- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
নিউইয়র্ক শহরে মূল আবাসস্থল নয়—এমন বিলাসবহুল বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের বিষয়টি নিয়ে আজ গুরুত্বপূর্ণ শুনানি করছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের দুটি কমিটি। মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট দুপুর ১টায় সিটি হলের কাউন্সিল চেম্বারে অর্থ কমিটি এবং সরকারি কার্যক্রম, রাজ্য ও ফেডারেল আইনবিষয়ক কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শুনানির মূল বিষয় ‘পিড-আ-তের’ কর বাস্তবায়ন। ‘পিড-আ-তের’ বলতে সাধারণত এমন দ্বিতীয় আবাসিক বাড়িকে বোঝানো হয়, যা মালিকের প্রধান বাসস্থান নয় এবং অনেক সময় বছরে সীমিত সময় ব্যবহার করা হয়। নিউইয়র্কে আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়ার উচ্চমূল্যের মধ্যে এসব বাড়ির ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সিটি কাউন্সিলের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের আবাসন ও শূন্যতা জরিপ অনুযায়ী নিউইয়র্কে ৫৮ হাজার ৮১০টি আবাসিক ইউনিট ভাড়া বা বিক্রির জন্য পাওয়া যাচ্ছিল না, কারণ সেগুলো মৌসুমি, বিনোদনমূলক বা মাঝেমধ্যে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল। এই সংখ্যা ভাড়া বা বিক্রির জন্য অনুপলব্ধ মোট ইউনিটের প্রায় ২৬ শতাংশ। এ ধরনের উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পক্ষে থাকা কাউন্সিল সদস্যদের যুক্তি হলো, এতে অব্যবহৃত বা কম ব্যবহৃত আবাসিক ইউনিটগুলো বাজারে আসতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত কর থেকে পাওয়া অর্থ সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচিতেও ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। সিটি কাউন্সিলের একটি প্রস্তাবে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভাকে নির্দিষ্ট উচ্চমূল্যের অপ্রধান আবাসনের ওপর অতিরিক্ত সম্পত্তি কর আরোপের অনুমোদন দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটিতে ৫ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি গড় বাজারমূল্যের নির্দিষ্ট অপ্রধান আবাসনের কথা উল্লেখ রয়েছে। কাউন্সিলের নথি অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলারের ২০২৩ সালের হিসাবের ভিত্তিতে উচ্চমূল্যের অপ্রধান আবাসনের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা হলে বছরে গড়ে প্রায় ২৫৮ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রাজস্ব পাওয়া যেতে পারে। আজকের শুনানিতে এই কর বাস্তবায়নের সম্ভাব্য প্রভাব, রাজস্ব আয় এবং আবাসন বাজারে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে করটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আইনগত বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে পারে। নিউইয়র্কে আবাসন ব্যয় সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে থাকায় সিটি কাউন্সিলের এই উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দা, বাড়ির মালিক ও আবাসন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের লেক্সিংটন শহরের চার্লস ইয়ং পার্কে গুলির ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশুও রয়েছে। ঘটনার পর ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার, ১৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে পার্কে গুলির ঘটনা ঘটে। সে সময় সেখানে ‘ইস্ট এন্ড ডে’ নামে একটি কমিউনিটি আয়োজন চলছিল। পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে ১৬ বছর বয়সী ডি’ঝন রবার্টসনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ফায়েট কাউন্টি করোনারের কার্যালয় জানিয়েছে, গুলির আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। আহত চারজনের মধ্যে ৪ ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশু এবং দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন। তাঁদের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পুলিশের তদন্তে পরে ১৮ বছর বয়সী জামেট্রিয়াস গ্রিফিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, হামলা এবং আলামত নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে প্রাথমিক শুনানিতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বর্তমানে তাঁকে ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বন্ডে আটক রাখা হয়েছে। পরবর্তী শুনানি আগামী ২ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। ঘটনার সময় পার্কে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। গুলির শব্দ শোনার পর সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দৌড়াতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা আহতদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি পুরো কমিউনিটির জন্য গভীরভাবে বেদনাদায়ক। লেক্সিংটন পুলিশ প্রধান লরেন্স ওয়েদার্স বলেছেন, এই সহিংসতা শহরের পূর্বাঞ্চলের মানুষের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরে না। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। গুলির ঘটনায় যারা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের জন্য সহায়তা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় লেক্সিংটনজুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় নেতারা নিহত কিশোরের পরিবার ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং তরুণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের মধ্যে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে জীবন বাজি রেখে উদ্ধার করে জাতীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছেন ১৬ বছর বয়সী কিশোর লাইফগার্ড রাইডার উইলিয়ামস। তাঁর সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়ে সরাসরি প্রশংসা করেছেন। সোমবার, ১৭ আগস্ট, হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে রাইডার উইলিয়ামস, উদ্ধার হওয়া শিশু নাথানিয়েল রাই এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ট্রাম্প। সেখানে প্রেসিডেন্ট রাইডারকে বলেন, “তুমি যা করেছ, তা অবিশ্বাস্য—এবং সবাই তা দেখেছে।” ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজের সিব্রাইট স্টেট বিচে। ওই সময় ১০ বছর বয়সী নাথানিয়েল রাই পরিবারের সঙ্গে সেখানে বেড়াতে গিয়েছিল। হঠাৎ শক্তিশালী ঢেউয়ের ধাক্কায় অগভীর পানিতে থাকা নাথানিয়েল পা হারিয়ে সাগরের দিকে ভেসে যায়। প্রবল স্রোত তাকে তীর থেকে আরও দূরে নিয়ে যেতে থাকে। সে সময় দায়িত্বে থাকা ১৬ বছর বয়সী রাইডার পরিস্থিতি দেখতে পেয়ে দ্রুত সহায়তার জন্য রেডিওতে বার্তা দেন। এরপর তিনি নিজের রেডিও ও সানগ্লাস ফেলে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। হাতে উদ্ধারকাজের সরঞ্জাম নিয়ে তিনি উত্তাল ঢেউ পেরিয়ে শিশুটির কাছে পৌঁছান। উদ্ধারের সময় পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। কয়েক ফুট উঁচু ঢেউ বারবার রাইডার ও নাথানিয়েলকে আছড়ে ফেলছিল। ঢেউয়ের প্রচণ্ডতার কারণে রাইডার শিশুটির শরীরে উদ্ধার-নল পরাতেও পারছিলেন না। একপর্যায়ে নাথানিয়েল নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তবুও রাইডার তাকে শক্ত করে ধরে পানিতে নিজের অবস্থান ধরে রাখেন। পরে আরেক লাইফগার্ড অ্যারন বোনেন পানিতে গিয়ে দুজনকে নিরাপদে তীরে আনতে সহায়তা করেন। ঘটনার ভিডিও এক প্রত্যক্ষদর্শী ধারণ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, বিশাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে রাইডার শিশুটিকে শক্ত করে ধরে রেখেছেন এবং বারবার ঢেউয়ের আড়ালে হারিয়ে যাওয়ার পর আবার দৃশ্যমান হচ্ছেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে। নাথানিয়েলের বাবা সুমিত রাই পরে জানান, তাঁর ছেলে মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। তিনি রাইডারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁর ছেলেকে বাঁচানোর এই ঋণ কখনো শোধ করা সম্ভব নয়। শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর কোনো আঘাত ছাড়াই পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর রাইডার নিজেও বিষয়টিকে ব্যক্তিগত বীরত্ব হিসেবে দেখেননি। তিনি জানান, বিপদের মুহূর্তে লাইফগার্ডরা প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভর করেন। তাঁর ভাষায়, এটি তাঁর দায়িত্ব এবং তিনি নিজের কাজকে ভালোবাসেন। উদ্ধার শেষে তিনি আবার দায়িত্বে ফিরে যান। রাইডারের সাহসিকতার ভিডিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরও নজরে আসে। এরপর ট্রাম্প তাঁকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানান এবং তাঁকে সম্মানিত করার ঘোষণা দেন। ১৭ আগস্টের সাক্ষাতে ট্রাম্প রাইডারকে একজন প্রকৃত নায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং লাইফগার্ডদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন। ওভাল অফিসে রাইডারের সঙ্গে ছিলেন নাথানিয়েল ও তাঁর পরিবার। সেখানে নাথানিয়েলের বাবা আবারও রাইডারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। রাইডার জানান, এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণই তাঁদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। এই ঘটনা শুধু এক কিশোরের সাহসিকতার গল্প নয়; বরং প্রশিক্ষিত লাইফগার্ডদের গুরুত্ব এবং সমুদ্রের প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নতুন বাড়ির নির্মাতারা ছাড় ও বিভিন্ন প্রণোদনার ওপর আরও বেশি নির্ভর করছেন। আগস্টের নতুন তথ্য বলছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নির্মাতা ক্রেতাদের কোনো না কোনো ধরনের বিক্রয়-প্রণোদনা দিচ্ছেন। একই সময়ে ৩৫ শতাংশ নির্মাতা বাড়ির দাম কমিয়েছেন, আর গড় মূল্যছাড় রয়েছে প্রায় ৬ শতাংশ।ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব হোম বিল্ডার্স (এনএএইচবি) ও ওয়েলস ফার্গোর আবাসন বাজার সূচকের আগস্টের জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, আগস্টে ৩৫ শতাংশ নির্মাতা চাহিদা বাড়াতে বাড়ির তালিকাভুক্ত দাম কমিয়েছেন। এই হার জুলাইয়ের ৩৭ শতাংশের তুলনায় কিছুটা কম হলেও, গড় মূল্যছাড় ৬ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে।অন্যদিকে, প্রায় ৬৩ শতাংশ নির্মাতা ক্রেতাদের বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিচ্ছেন। এর মধ্যে বন্ধকি ঋণের সুদ কমানোর ব্যবস্থা, নির্মাণকাজ বা বাড়ির বিভিন্ন সুবিধা বিনামূল্যে দেওয়া এবং অন্যান্য বিক্রয়-সুবিধা থাকতে পারে। আবাসন বাজারে এই ছাড়ের প্রবণতার পেছনে অন্যতম কারণ হলো উচ্চ বন্ধকি ঋণের সুদ। ৩০ বছরের স্থির সুদের গৃহঋণের হার আগস্টের শুরুতেও প্রায় ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ ছিল, যা অনেক সম্ভাব্য ক্রেতার জন্য মাসিক কিস্তির বোঝা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে অনেকে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে নির্মাতাদের জন্য বাড়ি বিক্রি করা কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নতুন নির্মিত বাড়ির ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে মূল্যছাড় ও প্রণোদনা দেওয়া এখন বিক্রয় কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আবাসন বাজারে কিছুটা ইতিবাচক সংকেতও দেখা গেছে। আগস্টে নতুন একক পরিবারের বাড়ির বাজার নিয়ে নির্মাতাদের আস্থার সূচক জুলাইয়ের ৩৪ থেকে বেড়ে ৩৫ হয়েছে। যদিও ৫০-এর নিচের সূচক সাধারণত বাজার পরিস্থিতি নিয়ে নির্মাতাদের মধ্যে আশাবাদের চেয়ে হতাশা বেশি থাকার ইঙ্গিত দেয়। এনএএইচবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ছিল টানা ১৬তম মাস, যখন অন্তত ৩০ শতাংশ নির্মাতা বাড়ির দাম কমানোর কথা জানিয়েছেন। একই সময়ে নির্মাতাদের আস্থার সূচকও টানা ১৬ মাস ৪০-এর নিচে রয়েছে। নির্মাণ ব্যয়ও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। জ্বালানি ও ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি নির্মাণসামগ্রী ও নির্মাণকাজের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে নির্মাতারা একদিকে ক্রেতাদের জন্য ছাড় দিতে বাধ্য হচ্ছেন, অন্যদিকে নিজেদের লাভের মার্জিনও ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। বাড়ির দাম কমানো ও বিক্রয়-প্রণোদনা বাড়ানোর প্রবণতা ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির সুযোগ তৈরি করছে। তবে উচ্চ বন্ধকি সুদ ও নির্মাণ ব্যয় কম না হলে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বড় ধরনের পুনরুদ্ধার কতটা দ্রুত হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
নিউ ইয়র্কে অভিবাসন নীতি ঘিরে অঙ্গরাজ্য সরকার, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা—আইসিইর সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কতটা থাকবে, তা নিয়ে মতবিরোধ তীব্র হয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নতুন নীতিতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ফেডারেল অভিবাসন প্রয়োগে সহযোগিতা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইর সঙ্গে স্থানীয় কারাগারগুলোর বিশেষ সহযোগিতা চুক্তি নিয়েও বিধিনিষেধ রয়েছে। গভর্নর ক্যাথি হোকুলের প্রশাসন বলছে, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে নিউইয়র্কের কিছু স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা এই নীতির বিরোধিতা করেছেন। ক্যাটারগাস কাউন্টির শেরিফ এরিক বাটলার প্রকাশ্যে গভর্নর হোকুলের অবস্থানের সমালোচনা করে বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করা জননিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়। এ নিয়ে অঙ্গরাজ্য সরকার ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে নিউইয়র্কে আইসিইর কার্যক্রমও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ক্যাপিটাল অঞ্চলের অভিবাসী অধিকারকর্মীরা গত কয়েক সপ্তাহে আটক ও গ্রেপ্তারের ঘটনা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, অনেক অভিযান হচ্ছে হঠাৎ করে এবং প্রকাশ্য এলাকায়। এই পরিস্থিতিতে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের সদস্যদের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে জটিলতা রয়েছে, তারা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।আইনি পর্যায়েও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্কের অভিবাসন-সংক্রান্ত কিছু বিধান নিয়ে ফেডারেল আদালতে আইনি লড়াই চলছে। ফলে অঙ্গরাজ্যের আইন এবং ফেডারেল অভিবাসন প্রয়োগের মধ্যে সীমারেখা কোথায় থাকবে, তা নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে। নিউ ইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ফেডারেল অভিবাসন প্রয়োগ জোরদার হলে গ্রেপ্তার, আটক ও নির্বাসন-সংক্রান্ত ঝুঁকি নিয়ে কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে। নিউ ইয়র্কে অভিবাসন নীতি নিয়ে এই সংঘাত শুধু রাজনৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই; এটি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এবং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্পর্কের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করেছে দেশটির সামরিক-সমর্থিত সরকার। তবে রাখাইনে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা হবে না বলে জানিয়েছে মিয়ানমার। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রত্যাবাসনের জন্য মোট ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার নাম পাঠিয়েছিল। এর মধ্যে যাচাই শেষে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এই স্বীকৃতির পরও প্রত্যাবাসনের পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়নি। মিয়ানমারের বক্তব্য, রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরই প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব হবে। বর্তমানে অঞ্চলটিতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে। তাদের বড় অংশ ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এরপর থেকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন শিবিরে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের এই নতুন যাচাইকে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার ও প্রত্যাবাসনের বাস্তব পরিবেশ নিয়ে এখনো বড় প্রশ্ন রয়েছে। ফলে ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও তাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। দুই দেশ বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর, পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ উদ্যোগের আওতায় বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার উন্নয়ন, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের কার্যকর ব্যবহার এবং শিল্প খাতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে নতুন পণ্য ও অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি করে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। নেদারল্যান্ডস দীর্ঘদিন ধরে পানি ব্যবস্থাপনা, টেকসই উন্নয়ন ও বৃত্তাকার অর্থনীতি নিয়ে কাজ করে আসছে। বাংলাদেশের জন্য এসব ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এর বড় অংশ যথাযথভাবে পুনর্ব্যবহার না হওয়ায় পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর চাপ বাড়ছে। ফলে বর্জ্যকে শুধু সমস্যা হিসেবে না দেখে অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডস সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব শিল্প, সবুজ বিনিয়োগ এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এতে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তীব্র গরম, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, গ্রিস, স্পেন, ক্রোয়েশিয়া ও পর্তুগালসহ কয়েকটি দেশে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন হাজারো দমকলকর্মী। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ইউরোপে পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার হেক্টরের বেশি জমি দাবানলে পুড়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বেলজিয়ামের পূর্বাঞ্চলের হাই ফেনস প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায় ভয়াবহ আগুনে প্রায় তিন হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। জার্মান সীমান্তের দিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫০০ দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তি দিলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের কাছে সালামিনা দ্বীপে দাবানলে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের কারণে প্রায় ৫০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় দাবানলের কারণে আরও অনেক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলেও ভয়াবহ দাবানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাম্প্রতিক আগুনে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে এবং শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার মানুষকে বিভিন্ন সময়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনর্বাসন ও স্থানীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ফরাসি সরকার অতিরিক্ত অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশেও দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে। স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, পর্তুগাল ও জার্মানির বিভিন্ন এলাকায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও বসতবাড়ি ও অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে, আবার কোথাও পর্যটন এলাকা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, কম বৃষ্টিপাত, মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং শুষ্ক উদ্ভিদ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পরিবেশ তৈরি করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বাড়ায় দাবানলের ঝুঁকিও বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেসামরিক সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অগ্নিনির্বাপণ বিমান, হেলিকপ্টার, দমকলকর্মী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। এবারের দাবানল শুধু পরিবেশগত বিপর্যয় নয়; এর প্রভাব জননিরাপত্তা, পর্যটন, কৃষি, স্থানীয় অর্থনীতি এবং ইউরোপের জলবায়ু ঝুঁকির ওপরও পড়ছে। আবহাওয়া আরও শুষ্ক ও উষ্ণ হলে আগামী দিনগুলোতে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিক্রি বাড়াতে ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের প্রচলিত ও অভিনব কৌশল ব্যবহার করেন। তবে সবজি বিক্রির জন্য দোকানের সামনে নৃত্যশিল্পী এনে নাচানোর ঘটনা বেশ ব্যতিক্রমী। ভারতের চেন্নাইয়ে এমনই এক অভিনব প্রচারণার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া প্রায় ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সবজির দোকানের সামনে শাড়ি পরা এক তরুণী বলিউডের জনপ্রিয় গান ‘ছম্মক ছল্লো’র তালে নাচছেন। তার পেছনে সারি করে রাখা রয়েছে আলু ও পেঁয়াজের বস্তা। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজনের দৃষ্টি তখন পুরোপুরি ওই নৃত্য পরিবেশনার দিকে। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, দোকানের ভেতরে বসে থাকা সবজি বিক্রেতা ওই নাচ উপভোগ করছেন। কখনও তাকে হাসতে, আবার কখনও হাততালি দিতে দেখা যায়। অপ্রত্যাশিত এই আয়োজন দেখতে দোকানের সামনে পথচারী ও সম্ভাব্য ক্রেতাদের ভিড়ও জমতে দেখা যায়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা এবং দোকানের বিক্রি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এমন ব্যতিক্রমী প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণত সবজির দোকানে ক্রেতা টানতে দাম কমানো, বিশেষ ছাড় বা বিভিন্ন ধরনের অফারের প্রচলন থাকলেও এখানে নাচকে প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ‘ছম্মক ছল্লো’ গানটি শাহরুখ খান ও কারিনা কাপুর অভিনীত ২০১১ সালের বলিউড সিনেমা Ra.One-এর অন্যতম পরিচিত গান। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন আকন ও হামসিকা আইয়ার। গানটি মুক্তির পর থেকেই ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে ব্যাপক পরিচিতি পায়। চেন্নাইয়ে এই ধরনের জনপ্রচারণার নজির একেবারে নতুন নয়। শহরটিতে অতীতেও জনপ্রিয় গানের সঙ্গে জনসমক্ষে নাচ ও ফ্ল্যাশ মবের আয়োজন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।তবে এবারের ভিডিওটির বিশেষত্ব হলো—কোনো মঞ্চ, অনুষ্ঠান বা উৎসবের পরিবর্তে একটি সাধারণ সবজির দোকানকে ঘিরেই নৃত্য পরিবেশনার আয়োজন করা হয়েছে। ফলে এটি শুধু দোকানের সামনে উপস্থিত মানুষের নজর কাড়েনি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কৌতূহল তৈরি করেছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এটিকে ক্রেতা আকর্ষণের অভিনব বিপণন কৌশল হিসেবে দেখছেন। ব্যবসায় প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট ব্যবসায়ীরাও এখন প্রচলিত বিজ্ঞাপনের বাইরে গিয়ে মানুষের নজর কাড়ার নতুন উপায় খুঁজছেন। চেন্নাইয়ের এই সবজি বিক্রেতার উদ্যোগ সেই প্রবণতারই একটি মজার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তবে ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে, দোকানটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান কোথায় এবং এই প্রচারণার পর বাস্তবে সবজি বিক্রি কতটা বেড়েছে—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দাবিগুলোকে সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই দেখা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েও জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী। শুক্রবারের ওই ধারাবাহিক হামলায় সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত কিশোরীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে মিশিগানের মিসককি কাউন্টিতে। স্থানীয় সময় ১৪ আগস্ট বেলা প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে লেক টাউনশিপের সাউথ ল্যাচ্যান্স রোডের একটি বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে মিশিগান স্টেট পুলিশের সদস্যরা সেখানে পৌঁছান। পুলিশ গিয়ে তিনজনকে মৃত এবং ১৩ বছর বয়সী কিশোরীকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কিশোরীটি চারবার গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থাতেও সে নিজেই ৯১১-এ ফোন করে জানায় যে তাকে গুলি করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের মাধ্যমে তদন্তকারীরা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম হন। পরিবারের সদস্যরাও তার সাহসিকতাকে প্রশংসা করে তাকে ‘নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রথম ঘটনাস্থলে নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, ৪০ বছর বয়সী এক নারী এবং ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ না করলেও পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ৪০ বছর বয়সী আমান্ডা এভারিট ও তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে এরিকের পরিচয় সামনে আসে। কিশোরীটি ওই পরিবারের সদস্য বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম হামলার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলে পুলিশ বড় ধরনের অনুসন্ধান অভিযান শুরু করে। পরে মিসককি কাউন্টির আরেকটি বাড়ি থেকে ৫৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর তদন্তকারীরা হোয়াইটলেক লেকের কাছে বনাঞ্চলে সন্দেহভাজন ব্যক্তির গাড়ির সন্ধান পান। সেখানে ৩৯ বছর বয়সী চ্যাড হিকম্যান এবং ২৯ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ পাওয়া যায়।পুলিশের হিসাবে, তিনটি পৃথক স্থানে পাওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে পাঁচজন ছিলেন হামলার শিকার এবং একজন ছিলেন সন্দেহভাজন হামলাকারী। নিহত পাঁচ ভুক্তভোগীর বয়স ছিল ১৬, ২৯, ৪০, ৪৫ ও ৫৩ বছর। সবাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত চ্যাড হিকম্যানের বয়স ছিল ৩৯ বছর। পুলিশ তাকে শনাক্ত করার পর তিনি ‘সশস্ত্র ও বিপজ্জনক’ হতে পারেন বলে সতর্ক করেছিল এবং তাকে খুঁজে বের করতে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। পরে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে তিনি আত্মহত্যা করেছেন কি না, নাকি অন্য কোনোভাবে মারা গেছেন—এ বিষয়ে তদন্তের সময় পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এই হামলার উদ্দেশ্য বা নিহত ব্যক্তিদের সঙ্গে সন্দেহভাজন হামলাকারীর সম্পর্ক কী ছিল, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। মিশিগান স্টেট পুলিশ তিনটি ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। হিকম্যানের অতীত নিয়েও নতুন তথ্য সামনে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শিশু নির্যাতনের একটি মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং এক বছরের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। তবে বর্তমান হামলার সঙ্গে ওই পুরোনো মামলার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেননি। এদিকে ভয়াবহ এই ঘটনায় মিসককি কাউন্টির ছোট কমিউনিটিতে শোক ও আতঙ্ক নেমে এসেছে। মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন এবং নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে ১৩ বছরের কিশোরীর সাহসিকতা। চারবার গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও আতঙ্কে ভেঙে না পড়ে জরুরি নম্বরে ফোন করা এবং পুলিশকে সন্দেহভাজন সম্পর্কে তথ্য দেওয়া তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মিশিগান স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান। তিনটি ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ, নিহতদের সঙ্গে সন্দেহভাজনের সম্পর্ক এবং হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাই ঘটনার পেছনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
ফ্লোরিডায় আগামী ১৮ আগস্টের প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। এবারের নির্বাচনে গভর্নর, সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনের প্রার্থী বাছাই হবে। গভর্নর পদে বর্তমান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস মেয়াদসীমার কারণে আবার প্রার্থী হতে পারছেন না। ফলে রিপাবলিকান শিবিরে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার লড়াই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া প্রতিনিধি বায়রন ডোনাল্ডস এবং ডিস্যান্টিস-সমর্থিত লেফটেন্যান্ট গভর্নর জে কলিন্সসহ একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ডেমোক্র্যাট শিবিরেও গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। সাবেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি ডেভিড জলি এখন ডেমোক্র্যাট হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন এবং তহবিল সংগ্রহে তিনি এগিয়ে রয়েছেন। সিনেট নির্বাচনেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ। নিয়োগপ্রাপ্ত রিপাবলিকান সিনেটর অ্যাশলি মুডির বিরুদ্ধে নভেম্বরে লড়ার জন্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাছাই হবে। এবারের নির্বাচনের আরেকটি বড় বিষয় হলো নতুন কংগ্রেসনাল মানচিত্র। নতুনভাবে নির্ধারিত আসনগুলো রিপাবলিকান প্রার্থীদের সুবিধা দিতে পারে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে কয়েকটি ডেমোক্র্যাট-অধ্যুষিত আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে। ফ্লোরিডার এই প্রাইমারি তাই শুধু দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচন নয়; নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাজ্যের রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য কোন দিকে যাবে, তারও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রাশ কাউন্টিতে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে দুই বছরের শিশু আলায়না পরিবারের বাড়ির বেসমেন্টে পানিতে ডুবে যায়। ঘটনাটি ঘটে ১২ আগস্ট সন্ধ্যায়, যখন প্রবল বৃষ্টিতে এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দেয়। শিশুটিকে বেসমেন্টে ডুবে থাকতে দেখে তার ১৩ বছরের ভাই দ্রুত জরুরি নম্বরে ফোন করে। একই সময়ে মা শিশুটিকে উদ্ধারের পর জীবন বাঁচানোর জন্য সিপিআর দিতে শুরু করেন। কিন্তু বন্যার পানিতে বাড়িটির চারপাশের রাস্তা এতটাই ডুবে গিয়েছিল যে উদ্ধারকারী দলের ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় এক কৃষক ট্রাক্টর নিয়ে উদ্ধারকারীদের বাড়িতে পৌঁছাতে সহায়তা করেন এবং পরে পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিতে সহযোগিতা করেন। উদ্ধারকারীরা শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর ইন্ডিয়ানাপোলিসের একটি হাসপাতালে আকাশপথে পাঠান। গুরুতর অবস্থায় তাকে শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য যন্ত্রের সহায়তা দেওয়া হয়। তবে ১৬ আগস্ট পরিবারের জন্য আসে আশার খবর। শিশুটি যন্ত্রের সহায়তা ছাড়াই নিজে থেকে শ্বাস নিতে শুরু করেছে। পরিবার জানিয়েছে, সামনে এখনও দীর্ঘ চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার পথ রয়েছে, তবে শিশুটির এই উন্নতিকে তারা বড় জয় হিসেবে দেখছেন। রাশ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্তে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হয়েছে। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও মায়ের দ্রুত পদক্ষেপ, কিশোর ভাইয়ের জরুরি ফোন এবং স্থানীয় কৃষকের সহায়তা শিশুটিকে বাঁচানোর প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মিশর জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হোসাম হাসান দুই স্ত্রীর হাতাহাতি ও সংঘাতের জেরে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে জ্ঞান হারিয়েছেন। মিশরের উত্তর উপকূলের একটি পর্যটন এলাকার বড় রিসোর্ট হোটেলের ক্যাফেতে সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর প্রথম স্ত্রী হোয়াইদা আল-গারবাওয়িকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হোসাম হাসান। হোসামের দ্বিতীয় স্ত্রী দিনা মোস্তফা, যিনি ড্যান অ্যাডাম নামেও পরিচিত, তার আইনজীবী মোহাম্মদ শামস আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে হোয়াইদা আল-গারবাওয়ের সঙ্গে হোসামের দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটতে যাচ্ছে। তাদের সংসারে আয়া, রুয়া ও ওমর নামে তিন সন্তান রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেদনের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় উত্তর উপকূলের ওই ক্যাফেতে দুই স্ত্রী মুখোমুখি হলে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি তীব্র শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সদস্যরা শরীরে কালশিটে দাগ ও বিভিন্ন ধরনের আঘাতের শিকার হন। ঘটনার সময় ক্যাফের অন্যান্য অতিথিদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। দুই পক্ষের সংঘাত ও উত্তেজনা সামলাতে না পেরে একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন হোসাম হাসান। ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মিশরের ক্রীড়া অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার পর আইনি ও দাপ্তরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন হোসাম। হোয়াইদা আল-গারবাওয়ের সঙ্গে হোসাম হাসানের দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবন ছিল। তাদের তিন সন্তান রয়েছে। এর আগে ২০২২ সালেও দুজনের মধ্যে প্রায় ১০ দিনের জন্য বিচ্ছেদ হয়েছিল। পরে সেই সম্পর্ক পুনর্বহাল করা হলেও সাম্প্রতিক বিবাদের পর এবার স্থায়ী বিচ্ছেদের পথ বেছে নেওয়া হলো। প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালে ড্যান অ্যাডাম নামে পরিচিত দিনা মোস্তফাকে বিয়ে করেছিলেন হোসাম হাসান। সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই স্ত্রীর মধ্যে সংঘাতের বিষয়টি সামনে আসার পরই প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯২ বছর বয়সী দম্পতি অ্যান্থনি ও হেলেন স্পলডিং মারা গেছেন। ৯ আগস্ট ভোরে লিংকন বুলেভার্ডের ৫০০ ব্লকের বাড়িটিতে আগুন লাগে। দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়িটি আগুনে পুরোপুরি পুড়ে যেতে দেখেন এবং ভেতর থেকে দুজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও সফল হননি। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর সান্তা মনিকা ফায়ার বিভাগের কর্মীরা রাত প্রায় ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আগুন তখন বাড়ির ভেতরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি বাড়িটির ভেতরে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে প্রথম তলার একটি শোবার ঘরে দুজনকে পাওয়া যায়। তাদের বাইরে এনে জীবন রক্ষার চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। মৃত দম্পতিকে অ্যান্থনি ও হেলেন স্পলডিং হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা প্রায় ৭০ বছর ধরে বিবাহিত জীবন কাটিয়েছেন এবং তাদের পাঁচ সন্তান রয়েছে। দম্পতির পরিচর্যাকারী রিক গার্সিয়া তাদের ‘চমৎকার দম্পতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, দুজনের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করতেন। অ্যান্থনি ছিলেন সাবেক আইনজীবী। হেলেন স্থানীয় একটি গির্জার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তাদের পরিচর্যাকারী জানিয়েছেন। আগুনের সময় কোনো পরিচর্যাকারী বাড়িতে ছিলেন না। দম্পতির বাড়িটি ছিল দুই তলা এবং আগুনের পর বাড়িটির বেশ কিছু অংশ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ঘটনাস্থলের ছবিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটির বিভিন্ন অংশ দেখা গেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেডিকেল পরীক্ষকের তথ্য অনুযায়ী, হেলেনের মৃত্যুর কারণ ছিল ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ এবং তাপজনিত দগ্ধ হওয়া। তার মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে অ্যান্থনির মৃত্যুর কারণ ও ধরন তখনও চূড়ান্ত করা হয়নি এবং তার বিষয়টি আরও তদন্তাধীন ছিল। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আগুনের কারণ ও সূত্র খতিয়ে দেখছে। ঘটনাটি কীভাবে শুরু হয়েছিল, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কারণ জানা যাচ্ছে না। অগ্নিকাণ্ডে কোনো দমকলকর্মী আহত হননি বলেও স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দম্পতির ছেলে ব্রুস স্পলডিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বাবা-মায়ের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের কথা স্মরণ করে আবেগঘন বার্তা দেন। এর আগে এপ্রিল মাসে তিনি তাদের ৭৩তম বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে তাদের একটি বিয়ের ছবি প্রকাশ করেছিলেন। অ্যান্থনি ও হেলেনের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন এবং একই অগ্নিকাণ্ডে দুজনের মৃত্যু স্থানীয়ভাবে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। পরিচর্যাকারী রিক গার্সিয়া জানান, তাদের পাঁচ সন্তানই বাবা-মায়ের প্রতি নিবেদিত ছিলেন। আগুনের ঘটনায় দম্পতির মৃত্যুকে তিনি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দম্পতির বসবাস করা বাড়িটির পাশাপাশি লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার আরও কয়েকটি সম্পত্তির মালিকানা তাদের ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভেনিসে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের কোলবি অ্যাভিনিউতে দুটি ভাড়া দেওয়া অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হিসেবে অ্যান্থনির নামের তথ্যও প্রতিবেদনে এসেছে। এসব সম্পত্তির মধ্যে কোলবি অ্যাভিনিউয়ের দুটি অ্যাপার্টমেন্টের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ লাখ ডলারের বেশি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের সান্তা মনিকার বাড়িতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ৭৩ বছরের দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিম কমিউনিটির ভেতরে ঢুকে তথ্য সংগ্রহের জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা এক গোপন ইনফরম্যান্টকেই শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্য উগ্রবাদী হিসেবে এফবিআই ও স্থানীয় পুলিশের কাছে রিপোর্ট করেছিলেন মুসল্লিরা। ২০০৬ সালে শুরু হওয়া ওই নজরদারি অভিযানের কেন্দ্রে ছিলেন ক্রেইগ মন্টেইল নামের এক ফিটনেস প্রশিক্ষক, যিনি ‘ফারুক আল আজিজ’ নাম নিয়ে মুসলিম পরিচয়ে অরেঞ্জ কাউন্টির বিভিন্ন মসজিদে যাতায়াত শুরু করেন। ঘটনাটি পরে বড় ধরনের নাগরিক অধিকার মামলায় রূপ নেয় এবং একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছায়। সুপ্রিম কোর্টের নথি অনুযায়ী, ২০০৬ সালের জুলাইয়ের আগে মন্টেইলকে পেইড ইনফরম্যান্ট হিসেবে নিয়োগ করে এফবিআই। তাকে আরভাইন এলাকার মুসলিমদের সম্পর্কে গোপনে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এরপর মন্টেইল ইসলামিক সেন্টার অব আরভাইনের ইমামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি নিজেকে ফরাসি ও সিরীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে ইসলাম গ্রহণের আগ্রহের কথা জানান। পরে জুমার নামাজে শত শত মুসল্লির সামনে শাহাদাহ পাঠ করে প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং কিছুদিন পর ‘ফারুক আল আজিজ’ নাম ব্যবহার শুরু করেন। মুসলিম হিসেবে পরিচিত হওয়ার পর তিনি নিয়মিত মসজিদে যেতে থাকেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কখনো কখনো দিনে একাধিকবার নামাজে অংশ নিতেন তিনি। বিভিন্ন ধর্মীয় ক্লাস ও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি অরেঞ্জ কাউন্টির আরও কয়েকটি বড় মসজিদেও যাতায়াত করতেন। এভাবে কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। মুসল্লিদের সঙ্গে সময় কাটানো, একসঙ্গে খাওয়া এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে সম্পর্ক তৈরির মধ্য দিয়ে তিনি এমন জায়গায় পৌঁছান, যেখানে অনেকেই তাকে নিজেদের পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য মানুষ হিসেবে দেখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু আড়ালে চলছিল নজরদারি। সুপ্রিম কোর্টের নথিতে মামলাকারীদের অভিযোগ হিসেবে বলা হয়েছে, ওই অভিযানে শত শত ফোন নম্বর, হাজার হাজার ইমেইল ঠিকানা এবং বিপুল পরিমাণ অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিং সংগ্রহ করা হয়েছিল। মসজিদ, বাড়ি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত স্থানেও রেকর্ডিংয়ের অভিযোগ ওঠে। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসকে মন্টেইল পরে দাবি করেন, প্রায় ১৪ মাসের ওই কাজে এফবিআই তাকে ১ লাখ ৭৭ হাজার ডলার দিয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অরেঞ্জ, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির প্রায় এক ডজন মসজিদে তিনি তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। ঘটনার সবচেয়ে অস্বাভাবিক মোড় আসে যখন মন্টেইল সহিংস জিহাদ নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। সুপ্রিম কোর্টের ২০২২ সালের রায়ে উল্লেখ করা হয়, মামলাকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী এফবিআইয়ের নির্দেশে ইনফরম্যান্ট কমিউনিটির সদস্যদের কাছে সহিংস জিহাদ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। তার কথাবার্তায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন কয়েকজন মুসল্লি। শেষ পর্যন্ত যে ব্যক্তিকে এফবিআই তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পাঠিয়েছিল, তাকেই সম্ভাব্য উগ্রবাদী মনে করে এফবিআই ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রিপোর্ট করেন তারা। ২০০৭ সালে কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনসের স্থানীয় কর্মকর্তারাও তার বিষয়ে এফবিআইকে সতর্ক করেছিলেন বলে সে সময় লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস জানিয়েছিল। মন্টেইলের বিরুদ্ধে মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়। তখন মুসল্লিরা জানতেন না, যাকে তারা নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করছেন, তিনি আসলে এফবিআইয়ের হয়ে কাজ করছেন। ২০০৯ সালে মন্টেইলের পরিচয় ও তার ভূমিকা প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে। মুসলিম কমিউনিটির সদস্যদের অভিযোগ ছিল, অপরাধের সুনির্দিষ্ট সন্দেহের ভিত্তিতে নয়, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের ব্যাপক নজরদারির আওতায় আনা হয়েছিল। ২০১১ সালে ইয়াসির ফাজাগা, আলী মালিক ও ইয়াসের আবদেলরহিমসহ বাদীরা যুক্তরাষ্ট্র সরকার, এফবিআই ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের অভিযোগের মধ্যে ধর্মীয় বৈষম্য, গোপন নজরদারি এবং সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয় ছিল। ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বনাম ফাজাগা নামে পরিচিত মামলাটি পরে সুপ্রিম কোর্টে যায়। ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্ট মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নে রায় দেয়। আদালত বলেছিল, ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভেইল্যান্স অ্যাক্ট সরকারের ‘স্টেট সিক্রেটস’ বিশেষাধিকারকে বাতিল করে না। তবে সেই রায়ে মুসলিম বাদীদের সব অভিযোগ সত্য বা মিথ্যা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। আইনি লড়াই সেখানেই শেষ হয়নি। মামলাটি পরবর্তী বছরগুলোতেও আদালতে চলতে থাকে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট আবারও মামলাটিতে হস্তক্ষেপ করে আগের রায় বাতিল করে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির আলোকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়। প্রায় দুই দশক আগের এই গোপন অভিযান তাই শুধু একটি এফবিআই ইনফরম্যান্টের গল্পে সীমাবদ্ধ থাকেনি। মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নজরদারি করা হয়েছিল কি না এবং জাতীয় নিরাপত্তার তদন্তে সরকারের ক্ষমতার সীমা কোথায়, সেই প্রশ্ন ঘিরে এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী নাগরিক অধিকার মামলাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।
দেশের মেয়েদের স্নাতক বা অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় ভালো ফল করা ছাত্রীদের বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা পুরস্কার ২০২৬ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নারীশিক্ষা সম্প্রসারণের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে গত ৮ জুলাই জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনেও তিনি একই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সময় মেয়েদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করে অনার্স পর্যন্ত নিয়ে যেতে চায়। তারেক রহমান বলেন, সরকার অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষার খরচ বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের যেভাবে উপবৃত্তি দেওয়া হয়, উচ্চশিক্ষায় ভালো ফল করা মেয়েদেরও সেভাবে বৃত্তি দেওয়া হবে। এর আগে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, নারীশিক্ষার পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনায় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্যও বেশ কিছু নতুন সুবিধা রয়েছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম ও ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া স্কুলের শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড ডে মিল কর্মসূচি চালুর কাজও করছে সরকার। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, বিতর্ক, কুইজ ও স্কাউটিংয়ের মতো সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে, কী ধরনের ফি সরকার বহন করবে এবং বৃত্তির জন্য ফলাফলের মানদণ্ড কী হবে, সেসব বিষয়ে বিস্তারিত বাস্তবায়ন কাঠামো এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উচ্চমাধ্যমিকের পরও মেয়েদের শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তার পরিধি আরও বাড়বে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহনে সমস্যায় থাকা পরিবারের মেয়েদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তিনবার ভোট দিয়েছেন ব্রেন্ট জিনড্রা। ট্রাম্পের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতিও ছিল তার সমর্থনের অন্যতম কারণ। কিন্তু যে অভিযানের মাধ্যমে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি ভেবেছিলেন, সেই অভিযানে নিজের স্ত্রী গালিনা বোব্রেনেভা আটক হওয়ার পর বদলে গেছে তার দৃষ্টিভঙ্গি। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৮ বছর বয়সী জিনড্রা পেশায় টেক সেলসম্যান। তার স্ত্রী বোব্রেনেভা রাশিয়ার নাগরিক। ২০২১ সালের শেষ দিকে ট্যুরিস্ট ভিসায় বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন তিনি। পরে দুবার তার থাকার মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং ২০২২ সালে তিনি অ্যাসাইলামের আবেদন করেন। ২০২৫ সালের মার্চে জিনড্রার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে তারা বিয়ে করেন। এরপর ২০২৬ সালের এপ্রিলে স্ত্রীর জন্য ম্যারেজ বেসড গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন জিনড্রা। আবেদন গ্রহণের আনুষ্ঠানিক নোটিশও পেয়েছিলেন তারা এবং বোব্রেনেভার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত ১৩ জুলাই সান ফ্রান্সিসকো থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার বারব্যাঙ্কে ফ্লাইটে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। বিমানবন্দরে সাদা পোশাকের ফেডারেল এজেন্টরা বোব্রেনেভাকে থামান। প্রায় ১৫ মিনিট জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এজেন্টরা তাকে জানান, তিনি ভিসার অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন। বোব্রেনেভা তখন নিজের চলমান গ্রিন কার্ড আবেদনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখান। তার দাবি, তিনি নিশ্চিত ছিলেন কোথাও ভুল হচ্ছে। এরপর শুরু হয় ১৬ দিনের ডিটেনশন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে তাকে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হোল্ডিং সেলে রাখা হয়। পরে ক্যালিফোর্নিয়ার মোহাভি মরুভূমি এলাকার অ্যাডেলান্টো ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ৩৫ হাজার ডলারের বন্ডে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং তার পায়ে ইলেকট্রনিক মনিটর লাগানো হয়। তবে বোব্রেনেভার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য আলাদা। তার আইনজীবীর দাবি, তিনি কখনোই আইনগত স্ট্যাটাসের বাইরে ছিলেন না। অন্যদিকে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বলেছে, বোব্রেনেভা অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করেছেন। সংস্থাটি আরও স্পষ্ট করেছে, ওয়ার্ক অথরাইজেশন বা কোনো আবেদন পেন্ডিং থাকা নিজে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস দেয় না। স্ত্রীর আটক হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন অভিযান নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছেন জিনড্রা। তিনি বলেন, ম্যাগা ক্যাম্পেইনের আকর্ষণ ছিল অপরাধী হিসেবে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে। কিন্তু বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও এমন অভিযান চালানো হবে, এমন কোনো ম্যান্ডেট তিনি দেখেননি। স্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়টি তুলে ধরে জিনড্রা বলেন, তিনি দেয়াল টপকে কিংবা নদী সাঁতরে যুক্তরাষ্ট্রে আসেননি, বরং বৈধ পথেই দেশে প্রবেশ করেছিলেন। তবে ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইনে বৈধভাবে প্রবেশ করা এবং পরবর্তী সময়ে বৈধ স্ট্যাটাস বজায় রাখা দুটি আলাদা বিষয়। কোনো ব্যক্তি বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে অ্যাসাইলাম, গ্রিন কার্ড বা অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের আবেদন পেন্ডিং থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ স্ট্যাটাস তৈরি হয় না। বোব্রেনেভার ক্ষেত্রে ঠিক কোন আইনি অবস্থান প্রযোজ্য, সেটিই এখন তার চলমান ইমিগ্রেশন মামলার অন্যতম বিরোধের বিষয়। বোব্রেনেভা বর্তমানে মুক্ত থাকলেও তার মামলা শেষ হয়নি। তাকে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে এবং ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত রিপোর্ট করতে হচ্ছে। তার প্রথম কোর্ট হিয়ারিং ২২ অক্টোবর নির্ধারিত রয়েছে। তিনবার ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া জিনড্রার জন্য ঘটনাটি এখন ব্যক্তিগত বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। স্ত্রীর আটক হওয়ার পর তিনি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, নিজের দেশেই এখন তারা ভয় নিয়ে বসবাস করছেন।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কোয়ামে মামদানি কুইন্সের ফ্লোরাল পার্কে অনুষ্ঠিত কুইন্স ইন্ডিয়া ডে প্যারেডে অংশ নিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতি ও প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে নিজের সংযোগের কথা তুলে ধরেছেন। ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাকে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ ও স্মরণীয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অনুষ্ঠানের কয়েকটি ছবি নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করে মামদানি লিখেছেন, তিনি এই সপ্তাহান্তে আবারও ফ্লোরাল পার্কে ফিরেছিলেন কুইন্স ইন্ডিয়া ডে প্যারেডে অংশ নিতে। তবে এবার তাঁর পরিচয় ছিল ভিন্ন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে এবং নিজের ভাষায়, শহরের প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান মেয়র হিসেবে তিনি এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। মামদানি লিখেছেন, ‘এটি এমন একটি অভিজ্ঞতা, যা আমি কখনো ভুলব না।’ প্যারেডে ভারতীয় সংস্কৃতির নানা রঙের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ঐতিহ্যবাহী পোশাক, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ভারতের স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। মামদানিকেও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কমিউনিটি সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে মামদানি নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র ডেভিড ডিনকিন্সের একটি পরিচিত বর্ণনার কথাও স্মরণ করেন। ডিনকিন্স নিউইয়র্ককে একসময় ‘গর্জিয়াস মোজাইক’ বা অসংখ্য সংস্কৃতি ও পরিচয়ের অপূর্ব সমন্বয় হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ফ্লোরাল পার্কের এই আয়োজনে মামদানি বলেন, তিনি সেই বৈচিত্র্যেরই প্রতিচ্ছবি দেখেছেন ভারতীয় ডায়াস্পোরার মধ্যে। সেখানে হিন্দু, খ্রিস্টান, মুসলিম, জৈন, বৌদ্ধ ও শিখসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষকে একসঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা উদযাপন করতে দেখা গেছে। তাঁদের উদ্দেশে মামদানি বলেন, নিউইয়র্ককে আজকের শহরে পরিণত করার ক্ষেত্রে ভারতীয় ডায়াস্পোরার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে পাশাপাশি কাজ করতে পারা তাঁর জন্য সম্মানের। মামদানির নিজের পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গেও ভারতীয় সংস্কৃতির একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মাহমুদ মামদানি ভারতীয় বংশোদ্ভূত গুজরাটি মুসলিম এবং তাঁর মা মীরা নায়ার ভারতীয় বংশোদ্ভূত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও পাঞ্জাবি হিন্দু পরিবারের সন্তান। ছোটবেলায় তিনি পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্কে চলে আসেন। এর আগে মেয়র নির্বাচনের সময়ও মামদানি তাঁর মায়ের পরিবারের হিন্দু ঐতিহ্য এবং ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে নিজের পরিচয়ের কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, দীপাবলি, হোলি ও রাখিবন্ধনের মতো ভারতীয় ঐতিহ্য তাঁর বেড়ে ওঠার অংশ ছিল। একই সঙ্গে তিনি নিজের মুসলিম পরিচয়কেও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। ফলে ফ্লোরাল পার্কের এই আয়োজন মামদানির জন্য কেবল একজন মেয়র হিসেবে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিল না। নিজের পারিবারিক শিকড়, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং নিউইয়র্কের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কে একই মঞ্চে উদযাপনের একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবেও এটি সামনে এসেছে। পোস্টের শেষদিকে ভারতীয় কমিউনিটির উদ্দেশে মামদানি লিখেছেন, ‘হ্যাপি ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স ডে।’ তাঁর শেয়ার করা ছবিগুলোতেও সেই উদযাপনের আবহ স্পষ্ট। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা মানুষ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং উচ্ছ্বসিত কমিউনিটি সদস্যদের মাঝে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির উপস্থিতি যেন শহরটির বৈচিত্র্যময় পরিচয়েরই একটি প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
নিজে কখনো স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাননি। পড়তে বা লিখতেও জানতেন না। তবু নিজের মেয়েদের শিক্ষিত করার স্বপ্নে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতেন আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের দিনমজুর মিয়া খান। তিন মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার পর বাড়ি ফিরে যেতেন না তিনি। ক্লাস শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা স্কুলের বাইরেই অপেক্ষা করতেন। ঘটনাটি ২০১৯ সালের। পাকতিকার শারানা এলাকার বাসিন্দা মিয়া খানের এই গল্প সে সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। ভয়েস অব আমেরিকা, আরব নিউজ ও আফগান সংবাদমাধ্যম পাজওকসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম তার মেয়েদের শিক্ষিত করার এই সংগ্রামের কথা প্রকাশ করে। মিয়া খানের তিন মেয়ে পড়াশোনা করত নূরানিয়া স্কুলে। বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব ছিল প্রায় ১২ কিলোমিটার। মেয়েদের নিয়মিত স্কুলে যাওয়া নিশ্চিত করতে তিনি একটি মোটরসাইকেল কিনেছিলেন। প্রতিদিন সকালে তাদের নিয়ে স্কুলে যেতেন এবং ক্লাস শেষ হলে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনতেন। তবে প্রতিদিন ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়াই ছিল না তার সবচেয়ে বড় ত্যাগ। মেয়েদের স্কুলে রেখে নিজের কাজে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে প্রায় চার ঘণ্টা বাইরে অপেক্ষা করতেন তিনি। মেয়েদের ক্লাস শেষ হলে তাদের সঙ্গে নিয়েই বাড়ির পথে রওনা হতেন। মিয়া খান তখন দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। নিজের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও ছেলে ও মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য করতে চাননি তিনি। তার তিন মেয়ের মধ্যে দুজন তখন সপ্তম শ্রেণিতে এবং একজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছিল বলে ভয়েস অব আমেরিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মেয়েদের পড়াশোনা করানোর পেছনে মিয়া খানের ছিল আরও একটি বড় স্বপ্ন। তার এলাকায় নারী চিকিৎসকের সংকট ছিল। তিনি চেয়েছিলেন, তার মেয়েরা লেখাপড়া শিখে একদিন চিকিৎসক হবে এবং এলাকার মানুষের, বিশেষ করে নারীদের চিকিৎসাসেবায় এগিয়ে আসবে। তার এক মেয়ে রোজাইও বাবার সেই স্বপ্নকে ধারণ করেছিল। ২০১৯ সালে আরব নিউজকে মিয়া খান জানিয়েছিলেন, মেয়েকে শারানা এলাকার প্রথম নারী চিকিৎসক হিসেবে দেখতে চান তিনি। মিয়া খানের এই চেষ্টা কয়েক দিনের ছিল না। বছরের পর বছর তিনি কখনো হেঁটে, কখনো মোটরসাইকেলে মেয়েদের দূরের স্কুলে পৌঁছে দিয়েছেন। তার গল্প ছড়িয়ে পড়ার পর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আফগানিস্তানের তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাকে কাবুলে আমন্ত্রণ জানায় এবং সম্মাননা দেয়। একই সঙ্গে তার গ্রামে মেয়েদের জন্য একটি স্কুল নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। একজন নিরক্ষর ও স্বল্প আয়ের বাবার নিজের না পাওয়া শিক্ষার সুযোগ মেয়েদের হাতে তুলে দেওয়ার এই গল্প তাই শুধু প্রতিদিনের ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার ঘটনা নয়। মিয়া খানের কাছে সেই পথ ছিল তার মেয়েদের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার স্বপ্নের পথ।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ বছর বয়সী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ম্যাডি বেকারের কাছে একসময় মানসিক চাপ সামলানোর সহজ উপায় ছিল কেনাকাটা। স্কুলে কঠিন একটি দিন কাটলেই কাজ শেষে কোনো দোকানে চলে যেতেন। প্রতিদিন অন্তত একবার কফি কেনা, ঘন ঘন নতুন পোশাক কেনা এবং সামর্থ্যের বাইরে ছুটিতে যাওয়ার অভ্যাস শেষ পর্যন্ত তাকে এমন অবস্থায় নিয়ে যায়, যেখানে প্রতিটি পে চেকের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। সিএনবিসি মেক ইটকে বেকার জানান, ছয় বছর আগে কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতা শুরু করার সময় থেকেই তার ইমপালসিভ স্পেন্ডিং বা হঠাৎ সিদ্ধান্তে টাকা খরচের প্রবণতা ছিল। কোনো দিন স্কুলে খারাপ কাটলে কাজ শেষে সরাসরি দোকানে চলে যেতেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কঠিন দিনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার একটি উপায় হয়ে উঠেছিল টাকা খরচ করা। তবে ছোট ছোট এসব খরচ একসময় বড় আর্থিক চাপে রূপ নেয়। বেকার জানান, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ক্রেডিট কার্ডের ঋণে না জড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তাকে পে চেক টু পে চেক চলতে হচ্ছিল। এক মাসের আয় দিয়ে পরবর্তী মাস পর্যন্ত টিকে থাকার এই চক্র তার জন্য ক্রমেই চাপের হয়ে ওঠে। বেকারের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রে একেবারে বিচ্ছিন্ন নয়। সিএনবিসির প্রতিবেদনে উদ্ধৃত লেন্ডিংট্রির জরিপ অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক আমেরিকান ভোক্তা মন ভালো করার জন্য কখনো না কখনো কেনাকাটা করেন। এ ধরনের কেনাকাটা সাময়িক স্বস্তি দিলেও নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ব্যক্তিগত অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করতে পারে। জরিপে ইমোশনাল শপিং করা প্রায় তিন চতুর্থাংশ মানুষ বলেছেন, তারা কোনো না কোনো সময় পরিকল্পনার চেয়ে বেশি খরচ করেছেন। ৪৪ শতাংশ জানিয়েছেন, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তাদের আর্থিক অবস্থার ওপর। নিজের খরচের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে আনতে বেকারের প্রায় তিন বছর সময় লাগে। তিনি ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেন কোন পরিস্থিতিতে তার অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার ইচ্ছা তৈরি হচ্ছে। এরপর অর্থ খরচের সিদ্ধান্তে সচেতনতা বাড়ান এবং এমন কিছু নতুন অভ্যাস ও শখ তৈরি করেন, যেগুলো তাকে টাকা বাঁচাতে সাহায্য করে। বর্তমানে প্রথম শ্রেণির শিক্ষক বেকার আগের তুলনায় অনেক পরিকল্পিতভাবে টাকা খরচ করেন। তার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, শুধু আয় কত তা নয়, মানসিক চাপ বা আবেগের মুহূর্তে নেওয়া ছোট ছোট আর্থিক সিদ্ধান্তও মাস শেষে ব্যক্তিগত বাজেটে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।