পরিচয় যেন একে অপরের বিপরীত। কিন্তু বাংলাদেশে ফিরে তার সেই ধারণা বদলে যায়। মাকে হারিয়ে সাত বছর বয়সে যে শিশুটি ঢাকা ছেড়েছিল, প্রায় আড়াই দশক পর সেই শহরেই ফিরে আসে একজন মার্কিন নাগরিক, সাবেক মেরিন এবং চিকিৎসাশিক্ষার পথে থাকা শিক্ষার্থী হিসেবে। আহমেদ মনজুরের কাছে এখন তার বাংলাদেশি ও আমেরিকান পরিচয় পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। বরং জীবনের একই গল্পের দুটি অংশ।
সৌদি আরবের স্কুল পাঠ্যবই থেকে ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না’ অর্থবোধক একটি বাক্য বাদ দেওয়া হয়েছে। দেশটির ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের পাঠ্য ক্রম পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে শিক্ষা বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ইমপ্যাক্ট-এসই। জেরুজালেম, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলকে সৌদি পাঠ্যবইয়ে কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেই পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই বিষয়টি সামনে এসেছে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের শেষ দিকে সৌদি আরবের নতুন পাঠ্যক্রম নিয়ে পর্যালোচনা প্রকাশ করে ইমপ্যাক্ট-এসই। সংস্থাটি সৌদি পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, নতুন পাঠ্যক্রমে শান্তি, সহাবস্থান ও ধর্মীয় সহনশীলতার ওপর আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে জেরুজালেম সম্পর্কিত ওই বাক্যটি। এর আগে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের আরবি ভাষার একটি পাঠ্যবইয়ের লেখার অনুশীলনে ছিল, ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না।’ ইমপ্যাক্ট-এসইর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পর্যালোচনাতেও বাক্যটির উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সংস্থাটির ব্যাখ্যায়, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে জেরুজালেমে মুসলিমদের উপস্থিতি বা নিয়ন্ত্রণ হুমকির মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে জেরুজালেমকে মুসলিম ও অন্য গোষ্ঠী, বিশেষ করে ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের একটি ক্ষেত্র হিসেবেও এটি উপস্থাপন করতে পারে বলে মনে করে সংস্থাটি। ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ পর্যালোচনায় ইমপ্যাক্ট-এসই বলেছে, সৌদি আরবের ২০২৪-২৬ সালের পাঠ্যক্রমে শান্তি, সহাবস্থান ও সমালোচনামূলক চিন্তার ওপর জোর বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, নারী এবং অন্যান্য সম্প্রদায় সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়েও ভাষা পরিবর্তন করা হয়েছে। এই পরিবর্তন অবশ্য হঠাৎ শুরু হয়নি। গত কয়েক বছর ধরেই সৌদি আরবের পাঠ্যবইয়ে ইসরায়েল, ইহুদি, খ্রিস্টান, জিহাদ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী সম্পর্কিত বক্তব্যে ধারাবাহিক পরিবর্তনের তথ্য দিয়ে আসছে ইমপ্যাক্ট-এসই। সংস্থাটির ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পর্যালোচনায় ৩৭১টি সৌদি পাঠ্যবই বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, আগের কিছু বইয়ে জায়নবাদকে ‘বর্ণবাদী’ ইউরোপীয় আন্দোলন হিসেবে উপস্থাপন এবং ফিলিস্তিনিদের বিতাড়নের লক্ষ্য থাকার মতো যেসব বক্তব্য ছিল, সেগুলোর কিছু পরবর্তী সংস্করণে আর রাখা হয়নি।সহিংস জিহাদ ও শাহাদাতকে উৎসাহিত করে বলে সংস্থাটি যেসব উদাহরণ চিহ্নিত করেছিল, সেগুলোরও অনেকগুলো বাদ দেওয়া বা পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সৌদি পাঠ্যক্রম থেকে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন বা ইসরায়েলি দখলদারিত্বের উল্লেখ পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগের পর্যালোচনায় ইমপ্যাক্ট-এসই নিজেই জানিয়েছিল, সৌদি পাঠ্যক্রমে ফিলিস্তিনি ইস্যুর গুরুত্ব এখনও রয়েছে। কিছু পাঠ্যবইয়ে ইসরায়েলকে ‘ইসরায়েলি দখলদার’ বা ‘দখলদার বাহিনী’ হিসেবে উল্লেখও বহাল ছিল। সৌদি আরব এখনো ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেনি। একই সঙ্গে রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছে। ফলে পাঠ্যবইয়ের এসব পরিবর্তনকে সরাসরি সৌদি আরবের ইসরায়েল নীতির পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না’ বাক্যটি কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। বাক্যটির পরিবর্তন নিয়ে যে মূল্যায়ন সামনে এসেছে, সেটি মূলত ইমপ্যাক্ট-এসইর নিজস্ব পাঠ্যক্রম বিশ্লেষণ। ফলে সৌদি পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তনটি নিশ্চিত হলেও এর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। তবে গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক পরিবর্তন থেকে স্পষ্ট, ধর্মীয় শিক্ষা, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত এবং অন্য ধর্ম ও জনগোষ্ঠীকে নতুন প্রজন্মের কাছে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, সে ক্ষেত্রে সৌদি আরব তার স্কুল পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস চালিয়ে যাচ্ছে।