- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
চার বছর ধরে শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বুকব্যথা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিলেন যুক্তরাজ্যের দুই সন্তানের জননী অ্যাবিগেইল লুইস। বারবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও তাকে বলা হয়, তিনি উদ্বেগজনিত সমস্যা ও প্যানিক অ্যাটাকে ভুগছেন। এমনকি পাঁচ থেকে ছয়বার তাকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার হৃদযন্ত্রের একটি ভালভে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে এবং তিনি বিরল জন্মগত হৃদরোগ ‘এবস্টেইনের অ্যানোমালি’-তে আক্রান্ত। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা এসডব্লিউএনএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৬ বছর বয়সী অ্যাবিগেইল ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বহুবার পারিবারিক চিকিৎসকের কাছে যান। সে সময় তিনি শ্বাসকষ্ট, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, ওজন বৃদ্ধি এবং শরীরচর্চা করতে গিয়ে অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো সমস্যার কথা জানান। কিন্তু চিকিৎসকেরা তার সমস্যাকে উদ্বেগ ও প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কর্মস্থলে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে না পেরে এবং তীব্র বুকব্যথা অনুভব করলে তিনি জরুরি বিভাগে যান। সেখানে পরীক্ষায় তার হৃদযন্ত্রে ‘রাইট বান্ডল ব্রাঞ্চ ব্লক (আরবিবিবি)’ নামে একটি বৈদ্যুতিক সংকেতজনিত সমস্যা এবং হার্ট মারমারের সন্দেহ ধরা পড়ে। পরে তাকে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়। ২৪ ঘণ্টার ইসিজি পর্যবেক্ষণ ও ইকোকার্ডিওগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, তার হৃদযন্ত্রের ট্রাইকাসপিড ভালভ দিয়ে রক্ত ফিরে যাচ্ছে, অর্থাৎ ভালভে লিক রয়েছে। আরও বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য তাকে লন্ডনের রয়্যাল ব্রম্পটন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই নিশ্চিত করা হয় যে তিনি ‘এবস্টেইনের অ্যানোমালি’ নামের একটি বিরল জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত। এই রোগে ট্রাইকাসপিড ভালভ স্বাভাবিকভাবে গঠিত হয় না। ফলে হৃদযন্ত্রের প্রকোষ্ঠগুলোর মধ্যে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয় এবং রক্ত উল্টো দিকে ফিরে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি অত্যন্ত বিরল। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়, যাদের অধিকাংশই শিশু। রোগ শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, অ্যাবিগেইলের জীবন বাঁচাতে অস্ত্রোপচার জরুরি। তবে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি কমাতে প্রথমে তাকে প্রায় ১০ কেজি (২২ পাউন্ড) ওজন কমাতে বলা হয়। এরপর ২০২৬ সালের মে মাসে তার ওপর প্রায় নয় ঘণ্টাব্যাপী ‘কোন প্রক্রিয়া’ নামে একটি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে চিকিৎসকেরা তার নিজের টিস্যু ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাইকাসপিড ভালভ পুনর্গঠন করেন। অস্ত্রোপচারের পরও তাকে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। বাইপাস অস্ত্রোপচারের পর তার নিউমোনিয়া হয়, দুই ফুসফুস সাময়িকভাবে ভেঙে পড়ে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যক্রমও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি চিকিৎসকেরা পেসমেকার বসানোর বিষয়টিও বিবেচনা করেছিলেন। তবে দুই সপ্তাহ পর হৃদযন্ত্র আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে। প্রায় চার সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর জুন মাসের মাঝামাঝি তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে অস্ত্রোপচারের নয় সপ্তাহ পর তিনি সুস্থতার পথে রয়েছেন। আগস্টের শেষ দিকে তার ১২ সপ্তাহের কার্ডিয়াক পুনর্বাসন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অ্যাবিগেইল জানান, ছোটবেলাতেও তিনি অন্য শিশুদের মতো দৌড়ঝাঁপ করতে পারতেন না। ঠান্ডা না থাকলেও তার ঠোঁট নীলচে হয়ে যেত। তবে এত বছরেও কেউ তার জন্মগত হৃদরোগ শনাক্ত করতে পারেননি। তিনি বলেন, "আমি বুঝতেই পারি না কীভাবে ৩৬ বছর বয়স পর্যন্ত এই রোগ ধরা পড়েনি। এমনকি দুটি গর্ভধারণের সময়ও কেউ এটি শনাক্ত করতে পারেনি।" তিনি আরও বলেন, "আমি বারবার চিকিৎসকদের বলেছি, শুধু প্যানিক অ্যাটাক হলে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা অসম্ভব হয়ে যায় না। কিন্তু তারা বারবার বলতেন আমার উদ্বেগজনিত সমস্যা রয়েছে। একসময় আমিও সেটাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম।" অ্যাবিগেইল জানান, যেসব থেরাপিস্টের কাছে তাকে পাঠানো হয়েছিল, তারাও অবাক হয়েছিলেন। তাদের ভাষায়, তার মধ্যে উদ্বেগ বা বিষণ্নতার কোনো লক্ষণই ছিল না। অস্ত্রোপচারের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, "অস্ত্রোপচারের আগের দিনটাই ছিল সবচেয়ে ভয়ের। পরে চিকিৎসকেরা জানান, অপারেশন ছয় ঘণ্টা নয়, প্রায় নয় ঘণ্টা লাগবে।" তবে এখন তিনি আশাবাদী। তার ভাষায়, "আমি পুরোপুরি আগের মতো সুস্থ হব কি না জানি না। হয়তো আগের মতো স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাব, হয়তো একটু ধীরগতির জীবন হবে। তবে দুই বছর আগে আমি জানতাম না আদৌ বেঁচে থাকব কি না। তাই এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আশাবাদী।"
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ওপর ছুরি হামলার ঘটনায় দ্রুত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে কয়েকজন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হামলার পর তারা অভিযুক্ত সহপাঠীকে মাটিতে ফেলে নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় শেরিফের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে আরও বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার লি কাউন্টির জোনসভিল মিডল স্কুলে। অভিযুক্ত ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী ছুরি দিয়ে একজন শিক্ষককে আঘাত করে বলে অভিযোগ উঠেছে। লি কাউন্টির শেরিফ গ্যারি পারসন্স জানান, শিক্ষককে আঘাত করার পরপরই কয়েকজন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এগিয়ে আসে। তারা হামলাকারীকে মাটিতে ফেলে ধরে রাখে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শেরিফ পারসন্স বলেন, "শিক্ষার্থীরা প্রশংসার দাবিদার। তাদের দ্রুত পদক্ষেপ সম্ভবত আরও বড় ক্ষতি ঠেকিয়েছে। অন্তত শিক্ষকের জীবন রক্ষা করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।" শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, আহত শিক্ষক প্রাণঘাতী নয় এমন আঘাত পেয়েছেন। তার ক্ষতস্থানে সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থী ও কর্মীরা নিরাপদ ছিলেন। হামলার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আর কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের রান্নাঘর থেকে একটি রান্নার ছুরি নিয়ে এসেছিল। সেই ছুরি দিয়েই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর ১২ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর জখমের উদ্দেশ্যে হামলা এবং মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। কেন এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সম্ভাব্য কারণ এবং হামলার পেছনের প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠছে। ভার্জিনিয়ার এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে শিশুকন্যাকে স্ট্রলারে বসিয়ে মাত্র ৪ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে ১ মাইল দৌড় শেষ করে আলোচনায় এসেছেন এক বাবা। সময়টি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ যাচাই করলে এটি হবে স্ট্রলার ঠেলে সবচেয়ে দ্রুত ১ মাইল দৌড়ানোর নতুন বিশ্বরেকর্ড। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক স্টিফেন বিবেলহাউজেন গত শনিবার ক্লিভল্যান্ডের বার্ষিক ‘গার্ডিয়ান মাইল’ প্রতিযোগিতার ‘স্ট্রলার মাইল’ বিভাগে অংশ নেন। তার সঙ্গে ছিল ছোট মেয়ে ব্লেক, যে পুরো পথ স্ট্রলারে বসেই বাবার সঙ্গে দৌড় সম্পন্ন করে। আয়োজকদের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, স্টিফেন ১ মাইল দৌড় শেষ করেন ৪ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই বিভাগের রেকর্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সিলাস ফ্রান্টজ। তিনি ২০২৫ সালের ২৪ জুন ৪ মিনিট ২৬ দশমিক ২৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। সেই হিসাবে স্টিফেনের সময় প্রায় ৯ সেকেন্ড কম। তবে নতুন এই সময়টি এখনও গিনেস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করেনি। যাচাই শেষে অনুমোদন মিললে স্টিফেনই হবেন স্ট্রলার ঠেলে সবচেয়ে দ্রুত ১ মাইল দৌড়ানোর নতুন বিশ্বরেকর্ডধারী। স্টিফেন জানান, শুরুতে তার লক্ষ্য ছিল শুধু মেয়েকে নিয়ে একটি আনন্দময় অভিজ্ঞতা তৈরি করা। তিনি বলেন, "মেয়েকে স্ট্রলারে বসিয়ে দৌড়ানো মজার হবে বলে মনে হয়েছিল। পরে আগের কোর্স রেকর্ড দেখে ভাবলাম, হয়তো সেটি ভাঙতে পারব।" দৌড়ে শুরু থেকেই দারুণ গতি ধরে রাখেন তিনি। প্রথম আধা মাইল শেষ করেন ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডে। এরপর আরও গতি বাড়িয়ে শেষ আধা মাইল সম্পন্ন করেন মাত্র ২ মিনিট ৫ সেকেন্ডে। ফলে মোট সময় দাঁড়ায় ৪ মিনিট ১৭ সেকেন্ড। প্রতিযোগিতার পথ ছিল ক্লিভল্যান্ড শহরের মধ্য দিয়ে। মার্কেট স্কয়ার পার্কের কাছে শুরু হয়ে কুয়াহোগা নদী পার হয়ে ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ফায়ার মিউজিয়াম ও প্রগ্রেসিভ ফিল্ডের কাছে গিয়ে শেষ হয় দৌড়। স্টিফেন জানান, পুরো দৌড়জুড়ে তার মেয়ে ব্লেক বেশ আনন্দে ছিল। তার ভাষায়, "সে পুরো সময় কথা বলছিল। দর্শকদের উৎসাহ-উদ্দীপনাও খুব উপভোগ করেছে। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, তখন তার ঘুমানোর সময় পেরিয়ে প্রায় ৪৫ মিনিট হয়ে গিয়েছিল, তবুও সে হাসিখুশিই ছিল।" সম্ভাব্য বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও মেয়ের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তটিকেই বেশি মূল্য দেন স্টিফেন। তিনি বলেন, "এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি ওকে নিয়ে নিয়মিত দৌড়াতে বের হই। প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটাতে ও খুব আনন্দ পায়, আর সেই মুহূর্তগুলো আমার কাছেও বিশেষ।" এবিসি নিউজ জানিয়েছে, স্টিফেনের দৌড়ের সময়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায় কি না, তা জানতে তারা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এখন সেই যাচাইয়ের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন স্টিফেন ও তার পরিবার।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ কাউন্টিতে গাড়ি থামিয়ে এক অভিবাসী দম্পতিকে আটক করেছে মার্কিন সীমান্ত টহল বাহিনী। পুরো ঘটনাটি ঘটে তাদের পাঁচ সন্তানের সামনেই। বাবা-মাকে নিয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ১৮ বছর বয়সী মেয়েটিকে এখন একাই ১৬ থেকে ৩ বছর বয়সী চার ভাইবোনের দেখভালের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। স্থানীয় গণমাধ্যম ডব্লিউএলআরএনের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত রোববার লেক ওয়ার্থ বিচ এলাকায়। পরিবারটির বড় মেয়ে ওয়েন্ডি ডোমিঙ্গো, যিনি জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, জানান, আগের দিনই তিনি ১৮ বছরে পা রেখেছিলেন। সেদিন সকালে পরিবারের সবাই গির্জায় যান। পরে স্কুল খোলার আগে ছোট ভাইবোনদের জন্য জুতা কিনতে একসঙ্গে বের হন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ওয়েন্ডি। তার বাবা আব্রাহাম ডোমিঙ্গো ও মা মারিয়া লেইভা ছিলেন যাত্রী। মিলিটারি ট্রেইল সড়কে হ্যাভারহিল এলাকার কাছে পৌঁছালে মার্কিন সীমান্ত টহল বাহিনীর সদস্যরা তাদের গাড়ি থামানোর সংকেত দেন। ওয়েন্ডি বলেন, জীবনে কখনও ভাবেননি যে একই সময়ে তার বাবা ও মাকে নিয়ে যাওয়া হবে। তার ভাষায়, "আমি এখন চার ভাইবোনের দায়িত্বে। আমাদের একেবারে একা রেখে গেছে।" ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, ছোট ভাইবোনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েছে এবং বাবা-মা সন্তানদের জড়িয়ে ধরে বিদায় জানাচ্ছেন। ভিডিওতে এক কর্মকর্তাকে স্প্যানিশ ভাষায় পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। আরেক কর্মকর্তা ওয়েন্ডিকে ইংরেজিতে জানান, গাড়ির নিবন্ধন তথ্য অনুযায়ী এটি একজন 'নন-সিটিজেন'-এর নামে নিবন্ধিত। গাড়িটি ওয়েন্ডির বাবার নামে নিবন্ধিত ছিল। ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্ত টহল বাহিনী কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানায়, ওই দম্পতি আইন ভঙ্গ করেছেন। সংস্থাটির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের আইন ভঙ্গের সিদ্ধান্ত তারাই নিয়েছেন এবং সেই সিদ্ধান্তের পরিণতির দায়ও তাদেরই, যেমন কোনো মার্কিন নাগরিক অপরাধ করে কারাগারে গেলে তার সন্তানদের ওপরও প্রভাব পড়ে। ডিএইচএস জানায়, আব্রাহাম ডোমিঙ্গোর বিরুদ্ধে আগে গার্হস্থ্য সহিংসতার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে পাম বিচ কাউন্টির আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আনা সেই অভিযোগ পরে প্রসিকিউটররা প্রত্যাহার করেন। গার্হস্থ্য সহিংসতা বিষয়ক একটি কোর্স সম্পন্ন এবং মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের পর তিনি প্রবেশন পান। অন্যদিকে মারিয়া লেইভার আশ্রয় আবেদন-সংক্রান্ত আপিল একটি ফেডারেল আদালত খারিজ করে দিয়েছিল। আদালত তার যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশও বহাল রাখে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোমিঙ্গো ও লেইভা প্রায় ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। এই ঘটনার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে তাদের সন্তানদের ওপর। ওয়েন্ডি জানান, বাবার সঙ্গে তার সম্পর্ক সব সময় ভালো ছিল না। তবে গত এক বছরে তাদের সম্পর্ক অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল। চলতি বছরের বসন্তে লেক ওয়ার্থ কমিউনিটি হাই স্কুল থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি প্রথমে একটি রেস্তোরাঁয় এবং পরে একটি হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্কে কাজ শুরু করেন। একই সঙ্গে পাম বিচ স্টেট কলেজে আল্ট্রাসাউন্ড প্রযুক্তি বিষয়ে পড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ জন্য তিনি আর্থিক সহায়তাও পেয়েছিলেন। কিন্তু বাবা-মা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে যাওয়ার পর সেই পরিকল্পনা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরিবারের খরচ চালাতে তাকে দুটি চাকরি করতে হতে পারে। ফলে কলেজে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। ওয়েন্ডি বলেন, তার পরিবারের মতো আরও অনেক পরিবার একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার অভিযোগ, "আমেরিকাকে আবার মহান করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এতে আমাদের মতো মানুষের স্বপ্নই ভেঙে যাচ্ছে।" প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, চলতি ও আগামী অর্থবছরে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণ করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কংগ্রেস অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগকে চার বছরে ১৭০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। এই নীতির প্রভাব দক্ষিণ ফ্লোরিডাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু অভিবাসী পরিবারের ওপর পড়ছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
নিউইয়র্ক শহরে একটি মানানসই অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজে পাওয়া এখন রীতিমতো যুদ্ধের সমতুল্য। এমনিতেই আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয়, তার ওপর হু হু করে বাড়ছে বাড়িভাড়া। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র ম্যানহাটনে একটি সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ৫ হাজার ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। একইসঙ্গে বাজারে ভাড়ার জন্য খালি বাড়ির সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। আবাসন বিষয়ক সংবাদমাধ্যম 'দ্য রিয়েল ডিল' এবং মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান 'স্যামুয়েল মিলার'-এর গত ১৩ আগস্ট প্রকাশিত এক যৌথ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে ম্যানহাটনে অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ছিল ৫ হাজার ডলার, যা জুনের তুলনায় ৩ শতাংশ এবং গত বছরের (২০২৫) জুলাইয়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। ভাড়ার এই রেকর্ড ঊর্ধ্বমুখিতার পাশাপাশি ভাড়ার জন্য উন্মুক্ত অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যাও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। গত এক বছরে এই এলাকায় প্রায় ৪ হাজার বা ৩৯ শতাংশ অ্যাপার্টমেন্ট বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে। আগে যেখানে একটি বাড়ি ভাড়া হতে গড়ে ৪৮ দিন সময় লাগত, এই গ্রীষ্মে তা মাত্র ৩৬ দিনেই ভাড়া হয়ে যাচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি বাড়ি দ্রুত ভাড়া হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ চরমভাবে অপ্রতুল। ফলে ভাড়াটেরা এখন দরকষাকষির বা ছাড় পাওয়ার তেমন কোনো সুযোগই পাচ্ছেন না। নিউইয়র্কে বাসস্থানের এই সংকট অবশ্য দীর্ঘদিনের। খরচ বাঁচাতে অনেক একাকী মা (সিঙ্গেল মাদার) একসঙ্গে বাসা ভাড়া করে থাকছেন। অনেকেই মূল পেশার পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজ করেও মাসের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমনকি শহরের প্রবীণ নাগরিকরাও অবসর জীবনে টিকে থাকার খরচ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি বাড়িভাড়ায় ব্যয় হলে তা মানুষের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করে। অথচ নিউইয়র্কের সিংহভাগ বাসিন্দা বাড়িভাড়ার পেছনে আয়ের বিশাল একটি অংশ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি কেবল নিউইয়র্কেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা গোটা যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাতেরই একটি প্রতিচ্ছবি। হার্ভার্ড জয়েন্ট সেন্টার অন হাউজিং স্টাডিজ-এর ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ির তীব্র সংকট রয়েছে এবং সর্বত্রই ভাড়া বাড়ছে। অনেকেই খরচ সামলাতে না পেরে বাসা বদলানোর চিন্তাও বাদ দিয়েছেন। নিউইয়র্কের বাজারেও এর প্রভাব স্পষ্ট, কারণ নতুন চুক্তির হার এক ধাক্কায় ১৯ শতাংশ কমে গেছে। ম্যানহাটনে বিশেষ করে দুই বা ততোধিক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে। বিলাসবহুল বা শীর্ষ ১০ শতাংশ অ্যাপার্টমেন্টগুলোর গড় ভাড়া গত বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেড়ে মাসে ১৩ হাজার ৭৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এলাকার ভিত্তিতে ডাউনটাউনে বাড়িভাড়া সবচেয়ে বেশি, এরপর রয়েছে ওয়েস্ট সাইড, ইস্ট সাইড এবং নর্দার্ন ম্যানহাটন। তবে সব এলাকাতেই গত এক বছরে ভাড়ার জন্য উপলব্ধ বাড়ির সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। সাধারণ মানুষের এই নাভিশ্বাস অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে উদ্যোগী হয়েছেন বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি 'ব্লক বাই ব্লক' নামে একটি মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, যার আওতায় তাঁর মেয়াদে ২ লাখ সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক হোটেল, পুরোনো লাইব্রেরি, অব্যবহৃত অফিস ভবন এবং শহরের নিজস্ব সম্পত্তিগুলোকে আবাসনে রূপান্তরের কাজ চলছে। আবাসন সরবরাহ বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে ভাড়া কমে আসবে বলে আশা করছে নগর প্রশাসন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে শহর ও রাজ্য সরকার কোটি কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি অলাভজনক সংস্থা, আবাসন নির্মাতা ও বড় ব্যাংকগুলোর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। তবে 'দ্য রিয়েল ডিল'-এর এই প্রতিবেদনটি মূলত সাধারণ বাজারদরের বাড়ির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ম্যানহাটনের মোট আবাসনের ৪৪ শতাংশই হলো 'রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড' বা ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট। মেয়র মামদানির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, চলতি শরতেই এসব নিয়ন্ত্রিত বাড়ির ভাড়ার ওপর 'রেন্ট ফ্রিজ' বা ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিতের নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। এটি এক ও দুই বছরের চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সাময়িকভাবে এটি বাসিন্দাদের স্বস্তি দিলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এর ফলে সাধারণ বাজারদরের অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ভাড়া আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। উল্লেখ্য, সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর আমলেও বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার কারণে এই 'রেন্ট ফ্রিজ' নীতিটি শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে বেকার ভাতার আবেদনে বিশাল উল্লম্ফন দেখা গেছে। নতুন এক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত মাসের একটি নির্দিষ্ট সপ্তাহে রাজ্যটিতে ৩ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৭টি 'কন্টিনিউড আনএমপ্লয়মেন্ট বেনিফিট' বা চলমান বেকার ভাতার আবেদন জমা পড়েছে। এই সংখ্যা তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা অঙ্গরাজ্যটির মোট আবেদনের দ্বিগুণেরও বেশি। মার্কিন শ্রম দপ্তরের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেকার ভাতার আবেদনের ক্ষেত্রে 'গোল্ডেন স্টেট' খ্যাত ক্যালিফোর্নিয়া নিউইয়র্ক (১ লাখ ৬৮ হাজার ৪২৭) এবং টেক্সাসকে (১ লাখ ৫৩ হাজার ১৮৭) অনেক বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রডাক্টিভিটি প্ল্যাটফর্ম 'প্লাস' (Plus) মার্কিন শ্রম দপ্তরের ওই নির্দিষ্ট সপ্তাহের তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশ্লেষণটি চালিয়েছে। ৪ জুলাই থেকে ১১ জুলাইয়ের মধ্যকার তথ্যানুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বেকারত্ব বিমা ব্যবস্থার আওতাভুক্ত প্রতি এক লাখ কর্মীর মধ্যে ১ হাজার ৯০৫ দশমিক ৬টি বেকার ভাতার আবেদন জমা পড়েছে। দেশব্যাপী সামগ্রিক হারের দিক থেকে এই অঙ্গরাজ্যটি সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। তবে এই হার প্রতি এক লাখ কর্মীতে জাতীয় গড় (১,০২৭টি আবেদন) থেকে প্রায় ৮৬ শতাংশ বেশি। কর্মীর সংখ্যার সাথে আনুপাতিক হিসাব বিবেচনা করলে ক্যালিফোর্নিয়ার আগে কেবল নিউ জার্সি, রোড আইল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, মিনেসোটা, ওরেগন এবং ওয়াশিংটন রয়েছে। সাধারণত কোনো আবেদনকারী প্রাথমিক আবেদনের পর অব্যাহতভাবে ভাতা পেতে থাকলে তাকে 'কন্টিনিউড আনএমপ্লয়মেন্ট বেনিফিট ক্লেইম' বলা হয়, যা মূলত চলমান বেকারত্ব পরিস্থিতির একটি বড় নির্দেশক। ক্যালিফোর্নিয়ার বিশাল শ্রমশক্তির কারণেই মূলত মোট আবেদনের সংখ্যাটি এত বেশি দেখাচ্ছে। তবে কর্মীর আনুপাতিক হিসাব বিবেচনায় নিলেও অঙ্গরাজ্যটি দেশের সর্বোচ্চ বেকার ভাতার আবেদনের তালিকায় উপরের দিকেই অবস্থান করছে। 'প্লাস'-এর সিইও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল লি জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেকারত্বের চাপ কীভাবে ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলছে, তা এই বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে আটটি অঙ্গরাজ্য ছাড়া ২০২৫ সালের পর থেকে বাকি সব অঙ্গরাজ্যেই বেকার ভাতার আবেদন কমার প্রবণতা দেখা গেছে। মোট আবেদনের সংখ্যা এবং সামগ্রিক বেকারত্বের হারের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় মোট চলমান আবেদনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হলেও, আনুপাতিক হারে কয়েকটি ছোট অঙ্গরাজ্য এর চেয়ে এগিয়ে আছে। যেমন, প্রতি এক লাখ কর্মীতে ২ হাজার ৬৫০ দশমিক ৬টি আবেদন নিয়ে এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নিউ জার্সি, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ১৫৮ শতাংশ বেশি। যদিও তাদের মোট আবেদনের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ২২২, যা ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় অনেক কম। এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে রোড আইল্যান্ড ও ম্যাসাচুসেটস। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম বেকার ভাতার আবেদন দেখা গেছে সাউথ ডাকোটায়, যেখানে প্রতি এক লাখে আবেদনকারীর সংখ্যা মাত্র ২৮৪ দশমিক ৯ জন।
রাশিয়ায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দি থাকা মার্কিন মেরিন কর্পসের সাবেক সেনা রবার্ট গিলম্যান অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। তবে দেশে ফেরার আগে তিনি প্রায় মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর মুক্তির জন্য কাজ করা বিশেষজ্ঞরা। ৩২ বছর বয়সী গিলম্যানকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে রাখা হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তাঁকে দীর্ঘ চিকিৎসাপর্বের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তাঁকে মুক্ত করার কার্যক্রমে যুক্ত সংস্থা 'গ্লোবাল রিচ'-এর প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা কিরন রামসে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ম্যাসাচুসেটসের বাসিন্দা এবং পেশায় শিক্ষক গিলম্যানকে ২০২২ সালে রাশিয়ায় আটক করা হয়। গত সপ্তাহে তাঁর চরম স্বাস্থ্যগত অবনতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। গ্লোবাল রিচের প্রধান কৌশল কর্মকর্তা এরিক লেবসনের মতে, রাশিয়ার একটি হাসপাতালে গিলম্যানকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় অচেতন বা 'ডিসোসিয়েটিভ স্টুপোর' দশায় আটকে রাখা হয়েছিল। এমনকি সে সময় তাঁকে টিউবের মাধ্যমে খাবার দেওয়া হচ্ছিল। এ প্রসঙ্গে কিরন রামসে সিবিএস নিউজকে জানান, সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তাঁর মুক্তি নিশ্চিত করতে তাঁদের প্রায় গিলম্যানের মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে তিনি যে এখন নিরাপদে নিজ দেশের মাটিতে ফিরেছেন, তাতেই তাঁরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে তাঁকে সান আন্তোনিওর ব্রুক আর্মি মেডিকেল সেন্টারে বিশ্বের অন্যতম সেরা চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। রাশিয়ায় গিলম্যানকে মারাত্মক অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন এরিক লেবসন। তিনি জানান, রুশ কর্তৃপক্ষ গিলম্যানকে মানসিক হয়রানির পাশাপাশি টানা ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ব্যায়াম করতে বাধ্য করেছে। এমনকি তাঁকে মানসিক রোগের ওষুধও প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য প্রবল চাপ দেওয়া হয়েছিল। যদিও সিবিএস নিউজ স্বাধীনভাবে এই দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি এবং রুশ কর্মকর্তারাও প্রকাশ্যে এর কোনো জবাব দেননি। তবে গিলম্যানের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে মানবিক কারণে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন রুশ সরকারের কাছে বারবার দাবি জানিয়েছিল বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন। লেবসন উল্লেখ করেন, রাশিয়ায় বন্দি থাকা অন্য যেকোনো মার্কিন নাগরিকের তুলনায় রবার্টের পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ায় বন্দি থাকা বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের মুক্তি নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে রাশিয়ায় ১০ জন, ইরানে ২ জন এবং চীনে ১ জন মার্কিন নাগরিক বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন রামসে। খুব শিগগিরই তাঁদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও কমান্ডার মোহাম্মদ রেজা নাকদি সম্প্রতি মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ইরান তত বেশি সামরিক অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো দেশ ইরানকে আক্রমণের কথা ভাবলে তার জন্য কী ভয়াবহ 'মূল্য' চোকাতে হবে—বিশ্বকে সেই বার্তা দেওয়াও তেহরানের অন্যতম লক্ষ্য। সাক্ষাৎকারে নাকদি জানান, গত পাঁচ মাসের এই সংঘাতে ইরান প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং তাদের মতে মার্কিন সামরিক বাহিনী আগের চেয়ে অনেকটাই দুর্বল। যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার কারণ সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরান এমন একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যাতে ভবিষ্যতে কোনো পরাশক্তি তাদের আক্রমণ করার সাহস না পায়। সংঘাত দীর্ঘায়িত করে প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেওয়ার এই কৌশলের মাধ্যমে তেহরান মূলত নিজেদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ রাখতে চাইছে। যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার বিষয়ে সতর্ক করে নাকদি বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা ওয়াশিংটনের জন্য বড় ভুল হিসেবে প্রমাণিত হবে। তিনি হুশিয়ারি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা চালালে বিশ্বজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো সরাসরি চরম বিপদের মুখে পড়বে। তবে ইরান নিজে পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এর কোনো প্রয়োজন তাদের নেই; কারণ ইরানের মূল শক্তি হলো সাধারণ মানুষের সমর্থন ও তাদের অটুট প্রতিরোধ ব্যবস্থা। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার বিষয়েও প্রবল আত্মবিশ্বাসী অবস্থান তুলে ধরেন এই জ্যেষ্ঠ আইআরজিসি কমান্ডার। তিনি দাবি করেন, প্রতিদিন ইরান যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, তা যুদ্ধে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি। যুদ্ধ যদি আরও কয়েক বছর ধরে চলে, তবে শেষ দিন পর্যন্ত ইরান রকেট ছুড়তে সক্ষম বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক স্তরে কোনো অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। উল্টো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও পরস্পরবিরোধী দাবি অব্যাহত রয়েছে। এই সামরিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাই নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও মারাত্মক অনিশ্চয়তা ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মাত্র চার দিন আগে হঠাৎ করেই আল্লাহর ঘর স্বচক্ষে দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জেগেছিল মনে। সেই টানে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তড়িঘড়ি করে ছুটে গিয়েছিলেন পবিত্র মক্কায়। কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাবার সামনে পৌঁছাতেই ঘটল এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা। পবিত্র কাবার দিকে তাকিয়ে 'আল্লাহু আকবার' ও ইস্তিগফার পড়তে পড়তেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা হাজি আবদুল লতিফ। গত বুধবার (১২ আগস্ট) ভোরে পবিত্র মসজিদুল হারামে এই আবেগঘন ঘটনাটি ঘটে। ‘বাও’ নামে পরিচিত আবদুল লতিফ ফয়সালাবাদের লায়লপুর কলোনির লাল মিলস চকের বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় তিনি বেসরকারি স্কুলে বই সরবরাহের ব্যবসা করতেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগে তিনি ওমরাহ পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং দ্রুত পাসপোর্ট জমা দেন। এরপর গত ১১ আগস্ট ছেলে আরসালানকে নিয়ে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের জেদ্দায় পৌঁছান। জেদ্দা থেকে মক্কার পথে তিনি বারবার সময় দেখছিলেন এবং দ্রুত কাবার সামনে যাওয়ার জন্য চালককে তাগাদা দিচ্ছিলেন। ছেলেকে তিনি বারবার বলছিলেন যে তার শরীর পুরোপুরি সুস্থ, শুধু যত দ্রুত সম্ভব আল্লাহর ঘরটি তিনি একবার দেখতে চান। বুধবার ভোরে তাহাজ্জুদের সময় মক্কার হোটেলে পৌঁছানোর পরও দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি তাকে দমাতে পারেনি। বিশ্রাম না নিয়েই ছেলেকে সঙ্গে করে তিনি সরাসরি হারাম শরিফে ছুটে যান। আরসালান জানান, কাবার কাছাকাছি পৌঁছাতেই তার বাবার মাঝে এক অদ্ভুত অস্থিরতা কাজ করছিল; শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছিল আর তিনি উচ্চস্বরে কালেমা ও ইস্তিগফার পড়ছিলেন। মাতাফে পৌঁছে প্রথমবারের মতো পবিত্র কাবা শরিফ দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি চরম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কাবার দিকে তাকিয়ে জিকির করতে করতেই একপর্যায়ে তিনি সেখানে বসে পড়েন এবং জ্ঞান হারান। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে থাকা নিরাপত্তাকর্মী ও চিকিৎসকরা ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালালেও ততক্ষণে তিনি পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। ওমরাহ শেষে আর দেশে ফেরা হলো না আবদুল লতিফের। তবে জীবনের শেষ ও সবচেয়ে লালিত স্বপ্ন—আল্লাহর ঘর স্বচক্ষে দেখা—পূরণ করেই যেন পরম শান্তিতে এই পৃথিবীর সফর শেষ করলেন তিনি।
বক্সিং রিংয়ে মস্তিষ্কে মর্মান্তিক আঘাত পাওয়ার দীর্ঘ দশ বছর পর মারা গেছেন পুয়ের্তো রিকোর সাবেক পেশাদার বক্সার প্রিচার্ড কোলন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে তাঁর বাবা ও সাবেক প্রশিক্ষক রিচার্ড কোলন এই দুঃসংবাদটি নিশ্চিত করেন। ৩৩ বছর বয়সী এই বক্সারের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ফেসবুক পোস্টে তাঁর বাবা রিচার্ড লেখেন, "সবাইকে সুপ্রভাত। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমার ছেলে প্রিচার্ড এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। সে এখন আরও ভালো কোনো জায়গায় আছে।" আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, "ওর সবচেয়ে বড় ইচ্ছা ও স্বপ্ন ছিল পুয়ের্তো রিকোতে ছুটিতে যাওয়ার, আমি সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য সবরকম চেষ্টা করেও সফল হতে পারিনি। এতো বছর ধরে আপনাদের অপরিসীম ভালোবাসা ও প্রার্থনার জন্য ধন্যবাদ। অনুগ্রহ করে আমাদের জন্য আপনাদের প্রার্থনা অব্যাহত রাখবেন।" ২০১৫ সালের ১৭ অক্টোবর ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্সে ঈগলব্যাংক অ্যারেনায় টেরেল উইলিয়ামসের বিপক্ষে এক ম্যাচে মাথায় গুরুতর আঘাত পান প্রিচার্ড। এর ফলেই তিনি দীর্ঘস্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতির শিকার হন। ২০১৩ সালে পেশাদার বক্সিংয়ে পা রাখার মাত্র দুই বছরের মাথায় ১৬-০ জয় ও ১৩টি নকআউটের দুর্দান্ত রেকর্ড নিয়ে তিনি ওই লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু সেই ম্যাচে মাথার পেছনে বেআইনি 'র্যাবিট পাঞ্চ' বা অবৈধ আঘাতের শিকার হয়ে তিনি দুবার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। নিয়মবহির্ভূত এই আঘাতের কারণে রেফারি উইলিয়ামসের পয়েন্টও কেটে নিয়েছিলেন। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে ফিরে মাথা ঘোরার কথা জানান প্রিচার্ড এবং একপর্যায়ে বমি করতে করতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। দ্রুত তাকে ইনোভা ফেয়ারফ্যাক্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার মাথার বাঁ দিকে ১.৫ সেন্টিমিটার পরিমাণ মারাত্মক রক্তক্ষরণ (ব্রেন ব্লিড) হয়েছিল। মস্তিষ্কের ফোলাভাব কমাতে এবং জমাট রক্ত বের করতে তাকে তাৎক্ষণিক জরুরি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এরপর টানা সাত মাস তিনি কোমায় আচ্ছন্ন ছিলেন। সেই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকে প্রিচার্ড চিরতরে হুইলচেয়ারে বন্দী হয়ে নিস্তেজ বা 'ভেজিটেটিভ' জীবনযাপন করছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্বামীর মুঠোফোনে পর্নোগ্রাফি পাওয়া নিয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। হেইলি ডেম্পসি নামের ২৭ বছর বয়সী এক নারী নিজের মা এবং দুই শিশুসন্তানকে গুলি করে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকার প্ল্যান্ট সিটিতে গত ৩ মে ভোরে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্ল্যান্ট সিটির পুলিশ প্রধান রিচার্ড মিলস জানিয়েছেন, ঘটনার আগের দুদিনে ডেম্পসি পরিবারের বাড়ি থেকে অন্তত তিনবার পুলিশের কাছে কল গিয়েছিল, যার সূত্রপাত হয়েছিল স্বামীর ফোনে থাকা পর্নোগ্রাফি নিয়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ মে প্রথমবার কল পেয়ে ওই বাড়িতে যায় পুলিশ। তখন হেইলি ও তার স্বামী জে-এর মধ্যে পর্নো দেখা নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ চলছিল। পুলিশ প্রধান জানান, এটি কোনো পরকীয়ার ঘটনা ছিল না, কেবল পর্নোগ্রাফি নিয়েই তাদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। একই দিন দ্বিতীয়বার পুলিশকে কল করে হেইলি তার গাড়িতে কোনো ট্র্যাকিং ডিভাইস আছে কি না, তা তল্লাশি করতে বলেন। তবে পুলিশ সেখানে কিছুই পায়নি। এরপর হেইলি তার ৫৫ বছর বয়সী মা ভ্যালেরি ডিবো এবং তিন মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে একটি হোটেলে রাত কাটান। পরের দিন পোশাক আনার জন্য বাড়িতে যাওয়ার সময়ও তিনি পুলিশের সহায়তা নিয়েছিলেন। ৩ মে ভোরে হেইলি প্রথমে তার মা ভ্যালেরিকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর তিন মেয়েকে নিয়ে পায়ে হেঁটে পালিয়ে যাওয়ার সময় চার বছর ও চার মাস বয়সী দুই মেয়েকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেন তিনি। দুই বছর বয়সী আরেক মেয়েকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লেও সৌভাগ্যবশত তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর হেইলি নিজের বন্দুক দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনার পর হেইলির স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষে তাকে সন্দেহভাজনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে হেইলির মানসিক অসুস্থতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত ৩৪ বছরের কর্মজীবনে এটিই সবচেয়ে ভয়ংকর দৃশ্য বলে উল্লেখ করেছেন পুলিশ প্রধান রিচার্ড মিলস। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, "এটি হৃদয়বিদারক এবং আমার জীবনের দেখা সবচেয়ে জঘন্য অপরাধের দৃশ্য।" পুলিশ জানিয়েছে, তিন মাস ধরে চলা এই তদন্তে চরম ধৈর্য ও সূক্ষ্মতার প্রয়োজন ছিল। অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া দুই বছর বয়সী শিশুটি বর্তমানে সুস্থ আছে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের আশ্রয়ে রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের বাড়ির সামনে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় রাজ্যটির গভর্নর গ্যাভিন নিউসমকে তীব্র আক্রমণ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'বর্ডার জার' টম হোম্যান। গত সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়াতে টড স্টুয়ার্ট (৬৮) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিজ বাড়ির লনে মর্মান্তিকভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মার্কোস ইরিয়ার্তে-ভালদেজ (৩৬) নামের এক অবৈধ ভেনেজুয়েলান অভিবাসী, যার কাছে স্পেনের নাগরিকত্বও রয়েছে। 'ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস'-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টম হোম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনীতির শিকার না হলে ওই বৃদ্ধকে আজ প্রাণ হারাতে হতো না। ক্যালিফোর্নিয়ার 'স্যাংচুয়ারি সিটি' বা আশ্রয়দাতা শহরের নীতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, "গভর্নর নিউসম এবং ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন জননিরাপত্তার চেয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি তাদের রাজনৈতিক আক্রোশকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।" হোম্যান আরও জানান, গত এক দশকে এমন শত শত ঘটনার প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই ভয়াবহ হামলার ঠিক আগের দিনই অভিযুক্ত ইরিয়ার্তে-ভালদেজকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এর আগে চুরির এক মামলায় গৃহবন্দী থাকার শর্ত লঙ্ঘন করা সত্ত্বেও নিউসমের নিয়োগকৃত এক বিচারক তাকে মুক্তি দেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি ক্যাডিল্যাক এসইউভি থেকে নেমে প্রটেক্টিভ ভেস্ট পরা ওই ব্যক্তি স্টুয়ার্টের ওপর আচমকা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। স্টুয়ার্ট মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যন্ত্রণায় চিৎকার করার সময়ও তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি এবং হামলাকারীর মধ্যে পূর্বের কোনো পরিচয় ছিল না। এই ঘটনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর ব্যর্থতাকে দায়ী করায় ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেছেন হোম্যান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে তারা যথাযথ তদন্ত করে ওই ব্যক্তিকে বহিষ্কারের জন্য একটি ডিটেইনার ইস্যু করেছিলেন। তবে গভর্নরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে উল্টো ফেডারেল কর্তৃপক্ষের ওপরই দায় চাপিয়েছে। তাদের দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো আইন ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে অভিবাসন আইন প্রয়োগে বাধা দেয় না। ২০০৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এই অপরাধীর বিরুদ্ধে এর আগেও চুরি, বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং স্ত্রীকে মারধর করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাকে ১.১ মিলিয়ন ডলারের জামিনে আটকে রাখা হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির প্রচণ্ড প্রতিযোগিতামূলক জীবনব্যবস্থা আর নিজের কিছু করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সেই সফল উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন মহুয়া খান। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এই তরুণীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা নিউইয়র্কের কুইন্সে। ৯টি ভিন্ন মাধ্যম থেকে উপার্জন করে তিনি ২০২৫ সালে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করেছেন, যার মধ্যে কর ও অন্যান্য খরচ বাদে তাঁর নিট আয় ছিল প্রায় ৭০ হাজার ডলার। বর্তমানে তিনি অ্যাস্টোরিয়া এলাকায় ৩ হাজার ডলার ভাড়ার একটি এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছেন এবং সেখান থেকেই নিজের সব কাজ পরিচালনা করছেন। নিউইয়র্কের ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মহুয়া জানান, এখানকার জীবন এক ধরনের দ্বিধারি তলোয়ারের মতো; চারপাশে সবাইকে একাধিক চাকরি আর প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে দেখলে এটিকেই জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম বলে মনে হয়। অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান হিসেবে ছোটবেলা থেকেই কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা নিয়ে বড় হয়েছেন মহুয়া। তাঁর বাবা সপ্তাহে সাত দিন, দিনে ১৬ ঘণ্টা নিউইয়র্কের রাস্তায় ট্যাক্সি চালিয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর মা সব সময় বলতেন, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। মূলত এই অভাববোধ ও মানসিকতা থেকেই মাত্র ১৫ বছর বয়সে কাজ শুরু করেন তিনি। স্নাতকোত্তর পড়ার সময় নিজের বেতনের জমানো টাকা ও ঋণ দিয়ে পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন। এর পাশাপাশি বাসা ভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে আফটার-স্কুল কাউন্সেলর হিসেবেও পার্ট-টাইম কাজ করেছেন এই অদম্য তরুণী। মহামারির সময় ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটকে নিজের আঁকাআঁকির ভিডিও পোস্ট করার মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। ধীরে ধীরে দর্শক বাড়তে থাকলে তিনি ইউটিউব ও স্কিলশেয়ার থেকে ক্লাস করে নিজের দক্ষতা আরও বাড়িয়ে নেন। এরপর কনটেন্ট তৈরিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি 'ল্যাবিরিন্থঅ্যাভ' (Labyrinthave) নামে একটি নিজস্ব পোশাকের ব্র্যান্ড চালু করেন, যেখানে ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ও বাংলাদেশী ঐতিহ্যের ছাপ রয়েছে। তবে শুরুর দিকের সেই দিনগুলোর কথা মনে করে মহুয়া জানান, তখন তিনি এক ধরনের মোহের মধ্যে ছিলেন এবং কারও সাহায্য ছাড়াই একা সব করতে চাইতেন। কাজের চাপে তাঁর নিজের ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু ছিল না, যা তাঁকে চরম ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। তাই কোনো পূর্বপ্রস্তুতি বা জমানো টাকা ছাড়া হঠাৎ চাকরি ছেড়ে নিজের প্যাশন নিয়ে কাজ শুরু করাটা কতটা ভীতিকর হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি অন্যদের সতর্ক করেছেন। বর্তমানে পাঁচ বছর পর এসে মহুয়া আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং ঋণমুক্ত। তিনি তাঁর আয়ের একটি অংশ দিয়ে বাবা-মায়ের বাড়ির মর্টগেজ বা বন্ধকি ঋণ পরিশোধে সাহায্য করছেন। এছাড়া নিজের ও পরিবারের ফোন বিল, অ্যাপার্টমেন্টের ইউটিলিটি বিল এবং মাসিক বাজারের খরচও তিনি সুচারুভাবে বহন করছেন। নিজের একটি গাড়ি থাকলেও তা মায়ের যাতায়াতের সুবিধার জন্য বাবা-মায়ের বাড়িতে রেখে এসেছেন এবং নিজে সাবওয়েতেই যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এখন তিনি কাজ ও ব্যক্তিজীবনের মাঝে একটি চমৎকার ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছেন, যেখানে নিজেকে প্রমাণের জন্য আর আগের মতো অমানবিক পরিশ্রম করতে হয় না। জীবনযাত্রা এতটা ব্যয়বহুল হওয়া সত্ত্বেও নিউইয়র্ক শহর ছেড়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই মহুয়ার, বরং এই শহরেই নিজের ভবিষ্যৎ পরিবার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) সাইবার অপরাধীদের এক ভয়ংকর তৎপরতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, হ্যাকাররা এখন অত্যন্ত সুকৌশলে সাধারণ মানুষের সোশ্যাল মিডিয়া ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টগুলোতে অনুপ্রবেশ করছে। এসব অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তারা ব্যবহারকারীদের একান্ত ব্যক্তিগত ও গোপন ছবি চুরি করছে। পরবর্তীতে এই স্পর্শকাতর ছবিগুলো তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বা ডার্ক ওয়েবে চড়া দামে বিক্রি করে দিচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এফবিআইয়ের পরিভাষায় এই ধরনের ছবিগুলোকে সম্মতিবিহীন অন্তরঙ্গ ছবি বা ‘এনসিআইআই’ (NCII) বলা হয়ে থাকে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সাইবার অপরাধীরা শুধু এসব ছবি চুরি করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না; বিক্রির সময় ছবিগুলোর সাথে ভুক্তভোগীদের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যও যুক্ত করে দিচ্ছে। এর ফলে হ্যাকারদের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা মারাত্মক সামাজিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকিতে পড়ছেন। অপরাধীদের এমন দৌরাত্ম্য সাইবার জগতে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার অভাবকেই স্পষ্টভাবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রযুক্তিগত এই যুগে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ব্যবহারকারীদের অনলাইন সুরক্ষার বিষয়ে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল এবং ক্লাউড স্টোরেজ অ্যাকাউন্টগুলোতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ চালু রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা তথ্য অনলাইনে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের কোনো বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লস অ্যাঞ্জেলেস পিয়ার্স কলেজের মনোবিজ্ঞান ও পরিসংখ্যানের অধ্যাপক মরিয়ম তহমাসেবির স্বাভাবিক জীবন গত ৯ এপ্রিলের পর থেকে হঠাৎ করেই এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বৈধ গ্রিন কার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁর স্বামী, সন্তানসহ পুরো পরিবারকে আটক করেছে। সেদিন কলেজে ক্লাস নেওয়ার সময় মরিয়ম জানতে পারেন যে তাঁর স্বামী ছেলেকে স্কুল থেকে আনেননি এবং ফোনও ধরছেন না। সম্ভাব্য কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তিনি পুলিশে খবর দেন। কিন্তু তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি যে তাঁর স্বামীকে আইসিই আটক করতে পারে। মরিয়মের স্বামী ইসা হাশেমিও একজন স্বনামধন্য অধ্যাপক, যিনি 'দ্য শিকাগো স্কুল'-এর বিজনেস সাইকোলজি বিভাগে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের মেন্টর হিসেবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই আটকের কারণ ইসার নিজের কোনো অপরাধ নয়। ১৯৭৯ সালে ইরানে জিম্মিকারীদের একজন অনুবাদক হিসেবে কাজ করেছিলেন ইসার মা—এমনকি তখন ইসার জন্মও হয়নি! মার্কিন প্রশাসন এখন জন্মের আগের সেই ঘটনার জেরে এই নিরপরাধ অধ্যাপককে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে মরিয়ম এবং তাঁর ছোট ছেলে ১২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে টেক্সাসের ডিলি ইমিগ্রেশন প্রসেসিং সেন্টারে মানবেতর বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে তাঁর স্বামী ইসাকে রাখা হয়েছে পিয়ার্সলের সাউথ টেক্সাস ডিটেনশন সেন্টারে। গত চার মাসের এই অমানবিক বন্দীদশা তাঁদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। প্রতি দুই সপ্তাহে মাত্র ১০ মিনিটের জন্য তাঁদের একে অপরের সাথে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়, সেটিও আবার কড়া পাহারার মধ্যে। মরিয়ম আক্ষেপ করে বলেন, একটি সম্পূর্ণ আইন মান্যকারী অধ্যাপক পরিবারের সাথে যদি এমন অবিচার হতে পারে, তবে তা যেকোনো কারও সাথেই হতে পারে। সন্তানের জন্য একটি স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে তিনি বিশ্বের সব বিবেকবান মানুষের কাছে এই দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটাতে সাহায্য চেয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সেন্ট চার্লসে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল চতুর্থ বার্ষিক 'শিকাগোল্যান্ড হালাল ফেস্ট'। এই অঞ্চলের মুসলিম সংস্কৃতির অন্যতম বৃহৎ এই উদযাপনে ২৮ হাজারেরও বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। ইলিনয় মুসলিম চেম্বার অব কমার্সের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এই উৎসবে ধর্ম ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায়। বিস্তৃত এই উৎসব প্রাঙ্গণে ১৪০টিরও বেশি স্টল বা ভেন্ডর অংশ নেয়। সেখানে দর্শনার্থীদের জন্য পরিবেশন করা হয় নানা স্বাদের সুস্বাদু হালাল খাবার, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, দৃষ্টিনন্দন অলংকার এবং চমৎকার সব হস্তশিল্প। কেনাকাটা ও ভোজনবিলাসের পাশাপাশি এই আয়োজনে ছিল মনমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, পরিবারের সবার জন্য বিনোদনমূলক কার্যক্রম এবং সরাসরি লাইভ ইভেন্ট। আয়োজকদের মতে, উৎসবের মূল উদ্দেশ্য কেবল হালাল খাবারের প্রচারেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং এটি মুসলিম এবং অমুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, সম্প্রীতি স্থাপন এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উদযাপনের একটি উন্মুক্ত ও নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, সমাজে মেলবন্ধন তৈরিতে এ ধরনের উৎসব কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ ক্রেডিট তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইকুইফ্যাক্স ২০২২ সালের একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির জেরে দায়ের হওয়া মামলায় ১০ কোটি ডলারের বিশাল অঙ্কের সমঝোতায় পৌঁছেছে। এই সমঝোতা এখনও ফেডারেল আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এটি অনুমোদিত হলে প্রায় ৪০ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক এই ক্ষতিপূরণের আওতাভুক্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মামলার মূল সূত্রপাত ঘটে ২০২২ সালের মার্চ মাসে ইকুইফ্যাক্সের কম্পিউটার সিস্টেমে দেখা দেওয়া একটি কোডিং ত্রুটি থেকে। ওই বছরের ১৭ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত এই ত্রুটির কারণে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের ক্রেডিট স্কোর ও ঋণসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলভাবে হিসাব করা হয় এবং তা তৃতীয় পক্ষের কাছে সরবরাহ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা আর্থিক সুরক্ষা ব্যুরোর (সিএফপিবি) তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, ওই সময়ে ৬ লাখেরও বেশি গ্রাহকের ক্রেডিট স্কোর অন্তত ১০ পয়েন্ট এবং প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার গ্রাহকের স্কোর ২৫ পয়েন্ট বা তারও বেশি কমে গিয়েছিল। ফ্রেডি ম্যাকের দেওয়া তথ্যমতে, এই নির্দিষ্ট সময়ে ইকুইফ্যাক্সের তৈরি প্রায় ১২ শতাংশ ক্রেডিট রিপোর্ট ওই ত্রুটি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে। ক্রেডিট স্কোরের এই আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পতনের ফলে বহু গ্রাহক মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। অনেকেই গাড়ি, বাড়ি বা ক্রেডিট কার্ডের জন্য ঋণের আবেদন করতে গিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, আবার অনেককে বাধ্য হয়ে তুলনামূলক চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়েছে। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের 'ফেয়ার ক্রেডিট রিপোর্টিং অ্যাক্ট' বা ন্যায্য ক্রেডিট রিপোর্টিং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইকুইফ্যাক্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ চার বছরের আইনি লড়াই, বিস্তর নথি পর্যালোচনা এবং দর-কষাকষির পর অবশেষে উভয় পক্ষ এই ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে একমত হয়েছে। প্রস্তাবিত এই সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দিতে মোট ১০ কোটি ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে। এই অর্থ থেকে যোগ্য গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি মামলার আইনজীবীদের পারিশ্রমিক ও প্রশাসনিক খরচ মেটানো হবে। আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর কীভাবে ও কবে দাবি জমা দিতে হবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। বৈধভাবে দাবি জমা দেওয়া গ্রাহকরা আনুপাতিক হারে তহবিলের অর্থ পাবেন। ইকুইফ্যাক্স অবশ্য আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিজেদের কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায় স্বীকার করেনি। কোম্পানির দাবি, কেবল দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার বিপুল ব্যয় ও অনিশ্চয়তা এড়াতেই তারা এই সমঝোতায় রাজি হয়েছে। উল্লেখ্য, ত্রুটিপূর্ণ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ঋণদাতাদের কাছে ভুল তথ্য পাঠানোর একই ঘটনায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সিএফপিবি ইকুইফ্যাক্সকে আলাদাভাবে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানাও করেছিল।
মার্কিন অভিবাসন আইনের অপব্যবহার রোধে এবং 'বার্থ ট্যুরিজম' বা সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ ঠেকাতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বা ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট। ইতিমধ্যেই এই টাস্কফোর্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারকারী শত শত বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে। গত ৩০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ অভিবাসী বা অস্থায়ী দর্শনার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি উদ্যোগ খারিজ করে দেওয়ার পরপরই এই নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা এল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক মাধ্যম এক্সে ভিসা অপব্যবহারের এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, সুসংগঠিত কিছু চক্র মার্কিন আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে বিপুল মুনাফা লুটছে। তারা বিদেশিদের মার্কিন ভিসা ব্যবস্থায় প্রতারণা করতে শেখাচ্ছে, ভ্রমণ ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে এবং এমনকি জাল নথিপত্র তৈরি করছে; যার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো ওই বিদেশিদের সন্তানদের মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়া। বিশ্বজুড়ে ভিসা প্রাপ্তদের কার্যক্রম এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটিসহ অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার তথ্য কাজে লাগিয়ে এই টাস্কফোর্স মাত্র এক মাসের মধ্যে ৬০০টিরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। দপ্তরের লক্ষ্য হলো এই ধরনের অপব্যবহারের সাথে জড়িত যেকোনো নেটওয়ার্ককে ধ্বংস করা এবং তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা আবেদনে প্রতারণার ব্যাপক দৃষ্টান্ত বিশ্বজুড়েই মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, এক বিদেশি দম্পতি ভিসা আবেদনে সম্মেলন ও ছুটি কাটানোর কথা বলে দুইবার মিথ্যা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে এবং আলাদা সময়ে সেখানে দুই সন্তানের জন্ম দেয়; পরবর্তীতে তাদের ভিসা বাতিল করা হয়। অন্য এক ঘটনায় এক নারী অরল্যান্ডোতে ছুটি কাটানোর কথা বলে ভিসা নিলেও তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে যান এবং পৌঁছানোর মাত্র পাঁচ দিন পর সেখানে সন্তানের জন্ম দেন। উল্লেখ্য, ২০২৫–২০২৬ মেয়াদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা ৬–৩ ভোটে ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দেন, যার উদ্দেশ্য ছিল অবৈধ অভিবাসী ও অস্থায়ী ভিসাধারীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ থেকে বঞ্চিত করা। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে উল্লেখ করেন যে, আমেরিকার মাটিতে এবং মার্কিন আইনের অধীনে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো শিশু একজন মার্কিন নাগরিক। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন বলে জানালেও গত ২৭ জুলাই সেই নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যায়। এরপর গত ৬ আগস্ট তিনি দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ফর পলিসি স্টিফেন মিলারের মতে, এই আদেশগুলোর লক্ষ্য হলো 'বার্থ ট্যুরিজম' নিষিদ্ধ করা এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অযোগ্য ব্যক্তিদের সংজ্ঞার পরিধি বাড়ানো। তবে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) ও অন্যান্য মানবাধিকার গোষ্ঠী গত ১১ আগস্ট এক ফেডারেল বিচারকের কাছে ট্রাম্পের এই নতুন নির্বাহী আদেশের প্রয়োগ স্থগিত করার আবেদন জানিয়েছে।
কোভিড মহামারির সময় ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা পাওয়া 'আউটডোর ডাইনিং' বা খোলা আকাশের নিচে বসে খাওয়ার সুবিধা আবারও নিউইয়র্ক সিটির রাস্তায় ফিরতে পারে। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে একটি নতুন বিলের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে, যার মাধ্যমে রেস্তোরাঁগুলোর জন্য বছরব্যাপী আউটডোর ডাইনিংয়ের পথ সুগম হবে। কাউন্সিল মেম্বার লিংকন রেস্টলারের উত্থাপিত এই বিলটি পাস হলে শীতকালেও রেস্তোরাঁগুলোকে তাদের আউটডোর ডাইনিং কাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে না, বরং তারা শীতের উপযোগী করে কাঠামো তৈরি করতে পারবে। নতুন প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, রেস্তোরাঁর সামনের কার্ব বা পার্কিং লেনে পরিচালিত খোলা ক্যাফেগুলো এখন থেকে শীতের মাসগুলোতেও (৩০ নভেম্বর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত) আচ্ছাদিত করে ব্যবসা পরিচালনা করার সুযোগ পাবে। তবে শর্ত হলো, সেখানকার টেবিল, চেয়ার এবং অন্যান্য সাজসজ্জা খুব সহজেই সরানো যায় এমন হতে হবে। যেসব ব্যবসায়ী সারা বছর এই সুবিধা নিতে আগ্রহী, তাদের সাধারণ মৌসুমী রোডওয়ে ক্যাফের বাইরে আলাদা লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে এবং এর জন্য পৃথক ফি প্রদান করতে হবে। মহামারির সময় এই আউটডোর ডাইনিং সুবিধাটি রেস্তোরাঁগুলোর টিকে থাকার প্রধান অবলম্বন হয়ে উঠেছিল এবং লকডাউন-পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারেও বড় ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, যানজট এবং ইঁদুরের উপদ্রবের মতো বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে সিটি কাউন্সিল এতে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে। এরপর থেকে কেবল ১ এপ্রিল থেকে ২৯ নভেম্বরের মধ্যেই আউটডোর ডাইনিংয়ের অনুমতি দেওয়া হতো। তবে প্রতি বছর এসব কাঠামো তৈরি এবং ভেঙে ফেলার অতিরিক্ত খরচ ও কাঠখড় পোড়ানো নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ছোট রেস্তোরাঁ মালিকদের দাবি ছিল, এই নিয়মকানুন ও খরচের কারণে অনেকেই এই কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছিলেন না। বৃহস্পতিবার সিটি কাউন্সিলে বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে এবং আইনে পরিণত হওয়ার ১২০ দিন পর বছরব্যাপী আউটডোর ডাইনিং ব্যবস্থাটি সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থায়ী রূপ পাবে। এর ফলে শহরের রেস্তোরাঁ ব্যবসার দীর্ঘদিনের একটি বড় বাধা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন একিউআইএসের আঞ্চলিক কার্যক্রম বিস্তারের চেষ্টা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদের হুমকি আরও তীব্র হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আল-কায়েদা ও আইএসআইএলবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ দল। জাতিসংঘের ৩৮তম পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট—একিউআইএস দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের কার্যক্রম বিস্তারের চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশেও সংগঠনটির উপস্থিতি ও কার্যক্রম গড়ে তোলার প্রচেষ্টার বিষয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। ১০ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের সামগ্রিক হুমকি মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকলেও সাহেল অঞ্চল ও দক্ষিণ এশিয়ায় পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একিউআইএসের কার্যক্রম এখন আরও বিকেন্দ্রীভূত হচ্ছে। সংগঠনটি ছোট ছোট সেল এবং আর্থিক ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আল-কায়েদার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তুলনামূলকভাবে চাপে থাকলেও তাদের আঞ্চলিক সহযোগী সংগঠনগুলো এখনো সক্রিয়। দক্ষিণ এশিয়ায় এসব সংগঠনের কার্যক্রম, সদস্য সংগ্রহ, অর্থায়ন এবং আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। প্রতিবেদনে একই সঙ্গে আইএসআইএলসহ অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের বিস্তার, অর্থায়ন, বিদেশি যোদ্ধাদের চলাচল এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জাতিসংঘের এই পর্যবেক্ষণ দল আল-কায়েদা, আইএসআইএল এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর সন্ত্রাসী হুমকি, অর্থায়ন, বিদেশি যোদ্ধাদের চলাচল এবং নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে এসব বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদকে তথ্য ও সুপারিশ দেয়। তবে বাংলাদেশে একিউআইএসের ঘাঁটি রয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিষয়টি উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে যে উদ্বেগ ও কার্যক্রম বিস্তারের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে, সেটিকেই প্রতিবেদনের বক্তব্য হিসেবে তুলে ধরা নিরাপদ। দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গি সংগঠনগুলোর সম্ভাব্য বিস্তার এবং আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্কের তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।