সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

দর্শনার্থীদের সামনেই বাঘের খাঁচায় ঢুকে প্রাণ হারালেন ব্যক্তি, বন্ধ হলো পার্ক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৭:৭
ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কের বাঘের আবাসস্থল
ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কের বাঘের আবাসস্থল

ইংল্যান্ডের একটি বন্যপ্রাণী পার্কে বাঘের খাঁচায় ঢুকে প্রাণ হারিয়েছেন এক ব্যক্তি। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে উত্তর ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে এ ঘটনা ঘটে। খাঁচায় প্রবেশের পর একটি বাঘ তাঁর ওপর আ ক্র ম ণ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃ ত্যু হয়। নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।


ঘটনার পর পার্কটি খালি করে দেওয়া হয় এবং সপ্তাহান্তের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কীভাবে ওই ব্যক্তি বাঘের খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।


দক্ষিণ ইয়র্কশায়ার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কের বাঘের খাঁচায় একজন ব্যক্তির প্রবেশের খবর পায় তারা। পরে বাঘটি ওই ব্যক্তির ওপর আ ক্র ম ণ করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।


খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে মৃ ত ঘোষণা করা হয়। নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ঘটনার কথা জানানো হয়েছে। শোকাবহ এই পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কর্মকর্তারা পরিবারটিকে সহায়তা করছেন।


ঘটনার সময় পার্কে উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বাঘটির সঙ্গে ওই ব্যক্তির সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওতে ব্যক্তিটিকে বাঘের আ ক্র ম ণ থেকে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করতে শোনা যায়। আশপাশে থাকা লোকজনও চিৎকার করে তাঁকে সতর্ক করার চেষ্টা করেন।


তবে ঘটনার ভিডিওটি অত্যন্ত মর্মান্তিক হওয়ায় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এমন দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে নিহত ব্যক্তির পরিবার ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের মানসিক কষ্ট আরও বাড়তে পারে।


কীভাবে খাঁচায় প্রবেশ করলেন, তদন্ত চলছে


ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা চালু করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জরুরি সেবাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে পার্ক প্রশাসন।


প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার পর বাঘের খাঁচার চারপাশে কালো পর্দা টাঙানো হয়। এতে দর্শনার্থীদের সরাসরি ঘটনাস্থল দেখার সুযোগ সীমিত করা হয়। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে পার্কের দর্শনার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হয়।


পুলিশ জানিয়েছে, আ ক্র ম ণের পর বাঘটি আহত হয়নি এবং খাঁচার ভেতরেই ছিল। এ কারণে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন করে কোনো ঝুঁকি নেই বলেও আশ্বস্ত করেছে তারা।


তবে ওই ব্যক্তি কীভাবে দর্শনার্থীদের জন্য নির্ধারিত অংশ পেরিয়ে বাঘের আবাসস্থলে ঢুকলেন, তা এখনো জানা যায়নি। তিনি কোনো বাধা অতিক্রম করেছিলেন কি না, কিংবা কী পরিস্থিতিতে খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, সেসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন


ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কের ‘ল্যান্ড অব দ্য টাইগার্স’ এলাকায় বাঘ দেখার জন্য দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে তৈরি পথ রয়েছে। সেখান থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বাঘের চলাফেরা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাঘের আবাসস্থলটি প্রায় দুই একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত।


পার্কটি ২০০৯ সালে চালু হয়। পরে ২০১১ সালে বাঘের জন্য নির্দিষ্ট এই প্রদর্শনী এলাকা চালু করা হয়। এখানে বিপন্ন প্রজাতির আমুর বা সাইবেরীয় বাঘ রাখা হয়। প্রাকৃতিক পরিবেশের আদলে তৈরি আবাসস্থলে বাঘগুলো বিচরণ করে এবং দর্শনার্থীরা নির্ধারিত স্থান থেকে সেগুলো দেখতে পারেন।


এ ধরনের বন্যপ্রাণী পার্কে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সীমানা ও প্রবেশপথ মেনে চলা জরুরি। একই সঙ্গে প্রাণীদের স্বাভাবিক আবাসস্থল থেকে দর্শনার্থীদের আলাদা রাখার ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইয়র্কশায়ারের এই ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।


ঘটনার পর পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, দর্শনার্থী, কর্মী ও প্রাণীদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তদন্ত চলাকালে পার্কটি বন্ধ রাখা হবে বলেও জানানো হয়।


এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিচয়, বয়স কিংবা তিনি কী কারণে বাঘের খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ তাঁর পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।


একটি বন্যপ্রাণী পার্কে এমন মর্মান্তিক ঘটনা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং প্রাণীদের আবাসস্থল সুরক্ষার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। তদন্তে কীভাবে ওই ব্যক্তি বাঘের খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, তা স্পষ্ট হলে ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও জানা যাবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
মেক্সিকোর মানজানিলো উপকূলের দিকে এগোচ্ছে হারিকেন সাইমন
মেক্সিকোর উপকূলের দিকে এগোচ্ছে ক্যাটাগরি ৪ হারিকেন সাইমন, প্রাণঘাতী বন্যার আশঙ্কা

মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে শক্তিশালী হারিকেন সাইমন। শনিবার ঝড়টি ক্যাটাগরি ৪ হারিকেনে পরিণত হয়েছে। এর সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার। ঝড়টি উপকূলে আঘাত হানলে ধ্বংসাত্মক বাতাস, জলোচ্ছ্বাস, ভারী বৃষ্টি ও প্রাণঘাতী বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে সাইমনের অবস্থান ছিল মেক্সিকোর মানজানিলো উপকূলীয় শহর থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার দূরে। ঝড়টি উত্তর দিকে এগোচ্ছিল। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার গভীর রাত অথবা রোববারের শুরুর দিকে এটি মেক্সিকোর পশ্চিম-মধ্য উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। স্থলভাগে আঘাত হানার আগে ঝড়টির শক্তি আরও বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পুয়ের্তো ভায়ার্তা পর্যটনকেন্দ্রের দক্ষিণে মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের কয়েকটি এলাকায় হারিকেন সতর্কতা কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যে মানজানিলোও রয়েছে। দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় বন্দর এই শহরটি ঝড়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। আরও দক্ষিণে লাজারো কার্দেনাসের দিকে কিছু এলাকায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলের কাছের মারিয়াস দ্বীপপুঞ্জও সতর্কতার আওতায় রয়েছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় দ্রুত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, ঝড়টির শক্তিশালী বাতাস ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারে। ভারী বৃষ্টিতে সড়ক ডুবে যেতে পারে, পাহাড়ি ঢালে ভূমিধস হতে পারে এবং যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। এতে জরুরি উদ্ধারকর্মীদের দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঝড়ের পর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতেও সময় লাগতে পারে। মানজানিলোতে সতর্কতামূলক প্রস্তুতি শনিবার দিনের প্রথম ভাগে মানজানিলো শহরে বাসিন্দাদের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্কের লক্ষণ দেখা যায়নি। তবে ঝড়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল আগেই। কিছু দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জানালায় সুরক্ষামূলক বোর্ড লাগানো হচ্ছিল। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় এবং রাস্তাঘাটেও মানুষের চলাচল কমে আসে। শুক্রবার রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। একই সঙ্গে সমুদ্রের পানি ও ঢেউয়ের উচ্চতা বাড়তে থাকায় সৈকতসংলগ্ন হোটেলগুলোর প্রবেশপথের কাছাকাছি পর্যন্ত ঢেউ পৌঁছাচ্ছিল। তবে শনিবার দিনের প্রথম ভাগে সেখানে ঝড়ের প্রবল বাতাস পুরোপুরি অনুভূত হয়নি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক সুরক্ষা কর্মীরা সৈকত বন্ধ করে দেন এবং বিভিন্ন স্থানে প্রতিবন্ধক বসান। উপকূলের বিপজ্জনক অবস্থা বোঝাতে লাল ও কালো সতর্কসংকেতও টাঙানো হয়। বাসিন্দা ও পর্যটকদের সমুদ্রের কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড এবং জরুরি সেবার কর্মীরা বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় টহল দিচ্ছেন। পাশের হালিসকো অঙ্গরাজ্যের বন্যাপ্রবণ সিহুয়াতলান পৌরসভার কিছু এলাকায় সতর্কতামূলকভাবে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় নদীর পানি ইতিমধ্যে বেড়ে যাওয়ায় ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নদী উপচে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও ৩০ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস হারিকেন সাইমনের কারণে মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে রোববার পর্যন্ত ১০ থেকে ২০ ইঞ্চি বা প্রায় ২৫ থেকে ৫১ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার। মিচোয়াকান, কোলিমা ও হালিসকোর কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টির পরিমাণ ৩০ ইঞ্চি বা প্রায় ৭৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এত বেশি বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় মাটি ধসে সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মেক্সিকোর গুয়েরেরো, মিচোয়াকান, কোলিমা ও হালিসকো অঙ্গরাজ্যে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। ঝড়ের কেন্দ্র যেখানে উপকূলে আঘাত হানবে, তার কাছাকাছি ও পূর্ব দিকে সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে উপকূলে ঢুকে পড়তে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বিশাল ও ধ্বংসাত্মক ঢেউ। আগামী কয়েক দিন মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য উপকূলের বিভিন্ন স্থানে উত্তাল সমুদ্র এবং বিপজ্জনক স্রোত তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে হারিকেন পোলো ক্যাটাগরি ২ ঝড় হিসেবে বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপদ্বীপে আঘাত হানে। ওই ঝড়ে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে, রাস্তায় পানি জমে এবং বিভিন্ন স্থানে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর পরপরই সাইমনের শক্তিশালী হয়ে ওঠা মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৭:৫৩
ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কের বাঘের আবাসস্থল

দর্শনার্থীদের সামনেই বাঘের খাঁচায় ঢুকে প্রাণ হারালেন ব্যক্তি, বন্ধ হলো পার্ক

আরব উপসাগরে তেলবাহী জাহাজে আ গু নের ঘটনা

পারস্য উপসাগরে তেলবাহী জাহাজে আ গু ন, ২২ এশীয় নাবিককে উদ্ধার করল আমিরাতের কোস্টগার্ড

জেলেনস্কির বদলে নতুন প্রেসিডেন্ট চান ট্রাম্প, রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার তাগিদ

জেলেনস্কির বদলে নতুন প্রেসিডেন্ট চান ট্রাম্প, রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার তাগিদ

সৌদি আরবে জরুরি অবতরণের পর ফ্লাইদুবাইয়ের যাত্রীরা
৯/১১ হা মলার আদলে তেল আবিব বিমানবন্দরে বিমান আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের সহকারী পাইলট

সংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্ত অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে ইসরায়েলের তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন ওই বিমানের সহকারী পাইলট। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত সং ঘা ত থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই পরিকল্পনা করেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এ এই ঘটনা ঘটে। বিমানে থাকা অবস্থায় সহকারী পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে জরুরি কাজে ব্যবহৃত কুড়াল দিয়ে আ ঘা ত করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ওই সময় বিমানটি সৌদি আরবের আকাশসীমায় ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি শুক্রবার তদন্তের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি যাত্রী টার্মিনালে বিমান আছড়ে ফেলে যত বেশি সম্ভব মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে চেয়েছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্যের কথা স্বীকার করেছেন। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যকে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য সহযোগী কেউ ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সময় বিমানটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। গুরুতর আ ঘা ত পেয়েও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার প্রতিরোধ চালিয়ে যান এবং সহায়তার সংকেত দেন। বিমানে থাকা আরেকজন পাইলট ককপিটের দরজা অস্বাভাবিকভাবে বারবার খোলা-বন্ধ হতে দেখে সন্দেহ করেন। পরে তিনি কেবিন ক্রু সদস্য ও কয়েকজন যাত্রীর সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সেটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান। অবতরণের পর সন্দেহভাজন সহকারী পাইলটকে গ্রে প্তার করা হয়। পরে তদন্তের দায়িত্ব নেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। তদন্তে সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি বলে জানানো হয়। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁকে ২৯ বছর বয়সী ওমানি নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের বিবরণ অনুযায়ী, তিনি আগেও দুবার দুবাই থেকে তেল আবিবের পথে উড়োজাহাজ চালিয়েছিলেন। ওই ফ্লাইটগুলো ব্যবহার করে তিনি বিমান চলাচলের রুট ও বিমানবন্দর সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তদন্তে আরও বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তির মধ্যে উগ্রবাদী চিন্তাধারার লক্ষণ দেখা যায় ২০১৭ সালে, যখন তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছিলেন। সে সময় তিনি চরমপন্থী লেখা পড়তেন এবং অনলাইনে সন্ত্রাসী সংগঠন ও আ ত্ম ঘা তী হামলার প্রশংসা করে এমন কনটেন্ট অনুসরণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এভাবে তিনি সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে রয়্যাল মেলবোর্ন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়ার সময় তিনি একটি মসজিদে যাতায়াত করতেন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই মসজিদ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের মধ্যে যোগসূত্র থাকার অভিযোগও এসেছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানত কিংবা এতে সহায়তা করেছিল—এমন প্রমাণ প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, হা মলার প্রস্তুতি হিসেবে সন্দেহভাজন ব্যক্তি সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করে এমন উপকরণ দেখতেন এবং ব্যক্তিগত প্রশিক্ষকের কাছ থেকে বক্সিং শিখেছিলেন। তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বিমান চালনার পেশা বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গেও একই ধরনের হা মলা চালানোর আগ্রহের সম্পর্ক ছিল। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে বিমান সংস্থার নিয়োগ ও নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে। তদন্তের বিবরণ অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি পাইলটের লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় পেশাগত যোগ্যতা পূরণ করেছিলেন এবং সদাচরণের সনদ জমা দিয়েছিলেন। নিয়োগের আগে করা যাচাইয়েও তাঁর উগ্রবাদী মনোভাব কিংবা হা মলার পরিকল্পনার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে জানান আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ওমান এয়ারে কাজ করেছিলেন। এরপর ২০২৫ সালের শুরুর দিকে অল্প সময়ের জন্য মরক্কোর রয়্যাল এয়ার মারোকের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা, পাইলটদের পটভূমি যাচাই এবং কর্মীদের মধ্যে উগ্রবাদী মনোভাব শনাক্ত করার সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে একজন পাইলট প্রয়োজনীয় যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও এমন পরিকল্পনা করতে পেরেছিলেন বলে তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা নিয়োগপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার ১৯ জন হামলাকারী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করা চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করেছিল। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুটি ভবনে আঘাত হানে, আরেকটি ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আছড়ে পড়ে। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ার গ্রামীণ এলাকায় বিধ্ব স্ত হয়। ওই হা মলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নি হ ত হন এবং এর পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী ‘সন্ত্রাসবিরোধী যু দ্ধ’ শুরু হয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:১৫
ইরাকে জ্বলন্ত গাড়ি থেকে ৭ জনকে বাঁচিয়ে প্রাণ দিলেন মার্কিন সেনা আলউইন ক্যাশ

ইরাকে জ্বলন্ত গাড়ি থেকে ৭ জনকে বাঁচিয়ে প্রাণ দিলেন মার্কিন সেনা আলউইন ক্যাশ

ফুটবল মাঠে আহত পাখিকে সিপিআর দিয়ে বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন অধিনায়ক গানি

ফুটবল মাঠে আহত পাখিকে সিপিআর দিয়ে বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন অধিনায়ক গানি

ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার কঠিন সময়ে প্রিয়জনদের কাছে ‘ক্যানসার ঘোস্টিং’-এর শিকার হচ্ছেন রোগীরা। ছবি: সংগৃহীত

‘ক্যানসার ধরা পড়ার পর বন্ধু হারিয়েছি, মানুষ আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে’

‘পতনের দ্বারপ্রান্তে নরেন্দ্র মোদি’, নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারত
‘পতনের দ্বারপ্রান্তে নরেন্দ্র মোদি’, নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মাঝেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া'। নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, বর্তমান মোদি সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। দেশজুড়ে ভোটাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া চরম রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা।   ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ চেয়ে যখন বিরোধী দলগুলো ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ আন্দোলন তীব্রতর করছে, ঠিক তখনই সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।   কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আড়াল করার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন, যা শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদেরই পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সরকার ভয় পাচ্ছে।   আর সেই ভীতি থেকেই রাজধানী দিল্লি ও মুম্বাইসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মতো দমনপীড়নমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিরোধী সংসদ সদস্যদের আটকের ঘটনাকে তিনি গণতন্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, কোনো ধরনের পুলিশি বাধাই তাদের এই অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে থামাতে পারবে না।   নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী সোমবার দিল্লিতে একটি বৃহৎ বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে 'ইন্ডিয়া' জোট। এর আগে বিরোধী নেতারা ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের উদ্বেগের কথা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন।   গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং নির্বাচন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত বিরোধী দলগুলোর এই আন্দোলন সর্বস্তরে অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন কে সি বেণুগোপাল। আগামী দিনে এই দাবির সপক্ষে দেশের প্রধান বিচারপতির (সিজেআই) সঙ্গেও বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতাদের সাক্ষাতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে, যা ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৯:৪৬
বাংলাদেশ থেকে প্রথম আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির ফেলো অধ্যাপক অরুণ

বাংলাদেশ থেকে প্রথম আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির ফেলো অধ্যাপক অরুণ

জাপানে ভূমিকম্পের জরুরি খবর দিতে ছুটির দিনেও মেকআপ ছাড়াই লাইভে নারী সাংবাদিক

জাপানে ভূমিকম্পের জরুরি খবর দিতে ছুটির দিনেও মেকআপ ছাড়াই লাইভে নারী সাংবাদিক

তাইওয়ানে চীনকে মোকাবিলায় সামরিক প্রতিরক্ষা জোরদারের ঘোষণা প্রেসিডেন্টের

তাইওয়ানে চীনকে মোকাবিলায় সামরিক প্রতিরক্ষা জোরদারের ঘোষণা প্রেসিডেন্টের

0 Comments