- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
দীর্ঘ ৩৮ বছরের বিচ্ছিন্নতা, তবে মনের কোণে সযত্নে রয়ে গিয়েছিল ছোটবেলার স্মৃতি ও অকৃত্রিম ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার টানেই নিজের ছোটবেলার আয়াকে খুঁজে বের করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরাসি নাগরিক পিয়েরে ডুপন্ট। গত ২০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই আবেগঘন পুনর্মিলনের খবরটি বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছে। পিয়েরে যখন একেবারে ছোট ছিলেন, তখন তার পরিবার পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টে বসবাস করত। সেখানে আয়েশা নামের এক স্থানীয় নারী পরম মমতায় তাকে লালন-পালন করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে পিয়েরের পরিবার ফ্রান্সে ফিরে গেলে আয়েশার সঙ্গে তাদের সব ধরনের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে পিয়েরে কখনোই তার সেই স্নেহময়ী আয়াকে ভুলে যাননি। দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে তিনি আয়েশাকে খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। পুরনো দিনের অ্যালবামের ছবি ঘেঁটে এবং সাবেক প্রতিবেশীদের সাহায্যে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অবশেষে সেনেগালের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে তিনি তার সেই প্রিয় আয়ার সন্ধান পান। খবর পেয়ে এক মুহূর্তও দেরি না করে আয়েশাকে দেখতে সরাসরি সেনেগালে ছুটে যান পিয়েরে। দীর্ঘ প্রায় চার দশক পর একে অপরকে কাছে পেয়ে তারা দুজনেই আবেগে আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের এই পুনর্মিলনের দৃশ্যটি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়, যা পরবর্তীতে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়। আয়ার অকৃত্রিম স্নেহ ও ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে পিয়েরে তাকে ১৬ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৯ লাখ টাকা উপহার দিয়েছেন। পাশাপাশি আয়েশার শেষ বয়সের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে তার জন্য একটি স্থায়ী মাসিক ভাতারও ব্যবস্থা করেছেন এই ফরাসি নাগরিক। প্রাপ্ত এই অর্থ দিয়ে আয়েশা তার জরাজীর্ণ ঘর মেরামত করার পাশাপাশি নাতি-নাতনিদের পড়াশোনার খরচ চালাবেন বলে জানিয়েছেন। ছোটবেলার একজন আয়ার প্রতি এমন অভাবনীয় সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের এই ঘটনাটি বর্তমান পৃথিবীতে এক বিরল মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগর—দুই উপকূল থেকেই একই সঙ্গে তিনটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের হুমকির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে প্রশান্ত মহাসাগরে 'র্যাচেল' (Rachel) ও 'সাইমন' (Simon) নামের দুটি ঝড় দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে, অন্যদিকে আটলান্টিকের দিক থেকে মেক্সিকো উপসাগরের দিকে ধেয়ে আসছে 'ইসায়াস' (Isaias)। আবহাওয়াবিদরা এই পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিরল 'ট্রিপল থ্রেট' বা ত্রিমুখী হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট ঝড় 'র্যাচেল' এই সপ্তাহান্তেই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের শক্তিতে উত্তর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া এবং ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের উত্তরাংশের দিকে এগিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে প্রবল জলোচ্ছ্বাস, প্রাণঘাতী রিপ কারেন্ট এবং উপকূলীয় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া র্যাচেলের প্রভাবে সৃষ্ট আর্দ্রতা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্থলভাগের দিকে ছড়িয়ে পড়বে, যার ফলে সেখানে আকস্মিক বন্যা ও দমকা হাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। একই সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরের আরও দক্ষিণাংশে দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে নতুন সিস্টেম 'সাইমন'। ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই এটি একটি পূর্ণাঙ্গ হারিকেনে রূপ নেবে এবং শনিবার মেক্সিকোর পশ্চিম-মধ্য উপকূলে একটি বড় ও ধ্বংসাত্মক হারিকেন (Major Hurricane) হিসেবে আঘাত হানবে। সাইমনের কারণে মেক্সিকো উপকূলে বিধ্বংসী বাতাস, জলোচ্ছ্বাস ও বিপজ্জনক ভূমিধসের আশঙ্কায় ইতোমধ্যে হারিকেন সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, মেক্সিকোতে সাইমন এবং বাজা ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলে র্যাচেলের হুমকির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'ইসায়াস'। ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, রাতের বেলা শক্তি সঞ্চয় করে এটি আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম হারিকেনে পরিণত হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যুক্তরাষ্ট্রের গাল্ফ কোস্ট বা উপসাগরীয় উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। সব মিলিয়ে এই ত্রিমুখী ঝড়ের তাণ্ডব থেকে বাঁচতে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনের পরিবহন কমিশনার মাইক ফ্লিন গাড়িচালকদের বিরুদ্ধে একপ্রকার অঘোষিত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক ল স্কুলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, শহরের বেশিরভাগ গাড়ির মালিকই ‘ধনী’। একই সঙ্গে শহরের রাস্তায় পার্কিংয়ের সুবিধা দেওয়াকে তিনি সরকারি জমি ‘উপহার’ বা 'গিভঅ্যাওয়ে' দেওয়ার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন। ফ্লিন জানান, বর্তমান প্রশাসন হাঁটা, পাবলিক ট্রানজিট, সাইক্লিং এবং ই-বাইককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি চালানো ও পার্কিং ব্যবস্থাকে এতটা কষ্টসাধ্য করে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে চালকরা বাধ্য হয়ে গাড়ি ব্যবহার ছেড়ে দেন। ফ্লিন তার এই পদক্ষেপকে কর্মজীবী নিউইয়র্কারদের অর্থ বাঁচানোর একটি উপায় হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আমাদের শহরে যাদের গাড়ি নেই, তাদের তুলনায় গাড়ির মালিকরা দ্বিগুণেরও বেশি ধনী।" নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য গাড়ি রাখাকে একটি 'বোঝা' হিসেবেও আখ্যায়িত করেন তিনি। তবে তার এই মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে 'ব্রুকলিনফোরঅল' (Brooklyn4All) নামের একটি তৃণমূল সংগঠন। বাস ও সাবওয়ে যাত্রী, সাইক্লিস্ট এবং সাধারণ গাড়িচালকদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটির এক মুখপাত্র বলেন, "যাতায়াত ব্যবস্থা সবার জন্য এক নিয়মে চলতে পারে না। কার জীবনে কোনটি মানানসই, সেটি বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা মানুষের থাকা উচিত। আমরা কি একটি গণতান্ত্রিক সমাজে বাস করছি না?" পরিবহন বিভাগ (DOT) সাধারণ মানুষের কথা শুনছে না—এমন অভিযোগ থেকেই প্রায় পাঁচ মাস আগে সংগঠনটি গড়ে ওঠে। বক্তব্যের এক পর্যায়ে ফ্লিন হান্টার কলেজের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন। তবে মজার বিষয় হলো, ওই প্রতিবেদনেই সতর্ক করে বলা হয়েছিল যে মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তদের চেয়ে নিম্ন আয়ের মানুষেরই গাড়ির বেশি প্রয়োজন। প্রতিবেদনটির তথ্য অনুযায়ী, আয়ের চেয়ে বাসস্থানের ধরন ও এলাকাই গাড়ির মালিকানার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। যেমন—সবচেয়ে বেশি গড় আয় থাকা সত্ত্বেও ম্যানহাটনের মাত্র ২৩ শতাংশ পরিবারের গাড়ি রয়েছে, যেখানে স্টেটেন আইল্যান্ডে এই হার ৮৫ শতাংশ। ব্রুকলিনফোরঅল জোর দিয়ে বলেছে যে, গাড়িচালকদের মধ্যে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং অনিয়মিত শিফটে কাজ করা শ্রমজীবীরাও রয়েছেন। তাদের কাছে গাড়ি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং কর্মস্থলে যাওয়া, বাচ্চাদের স্কুলে নেওয়া বা মুদি বাজার করার মতো দৈনন্দিন কাজের জন্য এটি অপরিহার্য। নিম্ন আয়ের মানুষের গাড়ির প্রয়োজনীয়তার কথা আংশিক স্বীকার করলেও হান্টার কলেজের ওই প্রতিবেদনে গাড়ি ব্যবহার কমাতে বেশ কিছু কঠোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে রাস্তায় পার্কিংয়ের জন্য ফি আদায়, গাড়ির মূল্যের ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত নিবন্ধন চার্জ এবং প্রতি মাইলে তিন সেন্ট করে ড্রাইভিং ফি আরোপ করা। পরিবহন কমিশনার জানিয়েছেন, প্রশাসন এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখছে। তবে ব্রুকলিনফোরঅল-এর মুখপাত্র এর কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, যাতায়াত ব্যবস্থাকে কঠিন করে চালকদের শাস্তি দিলেই মানুষ বাধ্য হয়ে সাইকেল বা পাবলিক ট্রানজিটে ঝুঁকবে না। এটি কেবল সেইসব শ্রমজীবী পরিবারের ওপর একটি ভারী ও অন্যায্য করের বোঝা চাপিয়ে দেবে, যারা এমনিতেই জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে কিংবা তুলে ফেলতে হলে সেটি আর প্রাকৃতিকভাবে ফিরে আসে না। তখন বাধ্য হয়েই ভরসা করতে হয় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর। কিন্তু কেমন হতো, যদি আপনার শরীর নিজেই একটি নতুন দাঁত তৈরি করে নিতে পারতো? অসম্ভব মনে হওয়া এই কল্পনাবিলাসকেই এবার বাস্তবে পরিণত করার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন জাপানের একদল চিকিৎসাবিজ্ঞানী। বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত পরীক্ষামূলক এই ওষুধটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘টিআরজি০৩৫’ (TRG035)। এর মূল লক্ষ্য হলো ‘ইউএসএজি-১’ (USAG-1) নামের একটি নির্দিষ্ট প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, মূলত এই প্রোটিনটিই মানুষের শরীরে নতুন করে দাঁত গজানোর পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এর আগে প্রাণীদেহে চালানো এক গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, এই প্রোটিনকে ব্লক করার মাধ্যমে সফলভাবে তাদের নতুন দাঁত গজানো সম্ভব। সেই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই মানুষের জন্য এই ওষুধ তৈরির পথে হাঁটেন গবেষকরা। এই যুগান্তকারী ওষুধের কার্যকারিতা যাচাইয়ে ২০২৪ সালে প্রথম 'হিউম্যান ট্রায়াল' শুরু হয়। সম্প্রতি ২০২৬ সালে সফলভাবে এর 'ফেজ ওয়ান' বা প্রথম ধাপের ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রাথমিক ধাপে মানবদেহে ওষুধটির নিরাপত্তা এবং প্রভাব অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। মানুষের হারানো দাঁত সফলভাবে গজানোর চূড়ান্ত কার্যকারিতার ফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত না হলেও, গবেষণাটি অত্যন্ত সফলতার সাথে এখন পরবর্তী ধাপে এগোচ্ছে। গবেষকদের মূল লক্ষ্য হলো, ২০৩০ সালের মধ্যেই সাধারণ মানুষের জন্য দাঁত গজানোর এই অভাবনীয় চিকিৎসা পদ্ধতি সহজলভ্য করে তোলা। শেষ পর্যন্ত এই পদ্ধতিটি পুরোপুরি সফল হলে, ভবিষ্যতে ডেন্টাল চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। এর ফলে হারানো দাঁতের চিকিৎসায় মানুষকে আর কৃত্রিম উপায়ের ওপর নির্ভর করতে হবে না, বরং শরীর নিজেই তার হারানো দাঁত পুনরায় তৈরি করে নিতে সক্ষম হবে।
রাস্তার ধারের বিশাল বিলবোর্ডে সাধারণত চলচ্চিত্র তারকা, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কিংবা বহুজাতিক কোম্পানির পণ্যের বিজ্ঞাপনই চোখে পড়ে। কিন্তু চীনের কিছু শহর এই পরিচিত দৃশ্যপটকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। তারকার বদলে সেখানে এখন জায়গা পাচ্ছেন দেশের খ্যাতিমান বিজ্ঞানীরা। দেশটির বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকা, মেট্রো স্টেশন ও ব্যস্ত সড়কের ডিজিটাল পর্দায় ভেসে উঠছে বিজ্ঞানীদের ছবি ও তাঁদের যুগান্তকারী সব অবদানের কথা। এই তালিকায় রয়েছেন চীনের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা কিয়ান শুয়েসেন, পারমাণবিক বিজ্ঞানী দেং জিয়াশিয়ান এবং কিংবদন্তি কৃষিবিজ্ঞানী ইউয়ান লংপিংয়ের মতো ব্যক্তিত্বরা। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু বিজ্ঞানীদের সম্মান জানানোই নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেওয়া। মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে আধুনিক কৃষি, চিকিৎসা ও প্রযুক্তি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানীদের নিরলস সাধনা মানুষের জীবনকে বদলে দেয়। তাঁদের এই কাজগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরার মাধ্যমে তরুণদের বিজ্ঞানচর্চা, উদ্ভাবন ও গবেষণার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বহু বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক রয়েছেন। কিন্তু তাঁদের কাজ ও অবদান সাধারণ মানুষের কাছে সেভাবে পৌঁছায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, জনসমাগমের স্থান ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাঁদের পরিচিতি বাড়ানোর এখনই উপযুক্ত সময়। চীনের এই উদ্যোগ আমাদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন ছুড়ে দেয়—আমরা আগামী প্রজন্মের সামনে কাদের আদর্শ হিসেবে তুলে ধরছি? কেবল বিনোদন জগতের জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে, জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কারিগরদের কি আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি? বিজ্ঞানীদের এই ধরনের জনস্বীকৃতি শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত সম্মান নয়; এটি একটি বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিবাদী সমাজ গড়ার অন্যতম হাতিয়ার। বাংলাদেশেও যদি বিজ্ঞানীদের অবদানকে জনপরিসরে দৃশ্যমান করা যায়, তবে তা দেশের ভবিষ্যৎ উদ্ভাবকদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিজের প্রেমিকা ও ৮ মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে ১৫ তলার বারান্দা থেকে নিচে ফেলে দেওয়ার মতো ভয়ংকর এক অপরাধের অভিযোগ উঠেছে অ্যাঞ্জেল কারাস্কো নামের ৩১ বছর বয়সী এক যুবকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে ব্রঙ্কসের ২৫৫০ অলিনভিল অ্যাভিনিউতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এতে ২৩ বছর বয়সী প্রেমিকা নাথালি রামিরেজ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারালেও, অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে গেছে তাদের ছোট্ট শিশুটি। তবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে অনুতপ্ত হওয়ার বদলে ঘাতক কারাস্কোর মুখে দেখা গেছে পৈশাচিক হাসি। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের একটি থানা থেকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় সে উপস্থিত জনতার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে হাসতে থাকে। ঘাতকের এমন আচরণ দেখে থানার বাইরে থাকা ক্ষুব্ধ জনতা তাকে 'কাপুরুষ' বলে চিৎকার করতে থাকে। উপস্থিত মোজেস হার্নান্দেজ নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কারাস্কোকে যখন হাসতে হাসতে নামিয়ে আনা হচ্ছিল, তখন সেটি দেখে তার নিজেরই অত্যন্ত ঘৃণা ও ক্ষোভ হচ্ছিল। বুধবার রাতে ইউএস মার্শাল এবং নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) একটি দল কারাস্কোকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। বৃহস্পতিবার রাতেই ব্রঙ্কস ক্রিমিনাল কোর্টে তাকে হাজির করার কথা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, কারাস্কো এর আগে ওই একই অ্যাপার্টমেন্টে দুবার পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল। সম্প্রতি সম্পর্ক পুনরায় জোড়া লাগানোর আশায় সে ফুল হাতে নাথালির অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছিল। কিন্তু নাথালি তাকে ফিরিয়ে দিলে কারাস্কো ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ও তাদের সন্তানকে বারান্দা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। রবিন মেন্ডজিস নামের এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি এক পুরুষ কণ্ঠে 'লাফ দে' বলে চিৎকার করতে শোনেন এবং এরপরই এক নারীর আর্তনাদ শুনতে পান, যিনি বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন। নিহত নাথালি রামিরেজ ব্রঙ্কস লিডারশিপ একাডেমি হাইস্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর বারুচ কলেজে পড়াশোনা করেছিলেন। তিনি ম্যানহাটনের লিশন কনসালটিংয়ে কাজ করতেন, যেখানে সহকর্মীদের কাছে তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সম্ভাবনাময় একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিচে পড়ার সময় নাথালি নিজের শরীর দিয়ে শিশুটিকে আগলে রেখেছিলেন, যার ফলে অলৌকিকভাবে আট মাসের ছোট্ট শিশুটি প্রাণে বেঁচে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে জ্যাকোবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে সে বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম আগামী জানুয়ারিতে দায়িত্ব ছাড়ার আগে রাজ্যের ৫৬৩ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফ করার কথা বিবেচনা করছেন। সম্প্রতি টেনেসি রাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াটি ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়। তাকে পেন্টোবারবিটাল নামক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন চেতনানাশকের দুটি ডোজ দেওয়ার পরও তার মৃত্যু হয়নি, বরং তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনার পরই ক্যালিফোর্নিয়ার কুখ্যাত অপরাধীদের গণহারে সাজা কমানো বা সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার বিষয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। নিউসম ২০২৮ সালে হোয়াইট হাউসের দৌড়ে অংশ নেওয়ার কথা ভাবছেন, তাই এই সিদ্ধান্তটি জাতীয় পর্যায়ে তার ভাবমূর্তি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ‘ক্রাইম ভিকটিমস ইউনাইটেড’-এর প্রেসিডেন্ট টোপো প্যাডিলা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অপরাধের শিকার হওয়া ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে তারা এই খবরে চরমভাবে হতাশ। বিচারক ও জুরিদের দেওয়া রায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মেনে নিয়েছিল, কিন্তু এখন একজন ব্যক্তি সেই রায় উল্টে দিতে পারেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। অন্যদিকে, পাইকের ঘটনার আগে থেকেই গণহারে মৃত্যুদণ্ড মওকুফের জন্য গভর্নরের ওপর চাপ বাড়ছিল। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, একাধিক অপরাধে দণ্ডিতদের সাজা মওকুফের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এই গণ-মওকুফ কার্যকর হলে তা সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা এক-চতুর্থাংশেরও বেশি কমিয়ে আনবে। এর ফলে রিচার্ড অ্যালেন ডেভিস বা ১১টি খুনের দায়ে দণ্ডিত চার্লস এনজির মতো কুখ্যাত সিরিয়াল কিলাররাও প্রাণদণ্ড থেকে বেঁচে যেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকলেও ২০০৬ সালের পর থেকে সেখানে কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। নিউসম নিজেই ২০১৯ সালে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে রাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছিলেন। তখন তিনি মৃত্যুদণ্ডকে বৈষম্যমূলক ও অপচয় হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তবে এই স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও ক্যালিফোর্নিয়ার কৌঁসুলিরা এখনও মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন। ২০০৬ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত আরও ২০০ জনের বেশি অপরাধী ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পেয়েছেন। গভর্নর নিউসম এর আগে নিজের পডকাস্ট ‘দিস ইজ গ্যাভিন নিউসম’-এ এই বিষয়টি নিয়ে তার দোটানার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন রেখেছিলেন, “আমি কি পশ্চিম গোলার্ধের সবচেয়ে বড় ডেথ রো বা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সারি বিলুপ্ত করব? তাহলে ভুক্তভোগীদের আমি কী জবাব দেব?” প্রগতিশীল কর্মীরা এই গণ-মওকুফের প্রশংসা করলেও অনেকেই সতর্ক করেছেন যে, মৃত্যুদণ্ড সমর্থনকারী রাজ্য বা অঞ্চলগুলো থেকে এর চরম বিরূপ প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। ডেমোক্রেটিক স্ট্র্যাটেজিস্ট ম্যাট বেনেট নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, নিউসম এমনিতেই একটি অত্যন্ত উদারনৈতিক রাজ্যের গভর্নর। তিনি এমন অনেক কিছুই করেছেন যা সুইং স্টেটগুলোতে অকল্পনীয়, তাই এই তালিকায় নতুন করে মৃত্যুদণ্ড মওকুফ যোগ করা তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য সঠিক পদক্ষেপ নাও হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের দেল রিও শহরে পাঁচ সন্তানের এক মাকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ১৯ বছর বয়সী তরুণী আমায়া কুকি ডিয়াজ কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গত ২৫ জুন দিনেদুপুরে ক্যারোলিন "কারো" পেনা নামের ওই নারীকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে কুকি, তার ২১ বছর বয়সী বোন কিটি মিয়া ডিয়াজ এবং তাদের বন্ধু কিয়ান্দ্রা রেনি ফাজের বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার বা প্রথম মাত্রার খুনের অভিযোগ আনা হয়। এই সপ্তাহেই বিশাল অঙ্কের জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর মঙ্গলবার কুকি কারামুক্ত হন। ভ্যাল ভার্দে কাউন্টি শেরিফ অফিস ও সংশোধনাগারের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, কুকির ২০ লাখ ডলারের জামিন বন্ডের জন্য ডিয়াজ পরিবার নগদ ২ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে। তবে তার বোন কিটি এখনও কারাগারেই বন্দি রয়েছেন। এল অ্যামিগো বন্ডিং নামের যে প্রতিষ্ঠানটি জামিনের ব্যবস্থা করেছে, তাদের একজন প্রতিনিধি জানান, জামিনের শর্ত ও বিস্তারিত তথ্য শুধু ওই পরিবারের মধ্যেই গোপন রাখা হয়েছে। তবে ওই প্রতিনিধি সতর্ক করে বলেন, "ইতোমধ্যেই নানা সমস্যা শুরু হয়েছে। কেউ খুন হলে ঝামেলা হবেই। তাই ডিয়াজ পরিবারকে এখন অনেকটা আড়ালে থাকতে হচ্ছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা জানি শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারই জয়লাভ করবে।" মামলার অভিযোগপত্র থেকে এই হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ পাওয়া যায়। ফাজ পুলিশকে জানিয়েছিলেন, ক্যারোলিন পেনা গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে তাদের বাড়িতে এসেছিলেন। তবে তদন্তকারীদের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পেনার কালো রঙের ডজ পিকআপ ট্রাকটি ফাজের বাড়ির সামনে আসার পরপরই কুকি ও কিটি সেখানে উপস্থিত হন। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কালো ক্রাইসলার গাড়ি থেকে নেমেই কুকি ডান হাতে একটি ছুরিজাতীয় বস্তু নিয়ে পেনার ওপর চড়াও হন এবং তার পিঠে আঘাত করেন। পুলিশের তথ্যমতে, এসময় কিটি এবং ফাজও পেনার ওপর হামলা চালায় এবং তাকে বেধড়ক মারধর করে পালিয়ে যায়। পরে পেনার ভাতিজা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রায় সাত ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার হওয়ার সময় ডিয়াজ বোনদের মুখে বিকৃত হাসি দেখা গিয়েছিল, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই নৃশংস অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ারও চেষ্টা করেছিল। তবে এই ভয়াবহ হামলার পেছনে মূল উদ্দেশ্য কী ছিল বা পেনার সঙ্গে তাদের কী ধরনের সম্পর্ক ছিল, তা এখনো পরিষ্কার করেনি পুলিশ। আগামী ৪ নভেম্বর কুকির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে এক শুনানিতে কুকি ও কিটি উভয়ের জামিন ৫০ লাখ ডলার থেকে কমিয়ে ২০ লাখ ডলার করা হয়েছিল। অন্যদিকে, এই মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করা ফাজ বর্তমানে ৫২ লাখ ডলারের জামিন বন্ডে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং আগামী ১১ ডিসেম্বর তার প্রাক-বিচার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
বহু প্রতীক্ষিত বিদেশ ভ্রমণের আগে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও কেবল পাসপোর্টের একটি ছোট ভুলের কারণে ভেস্তে যেতে পারে আপনার পুরো পরিকল্পনা। অনেকেই মনে করেন, মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাসপোর্ট পুরোপুরি বৈধ। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি কখনো পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ার রিপোর্ট করেন এবং পরবর্তীতে সেটি খুঁজেও পান, তবুও সেই পাসপোর্ট দিয়ে ভ্রমণ করা যাবে না। আইভিসা-এর কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স ডিরেক্টর ভিক্টর জিমেনেজ জানান, একবার সিস্টেমে হারিয়ে যাওয়ার রিপোর্ট করা হলে পাসপোর্টটি স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে যায়। তাই আপাতদৃষ্টিতে সম্পূর্ণ বৈধ মনে হওয়া পাসপোর্টও বিমানবন্দরে বা ইমিগ্রেশনে বড় ধরনের বিপত্তির কারণ হতে পারে। পাসপোর্টের মেয়াদের ক্ষেত্রে একেক দেশের নিয়ম একেক রকম। সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদ ফেরার সম্ভাব্য তারিখের পর অন্তত তিন মাস থাকতে হয় এবং পাসপোর্টটি অবশ্যই গত ১০ বছরের মধ্যে ইস্যুকৃত হতে হয়। আবার অনেক দেশ পৌঁছানোর পর থেকে পাসপোর্টের ন্যূনতম ছয় মাসের মেয়াদ দাবি করে। শুধু মেয়াদই নয়, পাসপোর্টের ফাঁকা পাতার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন বা ভারতের মতো দেশগুলো ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্পের জন্য অন্তত দুটি ফাঁকা পাতা দাবি করে। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে আবার নিয়ম আরেকটু কড়া; সেখানে প্রবেশের জন্য পাসপোর্টে পরপর দুটি সম্পূর্ণ ফাঁকা পাতা থাকা বাধ্যতামূলক। তাই ভ্রমণের আগে গন্তব্য দেশের এই ছোটখাটো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও অনেক সময় অভিভাবকরা ভুল করে থাকেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো অনেক দেশেই শিশুদের পাসপোর্টের মেয়াদ প্রাপ্তবয়স্কদের মতো ১০ বছর হয় না, বরং তা ৫ বছর হয়ে থাকে। তাই শিশুদের নিয়ে ভ্রমণের আগে তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ যাচাই করার পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন বা আইনি সম্পর্কের প্রমাণপত্র সাথে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, এমনকি পদবি এক হলেও। অন্যদিকে, নববিবাহিতদের ক্ষেত্রে প্রায়ই নাম বিভ্রাটের সমস্যা দেখা যায়। অনেকেই বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন করলেও পাসপোর্টে তা আপডেট করতে ভুলে যান এবং নতুন নামে ফ্লাইটের টিকিট বুক করেন। পাসপোর্ট ও টিকিটের নামের এই অমিলের কারণে বিমানবন্দরে বোর্ডিং থেকে ছিটকে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। পাসপোর্টের বাহ্যিক অবস্থাও আপনার ভ্রমণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। পানি লেগে নষ্ট হওয়া, ল্যামিনেশন উঠে যাওয়া, পাতা আটকে থাকা বা ছিঁড়ে যাওয়াকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন। পাসপোর্টের বায়োগ্রাফিক্যাল পাতায় (যেখানে ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য থাকে) কোনো ধরনের অননুমোদিত দাগ, স্টিকার বা শিশুদের আঁকিবুঁকি থাকলে সেটি বাতিল বলে গণ্য হতে পারে। তবে স্বাভাবিক ব্যবহারের কারণে মলাটে সামান্য দাগ পড়লে বা পাতা কিছুটা বাঁকা হলে সাধারণত সমস্যা হয় না। মূল বিষয় হলো, পাসপোর্টের তথ্যগুলো যাতে মেশিন রিডেবল বা স্ক্যান করার মতো অবস্থায় থাকে। অনেক গন্তব্যস্থল ‘ভিসা-মুক্ত’ হলেও এর অর্থ এই নয় যে কোনো কাগজপত্র ছাড়াই সেখানে যাওয়া যাবে। যুক্তরাজ্য বা নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে ভিসা না লাগলেও যাত্রার আগে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) পূরণ করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া, আপনি যদি নতুন পাসপোর্ট তৈরি করেন, তবে পুরোনো পাসপোর্টের ইটিএ বা কিছু ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুনটিতে স্থানান্তরিত হয় না। কারণ, নতুন পাসপোর্টের নম্বর ভিন্ন হয়। এক্ষেত্রে অনেক দেশ পুরোনো ও নতুন দুটি পাসপোর্টই সাথে রাখার পরামর্শ দেয়, আবার কিছু দেশ নতুন করে ইটিএ বা ভিসার আবেদন করতে বলে। বিশ্বজুড়ে ভ্রমণের নিয়মকানুন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ফ্লাইট বুকিংয়ের আগে এবং ভ্রমণের কয়েক সপ্তাহ আগে গন্তব্য দেশের সরকারি ওয়েবসাইট ও এয়ারলাইন্সের নিয়মাবলি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির দুই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন শিক্ষার্থী, সোনিশ কোথাগুন্ডলা এবং হাদি আব্দুল, তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য ‘বোস্টন স্কয়ার ভেঞ্চারস’ (Boston Square Ventures) নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন। এর মূল লক্ষ্য হলো—শিক্ষার্থী উদ্যোক্তাদের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, কম্পিউটিং রিসোর্স, মেন্টরশিপ এবং স্টার্টআপ নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করা। প্ল্যাটফর্মটির প্রথম কোহর্টের (Cohort 1) আবেদন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যার কার্যক্রম ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের আওতায় অংশগ্রহণকারীরা ১ লাখ ডলার সমমূল্যের কম্পিউট ক্রেডিট, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, মেন্টরশিপ, সাপ্তাহিক চেক-ইন, পিচ প্রস্তুতির সুযোগ এবং একটি ডেমো ডে-তে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। উদ্যোক্তাদের মতে, বর্তমান স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে সবচেয়ে বড় সমস্যা আইডিয়ার অভাব নয়, বরং সেটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের অসম বণ্টন। হাদি আব্দুল জানান, অনেকেরই চমৎকার আইডিয়া ও দক্ষতা থাকলেও তারা সঠিক মানুষদের সাথে যুক্ত হতে পারেন না। অন্যদিকে সোনিশ কোথাগুন্ডলার মতে, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করাটা বেশ কঠিন, কারণ এর জন্য শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও পরিচিতির প্রয়োজন হয়। লিংক ভেঞ্চারসের একজন বিনিয়োগকারী হার্ভার্ডের স্টার্টআপগুলোর সাথে যুক্ত হতে চাওয়ার পর সোনিশ ও হাদি এই প্ল্যাটফর্মটির প্রাথমিক ধারণা পান। পরবর্তীতে হার্ভার্ড ইনোভেশন ল্যাবসে বসে তারা এই ধারণাকে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন। বোস্টন শহরের বিখ্যাত বিভিন্ন স্কয়ারের (যেমন- হার্ভার্ড স্কয়ার, কেন্ডাল স্কয়ার ইত্যাদি) নামানুসারেই এই উদ্যোগের নামকরণ করা হয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে প্রচলিত বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণা ভাঙতেও কাজ করতে চান এই দুই শিক্ষার্থী। 'দ্য আমেরিকান বাজার'-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে হাদি জানান, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাবেই অনেক প্রতিভাবান উদ্যোক্তা তাদের আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন না; যার ফলে তাদের প্রাথমিক পণ্যগুলোকে অনেক সময় নিচু মানের বলে অবজ্ঞা করা হয়। সোনিশ আরও জানান যে, বর্তমানে নতুন কোনো কোম্পানি খোলার জন্য শতভাগ নতুন আইডিয়ার চেয়ে সেই আইডিয়াটির দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিস্তারের দিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। উবার ও লিফটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একটি সাধারণ আইডিয়াও সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে সফল হতে পারে। বোস্টন স্কয়ার ভেঞ্চারসের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো অন্তত ১০ লাখ উদ্যোক্তাকে সহায়তা করা। যদিও বোস্টন থেকে এর যাত্রা শুরু হয়েছে, তবে যেকোনো দেশ, বয়স বা অভিজ্ঞতার উদ্যোক্তারাই এতে আবেদন করতে পারবেন। আগামী ২০ নভেম্বর তাদের প্রথম ডেমো ডে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং এরপর প্রতি ছয় সপ্তাহ অন্তর এমন আয়োজন থাকবে। উদ্যোক্তারা তহবিল সংগ্রহ না করা পর্যন্ত এই প্ল্যাটফর্ম তাদের পাশে থাকবে। এই প্রসঙ্গে সোনিশ বলেন, "আমি মনে করি সবারই উদ্যোক্তা হওয়া উচিত। এখনই এর সঠিক সময়।" সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিঙ্কডইনে তাদের প্রথম পোস্টটিতে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার ইমপ্রেশন এসেছে, যা এই উদ্যোগের প্রতি তরুণদের ব্যাপক আগ্রহেরই প্রমাণ দেয়।
উচ্চশিক্ষা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'এইচইএ গ্রুপ'-এর (HEA Group) সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে লাভজনক স্নাতক ডিগ্রির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকার শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়ে দারুণ চমক দেখিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউসিএলএ)-এর কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতকদের বার্ষিক মধ্যম বা মিডিয়ান আয় ২ লাখ ২৮ হাজার ৭০৫ ডলার। আয়ের দিক থেকে এটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ-সর্বোচ্চ লাভজনক ডিগ্রি। ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন, যাতায়াত, খাবার ও বইপত্রসহ বছরে খরচ হয় প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ ডলার এবং বহিরাগতদের জন্য খরচ প্রায় ৮৭ হাজার ৭৭০ ডলার। সেই খরচের তুলনায় আয়ের এই পরিসংখ্যান শিক্ষার্থীদের জন্য একটি চমৎকার বিনিয়োগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা পাওয়া স্নাতকদের বেতনের ওপর ভিত্তি করে এই বিশ্লেষণটি করেছে। তবে আয়ের দিক থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার কেবল ইউসিএলএ শীর্ষ তালিকায় নেই; স্নাতক পাসের মাত্র চার বছরের মধ্যেই বছরে ২ লাখ ডলারের বেশি আয় করা আরও কিছু প্রতিষ্ঠান এই দৌড়ে রয়েছে। ক্ল্যারমন্টের অপেক্ষাকৃত ছোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পোমোনা কলেজের কম্পিউটার সায়েন্সের স্নাতকরা বছরে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫১ ডলার আয় করে এক অনন্য সুবিধা ভোগ করছেন। যদিও মাত্র ৭ শতাংশ গ্রহণযোগ্যতার হার (অ্যাকসেপ্টেন্স রেট) থাকা এই কলেজে পড়াশোনা করতে বছরে প্রায় ৯০ হাজার ডলারের মতো বিপুল পরিমাণ অর্থ গুনতে হয়। আয়ের এই তালিকার একেবারে শীর্ষস্থানটি দখল করেছেন নর্থ ক্যারোলিনার ডারহামে অবস্থিত ডিউক ইউনিভার্সিটির গণিতের স্নাতকরা। তাদের বার্ষিক মধ্যম আয় ২ লাখ ৯৭ হাজার ২৯ ডলার। বে এরিয়ার স্কুলগুলো শীর্ষ দশের তালিকায় জায়গা না পেলেও তারা খুব একটা পিছিয়ে নেই। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স স্নাতকদের মধ্যম আয় ২ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ ডলার এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে-এর একই ডিগ্রির স্নাতকরা আয় করছেন ২ লাখ ৪ হাজার ৩৭৯ ডলার। প্রযুক্তির বাইরে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি (ইস্ট বে), সান ফ্রান্সিসকো স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং স্যামুয়েল মেরিট ইউনিভার্সিটির মতো ক্যালিফোর্নিয়ার বেশ কয়েকটি নার্সিং প্রোগ্রাম থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরাও বছরে প্রায় দেড় লাখ ডলার আয় করছেন। এইচইএ গ্রুপের বিশ্লেষণ করা প্রায় ২৫ হাজার ব্যাচেলর প্রোগ্রামের মধ্যে এগুলো শীর্ষ ১০০-তে জায়গা করে নিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার খরচ ১ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই এখন কলেজ শিক্ষাকে আর অর্থবহ মনে হচ্ছে না। ২০২৪ সালের এক জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩৩ শতাংশ মনে করেন যে কলেজের শিক্ষা খরচের সমতুল্য মূল্যায়ন দেয়, অন্যদিকে ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপ ও হুমকি সত্ত্বেও নিজেদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ না করার বিষয়ে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বর্তমান মজুত অন্য কোনো দেশ বা পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি এই ঘোষণা দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির একটি অপরিহার্য ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা বিধিমালা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) কাঠামোর আওতায় থেকেই সম্পূর্ণ আইনিভাবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। মোহাম্মদ এসলামি আরও জানান, আন্তর্জাতিক আলোচনার টেবিলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি বারবার সামনে আনা হচ্ছে এবং এটিকে প্রধান এজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের মূল ভিত্তি হওয়ায় এ নিয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেরাই তাদের জাতীয় উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতিতে পরমাণু প্রযুক্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। তাই ইরানের সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও আইনি সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন নেতিবাচক দাবি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা। মূলত, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই মোহাম্মদ এসলামির এই কঠোর বার্তা সামনে এলো। তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ব সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে আসছে যে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে শান্তিপূর্ণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে তাদের বৈধ অধিকার।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সম্প্রতি শ্বশুর-শাশুড়ির গুলিতে নিহত ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক ট্রান্সজেন্ডার নির্বাহীর জীবনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ নির্যাতনের তথ্য সামনে এসেছে। জোনাথন ম্যাকিনসি নামের ওই ব্যক্তি একসময় তার স্ত্রীর আইভিএফ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গর্ভধারণ করেছিলেন। কিন্তু স্ত্রীর ধারাবাহিক অমানবিক নির্যাতন এবং শারীরিক ধকলের কারণে জন্মের পরপরই তাদের নবজাতক ছেলের মৃত্যু হয় বলে আদালতের নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের পর্যালোচনায় উঠে আসা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের একটি আইনি নথিতে জোনাথন তার বিচ্ছিন্ন স্ত্রী ক্যানডিস জ্যাংয়ের বিরুদ্ধে গর্ভাবস্থায় ভয়ংকর সব নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছিলেন। নথিতে তিনি জানান, একজন গর্ভবতী ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ হিসেবে তার যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না এবং স্ত্রী তাকে বা সন্তানকে আঘাত করতে পারে—এমন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতেন তিনি। ৪০ বছর বয়সী জোনাথন ম্যাকিনসিকে গত ২৬ সেপ্টেম্বর বে এরিয়ার ডাবলিন স্পোর্টস গ্রাউন্ডের পার্কিং লটে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার শ্বশুর শউইয়ং ঝাং এবং শাশুড়ি শিলী চেন (উভয়ের বয়স ৭৭ বছর) পালাক্রমে তাকে গুলি করে হত্যা করেন। হত্যার অভিযোগে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা জামিনবিহীন অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন। এখনো তাদের সাজা ঘোষণা করা হয়নি, তবে দোষী সাব্যস্ত হলে প্যারোল বা মুক্তির সুযোগ ছাড়া তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। আদালতের নথিতে জোনাথন জানান, এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের এক দশকেরও বেশি সময় আগে ক্যানডিসের আইভিএফ চিকিৎসার মাধ্যমে সৃষ্ট একটি ভ্রূণ তার গর্ভে স্থাপন করা হয়েছিল। শুরুতে জোনাথন নিজের ডিম্বাণু ব্যবহারের প্রস্তাব দিলেও ক্যানডিস তার ‘ত্রুটিপূর্ণ জেনেটিক্স’-এর কারণ দেখিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন। ২০১৪ সালের নভেম্বরে জোনাথন যখন ইউসি বার্কলেতে পূর্ণকালীন স্নাতক শিক্ষার্থী এবং খণ্ডকালীন টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছিলেন, তখন থেকেই নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। জোনাথন অভিযোগ করেন, তিনি গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই ক্যানডিস চরম ঈর্ষান্বিত হয়ে নিয়মিত ঝগড়া করতেন। তাকে বসার ঘরে ফুটনে ঘুমাতে বাধ্য করা হতো এবং একবার ক্যানডিস তার পেটে একটি কাপ ছুঁড়ে মেরেছিলেন। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে ২২ সপ্তাহের গর্ভবতী অবস্থায় জোনাথন ও ক্যানডিস বার্কলে থেকে সান জোসেতে স্থানান্তরিত হন। ওই সময় জোনাথন চরম অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তারপরও মুভার ভাড়া করা সত্ত্বেও ক্যানডিস তাকে দিয়ে ভারী বাক্স ওঠানামা করান, যার ফলে তার রক্তক্ষরণ শুরু হয়। জোনাথন জানান, হাসপাতালে যাওয়ার পথেও ক্যানডিস তাকে ক্রমাগত গালিগালাজ করতে থাকেন এবং ব্যথার কথা জানালে তাকে ‘চুপ থাকতে’ বলেন। হাসপাতালে তাদের ছেলে রোমিও প্রেস্টন ম্যাকিনসির জন্ম হলেও এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সে মারা যায়। জোনাথনের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, জোর করে ভারী বাক্স ওঠানোর কারণেই তার অকাল প্রসব হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাদের সন্তানটি মারা যায়। তবে কেবল গর্ভাবস্থায় নয়, এর আগেও স্ত্রীর ভয়ংকর নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন জোনাথন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের আগস্টে তাদের মধ্যে এক ঝগড়ার সময় ক্যানডিস একটি ফ্রাইং প্যান দিয়ে জোনাথনের মাথায় আঘাত করেন। মেঝেতে পড়ে থাকা একটি মরা তেলাপোকা না খাওয়া পর্যন্ত তাকে এভাবে পেটানোর হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ক্যানডিস ওই মরা তেলাপোকাটিকে জীবাণুমুক্ত করে পুরোটা খেতে তাকে বাধ্য করেছিলেন বলে জোনাথন তার আইনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে বন্ধুদের সঙ্গে পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে ১০০ ফুট ওপর থেকে পড়ে যান ২০ বছর বয়সী এক তরুণী। তবে বিস্ময়করভাবে পাহাড়ের গা ও একটি বিশাল পাথরের খাঁজের মাঝখানে আটকে গিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে অবিশ্বাস্যভাবে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার ভোরে আয়রন কাউন্টির রেড হোলো ট্রেইলহেডে সূর্যোদয় দেখার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর এই ভয়ানক দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় শেরিফ অফিস এবং সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, অন্ধকারের মধ্যেই পাহাড় থেকে ছিটকে পড়ার পর তরুণীটি পাথরের খাঁজে আটকা পড়েন। শেরিফ অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাহাড় থেকে নিচে পড়ে গিয়ে তার মাথায় বেশ গুরুতর আঘাত লাগে। উদ্ধারের সময় তার জ্ঞান থাকলেও দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি মানসিকভাবে বেশ বিভ্রান্ত অবস্থায় ছিলেন। এছাড়া তার পা ও হাতে চিড় ধরেছে, পিঠ ও পাঁজরে আঘাত লেগেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। তীব্র যন্ত্রণায় কাতর ওই তরুণীকে পাথরের সংকীর্ণ খাঁজ থেকে বের করতে উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করেন। উদ্ধার অভিযানের শুরুতে প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে ওই তরুণীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করার পর তাকে একটি রেসকিউ বাস্কেটে নিরাপদে আটকে রাখা হয়। এরপর খুব সাবধানে তাকে পাহাড় থেকে নিচে নামিয়ে আনা হয়। দ্রুত চিকিৎসার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি হেলিকপ্টারে করে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তবে তার শারীরিক অবস্থার সবশেষ বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি। এদিকে, আয়রন কাউন্টি শেরিফ অফিস থেকে রেড হোলো এলাকায় সূর্যোদয় দেখতে যাওয়া দর্শনার্থীদের চরম সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অন্ধকার বা কম আলোতে খাড়া পাহাড়ের আশেপাশে চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
বিমানের টিকিটের দাম বিশ্বজুড়েই ক্রমাগত বাড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ রাউন্ড-ট্রিপ টিকিটের গড় মূল্য ১৭ শতাংশ বেড়ে ৬২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় ভ্রমণ খরচ কমাতে যাত্রীরা নানা ধরনের ফন্দি আঁটছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত কৌশলটি হলো 'স্কিপল্যাগিং' বা 'হিডেন সিটি' ফ্লাইং। এই অভিনব পদ্ধতিতে যাত্রীরা তাদের চূড়ান্ত গন্তব্যের টিকিট কাটলেও সেখানে যান না; বরং মাঝপথে লে-ওভার বা ট্রানজিট শহরেই নেমে যান। কারণ, অনেক সময় কোনো নির্দিষ্ট শহরে সরাসরি যাওয়ার টিকিটের চেয়ে ওই শহরকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে অন্য কোনো গন্তব্যের টিকিট কাটলে খরচ বেশ কম পড়ে। স্কিপল্যাগড নামের একটি সার্চ ইঞ্জিনের সিইও আক্তারের জামান বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জানান, নিউইয়র্ক থেকে অরল্যান্ডোর সরাসরি ফ্লাইটের ভাড়া হয়তো ৩৫০ ডলার, কিন্তু নিউইয়র্ক থেকে অরল্যান্ডো হয়ে ডালাস যাওয়ার টিকিটের দাম মাত্র ১৭০ ডলার। যাত্রীরা এক্ষেত্রে সস্তা টিকিটটি কিনে অরল্যান্ডোতেই নেমে যান। স্কিপল্যাগড প্ল্যাটফর্মের পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে প্রায় ৩ লাখ মানুষ এই কৌশল ব্যবহার করে ৫ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের বেশি সাশ্রয় করেছেন। গড়ে একেকজন যাত্রীর প্রায় ৪৭ শতাংশ বা ১৮০ ডলার পর্যন্ত বেঁচে যায়। বিশেষ করে ভ্রমণের ঠিক আগমুহূর্তে যখন টিকিটের দাম আকাশচুম্বী থাকে, তখন এই কৌশলটি বাজেট-সচেতন যাত্রীদের কাছে বেশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তবে বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীদের এই কৌশলের চরম বিরোধী। ডলার ফ্লাইট ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেসি নিউগার্টেন জানান, স্কিপল্যাগিংয়ের কারণে এয়ারলাইন্সগুলোর রাজস্ব আয়ে ঘাটতি দেখা দেয় এবং আসন বরাদ্দ মডেলে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের মতে, মাঝপথে যাত্রী নেমে গেলে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হয় এবং ওই শূন্য আসনটি অন্য কোনো জরুরি যাত্রীর কাজে লাগতে পারত। ক্ষুব্ধ এয়ারলাইন্সগুলো ইতোমধ্যে স্কিপল্যাগড ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও করেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আমেরিকান এয়ারলাইন্স কপিরাইট লঙ্ঘন ও অবৈধ আয়ের মামলায় স্কিপল্যাগডের বিরুদ্ধে প্রায় ৯৪ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ জিতেছে। এর আগে ইউনাইটেড ও সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সও একই কারণে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল। স্কিপল্যাগিং সরাসরি কোনো বেআইনি কাজ না হলেও এটি প্রায় সব এয়ারলাইন্সের শর্তাবলির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গ্লোবাল ট্রাভেল মোমেন্টসের সিইও ডানকান গ্রিনফিল্ড-টার্ক সতর্ক করে বলেন, ধরা পড়লে বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীদের ফ্রিকোয়েন্ট-ফ্লায়ার সুবিধা বাতিল করা থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে তাদের ফ্লাইটে নিষেধাজ্ঞাও জারি করতে পারে। তাই এই কৌশল ব্যবহার করতে হলে যাত্রীদের বেশ কিছু সতর্কতা মানতে হয়। প্রথমত, কোনোভাবেই রাউন্ড-ট্রিপ বা যাওয়া-আসার টিকিট কাটা যাবে না, শুধু একমুখী টিকিট কাটতে হবে। কারণ মাঝপথের কোনো ফ্লাইটে না উঠলে এয়ারলাইন্স পুরো ট্রিপ বাতিল করে দেয়। দ্বিতীয়ত, কোনো বড় চেক-ইন লাগেজ দেওয়া যাবে না; যাত্রীকে শুধু একটি ছোট ব্যাকপ্যাক নিতে হবে যা সিটের নিচে রাখা যায়। এছাড়া টিকিট কাটার সময় লয়ালটি পয়েন্ট বা ফ্রিকোয়েন্ট-ফ্লায়ার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করা এবং একই রুটে বারবার এই কৌশল প্রয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত এইচ-১বি (H-1B) ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট এবং অ্যাডোবির গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে দেশটির সরকার। বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্থগিতাদেশের ঘোষণা দেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করে অপেক্ষাকৃত কম বেতনের বিদেশি কর্মীদের দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করছে। এই স্থগিতাদেশের ফলে প্রতিষ্ঠান দুটি এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত তাদের বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের (গ্রিন কার্ড) জন্য আর কোনো আবেদন করতে পারবে না। সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স মাইক্রোসফটের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, তারা একটি দুর্দান্ত আমেরিকান কোম্পানি, কিন্তু তাদের উচিত চমৎকার আমেরিকান কর্মীদেরই নিয়োগ দেওয়া। তিনি অভিযোগ করেন, আমেরিকান কর্মীদের চাকরিচ্যুত করে তার বদলে বিদেশ থেকে চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকদের এনে কাজ করানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমমন্ত্রী কিথ সোন্ডারলিং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মাইক্রোসফটের পাশাপাশি অ্যাডোবিকেও একইভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই কোম্পানিগুলোর কোনো নতুন বা চলমান 'স্থায়ী শ্রম শংসাপত্র' বা পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন আবেদন আর গ্রহণ বা প্রক্রিয়া করা হবে না। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মাইক্রোসফট প্রায় ৩,৭০০ কর্মীর জন্য এইচ-১বি ভিসার আবেদন করেছে, যা তাদের এই ভিসা ব্যবহারকারী পঞ্চম বৃহত্তম নিয়োগকর্তায় পরিণত করেছে। তবে ৯,৩০০টির বেশি আবেদন নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে অ্যামাজন। শ্রমমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সাল থেকে মাইক্রোসফট এবং অ্যাডোবি প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার এইচ-১বি ভিসা অনুমোদন এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ১ লাখ 'স্থায়ী শ্রম শংসাপত্র' পেয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স দাবি করেন, হিসাব করলে দেখা যায় যে, মাইক্রোসফট প্রতি একজন আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করার বিপরীতে দেড় গুণ বিদেশি কর্মীকে নিয়োগ দিয়েছে। এছাড়া এইচ-১বি প্রোগ্রামের আওতায় নিয়োগ পাওয়া কর্মীরা একই পদে থাকা মার্কিন কর্মীদের তুলনায় গড়ে ২০ হাজার ডলার কম বেতন পান। দীর্ঘদিন ধরেই এইচ-১বি ভিসা সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল অভিবাসন বিষয়ক বিভিন্ন অ্যাডভোকেসি গ্রুপ, তবে তাদের কারণগুলো ভিন্ন। এই ভিসার শর্ত অনুযায়ী কর্মীদের তাদের নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়, যার ফলে কর্মপরিবেশ বা বেতন নিয়ে অসন্তুষ্টি থাকলেও তাদের পক্ষে সহজে চাকরি পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না। ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ফোরামের মতো সংস্থাগুলো অবশ্য জেডি ভ্যান্সের এই পদক্ষেপের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছে। সংস্থাটির মতে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (STEM), উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সারা বিশ্ব থেকে মেধাবী কর্মীদের আকৃষ্ট করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি লাভবান হয়। তারা সতর্ক করে বলেছে যে, এমন কঠোর নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে মেধাবীদের কাছে কম আকর্ষণীয় করে তুলবে, যা শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক প্রতিযোগীদেরই শক্তিশালী করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলের ওপর নজরদারির অভিযোগে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওয়ানিং ঝাং নামের এক কথিত চীনা গুপ্তচরকে গ্রেপ্তারের পর এবার তার সম্ভাব্য সহযোগীকে খুঁজছে এফবিআই। ফাটাই মিয়াও নামের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক এক চীনা বংশোদ্ভূত নির্মাণ ব্যবসায়ী এই গুপ্তচরবৃত্তিতে সহায়তা করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তিনি দুই সপ্তাহ আগেই একমুখী (ওয়ান-ওয়ে) ফ্লাইটে চীনে পাড়ি জমিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এখনও মিয়াওয়ের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনেনি, তবে আদালতের নথিতে তাকে 'ব্যক্তি ১' বা 'ইন্ডিভিজুয়াল ওয়ান' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত রোববার দুপুরে ক্যালিফোর্নিয়ার আরভিনে মিয়াওয়ের ফাঁকা বাড়িতে প্রায় ১০ জন এফবিআই এজেন্ট দরজা ভেঙে তল্লাশি চালায়। মিয়াওয়ের ছেলে জিয়াকি মিয়াও সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার বাবা গত দুই সপ্তাহ ধরে চীনে অবস্থান করছেন, যেখানে তার মা পিঠের চিকিৎসার জন্য আগে থেকেই ছিলেন। এফবিআইয়ের অভিযান সম্পর্কে জিয়াকি বলেন, শুরুতে ফোন পেয়ে তিনি বিষয়টিকে স্ক্যাম বা প্রতারণা ভেবেছিলেন। কিন্তু পরে সিসিটিভি ক্যামেরায় সশস্ত্র সরকারি এজেন্টদের দেখতে পেয়ে রিমোট অ্যাপ দিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করেন। তবে তার আগেই এজেন্টরা বিশেষ সরঞ্জাম দিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রতিবেশীদের বর্ণনার সাথেও এই ঝটিকা অভিযানের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সিয়াটলে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলের ওপর নজরদারি চালাতে ঝাংকে সহায়তা করেছিলেন মিয়াও। তারা একত্রে একটি এসইউভি ভাড়া করে ওই নেতার ছেলে ও তার পরিবারের ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এফবিআই স্পেশাল এজেন্ট কেভিন হোল্টের দেওয়া হলফনামা থেকে জানা যায়, গাড়ি ভাড়ার কাগজে মিয়াওয়ের ক্যালিফোর্নিয়ার আর্কেডিয়ার একটি বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল, যা তিনি ওই মাসেই বিক্রি করে দেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশে ঝাং এই নজরদারি চালাচ্ছিলেন এবং এর আগে চীনে গিয়ে এই মিশনের বিশদ পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। মিয়াওয়ের ছেলে জিয়াকি অবশ্য তার বাবার বিরুদ্ধে ওঠা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তার মতে, তার বাবা ইংরেজি বলতে পারেন না এবং এ ধরনের জটিল কাজ করার মতো চতুরও নন। তিনি বলেন, তার বাবা সব সময় অন্যদের অনুসরণ করতে পছন্দ করেন এবং হয়তো দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবেই অন্য কোনো শহর ঘোরার উদ্দেশ্যে না বুঝে ঝাংয়ের সাথে সিয়াটলে গিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, মিয়াও ক্যালিফোর্নিয়ার বেশ কয়েকটি কোম্পানির সিইও হিসেবে যুক্ত ছিলেন এবং একমাত্র তিনিই পরিবারের মধ্যে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এদিকে, গত বুধবার আদালত ওয়ানিং ঝাংয়ের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, চীনের একটি অনিবন্ধিত ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি ১ লাখ ৭০ হাজার ডলার জমা করেছেন এবং তার ভাই চীনা সরকারের হয়ে কাজ করেন, তাই তাকে জামিন দিলে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সান ফ্রান্সিসকো সফরের সময় সরকার-ঘনিষ্ঠ একটি সংগঠনের হয়ে কাজ করারও অভিযোগ রয়েছে ঝাংয়ের বিরুদ্ধে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭ কোটি শিশুর নামে নতুন বিনিয়োগ হিসাব তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এই কর্মসূচির আওতায় ১৮ বছরের কম বয়সী এবং বৈধ সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর থাকা যোগ্য শিশুদের নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব খোলা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অক্টোবরের শুরুতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই হিসাবের নাম ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট। এটি সাধারণ সঞ্চয় হিসাবের মতো শুধু টাকা জমিয়ে রাখার ব্যবস্থা নয়। মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। শিশুর নামে থাকা অর্থ নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাড়ার সুযোগ পাবে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব তৈরি হওয়া মানেই শিশুর অ্যাকাউন্টে ১ হাজার ডলার জমা হয়ে গেছে—এমন নয়। অভিভাবককে প্রথমে সন্তানের হিসাবটি দাবি করতে হবে। এরপর যোগ্য শিশুর জন্য সরকারি প্রাথমিক অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য মার্কিন নাগরিক শিশুদের জন্য একবারের ১ হাজার ডলারের সরকারি প্রাথমিক অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অন্য শিশুদের নামে হিসাব থাকলেও তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ১ হাজার ডলার পাবে না। অভিভাবকরা চাইলে সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য এই হিসাবে অতিরিক্ত অর্থও যোগ করতে পারবেন। পরিবার, বন্ধু, নিয়োগদাতা ও কিছু দাতা প্রতিষ্ঠান থেকেও অর্থ আসতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে টাকা বিনিয়োগ করা হলে শিশুটি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর একটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক ভিত্তি পেতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে কর্মসূচি চালুর পর থেকে ইতোমধ্যে ৪৫০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ এসব হিসাবে জমা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক অর্থ, পরিবারের দেওয়া অর্থ এবং বিভিন্ন দাতার অর্থ রয়েছে। এই কর্মসূচির বড় পরিবর্তন এসেছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব খোলার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। আগে অভিভাবকদের নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে হিসাব খুলতে হতো।কিন্তু সেই পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ছিল। নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য শিশুদের নামে আগে থেকেই হিসাব তৈরি করে রাখা হচ্ছে। এখন অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাদের সন্তানের নামে হিসাব তৈরি হয়েছে কি না এবং সেটি কীভাবে দাবি করতে হবে তা যাচাই করা। হিসাব দাবি করার পর অভিভাবক বা আইনগত অভিভাবক সেটি পরিচালনা করতে পারবেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকিও রয়েছে। ব্যাংকের সাধারণ সঞ্চয় হিসাবে টাকা রাখলে যে ধরনের নিশ্চয়তা থাকে, শেয়ারভিত্তিক বিনিয়োগে তা থাকে না।বাজারের ওঠানামার কারণে বিনিয়োগের মূল্য বাড়তে বা কমতে পারে। তাই অভিভাবকদের নিয়মগুলো ভালোভাবে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচি নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও আলোচনা রয়েছে। সমর্থকদের মতে, ছোট বয়স থেকেই বিনিয়োগের অভ্যাস তৈরি হলে ভবিষ্যতে শিশুদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়তে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, যেসব পরিবার নিয়মিত অতিরিক্ত অর্থ দিতে পারবে, তাদের সন্তানদের হিসাব অন্যদের তুলনায় অনেক দ্রুত বড় হবে।অর্থাৎ সরকারি প্রাথমিক অর্থ সবার জন্য একই হলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি প্রযুক্তি কর্মীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন মাইক্রোসফটকে বিদেশি কর্মীদের জন্য স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে বাদ দিয়েছে। প্রশাসনের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে। এই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শ্রম বিভাগের স্থায়ী শ্রম অনুমোদন কর্মসূচি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রাখার জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারে। কর্মসূচিটি স্থগিত হওয়ায় মাইক্রোসফটের জন্য বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে রাখার প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে মাইক্রোসফটের সব বিদেশি কর্মীর এইচ-১বি ভিসা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হয়ে গেছে। নতুন সিদ্ধান্তটি মূলত স্থায়ী বসবাসের পথ বা গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করেছে। ফলে বর্তমানে বৈধ এইচ-১বি অবস্থানে থাকা কর্মীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরি বা ভিসা হারাচ্ছেন—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মাইক্রোসফট বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মাইক্রোসফটের কর্মী ছাঁটাই ও বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরে এই অভিযোগ করেছেন। তবে মাইক্রোসফট মার্কিন কর্মীদের বদলে বিদেশি কর্মী বসিয়েছে—এমন অভিযোগের সব দাবির স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ রক্ষা করতে ভিসা ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। মাইক্রোসফট বহু বছর ধরে বিদেশি প্রযুক্তি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান। ২০২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩ হাজার ৭০০ এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের অনুমোদন হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত এক দশকে সংখ্যাটি ৫৩ হাজারের বেশি বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে। এর ফলে ভারত, বাংলাদেশ, চীনসহ বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি পেশাজীবীদের মধ্যে বিষয়টি বিশেষ আগ্রহের কারণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সফটওয়্যার প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য দক্ষ কর্মীদের একটি বড় অংশ এইচ-১বি ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ করেন। তাদের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন। একই দিনে প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়েও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের ফি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রশাসন কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবহারের বিষয়েও তদন্তের কথা জানিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং পরে চাকরির মাধ্যমে দেশটিতে থাকার পরিকল্পনা করা তরুণদের জন্য অভিবাসন নীতির পরিবর্তন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে নেওয়া বর্তমান পদক্ষেপের মেয়াদ কতদিন থাকবে এবং কোম্পানিটি কীভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ নিয়ে মাইক্রোসফট ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের জন্য বড় প্রশ্ন হলো, এই সিদ্ধান্ত শুধু মাইক্রোসফটের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে আরও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার ওপর একই ধরনের চাপ তৈরি হবে।
দক্ষিণ কোরিয়া বৃহস্পতিবার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি তাদের প্রথম হাইপারসনিক অস্ত্রের সফল উড্ডয়ন পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। শব্দের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি গতিতে ছুটতে সক্ষম এই অত্যাধুনিক অস্ত্রটি শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সহজেই ফাঁকি দিতে পারে। এর মাধ্যমে সিউল এমন এক সামরিক সক্ষমতার দিকে এগিয়ে গেল, যা কোরীয় উপদ্বীপের যুদ্ধ-সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া জাপানের কাছাকাছি সাগরে নিজস্ব হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর দক্ষিণ কোরিয়া এই পদক্ষেপ নিলেও, পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। এক বিবৃতিতে তিনি একে দেশের প্রচলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে পরীক্ষাটি ঠিক কোথায় পরিচালিত হয়েছে, তা নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, অস্ত্রটি পরিকল্পিত উচ্চতায় এর বুস্টার রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নিচে নেমে আসে এবং লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার আগে উল্লম্ব ও অনুভূমিক উভয়ভাবেই সফলভাবে দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়। এটি পুরোপুরি প্রস্তুত হলে 'কোরীয় উপদ্বীপের অপারেশন থিয়েটারে' যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে অতর্কিত হামলা চালাতে সক্ষম হবে। প্রেসিডেন্ট লি "নিজেদের শক্তির মাধ্যমেই নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার" ওপর জোর দেন এবং একই দিনে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী হিউনমু-৫ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও পরিদর্শন করেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত আন্তঃকোরীয় সীমান্তের কাছে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ড এই ঘটনার জন্য সরাসরি উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে। তবে পিয়ংইয়ং সেই অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো সিউলের ক্ষমাপ্রার্থনার দাবি নিয়ে উপহাস করেছে। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি সম্প্রসারণের পাশাপাশি সিউলের প্রতি ক্রমশ কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। কিম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বানও প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা ২০১৯ সালে ভেঙে গিয়েছিল। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই তাদের "বৈরী" নীতি ত্যাগ করতে হবে এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি থেকে সরে আসতে হবে। এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রেসিডেন্ট লি-এর জন্য একটি বড় ধাক্কা। কারণ তিনি শুরু থেকেই উত্তর কোরিয়ার সাথে সম্পৃক্ততার পক্ষে এবং সীমান্তে সেনা আহতের ঘটনায় জনগণের ক্ষোভ সত্ত্বেও উত্তরের প্রতি তার বক্তব্যকে যথেষ্ট নমনীয় রেখেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে লি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোরও আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে, কিম জং উনের সাথে 'খুব ভালো সম্পর্কের' কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে একটি বড় সামরিক মহড়া একতরফাভাবে কমিয়ে আনার পর সিউলের এই স্বনির্ভরতার তাগিদ আরও বেড়েছে। এর আগে, গত ৩ অক্টোবর উত্তর কোরিয়া একটি হাইপারসনিক ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ মিসাইল উৎক্ষেপণ করে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী ১,০০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ নিয়ে মিত্রদেশগুলোর মধ্যেই মতভেদ দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি তারা এটিকে ৭০০ কিলোমিটার উড়তে দেখেছে, অন্যদিকে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এর দূরত্ব ৬৮০ কিলোমিটার বলে মূল্যায়ন করেছে। উত্তর কোরিয়ার নেতার প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত এই দুই মিত্র দেশের ভিন্ন ভিন্ন হিসাব নিয়ে উপহাস করে দাবি করেন, তারা এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র সঠিকভাবে ট্র্যাক করতেই অক্ষম এবং তাই এটি মাঝপথে ধ্বংস করা তাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।