- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের তুলসা শহরের বিশপ কেলি হাই স্কুলে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথম দিনটি একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে। নবীনরা যখন তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে স্কুলে পৌঁছায়, তখন সিনিয়র শিক্ষার্থীরা তাদের গাড়ি ঘিরে ফেলে। নিয়ম হলো, যতক্ষণ না নবীনরা তাদের মা, বাবা বা অভিভাবকের গালে চুমু খেয়ে বিদায় না জানাচ্ছে, ততক্ষণ তাদের গাড়ি থেকে নামতে দেওয়া হয় না। প্রকাশ্যে বাবা-মাকে এভাবেই ধন্যবাদ জানানোর এই অদ্ভুত ও কিছুটা অস্বস্তিকর রীতিটি গত ২৬ বছর ধরে স্কুলটিতে চলে আসছে। স্কুলের প্রেসিডেন্ট সিস্টার মেরি হানাহ জানান, ২০০১ সালের আগে নবীনদের স্বাগত জানানোর এই রীতিটি মূলত র্যাগিং বা প্র্যাঙ্ক-নির্ভর ছিল। কিন্তু সে বছর তৎকালীন সিনিয়র ব্যাচ সিদ্ধান্ত নেয়, তারা নবীনদের সঙ্গে আরেকটু সদয় আচরণ করবে, তবে একইসঙ্গে তাদের কিছুটা অস্বস্তিতেও ফেলবে। সেই থেকেই এই 'গুডবাই কিস' বা বিদায়ী চুমুর প্রথা শুরু। সিস্টার মেরি হানাহ স্বীকার করেন, তিনি নিজেও হয়তো নবীন হিসেবে এমন পরিস্থিতিতে অস্বস্তি বোধ করতেন। তবে বাইবেলে বাবা-মাকে সম্মান করার যে কথা বলা আছে, এই প্রথাটি তারই একটি সুন্দর প্রতিফলন বলে মনে করেন তিনি। এই রীতিটি নবীনদের জন্য কিছুটা লজ্জাজনক হলেও বাবা-মায়ের জন্য এটি এক দারুণ আবেগের মুহূর্ত। সিস্টার মেরির মতে, এই আয়োজনে সবচেয়ে বেশি খুশি হন মায়েরাই। বিশেষ করে এটি যদি তাদের প্রথম বা ছোট সন্তানের স্কুলে যাওয়ার প্রথম দিন হয়, তবে আনন্দটা আরও বেড়ে যায়। একজন অভিভাবক তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, সন্তান যখন তাকে চুমু খেয়ে বিদায় নিয়ে স্কুলের দিকে এগিয়ে যায়, তখনই তিনি উপলব্ধি করেন যে সন্তান বড় হচ্ছে এবং তাকে ছেড়ে দেওয়ার সময় এসেছে। বাবা-মা ও সন্তানের এই মধুর সম্পর্কের মুহূর্তটি উদযাপন করতেই শত শত সিনিয়র শিক্ষার্থী প্রতি বছর উল্লাসের মধ্য দিয়ে এই আয়োজনে মেতে ওঠে।
নিউইয়র্ক সিটিতে গত পাঁচ মাসে জানালা থেকে চারজন শিশুর পড়ে যাওয়ার মতো ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির পর কিছু রাজনীতিক নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে 'অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক নাটক' বাদ দিয়ে শহরের সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের মৌলিক সমস্যাগুলোর দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই চার শিশুই ওপর থেকে পড়ে যাওয়ার পরও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছে। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার দ্য ব্রঙ্কস এলাকার বুচানান প্লেসে। পুলিশ জানিয়েছে, জুলাই মাসে ৫ বছরে পা দেওয়া ডিলান মোকুয়েটে নামের এক শিশু তার অ্যাপার্টমেন্টের পাঁচতলার জানালা থেকে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনার এক দিন আগে ওই শিশুর মা ডমিনিকান রিপাবলিকের উদ্দেশে রওনা হন এবং ২২ বছর বয়সী বোনের তত্ত্বাবধানে শিশুটি ছিল। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বোন যখন রান্নাঘরে ব্যস্ত ছিলেন, তখন ডিলান বিছানা থেকে উঠে জানালা দিয়ে বাইরে হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে ৫০ ফুট নিচে ফুটপাতে পড়ে যায়। বর্তমানে সে নিউইয়র্ক-প্রেসবিটারিয়ান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পারিবারিক এক বন্ধুর ভাষ্যমতে, শিশুটির শরীরের বেশ কিছু হাড় ভেঙে গেলেও সৌভাগ্যবশত কোনো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং নিচে আবর্জনার স্তূপ থাকায় সেটি কিছুটা কুশনের মতো কাজ করেছে, যার ফলে সে এখন বিপদমুক্ত। তবে জানালায় গার্ড বা প্রতিরক্ষামূলক গ্রিল সঠিকভাবে লাগানো না থাকার কারণেই শিশুটি বাইরে চলে আসতে পেরেছিল বলে দাবি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওই অ্যাপার্টমেন্টের কোনো জানালাই শহরের ৫০ বছর পুরোনো আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। আইন অনুযায়ী, যেসব অ্যাপার্টমেন্টে ১০ বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে এবং জানালাগুলো জরুরি নির্গমনের পথ নয়, সেগুলোতে অবশ্যই উইন্ডো গার্ড থাকতে হবে। কিন্তু ডিলানদের ওই জানালাগুলোতে গার্ডের ফাঁকা অংশ ৪.৫ ইঞ্চির বেশি থাকায় তা আইনসম্মত ছিল না। এ ছাড়া গত ৬ এপ্রিল মরিসানিয়ায় অটিজমে আক্রান্ত ৫ বছরের এক শিশু তিনতলার জানালা থেকে পড়ে যায়। ২৭ মে কুইন্সের গ্লেনডেলে ৩ বছরের একটি মেয়ে দোতলার জানালা থেকে পড়ে যায় এবং ১৭ জুলাই মট হ্যাভেনে ১ বছরের এক ছেলে শিশু পাঁচতলার জানালা থেকে নিচে পড়ে যায়। এই ঘটনাগুলোর পর শহরের ‘হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (HPD)’ গত ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরে—যার মধ্যে মেয়র মামদানির প্রশাসনের প্রথম ছয় মাসও অন্তর্ভুক্ত—উইন্ডো-গার্ডের নিয়ম লঙ্ঘনের অন্তত ৫,৮৬৮টি নোটিশ জারি করেছে। যদিও আগের অর্থবছরে এই নিয়ম ভঙ্গের সংখ্যা ছিল ৭,০৪৫টি। কুইন্সের ডেমোক্র্যাট দলীয় সিটি কাউন্সিলম্যান ফিল ওং এই পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে চারটি শিশুর জানালা থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি অবিলম্বে বিদ্যমান উইন্ডো-সেফটি আইনগুলোর সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে মেতে না থেকে প্রশাসনকে শহরের প্রাত্যহিক সমস্যাগুলো সমাধানে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অন্যদিকে কুইন্সের রিপাবলিকান কাউন্সিলওম্যান জোয়ান আরিওলা মনে করিয়ে দেন যে, মেয়র মামদানি ভাড়াটেদের জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। কিন্তু গত আট মাস ধরে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে নিয়ে কথা বলা এবং আগের প্রশাসনের কাজের কৃতিত্ব নিতেই ব্যস্ত ছিলেন। তবে সিটি হেলথ ডিপার্টমেন্টের দাবি, গত পাঁচ বছরের তুলনায় এ বছর জানালা থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা বাড়েনি এবং গত অর্ধশতক ধরে শহরের উইন্ডো গার্ড আইন অগণিত মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিনিক্সে একই ফ্লাইট নম্বর নিয়ে আকাশে ওড়া আমেরিকান এয়ারলাইনসের দুটি বিমানের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ অল্পের জন্য এড়ানো সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতের পর অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স স্কাই হারবার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশে এই ঘটনা ঘটে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও পেশাদারিত্বের কারণে দুই বিমানের যাত্রীরা নিশ্চিত দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। জানা গেছে, ‘আমেরিকান ২৪৮২’ নম্বরের একটি ফ্লাইট শিকাগো থেকে ফিনিক্সে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে শিকাগো থেকে ওই বিমানটির রওনা হতে কিছুটা দেরি হয়। অন্যদিকে, ফিরতি ফ্লাইটের সময় ঠিক রাখতে আমেরিকান এয়ারলাইনস ফিনিক্স থেকে শিকাগো যাওয়ার জন্য একই ফ্লাইট নম্বরে অন্য একটি বিমানকে উড্ডয়নের ব্যবস্থা করে। এর ফলে আকাশে একই সময়ে ‘আমেরিকান ২৪৮২’ কল সাইন যুক্ত দুটি যাত্রীবাহী বিমান একে অপরের কাছাকাছি চলে আসে। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি প্রথম টের পান দায়িত্বে থাকা ২৫ বছরের অভিজ্ঞ এক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার। তিনি বুঝতে পারেন, কেবল ফ্লাইট নম্বর ধরে নির্দেশ দিলে দুই পাইলটই বিভ্রান্ত হতে পারেন এবং মাঝ-আকাশে বিমান দুটির মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিমান দুটিকে ‘অ্যারাইভাল’ (অবতরণকারী) এবং ‘ডিপারচার’ (উড্ডয়নকারী) হিসেবে আলাদা করে নির্দেশ দিতে শুরু করেন। তার এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার কারণে উড্ডয়নকারী বিমানটি নির্দিষ্ট উচ্চতার নিচে অবস্থান করে এবং অবতরণকারী বিমানটি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলে যায়। বিপদ কেটে যাওয়ার পর এক পাইলট রেডিওবার্তায় ওই কন্ট্রোলারকে দারুণ কাজের জন্য ধন্যবাদ জানান। জবাবে ওই কন্ট্রোলার বলেন, "এটি একটি ভয়াবহ বিপর্যয় হতে পারত, তবে শেষ পর্যন্ত সব ঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আমি আনন্দিত।" তিনি আরও জানান, তার দীর্ঘ ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে একই কল সাইন নিয়ে দুটি বিমানকে এভাবে কাছাকাছি হতে তিনি আগে কখনও দেখেননি। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ারলাইন্সের ডিসপ্যাচ সেন্টারের ভুলের কারণেই এমনটা ঘটেছে। এই গুরুতর ভুলের কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং আমেরিকান এয়ারলাইন্স।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসী বিতাড়ন কর্মসূচির বিস্তৃতির মধ্যেই ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা অভিবাসন শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি (ডিএনসি)। শনিবার টেক্সাসের অস্টিনে অনুষ্ঠিত ডিএনসি-এর গ্রীষ্মকালীন বৈঠকে ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতাদের প্রতি এই আহ্বান জানানো হয়। তবে একই বৈঠকে সংস্থাটি সংস্কারের পক্ষেও আরেকটি আলাদা প্রস্তাব পাস হয়েছে, যা আইসিই বিলুপ্তি নাকি শুধুই সংস্কার তা নিয়ে দলের ভেতরের চলমান মতভেদকেই সামনে এনেছে। আইসিই বিলুপ্তির এই প্রস্তাবে কেবল সংস্কারের দাবিই জানানো হয়নি; বরং কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের এমন আইন পাসের আহ্বান জানানো হয়েছে, যা আইসিই-কে পুরোপুরি বিলুপ্ত করবে। পাশাপাশি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন বা অভিবাসী আটক ব্যবস্থা ধীরে ধীরে বন্ধ করা, নির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রম বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) তহবিল সীমিত করা এবং বেসরকারি ডিটেনশন প্রোভাইডারদের সঙ্গে সব ধরনের চুক্তি বাতিলেরও জোর দাবি জানানো হয়েছে এতে। ২০২৬ সালের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অভিবাসন নীতি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে অন্যতম বিতর্কিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। দলের বেশ কয়েকজন প্রার্থী আইসিই-এর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সমালোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে দলের নীতিনির্ধারকরা এই ইস্যুতে কতটা কঠোর অবস্থানে যাওয়া উচিত, তা নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত; কারণ সাধারণত এই ধরনের বিষয়ে রিপাবলিকানরা ভোটারদের কাছে বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে। ডিএনসি চেয়ারম্যান কেন মার্টিন এই প্রসঙ্গে বলেন, দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রতি চার বছর অন্তর কনভেনশনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। তবে অভিবাসন ইস্যুতে বর্তমান প্রশাসনের বিতর্কিত পদক্ষেপের বিরোধিতায় সব ডেমোক্র্যাট যে ঐক্যবদ্ধ, তা জোরালোভাবে উল্লেখ করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তরুণ ভোটারদের পছন্দের তালিকায় সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস সবার শীর্ষে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘অ্যাক্সিওস-জেনারেশন ল্যাব’-এর এক যৌথ জনমত জরিপে দেখা গেছে, তরুণ ডেমোক্র্যাটদের পছন্দে সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা এবং কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজকে (এওসি) পেছনে ফেলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন হ্যারিস। গত ২৯ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ১ হাজার ৭৫ জন মার্কিন তরুণের ওপর এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, তরুণ ডেমোক্র্যাটদের ২৮ দশমিক ৭ শতাংশের সমর্থন পেয়ে শীর্ষে রয়েছেন কমলা হ্যারিস, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা মিশেল ওবামার (১৪ দশমিক ৯ শতাংশ) সমর্থনের প্রায় দ্বিগুণ। অন্যদিকে, নিউ ইয়র্কের প্রভাবশালী প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজ ১১ দশমিক ৭ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। যদিও এই তিনজনের কেউই এখনো ২০২৮ সালের নির্বাচনে লড়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। তবে স্বতন্ত্র তরুণ ভোটারদের পছন্দের তালিকায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন মিশেল ওবামা এবং ৯ দশমিক ২ শতাংশ পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ওকাসিও-করতেজ। অন্যদিকে তরুণ রিপাবলিকানদের মধ্যে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ সমর্থন পেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। জরিপটিতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সার্বিক মার্কিন রাজনীতি ও অর্থনীতির বিষয়ে তীব্র অসন্তোষের চিত্রও ফুটে উঠেছে। অংশগ্রহণকারী তরুণদের ৬৬ শতাংশই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং ৯৬ শতাংশ তরুণ বাড়িভাড়া, মুদিপণ্য ও ইউটিলিটি বিলসহ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। এমনকি নিত্যপণ্যের দাম কমানোর প্রশ্নে ডেমোক্র্যাট কিংবা রিপাবলিকান—কোনো দলের প্রতিই ভরসা পাচ্ছেন না সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ তরুণ। জেনারেশন ল্যাবের প্রধান নির্বাহী সাইরাস বেশলস তরুণদের এমন মনোভাবকে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর চরম হতাশার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে অর্থনৈতিক এই অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক ক্ষোভের মাঝেও তরুণ ডেমোক্র্যাটদের এমন জোরালো সমর্থন ২০২৮ সালের হোয়াইট হাউস লড়াইয়ে কমলা হ্যারিসকে আবারও সুবিধাজনক অবস্থানে রাখছে।
কাতারে গত ছয় মাস ধরে তিন ইরানি সামরিক পাইলট বন্দি রয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’। বন্দি এসব পাইলটকে তাদের পরিবারের সদস্য কিংবা কোনো ইরানি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ইরান ইন্টারন্যাশনালের বরাতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। ইরানি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে কাতারের একটি সামরিক ঘাঁটিতে অভিযান চালানোর সময় ইরানের রুশ নির্মিত সুখোই সু-২৪ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়। তেহরানের দাবি, ওই সময় তারা কাতারের একটি ‘শত্রু সামরিক ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছিলেন। এরপরই ওই তিন পাইলট কাতারি বাহিনীর হাতে আটক হন। নিখোঁজ এই পাইলটদের নাম জাভাদ সালেহি, আবদোলমাজিদ দাশতিয়ান ও ওমরান বেহরাভেশিয়ান। তাদের মুক্তিতে সহায়তা চেয়ে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রেসিডেন্ট মিরজানা স্পোলিয়ারিচ এগারের কাছে ইতোমধ্যে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিখোঁজ সদস্যবিষয়ক কমিটির প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, আটকের পর থেকে এখন পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে ওই তিন পাইলটকে কারও সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই আটকের বিষয়ে কাতারি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে মাজিদ কাজেমি নামে আরেক ইরানি পাইলটকে কাতারের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি সামরিক অভিযানের পর দেশে ফিরিয়ে আনার কথা জানিয়েছিলেন ইরানি কর্মকর্তারা। এদিকে, তিন ইরানি পাইলটের বন্দি থাকার এই খবর এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে তেহরান ও দোহার মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ চলছে। শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করছে ইরান। যদিও একে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মার্কিন-ইরান কূটনৈতিক তৎপরতার এই আবহে পাইলটদের দীর্ঘ সময় বন্দি থাকার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ব্লু-কলার বা কায়িক শ্রমের পেশাগুলোতে নতুন করে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং সম্প্রতি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, ভবিষ্যতের লাখ ডলারের চাকরিগুলো সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে নয়, বরং এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণের কাজ থেকেই আসবে। বর্তমানে এসব সুবিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণে লাখ লাখ ইলেক্ট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, নির্মাণকর্মী ও সুপারভাইজারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যেখানে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ছাড়াই বছরে এক লাখ ডলারের বেশি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তির এই নতুন জোয়ার কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি করলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাতের জন্য বড় ধরনের সংকট ডেকে আনছে। মেটা, অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, ডেটা সেন্টারের নির্মাণকাজে যোগ দিয়ে শ্রমিকরা আগের চেয়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বা তারও বেশি বেতন পাচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, একজন সাধারণ সুপারভাইজার বা ইলেক্ট্রিশিয়ান এখন বছরে এক থেকে দুই লাখ ডলার পর্যন্ত আয় করছেন। ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন ফাউন্ডেশনের মতে, শুধু এই বছরেই খাতটিতে প্রায় ৪ লাখ ৩৯ হাজার কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ বাড়ি নির্মাতাদের পক্ষে এত উচ্চ মূল্যে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, আবাসন নির্মাণে শ্রমিকের তীব্র সংকট ও ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন বাড়ি তৈরির সময়সীমা দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রিয়েল্টর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জোয়েল বার্নার। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ বাসস্থানের ঘাটতি রয়েছে, যা এই শ্রমিক সংকটের কারণে আরও ঘনীভূত হচ্ছে। টেক্সাস ও ভার্জিনিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে ডেটা সেন্টারের সবচেয়ে বেশি কাজ চললেও জর্জিয়া, পেনসিলভানিয়া ও ওহাইওর মতো রাজ্যেও এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, বড় বড় ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য ক্রেন ও কংক্রিট পরিচালনায় দক্ষ বড় দলের প্রয়োজন হয়, যা ছোট ছোট শহরের স্থানীয় ঠিকাদারদের পক্ষে সামলানো কঠিন। ফলে বাইরের শহর থেকে আসা এই বিশাল শ্রমিকদের থাকার জন্য স্থানীয়ভাবে সাময়িক আবাসন সংকটও তৈরি হচ্ছে। যদিও দীর্ঘমেয়াদে এই উচ্চ বেতনের হাতছানি আরও বেশি মানুষকে নির্মাণ ও কারিগরি পেশায় আগ্রহী করে তুলবে বলে অনেকেই আশাবাদী, তবে স্বল্পমেয়াদে এটি আবাসন খাতের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ডেটা সেন্টারের কাজ শেষে এই কর্মীরা যদি পরবর্তীতে আবাসন খাতে ফিরে আসেন, তবেই ভবিষ্যতের এই সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে সামান্য ভুল-বোঝাবুঝির জেরে এক দম্পতি এবং তাদের পোষা কুকুরকে সরাসরি গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ভয়ংকর এক চেষ্টা চালিয়েছে এক ক্ষুব্ধ চালক। গত বুধবার সন্ধ্যায় মিড-উইলশায়ার এলাকার হ্যারল্ড এ. হেনরি পার্কের বাইরের এই লোমহর্ষক ঘটনাটি পাশ দিয়ে যাওয়া একটি উবারের ড্যাশক্যামে ধরা পড়ে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি কমলা রঙের গাড়ি পার্কের ভেতরে ঢুকে ক্ষিপ্রগতিতে ওই দম্পতিকে ধাওয়া করছে। ভুক্তভোগী নারী সেলিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি ঘাসের ওপর দিয়ে যত দূর সম্ভব পেছনের দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং ফিরে তাকিয়ে দেখেন গাড়িটি ঠিক তাদের পেছনেই ধেয়ে আসছে। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল একটি স্টপ সাইনের সামনে। রাস্তা পার হওয়ার সুবিধার জন্য ওই দম্পতি চালককে আগে চলে যাওয়ার ইশারা করেছিলেন। সেলিন জানান, তারা ফোনে কথা বলায় কিছুটা অমনোযোগী ছিলেন এবং ভেবেছিলেন চালক হয়তো তার পথেই চলে যাবেন। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে চালক চিৎকার করে বলে ওঠেন, "কী, তোমরা কি ইংরেজি বলতে পারো না?" এরপরই চালক তার গাড়িটি সরাসরি তাদের দিকে ঘুরিয়ে দেন। ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, স্টপ সাইন থেকে গাড়িটি হঠাৎ বাঁক নিয়ে ঘাসের ওপর দিয়ে দম্পতির দিকে তেড়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পার্কের ফুটপাত পেরিয়ে দ্রুতবেগে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী পুরুষ লোগান জানান, গাড়িটি যখন তাদের দিকে ধেয়ে আসছিল, তখন তিনি তাদের পোষা কুকুর অলিভকে কোনোমতে টেনে সরিয়ে নেন এবং একেবারে অল্পের জন্য তারা প্রাণে রক্ষা পান। তিনি বলেন, "পুরো ঘটনাটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটলেও, এটি আমাদের জীবনের অন্যতম ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতা।" পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই ক্ষুব্ধ চালক তাদের উদ্দেশ করে ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলে, "এখন নিশ্চয়ই ভয়ে কাঁপছ, তাই না?" পার্কে উপস্থিত অন্যান্য দর্শনার্থীরাও এই ভয়াবহ দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন। সেকোইয়া হাগি নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি ওই দম্পতিকে পার্কের দিকে প্রাণভয়ে ছুটতে দেখেন এবং গাড়িটিকে পাগলের মতো ধেয়ে এসে পরক্ষণেই পালিয়ে যেতে দেখেন। এই ঘটনায় লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগে (এলএপিডি) অভিযোগ দায়ের করেছে আতঙ্কিত ওই দম্পতি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত তদন্তের কোনো আপডেট জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ইন্ডিয়ানায় কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে হোয়াইট নদীর পানি উপচে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। নদীর পানির স্তর অতীতের সব মাত্রা ছাড়িয়ে এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগের রেকর্ড ভেঙে দেওয়ায় মধ্য ইন্ডিয়ানাজুড়ে নজিরবিহীন বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় আটকে পড়া বহু মানুষকে তাদের পোষা প্রাণীসহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই বন্যাকে ‘জীবদ্দশায় একবার ঘটার মতো নজিরবিহীন দুর্যোগ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইন্ডিয়ানাপোলিসের মেয়র জো হগসেট স্থানীয় জরুরি অবস্থা জারি করে বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে বন্যা পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর মাইক ব্রন প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণার অনুরোধ জানিয়েছেন। বন্যায় এ পর্যন্ত অন্তত দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ডেলাওয়্যার কাউন্টিতে বন্যার পানির মধ্য দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় ৫৮ বছর বয়সী এক নারী মারা যান। এছাড়া মিসিসিনেওয়া নদীতে নিখোঁজ হওয়া পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ বছর বয়সী নবীন শিক্ষার্থী ম্যাথিউ মোরির মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় শেরিফ দপ্তর। বন্যার পানির কারণে ইয়র্কটাউন পাবলিক লাইব্রেরিসহ বেশ কিছু অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ডারসন শহরে হোয়াইট নদীর পানির উচ্চতা ২৫ ফুটের কাছাকাছি পৌঁছে ১৯১৩ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকায় উদ্ধারকাজে সহযোগিতার জন্য মার্কিন ন্যাশনাল গার্ডের বিশেষ যানবাহন মোতায়েন করা হয়েছে। ইন্ডিয়ানাপোলিস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, শনিবার দুপুর পর্যন্ত অন্তত ৭০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস ওই অঞ্চলে নতুন করে বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস দিয়ে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি রেখেছে, ফলে পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান ছয় মাসের যুদ্ধে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে ‘হাঁটু গেড়ে বসতে’ বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ ভাহিদি। শনিবার প্রকাশিত এক বার্তায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই সামরিক কার্যক্রম প্রমাণ করেছে যে বিশ্বকে শাসন ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা ইসলামের রয়েছে। আইআরজিসির পাশাপাশি ইরানের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বাসিজ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি আরও দাবি করেন, তাদের এই সামরিক প্রতিরোধ বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের সামনে ‘বিদ্রোহের দরজা’ খুলে দিয়েছে। তবে আইআরজিসি প্রধানের এই দম্ভোক্তির সঙ্গে মার্কিন সামরিক মূল্যায়নের বিস্তর ফারাক রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই সংঘাতে ইরানের নৌবাহিনীর একটি বড় অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। এর পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র এবং এর উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি যুদ্ধের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি বড় অংশ নিহত হয়েছিল বলেও মার্কিন মূল্যায়নে দাবি করা হয়েছে। তবে এত বড় ধাক্কার পরও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এখনো টিকে রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পানিপথ কৌশলগত হরমুজ প্রণালির আশপাশে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিশাল নৌবহর মোতায়েন রেখেছে। ফলে সংঘাতের শুরু থেকেই এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। আহমাদ ভাহিদির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এলো, যখন দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের পাশাপাশি যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই যুদ্ধকে নিজেদের প্রতিরোধের বিরাট সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তব সামরিক ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতার বিষয়টি দুই পক্ষের দাবির মধ্যে থাকা বড় ধরনের বৈপরীত্যকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কাচ ও ধাতব পানির বোতলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বোতলগুলোকে মারামারি বা বিবাদের সময় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়েছেন অভিভাবকেরা। তাদের দাবি, এর ফলে শিশুদের বাধ্য হয়ে অস্বাস্থ্যকর প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করতে হবে, যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। হাওয়েল টাউনশিপ পাবলিক স্কুলস নামের ওই স্কুল ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষ গত বুধবার অভিভাবকদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই নিষেধাজ্ঞার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। এরপরই ক্রিস্টিন বাস্টার্ডি নামের এক ক্ষুব্ধ অভিভাবক ‘চেঞ্জ ডট অর্গ’ ওয়েবসাইটে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে একটি পিটিশন চালু করেন। ইতোমধ্যে এক হাজারেরও বেশি মানুষ এই পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন। বাস্টার্ডি তার পিটিশনে উল্লেখ করেছেন, প্লাস্টিকের বোতল থেকে পানিতে বিসফেনল এ (বিপিএ)-এর মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মিশে যেতে পারে, যা শিশুদের হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও বিকাশজনিত সমস্যা তৈরি করে। পরিবেশের ওপর প্লাস্টিকের নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরে তিনি আরও জানান, ধাতব ও কাচের বোতলগুলো পুনর্ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় তা কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে প্লাস্টিকের বোতল পরিবেশ দূষণ বাড়ায় এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলে। স্কুলের বোর্ড অব এডুকেশনের সভাপতি জেনিফার ওকারসন ও সুপারিনটেনডেন্ট জোসেফ আইসোলার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ধাতব ও কাচের বোতলগুলো ভারী ও শক্ত হওয়ায় কোনো বিবাদের সময় এগুলো ছুড়ে মারলে মারাত্মক আঘাত লাগার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের পাত্র ব্যবহার করে অতীতে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাই শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়, কোনো শিক্ষার্থীর কাছে এমন বোতল পাওয়া গেলে তা বাজেয়াপ্ত করে স্কুল অফিসে জমা রাখা হবে এবং পরে অভিভাবকদের তা এসে নিয়ে যেতে হবে। প্রি-কিন্ডারগার্টেন থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদানকারী এই স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধানে বাস্টার্ডি তার পিটিশনে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। ঢালাওভাবে বোতল নিষিদ্ধ করার বদলে নির্দিষ্ট মানদণ্ড যাচাই করে নিরাপদ ধাতব ও কাচের বোতল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অভ্যাসের গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতামূলক শিক্ষামূলক কর্মসূচি চালুরও দাবি জানিয়েছেন এই অভিভাবক।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের মেট্রো আটলান্টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে কিশোর-কিশোরীদের একত্রিত হওয়ার ঘটনাগুলো থেকে প্রায়ই গ্রেপ্তার ও কারফিউ ভঙ্গের মতো অপরাধের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আটলান্টা পাবলিক স্কুলের দুই শিক্ষার্থীর মতে, এই সমস্যার মূল কারণ একেবারেই ভিন্ন। তারা মনে করেন, কিশোরদের নিরাপদে সময় কাটানোর বা আড্ডা দেওয়ার মতো উপযুক্ত জায়গার অভাবেই এমনটা ঘটছে। এই সমস্যার সমাধানে আটলান্টা শহরের পক্ষ থেকে পাওয়া ৫০ হাজার ডলার অনুদান কাজে লাগিয়ে নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন ড্যানিয়েল ম্যাকলাফলিন থেরেল হাই স্কুলের শেষ বর্ষের ছাত্র ডেভিন মিচেল এবং মেনার্ড হোলব্রুক জ্যাকসন হাই স্কুলের শিক্ষার্থী হেইলি আরভিং। মিচেল ও আরভিংয়ের এই ধারণার শুরুটা হয়েছিল মূলত বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর একটি সাধারণ চেষ্টা থেকে। মিচেল জানান, তারা একবার আটলান্টিক স্টেশনে ঘুরতে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে যে বিকেল ৩টার পর কিশোরদের জন্য কারফিউ রয়েছে, তা তাদের জানা ছিল না। সেখান থেকে তাদের বের করে দেওয়ার পর তারা উপলব্ধি করেন যে, কিশোরদের জন্য সমাজ ও শহরের পরিসরগুলো কতটা সংকুচিত হয়ে এসেছে। আরভিং জানান, তার বড় ভাইবোনদের কোনো বাধা ছাড়াই শপিং মল বা সিনেমা হলে ঘুরতে দেখেছেন তিনি, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি এবং স্কুলের বাইরের এই ‘থার্ড স্পেস’ বা তৃতীয় পরিসরগুলো কিশোরদের জন্য ক্রমশ কমে আসছে। এই দুই শিক্ষার্থীর বিশ্বাস, কিশোর-কিশোরীদের যখন সময় কাটানোর মতো ভালো কোনো জায়গা থাকে না, তখন একঘেয়েমি থেকেই অনেক সময় তারা বিপথে পা বাড়ায়। তবে মিচেলের মতে, বিষয়টিকে কেবল বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না, বরং কিশোরদের উদ্দেশ্য এবং চারপাশের পরিবেশও বিবেচনায় নিতে হবে। নিজেদের প্রাপ্ত অনুদান দিয়ে তারা ‘দ্য স্পট’ (The Spot) নামের এমন একটি ইনডোর বা অভ্যন্তরীণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে চান, যেখানে কিশোররা নিরাপদে ও আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে সময় কাটাতে পারবে। এটি মূলত ওয়াইএমসিএ (YMCA) বা অন্যান্য সুপরিচিত আড্ডার জায়গাগুলোর একটি আধুনিক ও উদ্ভাবনী রূপ হতে যাচ্ছে। আটলান্টার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই জায়গায় কফি শপ, বাস্কেটবল কোর্ট, কাজের জায়গা এবং ব্যবসার জন্য ভাড়ায় চালিত কক্ষের সুবিধা থাকবে। কিশোরদের যাতে অন্যান্য জায়গার মতো এখানে কোনো বাধ্যবাধকতার মুখে পড়তে না হয়, সেদিকেও নজর রাখছেন তারা। আরভিং জানান, যেহেতু শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত কিশোররা বেশি বাইরে বের হয়, তাই সপ্তাহান্তে ‘দ্য স্পট’-এর কার্যক্রমের সময়সীমা বেশি থাকবে। মিচেল ও আরভিং বর্তমানে তাদের এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিনিয়োগকারীদের খুঁজছেন। আগামী শরতেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের একটি পরীক্ষামূলক মডেল (প্রুফ অব কনসেপ্ট) সবার সামনে উপস্থাপন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে ভারত ও চীনের পুরোনো সীমান্ত বিরোধ নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছে। সম্প্রতি অরুণাচলের ২৭টি স্থান ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের নতুন নামকরণ করে বেইজিংকে কড়া বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি। তবে এই পদক্ষেপের পরপরই ওই অঞ্চলে চীনা গতিবিধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গের বক্তব্যে ২০২০ সালের গলওয়ান সংঘর্ষের স্মৃতিও উঠে এসেছে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, অরুণাচল নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে এই নতুন উত্তেজনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারে। বিশেষ করে আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরের আগে এই পরিস্থিতি নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নামকরণের মূল উদ্দেশ্য অরুণাচলের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়কে আরও স্পষ্ট করা। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই মানচিত্রে এই স্থানগুলোকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে চিহ্নিত করা হয়েছে। নতুন করে চিহ্নিত এই ২৭টি স্থানের মধ্যে রয়েছে ২১টি বসতিপূর্ণ এলাকা, চারটি গিরিপথ, একটি হ্রদ ও একটি স্মৃতিস্তম্ভ। এর মধ্যে লংজু, মাজা ও বিসার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সুবনসিরি এলাকার উত্তরে অবস্থিত, যা দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের সীমান্ত বিরোধের অন্যতম স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ১৯৫৯ সাল থেকে চীনের নিয়ন্ত্রণে থাকা লংজুকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে ভারতের এই নামকরণকে নিছক প্রশাসনিক পদক্ষেপের চেয়ে বিতর্কিত এলাকায় নিজেদের অধিকার জোরালো করার কৌশল হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই চীনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে কংগ্রেস। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর পর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গেও অরুণাচল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গলওয়ানের ঘটনার পর অরুণাচল নিয়ে আবারও অস্বস্তিকর খবর সামনে আসছে। নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ভারতের টহল দেওয়ার অধিকার কমে যাচ্ছে কি না এবং বিশেষ করে শীতকালে স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতে টহলদারি কমার কারণ নিয়েও তিনি সরকারের কাছে স্পষ্ট জবাব চেয়েছেন। ২০২০ সালের মে মাসে পূর্ব লাদাখে শুরু হওয়া চরম উত্তেজনা এবং জুন মাসে গলওয়ান উপত্যকায় ২০ জন ভারতীয় সেনার নিহতের মর্মান্তিক ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কে যে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল, তা আজও পুরোপুরি মেটেনি। সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে একাধিক আলোচনার পরও সীমান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান যে এখনও অধরা, বর্তমান পরিস্থিতি তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ দিচ্ছে।
২০২৭ সালের ৯৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের জন্য ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার যুদ্ধ থেকে বেঁচে ফেরা মানুষদের অভিজ্ঞতানির্ভর তথ্যচিত্র ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ’ বেছে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। অস্কারের ‘সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র’ বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য এই প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন জেনেভাভিত্তিক প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা নিকোলা ওয়াদিমফ। সুইজারল্যান্ডের একাধিক সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই তথ্যচিত্রটিতে গাজার বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুতি, স্বজন হারানোর বেদনা এবং অস্তিত্ব রক্ষার আকুতি অত্যন্ত গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ’ তথ্যচিত্রটিতে কোনো প্রথাগত ধারাবর্ণনা ব্যবহার করা হয়নি। বরং গাজার সারভাইভারদের এক বিমূর্ত প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে তারা নিজেদের কণ্ঠে বর্ণনা করেছেন ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জীবনসংগ্রামের করুণ কাহিনি। সুইজারল্যান্ডের ‘ফেডারেল অফিস অব কালচার’-এর অস্কার মনোনয়ন কমিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলচ্চিত্রটি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা, নিজ বাসভূমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া এবং শেকড় ও পরিচয়ের খোঁজের মতো গভীর মানবিক বিষয়গুলোকে উন্মোচিত করেছে। ইতিমধ্যেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে প্রামাণ্যচিত্রটি। চলতি বছরের শুরুর দিকে সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব ‘সোলোথার্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এ এটি সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘প্রিক্স দ্য সোলৌর’ অর্জন করেছে। অস্কারের আয়োজক সংস্থা ‘একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস’ জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রাথমিক মনোনীত ছবিগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেখান থেকে বাছাইকৃত চূড়ান্ত পাঁচটি চলচ্চিত্রের নাম ঘোষণা করা হবে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি এবং পরবর্তী সময়ে ১৪ মার্চ জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ৯৯তম অস্কার প্রদান অনুষ্ঠান।
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়ে জটিলতায় ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ; আগামী সপ্তাহে ইসরাইল ও মিশর সফরে যাচ্ছেন জ্যারেড কুশনার ও নিকোলাই ম্লাদেনভ গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও পরবর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করতে আগামী সপ্তাহে ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। কুশনারের সঙ্গে থাকবেন ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর গাজাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ। সফরটি শুধু ইসরাইলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশরেও যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে থাকার কথা রয়েছে। এই সফরের পেছনে মূল কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তৈরি গাজা পরিকল্পনা নিয়ে ইসরাইলের আপত্তি। গত মাসের শেষ দিকে ‘বোর্ড অব পিস’ হামাস ও গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি সমঝোতার কথা জানায়। পরিকল্পনায় হামাসের অস্ত্র নতুন একটি ফিলিস্তিনি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর এবং এর বিনিময়ে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের পথ রাখা হয়েছে। কিন্তু ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরিকল্পনাটির গুরুত্বপূর্ণ অংশে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর অবস্থান, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। ফলে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং সেনা প্রত্যাহার—কোনটি আগে এবং কোনটি কী শর্তে হবে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অবশ্য পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়নি। ‘বোর্ড অব পিস’-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরাইলের আপত্তি সত্ত্বেও পরিকল্পনাটি কার্যকর রয়েছে এবং ধাপে ধাপে তা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর অর্থ হলো, ওয়াশিংটন এখনো হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরাইলি সেনা পুনর্বিন্যাস এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে সমঝোতার পথ খুঁজছে। গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়েও পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা রয়েছে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনের দায়িত্ব একটি ফিলিস্তিনি কারিগরি কমিটির হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ কাঠামোর মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গড়ে তোলার কথা রয়েছে। এই উদ্যোগের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত ২০ দফা গাজা পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই পর্যায়ে যুদ্ধ-পরবর্তী প্রশাসন, নিরস্ত্রীকরণ, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজার পুনর্গঠনের বিষয়গুলো সামনে আসে। এরপর গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হয়। জানুয়ারিতে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করা হয় এবং জ্যারেড কুশনারসহ একাধিক ব্যক্তিকে এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হয়। মার্চে বোর্ডের পক্ষ থেকে হামাসের কাছে নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাবও পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু ইসরাইলের আপত্তিই নয়, হামাসের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। হামাস জানিয়েছে, তারা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এগোচ্ছে এবং ইসরাইলকেও পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। ফলে কুশনারের আসন্ন সফরকে এখন ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা কার্যকর রাখার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরাইলের নিরাপত্তা উদ্বেগ, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন—সবগুলো বিষয়েই সমঝোতা তৈরি করতে হবে ওয়াশিংটনকে। ইসরাইল সফরের পর মিশরে আলোচনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময় আলোচনায় মিশর দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে কুশনার ও ম্লাদেনভের আঞ্চলিক সফরে শুধু ইসরাইলের আপত্তি মেটানো নয়, মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পরবর্তী ধাপের বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুখে। হামাস নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হলেও ইসরাইল সেনা প্রত্যাহারের আগে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের নিশ্চয়তা চাইছে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে সমঝোতা তৈরি করতে পারাই কুশনারের আসন্ন সফরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
মাত্র কয়েক মিনিটের সিদ্ধান্ত। অস্ত্রোপচারের ঠিক আগে এক হাজার পাউন্ড ছাড়ে ব্রাজিলিয়ান বাট লিফট বা বিবিএল করানোর প্রস্তাব পেয়েছিলেন ব্রিটিশ নারী হেইলি ডাওয়েল। স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাদের হাতে ছিল মাত্র পাঁচ মিনিট। সেই অস্ত্রোপচারের পর জটিলতায় ৩৮ বছর বয়সী তিন সন্তানের এই মায়ের মৃত্যু হয়। এখন তার মৃত্যু নিয়ে তদন্তে বিদেশে কসমেটিক সার্জারি করাতে যাওয়া রোগীদের যথাযথভাবে ঝুঁকি জানানোর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ারের ইস্টলির বাসিন্দা হেইলি ২০২৩ সালের অক্টোবরে স্বামী নিল ডাওয়েলের সঙ্গে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যান। পরিকল্পনা ছিল টামি টাক ও লাইপোসাকশন করানোর। কিন্তু স্বামীর দাবি, অস্ত্রোপচারের অল্প সময় আগে চিকিৎসক তার নিতম্বের আকৃতি নিয়ে মন্তব্য করে অতিরিক্তভাবে বিবিএল করানোর প্রস্তাব দেন। সাম্প্রতিক ইনকোয়েস্টে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ওই অতিরিক্ত অস্ত্রোপচারের জন্য এক হাজার পাউন্ড ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। নিল ডাওয়েলের দাবি, স্ত্রীকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি এবং ঝুঁকিগুলোও যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। হেইলি ২০২৩ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের বিহিটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করান। পরদিন ৩ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর তিনি দুবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হন। তার মৃত্যুর সঙ্গে ফ্যাট এম্বোলিজমের সম্পর্ক পাওয়া যায়। এ অবস্থায় শরীরের চর্বির কণা রক্তপ্রবাহে ঢুকে ফুসফুসসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বিবিএল এমন একটি কসমেটিক সার্জারি, যেখানে শরীরের অন্য অংশ থেকে লাইপোসাকশনের মাধ্যমে চর্বি সংগ্রহ করে নিতম্বে স্থানান্তর করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় চর্বি ভুল জায়গায় প্রবেশ করলে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। হেইলির স্বামী শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, তার স্ত্রী যে তিনটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন, সবগুলোর বিষয়ে যথাযথ সম্মতি ছিল না। ২০২৪ সালে প্রাথমিক শুনানিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি তাদের পরিষ্কারভাবে জানানো হয়নি। তার আরেকটি গুরুতর অভিযোগ ছিল অস্ত্রোপচারের সময়কাল নিয়ে। নিলের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারটি প্রায় ছয় ঘণ্টা চলার কথা থাকলেও তা শেষ হয় প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিটে। তিনি দাবি করেন, সার্জন অস্ত্রোপচারের মাঝপথে চলে যান এবং অ্যানেসথেটিস্টের ওপর দায়িত্ব রেখে যান। নিল আরও অভিযোগ করেছিলেন, হেইলির মৃত্যুর পর তাকে একটি কনসেন্ট ফর্মে সই করতে বলা হয়েছিল। এসব অভিযোগের সবকটি আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়। তবে হেইলির মৃত্যু ঘিরে চলমান তদন্তে রোগীর সম্মতি, তাকে দেওয়া তথ্য এবং অস্ত্রোপচারের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। হেইলির মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাজ্যে ইনকোয়েস্ট পরিচালনা করছেন হ্যাম্পশায়ারের এরিয়া করোনার নিকোলাস ওয়াকার। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তুরস্কে চলমান ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনি প্রক্রিয়ার কারণে ইনকোয়েস্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি তদন্ত করছে এবং নিল ডাওয়েল সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেছেন। করোনার তদন্তের পরিধি শুধু হেইলির মৃত্যুর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বিদেশে কসমেটিক সার্জারি করাতে যাওয়া ব্রিটিশ নাগরিকেরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ঝুঁকি সম্পর্কে কতটা তথ্য পাচ্ছেন, সেটিও পর্যালোচনায় আনা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৩ সালেই চিকিৎসা নিতে তুরস্কে যাওয়ার পর অন্তত ছয় ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল। কম খরচে কসমেটিক সার্জারির জন্য তুরস্ক ব্রিটিশদের কাছে জনপ্রিয় হলেও একাধিক মৃত্যুর পর বিদেশে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। হেইলি ডাওয়েলের ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন কেবল অস্ত্রোপচারের ফলাফল নয়। অস্ত্রোপচারের কয়েক মিনিট আগে নতুন একটি উচ্চঝুঁকির প্রক্রিয়া করানোর সিদ্ধান্ত একজন রোগী কতটা বুঝে এবং স্বাধীনভাবে নিতে পারেন, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে এই মৃত্যু।
দুই দশক ধরে বয়স্ক পুরুষদের বিয়ে করে ওষুধ ও বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ; সম্পদ ও দেনমোহরের অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই ছিল সম্ভাব্য উদ্দেশ্য ইরানে একাধিক স্বামীকে হত্যার দায়ে ৫৬ বছর বয়সী এক নারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী অন্তত ১০ জন স্বামীকে হত্যার ঘটনায় জড়িত এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই নারীর নাম কোলথুম আকবারি। বয়স্ক পুরুষদের ধারাবাহিকভাবে বিয়ে করে হত্যার অভিযোগে তাকে ইরানের ‘ব্ল্যাক উইডো’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। মাজানদারান প্রদেশের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আকবারি তার একাধিক স্বামীকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, ঘুমের ওষুধ এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত অ্যালকোহল প্রয়োগ করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন বয়স্ক পুরুষ। কর্তৃপক্ষের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামীদের কাছ থেকে সোনা, নগদ অর্থ এবং বিয়ের সময় দেওয়া অন্যান্য সম্পদ নেওয়ার পর তাদের হত্যা করা হতো। আকবারির বিরুদ্ধে তদন্ত আরও জোরালো হয় ২০২৩ সালে ৮২ বছর বয়সী স্বামী গোলামরেজা বাবায়ির মৃত্যুর পর। মৃত্যুর আগে তিনি পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন, আকবারি তাকে নিয়মিত ওষুধ খেতে বাধ্য করছেন। এর কিছুদিন পরই তার মৃত্যু হয়। তদন্তের একপর্যায়ে আকবারিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এক পর্যায়ে তিনি কতজনকে হত্যা করেছেন, তা নির্দিষ্টভাবে মনে করতে না পারার কথাও জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ১৩ থেকে ১৫ জন পর্যন্ত হতে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, আকবারি ইরানে প্রচলিত ‘সিগেহ’ বা অস্থায়ী বিবাহব্যবস্থা ব্যবহার করে বয়স্ক পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতেন। এসব চুক্তিভিত্তিক বিবাহে দেনমোহর বা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ থাকায় তিনি সম্ভাব্যভাবে সেখান থেকেও অর্থনৈতিক সুবিধা নিতেন বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন। তদন্তকারীদের মতে, বিভিন্ন শহরের বয়স্ক পুরুষদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর কারণে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডগুলো দীর্ঘ সময় ধরা পড়েনি। একেকটি ঘটনা ভিন্ন এলাকায় ঘটায় হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আদালত ১০টি হত্যাকাণ্ডের জন্য ১০টি পৃথক মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। পাশাপাশি হত্যাচেষ্টার একটি মামলায়ও তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের আইন অনুযায়ী, হত্যার ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার প্রতিশোধমূলক শাস্তি বা ‘কিসাস’ দাবি করতে পারে। জানা গেছে, নিহতদের ১০টি পরিবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে অন্তত একটি পরিবার মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে ‘দিয়াহ’ বা রক্তপণ গ্রহণে সম্মতি দিয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনই কার্যকর হচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের পরিবারকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বা অন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ইরানে মৃত্যুদণ্ড সাধারণত ফাঁসির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়। দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। আকবারির মামলাটি অবশ্য রাজনৈতিক বন্দিদের মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো মূলত ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টাকে কেন্দ্র করে। ইরানে এর আগেও নারী সিরিয়াল হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। মাহিন কাদিরি নামে এক নারীকে পাঁচজন নারীকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার পর ২০০৬ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
স্কটল্যান্ডে মাত্র তিন মাস বয়সী মেয়েকে দীর্ঘ সময় হেয়ারড্রায়ারের তীব্র তাপে রেখে মৃত্যুর কারণ হওয়ার দায়ে ২৮ বছর বয়সী এক মাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যাবারডিনশায়ারের পিটারহেডে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় কোর্টনি গার্টশোরকে গত জুলাইয়ে ‘কালপেবল হোমিসাইড’ বা গুরুতর অবহেলায় মৃত্যুর জন্য দায়ী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। শুক্রবার এডিনবরার হাইকোর্টে তার সাজা ঘোষণা করা হয়। স্কটিশ জুডিশিয়ারির প্রকাশিত সাজা ঘোষণার বিবরণ অনুযায়ী, নিহত শিশুটির নাম ডালিয়া রোজ। ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় তার বয়স ছিল মাত্র তিন মাস। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে উঠে আসে, মেয়ের মৃত্যুর আগের সন্ধ্যায় গার্টশোর বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাইরে সময় কাটান এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অ্যালকোহল পান করেন। পুরো সময়ই ডালিয়া রোজ তার সঙ্গে ছিল এবং শিশুটির একমাত্র দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ভোর প্রায় চারটার দিকে তিনি বাড়ি ফেরেন। বিচারে আদালত জানতে পারে, ভোর চারটা থেকে সকাল নয়টার মধ্যে কোনো এক সময় হেয়ারড্রায়ার চালু করে শিশুটির মাথা ও শরীর দীর্ঘ সময় তীব্র তাপের মধ্যে রাখা হয়। পরে হেয়ারড্রায়ারটি গার্টশোরের বিছানার পাশের দেয়ালের সকেটে লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়। কেন বা ঠিক কীভাবে শিশুটিকে হেয়ারড্রায়ারের তাপের মধ্যে রাখা হয়েছিল, তার নিশ্চিত ব্যাখ্যা আদালত পায়নি। গার্টশোরও ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, হেয়ারড্রায়ারের তাপে ডালিয়া রোজের শরীরের প্রায় ১৮ শতাংশ গুরুতরভাবে পুড়ে যায়। বিশেষ করে মাথা, মুখ, ঘাড়, শরীরের ওপরের অংশ এবং ডান হাতে মারাত্মক দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন পাওয়া যায়। তবে বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্যে বলা হয়, শুধু পোড়ার আঘাতগুলো প্রাণঘাতী হওয়ার কথা ছিল না। প্রসিকিউশনের বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুটির মৃত্যুর সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ ছিল শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়া এবং হিটস্ট্রোক। বিচারে প্রতিরক্ষা পক্ষ দাবি করেছিল, অন্য কোনো আকস্মিক ও অজানা কারণে শিশুটি আগেই মারা গিয়ে থাকতে পারে এবং এরপর তার শরীরে হেয়ারড্রায়ারের তাপ লাগে। কিন্তু জুরি সর্বসম্মতভাবে সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। তারা নিশ্চিত হন, হেয়ারড্রায়ারের তাপের কারণেই ডালিয়া রোজের মৃত্যু হয়েছে। সাজা ঘোষণার সময় বিচারক সাইমন কলিন্স মামলাটিকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক, উদ্বেগজনক ও বেদনাদায়ক বলে বর্ণনা করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, গার্টশোর ইচ্ছাকৃতভাবে মেয়েকে হত্যা বা আঘাত করতে চেয়েছিলেন, এমনটি প্রসিকিউশনের মামলা ছিল না। বরং অত্যন্ত গুরুতর অসতর্কতা ও বেপরোয়া আচরণের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। বিচারক বলেন, প্রমাণ অনুযায়ী হেয়ারড্রায়ারটি অন্তত ২০ মিনিট এবং সম্ভবত এক ঘণ্টা পর্যন্ত চালু ছিল। এত দীর্ঘ সময় শিশুটির শরীরে গুরুতর পোড়া সৃষ্টি হওয়া এবং তীব্র যন্ত্রণার বিষয়টি একজন অভিভাবকের কাছে স্পষ্ট হওয়ার কথা ছিল। আদালত আরও উল্লেখ করেন, এটি দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্যাতনের পরিণতি ছিল না। শিশুটির প্রতি গার্টশোরের আগের যত্ন মোটামুটি সন্তোষজনক ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে মৃত্যুর রাতের ঘটনাকে তিনি একজন মায়ের সবচেয়ে মৌলিক দায়িত্ব, সন্তানকে নিরাপদ রাখার কর্তব্যের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। সাজা নির্ধারণে আদালত আরও কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেয়। ঘটনার সময় গার্টশোর অ্যালকোহলের প্রভাবে ছিলেন। শিশুটির মৃত্যুর পর তিনি মরদেহ বেডরুম থেকে সরিয়ে ফ্ল্যাটের ব্যালকনিতে নিয়ে যান এবং কীভাবে শিশুটি দগ্ধ হয়েছে তা জানেন না বলে দাবি করেন। বিচারকের মতে, এসব আচরণ নিজের সম্পৃক্ততা আড়াল করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে গার্টশোরের আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। তার মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা, একক মা হিসেবে সীমিত সহায়তা এবং অতীতের ব্যক্তিগত সমস্যাগুলোও সাজা নির্ধারণে বিবেচনায় নেওয়া হয়। সব দিক বিবেচনা করে বিচারক তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেন। সাজাটি ২০২৬ সালের ১৬ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণনা হবে, যেদিন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে প্রথম কারাগারে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ স্কটল্যান্ড জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর স্কটিশ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস তিন মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর খবর দিলে তদন্ত শুরু হয়। ডালিয়া রোজকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর ওই বছরের নভেম্বরে কোর্টনি গার্টশোরকে গ্রেফতার ও অভিযুক্ত করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর জেমস ক্যালান্ডার বলেন, শিশুরা অসহায় এবং তাদের রক্ষা করা প্রাপ্তবয়স্কদের দায়িত্ব। কোনো শিশুর মৃত্যু সবসময়ই অত্যন্ত বেদনাদায়ক, আর সেই মৃত্যু যখন একজন অভিভাবকের কর্মকাণ্ডের কারণে ঘটে, তখন তা আরও গভীরভাবে নাড়া দেয়।
যুক্তরাজ্যে ১০ বছরের মেয়ে সারা শরিফকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত উরফান শরিফের ওপর কারাগারে হামলার ঘটনায় দুই বন্দির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। লন্ডনের হাই সিকিউরিটি বেলমার্শ কারাগারে উরফানের ঘাড় ও মুখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের প্রায় দেড় বছর পর এই চার্জ আনা হলো। ব্রিটিশ ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, অভিযুক্ত দুই বন্দি হলেন ৪৭ বছর বয়সী স্টিভেন স্যানসম এবং ৩৯ বছর বয়সী অ্যাডাম ওয়াটসন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি বেলমার্শ কারাগারে ঘটে যাওয়া ওই হামলার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী ২৬ আগস্ট তাদের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করার কথা রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উরফান শরিফ নিজের সেলে থাকা অবস্থায় হামলার শিকার হন। হামলায় ধারালো করে নেওয়া টুনা মাছের ক্যানের ঢাকনা ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তার ঘাড় ও মুখে কেটে যায়। তবে আঘাত প্রাণঘাতী ছিল না এবং কারাগারের ভেতরেই তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার পর উরফানকে বেলমার্শ থেকে কাউন্টি ডারহামের হাই সিকিউরিটি ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বিপজ্জনক অপরাধীদের অনেককে এই কারাগারে রাখা হয়। উরফান শরিফ বর্তমানে নিজের ১০ বছর বয়সী মেয়ে সারা শরিফকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালতে উরফান এবং সারার সৎমা বেইনাশ বাতুলকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। উরফানকে অন্তত ৪০ বছর এবং বেইনাশকে অন্তত ৩৩ বছর কারাগারে কাটানোর নির্দেশ দেন বিচারক। একই মামলায় সারার চাচা ফয়সাল মালিক হত্যার অভিযোগ থেকে খালাস পেলেও একটি শিশুর মৃত্যু ঘটানো বা মৃত্যু ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। তাকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট ইংল্যান্ডের সারের ওকিংয়ে পারিবারিক বাড়িতে সারা মারা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটির ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তার শরীরে একাধিক আঘাত, হাড় ভাঙা, পোড়ার দাগ এবং কামড়ের চিহ্ন পাওয়া যায়। পোস্টমর্টেমে চিকিৎসকেরা জানান, একাধিক আঘাত ও অবহেলার জটিলতায় তার মৃত্যু হয়। সারার মৃত্যুর পর উরফান, বেইনাশ এবং ফয়সাল পাকিস্তানে চলে যান। পাকিস্তানে পৌঁছে উরফান নিজেই ব্রিটিশ পুলিশকে ফোন করে মেয়েকে মারধরের কথা জানান। পরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তারা যুক্তরাজ্যে ফিরে এলে গ্যাটউইক বিমানবন্দরে গ্রেফতার করা হয়। মামলার রায় দেওয়ার সময় বিচারক সারা শরিফের ওপর দীর্ঘদিনের নির্যাতনকে সরাসরি ‘নির্যাতন ও যন্ত্রণার ধারাবাহিকতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। আদালত জানায়, সারার মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনার ফল ছিল না, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা অবহেলা ও বারবার শারীরিক নির্যাতনের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল। এদিকে উরফানের ওপর কারাগারে হামলার ঘটনায় নতুন করে ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। অভিযুক্ত স্টিভেন স্যানসম ও অ্যাডাম ওয়াটসনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে এখনো প্রমাণিত হয়নি। আগামী ২৬ আগস্ট তাদের প্রথম কোর্ট হিয়ারিংয়ের পর মামলাটির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে।
বিয়ের ছবি প্রকাশ করেছেন, কিন্তু কোনো ছবিতেই স্বামীর মুখ দেখাননি। এমন একটি ঘটনা সামাজিক যোগা যোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দাবি করা হচ্ছে, অন্য নারীরা স্বামীকে দেখে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন, এই আশঙ্কাতেই নববধূ তার স্বামীর চেহারা গোপন রেখেছেন। তবে ভাইরাল পোস্টটির এই ব্যাখ্যার পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি একই ধরনের একটি বহুল আলোচিত ঘটনা ঘটেছে ভারতের ইন্টারনেট তারকা ও গায়িকা ধিনচ্যাক পূজাকে ঘিরে। ‘সেলফি ম্যায়নে লে লি আজ’ গানের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া পূজা বিয়ের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করলেও শুরুতে স্বামীর মুখ দেখাননি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। পূজা জৈন নামে পরিচিত এই গায়িকা পরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন, তিনি সত্যিই বিয়ে করেছেন এবং এটি কোনো মিউজিক ভিডিও বা প্রচারণার অংশ নয়। তার স্বামীর নাম ইয়াভান। অনলাইনে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং কিছুদিন সম্পর্কের পর দুই পরিবারের সম্মতিতে ঘরোয়া আয়োজনে তারা বিয়ে করেন। তবে স্বামীর মুখ লুকিয়ে রাখার কারণ হিসেবে অন্য নারীদের আগ্রহ বা ঈর্ষার কথা বলেননি পূজা। তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত জীবন ব্যক্তিগত রাখতেই তারা আপাতত স্বামীর চেহারা প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না। স্বামী একজন গায়ক বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিয়ের ছবি প্রকাশের পর পূজার অনুসারীদের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার আকস্মিক বিয়ের খবরে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ স্বামীর পরিচয় জানতে আগ্রহ দেখান। তার জনপ্রিয় গানের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন বিয়ের গান তৈরির অনুরোধও করেন অনেকে। ২০১৭ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সেলফি ম্যায়নে লে লি আজ’ গান ভাইরাল হওয়ার পর রাতারাতি আলোচনায় আসেন ধিনচ্যাক পূজা। পরে তিনি সালমান খান সঞ্চালিত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস ১১’-তেও অংশ নেন। এদিকে স্বামীর চেহারা লুকানোর সঙ্গে ‘অন্য নারীদের আগ্রহ’ ঠেকানোর যে ব্যাখ্যাটি বিভিন্ন পোস্টে ছড়ানো হচ্ছে, সেটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রকাশ করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যাচাইযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত এই ঘটনায় স্বামীর পরিচয় আড়ালে রাখার কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কথাই জানিয়েছেন নববধূ।