আমেরিকা

কোমা, হুইলচেয়ার আর ১০ বছরের সংগ্রাম; না ফেরার দেশে চলে গেলেন বক্সার প্রিচার্ড কোলন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৮:১৬
না ফেরার দেশে চলে গেলেন বক্সার প্রিচার্ড কোলন
না ফেরার দেশে চলে গেলেন বক্সার প্রিচার্ড কোলন

বক্সিং রিংয়ে মস্তিষ্কে মর্মান্তিক আঘাত পাওয়ার দীর্ঘ দশ বছর পর মারা গেছেন পুয়ের্তো রিকোর সাবেক পেশাদার বক্সার প্রিচার্ড কোলন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে তাঁর বাবা ও সাবেক প্রশিক্ষক রিচার্ড কোলন এই দুঃসংবাদটি নিশ্চিত করেন। ৩৩ বছর বয়সী এই বক্সারের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

 

ফেসবুক পোস্টে তাঁর বাবা রিচার্ড লেখেন, "সবাইকে সুপ্রভাত। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমার ছেলে প্রিচার্ড এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। সে এখন আরও ভালো কোনো জায়গায় আছে।" আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, "ওর সবচেয়ে বড় ইচ্ছা ও স্বপ্ন ছিল পুয়ের্তো রিকোতে ছুটিতে যাওয়ার, আমি সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য সবরকম চেষ্টা করেও সফল হতে পারিনি। এতো বছর ধরে আপনাদের অপরিসীম ভালোবাসা ও প্রার্থনার জন্য ধন্যবাদ। অনুগ্রহ করে আমাদের জন্য আপনাদের প্রার্থনা অব্যাহত রাখবেন।"

 

২০১৫ সালের ১৭ অক্টোবর ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্সে ঈগলব্যাংক অ্যারেনায় টেরেল উইলিয়ামসের বিপক্ষে এক ম্যাচে মাথায় গুরুতর আঘাত পান প্রিচার্ড। এর ফলেই তিনি দীর্ঘস্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতির শিকার হন। ২০১৩ সালে পেশাদার বক্সিংয়ে পা রাখার মাত্র দুই বছরের মাথায় ১৬-০ জয় ও ১৩টি নকআউটের দুর্দান্ত রেকর্ড নিয়ে তিনি ওই লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু সেই ম্যাচে মাথার পেছনে বেআইনি 'র‍্যাবিট পাঞ্চ' বা অবৈধ আঘাতের শিকার হয়ে তিনি দুবার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। নিয়মবহির্ভূত এই আঘাতের কারণে রেফারি উইলিয়ামসের পয়েন্টও কেটে নিয়েছিলেন।

 

ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে ফিরে মাথা ঘোরার কথা জানান প্রিচার্ড এবং একপর্যায়ে বমি করতে করতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। দ্রুত তাকে ইনোভা ফেয়ারফ্যাক্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার মাথার বাঁ দিকে ১.৫ সেন্টিমিটার পরিমাণ মারাত্মক রক্তক্ষরণ (ব্রেন ব্লিড) হয়েছিল। মস্তিষ্কের ফোলাভাব কমাতে এবং জমাট রক্ত বের করতে তাকে তাৎক্ষণিক জরুরি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এরপর টানা সাত মাস তিনি কোমায় আচ্ছন্ন ছিলেন। সেই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকে প্রিচার্ড চিরতরে হুইলচেয়ারে বন্দী হয়ে নিস্তেজ বা 'ভেজিটেটিভ' জীবনযাপন করছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
রাশিয়ায় বন্দি অবস্থায় মৃ ত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিলেন, অবশেষে দেশে ফিরলেন সাবেক মার্কিন সেনা
রাশিয়ায় বন্দি অবস্থায় মৃ ত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিলেন, অবশেষে দেশে ফিরলেন সাবেক মার্কিন সেনা

রাশিয়ায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দি থাকা মার্কিন মেরিন কর্পসের সাবেক সেনা রবার্ট গিলম্যান অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। তবে দেশে ফেরার আগে তিনি প্রায় মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর মুক্তির জন্য কাজ করা বিশেষজ্ঞরা। ৩২ বছর বয়সী গিলম্যানকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে রাখা হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তাঁকে দীর্ঘ চিকিৎসাপর্বের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তাঁকে মুক্ত করার কার্যক্রমে যুক্ত সংস্থা 'গ্লোবাল রিচ'-এর প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা কিরন রামসে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   ম্যাসাচুসেটসের বাসিন্দা এবং পেশায় শিক্ষক গিলম্যানকে ২০২২ সালে রাশিয়ায় আটক করা হয়। গত সপ্তাহে তাঁর চরম স্বাস্থ্যগত অবনতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। গ্লোবাল রিচের প্রধান কৌশল কর্মকর্তা এরিক লেবসনের মতে, রাশিয়ার একটি হাসপাতালে গিলম্যানকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় অচেতন বা 'ডিসোসিয়েটিভ স্টুপোর' দশায় আটকে রাখা হয়েছিল। এমনকি সে সময় তাঁকে টিউবের মাধ্যমে খাবার দেওয়া হচ্ছিল। এ প্রসঙ্গে কিরন রামসে সিবিএস নিউজকে জানান, সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তাঁর মুক্তি নিশ্চিত করতে তাঁদের প্রায় গিলম্যানের মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে তিনি যে এখন নিরাপদে নিজ দেশের মাটিতে ফিরেছেন, তাতেই তাঁরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে তাঁকে সান আন্তোনিওর ব্রুক আর্মি মেডিকেল সেন্টারে বিশ্বের অন্যতম সেরা চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।   রাশিয়ায় গিলম্যানকে মারাত্মক অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন এরিক লেবসন। তিনি জানান, রুশ কর্তৃপক্ষ গিলম্যানকে মানসিক হয়রানির পাশাপাশি টানা ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ব্যায়াম করতে বাধ্য করেছে। এমনকি তাঁকে মানসিক রোগের ওষুধও প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য প্রবল চাপ দেওয়া হয়েছিল। যদিও সিবিএস নিউজ স্বাধীনভাবে এই দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি এবং রুশ কর্মকর্তারাও প্রকাশ্যে এর কোনো জবাব দেননি।   তবে গিলম্যানের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে মানবিক কারণে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন রুশ সরকারের কাছে বারবার দাবি জানিয়েছিল বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন। লেবসন উল্লেখ করেন, রাশিয়ায় বন্দি থাকা অন্য যেকোনো মার্কিন নাগরিকের তুলনায় রবার্টের পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ায় বন্দি থাকা বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের মুক্তি নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে রাশিয়ায় ১০ জন, ইরানে ২ জন এবং চীনে ১ জন মার্কিন নাগরিক বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন রামসে। খুব শিগগিরই তাঁদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৯:১৪
না ফেরার দেশে চলে গেলেন বক্সার প্রিচার্ড কোলন

কোমা, হুইলচেয়ার আর ১০ বছরের সংগ্রাম; না ফেরার দেশে চলে গেলেন বক্সার প্রিচার্ড কোলন

ফ্লোরিডায় পারিবারিক কলহের জেরে মা ও দুই নিষ্পাপ সন্তানকে হ ত্যার পর আত্মহ ত্যা নারীর

ফ্লোরিডায় পারিবারিক কলহের জেরে মা ও দুই নিষ্পাপ সন্তানকে হ ত্যার পর আত্মহ ত্যা নারীর

ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর হাতে বৃদ্ধ খু ন, নিউসনকে দুষলেন ট্রাম্পের ‘বর্ডার জার’

ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর হাতে বৃদ্ধ খু ন, নিউসনকে দুষলেন ট্রাম্পের ‘বর্ডার জার’

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণী মহুয়া
ট্যাক্সিচালকের মেয়ে থেকে সফল উদ্যোক্তা, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণীর আয় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার

নিউইয়র্ক সিটির প্রচণ্ড প্রতিযোগিতামূলক জীবনব্যবস্থা আর নিজের কিছু করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সেই সফল উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন মহুয়া খান। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এই তরুণীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা নিউইয়র্কের কুইন্সে। ৯টি ভিন্ন মাধ্যম থেকে উপার্জন করে তিনি ২০২৫ সালে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করেছেন, যার মধ্যে কর ও অন্যান্য খরচ বাদে তাঁর নিট আয় ছিল প্রায় ৭০ হাজার ডলার।   বর্তমানে তিনি অ্যাস্টোরিয়া এলাকায় ৩ হাজার ডলার ভাড়ার একটি এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছেন এবং সেখান থেকেই নিজের সব কাজ পরিচালনা করছেন। নিউইয়র্কের ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মহুয়া জানান, এখানকার জীবন এক ধরনের দ্বিধারি তলোয়ারের মতো; চারপাশে সবাইকে একাধিক চাকরি আর প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে দেখলে এটিকেই জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম বলে মনে হয়।   অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান হিসেবে ছোটবেলা থেকেই কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা নিয়ে বড় হয়েছেন মহুয়া। তাঁর বাবা সপ্তাহে সাত দিন, দিনে ১৬ ঘণ্টা নিউইয়র্কের রাস্তায় ট্যাক্সি চালিয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর মা সব সময় বলতেন, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। মূলত এই অভাববোধ ও মানসিকতা থেকেই মাত্র ১৫ বছর বয়সে কাজ শুরু করেন তিনি। স্নাতকোত্তর পড়ার সময় নিজের বেতনের জমানো টাকা ও ঋণ দিয়ে পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন। এর পাশাপাশি বাসা ভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে আফটার-স্কুল কাউন্সেলর হিসেবেও পার্ট-টাইম কাজ করেছেন এই অদম্য তরুণী।   মহামারির সময় ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটকে নিজের আঁকাআঁকির ভিডিও পোস্ট করার মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। ধীরে ধীরে দর্শক বাড়তে থাকলে তিনি ইউটিউব ও স্কিলশেয়ার থেকে ক্লাস করে নিজের দক্ষতা আরও বাড়িয়ে নেন। এরপর কনটেন্ট তৈরিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি 'ল্যাবিরিন্থঅ্যাভ' (Labyrinthave) নামে একটি নিজস্ব পোশাকের ব্র্যান্ড চালু করেন, যেখানে ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ও বাংলাদেশী ঐতিহ্যের ছাপ রয়েছে। তবে শুরুর দিকের সেই দিনগুলোর কথা মনে করে মহুয়া জানান, তখন তিনি এক ধরনের মোহের মধ্যে ছিলেন এবং কারও সাহায্য ছাড়াই একা সব করতে চাইতেন। কাজের চাপে তাঁর নিজের ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু ছিল না, যা তাঁকে চরম ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। তাই কোনো পূর্বপ্রস্তুতি বা জমানো টাকা ছাড়া হঠাৎ চাকরি ছেড়ে নিজের প্যাশন নিয়ে কাজ শুরু করাটা কতটা ভীতিকর হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি অন্যদের সতর্ক করেছেন।   বর্তমানে পাঁচ বছর পর এসে মহুয়া আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং ঋণমুক্ত। তিনি তাঁর আয়ের একটি অংশ দিয়ে বাবা-মায়ের বাড়ির মর্টগেজ বা বন্ধকি ঋণ পরিশোধে সাহায্য করছেন। এছাড়া নিজের ও পরিবারের ফোন বিল, অ্যাপার্টমেন্টের ইউটিলিটি বিল এবং মাসিক বাজারের খরচও তিনি সুচারুভাবে বহন করছেন। নিজের একটি গাড়ি থাকলেও তা মায়ের যাতায়াতের সুবিধার জন্য বাবা-মায়ের বাড়িতে রেখে এসেছেন এবং নিজে সাবওয়েতেই যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এখন তিনি কাজ ও ব্যক্তিজীবনের মাঝে একটি চমৎকার ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছেন, যেখানে নিজেকে প্রমাণের জন্য আর আগের মতো অমানবিক পরিশ্রম করতে হয় না। জীবনযাত্রা এতটা ব্যয়বহুল হওয়া সত্ত্বেও নিউইয়র্ক শহর ছেড়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই মহুয়ার, বরং এই শহরেই নিজের ভবিষ্যৎ পরিবার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৭:২৬
অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে গোপন ছবি বিক্রি করছে সাইবার অপরাধীরা

অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে গোপন ছবি বিক্রি করছে সাইবার অপরাধীরা, সতর্ক করল এফবিআই

অধ্যাপক মরিয়ম তহমাসেবি I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে এক মায়ের অতীত কর্মকাণ্ডের জেরে চার মাস ধরে বন্দী গ্রিন কার্ডধারী অধ্যাপক পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সংস্কৃতির অন্যতম বড় উৎসব হালাল ফেস্টে উপচে পড়া ভিড়, অংশ নিলেন ২৮ হাজার দর্শনার্থী

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সংস্কৃতির অন্যতম বড় উৎসব হালাল ফেস্টে উপচে পড়া ভিড়, অংশ নিলেন ২৮ হাজার দর্শনার্থী

ক্রেডিট স্কোরের ভুলে ইকুইফ্যাক্সের ১০ কোটি ডলারের সমঝোতা, ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন লাখো গ্রাহক
ক্রেডিট স্কোরের ভুলে ইকুইফ্যাক্সের ১০ কোটি ডলারের সমঝোতা, ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন লাখো গ্রাহক

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ ক্রেডিট তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইকুইফ্যাক্স ২০২২ সালের একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির জেরে দায়ের হওয়া মামলায় ১০ কোটি ডলারের বিশাল অঙ্কের সমঝোতায় পৌঁছেছে। এই সমঝোতা এখনও ফেডারেল আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এটি অনুমোদিত হলে প্রায় ৪০ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক এই ক্ষতিপূরণের আওতাভুক্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   মামলার মূল সূত্রপাত ঘটে ২০২২ সালের মার্চ মাসে ইকুইফ্যাক্সের কম্পিউটার সিস্টেমে দেখা দেওয়া একটি কোডিং ত্রুটি থেকে। ওই বছরের ১৭ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত এই ত্রুটির কারণে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের ক্রেডিট স্কোর ও ঋণসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলভাবে হিসাব করা হয় এবং তা তৃতীয় পক্ষের কাছে সরবরাহ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা আর্থিক সুরক্ষা ব্যুরোর (সিএফপিবি) তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, ওই সময়ে ৬ লাখেরও বেশি গ্রাহকের ক্রেডিট স্কোর অন্তত ১০ পয়েন্ট এবং প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার গ্রাহকের স্কোর ২৫ পয়েন্ট বা তারও বেশি কমে গিয়েছিল। ফ্রেডি ম্যাকের দেওয়া তথ্যমতে, এই নির্দিষ্ট সময়ে ইকুইফ্যাক্সের তৈরি প্রায় ১২ শতাংশ ক্রেডিট রিপোর্ট ওই ত্রুটি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে।   ক্রেডিট স্কোরের এই আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পতনের ফলে বহু গ্রাহক মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। অনেকেই গাড়ি, বাড়ি বা ক্রেডিট কার্ডের জন্য ঋণের আবেদন করতে গিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, আবার অনেককে বাধ্য হয়ে তুলনামূলক চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়েছে। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের 'ফেয়ার ক্রেডিট রিপোর্টিং অ্যাক্ট' বা ন্যায্য ক্রেডিট রিপোর্টিং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইকুইফ্যাক্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ চার বছরের আইনি লড়াই, বিস্তর নথি পর্যালোচনা এবং দর-কষাকষির পর অবশেষে উভয় পক্ষ এই ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে একমত হয়েছে।   প্রস্তাবিত এই সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দিতে মোট ১০ কোটি ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে। এই অর্থ থেকে যোগ্য গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি মামলার আইনজীবীদের পারিশ্রমিক ও প্রশাসনিক খরচ মেটানো হবে। আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর কীভাবে ও কবে দাবি জমা দিতে হবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। বৈধভাবে দাবি জমা দেওয়া গ্রাহকরা আনুপাতিক হারে তহবিলের অর্থ পাবেন।   ইকুইফ্যাক্স অবশ্য আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিজেদের কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায় স্বীকার করেনি। কোম্পানির দাবি, কেবল দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার বিপুল ব্যয় ও অনিশ্চয়তা এড়াতেই তারা এই সমঝোতায় রাজি হয়েছে। উল্লেখ্য, ত্রুটিপূর্ণ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ঋণদাতাদের কাছে ভুল তথ্য পাঠানোর একই ঘটনায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সিএফপিবি ইকুইফ্যাক্সকে আলাদাভাবে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানাও করেছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৬:৬
'বার্থ ট্যুরিজম' ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন টাস্কফোর্স, এক মাসে বাতিল ৬০০ ভিসা

'বার্থ ট্যুরিজম' ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন টাস্কফোর্স, এক মাসে বাতিল ৬০০ ভিসা

নিউইয়র্কে বছরজুড়ে আউটডোর ডাইনিং ফিরিয়ে আনতে সিটি কাউন্সিলের নতুন বিল

নিউইয়র্কে বছরজুড়ে আউটডোর ডাইনিং ফিরিয়ে আনতে সিটি কাউন্সিলের নতুন বিল

নিউইয়র্কে ৪.৫০ ডলারের সিটি বাইক ভাড়া বেড়ে ১২.১৫ ডলার, রাইডপ্রতি সর্বোচ্চ ৩ ডলার করতে নতুন বিল

নিউইয়র্কে ৪.৫০ ডলারের সিটি বাইক ভাড়া বেড়ে ১২.১৫ ডলার, রাইডপ্রতি সর্বোচ্চ ৩ ডলার করতে নতুন বিল

0 Comments