- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করলেই স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার পাওয়া যায় না। স্টাডি পারমিট বা অন্য বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হলে এবং কানাডায় থাকার নতুন কোনো বৈধ পথ না থাকলে দেশে ফিরে যেতে হবে। আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ এমন বার্তা দিয়েছেন। সম্প্রতি পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট প্রত্যাখ্যাত হওয়া পোর্টেজ কলেজের একদল আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর বিক্ষোভের মধ্যে তার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ২৯ জুলাই রেড ডিয়ারে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন স্মিথ। সেখানে তিনি বলেন, কেউ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় এলে এবং তার ভিসা বা বৈধ স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি না পেলে তাকে দেশে ফিরে যেতে হবে। তবে স্মিথ একই সঙ্গে বলেন, কোনো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর এমন দক্ষতা থাকলে যা আলবার্টার শ্রমবাজারে প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে তাদের জন্য পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির বৈধ পথ তৈরির সুযোগ থাকা উচিত। অর্থাৎ তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, স্টাডি পারমিট নিজে থেকে স্থায়ীভাবে কানাডায় থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। কানাডার সরকারি ইমিগ্রেশন নীতিতেও একই মূলনীতি রয়েছে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার নিয়ম অনুযায়ী, স্টাডি পারমিটধারীদের তাদের পারমিটের শর্ত মেনে চলতে হয় এবং বৈধভাবে থাকার মেয়াদ শেষ হলে দেশ ছাড়তে হয়, যদি এর মধ্যে তারা অন্য কোনো বৈধ স্ট্যাটাস না পান। সাধারণভাবে একজন শিক্ষার্থীর স্টাডি পারমিট তার শিক্ষা কার্যক্রমের মেয়াদের সঙ্গে অতিরিক্ত ৯০ দিন পর্যন্ত বৈধ থাকতে পারে। এই সময় শিক্ষার্থী কানাডা ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে অথবা বৈধভাবে অবস্থান বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে পারেন। আবার যোগ্য শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে কানাডায় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা অর্জন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যায় না। বর্তমান বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে আলবার্টার পোর্টেজ কলেজের কিছু গ্র্যাজুয়েট। কলেজটির নির্দিষ্ট কয়েকটি নন ক্রেডিট প্রোগ্রাম শেষ করা শিক্ষার্থীদের পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তাদের একটি বড় অংশ ভারতীয় শিক্ষার্থী। প্রত্যাখ্যানের পর ক্যালগারি ও এডমন্টনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন এবং কয়েকজন অনশন কর্মসূচিতেও অংশ নেন। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা যখন সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন, তখন তাদের ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে পড়াশোনা শেষ করার পর তারা পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্য হবেন। পরে তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয় এই যুক্তিতে যে তারা যে প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেছেন সেটি নন ক্রেডিট এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্য নয়। তবে ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা জানিয়েছে, নন ক্রেডিট প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে নতুন করে যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তন করা হয়নি। ২০২৬ সালের জুনে তাদের ওয়েবসাইটে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট পেতে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও যোগ্য প্রোগ্রাম সম্পন্ন করাসহ একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়। পোর্টেজ কলেজও জানিয়েছে, কিছু নন ক্রেডিট প্রোগ্রামের গ্র্যাজুয়েটের ওয়ার্ক পারমিট প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বিষয়টি তারা জানে। তবে কারও পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত কলেজ নেয় না। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার কানাডার ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের। কলেজটি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের অনুমোদিত ইমিগ্রেশন আইনজীবী বা রেগুলেটেড কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এই পরিস্থিতি কানাডায় পড়তে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও সামনে এনেছে। কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় কানাডার অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেই সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি প্রোগ্রাম পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্য হবে, এমন নয়। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম দুটির বর্তমান যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। একইভাবে স্টাডি পারমিট, পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট এবং পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি তিনটি আলাদা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া। কানাডায় পড়াশোনা শেষ করার পর স্থায়ীভাবে থাকতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী আলাদা বৈধ ইমিগ্রেশন পথ অনুসরণ করতে হয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় প্রবেশ করাই ভবিষ্যতে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রস্তাব ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ এখন আর সমর্থন করেন না বলে জানিয়েছেন হাউসের ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফরিস। একই সঙ্গে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা বা ডিএসএর ঘোষিত কর্মসূচির প্রতিও সমর্থন নেই বলে স্পষ্ট করেছেন নিউইয়র্কের এই ডেমোক্র্যাট নেতা। রোববার এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান জানান জেফরিস। একসময় ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বিলের সহ-উদ্যোক্তা থাকলেও বর্তমানে তিনি এই প্রস্তাবের পক্ষে নেই বলে জানান। জেফরিস বলেন, বর্তমানে তিনি ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ সংক্রান্ত কোনো আইনের সহ-উদ্যোক্তা নন এবং এটি সমর্থনও করেন না। ওয়েলকার তাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই প্রস্তাব সমর্থন করেন কি না। জবাবে জেফরিস তার বর্তমান অবস্থান অপরিবর্তিত রেখে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কংগ্রেসে উত্থাপিত ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ আইনগুলোতে তিনি সহ-উদ্যোক্তা হননি এবং বর্তমানে এগুলো সমর্থন করছেন না। ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ মূলত যুক্তরাষ্ট্রে একক সরকারি স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা চালুর একটি প্রস্তাব। এর আওতায় অধিকাংশ বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমার পরিবর্তে সরকার পরিচালিত একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে সব নাগরিককে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবটির সমর্থকেরা মনে করেন, এতে সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যক্তির নিজস্ব চিকিৎসা ব্যয় ও বেসরকারি বিমা ব্যবস্থার প্রশাসনিক খরচ কমতে পারে। সমালোচকেরা অবশ্য এর সম্ভাব্য বিপুল সরকারি ব্যয়, কর বাড়ার ঝুঁকি এবং বর্তমান চাকরিভিত্তিক স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থায় পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জেফরিসের অবস্থান পরিবর্তন ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরের মতপার্থক্যকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। দলের প্রগতিশীল অংশের কাছে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। অন্যদিকে জেফরিসসহ দলের মধ্যপন্থী নেতারা স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমানো এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। জেফরিস ডিএসএর কর্মসূচি থেকেও নিজেকে দূরে রেখেছেন। ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল রাজনীতিতে প্রভাব বাড়িয়েছে। বিভিন্ন প্রাথমিক নির্বাচনে সংগঠনটির সমর্থিত বা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের সাফল্যও দলের মধ্যপন্থী ও প্রগতিশীল অংশের মধ্যে বিতর্ক বাড়িয়েছে। জেফরিস বলেন, ডেমোক্রেটিক ককাসে প্রগতিশীল, মধ্যপন্থী ও ব্লু ডগ ডেমোক্র্যাটদের মতো বিভিন্ন মতের মানুষ রয়েছেন। তবে ডিএসএ নিজে যে কর্মসূচি তুলে ধরেছে, তিনি সেটি সমর্থন করেন না। তার মতে, ডেমোক্র্যাটদের এখন মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার বাড়তি খরচকে তিনি সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে জেফরিস ‘মেডিকেয়ার ফর অল’-এর পরিবর্তে বিদ্যমান ব্যবস্থায় খরচ কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মেডিকেইডে রিপাবলিকানদের করা কাটছাঁট ফিরিয়ে নেওয়া এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবিমা আইন বা অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের করছাড় বাড়ানোর পক্ষে কথা বলেছেন। স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে জেফরিসের বর্তমান অবস্থান তার আগের ভূমিকার তুলনায় ভিন্ন। তিনি ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বিলের সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন। তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বে আসার পর সাম্প্রতিক সংস্করণগুলোর সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেননি। জেফরিসের সঙ্গে স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে প্রকাশ্য মতপার্থক্যও দেখিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না। পৃথক এক সাক্ষাৎকারে খান্না বলেন, তিনি ‘মেডিকেয়ার ফর অল’কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রাধিকার হিসেবে দেখেন। তার দাবি, এই ব্যবস্থা স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বিতর্ক শুধু স্বাস্থ্যসেবা নিয়েই সীমাবদ্ধ নয়। অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থা আইস বা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বিলুপ্ত করার দাবিতেও দলের প্রগতিশীল অংশের সঙ্গে জেফরিসের মতপার্থক্য রয়েছে। জেফরিস আইস পুরোপুরি বিলুপ্ত করার পক্ষে নন। তবে তিনি সংস্থাটির ব্যাপক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত, মানবিক ও যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বর্তমানে আইসের কার্যক্রম ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে গেছে। এর আগে জেফরিস ও সিনেটের ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমার আইসের কার্যক্রমে বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর মধ্যে অভিবাসন কর্মকর্তাদের মুখ ঢেকে কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা, দৃশ্যমান পরিচয়পত্র বহনের বাধ্যবাধকতা, স্কুল ও গির্জার কাছে অভিযান সীমিত করা, কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো এবং বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ম আরোপের প্রস্তাব ছিল। জেফরিসের এই বক্তব্যের ঠিক এক দিন আগে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির সদস্যরা আইস বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। একই সময়ে আইস সংস্কারের পক্ষে আরেকটি প্রস্তাবও বেশি ব্যবধানে অনুমোদিত হয়। ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির চেয়ার কেন মার্টিন অবশ্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, দলের আনুষ্ঠানিক নীতিমালা প্রতি চার বছর পর জাতীয় সম্মেলনে নির্ধারিত হয়। জেফরিসের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ডেমোক্রেটিক পার্টি আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলের ভেতরের মতপার্থক্য সামলে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা আবারও হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাবে। এজন্য অন্তত ২১৮টি আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দল কাজ করছে বলেও জানান তিনি। তার বক্তব্যে মূল বার্তা ছিল, ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়টি রাখা উচিত। স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোর কাছে দলকে বাস্তবসম্মত সমাধান তুলে ধরতে হবে বলে মনে করেন তিনি। অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশ মনে করে, বিদ্যমান ব্যবস্থার ছোটখাটো সংস্কারের বদলে স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার। ফলে জেফরিসের বর্তমান অবস্থান দলের মধ্যপন্থী নেতৃত্ব ও প্রগতিশীল ঘরানার মধ্যে নীতিগত দূরত্বের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এ অবস্থায় ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ থেকে সরে আসা এবং ডিএসএর কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করে জেফরিস কার্যত ডেমোক্রেটিক পার্টির একটি মধ্যপন্থী অবস্থানই সামনে এনেছেন। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অবস্থান দলকে বৃহত্তর ভোটারগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে কতটা সহায়তা করবে, সেটিই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অন্যতম আগ্রহের বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে পাশের অ্যাপার্টমেন্টের দেয়াল ভেঙে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর ঘরে ঢুকে হামলার অভিযোগে ২৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, হামলার সময় কিশোরীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয় এবং একাধিকবার আঘাত করা হয়। ঘটনার সময় ঘরে ৫ ও ৭ বছর বয়সী আরও দুই শিশু ছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ওবেদ রেয়েস। ৫ আগস্ট রাতে জর্জিয়ার গেইনসভিলে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে ঘটনাটি ঘটে। গেইনসভিল পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রেয়েস তার নিজের অ্যাপার্টমেন্টের একটি আলমারির পাশের দেয়ালে বড় একটি গর্ত করে পাশের ইউনিটে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি কিশোরীর ওপর হামলা চালান। পুলিশের বরাতে নিউইয়র্ক পোস্ট ও পিপল জানিয়েছে, রেয়েস যে দেয়াল ভেঙেছিলেন সেটি দুই অ্যাপার্টমেন্টের মাঝখানে ছিল। দেয়ালটি ভেঙে তিনি পাশের ইউনিটের একটি আলমারিতে ঢোকেন। ওই সময় কিশোরী সেখানে দুই ছোট শিশুর সঙ্গে ছিল। পুলিশের অভিযোগ, ঘরে ঢোকার পর রেয়েস কিশোরীকে ধরে ফেলেন এবং তাকে একাধিকবার ঘুষি মারেন। এ সময় তাকে ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়। কিশোরী নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে একপর্যায়ে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে ভবনের বাইরের চলাচলের পথে চলে আসতে সক্ষম হয়। তবে পুলিশ বলছে, রেয়েস তাকে চুল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিশোরীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং দ্রুত ৯১১-এ ফোন করেন। পুলিশ রাত ১০টার কিছু আগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলা চলমান অবস্থায় রেয়েসকে দেখতে পায়। পরে কর্মকর্তারা তাকে কিশোরীর কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে গ্রেপ্তার করেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুই অ্যাপার্টমেন্টের মাঝের দেয়ালে তৈরি হওয়া বড় গর্তের ছবিও প্রকাশ করেছে। ছবিতে দেয়ালের ভাঙা অংশ দিয়ে পাশের ইউনিটে প্রবেশের পথ তৈরি হওয়ার বিষয়টি দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই গর্ত ব্যবহার করেই রেয়েস পাশের অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকেছিলেন বলে তাদের তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় রেয়েসের বিরুদ্ধে চুরি বা অবৈধভাবে প্রবেশ, গুরুতর হামলা, ধর্ষণের চেষ্টা, অপহরণ এবং শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একটি অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে। তবে তার অভিবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আদালতের নথি অনুযায়ী, রেয়েসকে হল কাউন্টি কারাগারে কোনো জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ফলে আইনগতভাবে তিনি অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত এবং মামলার পরবর্তী ধাপে আদালতে এসব অভিযোগের বিচার হবে। গেইনসভিল পুলিশ প্রধান জে প্যারিশ ঘটনায় দ্রুত ৯১১-এ ফোন করা প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, আশপাশের মানুষের দ্রুত প্রতিক্রিয়ার কারণেই পুলিশ সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আরও ক্ষতি ঠেকাতে পেরেছে। পুলিশ প্রধান আরও বলেন, ‘কিছু দেখলে জানানো’ ধরনের নাগরিক সচেতনতা একটি কমিউনিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার মতে, ঘটনাটি থেকে বোঝা যায়, সন্দেহজনক বা বিপজ্জনক পরিস্থিতি চোখে পড়লে দ্রুত জরুরি সেবায় খবর দেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিশোরী এই ঘটনার পর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও শারীরিক পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনের মুখোমুখি হতে পারে। পুলিশ প্রধান তার প্রতি কমিউনিটির সমর্থন কামনা করেছেন। ঘটনাটি গেইনসভিলে আবাসিক ভবনের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিবেশী ইউনিটের মধ্যে থাকা দেয়াল ভেঙে একজন ব্যক্তি অন্য অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করতে পারার বিষয়টি বাসিন্দাদের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দেয়ালটি কীভাবে ভাঙা হয়েছিল এবং ভবনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানায়নি। পুলিশের তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়া এখনো চলমান। অভিযোগ প্রমাণিত হলে রেয়েসকে গুরুতর ফৌজদারি মামলায় শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের দেশটিতে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয় বলে আবারও মন্তব্য করেছেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফাইন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কঠোর অভিবাসন প্রয়োগের পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তার বক্তব্য, যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন, তাদের দেশটিতে থাকার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। অভিবাসন বিষয়ে ফাইনের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর। তার সরকারি কংগ্রেসনাল ওয়েবসাইটে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, ব্যাপক বহিষ্কার এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের জন্য সরকারি সুবিধা বন্ধের পক্ষে তার অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। (Randy Fine) চলতি বছরের এপ্রিলেও ফাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামর্থ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আলোচনার সময় সব অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কারের পক্ষে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, এতে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও গাড়ির বীমাসহ বিভিন্ন খাতে খরচ কমতে পারে। (Fox News) তবে এসব দাবির সবগুলো অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সর্বসম্মত নয়। চলতি মাসে ফ্লোরিডার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে কথা বলার সময় ফাইন অবৈধ অভিবাসনকে ব্যয়বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও, অন্যান্য বিশ্লেষণে আবাসনের ঘাটতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, বীমা ব্যয়, মজুরি ও সুদের হারকেও ফ্লোরিডার ব্যয়সংকটের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। (WKMG) ফাইনের অবস্থান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ এবং ব্যাপক বহিষ্কারের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। (Randy Fine) বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসননীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বহিষ্কার এবং তাদের জন্য সরকারি সুবিধার প্রশ্ন। র্যান্ডি ফাইনের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্কে তার কঠোর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বেপরোয়া গতির এক স্ট্রিট রেসিং কেড়ে নিয়েছিল এক দম্পতির প্রাণ। বাবা-মাকে হারিয়ে রাতারাতি এতিম হয়ে যায় তাদের দুই যমজ কন্যাশিশু। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কিশোর চালক ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় এবার ৩৩ মিলিয়ন (৩ কোটি ৩০ লাখ) মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে ওই দুই শিশু। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান মাতেও কাউন্টির একটি জুরি বোর্ড এই রায় ঘোষণা করেছে। বে এরিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'বে সিটি নিউজ' এবং আদালতের নথির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। ২০২২ সালের ৪ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড সিটিতে ঘটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নিহত দম্পতির নাম গ্রেগ আমেন এবং গ্রেস স্পিরিডন। তারা যখন নিজেদের শেভ্রোলেট ভোল্ট গাড়ি নিয়ে এল ক্যামিনো রিয়েল সড়কে বাঁ দিকে মোড় নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই দুটি দ্রুতগতির গাড়ি রেসিং করতে গিয়ে তাদের সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই দম্পতি, আর তাদের যমজ কন্যারা পরিণত হয় পিতৃ-মাতৃহীন এতিমে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় সিজার মোরালেস নামের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর কাইল হ্যারিসন নামের অপর এক চালকের সঙ্গে স্ট্রিট রেসিংয়ে লিপ্ত ছিল। তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই বিচারের শুনানিতে জুরি বোর্ড জানতে পারে, দুর্ঘটনার রাতে মোরালেস ঘণ্টায় ১০৫ থেকে ১১০ মাইল বেগে গাড়ি চালাচ্ছিল। জুরি বোর্ড এই দুর্ঘটনার জন্য সিজার মোরালেসকে অবহেলা ও চরম গাফিলতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে। শুধু তাই নয়, চাঞ্চল্যকর এই রায়ে মোরালেসের বাবা আর্নল্ড মোরালেস এবং মা সুজানা সালতো আলভারেজকেও দায়ী করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, তাদের সন্তানের বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর বিষয়ে পূর্ব সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও তারা সেটি পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন। এর আগে ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি বেগে গাড়ি চালানোর জন্য মোরালেসকে একবার জরিমানাও করা হয়েছিল। যদিও তার বাবা-মা আদালতে দাবি করেছিলেন যে তারা ওই জরিমানার বিষয়টি জানতেন না। তবে জুরি বোর্ড সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, মোরালেসের বাবা-মা তাদের সন্তানের অনিরাপদ ড্রাইভিং অভ্যাস সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত ছিলেন, কিন্তু তারা তাকে নিবৃত্ত করতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। নিহত দম্পতির পরিবারের পক্ষে আইনি লড়াই করেছে 'কচেট, পিট্রে অ্যান্ড ম্যাকার্থি' ল ফার্ম। রায়ের পর প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী নিল ম্যাকার্থি এক বিবৃতিতে বলেন, "আমরা আশা করছি আজকের এই রায় বে এরিয়ার সব বাবা-মায়ের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। মোরালেস পরিবারের দায়িত্বহীন সিদ্ধান্তের কারণে আজ দুটি ছোট মেয়েকে তাদের বাবা-মা ছাড়া জীবন কাটাতে হচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, "বাবা-মায়ের দায়িত্ব কেবল সন্তানকে একটি গাড়ি কিনে দিয়ে চুপচাপ বসে থাকা নয়। সন্তানের আচরণে যখন সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন তাদের অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে এমন ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব নয়।" দুর্ঘটনার পর সিজার মোরালেসের বিচার হয়েছিল শিশু আদালতে। সেখানে ভেহিকুলার ম্যানস্লটার বা বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যার দায়ে তাকে মাত্র ৯০ দিনের ইলেকট্রনিক হোম মনিটরিংয়ের সাজা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, রেসিংয়ে অংশ নেওয়া অপর চালক কাইল হ্যারিসনকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে গত বছর সান মাতেও কাউন্টির একটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে জুরি বোর্ড এতিম দুই কন্যাশিশুকে অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ১৯ মিলিয়ন ডলার এবং তাদের মানসিক ও অন্যান্য অপূরণীয় ক্ষতির জন্য প্রত্যেকে ৭ মিলিয়ন করে আরও ১৪ মিলিয়ন ডলার প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ মিলিয়ন ডলার।
কয়েক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে আইটি খাতে ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণকে অনেকেই দ্রুত চাকরিতে প্রবেশের একটি কার্যকর পথ হিসেবে দেখতেন। ডেভেলপমেন্ট, কিউএ, সাইবার সিকিউরিটি কিংবা ডেটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতো ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক নতুন অভিবাসী ও ক্যারিয়ার পরিবর্তনকারী মূলধারার চাকরিতে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত বিস্তার, প্রযুক্তি খাতে নিয়োগের পরিবর্তন এবং সাম্প্রতিক চাকরির বাজারের অস্থিরতা সেই পথকে আগের তুলনায় অনেক কঠিন করে তুলেছে। তবে এই অর্থে আইটি খাতে চাকরির সুযোগ শেষ হয়ে যাচ্ছে এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সফটওয়্যার ডেভেলপার, কিউএ অ্যানালিস্ট ও সফটওয়্যার টেস্টারদের চাকরি সম্মিলিতভাবে ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সময়ে আইটি সিকিউরিটি এনালিস্টদের চাকরি বাড়ার পূর্বাভাস ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রযুক্তি খাতের চাহিদা থাকছে, কিন্তু কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা থাকবে এবং একজন নতুন কর্মী সেই চাহিদার সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। প্রায় পাঁচ বছর আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের পার্থক্যটি নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে তুলে ধরেছেন ভার্জিনিয়ায় বসবাসকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইটি পেশাজীবী। তিনি জানান, তখন তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই ডেভেলপার, সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ডেটাবেস সংশ্লিষ্ট কাজে প্রবেশের সুযোগ পেতেন। অনেকেই সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আইটি খাতে মূলধারার চাকরিতে ঢুকে পরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তার মতে, সেই সময়ে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ অনেকের জন্য আইটি ক্যারিয়ারে প্রবেশের দরজা খুলে দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক চাকরির বাজারের অস্থিরতায় সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন শুধু নতুনদের জন্য নয়, আগে থেকেই কয়েক বছর অভিজ্ঞতা থাকা এবং ছাঁটাইয়ের কারণে চাকরি হারানো অনেক পেশাজীবীর জন্যও নতুন চাকরিতে ফিরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ভার্জিনিয়ার ওই পেশাজীবী মনে করেন, নতুনদের জন্য এখন শুধু একটি প্রশিক্ষণ শেষ করাই যথেষ্ট নয়। যে ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নেওয়া হচ্ছে, সেই পদের বর্তমান চাহিদা, এআইয়ের প্রভাব এবং প্রশিক্ষণ শেষে বাস্তবে কী ধরনের কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো আগে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। নিউইয়র্কের জিসান নামের এক ব্যক্তি এই পরিবর্তনের আরেকটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসার পর তিনি অন্যদের কাছ থেকে শুনেছিলেন, মাত্র কয়েক মাসের আইটি প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকে নিয়মিত চাকরিতে ঢুকেছেন। কেউ ডেভেলপার, কেউ সিকিউরিটি সংশ্লিষ্ট কাজে গেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনিও আইটি পেশায় প্রবেশের জন্য প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষ করেও অবশ্য তিনি চাকরি পাননি। জিসান জানান, প্রায় এক বছর ধরে চাকরির চেষ্টা করছেন, কিন্তু এখনো কাঙ্ক্ষিত আইটি চাকরি পাননি। ফলে প্রশিক্ষণ শেষ করার পরও চাকরি না পাওয়ার অনিশ্চয়তা তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। জিসানের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ এখন আর চাকরিতে প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। বিশেষ করে কোনো বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়া নতুন প্রার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতার মাত্রা বেড়েছে। জর্জিয়ার আতিকের অভিজ্ঞতাও একই পরিবর্তনের আরেকটি দিক তুলে ধরে। তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণের পর তিনি আইটি খাতে চাকরিতে ঢুকেছিলেন। কিছুদিন কাজ করার পর প্রায় এক বছর আগে সেই চাকরি চলে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করেও আর আইটি চাকরিতে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে তিনি অ্যামাজনের ডেলিভারি ড্রাইভার হিসেবে কাজ করছেন। তিনটি অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। আগে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণকে আইটিতে প্রবেশের দরজা হিসেবে দেখা গেলেও এখন প্রশিক্ষণ, চাকরি এবং চাকরি ধরে রাখার বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান বেড়েছে। এর পেছনে এআইয়ের প্রভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এআই অনেক পুনরাবৃত্তিমূলক ও নিয়মভিত্তিক কাজ দ্রুত করতে পারছে। ফলে নিয়োগদাতারা শুধু নির্দিষ্ট একটি প্রযুক্তি জানেন এমন কর্মীর বদলে এমন প্রার্থী খুঁজছেন, যিনি প্রযুক্তির পাশাপাশি সমস্যা বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয়করণ, এআই ব্যবহার এবং বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানে সক্ষম। তবে প্রযুক্তি খাত নিয়ে পুরোপুরি হতাশ হওয়ার কারণও নেই। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার কিছু পেশায় কর্মসংস্থান কমাতে পারে, আবার অন্য অনেক পেশায় নতুন কর্মসংস্থানের চাহিদা তৈরি করতে পারে। তথ্য নিরাপত্তা, ডেটা সায়েন্স এবং সফটওয়্যার উন্নয়নের মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে আগামী দশকেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে।
দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের সহকর্মীদের সংগঠন প্যাট্রোলম্যানস বেনেভোলেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (পিবিএ)। রোববার উত্তর ম্যানহাটনের ডাইকমান এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জন্য খাবার ও পানীয় নিয়ে পৌঁছায় পিবিএ ক্যান্টিন। একই সঙ্গে সেখানে থাকা কর্মকর্তাদের খোঁজখবরও নেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। পিবিএ ক্যান্টিন মূলত দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সহায়তার জন্য ব্যবহৃত একটি চলমান খাবার ও পানীয় সরবরাহ ব্যবস্থা। বিশেষ দায়িত্ব বা দীর্ঘ সময়ের নিরাপত্তা কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে তাদের খাবার ও পানীয় সরবরাহ করার পাশাপাশি তাদের খোঁজখবর নেওয়াও এর কার্যক্রমের অংশ। রোববার উত্তর ম্যানহাটনের ডাইকমান এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কাছে পৌঁছায় পিবিএ ক্যান্টিন। এ সময় ম্যানহাটন নর্থ পিবিএর বোর্ড কর্মকর্তা কেভিন মারফি ও প্যাট ও’ডনেলও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় রাস্তায় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যদের জন্য খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা সব সময় সহজ হয় না। বিশেষ করে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকলে দীর্ঘ সময় পোস্টে অবস্থান করতে হয় তাদের। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্বের স্থানেই খাবার নিয়ে সহকর্মীদের উপস্থিতি কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে। পিবিএ ক্যান্টিনের এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জন্য খাবার ও পানীয় পৌঁছে দেওয়া হলেও, রোববার ডাইকমান এলাকায় ঠিক কী ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে ঘটনাটির মানবিক দিকটি স্পষ্ট। শহরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যখন পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘ সময় রাস্তায় দায়িত্ব পালন করছেন, তখন তাদের কাছে সহকর্মীদের খাবার নিয়ে পৌঁছে যাওয়া শুধু একটি সেবা কার্যক্রম নয়, বরং পাশে থাকারও একটি বার্তা। উত্তর ম্যানহাটনের ডাইকমান এলাকায় পিবিএ ক্যান্টিনের এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যদের প্রতি সহকর্মীদের যত্ন ও সমর্থনের একটি চিত্র উঠে এসেছে। ব্যস্ত ডিউটির মাঝেও তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা এবং খোঁজখবর নেওয়ার মধ্য দিয়ে সহকর্মীরা দেখিয়েছেন, মানুষের নিরাপত্তায় যারা রাস্তায় কাজ করছেন, তাদের প্রতিও রয়েছে সহকর্মীদের নজর ও সহযোগিতা।
গাজায় যুদ্ধ শেষে দেশে ফেরার পর ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সম্প্রতি উরিয়েল মোল্তো গেতাহোন নামের ২৪ বছর বয়সী এক মাস্টার সার্জেন্ট (রিজার্ভ) আত্মহত্যা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার কর্মরত না থাকা অবস্থায় তিনি নিজের জীবন কেড়ে নেন বলে হিব্রু সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট (Ynet) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে। গাজায় অভিযানের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে নিহত ওই সেনাসদস্যের এক আত্মীয় জানান, সেনারা শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও তাদের মনের ভেতর এমন গভীর ক্ষত তৈরি হয়, যা বাইরের কেউ দেখতে পায় না। এ বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় গঠিত একটি কমিটির প্রাথমিক পর্যালোচনায় ধারণা করা হচ্ছে, গেতাহোনের মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর সামরিক দায়িত্ব পালনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মূলত গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি সেনাসদস্যদের মধ্যে আত্মহত্যার হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রায় ১৭ জন সেনাসদস্য আত্মহত্যা করেন, যার মধ্যে ৭ জনই ৭ অক্টোবরের পরের ঘটনা। এরপর ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২১ জনে এবং ২০২৫ সালে তা ২১ থেকে ২২ জনে পৌঁছায়, যা গত প্রায় ১৫ বছরের মধ্যে বার্ষিক সর্বোচ্চ আত্মহত্যার রেকর্ড। এছাড়া ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষভাগ পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন সক্রিয় সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত মোট ১২৪ জন সক্রিয় সেনা (বাধ্যতামূলক চাকরি, ক্যারিয়ার এবং সক্রিয় রিজার্ভ) আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় লাফ দেখা যায় ২০২৪ সালে, যেখানে আত্মহত্যাকারীদের ৭৮ শতাংশই ছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সেনা; পূর্ববর্তী বছরগুলোতে এই হার ছিল মাত্র ৪২ থেকে ৪৫ শতাংশ। গাজা, লেবানন এবং অন্যান্য ফ্রন্টে দীর্ঘমেয়াদি হামলার জন্য বিপুলসংখ্যক রিজার্ভ সেনাকে তলব করায় আত্মহত্যার ঘটনায় তাদের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি এই পরিসংখ্যানে কেবল কর্মরত সেনাদের তথ্য থাকায় প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিভিন্ন পৃথক প্রতিবেদন ও তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, যুদ্ধে অংশ নেওয়া এক ডজনেরও বেশি সাবেক সেনাসদস্য চাকরি ছাড়ার পর মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
'পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান' ফ্র্যাঞ্চাইজিতে আবারও দেখা যেতে পারে জনি ডেপকে। ব্লকবাস্টার এই সিরিজের ষষ্ঠ কিস্তিতে আইকনিক চরিত্র ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো হিসেবে তার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা হলিউডে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডিজনির ডি২৩ (D23) এক্সপোতে ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রযোজক জেরি ব্রাকহেইমার সংবাদমাধ্যম ডেডলাইনকে জানিয়েছেন, জনি ডেপের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে এবং একটি চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ এগোচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই এই চুক্তিটি সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে নতুন এই কিস্তিতে একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে। অভ্যন্তরীণ সূত্রমতে, ষষ্ঠ ছবিটিতে মূল চরিত্রে থাকবেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মার্গট রবি, আর জনি ডেপকে এবার দেখা যেতে পারে একটি পার্শ্ব চরিত্রে। ২০০৩ সালে 'দ্য কার্স অব দ্য ব্ল্যাক পার্ল' দিয়ে জ্যাক স্প্যারো হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন জনি ডেপ। এরপর ২০০৬, ২০০৭, ২০১১ এবং সবশেষ ২০১৭ সালে 'ডেড মেন টেল নো টেলস' ছবিতে তাকে এই চরিত্রে দেখা যায়। এখন পর্যন্ত এই পাঁচটি ছবি বিশ্বব্যাপী সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছে। ২০১৮ সালে চিত্রনাট্যকার স্টুয়ার্ট বিটি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ডেপ হয়তো এই আইকনিক চরিত্র থেকে অবসর নিতে যাচ্ছেন, তবে সাম্প্রতিক এই আলোচনা ভক্তদের মনে নতুন করে আশা জাগিয়েছে। সাবেক স্ত্রী অ্যাম্বার হার্ডের সঙ্গে ২০২২ সালের বহু আলোচিত মানহানির মামলায় জয়ের পর এটিই হতে পারে জনি ডেপের বড় কোনো প্রজেক্ট। ওই মামলায় হার্ডের বিরুদ্ধে একটি সংবাদমাধ্যমে লেখা নিবন্ধের জেরে মামলা করে ১ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ জিতেছিলেন ডেপ। এদিকে, আগামী ১৩ নভেম্বর মুক্তি পেতে যাচ্ছে জনি ডেপ অভিনীত নতুন সিনেমা ‘এবেনেজার: আ ক্রিসমাস ক্যারল’, যেখানে তিনি এবেনেজার স্ক্রুজ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। গত জুলাইয়ে সান দিয়েগো কমিক-কনে এই চরিত্রের সাজে সম্পূর্ণ অচেনা রূপে হাজির হয়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে নতুন প্রজেক্টগুলোর মাধ্যমে হলিউডে জনি ডেপের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বনির্ধারিত যৌথ সামরিক মহড়ায় মার্কিন অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি এই মহড়ার পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্প মনে করেন, এই সামরিক মহড়া উত্তর কোরিয়ার প্রতি একটি অযৌক্তিক ও বৈরী বার্তা দেয়, যা তার বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার অত্যন্ত ভালো সম্পর্কের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে এই সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়ার দীর্ঘদিনের সিদ্ধান্তে তিনি মোটেও খুশি নন। তিনি আরও জানান, এই মহড়াগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বরাবরের মতো এর বেশিরভাগ খরচ যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হয়। ট্রাম্প দাবি করেন, তার শাসনামলে উত্তর কোরিয়া কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল না এবং তারা যথেষ্ট সম্মানজনক আচরণ করেছে; তাই এই মহড়া তাদের প্রতি একটি সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত সংকেত দেয়। তবে মহড়াটি পুরোপুরি বাতিল করতে অনেক দেরি হয়ে গেছে জানিয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে এর আকার ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার’ নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার থেকে শুরু হওয়া ১১ দিনব্যাপী এই মহড়ার নাম 'উলচি ফ্রিডম শিল্ড'। পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া ও তাদের মার্কিন মিত্ররা নিয়মিত এই গ্রীষ্মকালীন মহড়ার আয়োজন করে থাকে। তবে পিয়ংইয়ং সবসময়ই এই ধরনের মহড়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আগ্রাসনের প্রস্তুতি বা 'ড্রেস রিহার্সাল' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কম্বাইন্ড ফোর্সেস কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল রায়ান ডোনাল্ড গত সোমবার জানিয়েছিলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনকারী উত্তর কোরিয়ার সেনাদের মোকাবিলা করার কৌশল নিয়েই এই মহড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এতে ড্রোন যুদ্ধ, জিপিএস ব্যাঘাত এবং সাইবার হামলার মতো বিষয়গুলোতে বিশেষ জোর দেওয়ার কথা ছিল। উল্লেখ্য, এই মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার ১৮ হাজার এবং দেশটিতে মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ হাজার ৫০০ সেনার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। নিজের প্রথম মেয়াদে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের লক্ষ্যে কিম জং উনের সঙ্গে ঐতিহাসিক সরাসরি আলোচনায় বসেছিলেন ট্রাম্প, যদিও শেষ পর্যন্ত ওই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। ২০১৯ সালে তাদের শেষবার সামনাসামনি দেখা হয়েছিল। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের জুনে ক্ষমতা গ্রহণের পর দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং তার পূর্বসূরির কট্টরপন্থী অবস্থান থেকে সরে এসে পিয়ংইয়ংকে নিঃশর্ত আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও তার এই আহ্বানে কোনো সাড়া দেয়নি। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ কোনো শান্তিচুক্তির বদলে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়ায়, প্রযুক্তিগত ও আইনগতভাবে দুই কোরিয়া এখনও যুদ্ধাবস্থাতেই রয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডাটা সেন্টার তৈরির জন্য বিপুল অঙ্কের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে খবরের শিরোনামে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির দুই সাধারণ নারী কৃষক। প্রায় ২৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন (২ কোটি ৬৪ লাখ) মার্কিন ডলারের চোখ ধাঁধানো প্রস্তাব পাওয়ার পরও নিজেদের ২০০ বছরের পুরোনো পারিবারিক কৃষিজমিতে এআই হাব গড়ে তুলতে দিতে সাফ অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মা ও মেয়ে। সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেলসিয়া বেয়ার এবং তাঁর মা ইদা হাডলস্টন শুরুতে জমি বিক্রিতে রাজি হয়েছিলেন। তবে যখনই জানতে পারেন যে সেখানে এআই বট পরিচালনার জন্য ডাটা সেন্টার তৈরি করা হবে, তখনই তারা তাৎক্ষণিকভাবে চুক্তি বাতিল করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় অন্ধ ডেলসিয়া বেয়ারের ৪৬৩ একর জমির জন্য প্রতি একরে ৪৮ হাজার ডলার এবং লাঠিতে ভর দিয়ে চলা তাঁর মা ইদার ৭১ একর জমির জন্য একরপ্রতি ৬০ হাজার ডলার—সব মিলিয়ে ২৬ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল নাম প্রকাশ না করা একটি এআই কোম্পানি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রযুক্তি জায়ান্ট 'মেটা'র সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে চুক্তি বাতিলের পর ডেলসিয়া কোম্পানিটির প্রতিনিধিদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তারা যেন আর কখনো ফিরে না আসেন। জমি বিক্রি না করার বিষয়ে ডেলসিয়া জানান, কেবল একটি এআই হাব তৈরির জন্য পারিবারিক জমি ছেড়ে দিলে পরকালে বা বিচার দিবসে তাকে স্রষ্টার কাছে জবাবদিহি করতে হতে পারে—এমন নৈতিক ও ধর্মীয় অনুভূতি থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে ডাটা সেন্টার নির্মাণকে কেন্দ্র করে মেসভিল শহরের বাসিন্দারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় অনেকেই সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা চিন্তা করে কোটি কোটি ডলারের বিনিময়ে নিজেদের জমি বিক্রি করতে রাজি হয়েছেন। তবে ডেলসিয়াসহ এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা পর্যন্ত দায়ের করেছেন। এই বিষয়ে মেটা জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে প্রকল্পের বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ কৃষক হয়েও বিশাল অঙ্কের অর্থের মোহ ত্যাগ করে প্রযুক্তি পরাশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু নেই, এই প্রবাদের সত্যতা যেন আবারও প্রমাণ করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। একসময় অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত এই দুজনের মধ্যে সম্প্রতি এমন প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল, যা দেখে অনেকেরই ধারণা ছিল তাদের সম্পর্ক হয়তো চিরতরে শেষ। কিন্তু সেই তিক্ততা ভুলে তারা আবারও কাছাকাছি আসছেন। দু’জনের মধ্যে এখন নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে এবং আসন্ন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সহায়তার জন্য মাস্কের রাজনৈতিক সংগঠন 'আমেরিকা প্যাক' প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি ডলার খরচের বিশাল প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই নাটকীয় পটপরিবর্তনের পেছনের কারণ খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হবে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। সেবার ট্রাম্পকে ক্ষমতায় ফেরাতে নিজের প্রভাবের পাশাপাশি প্রায় ২৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার ব্যয় করেছিলেন মাস্ক। ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগেও মাস্ককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের এই সখ্য প্রকাশ্য শত্রুতায় রূপ নেয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর ও ব্যয় বিলের বিরোধিতা করে মাস্ক দাবি করেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের বোঝা বাড়াবে। এছাড়া বৈদ্যুতিক গাড়ির সুবিধা কমানো নিয়েও তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এই মতবিরোধ একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধে গড়ায়; মাস্ক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন এবং ট্রাম্প পাল্টা মাস্কের কোম্পানির সরকারি চুক্তি ও ভর্তুকি বাতিলের সম্ভাবনার কথা বলেন। পর্দার সামনে যখন এমন আক্রমণাত্মক লড়াই চলছিল, ঠিক তখনই আড়ালে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস। তারা মাস্কের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রসহ অন্যান্য মিত্ররাও এতে ভূমিকা রাখেন। একপর্যায়ে মাস্ক স্বীকার করেন যে ট্রাম্পকে নিয়ে তার কিছু মন্তব্য সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল, আর এরপর থেকেই বরফ গলতে শুরু করে। ২০২৫ সালে চার্লি কার্কের একটি স্মরণসভায় এবং পরে মে মাসে ট্রাম্পের চীন সফরের সময় একই বিমানে তাদের দেখা যায়। বর্তমানে তাদের মধ্যে প্রায় মাসে একবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন। মাস্কের 'আমেরিকা প্যাক' অন্তত আটটি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনা, ঘরে ঘরে প্রচার চালানো ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে কোটি কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। তবে অনেকেই মনে করছেন, এই পুনর্মিলন স্রেফ বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি পারস্পরিক প্রয়োজনের ফল। একদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য মাস্কের বিপুল অর্থ, রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক এবং প্রযুক্তিগত প্রভাব জরুরি, অন্যদিকে স্পেসএক্সের মতো মাস্কের প্রতিষ্ঠানগুলোরও মার্কিন সরকারের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে গভীর ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। রাজনীতিতে প্রয়োজনের খাতিরে গতকালের শত্রু যে আগামী দিনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মিত্র হয়ে উঠতে পারে, ট্রাম্প ও মাস্কের বর্তমান রসায়ন তারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনভিত্তিক একটি স্টার্টআপ কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের গ্রীষ্মকালীন চাকরিতে নিয়োগ দিয়ে প্রায় ১০ লাখ (এক মিলিয়ন) মার্কিন ডলার মজুরি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 'নালানে গ্রিন সলিউশনস' নামক ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মাথাটা "মো" এমপেলার বিরুদ্ধে এ নিয়ে একটি ফেডারেল ক্লাস-অ্যাকশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার মহান উদ্দেশ্যের কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাজে লাগিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে তাদের চরমভাবে শোষণের অভিযোগ আনা হয়েছে এই মামলায়। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, এমপেলা তার 'গ্রিন অ্যাপ্রেন্টিস প্রোগ্রাম'-এর জন্য সিটি ইউনিভার্সিটি অফ নিউইয়র্ক (CUNY) এবং হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির ২০ জনেরও বেশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ইস্ট নিউইয়র্কের ট্রানজিট টেক হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বা গ্রিন টেক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য তাদের ঘণ্টায় ২২ থেকে ৪০ ডলার বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার এই উদ্যোগে কাজ করতে অনেক শিক্ষার্থী দেশের অন্য প্রান্ত থেকে নিউইয়র্কে ছুটে আসেন এবং অন্যান্য লোভনীয় চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় কাজ করার পরও তাদের কাউকেই এক সেন্টও পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন। হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির মেধাবী শিক্ষার্থী জিওভান্নি লুটি জানান, এই প্রকল্পে কাজ করার জন্য তিনি 'কলিন্স অ্যারোস্পেস'-এর একটি বড় চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে টেক্সাস থেকে ব্রঙ্কসের একটি ইঁদুর উপদ্রুত অ্যাপার্টমেন্টে চলে এসেছিলেন। তাকে দিয়ে একটি হাই স্কুলের বেসমেন্টে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) চার্জার তৈরির অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনৈতিক একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা লেখানো হয়েছিল। সিইউএনওয়াই-এর স্নাতক শিক্ষার্থী জুলি লিউ জানান, মানুষের সেবা করার প্রতি তাদের যে অকৃত্রিম আগ্রহ ছিল, এমপেলা সেটাকে স্রেফ নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। আরেক শিক্ষার্থী আলানা মার্শিয়াল জানান, তিনি ৬৩৬ ঘণ্টা কাজ করেও কোনো বেতন পাননি। নিজেকে চরম শোষিত দাবি করে ক্ষুব্ধ এই শিক্ষার্থী বলেন, "এই প্রতারণা আর চলতে দেওয়া যায় না, এর শেষ এখানেই হতে হবে।" এদিকে অভিযুক্ত এমপেলা মজুরি না দেওয়ার পেছনে নিউইয়র্ক স্টেটের অনুদান পেতে দেরি হওয়াকে দায়ী করেছেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি দাবি করেন যে, শিক্ষার্থীদের কাছে তার দেনার পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ নয়, বরং মাত্র ৫৩ হাজার ডলার। তবে বাদীদের আইনজীবীরা তার এই দাবিকে ডাহা মিথ্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন। এদিকে, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর সিইউএনওয়াই কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে নালানে গ্রিন সলিউশনসকে তাদের নিয়োগ ব্যবস্থা থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, গত এপ্রিলে প্রথমবার মামলা হওয়ার পরও এমপেলা চলতি গ্রীষ্মে হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে নতুন করে আবারও শিক্ষার্থী নিয়োগ দিয়ে এই প্রতারণা চালিয়ে গেছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশিসহ বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ ও ভিসা সংক্রান্ত আবেদনের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এফ (F), জে (J) ও আই (I) ক্যাটাগরির ভিসাধারী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য এই নতুন নীতিমালা কার্যকর হতে যাচ্ছে। নতুন নিয়মের আওতায় অবস্থানের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং কাজের অনুমতির জন্য আবেদন ফরমের সংশোধিত সংস্করণ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। এই নতুন নীতির সবচেয়ে বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বহুল প্রচলিত ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ বা ডি/এস (D/S) সুবিধা বাতিল করা। এতদিন পর্যন্ত এফ-১ ভিসাধারীরা অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা ও নির্দিষ্ট প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং শেষ করা পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বৈধ স্ট্যাটাস বজায় রাখতে পারতেন। তবে নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। ফরম আই-২০-তে উল্লেখিত কোর্সের সময়কাল অনুযায়ী সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত অবস্থানের অনুমতি পাবেন শিক্ষার্থীরা এবং কোর্স সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় দেওয়া হবে। চার বছরের বেশি মেয়াদের কোর্স কিংবা অতিরিক্ত অবস্থানের প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মানুযায়ী সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে হবে। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ফরম আই-৫৩৯ (অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানো বা ক্যাটাগরি পরিবর্তনের আবেদন) এবং ফরম আই-৭৬৫ (কাজের অনুমতির আবেদন)-এর নতুন সংস্করণ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্ধারিত তারিখের পর পুরোনো সংস্করণের ফরম জমা দিলে আবেদনপত্র সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে অভিবাসন নীতিতে ধারাবাহিক কড়াকড়ি ও জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবেই শিক্ষার্থীদের ভিসা যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়াতে আবেদনকারীদের ইউএসসিআইএসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে হালনাগাদ তথ্য ও সংশোধিত ফরম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছেন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জ্যাকসন হাইটসে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মশাল হাতে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দলের নেতারা। তারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় এক হাজার নেতাকর্মী ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনা সভা শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের হাতে মশাল তুলে দেওয়া হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা। আলোচনা সভায় অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া দলের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, সাবেক মন্ত্রী এনামুল হক শামীমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও এতে বক্তব্য দেন। সভায় সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নেতাকর্মীদের বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টি। দলটির নেতারা দাবি করেন, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন এবং তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীও বাংলাদেশে যাবেন। এক নেতা তার বক্তব্যে বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেছিলেন; আগামী ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন এবং পৃথিবীর যে যেখানে আছেন, সবাই তার সঙ্গে দেশে যাবেন। আরেক নেতা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, তারা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন দেখতে চান না এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারও দেশ পরিচালনার প্রত্যাশা করেন। তবে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার তথ্য অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়নি। এদিকে, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টের সামনে রক্তদান, জায়নামাজ ও খাবার বিতরণের মতো আলাদা কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী। শাকিল মিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নিউইয়র্কের সিটি বাসে যাতায়াতকারী মানুষের মধ্যে প্রায় এক হাজার জায়নামাজ বিতরণ করা হয় বলে জানান আয়োজকেরা। মূলত, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত দলটির নেতাকর্মীদের নতুন করে সংগঠিত হওয়ার স্পষ্ট বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে মশাল হাতে শপথ গ্রহণ ও ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার এই ঘোষণাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোয় একটি ইমিগ্রেশন ল ফার্মে (আইনজীবী প্রতিষ্ঠান) আইসিই (ICE) এজেন্ট পরিচয়ে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছে। শুক্রবার সকালে নর্থ নাটোমাসের ওই ভবনে অন্তত চারটি গাড়িতে করে আসা এই ব্যক্তিরা দাবি করেন যে, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে তাদের কাছে একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। ওই তালিকায় থাকা অনেক ক্লায়েন্ট এই ল ফার্মের ঠিকানা ব্যবহার করছেন বলে তারা অভিযোগ করেন। ভবনে অভিবাসীদের জন্য কোনো বিছানা পাতা আছে কি না, তা তল্লাশির নামে তারা ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে কোনো আইনি ওয়ারেন্ট বা পরোয়ানা দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাদের ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। মরিস ল গ্রুপের মালিক রাইসা মরিস জানান, সকাল ৯টা ১৬ মিনিটে তার এক কর্মী টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে তাকে এই সশস্ত্র ব্যক্তিদের উপস্থিতির কথা জানান। আইসিই ব্যাজ পরা এক ব্যক্তি সরাসরি রিসেপশনে এসে অফিস ম্যানেজারের সাথে কথা বলতে চান। মরিস তাৎক্ষণিকভাবে কর্মীদের নির্দেশ দেন যে, ওয়ারেন্ট ছাড়া কাউকে যেন ভেতরে ঢুকতে না দেওয়া হয়। এ সময় বাধা পেয়ে ওই ব্যক্তি হুমকি দিয়ে বলেন যে, পরবর্তী নির্দেশ পেলে তারা রাত ৩টার দিকে এসে জানালা ভেঙে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করবেন। রাইসা মরিস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের ক্লায়েন্টরা, বিশেষ করে অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়মিতভাবেই আইনি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাকে নিজেদের মেইলিং অ্যাড্রেস বা চিঠিপত্র আদান-প্রদানের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করেন। তার প্রতিষ্ঠানে এমন দুই হাজারেরও বেশি ক্লায়েন্ট রয়েছেন। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে তিনি তার কর্মী ও ক্লায়েন্টদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ঘটনাটি দীর্ঘ এক ঘণ্টা ধরে চলার পর ভবনের ম্যানেজার ও ডেন্টিস্ট ড্যানিয়েল আজুরদুই সেখানে পৌঁছান। তিনি ওই ব্যক্তিদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ওয়ারেন্ট ছাড়া তাদের এই অবস্থান বেআইনি অনুপ্রবেশের শামিল এবং তিনি পুলিশ ডাকতে বাধ্য হবেন। এর পরপরই তারা সেখান থেকে চলে যান। পুরো ঘটনাটি নিয়ে ইউসি ডেভিস ল-এর অধ্যাপক এবং ইমিগ্রেশন আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ কেভিন জনসন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নথিপত্রহীনদের তথ্য সংগ্রহের নামে ওয়ারেন্ট ছাড়া ইমিগ্রেশন ল ফার্মে ঢুকে বিছানা খোঁজার চেষ্টার কথা তিনি আগে কখনো শোনেননি। আইনজীবীরা সাধারণ মানুষের চেয়ে আইন সম্পর্কে বেশি জানেন, তাই সেখানে ওয়ারেন্ট ছাড়া তল্লাশির চেষ্টা শুধুই সময় নষ্ট বলে মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, এই হয়রানিমূলক ঘটনার বিষয়ে আইসিই বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টাকালে প্রায় ১৪০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে ফ্রান্সের মেরিটাইম রেসকিউ টিম। শনিবার ভোরে একাধিক উদ্ধারকারী নৌকার সমন্বয়ে পরিচালিত এক জটিল ও দীর্ঘ অভিযানে তাদের নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনা হয়। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার সকালে নরম্যান্ডি উপকূলের ডিয়েপ বন্দরের দিকে একটি অভিবাসীবাহী নৌকা যেতে দেখে সেন্ট-ওবিন-সুর-মেরে অবস্থিত নজরদারি স্টেশন। এরপর দুটি টহল নৌকার সাহায্যে সেটির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। শুক্রবার গভীর রাতে বার্ক-সুর-মার উপকূলের কাছে 'ট্যাক্সি-বোটের' অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৪০ জন অভিবাসী জোয়ারের পানিতে আটকা পড়েন। বিপদ বুঝতে পেরে উদ্ধারকারী দল দ্রুত তাদের সৈকতে নিয়ে আসে এবং ফায়ার ও রেসকিউ সার্ভিসের কাছে হস্তান্তর করে। রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই নৌকাটি আবারও উত্তর দিকে যাত্রা শুরু করে এবং অন্য একটি সৈকতে পৌঁছায়। সেখানে লাইফ জ্যাকেট পরা আরও ৮২ জন নৌকায় ওঠার অপেক্ষায় ছিলেন, যদিও ছোট ওই নৌকায় আগে থেকেই প্রায় ২০ জন উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অপেক্ষমাণ অভিবাসীরা শেষ পর্যন্ত নৌকায় না ওঠার সিদ্ধান্ত নেন এবং ফরাসি উদ্ধারকর্মীরা তাদের ডাঙায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন। অবশেষে রাত সাড়ে ৩টার দিকে নৌকায় থাকা যাত্রীরাও চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা বাতিল করেন। এই উদ্ধার অভিযানের পর হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। ফরাসি মেরিটাইম প্রিফেকচার শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে মরিয়া এই অভিবাসীরা চরম জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া সাধারণত ফরাসি উদ্ধারকারীদের সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই এসব ভঙ্গুর নৌকায় জোর করে উদ্ধার অভিযান চালালে নৌকাডুবির প্রবল ঝুঁকি থাকে, তাই সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়। সম্প্রতি চ্যানেল পাড়ি দিতে ব্যবহৃত এই ছোট নৌকাগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত সোমবারেই একটি ১৫ মিটার লম্বা নৌকায় রেকর্ড ২৩০ জন যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন, যা মাঝপথে ভেঙে গিয়ে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ট্র্যাজেডির জন্ম দিতে পারত বলে সতর্ক করেছেন ফরাসি উদ্ধারকর্মীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম মিশিগানে টিউবিং করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক মা, তাঁর ৯ বছরের ছেলে এবং এক আত্মীয়কে প্রায় তিন দিন পর গভীর জঙ্গল থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মাসকিগন নদীতে টিউবিং করার সময় গাছের গুঁড়ির ধাক্কায় তাদের টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা নদীর এক দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন। নিখোঁজ এই তিনজন হলেন ২৮ বছর বয়সী সারাহ ভিদা, তাঁর ছেলে কেডেন কোভালসিক এবং সারাহর ২৮ বছর বয়সী খালাতো বোন জ্যাজমিন হক। উদ্ধার অভিযানের হৃদয়স্পর্শী ভিডিও প্রকাশের পর ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। গত ৫ আগস্ট পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশকে খবর দেন। নদীর তীরে তাদের গাড়ি পাওয়ার পর পুলিশ, প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা, উদ্ধারকারী দল ও কুকুর ইউনিট ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে। টানা তিন দিন পর কাদা-মাটিতে পায়ের ছাপ, ভাঙা ডালপালা, নুয়ে যাওয়া ঘাস ও নদীর পাশে পড়ে থাকা টিউবের সূত্র ধরে উদ্ধারকারীরা জঙ্গলের গভীরে তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন। উদ্ধারকারীদের চিৎকারের জবাবে শিশু কেডেনের আওয়াজ শুনে তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়। তখন তারা চরম ক্লান্তি, পানিশূন্যতা, শরীরজুড়ে কাটা-ছেঁড়া ও পোকামাকড়ের কামড়ে জর্জরিত ছিলেন। জানা যায়, এই দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার জন্য তারা নদীর পানি পানের পাশাপাশি ফুল, গাছের ছাল এবং পিঁপড়া পর্যন্ত খেয়েছেন। উদ্ধারের সময় ৯ বছরের শিশু কেডেনকে এক কর্মকর্তা পিঠে করে জঙ্গল থেকে বের করে আনেন এবং চরম দুর্বল দুই নারীকে স্ট্রেচারে করে আনা হয়। দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে বর্তমানে তারা সবাই সুস্থতার পথে রয়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধারকারী কর্মকর্তা ক্যামেরন রাইট এই ঘটনাকে ‘প্রায় অলৌকিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিন দিন ধরে জঙ্গলের মাঝে ভয়, ক্ষুধা আর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর পরিবারের সঙ্গে তাদের পুনর্মিলনের মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন ও স্বস্তিদায়ক।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক প্রভাবে বিশ্বজুড়ে যখন লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন এবং বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, ঠিক তখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জলবায়ু অভিবাসন নীতি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিশ্ব মানবাধিকার অঙ্গনে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক নিপীড়ন, জাতিগত নির্যাতন কিংবা ভয়াবহ যুদ্ধ ছাড়া আশ্রয়প্রার্থীদের আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষার বৈধতা দেওয়া হতো না। তবে সাম্প্রতিক সময়ের এই আইনি ও নীতিনির্ধারণী কাঠামোর পরিবর্তন কি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো অতিমাত্রায় জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে, নাকি সামনে নিয়ে আসছে আরও কঠিন ও জটিল কোনো প্রশাসনিক বাধা? দক্ষিণ এশিয়ার চলমান জলবায়ু সংকট: বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ পুরো দক্ষিণ এশীয় অঞ্চল বর্তমানে চরম বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী খরা, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় এবং অস্বাভাবিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মারাত্মক মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণেই প্রতিবছর এই অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাদের ভিটেমাটি, কৃষি জমি ও চিরাচরিত জীবনজীবিকা হারিয়ে সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়ছেন। ফলে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন অত্যন্ত তীব্র হয়ে উঠছে। মার্কিন নীতিতে মানবিক ও পরিবেশগত স্বীকৃতি: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতিনির্ধারণী কাঠামোয় প্রথমবারের মতো পরিবেশগত ও জলবায়ুজনিত মানবিক সংকটকে বিশ্বজনীন আন্তর্জাতিক সুরক্ষার অন্যতম প্রধান আইনি ভিত্তি হিসেবে স্বীকার করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে সরাসরি ভৌগোলিক বিপর্যয়ে বাস্তুচ্যুত হওয়া দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের অভিবাসীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মানবিক সুরক্ষার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করার অনন্য আইনি সুযোগ পেতে পারেন। এটি আন্তর্জাতিক জলবায়ু বিচার এবং মানবিক সুরক্ষার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আবেদন প্রক্রিয়ার কঠোরতা ও বাস্তবতার চিত্র: তবে আইনি এ সুযোগের বাস্তব চিত্র একেবারেই সহজ বা মসৃণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন আইনের সুফল ভোগ করতে হলে আবেদনকারীকে সুনির্দিষ্ট তথ্যাদি ও দাপ্তরিক প্রমাণের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে যে, সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত দুর্যোগটি তার জীবনধারণের জন্য সরাসরি চরম ও অপূরণীয় হুমকি তৈরি করেছে এবং তার দেশের সরকার তা মোকাবিলায় কিংবা তাকে মৌলিক সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর আইনি প্রক্রিয়া, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং সীমিত কোটা ব্যবস্থার কারণে কেবল সুনির্দিষ্ট ও সীমিত সংখ্যক মানুষই বাস্তবে এই সুরক্ষার সুযোগ পাবেন। সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতার সামগ্রিক মূল্যায়ন: সংক্ষেপে বলতে গেলে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য আইনি স্বীকৃতির একটি আশাব্যঞ্জক ও ইতিবাচক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু আবেদনের অতি কঠোর নিয়মাবলি, প্রমাণের জটিলতা এবং ধীরগতির যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার কারণে বিপুলসংখ্যক জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য এটি কোনো তাৎক্ষণিক বা সহজ সমাধান নয়। তবুও বৈশ্বিক জলবায়ু অভিবাসন নীতি সংস্কারের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টান্তমূলক মাইলফলক হিসেবে স্থান করে নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেড ও চিলড্রেনস হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রামের (সিএইচআইপি) আওতায় থাকা অপ্রাপ্তবয়স্ক রূপান্তরকামীদের লিঙ্গ রূপান্তর সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবায় (জেন্ডার-অ্যাফার্মিং কেয়ার) ফেডারেল তহবিলের ব্যবহার বন্ধের চূড়ান্ত নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। কয়েক মাস ধরে প্রক্রিয়াধীন থাকা এই কঠোর নীতি কার্যকর হওয়ায় দেশজুড়ে বহু পরিবার তীব্র অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মুখে পড়েছে। স্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থা কেএফএফ-এর অনুমান অনুযায়ী, যেসব অঙ্গরাজ্যে এখনও অপ্রাপ্তবয়স্কদের এই চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেখানে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার রূপান্তরকামী তরুণ বসবাস করে। তাদের মধ্যে বহু পরিবার সরকারি এই সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। সেন্টার ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেড সার্ভিসেস (সিএমএস)-এর প্রশাসক ড. মেহমেত ওজ এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, দুর্বল প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে এবং শারীরিক ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই খাতে তহবিল অব্যাহত রাখতে পারে না। এছাড়া প্রশাসন 'ওলভস ইন হোয়াইট কোটস' শীর্ষক একটি প্রতিবেদন ও প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ করে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মুনাফা লাভ ও বিল সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। তবে প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী অভিভাবকরা। ক্যালিফোর্নিয়ার এক ট্রান্সজেন্ডার কিশোরের মা (যিনি নিরাপত্তার স্বার্থে এ.ডব্লিউ. নামে পরিচিত হতে চেয়েছেন) জানান, চিকিৎসকদের কোনো লোভ নয়, বরং দীর্ঘ মানসিক কাউন্সেলিং ও চিকিৎসকদের সুচিন্তিত পরামর্শের পরই তারা এই সেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামান্য রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে বাচ্চাদের 'রাজনৈতিক বল' হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পরিবারগুলোকে প্রচণ্ড আতঙ্কের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। আইন ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে জানিয়েছেন, এর বিরুদ্ধে আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। জর্জটাউনের স্বাস্থ্য নীতি ও আইন কেন্দ্রের পরিচালক কেটি কিথ জানান, নির্দিষ্ট কোনো রোগ নির্ণয়ের ভিত্তিতে ফেডারেল সরকার কর্তৃক তহবিল বন্ধের ঘটনা এর আগে দেখা যায়নি। ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য এই বিধিমালার বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে এবং ফেডারেল তহবিল বন্ধ হলেও বিকল্প উপায়ে নিজস্ব অর্থায়নে সেবা চালু রাখার পথ খুঁজছে। তবে প্রশাসনিক নানা কড়াকড়ি ও সার্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রূপান্তরকামী পরিবারের অভিভাবকদের শঙ্কা কাটছে না।