- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি প্রযুক্তি কর্মীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন মাইক্রোসফটকে বিদেশি কর্মীদের জন্য স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে বাদ দিয়েছে। প্রশাসনের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে। এই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শ্রম বিভাগের স্থায়ী শ্রম অনুমোদন কর্মসূচি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রাখার জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারে। কর্মসূচিটি স্থগিত হওয়ায় মাইক্রোসফটের জন্য বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে রাখার প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে মাইক্রোসফটের সব বিদেশি কর্মীর এইচ-১বি ভিসা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হয়ে গেছে। নতুন সিদ্ধান্তটি মূলত স্থায়ী বসবাসের পথ বা গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করেছে। ফলে বর্তমানে বৈধ এইচ-১বি অবস্থানে থাকা কর্মীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরি বা ভিসা হারাচ্ছেন—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মাইক্রোসফট বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মাইক্রোসফটের কর্মী ছাঁটাই ও বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরে এই অভিযোগ করেছেন। তবে মাইক্রোসফট মার্কিন কর্মীদের বদলে বিদেশি কর্মী বসিয়েছে—এমন অভিযোগের সব দাবির স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ রক্ষা করতে ভিসা ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। মাইক্রোসফট বহু বছর ধরে বিদেশি প্রযুক্তি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান। ২০২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩ হাজার ৭০০ এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের অনুমোদন হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত এক দশকে সংখ্যাটি ৫৩ হাজারের বেশি বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে। এর ফলে ভারত, বাংলাদেশ, চীনসহ বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি পেশাজীবীদের মধ্যে বিষয়টি বিশেষ আগ্রহের কারণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সফটওয়্যার প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য দক্ষ কর্মীদের একটি বড় অংশ এইচ-১বি ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ করেন। তাদের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন। একই দিনে প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়েও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের ফি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রশাসন কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবহারের বিষয়েও তদন্তের কথা জানিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং পরে চাকরির মাধ্যমে দেশটিতে থাকার পরিকল্পনা করা তরুণদের জন্য অভিবাসন নীতির পরিবর্তন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে নেওয়া বর্তমান পদক্ষেপের মেয়াদ কতদিন থাকবে এবং কোম্পানিটি কীভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ নিয়ে মাইক্রোসফট ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের জন্য বড় প্রশ্ন হলো, এই সিদ্ধান্ত শুধু মাইক্রোসফটের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে আরও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার ওপর একই ধরনের চাপ তৈরি হবে।
দক্ষিণ কোরিয়া বৃহস্পতিবার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি তাদের প্রথম হাইপারসনিক অস্ত্রের সফল উড্ডয়ন পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। শব্দের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি গতিতে ছুটতে সক্ষম এই অত্যাধুনিক অস্ত্রটি শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সহজেই ফাঁকি দিতে পারে। এর মাধ্যমে সিউল এমন এক সামরিক সক্ষমতার দিকে এগিয়ে গেল, যা কোরীয় উপদ্বীপের যুদ্ধ-সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া জাপানের কাছাকাছি সাগরে নিজস্ব হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর দক্ষিণ কোরিয়া এই পদক্ষেপ নিলেও, পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। এক বিবৃতিতে তিনি একে দেশের প্রচলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে পরীক্ষাটি ঠিক কোথায় পরিচালিত হয়েছে, তা নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, অস্ত্রটি পরিকল্পিত উচ্চতায় এর বুস্টার রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নিচে নেমে আসে এবং লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার আগে উল্লম্ব ও অনুভূমিক উভয়ভাবেই সফলভাবে দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়। এটি পুরোপুরি প্রস্তুত হলে 'কোরীয় উপদ্বীপের অপারেশন থিয়েটারে' যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে অতর্কিত হামলা চালাতে সক্ষম হবে। প্রেসিডেন্ট লি "নিজেদের শক্তির মাধ্যমেই নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার" ওপর জোর দেন এবং একই দিনে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী হিউনমু-৫ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও পরিদর্শন করেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত আন্তঃকোরীয় সীমান্তের কাছে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ড এই ঘটনার জন্য সরাসরি উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে। তবে পিয়ংইয়ং সেই অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো সিউলের ক্ষমাপ্রার্থনার দাবি নিয়ে উপহাস করেছে। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি সম্প্রসারণের পাশাপাশি সিউলের প্রতি ক্রমশ কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। কিম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বানও প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা ২০১৯ সালে ভেঙে গিয়েছিল। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই তাদের "বৈরী" নীতি ত্যাগ করতে হবে এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি থেকে সরে আসতে হবে। এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রেসিডেন্ট লি-এর জন্য একটি বড় ধাক্কা। কারণ তিনি শুরু থেকেই উত্তর কোরিয়ার সাথে সম্পৃক্ততার পক্ষে এবং সীমান্তে সেনা আহতের ঘটনায় জনগণের ক্ষোভ সত্ত্বেও উত্তরের প্রতি তার বক্তব্যকে যথেষ্ট নমনীয় রেখেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে লি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোরও আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে, কিম জং উনের সাথে 'খুব ভালো সম্পর্কের' কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে একটি বড় সামরিক মহড়া একতরফাভাবে কমিয়ে আনার পর সিউলের এই স্বনির্ভরতার তাগিদ আরও বেড়েছে। এর আগে, গত ৩ অক্টোবর উত্তর কোরিয়া একটি হাইপারসনিক ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ মিসাইল উৎক্ষেপণ করে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী ১,০০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ নিয়ে মিত্রদেশগুলোর মধ্যেই মতভেদ দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি তারা এটিকে ৭০০ কিলোমিটার উড়তে দেখেছে, অন্যদিকে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এর দূরত্ব ৬৮০ কিলোমিটার বলে মূল্যায়ন করেছে। উত্তর কোরিয়ার নেতার প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত এই দুই মিত্র দেশের ভিন্ন ভিন্ন হিসাব নিয়ে উপহাস করে দাবি করেন, তারা এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র সঠিকভাবে ট্র্যাক করতেই অক্ষম এবং তাই এটি মাঝপথে ধ্বংস করা তাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জন্য ব্যবহৃত একটি ঘুমের পণ্য নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বেবিজ ম্যাজিক টি ব্র্যান্ডের বেবি স্লিপ গ্রাইপ ওয়াটার নামের পণ্যটির একটি নির্দিষ্ট ব্যাচ বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। পরীক্ষায় পণ্যটিতে লেবেলে উল্লেখ না থাকা তিন ধরনের অ্যালকোহল পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন গত ৭ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রত্যাহারের তথ্য প্রকাশ করেছে।পণ্যটি সাধারণত শিশুদের অস্বস্তি বা ঘুমের সমস্যা কমানোর উদ্দেশ্যে বাজারজাত করা হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষায় এতে প্রায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ ইথানল, শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ মিথানল এবং শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ আইসোপ্রোপানল পাওয়া গেছে। এসব উপাদান পণ্যের লেবেলে উল্লেখ ছিল না। বিশেষ করে মিথানল ও আইসোপ্রোপানল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ এগুলো শিশুদের খাওয়ানোর জন্য স্বাভাবিক কোনো উপাদান নয়। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বলেছে, পণ্যটি কতটা খাওয়া হয়েছে এবং ব্যবহারকারীর বয়স ও ওজনের ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকি নির্ভর করতে পারে। প্রত্যাহার করা পণ্যটির ব্যাচ নম্বর ২৫১২২বিডব্লিউ। এর মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ডিসেম্বর ২০২৮। পণ্যটি চার তরল আউন্সের একটি বাদামি রঙের বোতলে ছিল এবং বোতলটি নীল রঙের বাক্সের মধ্যে রাখা হয়। সঙ্গে একটি মুখে খাওয়ানোর সিরিঞ্জও ছিল। এই ব্যাচের পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পণ্যটি সিক্রেটস অব টি নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন বিক্রেতার কাছে বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে অ্যামাজনও ছিল। ফলে কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকার দোকানের মধ্যে এটি সীমাবদ্ধ ছিল না। এখন পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট পণ্য ব্যবহারের কারণে অসুস্থ হওয়ার কোনো খবর কোম্পানি পায়নি বলে জানিয়েছে। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে বাবা-মা ও অভিভাবকদের সতর্ক করা হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব পরিবার এই পণ্য কিনেছে তাদের প্রথমে বোতলের ব্যাচ নম্বর পরীক্ষা করতে হবে। যদি নম্বর ২৫১২২বিডব্লিউ হয়, তাহলে শিশুকে এটি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। পণ্যটি ফেলে দেওয়া অথবা যেখান থেকে কেনা হয়েছে সেখানে ফেরত দিয়ে অর্থ ফেরত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই খবরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ অনলাইনে শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ঘুম, গ্যাস বা অস্বস্তি কমানোর পণ্য সহজেই কেনা যায়। অনেক বাবা-মা পণ্যের নাম ও বিজ্ঞাপন দেখে সেটিকে নিরাপদ মনে করতে পারেন। কিন্তু কোনো শিশুকে দেওয়ার আগে উপাদান, বয়সের উপযোগিতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর অস্বাভাবিক ঘুম, খাওয়ার সমস্যা, কান্না বা পেটের অস্বস্তির কারণ বোঝার জন্য প্রয়োজন হলে শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শুধু কোনো অনলাইন পণ্য ব্যবহার করে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা না করাই নিরাপদ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেদের ঘরে থাকা পণ্যটি পরীক্ষা করা। বিশেষ করে যারা অ্যামাজন বা অন্য অনলাইন মাধ্যমে শিশুদের পণ্য কেনেন, তাদের পুরোনো অর্ডারের তালিকা দেখেও যাচাই করা উচিত। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন জানিয়েছে, এই প্রত্যাহার কোম্পানির স্বেচ্ছায় নেওয়া পদক্ষেপ এবং সংস্থার জ্ঞাতসারে পরিচালিত হচ্ছে। পণ্য ব্যবহারের পর কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে বাড়ি সংস্কারের জন্য ঠিকাদারকে ৭২ হাজার পাউন্ড দিয়েও শেষ পর্যন্ত বিপাকে পড়েছিলেন শ্রবণপ্রতিবন্ধী এক দম্পতি। নির্মাণকাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদার কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ায় তিন সন্তানকে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িতে বসবাস করতে বাধ্য হন তাঁরা। একপর্যায়ে বাড়িটির কাঠামো এতটাই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে যে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে দীর্ঘ দুর্ভোগের পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ডিআইওয়াই এসওএস এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় নতুনভাবে সাজানো হয়েছে পরিবারটির বাড়ি। ঘটনাটি ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন শহরের বিটার্ন এলাকার। ভুক্তভোগী দম্পতির নাম আহমেদ আলী ও রিফাত আলী। তাঁরা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী এবং ব্রিটিশ সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। তিন সন্তানকে নিয়ে নিজেদের বাড়িটি আরও আরামদায়ক ও পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই স্বপ্নই একসময় বড় দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাড়ির নিচতলায় নতুন অংশ নির্মাণের জন্য নিজেদের সঞ্চয় থেকে ৭২ হাজার পাউন্ড ব্যয় করেন আহমেদ ও রিফাত। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেন। পরবর্তী সময়ে অসমাপ্ত কাজের বিভিন্ন অংশ এতটাই ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া যায় যে সেগুলো ব্যবহার অনিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। বাড়ির নিচতলার অধিকাংশ জায়গা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় তিন সন্তানকে নিয়ে ওপরতলায় সীমিত পরিসরে বসবাস করতে বাধ্য হন দম্পতি। রান্নাঘর ও বাগানও স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারছিলেন না তাঁরা। ফলে নিজেদের বাড়িতে থেকেও প্রতিদিন নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছিল পাঁচ সদস্যের পরিবারটিকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এন্টারটেইনমেন্ট ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়িটির বিভিন্ন স্থানে অসমাপ্ত নির্মাণকাজ, খোলা বৈদ্যুতিক তার এবং কাঠামোগত ত্রুটি ছিল। দম্পতির অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালে ঠিকাদারের কর্মীরা মাঝেমধ্যে কাজ বন্ধ করে চলে যেতেন এবং দীর্ঘ সময় আর ফিরে আসতেন না। রিফাতের অভিযোগ অনুযায়ী, নির্মাণসামগ্রী কেনার কথা বলে তাঁদের কাছে অতিরিক্ত অর্থও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু যে সামগ্রী কেনার কথা বলা হয়েছিল, সেগুলো বাড়িতে পৌঁছায়নি। পরে স্থপতির কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এর আগেও আদালতে মামলা হয়েছিল। তবে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। নিজেদের সঞ্চয়ের বড় অংশ হারিয়ে দম্পতি আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে ছোট তিন সন্তানকে নিয়ে অনিরাপদ পরিবেশে বসবাসের অভিজ্ঞতা তাঁদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। আহমেদ জানান, পুরো পরিস্থিতি তাঁদের জন্য এতটাই মানসিক চাপের ছিল যে একপর্যায়ে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। পরিবারটির দুরবস্থার খবর পৌঁছায় বিবিসির জনপ্রিয় বাড়ি সংস্কারবিষয়ক অনুষ্ঠান ডিআইওয়াই এসওএসের কাছে। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক নিক নোলস এবং তাঁর টিম পরিবারটির বাড়ি পরিদর্শন করতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা নির্মাণকাজের গুরুতর ত্রুটিগুলো দেখতে পান। পরিদর্শনের সময় নিক নোলস বাড়িটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দেয়ালের নিচে বড় ফাঁক দেখতে পান। এতে ভবনটির কাঠামোগত স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিনি পরিবারটিকে যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। নিক নোলস জানান, ডিআইওয়াই এসওএস অনুষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতায় কোনো পরিবারকে নিরাপত্তার কারণে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলার ঘটনা তাঁর জন্যও ছিল ব্যতিক্রমী। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রথমেই ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামোকে নিরাপদ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় বাড়িটি নতুন করে নির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ। স্থানীয় নির্মাণকর্মী, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, কাঠমিস্ত্রি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবীরা এগিয়ে আসেন। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজের প্রথম দিনেই দেড় শতাধিক দক্ষ কর্মী উপস্থিত হন। কয়েক মাসের কাজ অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে সবাই একসঙ্গে কাজ শুরু করেন। এ উদ্যোগে অংশ নেন বেসিংস্টোক কলেজ অব টেকনোলজির নির্মাণবিষয়ক শিক্ষার্থীরাও। তাঁরা অভিজ্ঞ নির্মাণকর্মীদের সঙ্গে কাঠের কাজ, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং পানির পাইপ স্থাপনের কাজে সহযোগিতা করেন। কলেজটির তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা বাড়িটিকে নিরাপদ ও আধুনিক বাসস্থানে রূপান্তর করা হয়। বাড়িটি সংস্কারের সময় পরিবারটির বিশেষ প্রয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। আহমেদ ও রিফাত দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী হলেও তাঁদের সন্তানরা শুনতে পারে। ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে ঘরের ভেতরের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়। বিশেষ করে ঘরের বিভিন্ন অংশে এমন ব্যবস্থা রাখা হয়, যাতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সহজে নজর রাখা যায়। পাশাপাশি বাড়িতে বিশেষ সতর্কসংকেত ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়। কোনো সমস্যা হলে শব্দের পরিবর্তে বিভিন্ন রঙের আলো জ্বলে পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করবে। এতে শ্রবণপ্রতিবন্ধী বাবা-মায়ের জন্য ঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে। বাড়ি সংস্কারের প্রস্তুতিতে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কাসা এনভায়রনমেন্টাল সার্ভিসেস নামে একটি প্রতিষ্ঠান বিনা মূল্যে অ্যাসবেস্টস সংক্রান্ত জরিপ পরিচালনা করে। পুরোনো ভবনের সংস্কারকাজে ক্ষতিকর উপাদানের সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাই করাই ছিল এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। বাড়ির সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর নতুন পরিবেশ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আহমেদ ও রিফাত। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ থেকে মুক্তি পেয়ে স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁরা। ডিআইওয়াই এসওএস অনুষ্ঠানের ডিজাইনার গ্যাবি ব্ল্যাকম্যান বলেন, সমাজে বিভেদ নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও এই প্রকল্পে তাঁরা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখেছেন। বিপদে পড়া একটি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বহু মানুষ একসঙ্গে কাজ করেছেন। পরিবারটির বাড়ি সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে। তবে সেই উদ্যোগের পুরো ঘটনা নিয়ে নির্মিত ডিআইওয়াই এসওএসের বিশেষ পর্বটি বিবিসি ওয়ানে প্রচারিত হয় ২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর। ৭২ হাজার পাউন্ড ব্যয় করেও যে পরিবারটি নিজেদের বাড়িতে নিরাপদে বসবাস করতে পারছিল না, স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত উদ্যোগে সেই পরিবার এখন নতুনভাবে সাজানো বাড়িতে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ পেয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি বাড়ি নির্মাণে ঠিকাদার নির্বাচন, কাজের মান যাচাই এবং নির্মাণকাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বও সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কারিগরি কর্মীর ঘাটতি দ্রুত বড় আকার ধারণ করছে। নির্মাণকাজ, বৈদ্যুতিক কাজ, পাইপের কাজ, কাঠমিস্ত্রির কাজ, যন্ত্রপাতি মেরামত এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর কারিগরি পেশায় কর্মীর চাহিদা বাড়লেও সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষিত কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। ৮ অক্টোবর প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে এই সংকটকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তির জন্য নতুন তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের কারণে দক্ষ কর্মীর চাহিদা আরও বেড়েছে। এসব প্রকল্পে শুধু কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ নয়, বিপুলসংখ্যক ইলেকট্রিশিয়ান, পাইপমিস্ত্রি, যন্ত্রপ্রযুক্তিবিদ, কাঠমিস্ত্রি, ধাতুকর্মী এবং অন্যান্য কারিগরি কর্মীর প্রয়োজন হচ্ছে। নিউ জার্সিও এমন রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে যেখানে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বেশি, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় কর্মীর সরবরাহ কম। যুক্তরাষ্ট্রের মোট নয়টি রাজ্যকে উচ্চ চাহিদা ও কম সরবরাহের বিশেষ ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে নিউ জার্সি ছাড়াও রয়েছে অ্যারিজোনা, কলোরাডো, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও টেক্সাস। নতুন তথ্য অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর প্রায় ১৭ লাখ দক্ষ কারিগরি কর্মীর পদ পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে নতুন কর্মসংস্থান যেমন থাকবে, তেমনি অবসর নেওয়া কর্মীদের জায়গাও পূরণ করতে হবে। কিন্তু বর্তমান প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাগুলো প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় অনেক কম কর্মী তৈরি করছে। এ কারণে যারা চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার বাইরে দ্রুত পেশাগত দক্ষতা অর্জন করে আয় করতে চান, তাদের জন্য কারিগরি পেশা গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে। ইলেকট্রিশিয়ান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কারিগর, পাইপমিস্ত্রি, যন্ত্রপ্রযুক্তিবিদ এবং নির্মাণকর্মীদের চাহিদা বাড়ছে।তবে শুধু কর্মীর সংখ্যা কম হওয়াই সমস্যা নয়। নিয়োগদাতাদের একটি বড় অংশ বলছে, আবেদনকারী পাওয়া গেলেও অনেকের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা বাস্তব কাজের দক্ষতা নেই। নির্মাণ খাতের একটি সাম্প্রতিক জরিপেও কর্মী ঘাটতিকে প্রকল্প বিলম্বের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আরেকটি বড় বিষয় হলো কর্মীদের বয়স। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষ কারিগরি কর্মীদের একটি বড় অংশ অবসরের বয়সের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে আগামী কয়েক বছরে নতুন কর্মী তৈরি না হলে সংকট আরও বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তরুণদের কারিগরি পেশায় আনার জন্য প্রশিক্ষণ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে প্রশিক্ষণ এবং চাকরির সরাসরি সংযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে। নির্মাণ খাতে সাম্প্রতিক চাকরির পরিসংখ্যানও বিষয়টি পরিষ্কার করছে। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাণ খাতে মোট ১১ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে। এর মধ্যে অ-বসতবাড়ি নির্মাণের বিশেষায়িত কারিগরি কাজে ১২ হাজার ৩০০টি পদ বেড়েছে। তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের প্রসারকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে এখন একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে সাধারণ চাকরিতে নিয়োগের গতি ধীর হচ্ছে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট দক্ষতা থাকা কর্মীদের জন্য চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে হাতে-কলমে শেখা যায় এমন পেশায় আগামী বছরগুলোতে সুযোগ আরও বাড়তে পারে। নিউ জার্সি ও নিউইয়র্ক এলাকায় বসবাসকারী প্রবাসীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি নতুন পেশায় যেতে চান, তাহলে স্থানীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সুযোগগুলো খুঁজে দেখা যেতে পারে।
নিউ জার্সির বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক খবর এসেছে। রাজ্যের ANCHOR সম্পত্তি কর সহায়তা কর্মসূচির টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। আজ ৮ অক্টোবর কিছু যোগ্য বাসিন্দা তাদের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা পড়ার কথা জানিয়েছেন। রাজ্যের কর বিভাগও জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ANCHOR অর্থপ্রদান অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে পাঠানো হচ্ছে। ANCHOR কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো নিউ জার্সিতে নিজের প্রধান বাড়িতে বসবাসকারী যোগ্য বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের সম্পত্তি করের চাপ কিছুটা কমানো। এবারের সুবিধা নির্ধারণ করা হচ্ছে ২০২৫ সালের বসবাসের তথ্য, আয় ও বয়সের ভিত্তিতে। রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, এক মিলিয়নের বেশি নিউ জার্সিবাসীর আবেদন অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। যেসব যোগ্য বাসিন্দা আগে ANCHOR সুবিধা পেয়েছেন এবং রাজ্যের পাঠানো নিশ্চিতকরণ চিঠিতে তথ্য সঠিক ছিল, তাদের অনেকের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। তবে সবার নিয়ম এক নয়। ৬৫ বছরের কম বয়সী অনেক বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা হয়েছে। অন্যদিকে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী বাড়ির মালিক এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিবন্ধী সুবিধা নেওয়া নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের আলাদা করে PAS-1 আবেদন জমা দিতে হয়। যোগ্য বাড়ির মালিকদের জন্য আয়ের সীমাও রয়েছে। ২০২৫ সালের মোট আয় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা তার কম হলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি কিন্তু ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয়ের যোগ্য বাড়ির মালিকদের জন্য সুবিধা কম হতে পারে। যোগ্য ভাড়াটিয়াদের জন্যও ANCHOR সহায়তা রয়েছে। ২০২৫ সালের আয়, নিউ জার্সিতে বসবাস এবং প্রধান বাসস্থানের শর্ত পূরণ করলে নির্দিষ্ট পরিমাণ সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য ভাড়াটিয়ারা অতিরিক্ত সুবিধাও পেতে পারেন। যারা ইতোমধ্যে আবেদন করেছেন, তাদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থপ্রদানের অবস্থা পরীক্ষা করা। নিউ জার্সির কর বিভাগের সরকারি অবস্থান যাচাই ব্যবস্থা ব্যবহার করে আবেদন ও অর্থপ্রদানের তথ্য দেখা যায়। যাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য আগেরবারের পর পরিবর্তন হয়েছে, তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তথ্য পরিবর্তন না করলে আগের তথ্য ব্যবহার করে অর্থ পাঠানো হতে পারে। এখনও যারা মনে করছেন তারা যোগ্য কিন্তু ANCHOR সুবিধার চিঠি পাননি, তাদের জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের ANCHOR আবেদনের শেষ সময় ২ নভেম্বর ২০২৬। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করাই ভালো। রাজ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, আবেদন প্রক্রিয়াকরণে অতিরিক্ত তথ্যের প্রয়োজন হলে অর্থ পেতে আরও সময় লাগতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আবেদন জমা দেওয়ার পর অর্থ পেতে প্রায় ৯০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।নিউ জার্সিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারের জন্যও এই খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা বাড়ির মালিক অথবা ভাড়াটিয়া হিসেবে নিউ জার্সিতে থাকেন, তাদের ANCHOR সুবিধার যোগ্যতা এবং আবেদন পরিস্থিতি যাচাই করা উচিত। যারা ইতোমধ্যে অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও পাননি, তারা সরাসরি সরকারি আবেদন-অবস্থা যাচাই ব্যবস্থায় তথ্য দেখতে পারেন। প্রয়োজনে নিউ জার্সি কর বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী সহায়তার নম্বর ১-৮৮৮-২৩৮-১২৩৩। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ANCHOR সুবিধা পাওয়ার জন্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। শুধু নিউ জার্সিতে বসবাস করলেই সবাই এই অর্থ পাবেন না। বাড়ির মালিক বা ভাড়াটিয়া হিসেবে প্রধান বাসস্থানের শর্ত, আয় এবং অন্যান্য যোগ্যতা যাচাই করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের কেমব্রিজভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাবস্পট একসঙ্গে প্রায় ৬৬০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর প্রায় ৭ শতাংশ এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকেন্দ্রিক নতুন ব্যবসায়িক কৌশলের সঙ্গে সাংগঠনিক কাঠামো সামঞ্জস্য করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেন হাবস্পটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ামিনি রঙ্গন। তবে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে ঠিক কতজন কর্মী চাকরি হারাবেন, তা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। বস্টন ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাবস্পট দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মার্কেটিং, সেলস, কাস্টমার সার্ভিস এবং গ্রাহক ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার তৈরি করে আসছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। শুধু সফটওয়্যার সরবরাহের পরিবর্তে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকদের সরাসরি ব্যবসায়িক ফলাফল অর্জনে সহায়তা করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া চিঠিতে ইয়ামিনি রঙ্গন জানান, গত এক বছরে হাবস্পটের ব্যবসায়িক কৌশলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এর প্রভাব পড়ছে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য, মূল্য নির্ধারণ এবং গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার পদ্ধতিতে। নতুন পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কাঠামোও পরিবর্তন করা প্রয়োজন বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। তবে কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণ নিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন হাবস্পটের প্রধান নির্বাহী। তাঁর দাবি, এআই প্রযুক্তি মানুষের কাজ প্রতিস্থাপন করছে কিংবা এআই ব্যবহারের ফলে কম কর্মী দিয়ে বেশি কাজ করা সম্ভব হচ্ছে, এমন কারণে এই ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, এটি শুধু পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগও নয়। বরং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মী ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই পুনর্গঠনের মূল উদ্দেশ্য। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাবস্পটের বিভিন্ন পণ্যভিত্তিক টিম পুনর্গঠন করা হবে। আগে পৃথক সফটওয়্যার ও সেবার ভিত্তিতে টিম পরিচালিত হলেও এখন গ্রাহকদের চাহিদা ও প্রত্যাশিত ফলাফলকে কেন্দ্র করে দায়িত্ব ভাগ করা হবে। ফলে একটি টিম গ্রাহকসেবার পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কাঠামোও সহজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের ম্যানেজমেন্ট কমিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত করা হবে। কর্মীদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে, যাতে একাধিক বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের জটিলতা কমে আসে। হাবস্পট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন কাঠামো নির্ধারণের পর প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। ব্যবসায়িক অগ্রাধিকার, রাজস্ব অর্জনের সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কর্মীর সংখ্যা এবং নেতৃত্বসহ ছয়টি বিষয় বিবেচনা করে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে চাকরি হারাতে যাওয়া কর্মীদের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও ক্যারিয়ার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। হাবস্পটের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়া কর্মীরা সাধারণভাবে মূল বেতনের ২০ সপ্তাহের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ পাবেন। এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর চাকরির জন্য অতিরিক্ত এক সপ্তাহের বেতন যোগ হবে। তবে মোট ক্ষতিপূরণ সর্বোচ্চ ৩০ সপ্তাহের মূল বেতনের সমপরিমাণ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের জন্য পাঁচ মাসের কোবরা হেলথ ইন্স্যুরেন্স সুবিধার সমপরিমাণ অর্থ এককালীন দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি চাকরি হারানো কর্মীরা নতুন চাকরি খুঁজতে ছয় মাসের ক্যারিয়ার সহায়তা পাবেন। কোম্পানি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা তাদের ব্যবহৃত হাবস্পটের ল্যাপটপ এবং বাসা থেকে কাজের জন্য দেওয়া মনিটর, কিবোর্ডসহ অন্যান্য সরঞ্জামও রাখতে পারবেন। তবে ল্যাপটপে থাকা প্রতিষ্ঠানের তথ্য দূর থেকে মুছে ফেলা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কর্মরত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন ও নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ এবং চাকরি ছাড়ার প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। এদিকে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর হাবস্পটের পরিচালনা পর্ষদ এই পুনর্গঠন পরিকল্পনা অনুমোদন করে। কর্মী ছাঁটাই ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচ বাবদ প্রতিষ্ঠানটির আনুমানিক ৬ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় হতে পারে। ২০২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের শেষ নাগাদ পুনর্গঠনের অধিকাংশ কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০০৬ সালে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির দুই সাবেক শিক্ষার্থী ব্রায়ান হ্যালিগান ও ধর্মেশ শাহ হাবস্পট প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম রয়েছে। বিপণন, বিক্রয়, কাস্টমার সার্ভিস এবং ব্যবসায়িক তথ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত সফটওয়্যারের জন্য প্রতিষ্ঠানটি পরিচিত। প্রযুক্তি খাতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক মডেলেও পরিবর্তন আসছে। হাবস্পটের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এসেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, এই ছাঁটাইকে সরাসরি এআইয়ের মাধ্যমে মানুষের চাকরি প্রতিস্থাপনের ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হাবস্পটের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রায় ৬৬০ জনকে চাকরি ছাড়তে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে কতজন কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং তাঁদের মধ্যে কেমব্রিজের সদর দপ্তরে কর্মরত কতজন রয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
চলতি বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কার্সন। প্রচলিত সাহিত্যের গণ্ডি পেরিয়ে কবিতা, গদ্য, নাটক ও প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপনের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কারটি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে সুইডিশ একাডেমি। ৭৬ বছর বয়সী এই লেখক তাঁর সৃজনশীল ও পরীক্ষামূলক সাহিত্যকর্মের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত। সুইডিশ একাডেমি জানিয়েছে, সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে প্রাচীন সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংযোগ তৈরি করে সমকালীন সাহিত্যে নতুন রূপ দেওয়ার জন্য অ্যান কার্সনকে এবারের পুরস্কারে নির্বাচিত করা হয়েছে। পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে নোবেল পদক ও সনদ তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৫০ সালের ২১ জুন কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন অ্যান কার্সন। ছোটবেলা থেকেই ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য, দর্শন ও ভাষা তাঁর চিন্তাভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। পরবর্তী সময়ে ক্লাসিক্যাল সাহিত্য নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং গবেষণার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। কবি হিসেবে পরিচিত হলেও কার্সনের সাহিত্যকর্ম শুধু কবিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর লেখায় একই সঙ্গে পাওয়া যায় কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ এবং দার্শনিক চিন্তার সমন্বয়। কোনো একটি সাহিত্যধারার নিয়ম মেনে লেখার পরিবর্তে তিনি বিভিন্ন ধারাকে একসঙ্গে ব্যবহার করে নতুন ধরনের সাহিত্যিক অভিজ্ঞতা তৈরি করেছেন। অ্যান কার্সনের সবচেয়ে আলোচিত সাহিত্যকর্মগুলোর একটি ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’। কবিতার আঙ্গিকে লেখা এই উপন্যাসে প্রাচীন গ্রিক পুরাণের চরিত্র ও কাহিনিকে আধুনিক সময়ের প্রেম, পরিচয় ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়েছেন তিনি। বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র গেরিয়ন। প্রাচীন গ্রিক পুরাণে ডানাওয়ালা লাল রঙের এক দানব হিসেবে পরিচিত এই চরিত্রকে কার্সন তুলে ধরেছেন সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। তাঁর লেখায় গেরিয়নের মাধ্যমে মানবিক অনুভূতি, একাকিত্ব, ভালোবাসা এবং আত্মপরিচয়ের জটিলতা প্রকাশ পেয়েছে। সাহিত্যে নতুন আঙ্গিক তৈরির আরেকটি উদাহরণ ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘ফ্লোট’। বইটিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা ২২টি স্বতন্ত্র রচনা রয়েছে। বিশেষভাবে তৈরি এই বইয়ের রচনাগুলো নির্দিষ্ট কোনো ক্রম অনুসরণ না করেও পড়া যায়। প্রচলিত বইয়ের কাঠামোর বাইরে গিয়ে পাঠককে নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন লেখক। কার্সনের ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘রং নর্মা’ বইটিও তাঁর বৈচিত্র্যময় লেখার পরিচয় বহন করে। এতে সাহিত্য, শিল্প, ইতিহাস ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিভিন্ন উপাদান স্থান পেয়েছে। তাঁর অনেক লেখায় নাট্যরীতি ও মঞ্চ পরিবেশনার প্রভাবও দেখা যায়। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য আধুনিক পাঠকের কাছে নতুনভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে অ্যান কার্সনের। গ্রিক কবি স্যাফোর কবিতার খণ্ডাংশ নিয়ে তাঁর অনুবাদগ্রন্থ ‘ইফ নট, উইন্টার’ বিশেষভাবে সমাদৃত। এ ছাড়া সফোক্লিস ও ইউরিপিডিসের মতো প্রাচীন গ্রিক নাট্যকারের রচনাও অনুবাদ করেছেন তিনি। অনুবাদের ক্ষেত্রেও শুধু মূল ভাষার অর্থ তুলে ধরাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি কার্সন। প্রাচীন সাহিত্যকর্মের ভাষা, ভাবনা ও নান্দনিক বৈশিষ্ট্য আধুনিক পাঠকের কাছে কীভাবে নতুন অর্থ তৈরি করতে পারে, সেটিও তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ‘গ্লাস, আয়রনি অ্যান্ড গড’ তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এই গ্রন্থের ‘দ্য গ্লাস এসে’ নামের দীর্ঘ কবিতায় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সাহিত্যিক বিশ্লেষণ এবং কবিতার ভাষা একসঙ্গে ব্যবহার করেছেন তিনি। লেখালেখির পাশাপাশি দৃশ্যশিল্প, নৃত্য, সংগীত, অপেরা ও থিয়েটারের সঙ্গেও যুক্ত থেকেছেন অ্যান কার্সন। বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমে সাহিত্যের সঙ্গে অন্যান্য শিল্পমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন তিনি। তাঁর সাহিত্যকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ভাষার ব্যবহার। একটি শব্দের উৎপত্তি, তার অর্থের পরিবর্তন এবং ভিন্ন প্রেক্ষাপটে শব্দটি কীভাবে নতুন অর্থ তৈরি করে, এসব বিষয় নিয়ে কার্সনের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অনেক সময় শব্দের ইতিহাস থেকেই তাঁর নতুন লেখার ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তাঁর কাজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। নোবেল পুরস্কারের আগে তিনি টি এস এলিয়ট পুরস্কার, গ্রিফিন কবিতা পুরস্কার এবং ম্যাকআর্থার ফেলোশিপসহ একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত জীবনেও শারীরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন এই লেখক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, তিনি পারকিনসন রোগে আক্রান্ত। শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে চলতে সত্তর বছর বয়সের পর বক্সিং অনুশীলনও শুরু করেন তিনি। নোবেল পাওয়ার খবরটি তাঁকে বিস্মিত করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। বর্তমানে আইসল্যান্ডে অবস্থান করা এই লেখক পুরস্কার ঘোষণার সময় সেখানেই ছিলেন। অ্যান কার্সন সাহিত্যে নোবেলজয়ী দ্বিতীয় কানাডীয় সাহিত্যিক। এর আগে ২০১৩ সালে কানাডার ছোটগল্পকার অ্যালিস মুনরো এই সম্মাননা অর্জন করেন। এবারের পুরস্কারের মাধ্যমে কানাডার সাহিত্য আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ স্বীকৃতি পেল। ১৯০১ সাল থেকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সুইডিশ একাডেমি প্রতিবছর বিশ্বসাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কারের জন্য একজন লেখককে নির্বাচন করে। অ্যান কার্সনের সাহিত্যকর্মের বিশেষত্ব হলো, তিনি প্রাচীন সাহিত্যকে শুধু অতীতের ঐতিহ্য হিসেবে দেখেননি। বরং সেই সাহিত্য থেকে চরিত্র, ভাষা ও ভাবনা গ্রহণ করে আধুনিক মানুষের অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে প্রকাশ করেছেন। কবিতা ও গদ্যের প্রচলিত বিভাজন ভেঙে লেখালেখির নতুন পথ তৈরি করাই তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার সেই দীর্ঘ সৃজনশীল যাত্রার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় নেচার’স ওন হাওয়াইয়ান ব্রেডের নির্দিষ্ট কিছু প্যাকেট বাজার থেকে ফেরত নেওয়া হচ্ছে। কারণ, প্যাকেটের উপাদান তালিকায় দুধ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়নি। দুধে অ্যালার্জি বা অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা রয়েছে এমন মানুষের জন্য এটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেরত নেওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে ২০ আউন্সের এক প্যাকেট এবং ৪০ আউন্সের দুই প্যাকেটের নেচার’স ওন হাওয়াইয়ান ব্রেড। এগুলো আরকানসাস, লুইজিয়ানা, নিউ মেক্সিকো, ওকলাহোমা এবং টেক্সাসের বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করা হয়েছিল। কোম্পানিটি জানিয়েছে, উৎপাদনের নথি পর্যালোচনা করার সময় বিষয়টি ধরা পড়ে। কিছু প্যাকেটের গায়ে দুধকে উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে দুধে অ্যালার্জি থাকা কোনো ব্যক্তি প্যাকেটের তথ্য দেখে বিষয়টি বুঝতে নাও পারেন। এখন পর্যন্ত এই পণ্য খেয়ে অসুস্থ হওয়ার কোনো ঘটনা বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তারপরও দুধে অ্যালার্জি রয়েছে এমন মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক কারও দুধে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের বাড়িতে থাকা পাউরুটির প্যাকেটটি পরীক্ষা করে দেখা উচিত। পণ্যের নাম, ওজন, বারকোড এবং ব্যবহারযোগ্যতার তারিখ মিলিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। ২০ আউন্সের সংশ্লিষ্ট প্যাকেটের বারকোড হলো ০ ৭২২৫০ ৯১৬৬২ ২। সংশ্লিষ্ট প্যাকেটগুলোর ব্যবহারযোগ্যতার তারিখ ৮ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত।৪০ আউন্সের দুই প্যাকেটের বারকোড হলো ০ ৭২২৫০ ০০৬৮৩ ৫। যাদের দুধে অ্যালার্জি নেই, তাদের জন্যও খাবারের প্যাকেটের উপাদান তালিকা দেখে কেনাকাটা করার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন কোনো পণ্য কেনার সময় প্যাকেটের সতর্কতা ও উপাদান তালিকা পরীক্ষা করা উচিত। যদি কারও বাড়িতে এই ফেরত নেওয়া পণ্য থাকে এবং পরিবারের কারও দুধে অ্যালার্জি থাকে, সেটি খাওয়া উচিত নয়। পণ্যটি ফেলে দেওয়া অথবা যে দোকান থেকে কেনা হয়েছে সেখানে ফেরত দিয়ে অর্থ ফেরত নেওয়া যেতে পারে। দুধে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়ায় চুলকানি, চাকা ওঠা, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। এই ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে কেনাকাটার সময় শুধু দাম বা মেয়াদ নয়, খাবারের উপাদান এবং সাম্প্রতিক ফেরত নেওয়ার বিজ্ঞপ্তিও দেখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অ্যালার্জি থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য এই সতর্কতা আরও বেশি জরুরি।খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলো ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া কোম্পানির জ্ঞাতসারে পরিচালিত হচ্ছে। ভোক্তারা প্রয়োজনে কোম্পানির গ্রাহকসেবা নম্বর ১-৮৬৬-২৪৫-৮৯২১-এ যোগাযোগ করতে পারেন।
যুক্তরাজ্যে ফেরার পর লন্ডনে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দেখা গেল ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলকে। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী পাকিস্তানি শিক্ষা অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে ডিনারে অংশ নেন তিনি। লন্ডনের অভিজাত মেফেয়ার এলাকার পাঁচ তারকা হোটেল ক্ল্যারিজেসে তাঁদের একসঙ্গে সময় কাটানোর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন পর দুই পরিচিত ব্যক্তিত্বের এই সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেরও নজর কেড়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী মেগান মার্কেল এবং ২৯ বছর বয়সী মালালা ইউসুফজাইকে ক্ল্যারিজেস হোটেলের একটি রেস্টুরেন্টে একসঙ্গে রাতের খাবার খেতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন একটি টেবিলে মুখোমুখি বসে কথা বলছেন। তাঁদের পাশের টেবিলে বসা এক ব্যক্তি ভিডিওটি ধারণ করে অনলাইনে প্রকাশ করেন। পরে সেটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেগান মার্কেল সাদা রঙের পোশাক পরেছিলেন। অন্যদিকে মালালার পরনে ছিল হালকা বাদামি রঙের কোট। রাতের খাবারের সময় দুজনকে স্বাভাবিক ও আন্তরিকভাবে কথা বলতে দেখা যায়। তবে তাঁদের আলোচনার বিষয়বস্তু জানা যায়নি। মেগান ও মালালার এই সাক্ষাৎ অবশ্য নতুন কোনো পরিচয়ের সূচনা নয়। এর আগেও নারী শিক্ষা ও মেয়েদের অধিকার নিয়ে একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা। ২০২০ সালের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনলাইন আলোচনায় মালালার সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন মেগান মার্কেল ও তাঁর স্বামী প্রিন্স হ্যারি। করোনাভাইরাস মহামারির সময় অনুষ্ঠিত সেই আলোচনায় বিশ্বজুড়ে মেয়েদের শিক্ষার অধিকার এবং তাদের সামনে থাকা প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ওই আলোচনায় মেগান ও হ্যারি নিজেদের পারিবারিক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছিলেন। বিশেষ করে মহামারির সময় ঘরে থাকার ফলে সন্তান আর্চির বেড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন তাঁরা। মালালা সে সময় জানিয়েছিলেন, মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে তাঁর ও মেগানের দৃষ্টিভঙ্গিতে মিল রয়েছে। শিক্ষার সুযোগ বাড়লে শুধু মেয়েরা নয়, পুরো সমাজ উপকৃত হয় বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। ছয় বছর পর লন্ডনে তাঁদের আবার একসঙ্গে দেখা গেল। তবে এবারের সাক্ষাৎ কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির অংশ ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নতুন কোনো যৌথ উদ্যোগ বা প্রকল্প নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেছেন, এমন তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে মেগান মার্কেলের লন্ডনে উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে তাঁর সাম্প্রতিক যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার কারণে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পিপলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট প্রিন্স হ্যারি ও তাঁদের দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি এবং প্রিন্সেস লিলিবেটকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরেন মেগান। কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করছিলেন তাঁরা। বর্তমানে যুক্তরাজ্যেও সময় কাটাচ্ছেন এই দম্পতি। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে তাঁদের বাসভবনও রয়েছে। ২০২০ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের নিয়মিত দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর মেগান ও হ্যারি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন। এরপর রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক এবং যুক্তরাজ্যে যাতায়াত নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যে ফেরার পর মেগানকে তুলনামূলক কম প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। তবে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনদের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে সময় কাটানোর খবর প্রকাশিত হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর অক্সফোর্ডশায়ারে মার্কিন টেলিভিশন উপস্থাপক এলেন ডিজেনারেস এবং তাঁর স্ত্রী পোর্টিয়া ডি রসির সঙ্গে দেখা করেন মেগান। তাঁরা বারফোর্ডের কাছে একটি রেস্টুরেন্টে সময় কাটান বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়। এরপর ২ অক্টোবর প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে কটসওল্ডস এলাকার ফকল্যান্ড আর্মস নামে একটি পাবেও তাঁকে দেখা যায়। তবে লন্ডনে ফেরার পর মালালার সঙ্গে ডিনারের ঘটনাটিকেই তাঁর প্রথম প্রকাশ্যে আসা লন্ডন সফর হিসেবে উল্লেখ করেছে পেজ সিক্স ও পিপল। অন্যদিকে মালালা ইউসুফজাই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। পাকিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে আন্দোলনের কারণে ২০১২ সালে তালেবানের হামলার শিকার হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য তাঁকে যুক্তরাজ্যে নেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি যুক্তরাজ্যেই পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। নারী শিক্ষা ও মানবাধিকারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান মালালা। তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ী হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে মালালা ফান্ডের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। অন্যদিকে মেগান মার্কেলও বিভিন্ন সময়ে নারী অধিকার, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন। ফলে তাঁদের আগের পরিচয় এবং সামাজিক কাজের অভিন্ন ক্ষেত্রের কারণে এবারের সাক্ষাৎ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে লন্ডনের ক্ল্যারিজেস হোটেলে তাঁদের সাক্ষাতের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পেজ সিক্স, পিপল এবং ইউএস উইকলির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আপাতত এটি দুই পরিচিত ব্যক্তিত্বের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ বলেই মনে হচ্ছে। নতুন কোনো সহযোগিতা বা আনুষ্ঠানিক প্রকল্পের ঘোষণা আসেনি। লন্ডনে মেগান মার্কেলের সাম্প্রতিক উপস্থিতি এবং মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে তাঁর পুনর্মিলন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে অতীতে তাঁদের যৌথ কাজের কারণে ভবিষ্যতে আবারও একসঙ্গে কোনো উদ্যোগে দেখা যাবে কি না, সে বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিউ জার্সির কর্মজীবী ও নিয়মিত ট্রেনযাত্রীদের জন্য আবারও উদ্বেগের খবর এসেছে। ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত নিউ জার্সি ট্রানজিট মোট ১ হাজার ৭১৫টি ট্রেন বাতিল করেছে। গত বছরের একই সময়ে বাতিল হয়েছিল ১ হাজার ৬৪৬টি ট্রেন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাতিলের সংখ্যা আরও বেড়েছে। নিউ জার্সি মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের গ্রীষ্মে অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং শক্তিশালী ঝড় ট্রেন চলাচলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করেছে। বিশেষ করে জুলাই মাসে প্রচণ্ড গরম ও ঝড়ের কারণে বাতিল ট্রেনের সংখ্যা বেড়ে যায়। শুধু আবহাওয়াই নয়, পুরোনো ট্রেন ও যন্ত্রপাতিও সমস্যার বড় কারণ। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ৪৫৯টি ট্রেন চলেনি। যদিও এই সংখ্যা গত বছরের ৬৩৪টির তুলনায় কম, তবু পুরোনো রেল বহর নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ জার্সি ট্রানজিটের কিছু ট্রেন কয়েক দশক ধরে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু ট্রেন প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে চলাচল করছে। পুরোনো ট্রেনের যন্ত্রাংশ পাওয়া কঠিন হওয়ায় মেরামতের কাজও অনেক সময় জটিল হয়ে পড়ে। চরম গরমের সময় রেললাইনের বিভিন্ন অবকাঠামো ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার শক্তিশালী ঝড়ে গাছ পড়ে রেললাইন ও বিদ্যুৎ সরবরাহের তার ক্ষতিগ্রস্ত হলে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। এবারের গ্রীষ্মে আবহাওয়াজনিত কারণে ৬৫৭টি ট্রেন বাতিল হয়েছে। গত বছর একই ধরনের কারণে বাতিল হয়েছিল ২৮৮টি ট্রেন। চলতি বছরের এই সংখ্যা ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বেশি। আমট্রাকের সমস্যাও কিছু ক্ষেত্রে নিউ জার্সি ট্রানজিটের ওপর প্রভাব ফেলেছে। নিউ জার্সি ট্রানজিটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুট আমট্রাকের মালিকানাধীন রেলপথ ও অবকাঠামো ব্যবহার করে। অতিরিক্ত গরমে বিদ্যুৎ সরবরাহের তারে সমস্যা হলে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। কর্মী সংকটও আরেকটি বিষয়। বিশেষ করে ট্রেন চালকদের প্রশিক্ষণ দিতে দীর্ঘ সময় লাগে। নতুন একজন চালককে পুরোপুরি প্রশিক্ষিত করতে প্রায় ২০ মাস সময় লাগতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অবসর নেওয়া কর্মীদের জায়গায় নতুন কর্মী দ্রুত তৈরি করা তাই সহজ নয়। নিউ জার্সি ট্রানজিট অবশ্য পুরোনো ট্রেনের সমস্যা সমাধানে নতুন ট্রেন কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সংস্থাটি মোট ৩৭৪টি নতুন বহুতল ট্রেনের বগি কেনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রথম নতুন ট্রেন চলতি বছর চালু করার প্রত্যাশা রয়েছে। নিউ জার্সিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় পরিবারের জন্য এই খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। যারা প্রতিদিন ট্রেনে নিউইয়র্ক, জার্সি সিটি বা আশপাশের কর্মস্থলে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য ট্রেন বাতিল বা বিলম্ব মানে কর্মস্থলে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় এবং বিকল্প পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ। বর্তমানে নিউ জার্সি ট্রানজিটের বিভিন্ন রেলপথ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে বলে সংস্থার বর্তমান পরিষেবা তথ্য জানাচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট দিনে নির্মাণকাজ বা অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে কিছু রুটে পরিবর্তন থাকতে পারে। তাই নিয়মিত ট্রেনযাত্রীদের যাত্রার আগে পরিষেবার সর্বশেষ অবস্থা দেখে বের হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মস্থলে সময়মতো পৌঁছানো জরুরি হলে বিকল্প ট্রেন বা বাসের ব্যবস্থা আগে থেকে জানা থাকলে ভোগান্তি কমানো সম্ভব।
নিউইয়র্কে হামের সংক্রমণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজ্যজুড়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল সরকারের সহায়তা চেয়েছেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, টিকা না নেওয়া বা পর্যাপ্ত টিকা না পাওয়া মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। নিউইয়র্ক রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১০৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জুলাইয়ের পর নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৯২ জন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকার ১৮টি জেলার বাসিন্দা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিউইয়র্ক ইতোমধ্যে রাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে মানুষের জন্য টিকা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো এবং সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। গভর্নর হোকুলের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক মন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র ফেডারেল সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি নিউইয়র্কের গভর্নরকে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক এরিকা শোয়ার্টজের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা হাম প্রতিরোধে এমএমআর টিকা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টিকা হাম, মাম্পস ও রুবেলা প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকলেও টিকা না নেওয়া মানুষের মধ্যে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ নিয়ে বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিউইয়র্কে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য তাই শিশুদের টিকা নেওয়ার অবস্থা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। স্কুলে যাওয়া শিশু, শিশুদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকা ব্যক্তি এবং টিকা না নেওয়া মানুষের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা দরকার। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিউইয়র্কের বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষ করে অভিবাসী ও প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে কারও টিকা নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত না থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় টিকা ও স্বাস্থ্যপরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। এদিকে নিউইয়র্কের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য রাজ্যেও হামের সংক্রমণ নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নজর রাখছেন। ফেডারেল ও রাজ্য স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গুজবের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসক ও সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ অনুসরণ করা। বিশেষ করে শিশুদের টিকা সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ রাখা এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া নিরাপদ।
যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। এর ফলে সামনে গ্যাসোলিন ও ঘর গরম করার জ্বালানির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৪ ডলারের ওপরে উঠে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির মানুষের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিদিন গাড়িতে অফিস, স্কুল, ব্যবসা বা অন্যান্য কাজে যাতায়াত করা পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে জ্বালানির খরচ সরাসরি প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের খুচরা দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও জ্বালানি ব্যয়ের চাপ বেড়েছে। এর সঙ্গে টোল, পার্কিং ও অন্যান্য যাতায়াত ব্যয় যোগ হওয়ায় নিয়মিত গাড়ি ব্যবহারকারীদের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। এর প্রভাব শুধু গাড়ির মালিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে। পরে সেই বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব পণ্য পরিবহন, খাবার ও অন্যান্য দৈনন্দিন পণ্যের দামেও পড়তে পারে। নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি অঞ্চলে জীবনযাত্রার খরচ এমনিতেই বেশি। নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি অঞ্চলের ভোক্তা মূল্য আগস্ট পর্যন্ত এক বছরে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে জ্বালানির দাম বেড়েছিল ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। তাই যারা প্রতিদিন দীর্ঘ দূরত্বে গাড়ি চালিয়ে কাজে যান, তাদের জন্য সামনে জ্বালানি খরচের দিকে বিশেষ নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে রসায়ন নিয়ে উচ্চশিক্ষার শুরু। এরপর থাইল্যান্ড হয়ে জাপানে গবেষণার দীর্ঘ পথচলা। ন্যানোপ্রযুক্তি, শক্তি রূপান্তর, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সেন্সিং প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে গবেষণা করে জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিজের অবস্থান গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. মোঃ জাহিদুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি জাপানের ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওতে বিশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। এর আগে দেশটির নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী অধ্যাপক হিরোশি আমানোর গবেষণাগোষ্ঠীর একটি উপদলেও কাজ করেছেন তিনি। জাপানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংস্থা পরিচালিত গবেষক তথ্যভান্ডার জে গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওর ল্যাবরেটরি ফর বায়োম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড বায়োইঞ্জিনিয়ারিংয়ে যুক্ত রয়েছেন ড. জাহিদুল। সেখানে উন্নত উপাদান, ন্যানোপ্রযুক্তি ও জৈব উপাদানভিত্তিক গবেষণার সঙ্গে তাঁর কাজের সংযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে রসায়নে উচ্চশিক্ষার মধ্য দিয়ে তাঁর একাডেমিক জীবনের সূচনা হয়। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান থাইল্যান্ডে। দেশটির রাজামঙ্গলা ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থান্যাবুরি থেকে ২০১৪ সালে রসায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরবর্তী গন্তব্য ছিল জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে ২০১৮ সালে রাসায়নিক ব্যবস্থা প্রকৌশলে ডক্টর অব ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। ডক্টরাল গবেষণায় তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল দ্রবণ প্লাজমা প্রযুক্তির সাহায্যে ন্যানোকার্বন ও কার্বনভিত্তিক উন্নত উপাদান তৈরি। এসব উপাদান কীভাবে শক্তি রূপান্তর ও তড়িৎ অনুঘটন প্রক্রিয়ায় কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও গবেষণা করেন তিনি। বিশেষ করে জ্বালানি কোষ ও লিথিয়াম এয়ার ব্যাটারির মতো উন্নত শক্তি প্রযুক্তিতে এসব উপাদানের সম্ভাব্য ব্যবহার ছিল তাঁর গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। ডক্টরেট সম্পন্ন করার পর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড সিস্টেমস ফর সাসটেইনেবিলিটিতে গবেষক হিসেবে কাজ শুরু করেন জাহিদুল ইসলাম। প্রাপ্ত জীবনবৃত্তান্তের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী অধ্যাপক হিরোশি আমানোর গবেষণাগোষ্ঠীর একটি উপদলে পোস্টডক্টরাল গবেষণার সুযোগ পান তিনি। অধ্যাপক হিরোশি আমানো ২০১৪ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। নীল আলো নির্গমনকারী কার্যকর এলইডি উদ্ভাবনে অবদানের জন্য ইসামু আকাসাকি ও শুজি নাকামুরার সঙ্গে যৌথভাবে তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁদের উদ্ভাবন বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ও দীর্ঘস্থায়ী আধুনিক এলইডি বাতি তৈরির পথ সুগম করে। জাপানের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা জাহিদুল ইসলামের গবেষণাজীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে। নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষণাপর্বে তিনি উন্নত উপাদানবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক উপাদান নিয়ে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের এপ্রিলে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইলেকট্রনিক্স বিভাগে গবেষক হিসেবে যুক্ত হন। সেখানে ন্যানো উপাদান ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের কার্যকারিতা নিয়ে তাঁর গবেষণার পরিসর আরও বিস্তৃত হয়। এই গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিভিন্ন উপাদানের গঠন ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের কার্যক্ষমতার সম্পর্ক বোঝা। ফলে রসায়নভিত্তিক উপাদান গবেষণার পাশাপাশি বাস্তব প্রযুক্তিতে সেসব উপাদানের ব্যবহার নিয়েও কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়। ২০২১ সালের জুনে জাপান অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির স্কুল অব ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্সে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। সেখানে ২০২৩ সালের মে পর্যন্ত গবেষণা করেন। এই সময় তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল গ্রাফিনভিত্তিক ফিল্ড ইফেক্ট ট্রানজিস্টর, গ্যাস শনাক্তকরণ এবং উন্নত ইলেকট্রনিক সেন্সর। গ্রাফিন অত্যন্ত পাতলা কার্বনভিত্তিক একটি উপাদান, যার বিশেষ বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সেন্সর তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে কাজ চলছে। জাহিদুল ইসলামের গবেষণাতেও গ্রাফিনভিত্তিক ডিভাইস ব্যবহার করে গ্যাস শনাক্তকরণ প্রযুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। দীর্ঘ পোস্টডক্টরাল গবেষণার পর ২০২৩ সালের জুনে আবার নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন তিনি। এবার যোগ দেন গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে। সেখানে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এই পর্যায়ে উন্নত কার্যকরী ন্যানো উপাদান তৈরি, সেগুলোর গঠন ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ এবং তড়িৎ রাসায়নিক কার্যকারিতা পরীক্ষার মতো বিষয়ে গবেষণা চালিয়ে যান তিনি। শক্তি উৎপাদন, রূপান্তর ও সংরক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রযুক্তিতে নতুন উপাদানের সম্ভাব্য ব্যবহারও তাঁর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে টোকিও মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব বায়োম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড বায়োইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যুক্ত হন। একই বছরের অক্টোবরে টোকিও মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল ইউনিভার্সিটি ও টোকিও ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একীভূত হওয়ার মাধ্যমে ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিও প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একই পদে তাঁর একাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওতে তাঁর গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জৈব উপাদান, পলিমার এবং নরম পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়। এর ফলে রসায়ন, উপাদানবিজ্ঞান, শক্তি প্রকৌশল ও ইলেকট্রনিক্সে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে আরও বিস্তৃত গবেষণাক্ষেত্রে কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েছেন তিনি। জাহিদুল ইসলামের গবেষণার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, একটি উপাদান তৈরি থেকে শুরু করে তার গঠন, রাসায়নিক ও বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য নির্ণয় এবং বাস্তব প্রযুক্তিতে ব্যবহারের সম্ভাবনা পরীক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে কাজ করা। গবেষণার প্রয়োজনে তিনি ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ, স্ক্যানিং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ, অ্যাটমিক ফোর্স মাইক্রোস্কোপ, রামান স্পেকট্রোস্কপি এবং এক্স রে ডিফ্র্যাকশনের মতো উন্নত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এসব প্রযুক্তির সাহায্যে ন্যানো উপাদানের গঠন ও বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম পর্যায়ে বিশ্লেষণ করা সম্ভব। তড়িৎ রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পরীক্ষামূলক পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রোকেমিক্যাল ইম্পিড্যান্স স্পেকট্রোস্কপি ও সাইক্লিক ভোল্টামেট্রি। ব্যাটারি, জ্বালানি কোষ এবং তড়িৎ অনুঘটনভিত্তিক প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত উপাদানের কার্যকারিতা মূল্যায়নে এসব পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গবেষণাপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। জাপানের জে গ্লোবাল গবেষক তথ্যভান্ডারে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪১টি গবেষণা প্রকাশনার তথ্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রকাশনাগুলোর মধ্যে ন্যানো উপাদানভিত্তিক তড়িৎ রাসায়নিক সেন্সর, সামুদ্রিক জৈব উপাদান থেকে তৈরি কার্বনের মাধ্যমে শক্তি সংরক্ষণ এবং বিশেষ ধরনের পলিমার ন্যানোফাইবারের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা নিয়ে গবেষণা রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তাঁর সহগবেষকেরা বিশেষ ধরনের জৈব পলিমার ন্যানোফাইবার দিয়ে তৈরি জেল ও পাতলা স্তরের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা নিয়ে কাজ করেছেন। এই গবেষণার সঙ্গে টিস্যু পুনর্গঠনের মতো জৈব চিকিৎসা প্রযুক্তির সম্ভাব্য সম্পর্কও রয়েছে। বাংলাদেশে রসায়নে উচ্চশিক্ষা থেকে থাইল্যান্ডে স্নাতকোত্তর, এরপর জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরেট, একাধিক পোস্টডক্টরাল গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা। ড. মোঃ জাহিদুল ইসলামের একাডেমিক পথচলায় রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গবেষণাক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা। নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর গবেষণাগোষ্ঠীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে শক্তি প্রযুক্তি, ন্যানো উপাদান, গ্রাফিনভিত্তিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও জৈব উপাদান নিয়ে গবেষণা, সব মিলিয়ে তাঁর কর্মজীবন বিস্তৃত হয়েছে বিজ্ঞানের একাধিক শাখায়। বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গন থেকে যাত্রা শুরু করে জাপানের আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিবেশে শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত হওয়ার এই পথচলা বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি গবেষকদের অবদানের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সূত্র: পাবলিকিয়ান
নিউইয়র্কে সন্তান সামলানোর পাশাপাশি ঘরে বসে আয় করতে চান অনেক বাংলাদেশি মা। তাঁদের জন্য সম্ভাবনাময় একটি মাধ্যম হতে পারে অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন। নিজের পণ্য বিক্রি থেকে শুরু করে অন্যের পণ্য প্রচারের মাধ্যমে কমিশন আয়, ঘরে বসেই এসব ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে মাত্র ৩০ দিনে ৫ হাজার ডলার আয়ের নানা গল্প। কিন্তু বাস্তবে অ্যামাজনে ব্যবসা শুরু করা কতটা সহজ, কত টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং নতুন উদ্যোক্তাদের আয়ের সম্ভাবনাই বা কতটুকু? অ্যামাজনের মাধ্যমে ব্যবসার অন্যতম পরিচিত পদ্ধতি হলো ফুলফিলমেন্ট বাই অ্যামাজন বা এফবিএ। এই ব্যবস্থায় উদ্যোক্তা নিজে পণ্য সংগ্রহ করে অ্যামাজনের ওয়্যারহাউসে পাঠান। ক্রেতারা অর্ডার করলে পণ্য সংরক্ষণ, প্যাকিং, ডেলিভারি এবং সংশ্লিষ্ট অনেক গ্রাহকসেবার দায়িত্ব সামলায় অ্যামাজন। ফলে যাঁরা চাকরি বা সংসারের ব্যস্ততার কারণে প্রতিদিন পণ্য প্যাকিং ও শিপিং করতে পারেন না, তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি সুবিধাজনক হতে পারে। তবে ওয়্যারহাউসে পণ্য পাঠিয়ে দিলেই ব্যবসা সফল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। পণ্য নির্বাচন, দাম নির্ধারণ, প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞাপন এবং গ্রাহকের চাহিদার ওপর নির্ভর করে বিক্রি। অন্য একটি পদ্ধতি হলো ফুলফিলমেন্ট বাই মার্চেন্ট বা এফবিএম। এখানে উদ্যোক্তা নিজেই পণ্য সংরক্ষণ, প্যাকিং ও ডেলিভারির ব্যবস্থা করেন। ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করতে চাইলে এই পদ্ধতি বিবেচনা করা যায়। তবে অর্ডার বাড়লে প্যাকিং, শিপিং ও রিটার্ন সামলানোর চাপও বাড়তে পারে। নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যে রিটেইল আরবিট্রাজ এবং অনলাইন আরবিট্রাজও পরিচিত। এসব পদ্ধতিতে তুলনামূলক কম দামে বৈধভাবে সংগ্রহ করা পণ্য অ্যামাজনে পুনরায় বিক্রির চেষ্টা করা হয়। তবে সব ব্র্যান্ড বা পণ্য অবাধে বিক্রির অনুমতি নেই। কিছু পণ্যের জন্য অ্যামাজনের অনুমোদন, গ্রহণযোগ্য সাপ্লায়ারের ইনভয়েস এবং নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে চলতে হয়। তৃতীয় আরেকটি সুযোগ হলো অ্যামাজন ইনফ্লুয়েন্সার প্রোগ্রাম। এটি সরাসরি পণ্য কেনাবেচার ব্যবসা থেকে আলাদা। এখানে যোগ্য কনটেন্ট ক্রিয়েটররা পণ্য সম্পর্কে ভিডিও বা অন্যান্য কনটেন্ট তৈরি করে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী কমিশন আয় করতে পারেন। তবে প্রোগ্রামে অনুমোদন পাওয়া, কনটেন্টের গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্রেতাদের কেনাকাটার ওপর আয় নির্ভর করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু উদ্যোক্তার বছরে এক লাখ ডলার বা তার বেশি আয়ের গল্প প্রচার করা হয়। আবার সন্তানকে ঘুম পাড়িয়ে অবসর সময়ে কাজ করে কয়েক মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা গড়ে তোলার দাবিও বিভিন্ন উদ্যোক্তা বিষয়ক কনটেন্টে দেখা যায়। কিন্তু এসব ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্পকে নতুন উদ্যোক্তাদের সাধারণ আয়ের চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি মায়েরা অ্যামাজনে ব্যবসা করে নিয়মিত কত আয় করছেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কমিউনিটিভিত্তিক কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের মধ্যে কতজন ইতিমধ্যে এই ব্যবসায় সফল হয়েছেন বা মাসে কত আয় করছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। অনলাইন ব্যবসা নিয়ে গবেষণা ও তথ্য প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান জাঙ্গল স্কাউটের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে অ্যামাজন বিক্রেতাদের আয় ও বিনিয়োগ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। প্রতিষ্ঠানটির জরিপে অংশ নেওয়া বিক্রেতাদের ২৫ শতাংশ জানিয়েছিলেন, তাঁরা এক হাজার ডলারের কম অর্থ বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। আর ৬৪ শতাংশ বিক্রেতার প্রাথমিক বিনিয়োগ ছিল পাঁচ হাজার ডলারের কম। অর্থাৎ অ্যামাজনে ব্যবসা শুরু করতে প্রত্যেকের তিন হাজার থেকে দশ হাজার ডলার বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক নয়। তবে নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য তৈরি, বড় পরিসরে ইনভেন্টরি কেনা এবং বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যবসা শুরু করতে চাইলে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। একই জরিপে ৫৮ শতাংশ বিক্রেতা জানিয়েছেন, ব্যবসা শুরুর প্রথম বছরের মধ্যে তাঁরা লাভের মুখ দেখেছেন। অন্যদিকে ১৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁদের ব্যবসা তখনো লাভজনক হয়নি। জরিপের এই ফলাফল নতুন উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যৎ আয়ের নিশ্চয়তা দেয় না। জাঙ্গল স্কাউটের ২০২৫ সালের গবেষণাতেও অ্যামাজন ব্যবসায় ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির জরিপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ব্যবসার প্রতিনিধিরা পণ্য সংগ্রহ, শিপিং এবং বিজ্ঞাপনের খরচ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফলে শুধু বিক্রির পরিমাণ বাড়ানো নয়, ব্যবসার প্রকৃত লাভ হিসাব করাও গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে ৩০ দিনে পাঁচ হাজার ডলার আয়ের প্রচারণা কতটা বাস্তবসম্মত? বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, অ্যামাজনে এত পরিমাণ বিক্রি করা সম্ভব হলেও নতুন একজন বিক্রেতার প্রথম মাসেই এই অঙ্কের লাভ হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। এখানে বিক্রি ও লাভের মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি। উদাহরণ হিসেবে, কোনো উদ্যোক্তা এক মাসে পাঁচ হাজার ডলারের পণ্য বিক্রি করলে সেই পুরো অর্থ তাঁর আয় বা লাভ নয়। পণ্য কেনার দাম, অ্যামাজনের ফি, শিপিং, বিজ্ঞাপন, রিটার্ন এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাদ দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে, সেটিই ব্যবসার প্রকৃত লাভ। অ্যামাজনের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রেতাদের জন্য দুটি প্রধান সেলিং প্ল্যান রয়েছে। ইন্ডিভিজুয়াল প্ল্যানে প্রতি পণ্য বিক্রিতে ৯৯ সেন্ট ফি দিতে হয়। অন্যদিকে প্রফেশনাল প্ল্যানে মাসিক চার্জ ৩৯ ডলার ৯৯ সেন্ট। এর বাইরে পণ্যের ক্যাটাগরি অনুযায়ী রেফারেল ফি এবং এফবিএ ব্যবহার করলে অতিরিক্ত খরচ প্রযোজ্য হতে পারে। কোন পণ্য বিক্রি করবেন, সেটিও ব্যবসা শুরুর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। হিজাব, বেবি প্রোডাক্ট, কিচেন গ্যাজেট কিংবা ফোন অ্যাকসেসরিজের মতো পণ্য নিয়ে উদ্যোক্তারা বাজার যাচাই করতে পারেন। তবে এসব ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা, পণ্যের মান, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পর্কে আগে জানা জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ব্যবহার্য পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মকানুন প্রযোজ্য হতে পারে। আবার অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে অ্যামাজনের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের শর্ত থাকতে পারে। তাই শুধু কম দামে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে বলেই বড় অর্ডার দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যবসা নিবন্ধন ও ট্যাক্স সংক্রান্ত নিয়ম। অ্যামাজনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সেলার অ্যাকাউন্ট খুলতে এলএলসি থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ব্যক্তিগত পরিচয়েও অ্যামাজনে সেলার হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। তবে এলএলসি ছাড়া অ্যামাজন অ্যাকাউন্ট খোলা এবং নিউইয়র্কে আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা এক বিষয় নয়। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিবন্ধন, অনুমতি ও ট্যাক্স সংক্রান্ত দায়িত্ব আলাদা হতে পারে। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্সের নিয়ম অনুযায়ী, বাসা থেকে করযোগ্য পণ্য বিক্রি করলেও সাধারণভাবে সেলস ট্যাক্সের জন্য নিবন্ধন প্রয়োজন হতে পারে। এমনকি শুধু অ্যামাজনের মতো মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে বিক্রি করলেও নিউইয়র্কভিত্তিক বিক্রেতাদের জন্য সার্টিফিকেট অব অথরিটি প্রয়োজন হতে পারে। অ্যামাজন নির্দিষ্ট বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে সেলস ট্যাক্স সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করলেও বিক্রেতার নিজস্ব নিবন্ধন ও ট্যাক্স রিটার্ন সংক্রান্ত দায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না। অ্যামাজন সেলার অ্যাকাউন্ট খোলার সময় সাধারণত পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রযোজ্য ট্যাক্স তথ্য দিতে হয়। ব্যবসার কাঠামো অনুযায়ী ইআইএন প্রয়োজন হতে পারে, তবে প্রত্যেক ব্যক্তিগত বিক্রেতার জন্য আলাদা ইআইএন বাধ্যতামূলক নয়। যাঁরা নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রি করতে চান, তাঁদের জন্য ট্রেডমার্ক এবং অ্যামাজন ব্র্যান্ড রেজিস্ট্রি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে সাধারণভাবে পণ্য বিক্রির জন্য ট্রেডমার্ক বা ব্র্যান্ড রেজিস্ট্রি বাধ্যতামূলক নয়। ব্র্যান্ড রেজিস্ট্রিতে যোগ দেওয়ার জন্য অ্যামাজনের নির্ধারিত ট্রেডমার্ক সংক্রান্ত যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। ব্যবসা শুরু করার আগে পণ্যের বাজারদর, প্রতিযোগী বিক্রেতা, সম্ভাব্য লাভ এবং অ্যামাজনের বিভিন্ন ফি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন নতুন উদ্যোক্তারা। এ ক্ষেত্রে জাঙ্গল স্কাউটের মতো প্রোডাক্ট রিসার্চ টুল ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি অ্যামাজনের নিজস্ব রেভিনিউ ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির সম্ভাব্য খরচ ও আয়ের একটি হিসাবও করা সম্ভব। তবে এসব টুলের পূর্বাভাস নিশ্চিত বিক্রির নিশ্চয়তা দেয় না। নতুন পণ্যের চাহিদা প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে ইনভেন্টরি অবিক্রীত থেকে যেতে পারে। আবার বিজ্ঞাপনের খরচ বেড়ে গেলে ভালো বিক্রির পরও লাভ কমে যেতে পারে। অনলাইন ব্যবসা নিয়ে ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ভিডিও এবং দ্রুত আয়ের প্রচারণা দেখা যায়। কোনো কোনো কনটেন্টে তিন মাসে দশ হাজার ডলার বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এসব ভিডিও ব্যবসার প্রাথমিক ধারণা দিতে পারলেও এগুলোকে নিশ্চিত আয়ের পরিকল্পনা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বেশি দামে কোর্স কেনা বা ঋণ নিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য সংগ্রহের আগে ব্যবসার প্রকৃত খরচ ও ঝুঁকি যাচাই করা প্রয়োজন। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি মায়েদের জন্য ঘরে বসে অ্যামাজনভিত্তিক ব্যবসা একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প আয়ের পথ হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা সংসার ও সন্তান সামলানোর পাশাপাশি নিজের সময় অনুযায়ী কাজ করতে চান, তাঁদের জন্য ছোট পরিসরে শুরু করে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। তবে ব্যবসার জন্য পর্যাপ্ত সময়, প্রাথমিক বিনিয়োগ, বাজার সম্পর্কে ধারণা এবং নিয়মিত হিসাব রাখার সক্ষমতা প্রয়োজন। সন্তান ঘুমিয়ে থাকার কয়েক ঘণ্টা কাজে লাগিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হলেও ব্যবসার দায়িত্ব কেবল ওই সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সব মিলিয়ে অ্যামাজনে ৩০ দিনে পাঁচ হাজার ডলার আয়ের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু এটিকে সাধারণ বা নিশ্চিত উপার্জন হিসেবে প্রচার করারও ভিত্তি নেই। বরং বাস্তবসম্মত বিনিয়োগ, সঠিক পণ্য নির্বাচন, অ্যামাজনের নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা এবং আয়ব্যয়ের হিসাব রাখাই নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে যাঁরা এ ধরনের ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য অ্যামাজন সেলার সেন্ট্রালের নির্দেশনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একজন সিপিএ বা ব্যবসা বিষয়ক পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া কার্যকর হতে পারে। কারণ অনলাইন ব্যবসায় সফল হওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রথম মাস থেকেই নিয়মিত আয় বা মুনাফা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নতুন একটি চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে কর্মীদের ছাঁটাই তুলনামূলক কম, অন্যদিকে নতুন কর্মী নিয়োগের গতি ধীর হয়ে গেছে। ফলে চাকরি থাকা মানুষের জন্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলেও যারা নতুন চাকরি খুঁজছেন, তাদের জন্য প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে উঠছে। শ্রম বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বেকার ভাতার আবেদন ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার। আগের সপ্তাহের সংশোধিত সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার। টানা চার সপ্তাহ ধরে নতুন আবেদন ২ লাখের নিচে রয়েছে। এটি চাকরির বাজারে ছাঁটাই কম থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। তবে একই সময়ে নতুন নিয়োগের গতি দুর্বল। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মাত্র ২৯ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে, যা আগস্টের ১ লাখ ৩৩ হাজারের তুলনায় অনেক কম। আরেকটি বিষয় চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে যারা চাকরি খুঁজছেন, তাদের সংখ্যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থাৎ চাকরি হারানোর পর দ্রুত নতুন কাজে যোগ দেওয়া সবার জন্য সহজ হচ্ছে না। অন্যদিকে দক্ষ কর্মীর ঘাটতিও তৈরি হচ্ছে। নির্মাণ, বৈদ্যুতিক কাজ, প্লাম্বিং, যন্ত্রপাতি পরিচালনা ও কারিগরি পেশায় কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। বয়স বাড়ার কারণে অভিজ্ঞ কর্মীদের একটি অংশ অবসরে যাচ্ছে, আর অভিবাসন নীতির পরিবর্তনও কিছু খাতে কর্মী সরবরাহে প্রভাব ফেলছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক জরিপেও দেখা গেছে, চাকরি হারানোর আশঙ্কা কিছুটা কমেছে এবং চাকরি হারালে নতুন চাকরি পাওয়ার প্রত্যাশা সামান্য বেড়েছে। তবে একই সময়ে পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: এখন শুধু সাধারণ অফিসের চাকরির পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, বৈদ্যুতিক কাজ, যন্ত্রপাতি মেরামত, পরিবহন ও কারিগরি দক্ষতার চাকরিগুলোর দিকেও নজর দেওয়া যেতে পারে। তবে কোনো চাকরির জন্য আবেদন করার আগে নিয়োগদাতা ও বেতনের তথ্য যাচাই করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশিসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাইপেন্ড, টিউশন ফি কমানোর সুবিধা এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্সসহ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব গ্র্যাজুয়েট এডুকেশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য বছরে আনুমানিক ৩৩ হাজার ৭১৭ ডলার এবং মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য ২৭ হাজার ৫১৭ ডলার সমমূল্যের আর্থিক সুবিধা নির্ধারিত রয়েছে। তবে এটি সরাসরি শিক্ষার্থীর হাতে দেওয়া সম্পূর্ণ অর্থ নয়। মোট হিসাবের মধ্যে স্টাইপেন্ডের পাশাপাশি টিউশন, নির্ধারিত ফি এবং স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং অঙ্গরাজ্যের ল্যারামি শহরে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ও গবেষণামূলক কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এই কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকতার কাজে সহায়তা, গবেষণা পরিচালনা, ল্যাবের দায়িত্ব পালন, শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়ন এবং অন্যান্য একাডেমিক কাজে যুক্ত থাকতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সাধারণত সপ্তাহে গড়ে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। এর বিনিময়ে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত স্টাইপেন্ড এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পান। পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত হিসাবে বছরে আনুমানিক ২১ হাজার ৭৬২ ডলার স্টাইপেন্ড নির্ধারিত রয়েছে। এর সঙ্গে টিউশন, নির্ধারিত ফি এবং স্টুডেন্ট হেলথ ইন্স্যুরেন্স বাবদ আরও প্রায় ১১ হাজার ৯৫৫ ডলার সমমূল্যের সুবিধা যোগ হয়। সব মিলিয়ে একজন পূর্ণাঙ্গ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া পিএইচডি শিক্ষার্থীর বার্ষিক আর্থিক প্যাকেজের আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় ৩৩ হাজার ৭১৭ ডলার। অন্যদিকে মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য বছরে আনুমানিক ১৫ হাজার ৬৪২ ডলার স্টাইপেন্ড নির্ধারিত রয়েছে। এর সঙ্গে টিউশন, নির্ধারিত ফি এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্স বাবদ প্রায় ১১ হাজার ৯৫৫ ডলার সমমূল্যের সুবিধা যুক্ত হয়ে মোট প্যাকেজের আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় ২৭ হাজার ৫১৭ ডলার। বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্ট করেছে, এসব অঙ্ক একটি অ্যাকাডেমিক বছরের জন্য প্রকাশিত আনুমানিক ন্যূনতম হিসাব। কোনো বিভাগে পর্যাপ্ত ফান্ডিং থাকলে শিক্ষার্থীরা এর চেয়েও বেশি স্টাইপেন্ড পেতে পারেন। তবে সব শিক্ষার্থী একই পরিমাণ সুবিধা পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ধরন, কাজের সময়, বিভাগীয় বাজেট এবং ফান্ডিংয়ের উৎস অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে টিউশন ওয়েভারের বিষয়টি শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে বোঝা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, স্কুল অব গ্র্যাজুয়েট এডুকেশনের অর্থায়নে পরিচালিত অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে সাধারণত সর্বোচ্চ ১২ গ্র্যাজুয়েট ক্রেডিট আওয়ার পর্যন্ত নির্ধারিত টিউশন ও বাধ্যতামূলক ফি কমানোর সুবিধা দেওয়া হয়। অন্য উৎসের অর্থায়নে পরিচালিত অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে এই সীমা ভিন্ন হতে পারে। এছাড়া কিছু ব্যক্তিগত বা আনুষঙ্গিক স্টুডেন্ট ফি শিক্ষার্থীদের নিজেদের বহন করতে হতে পারে। ফলে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পেলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের খরচ সম্পূর্ণ মওকুফ হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট হেলথ ইন্স্যুরেন্সের খরচ বহন করে। তবে আংশিক অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সুবিধার পরিমাণও আনুপাতিকভাবে কমতে পারে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। তবে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে ভর্তি, একাডেমিক যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ইংলিশ ওরাল প্রফিসিয়েন্সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী যোগ্যতা অনুযায়ী অব্যাহতির বিধান রয়েছে। এছাড়া যাঁরা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ পাবেন, তাঁদের দায়িত্ব শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যান্ড লার্নিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হতে পারে। প্রশিক্ষণসংক্রান্ত শর্ত পূরণ না করলে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বাতিলের ঝুঁকিও রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, শিক্ষা, ব্যবসা, সমাজবিজ্ঞান, স্বাস্থ্যবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রাম রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব গ্র্যাজুয়েট এডুকেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে ৯০টির বেশি গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে। তবে সব বিভাগে একই সময়ে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের শূন্যপদ থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ থাকার তথ্য রয়েছে। গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ ধরনের পদে সাধারণত কোনো অধ্যাপকের গবেষণা প্রকল্পে কাজ করতে হয়। গবেষণার বিষয়, শিক্ষার্থীর দক্ষতা এবং প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে বিবেচিত হতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট অধ্যাপকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। অন্যদিকে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ক্ষেত্রে বিভাগীয় শিক্ষকতা ও একাডেমিক কাজে সহযোগিতার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে কোনো বিভাগে ভর্তি হওয়া মানেই অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ নিশ্চিত হওয়া নয়। আবেদন করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রথমে নিজের পছন্দের মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রাম নির্বাচন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিভাগের অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, একাডেমিক ফলাফল এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য শর্ত যাচাই করতে হবে। সাধারণত গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের আবেদনে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, সিভি, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গবেষণার অভিজ্ঞতা বা অন্যান্য ডকুমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে। তবে সব বিভাগের আবেদনপদ্ধতি এক নয়। জিআরই, আইইএলটিএস কিংবা টোফেলের শর্তও প্রোগ্রামভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই একটি বিভাগের যোগ্যতার শর্ত অন্য বিভাগের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য হবে, এমন ধারণা নিয়ে আবেদন করা উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ইন্টারেস্ট ফর্ম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামে জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ফান্ডিংয়ের কাঠামো কোনো নতুন নির্দিষ্টসংখ্যক শূন্যপদ বা সবার জন্য উন্মুক্ত একক স্কলারশিপের বিজ্ঞপ্তি নয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ কর্মসূচির আর্থিক সুবিধার বিবরণ। অর্থাৎ ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে ঠিক কতটি নতুন অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া যাচ্ছে কিংবা কোন বিভাগের আবেদনের শেষ সময় কবে, সে বিষয়ে প্রকাশিত সাধারণ ফান্ডিংয়ের তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না। আগ্রহীদের নিজ নিজ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমানে কোনো পদ খালি আছে কি না, আবেদন করার নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফান্ডিংয়ের সুযোগ সম্পর্কে জানতে হবে। এ বিষয়ে সরাসরি তথ্য জানতে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ের স্কুল অব গ্র্যাজুয়েট এডুকেশনে ইমেইল করা যায়। ইমেইল ঠিকানা GradEd@uwyo.edu। এছাড়া অফিসের ফোন নম্বর ৩০৭-৭৬৬-৬৪৭৮। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে। কারণ এতে একদিকে পড়াশোনার ব্যয় কমানোর সুযোগ থাকে, অন্যদিকে গবেষণা বা শিক্ষকতার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। তবে আবেদন করার আগে নিজের একাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণার আগ্রহ, সম্ভাব্য অধ্যাপকের কাজ এবং বিভাগীয় ফান্ডিংয়ের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে পিএইচডি প্রোগ্রামে গবেষণার বিষয় ও অধ্যাপকের সঙ্গে শিক্ষার্থীর আগ্রহের মিল থাকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মাস্টার্স পর্যায়েও বিভাগীয় চাহিদা এবং উপলব্ধ ফান্ডিংয়ের ওপর অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত হিসাবে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য বছরে প্রায় ৩৩ হাজার ৭১৭ ডলার এবং মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য ২৭ হাজার ৫১৭ ডলার সমমূল্যের সুবিধা থাকলেও এর পুরোটাই নগদ অর্থ নয়। শিক্ষার্থীর হাতে পাওয়া স্টাইপেন্ড এবং টিউশন ও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে আবেদনকারীদের উচিত নির্দিষ্ট বিভাগের অফার লেটারে স্টাইপেন্ডের পরিমাণ, কাজের সময়, টিউশন কভারেজ, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, ফান্ডিংয়ের মেয়াদ এবং নিজের বহন করতে হবে এমন খরচগুলো ভালোভাবে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ের স্কুল অব গ্র্যাজুয়েট এডুকেশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফান্ডিং কাঠামো কার্যকর রয়েছে। তবে প্রকৃত অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া সংশ্লিষ্ট বিভাগে পদের প্রাপ্যতা, ফান্ডিং এবং নিয়োগের শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে।
নিউ জার্সির এনগেলউডে বৃহস্পতিবার ভোরে একটি এনজে ট্রানজিট বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাড়িতে ধাক্কা দিয়েছে। দুর্ঘটনায় বাসটির চালক আহত হয়েছেন এবং তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল প্রায় ৫টা ৪৫ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে। ১৬৬ নম্বর রুটের বাসটি ওরাডেল গ্যারেজ থেকে বের হয়ে দিনের যাত্রা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তখন বাসটি রাস্তায় থাকা অবস্থায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাড়িটির দিকে চলে যায়। দুর্ঘটনার সময় বাসে কোনো যাত্রী ছিলেন না। ফলে যাত্রীদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বাসটি বাড়ির সামনের অংশে গিয়ে আঘাত করে এবং ঘটনাস্থলে জরুরি বিভাগের কর্মীরা ছুটে যান। চালকের আঘাত কতটা গুরুতর, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। বাড়িটির ভেতরে কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রাথমিক প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এনগেলউড পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে। কেন বাসটি রাস্তা ছেড়ে বাড়ির দিকে চলে গেল, সেটি তদন্তের পর পরিষ্কার হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নতুন বেকার ভাতা চাওয়ার আবেদন কমেছে। তবে একই সময়ে নতুন চাকরি তৈরির গতি দুর্বল হয়ে পড়ায় দেশটির কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে নতুন বেকার ভাতা আবেদনের সংখ্যা কমে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদেরা এর আগে প্রায় ২ লাখ আবেদনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ফলে প্রকৃত সংখ্যা পূর্বাভাসের চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে। নতুন আবেদন কমে যাওয়াকে শ্রমবাজারে বড় ধরনের ছাঁটাই না থাকার একটি লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চাকরির বাজারের পুরো চিত্র ইতিবাচক নয়। নতুন কর্মসংস্থান তৈরির গতি ধীর হয়ে যাওয়ায় চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি বেড়েছে মাত্র ২৯ হাজার। অর্থাৎ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের বর্তমান কর্মীদের ধরে রাখলেও নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এই পরিস্থিতি শ্রমবাজারে একটি ভিন্ন ধরনের প্রবণতা তৈরি করেছে। একদিকে বড় ধরনের ছাঁটাই তুলনামূলকভাবে কম, অন্যদিকে নতুন নিয়োগও আগের মতো দ্রুত হচ্ছে না। এর ফলে যারা নতুন চাকরি খুঁজছেন, তাদের চাকরি পেতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে। ধারাবাহিকভাবে বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যাতেও কিছুটা বৃদ্ধি দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে নিয়মিত বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ ১৬ হাজারে পৌঁছেছে। চাকরি খোঁজার সময়ও বেড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে বেকার থাকা ব্যক্তিদের নতুন চাকরি খুঁজে পেতে গড়ে ১১ সপ্তাহের বেশি সময় লেগেছে। অর্থনীতির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকেত, কারণ শ্রমবাজারে চাকরির সুযোগ থাকলেও নিয়োগের গতি কমে গেলে বেকার মানুষের কর্মসংস্থানে ফিরতে বেশি সময় প্রয়োজন হয়। অবসর গ্রহণের প্রবণতা, অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন খাতে নিয়োগের ধীরগতি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারকে প্রভাবিত করছে।তবে নতুন বেকার ভাতা আবেদন কমে যাওয়ায় এখনো ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের কোনো স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। বরং বর্তমান পরিস্থিতিকে কম ছাঁটাই এবং কম নিয়োগের শ্রমবাজার হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন চাকরি খুঁজছেন, কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করতে চাইছেন অথবা প্রশিক্ষণ শেষে চাকরিতে প্রবেশের চেষ্টা করছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য নিয়োগের গতি কমে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান, বেকারত্বের হার, মজুরি বৃদ্ধি এবং নতুন নিয়োগের তথ্য শ্রমবাজারের প্রকৃত অবস্থার আরও পরিষ্কার ধারণা দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যে গর্ভপাতের পর হত্যার অভিযোগে দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগ করা এক নারী অবশেষে ১৬ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। ২০১৮ সালে গর্ভের সন্তান হারানোর পর পেশেন্স রুশো নামের ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ডাদেশ বাতিল করেন। দীর্ঘ আট বছরের আইনি লড়াই শেষে নেভাদার হামবোল্ট কাউন্টি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্ষতিপূরণের সমঝোতা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নেভাদা ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ৩৪ বছর বয়সী পেশেন্স রুশো ২০১৮ সালে নেভাদার উইনেমুকা শহরে বসবাস করতেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৬ বছর। ওই বছরের এপ্রিল মাসে গর্ভের সন্তান হারানোর প্রায় এক মাস পর স্থানীয় শেরিফ অফিসের কর্মকর্তারা তাঁর বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি করা হয়েছিল নেভাদার ১৯১১ সালের একটি পুরোনো আইনের ভিত্তিতে। ওই আইনে গর্ভধারণের ২৪ সপ্তাহ পার হওয়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবে ওষুধ বা অন্য কোনো উপায় ব্যবহার করে গর্ভপাত ঘটানোর ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনার বিধান রয়েছে। ঘটনার শুরু ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তখন দুই সন্তানের মা রুশো জানতে পারেন, তিনি আবারও অন্তঃসত্ত্বা। তবে গর্ভধারণের কত সপ্তাহ পার হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর নিশ্চিত ধারণা ছিল না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশো ওই গর্ভধারণ অব্যাহত রাখতে চাননি। এ কারণে তিনি রেনো শহরের একটি ক্লিনিকে গর্ভপাত করানোর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার আগে তাঁর গাড়ি বিকল হয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টে উপস্থিত হতে পারেননি। পরে ইন্টারনেটে গর্ভপাতের উপায় খুঁজতে শুরু করেন তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশো ভারী জিনিস তোলা এবং অতিরিক্ত দারুচিনি খাওয়ার মতো কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা পরবর্তী সময়ে আদালতে জানান, দারুচিনি খাওয়ার কারণে গর্ভপাত ঘটে, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ওই বছরের এপ্রিল মাসে রুশোর গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়। তিনি একটি মৃত পুত্রসন্তান প্রসব করেন। শিশুটির নাম রেখেছিলেন অ্যাবেল। পরে সন্তানের মরদেহ নিজ বাড়ির পেছনের উঠানে সমাহিত করেন। ঘটনার প্রায় এক মাস পর এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে তথ্য পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ২৬ মে কর্মকর্তারা তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির দেহাবশেষ উদ্ধার করেন। তিন দিন পর রুশোকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের সময় শিশুটির দেহাবশেষে মেথামফেটামিন ও মারিজুয়ানার উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তদন্তকারীরা অভিযোগ করেন, রুশো ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভপাত ঘটানোর উদ্দেশ্যে মাদক ব্যবহার করেছিলেন। তবে মামলার শুনানিতে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, এসব পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেলেও সেগুলোর কারণে গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছিল, এমন প্রমাণ নেই। শিশুটির মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণও নিশ্চিত করা যায়নি। রুশো স্বীকার করেছিলেন, তিনি নিয়মিত মারিজুয়ানা এবং মাঝেমধ্যে মেথামফেটামিন ব্যবহার করতেন। তবে গর্ভপাত ঘটানোর উদ্দেশ্যে এসব মাদক গ্রহণ করেছিলেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ২০১৯ সালে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত ডিফেন্স আইনজীবীর পরামর্শে রুশো অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেন। এরপর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। লাস ভেগাসের ফ্লোরেন্স ম্যাকক্লুর উইমেন্স কারেকশনাল সেন্টারে বন্দি অবস্থায় তাঁকে অন্য কয়েদিদের কাছ থেকে অপমানজনক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে অনেকেই তাঁকে নিজের সন্তান হত্যাকারী হিসেবে দেখতেন। পরবর্তী সময়ে প্রজনন অধিকারবিষয়ক আইনজীবী লরা ফিটজসিমন্স তাঁর মামলার বিষয়ে জানতে পারেন। তিনি রুশোর সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলাটি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেন। নতুন আইনজীবীর যুক্তি ছিল, রুশোর মাদক ব্যবহারের কারণে গর্ভপাত ঘটেছে, এমন কোনো প্রমাণ প্রসিকিউশন আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি। একই সঙ্গে রুশো নিজেই জানতেন না তাঁর গর্ভধারণের ২৪ সপ্তাহ পার হয়েছিল কি না। আইনজীবীরা আরও বলেন, আগের ডিফেন্স আইনজীবী তাঁকে যথাযথ আইনি সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেই যুক্তির ভিত্তিতে ২০২১ সালে তাঁর দণ্ডাদেশ বাতিল করা হয়। একই বছরের ৮ জুলাই কারাগার থেকে মুক্তি পান রুশো। তত দিনে দুই বছরের বেশি সময় তাঁকে বন্দি অবস্থায় কাটাতে হয়েছে। দণ্ডাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তে বিচারক চার্লস ম্যাকগি মামলাটিকে বিচারব্যবস্থার গুরুতর ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, দারিদ্র্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন রুশো। মুক্তির পরও রুশোর দুর্ভোগ শেষ হয়নি। কারাভোগের কারণে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে। দ্য নেভাদা ইনডিপেনডেন্টকে তিনি জানিয়েছেন, কারাগারে থাকার সময় তাঁর দুই সন্তানও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তিনি নতুনভাবে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছেন। এদিকে চলতি বছরের মার্চে রুশোর আইনজীবীরা হামবোল্ট কাউন্টি কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং তিনি গুরুতর মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ আলোচনার পর আগস্ট মাসে ১৬ লাখ ডলারে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। সম্প্রতি সেই অর্থ পেয়েছেন রুশো। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নেভাদা রাজ্য সরকারও তাঁকে এক লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেটি হামবোল্ট কাউন্টির সঙ্গে হওয়া নতুন সমঝোতা থেকে আলাদা। তবে এত অর্থ পাওয়ার পরও হারিয়ে যাওয়া সময় এবং পরিবারের ওপর পড়া ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন রুশো। ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে বাড়ির খরচ মেটানো, নতুন ব্যবসা শুরু করা এবং মায়ের জন্য একটি গাড়ি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এই মামলায় আরও একটি বিতর্কিত অভিযোগ সামনে এসেছে। রুশোর আইনজীবীদের দাবি, তদন্তে যুক্ত একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা গর্ভে মারা যাওয়া শিশুটির দেহাবশেষ নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন। পরে তিনি অন্য অঙ্গরাজ্যে চলে যাওয়ার সময়ও তা সঙ্গে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণ সমঝোতার অংশ হিসেবে ওই দেহাবশেষ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ আদালতে আলাদাভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। রুশোর মামলা যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাতসংক্রান্ত আইন এবং গর্ভের সন্তান হারানোর ঘটনায় ফৌজদারি অভিযোগ আনার সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। নেভাদার যে আইনের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেটি ১৯১১ সালে প্রণীত। প্রজনন অধিকার নিয়ে কাজ করা আইনজীবীদের মতে, আইনটির প্রয়োগ গর্ভপাত ও স্বাভাবিক গর্ভপাতের মধ্যকার পার্থক্য নির্ধারণে গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। তবে রুশোর দণ্ডাদেশ বাতিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে আদালত নেভাদার সংশ্লিষ্ট আইনটি অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন। তাঁর মামলায় পর্যাপ্ত আইনি প্রতিনিধিত্ব না পাওয়ার বিষয়টি দণ্ডাদেশ বাতিলের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল। দীর্ঘ আট বছর পর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার মাধ্যমে রুশোর আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হয়েছে। তবে কারাভোগের কারণে তাঁর পরিবার যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা এখনো তাঁদের জীবনে প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।