- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
শিল্পীর ক্যানভাসে কল্পনার রঙে আঁকা ছবি কখনো কখনো যে বাস্তবের রূপ নিতে পারে, তার এক অবিশ্বাস্য ও রোমান্টিক প্রমাণ হয়ে উঠলেন ইরানি শিল্পী আহাদ সাদি। নিজের কল্পনায় স্বপ্নের এক নারীর প্রতিকৃতি এঁকেছিলেন তিনি। তখনো জানতেন না, এই নারী বাস্তবে শুধু অস্তিত্বই রাখেন না, বরং একদিন তিনিই হতে যাচ্ছেন তার জীবনসঙ্গী। রূপকথার গল্পকেও হার মানানো এই নিখাদ প্রেমের কাহিনী এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার শুরু ২০০৮ সালে। বয়স বেড়ে যাওয়ায় পরিবার থেকে, বিশেষ করে মায়ের তরফ থেকে বিয়ের জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছিল আহাদকে। কিন্তু মনের মতো সঙ্গী না পাওয়ায় বিয়েতে কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না তিনি। মায়ের চাপ সামলাতে না পেরে অবশেষে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, নিজের স্বপ্নের জীবনসঙ্গীকে অন্তত শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলবেন। তার মাথায় কোনো নির্দিষ্ট মানুষের চেহারা ছিল না; সম্পূর্ণ নিজের কল্পনা থেকে তিনি একটি মুখচ্ছবি তৈরি করেন। এই ছবি আঁকতে তিনি কোনো সাধারণ রং-তুলি ব্যবহার করেননি। তিনি ব্যবহার করেছিলেন 'আজারনেগারি' নামের এক বিশেষ ইরানি শিল্পরীতি, যেখানে আগুন ও কাপড়ের সমন্বয়ে অর্থাৎ কাপড় পুড়িয়ে নিখুঁত সব ছবি তৈরি করা হয়। ছবি তো তৈরি হলো, কিন্তু মূল চমকের তখনও বাকি। ২০০৯ সালের শেষের দিকে ইরানের তাবরিজ শহরের একটি আর্ট গ্যালারিতে নিজের শিল্পকর্মগুলোর প্রদর্শনী করেন আহাদ। সেই প্রদর্শনীতে দর্শনার্থী হিসেবে আসেন পারিসা করমনেজাদ নামের আরেকজন শিল্পী। গ্যালারি ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ ওই ছবিটির সামনে এসে থমকে দাঁড়ান তিনি। পারিসা যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। ছবির মেয়েটির কোঁকড়ানো চুল, চোখের দৃষ্টি, মুখের গড়ন—সবকিছু হুবহু তার মতো! বিস্ময়ে হতবাক পারিসার দিকে নজর পড়ে আহাদেরও। তিনি নিজেও চমকে ওঠেন। কিন্তু সে সময় পারিসা অন্য একটি সম্পর্কে যুক্ত থাকায় তাদের মধ্যে আর কথা এগোয়নি। দুজনেই সেদিনের মতো নিজেদের গন্তব্যে পা বাড়ান। তবে নিয়তি হয়তো তাদের মিলনের জন্যই সবকিছু গুছিয়ে রেখেছিল। ওই ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পারিসাকে খুঁজে পান আহাদ। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, পারিসার আগের সম্পর্কটি ভেঙে গেছে এবং তিনি এখন একাই আছেন। এরপর আর কালক্ষেপণ করেননি আহাদ। পারিসাকে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান তিনি। পারিসাও সেই আমন্ত্রণে সাড়া দেন। একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার সময়, একে অপরকে খুব বেশি না জানা সত্ত্বেও, হঠাৎ করেই পারিসাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন এই শিল্পী। পারিসা সেই রাতে কোনো উত্তর দেননি। তবে গল্পটা অসম্পূর্ণ থাকেনি। পরের দিন সকালেই আহাদকে ফোন করে তার প্রস্তাবে সম্মতি জানান পারিসা। এ যেন বাস্তবের বুকে জন্ম নেওয়া এক নিখুঁত প্রেমের উপাখ্যান। কল্পনার তুলিতে যে মানুষকে তিনি এঁকেছিলেন, তাকেই বাস্তবে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে আহাদ ও পারিসা জুটি এখন দারুণ সুখী। শিল্পের প্রতি ভালোবাসা এবং নিয়তির এক অদ্ভুত খেলায় তারা আজ এক ছাদের নিচে বসবাস করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ (ডিএফডব্লিউ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের জন্য ওজুর স্থান (ওজুখানা) নির্মাণের একটি পরিকল্পনা তীব্র বিতর্কের মুখে বাতিল করা হয়েছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে এটিকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দেওয়ার পরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। একই সঙ্গে রাজ্যের দুটি বড় বিমানবন্দরে ধর্মীয় সুবিধার নামে কোনো বৈষম্য হচ্ছে কি না, তা পর্যালোচনার জন্য সরকারি অনুদান খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর। গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় গভর্নর অ্যাবট বলেন, "সরকারি মালিকানাধীন বিমানবন্দরগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে অন্য সব ধর্মের ওপর বিশেষ সুবিধা দিতে পারে না। ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দরে ইসলামিক ওজুর জায়গা নির্মাণের পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণ বেআইনি। আমি সম্ভাব্য অনুদান বাতিলের জন্য রাজ্যের দুটি বিমানবন্দরের সব সরকারি অনুদান পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছি। পাশাপাশি তদন্তের জন্য বিষয়টি মার্কিন পরিবহন বিভাগের (ইউএসডিওটি) কাছে পাঠিয়েছি।" তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো স্থাপনায় এ ধরনের বেআইনি ধর্মীয় বৈষম্য বরদাশত করবে না টেক্সাস। গভর্নরের এই কড়া বার্তার পরই ডালাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানায়, তারা তাদের আন্তর্জাতিক টার্মিনাল (টার্মিনাল ডি)-এর নিরাপত্তা তল্লাশির আগের অংশে যাত্রীদের জন্য একটি ওজুখানা স্থাপনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছিল। কিন্তু জনসমক্ষে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হওয়ায় তারা দ্রুত এই পর্যালোচনা শেষ করেছে এবং প্রকল্পটি নিয়ে আর না এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি থেকে প্রাথমিকভাবে যে ধরনের পরিচালনগত সুবিধার আশা করা হয়েছিল, সেটি পূরণ হবে না বলেই এই সিদ্ধান্ত। এর আগে গত ৩১ জুলাই টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব লাইসেন্সিং অ্যান্ড রেগুলেশনের কাছে প্রকল্পটির নিবন্ধন করা হয়। সেখানে প্রাথমিকভাবে এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ডলার এবং অর্থায়নের উৎসের জায়গায় ‘ব্যক্তিগত অর্থায়ন’ উল্লেখ করা হয়েছিল। কথা ছিল, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এর নির্মাণকাজ শেষ হবে। তবে ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, নথিপত্রে উল্লেখ করা এসব তথ্য আসলে তাদের বহিরাগত নকশা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ‘করণিক ভুল’ ছিল। বিমানবন্দরটির একজন মুখপাত্র ফক্স নিউজকে বলেন, ৩ লাখ ডলারের হিসাবটি ছিল একটি প্রাথমিক উচ্চ ধারণা। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে এর প্রকৃত ব্যয় হতো প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার। এছাড়া ‘ব্যক্তিগত অর্থায়ন’ কথাটিও ভুলবশত লেখা হয়েছিল। অন্যান্য প্রকল্পের মতো এই প্রকল্পেও বিমানবন্দরের নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করার কথা ছিল। বিমানবন্দরটি তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে না, বরং পার্কিং ও বিভিন্ন দোকানপাট থেকে আয়ের ওপর নির্ভরশীল বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, গভর্নরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে একটি ওজুখানা এবং এর সংলগ্ন একটি প্রার্থনাকক্ষ রয়েছে। মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফিকে দেওয়া এক চিঠিতে গভর্নর অ্যাবট মার্কিন পরিবহন বিভাগ এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে উভয় বিমানবন্দরের ধর্মীয় সুযোগ-সুবিধাগুলো পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, "এই ওজুখানাগুলো দৃশ্যত নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্যই নকশা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। সংবিধানে এ ধরনের বৈষম্যকে প্রশ্রয় দেওয়া নিষেধ। সরকার যেমন পবিত্রতার চেয়ে ধর্মনিরপেক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে পারে না, তেমনি অন্য সব মতাদর্শের ওপর কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতবাদকেও বিশেষ সুবিধা দিতে পারে না।" উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় বিমানবন্দরগুলোতেও, যেমন, শিকাগো ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, যাত্রীদের সুবিধার্থে এ ধরনের নিচু বেসিন বা ওজুখানা এবং সর্বজনীন প্রার্থনার স্থান রয়েছে।
কলম্বিয়ার কালি শহরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন তিন বোনের দুইজন, যারা জন্ম থেকেই একসঙ্গে বড় হয়েছেন, একই বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং একসঙ্গে বিদেশেও ভ্রমণ করেছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় তিন বোনের মধ্যে এখন বেঁচে আছেন শুধু ২৩ বছর বয়সী আনিয়া মারিয়া। ১৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কালি শহরের একটি ভবন ধসে পড়লে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন আনিয়া মারিয়া, তার তিনজনের মধ্যে দুই বোন সোফিয়া ও ইসাবেলা এবং তাদের বাবা-মা হাইরো হার্নান সাভেদ্রা ও ভিক্টোরিয়া কাইসেদো। পরিবারের আরেক সদস্যও এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে আনিয়া মারিয়ার বাবা-মাকে খুঁজে পান। পরে তার বোন সোফিয়ার সন্ধান মেলে। সর্বশেষ ইসাবেলাকে খুঁজে পাওয়া গেলেও তখন তিনি আর বেঁচে ছিলেন না। ১৩ আগস্ট রাতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আনিয়া মারিয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হন। তার শ্রোণিতে একাধিক হাড় ভেঙেছে এবং দুই হাতেও আঘাত রয়েছে। পরে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কালি শহরের ইমবানাকো ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বজন ও বন্ধুরা হাসপাতালে তার পাশে রয়েছেন। তিন বোনের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ছোটবেলা থেকেই তারা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছেন। একই বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের একটি সময় ফ্রান্সেও কাটিয়েছেন। বন্ধু ও স্বজনদের কাছে তারা ছিলেন সব সময় একসঙ্গে থাকা তিন বোন। এই দুর্ঘটনার আগে তাদের জীবন ছিল অনেকটাই পরস্পরকে ঘিরে। একসঙ্গে পড়াশোনা, ঘোরাঘুরি এবং পারিবারিক সময় কাটানো ছিল তাদের জীবনের নিয়মিত অংশ। কয়েকদিনের ব্যবধানে সেই পরিবারের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। কলম্বিয়ার এই ভূমিকম্পে কালি শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ২৮১ জন নিহত, প্রায় ৩ হাজার ৮০০ জন আহত এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজ চলার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে নতুন করে ধসের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি রয়েছে। ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। আনিয়া মারিয়ার পরিবারের এই ঘটনা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবারের ব্যক্তিগত শোকের একটি চিত্র তুলে ধরেছে। যে তিন বোন জন্ম থেকে একসঙ্গে ছিলেন, তাদের মধ্যে এখন একজনই বেঁচে আছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আনিয়া মারিয়াকে ঘিরে এখন তার স্বজন ও বন্ধুরাই হয়ে উঠেছেন প্রধান ভরসা। সূত্র: ইউওএল, দ্য সান।
টেক্সাসের ফোর্ট হুডের কাছে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই মার্কিন সেনা পাইলট নিহত হয়েছেন। বুধবার সালাডোর কাছে রক্ষণাবেক্ষণ পরীক্ষার ফ্লাইট চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই সেনা সদস্য হলেন ৩৪ বছর বয়সী চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার-২ ডিওন্ট্রে টি. হুই এবং ২৫ বছর বয়সী ওয়ারেন্ট অফিসার শেথ এল. ওলমস্টেড। সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এএইচ-৬৪ই অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটিতে ওই দুই পাইলটই ছিলেন। ফোর্ট হুড থেকে প্রায় ৩০ মাইল দূরে সালাডোর একটি মাঠে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এতে আশপাশের প্রায় ১৫৫ একর এলাকা পুড়ে যায়। নিহত ডিওন্ট্রে হুই কিলিন, টেক্সাসের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ২০১৪ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ২০২২ সাল থেকে সংশ্লিষ্ট ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। শেথ ওলমস্টেড বেলটন, টেক্সাসের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ২০২৩ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ওই ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দুই সেনা সদস্যই ১ম ক্যাভালরি ডিভিশনের ১ম এয়ার ক্যাভালরি ব্রিগেডের ২২৭তম এভিয়েশন রেজিমেন্টের ১ম ব্যাটালিয়নের ব্রাভো কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। ফোর্ট হুড ও থার্ড আর্মর্ড কোরের কমান্ডিং জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল কেভিন ডি. অ্যাডমিরাল নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, সেনাবাহিনী একটি পরিবার এবং এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা পুরো বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কমিউনিটিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। ফোর্ট রাকার, আলাবামা-ভিত্তিক ইউএস আর্মি কমব্যাট রেডিনেস সেন্টারের একটি নিরাপত্তা তদন্ত দল দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের প্রশিক্ষণ ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। তবে এ সিদ্ধান্তের আওতায় অ্যাপাচির যুদ্ধ মিশন বন্ধ করা হয়নি। ফোর্ট হুড যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় সামরিক ঘাঁটি। ভারী সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও মোতায়েনের প্রস্তুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাঁটিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অ্যাপাচি হেলিকপ্টার মার্কিন সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার। দুই সদস্যের ক্রু নিয়ে এটি পরিচালিত হয়, যেখানে পাইলট পেছনের আসনে এবং সহকারী পাইলট ও অস্ত্র পরিচালনাকারী সদস্য সামনের আসনে অবস্থান করেন। এই দুর্ঘটনার পর এর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধানে গুরুত্ব দিচ্ছে সেনাবাহিনী।
বাংলাদেশে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন অনেক শিক্ষার্থী। আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকায় তাদের অনেকে মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার আবেদন করা সম্ভব নয়। তবে কিছু মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ বা কন্ডিশনাল অ্যাডমিশন প্রোগ্রাম রয়েছে, যেখানে আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর ছাড়াই শুরু করার সুযোগ রয়েছে। পরে নির্ধারিত ইংলিশ প্রোগ্রাম সফলভাবে শেষ করে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়া যায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে নিয়ম আলাদা এবং ভিসা কখনোই নিশ্চিত নয়। জর্জিয়ার কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি: কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রাম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্ভাব্য পথ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা আইইএলটিএস বা টোফেল না দিয়েও ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারেন। এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রোগ্রাম আই-২০ দেওয়ার অনুমোদনও রাখে। এই প্রোগ্রামের কয়েকটি স্তর সফলভাবে শেষ করলে নির্দিষ্ট শর্তে আন্ডারগ্র্যাজুয়েটে ভর্তি হওয়া যায়। ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা: অরল্যান্ডোর ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রামে হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েটরা আবেদন করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ইংলিশ লেভেল টেস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর দক্ষতা নির্ধারণ করে। প্রোগ্রামের লেভেল ৮ সফলভাবে শেষ করলে ইউসিএফে ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আইইএলটিএস, টোফেল বা ডুয়োলিঙ্গো পরীক্ষার স্কোর আর প্রয়োজন হয় না। এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য আই-২০ পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস: ডেন্টনের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের ইনটেনসিভ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ইংরেজি দক্ষতা উন্নত করতে পারেন। নতুন শিক্ষার্থীদের নিজস্ব প্লেসমেন্ট পরীক্ষা দিতে হয় এবং সেই ফল অনুযায়ী ইংলিশের স্তর নির্ধারণ করা হয়। লেভেল ৬ সফলভাবে শেষ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি দক্ষতার শর্ত পূরণ করা যায়। কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের মাধ্যমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পড়াশোনার পথও রয়েছে। পেনসিলভানিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটি: ফিলাডেলফিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইনটেনসিভ ইংলিশ ও কন্ডিশনাল অ্যাডমিশন প্রোগ্রাম রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একাডেমিকভাবে যোগ্য শিক্ষার্থীরা কোনো ইংলিশ টেস্ট স্কোর জমা না দিয়েও প্রভিশনাল অ্যাডমিশনের সুযোগ পেতে পারেন এবং পরে ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথ তৈরি করতে পারেন। হাইস্কুল শেষ করা শিক্ষার্থীরাও ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারেন। পূর্ণকালীন প্রোগ্রামে পড়ার জন্য এফ-১ ভিসা এবং আই-২০ প্রয়োজন। আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা: ইউনিভার্সিটি অব আলাবামায় একাডেমিক যোগ্যতা পূরণ করলেও ইংরেজি দক্ষতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের সুযোগ রয়েছে। এসব শিক্ষার্থী প্রথমে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেন। ইংরেজি দক্ষতার শর্ত পূরণ করার পর ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্টভাবে বলছে, কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের ক্ষেত্রে আবেদনের সময় ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে আইইএলটিএস বা টোফেল না থাকলেও শিক্ষার্থীর ইংরেজিতে অন্তত ভিসা ইন্টারভিউ দেওয়ার মতো প্রস্তুতি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা অফিসার শিক্ষার্থীর পড়াশোনার উদ্দেশ্য, নির্বাচিত প্রোগ্রাম, শিক্ষার খরচ বহনের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পারেন। তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই-২০ পেলেই স্টুডেন্ট ভিসা নিশ্চিত হয় না। এ ধরনের প্রোগ্রামে আবেদন করতে সাধারণত একাডেমিক কাগজপত্র, পাসপোর্ট এবং আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হয়। এফ-১ ভিসার জন্য আই-২০ পাওয়ার পর সেভিস ফি, ভিসা আবেদন এবং ইন্টারভিউয়ের ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। শিক্ষার্থীর একাডেমিক প্রোফাইল, আর্থিক সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার উদ্দেশ্য পরিষ্কার ও বিশ্বাসযোগ্য হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, “আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই” মানে ইংরেজি দক্ষতার কোনো যাচাই ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া নয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব প্লেসমেন্ট পরীক্ষা, ইংলিশ প্রোগ্রাম বা কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর ভাষাগত প্রস্তুতি যাচাই করতে পারে। তাই সদ্য এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করা শিক্ষার্থীরা আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ ভর্তি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সংক্রান্ত নিয়ম যাচাই করে নেওয়াই নিরাপদ।
যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের আশঙ্কায় বাজার থেকে প্রত্যাহার করা ১৫ লাখেরও বেশি ডিমের ওপর সর্বোচ্চ ঝুঁকির ‘ক্লাস ১’ (Class 1) সতর্কতা জারি করেছে। গত জুলাই মাসে এই ডিমগুলো বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সংস্থাটি এই কড়া সতর্কতা জারি করে। গত ১২ আগস্ট এফডিএ-এর পক্ষ থেকে এই সতর্কতা সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পণ্যের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বা মৃত্যুর প্রবল আশঙ্কা থাকলে সেটিকে ‘ক্লাস ১’ বা সর্বোচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়। এই সতর্কতা থেকে স্পষ্ট যে, প্রত্যাহার করা ডিমগুলো সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা হুমকিস্বরূপ হতে পারে। এর আগে জুলাই মাসে মিডওয়েস্ট পোল্ট্রি সার্ভিসেস, এল.পি. প্রথমবার এই বিপুল পরিমাণ ডিম বাজার থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এর আওতায় প্রায় ১৫ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৭টি সাদা এবং বাদামি রঙের খোসাযুক্ত ডিম রয়েছে। এসব ডিম ক্রোগার (Kroger), সিম্পল ট্রুথ (Simple Truth) এবং কান্ট্রি মর্নিং (Country Morning)-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি করা হয়েছিল। জানা গেছে, ডিমগুলো মূলত টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে উৎপাদন করা হয়। পরে সেগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এফডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, যেসব অঙ্গরাজ্যে এই ডিমগুলো ছড়িয়ে পড়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আরকানসাস, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, নিউ মেক্সিকো, ওকলাহোমা এবং টেক্সাস। প্রত্যাহার করা ডিমের কার্টন বা প্যাকেটের বাম অথবা ডান দিকে কালির ছাপ দেওয়া নির্দিষ্ট কোড লেখা রয়েছে। এফডিএ জানিয়েছে, যেসব প্যাকেটে P-1950 বা 0840962 কোড রয়েছে এবং সাথে জুলিয়ান তারিখ (Julian Date) ১৫৭ থেকে ১৮৪ উল্লেখ করা আছে, কেবল সেই ডিমগুলোই এই সতর্কতার আওতায় পড়বে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই নির্দিষ্ট ডিমগুলো কেনা গ্রাহকদের তা না খাওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এর বদলে যেখান থেকে কেনা হয়েছে, সেখানে ফেরত দিয়ে পুরো অর্থ বুঝে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এই ডিম খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছেন বা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত খাবার খেলে সালমোনেলোসিস নামের খাদ্যবাহিত রোগ হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, দূষিত খাবার খাওয়ার ছয় ঘণ্টা থেকে ছয় দিনের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর, ডায়রিয়া বা তীব্র পেটব্যথা দেখা দিতে পারে। সাধারণত এই অসুস্থতা এক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। কিছু ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হলেও বেশিরভাগ মানুষ কোনো বিশেষ চিকিৎসা ছাড়াই নিজে থেকেই সুস্থ হয়ে ওঠেন।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আবারও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হাম (মিজলস)। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৬৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সংক্রমণের ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সিডিসির ১৩ আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশজুড়ে ৩৮টি পৃথক প্রাদুর্ভাব (আউটব্রেক) শনাক্ত হয়েছে। মোট আক্রান্তের ৯৪ শতাংশই এসব চলমান প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আক্রান্তদের মধ্যে ২ হাজার ৫৫০ জন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা এবং ১৬ জন আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়াসহ মোট ৪৭টি প্রশাসনিক এলাকায় হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সর্বশেষ উইসকনসিনেও নতুন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে, যা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের বিস্তারের অন্যতম কারণ শিশুদের মধ্যে এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকার হার কমে যাওয়া। একটি এলাকায় হার্ড ইমিউনিটি বা সামষ্টিক রোগ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাধারণত অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুর টিকাপ্রাপ্ত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় সেই হার এখন এর নিচে নেমে গেছে। উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের টিকাদান নিবন্ধন তথ্য অনুযায়ী, ২৪ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে এমএমআর টিকার কভারেজ ২০১৯ সালের ৮৪ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে কমে ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে ছয় বছর বয়সী শিশুদের টিকাদানের হারও ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। ক্লার্ক, মনরো, ভার্নন ও ক্রফোর্ড কাউন্টির মতো কিছু এলাকায় এই হার ৭০ শতাংশেরও নিচে নেমেছে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের হামে আক্রান্তদের ৯৩ শতাংশই টিকা নেননি অথবা তাদের টিকাদানের তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, কম টিকাদানের এলাকাগুলোতেই পারিবারিক ও কমিউনিটি পর্যায়ে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। নতুন নির্বাহী আদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত সম্মিলিত এমএমআর টিকাকে ভবিষ্যতে তিনটি পৃথক টিকায় বিভক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যদি দেশীয় উৎপাদন সম্ভব হয়। পাশাপাশি শিশুদের বিভিন্ন টিকা একসঙ্গে না দিয়ে আলাদা আলাদা সময়ে দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও শিশু চিকিৎসকেরা। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু ও কিশোরস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মেলিসা স্টকওয়েল নিউজউইককে বলেন, এমএমআর টিকাকে আলাদা করে দিলে পরিবারের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ বাড়বে। এতে শিশুদের নির্ধারিত সময়ে সব ডোজ সম্পন্ন না হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে এবং তারা দীর্ঘ সময় সুরক্ষার বাইরে থাকবে। তিনি বলেন, হাম নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। 'মিজলস কোলাবোরেটিভ'-এর নির্বাহী পরিচালক ডা. প্যাটসি স্টিঞ্চফিল্ড বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে সম্মিলিত এমএমআর টিকা নিরাপদভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দুই ডোজ টিকা নেওয়া ৯৯ শতাংশের বেশি মানুষের শরীরে কার্যকর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। তার ভাষায়, "এমএমআর টিকাকে আলাদা করার এই সুপারিশের পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।" লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডিও এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, টিকাদান নীতিতে এ ধরনের পরিবর্তন টিকা নিয়ে দ্বিধা আরও বাড়াতে পারে এবং শিশুদের অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে হাম, মাম্পস ও রুবেলার পৃথক টিকা বাজারে সহজলভ্য নয়। টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও আলাদা টিকা উৎপাদনের কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে সিডিসি এখনো তাদের বিদ্যমান নির্দেশনা বহাল রেখেছে। সংস্থাটি ১২ থেকে ১৫ মাস এবং ৪ থেকে ৬ বছর বয়সে দুটি ডোজ সম্মিলিত এমএমআর টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। উইসকনসিনসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগও অভিভাবকদের বর্তমান সিডিসি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, চলমান সংক্রমণের মধ্যে সময়মতো টিকা নেওয়াই হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সূত্র: সিডিসি, নিউজউইক।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে এখন বাড়ি বিক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠেছে। উচ্চ বাড়ির দাম, বেড়ে যাওয়া মর্টগেজ সুদের হার এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাজার থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে বিক্রির জন্য থাকা বাড়ির সংখ্যা বাড়লেও ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় দর-কষাকষির ক্ষমতা এখন অনেকটাই ক্রেতাদের হাতে চলে গেছে। আবাসনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান রেডফিনের সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয় বাড়ি ক্রেতার সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৯ লাখ ৬৭ হাজারে। ২০১৩ সালে রেডফিন এ তথ্য সংগ্রহ শুরু করার পর এটিই সর্বনিম্ন। একই সময়ে বাজারে বিক্রেতার সংখ্যা ক্রেতার তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি ছিল। ফলে সারাদেশে প্রায় পাঁচ লাখ বেশি বিক্রেতা বাড়ি বিক্রির অপেক্ষায় ছিলেন। রেডফিনের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড্যারিল ফেয়ারওয়েদার বলেন, গত বছরের তুলনায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মর্টগেজ সুদের হার কিছুটা কম থাকায় বাজারে তুলনামূলক বেশি ক্রেতা এসেছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের জুলাইয়ে সুদের হার এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। একই সঙ্গে বাড়ির দামও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে অনেক পরিবারের জন্য মাসিক কিস্তি বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে ভূমিকা রাখছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে সক্রিয় ক্রেতার সংখ্যা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। জুন থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ক্রেতার সংখ্যা কমেছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ, অথচ একই সময়ে বিক্রেতার সংখ্যা কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। এতে বাজারে বিক্রেতাদের প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে। ড্যারিল ফেয়ারওয়েদারের ভাষায়, "যখন একই ধরনের বাড়ির জন্য ক্রেতা কম থাকে, তখন যারা বাজারে থাকেন, তারা আরও বেশি বিকল্প পান। ফলে তারা দাম কমানো, বিক্রেতার অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া বা অন্যান্য শর্ত নিয়ে দর-কষাকষিতে বেশি সুবিধা পান।" প্রতিবেদন বলছে, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯টি বড় আবাসন বাজারের মধ্যে ৩৯টিকেই 'ক্রেতার বাজার' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ এসব এলাকায় বাড়ির সরবরাহ চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। মহামারির সময় যেসব শহরে আবাসন বাজার ছিল সবচেয়ে উত্তপ্ত, সেসব এলাকার অনেকগুলো এখন উল্টো চিত্র দেখছে। ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এমন বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্লোরিডার মিয়ামি, টেনেসির ন্যাশভিল এবং টেক্সাসের হিউস্টন, সান অ্যান্টোনিও ও অস্টিন। টেক্সাসের হিউস্টনে জুলাই মাসে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতা ছিল ১৩০ শতাংশ বেশি। সান অ্যান্টোনিওতে এই ব্যবধান ছিল ১১৬ শতাংশ এবং অস্টিনে ১১২ শতাংশ। রেডফিনের মতে, এসব এলাকায় মহামারির সময় ব্যাপক হারে নতুন আবাসন নির্মাণ এবং বিনিয়োগের ফলে এখন বাজারে একসঙ্গে অনেক বাড়ি বিক্রির জন্য এসেছে। একই সময়ে উচ্চ সুদের কারণে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিক্রেতারা চাপে পড়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ছয়টি বাজারকে 'বিক্রেতার বাজার' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নাসাউ কাউন্টি সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সেখানে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতা ৩৬ শতাংশ কম। এরপর রয়েছে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক এবং রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্স। বিশ্লেষকদের মতে, এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি সীমিত থাকায় সরবরাহ তুলনামূলক কম। একই সঙ্গে বড় কর্মসংস্থান কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান হওয়ায় ক্রেতার চাহিদাও শক্তিশালী রয়েছে। আবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যারা বাড়ি বিক্রি করতে চান, তাদের বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণ, বাড়ির উপস্থাপনা উন্নত করা এবং ক্রেতাদের সঙ্গে দর-কষাকষির জন্য প্রস্তুত থাকা জরুরি। অন্যদিকে যেসব ক্রেতা দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের জন্য বর্তমান বাজারে আগের তুলনায় ভালো শর্তে বাড়ি কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সূত্র: রেডফিন, নিউইয়র্ক পোস্ট।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য সরকারি চাকরি হতে পারে স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সিটি, কাউন্টি, স্টেট এবং ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসন, হিসাবরক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিবহন, জননিরাপত্তা, সামাজিক সেবা, ইঞ্জিনিয়ারিং, রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা ধরনের পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সরকারি চাকরিতে আবেদন করার নিয়ম বেসরকারি চাকরির মতো নয়। কোথায় চাকরিটি, কোন দপ্তরের অধীনে এবং পদটির জন্য পরীক্ষা বা বিশেষ যোগ্যতা প্রয়োজন কি না, তার ওপর পুরো প্রক্রিয়া নির্ভর করে। সবচেয়ে আগে বুঝতে হবে, সিটি জব, স্টেট জব এবং ফেডারেল জব আলাদা। কোনো শহরের চাকরি হলে সেটি সিটি সরকারের অধীনে, স্টেট জব হলে রাজ্য সরকারের অধীনে এবং ফেডারেল জব হলে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে। তাই চাকরি খোঁজার জায়গাটিও আলাদা। ইউএসএ গভ-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল চাকরির জন্য ইউএসএজবস প্রধান সরকারি প্ল্যাটফর্ম। আর স্টেট সরকারের চাকরির জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেটের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টালে যেতে হয়। স্থানীয় সরকারের চাকরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সিটি বা কাউন্টির সরকারি ওয়েবসাইট দেখতে হয়। নিউইয়র্ক সিটির চাকরি এর একটি ভালো উদাহরণ। নিউইয়র্ক সিটি সরকারের অধীনে তিন লাখের বেশি কর্মী এবং প্রায় ৮০টি এজেন্সি রয়েছে। ক্লেরিক্যাল ও প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে অর্থ ও হিসাব, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, সামাজিক সেবা, প্রকৌশল, রক্ষণাবেক্ষণ, জননিরাপত্তা এবং বিভিন্ন কারিগরি পেশায় চাকরির সুযোগ রয়েছে। তবে নিউইয়র্ক সিটির চাকরির ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে। সিটির ৮০ শতাংশের বেশি চাকরিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা প্রয়োজন। অর্থাৎ শুধু চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে জীবনবৃত্তান্ত পাঠালেই অনেক ক্ষেত্রে হবে না। প্রথমে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিতে হতে পারে। যে পদে পরীক্ষা প্রয়োজন, তার জন্য প্রথমে ওই পদের পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি বা নোটিশ ভালোভাবে পড়তে হবে। সেখানে কাজের ধরন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, পরীক্ষার পদ্ধতি, আবেদন করার সময়সীমা এবং পরীক্ষার ফি সম্পর্কে তথ্য থাকে। যোগ্যতা পূরণ করলে নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেসের অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য আবেদন করা যায়। চাইলে নির্দিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্র থেকেও আবেদন করা যায়। পরীক্ষার ধরনও সব পদের জন্য এক নয়। কিছু পরীক্ষা নির্দিষ্ট দিনে অনুষ্ঠিত হয়। আবার কিছু পদে শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনলাইনে মূল্যায়ন করা হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীর নাম নির্দিষ্ট তালিকায় আসে এবং নিয়োগকারী সিটি এজেন্সি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রার্থীদের ইন্টারভিউতে ডাকতে পারে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির সব চাকরিতে পরীক্ষা লাগে না। কিছু পদে সরাসরি আবেদন করা যায়। এসব চাকরি সাধারণত সিটির চাকরির পোর্টালে প্রকাশ করা হয়। তাই শুধু সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার তালিকা দেখলেই হবে না, সরাসরি আবেদন করা যায় এমন চাকরিগুলোও নিয়মিত দেখা দরকার। বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য বিদেশি ডিগ্রির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির কিছু চাকরিতে বিদেশ থেকে নেওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান যাচাই করতে হতে পারে। তাই বাংলাদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা কেউ সরকারি চাকরিতে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল্যায়ন সম্পর্কে কী বলা হয়েছে, সেটি দেখে নেওয়া উচিত। এবার আসা যাক স্টেট সরকারের চাকরিতে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি স্টেটের নিজস্ব চাকরির ব্যবস্থা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে জর্জিয়ায় সরকারি চাকরির জন্য টিম জর্জিয়া ক্যারিয়ার্স পোর্টাল ব্যবহার করা হয়। সেখানে রাজ্য সরকারের প্রায় ১০০টি এজেন্সিতে বিভিন্ন ধরনের চাকরির সুযোগ রয়েছে। চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে কাউন্টি, কাজের ক্ষেত্র এবং পদের ধরন অনুযায়ী অনুসন্ধান করা যায়। জর্জিয়া স্টেটের চাকরিতে শিক্ষা, সাধারণ প্রশাসন, নিয়ন্ত্রক কাজ, আইন প্রয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সুযোগ রয়েছে। আবেদন করার আগে চাকরির দায়িত্ব, যোগ্যতা এবং আবেদনের নির্দেশনা ভালোভাবে পড়তে হয়। সব পদে একই ধরনের যোগ্যতা বা আবেদন পদ্ধতি থাকে না। অন্য স্টেটেও একইভাবে সংশ্লিষ্ট স্টেট সরকারের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টাল ব্যবহার করতে হয়। অর্থাৎ আপনি নিউইয়র্ক, জর্জিয়া, নিউ জার্সি, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া কিংবা অন্য কোনো স্টেটে থাকলে প্রথমে সেই স্টেট সরকারের অফিসিয়াল চাকরির পোর্টাল খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি নিজের শহর ও কাউন্টির সরকারি চাকরির পেজও দেখা উচিত। ফেডারেল সরকারের চাকরির প্রক্রিয়া আবার কিছুটা আলাদা। ফেডারেল চাকরির জন্য ইউএসএজবস হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির প্ল্যাটফর্ম। আবেদন শুরু করতে প্রথমে লগইন ডট গভ অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়। এরপর ইউএসএজবস প্রোফাইল তৈরি করে জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করা যায়। চাকরি খোঁজার সময় শুধু পদের নাম দেখলেই হবে না। ফেডারেল চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে “হু মে অ্যাপ্লাই” এবং “হাউ টু অ্যাপ্লাই” অংশ বিশেষভাবে পড়তে হয়। কারণ সব ফেডারেল চাকরি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। কোনো পদ সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকতে পারে, আবার কোনো পদ নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা বিশেষ নিয়োগের আওতায় থাকতে পারে। ফেডারেল চাকরির আবেদন প্রক্রিয়ায় ইউএসএজবস সাধারণত জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংযুক্ত করার পর আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট সরকারি এজেন্সির নিজস্ব আবেদন ব্যবস্থায় নিয়ে যায়। সেখানে অতিরিক্ত তথ্য, প্রশ্নপত্র বা ডকুমেন্ট জমা দিতে হতে পারে। তাই ইউএসএজবসে “অ্যাপ্লাই” চাপার পরেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আবেদন শেষ হওয়ার পর অ্যাকাউন্টে গিয়ে আবেদনটি সফলভাবে জমা হয়েছে কি না নিশ্চিত করা উচিত। আবেদন করার পর শুরু হয় বাছাই প্রক্রিয়া। সরকারি চাকরিতে অনেক সময় আবেদন পাওয়ার পর যোগ্যতা যাচাই, প্রাথমিক বাছাই, ইন্টারভিউ, নির্বাচন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের মতো একাধিক ধাপ থাকে। ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগকারী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। এরপর ইন্টারভিউ হতে পারে। নির্বাচিত প্রার্থীকে প্রথমে শর্তসাপেক্ষ চাকরির অফার দেওয়া হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড বা নিরাপত্তা যাচাই শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত অফার দেওয়া হয়। সরকারি চাকরির অন্যতম আকর্ষণ হলো বেনিফিট। তবে সব সরকারি চাকরিতে একই সুবিধা পাওয়া যায় না। স্টেট, সিটি বা ফেডারেল সরকারের নিয়ম এবং চাকরির ধরন অনুযায়ী সুবিধা পরিবর্তিত হয়। ফেডারেল সরকারের যোগ্য কর্মীরা হেলথ, ডেন্টাল, ভিশন ও লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফ্লেক্সিবল স্পেন্ডিং অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ক্ষেত্রে লং টার্ম কেয়ার ইন্স্যুরেন্সের সুবিধা পেতে পারেন। ফেডারেল কর্মীদের জন্য অবসরকালীন সুবিধার ব্যবস্থাও রয়েছে। জর্জিয়া স্টেটের সরকারি কর্মীদের জন্য মেডিকেল ও ডেন্টাল কভারেজ, অবসরকালীন সুবিধা, পেইড টাইম অফ এবং অন্যান্য কর্মী সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। স্টেট সরকারের চাকরির সুবিধার মধ্যে কর্মীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের অবসর পরিকল্পনাও রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির চাকরির ক্ষেত্রেও বেতন ছাড়াও বিভিন্ন কর্মী সুবিধা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো কর্মী কোন সুবিধা পাবেন, সেটি তার পদ, চাকরির শ্রেণি, ইউনিয়ন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে শুধু বেতন নয়, সেই পদের বেনিফিট সম্পর্কিত তথ্যও দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি চাকরির কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অনেক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি সময় নিতে পারে। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা, যোগ্যতার তালিকা, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বা একাধিক ধাপের কারণে চাকরি পেতে অপেক্ষা করতে হতে পারে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির পরীক্ষাভিত্তিক চাকরিতে পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে। আরেকটি বিষয় হলো, সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সময় সাধারণ একটি জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়ে দিলেই সব সময় কাজ হয় না। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যে যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে, জীবনবৃত্তান্ত ও আবেদনপত্রে সেই যোগ্যতার সঙ্গে নিজের শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতার মিল পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হয়। ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র বা অতিরিক্ত ডকুমেন্টও লাগতে পারে। বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য নাগরিকত্বের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সব সরকারি চাকরিতে নাগরিকত্বের নিয়ম এক নয়। বিশেষ করে ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির “হু মে অ্যাপ্লাই” অংশে কারা আবেদন করতে পারবেন, সেটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। তাই ইউএস সিটিজেন, গ্রিন কার্ডধারী বা অন্য কোনো ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস থাকলেই সব সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যাবে, এমন ধারণা করা উচিত নয়। প্রতিটি পদের যোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। সরকারি চাকরিতে আবেদন করার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতারণা থেকে সাবধান থাকা। সরকারি চাকরির জন্য কোনো ব্যক্তিকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। চাকরির আবেদন সব সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে করা উচিত। কেউ যদি চাকরি নিশ্চিত করার কথা বলে আগে টাকা চায় বা অফিসিয়াল প্রক্রিয়ার বাইরে ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংকিং তথ্য চায়, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি। তাহলে একজন বাংলাদেশি কোথা থেকে শুরু করবেন? প্রথমে নিজের স্টেট, সিটি ও কাউন্টির সরকারি চাকরির পোর্টাল খুঁজে বের করতে হবে। এরপর নিজের শিক্ষা, কাজের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স এবং দক্ষতার সঙ্গে মেলে এমন পদ খুঁজতে হবে। চাকরির বিজ্ঞপ্তিটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে দেখতে হবে পদটির জন্য কোনো পরীক্ষা দরকার কি না, ন্যূনতম যোগ্যতা কী, আবেদন কখন শেষ হবে এবং কী কী ডকুমেন্ট লাগবে। এরপর জীবনবৃত্তান্ত ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত করে অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। নিউইয়র্কে থাকলে সিটি জবের পাশাপাশি নিউইয়র্ক স্টেট ও নিজের কাউন্টির চাকরিও দেখা যেতে পারে। জর্জিয়ায় থাকলে স্টেট সরকারের পাশাপাশি কাউন্টি ও সিটি সরকারের চাকরি খোঁজা উচিত। একইভাবে অন্য স্টেটেও স্থানীয় সরকার, কাউন্টি এবং স্টেট সরকারের আলাদা আলাদা চাকরির সুযোগ থাকে। ফেডারেল চাকরির জন্য আলাদাভাবে ইউএসএজবস ব্যবহার করতে হবে। সরকারি চাকরি সবার জন্য একই রকম নয় এবং সব পদের বেতন বা সুবিধাও এক নয়। তবে স্থায়ী ক্যারিয়ার, নিয়মিত আয়, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, অবসরকালীন সুবিধা, পেইড টাইম অফ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের সুযোগ খুঁজছেন এমন বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য সরকারি চাকরি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যারিয়ার অপশন হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিচিত কারও কাছ থেকে শোনা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি চাকরির অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি পড়ে আবেদন করা। কারণ একটি সিটি বা স্টেটের নিয়ম অন্য সিটি বা স্টেটে একই নাও হতে পারে। সঠিক জায়গায় চাকরি খোঁজা, যোগ্যতা যাচাই করা এবং আবেদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ ঠিকভাবে অনুসরণ করাই সরকারি চাকরিতে আবেদন করার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মিসাউকি কাউন্টিতে একাধিক স্থানে সংঘটিত গুলির ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর সন্দেহভাজনকে ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কয়েক ঘণ্টা পর তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে তার মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। মিশিগান স্টেট পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে এপি, আপ নর্থ লাইভ এবং অন্যান্য মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরের আগে মিসাউকি কাউন্টির একটি বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত একজনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্ত চলাকালে পুলিশ আরও দুটি পৃথক স্থানে মরদেহ খুঁজে পায়। এর মধ্যে একটি মরদেহ হুইটলক লেকের কাছের বনাঞ্চলে এবং আরেকটি একটি পৃথক বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। এতে নিহতের সংখ্যা পাঁচে পৌঁছায়। ঘটনার পর ৩৯ বছর বয়সী চ্যাড হিকম্যানকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে মিশিগান স্টেট পুলিশ। তাকে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হিসেবে সতর্কবার্তা দিয়ে এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে হুইটলক লেকের কাছাকাছি তার গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করা হলে সেখানে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করেনি, তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে। মিশিগান স্টেট পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, "এটি শুধু তদন্তকারীদের জন্য নয়, পুরো সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি ঘটনা। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাব এবং তদন্তে যা সামনে আসবে, সে বিষয়ে জনগণকে নিয়মিত জানানো হবে।" কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় এবং সন্দেহভাজনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। নিহতদের স্বজনদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার পর পরিচয় জানানো হবে। হামলার উদ্দেশ্যও এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং একাধিক অপরাধস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে। কর্মকর্তাদের মতে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। সূত্র: এপি, আপ নর্থ লাইভ, মিশিগান স্টেট পুলিশ।
রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলে নিজের দত্তক ছেলেকে বিয়ে করার ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন ৫৩ বছর বয়সী এক নারী। এই বিয়ের পর দেশটির শিশু কল্যাণ কর্তৃপক্ষ তার হেফাজতে থাকা আরও পাঁচ দত্তক সন্তানকে সরিয়ে নিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে রাশিয়াজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাতারস্তানের বাসিন্দা আইসিলু চিঝেভস্কায়া মিনগালিম নামের ওই নারী ২২ বছর বয়সী ড্যানিয়েল চিঝেভস্কিকে বিয়ে করেছেন। ড্যানিয়েলের সঙ্গে তার পরিচয় হয় যখন ছেলেটির বয়স ছিল ১৩ বছর। সে সময় তিনি একটি এতিমখানায় সংগীত শেখাতেন এবং সেখানেই ড্যানিয়েলের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরবর্তীতে ড্যানিয়েল ১৪ বছর বয়সে পৌঁছালে আইসিলু তাকে আইনগতভাবে দত্তক নেন এবং নিজের সন্তান হিসেবে লালন-পালন করতে শুরু করেন। প্রায় আট বছর পর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এই সিদ্ধান্ত শিশু অধিকার ও পরিবার কল্যাণ সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমকে আইসিলু বলেন, "আমাদের সম্পর্ক খুবই সুন্দর। আমরা একে অপরকে ছাড়া থাকতে পারি না। আমরা একই মানসিকতার মানুষ।" গত সপ্তাহে তাতারস্তানের রাজধানী কাজানের একটি রেস্তোরাঁয় তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়ের পরপরই শিশু কল্যাণ কর্মকর্তারা আইসিলুর হেফাজতে থাকা আরও পাঁচ দত্তক সন্তানকে সরিয়ে নেন। তাদের মধ্যে একজন ছেলে ও চারজন মেয়ে রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের কেউ সরকারি পরিচর্যা কেন্দ্রে, আবার কেউ তাদের জৈবিক আত্মীয়দের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন আইসিলু। তিনি দাবি করেছেন, সন্তানদের আবারও নিজের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। তার ইচ্ছা, পরিবারের সবাইকে নিয়ে মস্কোতে চলে যাওয়া, যেখানে তারা আরও স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইসিলুর আগের একটি বিয়ে থেকে একজন জৈবিক সন্তান রয়েছে। তবে তাকে নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। জানা যায়, একটি টেলিভিশন প্রকল্পের কাজে এতিম শিশুদের সঙ্গে পরিচয়ের পর থেকেই আইসিলু একে একে একাধিক শিশুকে দত্তক নেওয়া শুরু করেন। রাশিয়ায় এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালে দেশটির আরেক নারী মেরিনা বালমাশেভা নিজের সাবেক সৎছেলেকে বিয়ে করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হন। তিনি আগে ওই তরুণের বাবার স্ত্রী ছিলেন। পরে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সাবেক সৎছেলের সঙ্গে সংসার শুরু করেন এবং তাদের সন্তানও রয়েছে। সেই ঘটনাও সামাজিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। আইসিলু ও ড্যানিয়েলের বিয়ে আইনগত, নৈতিক ও শিশু সুরক্ষার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে দত্তক সম্পর্কের সীমা, অভিভাবকের দায়িত্ব এবং শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশ করেনি। সূত্র: ডেইলি মেইল।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডায় স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত এক মার্কিন নারী তার ভেনিজুয়েলান স্বামীর মুক্তির জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তার স্বামীকে আটক করে। কোর্টনি ওয়াল্টার নামের ওই নারী জানান, গত ৩ আগস্ট কোকোনাট ক্রিকের কাছে তার স্বামী ৩৬ বছর বয়সী হোর্হে লুইস এলিয়েসার রুইজকে আটক করেন ইমিগ্রেশন এজেন্টরা। আটকের পর কাছাকাছি একটি পার্কিং লট থেকে রুইজ ফোন করে স্ত্রীকে তার আইসিই হেফাজতে যাওয়ার আকস্মিক খবরটি জানান। কোর্টনি জানান, স্বামীর এই অপ্রত্যাশিত আটকের ঘটনা তার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তীব্র মানসিক চাপের কারণে তিনি ঠিকমতো খেতে পারছেন না এবং তার ওজনও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। জানা গেছে, আটকের পর মিরামারের একটি ইমিগ্রেশন প্রসেসিং সেন্টারে নয় দিন কাটানোর পর, বর্তমানে রুইজকে পম্পানো বিচের ব্রোওয়ার্ড ট্রানজিশনাল সেন্টারে বন্দি রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতি মূলত রুইজের বৈধ স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য চেষ্টা করছিলেন। কোর্টনির ভাষ্যমতে, তারা গত বছরের সেপ্টেম্বরে আই-১৩০ পিটিশন জমা দিয়েছিলেন, যা এখনো সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে আইসিই-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্রোওয়ার্ড কাউন্টিতে একটি নিয়মিত অভিযানের সময় রুইজকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ওই সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানের কথা স্বীকার করেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের এপ্রিলে রুইজ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং ২০১২ সালের নভেম্বরে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তাকে দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমানে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলাকালীন হেফাজতে রাখা হয়েছে। রুইজের আইনজীবী ডেভিড এস্ট্রেলা আইসিই-এর এমন বিবৃতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, এতে একজন মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে রুইজের বিয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আই-১৩০ পিটিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাউকে নির্বাসন থেকে রক্ষা না করলেও, রুইজের ক্ষেত্রে একটি আইনি স্থগিতাদেশ রয়েছে যা তাকে এই মুহূর্তে ভেনিজুয়েলায় ফেরত পাঠানোর পথে বাধা। এস্ট্রেলা বর্তমানে একটি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন নিয়ে কাজ করছেন, যাতে রুইজকে মুক্তি দিয়ে তার অভিবাসন মামলাটি স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। আগামী সোমবার, ১৭ আগস্টের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার এই পিটিশনের জবাব দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোর্টনি এখন কেবল তার স্বামীকে ফিরে পাওয়ার আশায় প্রহর গুনছেন, যাতে তারা একসঙ্গে থেকে স্থায়ী বসবাসের এই আইনি লড়াইটা চালিয়ে যেতে পারেন।
বিশ্বজুড়ে চলমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিপ্লবের বদৌলতে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া এক তরুণ বিজ্ঞানীর চমকপ্রদ পরিচয় সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। মাত্র ৩১ বছর বয়সে ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’ (xAI)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা "টনি" ইউহুয়াই উ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান মাতেও কাউন্টির হিলসবরোতে ৭০ মিলিয়ন (৭ কোটি) ডলার মূল্যের সুবিশাল এক রাজপ্রাসাদ কিনে স্থানীয় আবাসন বিক্রির সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। ইতালির বিখ্যাত কোমো হ্রদের ভিলার আদলে নির্মিত ১২ একর আয়তনের এই চোখধাঁধানো ভূসম্পত্তিটি 'ভিলা দে ভেরানো' নামে পরিচিত। সুবিশাল এই এস্টেটের মূল বাড়িটির আয়তন প্রায় ১২ হাজার বর্গফুট, যাতে রয়েছে ছয়টি বিলাসবহুল শয়নকক্ষ। মূল ভবনের পাশাপাশি অতিথিদের জন্য রয়েছে ৪ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি সুসজ্জিত গেস্ট হাউস। চোখজুড়ানো প্রাকৃতিক রূপ ও সবুজ লন ছাড়াও এই এস্টেটে রয়েছে সমৃদ্ধ ক্রীড়া কমপ্লেক্স, যার মধ্যে রয়েছে নিজস্ব গলফ কোর্স, টেনিস, পিকলবল ও ভলিবল কোর্ট। বিনোদনের জন্য এতে ১৫০ আসনের একটি অ্যাম্ফিথিয়েটার, বেল্যাজিও ক্যাসিনো অনুপ্রাণিত দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা, কোই মাছের পুকুর এবং বিশাল এক লবণাক্ত পানির অ্যাকোয়ারিয়াম তৈরি করা হয়েছে। পাবলিক রেকর্ড অনুযায়ী, প্রাইভেট ইকুইটি বিনিয়োগকারী টেড ক্রুটশনিটের কাছ থেকে 'দাইকন নো হানা ক্যাপিটাল এলএলসি' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পত্তিটি কেনা হয়েছে, যার নথি ও প্রতিনিধিদের সূত্র ধরে টনি উ-এর মালিকানা নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। কম বয়সেই প্রযুক্তি বিশ্বে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন বিজ্ঞানী টনি উ। তিনি এর আগে ওপেনএআই এবং গুগলের ডিপমাইন্ডে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ইলন মাস্কের সঙ্গে যৌথভাবে 'এক্সএআই' প্রতিষ্ঠা করেন, যেখান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ যুক্ত জনপ্রিয় এআই টুল 'গ্রক' (Grok) তৈরি হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এক ঐতিহাসিক মূল্যায়নে স্পেসএক্স যখন এক্সএআই অধিগ্রহণ করে, তার মাত্র কয়েক দিন পরই প্রতিষ্ঠানটি থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। স্পেসএক্সের সেই নজিরবিহীন আর্থিক উল্লম্ফনই তাকে নতুন শতকোটিপতিদের তালিকায় যুক্ত করেছে। সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার ইতিহাসে ৭০ মিলিয়ন ডলারের এই বাড়ি কেনাবেচা অন্যতম ব্যয়বহুল লেনদেন হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যকে এবার ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত বৃহস্পতিবার সম্প্রচারিত ইসরায়েলের আর্মি রেডিওর (গ্যালি জাজাল) পডকাস্ট ‘মেলেখ ব্লিটজার হাইম’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। গাজা যুদ্ধসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের কড়া সমালোচনা করতে গিয়েই মূলত তিনি এই প্রসঙ্গটি টেনে আনেন। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সাংবাদিক ও উইনস্টন চার্চিলের ছেলে র্যান্ডলফ চার্চিলের ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের প্রশংসা করে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান ব্রিটেনে এ ধরনের ইসরায়েলপন্থি অবস্থান খুঁজে পাওয়া একেবারেই বিরল। এ সময় তিনি চরম ব্যঙ্গাত্মক সুরে বর্তমান যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সাক্ষাৎকার চলাকালে মার্কিন রাজনীতিক জেডি ভ্যান্সের করা পূর্বের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ একজন বলেছিলেন যে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী বিশ্বের প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র হতে যাচ্ছে এই ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’। তবে ইসরায়েল যে কোনো মূল্যে নিশ্চিত করবে যেন ইরানে এমন কিছুর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই কড়া হুঁশিয়ারিও তিনি তার বক্তব্যে যোগ করেন। নেতানিয়াহুর এমন ইসলামোফোবিক ও চরম ডানপন্থি বাগাড়ম্বরের পর যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের প্রগতিশীল ইহুদি সংগঠনগুলোর পাশাপাশি খোদ ইসরায়েলের বিরোধী রাজনীতিকরাও এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। ‘মুভমেন্ট ফর প্রগ্রেসিভ জুডাইজম’-এর নেতা রাব্বি চার্লি বাগিনস্কি ও রাব্বি জশ লেভ এক যৌথ বিবৃতিতে এই মন্তব্যকে চরম বিদ্বেষপূর্ণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, বর্তমান এই সামাজিক বিভাজনের সময়ে এ ধরনের বিপজ্জনক ভাষা ব্যবহার অনুচিত এবং নেতানিয়াহু কোনোভাবেই ব্রিটিশ ইহুদিদের প্রতিনিধিত্ব করেন না। ইসরায়েলি বিরোধী নেতা আভি দাবুশও এই মন্তব্যের জেরে নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও, ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে স্পষ্ট টানাপোড়েন শুরু হয়। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের সময় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় ইসরায়েলের কিছু অস্ত্র রপ্তানি লাইসেন্স বাতিল করা হয় এবং ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়া ফ্রান্স ও কানাডার মতো বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মিত্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্য স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পথে হেঁটেছে। সম্প্রতি বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধে আরও কঠোর চাপ প্রয়োগ এবং অস্ত্র ও বাণিজ্যসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। মূলত এই ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক দূরত্বের কারণেই নেতানিয়াহু যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে এমন আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
পাকিস্তান সর্বদা শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী হলেও এই আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখলে তার চরম ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার ওপর কোনো ধরনের আঘাত এলে ২০২৫ সালের মে মাসের চেয়েও ভয়ংকর সামরিক জবাব দেবে ইসলামাবাদ। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের ৭৯তম স্বাধীনতাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই কড়া বার্তা দেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি ২০২৫ সালের ঐতিহাসিক ‘মারকা-ই-হক’ যুদ্ধের বিজয় ও শহীদ বীরদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ বা বিজয় স্মৃতিস্তম্ভের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখে শান্তি প্রতিষ্ঠাই পাকিস্তানের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভারতের সঙ্গে চলমান পানিবিরোধ ইস্যুতেও এদিন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ‘মারকা-ই-হক’ যুদ্ধে পরাজয়ের পর ভারত সম্পূর্ণ একতরফাভাবে ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নয়াদিল্লি মূলত নিজেদেরকেই এ অঞ্চলে শান্তির পথের প্রধান বাধা হিসেবে প্রমাণ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। শাহবাজ শরিফ অত্যন্ত দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করেন, পাকিস্তানের পানির প্রতিটি ফোঁটাই তাদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’। ভারত যদি নিজেদের এই অনড় ও বৈরী অবস্থান থেকে অবিলম্বে সরে না আসে, তবে পাকিস্তান এর সমুচিত ও যুগান্তকারী জবাব দিতে বাধ্য হবে বলে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেন তিনি। রাজধানীতে আয়োজিত এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, সিনেট চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ রাজা গিলানি, জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং উপপ্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারসহ দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নতুন উদ্বোধন করা স্মৃতিস্তম্ভটিকে পাকিস্তানের দৃঢ় সংকল্প এবং সশস্ত্র বাহিনীর অসামান্য পেশাদারিত্ব ও যুদ্ধ সক্ষমতার জীবন্ত প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেন শাহবাজ শরিফ। জাতীয় এই ভাষণে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন পাক প্রধানমন্ত্রী। কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবিতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন অবিচল থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে বলে জানান। পাশাপাশি ফিলিস্তিন সংকটের ন্যায়সংগত সমাধানের পক্ষেও নিজেদের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পরিশেষে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের নেতৃত্বের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে শাহবাজ শরিফ জোরালো আহ্বান জানান, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আফগান মাটির ব্যবহার যেন অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী সরকারি কর্মসূচি ‘মেডিকেইড’ গ্রহণকারী পিতামাতার মৃত্যুর পর পারিবারিক বাড়ি রক্ষা করা অনেক উত্তরাধিকারীর জন্যই এক জটিল ও স্পর্শকাতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে মেডিকেইডের ‘এস্টেট-রিকভারি’ বা সম্পদ পুনরুদ্ধার নীতির কারণে বাড়িটির ওপর সরকারি লিয়েন বা দেনার দাবি তৈরি হয়। তবে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ, বিশেষ ছাড় ও এস্টেট পরিকল্পনার মাধ্যমে এই বাড়ি রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সন্তানের বয়স ২১ বছরের কম হলে কিংবা সন্তান যদি অন্ধ বা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হন, তবে মেডিকেইড সেই বাড়ি বা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে পারে না। এছাড়া কিছু অঙ্গরাজ্যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান যদি পিতামাতাকে সেবাদানকারী হিসেবে অন্তত দুই বছর ওই বাড়িতে অবস্থান করেন, তিনিও বিশেষ ছাড়ের সুবিধা পেতে পারেন। এর বাইরেও উত্তরাধিকারীরা ‘আনডিউ হার্ডশিপ ওয়েভার’ বা চরম আর্থিক সংকটের অজুহাতে বিশেষ মওকুফের আবেদন করতে পারেন। রাজ্য মেডিকেইড সংস্থার নোটিশ পাওয়ার সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে এই আবেদনটি করতে হয়। যদি প্রমাণ করা যায় যে, বাড়িটি নিয়ে নিলে উত্তরাধিকারী সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়বেন বা সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হবেন, তবে কর্তৃপক্ষ ছাড় দিতে পারে। জাতীয় অধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস ইন এজিং’-এর মতে, মেডিকেইডের এই সম্পদ পুনরুদ্ধার নীতি মূলত স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। কারণ একটি পারিবারিক বসতভিটাই প্রায়শ তাদের একমাত্র সম্বল। আইনি পরামর্শ ও সম্পদ রক্ষার সঠিক জ্ঞান না থাকায় অনেকেই নিজেদের বাড়ি হারিয়ে আবাসন সংকটে পড়েন, যা প্রজন্মগত সম্পদ গড়ার পথকে রুদ্ধ করে দেয়। এদিকে উত্তরাধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ির বন্ধকি ঋণ এবং হোমওনার্স ইনস্যুরেন্স বা গৃহবীমা নিয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পিতামাতার মৃত্যুর পর আনুষ্ঠানিকভাবে এস্টেটের এক্সিকিউটর বা প্রতিনিধি নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বন্ধকি ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উত্তরাধিকারীর সঙ্গে কথা বলতে চায় না। তবে বীমা সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে পিতামাতার মৃত্যুর ৩০ দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিকে অবহিত করা উচিত। অন্যথায় অগ্নিকাণ্ড বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি হলে বীমা কোম্পানি দাবি নাকচ করে দিতে পারে। ফ্লোরিডার উইল ও ট্রাস্ট বিষয়ক আইনজীবী বার্ট স্কোভিলের মতে, গৃহবীমা পলিসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন মালিকের নামে স্থানান্তরিত হয় না। তাই আইনি জটিলতা ও বাড়ি ফাঁকা থাকার কারণে বীমা সুবিধা বাতিল হওয়া এড়াতে দ্রুত পলিসি হালনাগাদ করা এবং একজন বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া অপরিহার্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য সরকারি অধিগ্রহণের কবলে পড়ে নিজেদের স্বপ্নের বাড়ি হারাতে বসেছেন বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। এর মধ্যে রয়েছেন মার্ক ও জোন হেনডেল দম্পতি, যারা সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে কেপ কড এলাকায় নিজেদের অবসরের জন্য একটি বাড়ি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু স্বপ্নের সেই বাড়িতে ওঠার মাত্র এক মাসের মাথায় সরকারি এক নোটিশে তাদের জানানো হয়, নতুন সাগামোর ব্রিজ নির্মাণের জন্য তাদের নবনির্মিত বাড়িটি ভেঙে ফেলা হবে। ‘এমিনেন্ট ডোমেইন’ বা জনস্বার্থে ব্যক্তিগত সম্পত্তি অধিগ্রহণ আইনের আওতায় ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্য এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, যা হেনডেল দম্পতির মতো আরও অনেক পরিবারকে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। ২০২৩ সালের শেষের দিকে এই দম্পতি জমি কিনে বাড়ি নির্মাণের চুক্তি করেছিলেন এবং দূর থেকে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তারা নতুন বাড়িতে ওঠেন। কিন্তু মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর জীবন যখন গুছিয়ে আসতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই রাজ্য সরকারের ওই চিঠি তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে। জানা যায়, কেপ কডের সাথে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম সাগামোর ও বর্ন নামের প্রায় ৯০ বছরের পুরোনো দুটি জরাজীর্ণ সেতুর বদলে নতুন সেতু নির্মাণের জন্যই এই অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। বছরে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ ট্রিপ বহনকারী এই সেতুগুলোর ওপর স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক থেকে শুরু করে জরুরি পরিষেবা ও হারিকেন থেকে বাঁচতে আশ্রয়প্রার্থীরা ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই রাজ্য পরিবহন দপ্তরের মতে, অর্থনৈতিক ও বাস্তবিক কারণে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। প্রকল্পের জন্য মোট ১৩টি বাড়ি ও তিনটি বাণিজ্যিক স্থাপনা অধিগ্রহণ করা হচ্ছে, যার মধ্যে অন্তত ১১টির মালিকানা ইতিমধ্যেই রাজ্যের হাতে চলে গেছে। আইন অনুযায়ী অধিগ্রহণের শিকার সম্পত্তির মালিকদের ন্যায্য বাজারমূল্য ও পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হলেও, বর্তমান তীব্র আবাসন সংকটের যুগে এই ক্ষতিপূরণ মোটেও যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ম্যাসাচুসেটস একটি 'কুইক টেক' অঙ্গরাজ্য হওয়ায় সরকার চূড়ান্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের আগেই সম্পত্তির আইনি দখল নিতে পারে, যার ফলে ন্যায্য অধিকারের জন্য লড়াই করতে গিয়ে মালিকরা এক ধরনের ঝুলন্ত অবস্থায় পড়েন। এছাড়া কেপ কড এলাকার বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী নতুন নির্মিত বাড়ির ব্যাপক সংকট রয়েছে এবং দামও আকাশছোঁয়া। মার্ক হেনডেলের মতে, সরকার যদি ক্ষতিপূরণ হিসেবে বড় কোনো বাড়িও দেয়, তারপরও বাড়তি সম্পত্তি কর ও অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণ খরচের বোঝা তাদেরই টানতে হবে, যা তাদের অবসর জীবনের জন্য বড় একটি ধাক্কা। ফলে শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে সারাজীবনের জমানো অর্থে গড়া স্বপ্নের বাড়ি হারানোর এই অপরিসীম মানসিক ও বাস্তবিক ক্ষতি কোনোভাবেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সমৃদ্ধ ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন এবার বিক্রির জন্য বাজারে এসেছে। 'গ্লেন স্যান্ডার্স ম্যানশন' নামের এই বিলাসবহুল ঐতিহাসিক বাড়িটির দাম হাঁকানো হয়েছে আট মিলিয়ন বা ৮০ লাখ ডলার। স্কোটিয়া এলাকায় মোহক নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রাসাদটি নিউইয়র্কের টিকে থাকা তৃতীয় প্রাচীন বসতবাড়ি হিসেবে পরিচিত। ১৬৫৮ সালে আলেকজান্ডার লিন্ডসে গ্লেন নামের এক স্কটিশ ব্যবসায়ী নদীর তীরে পাথরের তৈরি এই বসতবাড়িটি নির্মাণ করেন এবং নিজের জন্মভূমির নামানুসারে এলাকাটির নাম রাখেন 'স্কোটিয়া'। সেই আদি এক কামরার ঘরটি আজও টিকে আছে এবং পুরো ম্যানশনটি তাকে ঘিরেই বিস্তৃত। গ্লেন পরিবার প্রায় ২৬৬ বছর ধরে এই সম্পত্তির মালিকানা ধরে রেখেছিল, যা পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে বিক্রি করে দেওয়া হয়। বর্তমান মালিকের ছেলে এবং এই প্রপার্টির লিস্টিং এজেন্ট অ্যাঞ্জেলো মাইকেল ম্যাজোন জুনিয়রও বাড়িটির এই প্রাচীনত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী এই বাড়িটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক রোমাঞ্চকর ঘটনা। পারিবারিক লোককথা অনুযায়ী, ফরাসি বন্দীদের প্রতি গ্লেন পরিবারের সহমর্মিতার কারণে ১৬৯০ সালের ভয়াবহ 'স্কেনেকট্যাডি গণহত্যা' থেকে এই বাড়িটি রক্ষা পেয়েছিল। এমনকি ফরাসি কর্মকর্তারা পরদিন সকালে নদী পার হয়ে এই বাড়িতে প্রাতরাশ সেরেছিলেন বলেও শোনা যায়। বর্তমানে যে প্রাসাদটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, তা ১৭১৩ সালে ক্যাপ্টেন জোহানেস 'জন' গ্লেন নির্মাণ করেন। ধারণা করা হয়, ১৬৫৮ সালের আদি ঘরের পাথর, কাঠ ও দরজা ব্যবহার করেই এটি তৈরি করা হয়েছিল। রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী অ্যাঞ্জেলো ম্যাজোন সিনিয়র ১৯৮৮ সালে এই সম্পত্তিটি কিনে নেন এবং পরের বছর একে 'ম্যাজোন হসপিটালিটি'-এর ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে চালু করেন। তবে ৭৫ বছর বয়সী ম্যাজোন এখন বয়সের ভারে এই সুবিশাল সম্পত্তিটি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, দীর্ঘ চার-পাঁচ দশক ধরে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি এই ব্যবসাকে ৭ কোটি ডলারের কোম্পানিতে পরিণত করলেও, তার পরিবারে এই ব্যবসার হাল ধরার মতো কেউ নেই। তার ছেলে ম্যাজোন জুনিয়র পেশায় একজন অপেরা গায়ক ও রিয়েল এস্টেট এজেন্ট। এই ম্যানশনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর অতিথিদের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য তালিকা। ১৭৭৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন এই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিদর্শনের সময় এখানে যাত্রাবিরতি করেছিলেন এবং একটি চা-চক্রে অংশ নিয়েছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া ১৭৯০-এর দশকের শেষদিকে ফরাসি বিপ্লবের পর নির্বাসিত জীবনে ভবিষ্যৎ ফরাসি রাজা লুইস ফিলিপও এই প্রাসাদে অবস্থান করেছিলেন, যার নামে আজও সেখানে একটি বেডরুম সংরক্ষিত রয়েছে। ঐতিহাসিক এই বাড়িটিতে এখনও এর আদি জানালা, মেঝে, কড়িকাঠ এবং ১৭১৩ সালের মূল দরজাগুলো অক্ষত রয়েছে। শুধু ইতিহাসই নয়, এই বাড়িটিকে ঘিরে রয়েছে অলৌকিক সব গল্পও। প্রাসাদের কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, এখানে প্রায়ই লাল পোশাক পরিহিত এক নারীর রহস্যময় উপস্থিতি টের পাওয়া যায়, যাকে অনেকেই আলেকজান্ডার গ্লেনের নাতনি ডেবোরা গ্লেন বলে মনে করেন। এছাড়া হঠাৎ করে পুরো বাড়ির আলো জ্বলে ওঠা বা নিজে থেকে পর্দা নড়ে ওঠার মতো অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন অনেকে। তবে বাড়ির লিস্টিং এজেন্টদের মতে, এখানকার ভূতগুলো বেশ 'বান্ধব' এবং তারা কারও কোনো ক্ষতি করে না বলে এই বিষয়ে খুব বেশি আলোচনা করা হয় না। প্রায় তিন একর জমির ওপর অবস্থিত এই সম্পত্তির মধ্যে ঐতিহাসিক মূল বাড়িটির আয়তন প্রায় দুই হাজার ৮০০ বর্গফুট, যেখানে একটি ২২ কক্ষের সরাইখানাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিক্রি হওয়া এই প্যাকেজের সঙ্গে একটি বাড়তি আকর্ষণও রয়েছে। এর ক্রেতা চাইলে নিচতলায় রেস্তোরাঁসহ একটি ৯৫ ইউনিটের অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স নির্মাণের পূর্বানুমোদিত সুবিধাও পাবেন। যদিও আইনিভাবে এই বাড়িটি ভেঙে ফেলার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই, তবে ম্যাজোন সিনিয়রের একান্ত চাওয়া, নতুন ক্রেতা যেন এই ঐতিহাসিক ভবনটি তাদের মতোই সযত্নে সংরক্ষণ করেন। কারণ, আজও এই প্রাসাদের প্রতিটি ঘর যেন আক্ষরিক অর্থেই আঠারো শতকের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস-ফোর্ট ওর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের সুবিধার্থে শৌচাগারের পাশে বিশেষ অজুর স্থান বা পা ধোয়ার ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। চলতি বছরের ৩১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হওয়া এই প্রকল্পের কাজ এ বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রায় ৩ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর আওতায় বিমানবন্দরের ‘ডি’ টার্মিনালের বিদ্যমান শৌচাগারে নারী ও পুরুষদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক অজুর স্থান তৈরি করা হবে। প্রকল্পের নথিপত্র অনুযায়ী, শৌচাগারের সাধারণ বেসিনে পা ধোয়ার কারণে মেঝে ভিজে গিয়ে যে স্যাঁতসেঁতে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং বেসিনের যে ক্ষতি হয়, মূলত তা এড়াতেই নিচু উচ্চতার এই বিশেষ অজুর স্থানগুলো বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরে অজুর এই সুবিধা একেবারেই নতুন কিছু নয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৯ সালে টার্মিনাল ডি-এর গেট ডি৪০-এর কাছে অবস্থিত ইন্টারফেইথ চ্যাপেলটি চালুর সময় সেখানেও দুটি অজু স্টেশন স্থাপন করা হয়েছিল। এছাড়া ডালাসের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশ কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের সুবিধার্থে আগে থেকেই এ ধরনের অজুর ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে সম্পত্তি কর (প্রোপার্টি ট্যাক্স) ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং রাজ্যটি এখন এই চরম সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত বছর কর সংকট চরমে পৌঁছানোর পর রাজ্য সরকার কিছু ত্রাণের ব্যবস্থা করলেও এর ভয়াবহ পরিণতি এখনও স্পষ্ট। জুন মাসে কুইয়াহোগা কাউন্টি রেকর্ড ১৮ মিলিয়ন ডলারের বকেয়া সম্পত্তি করের ঋণ বিক্রি করেছে, অন্যদিকে মাহোনিং কাউন্টির অডিটর ২৪ হাজারের বেশি বকেয়া পার্সেলের তালিকা প্রকাশ করেছেন। বাড়িঘরের ক্রমবর্ধমান মূল্য, পুনর্মূল্যায়ন এবং অস্বাভাবিক কর বৃদ্ধি রাজ্যের বাড়ির মালিকদের চরম হতাশার দিকে ঠেলে দিয়েছে। গত বসন্তে মাহোনিং কাউন্টিতে কর খেলাপির হার ১৮ শতাংশে পৌঁছায়, যেখানে বকেয়া করের পরিমাণ ছিল ৭০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ইয়াংস্টাউনের কিছু এলাকায় প্রতি তিনজন বাড়ির মালিকের মধ্যে একজন কর দিতে পিছিয়ে পড়েছেন। কুইয়াহোগা কাউন্টিতে পুনর্মূল্যায়নের পর বাড়ির দাম গড়ে ৩২ শতাংশ লাফিয়ে বাড়ে, যার ফলে বকেয়া ব্যালেন্স এক ধাক্কায় ৬০ মিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পায়। কাউন্টি অডিটরস অ্যাসোসিয়েশন অব ওহাইওর সভাপতি ম্যাট নোলান সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং আগামী বছরগুলোতে বাড়ির মালিকদের সম্পত্তি কর আরও ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে। বর্তমানে সম্পত্তি করের বোঝার দিক থেকে ওহাইও পুরো যুক্তরাষ্ট্রে অষ্টম স্থানে রয়েছে, যা নিউইয়র্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়ার চেয়েও বেশি; অথচ পারিবারিক গড় আয়ের দিক থেকে রাজ্যটির অবস্থান ৪০তম। ওহাইওর বিভিন্ন শহর যেমন কলম্বাস ও ক্লিভল্যান্ডে ব্যাপক উন্নয়ন এবং আবাসন খাতে বুম বা আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির কারণেই মূলত করের পরিমাণ হু হু করে বাড়ছে। রাজ্যটিতে প্রতি ছয় বছর পরপর সম্পত্তির পুনর্মূল্যায়ন করা হয়, যার ফলে কোভিড-১৯ মহামারির পর অনেকেই তাদের প্রথম পুনর্মূল্যায়নের মুখোমুখি হয়েছেন। এই কাঠামোগত কারণেই করের বিল বহুগুণ বেড়ে গেছে। আইনপ্রণেতারা এই হতাশার কথা স্বীকার করলেও কোনো কার্যকর সমাধান এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে একটি তৃণমূল আন্দোলন গড়ে উঠেছে, যারা সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে সম্পত্তি কর পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন। ‘সিটিজেন্স ফর প্রোপার্টি ট্যাক্স রিফর্ম’ নামক সংগঠনের অন্যতম আয়োজক বেথ ব্ল্যাকমার জানান, যখন তিনি নিজের বাড়ির পুনর্মূল্যায়ন বিলটি হাতে পেয়েছিলেন, তখন তা দেখে রীতিমতো মেঝেতে বসে পড়েছিলেন। তার বাড়ির মূল্যায়ন প্রায় ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। তিনি আরও জানান, অনেক বাড়ির মালিকের বর্তমান করের পরিমাণ তাদের মূল বন্ধকি ঋণের কিস্তির চেয়েও বেশি হয়ে গেছে। বর্তমানে ‘এক্স দ্য ট্যাক্স’ (Ax the Tax) নামের একটি প্রচারণার মাধ্যমে সম্পত্তি কর পুরোপুরি বাতিলের জন্য স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজ্য আইনসভায় করের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব আনা হয়েছে এবং গভর্নর মাইক ডিওয়াইন একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। তবে দ্রুত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিলে তরুণ প্রজন্মের জন্য বাড়ি কেনার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হ্যাশট্যাগ: