- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
মাত্র সাত বছর বয়সে ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মাকে হারানো। এর তিন মাস পর দাদা-দাদির হাত ধরে পাড়ি যুক্তরাষ্ট্রে। ইংরেজি না জানা এক বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে নতুন জীবন শুরু। সেই শিশুই পরে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে, আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করেন এবং উচ্চশিক্ষার পথ ধরে মেডিকেল স্কুলে প্রবেশ করেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আহমেদ মনজুর নিজের জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রার কথা তুলে ধরেছেন এক ব্যক্তিগত লেখায়। নাটশেল টুডেতে ১৮ আগস্ট প্রকাশিত ‘দ্য মেকিং অব অ্যান আমেরিকান’ শিরোনামের লেখায় নিজের শৈশব, অভিবাসী জীবন, সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন এবং ২৫ বছর পর বাংলাদেশে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন সাবেক মার্কিন মেরিন আহমেদ মনজুর। তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় ২০০১ সালের ১২ জানুয়ারি। আহমেদ মনজুরের বর্ণনা অনুযায়ী, ঢাকায় রিকশায় যাওয়ার সময় একটি বাসের ধাক্কায় হিট অ্যান্ড রান দুর্ঘটনায় তার মা নিহত হন। তখন তার বয়স মাত্র সাত বছর। মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে থানায় গিয়ে মায়ের মরদেহ শনাক্ত করার সেই স্মৃতি এখনও তার মনে গেঁথে আছে। শৈশবের ওই অভিজ্ঞতাকেই নিজের জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়া ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে দ্রুত বাংলাদেশে আসেন তার দাদা-দাদি। পরিবারের সিদ্ধান্তে আহমেদকে তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে ভিসা আবেদনের পর তার ভিসা অনুমোদন হয়। জানুয়ারিতে মাকে হারানোর মাত্র কয়েক মাস পর, ২০০১ সালের এপ্রিলেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বিমানে ওঠেন। সেই যাত্রার সময় কেউ জানতেন না, বাংলাদেশে আবার পা রাখতে তার লেগে যাবে প্রায় ২৫ বছর।নিউইয়র্কে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। প্রায় ষাটের কাছাকাছি বয়সী দাদা-দাদিকে সাত বছরের নাতিকে নিয়ে নতুন করে জীবন গড়তে হয়। আহমেদ বড় হয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে। প্রথমে জ্যামাইকা এবং পরে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত এলাকা জ্যাকসন হাইটসে ছিল তার বসবাস। যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় ইংরেজি প্রায় জানতেন না বলে জানিয়েছেন আহমেদ। নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, স্কুলে নিজের জায়গা তৈরি করা এবং চারপাশের সংস্কৃতি বোঝা তার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। স্কুলজীবনে গ্যাং, সহিংসতা এবং মারামারির অভিজ্ঞতার কথাও লিখেছেন তিনি। এর মধ্যেই আসে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলা এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি। মুসলিম পরিবারের সন্তান হিসেবে ইসলামবিদ্বেষ ও বর্ণবাদী মন্তব্যের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতাও তার লেখায় উঠে এসেছে। তবে কুইন্সের বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ তার জীবনকে অন্যভাবেও সমৃদ্ধ করে। জ্যাকসন হাইটসের রাস্তায় বাংলা, স্প্যানিশ, হিন্দি, ম্যান্ডারিন, নেপালিসহ বিভিন্ন ভাষা শুনতে শুনতে বড় হয়েছেন তিনি। বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব তাকে আমেরিকার বৈচিত্র্যময় সমাজকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ দেয়। পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পান। কিন্তু এর সঙ্গে তৈরি হয় পরিচয়ের আরেক প্রশ্ন। ঘরের ভেতরে বাঙালি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ, আর বাইরে আমেরিকান সমাজ। এই দুই পরিচয়ের মধ্যে নিজের অবস্থান কোথায়, তা নিয়েও একসময় দ্বিধায় ছিলেন আহমেদ। জীবনের পরবর্তী বড় অধ্যায় শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে। মেরিনদের পোশাক প্রথমে তাকে আকৃষ্ট করলেও পরে বাহিনীর মূল্যবোধই তাকে সেখানে ধরে রাখে বলে জানিয়েছেন তিনি। বুটক্যাম্প এবং পরবর্তী সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ করে তিনি একজন ইনফ্যান্ট্রি মেরিন হিসেবে সেকেন্ড ব্যাটালিয়ন, এইটথ মেরিন রেজিমেন্টে যোগ দেন। ২০১৩ সালে সাত মাসের কমব্যাট ডিপ্লয়মেন্টে আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশের গারমসির জেলায় যান আহমেদ। অপারেশন এনডিউরিং ফ্রিডমের অংশ হিসেবে তার ইউনিট সেখানে কাউন্টারইনসার্জেন্সি অপারেশনে অংশ নেয় বলে নিজের লেখায় জানিয়েছেন তিনি। দুই বছর পর ২০১৫ সালে আবারও বিদেশে দায়িত্ব পালন করেন। এবার পূর্ব ইউরোপে ন্যাটো মিত্রদের প্রশিক্ষণের কাজে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন তিনি। মেরিন কোরে আহমেদ ছিলেন তার ইউনিটের একমাত্র বাঙালি আমেরিকান বলে জানিয়েছেন। সহকর্মীদের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ থাকলেও সে সময় নিজের জন্মভূমির সঙ্গে তার যোগাযোগ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।সহকর্মীদের কিছু বাংলা শব্দ শেখানো বা বাঙালি খাবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া ছাড়া বাংলাদেশ সম্পর্কে খুব বেশি কিছু বলতে পারতেন না বলে স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি। মেরিন কোর থেকে সম্মানজনকভাবে অবসর নেওয়ার পর উচ্চশিক্ষায় মন দেন আহমেদ। ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রির সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করলেও বাংলাদেশে ফেরা হয়নি। পরবর্তী সময়ে মেডিকেল স্কুলে ডক্টরেট পর্যায়ের পড়াশোনার সুযোগ পাওয়ার পর আবার বাংলাদেশে ফেরার কথা ভাবতে শুরু করেন তিনি। সামনে দীর্ঘ মেডিকেল শিক্ষা ও সার্জিক্যাল রেসিডেন্সির ব্যস্ততা থাকবে বুঝতে পেরে জন্মভূমিকে নতুন করে জানার সিদ্ধান্ত নেন। অবশেষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, প্রায় ২৫ বছর পর ঢাকায় ফিরে আসেন আহমেদ মনজুর। প্রায় এক মাস বাংলাদেশে অবস্থান করেন তিনি। এবারের বাংলাদেশ সফর তার কাছে শুধু একটি দেশ ঘুরে দেখা ছিল না। এত বছর ধরে যে পরিচয় থেকে নিজেকে অনেকটা দূরে রেখেছিলেন, সেই বাঙালি পরিচয়কেও নতুন করে আবিষ্কার করেন তিনি। আহমেদ লিখেছেন, দীর্ঘদিন তার ধারণা ছিল পুরোপুরি আমেরিকান হয়ে ওঠার জন্য বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে আসতে হবে। দুটি পরিচয় যেন একে অপরের বিপরীত। কিন্তু বাংলাদেশে ফিরে তার সেই ধারণা বদলে যায়। মাকে হারিয়ে সাত বছর বয়সে যে শিশুটি ঢাকা ছেড়েছিল, প্রায় আড়াই দশক পর সেই শহরেই ফিরে আসে একজন মার্কিন নাগরিক, সাবেক মেরিন এবং চিকিৎসাশিক্ষার পথে থাকা শিক্ষার্থী হিসেবে। আহমেদ মনজুরের কাছে এখন তার বাংলাদেশি ও আমেরিকান পরিচয় পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। বরং জীবনের একই গল্পের দুটি অংশ।
সৌদি আরবের স্কুল পাঠ্যবই থেকে ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না’ অর্থবোধক একটি বাক্য বাদ দেওয়া হয়েছে। দেশটির ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের পাঠ্য ক্রম পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে শিক্ষা বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ইমপ্যাক্ট-এসই। জেরুজালেম, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলকে সৌদি পাঠ্যবইয়ে কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেই পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই বিষয়টি সামনে এসেছে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের শেষ দিকে সৌদি আরবের নতুন পাঠ্যক্রম নিয়ে পর্যালোচনা প্রকাশ করে ইমপ্যাক্ট-এসই। সংস্থাটি সৌদি পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, নতুন পাঠ্যক্রমে শান্তি, সহাবস্থান ও ধর্মীয় সহনশীলতার ওপর আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে জেরুজালেম সম্পর্কিত ওই বাক্যটি। এর আগে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের আরবি ভাষার একটি পাঠ্যবইয়ের লেখার অনুশীলনে ছিল, ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না।’ ইমপ্যাক্ট-এসইর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পর্যালোচনাতেও বাক্যটির উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সংস্থাটির ব্যাখ্যায়, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে জেরুজালেমে মুসলিমদের উপস্থিতি বা নিয়ন্ত্রণ হুমকির মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে জেরুজালেমকে মুসলিম ও অন্য গোষ্ঠী, বিশেষ করে ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের একটি ক্ষেত্র হিসেবেও এটি উপস্থাপন করতে পারে বলে মনে করে সংস্থাটি। ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ পর্যালোচনায় ইমপ্যাক্ট-এসই বলেছে, সৌদি আরবের ২০২৪-২৬ সালের পাঠ্যক্রমে শান্তি, সহাবস্থান ও সমালোচনামূলক চিন্তার ওপর জোর বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, নারী এবং অন্যান্য সম্প্রদায় সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়েও ভাষা পরিবর্তন করা হয়েছে। এই পরিবর্তন অবশ্য হঠাৎ শুরু হয়নি। গত কয়েক বছর ধরেই সৌদি আরবের পাঠ্যবইয়ে ইসরায়েল, ইহুদি, খ্রিস্টান, জিহাদ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী সম্পর্কিত বক্তব্যে ধারাবাহিক পরিবর্তনের তথ্য দিয়ে আসছে ইমপ্যাক্ট-এসই। সংস্থাটির ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পর্যালোচনায় ৩৭১টি সৌদি পাঠ্যবই বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, আগের কিছু বইয়ে জায়নবাদকে ‘বর্ণবাদী’ ইউরোপীয় আন্দোলন হিসেবে উপস্থাপন এবং ফিলিস্তিনিদের বিতাড়নের লক্ষ্য থাকার মতো যেসব বক্তব্য ছিল, সেগুলোর কিছু পরবর্তী সংস্করণে আর রাখা হয়নি।সহিংস জিহাদ ও শাহাদাতকে উৎসাহিত করে বলে সংস্থাটি যেসব উদাহরণ চিহ্নিত করেছিল, সেগুলোরও অনেকগুলো বাদ দেওয়া বা পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সৌদি পাঠ্যক্রম থেকে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন বা ইসরায়েলি দখলদারিত্বের উল্লেখ পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগের পর্যালোচনায় ইমপ্যাক্ট-এসই নিজেই জানিয়েছিল, সৌদি পাঠ্যক্রমে ফিলিস্তিনি ইস্যুর গুরুত্ব এখনও রয়েছে। কিছু পাঠ্যবইয়ে ইসরায়েলকে ‘ইসরায়েলি দখলদার’ বা ‘দখলদার বাহিনী’ হিসেবে উল্লেখও বহাল ছিল। সৌদি আরব এখনো ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেনি। একই সঙ্গে রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছে। ফলে পাঠ্যবইয়ের এসব পরিবর্তনকে সরাসরি সৌদি আরবের ইসরায়েল নীতির পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না’ বাক্যটি কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। বাক্যটির পরিবর্তন নিয়ে যে মূল্যায়ন সামনে এসেছে, সেটি মূলত ইমপ্যাক্ট-এসইর নিজস্ব পাঠ্যক্রম বিশ্লেষণ। ফলে সৌদি পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তনটি নিশ্চিত হলেও এর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। তবে গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক পরিবর্তন থেকে স্পষ্ট, ধর্মীয় শিক্ষা, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত এবং অন্য ধর্ম ও জনগোষ্ঠীকে নতুন প্রজন্মের কাছে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, সে ক্ষেত্রে সৌদি আরব তার স্কুল পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গির্জা ও উপাসনালয়ে অভিবাসন অভিযান পরিচালনায় ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ সীমা বহাল রেখেছে একটি ফেডারেল আপিল আদালত। চতুর্থ সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারকের বেঞ্চ মঙ্গলবার নিম্ন আদালতের দেওয়া প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। এর ফলে মামলার সঙ্গে যুক্ত আটটি উপাসনালয়ে আইসসহ ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৫ সালের শিথিল নীতির ভিত্তিতে অভিযান চালাতে পারবেন না। তবে এই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের সব গির্জা, মসজিদ, মন্দির বা অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আইসের অভিযান নিষিদ্ধ হয়ে গেছে - বিষয়টি এমন নয়। আদালতের আদেশটি নির্দিষ্টভাবে মামলার বাদী আটটি উপাসনালয় ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ফলে অন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আইসের অভিযান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করার মতো দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা এটি নয়। মামলার বাদীদের মধ্যে রয়েছে কোয়েকার, শিখ এবং কো-অপারেটিভ ব্যাপটিস্ট ফেলোশিপ ধারার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। তাদের যুক্তি ছিল, উপাসনালয়ে বা এর আশপাশে আইসের অভিযান চালানোর আশঙ্কা তৈরি হলে অভিবাসীরা ভয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আসা বন্ধ করতে পারেন। এতে শুধু অভিবাসীদের ধর্ম পালনের সুযোগ নয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব সেবা ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিতর্কটির সূত্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের একেবারে শুরুতে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন বাইডেন আমলের একটি নীতি বাতিল করে। আগের নীতিতে গির্জা, স্কুলসহ বিভিন্ন ‘সুরক্ষিত এলাকা’য় অভিবাসন অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে আইস ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের ওপর বিশেষ বিধিনিষেধ ছিল। সেই সুরক্ষা প্রত্যাহারের পর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও অভিবাসন অভিযান চালানোর সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ট্রাম্প প্রশাসন তখন যুক্তি দিয়েছিল, অপরাধীরা শুধু গির্জা বা স্কুলে প্রবেশ করে গ্রেপ্তার এড়াতে পারবে না। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন মুখপাত্র ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বলেছিলেন, মানুষ যাতে গ্রেপ্তার এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল ও গির্জায় লুকিয়ে থাকতে না পারে, নতুন নীতির মাধ্যমে সেটি নিশ্চিত করা হবে। আপিল আদালত এই বক্তব্যকেই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আশঙ্কা বাস্তব হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করেছে। মামলাটি প্রথমে মেরিল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে যায়। সেখানকার বিচারক থিওডোর চুয়াং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা দেন। তার আদেশের ফলে মামলার বাদী প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিবাসন অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে সরকারকে আগের সুরক্ষামূলক নীতির কাছাকাছি বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। ট্রাম্প প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলে বিষয়টি চতুর্থ সার্কিট আপিল আদালতে পৌঁছায়। আপিল আদালতের তিন বিচারকের বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রেখেছে। মূল মতামত লিখেছেন সার্কিট বিচারক বারবারা মিলানো কিনান। তার সঙ্গে একমত হয়েছেন বিচারক পামেলা হ্যারিস এবং জি. স্টিভেন এজি। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বেঞ্চটিতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান - উভয় দলের প্রেসিডেন্টের নিয়োগ দেওয়া বিচারক ছিলেন। আদালতের মূল বিবেচনায় এসেছে ১৯৯৩ সালের ‘রিলিজিয়াস ফ্রিডম রেস্টোরেশন অ্যাক্ট’। এই ফেডারেল আইন অনুযায়ী, সরকারের কোনো পদক্ষেপ যদি ধর্মীয় অনুশীলনের ওপর উল্লেখযোগ্য বোঝা তৈরি করে, তাহলে সরকারকে তার পদক্ষেপের পক্ষে কঠোর আইনি মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। আপিল আদালতের মতে, বাদী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই আইনের অধীনে তাদের দাবিতে সফল হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখিয়েছে। বিচারক কিনান বলেছেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ভবিষ্যতে উপাসনালয়ে অভিবাসন অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা স্পষ্ট করেছে। যেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অভিবাসীদের স্বাগত জানায় এবং অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় কাজ করে, তাদের ক্ষেত্রে এমন অভিযানের হুমকি বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে মানুষ উপাসনায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ধর্মীয় কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য আদালতে ভিন্ন যুক্তি দিয়েছিল। সরকারের বক্তব্য ছিল, নতুন নীতি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রার্থনা, উপাসনা বা অন্যান্য সেবা পরিচালনা করতে বাধা দেয় না। শুধু অভিবাসন অভিযান হওয়ার সম্ভাবনার কারণে মানুষ উপাসনালয়ে আসা বন্ধ করবে - এমন সম্পর্কও বাদীরা যথেষ্টভাবে প্রমাণ করতে পারেনি বলে দাবি করেছিল প্রশাসন। রায়ের পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, আইস উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে অভিযান চালায় না। তবে কোনো বিপজ্জনক অপরাধী গ্রেপ্তার এড়াতে উপাসনালয়ে প্রবেশ করলে জননিরাপত্তা রক্ষার প্রয়োজনে সেখানে গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও জানিয়েছে বিভাগটি। অর্থাৎ আদালতের রায়ের পরও সরকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের অভিবাসন আইন প্রয়োগ বন্ধ করার অবস্থান নেয়নি। বাদীদের প্রতিনিধিত্বকারী ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ড রায়কে ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে দেখছে। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট স্কাই পেরিম্যানের বক্তব্য, ধর্মীয় স্বাধীনতা কোনো শর্তসাপেক্ষ অধিকার নয় এবং মানুষ গির্জা, মিটিং হাউস, মন্দির বা অন্য কোনো উপাসনালয়ে একত্রিত হলেও সেই স্বাধীনতা তাদের সুরক্ষা দেয়। বাংলাদেশিসহ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী কমিউনিটির জন্য এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রায়টির সীমা বুঝে নেওয়া। কোনো ব্যক্তি গির্জা, মসজিদ বা অন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গেলেই তিনি আইসের গ্রেপ্তার থেকে স্বয়ংক্রিয় আইনি সুরক্ষা পাবেন - এই রায় এমন কোনো অধিকার তৈরি করেনি। বর্তমান আদেশ সরাসরি মামলার সঙ্গে যুক্ত আটটি উপাসনালয়কে সুরক্ষা দিচ্ছে এবং বৃহত্তর মামলাটির বিচার এখনো শেষ হয়নি। আপিল আদালত এই পর্যায়ে মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে বাদীদের আলাদা দাবির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও দেয়নি। আদালত মূলত ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার আইনের ভিত্তিতে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৫ সালের নীতি শেষ পর্যন্ত আইনসঙ্গত কি না, সেই বৃহত্তর আইনি লড়াই এখনো চলবে। রায়টি তাই একদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযানের জন্য একটি আইনি ধাক্কা, অন্যদিকে এর পরিধিও সীমিত। আপাতত আটটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আগের সুরক্ষা বহাল থাকছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সব উপাসনালয়ে আইসের অভিযান বন্ধ হয়নি। মামলাটি পরবর্তী ধাপে এগোলে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষমতার সীমা নিয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডিং নিয়ে পিএইচডি করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন পিএইচডি প্রোগ্রামে যোগ্য শিক্ষার্থীরা গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে টিউশন ওয়েভার, নিয়মিত স্টাইপেন্ড এবং শিক্ষার্থীর হেলথ ইন্স্যুরেন্স পেতে পারেন। তবে সব বিভাগে একই ধরনের ফান্ডিং নিশ্চিত নয় এবং পরিবারকে সঙ্গে নিলে তাদের সব খরচ বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে, এমন দাবিও সঠিক নয়। ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমার ২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য ৫০ শতাংশ এফটিই গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যূনতম বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে বছরে ২৩ হাজার ৯৩৪ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিভাগ ও ফান্ডিং প্যাকেজ অনুযায়ী প্রকৃত স্টাইপেন্ডের পরিমাণ এর চেয়ে ভিন্ন হতে পারে। ফুল ফান্ডিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলোর একটি হলো টিউশন ওয়েভার। যোগ্য গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টরা ডিগ্রির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রেডিট আওয়ার পর্যন্ত টিউশন মওকুফের সুবিধা পেতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফি, আবাসন, খাবার, বই, যাতায়াত এবং ব্যক্তিগত খরচ সব ক্ষেত্রে এই ফান্ডিংয়ের আওতায় পড়ে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ফান্ডিংয়ের ধরনও আলাদা। যেমন, ফিলোসফি বিভাগের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের তথ্য অনুযায়ী, পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া সব শিক্ষার্থীকে সাধারণত গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দেওয়া হয়। সেখানে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের বার্ষিক স্টাইপেন্ড ২১ হাজার ২১৮ ডলার। অন্যদিকে পলিটিক্যাল সায়েন্সসহ কিছু প্রোগ্রামে আলাদা ফান্ডিং প্যাকেজ এবং বহু বছরের আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে। ইকোনমিকস বিভাগে নিয়মিত ফাইন্যান্সিয়াল এইড প্যাকেজ পাওয়া পিএইচডি শিক্ষার্থীরা সাধারণত চার থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পেতে পারেন। এতে স্টাইপেন্ড, ব্যক্তিগত হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং ডিগ্রির জন্য প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ ৯০ ক্রেডিট আওয়ার পর্যন্ত টিউশন ওয়েভারের ব্যবস্থা রয়েছে।সমাজবিজ্ঞান বিভাগও অধিকাংশ পিএইচডি শিক্ষার্থীকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফান্ডিং দেওয়ার লক্ষ্য রাখে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড নয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ফাইন্যান্সিয়াল এইডের যোগ্য না হলেও সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগ থেকে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পেতে পারেন। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও যোগ্যতা ও বিভাগের শর্ত পূরণ করলে এসব ফান্ডেড পিএইচডি পজিশনের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী তার স্ত্রী বা স্বামী এবং যোগ্য সন্তানদের ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে সঙ্গে নেওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আবেদন ও ইমিগ্রেশন ডকুমেন্টেশনের অংশ হিসেবে পাসপোর্ট, বিয়ের সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নিজের ও ডিপেন্ডেন্টদের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হতে পারে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন। ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমা যোগ্য গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টের নিজের স্টুডেন্ট হেলথ প্ল্যানের প্রিমিয়াম বহন করে। স্ত্রী, স্বামী বা সন্তানকে একই হেলথ প্ল্যানে যুক্ত করার সুযোগ থাকলেও তাদের অতিরিক্ত প্রিমিয়াম শিক্ষার্থীকেই দিতে হয়। অর্থাৎ ‘আবেদনকারীসহ পুরো পরিবারের জন্য ফুল ফান্ডিং’ বললে বিষয়টি বিভ্রান্তিকর হতে পারে। আবেদনের নিয়মও বিভাগভেদে আলাদা। সাধারণভাবে অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, ডিগ্রি সার্টিফিকেট, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের চাওয়া অতিরিক্ত ডকুমেন্ট জমা দিতে হয়। বিভাগ অনুযায়ী স্টেটমেন্ট অব পারপাস, সিভি, রেকমেন্ডেশন লেটার, রাইটিং স্যাম্পল কিংবা জিআরই স্কোরও প্রয়োজন হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমায় পিএইচডিতে ভর্তি হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যেক শিক্ষার্থী ফুল ফান্ডিং পাবেন না। কোন বিভাগে কত বছরের ফান্ডিং, কত স্টাইপেন্ড, টিউশনের কত অংশ মওকুফ এবং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের শর্ত কী, তা প্রোগ্রামভেদে পরিবর্তিত হয়। তাই আবেদন করার আগে নিজের পছন্দের পিএইচডি প্রোগ্রামের বর্তমান ফান্ডিং প্যাকেজ, ডেডলাইন এবং অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট যাচাই করেই আবেদন করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী, এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের বৈধভাবে থাকার নিয়মে বড় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালতে নিয়েছে উচ্চশিক্ষা, শ্রমিক ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর একটি জোট। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন নিয়ম আটকে দিতে মঙ্গলবার ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল আদালতে মামলা এবং প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়েছে। মামলাটি করেছে মোট আটটি সংগঠন। এগুলো হলো - নাফসা: অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস, প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন, অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিপেনডেন্ট কলেজেস অ্যান্ড ইউনিভার্সিটিজ ইন ম্যাসাচুসেটস, আমেরিকান ফেডারেশন অব টিচার্স, গ্র্যাজুয়েট লেবার অর্গানাইজেশন এএফটি লোকাল ৬৫১৬, ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স, ইউএডব্লিউ লোকাল ২৩২২ এবং সাংবাদিকদের সংগঠন দ্য নিউজগিল্ড-সিডব্লিউএ। মামলাটি হচ্ছে ‘প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন বনাম ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’। ১৮ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে ৮১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই সেটি সাময়িকভাবে আটকে দিতে আদালতের কাছে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে বাদীপক্ষ। নতুন নিয়মের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময়সীমা নিয়ে। বর্তমানে অধিকাংশ এফ-১ শিক্ষার্থী ও জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থায় থাকেন। অর্থাৎ নির্ধারিত শিক্ষাগত বা বিনিময় কর্মসূচির শর্ত ঠিকভাবে মেনে চললে তাদের আই-৯৪ রেকর্ডে আলাদা নির্দিষ্ট শেষ তারিখ না রেখেই বৈধভাবে অবস্থানের সুযোগ থাকে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়মে এই দীর্ঘদিনের ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হবে। এফ-১ শিক্ষার্থী ও জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটরদের তাদের কর্মসূচির মেয়াদ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে, তবে একবারে সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত। অর্থাৎ চার বছরের কম সময়ের প্রোগ্রাম হলে সেই প্রোগ্রামের নির্ধারিত সময়ই প্রযোজ্য হতে পারে, আর চার বছরের বেশি হলে প্রাথমিক অনুমোদন চার বছরের বেশি হবে না। কোনো শিক্ষার্থীর ডিগ্রি বা গবেষণা শেষ করতে অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হলে তাকে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হবে। মামলার নথি অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত আবেদন, ফি এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী বায়োমেট্রিক তথ্য বা সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন হতে পারে। বাদীপক্ষের আশঙ্কা, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি পিএইচডি ও গবেষণা কর্মসূচিতে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীরা এতে বড় অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পিএইচডি প্রোগ্রাম শেষ করতে চার বছরের বেশি সময় লাগে - কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাধারণত ছয় থেকে সাত বছরও প্রয়োজন হয়। চার বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রিও অনেক শিক্ষার্থীর নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় নিতে পারে। ফলে বাদীপক্ষের দাবি, শিক্ষার্থী বৈধভাবে পড়াশোনা চালিয়ে গেলেও নতুন ব্যবস্থায় তাকে আলাদাভাবে থাকার মেয়াদ বাড়ানোর সরকারি অনুমোদনের ওপর নির্ভর করতে হবে। এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ - নতুন নিয়মটি শুধু পাসপোর্টে থাকা ‘ভিসা স্ট্যাম্পের মেয়াদ’ চার বছরে সীমাবদ্ধ করার বিষয় নয়। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর একজন এফ, জে বা আই স্ট্যাটাসধারী কতদিন বৈধভাবে অবস্থানের অনুমতি পাবেন - সেই ‘পিরিয়ড অব অ্যাডমিশন’ বা অনুমোদিত অবস্থানের সময়সীমা নিয়ে। ফলে ভিসার মেয়াদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত অবস্থানের সময়কে একই বিষয় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের আই স্ট্যাটাসে সাধারণভাবে একটি অ্যাসাইনমেন্টের মেয়াদ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৪০ দিনের জন্য থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে তাদেরও মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।চীনা পাসপোর্টধারী নির্দিষ্ট সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সময়সীমা ৯০ দিন রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু সময়সীমাই পরিবর্তন হচ্ছে না। নতুন নিয়মে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন, শিক্ষার লক্ষ্য পরিবর্তন এবং পরবর্তী শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ রয়েছে। বাদী সংগঠনগুলোর দাবি, এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক একাডেমিক সিদ্ধান্তের ওপর অভিবাসন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ বাড়বে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক চাপও বৃদ্ধি পাবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ গত বছরের আগস্টে প্রথম এই পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয়। প্রায় ২২ হাজার জনমত পাওয়ার পর চলতি বছরের ১৭ জুলাই চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘদিনের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থা তুলে দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের অনুমোদন চালুর পক্ষে প্রশাসনের যুক্তি হলো - এর মাধ্যমে বিদেশিদের অবস্থান ও অভিবাসন আইন মেনে চলার বিষয়টি নিয়মিতভাবে পর্যালোচনার সুযোগ বাড়বে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ মামলার বিরোধিতা করে জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থা ভিসা জালিয়াতি ঠেকানো এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় তদারকি জোরদারের জন্য প্রয়োজন। অন্যদিকে মামলাকারীদের দাবি, সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে এই নিয়ম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও সাংবাদিকদের ওপর নতুন প্রশাসনিক বোঝা তৈরি করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক মেধাবীদের আসার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। সাংবাদিকদের সংগঠন দ্য নিউজগিল্ড-সিডব্লিউএও বিষয়টিকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত করেছে। সংগঠনটি বলছে, বিদেশি সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সক্ষমতা যদি বারবার সরকারের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে সেটি সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই কারণেই উচ্চশিক্ষা ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি সাংবাদিকদের সংগঠনটিও মামলার বাদী হয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও এই মামলার ফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নিয়ম কোনো একটি দেশের জন্য নয় - এফ-১ স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর সাধারণভাবে প্রযোজ্য। ফলে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থী এবং ইতোমধ্যে সেখানে থাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরাও নিয়মটির আওতায় পড়তে পারেন। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি পিএইচডি, গবেষণা বা একাধিক পর্যায়ের উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা থাকলে পরিবর্তনটির প্রভাব বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এখনই বিদেশি শিক্ষার্থীদের বর্তমান বৈধ অবস্থান বাতিল হচ্ছে না। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর। তার আগেই মামলাকারীরা আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। ফলে আদালত প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা দেয় কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিষেধাজ্ঞা এলে নতুন ব্যবস্থা অন্তত সাময়িকভাবে আটকে যেতে পারে। সব মিলিয়ে মামলাটি এখন শুধু একটি অভিবাসন বিধির আইনি লড়াই নয় - যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আসা বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গেও সরাসরি জড়িয়ে গেছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে নির্দিষ্ট সময়সীমা অভিবাসন ব্যবস্থায় নজরদারি শক্তিশালী করবে, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আট সংগঠন বলছে এতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক মেধা আকর্ষণের সক্ষমতাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখন চূড়ান্ত নজর ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল আদালতের দিকে।
গাজায় যুদ্ধ বন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে মধ্যপ্রাচ্যে দুই দিনের কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েও কোনো বড় অগ্রগতি ছাড়াই ফিরেছেন তার বিশেষ দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। হামাস ও ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করলেও মূল বিরোধের সমাধান হয়নি। এর একদিন পরই গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। গাজার পশ্চিমাঞ্চলীয় সমুদ্রবন্দর এলাকায় মঙ্গলবার এই বিমান হামলা চালানো হয়। যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত বহু মানুষ এলাকাটিকে অস্থায়ী আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করছেন। স্থানীয় চিকিৎসা কর্মকর্তাদের হিসাবে, হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের কয়েকজন কমান্ডার। তাদের দাবি, লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিরা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং নতুন হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে এই দাবির পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি ইসরায়েলি বাহিনী। হামাসও তাদের কোনো কমান্ডার নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। এই হামলার মাত্র একদিন আগেই গাজা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফর শেষ করেন জ্যারেড কুশনার। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ খুঁজতে প্রথমে মিসরে হামাসের রাজনৈতিক নেতা খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে বিরল সরাসরি বৈঠক করেন তিনি। এরপর জেরুজালেমে গিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা আলোচনা করেন। কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে হামাস নেতারা গাজাকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানিয়েছে। মার্কিন পরিকল্পনার মূল কাঠামো অনুযায়ী, হামাস ধাপে ধাপে অস্ত্র ত্যাগ করবে এবং এর সঙ্গে সমন্বয় করে ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করবে। হামাস পরিকল্পনাটি গ্রহণ করলেও বাস্তবায়নের ক্রম নিয়েই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় বাধা। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান হচ্ছে, হামাস পুরোপুরি অস্ত্র ত্যাগ না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা থেকে প্রত্যাহার করবে না। তার সরকার একই সঙ্গে বলছে, গাজা সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের আগে পুনর্গঠনের কাজও শুরু হতে দেওয়া হবে না। কুশনারের সঙ্গে বৈঠকেও এই অবস্থান থেকে সরে আসেননি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে হামাসের অবস্থান হচ্ছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েলকে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। অর্থাৎ দুই পক্ষই নিরস্ত্রীকরণ ও সেনা প্রত্যাহাপনের কথা বললেও কোনটি আগে হবে - মূল অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে সেই প্রশ্নে। হামাস চায় প্রত্যাহারের সঙ্গে সমন্বয় করে অস্ত্র ত্যাগের প্রক্রিয়া এগোক, আর ইসরায়েল চাইছে পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের পরই সেনা সরানো হোক। কুশনার নিজেও জানিয়েছেন, গাজার পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত সেই পুনর্গঠন শুরু করতে দেওয়া হবে না। দীর্ঘ যুদ্ধ ও হামলায় গাজার বিশাল অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর পুনর্গঠনের বিষয়টি তাই এখন শান্তি আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দরকষাকষির জায়গায় পরিণত হয়েছে। তবে দুই দিনের আলোচনা পুরোপুরি ফলহীনও ছিল না। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গাজার নিরস্ত্রীকরণ এবং জনস্বাস্থ্য ও মৌলিক সেবা নিয়ে কাজ করতে পৃথক ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু মূল রাজনৈতিক প্রশ্নে কোনো সমঝোতা হয়নি। ইসরায়েলও এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনা পুরোপুরি গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেয়নি। এই অচলাবস্থার মধ্যেই গাজায় প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের হিসাবে, গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি এবং সংঘর্ষে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মাটিতে সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সব মিলিয়ে জ্যারেড কুশনারের সফর গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে আবার আলোচনার কেন্দ্রে আনলেও সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটির উত্তর এখনো মেলেনি - আগে হামাস অস্ত্র ছাড়বে, নাকি একই সঙ্গে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার শুরু হবে। সেই সমাধান না আসা পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা কাগজ থেকে বাস্তবে নামানো কঠিন হয়ে থাকছে। আর কূটনৈতিক টেবিলে যখন সেই অচলাবস্থা চলছে, তখন গাজায় নতুন হামলা ও প্রাণহানি শান্তির পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।
বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে ঈদে মিলাদুন্নবী বা মাওলিদুন্নবী পালিত হলেও সব দেশে এ উপলক্ষে সরকারি ছুটি নেই। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বহু দেশে দিনটি সরকারি ছুটির তালিকায় থাকলেও সৌদি আরবসহ কয়েকটি মুসলিম দেশে এর চিত্র ভিন্ন। ইসলামি হিজরি বর্ষপঞ্জির রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন স্মরণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি পালন করা হয়। অঞ্চলভেদে এটি ঈদে মিলাদুন্নবী, মাওলিদ আল-নবী কিংবা মাওলিদুন্নবী নামে পরিচিত। তবে চাঁদ দেখার ওপর ইসলামি মাস নির্ভর করায় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে দেশভেদে পালনের তারিখে এক দিনের পার্থক্য হতে পারে। লেজিট ডট এনজির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর বড় একটি অংশ দিনটিকে সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, বাহরাইন, ব্রুনেই, সেনেগাল, সোমালিয়া, সুদান ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ রয়েছে। দেশভেদে ছুটির তারিখ অবশ্য স্থানীয় চাঁদ দেখা এবং সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশেও ঈদে মিলাদুন্নবী সরকারি ছুটির দিন। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডারে দিনটি ২৬ আগস্ট পড়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। তবে ইসলামি মাসের তারিখ চাঁদ দেখার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় চূড়ান্ত তারিখ সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে। পাকিস্তানেও মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে সরকারি ছুটির প্রচলন রয়েছে। আফগানিস্তান, আলজেরিয়া ও বাহরাইনসহ আরও বেশ কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রেও মাওলিদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি দেওয়া হয়। তবে সব মুসলিম দেশ একই ধর্মীয় ও প্রশাসনিক পদ্ধতিতে দিনটি পালন করে না। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন সরকারি ছুটির অন্তর্ভুক্ত। দেশটির সরকার ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের জন্য ফেডারেল সরকার ও বেসরকারি খাতের কর্মীদের ২৮ আগস্ট বেতনসহ সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ আগের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসে ২৫ আগস্টের কথা থাকলেও সর্বশেষ সরকারি সিদ্ধান্তে ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ আগস্ট। অন্যদিকে সৌদি আরবে মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে আলাদা সরকারি ছুটি নেই। দেশটিতে জাতীয়ভাবে স্বীকৃত সরকারি ছুটির কাঠামো অন্য অনেক মুসলিম দেশের তুলনায় আলাদা। মাওলিদ পালন নিয়ে ইসলামী চিন্তাধারার মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে, আর সৌদি আরবে প্রচলিত ধর্মীয় ব্যাখ্যায় দিনটিকে আলাদা উৎসব হিসেবে পালনের ঐতিহ্য নেই। লেজিট ডট এনজির প্রতিবেদনে সৌদি আরবের পাশাপাশি কাতারকেও মহানবী (সা.)-এর জন্মদিনে সরকারি ছুটি না দেওয়া মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো দেশে সরকারি ছুটি না থাকার অর্থ সেখানে মহানবী (সা.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা বা ধর্মীয় গুরুত্ব নেই - এমন নয়। মূল পার্থক্যটি দিনটিকে আলাদা ধর্মীয় উৎসব ও রাষ্ট্রীয় ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে। ওমানে আবার পরিস্থিতি ভিন্ন। দেশটি ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার আগেই প্রকাশ করেছে এবং সেখানে মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন ধর্মীয় ছুটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সূচিতে ২৭ আগস্ট এই ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ না হলেও দেশটির সরকারি ছুটির তালিকায় মিলাদুন্নবী গেজেটেড হলিডে হিসেবে রয়েছে। ২০২৬ সালে সেখানে ২৬ আগস্ট সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফলে মাওলিদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি শুধু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেই সীমাবদ্ধ নয়। সব মিলিয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হলেও এটি পালনের রাষ্ট্রীয় রীতি সর্বত্র এক নয়। কোথাও দিনটি সরকারি ছুটি ও বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়, আবার কোথাও আলাদা সরকারি ছুটি নেই। এই পার্থক্যের পেছনে রয়েছে দেশভেদে ধর্মীয় ব্যাখ্যা, ঐতিহ্য এবং সরকারি ছুটির নিজস্ব নীতি।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে সরকারি বন্ডের উচ্চ সুদের চাপ ভারতের শেয়ারবাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বুধবার ভারতের প্রধান দুই সূচক সেনসেক্স ও নিফটি আবারও নিচে নেমেছে। বিশেষ করে নিফটি টানা সপ্তম দিনের মতো পতনের মুখে পড়েছে। বুধবারের লেনদেনে নিফটি ৫০ সূচক ০ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে ২৪ হাজার ৭০ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে নেমেছে। অন্যদিকে বিএসই সেনসেক্স ০ দশমিক ৩২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ৯৯১ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে। টানা সাত সেশনে নিফটির মোট পতন হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ। বাজারে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করছে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯২ ডলারে উঠেছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড ৯১ দশমিক ৬২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায় এবং টানা চতুর্থ দিনের মতো দাম বাড়ে। ভারতের জন্য তেলের দাম বৃদ্ধি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক এবং নিজেদের প্রয়োজনের বড় অংশই বিদেশ থেকে কিনতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ভারতের আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে, মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে এবং রুপির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর সঙ্গে নতুন উদ্বেগ হিসেবে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক বন্ডবাজার। যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত অর্থনীতিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদ কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদ প্রায় ২০ বছরের উচ্চতার আশপাশে অবস্থান করছে। উচ্চ বন্ড সুদ বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ারের তুলনায় বন্ডকে বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে, যা ভারতের মতো উদীয়মান বাজার থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। বুধবার ভারতের বাজারে পতনও ছিল বেশ বিস্তৃত। রয়টার্সের হিসাবে, প্রধান ১৬টি খাতের মধ্যে ১৩টিই নিচে নেমেছে। মিড-ক্যাপ ও স্মল-ক্যাপ সূচকও প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করে কমেছে। ফলে শুধু কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরপতন নয় - বাজারের বড় অংশেই বিক্রির চাপ দেখা গেছে। ভারতের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক খাতও চাপের বাইরে থাকতে পারেনি। ফাইন্যান্সিয়াল স্টকগুলোর সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। তবে টানা দরপতনের পর তথ্যপ্রযুক্তি খাত কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং আইটি সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে নেতিবাচক বাজারেও কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে বড় উত্থান হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি কয়লা সরবরাহ চুক্তি পাওয়ার পর প্রিজম জনসনের শেয়ার প্রায় ৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। সরকারি প্রণোদনার খবরে ইন্দ্রপ্রস্থ গ্যাস ও মহানগর গ্যাসের শেয়ারও বেড়েছে। দিনের সবচেয়ে নজরকাড়া ঘটনা ছিল লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান শিপরকেটের শেয়ারবাজারে অভিষেক। প্রায় ১৭ কোটি ডলারের আইপিওর পর প্রথম দিনের লেনদেনেই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রায় ৩৫ শতাংশ লাফিয়ে ওঠে। সামগ্রিক বাজারে চাপ থাকলেও নতুন তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের শক্তিশালী আগ্রহ দেখা গেছে। এদিকে ভারতের বন্ডবাজারেও তেলের দাম ও আন্তর্জাতিক সুদের প্রভাব রয়েছে। বুধবার ভারতের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদ কিছুটা কমে প্রায় ৬ দশমিক ৮২ শতাংশে এলেও উচ্চ তেলের দাম এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাজারের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবেই রয়ে গেছে। সব মিলিয়ে ভারতের শেয়ারবাজারে বর্তমান চাপের পেছনে দেশের অভ্যন্তরীণ করপোরেট পরিস্থিতির চেয়ে আন্তর্জাতিক কারণই বড় হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কত দ্রুত কমে, হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন কতটা স্বাভাবিক হয় এবং বিশ্ববাজারে বন্ডের সুদ কোন দিকে যায় - আগামী কয়েক দিনে ভারতের শেয়ারবাজারের গতিপথ নির্ধারণে এই তিন বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ন্যাশভিলে সুপারমার্কেটে কেনাকাটা করতে গিয়ে পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগে পাবলিক্সের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছেন এক ক্রেতা। দুর্ঘটনায় শারীরিক আঘাত ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন তিনি। মামলাটি এখন টেনেসির ফেডারেল আদালতে নেওয়া হয়েছে। ন্যাশভিলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেআরএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে পাবলিক্স সুপারমার্কেটে। ওই ব্যক্তি কেনাকাটার জন্য স্টোরে প্রবেশ করার পর ভেতরে পা পিছলে পড়ে যান। তার অভিযোগ, পড়ে যাওয়ার কারণে তিনি গুরুতর শারীরিক আঘাতের শিকার হন এবং এর পর থেকে তাকে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। মামলায় ওই ক্রেতার অভিযোগ, পাবলিক্সের দায়িত্ব ছিল স্টোরের ভেতরের পরিবেশ ক্রেতাদের জন্য নিরাপদ রাখা। কোনো বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হলে সেটি দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান করা অথবা ক্রেতাদের যথাযথভাবে সতর্ক করা উচিত ছিল। কিন্তু তার ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আইনি লড়াই এখন ফেডারেল আদালতে পৌঁছেছে। বাদীপক্ষ এক মিলিয়ন বা ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। তবে এই অর্থ আদালতের দেওয়া কোনো ক্ষতিপূরণ নয়। মামলায় ওই ব্যক্তির পক্ষ থেকে দাবি করা অর্থের পরিমাণ এটি।বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতই নির্ধারণ করবে পাবলিক্সের কোনো দায় রয়েছে কি না এবং থাকলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কত হবে। এ ধরনের মামলা যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত ‘প্রিমাইসেস লায়াবিলিটি’ আইনের আওতায় বিবেচিত হয়। অর্থাৎ কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ক্রেতা আহত হলে শুধু দুর্ঘটনা ঘটেছে - এটুকু দিয়েই প্রতিষ্ঠানটিকে দায়ী করা যায় না। বিপজ্জনক পরিস্থিতি ছিল কি না, প্রতিষ্ঠানটি সেটি জানত বা যুক্তিসংগতভাবে জানা উচিত ছিল কি না এবং ক্রেতাকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না - এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।ফলে এই মামলার অন্যতম প্রশ্ন হবে, পাবলিক্সের ভেতরে ঠিক কী কারণে ওই ব্যক্তি পিছলে পড়েছিলেন এবং দুর্ঘটনার আগে সেই পরিস্থিতি সম্পর্কে স্টোর কর্তৃপক্ষ জানত কি না। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্টোরের রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুর্ঘটনার পর ওই ব্যক্তির চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যও আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত মামলায় আনা অভিযোগগুলো বাদীপক্ষের দাবি। আদালত পাবলিক্সকে দায়ী করে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দিয়েছে - এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবিকেও চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। উভয় পক্ষের নথি, সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনার পরই দায় নির্ধারণ করবেন আদালত। যুক্তরাষ্ট্রে সুপারমার্কেট, রেস্তোরাঁ বা অন্য কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনায় প্রায়ই এ ধরনের মামলা হয়ে থাকে। তবে প্রতিটি মামলার ফল নির্ভর করে ঘটনার পরিস্থিতি ও প্রমাণের ওপর। বিশেষ করে নিরাপত্তার ঝুঁকি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠান আগে থেকে জানত কি না - সেটিই অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়ায়। ন্যাশভিলের এই মামলাতেও এখন সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজবে ফেডারেল আদালত। কেনাকাটা করতে গিয়ে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা শেষ পর্যন্ত ১০ লাখ ডলারের আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে - তবে পাবলিক্সকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে কি না, সেটি নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম পর্যন্ত।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বড় ধরনের বাণিজ্য সংঘাত আপাতত শেষ মুহূর্তে এড়ানো গেল। কানাডা থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত তিন দিনের জন্য স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার থেকে এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং এখন চূড়ান্ত নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ‘চুক্তি’ হয়েছে। তবে সেটি এখনো প্রয়োজনীয় নথিপত্র চূড়ান্ত করার ওপর নির্ভরশীল। এই কারণেই কানাডার বিরুদ্ধে নির্ধারিত ৫০ শতাংশ শুল্ক তিন দিনের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার প্রায় এক ঘণ্টা পর বিবৃতি দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি সরাসরি চূড়ান্ত চুক্তি হয়ে গেছে এমন ঘোষণা না দিয়ে বলেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ এখনো শেষ করা বাকি। মঙ্গলবার বিকেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মধ্যে ফোনে কথা হয়। চলতি সপ্তাহে এটি ছিল দুই নেতার দ্বিতীয় আলোচনা। এর পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। শুল্ক কার্যকরের সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছিল, সমঝোতায় পৌঁছানোর চাপও তত বাড়ছিল। নতুন ৫০ শতাংশ শুল্কের আওতায় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্য পড়ার কথা ছিল। দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, অ্যালকোহল, হকি সরঞ্জাম এবং কাঠজাত পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব পড়তে পারত। কানাডার মোট মার্কিনমুখী রপ্তানির তুলনায় এর পরিমাণ সীমিত হলেও ছোট ব্যবসা ও নির্দিষ্ট শিল্পের জন্য বড় চাপ তৈরির আশঙ্কা ছিল। দুই দেশের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল কানাডার বাজারে মার্কিন পণ্যের প্রবেশাধিকার। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তিতে মার্কিন পণ্যের জন্য বিস্তৃত বাজার প্রবেশাধিকার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত অঙ্গীকার এবং ডিজিটাল বাণিজ্যে সমন্বয়ের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, দুগ্ধজাত পণ্য, অ্যালকোহল ও মোটরযানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কানাডা। বিশেষ করে কানাডার দুগ্ধ বাজারে প্রবেশাধিকার এবং বিভিন্ন প্রদেশে মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রির বিধিনিষেধ নিয়ে ওয়াশিংটনের আপত্তি দীর্ঘদিনের। গাড়ির ওপর শুল্কও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় তৈরি গাড়ির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। গাড়িতে কত শতাংশ মার্কিন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে, তার ভিত্তিতে শুল্ক আরও কমানোর ব্যবস্থাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। এই আলোচনার মধ্যে আরেকটি পুরোনো প্রকল্প নতুন করে সামনে এনেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প - কিস্টোন এক্সএল তেল পাইপলাইন। কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তেল পরিবহনের জন্য পরিকল্পিত বিতর্কিত প্রকল্পটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় বাতিল হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, নতুন যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রকল্পটি আবারও আলোচনায় ফিরতে পারে। তবে তিন দিনের শুল্ক স্থগিতাদেশকে এখনই যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য বিরোধের স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন চুক্তি হয়েছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বক্তব্য তুলনামূলক সতর্ক। তার ভাষায়, উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। কানাডার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় ৭২ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে যায়। ফলে নতুন করে বড় শুল্ক কার্যকর হলে কানাডার উৎপাদক, রপ্তানিকারক এবং কর্মসংস্থানে চাপ তৈরির আশঙ্কা ছিল। একই সঙ্গে পাল্টা ব্যবস্থা নিলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও ভোক্তাদের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারত। ফলে তিন দিনের এই বিরতি মূলত ওয়াশিংটন ও অটোয়াকে চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য আরও কিছুটা সময় দিল। এখন নজর থাকবে সেই নথিপত্রে - কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষায় দুই দেশের ‘চুক্তি’ হয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বক্তব্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার শুল্ক যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলার সময় এখনো আসেনি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জোরদার হওয়া অভিবাসন অভিযানে স্থানীয় পুলিশকে আরও সক্রিয় করতে নতুন পরিকল্পনা সামনে এনেছে আইস। সংস্থাটির হয়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্যের পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ ডলারের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা বীমার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। আইসের শুক্রবার প্রকাশিত একটি পরিকল্পনা নথিতে এই প্রস্তাবের বিস্তারিত উঠে এসেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগের প্রশিক্ষণ ও ক্ষমতা পাওয়া স্থানীয় কর্মকর্তারা নিজের নামে বীমা কিনতে পারবেন। সেই বীমায় ব্যক্তিগত দায় সর্বোচ্চ ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত কভার করার কথা রয়েছে। এই বীমা মূলত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে সম্ভাব্য আইনি খরচ, ক্ষতিপূরণ বা আদালতের রায়ের কারণে তৈরি হওয়া ব্যক্তিগত আর্থিক দায় সামলাতে সহায়তা করবে। অর্থাৎ অভিবাসন অভিযানে অংশ নিয়ে কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে মামলার মুখে পড়লে তার আর্থিক ঝুঁকির একটি অংশ বীমার আওতায় আসতে পারে। তবে আইস সরাসরি প্রত্যেক কর্মকর্তাকে ৫ লাখ ডলার দেবে - বিষয়টি এমন নয়। কর্মকর্তারা বীমা কিনবেন এবং আইস বছরে সর্বোচ্চ ২৫০ ডলার পর্যন্ত বীমার খরচ ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। পরিকল্পনা নথি অনুযায়ী, এই পরিমাণ অর্থেই সাধারণত প্রস্তাবিত বীমার বার্ষিক খরচ মেটানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিকল্পনাটি আইসের বহুল আলোচিত ২৮৭(জি) কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৬ সালের ফেডারেল অভিবাসন আইনের একটি ধারার নামে এই কর্মসূচির নামকরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আইস নির্দিষ্ট চুক্তির অধীনে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগের কিছু ক্ষমতা দিতে পারে। আইসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২৮৭(জি) কর্মসূচির জন্য যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ ও প্রচারসহ বিভিন্ন কাজে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। সেই ঠিকাদারই বীমা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ এবং কর্মকর্তাদের বীমার অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। তবে পরিকল্পনাটি এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে - চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়েছে এমন নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ এমন সময়ে সামনে এসেছে যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অংশগ্রহণ বাড়াতে চাইছে। কিন্তু স্থানীয় পুলিশকে অভিবাসন অভিযানে যুক্ত করার বিষয়টি বিভিন্ন জায়গায় আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি করেছে। নতুন বীমা পরিকল্পনার গুরুত্ব এখানেই। কোনো স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা আইসের হয়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে ব্যক্তিগত মামলার আশঙ্কায় থাকলে সেটি তার অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রস্তাবিত বীমা সেই আর্থিক ঝুঁকি কমিয়ে আরও বেশি স্থানীয় কর্মকর্তাকে ২৮৭(জি) কর্মসূচিতে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে পারে। তবে বীমা থাকার অর্থ কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে তিনি আইনি দায়মুক্তি পাবেন - এমন নয়। এটি মূলত সম্ভাব্য ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলার বীমা ব্যবস্থা। কোনো ঘটনায় আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না বা কর্মকর্তা দায়ী কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে। ফলে আইসের নতুন প্রস্তাবটি শুধু একটি বীমা কর্মসূচির বিষয় নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন অভিযান পরিচালনায় ফেডারেল কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশকে আরও বড় পরিসরে যুক্ত করার যে উদ্যোগ চলছে, এই পরিকল্পনাকে তারই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ আকার নিলে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল আপতি আলাউদিনভ। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তার দাবি, সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে যুক্তরাষ্ট্র ও পুরো ন্যাটো জোটকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে চাইছে ইসরায়েল। আলাউদিনভ রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সামরিক-রাজনৈতিক অধিদপ্তরের উপপ্রধান। একই সঙ্গে তিনি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন আখমাত বিশেষ বাহিনীর কমান্ডার। তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলাউদিনভ বলেন, তার ধারণা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখানেই থামবে না, বরং আরও তীব্র হবে। তার অভিযোগ, সংঘাতকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি পুরো ন্যাটো জোটকে এতে জড়ানোই ইসরায়েলের লক্ষ্য। তার মতে, সেই চেষ্টা ইতোমধ্যে অনেকটাই সফল হচ্ছে। এরপরই ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে কঠোর মন্তব্যটি করেন রুশ এই জেনারেল। আলাউদিনভের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে ইসরায়েল নিজেদের সামরিক সক্ষমতাকে অতিমূল্যায়ন করতে পারে এবং তার পরিণতিতে রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্ব হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে শেষ পর্যন্ত নিজেকেই সেখানে পড়তে হয় - এমন মন্তব্যও করেন তিনি। আলাউদিনভ অবশ্য ইরানকে ঘিরে আগেও প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। চলতি বছরের মার্চে তিনি বলেছিলেন, ইরানকে সম্ভাব্য সব উপায়ে সহায়তা করা উচিত রাশিয়ার। এমনকি রুশ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিলে নিজেও ইরানে গিয়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো ইউক্রেনকে যেভাবে সহায়তা করছে, তার পাল্টা হিসেবে ইরানকে সমর্থনের যুক্তিও তুলে ধরেছিলেন এই রুশ কমান্ডার। রাশিয়া এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কমাতে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। রুশ পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আলোচনায় মস্কো সংঘাত কমানো এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিল।
নিউইয়র্ক সিটির অর্থ বিভাগ জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রায় ১৭ হাজার ঠিকানায় চিঠি পাঠায়, যেগুলো সম্পত্তির মূল্য ও সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী সম্ভাব্য দ্বিতীয় বাড়ি হতে পারে। একই সময়ে শহর কর্তৃপক্ষ ৯ লাখের বেশি সম্পত্তির মূল্যসহ একটি তালিকা প্রকাশ করে। এরপর কিছু নিউইয়র্কবাসী অভিযোগ করেন, যে বাড়িতে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, সেটিও সম্ভাব্য করের আওতায় দেখানো হয়েছে। মামদানি প্রশাসন অবশ্য বলছে, ১৭ হাজার চিঠি পাওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিককে কর দিতে হবে - বিষয়টি এমন নয়। অর্থ বিভাগের কমিশনার রিচার্ড লি সিটি কাউন্সিলে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, প্রকাশিত সম্পূরক তালিকাটিও কারা শেষ পর্যন্ত কর দেবেন, তার চূড়ান্ত তালিকা নয়। বরং বাড়ির মালিকদের সম্পত্তির মূল্য বা করযোগ্যতার বিষয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ দিতেই প্রক্রিয়াটি করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই কর মূলত উচ্চমূল্যের এমন আবাসিক সম্পত্তির ওপর প্রযোজ্য হবে, যেগুলো মালিকের প্রধান বাসস্থান নয়। এক থেকে তিন পরিবারের বাড়ির ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যসীমা কমপক্ষে ৫০ লাখ ডলার। অন্যদিকে কন্ডো ও কো-অপের ক্ষেত্রে মূল্যসীমা ১০ লাখ ডলার থেকে শুরু। করটি ধাপে ধাপে বাড়বে এবং উচ্চমূল্যের সম্পত্তির ক্ষেত্রে হারও বেশি হবে। আইনটি চলতি বছরের মে মাসে অনুমোদিত হয়। মামদানি প্রশাসনের হিসাবে, নতুন কর থেকে নিউইয়র্ক সিটি বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডলার রাজস্ব পেতে পারে। এই অর্থ স্কুল, পার্ক, পরিচ্ছন্নতা, জননিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবায় ব্যবহারের কথা বলছে সিটি হল। কিন্তু বাস্তবায়ন শুরু হতেই ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ম্যানহাটনের আপার ওয়েস্ট সাইডের কাউন্সিল সদস্য গেল ব্রিউয়ার জানিয়েছেন, উদ্বিগ্ন বাসিন্দাদের কাছ থেকে তার কার্যালয়ে বিপুলসংখ্যক অভিযোগ এসেছে। কারা কর দেবেন, কীভাবে প্রধান বাসস্থান প্রমাণ করতে হবে এবং ভুলভাবে তালিকাভুক্ত হলে কীভাবে আপত্তি জানাতে হবে - এসব নিয়ে সিটি কাউন্সিল সদস্যরা প্রশাসনের কাছে বহু প্রশ্ন তুলেছেন। ১৮ আগস্ট সিটি কাউন্সিলে বিষয়টি নিয়ে জনশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে মামদানি প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত হয়ে প্রশ্নের উত্তর দেননি। অর্থ কমিশনার রিচার্ড লি লিখিত বক্তব্য জমা দিয়ে জানান, চলমান মামলার কারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবে শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন না। মামলা নিষ্পত্তি হলে সিটি কাউন্সিলের সামনে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি। বিতর্কের আরেকটি বড় জায়গা হলো ৯ লাখের বেশি সম্পত্তির তথ্য প্রকাশ। প্রশাসনের বক্তব্য, এসব সম্পত্তির মূল্য ও ঠিকানাসংক্রান্ত তথ্য নতুন বা গোপন কিছু নয় - বহু বছর ধরেই করসংক্রান্ত রেকর্ড হিসেবে সাধারণ মানুষের নাগালে রয়েছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, নতুন করের প্রেক্ষাপটে এত বড় তালিকা প্রকাশ করায় অনেক বাড়ির মালিক অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিভ্রান্তি ও নজরদারির মুখে পড়েছেন। বিষয়টি এখন আদালতেও গড়িয়েছে। ম্যানহাটন ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের কয়েকজন বাসিন্দা মামদানি প্রশাসনের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছেন। প্রথমে একজন বিচারক করটির বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছিলেন। পরে আপিল আদালত সেই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলে সিটি আবার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। তবে মূল আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যেই মামলায় আরও চারজন বাদী যুক্ত হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, তারা নিউইয়র্কে নিয়মিত বসবাস করলেও ভুলভাবে সম্ভাব্য করদাতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন অথবা নোটিশ পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় গুরুতর সমস্যা হয়েছে। ফলে নতুন করটির উদ্দেশ্যের পাশাপাশি সেটি বাস্তবায়নের পদ্ধতিই এখন বড় রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কে পরিণত হয়েছে। যেসব বাড়ির মালিক মনে করেন তাদের সম্পত্তি এই করের আওতায় পড়ার কথা নয়, তাদের আপত্তি জানানোর সময়সীমা বাড়িয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কর ২০২৭ সালের বিলগুলোতে দেখা যেতে শুরু করবে। বাসিন্দাদের প্রশ্ন ও আপিল সামলাতে অতিরিক্ত কর্মীও নিয়োগ করেছে শহরের অর্থ বিভাগ। ফলে নিউইয়র্কের বাড়ির মালিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - ১৭ হাজার নোটিশ পাওয়া মানেই ১৭ হাজার মালিকের ওপর চূড়ান্তভাবে নতুন কর বসে গেছে, এমন নয়। করটি মূলত উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বা প্রধান বাসস্থান নয় এমন সম্পত্তিকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছে। কিন্তু কার সম্পত্তি সত্যিই সেই সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে, সেটি নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় বিতর্ক চলছে। মামদানি প্রশাসনের জন্যও বিষয়টি এখন শুধু নতুন একটি কর কার্যকর করার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। ধনীদের উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ি থেকে বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করতে গিয়ে প্রশাসনকে এখন একই সঙ্গে বাড়ির মালিকদের ক্ষোভ, সিটি কাউন্সিলের প্রশ্ন এবং আদালতের আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। আগামী ৩১ আগস্ট মামলার পরবর্তী আদালত কার্যক্রম এবং ১৮ সেপ্টেম্বর আপত্তি জানানোর সময়সীমা - এই দুই তারিখের পর নতুন করটির ভবিষ্যৎ আরও পরিষ্কার হতে পারে।
নিজের বাড়ির ছাদে উড়ছে বিশাল মার্কিন পতাকা। তবে এটি কোনো উৎসব কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন জানানোর আয়োজন নয়। ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাত থেকে নিজের বাড়ি ও পরিবারকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাকেই এক ধরনের প্রতীকী নিরাপত্তাবলয় হিসেবে ব্যবহার করছেন ফিলিস্তিনি-মার্কিন নাগরিক লুই রিদি। ঘটনাটি ঘটেছে ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে কুসরা গ্রামে। ৪৬ বছর বয়সী লুই রিদি পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন। কুসরাতেও তার একটি বাড়ি রয়েছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তার পরিবারসহ কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়ি ঘিরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অবস্থানের খবর পেয়ে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে পশ্চিম তীরে ফিরে যান তিনি। বাড়িতে পৌঁছেই ছাদে বড় একটি মার্কিন পতাকা উড়িয়ে দেন রিদি। পতাকাটি টাঙানোর পেছনে তার প্রত্যাশা ছিল পরিষ্কার - বাড়িটির মালিক একজন মার্কিন নাগরিক, এটি বুঝতে পারলে হয়তো বসতি স্থাপনকারীরা সেখানে হামলা বা দখলের চেষ্টা থেকে বিরত থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের কাছেও নিজের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি দৃশ্যমান করতে চেয়েছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে মার্কিন পতাকাও তাকে পুরোপুরি নিরাপত্তা দিতে পারেনি। মঙ্গলবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রয়টার্সের প্রত্যক্ষ করা ঘটনায় একজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী রিদির জমিতে প্রবেশ করেন। তার হাতে একটি তোরাহ ছিল এবং তিনি ওই জায়গায় নিজের উপস্থিতির পক্ষে যুক্তি দিতে থাকেন। রিদি তাকে নিজের সম্পত্তি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। একপর্যায়ে সেখানে থাকা ইসরায়েলি সেনারা ওই বসতি স্থাপনকারীকে এলাকা ছাড়তে বলে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ভিডিওতেও রিদিকে বসতি স্থাপনকারীদের উদ্দেশে নিজের জমি থেকে সরে যেতে বলতে দেখা গেছে। তিনি ইসরায়েলি সেনাদের কাছেও তাদের সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিদিকেই নিজের বাড়ির ভেতরে ফিরে যেতে বলা হয়। কারণ এলাকাটিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ‘ক্লোজড মিলিটারি জোন’ বা বন্ধ সামরিক এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। রিদির অভিযোগ, নিজের বাড়িতে থেকেও তিনি এখন স্বাধীনভাবে বাইরে যেতে পারছেন না। বাড়ি থেকে বের হওয়ার প্রয়োজন হলেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও অনুমতির প্রয়োজন হচ্ছে। অন্যদিকে কয়েকজন বসতি স্থাপনকারী এখনো এত কাছাকাছি অবস্থান করছেন যে সেনাবাহিনী চলে গেলে তারা আবার ফিরে আসতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। কুসরার পরিস্থিতি কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত। বসতি স্থাপনকারীরা তিনটি ফিলিস্তিনি বাড়ির আশপাশে অবস্থান নিয়ে বাসিন্দাদের চলাচলে বাধা দিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। খাবার ও পানির সরবরাহ নিয়েও সংকট তৈরি হয়েছিল। স্থানীয়দের আশঙ্কা, তাদের সরিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত বাড়ি ও জমি দখল করাই এই চাপের উদ্দেশ্য। এই ঘটনায় বিরলভাবে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। কুসরার ঘটনায় জড়িত কিছু বসতি স্থাপনকারীকে তিনি ‘ইসরায়েলি সন্ত্রাসী’ বলে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে একজন মার্কিন নাগরিকের বাড়ি ও পরিবারের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ায় ঘটনাটি ওয়াশিংটনেরও নজরে এসেছে। তবে ঘটনাটি শুধু একটি মার্কিন নাগরিকের বাড়িকে কেন্দ্র করে নয়। পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের ১ হাজার ৪৭৬টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ৮৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তারা। কুসরার কাছাকাছি জালুদ গ্রামেও গত মাসে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে বসতি স্থাপনকারীরা একটি ফিলিস্তিনি বাড়ি ঘিরে বাসিন্দাদের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ আটকে দেয়। শেষ পর্যন্ত পরিবারটি বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয় এবং আর ফিরে আসেনি। ফলে কুসরার পরিবারগুলোর আশঙ্কা - তাদের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পশ্চিম তীরে মার্কিন পতাকাকে নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে ব্যবহারের ঘটনা কুসরাতেই সীমাবদ্ধ নয়। তুরমুস আইয়া নামে আরেকটি ফিলিস্তিনি এলাকায় বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা মার্কিন নাগরিক। সেখানকার অনেক বাড়ির বারান্দা ও ছাদেও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা দেখা যায়। বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়তে থাকায় নিজেদের মার্কিন নাগরিকত্ব দৃশ্যমান করাকেও অনেকে নিরাপত্তার একটি উপায় হিসেবে দেখছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে মনে করে। ইসরায়েল এ অবস্থানের সঙ্গে একমত নয় এবং পশ্চিম তীরের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও নিরাপত্তাগত সম্পর্কের যুক্তি তুলে ধরে। বর্তমানে সেখানে ২৮ লাখের বেশি ফিলিস্তিনির পাশাপাশি পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছেন। সবচেয়ে প্রতীকী হয়ে উঠেছে লুই রিদির বাড়ির ছাদের সেই মার্কিন পতাকা। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের নাগরিক হিসেবে নিজের পরিচয় দৃশ্যমান করে তিনি আশা করেছিলেন, অন্তত তার বাড়ি ও পরিবার নিরাপদ থাকবে। কিন্তু বাড়ির ছাদে পতাকা ওড়ানোর পরও যখন নিজের উঠানে দাঁড়ানোর স্বাধীনতা নিয়ে তাকে লড়তে হচ্ছে, তখন কুসরার ঘটনাটি পশ্চিম তীরে চলমান সংঘাতের আরও বড় একটি বাস্তবতাকেই সামনে আনছে। মার্কিন পতাকা তাই সেখানে শুধু একটি দেশের প্রতীক হয়ে থাকেনি - একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের কাছে সেটি এখন নিজের বাড়ি রক্ষার শেষ দিকের প্রতীকী ঢাল। কিন্তু লুই রিদির অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, ছাদের ওপর সেই পতাকা উড়লেও নিচের মাটিতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এখনো আসেনি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত একটি মানচিত্রে হরমুজ প্রণালির ওপর বড় নীল বৃত্ত এঁকে ‘নিউ ইউএস টেরিটরি’ লেখা হয়। একই পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, প্রণালিটি এখন খোলা ও সচল এবং সেখানকার সব সামুদ্রিক মাইন সরিয়ে নেওয়া অথবা ধ্বংস করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে এবং পানিতে থাকা সব মাইন অপসারণ বা বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তবে সব মাইন অপসারণের এই দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে এটিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ ঘোষণা করলেও এর মাধ্যমে প্রণালিটির আন্তর্জাতিক আইনি অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে - এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হরমুজ ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা আইএমও বলেছে, আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে ব্যবহৃত প্রণালিতে ট্রানজিট প্যাসেজের অধিকার বাধাগ্রস্ত, অস্বীকার বা স্থগিত করা উচিত নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘হরমুজ খোলা ও সচল’ থাকার দাবির বিপরীতে বাস্তব জাহাজ চলাচলের চিত্রও এখনো স্বাভাবিক নয়। কেপলারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ দিয়ে মাত্র ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। সোমবার এই সংখ্যা ছিল নয়টি, আর সাম্প্রতিক ১০ দিনের দৈনিক গড় প্রায় ১১টি। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১৩০টির বেশি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করত। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, বড় তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের চলাচলও ব্যাপকভাবে কমেছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে কোনো কোনো দিন হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল একেবারে বন্ধ থাকার ঘটনাও ঘটেছে। শনিবার মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি ব্যবহার করেছিল, আর পরদিন রোববার কেপলারের হিসাবে কোনো পণ্যবাহী জাহাজই হরমুজ অতিক্রম করেনি। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক জাহাজ মালিক গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এড়িয়ে চলছেন। ইরানও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। দেশটির শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার বক্তব্যে পরিষ্কার করা হয়েছে, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ চায় তেহরান। ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং সব ফ্রন্টে সামরিক হুমকি ও অভিযান বন্ধ করা। তেহরানের অবস্থান অনুযায়ী, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার প্রশ্ন নেই। এদিকে ইরানের সঙ্গে দ্রুত নতুন কোনো সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনাও আপাতত অনিশ্চিত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা বা কথোপকথন চলছে না এবং নতুন কোনো আলোচনাও নির্ধারিত নেই। ফলে একদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ খুলে দেওয়ার দাবি করছেন, অন্যদিকে তেহরান বলছে প্রণালিটি বন্ধ থাকবে - দুই পক্ষের সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এই অনিশ্চয়তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনেও। যুদ্ধের আগে বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। কিন্তু সংঘাতের কারণে সেই প্রবাহ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হরমুজ দিয়ে দৈনিক তেল পরিবহন যুদ্ধ-পূর্ব প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল থেকে কমে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। ঝুঁকি এতটাই বেড়েছে যে চীনের দুটি বড় রাষ্ট্রীয় জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের জলপথ দিয়ে চলাচল বন্ধ রেখেছে। প্রতিষ্ঠান দুটি আগে চীনের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা তেলের প্রায় অর্ধেক পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এখন ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প ব্যবস্থায় তেল পরিবহনের চেষ্টা করছে তারা। তবে সংকটের মধ্যেও সীমিত পরিসরে তেল পরিবহন শুরু করার চেষ্টা চলছে। সৌদি আরামকো হরমুজের ভেতরে থাকা টার্মিনাল থেকে আবার কিছু অপরিশোধিত তেল লোড করা শুরু করেছে। ১২ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে তিনটি বড় তেলবাহী জাহাজ জুয়াইমাহ ও রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে তেল নিয়েছে। প্রতিটি জাহাজ প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনে সক্ষম। হরমুজের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাও উদ্বিগ্ন। আইএমও এর আগে বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে ব্যবহৃত কোনো প্রণালিতে জাহাজের ট্রানজিট প্যাসেজ বাধাগ্রস্ত বা স্থগিত করা উচিত নয়।
ব্রাজিল ও রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি ফুটবলার রবর্তো কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে সামাজিক যোগা যোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তুরস্কের ক্ষমতাসীন একে পার্টির একজন সংসদ সদস্য এই দাবি করলেও এখন পর্যন্ত কার্লোস নিজে প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেননি। ফলে বিষয়টিকে এই মুহূর্তে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই। দাবিটির মূল সূত্র তুরস্কের একে পার্টির গাজিয়ানতেপের সংসদ সদস্য আলি শাহিন। ব্রাজিল সফরের সময় স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রবার্তো কার্লোসের ধর্মান্তরের বিষয়টি সামনে আনেন। শাহিন জানান, ব্রাজিলের মুসলিম নেতা শেখ জিহাদ হাম্মাদেহের কাছ থেকে তিনি কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের কথা জেনেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, কার্লোসের সঙ্গে হাম্মাদেহের আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল এবং কয়েক সপ্তাহ আগে সাও পাওলোতে তাদের একটি সাক্ষাৎ হয়। ওই সাক্ষাতের সময় রবার্তো কার্লোস শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেন শাহিন। একই সঙ্গে তিনি ব্রাজিলের সাবেক এই তারকাকে অভিনন্দন জানান। শাহিনের বক্তব্যের পর তুরস্কের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফুটবলবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গোলও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবল সমর্থকদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রবার্তো কার্লোস নিজে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ঘোষণা দিয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার নিজের আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকেও ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য সামনে আসেনি। এ কারণে আলি শাহিনের বক্তব্যকে একটি দাবি হিসেবেই বিবেচনা করতে হচ্ছে। কার্লোস নিজে অথবা তার অনুমোদিত প্রতিনিধি বিষয়টি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তার ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের খবর নিশ্চিতভাবে বলা সমীচীন নয়। এর মধ্যেই রবার্তো কার্লোসের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। মরক্কোর বংশোদ্ভূত স্প্যানিশ নারী সুহাইলা এল তাহিরির সঙ্গে তার বিয়ের কিছু ছবি নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তাদের সম্পর্ক বা বিয়ের বিষয়টি ব্যবহার করে কার্লোসের ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। রবার্তো কার্লোস বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা লেফট ব্যাক হিসেবে পরিচিত। ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ১২৫টির বেশি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি দীর্ঘদিন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেছেন এই তারকা। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি একাধিক লা লিগা ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছেন। বিশেষ করে শক্তিশালী ফ্রি কিক, গতি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের কারণে নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজারের দশকের শুরুতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন কার্লোস। এত বড় একজন ফুটবল তারকার ধর্মান্তরের খবর হওয়ায় দাবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ধর্মীয় পরিচয় একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল বিষয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা তৃতীয় পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত ঘোষণা করা সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে যথাযথ নয়। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবার্তো কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেছেন তুরস্কের সংসদ সদস্য আলি শাহিন। কিন্তু কার্লোস নিজে সেই দাবি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেননি। তার নিজের বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না আসা পর্যন্ত বিষয়টি দাবি হিসেবেই থাকছে।
লন্ডনের বাসে নিকাব পরার কারণে গালিগালাজ থেকে শুরু করে হত্যার হুমকির মুখে পড়েছেন ২১ বছর বয়সী মুসলিম তরুণী সালসাবিল। তার অভিযোগ, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। ধর্মীয় পোশাকের কারণে লন্ডনে প্রায় প্রতিদিনই থুতু ছোড়া, ধাক্কা দেওয়া এবং অপমানজনক আচরণের শিকার হতে হচ্ছে তাকে। সাম্প্রতিক একটি ঘটনার ভিডিও সামনে আসার পর বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ। বিবিসিকে সালসাবিল বলেন, গত ৩১ জুলাই সেন্ট্রাল লন্ডন থেকে বাড়ি ফেরার সময় প্রথম একটি বাসে তার নিকাব নিয়ে মৌখিকভাবে অপমান করা হয়। পরিস্থিতি এড়াতে তিনি সেই বাস থেকে নেমে পরের বাসে ওঠেন। কিন্তু সেখানেও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। দ্বিতীয় বাসে এক যাত্রী তার পোশাক নিয়ে গালিগালাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ সালসাবিলের। তিনি বসতে গেলে ওই ব্যক্তি আক্রমণাত্মকভাবে তাকে বাধা দেন এবং মুখের নিকাব নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে থাকেন। সালসাবিলের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি তাকে বলেন, মুখে এমন পোশাক পরে তিনি সেখানে স্বাগত নন। একপর্যায়ে নিকাবকে 'সন্ত্রাসবাদ' বলে মন্তব্য করেন ওই যাত্রী এবং সালসাবিল নিজে নিকাব না খুললে জোর করে সেটি খুলে দেওয়ার হুমকি দেন। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন ওই ব্যক্তি তাকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সালসাবিল। সে সময় বাসের আরেক যাত্রী তার পক্ষে এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে ওই যাত্রীর হাতাহাতিও হয়। সালসাবিল জানান, বাসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ওই একজনই সরাসরি তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে বাসের ড্রাইভার হস্তক্ষেপ করেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বাস থেকে নেমে যেতে বলা হয়। তিনি বাস থেকে নেমে গেলে সালসাবিলও উত্তর-পশ্চিম লন্ডনে নিজের নির্ধারিত স্টপে নেমে যান। ঘটনার সময় তিনি গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যে যাত্রী তার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তবে সালসাবিলের জন্য আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এমন অভিজ্ঞতা তার কাছে নতুন নয়। তার দাবি, ধর্মীয় পোশাকের কারণে লন্ডনে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে অপমান বা হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। তিনি বলেন, কখনো তার দিকে থুতু ছোড়া হয়, কখনো ধাক্কা দেওয়া হয় কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরে আঘাত করে চলে যাওয়া হয়। এত ঘনঘন এমন ঘটনা ঘটে যে সবকিছু রিপোর্ট করতে গেলে তাকে প্রায় সব সময়ই পুলিশ স্টেশনে থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ৩১ জুলাইয়ের বাসের ঘটনাটি সালসাবিল মেট্রোপলিটন পুলিশে রিপোর্ট করেননি। এর আগে ইসলামবিদ্বেষী হেইট ক্রাইমের একটি ঘটনা পুলিশকে জানিয়েও প্রত্যাশিত গুরুত্ব পাননি বলে তার অভিযোগ। সেই অভিজ্ঞতার কারণে নতুন করে পুলিশের কাছে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়েছেন তিনি। লন্ডনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা সালসাবিল জানান, শহরটিতে তিনি আগে সব সময় নিরাপদ বোধ করতেন। কিন্তু গত প্রায় এক বছর ধরে সেই অনুভূতি বদলে গেছে। বিশেষ করে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে চলাচলের সময় নিরাপত্তাহীনতা বেশি অনুভব করছেন তিনি। তার বক্তব্য, কোনো নারী হিজাব বা নিকাব পরবেন কি না, সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। পোশাকের কারণে কোনো নারীকে ভয় বা নির্যাতনের মধ্যে থাকতে হওয়া উচিত নয়। ঘটনাটির ভিডিও দেখেছে বিবিসি। ভিডিও সামনে আসার পর ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের নিরাপত্তা, পুলিশিং ও এনফোর্সমেন্ট বিভাগের পরিচালক সিওয়ান হেওয়ার্ড ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, লন্ডনের পরিবহন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে গিয়ে কারও ভয় পাওয়া বা হয়রানির শিকার হওয়া উচিত নয়। ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে যারা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন অথবা এ বিষয়ে তথ্য রয়েছে, তাদের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, তারা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সম্পর্কে অবগত এবং সালসাবিলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। পুলিশ বলেছে, লন্ডনের কোনো কমিউনিটিকেই ভয়ভীতি বা নির্যাতন সহ্য করতে হওয়া উচিত নয় এবং সব ধরনের হেইট ক্রাইম মোকাবিলায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। লন্ডনে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে রিপোর্ট হওয়া ধর্মভিত্তিক হেইট ক্রাইম ২৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে রিপোর্ট হওয়া ইসলামবিদ্বেষী অপরাধ বেড়েছে ৩১ শতাংশ। লন্ডনের ভিকটিমস কমিশনার আন্দ্রেয়া সাইমনও মনে করেন, সালসাবিলের অভিজ্ঞতাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে পোশাক দেখে যাদের মুসলিম বা অন্য কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষ হিসেবে সহজেই চিহ্নিত করা যায়, তারা এমন ঘটনার বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। ঘটনাটি এখন লন্ডনের পাবলিক ট্রান্সপোর্টে মুসলিম নারীদের নিরাপত্তা এবং হেইট ক্রাইম রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের আস্থার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতি বাড়াতে অভিনব উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে চালু হচ্ছে। নির্ধারিত সপ্তাহে প্রতিদিন সব ক্লাসে উপস্থিত থাকলে হাইস্কুল শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ১০০ ডলার এবং মিডল স্কুল শিক্ষার্থীরা ৫০ ডলারের ভিসা গিফট কার্ড পাবে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ডেট্রয়েট পাবলিক স্কুলস কমিউনিটি ডিস্ট্রিক্ট তাদের 'পারফেক্ট অ্যাটেনডেন্স পেইস' কর্মসূচিতে মিডল স্কুল শিক্ষার্থীদেরও যুক্ত করছে। এই কর্মসূচি অবশ্য নতুন নয়। ডেট্রয়েটের হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুপস্থিতি কমাতে আগের দুই বছর ধরে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত পাঁচ দিনের প্রতিটি চক্রে শতভাগ উপস্থিতি ধরে রাখতে পারলে একজন হাইস্কুল শিক্ষার্থী ১০০ ডলারের গিফট কার্ড পেয়েছে। পুরো কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ এক হাজার ডলার পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ ছিল। ডিস্ট্রিক্টের তথ্য অনুযায়ী, গত শিক্ষাবর্ষে প্রায় ১২ হাজার ৮০০ হাইস্কুল শিক্ষার্থী অন্তত একবার ১০০ ডলারের গিফট কার্ড পেয়েছে। ডেট্রয়েটের ২৬টি হাইস্কুলে মোট ১৫ হাজার ২৪৭ শিক্ষার্থী ছিল। অর্থাৎ প্রায় ৮৪ শতাংশ হাইস্কুল শিক্ষার্থী অন্তত একটি পেমেন্ট পেয়েছে। শুধু স্কুলে হাজির হলেই অবশ্য টাকা পাওয়া যায় না। নির্ধারিত পাঁচ দিনের চক্রে শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন স্কুলে থাকতে হয় এবং নির্ধারিত প্রতিটি ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হয়। উপস্থিতির তথ্য স্কুলের রেকর্ডের মাধ্যমে যাচাই করার পর যোগ্য শিক্ষার্থীদের গিফট কার্ড দেওয়া হয়। কর্মসূচিটির ফলাফলও নজরে পড়ার মতো। ডিস্ট্রিক্টের হিসাবে, হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির হার কর্মসূচি শুরুর আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে হাইস্কুল পর্যায়ে এই হার ছিল ৬৪ শতাংশ। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এপ্রিলের শেষ নাগাদ তা কমে প্রায় ৫৪ শতাংশে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণভাবে কোনো শিক্ষার্থী একটি শিক্ষাবর্ষের মোট স্কুল দিবসের অন্তত ১০ শতাংশ অনুপস্থিত থাকলে তাকে দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিত শিক্ষার্থী হিসেবে ধরা হয়। ১৮০ দিনের একটি শিক্ষাবর্ষে প্রায় ১৮ দিন বা তার বেশি স্কুল মিস করলে এই শ্রেণিতে পড়তে পারে একজন শিক্ষার্থী। ডেট্রয়েটে সমস্যাটি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুতর। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে পুরো ডিস্ট্রিক্টের প্রায় ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির তালিকায় ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, বিশেষ করে হাইস্কুল পর্যায়ে নিয়মিত উপস্থিতি ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। এই কারণেই জানুয়ারি থেকে মার্চের সময়কে আর্থিক প্রণোদনার জন্য গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শীতের এই সময়টিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সাধারণত কমে যায়। অথচ একই সময়ে নিয়মিত ক্লাস করা ক্রেডিট অর্জন এবং সময়মতো গ্র্যাজুয়েশনের পথে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ডিস্ট্রিক্টের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বছরে ১৮ দিন বা তার কম স্কুল মিস করা শিক্ষার্থীরা স্টেট অ্যাসেসমেন্টে গ্রেড লেভেল বা তার ওপরে ফল করার ক্ষেত্রে তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি সম্ভাবনাময়। এ কারণেই শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, সরাসরি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার কৌশল বেছে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগের কর্মসূচিটি শুধু নবম থেকে দ্বাদশ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সেটি মিডল স্কুলেও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ উপস্থিতির সপ্তাহে ১০০ ডলারের প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে, আর যোগ্য মিডল স্কুল শিক্ষার্থীরা একইভাবে সপ্তাহে ৫০ ডলার পাবে। 'পারফেক্ট অ্যাটেনডেন্স পেইস' ডেট্রয়েট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের বৃহত্তর উপস্থিতি উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি অংশ। ডিস্ট্রিক্টের 'ব্লুপ্রিন্ট ২০২৭' পরিকল্পনায় গড় দৈনিক উপস্থিতি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির হার ৪২ দশমিক ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্কুলে উপস্থিতির বিনিময়ে সরাসরি আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার এই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা থাকলেও ডেট্রয়েট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য স্পষ্ট - শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে ফিরিয়ে আনা, পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা বাড়ানো এবং তাদের গ্র্যাজুয়েশনের পথে ধরে রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ও পরিচিত চাকরির খোঁজে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য ইউএস পোস্টাল সার্ভিস বা ইউএসপিএস হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মক্ষেত্র। শুধু মেইল ডেলিভারি নয়, ড্রাইভার, মেইল প্রসেসিং, কাস্টমার সার্ভিস, মেইনটেন্যান্সসহ বিভিন্ন ধরনের পদে প্রতিষ্ঠানটি সারা বছর প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগ দেয়। বর্তমানে ফুল টাইম, পার্ট টাইম ও সিজনাল চাকরির সুযোগও রয়েছে। ইউএসপিএসের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, চাকরিতে নিয়োগের সময় সাধারণভাবে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হয়। তবে হাইস্কুল ডিপ্লোমা থাকলে ১৬ বছর বয়সেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যোগ্য হওয়া যায়। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট অর্থাৎ গ্রিন কার্ডধারী অথবা আমেরিকান সামোয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি স্থায়ী আনুগত্য থাকা কোনো টেরিটরির নাগরিক হতে হবে। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অ্যাসাইলাম বা রিফিউজি স্ট্যাটাস থাকলেই ইউএসপিএসের চাকরির যোগ্যতা পূরণ হয় না। ইউএসপিএসের বর্তমান নিয়োগ নীতিতে শুধুমাত্র অ্যাসাইলাম, রিফিউজি বা কন্ডিশনাল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস থাকা ব্যক্তিদের চাকরির জন্য অযোগ্য বলা হয়েছে। ফলে আবেদন করার আগে নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। প্রাথমিক যোগ্যতার পাশাপাশি আবেদনকারীর সাম্প্রতিক চাকরির ইতিহাস যাচাই করা হতে পারে। ক্রিমিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড চেক, ড্রাগ স্ক্রিনিং ও মেডিকেল অ্যাসেসমেন্টও নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। যেসব পদের সঙ্গে গাড়ি চালানোর দায়িত্ব রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে বৈধ ড্রাইভার লাইসেন্স ও গ্রহণযোগ্য ড্রাইভিং রেকর্ড প্রয়োজন হতে পারে। প্রযোজ্য ব্যক্তিদের সিলেক্টিভ সার্ভিস রেজিস্ট্রেশনের শর্তও পূরণ করতে হয়। ইউএসপিএসে বহুল নিয়োগ পাওয়া পদের মধ্যে রয়েছে সিটি ক্যারিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট, রুরাল ক্যারিয়ার অ্যাসোসিয়েট, মেইল হ্যান্ডলার অ্যাসিস্ট্যান্ট, পিএসই মেইল প্রসেসিং ক্লার্ক, পিএসই সেলস অ্যান্ড সার্ভিসেস বা ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েট, মোটর ভেহিকল অপারেটর, অটোমোটিভ টেকনিশিয়ান এবং বিভিন্ন মেইনটেন্যান্স ও কাস্টডিয়াল পদ। বেতন পদ, লোকেশন এবং চাকরির ক্যাটাগরি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। উদাহরণ হিসেবে ২০২৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সিটি ক্যারিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্টের ঘণ্টাপ্রতি বেতন ২১ ডলারের বেশি, মেইল হ্যান্ডলার অ্যাসিস্ট্যান্টের প্রায় ১৯ ডলার এবং পিএসই সেলস অ্যান্ড সার্ভিসেস বা ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েটের বেতন ঘণ্টায় ২১ ডলারের বেশি ছিল। তবে এটিকে দেশজুড়ে সব পদের নির্দিষ্ট বেতন হিসেবে ধরা যাবে না। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট জব পোস্টিংয়ে উল্লেখ করা বেতনই চূড়ান্ত হিসেবে দেখতে হবে। অনেকের কাছে ইউএসপিএস চাকরির বড় আকর্ষণ বেতনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বেনিফিট। বিশেষ করে ক্যারিয়ার কর্মীরা যোগ্যতা অনুযায়ী হেলথ বেনিফিট, লাইফ ইন্স্যুরেন্স, রিটায়ারমেন্ট সুবিধা, থ্রিফট সেভিংস প্ল্যান বা টিএসপি, অ্যানুয়াল লিভ এবং সিক লিভের মতো সুবিধা পেতে পারেন। টিএসপি ফেডারেল কর্মীদের অবসরকালীন সঞ্চয় ব্যবস্থার মতো একটি পরিকল্পনা। যোগ্য কর্মীদের ক্ষেত্রে ইউএসপিএস বেসিক পের একটি নির্দিষ্ট অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কন্ট্রিবিউট করে এবং নির্দিষ্ট নিয়মে কর্মীর নিজের কন্ট্রিবিউশনের বিপরীতেও অর্থ যোগ হতে পারে। তবে সব নন-ক্যারিয়ার বা অস্থায়ী পদের বেনিফিট ক্যারিয়ার পদের মতো নয়। তাই চাকরির অফার গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট পদের বেনিফিট আলাদাভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন করতে ইউএসপিএসের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টালে গিয়ে প্রথমে পছন্দের পদের নাম ও লোকেশন দিয়ে চাকরি খুঁজতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নতুন অনলাইন জব অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম চালু করছে। ফলে কিছু চাকরির আবেদন নতুন ইউএসপিএস ক্যারিয়ারস সিস্টেমে নেওয়া হচ্ছে, আবার কিছু পদ এখনো পুরোনো ই-ক্যারিয়ার সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে। মেইল হ্যান্ডলার অ্যাসিস্ট্যান্ট, সিটি ক্যারিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট, পিএসই মেইল প্রসেসিং ক্লার্ক এবং পিএসই সেলস অ্যান্ড সার্ভিসেস বা ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েটের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য নতুন ইউএসপিএস ক্যারিয়ারস সিস্টেম ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। কোন সিস্টেমে আবেদন করতে হবে তা সংশ্লিষ্ট জব পোস্টিংয়ে উল্লেখ থাকে। কিছু এন্ট্রি লেভেল পদের জন্য ভার্চুয়াল এন্ট্রি অ্যাসেসমেন্ট বা ভিইএ দিতে হয়। এর মধ্যে মেইল ক্যারিয়ার পদের জন্য ভিইএ ৪৭৪, মেইল হ্যান্ডলার পদের জন্য ৪৭৫, মেইল প্রসেসিং পদের জন্য ৪৭৬ এবং কাস্টমার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট পদের জন্য ৪৭৭ ব্যবহৃত হয়। এই পরীক্ষাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ইউএসপিএসের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী নির্দিষ্ট একটি ভিইএ পরীক্ষায় পাস না করলে সাধারণভাবে একই পরীক্ষাটি আবার দিতে ১২ মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে অন্য ধরনের পদের জন্য প্রয়োজনীয় ভিন্ন ভিইএ পরীক্ষায় আবেদন করা যেতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় অ্যাসেসমেন্ট, বিভিন্ন প্রি-এমপ্লয়মেন্ট চেক এবং পদের শর্ত অনুযায়ী পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। যোগ্য প্রার্থীরা পরবর্তী ধাপে চাকরির অফার ও প্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড বা অন্যান্য যাচাই প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো, ইউএসপিএসের চাকরির জন্য আবেদন করতে কোনো আবেদন ফি লাগে না। ইউএসপিএস নিজেও স্পষ্টভাবে সতর্ক করে যে পোস্টাল চাকরির আবেদন করার জন্য টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো মাধ্যমে টাকা নিয়ে ইউএসপিএসের চাকরি নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রস্তাব এলে তা থেকে দূরে থাকা উচিত। বিশেষ করে নতুন ইমিগ্র্যান্ট ও গ্রিন কার্ডধারী বাংলাদেশিদের জন্য ইউএসপিএসের অনেক এন্ট্রি লেভেল পদ ভালো একটি চাকরির পথ হতে পারে। তবে একই নামের চাকরিতেও লোকেশনভেদে বেতন, কাজের সময়, ড্রাইভিংয়ের প্রয়োজন, অ্যাসেসমেন্ট এবং বেনিফিট আলাদা হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় শুধু পদের নাম নয়, পুরো জব পোস্টিং এবং যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে পড়েই অ্যাপ্লিকেশন জমা দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
গাড়ি চালানো হচ্ছে না, ইঞ্জিনও বন্ধ। তারপরও হঠাৎ আগুন ধরে যেতে পারে। এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর ১৫ লাখের বেশি গাড়ি রিকল করা হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে নির্দিষ্ট মডেলের গাড়ির মালিকদের বাড়ি, গ্যারেজ ও অন্য গাড়ি থেকে দূরে খোলা জায়গায় পার্ক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এনএইচটিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসেই অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে ১৭টি 'পার্ক আউটসাইড' রিকল ক্যাম্পেইন হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এ ধরনের সতর্কতা দ্রুত বাড়ছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নির্দিষ্ট জিপ র্যাংলার, জিপ গ্ল্যাডিয়েটর, কিয়া টেলুরাইড এবং বিএমডব্লিউ ৫৩০ই এক্সড্রাইভসহ বেশ কিছু গাড়ির মালিককে বাড়ি বা অন্য গাড়ি থেকে দূরে পার্ক করতে বলা হয়েছে। সবচেয়ে বড় সাম্প্রতিক রিকলগুলোর একটি জিপের। জুনে স্টেলান্টিস ২০২১ থেকে ২০২৫ মডেল ইয়ারের ১০ লাখ ৭৬ হাজার ৯৯৯টি জিপ র্যাংলার ও জিপ গ্ল্যাডিয়েটর রিকল করে। এসব গাড়িতে হাইড্রোলিক পাওয়ার স্টিয়ারিং পাম্পের বৈদ্যুতিক তারের সমস্যার কারণে আগুন লাগার ঝুঁকি শনাক্ত করা হয়। এই সমস্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৫১টি অগ্নিকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় আহত হওয়ার তথ্যও রয়েছে। গাড়ি বন্ধ থাকার সময়ও আগুন লাগতে পারে বলে মালিকদের সতর্ক করা হয়। এরপর জুলাইয়ে কিয়া ২০২০ থেকে ২০২৪ মডেল ইয়ারের ৪ লাখ ৬২ হাজার ৮৬৯টি টেলুরাইড রিকল করে। এনএইচটিএসএ জানায়, সামনের পাওয়ার সিটের মোটর অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন ধরে যেতে পারে। কিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এ সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত সাতটি সিটে আগুন লাগার ঘটনা এবং ১১টি সিট মোটর গলে যাওয়ার ঘটনা তাদের জানা রয়েছে। সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এসব গাড়ি ভবন ও অন্য গাড়ি থেকে দূরে বাইরে পার্ক করতে বলা হয়েছে। কিয়া টেলুরাইডের ক্ষেত্রে সামনের পাওয়ার সিটের স্লাইড কভার বা নব আঘাত পেলে সুইচ সরে যেতে বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে মোটর একটানা চলতে থেকে অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আগের রিকলের অধীনে সঠিকভাবে মেরামত না হলেও একই ঝুঁকি থাকতে পারে। এই রিকলের আওতাভুক্ত কিয়া টেলুরাইডে ডিলাররা বিনা খরচে একটি ইলেকট্রনিক ফিউজ অ্যাসেম্বলি বসাবে। নতুন ব্যবস্থাটি সিটের সুইচে সমস্যা হলে মোটরকে একটানা চলা থেকে রক্ষা করবে। এ ধরনের রিকলকে 'পার্ক আউটসাইড' রিকল বলা হয়। কারণ আগুনের ঝুঁকি শুধু গাড়ি চালানোর সময় নয়, গাড়ি পার্ক করা এবং ইঞ্জিন বন্ধ থাকার সময়ও থাকতে পারে। এ কারণেই মালিকদের সাধারণ গ্যারেজের পরিবর্তে ভবন ও অন্য গাড়ি থেকে দূরে খোলা জায়গায় গাড়ি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। সাবেক এনএইচটিএসএ তদন্তকারী ফ্র্যাঙ্ক বরিসের মতে, আধুনিক গাড়িতে ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার পরও কিছু বৈদ্যুতিক সার্কিট সক্রিয় বা গরম থাকতে পারে। গাড়িতে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অল্প জায়গায় আরও বেশি প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে। এতে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে অতিরিক্ত তাপ বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পরিসংখ্যানেও উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০টি 'পার্ক আউটসাইড' রিকল হয়েছিল। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয় ১৯টি। আর ২০২৬ সালের শুধু জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যেই এমন ১৭টি রিকল হয়েছে। গাড়ির মালিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের গাড়ি কোনো রিকলের আওতায় আছে কি না তা যাচাই করা। এনএইচটিএসএর রিকল ব্যবস্থায় গাড়ির ১৭ ডিজিটের ভেহিকল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা ভিআইএন দিয়ে নির্দিষ্ট গাড়ির রিকল স্ট্যাটাস জানা যায়। কোনো গাড়ির জন্য 'পার্ক আউটসাইড' নির্দেশনা থাকলে মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সেটি বাড়ির গ্যারেজে বা অন্য গাড়ির পাশে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ কিছু ক্ষেত্রে আগুন লাগার জন্য গাড়ির চলমান থাকা প্রয়োজন নেই। ইঞ্জিন বন্ধ অবস্থাতেও বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।