সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

তাইওয়ানে চীনকে মোকাবিলায় সামরিক প্রতিরক্ষা জোরদারের ঘোষণা প্রেসিডেন্টের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৮:৪৪
তাইওয়ানে চীনকে মোকাবিলায় সামরিক প্রতিরক্ষা জোরদারের ঘোষণা প্রেসিডেন্টের
তাইওয়ানে চীনকে মোকাবিলায় সামরিক প্রতিরক্ষা জোরদারের ঘোষণা প্রেসিডেন্টের

চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও ‘গ্রে-জোন’ চাপের মুখে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার কড়া ঘোষণা দিয়েছে তাইওয়ান। শনিবার (১০ অক্টোবর) তাইপেতে আয়োজিত তাইওয়ানের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে দেওয়া এক ভাষণে এই ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে।

 

তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, জাতীয় প্রতিরক্ষায় তাদের এই বিনিয়োগ বাড়ানোর মূল লক্ষ্য কোনোভাবেই যুদ্ধ উসকে দেওয়া নয়, বরং যেকোনো মূল্যে যুদ্ধ প্রতিহত করা। পাশাপাশি আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর অর্থ এই নয় যে তারা সংলাপের পথ বন্ধ করে দিচ্ছেন; বরং বেইজিংয়ের সঙ্গে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে যেন সম্মানজনক সংলাপ নিশ্চিত করা যায়, মূলত সেই লক্ষ্যেই তাইওয়ান তার সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে।

 

চলতি বছরের মে মাসে লাই চিং-তে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তাইওয়ান প্রণালিতে বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। চীন বরাবরই তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

 

অন্যদিকে লাইয়ের সরকার বেইজিংয়ের ‘এক চীন’ নীতিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায় বেইজিং তাকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট লাই বলেন, তাইওয়ান প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নিতে চীন ধারাবাহিকভাবে যে চাপ প্রয়োগ করছে, তা কেবল তাইওয়ানের নিরাপত্তার বিষয় নয়।

 

বরং এটি পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যই একটি বড় পরীক্ষা যে, বলপ্রয়োগ করে আন্তর্জাতিক নিয়ম ও মানুষের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারকে আসলেই উপেক্ষা করা যায় কি না।

 

ভাষণে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, তাইওয়ান সবসময় শান্তিতে বিশ্বাসী, তবে তারা কখনোই নিজেদের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার বিসর্জন দেবে না। চীনের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ ও মতবিনিময়ে তারা আগ্রহী হলেও, কোনোভাবেই তাদের অধীনতা মেনে নেওয়া হবে না।

 

দায়িত্বশীল ও সুদৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে তাইওয়ান প্রণালি এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় তার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও আশ্বস্ত করেন প্রেসিডেন্ট লাই।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ফুটবল মাঠে আহত পাখিকে সিপিআর দিয়ে বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন অধিনায়ক গানি
ফুটবল মাঠে আহত পাখিকে সিপিআর দিয়ে বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন অধিনায়ক গানি

ফুটবল মাঠে চলছিল টানটান উত্তেজনার এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। খেলার মাঝপথেই গোলরক্ষকের সজোরে লাথি মারা বল আচমকা আঘাত করে বসে উড়ন্ত একটি সিগাল পাখিকে। প্রচণ্ড আঘাতে মুহূর্তের মধ্যেই মাঠে আছড়ে পড়ে পাখিটি, নিস্তেজ হয়ে যায় তার শরীর।   এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে এক মুহূর্তও দেরি করেননি ইস্তাম্বুল ইয়ুরদুম স্পোরের অধিনায়ক গানি চাতান। খেলা থামিয়ে সরাসরি ছুটে যান আহত পাখিটির কাছে। মুমূর্ষু পাখিটিকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টায় তিনি মাঠের মধ্যেই তার বুকের ওপর বারবার চাপ দিয়ে সিপিআর বা জরুরি পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়া শুরু করেন।   অধিনায়কের এই নিরলস প্রচেষ্টার ফলও মেলে হাতেনাতে। কিছুক্ষণ সিপিআর দেওয়ার পর নিস্তেজ পাখিটির পা নড়তে শুরু করে এবং সেটি ধীরে ধীরে সাড়া দিতে থাকে। প্রাণ ফিরে পাওয়া আহত পাখিটিকে এরপর মাঠের পাশে নিয়ে গিয়ে দ্রুত চিকিৎসাকর্মীদের হাতে তুলে দেন গানি চাতান। পরীক্ষা করে দেখা যায়, বলের আঘাতে পাখিটি তার ডানায় বেশ চোট পেয়েছে।   পেশায় একজন হিসাবরক্ষক এবং ফুটবল দলের অধিনায়ক গানি চাতান কোনো চিকিৎসাকর্মী নন। তা সত্ত্বেও বিপদে পড়া একটি অসহায় প্রাণকে বাঁচাতে তিনি যেভাবে সাহসিকতা ও মমতার পরিচয় দিয়েছেন, তা রীতিমতো প্রশংসায় ভাসছে। সেদিন তার দল ফুটবল ম্যাচে পরাজিত হলেও, একটি নিরীহ প্রাণ বাঁচিয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে অগণিত মানুষের হৃদয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।   প্রাণীর প্রতি তার এই অসামান্য ভালোবাসা ও সহমর্মিতার স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক প্রাণী অধিকার সংগঠন ‘পেটা’ (PETA) তাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘হিরো টু অ্যানিম্যালস’ সম্মাননায় ভূষিত করেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১০:২৫
ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার কঠিন সময়ে প্রিয়জনদের কাছে ‘ক্যানসার ঘোস্টিং’-এর শিকার হচ্ছেন রোগীরা। ছবি: সংগৃহীত

‘ক্যানসার ধরা পড়ার পর বন্ধু হারিয়েছি, মানুষ আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে’

‘পতনের দ্বারপ্রান্তে নরেন্দ্র মোদি’, নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারত

‘পতনের দ্বারপ্রান্তে নরেন্দ্র মোদি’, নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারত

বাংলাদেশ থেকে প্রথম আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির ফেলো অধ্যাপক অরুণ

বাংলাদেশ থেকে প্রথম আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির ফেলো অধ্যাপক অরুণ

জাপানে ভূমিকম্পের জরুরি খবর দিতে ছুটির দিনেও মেকআপ ছাড়াই লাইভে নারী সাংবাদিক
জাপানে ভূমিকম্পের জরুরি খবর দিতে ছুটির দিনেও মেকআপ ছাড়াই লাইভে নারী সাংবাদিক

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ছুটির দিনেও মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যে টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারে হাজির হয়ে প্রশংসিত হয়েছেন সংবাদ উপস্থাপিকা সায়াকা ইনাই। কোনো মেকআপ, চুলের সাজসজ্জা কিংবা প্রচলিত প্রস্তুতি ছাড়াই জরুরি সংবাদ নিয়ে দর্শকদের সামনে আসেন তিনি। দুর্যোগের মুহূর্তে নিজের সাজসজ্জার চেয়ে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছে দেওয়াকে গুরুত্ব দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন এই সাংবাদিক।   ঘটনাটি গত ১৮ এপ্রিলের। ওই দিন স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে জাপানের নাগানো প্রিফেকচারের উত্তরাঞ্চলে ৫ দশমিক শূন্য মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৮ কিলোমিটার গভীরে। নাগানোর ওমাচি শহরে জাপানের ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপের স্কেলে সর্বোচ্চ ৫ প্লাস মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়।   ভূমিকম্পের সময় জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের নাগানো কেন্দ্রের সংবাদ উপস্থাপিকা সায়াকা ইনাই ছুটিতে ছিলেন। কিন্তু ভূমিকম্পের খবর পাওয়ার পর দ্রুত কর্মস্থলে ফিরে আসেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের মাত্র ১১ মিনিট পর দুপুর ১টা ৩১ মিনিটে তাঁকে টেলিভিশনের পর্দায় ভূমিকম্পসংক্রান্ত তথ্য জানাতে দেখা যায়।   এত অল্প সময়ের মধ্যে সম্প্রচারে অংশ নেওয়ায় স্বাভাবিক প্রস্তুতির সুযোগ পাননি সায়াকা। সাধারণত টেলিভিশনের সংবাদ উপস্থাপনার আগে মেকআপ, চুলের সাজসজ্জা ও পোশাকের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু সেদিন তিনি এসবের অপেক্ষা করেননি। সাধারণ পোশাকের ওপর স্যুটের জ্যাকেট পরে, চুল বেঁধে এবং কালো ফ্রেমের চশমা পরেই সংবাদ উপস্থাপন করেন।   তাঁর এই উপস্থিতি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। নিয়মিত সম্প্রচারে যে সাজসজ্জায় তাঁকে দেখা যায়, সেদিনের উপস্থিতি ছিল তার থেকে আলাদা। তবে দর্শকদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত দায়িত্ব পালনের বিষয়টি।   হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এইচকে০১-এর ২২ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ছুটির দিনে জরুরি সংবাদ সম্প্রচারে ফিরে আসার ঘটনায় সায়াকার পেশাদারত্বের প্রশংসা করেছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর স্বাভাবিক উপস্থিতির পাশাপাশি দুর্যোগের সময় সংবাদ পরিবেশনের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টিও আলোচিত হয়।   এদিকে ভূমিকম্পের পর জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে তাদের নিয়মিত অনুষ্ঠানের সূচিতে পরিবর্তন আনে। চলমান অনুষ্ঠান বন্ধ করে ভূমিকম্পের খবর, পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কবার্তা সম্প্রচার করা হয়।   জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছিল, ১৮ এপ্রিলের প্রথম ভূমিকম্পটির পর একই দিন দুপুর ২টা ৫৪ মিনিটে নাগানোর উত্তরাঞ্চলে আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। ওই ভূমিকম্পেও বিভিন্ন এলাকায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়।   প্রথম ভূমিকম্পের পর জাপানের আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে জানায়, কম্পন অনুভূত এলাকাগুলোতে ভূমিধস ও পাথরধসের ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী কয়েক দিন আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের আশঙ্কা থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে প্রথম ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো আশঙ্কা ছিল না।   এমন পরিস্থিতিতে জরুরি সংবাদ সম্প্রচারের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভূমিকম্পপ্রবণ জাপানে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়া দুর্যোগ মোকাবিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোথায় কম্পন অনুভূত হয়েছে, নতুন কোনো সতর্কতা জারি হয়েছে কি না এবং বাসিন্দাদের কী ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, এসব তথ্য জানাতে সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   সায়াকা ইনাইয়ের ঘটনাটি সেই দায়িত্ব পালনের একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ছুটির দিনে কর্মস্থলে ফিরে এসে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ছাড়াই সংবাদ উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে একজন সাংবাদিকের কাছে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   ভূমিকম্পের কয়েক মাস পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সেই সম্প্রচারের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় আসছে। সাংবাদিকতার প্রতি দায়বদ্ধতা ও জননিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার উদাহরণ হিসেবে অনেকেই তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৮:৫৫
তাইওয়ানে চীনকে মোকাবিলায় সামরিক প্রতিরক্ষা জোরদারের ঘোষণা প্রেসিডেন্টের

তাইওয়ানে চীনকে মোকাবিলায় সামরিক প্রতিরক্ষা জোরদারের ঘোষণা প্রেসিডেন্টের

কানাডায় পাসপোর্ট ও আইডির  ছবিতে হিজাব পরার অনুমতি, মানতে হবে যেসব নিয়ম

কানাডায় পাসপোর্ট ও আইডির ছবিতে হিজাব পরার অনুমতি, মানতে হবে যেসব নিয়ম

‘এখনই দিল্লিকে বাংলাদেশ-নেপালের মতো করে তোলার সময়’, মোদি সরকারকে হুঁশিয়ারি

‘এখনই দিল্লিকে বাংলাদেশ-নেপালের মতো করে তোলার সময়’, মোদি সরকারকে হুঁশিয়ারি

চীন থেকে ব্যবসা গুটিয়ে বিকল্প উৎপাদন ঘাঁটি খুঁজছে জাপানি কোম্পানিগুলো
চীন থেকে ব্যবসা গুটিয়ে বিকল্প উৎপাদন ঘাঁটি খুঁজছে জাপানি কোম্পানিগুলো

চীনের অর্থনীতির গতি কমে যাওয়া, ব্যবসার খরচ বৃদ্ধি এবং টোকিও–বেইজিংয়ের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে চীনে নিজেদের কার্যক্রম সংকুচিত করছে জাপানি কোম্পানিগুলো। জাপানের করপোরেট গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেইকোকু ডেটাব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে চীনে ব্যবসায়িক উপস্থিতি থাকা জাপানি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নেমেছে ১০ হাজার ১১৮টিতে। ২০১০ সালে এ তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বনিম্ন সংখ্যা।   সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুনের আগের জরিপের তুলনায় চীনে জাপানি কোম্পানির সংখ্যা কমেছে ২২ শতাংশ। আর ২০১২ সালের সর্বোচ্চ অবস্থানের তুলনায় তা প্রায় ৩০ শতাংশ কম। একসময় উৎপাদন ও বিক্রির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত চীনের বাজারে এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নতুন করে মূল্যায়ন করছে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো।   রাজনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশ্লেষক জেরেমি চ্যানের মতে, যেসব জাপানি কোম্পানি আগে থেকেই চীনে ব্যবসার পরিসর কমানোর পরিকল্পনা করছিল, দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির পর তারা বাজার ছাড়ার বিষয়টি আরও জরুরিভাবে বিবেচনা করছে। তাঁর ভাষ্য, জাপানি প্রতিষ্ঠান ও তাদের কর্মীদের মধ্যে চীনে স্বাগত না পাওয়া এবং নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে।   টেইকোকু ডেটাব্যাংকের মূল্যায়নে, এই প্রবণতা আরও জোরালো হতে পারে। শুল্কসংক্রান্ত ঝুঁকি, শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা জাপানি কোম্পানিগুলোর মুনাফার ওপর চাপ তৈরি করছে। এর সঙ্গে কূটনৈতিক বিরোধ যুক্ত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম ছোট করছে কিংবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তবে কিছু কোম্পানি পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্ন না করেও চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে।   গত দুই বছরে নতুন করে ১ হাজার ২২১টি জাপানি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সহযোগী কোম্পানি, কারখানা বা প্রতিনিধি কার্যালয়ের মাধ্যমে চীনে প্রবেশ করেছে। একই সময়ে ৪ হাজার ১৩৭টি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা গুটিয়েছে অথবা তাদের অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি বলে টেইকোকুর জরিপে উল্লেখ রয়েছে। নতুন প্রবেশের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় চীনে জাপানি ব্যবসার সামগ্রিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।   জাপান ও চীনের সম্পর্কের অবনতির পেছনে তাইওয়ান ইস্যুও রয়েছে। সিএনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি পার্লামেন্টে বলেছিলেন, চীন তাইওয়ানে আক্রমণ করলে জাপান সামরিকভাবে জড়িত হতে পারে। এর পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে চাপ বেড়েছে। বেইজিং জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং নিজেদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।   ফুজিৎসু রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান নীতি অর্থনীতিবিদ মার্টিন শুলজ বলেন, মার্কিন শুল্ক, চীনা পণ্যের বিরুদ্ধে জনমত এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান বাজারও জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিকল্প খুঁজতে উৎসাহিত করছে। তাঁর মতে, চীনে বিনিয়োগ একসঙ্গে একাধিক প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।   চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জাপানি কোম্পানিগুলোর গুরুত্ব বাড়ছে বলে জানিয়েছেন মোনেক্স গ্রুপের বিশেষজ্ঞ পরিচালক জেসপার কল। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, টোপিক্স সূচকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মুনাফায় চীনের অবদান ২০২০ সালের ২৩ শতাংশ থেকে চলতি বছরে ১৫ শতাংশের নিচে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৫ শতাংশ হয়েছে।   কলের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শিল্প উৎপাদন বাড়াতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয়ভাবে আকৃষ্ট করছে। অন্যদিকে চীন এমন একটি উৎপাদনব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে পণ্য চীনে তৈরি হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও চীনা হবে। এই পরিবর্তন জাপানি কোম্পানিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসার কৌশলকে প্রভাবিত করছে।   চীনে কর্মী পাঠানোর বিষয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানি বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগে গত আগস্টে কয়েকজন জাপানি নাগরিককে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে বড় জাপানি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও ছিলেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনা ব্যবসায়িক ঝুঁকির পাশাপাশি কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এনেছে।   জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের এপ্রিলের একটি প্রতিবেদনেও চীনে ব্যবসা সম্প্রসারণে জাপানি কোম্পানিগুলোর অনাগ্রহ বাড়ার কথা উঠে এসেছে। তবে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেং বলেছেন, তাঁর দেশ জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসা বিকাশ এবং বাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে স্বাগত জানায়। জাপানি একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।   সব ধরনের জাপানি প্রতিষ্ঠানের জন্য অবশ্য পরিস্থিতি এক নয়। সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কেই কোগার মতে, গাড়ি নির্মাতা, যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী এবং রপ্তানিনির্ভর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর চীনে কার্যক্রম কমানোর সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে স্থানীয় বাজারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম কোম্পানিগুলো সেখানে থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসা ও সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করেন তিনি।   সূত্র: সিএনবিসি ও টেইকোকু ডেটাব্যাংক।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৬:২
জাপানি বুলেট ট্রেন

জাপানি ট্রেনের অপেক্ষা এড়িয়ে নিজস্ব বুলেট ট্রেন চালাতে চায় ভারত

পানামায় প্রথমে ৭.৭, পরে ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্প, ক্ষতিগ্রস্ত গির্জা ও হোটেল

পানামায় প্রথমে ৭.৭, পরে ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্প, ক্ষতিগ্রস্ত গির্জা ও হোটেল

উজবেকিস্তানে ডাম্বেল আকৃতির পানির বোতল, পানি শেষ হলেও কাজে লাগবে জিমে

উজবেকিস্তানে ডাম্বেল আকৃতির পানির বোতল, পানি শেষ হলেও কাজে লাগবে জিমে

0 Comments