টেক্সাসের কারাগারে জন্ম, মায়ের যত্ন ছাড়াই বেড়ে ওঠা, সেই তরুণী পেলেন হার্ভার্ডে আইন নিয়ে পড়ার ফুল স্কলারশিপ
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি কারাগারে জন্ম হয়েছিল অরোরা স্কাই ক্যাস্টনারের। জন্মের পর মায়ের কাছ থেকে তিনি আর সেভাবে স্নেহ-যত্ন পাননি। নবজাতক অরোরাকে কারাগার থেকে নিয়ে গিয়ে একাই বড় করেন তার বাবা। জীবনের শুরুটাই ছিল নানা প্রতিকূলতায় ভরা। কিন্তু সেই পরিস্থিতি তার শিক্ষাজীবনের স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। বরং কঠোর পরিশ্রম, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং একজন সহৃদয় পরামর্শদাতার সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগ পান তিনি।
অরোরার জন্ম টেক্সাসের Galveston County Jail-এ। তখন তার মা কারাগারে ছিলেন। জন্মের পর অরোরাকে তার বাবা কারাগার থেকে নিয়ে যান এবং একক অভিভাবক হিসেবে তাকে বড় করতে থাকেন। শৈশবটা সহজ ছিল না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাবা-মেয়ের জীবন ছিল আর্থিক ও পারিবারিক নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। এমন পরিস্থিতিতেও অরোরার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় অরোরা একটি পরামর্শদাতা কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হন। সেখানেই তার পরিচয় হয় মোনা হ্যাম্বির সঙ্গে। ধীরে ধীরে হ্যাম্বি শুধু তার শিক্ষাজীবনের পরামর্শদাতা নন, অরোরার জীবনে একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিতে পরিণত হন। চশমা কেনা, চুল কাটানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন দৈনন্দিন বিষয়েও তিনি অরোরাকে সহযোগিতা করতেন। এমনকি অরোরার জন্য গ্রীষ্মকালীন শিবিরে যাওয়ার সুযোগও তৈরি করে দেন তিনি।
অরোরার মেধা ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ প্রথম দেখাতেই হ্যাম্বির নজরে আসে। হ্যাম্বি জানিয়েছিলেন, অরোরা ছোটবেলা থেকেই প্রচুর বই পড়ত। তার প্রিয় ব্যক্তিত্বদের একজন ছিলেন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেত্রী রোজা পার্কস। অরোরার এই আগ্রহ দেখে হ্যাম্বি বুঝতে পারেন, মেয়েটির মধ্যে বড় কিছু করার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুধু পড়াশোনাতেই নয়, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমেও অরোরা নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন। তিনি মাদকবিরোধী বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার পান এবং একটি বৃত্তিও অর্জন করেন। পরে Conroe High School থেকে ২০২৩ সালে অত্যন্ত ভালো ফল নিয়ে স্নাতক হন। তিনি পুরো স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্ন অবশ্য অরোরার হঠাৎ তৈরি হয়নি। ২০২২ সালের মার্চে মোনা হ্যাম্বির সঙ্গে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন। সেই সফর তার মনে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পড়ার ইচ্ছা আরও দৃঢ় করে। এরপর থেকেই হার্ভার্ডে পড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে থাকেন তিনি।
হার্ভার্ডে ভর্তির আবেদনপত্রের প্রবন্ধে নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতাকেই সামনে আনেন অরোরা। তার আবেদনের প্রথম বাক্য ছিল, ‘আমি কারাগারে জন্মেছি।’ নিজের অতীতকে লুকিয়ে না রেখে সেটিকেই তিনি জীবনের গল্পের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই আবেদনপত্র তৈরিতে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকও তাকে সহায়তা করেছিলেন।
২০২৩ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, অরোরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান এবং পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে সেখানে পড়ার প্রস্তুতি নেন। তার লক্ষ্য ছিল আইন নিয়ে পড়াশোনা করা। তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর।
অরোরার গল্পে মোনা হ্যাম্বির ভূমিকা বিশেষভাবে উঠে এসেছে। ছোটবেলায় অরোরার জীবনে যে ধরনের সহায়তা ও দিকনির্দেশনার প্রয়োজন ছিল, হ্যাম্বি তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অরোরাও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তার পরামর্শদাতার অবদানের কথা স্বীকার করেছেন। হ্যাম্বির সঙ্গে সম্পর্ককে তিনি নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখেন।
অরোরার জীবনের গল্প তাই শুধু একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ঘটনা নয়। জন্মের পরিস্থিতি, পারিবারিক অনিশ্চয়তা কিংবা শৈশবের সীমাবদ্ধতা একজন মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না, তার পথচলা সেই কথাটিই সামনে আনে। একজন অভিভাবকের চেষ্টা, একজন পরামর্শদাতার সহায়তা এবং নিজের অধ্যবসায় কীভাবে একটি শিশুর সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে পারে, অরোরার গল্প তারও একটি উদাহরণ।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অরোরার হার্ভার্ডে ভর্তি ও পূর্ণ বৃত্তি পাওয়ার তথ্য মূলত ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে প্রকাশিত। সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের নির্ভরযোগ্য সূত্রে তার বর্তমান শিক্ষাবর্ষ বা হার্ভার্ডে আইন পড়ার বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করা যায়নি। তাই তাকে বর্তমানে হার্ভার্ডের আইন শিক্ষার্থী হিসেবে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করার বদলে ২০২৩ সালে হার্ভার্ডে আইন পড়ার জন্য পূর্ণ বৃত্তি পাওয়ার তথ্যই যাচাই করা অবস্থায় বলা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোশাকের একটি ছবি ও ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও শুরু হয়েছে ‘ডায়াপার’ পরার গুঞ্জন। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের পেছন দিকের পোশাকে অস্বাভাবিক আকৃতি দেখা যাচ্ছে দাবি করে অনেকে নানা মন্তব্য করেন। তবে ট্রাম্প প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার ব্যবহার করেন, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ভিডিওতে একটি অনুষ্ঠানের পর ট্রাম্পকে হেঁটে চলে যেতে দেখা যায়। এ সময় তার স্যুটের নিচের অংশের আকৃতি নিয়ে কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী প্রশ্ন তোলেন। কারও কারও দাবি, পোশাকের নিচে একটি চৌকো ধরনের ফোলা অংশ দেখা যাচ্ছে। এক্সে ব্রায়ান ক্রাসেনস্টেইন নামের এক ব্যবহারকারী ট্রাম্পের পেছনের দিকের পোশাকের আকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার পোস্টের পরপরই মন্তব্যের ঝড় ওঠে। ট্রাম্পের সমর্থকদের অনেকে এমন মন্তব্যের সমালোচনা করেন এবং প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত শারীরিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করাকে অশোভন বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, কিছু ব্যবহারকারী ছবিতে দেখা আকৃতিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে দাবি করেন। কেউ কেউ সরাসরি ‘ডায়াপার’ ব্যবহারের প্রসঙ্গ তোলেন। তবে এসব মন্তব্য মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুমান ও ব্যঙ্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কোনো চিকিৎসা নথি, সরকারি বিবৃতি বা নির্ভরযোগ্য সূত্র এসব দাবিকে সমর্থন করেনি। ট্রাম্পকে ঘিরে এমন গুঞ্জন অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের এপ্রিলেও তাঁর ‘৬০ মিনিটস’ সাক্ষাৎকারের পর একই ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছিল। সিবিএসের অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নোরাহ ও’ডনেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ট্রাম্পের স্যুটের পেছনের দিকে একটি ফোলা অংশ দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন কিছু দর্শক। পরে সেই দৃশ্যের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে সেটিকে প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার বলে অনুমান করেন। তবে ওই সময়ও দাবিটির পক্ষে কোনো যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ পোশাকের ভাঁজ, স্যুটের কাটিং, শরীরের ভঙ্গি কিংবা নিরাপত্তা সরঞ্জামের মতো বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণের কথা বলেন। অর্থাৎ একটি ছবিতে দেখা আকৃতি থেকেই ট্রাম্পের স্বাস্থ্য বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। মে মাসে আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারিতে মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের অংশগ্রহণের ছবিকে ঘিরেও একই ধরনের আলোচনা হয়েছিল। তাঁর যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা মার্গো মার্টিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশ করার পর কিছু ব্যবহারকারী ট্রাম্পের স্যুটের আকৃতি নিয়ে মন্তব্য করেন এবং আবারও ডায়াপার ব্যবহারের দাবি তোলেন। কিন্তু সেই দাবিরও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। জুলাই মাসেও একই ধরনের গুঞ্জন ছড়ায়। ট্রাম্পের সহযোগী নাটালি হার্পকে একটি বড় কালো ব্যাগ হাতে তাঁর পেছনে দেখা যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারী সেটিকে কথিত ‘ডায়াপার ব্যাগ’ বলে দাবি করেন। পরে এসব পোস্ট নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও ট্রাম্পের ডায়াপার ব্যবহারের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি হার্প যে কোনো ধরনের চিকিৎসা বা পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছেন, এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া এসব গুঞ্জনের পেছনে মূলত ছবি ও ভিডিওর নির্দিষ্ট কিছু অংশকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীদের অনুমান কাজ করছে। বিশেষ করে স্যুট পরা অবস্থায় তাঁর বসা বা হাঁটার সময় পোশাকের আকৃতি নিয়ে নানা ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো ছবির দৃশ্যমান আকৃতি থেকে চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি নয়। এ ধরনের গুঞ্জন নিয়ে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য সম্পর্কেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়েছে। তবে চলতি বছরের এপ্রিল ও জুলাইয়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার ব্যবহারের অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি বা যাচাই করা চিকিৎসা প্রমাণ নেই। সম্প্রতি জীবনীকার মাইকেল উলফও ট্রাম্পের ডায়াপার ব্যবহারের দীর্ঘদিনের গুঞ্জন নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাকে প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়, কিন্তু তিনি এমন দাবির কোনো ভিত্তি দেখেননি। একই সঙ্গে ট্রাম্পের যোগাযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে উলফের বক্তব্য ও তার বিশ্বাসযোগ্যতার সমালোচনা করা হয়েছে। ফলে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ছবিকে ঘিরে আলোচনা থাকলেও ট্রাম্প সত্যিই ডায়াপার ব্যবহার করছেন কি না, তা নিশ্চিত করার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্য ও অনুমানকে তাই প্রমাণিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসায় নতুন নিয়ম: ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বাতিল হচ্ছে ‘আনলিমিটেড স্টে’ সুবিধা
টেক্সাসের কারাগারে জন্ম, মায়ের যত্ন ছাড়াই বেড়ে ওঠা, সেই তরুণী পেলেন হার্ভার্ডে আইন নিয়ে পড়ার ফুল স্কলারশিপ
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত ইন্ডিয়ানা, প্রাণহানি বেড়ে ৬, বিদ্যুৎহীন দেড় লাখ মানুষ
খুব শিগগিরই হয়তো সাধারণ চুইংগাম চিবানোর মতোই ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব হবে। বিজ্ঞানীরা এমন এক ধরনের বিশেষ চুইংগাম তৈরি করেছেন, যা ওরাল বা মুখের ক্যানসারের জন্য দায়ী তিনটি জীবাণুকে আক্রমণ করতে সক্ষম। এর মধ্যে রয়েছে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস বা এইচপিভি, যা যৌনবাহিত সবচেয়ে সাধারণ একটি সংক্রমণ। লালারসের নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই চুইংগামটি ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত ভাইরাস ধ্বংস করতে কার্যকর। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া স্কুল অব ডেন্টাল মেডিসিন-এর অধ্যাপক হেনরি ড্যানিয়েলের নেতৃত্বে একদল গবেষক এমন একটি অ্যান্টিভাইরাল বা ভাইরাসরোধী প্রোটিনের সন্ধানে কাজ শুরু করেছিলেন, যা বিভিন্ন ভাইরাসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেগুলোকে ধ্বংস করতে পারে। গবেষণায় তারা দেখতে পান, হায়াসিন্থ বিন বা ল্যাবলাব বিনে 'এফআরআইএল' (FRIL) নামের এক ধরনের প্রোটিন রয়েছে। এই প্রোটিন ভাইরাসগুলোকে একত্রে জমাট বাঁধতে বাধ্য করে, যার ফলে এগুলো সুস্থ মানবকোষে প্রবেশ করতে পারে না। শুধু তাই নয়, এই প্রোটিন আগে থেকেই কোষে প্রবেশ করা ভাইরাসগুলোকেও আটকে দিতে পারে, যা সংক্রমণকে আরও ছড়াতে বাধা দেয়। সংবাদমাধ্যমকে অধ্যাপক ড্যানিয়েল জানান, তারা মুখের ভেতরে থাকা অন্তত পাঁচটি ভিন্ন ধরনের ভাইরাস নিস্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছেন। অধ্যাপক ড্যানিয়েলের মতে, এই চুইংগামে ভাইরাস ধ্বংস করার জন্য ঠিক যতটুকু বিন পাউডার বা শিমের গুঁড়া প্রয়োজন, তা ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি তৈরি করতে মাত্র কয়েক পয়সা খরচ পড়ে। অত্যন্ত সুলভ মূল্যে এটি তৈরি করা সম্ভব হওয়াই এই উদ্ভাবনের সবচেয়ে বড় সুবিধা। তিনি আরও জানান, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য তাদের দলটি এখন মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদনের পর সরাসরি মানুষের ওপর এই চুইংগামের পরীক্ষা চালানো হবে। এই ট্রায়ালটি চার সপ্তাহ ধরে চলবে, যেখানে রোগীদের দিনে তিনবার চুইংগামটি চিবানোর নির্দেশ দেওয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই চুইংগামটি ক্যানসারের প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি, যেমন রেডিয়েশন থেরাপি ও সার্জারির পাশাপাশি একটি সহায়ক থেরাপি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ড্যানিয়েলের আশা, ভবিষ্যতে এটি চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই সাধারণ ওষুধের দোকানে পাওয়া যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাদের লক্ষ্য রোগীদের প্রচলিত ও প্রাকৃতিক চিকিৎসার মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা নয়; বরং এই প্রাকৃতিক চিকিৎসার উদ্দেশ্য হলো ক্যানসারের পেছনে থাকা জীবাণু বা মাইক্রোবায়োমগুলোকে নির্মূল করা।
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার স্কুলে অভিনব নিয়ম, মাকে চুমু না খেলে মিলবে না স্কুলে প্রবেশের অনুমতি
নিউইয়র্কে ৫ মাসে জানালা থেকে পড়েছে ৪ শিশু, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে মেয়র মামদানি
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে একই ফ্লাইট নম্বরে মুখোমুখি দুই বিমান, অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা ঠেকালেন কন্ট্রোলার
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসী বিতাড়ন কর্মসূচির বিস্তৃতির মধ্যেই ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা অভিবাসন শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি (ডিএনসি)। শনিবার টেক্সাসের অস্টিনে অনুষ্ঠিত ডিএনসি-এর গ্রীষ্মকালীন বৈঠকে ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতাদের প্রতি এই আহ্বান জানানো হয়। তবে একই বৈঠকে সংস্থাটি সংস্কারের পক্ষেও আরেকটি আলাদা প্রস্তাব পাস হয়েছে, যা আইসিই বিলুপ্তি নাকি শুধুই সংস্কার তা নিয়ে দলের ভেতরের চলমান মতভেদকেই সামনে এনেছে। আইসিই বিলুপ্তির এই প্রস্তাবে কেবল সংস্কারের দাবিই জানানো হয়নি; বরং কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের এমন আইন পাসের আহ্বান জানানো হয়েছে, যা আইসিই-কে পুরোপুরি বিলুপ্ত করবে। পাশাপাশি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন বা অভিবাসী আটক ব্যবস্থা ধীরে ধীরে বন্ধ করা, নির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রম বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) তহবিল সীমিত করা এবং বেসরকারি ডিটেনশন প্রোভাইডারদের সঙ্গে সব ধরনের চুক্তি বাতিলেরও জোর দাবি জানানো হয়েছে এতে। ২০২৬ সালের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অভিবাসন নীতি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে অন্যতম বিতর্কিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। দলের বেশ কয়েকজন প্রার্থী আইসিই-এর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সমালোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে দলের নীতিনির্ধারকরা এই ইস্যুতে কতটা কঠোর অবস্থানে যাওয়া উচিত, তা নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত; কারণ সাধারণত এই ধরনের বিষয়ে রিপাবলিকানরা ভোটারদের কাছে বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে। ডিএনসি চেয়ারম্যান কেন মার্টিন এই প্রসঙ্গে বলেন, দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রতি চার বছর অন্তর কনভেনশনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। তবে অভিবাসন ইস্যুতে বর্তমান প্রশাসনের বিতর্কিত পদক্ষেপের বিরোধিতায় সব ডেমোক্র্যাট যে ঐক্যবদ্ধ, তা জোরালোভাবে উল্লেখ করেন তিনি।
২০২৮ নির্বাচনে মিশেল ওবামা-এওসিকে পেছনে ফেলে তরুণ ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ পছন্দ কমলা হ্যারিস
ডেটা সেন্টারে লাখ ডলারের চাকরির জোয়ার, শ্রমিক সংকটে হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাত