ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর হাতে বৃদ্ধ খু ন, নিউসনকে দুষলেন ট্রাম্পের ‘বর্ডার জার’
ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের বাড়ির সামনে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় রাজ্যটির গভর্নর গ্যাভিন নিউসনকে তীব্র আক্রমণ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'বর্ডার জার' টম হোম্যান। গত সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়াতে টড স্টুয়ার্ট (৬৮) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিজ বাড়ির লনে মর্মান্তিকভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মার্কোস ইরিয়ার্তে-ভালদেজ (৩৬) নামের এক অবৈধ ভেনেজুয়েলান অভিবাসী, যার কাছে স্পেনের নাগরিকত্বও রয়েছে।
'ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস'-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টম হোম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনীতির শিকার না হলে ওই বৃদ্ধকে আজ প্রাণ হারাতে হতো না। ক্যালিফোর্নিয়ার 'স্যাংচুয়ারি সিটি' বা আশ্রয়দাতা শহরের নীতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, "গভর্নর নিউসন এবং ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন জননিরাপত্তার চেয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি তাদের রাজনৈতিক আক্রোশকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।" হোম্যান আরও জানান, গত এক দশকে এমন শত শত ঘটনার প্রমাণ তার কাছে রয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই ভয়াবহ হামলার ঠিক আগের দিনই অভিযুক্ত ইরিয়ার্তে-ভালদেজকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এর আগে চুরির এক মামলায় গৃহবন্দী থাকার শর্ত লঙ্ঘন করা সত্ত্বেও নিউসনের নিয়োগকৃত এক বিচারক তাকে মুক্তি দেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি ক্যাডিল্যাক এসইউভি থেকে নেমে প্রটেক্টিভ ভেস্ট পরা ওই ব্যক্তি স্টুয়ার্টের ওপর আচমকা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। স্টুয়ার্ট মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যন্ত্রণায় চিৎকার করার সময়ও তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি এবং হামলাকারীর মধ্যে পূর্বের কোনো পরিচয় ছিল না।
এই ঘটনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর ব্যর্থতাকে দায়ী করায় ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেছেন হোম্যান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে তারা যথাযথ তদন্ত করে ওই ব্যক্তিকে বহিষ্কারের জন্য একটি ডিটেইনার ইস্যু করেছিলেন। তবে গভর্নরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে উল্টো ফেডারেল কর্তৃপক্ষের ওপরই দায় চাপিয়েছে। তাদের দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো আইন ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে অভিবাসন আইন প্রয়োগে বাধা দেয় না। ২০০৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এই অপরাধীর বিরুদ্ধে এর আগেও চুরি, বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং স্ত্রীকে মারধর করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাকে ১.১ মিলিয়ন ডলারের জামিনে আটকে রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবক্সিং রিংয়ে মস্তিষ্কে মর্মান্তিক আঘাত পাওয়ার দীর্ঘ দশ বছর পর মারা গেছেন পুয়ের্তো রিকোর সাবেক পেশাদার বক্সার প্রিচার্ড কোলন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে তাঁর বাবা ও সাবেক প্রশিক্ষক রিচার্ড কোলন এই দুঃসংবাদটি নিশ্চিত করেন। ৩৩ বছর বয়সী এই বক্সারের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ফেসবুক পোস্টে তাঁর বাবা রিচার্ড লেখেন, "সবাইকে সুপ্রভাত। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমার ছেলে প্রিচার্ড এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। সে এখন আরও ভালো কোনো জায়গায় আছে।" আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, "ওর সবচেয়ে বড় ইচ্ছা ও স্বপ্ন ছিল পুয়ের্তো রিকোতে ছুটিতে যাওয়ার, আমি সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য সবরকম চেষ্টা করেও সফল হতে পারিনি। এতো বছর ধরে আপনাদের অপরিসীম ভালোবাসা ও প্রার্থনার জন্য ধন্যবাদ। অনুগ্রহ করে আমাদের জন্য আপনাদের প্রার্থনা অব্যাহত রাখবেন।" ২০১৫ সালের ১৭ অক্টোবর ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্সে ঈগলব্যাংক অ্যারেনায় টেরেল উইলিয়ামসের বিপক্ষে এক ম্যাচে মাথায় গুরুতর আঘাত পান প্রিচার্ড। এর ফলেই তিনি দীর্ঘস্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতির শিকার হন। ২০১৩ সালে পেশাদার বক্সিংয়ে পা রাখার মাত্র দুই বছরের মাথায় ১৬-০ জয় ও ১৩টি নকআউটের দুর্দান্ত রেকর্ড নিয়ে তিনি ওই লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু সেই ম্যাচে মাথার পেছনে বেআইনি 'র্যাবিট পাঞ্চ' বা অবৈধ আঘাতের শিকার হয়ে তিনি দুবার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। নিয়মবহির্ভূত এই আঘাতের কারণে রেফারি উইলিয়ামসের পয়েন্টও কেটে নিয়েছিলেন। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে ফিরে মাথা ঘোরার কথা জানান প্রিচার্ড এবং একপর্যায়ে বমি করতে করতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। দ্রুত তাকে ইনোভা ফেয়ারফ্যাক্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার মাথার বাঁ দিকে ১.৫ সেন্টিমিটার পরিমাণ মারাত্মক রক্তক্ষরণ (ব্রেন ব্লিড) হয়েছিল। মস্তিষ্কের ফোলাভাব কমাতে এবং জমাট রক্ত বের করতে তাকে তাৎক্ষণিক জরুরি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এরপর টানা সাত মাস তিনি কোমায় আচ্ছন্ন ছিলেন। সেই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকে প্রিচার্ড চিরতরে হুইলচেয়ারে বন্দী হয়ে নিস্তেজ বা 'ভেজিটেটিভ' জীবনযাপন করছিলেন।
ফ্লোরিডায় পারিবারিক কলহের জেরে মা ও দুই নিষ্পাপ সন্তানকে হ ত্যার পর আত্মহ ত্যা নারীর
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর হাতে বৃদ্ধ খু ন, নিউসনকে দুষলেন ট্রাম্পের ‘বর্ডার জার’
ট্যাক্সিচালকের মেয়ে থেকে সফল উদ্যোক্তা, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণীর আয় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) সাইবার অপরাধীদের এক ভয়ংকর তৎপরতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, হ্যাকাররা এখন অত্যন্ত সুকৌশলে সাধারণ মানুষের সোশ্যাল মিডিয়া ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টগুলোতে অনুপ্রবেশ করছে। এসব অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তারা ব্যবহারকারীদের একান্ত ব্যক্তিগত ও গোপন ছবি চুরি করছে। পরবর্তীতে এই স্পর্শকাতর ছবিগুলো তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বা ডার্ক ওয়েবে চড়া দামে বিক্রি করে দিচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এফবিআইয়ের পরিভাষায় এই ধরনের ছবিগুলোকে সম্মতিবিহীন অন্তরঙ্গ ছবি বা ‘এনসিআইআই’ (NCII) বলা হয়ে থাকে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সাইবার অপরাধীরা শুধু এসব ছবি চুরি করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না; বিক্রির সময় ছবিগুলোর সাথে ভুক্তভোগীদের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যও যুক্ত করে দিচ্ছে। এর ফলে হ্যাকারদের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা মারাত্মক সামাজিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকিতে পড়ছেন। অপরাধীদের এমন দৌরাত্ম্য সাইবার জগতে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার অভাবকেই স্পষ্টভাবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রযুক্তিগত এই যুগে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ব্যবহারকারীদের অনলাইন সুরক্ষার বিষয়ে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল এবং ক্লাউড স্টোরেজ অ্যাকাউন্টগুলোতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ চালু রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা তথ্য অনলাইনে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের কোনো বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রে এক মায়ের অতীত কর্মকাণ্ডের জেরে চার মাস ধরে বন্দী গ্রিন কার্ডধারী অধ্যাপক পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সংস্কৃতির অন্যতম বড় উৎসব হালাল ফেস্টে উপচে পড়া ভিড়, অংশ নিলেন ২৮ হাজার দর্শনার্থী
ক্রেডিট স্কোরের ভুলে ইকুইফ্যাক্সের ১০ কোটি ডলারের সমঝোতা, ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন লাখো গ্রাহক
মার্কিন অভিবাসন আইনের অপব্যবহার রোধে এবং 'বার্থ ট্যুরিজম' বা সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ ঠেকাতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বা ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট। ইতিমধ্যেই এই টাস্কফোর্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারকারী শত শত বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে। গত ৩০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ অভিবাসী বা অস্থায়ী দর্শনার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি উদ্যোগ খারিজ করে দেওয়ার পরপরই এই নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা এল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক মাধ্যম এক্সে ভিসা অপব্যবহারের এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, সুসংগঠিত কিছু চক্র মার্কিন আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে বিপুল মুনাফা লুটছে। তারা বিদেশিদের মার্কিন ভিসা ব্যবস্থায় প্রতারণা করতে শেখাচ্ছে, ভ্রমণ ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে এবং এমনকি জাল নথিপত্র তৈরি করছে; যার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো ওই বিদেশিদের সন্তানদের মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়া। বিশ্বজুড়ে ভিসা প্রাপ্তদের কার্যক্রম এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটিসহ অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার তথ্য কাজে লাগিয়ে এই টাস্কফোর্স মাত্র এক মাসের মধ্যে ৬০০টিরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। দপ্তরের লক্ষ্য হলো এই ধরনের অপব্যবহারের সাথে জড়িত যেকোনো নেটওয়ার্ককে ধ্বংস করা এবং তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা আবেদনে প্রতারণার ব্যাপক দৃষ্টান্ত বিশ্বজুড়েই মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, এক বিদেশি দম্পতি ভিসা আবেদনে সম্মেলন ও ছুটি কাটানোর কথা বলে দুইবার মিথ্যা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে এবং আলাদা সময়ে সেখানে দুই সন্তানের জন্ম দেয়; পরবর্তীতে তাদের ভিসা বাতিল করা হয়। অন্য এক ঘটনায় এক নারী অরল্যান্ডোতে ছুটি কাটানোর কথা বলে ভিসা নিলেও তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে যান এবং পৌঁছানোর মাত্র পাঁচ দিন পর সেখানে সন্তানের জন্ম দেন। উল্লেখ্য, ২০২৫–২০২৬ মেয়াদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা ৬–৩ ভোটে ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দেন, যার উদ্দেশ্য ছিল অবৈধ অভিবাসী ও অস্থায়ী ভিসাধারীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ থেকে বঞ্চিত করা। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে উল্লেখ করেন যে, আমেরিকার মাটিতে এবং মার্কিন আইনের অধীনে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো শিশু একজন মার্কিন নাগরিক। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন বলে জানালেও গত ২৭ জুলাই সেই নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যায়। এরপর গত ৬ আগস্ট তিনি দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ফর পলিসি স্টিফেন মিলারের মতে, এই আদেশগুলোর লক্ষ্য হলো 'বার্থ ট্যুরিজম' নিষিদ্ধ করা এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অযোগ্য ব্যক্তিদের সংজ্ঞার পরিধি বাড়ানো। তবে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) ও অন্যান্য মানবাধিকার গোষ্ঠী গত ১১ আগস্ট এক ফেডারেল বিচারকের কাছে ট্রাম্পের এই নতুন নির্বাহী আদেশের প্রয়োগ স্থগিত করার আবেদন জানিয়েছে।
নিউইয়র্কে বছরজুড়ে আউটডোর ডাইনিং ফিরিয়ে আনতে সিটি কাউন্সিলের নতুন বিল
নিউইয়র্কে ৪.৫০ ডলারের সিটি বাইক ভাড়া বেড়ে ১২.১৫ ডলার, রাইডপ্রতি সর্বোচ্চ ৩ ডলার করতে নতুন বিল