আন্তর্জাতিক

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পথে জোয়ারের কবলে পড়া ১৪০ অভিবাসীকে উদ্ধার করল ফ্রান্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৬:৫৭
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পথে জোয়ারের কবলে পড়া ১৪০ অভিবাসীকে উদ্ধার করল ফ্রান্স
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পথে জোয়ারের কবলে পড়া ১৪০ অভিবাসীকে উদ্ধার করল ফ্রান্স

জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টাকালে প্রায় ১৪০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে ফ্রান্সের মেরিটাইম রেসকিউ টিম। শনিবার ভোরে একাধিক উদ্ধারকারী নৌকার সমন্বয়ে পরিচালিত এক জটিল ও দীর্ঘ অভিযানে তাদের নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনা হয়।

 

ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার সকালে নরম্যান্ডি উপকূলের ডিয়েপ বন্দরের দিকে একটি অভিবাসীবাহী নৌকা যেতে দেখে সেন্ট-ওবিন-সুর-মেরে অবস্থিত নজরদারি স্টেশন। এরপর দুটি টহল নৌকার সাহায্যে সেটির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। শুক্রবার গভীর রাতে বার্ক-সুর-মার উপকূলের কাছে 'ট্যাক্সি-বোটের' অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৪০ জন অভিবাসী জোয়ারের পানিতে আটকা পড়েন। বিপদ বুঝতে পেরে উদ্ধারকারী দল দ্রুত তাদের সৈকতে নিয়ে আসে এবং ফায়ার ও রেসকিউ সার্ভিসের কাছে হস্তান্তর করে।

 

রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই নৌকাটি আবারও উত্তর দিকে যাত্রা শুরু করে এবং অন্য একটি সৈকতে পৌঁছায়। সেখানে লাইফ জ্যাকেট পরা আরও ৮২ জন নৌকায় ওঠার অপেক্ষায় ছিলেন, যদিও ছোট ওই নৌকায় আগে থেকেই প্রায় ২০ জন উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অপেক্ষমাণ অভিবাসীরা শেষ পর্যন্ত নৌকায় না ওঠার সিদ্ধান্ত নেন এবং ফরাসি উদ্ধারকর্মীরা তাদের ডাঙায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন।

 

অবশেষে রাত সাড়ে ৩টার দিকে নৌকায় থাকা যাত্রীরাও চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা বাতিল করেন। এই উদ্ধার অভিযানের পর হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

 

ফরাসি মেরিটাইম প্রিফেকচার শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে মরিয়া এই অভিবাসীরা চরম জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া সাধারণত ফরাসি উদ্ধারকারীদের সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই এসব ভঙ্গুর নৌকায় জোর করে উদ্ধার অভিযান চালালে নৌকাডুবির প্রবল ঝুঁকি থাকে, তাই সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়।

 

সম্প্রতি চ্যানেল পাড়ি দিতে ব্যবহৃত এই ছোট নৌকাগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত সোমবারেই একটি ১৫ মিটার লম্বা নৌকায় রেকর্ড ২৩০ জন যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন, যা মাঝপথে ভেঙে গিয়ে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ট্র্যাজেডির জন্ম দিতে পারত বলে সতর্ক করেছেন ফরাসি উদ্ধারকর্মীরা।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পথে জোয়ারের কবলে পড়া ১৪০ অভিবাসীকে উদ্ধার করল ফ্রান্স
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পথে জোয়ারের কবলে পড়া ১৪০ অভিবাসীকে উদ্ধার করল ফ্রান্স

জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টাকালে প্রায় ১৪০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে ফ্রান্সের মেরিটাইম রেসকিউ টিম। শনিবার ভোরে একাধিক উদ্ধারকারী নৌকার সমন্বয়ে পরিচালিত এক জটিল ও দীর্ঘ অভিযানে তাদের নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনা হয়।   ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার সকালে নরম্যান্ডি উপকূলের ডিয়েপ বন্দরের দিকে একটি অভিবাসীবাহী নৌকা যেতে দেখে সেন্ট-ওবিন-সুর-মেরে অবস্থিত নজরদারি স্টেশন। এরপর দুটি টহল নৌকার সাহায্যে সেটির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। শুক্রবার গভীর রাতে বার্ক-সুর-মার উপকূলের কাছে 'ট্যাক্সি-বোটের' অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৪০ জন অভিবাসী জোয়ারের পানিতে আটকা পড়েন। বিপদ বুঝতে পেরে উদ্ধারকারী দল দ্রুত তাদের সৈকতে নিয়ে আসে এবং ফায়ার ও রেসকিউ সার্ভিসের কাছে হস্তান্তর করে।   রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই নৌকাটি আবারও উত্তর দিকে যাত্রা শুরু করে এবং অন্য একটি সৈকতে পৌঁছায়। সেখানে লাইফ জ্যাকেট পরা আরও ৮২ জন নৌকায় ওঠার অপেক্ষায় ছিলেন, যদিও ছোট ওই নৌকায় আগে থেকেই প্রায় ২০ জন উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অপেক্ষমাণ অভিবাসীরা শেষ পর্যন্ত নৌকায় না ওঠার সিদ্ধান্ত নেন এবং ফরাসি উদ্ধারকর্মীরা তাদের ডাঙায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন।   অবশেষে রাত সাড়ে ৩টার দিকে নৌকায় থাকা যাত্রীরাও চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা বাতিল করেন। এই উদ্ধার অভিযানের পর হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।   ফরাসি মেরিটাইম প্রিফেকচার শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে মরিয়া এই অভিবাসীরা চরম জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া সাধারণত ফরাসি উদ্ধারকারীদের সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই এসব ভঙ্গুর নৌকায় জোর করে উদ্ধার অভিযান চালালে নৌকাডুবির প্রবল ঝুঁকি থাকে, তাই সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়।   সম্প্রতি চ্যানেল পাড়ি দিতে ব্যবহৃত এই ছোট নৌকাগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত সোমবারেই একটি ১৫ মিটার লম্বা নৌকায় রেকর্ড ২৩০ জন যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন, যা মাঝপথে ভেঙে গিয়ে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ট্র্যাজেডির জন্ম দিতে পারত বলে সতর্ক করেছেন ফরাসি উদ্ধারকর্মীরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৬:৫৭
ট্রাম্পকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘প্রয়োজন হলে পা ভেঙে দেব’: ইরানের সেনাপ্রধান I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্পকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘প্রয়োজন হলে পা ভেঙে দেব’: ইরানের সেনাপ্রধান

সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে পর্যটকবাহী বাস উল্টে ১২ জন নিহত, আহত ৩৭ I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে পর্যটকবাহী বাস উল্টে ১২ জন নি হত, আ হত ৩৭

গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে উচ্চ অগ্নিঝুঁকির মধ্যে বাইরে বারবিকিউ জ্বালানোর পর পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বারবিকিউ, দাবানল লাগানোর অভিযোগে ইসরাইলি পর্যটক গ্রেপ্তার

যুক্তরাজ্যে জরুরি নম্বরে ফোন করে মা জর্জিয়ার প্রাণ বাঁচানো তিন বছর বয়সী শিশু জেমস পুলিশের পোশাকে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের ডনকাস্টারে তিন বছরের শিশুর জরুরি ফোনে প্রাণে বাঁচলেন মা

যুক্তরাজ্যের ডনকাস্টারে তিন বছরের এক শিশুর জরুরি ফোনে সম্ভাব্যভাবে প্রাণে বেঁচেছেন তার মা। বাড়িতে মা অচেতন হয়ে পড়ে যাওয়ার পর শিশুটি শান্ত থেকে জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে। পরে ফোনের অপর প্রান্তে থাকা পুলিশকর্মীর সৃজনশীল নির্দেশনায় মা ধীরে ধীরে জ্ঞান ফিরে পান।   শিশুটির নাম জেমস। তার মা ২৮ বছর বয়সী জর্জিয়া হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং তীব্র পানিশূন্যতার কারণে অচেতন হয়ে মেঝেতে পড়ে যান। এ সময় বাড়িতে থাকা জেমস পরিস্থিতি বুঝে জরুরি নম্বরে ফোন করে।   ফোনটি ধরেন দক্ষিণ ইয়র্কশায়ার পুলিশের জরুরি কল গ্রহণকারী জেন। তিন বছরের শিশুর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করা কঠিন বুঝতে পেরে তিনি তাকে ভয় না দেখিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। জেন জানান, শিশুটিকে শান্ত রেখে প্রয়োজনীয় কাজটি বোঝানোর উপায় খুঁজে বের করাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য।   জেন সরাসরি এমন কোনো নির্দেশনা না দিয়ে, যা শিশুটিকে ভয় পাইয়ে দিতে বা বিভ্রান্ত করতে পারে, পরিস্থিতিকে খেলায় পরিণত করেন। তিনি জেমসকে তার মাকে জাগানোর চেষ্টা করতে গায়ে সুড়সুড়ি দিতে বলেন। এক মিনিটের মধ্যেই এই কৌশল কাজে আসে এবং জর্জিয়া ধীরে ধীরে জ্ঞান ফিরে পান।   জরুরি কল গ্রহণকারী জেন বলেন, এই ফোনটি তার জন্য আলাদা ছিল। তার মতে, শান্ত থাকা, সৃজনশীলভাবে চিন্তা করা এবং ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগাযোগ করার বিষয়টি এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।   জর্জিয়া জানান, জেমস সম্ভাব্যভাবে তার জীবন বাঁচিয়েছে, কারণ তিনি জানতেন না কতক্ষণ অচেতন অবস্থায় থাকতে হতো। জ্ঞান ফেরার পর তিনি খুবই অসুস্থ বোধ করছিলেন। তবে ফোনের অপর প্রান্তে থাকা পুলিশকর্মী তাকে শান্ত করতে সক্ষম হন।   জেমসের জরুরি ফোন করার এই জ্ঞান কয়েক মাস আগেই তাকে শেখানো হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা শেফিল্ডের জরুরি সেবা জাদুঘরে যাওয়ার পর জর্জিয়া ও তার স্বামী জেক তাকে জরুরি ফোন করার পদ্ধতি শেখান। সেই শেখানো বিষয়টিই পরে সংকটের মুহূর্তে কাজে লাগে।   ঘটনার পর পুলিশ সদস্য জর্ডান কাসিম ও শার্লট রাইট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জর্জিয়ার অবস্থা পরীক্ষা করেন। সাহসী শিশুটিকে পুরস্কৃত করতে কর্মকর্তারা তাকে একটি আসল পুলিশ গাড়ির ভেতরে বসার সুযোগ দেন এবং একটি খেলনা হেলিকপ্টার উপহার দেন।   জর্জিয়া বলেন, জেমস যে এমন পরিস্থিতি বুঝতে পেরে জরুরি পদক্ষেপ নিতে পেরেছে, তা এখনো তাদের বিশ্বাস হচ্ছে না। তিনি আশা করেন, এই ঘটনা অন্য অভিভাবকদেরও ছোট বয়স থেকেই সন্তানদের জরুরি ফোন করার পদ্ধতি শেখাতে উৎসাহিত করবে।   জর্জিয়ার মতে, শিশুদের অল্প বয়সেই জরুরি পরিস্থিতিতে ফোন করার বিষয়ে শেখানো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সংকটের মুহূর্তে এই জ্ঞান জীবন রক্ষায় কাজে লাগতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১১:৪
মানব পাচারকারীদের নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন জিবি নিউজের সাংবাদিক প্যাট্রিক ক্রিস্টিস। ছবি: সংগৃহীত

মানব পাচারকারীদের মুখোশ খুলে বিপদে সাংবাদিক, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে ছাড়লেন বাড়ি

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা নিয়ে কঠোর বার্তা দিলেন আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ। ছবি:সংগৃহীত

ভিসার মেয়াদ শেষ হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরতে হবে, জানালেন আলবার্টার প্রিমিয়ার

গাজায় দুই ভবনের ধ্বংসস্তূপে মিলল ২১ ফিলিস্তিনির কঙ্কাল, খোঁজ নেই আরও ৪০ জনের

গাজায় দুই ভবনের ধ্বংসস্তূপে মিলল ২১ ফিলিস্তিনির কঙ্কাল, খোঁজ নেই আরও ৪০ জনের

কাতারে ৬ মাস ধরে বন্দি ইরানের ৩ সামরিক পাইলট, রেডক্রসের সহায়তা চাইল ইরান
কাতারে ৬ মাস ধরে বন্দি ইরানের ৩ সামরিক পাইলট, রেডক্রসের সহায়তা চাইল ইরান

কাতারে গত ছয় মাস ধরে তিন ইরানি সামরিক পাইলট বন্দি রয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’। বন্দি এসব পাইলটকে তাদের পরিবারের সদস্য কিংবা কোনো ইরানি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ইরান ইন্টারন্যাশনালের বরাতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।   ইরানি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে কাতারের একটি সামরিক ঘাঁটিতে অভিযান চালানোর সময় ইরানের রুশ নির্মিত সুখোই সু-২৪ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়। তেহরানের দাবি, ওই সময় তারা কাতারের একটি ‘শত্রু সামরিক ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছিলেন। এরপরই ওই তিন পাইলট কাতারি বাহিনীর হাতে আটক হন।   নিখোঁজ এই পাইলটদের নাম জাভাদ সালেহি, আবদোলমাজিদ দাশতিয়ান ও ওমরান বেহরাভেশিয়ান। তাদের মুক্তিতে সহায়তা চেয়ে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রেসিডেন্ট মিরজানা স্পোলিয়ারিচ এগারের কাছে ইতোমধ্যে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিখোঁজ সদস্যবিষয়ক কমিটির প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, আটকের পর থেকে এখন পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে ওই তিন পাইলটকে কারও সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি দেওয়া হয়নি।   এই আটকের বিষয়ে কাতারি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে মাজিদ কাজেমি নামে আরেক ইরানি পাইলটকে কাতারের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি সামরিক অভিযানের পর দেশে ফিরিয়ে আনার কথা জানিয়েছিলেন ইরানি কর্মকর্তারা।   এদিকে, তিন ইরানি পাইলটের বন্দি থাকার এই খবর এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে তেহরান ও দোহার মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ চলছে। শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করছে ইরান। যদিও একে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি।   একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মার্কিন-ইরান কূটনৈতিক তৎপরতার এই আবহে পাইলটদের দীর্ঘ সময় বন্দি থাকার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৬:৫২
মার্কিন হামলায় ব্যাপক ক্ষতির পরও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘হাঁটু গেড়ে বসাতে’ পেরেছে ইরান I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মার্কিন হামলায় ব্যাপক ক্ষতির পরও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘হাঁটু গেড়ে বসাতে’ পেরেছে ইরান: আইআরজিসি

অরুণাচল ইস্যুতে চীনের অবস্থান আরও জোরালো, ২৭ স্থানের নাম বদলে নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি

অরুণাচল ইস্যুতে চীনের অবস্থান আরও জোরালো, ২৭ স্থানের নাম বদলে নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি

অস্কারে যাচ্ছে গাজার যু দ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জীবনসংগ্রাম নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ’

অস্কারে যাচ্ছে গাজার যু দ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জীবনসংগ্রাম নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ’

0 Comments