- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়িতে ভ্রমণের সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হন রোমাঞ্চ মহাজন নামের ১৮ বছর বয়সী এক ভারতীয় পর্যটক। এই মৃত্যুর ঘটনায় নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ১০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে নিহতের পরিবার। তাদের দাবি, রাস্তায় থাকা ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ থেকে নির্গত বৈদ্যুতিক শকে (স্ট্রে ভোল্টেজ) ঘোড়াটি হঠাৎ ভয় পেয়ে দৌড় দিলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার নিউইয়র্ক সিটি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'কন এডিসন'-সহ বেশ কয়েকটি সংস্থার বিরুদ্ধে মামলার এই প্রাথমিক নোটিশ জমা দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, স্বপ্নের ছুটি কাটাতে মাত্র তিন দিন আগে ভারত থেকে মা-বাবা এবং ১১ বছরের ছোট ভাইয়ের সঙ্গে নিউইয়র্কে এসেছিলেন রোমাঞ্চ। গত ১৭ জুন তারা সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়িতে ঘুরতে যান। চালক যখন গাড়ি থামিয়ে পরিবারটির ছবি তুলছিলেন, ঠিক তখনই ঘোড়াটি ভয় পেয়ে ছুটতে শুরু করে। এ সময় চলন্ত গাড়ি থেকে রোমাঞ্চের মা ছিটকে পড়লে তাকে ধরতে গিয়ে রোমাঞ্চও নিচে পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তার মৃত্যু হয়। যদিও তার মা এই দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চালক ঘোড়ার গাড়িটির পিছু নিয়ে থামানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও সেটি শেষপর্যন্ত ফুটপাতে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং সিটি কর্মকর্তারা আগে থেকেই ওই এলাকায় অবাঞ্ছিত বিদ্যুতায়নের সমস্যার কথা জানতেন, কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। তবে কন এডিসনের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা গত ১৬ ও ২৩ জুলাই ওই এলাকায় খুবই কম মাত্রার ভোল্টেজের উপস্থিতি পেয়েছিলেন, যা তাদের কোনো সরঞ্জাম থেকে আসেনি। অন্যদিকে সিটি ল ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে যে তারা নথিটি পর্যালোচনা করছে। এদিকে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর নিউইয়র্কে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলা ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ির রাইড চিরতরে বন্ধ করার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। প্রাণী অধিকারকর্মীদের পাশাপাশি সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিনও জননিরাপত্তা ও প্রাণীকল্যাণ নিশ্চিতে বিকল্প সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে কুইন্সের ডেমোক্রেটিক কাউন্সিলম্যান জেমস জেনারো এই ঘটনাকে 'মানবিক ভুল' আখ্যা দিয়ে রাইডগুলো পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার বদলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করার প্রস্তাব দিয়েছেন। যার মধ্যে সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়া বাঁধার নির্দিষ্ট পোস্ট স্থাপন এবং চালকদের আরও উন্নত প্রশিক্ষণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক একটি কোম্পানি বাজার থেকে ৪১ হাজারেরও বেশি বেবি জাম্পার এবং সুইং (দোলনা) প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। শিশুদের পড়ে যাওয়া, আঘাত পাওয়া এবং শ্বাসরোধ হওয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকির পাশাপাশি অন্তত ৩২টি আহত হওয়ার ঘটনার পর ফেডারেল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই পণ্যগুলো প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কনজ্যুমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশন (সিপিএসসি) জানিয়েছে, এই প্রত্যাহার আদেশের আওতায় রয়েছে 'ট্যালকো গিয়ার' (Taleco Gear) ব্র্যান্ডের বেবি জাম্পার, বেবি সুইং এবং টু-ইন-ওয়ান বেবি জাম্পার অ্যান্ড সুইং। ২০২১ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত অ্যামাজন, ওয়ালমার্ট এবং ট্যালকো গিয়ারের নিজস্ব ওয়েবসাইটে অনলাইনে এই পণ্যগুলো বিক্রি করা হয়েছিল। সেসময় এগুলোর দাম ছিল ৬৫ থেকে ১২০ মার্কিন ডলারের মধ্যে। সিপিএসসি আরও জানিয়েছে, ট্যালকো গিয়ারের কাছে ইতোমধ্যে পণ্যগুলো থেকে পড়ে যাওয়া, আঘাত লাগা এবং শ্বাসরোধের ঝুঁকির অন্তত ৫২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে মাথায় আঘাত পেয়ে ফুলে যাওয়া ও নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতো অন্তত ৩২টি শিশু আহত হওয়ার ঘটনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের অবিলম্বে প্রত্যাহার করা পণ্যগুলোর ব্যবহার বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পণ্যগুলো ফেরত দিয়ে কীভাবে অর্থ ফেরত (রিফান্ড) পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা পেতে কোম্পানিটির সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনে দুই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষের সময় লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে বিদ্ধ হয়ে সোফ্রোনি হার্টজোগ নামের ৩৩ বছর বয়সী এক নিরীহ নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, রোববার ভোরে ক্রাউন হাইটস এলাকার বারগেন স্ট্রিট এবং হাওয়ার্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছে অবস্থিত 'ওহ লা লা লাউঞ্জ'-এর বাইরে প্রায় ১০০ মানুষের একটি দলের মধ্যে এই বিশাল সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহত ওই নারী এই সংঘাতের কোনো পক্ষেরই অংশ ছিলেন না। ভোর আনুমানিক ২টা ২৩ মিনিটে শুরু হওয়া এই গোলাগুলির সময় একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি সোফ্রোনি হার্টজোগের পিঠে আঘাত করে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি দ্রুত দৌড়ে ওই পানশালার (বার) ভেতরে প্রবেশ করেন এবং বাথরুমের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা তাকে দ্রুত ওয়ান ব্রুকলিন হেলথ-ওয়ান ব্রুকডেল হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। এই একই ঘটনায় ৩৪ বছর বয়সী আরও এক ব্যক্তি পেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যিনিও এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না। তাকে এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালস/কিংস কাউন্টি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ঠিক কী কারণে এত মানুষের মধ্যে এই মারাত্মক সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে দুজনের বিবরণ অনুযায়ী তাদের আটক করা হয়েছিল। তবে পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পুলিশের তল্লাশি ও জোরালো তদন্ত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ডেনভারে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাল 'উইশ ফর হুইলস' এবং 'ক্রোয়েঙ্কে স্পোর্টস চ্যারিটিজ'। এক যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে তারা ডেনভার মেট্রো এলাকার ২০০ জনেরও বেশি দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ নতুন সাইকেল এবং হেলমেট উপহার দিয়েছে। আয়োজকদের মতে, এই শিশুদের কাছে একটি সাইকেল শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি তাদের জন্য স্বাধীনতা, শরীরচর্চা এবং নতুন রোমাঞ্চের প্রতীক। 'উইশ ফর হুইলস'-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্র্যাড অ্যাপেল জানান, নিউ ইয়র্ক সিটিতে কাটানো তার নিজের শৈশব থেকেই এই উদ্যোগের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তিনি। ছোটবেলায় রাস্তায় বাতি জ্বলার আগ পর্যন্ত তিনি সাইকেল চালাতেন। কিন্তু কলোরাডোতে আসার পর তিনি উপলব্ধি করেন, এখানকার অনেক শিশুর সেই সুযোগ নেই এবং তারা সাইকেল চালানোর মতো আনন্দদায়ক কাজের সাথে তেমন যুক্ত নয়। মূলত এরপর থেকেই শিশুদের মাঝে সাইকেল বিতরণের এই উদ্যোগ নেন তিনি। এই কর্মসূচির জন্য মূলত আর্থিক টানাপোড়েনে থাকা পরিবারগুলোর শিশুদের সাহায্যার্থে পরিচালিত স্কুলগুলোকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ শিক্ষার্থীই বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে খাবার পেয়ে থাকে। থর্নটনের নর্থ স্টার এলিমেন্টারি এবং কমার্স সিটির অ্যালসাপ ও কেম্প এলিমেন্টারি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এই সাইকেলগুলো দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার 'বল অ্যারেনা'-তে আয়োজিত এক বিশেষ ইভেন্টে ক্রোয়েঙ্কে স্পোর্টসের কর্মী, মাসকট এবং স্বেচ্ছাসেবকরা মিলে সাইকেলগুলো জোড়া লাগানোর কাজ করেন। পরে সেগুলো স্কুলে গিয়ে শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের সাইকেল চালানো শেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়। অ্যালসাপ এলিমেন্টারি স্কুলের শিক্ষিকা টেলর হার্টে জানান, তার ক্লাসের অনেক শিশুই কখনো সাইকেল চালাতে শেখেনি। নতুন সাইকেল পেয়ে তারা এখন নতুন কিছু শেখার দারুণ সুযোগ পেল। আয়োজকরা আশা করছেন, এই উপহার শিশুদের কেবল বিনোদনই দেবে না, বরং তাদের শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করবে। একইসঙ্গে এটি পরিবারগুলোর জন্য যাতায়াতের একটি বিকল্প মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে এবং শিশুদের নিজেদের চারপাশের পরিবেশ ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি করে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে এক অভাবনীয় ও অদ্ভুত আইনি লড়াইয়ের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি করতে গিয়ে মালিকের হাতে গুলিবিদ্ধ হওয়া এক গৃহহীন ব্যক্তি এখন উল্টো ওই মালিকের কাছেই ১০ মিলিয়ন বা এক কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। কেনেথ ভয়েলস নামের ওই ব্যক্তির অভিযোগ, এই ঘটনার কারণে তিনি চরম ‘মানসিক আঘাত’ বা ইমোশনাল ডিস্ট্রেসের শিকার হয়েছেন। চলতি বছরের মে মাসে পোর্টল্যান্ড-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'টাচস্টোন গ্রানাইট অ্যান্ড মার্বেল ইনকর্পোরেটেড' এবং এর মালিক জেমস গ্রান্টের বিরুদ্ধে ব্যাটারি, হামলা, অবহেলা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে মানসিক আঘাত দেওয়ার অভিযোগ এনে তিনি এই মামলাটি দায়ের করেন। মাল্টনোমাহ কাউন্টির আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৬ মার্চ ভোরে কেনেথ ভয়েলস একটি ড্রিল মেশিনের ব্যাগ চুরির উদ্দেশ্যে জেমস গ্রান্টের বন্ধ দোকানে অনুপ্রবেশ করেছিলেন। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে চুরি করাই তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। ভয়েলসের দাবি, মালিক জেমস গ্রান্ট হঠাৎ দোকানে চলে এলে তিনি ভয় পেয়ে ক্ষমা চান এবং দরজার দিকে দৌড় দেন। এ সময় ক্ষুব্ধ গ্রান্ট তার দিকে কফির মগ ও ভারী টাইলস ছুড়ে মারেন এবং একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। তবে মালিক জেমস গ্রান্ট এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ভয়েলস একটি বোল্ট কাটার হাতে নিয়ে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তার দিকে তেড়ে আসছিলেন। নিজের প্রাণ বাঁচাতে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতেই তিনি বাধ্য হয়ে গুলি চালিয়েছিলেন বলে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। মামলার এজাহারে ভয়েলস উল্লেখ করেছেন, তিনটি গুলি লাগার কারণে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। তার ফুসফুস ফুটো হয়ে যায়, বুকে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং ডান হাতের হাড় ভেঙে যায়, যার জন্য তাকে ভাস্কুলার মেরামতসহ একাধিক জরুরি অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি ৫ মিলিয়ন ডলার এবং শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে আরও ৫ মিলিয়ন ডলার দাবি করেছেন। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানে অনুপ্রবেশকারীদের মোকাবিলার জন্য কর্মীদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তবে চুরির উদ্দেশ্যে ঢুকে উল্টো মালিকের বিরুদ্ধে এমন মামলার খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনরা একে একটি 'ভিত্তিহীন ও হাস্যকর' মামলা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলছেন, যে ব্যক্তি নিজেই চুরির কথা স্বীকার করেছেন, তার এমন আইনি পদক্ষেপ নেওয়াটা আইনের অপব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নয়।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ইরানি সেনারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত উল্লেখ করে দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সুযোগ পেলে তারা ট্রাম্পের ‘পা ভেঙে’ দিতেও পিছপা হবেন না। সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কড়া বার্তা দেন, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতেও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হচ্ছে। মেজর জেনারেল হাতামি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে নিছক ঠাট্টা বা তামাশা হিসেবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তার দাবি, আরব উপসাগর, ওমান সাগর এবং হরমুজ প্রণালি থেকে ইতোমধ্যে মার্কিন সেনাদের বিতাড়িত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে তাদের আর কোনোভাবেই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার যেকোনো মার্কিন প্রচেষ্টাও ইরান কঠোরভাবে প্রতিহত করবে বলে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান। উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভূখণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার এই মন্তব্যের জেরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও চরম আকার ধারণ করেছে। ট্রাম্পের এমন অযৌক্তিক দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্বের কথা পুনরায় নিশ্চিত করেছে ইরান। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ইরানের সেনাপ্রধানের এমন কঠোর বার্তা দুই দেশের মধ্যকার সংঘাতের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
হাঙ্গেরির পূর্বাঞ্চলে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও ৩৭ জন আহত হয়েছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) ভোরে মেজোকোভেসদ শহরের কাছে এম-৩ মহাসড়কে সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ডগামী একটি পর্যটকবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে উল্টে গেলে এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এমটিআই-এর দেওয়া তথ্যমতে, পোল্যান্ডে নিবন্ধিত ওই বাসটিতে ৫৭ জন যাত্রী ও দুজন চালক ছিলেন। মহাসড়ক দিয়ে নিয়েরেজহাজা শহরের দিকে যাওয়ার সময় সোজা রাস্তা থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসটি একপাশে কাত হয়ে যায়। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, ঘটনাস্থলেই ১১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসের জানালা ভেঙে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশের ধারণা, চলন্ত অবস্থায় চালক ঘুমিয়ে পড়ার কারণেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি খাদে পড়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যে চালককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী এবং পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কি। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি এক বার্তায় জানিয়েছেন, হাঙ্গেরি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে এবং জরুরি কনস্যুলার সেবা চালু করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে শিওফোকে ট্রেনের ধাক্কায় একটি জার্মান পর্যটকবাহী বাসে ৩৩ জন নিহত হওয়ার পর, এটিই হাঙ্গেরির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা।
ভারতের কর্ণাটকের ছোট্ট একটি গ্রাম থেকে শুরু হয়েছিল তার অদম্য এক যাত্রা। যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখার সময় পকেটে পর্যাপ্ত টাকা বা চেনা-পরিচিত কেউই ছিল না তার। সেই কপর্দকশূন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী থেকে আজ তিনি একজন সফল টেক-উদ্যোক্তা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গর্বিত নাগরিক। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের এই দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ের গল্প তুলে ধরেছেন সাইমন শেঠি। কর্ণাটকে বেড়ে ওঠা সাইমন বিশ্বেশ্বরায় টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। বিএসএনএল-এ ইন্টার্ন হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরবর্তীতে টেসলা এবং লিফ্ট-এর মতো শীর্ষস্থানীয় ও বিশ্বমানের কোম্পানিতে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। তবে আরামদায়ক ও উচ্চ বেতনের চাকরির মোহ ছেড়ে ২০২৩ সালে তিনি নিজের কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন, যা তার জীবনে নতুন এক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় তার পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। ঋণের বোঝা, বারবার চাকরির সাক্ষাৎকারে প্রত্যাখ্যান এবং এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসা লটারিতে সুযোগ না পাওয়ার মতো হতাশা তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে যখন একসময়ের পরিচিত কিছু মানুষ তার বিরুদ্ধে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে জালিয়াতির মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার হীন উদ্দেশ্যেই এই ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে সঠিক পর্যালোচনার পর মার্কিন বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে সত্যের জয় হয় এবং তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সক্ষম হন। নাগরিকত্ব পাওয়ার এই আনন্দঘন মুহূর্তে সাইমন সেইসব অভিবাসীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন, যারা এখনও এফ-১ (F-1), এইচ-ওয়ানবি (H-1B), ও-১ (O-1), এল-১ (L-1) ভিসা বা গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় দিন গুনছেন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের উদ্দেশ্যে সাইমনের সহজ বার্তা— ধৈর্য রাখুন, নিয়ম মেনে চলুন এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকুন। নিজের পোস্টে সাইমন লিখেছেন, "ট্রলরা চেয়েছিল আমাকে নির্বাসনে পাঠাতে। কিন্তু তার বদলে আজ আমি একজন আমেরিকান।" তার এই অনুপ্রেরণাদায়ক পোস্টে নেটিজেনরা অভিবাদন ও প্রশংসার বন্যা বইয়ে দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে পাশাপাশি বসবাস করা এক ভারতীয় দম্পতি দেশ ছেড়ে ভারতে ফিরে যাচ্ছেন। বিদায়ের সেই মুহূর্তে তাদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন এক মার্কিন নারী। প্রতিবেশীদের এই আবেগঘন বিদায়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ভারতীয় দম্পতি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ডেট্রয়েট বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তাদের বিদায় জানাতে আসেন ওই মার্কিন নারী। একপর্যায়ে তিনি দম্পতিকে জড়িয়ে ধরে আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কাঁদতে শুরু করেন। ঘটনাটি আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে কারণ দম্পতি তখন জানতেন না যে তাদের বিদায়ের মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করা হচ্ছে। তাদের এক বন্ধু গোপনে পুরো দৃশ্যটি ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও দম্পতির সঙ্গে শেয়ার করা হয়। ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর দর্শকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আবেগের ঢেউ। অনেকে বলছেন, একই দেশের মানুষ না হয়েও বছরের পর বছর পাশাপাশি বসবাস করতে গিয়ে যে সম্পর্ক তৈরি হয়, তা অনেক সময় আত্মীয়তার সম্পর্কের মতোই গভীর হয়ে উঠতে পারে। ভারতীয় দম্পতির চলে যাওয়ায় ওই মার্কিন নারীর কান্না তাই শুধু একটি বিদায়ের দৃশ্য হিসেবে থেমে থাকেনি। বরং ভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্কের একটি মানবিক মুহূর্ত হিসেবে এটি মানুষের নজর কেড়েছে। অনলাইনে অনেকে এই ঘটনাকে প্রতিবেশীদের পারস্পরিক ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে বসবাসের সময় প্রতিবেশীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক যে কতটা আপন হয়ে উঠতে পারে, সেই অনুভূতিই ফুটে উঠেছে ভিডিওটিতে। দম্পতিকে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের বিদায় জানাতে গিয়ে মার্কিন নারীটির কান্না এবং শেষবারের মতো জড়িয়ে ধরার দৃশ্যই ভিডিওটির মূল আকর্ষণ। আর সেই দৃশ্যই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের মনে করিয়ে দিচ্ছে—সম্পর্কের গভীরতা সবসময় একই ভাষা, সংস্কৃতি কিংবা দেশের সীমারেখায় আটকে থাকে না।
৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কলম্বিয়াকে আরও ১ কোটি ১০ লাখ ডলার মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার এই অতিরিক্ত সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন অর্থসহ ভূমিকম্প মোকাবিলায় কলম্বিয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। নতুন সহায়তা খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, সুরক্ষা ও আশ্রয়ের প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তাকারী অংশীদারদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও অন্যান্য স্থাপনার কাঠামোগত মূল্যায়নেও এই অর্থ ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ১০ আগস্ট পশ্চিম কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দেশটির কয়েকটি শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়। বাড়িঘরের পাশাপাশি স্কুল, হাসপাতাল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, দেশটি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ডের সঙ্গে কাজ করছে। মিয়ামিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি গুদাম থেকে এসব ত্রাণসামগ্রী কলম্বিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। প্রথম ফ্লাইটে আশ্রয়ের উপকরণ, পানি, স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী এবং যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতে শত শত স্টারলিংক কিট পাঠানো হচ্ছে। ভূমিকম্পের পর উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি নগর অনুসন্ধান ও উদ্ধার কারিগরি দলও কলম্বিয়ায় পৌঁছেছে। বুধবার দেশটিতে পৌঁছানো এসব দল কলম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন উদ্ধার কার্যক্রমে সমন্বয়, যোগাযোগ এবং কাঠামোগত প্রকৌশল সহায়তা দিচ্ছে। কলম্বিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিট শুক্রবার জানিয়েছে, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৯৭৫ জন। এছাড়া ৩৭৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ৩৫৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ধসে পড়া স্থাপনা ও আটকে পড়া মানুষের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে। আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। এসব দল কলম্বিয়ার জরুরি সেবাদানকারী কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে ধসে পড়া ভবন ও সীমিত পরিসরের স্থানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করছে। মার্কিন সহায়তার নতুন অর্থের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাবার, স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও আশ্রয়ের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার নিরাপত্তা ও কাঠামোগত অবস্থা মূল্যায়নের কাজও করা হবে। ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিমানযোগে সহায়তা পাঠানোর কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। এদিকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তা এবং ভূমিকম্পের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোও স্থানীয় জরুরি সেবাদানকারীদের সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাবার, পানি, আশ্রয় এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন মেটানো এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সহায়তা এসব মানবিক প্রয়োজন মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃত, আহত ও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বাড়ার মধ্যে উদ্ধার অভিযানও চলছে। কর্তৃপক্ষ ধসে পড়া স্থাপনায় আটকে থাকা মানুষদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা করছে।
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে উচ্চ অগ্নিঝুঁকির মধ্যে বাইরে বারবিকিউ জ্বালিয়ে দাবানল সৃষ্টির অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সী এক ইসরাইলি পর্যটককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ রেথিমনোর সেলিয়া গ্রামের কাছে আগুনের সূত্রপাতের পর ওই পর্যটকের বিরুদ্ধে সন্দেহ তৈরি হয়। শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার রেথিমনোর আদালতে তাকে হাজির করার কথা রয়েছে, যেখানে তার আটকের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে পারে রাষ্ট্রপক্ষ। অভিযোগ অনুযায়ী, পর্যটকটি যে ভাড়া করা ভিলায় অবস্থান করছিলেন, সেখানে বাইরে বারবিকিউ করা নিষিদ্ধ ছিল। আগুনের ঝুঁকি সম্পর্কে তাকে সতর্কও করা হয়েছিল। এরপরও তিনি বারবিকিউ জ্বালান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেখানকার আশপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ১০ মিনিটে সেলিয়া গ্রামের কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়। এলাকাটি দক্ষিণ রেথিমনোর জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র প্লাকিয়াসের কাছাকাছি। প্রাথমিক প্রতিবেদনে আগুনের বিস্তার বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ জানানো হয়নি। ক্রিটে গ্রীষ্মকালজুড়ে দাবানলের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকে। উচ্চ তাপমাত্রা, শুষ্ক আবহাওয়া ও বাতাসের কারণে ছোট একটি আগুনও দ্রুত বড় আকার নিতে পারে। এ কারণে অগ্নিঝুঁকি বেড়ে গেলে গ্রিসের কর্তৃপক্ষ খোলা জায়গায় আগুন জ্বালানো ও বারবিকিউ ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ক্রিটের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নির্দেশনাতেও উচ্চ অগ্নিঝুঁকির সময়ে বাইরে যেকোনো ধরনের আগুন ব্যবহার এবং উন্মুক্ত স্থানে বারবিকিউ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় অগ্নিঝুঁকির সময় বন বা শুকনো উদ্ভিদের কাছাকাছি খোলা জায়গায় বারবিকিউ না করার জন্য বাসিন্দা ও পর্যটকদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। জুলাইয়ের শেষ দিকেও গ্রিসের সিভিল প্রোটেকশন কর্তৃপক্ষ ক্রিটসহ কয়েকটি অঞ্চলে ‘অত্যন্ত উচ্চ’ অগ্নিঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছিল। তখন আগুনের সূত্রপাত ঘটাতে পারে এমন কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে বারবিকিউ, খোলা আগুন ও স্পার্ক তৈরি করতে পারে এমন কাজ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় এখন মূলত তদন্ত করা হচ্ছে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল এবং অভিযুক্ত পর্যটকের বারবিকিউয়ের সঙ্গে দাবানলের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না। গ্রেপ্তার হওয়া ওই পর্যটকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতে হাজিরের পর তার আটকের মেয়াদ, অভিযোগের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। একই সঙ্গে আগুনে পরিবেশ, সম্পদ বা স্থানীয় মানুষের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকলে তার পরিমাণও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা। ক্রিটে পর্যটন মৌসুমে দাবানল প্রতিরোধে এমন বিধিনিষেধ নিয়মিতই জারি করা হয়। তাই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সতর্কতার মধ্যেও যদি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আগুন জ্বালানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে ঘটনাটি শুধু ব্যক্তিগত অসতর্কতার নয়, অগ্নিঝুঁকির সময়ে জননিরাপত্তা বিধি অমান্যের বিষয় হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি বড় মার্কিন পণ্য বিক্রির দোকান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দোকানের মালিকের দাবি, অবসর নেওয়া বা অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে নয়, মূলত ক্রেতা কমে যাওয়ায় ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নক্সভিলের কাছে ইন্টারস্টেইট ৪০ - এর পাশে অবস্থিত ট্রাম্প সুপারস্টোরটি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প সমর্থকদের কাছে পরিচিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। দোকানটির বাইরে ট্রাম্পের বিশাল বিলবোর্ড ও ব্যানার রয়েছে। এমনকি সেখানে ‘ডেমোক্র্যাট সুপারস্টোর’ নামে একটি ইটের তৈরি প্রতীকী শৌচাগারও রাখা হয়েছিল। দোকান বন্ধের আগে অবশিষ্ট পণ্য ৫০ শতাংশ ছাড়ে বিক্রি করা হচ্ছে। দোকানের মালিক ৮০ বছর বয়সী বিল হেইস জানিয়েছেন, তিনি অবসর নিচ্ছেন বা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন—এমন খবর সঠিক নয়। দোকানের এক কর্মচারী সংক্ষেপে বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমরা এখন আর ব্যস্ত নই।” একসময় অবশ্য চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার পর দোকানে বিপুলসংখ্যক সমর্থক ভিড় করেছিলেন বলে জানান হেইস। তার ভাষ্য, তখন দোকানে ঢোকার জন্য মানুষকে বাইরে অপেক্ষা করতে হতো এবং পুরো ভবনটি যেন ট্রাম্প সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল। বর্তমানে সেই ভিড় আর নেই। দোকানের কর্মচারীদের একজন ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে তার মতে, ক্রেতাদের আর্থিক চাপও ব্যবসা কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ। তিনি বলেন, অনেক মানুষ এখন কেনাকাটার বদলে প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো নিয়ে চিন্তিত। কারও সামনে প্রশ্ন—মাসের বাজার করবেন, নাকি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবেন। দোকানের কর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, জ্বালানি ব্যয় এবং পরিবারের ওপর বাড়তে থাকা আর্থিক চাপের কারণে মানুষ অতিরিক্ত অর্থ রাজনৈতিক পণ্য কেনাকাটায় ব্যয় করতে আগের মতো আগ্রহী নন। টেনেসি ঐতিহাসিকভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজ্যটিতে ট্রাম্প বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন। ফলে ট্রাম্পের নামে গড়ে ওঠা এই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে একটি দোকানের ক্রেতা কমে যাওয়া বা ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়াকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার সামগ্রিক চিত্র হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা পরিস্থিতি, ক্রেতাদের ব্যয়ক্ষমতা এবং দোকানের নিজস্ব ব্যবসায়িক কারণও জড়িত থাকতে পারে। তবু কয়েক বছর আগেও ট্রাম্প সমর্থকদের ব্যাপক আগ্রহে যে দোকানটি জমজমাট ছিল, সেটি এখন অর্ধেক দামে পণ্য বিক্রি করে বন্ধ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে—ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পণ্যনির্ভর ব্যবসার পরিবর্তিত চিত্রের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতে একসঙ্গে শত শত মানুষের শুনানি নেওয়া হচ্ছে। অল্প সময়ের নোটিশে এসব শুনানির তারিখ নির্ধারণ বা পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির হতে না পারলে অনেক অভিবাসীর বিরুদ্ধে তাদের অনুপস্থিতিতেই বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হচ্ছে। এই বড় আকারের শুনানিগুলোকে ‘মেগা মাস্টার’ শুনানি বলা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব শুনানিতে ১০০ থেকে ২০০টি মামলা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। একেকটি শুনানিতে মোট প্রায় ১৫০ জনকে তালিকাভুক্ত করা হতে পারে। আগের তুলনায় অনেক বেশি মানুষকে একই শুনানিতে রাখা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে নোটিশও অল্প সময় আগে দেওয়া হচ্ছে। এসব শুনানির নোটিশ দেওয়া হলেও অনেক সময় তা ইংরেজিতে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে পাঠানো হচ্ছে। ফলে আইনজীবী না থাকা অভিবাসীদের জন্য শুনানির প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। কেউ শুনানিতে হাজির না হলে আদালত তার অনুপস্থিতিতে বহিষ্কারের আদেশ দিতে পারে। পরে এমন আদেশের কারণে ওই ব্যক্তি অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। প্রতিবেদনে গবেষকদের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুনে আটক না থাকা অভিবাসীদের মাস্টার শুনানিতে হাজির না হওয়ার সংখ্যা ২০২৪ সালের জুনের তুলনায় ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে অনুপস্থিতিতে দেওয়া বহিষ্কারের আদেশ বেড়েছে ১৮৩ দশমিক ৬ শতাংশ। জুন মাসে বিচারকেরা মোট ৫৩ হাজার ৮০৮টি অনুপস্থিতিতে বহিষ্কারের আদেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ হাজারের বেশি আদেশ এসেছে এমন মাস্টার শুনানি থেকে, যেখানে একসঙ্গে ১০০ বা তার বেশি মানুষের মামলা রাখা হয়েছিল। এসব শুনানিতে নোটিশ পাওয়ার মধ্যবর্তী সময় ছিল ৪৫ দিন বা তার কম। নিউইয়র্কের একটি শুনানির উদাহরণও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ২৭ মে ৭৩ জনের একটি শুনানিতে নোটিশ পাওয়ার মধ্যবর্তী সময় ছিল ১৬৯ দিন এবং সাতটি অনুপস্থিতিতে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়। ২৫ জুন ৯৫ জনের আরেকটি শুনানিতে নোটিশ পাওয়ার মধ্যবর্তী সময় ছিল মাত্র ২৪ দিন। ওই শুনানিতে তিন-চতুর্থাংশের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়। কানসাস সিটিতেও একই ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। একটি শুনানিতে ৯৩ জনের মামলার ক্ষেত্রে শুনানির তারিখ পরিবর্তনের খবর পাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ১৫ দিন সময় ছিল। সেখানে ৫৬টি অনুপস্থিতিতে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়। অন্য একটি শুনানিতে ৯৬ জনের জন্য নোটিশ পাওয়ার মধ্যবর্তী সময় ছিল ১৯৬ দিন। সেখানে এমন আদেশ দেওয়া হয় নয়টি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিবাসীদের শুনানিতে অনুপস্থিত থাকার পেছনে নোটিশ না পাওয়া এবং ভয় অন্যতম কারণ। সাবেক এক অভিবাসন বিচারক জানিয়েছেন, অতীতে ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য সময়মতো নথিভুক্ত না হওয়া বা নোটিশ সঠিক ঠিকানায় না পৌঁছানোর ঘটনাও ঘটেছে। ফলে কেউ কেউ শুনানির তারিখ পরিবর্তনের বিষয়টি জানতে না পেরেই অনুপস্থিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। অভিবাসন আদালত চত্বরে গ্রেপ্তারের ঘটনাও অনেকের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে। গত বছর আদালতের ভেতর ও আশপাশে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার অভিযান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরে একটি ফেডারেল বিচারক আদালতে এ ধরনের গ্রেপ্তার নীতিতে বাধা দেন। তবে এর প্রভাব অভিবাসীদের মধ্যে ভয় ও অবিশ্বাস তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতের দায়িত্বে থাকা সংস্থা জানিয়েছে, মামলাগুলো দ্রুত শেষ করা এবং দীর্ঘসূত্রতা কমানো তাদের অগ্রাধিকার। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, সময়মতো ও আইনসম্মতভাবে সব মামলা পরিচালনার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী শুনানির সময়সূচিতে পরিবর্তন করা হচ্ছে। তবে অভিবাসন আইনজীবী ও সাবেক বিচারকদের কেউ কেউ বলছেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মামলা নেওয়া এবং অল্প নোটিশে শুনানির তারিখ দেওয়ার ফলে অভিবাসীদের নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ কমে যাচ্ছে। আইনজীবী না থাকা ব্যক্তিদের জন্য অল্প সময়ে আইনি সহায়তা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জুনে সব ধরনের শুনানি মিলিয়ে শেষ হওয়া মামলার ২ শতাংশেরও কম ক্ষেত্রে অভিবাসীরা আশ্রয় বা আদালতের মাধ্যমে অন্য কোনো বৈধ পথ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। একই সময়ে শতাধিক অভিবাসন বিচারক চাকরি হারিয়েছেন, পদত্যাগ করেছেন বা অবসর নিয়েছেন। তবে সব শুনানিতে একই ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি। সান আন্তোনিওর একটি শুনানিতে একজন বিচারক একজন ব্যক্তির যথাযথ নোটিশ না পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেন। আরেকজন শিশু হওয়ায় তাকে আলাদা শিশুদের শুনানির তালিকায় পাঠানো হয়, যাতে সে দ্বিতীয়বার সুযোগ পায়। এরপরও ওই দিনের শুনানি শেষে বিচারক ২৬টি নতুন অনুপস্থিতিতে বহিষ্কারের আদেশ দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের নাগরিকদের অভিবাসন আটকের ঘটনা ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় ১১০৯ শতাংশ বেড়েছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ইকুইটি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থার মোট আটকের সংখ্যা বেড়েছে ৩৮৬ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় তিন হাজার এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের নাগরিককে অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থা আটক করে। ওই বছর সংস্থাটির মোট আটকের ১১ শতাংশ ছিল এই জনগোষ্ঠীর। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আটকের মোট অংশেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয়, নেটিভ হাওয়াইয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দার সংখ্যা ৭২ লাখের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মোট এই জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ শতাংশ ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভারত, চীন, ভিয়েতনাম, আর্মেনিয়া ও লাওসের নাগরিকদের মধ্যে অভিবাসন আটকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। আটক হওয়া ব্যক্তিদের অপরাধের ইতিহাসেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৫ সালে আটক হওয়া এই জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫৬ শতাংশের কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ১৯ শতাংশ। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, নারী, শিশু এবং অপরাধের রেকর্ড নেই এমন ব্যক্তিদের আটকের সংখ্যাও বেড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শহরে ২০২৫ সালে অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থা এবং সীমান্ত টহল বাহিনীর একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়। ২০২৬ সালে এসব অভিযান আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও কম প্রচারিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আগের বছরগুলোর তুলনায় অভিবাসন কার্যক্রম এখনও বেশি রয়েছে। এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব আটকের কারণে কমিউনিটির মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হচ্ছে। পরিবারগুলো স্বজনদের খুঁজে বের করতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে এবং অনেক পরিবারকে আতঙ্কের মধ্যে ছুটতে হচ্ছে। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির সামনে, কর্মস্থলে যাওয়ার পথে, কর্মস্থলে এবং আদালতে নিয়মিত হাজিরার সময়ও আটকের ঘটনা ঘটছে। বিশ্লেষণে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির প্রভাব নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। প্রশাসন গুরুতর অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও বিশ্লেষণে অপরাধের রেকর্ড নেই এমন ব্যক্তিদের আটকের পাশাপাশি বৈধ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অভিযান বাড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লেনদেনমূলক রেকর্ড প্রবেশাধিকার ক্লিয়ারিংহাউসের সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন হেফাজত কেন্দ্রে থাকা ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের কোনো অপরাধের সাজা নেই। ক্যালিফোর্নিয়ায় আটকের প্রবণতার সঙ্গে এই তথ্যও বিশ্লেষণে বিবেচনা করা হয়েছে। ইকুইটি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণটি ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থার জানানো ব্যক্তিগত আটকের রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এসব তথ্য ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলির বহিষ্কারসংক্রান্ত তথ্য প্রকল্পের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে। তবে এই হিসাব ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে হওয়া সব অভিবাসন আটকের পূর্ণ চিত্র নয়। কারণ বিশ্লেষণে শুধু অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থার আটকের তথ্য রয়েছে। সীমান্ত টহলসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থাও ক্যালিফোর্নিয়ায় বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ফলে প্রকৃত মোট আটকের সংখ্যা এই বিশ্লেষণে পাওয়া সংখ্যার চেয়ে বেশি হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ডনকাস্টারে তিন বছরের এক শিশুর জরুরি ফোনে সম্ভাব্যভাবে প্রাণে বেঁচেছেন তার মা। বাড়িতে মা অচেতন হয়ে পড়ে যাওয়ার পর শিশুটি শান্ত থেকে জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে। পরে ফোনের অপর প্রান্তে থাকা পুলিশকর্মীর সৃজনশীল নির্দেশনায় মা ধীরে ধীরে জ্ঞান ফিরে পান। শিশুটির নাম জেমস। তার মা ২৮ বছর বয়সী জর্জিয়া হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং তীব্র পানিশূন্যতার কারণে অচেতন হয়ে মেঝেতে পড়ে যান। এ সময় বাড়িতে থাকা জেমস পরিস্থিতি বুঝে জরুরি নম্বরে ফোন করে। ফোনটি ধরেন দক্ষিণ ইয়র্কশায়ার পুলিশের জরুরি কল গ্রহণকারী জেন। তিন বছরের শিশুর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করা কঠিন বুঝতে পেরে তিনি তাকে ভয় না দেখিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। জেন জানান, শিশুটিকে শান্ত রেখে প্রয়োজনীয় কাজটি বোঝানোর উপায় খুঁজে বের করাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। জেন সরাসরি এমন কোনো নির্দেশনা না দিয়ে, যা শিশুটিকে ভয় পাইয়ে দিতে বা বিভ্রান্ত করতে পারে, পরিস্থিতিকে খেলায় পরিণত করেন। তিনি জেমসকে তার মাকে জাগানোর চেষ্টা করতে গায়ে সুড়সুড়ি দিতে বলেন। এক মিনিটের মধ্যেই এই কৌশল কাজে আসে এবং জর্জিয়া ধীরে ধীরে জ্ঞান ফিরে পান। জরুরি কল গ্রহণকারী জেন বলেন, এই ফোনটি তার জন্য আলাদা ছিল। তার মতে, শান্ত থাকা, সৃজনশীলভাবে চিন্তা করা এবং ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগাযোগ করার বিষয়টি এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। জর্জিয়া জানান, জেমস সম্ভাব্যভাবে তার জীবন বাঁচিয়েছে, কারণ তিনি জানতেন না কতক্ষণ অচেতন অবস্থায় থাকতে হতো। জ্ঞান ফেরার পর তিনি খুবই অসুস্থ বোধ করছিলেন। তবে ফোনের অপর প্রান্তে থাকা পুলিশকর্মী তাকে শান্ত করতে সক্ষম হন। জেমসের জরুরি ফোন করার এই জ্ঞান কয়েক মাস আগেই তাকে শেখানো হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা শেফিল্ডের জরুরি সেবা জাদুঘরে যাওয়ার পর জর্জিয়া ও তার স্বামী জেক তাকে জরুরি ফোন করার পদ্ধতি শেখান। সেই শেখানো বিষয়টিই পরে সংকটের মুহূর্তে কাজে লাগে। ঘটনার পর পুলিশ সদস্য জর্ডান কাসিম ও শার্লট রাইট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জর্জিয়ার অবস্থা পরীক্ষা করেন। সাহসী শিশুটিকে পুরস্কৃত করতে কর্মকর্তারা তাকে একটি আসল পুলিশ গাড়ির ভেতরে বসার সুযোগ দেন এবং একটি খেলনা হেলিকপ্টার উপহার দেন। জর্জিয়া বলেন, জেমস যে এমন পরিস্থিতি বুঝতে পেরে জরুরি পদক্ষেপ নিতে পেরেছে, তা এখনো তাদের বিশ্বাস হচ্ছে না। তিনি আশা করেন, এই ঘটনা অন্য অভিভাবকদেরও ছোট বয়স থেকেই সন্তানদের জরুরি ফোন করার পদ্ধতি শেখাতে উৎসাহিত করবে। জর্জিয়ার মতে, শিশুদের অল্প বয়সেই জরুরি পরিস্থিতিতে ফোন করার বিষয়ে শেখানো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সংকটের মুহূর্তে এই জ্ঞান জীবন রক্ষায় কাজে লাগতে পারে।
ভারতে মার্কিন ভিসার জন্য আবেদন করা সব বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে এখন সাক্ষাৎকারে সরাসরি উপস্থিত হতে হবে। বয়সের ভিত্তিতে কোনো শিশুকে সাক্ষাৎকার থেকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। অর্থাৎ নবজাতক থেকে শুরু করে ১৭ বছর বয়সী সব অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীকেই ভিসা সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হতে হবে। মার্কিন দূতাবাসের এই নির্দেশনা ভারতীয় বাবা-মা ও অভিভাবকদের জন্য প্রযোজ্য। ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক আবেদনকারীকে কনস্যুলার কর্মকর্তার সামনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে দূতাবাস জানিয়েছে। ফলে শুধু বাবা-মা সাক্ষাৎকারে উপস্থিত থাকলে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ভিসা আবেদন সম্পন্ন হবে না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শিশুর বয়স খুব কম হলেও তাকে সাক্ষাৎকারে নিয়ে যেতে হবে। এমনকি নবজাতক শিশুর ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। একইভাবে ১৭ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীকেও সাক্ষাৎকারে সরাসরি উপস্থিত থাকতে হবে। অর্থাৎ বয়সের ভিত্তিতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাক্ষাৎকারে উপস্থিতির কোনো ছাড় রাখা হয়নি। ভারতীয় অভিভাবকদের তাই সন্তানের মার্কিন ভিসা আবেদনের সময় সাক্ষাৎকারে শিশুর উপস্থিতির বিষয়টি আগে থেকেই নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত দিনে আবেদনকারী শিশুকেও সাক্ষাৎকারের জন্য উপস্থিত থাকতে হবে। এই নিয়ম সব বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একইভাবে কার্যকর হবে। মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রত্যেক আবেদনকারীকে ব্যক্তিগতভাবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। সে কারণেই অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীদেরও সাক্ষাৎকারে সরাসরি উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত উপস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ভিসার জন্য আবেদন করা অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বয়সের ভিত্তিতে সাক্ষাৎকারের ছাড় থাকছে না। ফলে সন্তানের বয়স একেবারে কম হলেও অভিভাবকদের তাকে সাক্ষাৎকারের জন্য সঙ্গে নিতে হবে। এই নির্দেশনার ফলে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের নিয়ে মার্কিন ভিসার আবেদন করা ভারতীয় পরিবারগুলোর প্রস্তুতিতে নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে। বাবা-মাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পাশাপাশি সাক্ষাৎকারের নির্ধারিত দিনে সন্তানের উপস্থিতিও নিশ্চিত করতে হবে। বয়স কম হওয়াকে সাক্ষাৎকার এড়িয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে ভারতীয় অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মার্কিন ভিসার জন্য আবেদন করার সময় সন্তানের বয়স দেখে সাক্ষাৎকারে তার উপস্থিতি প্রয়োজন নেই বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ থাকছে না। সব বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীকেই সাক্ষাৎকারে সরাসরি উপস্থিত হতে হবে। মার্কিন দূতাবাসের এই স্পষ্টীকরণের ফলে শিশুদের ভিসা সাক্ষাৎকার নিয়ে বয়সভিত্তিক ছাড়ের বিষয়ে বিভ্রান্তির অবকাশ থাকছে না। নবজাতক থেকে ১৭ বছর বয়সী পর্যন্ত সব অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে। সূত্র: ইকোনমিক টাইমস
মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত গ্রেস ওর্তেগার বাবা হুয়ান ওর্তেগাকে গত ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। মেয়ের মাধ্যমে সামরিক পরিবারের সদস্যদের জন্য দেওয়া বিশেষ থাকার অনুমতির আবেদন চলমান থাকা অবস্থাতেই তাকে বহিষ্কার করা হয়। পরিবারের দাবি, মেক্সিকোতে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করেননি হুয়ান। গ্রেস ওর্তেগা ২০২৪ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তাঁর সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল সামরিক বাহিনীর একটি কর্মসূচি, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অনুমতি ছাড়া থাকা সেনাসদস্যদের নিকট পরিবারের সদস্যদের জন্য সাময়িকভাবে থাকার অনুমতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। হুয়ানও মেয়ের মাধ্যমে এই সুবিধার জন্য আবেদন করেছিলেন। গ্রেস জানান, ভালো একটি চাকরি পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করার পাশাপাশি পরিবারের সুরক্ষার আশাতেও তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বাবা বহিষ্কারের শিকার হওয়ায় তিনি নিজের দেশের কাছ থেকে বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হুয়ান অভিবাসন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন যে মেয়ের মাধ্যমে তাঁর থাকার অনুমতির আবেদন চলমান রয়েছে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, হুয়ানকে মে মাসে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই বহিষ্কারের চূড়ান্ত আদেশ ছিল বলে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, ২০১৬ সালে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে তাঁর একটি গ্রেপ্তারের ঘটনা ছিল এবং ২০২১ সালে তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ দেওয়া হয়। তবে সংস্থাটি ওই গ্রেপ্তারের কোনো প্রমাণ দেয়নি এবং তখন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল কি না, সেটিও জানায়নি। হুয়ান গ্রেপ্তারের পরও মেয়ের মাধ্যমে করা সামরিক পরিবারের জন্য থাকার অনুমতির আবেদন থেকে আশাবাদী ছিলেন। তিনি তাঁর অভিবাসন মামলা পুনরায় খোলার আবেদনও করেছিলেন এবং মেয়ের সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকার বিষয়টি তার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে তাঁর আবেদনগুলো বহিষ্কারের পরও কার্যকর ছিল কি না, তা স্পষ্ট হয়নি। গ্রেসের বাবা প্রায় ছয় সপ্তাহ অভিবাসন আটককেন্দ্রে ছিলেন। গ্রেস জানান, সেখানে থাকার সময় তাঁর বাবা প্রায় ১৪ কেজি ওজন হারান এবং হার্নিয়ায় আক্রান্ত হন। হুয়ান আটককেন্দ্রের খাবার, ঘুমানোর ব্যবস্থা, পানির ব্যবস্থা ও গোসলের সুযোগ নিয়েও অভিযোগ করেন। হুয়ানের আইনজীবী তাঁকে মুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ওই আবেদনের পরপরই ৪ জুলাই তাঁকে মেক্সিকোয় পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। হুয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে মেক্সিকোর চিয়াপাসে নিয়ে যাওয়া হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী পরিবারের কাছ থেকে অনেক দূরের একটি এলাকা। মেক্সিকোয় পৌঁছানোর পর হুয়ান ও অন্য বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা বাসস্টেশনে যাওয়ার জন্য গাড়ি খুঁজছিলেন। তাঁর দাবি, কয়েকজন চালক তাঁদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে এবং অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পরিবারের কাছ থেকে আরও অর্থ নেওয়ার হুমকি দেয়। হুয়ানের কাছে থাকা ৪০০ মেক্সিকান মুদ্রা দেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তিনি জানান। পরে তিনি মেক্সিকোর সিউদাদ হুয়ারেসে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছান। হুয়ান এখন মেক্সিকোয় পরিবারের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করছেন। তবে তাঁর স্ত্রী ও চার সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে রয়ে গেছেন। গ্রেস জানান, তাঁর বাবা আগে পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন। পরিবারের ছোট ছেলেটির বয়স সাত বছর এবং সে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত। তার নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে হুয়ান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিবারের কোনো সদস্য সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিক থাকার অনুমতি, বৈধ অভিবাসন মর্যাদা বা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা থেকে ছাড় পাওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষও সামরিক পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সাময়িক থাকার অনুমতি বা অন্য কিছু সুবিধা দেওয়ার সুযোগ রাখে বলে জানিয়েছে। এদিকে গ্রেসের ঘটনায় সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যদের অন্তত ৫২ জন বাবা-মা ও স্বামী বা স্ত্রীকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করে আটক করেছে। তাদের মধ্যে অন্তত ছয়জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং একজন নিজে থেকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। গ্রেস ওর্তেগার ক্ষেত্রে তাঁর বাবার আবেদন চলমান থাকা সত্ত্বেও তাঁকে মেক্সিকোয় পাঠানো হয়েছে। গ্রেস বলেন, তিনি দেশের জন্য কাজ করতে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন এবং বাবাকে সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকবে বলেও আশা করেছিলেন। বাবাকে বহিষ্কারের পর সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে।
আর মাত্র ১৯ দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটিতে শুরু হচ্ছে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন ফোবানার ৪০তম সম্মেলন। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ইউনিভার্সাল হিলটন হোটেলে। লেবার ডে উইকেন্ড এ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের সম্মেলন ঘিরে ইতোমধ্যে আয়োজকদের প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি, কমিউনিটি নেতা, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। এবারের সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ফোবানা হোস্ট কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মন্ত্রী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এর আগে গত ২০ মে ঢাকায় মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে লস অ্যাঞ্জেলেস ফোবানা হোস্ট কমিটির প্রতিনিধিদল আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানায়। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে মন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্মতি দেন বলে সে সময় আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ফোবানার ৪০তম সম্মেলনকে সামনে রেখে গত ২৮ মার্চ লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবালসহ ফোবানা ও হোস্ট কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এবারের সম্মেলনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, স্বাস্থ্যসেবা, নারী উদ্যোক্তা কর্মশালা, বইমেলা, কাব্যজলসা, সাহিত্য ও কবিতা আসর, যুব ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশবিষয়ক আলোচনা, ট্যালেন্ট ও ফ্যাশন শো এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ফোবানা স্কলারশিপসহ নানা আয়োজন থাকছে। দেশ ও উত্তর আমেরিকার জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে তিন দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও এবারের সম্মেলনের বড় আকর্ষণ হিসেবে থাকছে। এর আগে আয়োজকদের পক্ষ থেকে পরীমনি, লুইপা, ঋতুপর্ণা, মিলা, সাগর বাউল, নকীব খান, রবি চৌধুরী, রোমেল খান, মুজা ও আলিফসহ বেশ কয়েকজন শিল্পীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে আরও শিল্পীর নাম যুক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সম্মেলনের আয়োজন করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া। হোস্ট কমিটির কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন, মেম্বার সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবাল। ফোবানা নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রাবিউল করিম বেলাল এবং এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফও সম্মেলনের সার্বিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চার দশকের মাইলফলককে সামনে রেখে এবারের সম্মেলনকে বিশেষভাবে সাজানো হচ্ছে। সম্মেলনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা। অতিথি ব্যবস্থাপনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রচার ও প্রকাশনা, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং বিভিন্ন কর্মসূচির সমন্বয় নিয়ে কাজ চলছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, ৪০তম ফোবানা সম্মেলন উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাংলাদেশিদের একত্রিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংযোগ আরও শক্তিশালী করবে। ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটিতে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
ফ্রান্সের কালেতে মানব পাচারকারীদের নিয়ে প্রতিবেদন করার পর প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের টেলিভিশন সাংবাদিক প্যাট্রিক ক্রিস্টিস। হুমকির মাত্রা এতটাই গুরুতর ছিল যে, লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ তাকে গভীর রাতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এমিলি কারভারকে নিয়ে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেয়। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তাদের জানানো হয়, মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা ক্রিস্টিসের বড় ধরনের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। সে সময় তাঁর স্ত্রী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ক্রিস্টিস জিবি নিউজের একটি সাময়িক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন। গত বছরের জুলাইয়ে তিনি উত্তর ফ্রান্সের কালেতে ছোট নৌকায় অভিবাসীদের ব্রিটেনে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত পাচারকারীদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পাচারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কার্যক্রমের প্রচার করত। যোগাযোগের স্থান, সময় ও অর্থের পরিমাণ নিয়েও সেখানে তথ্য আদান-প্রদান করা হতো। বিষয়টি জানার পর তিনি কর্তৃপক্ষকে তথ্য জানানোর পাশাপাশি সরাসরি পাচারকারীদের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ক্রিস্টিস একটি ক্যামেরা দল নিয়ে কালেতে যান। সেখানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি তিনজন পাচারকারীর মুখোমুখি হন। এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যে ফিরে তিনি টেলিভিশনে সরাসরি অনুষ্ঠান করছিলেন। অনুষ্ঠানের বিরতির সময় তাঁর স্ত্রী ফোন করে জানান, পুলিশ বাড়িতে এসেছে এবং কেউ তাকে হত্যা করতে চায় বলে সতর্ক করেছে। ২৫ জুলাই মধ্যরাতের কিছু পর ক্রিস্টিস বাড়িতে ফেরেন। পুলিশ তাকে আনুষ্ঠানিক প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে জানায়। কর্মকর্তারা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেন। নিজের গাড়ি ব্যবহার না করে ভাড়ার গাড়িতে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। পুলিশ আশঙ্কা করেছিল, তাঁর গাড়িতে বিপজ্জনক কিছু রাখা হয়ে থাকতে পারে। ২৬ জুলাই তাঁর বাড়িতে একটি জরুরি সতর্কসংকেত ব্যবস্থা বসানো হয়। কয়েক দিন পর তাকে ও তাঁর স্ত্রীকে বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপরও ক্রিস্টিসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। কর্মস্থলে যাওয়া ও ফেরার সময় তাকে নিরাপত্তা দেওয়া শুরু হয়। বাইরে বের হলে পরিচয় গোপন রাখতে ছদ্মবেশ ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল বলেও তিনি জানান। হুমকির কয়েক সপ্তাহ পর তাঁর ছেলে জর্জের জন্ম হয়। তখনও পরিবারটি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিল। সন্তান জন্মের পর হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময়ও ক্রিস্টিস নতুন এক ঘটনার মুখোমুখি হন। তাঁর দাবি, কালেতে যাদের মধ্যে একজনকে তিনি প্রকাশ্যে এনেছিলেন, তাদের একজনকে হাসপাতালের কাছে দেখতে পান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি একটি পাচারকারী দলের হয়ে কাজ করতেন এবং তার হাতে বিশেষ নকশার একটি আংটি ছিল। হাসপাতালের বাইরে তিনি একই ধরনের আংটি পরা একজনকে নিজের দিকে এগিয়ে আসতে দেখেন। লোকটি কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থাকার পর চলে যায়। ক্রিস্টিসের ধারণা, ওই ব্যক্তি কালেতে দেখা একই ব্যক্তি ছিলেন। এর কয়েক সপ্তাহ পর বাড়িতে থাকা জরুরি সতর্কসংকেত নিয়েও নতুন সমস্যা তৈরি হয়। পুলিশ সেটি সরিয়ে নিতে চেয়েছিল। ক্রিস্টিস জানান, তিনি সেটি রেখে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। পরে জানতে পারেন, পুলিশের কাছে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকায় সতর্কসংকেতটি প্রায় ১০ দিন আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি তাদের আগে জানানো হয়নি বলেও তিনি জানান। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ক্রিস্টিসের প্রাণনাশের আশঙ্কার বিষয়ে যে সতর্কতা দিয়েছিল, তা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি। তবে কে তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল এবং কীভাবে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না। মেট্রোপলিটন পুলিশও বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। হুমকির কারণে পরিবারটির জীবনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ক্রিস্টিস কর্মস্থলে যাতায়াতের সময় নিরাপত্তা পান। তাদের বসবাসের এলাকার রাস্তায় রাতে নিরাপত্তা টহলের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে এসব নিরাপত্তার মধ্যেও তিনি মানব পাচারকারীদের নিয়ে সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ক্রিস্টিসের দাবি, মানব পাচারকারী চক্রগুলো ফ্রান্সের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যেও সক্রিয়। তিনি জানান, যাদের নিয়ে তিনি প্রতিবেদন করেছিলেন, তাদের একজনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবিতে দুটি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দেখা গিয়েছিল। তাঁর মতে, এসব চক্রের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। প্রাণনাশের হুমকি সত্ত্বেও সাংবাদিকতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা নেই ক্রিস্টিসের। তিনি জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবার উত্তর ফ্রান্সে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তাঁর বক্তব্য, হুমকি দিয়ে তাকে নীরব করা যাবে না এবং মানব পাচার নিয়ে প্রতিবেদন চালিয়ে যাবেন।
ফিলাডেলফিয়ায় ইন্তেকাল করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি ও আইটি পেশাজীবী মাহবুব রহমান। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইডেন্টিটি অ্যান্ড অ্যাক্সেস ম্যানেজমেন্ট আর্কিটেক্ট হিসেবে কাজ করা মাহবুব রহমানের মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও বন্ধুদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। মাহবুব রহমান ১৯৬৮ সালের ৩০ নভেম্বর কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জন্মগ্রহণ করেন। কটিয়াদী থেকে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ভারতের কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। কর্মজীবনে তিনি ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজে অ্যাপ্লিকেশন আর্কিটেক্ট হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেন। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন টেকনোলজি বিভাগে আইডেন্টিটি অ্যান্ড অ্যাক্সেস ম্যানেজমেন্টের গ্রুপ সার্ভিসেস আর্কিটেক্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। হার্ভার্ডের বিভিন্ন প্রকাশিত নথিতেও তার এই পদে কাজ করার তথ্য পাওয়া যায়। ২০২৩ সালে তিনি ফিলাডেলফিয়ায় আসেন এবং চিলড্রেন’স হসপিটাল অব ফিলাডেলফিয়ায় আইডেন্টিটি অ্যান্ড অ্যাক্সেস ম্যানেজমেন্ট সলিউশন্স আর্কিটেক্ট হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে মাহবুব রহমান ব্রেইন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় তার অস্ত্রোপচার ও রেডিয়েশন চিকিৎসা করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তার শারীরিক অবস্থার আর উন্নতি হয়নি। অবশেষে রোববার সকালে ড্রেক্সেল হিলে নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন।মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। মরহুমের জানাজা ও দাফন নিউ জার্সির প্রিন্সটনে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তার নিকটাত্মীয়-স্বজন বসবাস করেন। জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে। মাহবুব রহমানের স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে অসাধারণ মেধাবী, বিনয়ী, সদয় ও মানবিক মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। মানুষের উপকারে এগিয়ে আসার মানসিকতা এবং কোমল ও বিনয়ী স্বভাবের কারণে তিনি পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের কাছে বিশেষভাবে প্রিয় ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।