ক্যালিফোর্নিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা হারিয়ে এতিম দুই মেয়ে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেল ৩৩ মিলিয়ন ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বেপরোয়া গতির এক স্ট্রিট রেসিং কেড়ে নিয়েছিল এক দম্পতির প্রাণ। বাবা-মাকে হারিয়ে রাতারাতি এতিম হয়ে যায় তাদের দুই যমজ কন্যাশিশু। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কিশোর চালক ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় এবার ৩৩ মিলিয়ন (৩ কোটি ৩০ লাখ) মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে ওই দুই শিশু। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান মাতেও কাউন্টির একটি জুরি বোর্ড এই রায় ঘোষণা করেছে। বে এরিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'বে সিটি নিউজ' এবং আদালতের নথির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
২০২২ সালের ৪ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড সিটিতে ঘটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নিহত দম্পতির নাম গ্রেগ আমেন এবং গ্রেস স্পিরিডন। তারা যখন নিজেদের শেভ্রোলেট ভোল্ট গাড়ি নিয়ে এল ক্যামিনো রিয়েল সড়কে বাঁ দিকে মোড় নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই দুটি দ্রুতগতির গাড়ি রেসিং করতে গিয়ে তাদের সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই দম্পতি, আর তাদের যমজ কন্যারা পরিণত হয় পিতৃ-মাতৃহীন এতিমে।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় সিজার মোরালেস নামের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর কাইল হ্যারিসন নামের অপর এক চালকের সঙ্গে স্ট্রিট রেসিংয়ে লিপ্ত ছিল। তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই বিচারের শুনানিতে জুরি বোর্ড জানতে পারে, দুর্ঘটনার রাতে মোরালেস ঘণ্টায় ১০৫ থেকে ১১০ মাইল বেগে গাড়ি চালাচ্ছিল। জুরি বোর্ড এই দুর্ঘটনার জন্য সিজার মোরালেসকে অবহেলা ও চরম গাফিলতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে।
শুধু তাই নয়, চাঞ্চল্যকর এই রায়ে মোরালেসের বাবা আর্নল্ড মোরালেস এবং মা সুজানা সালতো আলভারেজকেও দায়ী করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, তাদের সন্তানের বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর বিষয়ে পূর্ব সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও তারা সেটি পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন। এর আগে ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি বেগে গাড়ি চালানোর জন্য মোরালেসকে একবার জরিমানাও করা হয়েছিল। যদিও তার বাবা-মা আদালতে দাবি করেছিলেন যে তারা ওই জরিমানার বিষয়টি জানতেন না। তবে জুরি বোর্ড সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, মোরালেসের বাবা-মা তাদের সন্তানের অনিরাপদ ড্রাইভিং অভ্যাস সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত ছিলেন, কিন্তু তারা তাকে নিবৃত্ত করতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।
নিহত দম্পতির পরিবারের পক্ষে আইনি লড়াই করেছে 'কচেট, পিট্রে অ্যান্ড ম্যাকার্থি' ল ফার্ম। রায়ের পর প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী নিল ম্যাকার্থি এক বিবৃতিতে বলেন, "আমরা আশা করছি আজকের এই রায় বে এরিয়ার সব বাবা-মায়ের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। মোরালেস পরিবারের দায়িত্বহীন সিদ্ধান্তের কারণে আজ দুটি ছোট মেয়েকে তাদের বাবা-মা ছাড়া জীবন কাটাতে হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "বাবা-মায়ের দায়িত্ব কেবল সন্তানকে একটি গাড়ি কিনে দিয়ে চুপচাপ বসে থাকা নয়। সন্তানের আচরণে যখন সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন তাদের অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে এমন ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব নয়।"
দুর্ঘটনার পর সিজার মোরালেসের বিচার হয়েছিল শিশু আদালতে। সেখানে ভেহিকুলার ম্যানস্লটার বা বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যার দায়ে তাকে মাত্র ৯০ দিনের ইলেকট্রনিক হোম মনিটরিংয়ের সাজা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, রেসিংয়ে অংশ নেওয়া অপর চালক কাইল হ্যারিসনকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে গত বছর সান মাতেও কাউন্টির একটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে জুরি বোর্ড এতিম দুই কন্যাশিশুকে অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ১৯ মিলিয়ন ডলার এবং তাদের মানসিক ও অন্যান্য অপূরণীয় ক্ষতির জন্য প্রত্যেকে ৭ মিলিয়ন করে আরও ১৪ মিলিয়ন ডলার প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ মিলিয়ন ডলার।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreএবার মশার বিরুদ্ধেই যেন ‘যু দ্ধ’ ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! ওয়াশিংটন ডিসিতে রোগবাহী ও আক্রমণাত্মক মশার সংখ্যা কমাতে বড় ধরনের অভিযান শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। লক্ষ্য—নির্দিষ্ট কিছু মশার সংখ্যা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা। মঙ্গলবার সই করা এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মশা ও টিক নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত কর্মসূচি তৈরি ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই উদ্যোগের আওতায় দুই বছরের মধ্যে এলাকায় টিকের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, ফেডারেল নিয়ন্ত্রণাধীন ওয়াশিংটন ডিসির বিভিন্ন এলাকায় মশা ও টিকের প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। এ কাজে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি ও রাসায়নিকবিহীন পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনায় মশা ও টিক নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি কাঠামো তৈরির কথাও বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মশা ও টিকবাহিত রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আদেশে মশার পাশাপাশি টিকের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। টিকের মাধ্যমে লাইম ডিজিজসহ বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে। টিকের কামড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত আলফা-গাল সিনড্রোম নিয়েও গবেষণা ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এদিকে ফ্লোরিডায় স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া ডে ঙ্গু নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ট্রাম্পের এই উদ্যোগ সামনে এলো। ২০২৬ সালে রাজ্যটির ছয়টি কাউন্টিতে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ১৯০টি ডে ঙ্গু আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে বলে ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে। এর মধ্যে হিলসবরো কাউন্টিতেই ১৭০টি ঘটনা রয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ফ্লোরিডায় এ ধরনের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক। ভারী বৃষ্টিপাতসহ আবহাওয়ার বিভিন্ন পরিস্থিতি মশার সংখ্যা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। ডে ঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। মূলত সংক্রমিত এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে এটি মানুষের শরীরে ছড়ায়। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে রোগটি বেশি দেখা গেলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় এর বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে মশা ও টিকবাহিত রোগ প্রতিরোধে সরকারি গবেষণা কর্মসূচি, নতুন প্রযুক্তি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। নতুন চিকিৎসা ও প্রতিরোধ পদ্ধতি উদ্ভাবনে গবেষকদের উৎসাহিত করতে পুরস্কারভিত্তিক কর্মসূচি চালুর কথাও রয়েছে। এ ছাড়া আলফা-গ্যালাকটোজ নামের উপাদান উল্লেখযোগ্য পরিমাণে থাকা পণ্যের লেবেলিংয়ের বিষয়টিও পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টিকের কামড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত আলফা-গাল সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে লাল মাংস খাওয়ার পর গুরুতর অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ডিসিতে রোগবাহী মশা ও টিকের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও কার্যকর পদ্ধতিগুলো প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
আমেরিকানদের সঞ্চয় লু টতে বিশ্বজুড়ে ‘স্ক্যাম সিটি’, এফবিআইয়ের বৈশ্বিক অভিযান
যুক্তরাষ্ট্রে কাঁচা দুধ নিয়ে নতুন উদ্বেগ, গুরুতর অসু স্থ হচ্ছে শিশুরা
ইরান নিয়ে ট্রাম্পের কড়া বার্তা, ‘ভালো-মন্দ যেকোনো উপায়ে’ শিগগিরই ইতি টানার ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বা ডিএইচএসের অর্থে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তুলে ধরে তৈরি কয়েকটি বিজ্ঞাপন ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এসব বিজ্ঞাপনের জন্য প্রায় ২ কোটি ডলার সরকারি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আইনপ্রণেতা ও নীতিশাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের একাংশের প্রশ্ন, কংগ্রেসের অনুমোদিত সরকারি অর্থ এ ধরনের প্রচারমূলক বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা আইনসঙ্গত কি না। বিজ্ঞাপনগুলো গত সপ্তাহ থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক, কেবল চ্যানেল এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রচার শুরু হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি বিজ্ঞাপনে ট্রাম্পের বক্তব্য, তার প্রশাসনের নীতির প্রশংসা এবং দেশপ্রেমমূলক বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনে ট্রাম্পকে কমিউনিজমের বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখা যায়। পাশাপাশি পর্দায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বড় কর কমানো, দেশটির উৎপাদন ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশকে সমর্থনের মতো বার্তা দেখানো হয়। আরেকটি প্রায় এক মিনিটের বিজ্ঞাপনে রাতে মাউন্ট রাশমোরের দৃশ্যের সঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য ও ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া তার বক্তব্যের অংশও রয়েছে। তৃতীয় বিজ্ঞাপনটি ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার একটি বিজ্ঞাপনের সঙ্গে প্রায় একই ধরনের। সাদা-কালো ফুটেজে ট্রাম্পকে একটি করিডোর দিয়ে হাঁটতে দেখা যায় এবং তার কণ্ঠে ‘চূড়ান্ত লড়াই’ ও বৈশ্বিক রাজনীতির বিভিন্ন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা শোনা যায়। বিজ্ঞাপনের শেষে লেখা রয়েছে—‘পেইড ফর বাই দ্য ইউএস গভর্নমেন্ট’, অর্থাৎ বিজ্ঞাপনটির অর্থ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। হাউস ডেমোক্র্যাটদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অর্থ থেকে ২ কোটি ডলার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য সরানো হয়। পরদিন ‘ন্যাশনাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন’ নামে একই পরিমাণের একটি চুক্তি মেরিল্যান্ডভিত্তিক এলএমডি এজেন্সিকে দেওয়া হয়। অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি বিজ্ঞাপনে গত সাত দিনে ২৫ লাখ ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। তবে প্রকৃত ব্যয় আরও বেশি হতে পারে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে ও ক্রিস মারফি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিনকে চিঠি দিয়ে বিজ্ঞাপনের অর্থ ও চুক্তি সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তাদের বক্তব্য, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জন্য বরাদ্দ করা অর্থ রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়ে থাকলে তা সরকারি অর্থ ব্যবহারের নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তবে এ নিয়ে শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই প্রশ্ন ওঠেনি। রিপাবলিকান সিনেটর ও সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনও বলেছেন, এ ধরনের বিজ্ঞাপনের অর্থ করদাতাদের অর্থ থেকে দেওয়া উচিত নয়। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস আবার ট্রাম্পের বিজ্ঞাপনগুলোর সঙ্গে হাঙ্গেরির সাবেক নেতা ভিক্টর অরবানের ব্যবহৃত বিজ্ঞাপনের তুলনা করেছেন। বিজ্ঞাপনগুলো আইনসঙ্গত কি না, তা এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি। কয়েকজন আইন ও নীতিশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ ব্যবহার করে সরকারি প্রচার বা রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের ওপর থাকা বিধিনিষেধের সঙ্গে বিজ্ঞাপনগুলো সাংঘর্ষিক হতে পারে। তবে সরকারি অর্থে কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেআইনি—এমন সিদ্ধান্তও এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। সরকারি জবাবদিহি সংস্থা জিএওর ব্যাখ্যায় সরকারি প্রচারের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা গোপন করা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান বিজ্ঞাপনগুলোতে সরকারি অর্থে প্রচারের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে হোয়াইট হাউস বিজ্ঞাপনগুলোকে রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে দেখছে না। প্রশাসনের ভাষ্য, এগুলো ‘পাবলিক সার্ভিস অ্যানাউন্সমেন্ট’ বা জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন, যার উদ্দেশ্য দেশপ্রেম ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভালোবাসার বার্তা তুলে ধরা। প্রশাসন অতীতের বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনের উদাহরণও দিয়েছে। তবে সমালোচক ও কিছু বিশেষজ্ঞের বক্তব্য, আগের অনেক সরকারি বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে নির্দিষ্ট সরকারি কর্মসূচি বা সেবা সম্পর্কে জানানো। বর্তমান বিজ্ঞাপনগুলোর ক্ষেত্রে সেই উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয় বলে তারা মনে করছেন। নির্বাচনের আগে সরকারি অর্থে এসব বিজ্ঞাপন প্রচার হওয়ায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। বিজ্ঞাপনগুলো সরকারি জনসচেতনতামূলক প্রচারের সীমার মধ্যে রয়েছে, নাকি রাজনৈতিক প্রচারণার পর্যায়ে পড়ছে—এ নিয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক কারখানা হচ্ছে, কিন্তু উৎপাদন সচল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা কতটা
যুক্তরাষ্ট্রে মাটির নিচে বসবাস শুরু হতে পারে, তবে যেসব সমস্যা চিহ্নিত হলো গবেষণায়
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের H-1B ভিসা ফি আবারও আটকে দিল আদালত
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে একটি বাড়ি থেকে তিন বছরের কম বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাদের মায়ের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত ৩১ বছর বয়সী জাস্টিন মেরি মে। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চার্লসটনের কাছে ল্যাডসন এলাকার একটি বাড়িতে শিশু দুটির মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনার আগে পরিবারের সদস্যরা কয়েক সপ্তাহ ধরে কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চার্লসটন কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১টার কিছু পর ল্যাডসনের পাইনউড ড্রাইভের একটি বাড়িতে বাসিন্দাদের খোঁজখবর নিতে যান পুলিশ সদস্যরা। সেখানে গিয়ে তারা দুই শিশুকে মৃত অবস্থায় পান। পরে বাড়ির মালিক জাস্টিন মেরি মেকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে শিশুদের প্রতি অবহেলার মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ হওয়ার অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে চার্লসটন কাউন্টির আল ক্যানন ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু দুটির পরিচয় প্রকাশ করেনি। তবে পরিবারের সদস্যরা আটলান্টার সাংবাদিক কোডি অ্যালকর্নকে জানিয়েছেন, তাদের নাম এমোরি ও হারলো। দুজনের বয়সই তিন বছরের কম। নিউজউইকের পর্যালোচনা করা সম্পত্তির নথি অনুযায়ী, পাইনউড ড্রাইভের বাড়িটির মালিক ছিলেন জাস্টিন এবং তার স্বামী হিসেবে নথিতে উল্লেখ থাকা ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। সাউথ ক্যারোলিনাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিটসনিউজের হাতে আসা আদালতের প্রাথমিক নথিতে শিশুদের মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য উঠে এসেছে। ওই নথির বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, তদন্তকারীদের কাছে জাস্টিন বলেছেন, আগের দুই সপ্তাহের ঘটনা তার কাছে অস্পষ্ট মনে হচ্ছিল। শেষ কবে দুই মেয়েকে খাবার বা পানি দিয়েছিলেন, সেটিও তিনি মনে করতে পারছিলেন না বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব তথ্য এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ফিটসনিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাস্টিন তদন্তকারীদের কাছে শিশুদের খাবার না পাওয়ার কারণে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেন। সন্তানদের যথাযথ খাবার না দেওয়া অবহেলার শামিল বলেও তিনি স্বীকার করেছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি নিজেকে শিশু দুটির একমাত্র দেখাশোনাকারী হিসেবে পরিচয় দেন এবং মৃত্যুর আগের কয়েক সপ্তাহে বাড়িতে অন্য কেউ ছিলেন না বলে জানান। এসব বক্তব্যের সত্যতা ও মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা তদন্তের বিষয়। প্রাথমিক নথি অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদস্যরা বাড়িতে পৌঁছানোর পর জাস্টিনকে বাইরে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। সে সময় তার কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল বলে তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন। পরে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, এর আগেও ওই বাড়ির বাসিন্দাদের খোঁজখবর নিতে পুলিশকে সেখানে যেতে হয়েছিল। তবে পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোতে ঠিক কী পাওয়া গিয়েছিল, তা বিস্তারিত জানা যায়নি। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় দেড় থেকে দুই মাস আগে জাস্টিনের আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। এর আগে দীর্ঘদিন তার আচরণ স্বাভাবিক ছিল বলে তারা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে স্বজনেরা সাউথ ক্যারোলিনার সমাজসেবা বিভাগে যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি পুলিশকে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন এবং জরুরি মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তাকারী দলের সহযোগিতাও চান। পরিবারের দাবি, তাদের উদ্বেগ যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। একপর্যায়ে ছোট মেয়ে হারলোর শরীরে গুরুতর ফুসকুড়ি দেখা যাচ্ছে বলে ধারণা পাওয়া একটি ছবি দেখে স্বজনেরা আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগে জাস্টিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলেও তারা জানিয়েছেন। শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধারের এক দিন আগে জাস্টিনের মা স্থানীয় পুলিশপ্রধানকে ইমেইল করে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি। এসব বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মৃত্যুর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী কী তথ্য পেয়েছিল এবং সেগুলোর ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নিয়েছিল, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে সমাজসেবা বিভাগ বা অন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। জাস্টিনের আচরণ পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কেও কোনো চিকিৎসাগত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এদিকে তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন, শিশুদের পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় না দেওয়ার ঘটনা তাদের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে ফিটসনিউজের প্রকাশিত প্রাথমিক নথিতে ময়নাতদন্তের ফলাফল বা মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ উল্লেখ করা হয়নি। চার্লসটন কাউন্টির করোনার কার্যালয়ও প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাস্টিন তার জামিনসংক্রান্ত শুনানির অধিকার ছেড়ে দেন। ফলে তিনি আপাতত হেফাজতেই থাকছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০ নভেম্বর তার প্রাথমিক আদালতে হাজিরার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি কোনো আইনজীবী নিয়োগ করেছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাউথ ক্যারোলিনার আইনে শিশু নির্যাতন বা অবহেলার ফলে মৃত্যু ঘটানোর অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। চলতি বছরের মার্চে কার্যকর হওয়া সংশোধিত আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর মৃত্যু নির্যাতন বা অবহেলার ফলে ঘটলে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রমাণিত হলে সরাসরি দায়ী ব্যক্তির সর্বনিম্ন ২০ বছরের কারাদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তবে জাস্টিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ক্ষেত্রে কোন সাজা প্রযোজ্য হবে, তা বিচারিক প্রক্রিয়া ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় মায়ের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার আরও কয়েকটি ঘটনা আলোচনায় এসেছে। ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে ২০২৩ সালে তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে মামলা হয়। তার আইনজীবীরা ঘটনার সময় গুরুতর প্রসব-পরবর্তী মানসিক অসুস্থতার যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে প্রসিকিউটররা তার ফৌজদারি দায় রয়েছে বলে অবস্থান নেন। সেপ্টেম্বরে ওই মামলায় বিচারকমণ্ডলী সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় বিচারক বিচারপ্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা করেন ইলিনয় অঙ্গরাজ্যেও দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার মা কোরি ওয়ালশের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। ওই মামলায়ও মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত যুক্তি আদালতে তোলা হয়েছে। তবে জাস্টিন মেরি মের মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট মানসিক রোগের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে পৃথক মামলাগুলোর পরিস্থিতিকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। ল্যাডসনের ঘটনায় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে পরিবারের আগাম সতর্কবার্তা। স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা শিশু দুটির নিরাপত্তা নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তদন্তের পাশাপাশি এসব যোগাযোগের নথি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পদক্ষেপও পর্যালোচনা করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুই শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, মৃত্যুর আগের পরিস্থিতি এবং কারও অবহেলা আইনগতভাবে প্রমাণিত হয় কি না, তা নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত জাস্টিন মেরি মে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচিত হবেন। সূত্র: নিউজউইক, ফিটসনিউজ।
যুক্তরাষ্ট্রের EB-1A ভিসায় গ্রিন কার্ড, যে ৫ ক্ষেত্রে যোগ্যতা থাকলে আবেদন করা যায়
যুক্তরাষ্ট্রে তিন বছরের কম সময়ে পিএইচডি, বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নিভার সাফল্য