সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে মোতায়েন রয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। ছবি: সংগৃহীত
টানা ৩৮ সপ্তাহ সাগরে ভাসমান মার্কিন রণতরী, খাবার ও মানসিক সংকটে ধুঁকছেন নৌসেনারা

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান এবং জাহাজের জীবনযাত্রার দুরবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন নিয়ে থাকা রণতরীটি মাসের পর মাস বন্দরে না ফিরেই মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালন করছে। এ সময়ে খাবার ও পানির সংকট, পরিচ্ছন্নতা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তাদের পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।   ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বর্তমানে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে। চলতি মোতায়েনটি ইতোমধ্যে ২৫০ দিনের বেশি ছাড়িয়েছে, যা রণতরীটির জন্য আধুনিক সময়ের অন্যতম দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় পরিণত হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, এটি প্রায় ৩৮ সপ্তাহের সমান সময়।   সাধারণত মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোকে ৩০ থেকে ৪৫ দিন পরপর কোনো বন্দরে নেওয়া হয়। এতে নাবিকেরা বিশ্রামের সুযোগ পান, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও খাবার সংগ্রহ করা যায় এবং জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণও করা সম্ভব হয়। কিন্তু আব্রাহাম লিংকনের বর্তমান মোতায়েনে এমন নিয়মিত বন্দর বিরতি খুবই সীমিত ছিল।   জাহাজের নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে নাবিকদের মধ্যে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ বাড়ছে। খাবার ও পানির সরবরাহ নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। পাশাপাশি ডাকব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে নাবিকদের স্বাভাবিক বিশ্রামের সুযোগও কমে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।   পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন নাবিকের পরিবার জানিয়েছে, জাহাজে সাবান, টুথপেস্ট ও ডিওডোরেন্টের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে। কিছু গোসলখানা ও শৌচাগারের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   খাবারের মান নিয়েও উদ্বেগের কথা সামনে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ও বৈচিত্র্যময় খাবার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন নাবিক। সরবরাহব্যবস্থার ওপর দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার চাপের কারণে তাজা খাবারের প্রাপ্যতাও সীমিত হয়ে পড়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে। একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান মোতায়েনের সময় কয়েকজন নাবিক জাহাজের বাইরে পড়ে যাওয়ার বা ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে তাদের পরিবার জানিয়েছে। ৩ আগস্ট একজন নাবিক পানিতে পড়ে যাওয়ার পর তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে নৌবাহিনী বর্তমান মোতায়েনে আত্মহত্যার চেষ্টা বা আত্মহানির ঘটনার নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি।   মার্কিন নৌবাহিনী অবশ্য জাহাজে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সহায়তা থাকার কথা জানিয়েছে। নাবিকদের জন্য পরামর্শদাতা, ধর্মীয় কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং অন্যান্য সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, নেতৃত্ব নাবিকদের মানসিক প্রস্তুতি ও সুস্থতার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।   এদিকে নাবিকদের পরিবারের অভিযোগ নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ও নৌবাহিনীর বক্তব্যও এসেছে। কর্মকর্তারা জাহাজের পরিস্থিতিকে সংবাদমাধ্যমে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তার কিছু অংশকে অতিরঞ্জিত বা ভুলভাবে উপস্থাপিত বলে দাবি করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ১৪ আগস্ট আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ মোতায়েন নিয়ে উদ্বেগকে খারিজ করে বলেন, রণতরীটির বর্তমান মিশন নিয়ে পরিবারগুলোর উদ্বেগ নেই।   তবে নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা এসব বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন। তাদের অভিযোগ, যারা জাহাজে রয়েছেন তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। কয়েকটি পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘ মোতায়েনের কারণে তাদের স্বজনদের শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপে পড়তে হচ্ছে।   দীর্ঘ মোতায়েনের প্রভাব শুধু নাবিকদের ওপরই নয়, জাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। সমুদ্রে থাকা অবস্থায় পূর্ণাঙ্গ রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ সীমিত থাকে। পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি অবস্থান করায় নিয়মিত বন্দরে গিয়ে খাবার, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।   এই পরিস্থিতিতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পরিবর্তে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে। নতুন রণতরীটি আব্রাহাম লিংকনের দায়িত্বের কিছু অংশ গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে থাকা আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের দেশে ফেরার বা বিশ্রামের সুযোগ তৈরি হতে পারে।   তবে নতুন রণতরী পাঠানোর সিদ্ধান্তকে নৌবাহিনীর স্বাভাবিক ঘূর্ণায়মান মোতায়েনের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। একই সময়ে দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিমানবাহী রণতরীকে সক্রিয় রাখার কারণে মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।   ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ঘটনা তাই শুধু একটি রণতরীর দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার বিষয় নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক মোতায়েনে নাবিকদের বিশ্রাম, খাবার, সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কতটা চাপ পড়ে, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। পরিবারের অভিযোগ ও সরকারি বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় জাহাজটির প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে আরও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২৩:৫৭
১৮৫টি দেশে ভ্রমণের মাইলফলক অর্জন করেছেন বাংলাদেশি অভিযাত্রী নাজমুন নাহার। ছবি: সংগৃহীত
১৮৫ দেশে ভ্রমণের মাইলফলক স্পর্শ করলেন বাংলাদেশি অভিযাত্রী নাজমুন নাহার, গড়লেন অনন্য রেকর্ড

বাংলাদেশি অভিযাত্রী ও ভ্রমণকন্যা নাজমুন নাহার ১৮৫টি দেশ ভ্রমণের মাইলফলক অর্জন করেছেন। গত ৭ আগস্ট ভুটান সফরের মধ্য দিয়ে ১৮৫তম দেশে পা রাখেন তিনি। তার এই অর্জনকে বাংলাদেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ভ্রমণ মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৬ বছরের দীর্ঘ ভ্রমণযাত্রায় নাজমুন নাহার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা বহন ও উত্তোলন করেছেন। পাহাড়, দুর্গম পর্বত, মরুভূমি, সাগর, মহাসাগর, দ্বীপ এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনাসহ ১ হাজার ২৯৪টিরও বেশি স্থানে তিনি বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেছেন।   তার এই দীর্ঘ যাত্রা অবশ্য সবসময় সহজ ছিল না। দুর্গম সীমান্ত, দীর্ঘ সড়কপথ এবং নানা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে একক ভ্রমণ করেছেন তিনি। বিশেষ করে বিশ্বের স্থলবেষ্টিত দেশগুলোর মধ্যে সড়কপথে ভ্রমণকে নিজের অভিযাত্রার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরেছেন নাজমুন। ২০০০ সালে ভারতের একটি আন্তর্জাতিক অ্যাডভেঞ্চার কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তার বিশ্বভ্রমণের শুরু। এরপর ধীরে ধীরে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ছুটে চলেছেন তিনি। ভ্রমণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতি তুলে ধরাকে নিজের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন নাজমুন।   ২০১৮ সালের ১ জুন জিম্বাবুয়ে সফরের মাধ্যমে ১০০টি দেশ ভ্রমণের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এরপর ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর সাও টোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপে সফরে তার ভ্রমণ করা দেশের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫০-এ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভানুয়াতু সফরের মাধ্যমে তা ১৭৫-এ পৌঁছায়। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাহামাস সফরে ১৮৪টি দেশে ভ্রমণ সম্পন্ন করেন তিনি। সর্বশেষ ভুটান সফরের মাধ্যমে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৫-তে।   বিশ্বভ্রমণের সময় নাজমুন নাহার শুধু পর্যটন বা ব্যক্তিগত অভিযাত্রায় সীমাবদ্ধ থাকেননি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও দেশের বিভিন্ন অর্জনের কথা তুলে ধরেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। এ জন্য বিশ্বের শতাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্যও দিয়েছেন তিনি। তার ভ্রমণযাত্রার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শান্তি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং শিশুবিবাহ বন্ধের বার্তাও। ‘যুদ্ধ নয়, শুধু শান্তি’, ‘পৃথিবীকে রক্ষা করুন’ এবং ‘শিশুবিবাহ বন্ধ করুন’ - এসব বার্তা নিয়ে বিভিন্ন দেশে প্রচার চালিয়েছেন তিনি।   তরুণদের অনুপ্রেরণা দেওয়াও নাজমুন নাহারের কর্মকাণ্ডের অন্যতম দিক। সাহস, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস, মানবিক মূল্যবোধ ও নিজের লক্ষ্য পূরণের দৃঢ়তা নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কথা বলেছেন তিনি। টেডএক্সের মঞ্চেও বক্তব্য দিয়েছেন এই বাংলাদেশি অভিযাত্রী। ভ্রমণের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন নাজমুন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘সাফার ফর পিস’-এর শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পরিচালিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সহায়তা এবং শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি।   দীর্ঘ ভ্রমণ ও মানবিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে ৭০টির বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও পুরস্কার পাওয়ার কথা জানিয়েছেন নাজমুন নাহার। এর মধ্যে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া ‘পিস টর্চ বেয়ারার অ্যাওয়ার্ড’ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের সরকার ও প্রতিষ্ঠান থেকেও স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে জাম্বিয়া সরকার তাকে ‘ফ্ল্যাগ গার্ল’ উপাধিতে সম্মানিত করে। ২০২৩ সালে সেন্ট লুসিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ জে পিয়েরে তাকে ‘ব্রেভ গার্ল’ উপাধিতে ভূষিত করেন।   নাজমুন নাহারের ১৮৪টি দেশ ভ্রমণের মাইলফলকও এর আগে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাহামাস সফরের মাধ্যমে ১৮৪টি দেশ ভ্রমণ সম্পন্ন করার পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স তাকে সম্মাননা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের পতাকা ১৮৪টি দেশে বহন করার জন্য তাকে ‘ফ্ল্যাগ লরিয়েট অব ন্যাশনাল প্রাইড’ উপাধিতে সম্মানিত করে।   নাজমুনের ভ্রমণযাত্রার বিশেষত্ব হলো, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলা। ১৮৫টি দেশে পৌঁছানোর মাধ্যমে তার এই দীর্ঘ অভিযাত্রা বাংলাদেশের নাম ও পতাকাকে বিশ্বের আরও বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরেছে।   ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮৫তম দেশের মাইলফলক অর্জনের পরও নাজমুন নাহারের ভ্রমণযাত্রা থেমে নেই। বিশ্বকে কাছ থেকে দেখা, বাংলাদেশের পরিচিতি তুলে ধরা এবং শান্তি ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তার এই অভিযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২৩:৪১
৪০টি বৃত্তি নিয়ে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাচ্ছেন ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী আদেওলা আদেয়েমো। ছবি: সংগৃহীত
২০০টির বেশি স্কলারশিপে আবেদন করে ৪০টি পেলেন তরুণী, পড়বেন আইভি লিগের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার টাম্পার এক সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থী ২০০টির বেশি বৃত্তির জন্য আবেদন করে ৪০টি বৃত্তি পেয়েছেন। এসব বৃত্তির অর্থ ব্যবহার করেই এবার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রিন্সটনে পড়ার স্বপ্ন পূরণ করতে যাচ্ছেন আদেওলা আদেয়েমো।   কলেজে পড়ার খরচ কমানোই ছিল তার মূল লক্ষ্য। তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নয়, উচ্চমাধ্যমিকের শেষ সময়টায় তিনি নিয়মিত বিভিন্ন বৃত্তির জন্য আবেদন করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৪০টি বৃত্তি পাওয়ার পর প্রিন্সটনে পড়ার আর্থিক চাপ অনেকটাই কমেছে তার। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আদেওলা বলেন, কলেজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে খরচই ছিল তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার ভাষায়, কলেজ নির্বাচনের সময় মূল্য ও সামর্থ্যকে তিনি সবকিছুর ওপরে রেখেছিলেন।   বৃত্তি পাওয়ার জন্য তার প্রচেষ্টার পরিমাণও ছিল উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএসভিএনকে তিনি জানান, ভ্রমণের সময়, বন্ধুদের বাড়িতে, ক্লাসের মাঝের অবসর সময়ে এমনকি দুপুরের খাবারের বিরতিতেও তিনি বৃত্তির আবেদন করতেন। তার যুক্তি ছিল, বৃত্তির অর্থ দাবি না করলে সেই অর্থ অন্য কেউ পেয়ে যাবে, তাই নিজের সুযোগ কাজে লাগাতে তিনি নিয়মিত আবেদন করে গেছেন।   প্রিন্সটনে এবার শরৎকালীন শিক্ষাবর্ষে পড়াশোনা শুরু করবেন আদেওলা। তার লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি অপারেশনস রিসার্চ অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ার পরিকল্পনা করছেন এবং ২০৩০ সালে স্নাতক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রিন্সটনের এই বিভাগে পরিসংখ্যান, সম্ভাব্যতা, গণিতভিত্তিক বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো বিষয় পড়ানো হয়।   প্রিন্সটন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত একটি বেসরকারি আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ের টিউশন ফি ৬৮ হাজার ১৪০ ডলার। এর সঙ্গে আবাসন, খাবার, বই ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ যোগ হলে এক শিক্ষাবর্ষের আনুমানিক মোট ব্যয় ৯৪ হাজার ৬২৪ ডলারে পৌঁছাতে পারে।   এত বড় অঙ্কের খরচের কারণে আদেওলার কাছে বৃত্তি সংগ্রহ ছিল শুধু অতিরিক্ত সুবিধা নয়, বরং প্রিন্সটনে পড়ার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ৪০টি বৃত্তির অর্থ তিনি টিউশনসহ কলেজের বিভিন্ন ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করবেন। আদেওলা উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময়ও বিভিন্ন বৃত্তির সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। ২০২৬ সালের বৃত্তিপ্রাপকদের তালিকায় তার নাম রয়েছে ডিবার্তোলো ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের বৃত্তি কর্মসূচিতেও। একই বছরে অ্যাকচুয়ারিয়াল ফাউন্ডেশনের ‘এসটিইএম স্টারস’ কর্মসূচিতেও তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। ওই কর্মসূচিতে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের চার বছরে মোট ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়।   বিভিন্ন বৃত্তির পাশাপাশি তার একাডেমিক ও সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডও উল্লেখযোগ্য। ডিইসিএর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের বৃত্তিপ্রাপকদের তালিকাতেও আদেওলার নাম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার ব্যয় গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর খরচ অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি, অনুদান ও আর্থিক সহায়তার জন্য প্রতিযোগিতাও বাড়ছে।   আদেওলার গল্পে সেই বাস্তবতার পাশাপাশি অন্য একটি দিকও উঠে এসেছে। প্রিন্সটনের মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও তিনি শুধু ভর্তি নিশ্চিত করেই থেমে থাকেননি। বরং পড়াশোনার খরচ কমাতে শত শত বৃত্তির সুযোগ খুঁজেছেন এবং যেসব বৃত্তির জন্য যোগ্য মনে করেছেন, সেগুলোতে আবেদন করেছেন।   এখন প্রিন্সটনে পড়াশোনা শুরু করার পরও থামতে চান না আদেওলা। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের খরচ মেটাতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ও নতুন বৃত্তির জন্য আবেদন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।   তার এই প্রচেষ্টা দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার খরচ অনেক বেশি হলেও বৃত্তির সুযোগ খুঁজে পরিকল্পিতভাবে আবেদন করলে শিক্ষার্থীরা আর্থিক চাপ কমানোর সুযোগ পেতে পারেন। তবে প্রতিটি বৃত্তির যোগ্যতা, আবেদনের সময়সীমা ও শর্ত আলাদা হওয়ায় আগে থেকেই পরিকল্পনা করে আবেদন করাই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২৩:৩০
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে প্যাডলবোর্ডিং করার সময় পানিতে ডুবে মারা যান কৌশিক শর্মা। ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সিতে পরিবারের সঙ্গে পিকনিকে গিয়ে লেকে ডুবে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির মৃত্যু

নিউ জার্সির মরিস কাউন্টির লেক হোপাটকংয়ে পরিবারের সঙ্গে পিকনিকে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছেন ৪১ বছর বয়সী কৌশিক শর্মা। তিনি এডিসনের বাসিন্দা ছিলেন। মরিস কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় তার পরিচয় নিশ্চিত করেছে।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে লেক হোপাটকংয়ে প্যাডেলবোর্ডিং করার সময় নিখোঁজ হন কৌশিক। স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ২টার দিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা পানিতে একটি পরিত্যক্ত প্যাডেলবোর্ড ভাসতে দেখে বিষয়টি সৈকতের লাইফগার্ডকে জানান। এরপর একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কৌশিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি এমন একটি এলাকায় প্যাডেলবোর্ডিং করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে লাইফগার্ডের তত্ত্বাবধান ছিল না।   কৌশিকের মৃত্যুর পর তার পরিবার ও বন্ধুদের পক্ষ থেকে একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাকে এডিসনের বাসিন্দা, দুই সন্তানের বাবা এবং পরিবারের সঙ্গে পিকনিকে থাকা অবস্থায় আকস্মিকভাবে মারা যাওয়া একজন প্রিয়জন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগটির আয়োজক রাকেশ আহিরওয়ার লিখেছেন, কৌশিকের আকস্মিক মৃত্যু তার স্ত্রী, দুই সন্তান, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়েছে। তার বর্ণনায়, কৌশিক এডিসন, বিএপিএস, এডিসন স্কুল পিটিএ বোর্ড ও গুজরাটি সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন সহানুভূতিশীল ও সহযোগিতাপ্রবণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।   পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে এমন একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে, যিনি প্রয়োজনের সময় অন্যদের পাশে দাঁড়াতেন এবং সাহায্যের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও পরিচিতদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। এদিকে কৌশিকের মৃত্যুর ঘটনায় মরিস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুর ঘটনা এখনো তদন্তাধীন। তবে প্রাথমিকভাবে এতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা সন্দেহ করা হচ্ছে না।   কৌশিকের মৃত্যুর মাত্র এক দিন আগেও মরিস কাউন্টির আরেকটি হ্রদে প্যাডেলবোর্ডিং করতে গিয়ে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছিল। ১৫ আগস্ট শনিবার টিলকন লেকে ২৩ বছর বয়সী জোনাথন গ্রেসো প্যাডেলবোর্ডিংয়ের সময় পানিতে ডুবে মারা যান বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। লেক হোপাটকং নিউ জার্সির অন্যতম বড় মিঠাপানির হ্রদ এবং গ্রীষ্মকালে এখানে নৌভ্রমণ, সাঁতার ও প্যাডেলবোর্ডিংসহ বিভিন্ন জলক্রীড়া জনপ্রিয়। তবে লাইফগার্ডের তত্ত্বাবধানের বাইরে পানিতে নামা এবং জলক্রীড়ার সময় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।   কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কৌশিক কীভাবে পানিতে ডুবে গেলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং তদন্তের পর তার মৃত্যুর বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২২:৫৪
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়ার আগে বাড়িওয়ালার সঙ্গে কথাবার্তায় সতর্ক থাকা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাসা ভাড়া নিচ্ছেন? যে ৫ টি ভুলে হাতছাড়া হতে পারে পছন্দের বাসা

গত এক দশকে অনেকের জন্যই নিজের বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়াবাড়িতে জীবনযাপন করাটা বেশি সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট বিষয়ক ওয়েবসাইট 'রিয়েল্টর ডটকম'-এর (Realtor.com) অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, শীর্ষ ৫০টি মেট্রোপলিটন শহরে এখনও বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়া থাকাই বেশি সাশ্রয়ী। তবে, পকেটে টাকা থাকলেই যে আপনি আপনার স্বপ্নের মতো একটি বাসা সহজেই ভাড়া পেয়ে যাবেন, বিষয়টি এতটাও সহজ নয়।   বাড়িওয়ালার মন জয় করা এবং নিজেকে একজন দায়িত্বশীল ও ঝামেলামুক্ত ভাড়াটিয়া হিসেবে প্রমাণ করার প্রক্রিয়ায় আপনি এমন কিছু কথা মুখ ফসকে বলে ফেলতে পারেন, যার কারণে ভালো একটি বাসা হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। একটি দারুণ বাসা পাওয়ার দৌড়ে টিকে থাকতে হলে বাসা পরিদর্শনের সময় কিছু কথা একেবারেই বলা উচিত নয়। চলুন জেনে নিই এমন ৫টি বিষয় সম্পর্কে:   ১. 'আমি আমার বর্তমান বাড়িওয়ালাকে একদম পছন্দ করি না' নতুন বাসা দেখতে গেলে বাড়িওয়ালা স্বভাবতই জানতে চাইবেন কেন আপনি আগের বাসা ছাড়ছেন। এক্ষেত্রে খুব সাবধানে উত্তর দিন। ভুলেও বর্তমান বা সাবেক বাড়িওয়ালা, ম্যানেজমেন্ট বা রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের নামে বদনাম করবেন না। হয়তো আপনার আগের বাসা ছাড়ার পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে, কিন্তু নতুন বাড়িওয়ালার সেটি যাচাই করার কোনো উপায় নেই। রিয়েল এস্টেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার 'রেনটেক ডাইরেক্ট'-এর মার্কেটিং ডিরেক্টর কেসি ওয়েগনার জানান, "কোনো আবেদনকারী যদি তার বর্তমান বাসা নিয়ে খুব বেশি নেতিবাচক কথা বলেন, তবে নতুন বাড়িওয়ালা তাকে 'ঝামেলাপূর্ণ' বলে ধরে নিতে পারেন। একজন অভিযোগকারী ভাড়াটিয়াকে সামলাতে বাড়িওয়ালাকে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়।" এর বদলে আপনি বলতে পারেন, 'আমার আরও বড় জায়গা দরকার' বা 'আমি আমার অফিসের কাছাকাছি থাকতে চাই'।   ২. 'আপনাকে আরও একটি প্রশ্ন করতে চাই' আপনি যে বাসায় অন্তত এক বছর বা তার বেশি থাকবেন, সেই বাসা এবং আশেপাশের পরিবেশ নিয়ে আপনার মনে প্রশ্ন থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করা যাবে না। নিউইয়র্কভিত্তিক রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান 'ট্রিপলমিন্ট'-এর এজেন্ট ক্রিসৌলা পাপাউটসাকিসের মতে, আপনি যদি সবকিছু নিয়েই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্ন করেন, তবে বাড়িওয়ালা আপনাকে 'খুঁতখুঁতে স্বভাবের' বা 'অভিযোগকারী' মনে করতে পারেন। তাই কেবল প্রাসঙ্গিক ও জরুরি প্রশ্নগুলোই করুন। যেমন, রান্নাঘরের কাউন্টারটপ তাপ-সহনশীল কি না, তা জানতে চাওয়া যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু ফ্লোরের কাঠ অরিজিনাল নাকি লেমিনেট করা এমন সূক্ষ্ম প্রশ্ন করাটা একটু বাড়াবাড়ি। বাসা পরিদর্শনের সময় অযথাই এক ঘণ্টা ধরে প্রশ্ন করতে থাকলে আপনি বাড়িওয়ালার পছন্দের তালিকা থেকে ছিটকে পড়তে পারেন।   ৩. 'আমি একটি কুকুরছানা আনার জন্য আর তর সইতে পারছি না' আপনি হয়তো পোষা প্রাণী পছন্দ করেন এবং এমন বাসাই খুঁজছেন যেখানে এগুলো রাখার অনুমতি আছে। কিন্তু তাই বলে এখনই কুকুরছানা (পাপি) বা নতুন কোনো প্রাণী আনার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করবেন না। ওয়েগনার সতর্ক করে বলেন, "পোষা প্রাণী রাখার অনুমতি থাকলেও কোনো বাড়িওয়ালাই কুকুরছানার কথা শুনে খুব একটা খুশি হবেন না। বয়স্ক প্রাণীর চেয়ে ছানারা বাসার অনেক বেশি ক্ষতি করে।" শুরুতে শুধু পোষা প্রাণী রাখার নিয়মকানুন জেনে নেওয়াটাই যথেষ্ট। কিছুদিন সেই বাসায় থাকার পর নিজেকে দায়িত্বশীল প্রমাণ করে, তারপর নতুন পোষা প্রাণী আনার কথা জানানোই বুদ্ধিমানের কাজ।   ৪. 'আমার সঙ্গী বা পার্টনার এই বাসার কাছেই কাজ করে' আপনি যদি একাই চুক্তিনামায় (লিজ) স্বাক্ষর করেন, তবে অযথা আপনার প্রেমিক, প্রেমিকা বা সঙ্গীর কথা উল্লেখ করতে যাবেন না। ওয়েগনারের মতে, চুক্তিতে নাম নেই এমন কোনো সঙ্গীর কথা বারবার উল্লেখ করলে বাড়িওয়ালার মনে সন্দেহ জাগতে পারে যে, ওই ব্যক্তিও হয়তো এই বাসাতেই বেশি সময় কাটাবেন। বাড়িওয়ালাদের জন্য এটি একটি বড় চিন্তার বিষয় ও রেড ফ্ল্যাগ। কারণ, চুক্তিতে নাম না থাকা ব্যক্তির ব্যাকগ্রাউন্ড বা অপরাধের রেকর্ড চেক করা সম্ভব হয় না। আপনার অতিথি যদি বাসার কোনো ক্ষতি করে বা গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গান বাজায়, তবে বাড়িওয়ালার পক্ষে তাকে বের করে দেওয়া বা ক্ষতিপূরণ আদায় করা আইনিভাবে কঠিন হয়ে পড়ে।   ৫. 'আমি ঘন ঘন বাসা বদলাই' ভাড়াটিয়া হিসেবে আপনার অন্যতম বড় সুবিধা হলো স্বাধীনতা। চুক্তি শেষ হলেই আপনি চাইলে বাসা বদলাতে পারেন। কিন্তু বাড়িওয়ালাদের জন্য এটি মোটেও স্বস্তির খবর নয়। প্রতিবার নতুন ভাড়াটিয়া খোঁজা তাদের জন্য সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। তারা এমন ভাড়াটিয়া খোঁজেন যারা অন্তত কয়েক বছর থিতু হবেন। পাপাউটসাকিস পরামর্শ দেন, "প্রথম দেখাতেই এমন ধারণা দেওয়া উচিত যে আপনি দীর্ঘস্থায়ীভাবে থাকতে চান এবং বাসাটিকে নিজের বাড়ির মতোই যত্ন করবেন।" পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে আপনি পরে সিদ্ধান্ত বদলাতেই পারেন, কিন্তু শুরুতেই 'আমি ঘন ঘন বাসা বদলাই'—এমন কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২২:৩৭
হ্যাম্পটনের মেডো লেনে একাধিক সম্পত্তি রয়েছে জুলিয়া কোচের। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারে জমি কিনে সন্তানদের জন্য বাড়ি বানাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী নারী জুলিয়া কোচ

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী নারী জুলিয়া কোচ নিউইয়র্কের হ্যাম্পটনে সন্তানদের জন্য একটি বড় পারিবারিক আবাসন গড়ে তুলছেন। এ উদ্দেশ্যে সাউদাম্পটনের অভিজাত মেডো লেনে ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারে নতুন একটি জমি কিনেছেন তিনি। পাশাপাশি আগে কেনা বাড়িগুলোতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের সংস্কারকাজও চলছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্স।   জুলিয়া কোচ প্রয়াত শিল্পপতি ডেভিড কোচের স্ত্রী। ২০১৯ সালের আগস্টে ৭৯ বছর বয়সে ডেভিড কোচ মারা যাওয়ার পর তাদের তিন সন্তানকে নিয়ে জুলিয়া কোচ পরিবারের বিপুল সম্পদের অন্যতম উত্তরাধিকারী হন। ফোর্বসের হিসাবে, ১৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত জুলিয়া কোচ ও তার পরিবারের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮১.২ বিলিয়ন ডলার।   হ্যাম্পটনের মেডো লেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। সাউদাম্পটনের সমুদ্রতীরবর্তী এই সড়কটি বিপুল সম্পদের মালিকদের আবাসস্থল হওয়ায় অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘বিলিয়নিয়ার লেন’ নামেও পরিচিত। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের হিসাবে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এই সড়কে প্রায় এক ডজন সম্পত্তি হাতবদল হয়েছে, যার সম্মিলিত মূল্য ২২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।   জুলিয়া কোচের এই এলাকায় আগে থেকেই একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কেনা ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারের জমিটি তার বিদ্যমান সম্পত্তিগুলোর সঙ্গে যুক্ত করে সন্তানদের জন্য একটি পারিবারিক কম্পাউন্ড তৈরির পরিকল্পনার অংশ বলে পেজ সিক্স জানিয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে মেডো লেনে একটি বড় বাড়ি কিনেছিলেন জুলিয়া কোচ। বাড়িটির তালিকাভুক্ত মূল্য ছিল ৭৫ মিলিয়ন ডলার। প্রায় ২২ হাজার বর্গফুটের এই টিউডর-ধাঁচের বাড়িতে ১৫টি শয়নকক্ষ রয়েছে। সম্পত্তিটির সঙ্গে প্রায় ৫০০ ফুট দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতও রয়েছে।   বাড়িটি কেনার সময় সেটি বেশ কিছুটা জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। এখন বাড়িটিকে আরও আধুনিক করে তোলার জন্য বড় ধরনের সংস্কারকাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে পেজ সিক্স জানিয়েছে, এই সংস্কারে কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। মেডো লেনে জুলিয়া কোচের আরেকটি বাড়িও রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১৮ মিলিয়ন ডলার। এই সড়কে আরও বেশ কয়েকজন ধনী ও পরিচিত ব্যক্তির সম্পত্তি রয়েছে। ফলে নতুন জমি কেনার মাধ্যমে ওই এলাকায় কোচ পরিবারের সম্পত্তির পরিমাণ আরও বাড়ল।   বিলাসবহুল সম্পত্তি সংস্কারের ক্ষেত্রে জুলিয়া কোচের আগ্রহ নতুন নয়। এর আগে নিউইয়র্কের আপার ইস্ট সাইডে তার ৪০ মিলিয়ন ডলারের টাউনহাউস সংস্কারের কাজে খ্যাতিমান নকশাবিদ পিটার মারিনোকে নিয়োগ করেছিলেন তিনি। পাম বিচের একটি ঐতিহাসিক সম্পত্তি সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজের জন্য ২০০৮ সালে তিনি ব্যালিঞ্জার অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলেন।   ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণত বেশ গোপনীয় জুলিয়া কোচ। সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাকে খুব বেশি দেখা যায় না। পেজ সিক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তাকে হ্যাম্পটনে ওয়াশিংটন পোস্টের উত্তরাধিকারী ল্যালি ওয়েমাউথের চতুর্থ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে দেখা যায়। পরদিন নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটের একটি অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। তার আগে ২০১৯ সালে স্বামী ডেভিড কোচের মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় তাকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি।   ডেভিড কোচের মৃত্যুর পর জুলিয়া কোচ ও তাদের তিন সন্তান কোচ পরিবারের ব্যবসায় বড় অংশীদারিত্বের মালিক হন। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, তারা কোচ ইনকরপোরেটেডের ৪২ শতাংশ অংশীদারিত্ব উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। কোচ পরিবারের এই ব্যবসায়িক সম্পদই জুলিয়া কোচের বিপুল সম্পদের মূল উৎস।   হ্যাম্পটনে সাম্প্রতিক এই বিনিয়োগ তাই শুধু একটি নতুন জমি কেনার ঘটনা নয়। একাধিক বাড়ি ও জমি একত্র করে সন্তানদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পারিবারিক আবাসন গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে পেজ সিক্স। একই সঙ্গে পুরোনো সম্পত্তিতে বড় অঙ্কের সংস্কারকাজ চালিয়ে সেগুলোকে আরও আধুনিক করে তোলা হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২২:১৮
ডাকযোগে ভোট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ডাকযোগে ভোটকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বললেও ফ্লোরিডায় নিজেই সেই পদ্ধতিতে ভোট দিলেন ট্রাম্প

ডাকযোগে ভোট বা মেইল-ইন ব্যালট ব্যবস্থাকে ‘পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে বারবার সমালোচনা করলেও নিজেই আবার সেই পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি ডাকযোগে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, পাম বিচ কাউন্টির ভোটিং রেকর্ড অনুযায়ী, ট্রাম্প গত জুলাইয়ের শেষের দিকে একটি মেইল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছিলেন। এরপর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রাইমারি নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে, গত ১৩ আগস্ট তিনি সেটি পূরণ করে জমা দেন। এ নিয়ে চলতি বছর নিজের বর্তমান ঠিকানা ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ডাকযোগে ভোট দিলেন ট্রাম্প।   এর আগে গত মার্চ মাসে ফ্লোরিডার একটি বিশেষ নির্বাচনেও ট্রাম্প ডাকযোগে ভোট দিয়েছিলেন, যদিও সেই সময় তিনি প্রকাশ্যে এই পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করছিলেন। সে সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার কারণেই ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সে সময় জানিয়েছিল, যখন সশরীরে আগাম ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল, তখন ট্রাম্প পাম বিচেই অবস্থান করছিলেন। হোয়াইট হাউস অবশ্য তখন ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে হওয়া সমালোচনাকে 'ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছিল।   ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী আচরণের কড়া সমালোচনা করেছেন তরুণ ভোটারদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন 'ভোটারস অব টুমরো'-এর নির্বাহী পরিচালক সান্তিয়াগো মেয়ার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে ইমেইলে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এটি সত্যিই একটি হাস্যকর ব্যাপার। ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো ভাবেন আমরা সবাই বোকা। প্রেসিডেন্ট দিনের পর দিন ডাকযোগে ভোট দেওয়ার বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন, আবার নিজেই সেই পদ্ধতিতে ভোট দেন। তিনি যদি ডাকযোগে ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে এত স্বাচ্ছন্দ্যে মিথ্যা বলতে পারেন, তবে ভেবে দেখুন তিনি আমাদের কাছে আরও কত বিষয় নিয়ে মিথ্যা বলছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে তিনি একজন চরম ভণ্ড এবং গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় হুমকি। এখন সময় এসেছে এমন একটি কংগ্রেস নির্বাচন করার, যারা এই দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনবে।”   এ বিষয়ে নিউজউইকের পক্ষ থেকে সোমবার ইমেইলের মাধ্যমে হোয়াইট হাউসের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। গত জুলাই মাসেও ট্রাম্প ডাকযোগে ব্যালট ব্যবস্থাকে "পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত" বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। তিনি এই ব্যবস্থার ব্যবহার সীমিত করার পক্ষে মত দিয়ে বলেছিলেন, এটি কেবল অসুস্থতা, শারীরিক অক্ষমতা, সামরিক দায়িত্ব পালন বা ভ্রমণের মতো বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত।   তবে ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল পাননি তথ্য যাচাইকারী বিশেষজ্ঞরা। ডাকযোগে ভোটে ব্যাপক জালিয়াতির কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ২০২৫ সালের ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি এক কোটি ডাকযোগে পড়া ভোটের মধ্যে বড়জোর চারটিতে জালিয়াতির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট ডাকযোগে দেওয়া হয়েছিল।   এদিকে, কেন্দ্রীয় নির্বাচনে ভোটার নিবন্ধনের জন্য মার্কিন নাগরিকত্বের প্রামাণ্য দলিল বাধ্যতামূলক করতে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' পাসের জন্য কংগ্রেসের ওপর চাপ প্রয়োগের নানা কৌশল অবলম্বন করছেন ট্রাম্প। এর অংশ হিসেবে তিনি প্রতিরক্ষা ব্যয় বিলের সঙ্গে এই ভোটিং বিলটি জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টের মাধ্যমে বিলটিকে সর্বোচ্চ আইনি অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।   ট্রাম্পের সমর্থকদের দাবি, এই প্রস্তাবটি নির্বাচনী স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি করবে। তবে বিরোধীদের মতে, এটি যোগ্য নাগরিকদের জন্য ভোট দেওয়াকে আরও কঠিন করে তুলবে। আর অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার যে সমস্যার কথা বলে এই বিল পাসের চেষ্টা করা হচ্ছে, বাস্তবে তার কোনো বড় ভিত্তি নেই।   সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' নিয়ে এক পোস্টে ট্রাম্প ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি লেখেন, “চলতি মাসের শুরুতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমাদের প্রশাসনকে জিজ্ঞেস করেছিলেন বৈধ ছবিযুক্ত আইডি ছাড়া আপনারা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন করেন? ভারতের সর্বশেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার অংশ নিয়েছিলেন! সেখানে ১ শতাংশেরও কম মানুষ ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন এবং প্রতিটি ভোটারের কাছে বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছিল। আমাদের এখনই সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস করতে হবে!”

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২১:৫৩
মেক্সিকোর নাগরিক মার্সেলো ভাসকেজ রেইনাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত
নিজের মেয়েকে যৌন নির্যাতনের দায়ে মেক্সিকান নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে নিজের কিশোরী মেয়েকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দণ্ডিত মেক্সিকোর এক নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ কর্তৃপক্ষ (আইসিই)। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, মার্সেলো ভাসকেজ রেইনাকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।,   আলবেমার্ল কাউন্টি সার্কিট কোর্টের নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে ভাসকেজ রেইনা ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী সন্তানের প্রতি অভিভাবকের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালতের নথিতে ঘটনাটি ২০১৮ সালে ঘটেছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। পরে তাকে পাঁচ বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ওই সাজার পাঁচ বছর স্থগিত করা হয়। ভার্জিনিয়ার সরকারি যৌন অপরাধী নিবন্ধনেও তার ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি ৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর মার্চেই ভাসকেজ রেইনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা ও অপহরণের অভিযোগও আনা হয়েছিল। তবে আদালতের নথিতে যে অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেছেন, সেটিই তার দণ্ডের ভিত্তি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সোমবার এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ডিএইচএস জানায়, আইসিই ভাসকেজ রেইনাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেছে। সংস্থাটি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রসঙ্গে কঠোর ভাষা ব্যবহার করে জানায়, এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কোনো আশ্রয়ের সুযোগ নেই। ভাসকেজ রেইনার বিরুদ্ধে তার কিশোরী মেয়েকে যৌনভাবে হয়রানি এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগও ছিল বলে দ্য ডেইলি প্রগ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে মেয়েটি পরবর্তী হামলার আশঙ্কায় ভয়ের মধ্যে ছিল বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   ভাসকেজ রেইনাকে বহিষ্কারের ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ভার্জিনিয়ায় অভিবাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সঙ্গে জড়িত অপরাধের কয়েকটি আলোচিত ঘটনা সামনে আসার পর রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন প্রয়োগ নীতি নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।   ভার্জিনিয়ার গভর্নর অ্যাবিগেইল স্প্যানবার্গারও অভিবাসন প্রয়োগের বিষয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি তার পূর্বসূরি রিপাবলিকান গভর্নর গ্লেন ইয়াংকিনের একটি নির্বাহী আদেশ বাতিল করেন, যেখানে রাজ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে স্প্যানবার্গার রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোকে আইসিইর সঙ্গে ২৮৭(জি) চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেন এবং ফেডারেল অভিবাসন কার্যক্রমের জন্য রাজ্যের সম্পত্তি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেন।   তবে ভাসকেজ রেইনার মামলাটি একটি নির্দিষ্ট অপরাধ ও তার পরবর্তী অভিবাসন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ঘটনার ভিত্তিতে ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সামগ্রিকভাবে একই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ভাসকেজ রেইনার বহিষ্কারের বিষয়ে ফক্স নিউজ ডিজিটাল ভার্জিনিয়ার গভর্নরের কার্যালয়, আলবেমার্ল কাউন্টি পুলিশ বিভাগ এবং কাউন্টির কমনওয়েলথ অ্যাটর্নির কার্যালয়ের মন্তব্য চেয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   মার্কিন কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ধরনের অপরাধে দণ্ডিত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, আটক ও বহিষ্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ভাসকেজ রেইনার ক্ষেত্রে আদালতে দোষ স্বীকার ও সাজা ঘোষণার পর তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২১:৩৭
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন সাবেক সেনাদের সহায়তায় খাবার, আবাসন ও যাতায়াত সুবিধা দেওয়া হবে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন সাবেক সেনাদের জন্য ২৯ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা, বিনা মূল্যে পাবেন খাবার, ফোন ও যাতায়াত সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন অবস্থায় থাকা সাবেক সেনাদের জন্য নতুন একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করছে দেশটির ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স বিভাগ (ভিএ)। এ কর্মসূচির আওতায় খাবার, পোশাক, প্রয়োজনীয় সামগ্রী, স্মার্টফোন, অস্থায়ী আবাসন এবং যাতায়াতসহ বিভিন্ন মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে মোট ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।   ভিএ জানিয়েছে, এই অর্থের মধ্যে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার বিভিন্ন পণ্য ও সেবা দেওয়ার জন্য এবং বাকি ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার যাতায়াত সহায়তার জন্য রাখা হয়েছে। গৃহহীন সাবেক সেনাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের আবাসন সহায়তা কর্মসূচি ‘হাড-ভ্যাশ’-এ অংশ নেওয়া যোগ্য সাবেক সেনারাও এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।   ভিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ আগামী অক্টোবর থেকে বিভিন্ন ভিএ চিকিৎসাকেন্দ্রের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা দেওয়া শুরু হতে পারে। অন্যদিকে যাতায়াত সেবার জন্য চুক্তি সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর এসব পরিবহন সুবিধা চালু হবে।   ভিএর সচিব ডগ কলিন্স বলেছেন, গৃহহীন সাবেক সেনাদের রাস্তায় থাকা থেকে বিরত রাখতে বিভাগটি বিভিন্ন উদ্যোগে অগ্রগতি করছে এবং নতুন কর্মসূচিটি সেই প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।   নতুন কর্মসূচির আওতায় যোগ্য সাবেক সেনারা খাবার, পোশাক, কম্বল, পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীসহ নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস পেতে পারেন। যারা রাস্তায় বা ঘরের বাইরে রাত কাটান, তাদের জন্য তাঁবু ও স্লিপিং ব্যাগের মতো সামগ্রীও দেওয়া হতে পারে।   আবাসনের ক্ষেত্রেও রয়েছে সহায়তার সুযোগ। যোগ্য ব্যক্তিদের ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। এমনকি আগের কয়েক মাসের বকেয়া ভাড়া বা বিলও নির্দিষ্ট শর্তে পরিশোধ করা হতে পারে, যদি এর মাধ্যমে ওই সাবেক সেনা আবাসন পেতে পারেন বা বর্তমান আবাসন ধরে রাখতে পারেন।   এ ছাড়া নিরাপত্তা জামানত, ইউটিলিটি সংযোগের জামানত, বাসা বদলের খরচ এবং স্বল্পমেয়াদি জিনিসপত্র রাখার খরচও এই সহায়তার আওতায় আসতে পারে। সাধারণভাবে ভাড়া ও ইউটিলিটি সহায়তা দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ মাস পর্যন্ত দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন বলে ভিএর চিকিৎসকরা মনে করলে ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে।   অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করা হবে। প্রয়োজন হলে হোটেল বা মোটেলে স্বল্পমেয়াদি থাকার খরচ কর্মসূচির অর্থ থেকে বহন করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আসবাব, বিছানাপত্র, রান্নার সরঞ্জাম, ছোট গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীও দেওয়া হতে পারে।   যোগাযোগের সুবিধা নিশ্চিত করতেও সহায়তা দেওয়া হবে। ভিএর চিকিৎসকরা প্রয়োজন মনে করলে সাবেক সেনাদের স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, একবার ব্যবহারযোগ্য ফোন এবং ফোনের সংযোগের খরচ দেওয়া হতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো তারা যেন চিকিৎসক, সরকারি সেবা প্রদানকারী, সম্ভাব্য বাড়ির মালিক কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন।   যাতায়াতের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিস্তৃত সুবিধা। সরকারি পরিবহনের ভাউচার বা যাতায়াত সেবার মাধ্যমে চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া, বাসা খোঁজা, চাকরি খোঁজা, আদালত বা আইনি কাজে যাওয়া, জরুরি আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের মতো কাজে সহায়তা দেওয়া হতে পারে।   তবে এই অর্থ সরাসরি নগদ হিসেবে সাবেক সেনাদের হাতে দেওয়া হবে না। ভিএর চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে অথবা সংশ্লিষ্ট সেবার মূল্য সরাসরি পরিশোধ করবে। প্রধানত সমাজকর্মীসহ ভিএর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকর্মীরা প্রত্যেক ব্যক্তির পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে কোন ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করবেন।   কর্মসূচির আওতায় আসার জন্য একজন সাবেক সেনাকে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত গৃহহীনতার সংজ্ঞার আওতায় পড়তে হবে। এর মধ্যে স্থায়ী ও পর্যাপ্ত রাত কাটানোর জায়গা না থাকা, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কিংবা ঘুমানোর জন্য নির্ধারিত নয় এমন জায়গায় বসবাসের মতো পরিস্থিতি রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে যারা শিগগিরই বাসস্থান হারাতে পারেন এবং বিকল্প থাকার জায়গা নেই, তারাও এই সংজ্ঞার আওতায় পড়তে পারেন। পারিবারিক সহিংসতা বা অনুরূপ হুমকির কারণে অনিরাপদ আবাসনে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও বিশেষ বিধান রয়েছে।   এ ছাড়া হাড-ভ্যাশ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সাবেক সেনারাও নতুন সহায়তা পেতে পারেন। এই কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ (হাড) ভাড়ার ভাউচার দেয় এবং ভিএ আবাসন ধরে রাখা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য কেস ম্যানেজমেন্ট সেবা দেয়। স্থানীয় আবাসন কর্তৃপক্ষ ভাড়ার সহায়তা পরিচালনা করে এবং ভিএর কর্মীরা সাবেক সেনাদের বাসা খুঁজে পাওয়া ও তা ধরে রাখতে সহায়তা করেন।   গৃহহীন সাবেক সেনাদের পরিস্থিতিতে গত দেড় দশকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ভিএর ২০২৫ সালের ‘পয়েন্ট-ইন-টাইম’ হিসাবে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক রাতে যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ হাজার ৪৯৫ জন সাবেক সেনা গৃহহীন অবস্থায় ছিলেন। ২০০৯ সালে এই হিসাব শুরু হওয়ার পর এটি সর্বনিম্ন সংখ্যা। ২০১০ সালের তুলনায় সংখ্যাটি ৫৬ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।   ২০২৫ অর্থবছরে ভিএ ৫১ হাজার ৯৩৬ জন গৃহহীন সাবেক সেনাকে স্থায়ী আবাসনে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে, যা সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ভিএর তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে স্থায়ী আবাসন পাওয়া এসব ব্যক্তির ৯৬ দশমিক ২ শতাংশ অর্থবছর শেষ হওয়ার সময়ও আবাসনে ছিলেন।   তবে গৃহহীনতা কমলেও আবাসন ও জনবল সংকট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত সরকারি হিসাব নিরীক্ষা সংস্থার (জিএও) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে হাড-ভ্যাশ কর্মসূচিতে কেস ম্যানেজারের ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ পদ খালি ছিল। ২০২৪ অর্থবছরে ১২৯টি ভিএ চিকিৎসাকেন্দ্রের মধ্যে ৩৩টিতে কেস ম্যানেজারের অন্তত ২০ শতাংশ পদ শূন্য ছিল।   জিএও আরও জানিয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হাড-ভ্যাশে পাঠানোর জন্য বিবেচিত ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫টি ক্ষেত্রে সাবেক সেনাদের শেষ পর্যন্ত ওই কর্মসূচিতে পাঠানো হয়নি। এর মধ্যে ১ লাখ ৫১ হাজার ২৯৬টি ক্ষেত্রে কেন পাঠানো হয়নি, সে বিষয়ে কোনো কারণ নথিভুক্ত করা হয়নি। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের তথ্যের ঘাটতির কারণে কোথায় অতিরিক্ত কর্মী প্রয়োজন এবং কতজন সাবেক সেনা সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।   অর্থাৎ নতুন ২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের কর্মসূচিটি গৃহহীন সাবেক সেনাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা, আবাসন ও অন্যান্য সরকারি সেবার সঙ্গে যুক্ত রাখার একটি অতিরিক্ত উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে। তবে এর বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও আবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২১:১৯
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ঝড় ও তীব্র গরমের পূর্বাভাস রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে ঝড়, আকস্মিক বন্যা ও তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস, ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় চলতি সপ্তাহে একসঙ্গে কয়েক ধরনের বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশটির মধ্যাঞ্চল থেকে পূর্ব উপকূল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় তীব্র বজ্রঝড়, ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা এবং বিপজ্জনক মাত্রার গরমের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।   যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত কয়েকটি অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের বড় একটি অংশে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি থাকতে পারে। ফলে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একদিকে ঝড় ও বন্যার ঝুঁকি, অন্যদিকে তাপজনিত অসুস্থতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলীয় সমতল এলাকা থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি শীতল বায়ুপ্রবাহের সীমারেখার কারণে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ও বজ্রঝড় হতে পারে। কিছু এলাকায় ঝড়ের সঙ্গে শক্তিশালী বাতাস, ভারী বৃষ্টি এবং স্থানীয়ভাবে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ওহাইও উপত্যকা ও মধ্য অ্যাপালাচিয়ান অঞ্চলের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। টেনেসি উপত্যকা, ভার্জিনিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনার কিছু অংশেও শক্তিশালী বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব ঝড়ে ক্ষতিকর গতির বাতাসসহ বিভিন্ন ধরনের বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।   এদিকে উত্তরাঞ্চলের সমতল এলাকাগুলোতেও ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। নেব্রাস্কা, সাউথ ডাকোটা ও মিনেসোটার কিছু এলাকায় দফায় দফায় বজ্রঝড় হতে পারে। বায়ুমণ্ডলের অনুকূল পরিস্থিতির কারণে এসব ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি, শক্তিশালী বাতাস ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার আবহাওয়ার পরিস্থিতির প্রভাব মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে আরও বাড়তে পারে। দক্ষিণমুখী একটি শীতল বায়ুপ্রবাহ এবং মধ্যাঞ্চলে শক্তিশালী হওয়া আরেকটি আবহাওয়া ব্যবস্থা একে অপরের সঙ্গে মিলে নেব্রাস্কা ও কানসাস থেকে মিসিসিপি নদীর আশপাশ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় একাধিক দফায় বজ্রঝড় তৈরি করতে পারে। এতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।   গ্রেট লেকস অঞ্চলেও মঙ্গলবার নতুন করে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে রকি পর্বতমালা ও হাই প্লেইন্সের কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন বজ্রঝড় হতে পারে। বুধবারের দিকে ঝড়ের প্রবণতা আরও পূর্ব দিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্য রকি অঞ্চল থেকে ওহাইও উপত্যকার কিছু অংশ পর্যন্ত অস্থিতিশীল আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। তবে শুধু ঝড়-বৃষ্টিই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে তীব্র গরমও বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকতে পারে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় মঙ্গলবার পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রার চাপ অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   কিছু এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের কিছু স্থানে রাতের তাপমাত্রা ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের আশপাশে বা তার ওপরে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দিনের গরম থেকে শরীরের স্বাভাবিকভাবে স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ কমে যায় এবং তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ে। তাপপ্রবাহের প্রভাব পশ্চিম দিকেও বিস্তৃত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয় তৈরি হলে ওই এলাকার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলীয় সমতল এলাকাতেও অত্যন্ত গরম আবহাওয়া দেখা দিতে পারে। কিছু এলাকায় তাপমাত্রা স্থানীয় রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন।   সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও প্রবল ঝড়, ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইন্ডিয়ানা, ওহাইও, ইলিনয়, কেনটাকি ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ঝড় ও বন্যার ঘটনায় হতাহত এবং ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর স্থানীয় পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তার ওপর নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে বজ্রঝড়ের সময় বাইরে থাকা এড়িয়ে চলা, আকস্মিক বন্যার পানিতে প্রবেশ না করা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   তীব্র গরমের সময় অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের খোঁজ রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসকারীদের নিয়মিত স্থানীয় আবহাওয়ার খবর দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২১:১
অ্যামাজনের ডেলিভারি গাড়ির প্রতীকী ছবি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজনের ডেলিভারি ভ্যানে মৃত নারী চালকের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের লেক কাউন্টিতে অ্যামাজনের একটি ডেলিভারি ভ্যানের ভেতর থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় শনাক্ত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। নিহত নারীর নাম জেলিন ভার্গাস গঞ্জালেজ। তিনি ওই অ্যামাজন ডেলিভারি গাড়িটির চালক ছিলেন।   লেক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের (LCSO) বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত ১০ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটের দিকে ক্লার্ক রোড এলাকায় একটি সন্দেহজনক পরিস্থিতির খবর পেয়ে সেখানে যায় পুলিশ। একটি অ্যামাজন ডেলিভারি গাড়ি দীর্ঘ সময় ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি নজরে আসার পর জরুরি সহায়তার জন্য খবর দেওয়া হয়।   পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্যানটির ভেতরে গঞ্জালেজকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়। পরে লেক কাউন্টি ফায়ার রেসকিউ ও জরুরি চিকিৎসা বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুর কারণ জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। লেক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি এখনো সক্রিয় তদন্তাধীন। তাই ঠিক কী কারণে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পুলিশ।   এর আগে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ভ্যানটি বেশ কিছু সময় ধরে একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকায় বিষয়টি নিয়ে আশপাশের লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয় এবং কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে ভ্যানের ভেতর অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।   ঘটনার পর অ্যামাজনও ওই নারী তাদের প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারি চালক ছিলেন বলে নিশ্চিত করে। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এবং নিহতের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানায়। একই সঙ্গে তদন্তে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে অ্যামাজন। তবে নিহত গঞ্জালেজের বয়স, ব্যক্তিগত পরিচয় বা মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তার মৃত্যুকে কোনো নির্দিষ্ট কারণের সঙ্গে যুক্ত করাও হচ্ছে না।   লেক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ নির্ধারণসহ ঘটনাটির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২০:৩৬
১৬ আগস্ট ২০২৬ সেউতার এল ত্রাম্পোলিন সৈকতে আশ্রয়ের দাবিতে অভিবাসীদের বিক্ষোভের ছবি; সংগৃহীত
স্পেনের সেউতায় আশ্রয়ের দাবিতে শত শত অভিবাসীর বিক্ষোভ, মানবিক সংকট আরও গভীর

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় আশ্রয়ের দাবিতে শত শত অভিবাসী বিক্ষোভ করেছেন। রোববার, ১৬ আগস্ট, এল ত্রাম্পোলিন সৈকতে জড়ো হয়ে তারা স্পেনের কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ এবং মরক্কোয় ফেরত না পাঠানোর দাবি জানান।   বিক্ষোভকারীদের হাতে স্পেনের পতাকা ও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ছিল। সেখানে তারা ‘আমরা মরক্কোয় ফিরতে চাই না’ এবং ‘আমরাও মানুষ’—এ ধরনের স্লোগান দেন। অনেক অভিবাসী সৈকত ও শহরের আশপাশে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন।   সেউতায় সাম্প্রতিক বড় ধরনের সীমান্ত অতিক্রমের পরও প্রায় ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার অভিবাসী রয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। তাদের অধিকাংশ পরবর্তী সময়ে মরক্কোয় ফিরে যান।   সেউতায় অবস্থানরত অনেক অভিবাসী বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। কেউ সৈকতে তাঁবু বা ত্রিপল টাঙিয়ে থাকছেন, আবার কেউ শহরের বাইরে অবস্থান করছেন। খাবার, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   মরক্কোর তেতোয়ান থেকে আসা এক অভিবাসী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তারা সমুদ্রের পাশে ঠান্ডা ও দুর্গন্ধের মধ্যে রাত কাটাচ্ছেন এবং অনেক কষ্টে দিন পার করছেন।   স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানিয়েছেন, অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করা অভিবাসীদের সাধারণভাবে সেউতায় থাকার বা মূল ভূখণ্ড স্পেনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে।   পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পেন সরকার সেউতায় অতিরিক্ত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এসব স্থানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে সাময়িকভাবে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্পেনের সেনাবাহিনীও প্রায় ১ হাজার ৫০ জন আশ্রয়প্রার্থীর জন্য অস্থায়ী শিবির স্থাপনের কাজ শুরু করেছে।   এরই মধ্যে ১৭ আগস্ট থেকে শতাধিক অভিবাসী আশ্রয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেছেন। তাদের দাবি, স্পেনে আশ্রয়ের আবেদন করার সুযোগ দিতে হবে এবং তাদের জোর করে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না।   অন্যদিকে, নতুন করে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা ঠেকাতে মরক্কো ও স্পেন উভয় দেশই নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক এক অভিযানে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় ৩০০ অভিবাসীকে আটক করেছে।   সেউতার বর্তমান পরিস্থিতি এখন স্পেনের জন্য বড় মানবিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। একদিকে আশ্রয়প্রার্থীদের নিরাপত্তা ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি, অন্যদিকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসননীতি—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে স্পেন সরকারকে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২০:১
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেসে ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজ, ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত ছবি:সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৬৮, ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৬৮ জন নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ১৫ আগস্টের এই ভূমিকম্পের পর একের পর এক পরাঘাত অব্যাহত থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।   ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে শহরের উত্তর-পশ্চিমে সমুদ্রের কাছে। ভূমিকম্পটি ছিল অগভীর, প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে হওয়ায় এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব বেশি হয়েছে।   ভূমিকম্পের পর ভূমিধসের কারণে বিভিন্ন সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে এবং কয়েকটি দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের সন্ধান করছেন। অনেক মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অস্থায়ী তাঁবু ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।   প্রায় ১ হাজার ৬০০টি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। এতে আতঙ্কিত বাসিন্দাদের অনেকে ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।   ভূমিকম্পে ৪ হাজার ৫০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ১৯ হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়ে চলে গেছেন। দুর্গম এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছানোও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   প্রাথমিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে কিছু এলাকায় ছোট আকারের সমুদ্রঢেউ দেখা যায়। ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।   উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ দুর্গম এলাকায় বিমান ও অন্যান্য মাধ্যমে জরুরি সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২০:১৯
হরমুজ ছবি:সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি দুই ডলারের বেশি বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।   সোমবার, ১৭ আগস্ট, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ৮৭ ডলারে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই তেলের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৮৪ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছায়।হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়াই তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ। ১৬ আগস্ট রোববার এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের খবর পাওয়া যায়নি; এর আগের দিন মাত্র পাঁচটি জাহাজ পার হয়েছিল। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এটি বড় ধরনের পতন।   হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।   তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থাও বড় ভূমিকা রাখছে। ১৭ আগস্ট নির্ধারিত অন্তর্বর্তী সমঝোতার সময়সীমা শেষ হলেও স্থায়ী শান্তি চুক্তির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ইরান হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও বাধাগ্রস্ত হলে তেলের দাম আবারও দ্রুত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের প্রভাব পরিবহন, উৎপাদন ও ভোক্তা পর্যায়ের পণ্যের দামেও পড়তে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রেও এর প্রভাব ইতোমধ্যে স্পষ্ট হচ্ছে। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে দেশটির গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় দাম প্রতি গ্যালনে প্রায় ৪ দশমিক ০৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগস্ট মাসের জন্য রেকর্ড উচ্চ পর্যায়।   বিশ্ববাজার এখন মূলত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয় কি না এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি আসে কি না—সেদিকে নজর রাখছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে তেলের বাজারে নতুন করে বড় অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৯:৩৫
কাজের অনুমতির দাবিতে ক্যালগেরিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের তিন সপ্তাহের প্রতিবাদ কর্মসূচি। ছবি:সংগৃহীত
কাজের অনুমতি দাবিতে ক্যালগেরিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ১২ জনকে নিয়ে নতুন অভিবাসন শঙ্কা

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের ক্যালগেরিতে পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের প্রতিবাদে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শেষ হয়েছে নতুন উদ্বেগের মধ্য দিয়ে। ১৪ আগস্ট আন্দোলনস্থলে কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে অংশগ্রহণকারীদের অভিবাসন অবস্থা যাচাই করেন। প্রথমে চারজনের তথ্য পরীক্ষা করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ২০ জন শিক্ষার্থীর তথ্য যাচাই করা হয়।   তাদের মধ্যে ১২ জনকে কানাডায় থাকার ক্ষেত্রে ‘সম্ভাব্য অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।প্রায় ৪০০ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের বেশির ভাগই ভারতের পাঞ্জাবের বাসিন্দা, পাশাপাশি হরিয়ানা থেকেও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কানাডায় পড়াশোনার জন্য তারা পারিবারিক সঞ্চয়, ঋণ এমনকি জমি বা সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতি পাওয়ার প্রত্যাশায় তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাক্রমে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করার পর তাদের কাজের অনুমতির আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলে তারা সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।   ক্যালগেরির আন্দোলনের সঙ্গে আলবার্টার সরকারি পোর্টেজ কলেজের মাধ্যমে পরিচালিত কিছু শিক্ষাক্রমের শিক্ষার্থীরা যুক্ত ছিলেন। এসব শিক্ষাক্রম বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্বের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা যখন এসব শিক্ষাক্রমে ভর্তি হয়েছিলেন, তখন পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতি পাওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। পরে একই ধরনের শিক্ষাক্রম সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের কারও আবেদন অনুমোদিত এবং কারও আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় বিভ্রান্তি আরও বেড়ে যায়।   বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কানাডার পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতির যোগ্যতা নিয়ে সরকারি ব্যাখ্যা। চলতি বছরের জুনে কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্দিষ্ট অ-সনদভিত্তিক শিক্ষাক্রম সাধারণভাবে পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতির জন্য যোগ্য নয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি নতুন নিয়ম নয়; বরং আগে থেকে থাকা যোগ্যতার শর্তকে আরও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, তারা ভর্তি হওয়ার সময় এই ব্যাখ্যা পরিষ্কারভাবে জানতে পারেননি।   এই বিষয়টি নিয়ে কয়েকশ শিক্ষার্থী আলবার্টার বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ করেছেন। ক্যালগেরির আন্দোলনকারীরা জোর দিয়ে বলেছেন, তাদের দাবি স্থায়ীভাবে কানাডায় বসবাসের সুযোগ নয়; তারা পড়াশোনা শেষে কাজ করার অনুমতি পাওয়ার সুযোগ চান। আন্দোলনের কয়েকজন শিক্ষার্থী এরই মধ্যে আদালতের মাধ্যমে সরকারি সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার উদ্যোগও নিয়েছেন।   ১৪ আগস্ট আন্দোলনের শেষ দিনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সীমান্ত সেবা সংস্থার কর্মকর্তারা আন্দোলনস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিবাসন নথি পরীক্ষা করেন। প্রথমে চারজনকে যাচাই করার জন্য কর্মকর্তাদের ডাকা হলেও পরে আরও শিক্ষার্থীর তথ্য পরীক্ষা করা হয়। মোট ২০ জনের তথ্য যাচাইয়ের পর ১২ জনকে সম্ভাব্যভাবে অভিবাসন আইনের আওতায় অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাদের পরবর্তী সাক্ষাৎকারের জন্য সীমান্ত সেবা সংস্থার কার্যালয়ে যেতে বলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে ১২ জনকে ‘সম্ভাব্য অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করার অর্থ এই নয় যে তাদের ইতোমধ্যে কানাডা থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। তাদের অভিবাসন অবস্থা, অনুমতির মেয়াদ এবং কানাডায় থাকার বৈধতা নিয়ে আরও যাচাই-বাছাই হতে পারে। সীমান্ত সেবা সংস্থা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পরিচয় বা তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি।   এদিকে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা নিয়ম মেনেই পড়াশোনা করতে কানাডায় এসেছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাক্রমে ভর্তি হওয়ার সময় কাজের অনুমতির সুযোগ সম্পর্কে যে তথ্য পেয়েছিলেন, তার ভিত্তিতেই বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। এখন আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়ায় অনেকেই ঋণ, পরিবারের আর্থিক চাপ এবং কানাডায় থাকার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।   অন্যদিকে কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, পড়াশোনা শেষ করার পর কাজের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। আবেদনকারীদের নির্ধারিত শিক্ষাক্রম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। ফলে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলেও প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে যোগ্যতা আলাদাভাবে বিবেচনা করা হতে পারে।   প্রায় তিন সপ্তাহের আন্দোলন শেষ হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং আন্দোলনের শেষ মুহূর্তে সীমান্ত কর্মকর্তাদের তৎপরতা এবং ১২ শিক্ষার্থীর অভিবাসন অবস্থা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কানাডায় পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ প্রত্যাশী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এই ঘটনা শিক্ষাক্রমে ভর্তি হওয়ার আগে কাজের অনুমতির যোগ্যতা সম্পর্কে সরকারি তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বও সামনে এনেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৯:১২
রোগীরা হাসপাতালে। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে হাম রোগের সংক্রমণ বাড়ছে, চলতি বছর আক্রান্ত ২ হাজার ৫৬৬

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর হাম রোগের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ২ হাজার ৫৬৬টি নিশ্চিত হাম রোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এ সংখ্যা গত বছরের পুরো সময়ের ২ হাজার ২৮৯টি নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।   রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৪৭টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চল থেকে ২ হাজার ৫৫০টি হাম রোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। আরও ১৬টি ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সফররত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৩৮টি হাম রোগের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গেছে।   সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ বছরের মোট আক্রান্তের ৯৪ শতাংশ অর্থাৎ ২ হাজার ৪০৭টি ঘটনা কোনো না কোনো প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে ২০২৬ সালে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাব থেকে ১ হাজার ৩২টি এবং ২০২৫ সালে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাব থেকে ১ হাজার ৩৭৫টি সংক্রমণ এসেছে।   মাত্র কয়েক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে হাম রোগকে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রাখা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদানের হার কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন এলাকায় টিকা না নেওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ার কারণে সংক্রমণ আবারও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।   সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা নেওয়ার হার সামান্য কমে ৯২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে টিকা নেওয়া থেকে অব্যাহতির হার বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।   জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। কোনো এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক মানুষ টিকা না নিলে একজন আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে দ্রুত অনেক মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের সংক্রমণের বড় অংশ স্থানীয়ভাবে ছড়িয়েছে। মাত্র ১৬টি ঘটনা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে শুধু বিদেশ থেকে আসা আক্রান্ত ব্যক্তিদের কারণে সংক্রমণ হচ্ছে—এমন ব্যাখ্যা দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিকে বোঝা যাচ্ছে না।   এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কুল ও শিশুদের ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই টিকাদানের মাধ্যমে সুরক্ষা বাড়ানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।   চলতি বছরের ২ হাজার ৫৬৬টি নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি ২০২৫ সালের পুরো বছরের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ২৮৯টি নিশ্চিত হাম রোগের ঘটনা এবং ৪৮টি প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গিয়েছিল।   স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলো আক্রান্তদের শনাক্তকরণ, সংক্রমণের উৎস অনুসন্ধান এবং প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে ২০২৬ সালের সংখ্যা এখনও চূড়ান্ত নয়; নতুন তথ্য যুক্ত হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৯:১৩
ইয়েলসহ কানেকটিকাটের বিশ্ববিদ্যালয় ছবি:সংগৃহীত।
ফেডারেল সংস্কার প্রস্তাবে চাপে ইয়েলসহ কানেকটিকাটের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চশিক্ষা সংস্কার উদ্যোগকে ঘিরে কানেকটিকাটের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন শিক্ষা সচিব লিন্ডা ম্যাকমাহন গত ৩ আগস্ট দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি একাধিক নীতিগত পরিবর্তনের আহ্বান জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাট এবং কানেকটিকাটের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে।   ফেডারেল সরকারের আহ্বানে মেধাভিত্তিক ভর্তি, মতাদর্শগত বৈচিত্র্য, শিক্ষার ব্যয় কমানো এবং ক্যাম্পাসে বাধাদানকারী বিক্ষোভের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কানেকটিকাটের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি দেয়নি।   ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে নিজেদের সম্প্রদায়ের সদস্যদের কাছ থেকে মতামত নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়েও ফেডারেল তদন্তের মুখোমুখি রয়েছে। ফলে নতুন ফেডারেল আহ্বানটি ইয়েলের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো নিয়ে কানেকটিকাটের কিছু আইনপ্রণেতা ও শিক্ষক সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে ফেডারেল অর্থায়নের সঙ্গে এসব নীতির বাস্তবায়নকে যুক্ত করা হতে পারে। যদিও ৩ আগস্টের চিঠিতে সরাসরি অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়নি।   এর আগে ইয়েলের শিক্ষক সমাজের একটি জরিপেও ফেডারেল নীতির প্রভাবে একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত ওই জরিপে প্রায় ৬৮ শতাংশ ইয়েল শিক্ষক জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর তাদের একাডেমিক স্বাধীনতা কমেছে বলে তারা মনে করেন।   ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন উচ্চশিক্ষা নীতির আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি ব্যবস্থা, শিক্ষার ব্যয়, ক্যাম্পাসের মতপ্রকাশের পরিবেশ এবং একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কানেকটিকাটের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৮:১০
এআইয়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের চাপ বাড়ছে। ছবি:সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে বাড়ছে চাকরি ছাঁটাই

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে ২০২৬ সালে চাকরি ছাঁটাইয়ের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ক্রাঞ্চবেস নিউজের সর্বশেষ হিসাবে, ১৩ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহে অন্তত ১,১১৬ প্রযুক্তিকর্মী চাকরি হারিয়েছেন অথবা ছাঁটাইয়ের তালিকায় রয়েছেন। একই সপ্তাহে গুগল, সেলসফোর্স, টিকটক, এটসি ও র‌্যাপিড৭সহ বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ছাঁটাইয়ের তালিকায় যুক্ত হয়েছে।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের বিনিয়োগ এই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এআই অবকাঠামো ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। এর ফলে কিছু প্রতিষ্ঠানে ব্যয় কমানো, কর্মী কাঠামো পুনর্গঠন এবং নির্দিষ্ট কাজ স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।   প্রযুক্তি খাতে চলমান সব ছাঁটাইকে শুধু এআইয়ের ফল হিসেবে দেখা উচিত নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, ব্যয় কমানো, বাজার পরিস্থিতি এবং ব্যবসায়িক কৌশলের পরিবর্তনও বড় ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এআই কিছু পুরোনো কাজের চাহিদা কমালেও নতুন ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর চাকরির সুযোগ তৈরি করছে।   এদিকে ওরাকল এআই অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ানোর মধ্যেই চলতি মাসে আরও কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালে এর আগে প্রায় ২১ হাজার কর্মী কমিয়েছে বলে জানা গেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব এখন মূলত চাকরির ধরন ও দক্ষতার চাহিদা পরিবর্তনের মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে। ভবিষ্যতে এআই দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি কিছু প্রচলিত প্রযুক্তি পদে নিয়োগ কমতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৮:০
নিউইয়র্কের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ছবি:সংগৃহীত।
নিউইয়র্কের উৎপাদন খাতে বড় সুখবর, চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের উৎপাদন খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আগস্টে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের এম্পায়ার স্টেট উৎপাদন জরিপের সাধারণ ব্যবসায়িক পরিস্থিতি সূচক পাঁচ পয়েন্ট বেড়ে ২০ দশমিক ৬-এ পৌঁছেছে, যা চার বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।   নতুন ক্রয়াদেশের সূচক ১৭ দশমিক ৩ এবং পণ্য সরবরাহের সূচক ১১ দশমিক ৭ হয়েছে। একই সঙ্গে অসম্পূর্ণ ক্রয়াদেশের সূচক বেড়ে ১৫ দশমিক ৫-এ উঠেছে, যা ২০২২ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। এসব তথ্য উৎপাদন খাতে চাহিদা ও কার্যক্রম বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।   শ্রমবাজারেও ইতিবাচক সংকেত পাওয়া গেছে। কর্মীর সংখ্যার সূচক ৯ দশমিক ৩ এবং কর্মসপ্তাহের সূচক ৬ দশমিক ৯ হয়েছে, যা কর্মসংস্থান ও কাজের সময় কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।   তবে পুরো পরিস্থিতি চাপমুক্ত নয়। উৎপাদনকারীদের জন্য কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায়ও কিছুটা চাপ দেখা দিয়েছে। আগস্টে উৎপাদনকারীদের দেওয়া মূল্যসংক্রান্ত সূচক ৫৮ দশমিক ৬-এ উঠেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিউইয়র্কের উৎপাদন খাতের এই শক্তিশালী অবস্থান ব্যবসা ও শিল্প খাতে আশার নতুন বার্তা দিচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৭:৫০
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির কর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির কর নিয়ে আজ সিটি কাউন্সিলে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি

নিউইয়র্ক শহরে মূল আবাসস্থল নয়—এমন বিলাসবহুল বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের বিষয়টি নিয়ে আজ গুরুত্বপূর্ণ শুনানি করছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের দুটি কমিটি।   মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট দুপুর ১টায় সিটি হলের কাউন্সিল চেম্বারে অর্থ কমিটি এবং সরকারি কার্যক্রম, রাজ্য ও ফেডারেল আইনবিষয়ক কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শুনানির মূল বিষয় ‘পিড-আ-তের’ কর বাস্তবায়ন।   ‘পিড-আ-তের’ বলতে সাধারণত এমন দ্বিতীয় আবাসিক বাড়িকে বোঝানো হয়, যা মালিকের প্রধান বাসস্থান নয় এবং অনেক সময় বছরে সীমিত সময় ব্যবহার করা হয়। নিউইয়র্কে আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়ার উচ্চমূল্যের মধ্যে এসব বাড়ির ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।   সিটি কাউন্সিলের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের আবাসন ও শূন্যতা জরিপ অনুযায়ী নিউইয়র্কে ৫৮ হাজার ৮১০টি আবাসিক ইউনিট ভাড়া বা বিক্রির জন্য পাওয়া যাচ্ছিল না, কারণ সেগুলো মৌসুমি, বিনোদনমূলক বা মাঝেমধ্যে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল। এই সংখ্যা ভাড়া বা বিক্রির জন্য অনুপলব্ধ মোট ইউনিটের প্রায় ২৬ শতাংশ।   এ ধরনের উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পক্ষে থাকা কাউন্সিল সদস্যদের যুক্তি হলো, এতে অব্যবহৃত বা কম ব্যবহৃত আবাসিক ইউনিটগুলো বাজারে আসতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত কর থেকে পাওয়া অর্থ সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচিতেও ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে।   সিটি কাউন্সিলের একটি প্রস্তাবে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভাকে নির্দিষ্ট উচ্চমূল্যের অপ্রধান আবাসনের ওপর অতিরিক্ত সম্পত্তি কর আরোপের অনুমোদন দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটিতে ৫ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি গড় বাজারমূল্যের নির্দিষ্ট অপ্রধান আবাসনের কথা উল্লেখ রয়েছে।   কাউন্সিলের নথি অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলারের ২০২৩ সালের হিসাবের ভিত্তিতে উচ্চমূল্যের অপ্রধান আবাসনের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা হলে বছরে গড়ে প্রায় ২৫৮ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রাজস্ব পাওয়া যেতে পারে।   আজকের শুনানিতে এই কর বাস্তবায়নের সম্ভাব্য প্রভাব, রাজস্ব আয় এবং আবাসন বাজারে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে করটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আইনগত বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে পারে।   নিউইয়র্কে আবাসন ব্যয় সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে থাকায় সিটি কাউন্সিলের এই উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দা, বাড়ির মালিক ও আবাসন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৭:১৫