আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা হারিয়ে এতিম দুই মেয়ে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেল ৩৩ মিলিয়ন ডলার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২১:৭
নিহত গ্রেগ আমেন এবং গ্রেস স্পিরিডন, যাদের মৃত্যুতে তাদের দুই যমজ কন্যা ৩৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিহত গ্রেগ আমেন এবং গ্রেস স্পিরিডন, যাদের মৃত্যুতে তাদের দুই যমজ কন্যা ৩৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বেপরোয়া গতির এক স্ট্রিট রেসিং কেড়ে নিয়েছিল এক দম্পতির প্রাণ। বাবা-মাকে হারিয়ে রাতারাতি এতিম হয়ে যায় তাদের দুই যমজ কন্যাশিশু। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কিশোর চালক ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় এবার ৩৩ মিলিয়ন (৩ কোটি ৩০ লাখ) মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে ওই দুই শিশু। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান মাতেও কাউন্টির একটি জুরি বোর্ড এই রায় ঘোষণা করেছে। বে এরিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'বে সিটি নিউজ' এবং আদালতের নথির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।

 

২০২২ সালের ৪ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড সিটিতে ঘটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নিহত দম্পতির নাম গ্রেগ আমেন এবং গ্রেস স্পিরিডন। তারা যখন নিজেদের শেভ্রোলেট ভোল্ট গাড়ি নিয়ে এল ক্যামিনো রিয়েল সড়কে বাঁ দিকে মোড় নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই দুটি দ্রুতগতির গাড়ি রেসিং করতে গিয়ে তাদের সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই দম্পতি, আর তাদের যমজ কন্যারা পরিণত হয় পিতৃ-মাতৃহীন এতিমে।

 

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় সিজার মোরালেস নামের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর কাইল হ্যারিসন নামের অপর এক চালকের সঙ্গে স্ট্রিট রেসিংয়ে লিপ্ত ছিল। তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই বিচারের শুনানিতে জুরি বোর্ড জানতে পারে, দুর্ঘটনার রাতে মোরালেস ঘণ্টায় ১০৫ থেকে ১১০ মাইল বেগে গাড়ি চালাচ্ছিল। জুরি বোর্ড এই দুর্ঘটনার জন্য সিজার মোরালেসকে অবহেলা ও চরম গাফিলতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে।

 

শুধু তাই নয়, চাঞ্চল্যকর এই রায়ে মোরালেসের বাবা আর্নল্ড মোরালেস এবং মা সুজানা সালতো আলভারেজকেও দায়ী করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, তাদের সন্তানের বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর বিষয়ে পূর্ব সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও তারা সেটি পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন। এর আগে ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি বেগে গাড়ি চালানোর জন্য মোরালেসকে একবার জরিমানাও করা হয়েছিল। যদিও তার বাবা-মা আদালতে দাবি করেছিলেন যে তারা ওই জরিমানার বিষয়টি জানতেন না। তবে জুরি বোর্ড সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, মোরালেসের বাবা-মা তাদের সন্তানের অনিরাপদ ড্রাইভিং অভ্যাস সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত ছিলেন, কিন্তু তারা তাকে নিবৃত্ত করতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।

 

নিহত দম্পতির পরিবারের পক্ষে আইনি লড়াই করেছে 'কচেট, পিট্রে অ্যান্ড ম্যাকার্থি' ল ফার্ম। রায়ের পর প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী নিল ম্যাকার্থি এক বিবৃতিতে বলেন, "আমরা আশা করছি আজকের এই রায় বে এরিয়ার সব বাবা-মায়ের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। মোরালেস পরিবারের দায়িত্বহীন সিদ্ধান্তের কারণে আজ দুটি ছোট মেয়েকে তাদের বাবা-মা ছাড়া জীবন কাটাতে হচ্ছে।"

 

তিনি আরও বলেন, "বাবা-মায়ের দায়িত্ব কেবল সন্তানকে একটি গাড়ি কিনে দিয়ে চুপচাপ বসে থাকা নয়। সন্তানের আচরণে যখন সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন তাদের অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে এমন ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব নয়।"

 

দুর্ঘটনার পর সিজার মোরালেসের বিচার হয়েছিল শিশু আদালতে। সেখানে ভেহিকুলার ম্যানস্লটার বা বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যার দায়ে তাকে মাত্র ৯০ দিনের ইলেকট্রনিক হোম মনিটরিংয়ের সাজা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, রেসিংয়ে অংশ নেওয়া অপর চালক কাইল হ্যারিসনকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে গত বছর সান মাতেও কাউন্টির একটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে জুরি বোর্ড এতিম দুই কন্যাশিশুকে অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ১৯ মিলিয়ন ডলার এবং তাদের মানসিক ও অন্যান্য অপূরণীয় ক্ষতির জন্য প্রত্যেকে ৭ মিলিয়ন করে আরও ১৪ মিলিয়ন ডলার প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ মিলিয়ন ডলার।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
১৫ বছর বয়সী কিশোরীর ওপর হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার ওবেদ রেয়েস। ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় বাড়ির দেয়াল ভেঙে প্রতিবেশীর ঘরে ঢুকে কিশোরীর ওপর হামলা ও ধর্ষণের হুমকি, গ্রেপ্তার যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে পাশের অ্যাপার্টমেন্টের দেয়াল ভেঙে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর ঘরে ঢুকে হামলার অভিযোগে ২৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, হামলার সময় কিশোরীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয় এবং একাধিকবার আঘাত করা হয়। ঘটনার সময় ঘরে ৫ ও ৭ বছর বয়সী আরও দুই শিশু ছিল।   গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ওবেদ রেয়েস। ৫ আগস্ট রাতে জর্জিয়ার গেইনসভিলে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে ঘটনাটি ঘটে। গেইনসভিল পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রেয়েস তার নিজের অ্যাপার্টমেন্টের একটি আলমারির পাশের দেয়ালে বড় একটি গর্ত করে পাশের ইউনিটে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি কিশোরীর ওপর হামলা চালান।   পুলিশের বরাতে নিউইয়র্ক পোস্ট ও পিপল জানিয়েছে, রেয়েস যে দেয়াল ভেঙেছিলেন সেটি দুই অ্যাপার্টমেন্টের মাঝখানে ছিল। দেয়ালটি ভেঙে তিনি পাশের ইউনিটের একটি আলমারিতে ঢোকেন। ওই সময় কিশোরী সেখানে দুই ছোট শিশুর সঙ্গে ছিল। পুলিশের অভিযোগ, ঘরে ঢোকার পর রেয়েস কিশোরীকে ধরে ফেলেন এবং তাকে একাধিকবার ঘুষি মারেন। এ সময় তাকে ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়। কিশোরী নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে একপর্যায়ে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে ভবনের বাইরের চলাচলের পথে চলে আসতে সক্ষম হয়।   তবে পুলিশ বলছে, রেয়েস তাকে চুল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিশোরীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং দ্রুত ৯১১-এ ফোন করেন। পুলিশ রাত ১০টার কিছু আগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলা চলমান অবস্থায় রেয়েসকে দেখতে পায়। পরে কর্মকর্তারা তাকে কিশোরীর কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে গ্রেপ্তার করেন।   ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুই অ্যাপার্টমেন্টের মাঝের দেয়ালে তৈরি হওয়া বড় গর্তের ছবিও প্রকাশ করেছে। ছবিতে দেয়ালের ভাঙা অংশ দিয়ে পাশের ইউনিটে প্রবেশের পথ তৈরি হওয়ার বিষয়টি দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই গর্ত ব্যবহার করেই রেয়েস পাশের অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকেছিলেন বলে তাদের তদন্তে উঠে এসেছে।   এ ঘটনায় রেয়েসের বিরুদ্ধে চুরি বা অবৈধভাবে প্রবেশ, গুরুতর হামলা, ধর্ষণের চেষ্টা, অপহরণ এবং শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একটি অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে। তবে তার অভিবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   আদালতের নথি অনুযায়ী, রেয়েসকে হল কাউন্টি কারাগারে কোনো জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ফলে আইনগতভাবে তিনি অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত এবং মামলার পরবর্তী ধাপে আদালতে এসব অভিযোগের বিচার হবে।   গেইনসভিল পুলিশ প্রধান জে প্যারিশ ঘটনায় দ্রুত ৯১১-এ ফোন করা প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, আশপাশের মানুষের দ্রুত প্রতিক্রিয়ার কারণেই পুলিশ সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আরও ক্ষতি ঠেকাতে পেরেছে। পুলিশ প্রধান আরও বলেন, ‘কিছু দেখলে জানানো’ ধরনের নাগরিক সচেতনতা একটি কমিউনিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার মতে, ঘটনাটি থেকে বোঝা যায়, সন্দেহজনক বা বিপজ্জনক পরিস্থিতি চোখে পড়লে দ্রুত জরুরি সেবায় খবর দেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ।   পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিশোরী এই ঘটনার পর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও শারীরিক পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনের মুখোমুখি হতে পারে। পুলিশ প্রধান তার প্রতি কমিউনিটির সমর্থন কামনা করেছেন।   ঘটনাটি গেইনসভিলে আবাসিক ভবনের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিবেশী ইউনিটের মধ্যে থাকা দেয়াল ভেঙে একজন ব্যক্তি অন্য অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করতে পারার বিষয়টি বাসিন্দাদের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দেয়ালটি কীভাবে ভাঙা হয়েছিল এবং ভবনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানায়নি।   পুলিশের তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়া এখনো চলমান। অভিযোগ প্রমাণিত হলে রেয়েসকে গুরুতর ফৌজদারি মামলায় শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২২:১২
অবৈধ অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আসছেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র‌্যান্ডি ফাইন। ছবি: সংগৃহীত

‘অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়’: র‌্যান্ডি ফাইন

নিহত গ্রেগ আমেন এবং গ্রেস স্পিরিডন, যাদের মৃত্যুতে তাদের দুই যমজ কন্যা ৩৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা হারিয়ে এতিম দুই মেয়ে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেল ৩৩ মিলিয়ন ডলার

কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ এখনো আইটি খাতে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে পারে, তবে চাকরির বাজারে বেড়েছে দক্ষতার গুরুত্ব। ছবি: সংগৃহীত

তিন-ছয় মাসের আইটি প্রশিক্ষণেই চাকরি, সেই পথ কি এখনো খোলা? এআই যুগে নতুনদের সামনে বড় প্রশ্ন

ডাইকমান এলাকায় দায়িত্বরত নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যদের জন্য খাবার ও পানীয় নিয়ে পৌঁছায় পিবিএ ক্যান্টিন। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ডিউটিতে থাকা নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যদের পাশে সহকর্মীরা, ডাইকমানে খাবার নিয়ে পিবিএ ক্যান্টিন

দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের সহকর্মীদের সংগঠন প্যাট্রোলম্যানস বেনেভোলেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (পিবিএ)। রোববার উত্তর ম্যানহাটনের ডাইকমান এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জন্য খাবার ও পানীয় নিয়ে পৌঁছায় পিবিএ ক্যান্টিন। একই সঙ্গে সেখানে থাকা কর্মকর্তাদের খোঁজখবরও নেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।   পিবিএ ক্যান্টিন মূলত দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সহায়তার জন্য ব্যবহৃত একটি চলমান খাবার ও পানীয় সরবরাহ ব্যবস্থা। বিশেষ দায়িত্ব বা দীর্ঘ সময়ের নিরাপত্তা কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে তাদের খাবার ও পানীয় সরবরাহ করার পাশাপাশি তাদের খোঁজখবর নেওয়াও এর কার্যক্রমের অংশ।   রোববার উত্তর ম্যানহাটনের ডাইকমান এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কাছে পৌঁছায় পিবিএ ক্যান্টিন। এ সময় ম্যানহাটন নর্থ পিবিএর বোর্ড কর্মকর্তা কেভিন মারফি ও প্যাট ও’ডনেলও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।   দীর্ঘ সময় রাস্তায় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যদের জন্য খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা সব সময় সহজ হয় না। বিশেষ করে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকলে দীর্ঘ সময় পোস্টে অবস্থান করতে হয় তাদের। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্বের স্থানেই খাবার নিয়ে সহকর্মীদের উপস্থিতি কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে।   পিবিএ ক্যান্টিনের এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জন্য খাবার ও পানীয় পৌঁছে দেওয়া হলেও, রোববার ডাইকমান এলাকায় ঠিক কী ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।   তবে ঘটনাটির মানবিক দিকটি স্পষ্ট। শহরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যখন পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘ সময় রাস্তায় দায়িত্ব পালন করছেন, তখন তাদের কাছে সহকর্মীদের খাবার নিয়ে পৌঁছে যাওয়া শুধু একটি সেবা কার্যক্রম নয়, বরং পাশে থাকারও একটি বার্তা।   উত্তর ম্যানহাটনের ডাইকমান এলাকায় পিবিএ ক্যান্টিনের এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যদের প্রতি সহকর্মীদের যত্ন ও সমর্থনের একটি চিত্র উঠে এসেছে। ব্যস্ত ডিউটির মাঝেও তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা এবং খোঁজখবর নেওয়ার মধ্য দিয়ে সহকর্মীরা দেখিয়েছেন, মানুষের নিরাপত্তায় যারা রাস্তায় কাজ করছেন, তাদের প্রতিও রয়েছে সহকর্মীদের নজর ও সহযোগিতা।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২০:১৮
ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো হয়ে আবারও ফিরছেন জনি ডেপ

ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো হয়ে আবারও ফিরছেন জনি ডেপ? চলছে জোর আলোচনা

কিমকে খুশি করতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমাচ্ছেন ট্রাম্প I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

কিমকে খুশি করতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমাচ্ছেন ট্রাম্প

২৬ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন মা-মেয়ে, ছাড়লেন না ২০০ বছরের পুরোনো পৈতৃক জমি

এআই ডাটা সেন্টারের জন্য মেটার ২৬ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন কেনটাকির মা-মেয়ে

দ্বন্দ্ব ভুলে ফের একজোট ট্রাম্প-মাস্ক, মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য ১২ কোটি ডলার দিচ্ছেন ইলন
দ্বন্দ্ব ভুলে ফের একজোট ট্রাম্প-মাস্ক, মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য ১২ কোটি ডলার দিচ্ছেন ইলন

মার্কিন রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু নেই, এই প্রবাদের সত্যতা যেন আবারও প্রমাণ করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। একসময় অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত এই দুজনের মধ্যে সম্প্রতি এমন প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল, যা দেখে অনেকেরই ধারণা ছিল তাদের সম্পর্ক হয়তো চিরতরে শেষ।   কিন্তু সেই তিক্ততা ভুলে তারা আবারও কাছাকাছি আসছেন। দু’জনের মধ্যে এখন নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে এবং আসন্ন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সহায়তার জন্য মাস্কের রাজনৈতিক সংগঠন 'আমেরিকা প্যাক' প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি ডলার খরচের বিশাল প্রস্তুতি নিচ্ছে।   এই নাটকীয় পটপরিবর্তনের পেছনের কারণ খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হবে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। সেবার ট্রাম্পকে ক্ষমতায় ফেরাতে নিজের প্রভাবের পাশাপাশি প্রায় ২৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার ব্যয় করেছিলেন মাস্ক। ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগেও মাস্ককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়।   কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের এই সখ্য প্রকাশ্য শত্রুতায় রূপ নেয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর ও ব্যয় বিলের বিরোধিতা করে মাস্ক দাবি করেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের বোঝা বাড়াবে। এছাড়া বৈদ্যুতিক গাড়ির সুবিধা কমানো নিয়েও তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এই মতবিরোধ একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধে গড়ায়; মাস্ক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন এবং ট্রাম্প পাল্টা মাস্কের কোম্পানির সরকারি চুক্তি ও ভর্তুকি বাতিলের সম্ভাবনার কথা বলেন।   পর্দার সামনে যখন এমন আক্রমণাত্মক লড়াই চলছিল, ঠিক তখনই আড়ালে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস। তারা মাস্কের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রসহ অন্যান্য মিত্ররাও এতে ভূমিকা রাখেন।   একপর্যায়ে মাস্ক স্বীকার করেন যে ট্রাম্পকে নিয়ে তার কিছু মন্তব্য সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল, আর এরপর থেকেই বরফ গলতে শুরু করে। ২০২৫ সালে চার্লি কার্কের একটি স্মরণসভায় এবং পরে মে মাসে ট্রাম্পের চীন সফরের সময় একই বিমানে তাদের দেখা যায়। বর্তমানে তাদের মধ্যে প্রায় মাসে একবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।   সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন। মাস্কের 'আমেরিকা প্যাক' অন্তত আটটি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনা, ঘরে ঘরে প্রচার চালানো ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে কোটি কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে।   তবে অনেকেই মনে করছেন, এই পুনর্মিলন স্রেফ বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি পারস্পরিক প্রয়োজনের ফল। একদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য মাস্কের বিপুল অর্থ, রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক এবং প্রযুক্তিগত প্রভাব জরুরি, অন্যদিকে স্পেসএক্সের মতো মাস্কের প্রতিষ্ঠানগুলোরও মার্কিন সরকারের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে গভীর ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে।   রাজনীতিতে প্রয়োজনের খাতিরে গতকালের শত্রু যে আগামী দিনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মিত্র হয়ে উঠতে পারে, ট্রাম্প ও মাস্কের বর্তমান রসায়ন তারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৮:৩৯
নিউইয়র্কে বিনা বেতনে কাজ করিয়ে ১০ লাখ ডলার মজুরি আত্মসাতের অভিযোগ, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে মামলা

নিউইয়র্কে বিনা বেতনে কাজ করিয়ে ১০ লাখ ডলার মজুরি আত্মসাতের অভিযোগ, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসায় কড়াকড়ি, বাতিল হচ্ছে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসায় কড়াকড়ি, বাতিল হচ্ছে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’

নিউইয়র্কে মশাল হাতে শপথ, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরবেন প্রায় হাজার নেতাকর্মী

নিউইয়র্কে মশাল হাতে শপথ, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরবেন প্রায় হাজার নেতাকর্মী

0 Comments