সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ফ্লোরিডায় স্কুল নিরাপত্তাকর্মীকে গ্রে প্তারের পর তদন্ত
ফোনে ঘোড়ার সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌ ন কর্মকাণ্ডের ভিডিও, ফ্লোরিডায় স্কুল নিরাপত্তাকর্মী গ্রে প্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে একটি স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীর ফোনে ঘোড়ার সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌ ন কর্মকাণ্ডের পাঁচটি ভিডিও পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ডেনিস কিরান নামের ৫০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে গ্রে প্তার করা হয়েছে। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতাসংক্রান্ত চারটি অভিযোগে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিউ স্মিরনা বিচ হাইস্কুলে কর্মরত কিরানকে ঘিরে তদন্ত শুরু হয় বুধবার। ওই দিন স্কুলের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা তাঁকে ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের ছবি তুলতে দেখেন। এ সময় তাঁর হাতে থাকা ফোনটি উরুর ওপরের অংশের কাছে রাখা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর কিরানের কাছ থেকে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তদন্ত চলাকালে তাঁকে স্কুল ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে তাঁর ফোন পরীক্ষা করে পুলিশ। ওই ফোনে শিক্ষার্থীদের কোনো অপরাধমূলক ছবি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের ঘোড়ার সঙ্গে যৌ ন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার পাঁচটি ভিডিও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ভিডিওগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কিরানের বিরুদ্ধে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। আদালত তাঁকে শিশু ও প্রাণীদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের শুরুতে স্কুলে নারী শিক্ষার্থীদের ছবি তোলার অভিযোগ সামনে এলেও ফোনে শিক্ষার্থীদের অপরাধমূলক ছবি পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে ফোনে পাওয়া ভিডিওগুলোকে কেন্দ্র করে পৃথক অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিরানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া চলবে। অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়; আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। ফ্লোরিডায় স্কুলের নিরাপত্তা জোরদার করতে চালু করা হয়েছিল স্কুল গার্ডিয়ান কর্মসূচি। ২০১৮ সালে পার্কল্যান্ডের একটি স্কুলে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার পর এ কর্মসূচি শুরু হয়। এর আওতায় স্কুল জেলার নির্দিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ক্যাম্পাসে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে এই কর্মসূচির আওতায় থাকা কর্মীরা পুলিশ কর্মকর্তাদের মতো কাউকে গ্রে প্তার করার ক্ষমতা পান না। তাঁদের মূল দায়িত্ব স্কুলের নিরাপত্তায় সহায়তা করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখা। স্কুলের মতো সংবেদনশীল স্থানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের আচরণ নিয়ে এমন অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকির গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৭:৩৫
প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ ও ত্বকের যত্ন
প্রাপ্তবয়স্কদেরও হতে পারে ব্রণের সমস্যা, ত্বক সুস্থ রাখতে চিকিৎসকেরা দিচ্ছেন যেসব পরামর্শ

ব্রণকে সাধারণত কৈশোরের সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বয়স বাড়ার পরও অনেকের মুখে ব্রণ দেখা দিতে পারে। কারও ক্ষেত্রে কৈশোরের ব্রণ প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও থেকে যায়, আবার কারও ত্বকে নতুন করে ব্রণ দেখা দেয়। মুখের পাশাপাশি বুক, কাঁধ ও পিঠেও হতে পারে এই সমস্যা। সঠিক চিকিৎসা না নিলে ব্রণ থেকে ত্বকে কালচে দাগ ও স্থায়ী ক্ষত তৈরি হতে পারে।   ফিলিপাইনে বসবাসকারী বিপণনকর্মী ও কনটেন্ট নির্মাতা গিলিয়ান মেগান মন্টালবোর অভিজ্ঞতা এর একটি উদাহরণ। কৈশোরে তাঁর কপাল ও নাকে অল্প কয়েকটি ব্রণ উঠত। তখন সমস্যা তেমন গুরুতর ছিল না। কিন্তু কর্মজীবনে প্রবেশের পর ব্রণ আবার দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে বেড়ে যায়। গাল ও থুতনিতে ব্রণ হওয়ায় তিনি কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চোখের দিকে তাকাতেও অস্বস্তি বোধ করতেন। মন্টালবোর ভাষায়, এই সমস্যা তাঁর আত্মবিশ্বাস ও নিজের প্রতি ইতিবাচক ধারণার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। পরে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন তিনি। প্রায় এক বছরের মধ্যে তাঁর ব্রণ অনেকটাই সেরে যায়। তবে ত্বকে থেকে যাওয়া দাগ নিয়ে তাঁকে আরও কিছুদিন ভুগতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ একটি পরিচিত সমস্যা। এ নিয়ে লজ্জা পাওয়া বা একা একা কষ্ট সহ্য করার প্রয়োজন নেই। ব্রণের ধরন ও কারণ বুঝে চিকিৎসা নিলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস স্কুল অব মেডিসিনের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও এথনিক স্কিন প্রোগ্রামের পরিচালক ডা. ক্রিস্টাল আগুহ বলেন, ব্রণের কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে চিকিৎসকদের যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে। তাই দীর্ঘদিন ব্রণের সমস্যায় ভুগলে একা কষ্ট না পেয়ে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত। প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণের কারণ কী? ত্বকের ক্ষুদ্র রন্ধ্র তেল, মৃত কোষ ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে বন্ধ হয়ে গেলে ব্রণ তৈরি হতে পারে। সাধারণ ছোট ব্রণ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে কমে যেতে পারে। কিন্তু বারবার ব্রণ উঠতে থাকলে, দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে কিংবা ত্বকের রং ও গঠনে পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কৈশোরে সাধারণত কপাল, নাক ও গালে ব্রণ বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্রণ চোয়ালের রেখা ও থুতনির আশপাশে বেশি দেখা যেতে পারে। স্টেরয়েডজাতীয় কিছু ওষুধ ব্যবহারের কারণেও কারও কারও ব্রণ হতে পারে। ব্রণের পেছনে বংশগত বৈশিষ্ট্য, হরমোন, পরিবেশ এবং খাদ্যাভ্যাসের মতো একাধিক বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে কারণ এক নয়। মুখ ও শরীরের অন্য অংশে ব্রণ তৈরির প্রক্রিয়ায় মিল থাকলেও শরীরের ব্রণের ক্ষেত্রে ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা কখনো কখনো বেশি হতে পারে। ব্রণ দেখতে একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়। কিছু ব্রণ ছোট, সাদা ও ব্যথাহীন দানার মতো দেখা যায়। আবার কিছু ব্রণ লাল, ফুলে থাকা ও ব্যথাযুক্ত হতে পারে। ত্বকের গভীরে তৈরি হওয়া বড় ও যন্ত্রণাদায়ক গুটিকে সিস্টিক ব্রণ বলা হয়। ব্রণের ধরন বুঝে চিকিৎসা নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্রণের চিকিৎসায় কী কী উপায় রয়েছে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রণের চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার তীব্রতা, কারণ এবং ত্বকের অবস্থার ওপর। হালকা ব্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইড, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড কিংবা অ্যাডাপালিনের মতো উপাদানযুক্ত ফেসওয়াশ বা ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। এসব উপাদান ত্বকের রন্ধ্র পরিষ্কার রাখতে এবং ব্রণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। ব্রণ বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক বা ট্রেটিনয়েনজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হতে পারে। গুরুতর সিস্টিক ব্রণ কিংবা অন্য চিকিৎসায় কাজ না হলে আইসোট্রেটিনয়েনের মতো ওষুধ বিবেচনা করা হয়। তবে এসব ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা রয়েছে। তাই নিজে থেকে ওষুধ শুরু না করে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। নারীদের হরমোনজনিত ব্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসাপদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি কিংবা স্পাইরোনোল্যাকটোনের মতো ওষুধ দিতে পারেন। কোন চিকিৎসা উপযুক্ত হবে, তা ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করতে হয়। কখনো কখনো দ্রুত কোনো নির্দিষ্ট ব্রণের ফোলা ও প্রদাহ কমাতে চিকিৎসকেরা কর্টিসোন ইনজেকশন ব্যবহার করেন। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার বিকল্প নয়। ব্রণ থেকে বের হওয়া তরল শোষণ করতে হাইড্রোকলয়েডযুক্ত প্যাচও ব্যবহার করা হয়। এসব প্যাচ ব্রণ খোঁচানো থেকে বিরত থাকতেও সাহায্য করতে পারে। তবে সব ধরনের ব্রণের জন্য এগুলো উপযুক্ত নয়। ত্বকে দাগ বা অন্য সমস্যা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ব্রণ খোঁচানো কেন ক্ষতিকর ব্রণ উঠলে অনেকেই তা নখ দিয়ে খুঁটতে বা চেপে বের করতে চান। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ফাইন ডার্মাটোলজির প্রতিষ্ঠাতা ডা. লরেন ফাইন বলেন, ব্রণ খোঁচানো বা চেপে ধরলে সমস্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে ত্বকের প্রদাহ আরও গভীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি নতুন ব্রণ তৈরি হওয়া, কালচে দাগ পড়া এবং স্থায়ী ক্ষতের ঝুঁকিও বাড়ে। গাঢ় ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে প্রদাহের পর অতিরিক্ত রঞ্জক পদার্থ তৈরি হওয়ায় দাগ দূর হতে বেশি সময় লাগতে পারে। ব্রণ সেরে যাওয়ার পরও ত্বকে দাগ থেকে যেতে পারে। এ ধরনের দাগ কমাতে গ্লাইকোলিক অ্যাসিডযুক্ত কিছু ত্বক পরিচর্যার পণ্য সহায়ক হতে পারে। অ্যাডাপালিন ও রেটিনলযুক্ত পণ্যও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে। তবে গভীর বা গুরুতর ক্ষতের জন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ লেজারের মতো চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন। চিকিৎসা শুরু করার পর ফল পেতে সময় লাগতে পারে। নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের শুরুতে কারও কারও ব্রণ সাময়িকভাবে বেড়ে যাওয়ার মতো পরিবর্তনও দেখা যায়। তাই ত্বকের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং সমস্যা বাড়লে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকের যত্নের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও জরুরি মন্টালবোর অভিজ্ঞতা দেখায়, ব্রণের প্রভাব শুধু ত্বকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর বাবা নিজেও ব্রণের সমস্যায় ভুগেছিলেন। তিনিই তাঁকে চিকিৎসকের কাছে যেতে এবং উপযুক্ত পণ্য খুঁজে নিতে উৎসাহিত করেন। কঠিন সময়ে এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সমর্থনও তাঁকে সাহস জুগিয়েছিল। মন্টালবো জানান, ব্রণের সমস্যা যখন সবচেয়ে বেশি ছিল, তখন ওই বন্ধু তাঁর সঙ্গে বিদেশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। একসময় বন্ধু তাঁকে জানান, তাঁর মুখের ব্রণ কখনো খেয়ালই করেননি। এই অভিজ্ঞতা মন্টালবোকে বুঝতে সাহায্য করে, অন্যের কাছে একজন মানুষের চেহারার চেয়ে তাঁর আচরণ ও ব্যক্তিত্ব অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ব্রণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে কিংবা ত্বকে কালচে দাগ ও ক্ষত তৈরি করলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক চিকিৎসা, ধৈর্য এবং কাছের মানুষের সহযোগিতা এই সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৭:২৪
ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কের বাঘের আবাসস্থল
দর্শনার্থীদের সামনেই বাঘের খাঁচায় ঢুকে প্রাণ হারালেন ব্যক্তি, বন্ধ হলো পার্ক

ইংল্যান্ডের একটি বন্যপ্রাণী পার্কে বাঘের খাঁচায় ঢুকে প্রাণ হারিয়েছেন এক ব্যক্তি। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে উত্তর ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে এ ঘটনা ঘটে। খাঁচায় প্রবেশের পর একটি বাঘ তাঁর ওপর আ ক্র ম ণ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃ ত্যু হয়। নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর পার্কটি খালি করে দেওয়া হয় এবং সপ্তাহান্তের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কীভাবে ওই ব্যক্তি বাঘের খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। দক্ষিণ ইয়র্কশায়ার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কের বাঘের খাঁচায় একজন ব্যক্তির প্রবেশের খবর পায় তারা। পরে বাঘটি ওই ব্যক্তির ওপর আ ক্র ম ণ করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে মৃ ত ঘোষণা করা হয়। নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ঘটনার কথা জানানো হয়েছে। শোকাবহ এই পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কর্মকর্তারা পরিবারটিকে সহায়তা করছেন। ঘটনার সময় পার্কে উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বাঘটির সঙ্গে ওই ব্যক্তির সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওতে ব্যক্তিটিকে বাঘের আ ক্র ম ণ থেকে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করতে শোনা যায়। আশপাশে থাকা লোকজনও চিৎকার করে তাঁকে সতর্ক করার চেষ্টা করেন। তবে ঘটনার ভিডিওটি অত্যন্ত মর্মান্তিক হওয়ায় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এমন দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে নিহত ব্যক্তির পরিবার ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের মানসিক কষ্ট আরও বাড়তে পারে। কীভাবে খাঁচায় প্রবেশ করলেন, তদন্ত চলছে ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা চালু করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জরুরি সেবাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে পার্ক প্রশাসন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার পর বাঘের খাঁচার চারপাশে কালো পর্দা টাঙানো হয়। এতে দর্শনার্থীদের সরাসরি ঘটনাস্থল দেখার সুযোগ সীমিত করা হয়। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে পার্কের দর্শনার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আ ক্র ম ণের পর বাঘটি আহত হয়নি এবং খাঁচার ভেতরেই ছিল। এ কারণে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন করে কোনো ঝুঁকি নেই বলেও আশ্বস্ত করেছে তারা। তবে ওই ব্যক্তি কীভাবে দর্শনার্থীদের জন্য নির্ধারিত অংশ পেরিয়ে বাঘের আবাসস্থলে ঢুকলেন, তা এখনো জানা যায়নি। তিনি কোনো বাধা অতিক্রম করেছিলেন কি না, কিংবা কী পরিস্থিতিতে খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, সেসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কের ‘ল্যান্ড অব দ্য টাইগার্স’ এলাকায় বাঘ দেখার জন্য দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে তৈরি পথ রয়েছে। সেখান থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বাঘের চলাফেরা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাঘের আবাসস্থলটি প্রায় দুই একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। পার্কটি ২০০৯ সালে চালু হয়। পরে ২০১১ সালে বাঘের জন্য নির্দিষ্ট এই প্রদর্শনী এলাকা চালু করা হয়। এখানে বিপন্ন প্রজাতির আমুর বা সাইবেরীয় বাঘ রাখা হয়। প্রাকৃতিক পরিবেশের আদলে তৈরি আবাসস্থলে বাঘগুলো বিচরণ করে এবং দর্শনার্থীরা নির্ধারিত স্থান থেকে সেগুলো দেখতে পারেন। এ ধরনের বন্যপ্রাণী পার্কে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সীমানা ও প্রবেশপথ মেনে চলা জরুরি। একই সঙ্গে প্রাণীদের স্বাভাবিক আবাসস্থল থেকে দর্শনার্থীদের আলাদা রাখার ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইয়র্কশায়ারের এই ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনার পর পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, দর্শনার্থী, কর্মী ও প্রাণীদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তদন্ত চলাকালে পার্কটি বন্ধ রাখা হবে বলেও জানানো হয়। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিচয়, বয়স কিংবা তিনি কী কারণে বাঘের খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ তাঁর পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। একটি বন্যপ্রাণী পার্কে এমন মর্মান্তিক ঘটনা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং প্রাণীদের আবাসস্থল সুরক্ষার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। তদন্তে কীভাবে ওই ব্যক্তি বাঘের খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, তা স্পষ্ট হলে ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও জানা যাবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৭:৭
রূপালী জলপ্রপাতের পথে ছোট্ট গাইড মাহি
রূপালী জলপ্রপাতের পথে ছোট্ট গাইড মাহি, বান্দরবানের পর্যটনে নতুন এক মানবিক গল্প

পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, চারপাশে সবুজের সমারোহ, পাখির ডাক আর ঝরনার কলকল শব্দ—প্রকৃতির এমন অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতি বছরই পর্যটকদের আকর্ষণ করে বাংলাদেশের পাহাড়ি জেলা বান্দরবান। এখানকার প্রতিটি পাহাড়, ঝরনা আর জনপদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আলাদা গল্প। সেই গল্পেরই একটি ছোট্ট অথচ তাৎপর্যপূর্ণ চরিত্র নয় বছর বয়সী মাহি। রূপালী জলপ্রপাতের পথে পর্যটকদের পথ দেখিয়ে সে যেন পরিচয় করিয়ে দেয় নিজের চেনা প্রকৃতি, এলাকার সৌন্দর্য আর মানুষের আন্তরিকতার সঙ্গে। মাহির গল্প শুধু একজন শিশুর পর্যটককে পথ দেখানোর গল্প নয়; এটি স্থানীয় মানুষের জ্ঞান, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং পর্যটনকে ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন সম্ভাবনার কথাও বলে। প্রকৃতির পথে মাহির ছোট্ট ভূমিকা   স্থানীয় একটি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে মাহি। তার বাবা পানবরজে কাজ করেন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা এই শিশুটি নিজের পরিচিত পরিবেশ ও পথঘাট সম্পর্কে ধারণাকে কাজে লাগিয়ে রূপালী জলপ্রপাত দেখতে আসা পর্যটকদের পথ দেখায়। একটি পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, মাহি হাসিমুখে তাদের স্বাগত জানায় এবং জলপ্রপাতের পথে গাইড হিসেবে সহযোগিতা করে। তার আন্তরিক ব্যবহার, পরিচিত পথ সম্পর্কে ধারণা এবং পর্যটকদের প্রতি যত্নশীল আচরণ ভ্রমণটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলে। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে অনেক সময় পর্যটকেরা শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা ভাবেন। কিন্তু স্থানীয় কারও চোখ দিয়ে একটি জায়গাকে দেখার অভিজ্ঞতা ভ্রমণে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। মাহির মতো স্থানীয় শিশুরা নিজেদের চেনা পরিবেশ সম্পর্কে যে ধারণা রাখে, তা পর্যটকদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতার দরজা খুলে দিতে পারে। পথ চেনানোর পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতি যত্ন   জলপ্রপাতের পথে চলাচলের সময় ভেজা ও পিচ্ছিল জায়গায় সতর্ক থাকা জরুরি। পাহাড়ি পথের সামান্য অসাবধানতাও বিপদের কারণ হতে পারে। পর্যটকদের নিরাপদে চলাচল, আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং গাছপালা ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি না করার মতো বিষয়গুলোও দায়িত্বশীল ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাহির গল্পে উঠে এসেছে, সে পর্যটকদের পথ দেখানোর পাশাপাশি সতর্কভাবে চলাচল ও পরিবেশের প্রতি যত্নশীল থাকার কথা মনে করিয়ে দেয়। জলপ্রপাতের আশপাশে ছবি তোলার উপযোগী স্থান দেখিয়ে দেওয়ার মতো ছোট ছোট সহযোগিতাও পর্যটকদের অভিজ্ঞতাকে আনন্দময় করে তুলতে পারে। তবে পাহাড়ি পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু স্থানীয় কারও ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। ঝুঁকিপূর্ণ পথ চিহ্নিত করা, নিরাপদ চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া এবং প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত প্রাপ্তবয়স্ক গাইডের ব্যবস্থা করা পর্যটন ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পর্যটনের সম্ভাবনা শুধু পাহাড় আর ঝরনায় সীমাবদ্ধ নয় বান্দরবানের পর্যটন সম্ভাবনার বড় শক্তি এর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য। পাহাড়, বন, ঝরনা ও স্থানীয় সংস্কৃতি মিলিয়ে জেলাটি ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। তবে একটি পর্যটন গন্তব্যকে দীর্ঘমেয়াদে জনপ্রিয় করে তুলতে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নিরাপদ যাতায়াত, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং স্থানীয় মানুষের আন্তরিক অংশগ্রহণ। পর্যটকেরা কোনো এলাকায় গেলে স্থানীয় পরিবহনচালক, খাবারের দোকান, আবাসনসেবা, হস্তশিল্পের উদ্যোক্তা ও গাইডদের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন। পরিকল্পিত পর্যটনব্যবস্থা গড়ে উঠলে এসব পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষের জন্য আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। মাহির গল্প এই বৃহত্তর সম্ভাবনার কথাই মনে করিয়ে দেয়। স্থানীয় মানুষের কাছে কোনো এলাকার পথঘাট, আবহাওয়া, পরিবেশ ও সামাজিক রীতিনীতি সম্পর্কে যে অভিজ্ঞতা থাকে, তা পর্যটনকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে। এই জ্ঞানকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে পর্যটকেরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণও বাড়বে। ছোট্ট মাহির স্বপ্নের আগে জরুরি তার শৈশব মাহির গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার বয়স। মাত্র নয় বছর বয়সে পর্যটকদের পথ দেখানোর অভিজ্ঞতা তার আত্মবিশ্বাস ও স্থানীয় পরিবেশ সম্পর্কে ধারণার পরিচয় দিতে পারে। কিন্তু কোনো শিশুর সম্ভাবনাকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে তার শিক্ষা, নিরাপত্তা ও শৈশবের অধিকারকে কখনোই আড়াল করা উচিত নয়। শিশুদের আগ্রহ ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, কোনো কাজের কারণে তাদের স্কুলে যাওয়া, পড়াশোনা, বিশ্রাম কিংবা স্বাভাবিক শৈশব ব্যাহত হচ্ছে না। মাহির ক্ষেত্রেও পরিবার, স্থানীয় সম্প্রদায় এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। তার প্রকৃতিপ্রীতি ও পথঘাট সম্পর্কে জ্ঞান ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে। সে বড় হয়ে পর্যটন, পরিবেশ সংরক্ষণ কিংবা আতিথেয়তা বিষয়ে আগ্রহী হলে শিক্ষার মাধ্যমে সেই আগ্রহকে আরও বিকশিত করার সুযোগ পেতে পারে। তবে ভবিষ্যতে সে কী হতে চায়, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তারই। এখন তার জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পাওয়া। দায়িত্বশীল পর্যটন গড়ে তুলতে যা প্রয়োজন রূপালী জলপ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক গন্তব্যের সৌন্দর্য ধরে রাখতে পর্যটক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জলপ্রপাত ও পাহাড়ি পথের পরিবেশ রক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ চলাচলের নির্দেশনা এবং পর্যটকদের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটকদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। যত্রতত্র প্লাস্টিক ও খাবারের প্যাকেট না ফেলা, প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি না করা, স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ছবি তুলতে গিয়ে অসতর্ক না হওয়া দায়িত্বশীল ভ্রমণের অংশ। একই সঙ্গে পর্যটন পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ভ্রমণব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। পর্যটনের সুফল যেন শুধু বাইরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছায়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। জলপ্রপাতের পথে একটি বড় বার্তা   রূপালী জলপ্রপাতের পথে মাহির উপস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পর্যটনের গল্প শুধু পাহাড়ের উচ্চতা, ঝরনার সৌন্দর্য কিংবা ছবির আকর্ষণে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের জীবন, স্থানীয় জ্ঞান, আতিথেয়তা এবং উন্নত ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। একটি পর্যটন গন্তব্যকে সত্যিকার অর্থে সমৃদ্ধ করতে হলে প্রকৃতিকে রক্ষা করার পাশাপাশি সেখানকার মানুষের মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, নিরাপত্তা ও শৈশবের অধিকার সবার আগে রাখতে হবে। ছোট্ট মাহি হয়তো এখনো জানে না, তার চেনা পথ ধরে পর্যটকদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার মধ্যে কত বড় একটি বিষয় লুকিয়ে আছে। কিন্তু তার গল্প আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—প্রকৃতির সৌন্দর্যকে মানুষের গল্প থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। বান্দরবানের পাহাড়, বন আর ঝরনা যেমন এই অঞ্চলের সম্পদ, তেমনি এখানকার মানুষের জ্ঞান, সংস্কৃতি ও জীবনও তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও মানবিক পর্যটনব্যবস্থা গড়ে উঠলে রূপালী জলপ্রপাতের মতো গন্তব্য শুধু দর্শনার্থীদের আকর্ষণই বাড়াবে না, বরং স্থানীয় মানুষের জন্যও তৈরি করতে পারে সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের পথ।   লেখক- ড. মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা তালুকদার সহযোগী অধ্যাপক অ্যান্ড  চেয়ারম্যান, কলেজ অফ ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, আইইউবিএটি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৬:৫৫
হারপিসের চিকিৎসায় নতুন মুখে খাওয়ার ওষুধ
হারপিসের জটিল সংক্রমণে নতুন ওষুধের অনুমোদন দিল এফডিএ, আশার আলো রোগীদের

হারপিসের সংক্রমণে আক্রান্ত যেসব রোগীর শরীর প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধে সাড়া দিচ্ছে না, তাঁদের চিকিৎসায় নতুন একটি ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। ‘প্রিটেলিভির’ নামের মুখে খাওয়ার এই ওষুধটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, যাঁদের হারপিসের ঘা প্রচলিত চিকিৎসায় সারছে না।   গত ৯ অক্টোবর ওষুধটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর বাণিজ্যিক নাম হোভিলপ্রি। জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আসাহি কাসেই ওষুধটি বাজারজাত করবে। তবে ওষুধটি সব ধরনের হারপিস সংক্রমণের জন্য নয়। নির্দিষ্ট কিছু রোগীর ক্ষেত্রে প্রচলিত চিকিৎসায় কাজ না করলে এটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের সংক্রমণে সাধারণত ঠোঁট, নাক, চোখ, যৌনাঙ্গ কিংবা ত্বক ও শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির অন্যান্য স্থানে ঘা বা ফোসকা দেখা দিতে পারে। ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করার পর থেকে যায়। বর্তমানে এর সংক্রমণ পুরোপুরি নির্মূল করার চিকিৎসা নেই। তবে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের মাধ্যমে সংক্রমণের লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সাধারণত অ্যাসাইক্লোভির, ভ্যালাসাইক্লোভির ও ফ্যামসাইক্লোভিরের মতো ওষুধ হারপিসের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এসব ওষুধে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায় না। বিশেষ করে যাঁদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাঁদের সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাইরাস প্রচলিত ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতাও তৈরি করে। ফলে ঘা সারানো কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন ওষুধটির বিশেষত্ব হলো, এটি প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের মতো একই পদ্ধতিতে কাজ করে না। প্রিটেলিভির ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় কিছু প্রোটিনের কার্যক্রমে বাধা দেয়। এর ফলে ভাইরাস নিজের জিনগত উপাদানের অনুলিপি তৈরি করতে পারে না এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। প্রচলিত কিছু অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ কাজ করার আগে ভাইরাসের একটি এনজাইমের মাধ্যমে সক্রিয় হতে হয়। ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তনের কারণে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। প্রিটেলিভিরের কাজ করার পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় প্রচলিত চিকিৎসায় সাড়া না দেওয়া কিছু সংক্রমণের ক্ষেত্রে এটি নতুন বিকল্প হতে পারে। ওষুধটির অনুমোদনের পেছনে রয়েছে ১০১ জন রোগীকে নিয়ে পরিচালিত শেষ পর্যায়ের একটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা। এতে অংশ নেওয়া রোগীদের মধ্যে যাঁরা প্রিটেলিভির পেয়েছিলেন, তাঁদের ৬২ দশমিক ৭ শতাংশের ঘা ২৮ দিনের মধ্যে পুরোপুরি সেরে যায়। অন্য চিকিৎসা পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৩৪ শতাংশ। পরীক্ষায় প্রিটেলিভিরের সঙ্গে চিকিৎসকদের বেছে নেওয়া অন্যান্য চিকিৎসার ফল তুলনা করা হয়। এসব চিকিৎসার মধ্যে ছিল শিরায় প্রয়োগ করা ফসকারনেট এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অনুমোদিত ব্যবহারের বাইরে প্রয়োগ করা সিডোফোভির ও ইমিকুইমড। ফসকারনেট এমন রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প, যাঁদের প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধে কাজ হচ্ছে না। পরীক্ষায় প্রিটেলিভির গ্রহণকারীদের মধ্যে মাথাব্যথা, ডায়রিয়া, বমিভাব, ক্ষুধা কমে যাওয়া, বমি এবং মাথা ঘোরার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে ওষুধের উপকারিতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এটি ব্যবহার করা প্রয়োজন। নতুন ওষুধ অনুমোদিত হওয়া মানেই এটি সব রোগীর জন্য উপযুক্ত বা ঝুঁকিমুক্ত—এমন নয়। ওষুধটির সম্ভাব্য বাজার নিয়েও প্রত্যাশা রয়েছে। আসাহি কাসেইয়ের আগের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন প্রায় ১৫ হাজার রোগীর জন্য প্রিটেলিভির কার্যকর চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে শেষভাগের মধ্যে ওষুধটির বার্ষিক বিক্রি ৪০ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে এটি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক অনুমান, নিশ্চিত বিক্রির হিসাব নয়। প্রিটেলিভিরের অনুমোদন এমন রোগীদের জন্য নতুন চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করেছে, যাঁদের হারপিসের সংক্রমণ প্রচলিত ওষুধে নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বিশেষ করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় যাঁদের সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, তাঁদের ক্ষেত্রে মুখে খাওয়ার ওষুধটি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকে সহজ করতে পারে। তবে এর ব্যবহার নির্দিষ্ট রোগীদের মধ্যেই সীমিত থাকবে। রোগীর অবস্থা, আগের চিকিৎসার ফল এবং চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ওষুধটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৬:৩৪
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিবাসী পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিয়মে মেডিকেইড হারাচ্ছেন কিছু অভিবাসী, চিকিৎসার খরচ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ফেডারেল নিয়মের কারণে কিছু শ্রেণির বৈধ অভিবাসী সরকারি স্বাস্থ্যবিমা মেডিকেইডের পূর্ণ সুবিধা হারিয়েছেন। এতে শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং মানবপাচার ও পারিবারিক সহিংসতার শিকার কিছু মানুষের চিকিৎসার খরচ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ও যাঁদের নিয়মিত ব্যয়বহুল চিকিৎসা প্রয়োজন, তাঁদের পরিবারগুলো বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছে। ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু অ-মার্কিন নাগরিকের জন্য মেডিকেইড এবং শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সব বৈধ অভিবাসী কিংবা বাংলাদেশি প্রবাসীর স্বাস্থ্যবিমা বন্ধ হয়ে গেছে—এমন ধারণাও সঠিক নয়। কারা সুবিধা পাবেন, তা নির্ভর করে তাঁদের অভিবাসন-অবস্থা, বয়স, গর্ভাবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নিয়মের ওপর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ২০২৫ সালের কর ও সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত আইনের আওতায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার পরিষেবা কেন্দ্র ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল অঙ্গরাজ্যগুলোকে নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয়। এরপর ১ অক্টোবর থেকে বিধিনিষেধ কার্যকর হয়। মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের যোগ্য ব্যক্তি ও পরিবারকে চিকিৎসার খরচ মেটাতে সহায়তা করে। কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকার যৌথভাবে এই কর্মসূচির অর্থায়ন করে। চিকিৎসকের পরামর্শ, হাসপাতালে ভর্তি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বহনে অনেক পরিবার এই সুবিধার ওপর নির্ভর করে। ফলে যোগ্যতা হারালে তাঁদের নিজস্ব আয় থেকে চিকিৎসার খরচ জোগানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। নতুন নিয়মে শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী, মানবপাচারের শিকার এবং পারিবারিক সহিংসতার শিকার কিছু ব্যক্তি সুবিধা হারিয়েছেন। তবে প্রত্যেকের অভিবাসন-অবস্থা আলাদা হওয়ায় সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। গ্রিন কার্ডধারীদের ক্ষেত্রেও এই নির্দিষ্ট পরিবর্তন একইভাবে প্রযোজ্য নয়। তাঁদের স্বাস্থ্যবিমার যোগ্যতা নির্ধারণে অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হয়। কত মানুষ এই পরিবর্তনের কারণে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারিয়েছেন, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের হিসাব অনুযায়ী, অ্যারিজোনায় ১ অক্টোবর প্রায় ২৯ হাজার বৈধ অভিবাসী মেডিকেইডের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফ্লোরিডায় সম্ভাব্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার। এ ছাড়া নয়টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ২ লাখ ৮১ হাজারের বেশি অভিবাসী সুবিধা হারাতে পারেন বলে অনুমান করা হয়েছে। এসব সংখ্যা অঙ্গরাজ্যভিত্তিক তথ্য ও হিসাবের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রভাবিত মানুষের চূড়ান্ত সংখ্যা হিসেবে এগুলোকে দেখা ঠিক হবে না। নতুন নিয়মের প্রভাব বোঝাতে অ্যারিজোনার টাকসনের একটি পরিবারের অভিজ্ঞতা সামনে এসেছে। মারিয়া চাকনের ছেলে যিশু ১৭ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে নিজে শ্বাস নিতে পারেন না। তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাসের যন্ত্র, খাবার দেওয়ার নল এবং প্রতিদিনের ওষুধ প্রয়োজন। পরিবারটির ভাষ্য অনুযায়ী, ছেলের চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য মাসে প্রায় ২৫ হাজার ডলার ব্যয় হতো, যার বড় অংশ বহনে মেডিকেইড সহায়তা করত। তাঁর মা জানিয়েছেন, ছেলের একটি ওষুধের দামই মাসে প্রায় সাত হাজার ডলার হতে পারে। স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারানোর পর ছেলের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কীভাবে চালিয়ে যাবেন, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। এটি একটি পরিবারের অভিজ্ঞতা; অন্যদের চিকিৎসার প্রয়োজন ও ব্যয় ভিন্ন হতে পারে। স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারালে কিছু মানুষ নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা পিছিয়ে দিতে পারেন। এতে রোগের অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার পর জরুরি বিভাগে যেতে হতে পারে। রোগীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি হাসপাতাল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের ওপরও অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের ২০২৫ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বাস্থ্যবিমা নীতির পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে ২০৩৪ সালের মধ্যে আরও ৭৫ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যবিমার বাইরে চলে যেতে পারেন। তবে এই পূর্বাভাস শুধু অভিবাসীদের নিয়ে করা হয়নি। তাই পুরো সংখ্যাটিকে মেডিকেইড হারানো অভিবাসীর সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। নতুন নিয়মের কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে মেডিকেইডের কেন্দ্রীয় অর্থায়ন অব্যাহত রাখার সুযোগ থাকতে পারে। পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যগুলো নির্দিষ্ট শর্তে বৈধভাবে বসবাসরত শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য মেডিকেইড অথবা শিশুদের স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা চালু রাখতে পারে। যাঁরা নিজেদের স্বাস্থ্যবিমার যোগ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন, তাঁদের সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের মেডিকেইড দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যক্তিগত অবস্থার ভিত্তিতে নিয়ম জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, নতুন বিধিনিষেধের প্রভাব সবার ওপর এক নয়। তবে যাঁরা সুবিধা হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য চিকিৎসার খরচ বহন করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৬:১৯
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের ভোটার সচেতনতা নিয়ে সভা
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে ভোটার সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হলো নিউইয়র্কে

ক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ভোটারদের সচেতন করতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচনে ভোট দেওয়া, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যা নীতিনির্ধারকদের কাছে তুলে ধরার বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের সচেতন করার বিষয়টি।   ২০২৬ সালের ৪ অক্টোবর নিউইয়র্কের কুইন্সের উডসাইড এলাকায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এর আয়োজন করে বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাডভোকেসি গ্রুপ (বিএএজি)। ১০ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সভার এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা, সংগঠক এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় উঠে আসে, শুধু ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়াই যথেষ্ট নয়; নির্বাচনে নিয়মিত ভোট দেওয়া এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে কমিউনিটির মানুষের চাহিদা, সমস্যা ও দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। সংগঠনটির সভাপতি জয়নাল আবেদিন ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যে নাগরিক অংশগ্রহণের পাশাপাশি কমিউনিটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জনপ্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পায়। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শাহানা মাসুম তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের সচেতন করার বিষয়টি তুলে ধরেন। নতুন ভোটারদের কাছে ভোট দেওয়ার গুরুত্ব এবং নাগরিক অধিকার সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়া গেলে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ভোটারদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নিবন্ধন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে নিবন্ধনের পাশাপাশি নির্বাচনের নিয়ম জানা, ভোট দেওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং নির্ধারিত সময়ে ভোট দেওয়াও জরুরি। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এসব বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হলে ভবিষ্যতে কমিউনিটির নাগরিক অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত হতে পারে। বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের বিভিন্ন বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অভিবাসী সেবা, আবাসন এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিয়ে তাঁদের নানা চাহিদা থাকতে পারে। এসব বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে সমস্যা তুলে ধরা এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ের সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে সচেতন করা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানো। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস ও কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে ভোটার সচেতনতা নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু ভোটারসংখ্যা নয়, ভোটারদের নিয়মিত অংশগ্রহণ, নাগরিক অধিকার সম্পর্কে জ্ঞান এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ। সভায় আলোচিত বিষয়গুলো থেকে স্পষ্ট, বাংলাদেশি-আমেরিকানদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিকে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার পথ আরও সুগম হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৬:১০
ওয়াশিংটনে ভাড়ার বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটার
. অপরাধে ভাড়ার ই-বাইক ও স্কুটারের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন, কঠোর নিয়মের দাবি ওয়াশিংটনে

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ভাড়ার বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটার নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। কয়েকটি অপরাধের ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা এসব যান ব্যবহার করে পালিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার পর ভাড়া দেওয়ার নিয়ম ও ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অপরাধ ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানোর দাবিও উঠেছে।   সম্প্রতি ওয়াশিংটনের জাতীয় মহাফেজখানার কাছে একটি কথিত ছিনতাইয়ের পর কয়েকজন কিশোরকে ভাড়ার বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটারে পালাতে দেখা গেছে বলে পুলিশ সতর্ক করেছিল। তবে অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী বলা যায় না। তদন্তের ফলাফল ও আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই অপরাধের দায় নির্ধারিত হয়। ওয়াশিংটনে বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটার এখন যাতায়াতের পরিচিত মাধ্যম। অনেকেই কর্মস্থলে যাওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো কিংবা কাছাকাছি কোথাও যেতে এসব যান ব্যবহার করেন। যানজট এড়িয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতেও এগুলো সহায়ক। তাই কয়েকটি অপরাধের অভিযোগের কারণে সব ব্যবহারকারীকে সন্দেহের চোখে দেখা ঠিক হবে না। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ওয়াশিংটনে ভাড়ার বৈদ্যুতিক স্কুটারে ৩৮ লাখের বেশি এবং বৈদ্যুতিক সাইকেলে ৩০ লাখের বেশি যাত্রা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব যাত্রার মধ্যে কতটি অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত, তার পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নেই। ফলে অপরাধে এসব যান কতটা ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বড় কারণ হলো, যান ভাড়া নেওয়ার সময় ব্যবহারকারীর বয়স ও পরিচয় যাচাই কতটা কার্যকর। ওয়াশিংটনের নিয়ম অনুযায়ী, ভাড়ার বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটার চালাতে হলে বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। একটি ভাড়ার যান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য, বয়স যাচাইয়ের জন্য ব্যবহারকারীর মুখের ছবি অথবা পরিচয়পত্রের ছবি চাওয়া হয়। তবে কিছু কিশোর অন্যের ছবি ব্যবহার করে বা ছবি পরিবর্তন করে যাচাইব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। এ ধরনের অপব্যবহারের কারণে এক সপ্তাহে শতাধিক ব্যবহারকারীর হিসাব বন্ধ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের এসব বক্তব্যের ভিত্তিতে অপরাধের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না। কতজন নিয়ম ভেঙেছেন, তাঁদের মধ্যে কতজন কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত এবং যাচাইব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কতটি অপরাধ ঘটেছে, তা জানতে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। অপরাধের পর কেউ বৈদ্যুতিক সাইকেল বা স্কুটারে পালিয়ে গেলে তাকে শনাক্ত করা তদন্তকারীদের জন্য কঠিন হতে পারে। তবে ভাড়ার হিসাব, যাত্রার সময় এবং যানটির অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য তদন্তে কাজে আসতে পারে। এসব তথ্যের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে কোনো যান কোথায় ছিল, তা যাচাই করার সুযোগ থাকে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, আইনগত প্রক্রিয়া মেনে পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য চাইতে পারে। তবে কোনো যান কোথাও ছিল—এমন তথ্য পাওয়া মানেই সেটি ব্যবহারকারী অপরাধ করেছেন, তা নয়। প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, অন্যান্য আলামত এবং তদন্তের ফলাফলের সঙ্গে এসব তথ্য মিলিয়ে দেখতে হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের তথ্য যথেচ্ছ ব্যবহার করা এক বিষয় নয়। তাই তদন্তে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন আইন ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার নিয়ম মেনে হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ওয়াশিংটনের এই পরিস্থিতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। যান ভাড়া নেওয়ার সময় বয়স যাচাই কীভাবে আরও নির্ভরযোগ্য করা যায়, অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে হিসাব খোলা কীভাবে ঠেকানো যায় এবং অপরাধের অভিযোগ উঠলে ভাড়া দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পুলিশকে সহযোগিতা করবে—এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে শুধু বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলেই অপরাধ বন্ধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যক্তিগত গাড়ি বা অন্য যান ব্যবহার করেও অপরাধের পর পালানো সম্ভব। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অপরাধের ধরন, তদন্তের ফলাফল এবং নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান বিবেচনা করা জরুরি। ব্যবহারকারীদেরও নিজেদের ভাড়ার হিসাব অন্যের হাতে না দেওয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সুরক্ষিত রাখা উচিত। বয়সসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলাও জরুরি। কেউ কোনো অপরাধের ঘটনা দেখলে নিজে সন্দেহভাজনকে ধাওয়া না করে নিরাপদ স্থানে থেকে পুলিশকে জানানো উচিত।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৫:৫৯
পেন্টাগন এলাকায় আর্মি টেন-মাইলার দৌড় প্রতিযোগিতা
পেন্টাগন থেকে শুরু হচ্ছে ১০ মাইলের দৌড়, যান চলাচলে যেসব বিধিনিষেধ থাকছে

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি ও ভার্জিনিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রোববার আর্মি টেন-মাইলার দৌড় প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সকাল থেকেই পর্যায়ক্রমে এসব নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হওয়ায় প্রতিযোগিতার রুটের আশপাশে যাতায়াতকারী চালক ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে পেন্টাগন এলাকা এবং ওয়াশিংটন ডিসি ও ভার্জিনিয়ার মধ্যে চলাচলের ক্ষেত্রে বিকল্প পথ বেছে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এবারের ৪২তম আর্মি টেন-মাইলার প্রতিযোগিতা পেন্টাগন এলাকা থেকে শুরু হচ্ছে। দৌড়বিদেরা প্রায় ১০ মাইল পথ অতিক্রম করবেন। এই আয়োজনে অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে দৌড়বিদ ও দর্শকেরা আসেন। ফলে প্রতিযোগিতার শুরু ও শেষস্থলের কাছাকাছি সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে। পাশাপাশি পার্কিংয়ের সীমাবদ্ধতা এবং সাময়িক সড়ক বন্ধ থাকার কারণে আশপাশের বাসিন্দা ও যাত্রীদের চলাচলে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর্লিংটন কাউন্টির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা থেকে কয়েকটি সড়কে পর্যায়ক্রমে বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। আর্মি নেভি ড্রাইভের নির্দিষ্ট অংশ ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ রাখার কথা রয়েছে। লং ব্রিজ ড্রাইভের কিছু অংশেও সকালজুড়ে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এ ছাড়া দক্ষিণমুখী ইন্টারস্টেট ৩৯৫-এর এক্সিট ৮সি সকাল ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সূচি রয়েছে। একই সময়ে রুট ১১০-এর দক্ষিণমুখী অংশ সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকার কথা। এসব বিধিনিষেধের কারণে ওই সড়কগুলো ব্যবহারকারী চালকদের যাত্রার আগে বিকল্প পথ নির্ধারণ করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পেন্টাগন এলাকার পার্কিং ব্যবস্থাতেও বিধিনিষেধ থাকবে। কাউন্টির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পেন্টাগনের উত্তর দিকের পার্কিং লট এবং বাউন্ডারি চ্যানেল ড্রাইভে রোববার ভোর ৪টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। পেন্টাগনের কর্মী এবং পেন্টাগন মেমোরিয়ালে যাওয়া নির্দিষ্ট দর্শনার্থীদের জন্য দক্ষিণের পার্কিং এলাকায় বিকল্প ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে সাধারণ যাত্রীদের জন্য আশপাশে পার্কিংয়ের জায়গা পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ওই এলাকায় যাওয়ার আগে নির্ধারিত প্রবেশপথ, পার্কিংয়ের নিয়ম এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। নিষিদ্ধ এলাকায় গাড়ি রাখলে জরিমানা কিংবা গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। প্রতিযোগিতার প্রভাব পড়বে ওয়াশিংটন ডিসির সড়কেও। ডিসি পুলিশের ট্রাফিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কী ব্রিজ, হোয়াইটহার্স্ট ফ্রিওয়ে, পটোম্যাক রিভার ফ্রিওয়ে এবং ১৪তম স্ট্রিটের কিছু অংশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ থাকবে। ফলে ভার্জিনিয়া থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে যাতায়াতকারী কিংবা উল্টো পথে চলাচলকারী যাত্রীদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হতে পারে। এসব এলাকায় কিছু সড়কে পার্কিংও নিষিদ্ধ থাকবে। তাই রাস্তার পাশে গাড়ি রাখার আগে অস্থায়ী সাইনবোর্ড ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা দেখে নেওয়া জরুরি। প্রতিযোগিতা চলাকালে পুলিশের নির্দেশনা অনুসরণ করলে অপ্রত্যাশিত বিলম্ব ও জরিমানার ঝুঁকি এড়ানো সহজ হবে। গণপরিবহন ব্যবহারকারীদের জন্য পেন্টাগন ও পেন্টাগন সিটি মেট্রো স্টেশন সকাল ৬টা থেকে চালু থাকার কথা রয়েছে। প্রতিযোগিতার শুরু ও শেষস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় স্টেশন দুটি দর্শক এবং সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। তবে যাত্রার আগে মেট্রোর সর্বশেষ সময়সূচি ও স্টেশনে প্রবেশের পরিস্থিতি যাচাই করে নেওয়া ভালো। রাইডশেয়ার ব্যবহারকারীদেরও নির্ধারিত ওঠানামার স্থান ব্যবহার করা উচিত। প্রতিযোগিতার রুটের কাছে ইচ্ছেমতো যাত্রী ওঠানো বা নামানোর চেষ্টা করলে যানজটের মধ্যে পড়তে হতে পারে। এ কারণে যাত্রা শুরুর আগে ট্রাফিকের সর্বশেষ অবস্থা দেখে বের হওয়া এবং প্রয়োজনে কিছুটা অতিরিক্ত সময় হাতে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যাঁদের কর্মস্থল, চিকিৎসাকেন্দ্র, হোটেল কিংবা অন্য কোনো জরুরি গন্তব্য এই এলাকার আশপাশে, তাঁদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছানোর প্রয়োজন থাকলে বন্ধ সড়কের ওপর নির্ভর করে যাত্রাপথ ঠিক করা ঠিক হবে না। নেভিগেশন অ্যাপ বিকল্প পথ খুঁজতে সাহায্য করতে পারে। তবে পুলিশের নির্দেশনা এবং সড়কে থাকা অস্থায়ী নির্দেশক চিহ্নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আর্মি টেন-মাইলার যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বার্ষিক দৌড় প্রতিযোগিতা। এর উদ্দেশ্য সেনাবাহিনীর শারীরিক সক্ষমতা ও ফিটনেস কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা এবং সামরিক সদস্যদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ বাড়ানো। প্রতিযোগিতা থেকে পাওয়া অর্থ সেনাসদস্য ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহায়তা করে। দৌড়বিদদের কাছে আয়োজনটি উৎসবমুখর হলেও সড়ক বন্ধ, পার্কিংয়ের সীমাবদ্ধতা ও যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণের কারণে আশপাশের বাসিন্দা এবং চালকদের সাময়িক অসুবিধায় পড়তে হতে পারে। তাই রোববার পেন্টাগন ও ওয়াশিংটন ডিসির আশপাশে যাতায়াতের পরিকল্পনা থাকলে আগেই রুট যাচাই করা, বিকল্প পথ ঠিক রাখা এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় হাতে নিয়ে বের হওয়াই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৫:৪০
ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা চাইলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়ার সঙ্গে যু দ্ধ বন্ধে জেলেনস্কি একাধিক সুযোগ কাজে লাগাননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হা মলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার পর দুই নেতার মধ্যে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়েছে। শনিবার, ১০ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের এখন নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে। তাঁর মতে, এমন একজন নেতার প্রয়োজন, যিনি রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করে যু দ্ধের অবসান ঘটাতে পারবেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, জেলেনস্কি বহুবার চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েও তা গ্রহণ করেননি। ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কি চাইলে বহুবার যু দ্ধের সমাধান করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। তাঁর দাবি, এ যু দ্ধ শুরু হওয়ারই কথা ছিল না। তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালে যু দ্ধ শুরুর সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকলে সংঘাতটি ঘটত না। জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়ে ট্রাম্পের এ বক্তব্য ইউক্রেনের নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য সমালোচনার অন্যতম কঠোর উদাহরণ। তবে ইউক্রেনে নেতৃত্ব পরিবর্তনের কোনো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বা পরিকল্পনার কথা তিনি জানাননি। দেশটির নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয়টি ইউক্রেনের নিজস্ব সাংবিধানিক ও নির্বাচনী ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। ডিজেল চুক্তি ঘিরে নতুন বিরোধ শুক্রবার পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল সরবরাহ করবে। তাঁর ঘোষণায় বলা হয়, প্রথম ধাপে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করা হবে। নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং এরপর আরও ১০ লাখ টন সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পরবর্তী সময়ে আরও বড় পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের দাবি, বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়িয়ে জ্বালানির দাম কমানোই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তাঁর মতে, রাশিয়ার তেল পরিশোধন সক্ষমতার ওপর হা মলা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক, খামারির পাশাপাশি অন্যান্য দেশের ভোক্তারাও সমস্যায় পড়তে পারেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় ইউক্রেন হা মলা চালাতে পারলেও তেল পরিশোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়ে তিনি জেলেনস্কিকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হা মলা চালিয়েছে। চুক্তি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হা মলা চালায় বলে খবর প্রকাশিত হয়। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু ও চুক্তির শর্তের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে সব তথ্য এখনো পরিষ্কার নয়। ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির শর্ত মেনে হা মলা বন্ধে সম্মত হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য নেই। ইউক্রেনের আপত্তি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার সমালোচনা করেছে ইউক্রেন। দেশটির অবস্থান, রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ বাড়লে দেশটি আরও বেশি অর্থ পাবে, যা চলমান যু দ্ধ চালিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারে। ইউক্রেনের মতে, রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানো হলে মস্কোর সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইউক্রেনের যুক্তি, রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হা মলা দেশটির যু দ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করার একটি উপায়। অন্যদিকে, ট্রাম্প মনে করছেন এসব হা মলা ডিজেলের আন্তর্জাতিক সরবরাহে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়াতে পারে। দুই পক্ষের এই ভিন্ন অবস্থানই নতুন বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে। জ্বালানি অর্থনীতির বিশেষজ্ঞ মার্গারিটা বালমাসেদার মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় রাশিয়াকে বেশি সুবিধা দিতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, রাশিয়া কম দামে জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে অন্য দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে রুশ তেল পরিশোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন হা মলা অব্যাহত থাকলে রাশিয়ার পক্ষে প্রতিশ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করাও কঠিন হতে পারে। ট্রাম্প-জেলেনস্কি সম্পর্কে আগের টানাপোড়েন ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্কে এর আগেও প্রকাশ্য বিরোধ দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বৈঠকের সময় ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে জেলেনস্কির তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। ওই বৈঠকে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের আচরণের সমালোচনা করেন এবং সতর্ক করে বলেন, তিনি তৃতীয় বিশ্বযু দ্ধের ঝুঁকি নিয়ে খেলছেন। বৈঠকে পরিকল্পিত খনিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি এবং যৌথ সংবাদ সম্মেলনও বাতিল করা হয়। পরে দুই নেতার সম্পর্কে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দেখা গেলেও রাশিয়ার সঙ্গে যু দ্ধ বন্ধের শর্ত এবং ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্প জেলেনস্কি ও পুতিনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা তুলে ধরেছিলেন। একই বছরের ডিসেম্বরে মার-আ-লাগোতে বৈঠকের পর দুই পক্ষই যু দ্ধের সমাধানের দিকে অগ্রগতির কথা বলেছিল। পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয়। ২০১৮ সালে হেলসিঙ্কিতে দুই নেতার বৈঠক এবং ২০২৫ সালে তাঁদের একাধিক যোগাযোগের পরও রাশিয়া-ইউক্রেন যু দ্ধ বন্ধে স্থায়ী সমাধান আসেনি। ২০২৫ সালের আগস্টে আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকও যুদ্ধবিরতি ছাড়াই শেষ হয়। ট্রাম্প এবারও যু দ্ধ অব্যাহত থাকার দায় জেলেনস্কির ওপর চাপিয়েছেন। তবে যু দ্ধ বন্ধের জন্য দুই পক্ষের মধ্যে কী ধরনের চুক্তি সম্ভব, কিংবা নতুন নেতৃত্ব এ ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আনতে পারে—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা দেননি। রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেন নীতিতে কী পরিবর্তন আসে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভবিষ্যতে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হা মলা অব্যাহত থাকলে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে চুক্তির আওতায় রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ কতটা কার্যকর হবে এবং তা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৬:২৩
আরব উপসাগরে তেলবাহী জাহাজে আ গু নের ঘটনা
পারস্য উপসাগরে তেলবাহী জাহাজে আ গু ন, ২২ এশীয় নাবিককে উদ্ধার করল আমিরাতের কোস্টগার্ড

আরব উপসাগরে তেলবাহী একটি জাহাজে আ গু ন লাগার পর ২২ জন এশীয় নাবিককে উদ্ধার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোস্টগার্ড। শনিবার (১০ অক্টোবর) এ উদ্ধার অভিযানের তথ্য জানানো হয়। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের সবার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।   জাহাজটিতে আ গু ন লাগার পর এর নাবিকেরা জরুরি সহায়তা চেয়ে বার্তা পাঠান। সেই খবর পাওয়ার পর কোস্টগার্ডের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। বিশেষায়িত দল জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত সেখানে পৌঁছায়। এরপর জাহাজে থাকা ২২ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর নাবিকদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কারও শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়নি। বরং তাঁদের সবার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে তেলবাহী জাহাজটির নাম, মালিকানা কিংবা কোন দেশের পতাকা নিয়ে সেটি চলাচল করছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। জাহাজটিতে ঠিক কী কারণে আ গু ন লেগেছিল, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। আ গু নের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল বা এতে জাহাজটির কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার বিষয়টি সামুদ্রিক জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরেছে। সমুদ্রে চলাচলকারী জাহাজে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে নাবিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। বিশেষ করে তেলবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে আগুনের কারণ ও বিস্তারের পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, এ অভিযান মানুষের জীবন রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরাপত্তা জোরদারের প্রচেষ্টার অংশ। তবে উদ্ধার হওয়া নাবিকদের জাতীয়তা সম্পর্কে এশীয় নাগরিক হওয়ার বাইরে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। একইভাবে জাহাজটি কোন রুটে চলছিল বা কোথায় যাচ্ছিল, সে তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাহাজে থাকা ২২ জনকেই উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। জাহাজটির পরিচয় ও আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র জানা যাবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:৫৭
জেলেনস্কির বদলে নতুন প্রেসিডেন্ট চান ট্রাম্প, রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার তাগিদ
জেলেনস্কির বদলে নতুন প্রেসিডেন্ট চান ট্রাম্প, রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার তাগিদ

ইউক্রেনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশটিতে নতুন একজন নেতা নির্বাচন করার সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামাতে জেলেনস্কি বারবার ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।   শনিবার এক বক্তব্যে ইউক্রেনীয় নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের এখন এমন একজন নেতা দরকার যিনি মস্কোর সঙ্গে সমঝোতা বা চুক্তি করতে সক্ষম। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ থামানোর বহু সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জেলেনস্কি কোনো এক অজানা কারণে কখনোই সেই পথে হাঁটেননি; তাই ইউক্রেনের জন্য এখন নতুন প্রেসিডেন্ট খোঁজার উপযুক্ত সময় এসেছে।   ট্রাম্প আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তিনি আগে ক্ষমতায় থাকলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এই বিধ্বংসী যুদ্ধ কখনোই শুরু হতো না। সংঘাতের শুরু থেকেই জেলেনস্কি বারবার আলোচনার সুযোগ হাতছাড়া করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প।   তিনি সতর্ক করে বলেন, রুশ তেল শোধনাগারগুলোতে হামলার ফলে বিশ্বজুড়ে মারাত্মক জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে, যা আমেরিকান কৃষক ও খামারিদের সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইউক্রেনকে ডিজেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে বলা হয়েছিল এবং তাদের অবিলম্বে এই হামলা থামাতে হবে।   এদিকে, বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম কমাতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল আমদানির বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই চুক্তির ফলে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। তবে মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের এই জ্বালানি চুক্তিকে কিয়েভ এবং ইউরোপীয় মিত্ররা তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে একটি "দুর্বল সিদ্ধান্ত" বলে আখ্যায়িত করেছেন। একইসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন যে, পুতিনের সঙ্গে এমন সমঝোতা মূলত ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসী যুদ্ধে নতুন করে অর্থ বিনিয়োগ করারই শামিল।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:৪২
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ঝড়ে ২ জনের মৃ ত্যু, বিদ্যুৎহীন ৮ লাখ গ্রাহক

ক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে হারিকেন ইসাইয়াসের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের কারণে ফ্লোরিডা ও আলাবামায় অন্তত দুইজনের মৃ ত্যু হয়েছে এবং প্রায় আট লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন। ঝড়টি উপকূলে আঘাত হানার পর দুর্বল হয়ে গেলেও ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও প্রবল বাতাসের ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হারিকেনটি ফ্লোরিডার ডেস্টিনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলে আঘাত হানে। আঘাতের সময় এটি ক্যাটাগরি–২ হারিকেন ছিল এবং বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১০৫ মাইল। ফ্লোরিডার পানহ্যান্ডেল অঞ্চল ও আলাবামার বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে, সড়ক চলাচল ব্যাহত হয় এবং কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পেনসাকোলা ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুতের তার ও গাছ রাস্তায় পড়ে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। ঝড়ের কারণে জরুরি সেবার কাজও কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন এবং সড়ক পরিষ্কারের কাজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রবল বাতাসে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের অবকাঠামোতে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে বাসাবাড়ির শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ফ্রিজ, ইন্টারনেট ও মোবাইল চার্জিংয়ের মতো দৈনন্দিন সেবায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং চিকিৎসার জন্য বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। এ অবস্থায় স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুদ্ধার কার্যক্রম এবং জরুরি সেবার নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। ঝড়টি দুর্বল হয়ে গেলেও এর সঙ্গে আসা আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাসে কিছু অঞ্চলে আরও কয়েক ইঞ্চি বৃষ্টির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও আকস্মিক বন্যা ও টর্নেডোর ঝুঁকিও থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, বন্যাপ্রবণ সড়ক এড়িয়ে চলা, বিদ্যুতের ছিঁড়ে পড়া তার থেকে দূরে থাকা এবং জরুরি সতর্কবার্তা অনুসরণ করা জরুরি। ঝড়ের পরেও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে হবে। এই দুর্যোগের প্রভাব শুধু ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতিতে সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যুৎ বিভ্রাট, সড়ক বন্ধ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে বিঘ্ন এবং পণ্য সরবরাহের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে আরও সময় লাগতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর উচিত স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর, কাউন্টি প্রশাসন ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:৩৫
সৌদি আরবে জরুরি অবতরণের পর ফ্লাইদুবাইয়ের যাত্রীরা
৯/১১ হা মলার আদলে তেল আবিব বিমানবন্দরে বিমান আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের সহকারী পাইলট

সংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্ত অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে ইসরায়েলের তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন ওই বিমানের সহকারী পাইলট। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত সং ঘা ত থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই পরিকল্পনা করেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এ এই ঘটনা ঘটে। বিমানে থাকা অবস্থায় সহকারী পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে জরুরি কাজে ব্যবহৃত কুড়াল দিয়ে আ ঘা ত করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ওই সময় বিমানটি সৌদি আরবের আকাশসীমায় ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি শুক্রবার তদন্তের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি যাত্রী টার্মিনালে বিমান আছড়ে ফেলে যত বেশি সম্ভব মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে চেয়েছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্যের কথা স্বীকার করেছেন। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যকে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য সহযোগী কেউ ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সময় বিমানটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। গুরুতর আ ঘা ত পেয়েও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার প্রতিরোধ চালিয়ে যান এবং সহায়তার সংকেত দেন। বিমানে থাকা আরেকজন পাইলট ককপিটের দরজা অস্বাভাবিকভাবে বারবার খোলা-বন্ধ হতে দেখে সন্দেহ করেন। পরে তিনি কেবিন ক্রু সদস্য ও কয়েকজন যাত্রীর সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সেটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান। অবতরণের পর সন্দেহভাজন সহকারী পাইলটকে গ্রে প্তার করা হয়। পরে তদন্তের দায়িত্ব নেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। তদন্তে সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি বলে জানানো হয়। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁকে ২৯ বছর বয়সী ওমানি নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের বিবরণ অনুযায়ী, তিনি আগেও দুবার দুবাই থেকে তেল আবিবের পথে উড়োজাহাজ চালিয়েছিলেন। ওই ফ্লাইটগুলো ব্যবহার করে তিনি বিমান চলাচলের রুট ও বিমানবন্দর সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তদন্তে আরও বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তির মধ্যে উগ্রবাদী চিন্তাধারার লক্ষণ দেখা যায় ২০১৭ সালে, যখন তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছিলেন। সে সময় তিনি চরমপন্থী লেখা পড়তেন এবং অনলাইনে সন্ত্রাসী সংগঠন ও আ ত্ম ঘা তী হামলার প্রশংসা করে এমন কনটেন্ট অনুসরণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এভাবে তিনি সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে রয়্যাল মেলবোর্ন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়ার সময় তিনি একটি মসজিদে যাতায়াত করতেন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই মসজিদ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের মধ্যে যোগসূত্র থাকার অভিযোগও এসেছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানত কিংবা এতে সহায়তা করেছিল—এমন প্রমাণ প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, হা মলার প্রস্তুতি হিসেবে সন্দেহভাজন ব্যক্তি সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করে এমন উপকরণ দেখতেন এবং ব্যক্তিগত প্রশিক্ষকের কাছ থেকে বক্সিং শিখেছিলেন। তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বিমান চালনার পেশা বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গেও একই ধরনের হা মলা চালানোর আগ্রহের সম্পর্ক ছিল। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে বিমান সংস্থার নিয়োগ ও নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে। তদন্তের বিবরণ অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি পাইলটের লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় পেশাগত যোগ্যতা পূরণ করেছিলেন এবং সদাচরণের সনদ জমা দিয়েছিলেন। নিয়োগের আগে করা যাচাইয়েও তাঁর উগ্রবাদী মনোভাব কিংবা হা মলার পরিকল্পনার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে জানান আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ওমান এয়ারে কাজ করেছিলেন। এরপর ২০২৫ সালের শুরুর দিকে অল্প সময়ের জন্য মরক্কোর রয়্যাল এয়ার মারোকের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা, পাইলটদের পটভূমি যাচাই এবং কর্মীদের মধ্যে উগ্রবাদী মনোভাব শনাক্ত করার সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে একজন পাইলট প্রয়োজনীয় যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও এমন পরিকল্পনা করতে পেরেছিলেন বলে তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা নিয়োগপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার ১৯ জন হামলাকারী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করা চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করেছিল। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুটি ভবনে আঘাত হানে, আরেকটি ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আছড়ে পড়ে। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ার গ্রামীণ এলাকায় বিধ্ব স্ত হয়। ওই হা মলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নি হ ত হন এবং এর পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী ‘সন্ত্রাসবিরোধী যু দ্ধ’ শুরু হয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:১৫
যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ধনী প্রবীণরা, তিন বছরে তরুণদের সম্পদ কমেছে ২৩ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ধনী প্রবীণরা, তিন বছরে তরুণদের সম্পদ কমেছে ২৩ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেশটির পারিবারিক সম্পদে বড় ধরনের বৈষম্য ও পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। ফেডের ত্রিবার্ষিক ‘সার্ভে অব কনজিউমার ফাইন্যান্সেস’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের নেতৃত্বাধীন প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ (১৮ মিলিয়ন) পরিবার বর্তমানে যে কোনো বয়সগোষ্ঠীর তুলনায় সর্বোচ্চ মধ্যক বা মিডিয়ান সম্পদের (নেট ওয়ার্থ) মালিক।   ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বয়সের পরিবারগুলোর গড় মিডিয়ান সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪ হাজার ডলারে। মূলত দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়, অবসরকালীন তহবিলের বৃদ্ধি এবং শেয়ার বাজারের অভাবনীয় চাঙ্গাভাবই তাদের সবচেয়ে ধনী বয়সগোষ্ঠীতে পরিণত করেছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবীণ আমেরিকানদের আর্থিক তহবিল ব্যাপকভাবে ফুলেফেঁপে উঠেছে।   তবে সমাজের সবচেয়ে ধনী এবং প্রবীণ অংশের এই আর্থিক সমৃদ্ধির ঠিক উল্টো চিত্র ফুটে উঠেছে তরুণ পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৫ বছরের কম বয়সীদের নেতৃত্বাধীন পরিবারগুলোর মিডিয়ান সম্পদ ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এক ধাক্কায় ২৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৩ হাজার ডলারে।   ব্যবসায়িক ইক্যুইটি থেকে প্রাপ্ত আয় কমে যাওয়াই তরুণদের সম্পদ হ্রাসের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি মহামারীর পর থেকে কয়েক বছর ধরে চলা উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির ফলে দেশটিতে ঋণ সংকটও তীব্র রূপ নিয়েছে। প্রায় ২০ শতাংশ আমেরিকান পরিবার বর্তমানে হোম লোন, ক্রেডিট কার্ড বা অন্যান্য ঋণের কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে পড়েছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি এবং ২০১০ সালের পর সর্বোচ্চ।   প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ১২টি পরিবারের মধ্যে একটি পরিবার তাদের মোট আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ বা তার বেশি ব্যয় করছে ঋণের কিস্তি পরিশোধে। এমনকি প্রবীণদের মধ্যেও এই অর্থনৈতিক বৈষম্য স্পষ্ট; সেখানে ৬৫ বা তার বেশি বয়সীদের প্রায় ১০ শতাংশ বর্তমানে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন।   সামগ্রিকভাবে প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত করছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট পরিবারের মাত্র ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রতিনিধিত্বকারী প্রবীণরা শেয়ার বাজার ও আবাসন খাতের সুবাদে শীর্ষে পৌঁছালেও, উচ্চ ঋণ ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে দেশটির তরুণ প্রজন্ম তাদের সম্পদ গড়ার লড়াইয়ে প্রতিনিয়ত পিছিয়ে পড়ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:৭
জর্জিয়ায় পাঁচজনের মৃ ত্যুর ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় বাড়ি থেকে পাঁচজনের গু লি বিদ্ধ দে হ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় ডগলাস শহরের একটি বাড়ি থেকে পাঁচজনের গু লি বিদ্ধ দে হ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় শুক্রবার, ৯ অক্টোবর রাত ১১টা ৯ মিনিটের দিকে টাচটন উডস এলাকার রবিন লেনে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পাঁচজনকে গু লি বিদ্ধ অবস্থায় পায়। পরে তাঁদের সবার মৃ ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। শনিবার, ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত চলছে। ডগলাস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে গু লি চলার খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ওই বাড়িতে যান। সেখানে পাঁচজনকে গু লি বিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে পুলিশের প্রাথমিক বিবৃতিতে ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি, সম্ভাব্য উদ্দেশ্য কিংবা কোনো সন্দেহভাজনের পরিচয় জানানো হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডগলাস নাউয়ের প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হ ত্যা কাণ্ডের পর আ ত্ম হ ত্যা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি প্রথমে অন্য চারজনকে গু লি করেন এবং পরে নিজেকেও গু লি করেন। তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ না করা পর্যন্ত এই তথ্যকে প্রাথমিক প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীদের নাম ও বয়সও জানানো হয়নি। কফি কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ঘটনাটিকে একটি ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, যারা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি তারা সমবেদনা জানাচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীদের জন্যও সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট সবার জন্যই কঠিন ছিল। ডগলাস শহরটি জর্জিয়ার কফি কাউন্টিতে অবস্থিত। শহরটি ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলের প্রায় ১১৫ মাইল উত্তর-পশ্চিমে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর ২০২৫ সালের জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী, শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ১১ হাজার ৮৬৪। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে টানা তিন সপ্তাহান্তে একাধিক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বন্দুক হা মলা কিংবা একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর আগের সপ্তাহান্তে ভিয়েনা শহরে একটি হোমকামিং উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গু লি বর্ষণে দুজনের মৃ ত্যু হয় এবং আরও ৩৫ জন আহত হন। ডগলাস থেকে প্রায় ৮০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ভিয়েনার ওই ঘটনায় একটি আবাসিক এলাকার চার ব্লকজুড়ে চলা পার্টিতে ভোররাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে গু লি শুরু হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর জর্জিয়ার ম্যাকন শহরের ক্যারোলিন ক্রেটন পার্কে ১৮তম জন্মদিনের একটি অনুষ্ঠানে গু লি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে ১২ জন কিশোর আহত হয়। ওই ঘটনায় পাঁচজন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী একজনকেও প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। শুধু জর্জিয়াতেই নয়, শুক্রবার রাতে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরেও একটি বন্দুক হা মলায় নয়জনের মৃ ত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে দুজন শিশু ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে বন্দুক সহিংসতার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতার ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো ঘটনায় হা মলাকারীকে বাদ দিয়ে অন্তত চারজন গু লি বিদ্ধ হলে সেটিকে গণগুলিবর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়। আহত ও মৃ ত—উভয় ধরনের ভুক্তভোগীই এই সংজ্ঞার আওতায় পড়েন। ডগলাসের ঘটনায় পাঁচজনের মৃ ত্যু হওয়ায় এটি একাধিক প্রাণহানির গুরুতর ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডগলাস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলছে। শনিবার আরও তথ্য প্রকাশের প্রত্যাশা করা হলেও প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত নিহতদের পরিচয়, তাঁদের বয়স, ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও কফি কাউন্টি শেরিফের কর্মকর্তারা কাজ করেছেন। তদন্তকারীদের সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাড়ির ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল, নিহতদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক কী ছিল এবং গু লি বর্ষণের পেছনে কী কারণ কাজ করেছে, তা নিশ্চিত করা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সম্ভাব্য হ ত্যা কাণ্ডের পর আ ত্ম হ ত্যার যে বিবরণ এসেছে, সেটিও তদন্তের আনুষ্ঠানিক তথ্য দিয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। পুলিশের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার উদ্দেশ্য কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষ আরও তথ্য জানাতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৩:৫৭
রাইবোজ ও বোরনের রাসায়নিক সম্পর্কের চিত্র
প্রাণ সৃষ্টির আগে পৃথিবীতে কী ঘটেছিল, নতুন গবেষণায় মিলল চিনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ইঙ্গিত

পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি কীভাবে হয়েছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান দীর্ঘদিনের। এবার সেই রহস্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র সামনে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এমন একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সন্ধান পেয়েছেন, যা প্রাচীন পৃথিবীতে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান টিকে থাকতে সাহায্য করে থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, রাইবোজ নামের এক ধরনের শর্করা বোরনকে খনিজ পদার্থ থেকে পানিতে দ্রবীভূত হতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, বোরনও রাইবোজকে ভেঙে যাওয়া থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। এই পারস্পরিক সম্পর্ক প্রাণের উৎপত্তির পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা। গবেষণাটি ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে প্রাচীন পৃথিবীর মতো পরিবেশে বোরনযুক্ত বিভিন্ন খনিজ পদার্থের সঙ্গে রাইবোজের রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করা হয়। গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল, প্রকৃতিতে যেভাবে বোরন পাওয়া যায়, সেই পরিস্থিতিতে রাইবোজ ও বোরনের পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন হতে পারে, তা বোঝা। রাইবোজ কেন গুরুত্বপূর্ণ রাইবোজ হলো পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট একটি সরল শর্করা। এটি রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড বা আরএনএর মূল কাঠামো তৈরির অন্যতম উপাদান। আরএনএ কোষের মধ্যে জিনগত তথ্য ব্যবহার, প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়া এবং জিনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডিএনএর গঠনেও রাইবোজের পরিবর্তিত একটি রূপ থাকে, যার নাম ডিঅক্সিরাইবোজ। বিজ্ঞানীদের একটি ধারণা হলো, পৃথিবীতে প্রাণের সূচনালগ্নে আরএনএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকতে পারে। এই ধারণা ‘আরএনএ ওয়ার্ল্ড হাইপোথিসিস’ নামে পরিচিত। এর মূল বক্তব্য, আধুনিক ডিএনএ ও প্রোটিনভিত্তিক জীবব্যবস্থা গড়ে ওঠার আগে আরএনএর মতো অণু জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া পরিচালনার কাজে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা রয়েছে। রাইবোজ তুলনামূলকভাবে অস্থিতিশীল। তাপ, ক্ষারীয় পরিবেশ ও অন্যান্য রাসায়নিক পরিস্থিতিতে এটি সহজেই ভেঙে যেতে পারে। ফলে প্রাচীন পৃথিবীতে রাইবোজ তৈরি হলেও সেটি কীভাবে যথেষ্ট সময় ধরে টিকে ছিল, তা প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বোরন কীভাবে সাহায্য করতে পারে গবেষণায় বোরনের ভূমিকা বিশেষভাবে উঠে এসেছে। বোরন একটি উপধাতব মৌল, যা প্রকৃতিতে বিভিন্ন খনিজ পদার্থে পাওয়া যায়। উপযুক্ত পরিস্থিতিতে বোরনযুক্ত যৌগ রাইবোজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্থিতিশীল রাসায়নিক জটিল যৌগ তৈরি করতে পারে। এমন যৌগ রাইবোজকে কিছু পরিস্থিতিতে দ্রুত ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। তবে শুধু বোরন থাকলেই সমস্যার সমাধান হয় না। ক্যালসিয়ামের মতো উপাদানের উপস্থিতিতে বোরন পানিতে কম দ্রবণীয় যৌগ তৈরি করে খনিজের মধ্যে আটকে যেতে পারে। ফলে জীবনের প্রাথমিক রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার মতো দ্রবীভূত বোরনের পরিমাণ কমে যায়। এই সমস্যাটি বুঝতে গবেষকেরা পরীক্ষাগারে তৈরি সাধারণ বোরাক্সের পাশাপাশি প্রকৃতিতে পাওয়া তিন ধরনের বোরনযুক্ত খনিজ ব্যবহার করেন। এগুলো হলো কার্নাইট, কোলেম্যানাইট ও ইউলেক্সাইট। খনিজগুলোর মধ্যে সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম অথবা উভয় উপাদান রয়েছে। এসব খনিজ পানিতে মেশানোর পর রাইবোজ ছাড়া এবং রাইবোজসহ দুই অবস্থায় বোরন কতটা দ্রবীভূত হয়, তা তুলনা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, রাইবোজ যোগ করলে চার ধরনের বোরনযুক্ত উপাদান থেকেই পানিতে দ্রবীভূত বোরনের পরিমাণ বাড়ে। ক্যালসিয়ামযুক্ত খনিজের ক্ষেত্রে প্রভাবটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। অর্থাৎ, রাইবোজ শুধু বোরনের সুরক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনাই তৈরি করে না, বরং বোরনকে খনিজের মধ্যে আটকে পড়া থেকেও রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে। প্রাকৃতিক পরিবেশেও পরীক্ষা গবেষণাটিকে আরও বাস্তবসম্মত করতে বিজ্ঞানীরা ভারতের লাদাখ অঞ্চলের পুগা জলতাপীয় ব্যবস্থা থেকে সংগ্রহ করা বাষ্পীভবনের ফলে তৈরি একটি খনিজসমৃদ্ধ ভূত্বকের নমুনা ব্যবহার করেন। এ ধরনের পরিবেশে গরম পানি, খনিজ ও রাসায়নিক উপাদানের পারস্পরিক ক্রিয়া ঘটে। প্রাচীন পৃথিবীর কিছু সম্ভাব্য রাসায়নিক পরিবেশ বোঝার জন্য এ ধরনের নমুনা গুরুত্বপূর্ণ। নমুনাটি পানিতে দেওয়ার পর প্রথমে দেখা হয়, রাইবোজ ছাড়াই কতটা বোরন দ্রবীভূত হয়। এরপর তাতে রাইবোজ যোগ করা হলে পানিতে নির্গত বোরনের পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে যায়। ফলাফলটি ইঙ্গিত দেয়, কেবল বিশুদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহার করে নয়, প্রকৃতিতে পাওয়া জটিল খনিজের ক্ষেত্রেও রাইবোজ বোরনের দ্রাব্যতা বাড়াতে পারে। গবেষকেরা আরও পরীক্ষা করেন, তাপে ও ক্ষারীয় পরিবেশে পরিবর্তিত বা ভেঙে যাওয়া রাইবোজ একই কাজ করতে পারে কি না। পরীক্ষায় দেখা যায়, পরিবর্তিত রাইবোজের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। কোলেম্যানাইট থেকে দ্রবীভূত বোরনের পরিমাণ পরিবর্তিত রাইবোজ যোগ করলে ৫০ শতাংশ বাড়লেও, তাজা রাইবোজ যোগ করলে একই খনিজ থেকে দ্রবীভূত বোরনের পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন গুণ হয়েছিল। এ ছাড়া সুক্রোজ ও গ্লুকোজের মতো অন্যান্য শর্করাও বোরনের দ্রাব্যতা বাড়াতে পারে বলে পরীক্ষায় দেখা যায়। তবে রাইবোজের প্রভাব ছিল বেশি। গবেষকদের ধারণা, রাইবোজের অণুর বিশেষ গঠন বোরনের সঙ্গে স্থিতিশীল যৌগ তৈরির জন্য বেশি উপযোগী। রাসায়নিক চক্রের ধারণা   এসব ফলাফলের ভিত্তিতে গবেষকেরা একটি সম্ভাব্য পারস্পরিক নির্ভরতার চক্রের কথা বলেছেন। রাইবোজ বোরনকে পানিতে দ্রবীভূত থাকতে সাহায্য করে। দ্রবীভূত বোরন আবার রাইবোজকে ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। ফলে পর্যাপ্ত রাইবোজ থাকলে আরও বেশি বোরন দ্রবীভূত থাকতে পারে, আর সেই বোরন আরও রাইবোজকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়া সব পরিস্থিতিতে একইভাবে কাজ করবে, এমন নয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, বোরনের যৌগ অতিরিক্ত পরিমাণে থাকলে রাইবোজ তৈরির প্রক্রিয়াই বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি বোরনের পরিমাণ সীমিত রেখে রাইবোজ তৈরির অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে থাকতে পারে। পরে রাইবোজ ও বোরনের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে—এমন সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন গবেষকেরা। পরিবেশের অম্ল-ক্ষারত্বের মাত্রা বা পিএইচ পরিবর্তনও এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। গরম পানির উৎস বা জলতাপীয় পরিবেশে পিএইচের পরিবর্তনের কারণে বোরনের সঙ্গে যুক্ত রাইবোজ মুক্ত হয়ে অন্য রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে। গবেষণাটি প্রাণের উৎপত্তি সরাসরি প্রমাণ করেনি। বরং এটি দেখিয়েছে, প্রাকৃতিক খনিজের সঙ্গে শর্করার মিথস্ক্রিয়া প্রাচীন পৃথিবীতে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় অণুগুলোকে টিকিয়ে রাখার সম্ভাব্য পথ তৈরি করতে পারে। পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা কীভাবে হয়েছিল, সেই প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর পেতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। তবে রাইবোজ ও বোরনের এই রাসায়নিক সম্পর্ক প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণায় নতুন দিক খুলে দিতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৩:৩৮
সাবেক কর্মীর অ্যাকাউন্টে ৬০০ ডলার পাঠিয়ে বিপাকে নিয়োগকর্তা, ফেরত নিয়ে জটিলতা
সাবেক কর্মীর অ্যাকাউন্টে ৬০০ ডলার পাঠিয়ে বিপাকে নিয়োগকর্তা, ফেরত নিয়ে জটিলতা

ধরা যাক, নেভিন নামের এক ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তার এক সাবেক কর্মস্থল থেকে ভুলবশত ৬০০ ডলার জমা হয়েছে। কিন্তু টাকাটি অ্যাকাউন্টে আসার পর পরই স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটোপে) তার বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিল পরিশোধে খরচ হয়ে যায়। নেভিনের অজান্তেই টাকাগুলো অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হয়।   তবে আসল বিপত্তি বাধে তখন, যখন তার সাবেক নিয়োগকর্তা যোগাযোগ করে সেই টাকাটি ফেরত চান। এখন প্রশ্ন হলো, নেভিন কি সত্যিই এই অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য, যদিও সে ইতোমধ্যেই তা নিজের বিল পরিশোধে খরচ করে ফেলেছে? দুর্ভাগ্যবশত, আইন বিশেষজ্ঞদের মতে এই প্রশ্নের উত্তর হলো— হ্যাঁ, তাকে অবশ্যই ওই অর্থ ফেরত দিতে হবে।   আইন অনুযায়ী, নেভিনের সাবেক নিয়োগকর্তা চাইলেই এই টাকা ফেরত নেওয়ার আইনি অধিকার রাখেন। তবে ‘ন্যাশনাল অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউস অ্যাসোসিয়েশন’ (NACHA)-এর নিয়ম অনুযায়ী এই ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভুল করে টাকা পাঠানোর পাঁচ ব্যাংকিং কার্যদিবসের মধ্যে নিয়োগকর্তাকে পুরো টাকাটি ফেরত নেওয়ার (রিভার্সাল) উদ্যোগ নিতে হবে এবং প্রাপককে তা লিখিতভাবে জানাতে হবে।   কিন্তু প্রাপকের অ্যাকাউন্টে যদি পর্যাপ্ত অর্থ না থাকে, অর্থাৎ ব্যালেন্স যদি ৬০০ ডলারের নিচে নেমে যায়, তবে ব্যাংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই রিভার্সাল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে না। যেহেতু নেভিন ইতোমধ্যেই বিল পরিশোধে কিছু অর্থ খরচ করে ফেলেছেন, তাই ব্যাংক থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কেটে নেওয়ার সুযোগটি এক্ষেত্রে কাজ করবে না এবং রিভার্সালটি অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে বাতিল হয়ে যাবে।   তবে অ্যাকাউন্টে অর্থ না থাকার মানে এই নয় যে নেভিন আইনি জটিলতা থেকে বেঁচে গেছেন এবং ওই টাকা চিরতরে নিজের বলে দাবি করতে পারবেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের কর্মসংস্থান ও নাগরিক অধিকার বিষয়ক আইনজীবী ভি. জেমস ডি-সিমোন সতর্ক করে জানিয়েছেন, টাকা খরচের কারণ যাই হোক না কেন, সেটি অবশ্যই ফেরত দিতে হবে।   এমনকি কিছু অঙ্গরাজ্যে এমন ভুলবশত পাওয়া অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং এর জন্য ফৌজদারি মামলাও হতে পারে। ‘লইয়ার্স ফর জাস্টিস’-এর সিইও এডউইন আইওয়াজিয়ানও দ্রুত এই অর্থ ফেরত দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই ব্যাংক এবং সাবেক নিয়োগকর্তাকে বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ এই টাকা কখনোই তার নিজস্ব ছিল না।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৩:২৮
রাতে দেরি করে খাবার খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে গবেষণা
ঘুমানোর আগে খাবার খাওয়ার অভ্যাস যেভাবে বাড়াতে পারে যকৃতে চর্বি জমার ঝুঁকি

রাতে দেরি করে খাবার খাওয়া বা ঘুমাতে যাওয়ার পর নাশতা করার অভ্যাস যকৃতের রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রায় দুই লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা এমন সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, যারা রাতের খাবারের পর কিংবা ঘুমানোর সময়ের কাছাকাছি আবার খাবার খান, তাঁদের যকৃতে চর্বি জমার রোগ এবং লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ক্লিনিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজি-তে। এতে তিনটি বড় গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাতে দেরি করে খাবার খাওয়ার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের যকৃতের রোগের ঝুঁকি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে রাতে খাবার খেলেই কারও যকৃতের রোগ হবে। গবেষণাটি মূলত খাদ্য গ্রহণের সময় ও রোগের ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক চিহ্নিত করেছে। গবেষণার প্রধান লেখক রবার্ট উইলেচানস্কি যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির যকৃতের রোগ বিশেষজ্ঞ। তাঁর মতে, মানুষের শরীরের জৈবিক ঘড়ির সঙ্গে যকৃতের কার্যক্রমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই খাবারের ধরন বা উপাদান পরিবর্তন না করেও কখন খাবার খাওয়া হচ্ছে, তা পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা সম্ভব কি না, সেটি নিয়ে গবেষকেরা আগ্রহী। গবেষণায় বিশেষভাবে দুটি রোগের ঝুঁকির বিষয় উঠে এসেছে। এর একটি হলো মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ বা এমএএসএলডি। এ রোগে যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমে। অন্যটি হলো লিভার সিরোসিস, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণে যকৃতের স্বাভাবিক গঠন ও কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়। সিরোসিস গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছালে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। গবেষকেরা তিনটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার তথ্য ব্যবহার করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে নার্সেস হেলথ স্টাডি, নার্সেস হেলথ স্টাডি-টু এবং হেলথ প্রফেশনালস ফলো-আপ স্টাডি। এসব গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে ১ লাখ ৯৯ হাজার ১৫৫ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাঁদের খাদ্য গ্রহণের অভ্যাসের সঙ্গে যকৃতের রোগের সম্পর্ক খতিয়ে দেখেন গবেষকেরা। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, রাতে দেরি করে খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে এমএএসএলডি ও সিরোসিসের ঝুঁকি বেশি। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নিয়েও এই সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় বয়স, শরীরের ওজন, দৈনিক ক্যালরি গ্রহণ, ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির মাত্রা, ধূমপান, শারীরিক পরিশ্রম, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গড়ে ১৬ বছর পর্যবেক্ষণকালে ৪ হাজার ৪৭৭ জনের এমএএসএলডি এবং ৩১২ জনের সিরোসিস শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এসব ফলাফল থেকে গবেষকেরা মনে করছেন, খাবারের সময় যকৃতের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যকৃতে চর্বি জমার রোগে আক্রান্ত হলেই যে সবার সিরোসিস হবে, এমন নয়। প্রধান গবেষক উইলেচানস্কি জানিয়েছেন, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে তুলনামূলক অল্পসংখ্যক মানুষের রোগ গুরুতর পর্যায়ে গিয়ে সিরোসিসে রূপ নেয়। তাই গবেষণার ফলাফলকে আতঙ্কের কারণ হিসেবে না দেখে খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতন হওয়ার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা উচিত। গবেষকেরা মনে করছেন, ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগেই দিনের ক্যালরি গ্রহণ শেষ করার অভ্যাস উপকারী হতে পারে। অর্থাৎ রাতের খাবারের পর অপ্রয়োজনে বারবার নাশতা করা বা ঘুমাতে যাওয়ার পর খাবার খাওয়ার অভ্যাস কমানো নিয়ে ভাবা যেতে পারে। ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির ঘুম ও জৈবিক ছন্দবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু ম্যাকহিলও খাবার গ্রহণের সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, ঘুম, খাবার এবং ব্যায়াম—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি যখন ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয়, তখন খাবার গ্রহণ করলে শরীরের খাদ্য বিপাকের দক্ষতা কমে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর সঙ্গে স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং যকৃতের সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। মানুষের শরীরের জৈবিক ঘড়ি দিনের আলো ও রাতের অন্ধকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। ঘুম ও জেগে থাকার সময়ের পাশাপাশি বিপাকপ্রক্রিয়াতেও এই ছন্দের প্রভাব রয়েছে। রাতের শিফটে কাজ করেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কাজ, ঘুম ও খাবারের সময়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হতে পারে। গবেষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে খাবারের সময় নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তবে বর্তমান গবেষণার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফলে কে কখন কী পরিমাণ খাবার খেয়েছেন, সে বিষয়ে তথ্যের নির্ভুলতা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি, এ ধরনের পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা থেকে দেরিতে খাবার খাওয়াই সরাসরি যকৃতের রোগের কারণ—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। গবেষকেরা এখন খাবারের সময় পরিবর্তন করলে যকৃতের স্বাস্থ্যে বাস্তবে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা পরীক্ষা করতে আরও গবেষণার পরিকল্পনা করছেন। এ গবেষণায় সরাসরি খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করে আগে খাবার খাওয়ার ফলে যকৃতের চর্বি জমার সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্যসূচকে উন্নতি হয় কি না, তা যাচাই করা হবে। সব মিলিয়ে গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সুস্থ থাকতে শুধু কী খাওয়া হচ্ছে, সেটিই নয়, কখন খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। নিয়মিত রাতে দেরি করে নাশতা করার অভ্যাস থাকলে খাবারের সময় নিয়ে সচেতন হওয়া যেতে পারে। তবে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৩:১৭
যুক্তরাষ্ট্রে ব্রেকআপ করতে চাওয়ায় প্রেমিককে কামড়, গ্রেপ্তার নারী পুলিশ কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রে ব্রেকআপ করতে চাওয়ায় প্রেমিককে কামড়, গ্রেপ্তার নারী পুলিশ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সম্পর্কচ্ছেদ বা ব্রেকআপ করতে চাওয়ায় প্রেমিককে ঘরে আটকে রেখে মারধর এবং কামড় দেওয়ার অভিযোগে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার মার্সিয়া স্যাংগ্রোনিস (৩৮) নামের ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুরুতর শারীরিক আঘাত বা ‘অ্যাগ্রাভেটেড ব্যাটারি’-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ওই যুবক স্যাংগ্রোনিসের বাড়িতে রাত কাটান। সেখানে ওই যুবকের আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় ক্যারিয়ার গড়ার বিষয়ে অনীহা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ভুক্তভোগী যুবক জানান, এই বিষয়টি নিয়ে কথা উঠলেই স্যাংগ্রোনিস ক্ষিপ্ত ও মারমুখী হয়ে ওঠেন।   এরপর সকালে যুবকটি সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়ি থেকে বের হতে চাইলে স্যাংগ্রোনিস দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তার পথ আটকে দেন। যুবকটি দরজার হাতল ধরে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্যাংগ্রোনিস তাকে জোরপূর্বক জাপটে ধরেন এবং দরজার কাছ থেকে টেনেহিঁচড়ে দূরে সরিয়ে তার হাতে একাধিকবার কামড় দেন।   কোনোমতে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে রাস্তায় টহলরত হিয়ালিয়া পুলিশ বিভাগের দুই কর্মকর্তাকে থামিয়ে নিজের ওপর হওয়া এই নির্যাতনের কথা জানান ওই যুবক। পরে অপরাধ তদন্ত বিভাগের এক টেকনিশিয়ান ভুক্তভোগীর শরীরের আঘাতের ছবি তোলেন। সেখানে তার বাঁ হাতে অন্তত তিনটি আলাদা কামড়ের দাগ এবং শরীর ও মুখে একাধিক আঁচড়ের চিহ্ন পাওয়া যায়।   এই ঘটনার পর স্যাংগ্রোনিসের নিয়োগকর্তা ‘নর্থ বে ভিলেজ পুলিশ ডিপার্টমেন্ট’ তাকে নিয়ম অনুযায়ী সবেতনে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে। বর্তমানে এক হাজার ডলারের বন্ডে জামিনে মুক্ত থাকলেও, আদালতের বিচারক তাকে ভুক্তভোগী যুবকের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৫:২