- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যে গর্ভপাতের পর হত্যার অভিযোগে দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগ করা এক নারী অবশেষে ১৬ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। ২০১৮ সালে গর্ভের সন্তান হারানোর পর পেশেন্স রুশো নামের ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ডাদেশ বাতিল করেন। দীর্ঘ আট বছরের আইনি লড়াই শেষে নেভাদার হামবোল্ট কাউন্টি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্ষতিপূরণের সমঝোতা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নেভাদা ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ৩৪ বছর বয়সী পেশেন্স রুশো ২০১৮ সালে নেভাদার উইনেমুকা শহরে বসবাস করতেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৬ বছর। ওই বছরের এপ্রিল মাসে গর্ভের সন্তান হারানোর প্রায় এক মাস পর স্থানীয় শেরিফ অফিসের কর্মকর্তারা তাঁর বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি করা হয়েছিল নেভাদার ১৯১১ সালের একটি পুরোনো আইনের ভিত্তিতে। ওই আইনে গর্ভধারণের ২৪ সপ্তাহ পার হওয়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবে ওষুধ বা অন্য কোনো উপায় ব্যবহার করে গর্ভপাত ঘটানোর ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনার বিধান রয়েছে। ঘটনার শুরু ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তখন দুই সন্তানের মা রুশো জানতে পারেন, তিনি আবারও অন্তঃসত্ত্বা। তবে গর্ভধারণের কত সপ্তাহ পার হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর নিশ্চিত ধারণা ছিল না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশো ওই গর্ভধারণ অব্যাহত রাখতে চাননি। এ কারণে তিনি রেনো শহরের একটি ক্লিনিকে গর্ভপাত করানোর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার আগে তাঁর গাড়ি বিকল হয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টে উপস্থিত হতে পারেননি। পরে ইন্টারনেটে গর্ভপাতের উপায় খুঁজতে শুরু করেন তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশো ভারী জিনিস তোলা এবং অতিরিক্ত দারুচিনি খাওয়ার মতো কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা পরবর্তী সময়ে আদালতে জানান, দারুচিনি খাওয়ার কারণে গর্ভপাত ঘটে, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ওই বছরের এপ্রিল মাসে রুশোর গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়। তিনি একটি মৃত পুত্রসন্তান প্রসব করেন। শিশুটির নাম রেখেছিলেন অ্যাবেল। পরে সন্তানের মরদেহ নিজ বাড়ির পেছনের উঠানে সমাহিত করেন। ঘটনার প্রায় এক মাস পর এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে তথ্য পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ২৬ মে কর্মকর্তারা তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির দেহাবশেষ উদ্ধার করেন। তিন দিন পর রুশোকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের সময় শিশুটির দেহাবশেষে মেথামফেটামিন ও মারিজুয়ানার উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তদন্তকারীরা অভিযোগ করেন, রুশো ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভপাত ঘটানোর উদ্দেশ্যে মাদক ব্যবহার করেছিলেন। তবে মামলার শুনানিতে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, এসব পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেলেও সেগুলোর কারণে গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছিল, এমন প্রমাণ নেই। শিশুটির মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণও নিশ্চিত করা যায়নি। রুশো স্বীকার করেছিলেন, তিনি নিয়মিত মারিজুয়ানা এবং মাঝেমধ্যে মেথামফেটামিন ব্যবহার করতেন। তবে গর্ভপাত ঘটানোর উদ্দেশ্যে এসব মাদক গ্রহণ করেছিলেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ২০১৯ সালে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত ডিফেন্স আইনজীবীর পরামর্শে রুশো অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেন। এরপর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। লাস ভেগাসের ফ্লোরেন্স ম্যাকক্লুর উইমেন্স কারেকশনাল সেন্টারে বন্দি অবস্থায় তাঁকে অন্য কয়েদিদের কাছ থেকে অপমানজনক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে অনেকেই তাঁকে নিজের সন্তান হত্যাকারী হিসেবে দেখতেন। পরবর্তী সময়ে প্রজনন অধিকারবিষয়ক আইনজীবী লরা ফিটজসিমন্স তাঁর মামলার বিষয়ে জানতে পারেন। তিনি রুশোর সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলাটি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেন। নতুন আইনজীবীর যুক্তি ছিল, রুশোর মাদক ব্যবহারের কারণে গর্ভপাত ঘটেছে, এমন কোনো প্রমাণ প্রসিকিউশন আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি। একই সঙ্গে রুশো নিজেই জানতেন না তাঁর গর্ভধারণের ২৪ সপ্তাহ পার হয়েছিল কি না। আইনজীবীরা আরও বলেন, আগের ডিফেন্স আইনজীবী তাঁকে যথাযথ আইনি সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেই যুক্তির ভিত্তিতে ২০২১ সালে তাঁর দণ্ডাদেশ বাতিল করা হয়। একই বছরের ৮ জুলাই কারাগার থেকে মুক্তি পান রুশো। তত দিনে দুই বছরের বেশি সময় তাঁকে বন্দি অবস্থায় কাটাতে হয়েছে। দণ্ডাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তে বিচারক চার্লস ম্যাকগি মামলাটিকে বিচারব্যবস্থার গুরুতর ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, দারিদ্র্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন রুশো। মুক্তির পরও রুশোর দুর্ভোগ শেষ হয়নি। কারাভোগের কারণে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে। দ্য নেভাদা ইনডিপেনডেন্টকে তিনি জানিয়েছেন, কারাগারে থাকার সময় তাঁর দুই সন্তানও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তিনি নতুনভাবে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছেন। এদিকে চলতি বছরের মার্চে রুশোর আইনজীবীরা হামবোল্ট কাউন্টি কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং তিনি গুরুতর মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ আলোচনার পর আগস্ট মাসে ১৬ লাখ ডলারে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। সম্প্রতি সেই অর্থ পেয়েছেন রুশো। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নেভাদা রাজ্য সরকারও তাঁকে এক লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেটি হামবোল্ট কাউন্টির সঙ্গে হওয়া নতুন সমঝোতা থেকে আলাদা। তবে এত অর্থ পাওয়ার পরও হারিয়ে যাওয়া সময় এবং পরিবারের ওপর পড়া ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন রুশো। ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে বাড়ির খরচ মেটানো, নতুন ব্যবসা শুরু করা এবং মায়ের জন্য একটি গাড়ি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এই মামলায় আরও একটি বিতর্কিত অভিযোগ সামনে এসেছে। রুশোর আইনজীবীদের দাবি, তদন্তে যুক্ত একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা গর্ভে মারা যাওয়া শিশুটির দেহাবশেষ নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন। পরে তিনি অন্য অঙ্গরাজ্যে চলে যাওয়ার সময়ও তা সঙ্গে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণ সমঝোতার অংশ হিসেবে ওই দেহাবশেষ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ আদালতে আলাদাভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। রুশোর মামলা যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাতসংক্রান্ত আইন এবং গর্ভের সন্তান হারানোর ঘটনায় ফৌজদারি অভিযোগ আনার সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। নেভাদার যে আইনের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেটি ১৯১১ সালে প্রণীত। প্রজনন অধিকার নিয়ে কাজ করা আইনজীবীদের মতে, আইনটির প্রয়োগ গর্ভপাত ও স্বাভাবিক গর্ভপাতের মধ্যকার পার্থক্য নির্ধারণে গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। তবে রুশোর দণ্ডাদেশ বাতিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে আদালত নেভাদার সংশ্লিষ্ট আইনটি অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন। তাঁর মামলায় পর্যাপ্ত আইনি প্রতিনিধিত্ব না পাওয়ার বিষয়টি দণ্ডাদেশ বাতিলের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল। দীর্ঘ আট বছর পর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার মাধ্যমে রুশোর আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হয়েছে। তবে কারাভোগের কারণে তাঁর পরিবার যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা এখনো তাঁদের জীবনে প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের পর্যটন ও গণমাধ্যম অঙ্গনে নতুন একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার সহযোগী সদস্য আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটি এশিয়া অঞ্চলের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশের পর্যটন ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, যিনি ডাল্টন জহির নামে পরিচিত, তাকে নিয়োগ দিয়েছে। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা থেকে ৬ অক্টোবর ২০২৬ এই নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে ৭ ও ৮ অক্টোবর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নতুন দায়িত্বে ডাল্টন জহির এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পর্যটন সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ভিডিও নির্মাতা, সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করবেন। পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে চলচ্চিত্র ও ভিডিওর মাধ্যমে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার বিষয়টি তার দায়িত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় এশিয়ার নির্মাতা ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতেও তিনি কাজ করবেন। এই দায়িত্বের মাধ্যমে এশিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রচারণার সঙ্গে বাংলাদেশের একজন পেশাজীবীর সরাসরি সম্পৃক্ততা তৈরি হলো। ডাল্টন জহির আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র পুরস্কারের কার্যক্রম সম্পর্কে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রচার করবেন এবং পর্যটন প্রতিষ্ঠান ও নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের কাজ তুলে ধরতে সহযোগিতা করবেন। আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির পরিচালক আলেকজান্ডার ভি. কামেল জানিয়েছেন, ডাল্টন জহিরের নিয়োগ এশিয়ায় সংস্থাটির কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করবে। পর্যটন প্রচারণায় মানসম্মত ভিডিও ও দৃশ্যভিত্তিক গল্প বলার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ডাল্টন জহিরের রয়েছে পর্যটন, আতিথেয়তা, গণমাধ্যম এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে ২৫ বছরের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশীয় পর্যটন খাতের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাকে একজন পর্যটন পেশাজীবী, লেখক ও গণমাধ্যম উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিত করা হয়েছে। তার পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক সার্ভিসেস লিমিটেডের হোটেল ব্যবসায় বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়া। এছাড়া দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় হোটেল ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানে তিনি নির্বাহী পর্যায়ে কাজ করেছেন। বহুজাতিক প্রযুক্তি ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পর্যটনভিত্তিক গণমাধ্যম ও ভ্রমণ প্রচারণার ক্ষেত্রেও ডাল্টন জহির দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। ভ্রমণ ও পর্যটনকেন্দ্রিক একাধিক উদ্যোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন সম্ভাবনা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আন্তর্জাতিক যোগাযোগও বিস্তৃত। পর্যটন ও ভ্রমণ খাতের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা প্রকাশিত হয়েছে।বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়ন সংগঠনের নেতৃত্বের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটনকে তুলে ধরার পাশাপাশি এশিয়ার অন্যান্য দেশের পর্যটন পেশাজীবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ তৈরিতে তার অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্বে কাজে লাগবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। ডাল্টন জহির লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত। বিভিন্ন বিষয়ে তার পাঁচটি বই প্রকাশিত হয়েছে বলে নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যটন, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও সৃজনশীল যোগাযোগের বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তাকে নতুন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলোতে তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি বিশ্বের বিভিন্ন পর্যটন ও করপোরেট চলচ্চিত্র উৎসবকে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে। পর্যটন গন্তব্য, পর্যটন পণ্য ও পর্যটনসেবার প্রচারে মানসম্মত ভিডিও নির্মাণকে উৎসাহ দেওয়া তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন দেশের পর্যটন প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞাপনী সংস্থা এবং ভিডিও নির্মাতারা তাদের নির্মিত প্রচারচিত্র জমা দিতে পারেন। বিভিন্ন উৎসবে অর্জিত পুরস্কার ও পয়েন্টের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক তালিকা তৈরি হয় এবং বছরের সেরা পর্যটন চলচ্চিত্রগুলোকে বিশ্ব পর্যটন চলচ্চিত্র পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বর্তমান সময়ে পর্যটন প্রচারণায় ভিডিও ও দৃশ্যভিত্তিক গল্প বলার গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। একটি পর্যটনকেন্দ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার, মানুষের জীবনযাপন এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অল্প সময়ের একটি ভিডিওর মাধ্যমে বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। ফলে পর্যটন শিল্পে চলচ্চিত্র ও ভিডিও এখন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, একটি দেশের পর্যটন পরিচিতি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় এশিয়া অঞ্চলের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ডাল্টন জহিরের দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট, পার্বত্য অঞ্চল, নদী, গ্রামীণ জীবন, ঐতিহাসিক স্থাপনা, লোকসংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের খাবার ও ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মানের দৃশ্যভিত্তিক গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নির্মাতা ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য দেশের নির্মাতাদের সঙ্গে নিজেদের কাজের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটনভিত্তিক ভিডিও ও চলচ্চিত্রের পরিচিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এশিয়ার পর্যটন খাত বর্তমানে দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ নিজেদের পর্যটন গন্তব্যকে নতুনভাবে তুলে ধরতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চলচ্চিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও এবং ডিজিটাল গল্প বলার কৌশল ব্যবহার করছে। এই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও আধুনিকভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। ডাল্টন জহিরের নতুন দায়িত্ব সেই আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। তার মাধ্যমে এশিয়ার পর্যটন প্রতিষ্ঠান, নির্মাতা ও সৃজনশীল পেশাজীবীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্মগুলোর যোগাযোগ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের একজন পর্যটন পেশাজীবীর এশিয়া অঞ্চলের এমন একটি আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পাওয়া দেশের পর্যটন খাতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এর মাধ্যমে শুধু ডাল্টন জহিরের ব্যক্তিগত আন্তর্জাতিক পরিচিতিই বাড়েনি, বাংলাদেশের পর্যটন ও গন্তব্য প্রচারণার জন্যও আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন একটি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্কে বসবাসকারী কম আয়ের বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাসা ভাড়া নিয়ে বিরোধ, উচ্ছেদের নোটিশ, ইমিগ্রেশন সমস্যা, বেতন না পাওয়া, ফ্যামিলি কোর্ট কিংবা গার্হস্থ্য সহিংসতার মতো বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি অর্থায়নপ্রাপ্ত ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আইনি পরামর্শ এবং যোগ্য ব্যক্তিদের আদালতে প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করে। অনেক সেবা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে পাওয়া যায়। তবে সব ধরনের মামলায় প্রত্যেকের জন্য বিনামূল্যে আইনজীবী পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। নিউইয়র্ক সিটির অফিস অব সিভিল জাস্টিস, দ্য লিগ্যাল এইড সোসাইটি, নিউইয়র্ক লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স গ্রুপ এবং লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসি এসব সেবার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে ফোন বা অনলাইনে যোগাযোগ করে নিজের আইনি সমস্যার ধরন জানাতে হয়। এরপর আয়ের পরিমাণ, বসবাসের এলাকা, মামলার ধরন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা অনুযায়ী সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হয়। নিউইয়র্ক সিটির হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অধীনে পরিচালিত অফিস অব সিভিল জাস্টিস বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সেবা দিয়ে থাকে। বিশেষ করে হাউজিং কোর্ট, ইমিগ্রেশন এবং চাকরিসংক্রান্ত কিছু মামলায় এই সহায়তা পাওয়া যায়। সিটির তথ্য অনুযায়ী, এসব সেবা পেতে আগে থেকে এইচআরএর কোনো বেনিফিট গ্রহণকারী হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। যোগ্য ব্যক্তিরা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষেও সেবা পেতে পারেন। যাঁরা বাসা থেকে উচ্ছেদের নোটিশ পেয়েছেন কিংবা বাড়িওয়ালার সঙ্গে গুরুতর বিরোধে জড়িয়েছেন, তাঁরা ৩১১ নম্বরে কল করে টেন্যান্ট হেল্পলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া হাউজিং কোর্ট অ্যানসার্সের ৭১৮-৫৫৭-১৩৭৯ নম্বরে সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যোগাযোগ করা যায়। নিউইয়র্ক সিটির ইউনিভার্সাল অ্যাকসেস টু লিগ্যাল সার্ভিসেস আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা ভাড়াটিয়ারা হাউজিং কোর্টের যোগ্য উচ্ছেদ মামলায় বিনামূল্যে আইনজীবী পাওয়ার অধিকার রাখেন। এই সুবিধা পেতে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বাধা নয়। তবে মামলাটি নির্ধারিত ধরনের হতে হবে এবং আয়ের শর্ত পূরণ করতে হবে। দ্য লিগ্যাল এইড সোসাইটি নিউইয়র্কের অন্যতম বড় অলাভজনক আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান। প্রায় দেড় শ বছর ধরে সংস্থাটি কম আয়ের বাসিন্দাদের বিভিন্ন আইনি সমস্যায় সহায়তা দিয়ে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে হাউজিং, ইমিগ্রেশন, ক্রিমিনাল ডিফেন্স, শিশু ও পরিবারসংক্রান্ত মামলা এবং সরকারি সুবিধা পাওয়ার বিরোধ। প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ যোগাযোগ নম্বর ২১২-৫৭৭-৩৩০০। নির্দিষ্ট আইনি সমস্যা অনুযায়ী সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে ডিপোর্টেশন, ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা, সিটিজেনশিপ এবং অন্যান্য ইমিগ্রেশন সমস্যায় লিগ্যাল এইড সোসাইটির অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর মামলা গ্রহণ করা হয় না। সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত এবং আইনজীবীর প্রাপ্যতার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স গ্রুপ, সংক্ষেপে এনওয়াইএলএজি, কম আয়ের ব্যক্তিদের বিভিন্ন সিভিল আইনি সমস্যায় বিনামূল্যে সহায়তা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি হাউজিং, কনজিউমার ডেট, ইমিগ্রেশন, পাবলিক বেনিফিটস, পারিবারিক সমস্যা এবং আর্থিক পরামর্শের মতো বিষয়ে কাজ করে। এনওয়াইএলএজির সাধারণ যোগাযোগ নম্বর ২১২-৬১৩-৫০০০। প্রতিষ্ঠানটির অফিস ম্যানহাটনের ১০০ পার্ল স্ট্রিটের ১৯ তলায়। তবে সরাসরি অফিসে যাওয়ার আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফোনে যোগাযোগ অথবা অনলাইন ইনটেক ফর্ম পূরণের মাধ্যমে সহায়তার আবেদন শুরু করতে হয়। নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতে সেবা প্রদানকারী আরেকটি প্রতিষ্ঠান লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসি। কম আয়ের বাসিন্দারা এখান থেকে বিভিন্ন সিভিল আইনি বিষয়ে বিনামূল্যে সহায়তা চাইতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটির হটলাইন নম্বর ৯১৭-৬৬১-৪৫০০। সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ফোন করা যায়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন ভাষায় ইনটেক সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসির ব্রুকলিন অফিসের নম্বর ৭১৮-২৩৭-৫৫০০, ব্রঙ্কসের ৭১৮-৯২৮-৩৭০০, ম্যানহাটনের ৬৪৬-৪৪২-৩১০০, কুইন্সের ৩৪৭-৫৯২-২২০০ এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের ৭১৮-২৩৩-৬৪৮০। তবে শুধু ফোন করলেই আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয় না। প্রথমে একজন ইনটেক স্পেশালিস্ট আবেদনকারীর সমস্যা, পারিবারিক আয় এবং অন্যান্য যোগ্যতার তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর প্রতিষ্ঠানটি সহায়তা করতে পারবে কি না, তা জানানো হয়। ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সমস্যায় নিউইয়র্ক সিটির মেয়রস অফিস অব ইমিগ্র্যান্ট অ্যাফেয়ার্সের বিশেষ হটলাইনেও যোগাযোগ করা যায়। নম্বর ৮০০-৩৫৪-০৩৬৫। এছাড়া ৩১১ নম্বরে কল করে ইমিগ্রেশন লিগ্যাল বললেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়। এই হটলাইন থেকে নিজের এলাকার কাছাকাছি সিটি ফান্ডেড ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টারের তথ্য পাওয়া যায়। তবে হটলাইন কর্তৃপক্ষ সরাসরি আইনজীবীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ও যোগ্যতা যাচাইয়ের পর পরবর্তী সহায়তার সুযোগ তৈরি হয়। অনেকের প্রশ্ন, ফ্রি লিগ্যাল এইড পেতে কত আয় থাকতে হবে? এ ক্ষেত্রে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নির্দিষ্ট আয়ের সীমা নেই। তবে কিছু সিটি ফান্ডেড ইমিগ্রেশন কর্মসূচিতে পরিবারের আয় ফেডারেল পভার্টি লেভেলের ২০০ শতাংশের মধ্যে থাকতে হয়। ২০২৬ সালের ফেডারেল হিসাব অনুযায়ী, এই সীমা একজনের পরিবারের জন্য বছরে ৩১ হাজার ৯২০ ডলার, অর্থাৎ মাসে ২ হাজার ৬৬০ ডলার। চার সদস্যের পরিবারের জন্য বছরে ৬৬ হাজার ডলার বা মাসে ৫ হাজার ৫০০ ডলার। তবে হাউজিং, ফ্যামিলি কোর্ট কিংবা অন্য আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে ভিন্ন আয়সীমা প্রযোজ্য হতে পারে। কোনো কোনো কর্মসূচিতে পারিবারিক পরিস্থিতি ও মামলার ধরন বিবেচনায় অতিরিক্ত শর্তও রয়েছে। তাই একটি প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করলেও অন্য প্রতিষ্ঠানে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। ফ্যামিলি কোর্টে সন্তানের কাস্টডি, চাইল্ড সাপোর্ট অথবা অর্ডার অব প্রোটেকশন সংক্রান্ত সমস্যায় নিউইয়র্ক স্টেট কোর্ট সিস্টেমের ভলান্টিয়ার লইয়ার প্রোগ্রাম এবং আদালতের হেল্প সেন্টারগুলো থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য ও সীমিত আইনি পরামর্শ পাওয়া যেতে পারে। তবে বিনামূল্যে পরামর্শ পাওয়া এবং পুরো মামলায় একজন আইনজীবীর প্রতিনিধিত্ব পাওয়া এক বিষয় নয়। কিছু কর্মসূচিতে আইনজীবীরা আদালতের কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া, ফর্ম পূরণে সহায়তা কিংবা আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরামর্শ দিতে পারেন, কিন্তু পুরো মামলার দায়িত্ব নেন না। আবেদন করার আগে নিজের পরিচয়পত্র, বর্তমান ঠিকানা, আয়ের প্রমাণ এবং আইনি সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা ভালো। উচ্ছেদের নোটিশ, কোর্টের কাগজ, চাকরির পে-স্টাব, লিজ অথবা ইমিগ্রেশন নোটিশ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুযায়ী জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো ভাষাগত সহায়তা। অনেক প্রতিষ্ঠানে দোভাষীর মাধ্যমে নিজের সমস্যার কথা জানানোর সুযোগ রয়েছে। ইংরেজিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে ফোন করার শুরুতেই বাংলা ভাষায় সহায়তা প্রয়োজন বলে জানানো যেতে পারে। তবে সব প্রতিষ্ঠানে সব সময় সরাসরি বাংলাভাষী কর্মী পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আইনি সহায়তা নিতে গিয়ে প্রতারণা থেকেও সতর্ক থাকতে হবে। নিউইয়র্ক সিটির অফিস অব সিভিল জাস্টিস জানিয়েছে, সিটির পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সেবা প্রদানকারী কোনো আইনজীবী সেই সেবার জন্য অর্থ দাবি করবেন না। কেউ অফিস অব সিভিল জাস্টিস কিংবা রাইট টু কাউন্সেল কর্মসূচির পরিচয় দিয়ে টাকা চাইলে বিষয়টি যাচাই করতে হবে। এ ধরনের সন্দেহজনক ঘটনা সম্পর্কে সিটির সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও অভিযোগ জানানো যায়। নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিনামূল্যে আইনি সহায়তার চাহিদা অনেক বেশি। ফলে সব যোগ্য আবেদনকারীকে সঙ্গে সঙ্গে আইনজীবী দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। অনেক সময় আবেদন গ্রহণের পর পরবর্তী যোগাযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তাই কোনো কোর্ট হিয়ারিংয়ের তারিখ থাকলে, বাসা ছাড়ার নোটিশ পেলে কিংবা ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত জরুরি সমস্যা দেখা দিলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত যোগাযোগ করা উচিত। আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চললেও আদালতের নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলার দায়িত্ব আবেদনকারীর থাকে। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এসব সেবা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই আইনজীবীর উচ্চ ফি বহনের সামর্থ্য না থাকায় আইনি সহায়তা নিতে দেরি করেন। অথচ যোগ্যতা অনুযায়ী বিনামূল্যে পরামর্শ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরিতে সহায়তা এবং কিছু মামলায় আদালতে প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আইনি সমস্যার ধরন অনুযায়ী সঠিক প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করাই প্রথম পদক্ষেপ। হাউজিং সমস্যায় ৩১১ বা টেন্যান্ট হেল্পলাইন, ইমিগ্রেশন সমস্যায় ৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ এবং অন্যান্য সিভিল আইনি বিষয়ে লিগ্যাল এইড সোসাইটি, এনওয়াইএলএজি অথবা লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসির সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এই প্রতিবেদনটি নিউইয়র্ক সিটি সরকার, নিউইয়র্ক স্টেট কোর্টস, দ্য লিগ্যাল এইড সোসাইটি, এনওয়াইএলএজি এবং লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসির প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। এটি সাধারণ তথ্য, ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ নয়। সেবার যোগ্যতা, কর্মসূচির পরিধি এবং যোগাযোগের সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে হাইওয়েতে দুর্ঘটনার শিকার অপরিচিত মানুষদের সাহায্য করতে গিয়ে গাড়িচাপায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এক মুসলিম তরুণ। নিহতের নাম হেজাম হুসেইন। তিনি মিশিগানের ডিয়ারবর্ন শহরের বাসিন্দা ছিলেন। গত শনিবার (৩ অক্টোবর) গভীর রাতে সাউথফিল্ড এলাকায় লজ ফ্রিওয়েতে দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের সাহায্য করার সময় আরেকটি গাড়ির ধাক্কায় তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার ডিয়ারবর্নে তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তরুণের এমন মৃত্যুতে পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মিশিগান স্টেট পুলিশের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিবিএস ডেট্রয়েট জানিয়েছে, শনিবার রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে সাউথফিল্ডের নাইন মাইল রোডের কাছে এম-১০ লজ ফ্রিওয়ের দক্ষিণমুখী অংশে দুটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর একটি গাড়ি বিকল হয়ে হাইওয়ের বাঁ পাশের দুটি লেন আটকে দেয়। ঠিক সেই সময় ওই হাইওয়ে দিয়ে যাচ্ছিলেন হেজাম হুসেইন। দুর্ঘটনাটি দেখে তিনি নিজের গাড়ি রাস্তার ডান পাশের শোল্ডারে থামান। এরপর গাড়ি থেকে নেমে হাইওয়ে পার হয়ে দুর্ঘটনাকবলিত মানুষদের সাহায্য করতে এগিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, হুসেইন প্রথম দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি কেবল বিপদে পড়া মানুষদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে গাড়ি থামিয়েছিলেন। কিন্তু সাহায্য করার সময়ই ঘটে আরেকটি দুর্ঘটনা। হাইওয়ে দিয়ে আসা একটি গাড়ির চালক সামনে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িটি এড়ানোর চেষ্টা করেন। এ সময় নিয়ন্ত্রণ সামলাতে গিয়ে তাঁর গাড়িটি হুসেইনকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হুসেইনকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন মিশিগান স্টেট পুলিশ, সাউথফিল্ড পুলিশ এবং ফায়ার ডিপার্টমেন্টের জরুরি উদ্ধারকর্মীরা। ঘটনাস্থলেই তাঁকে সিপিআরসহ জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, যে চালকের গাড়ির ধাক্কায় হুসেইনের মৃত্যু হয়েছে, তিনি ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যাননি। বরং সেখানে অবস্থান করে তদন্তকারীদের সহযোগিতা করেছেন। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার সঙ্গে অ্যালকোহল কিংবা মাদকের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট চালকের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। মিশিগান স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। এদিকে সোমবার (৫ অক্টোবর) ডিয়ারবর্নে হেজাম হুসেইনের জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা তাঁকে শেষবিদায় জানাতে উপস্থিত হন। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনেরা। তাঁদের কাছে হুসেইন ছিলেন শান্ত স্বভাবের, ভদ্র এবং অন্যের প্রয়োজনে এগিয়ে আসা একজন তরুণ। সিবিএস ডেট্রয়েটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুসেইনের চাচাতো ভাই আবদুল গালেব জানান, অপরিচিত মানুষকে সাহায্য করার জন্য গাড়ি থামানোর ঘটনা হুসেইনের স্বভাবের সঙ্গেই মিলে যায়। তিনি সব সময় অন্যের প্রয়োজনে এগিয়ে আসতে চাইতেন। হুসেইনের বন্ধু মোহাম্মদ হাসান ও হাচ আলসায়েদিও তাঁকে একজন দয়ালু ও সাহায্যপ্রবণ মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছেন। তাঁদের ভাষায়, হুসেইনের ব্যবহার ও মানুষের প্রতি আন্তরিকতা তাঁকে পরিচিতজনদের কাছে বিশেষ করে তুলেছিল। হুসেইনের সাবেক একজন শিক্ষকও তাঁর স্মৃতিচারণ করেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, হুসেইন ছিলেন শান্ত, বিনয়ী, ভদ্র ও শ্রদ্ধাশীল একজন শিক্ষার্থী। অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতাও তাঁর মধ্যে ছিল। দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী কেনেডি মনক্রিফ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউডিআইভি লোকাল ফোরকে জানিয়েছেন, তিনি ও তাঁর বান্ধবী একটি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে প্রথম দুর্ঘটনাটি দেখতে পান। এরপর তাঁরা রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে ৯১১ নম্বরে ফোন করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আরেকটি গাড়ি এসে থামে। সেই গাড়ির চালক ছিলেন হেজাম হুসেইন। তিনি গাড়ি থেকে নেমে দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের সাহায্য করতে এগিয়ে যান। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁকে আরেকটি গাড়ি ধাক্কা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী মনক্রিফ হুসেইনকে একজন নিঃস্বার্থ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অপরিচিত মানুষের বিপদে এগিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে হুসেইন মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। হুসেইনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে শোক প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির সদস্যরা তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য দোয়া করেছেন। অনেকে আল্লাহর কাছে হুসেইনকে জান্নাত দান এবং তাঁর পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দেওয়ার প্রার্থনা জানিয়েছেন। এদিকে দুর্ঘটনার পর হাইওয়েতে অন্যদের সাহায্য করতে গিয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনাটি সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। মিশিগান স্টেট পুলিশের লেফটেন্যান্ট টাই হাওয়ার্ড স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হাইওয়েতে দুর্ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষ অনেক সময় সাহায্য করতে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। কিন্তু দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলের কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, হাইওয়েতে দুর্ঘটনা দেখলে নিরাপদ অবস্থান থেকে জরুরি সেবায় ফোন করা উচিত। কারণ পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদে রাস্তা নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম রয়েছে। মিশিগানের মুভ ওভার আইন অনুযায়ী, জরুরি সেবার গাড়ি নির্ধারিত সতর্কতামূলক আলো জ্বালিয়ে রাস্তার পাশে অবস্থান করলে অন্য চালকদের পরিস্থিতি অনুযায়ী লেন পরিবর্তন অথবা গতি কমিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হয়। হেজাম হুসেইনের মৃত্যু তাঁর পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে এসেছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তাঁর জীবন শেষ হলেও শেষ মুহূর্তে অপরিচিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনাটি স্থানীয় কমিউনিটির মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। মিশিগান স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিউইয়র্কে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে স্টেট সরকারের বিভিন্ন দপ্তর। অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে শুরু করে পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ানসহ একাধিক পদে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এসব চাকরির মধ্যে কয়েকটিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার পরিবর্তে নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পর্যন্ত প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদের আবেদনের শেষ সময় ১৩ থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে। নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির পোর্টাল স্টেটজবসএনওয়াইতে ৭ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রুকলিনে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ম্যানহাটনে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদ। দুটি পদই এনওয়াই হেল্পস কর্মসূচির আওতাভুক্ত। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পদের পরীক্ষায় আবেদন গ্রহণ চলছে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত। ব্রুকলিনে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগ নিউইয়র্ক স্টেটের ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্স ব্রুকলিনের কিংস কাউন্টিতে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ১ পদে নিয়োগ দিচ্ছে। এই পদের ভ্যাকেন্সি নম্বর ২২৬৫৯০ এবং স্যালারি গ্রেড ৬। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বার্ষিক বেতন ৩৭ হাজার ৮৬২ থেকে ৪৬ হাজার ৮৪৩ ডলার। এটি একটি ফুলটাইম স্থায়ী পদ। সপ্তাহে সাড়ে ৩৭ ঘণ্টা কাজ করতে হবে এবং নিয়মিত কর্মদিবস সোমবার থেকে শুক্রবার। পদটিতে নির্বাচিত কর্মীকে অফিসের নথিপত্র সংরক্ষণ, বিভিন্ন ডকুমেন্ট যাচাই, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সহায়তার কাজ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়েছে ৭ অক্টোবর। আবেদনের শেষ সময় ২২ অক্টোবর ২০২৬। আবেদন করার সময় ভ্যাকেন্সি নম্বর ২২৬৫৯০ ব্যবহার করে সরকারি পোর্টালে পদের বিস্তারিত যোগ্যতা ও আবেদনপদ্ধতি দেখে নিতে হবে। ম্যানহাটনে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে সুযোগ নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ১ অথবা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেইনি পদে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। এই পদের ভ্যাকেন্সি নম্বর ২২৬৫৮৫। কর্মস্থল নিউইয়র্ক কাউন্টি, অর্থাৎ ম্যানহাটন। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়েছে ৭ অক্টোবর এবং আবেদনের শেষ সময় ১৮ অক্টোবর। এনওয়াই হেল্পস কর্মসূচির আওতায় থাকা এই পদে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে ট্রেইনি পর্যায় থেকেও নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে ট্রেইনি হিসেবে আবেদন করতে পারা মানেই কোনো অভিজ্ঞতা বা শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই চাকরি পাওয়া যাবে, এমন নয়। আবেদনকারীদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শর্ত পূরণ করতে হবে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ ডিপার্টমেন্টে পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পদে নিয়োগ পরীক্ষার আবেদনও চলমান রয়েছে। এই পদে কর্মরত ব্যক্তিরা ৯১১ ইমার্জেন্সি কল গ্রহণ, জরুরি সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং পুলিশ ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরীক্ষার নম্বর ৭৩০৭। প্রাথমিক বার্ষিক বেতন ৫১ হাজার ৭৯০ ডলার। আবেদনের শেষ সময় ১৩ অক্টোবর ২০২৬ এবং লিখিত পরীক্ষার কার্যক্রম ১৬ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই পরীক্ষার আবেদন ফি ৬৮ ডলার। তবে বেকার ব্যক্তি, নির্দিষ্ট সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত আবেদনকারী এবং যোগ্য অন্য কিছু শ্রেণির প্রার্থীদের ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে। এই পদে রাতের শিফট, সাপ্তাহিক ছুটি এবং সরকারি ছুটির দিনেও কাজ করতে হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে কাজের সময়সূচি ও শিক্ষাগত যোগ্যতা ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরিতে পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের সুযোগ নিউইয়র্ক স্টেটের এনওয়াই হেল্পস কর্মসূচির অন্যতম সুবিধা হলো, অন্তর্ভুক্ত পদগুলোতে সাধারণত প্রতিযোগিতামূলক সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ পাওয়া যায়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব সিভিল সার্ভিস জানিয়েছে, এই কর্মসূচিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা পূরণকারী ব্যক্তিদের স্থায়ী সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, ইন্টারভিউ এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের সুযোগ থাকলেও চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের বার্ষিক বেতন ৪২ হাজার ২০৯ থেকে ৬১ হাজার ৭৬ ডলার। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেইনি ১ পদে আবেদন করতে অন্তত ছয় মাসের প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। ট্রেইনি ২ পদের জন্য এক বছর এবং পূর্ণাঙ্গ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ১ পদের জন্য দুই বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট বিষয়ে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি বা স্বীকৃত সার্টিফিকেশন থাকলে অভিজ্ঞতার শর্তে বিকল্প যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। এই পদের কাজের মধ্যে রয়েছে আইনি নথি ব্যবস্থাপনা, অফিসের প্রশাসনিক সহায়তা, ডেটা এন্ট্রি, রিপোর্ট প্রস্তুত এবং অ্যাটর্নিদের প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল কাজে সহযোগিতা করা। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক ভিসা স্পনসর করবে না। বেসরকারি খাতেও চাকরির বিজ্ঞপ্তি সরকারি চাকরির পাশাপাশি নিউইয়র্কের বেসরকারি খাতেও বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। চাকরির প্ল্যাটফর্ম জব টুডের একটি সংকলনে ম্যানহাটনে ১৬১টি ক্যারিয়ার জব এবং নিউইয়র্ক স্টেটে ১৮৯টি চাকরির বিজ্ঞপ্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যাগুলো ৮ অক্টোবর নতুন প্রকাশিত স্বতন্ত্র শূন্যপদের সংখ্যা হিসেবে নিশ্চিত করা যায়নি। এছাড়া রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের এক্সিকিউটিভ শেফ পদে বছরে ৯৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ডলার বেতনের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বোনাসের সুযোগের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার বর্তমান বিজ্ঞপ্তি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই পদটি এখনো আবেদন গ্রহণ করছে কি না, তা সরাসরি যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসে স্টাফ নার্স নিয়োগের তথ্যও রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট পদের নির্দিষ্ট আবেদনসীমা, বেতন ও যোগ্যতার শর্ত নিশ্চিত না হওয়ায় আগ্রহীদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ক্যারিয়ার পোর্টালে বিজ্ঞপ্তি যাচাই করতে হবে। আবেদন করবেন যেভাবে নিউইয়র্ক স্টেট সরকারের চাকরিতে আবেদন করতে স্টেটজবসএনওয়াইয়ের সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য নির্ধারিত বিভাগে গিয়ে পদের নাম অথবা ভ্যাকেন্সি নম্বর দিয়ে খুঁজতে হবে। সেখানে কাজের বিবরণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, বেতন, কর্মস্থল, আবেদনপদ্ধতি এবং শেষ তারিখ উল্লেখ থাকে। নিউইয়র্ক সিটির চাকরির জন্য সিটির নিজস্ব ক্যারিয়ার পোর্টাল এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেসের বিজ্ঞপ্তি দেখতে হবে। বিশেষ করে পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পদের পরীক্ষায় আগ্রহীদের ১৩ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এই পদে নিয়োগের জন্য শুধু আবেদন করাই যথেষ্ট নয়। নির্ধারিত পরীক্ষা ও পরবর্তী নিয়োগপ্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এদিকে সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সময়সীমার পাশাপাশি আবেদনকারীদের কাজের অনুমতি, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিতে হবে। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির যাঁরা নতুন চাকরি খুঁজছেন কিংবা বেসরকারি চাকরি থেকে সরকারি খাতে যেতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য এনওয়াই হেল্পসের পদগুলো বিশেষভাবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। তবে সব পদ এন্ট্রি লেভেল নয় এবং সব চাকরির জন্য একই ধরনের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয় না। ফলে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে পদ নির্বাচন করাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ব্রুকলিনের অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের আবেদন শেষ হবে ২২ অক্টোবর, ম্যানহাটনের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের ১৮ অক্টোবর এবং পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পরীক্ষার আবেদন শেষ হবে ১৩ অক্টোবর। আবেদনের সময়সীমা কাছাকাছি হওয়ায় আগ্রহীদের নির্ধারিত তারিখের আগেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে এবং চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই কার্যকর হবে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক বিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক এফ-১৫ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং বিপুলসংখ্যক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে। সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ ৩৩০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে মার্কিন কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) হালনাগাদ করা এই প্রতিবেদনের তথ্য বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদনে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো বিমান ও ড্রোনের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। সিআরএস জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড, প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন বহরে। ইরানের সঙ্গে সামরিক অভিযানে অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে মার্কিন বাহিনী। গোয়েন্দা নজরদারি এবং নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ব্যবহৃত এই ড্রোন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তি। গত ১৩ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে অন্তত ৪৫টি রিপার ড্রোন হারানোর তথ্য সামনে আসে। নতুন কংগ্রেশনাল প্রতিবেদনে সেই সংখ্যাই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শুধু রিপার ড্রোন নয়, ইরানের সামরিক অভিযানে আরও তিনটি এমকিউ-১ ড্রোন এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন হারানোর তথ্যও রয়েছে। এর মধ্যে এমকিউ-৪সি ট্রাইটন দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মানবচালিত যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কথা জানিয়েছে সিআরএস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চারটি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আটটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আবারও ব্যবহারযোগ্য করা হয়েছে। গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে নিজেদের মিত্রবাহিনীর ভুলবশত গুলিতে তিনটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এ ধরনের ঘটনাকে সামরিক পরিভাষায় ফ্রেন্ডলি ফায়ার বলা হয়। এরপর ৫ এপ্রিল ইরানের আকাশে আরও একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয় বলে জানিয়েছিল ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড। অন্যদিকে গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর জর্ডানের মুওয়াফফাক সালটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেগুলো মেরামত করে আবারও সামরিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমানও ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় রয়েছে। গত ১৯ মার্চ ইরানের আকাশে ভূমি থেকে চালানো হামলায় একটি এফ-৩৫এ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। এফ-৩৫ যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমানগুলোর একটি। শত্রুপক্ষের রাডার এড়িয়ে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতার কারণে এই যুদ্ধবিমান মার্কিন সামরিক শক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া দুটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে ৬ এপ্রিল শত্রুপক্ষের হামলায় একটি এ-১০ বিধ্বস্ত হয় বলে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছিলেন। অন্যটি সেপ্টেম্বরে জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আকাশে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার বিমানগুলোরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। কংগ্রেশনাল প্রতিবেদনে সাতটি কেসি-১৩৫ বিমানের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য রয়েছে। গত ১২ মার্চ ইরাকে দুটি কেসি-১৩৫ বিমান একটি ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি বিধ্বস্ত হয়ে ছয় মার্কিন ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়। অন্য বিমানটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়। এর দুই দিন পর সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আরও পাঁচটি কেসি-১৩৫ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত একটি ই-৩ সেন্ট্রি বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্চের শেষ দিকে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলায় বিমানটি ক্ষতির মুখে পড়ে। পরবর্তী প্রতিবেদনে বিমানটিতে সরাসরি আঘাত লাগার তথ্যও উঠে আসে। সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হেলিকপ্টারগুলোর মধ্যেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সিআরএসের হিসাবে, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড হেলিকপ্টার, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি, একটি এমএইচ-৬০ সি হক এবং একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন টু হেলিকপ্টার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বিশেষ সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহৃত দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু বিমানও ধ্বংস হওয়ার তথ্য রয়েছে। এপ্রিল মাসে ইরানে ভূপাতিত একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ক্রুদের উদ্ধারের অভিযানের সময় বিমান দুটি ধ্বংস করা হয়েছিল। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ৮১টি বিমান ও ড্রোনের সবই ইরানের সরাসরি হামলায় ধ্বংস হয়নি। এর মধ্যে কিছু বিমান শত্রুপক্ষের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিছু বিধ্বস্ত হয়েছে দুর্ঘটনায়, আবার কিছু মিত্রবাহিনীর ভুলবশত হামলার শিকার হয়েছে। কয়েকটি বিমান উদ্ধার অভিযান পরিচালনার সময় মার্কিন বাহিনী নিজেরাই ধ্বংস করেছে। একইভাবে ৮১টি বিমানই স্থায়ীভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে, এমন তথ্যও প্রতিবেদনে বলা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি বিমান ইতোমধ্যে মেরামত করে সামরিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে সামরিক অভিযান শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানের নাম দেয় অপারেশন এপিক ফিউরি। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং সামরিক স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি আক্রমণের মধ্য দিয়ে সংঘাত বিস্তৃত হয়। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতির পর সামরিক তৎপরতা কিছুটা কমলেও পরবর্তী সময়ে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। এই দীর্ঘ সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রতিস্থাপন ব্যয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের সেপ্টেম্বর মাসের হিসাবে, ১ আগস্ট পর্যন্ত সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতির পরিমাণ প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে ১৯০ কোটি থেকে ৩৩০ কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে। তবে এই হিসাব শুধু বিমান ও ড্রোনের ক্ষতির জন্য নয়। এতে যুদ্ধের অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে ৮১টি বিমানের ক্ষতির আর্থিক মূল্য এককভাবে ৩৩০ কোটি ডলার বলে ধরে নেওয়া যাবে না। কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস সতর্ক করেছে, যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং নতুন তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। কিছু সামরিক তথ্য গোপনীয় হওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্ধারণও কঠিন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এসব ক্ষয়ক্ষতির কারণে মার্কিন কংগ্রেসকে সামরিক বাজেট, নতুন বিমান কেনা, ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম মেরামত এবং সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করতে হতে পারে। বিশেষ করে ই-৩ সেন্ট্রির মতো পুরোনো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অঞ্চলের সামরিক প্রস্তুতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কত দ্রুত নতুন বিমান ও ড্রোন সরবরাহ করতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। উৎপাদন সক্ষমতা, যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক সামরিক চাহিদার কারণে প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে। মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব শুধু কতগুলো বিমান ধ্বংস হয়েছে, তা দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না। ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের সামরিক গুরুত্ব, প্রতিস্থাপন ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ অভিযানের সক্ষমতার ওপর এর প্রভাবও বিবেচনা করতে হয়। সর্বশেষ কংগ্রেশনাল প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও ড্রোন বহর উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে এই ক্ষয়ক্ষতির কতটা স্থায়ী এবং ভবিষ্যতে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে কত ব্যয় হবে, তা নির্ধারণে আরও বিস্তারিত সরকারি তথ্য প্রয়োজন।
ভারতে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মুসলিমসহ কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সংখ্যালঘু মুসলিম ও বিরোধী সমর্থকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে ভারতের চলমান ভোটার তালিকা বিতর্ক এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম, যা এসআইআর নামে পরিচিত। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারদের তথ্য নতুন করে যাচাই এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, মৃত ব্যক্তি, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটার এবং একাধিকবার নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করাই এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য। অন্যদিকে বিরোধী দল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতিতে গুরুতর অনিয়ম রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারা কিংবা তথ্যের অসংগতির কারণে অনেক বৈধ ভোটারের নামও বাদ পড়ছে। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু মুসলিম, অভিবাসী শ্রমিক এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহে সমস্যায় পড়া মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সমালোচকেরা। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যায়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের পর প্রায় ১৩ কোটি নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনা নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে বাদ পড়া ১৩ কোটি মানুষের সবাই মুসলিম নন। তাঁদের মধ্যে ঠিক কতজন মুসলিম এবং কতজন বৈধ ভোটার, তার নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশিত হয়নি। ফলে ভোটার তালিকা থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক মুসলিমকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে। দলটির দাবি, এই প্রক্রিয়ায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থক এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ক্ষমতাসীন বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। তাঁর নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করছে। বুধবার নয়াদিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে রাহুল গান্ধীকে সাময়িকভাবে আটক করে পুলিশ। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি অন্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। বিক্ষোভে কংগ্রেসের পাশাপাশি বিভিন্ন বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন এবং তরুণদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকারীরাও অংশ নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা তৃতীয় দিনের মতো ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। নয়াদিল্লির পাশাপাশি তেলেঙ্গানা, বিহার ও বেঙ্গালুরুতেও প্রতিবাদ কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ভুলভাবে বাদ পড়া বৈধ নাগরিকদের নাম পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এদিকে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও ঝাড়খণ্ডসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম ভোটারদের নাম একসঙ্গে বাদ দেওয়ার আবেদন জমা পড়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। গত সেপ্টেম্বরে রাজ্যসভার সদস্য কপিল সিবাল অভিযোগ করেন, ঝাড়খণ্ডে বিজেপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ব্যাপকভাবে আবেদন করেছেন। তাঁর দাবি, উত্তরাখণ্ড, মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও ওড়িশাতেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক হিন্দুও রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রভাব শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশন অবশ্য বারবার জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা নয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টে কমিশন জানিয়েছিল, ভোটার তালিকায় কারও ধর্মীয় পরিচয়ের তথ্য সংরক্ষণ করা হয় না। ফলে ধর্মের ভিত্তিতে কতজনের নাম বাদ পড়েছে, তার সরকারি হিসাবও নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যু, স্থায়ীভাবে বাসস্থান পরিবর্তন, একাধিক নিবন্ধন এবং নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার মতো কারণে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনিক নিয়ম অনুসরণ করলেই চলবে না। কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়লে তাঁকে যথাযথ নোটিশ দেওয়া, আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা এবং সহজে নাম পুনর্বহালের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি। এই বিতর্ক ইতোমধ্যে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের বৈধতা ও প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক আবেদন উঠেছে। আদালতে আবেদনকারীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের যথাযথভাবে অবহিত না করেই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রেও দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সমস্যায় পড়ছেন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের দাবি, পুরো প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং বাদ পড়া ব্যক্তিদের জন্য আপত্তি ও সংশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে। বিতর্কের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের শনাক্ত করে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নিবন্ধনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতের মতো বিশাল গণতান্ত্রিক দেশে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি করেছে। একদিকে নির্বাচন কমিশন নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে, অন্যদিকে বিরোধীরা আশঙ্কা করছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর বৈষম্যমূলক প্রভাব পড়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগতভাবে লাখ লাখ মুসলিম ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ অবস্থায় ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা, বাদ পড়া নাগরিকদের ভোটাধিকার পুনর্বহাল এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবিতে ভারতে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। বিক্ষোভের পাশাপাশি আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তও দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসী গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়াতে আইসিই এজেন্টদের নতুন মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন আগের তুলনায় অতিরিক্ত এক হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দৈনিক তিন হাজারে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। তবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) দাবি করেছে, অভিবাসী গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে তাদের কোনো নির্দিষ্ট কোটা নেই। বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার আইসিই নেতৃত্ব দেশজুড়ে কর্মরত এজেন্টদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের পুরোনো লক্ষ্য আবারও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে আইসিই প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করছিল। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সেই সংখ্যা আরও এক হাজার বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সপ্তাহে মোট ১৯ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করতে বলা হয়েছে এজেন্টদের। সিএনএনকে একটি সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে সাধারণত অভিযান কম হয় এবং মাঠপর্যায়ে তুলনামূলক কমসংখ্যক এজেন্ট দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে দৈনিক তিন হাজারের লক্ষ্য থাকলেও সাপ্তাহিক হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, ডিপোর্টেশনের উদ্দেশ্যে যত বেশি সম্ভব অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করতে এজেন্টদের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। তবে এই নির্দেশনা আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত আকারে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সিএনএনের প্রতিবেদনে এটিকে আইসিই নেতৃত্বের মৌখিক নির্দেশনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্য এবারই প্রথম সামনে আসেনি। এর আগেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আইসিইকে একই লক্ষ্য অর্জনের নির্দেশ দিয়েছিল বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে প্রতিদিন গ্রেপ্তার করার লক্ষ্য পূরণে সংস্থাটি আগেও সমস্যার মুখে পড়েছে। এবার নতুন করে সেই লক্ষ্য সামনে আসায় আইসিইর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্টের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, গত জুনের শেষ দিকে এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৫০০ জনের কিছু বেশি অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছিল আইসিই। ওই সময়ের হিসাবে এটি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি গ্রেপ্তারের ঘটনা। নতুন সাপ্তাহিক লক্ষ্য সেই সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। তবে লক্ষ্য নির্ধারণ করা আর বাস্তবে সমসংখ্যক অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা এক বিষয় নয়। ফলে প্রতিদিন তিন হাজার গ্রেপ্তারের লক্ষ্য বাস্তবে কতটা অর্জন করা সম্ভব হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশনা নিয়ে সিএনএনের প্রশ্নের জবাবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন মুখপাত্র সরাসরি দাবি করেছেন, আইসিইর কোনো গ্রেপ্তার কোটা নেই। ওই মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিনের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও ডিপোর্ট করার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রশাসন আইনসম্মত সব উপায় ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন আইন কার্যকর করছে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে। ফলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা নিয়ে সিএনএনের সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদন এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। একদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দৈনিক ও সাপ্তাহিক নির্দিষ্ট সংখ্যার লক্ষ্য থাকার কথা জানিয়েছে, অন্যদিকে ডিএইচএস এ ধরনের কোটা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। নতুন নির্দেশনার খবর এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে ইমিগ্রেশন নীতি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ইমিগ্রেশন অভিযান নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকান পার্টির কিছু নেতার মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব অভিবাসীর অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তাঁদের গ্রেপ্তার ও ডিপোর্টেশনের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কৃষি ও অন্যান্য শ্রমনির্ভর খাতের প্রতিনিধিরাও এর আগে জানিয়েছেন, ব্যাপক ইমিগ্রেশন অভিযানের কারণে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় কর্মক্ষেত্রেও প্রভাব পড়েছে। এদিকে অভিযান বাড়ানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইসিই তাদের বিভিন্ন অফিসে আটক ব্যক্তিদের রাখার জায়গা সম্প্রসারণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব চেয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নথিতে অভিযান ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে অতিরিক্ত জায়গার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ রয়েছে। এসব জায়গায় আটক ব্যক্তিদের রাখা, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া পরিচালনার ব্যবস্থা থাকতে পারে। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে নতুন আটককেন্দ্র নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে আইসিই সম্প্রতি গাড়ি থামিয়ে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা দিয়েছে। এসব নির্দেশনায় নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এজেন্টদের গাড়ি থামানোর অভিযান পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন নিয়মে আইসিই এজেন্টদের দ্রুতগতিতে গাড়ি ধাওয়া করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামানোর অভিযানকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় সংস্থাটির কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন অভিবাসী কমিউনিটির জন্য নতুন গ্রেপ্তারের লক্ষ্যের খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা যাবে কি না, তা তাঁর নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে। দৈনিক গ্রেপ্তারের লক্ষ্য বাড়ানোর খবরের অর্থ এই নয় যে সব অভিবাসী একই ধরনের আইনি ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা চলমান থাকা, ডিপোর্টেশন অর্ডার থাকা, অ্যাসাইলামের আবেদন বিচারাধীন থাকা কিংবা বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনুমোদিত ইমিগ্রেশন লইয়ারের পরামর্শ নেওয়া এবং কোর্টের নোটিশ ও শুনানির তারিখ সম্পর্কে সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সিএনএনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া বিষয় হলো, আইসিই নেতৃত্ব প্রতিদিনের গ্রেপ্তার বাড়ানোর জন্য মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু সরকার নির্দিষ্ট গ্রেপ্তার কোটা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসিইর অভিযান বাস্তবে কতটা বাড়বে এবং দৈনিক তিন হাজার গ্রেপ্তারের লক্ষ্য অর্জিত হবে কি না, তা পরবর্তী সরকারি পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম থেকে পরিষ্কার হবে।
ভারতে বিরোধী দল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ও নেপালের মতো অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির দাবি, ক্ষমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। আর সেই উদ্দেশ্যে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে তাঁর দল। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক ভিডিও বার্তায় এসব অভিযোগ করেন বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি। বুধবার নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়ার বিক্ষোভের কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ তুলে ধরে তিনি এ অভিযোগ করেন। ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এ খবর জানিয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারির অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আন্দোলনের নামে কংগ্রেস দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, বিরোধীদের আন্দোলনের ধরন দেখে বোঝা যাচ্ছে, তারা বাংলাদেশ ও নেপালের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, কংগ্রেসের কৌশল হলো বাংলাদেশ ও নেপালের মতো ভারতে অরাজকতা ছড়িয়ে দেওয়া। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য শুধু নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা নয়, বরং আন্দোলনের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলা। বুধবারের বিক্ষোভের কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে প্রদীপ ভান্ডারি দাবি করেন, আন্দোলনের সময় রাহুল গান্ধী, তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কংগ্রেসের কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়েছেন। একটি ভিডিওর প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের কয়েকজন কর্মী দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ধাক্কা দিয়েছেন এবং লাথি মেরেছেন। অন্য একটি ভিডিওতে পুলিশ সদস্যরা রাহুল গান্ধীকে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানাচ্ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। প্রদীপ ভান্ডারির আরও অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের উপযোগী ভিডিও তৈরির উদ্দেশ্যে রাহুল গান্ধী নিজেও একজন পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বিরুদ্ধেও পুলিশ সদস্যদের ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ বিজেপির মুখপাত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ভিডিওগুলোর মাধ্যমে তাঁর সব অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভারতে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম, যা এসআইআর নামে পরিচিত। এই প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নাম বাদ পড়া এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বৈধ ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান হলো, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য হচ্ছে মৃত ব্যক্তি, অযোগ্য ভোটার এবং একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত নাম শনাক্ত করে তালিকা হালনাগাদ করা। ক্ষমতাসীন বিজেপিও বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। গত মঙ্গলবার থেকে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জোরদার করেন বিরোধী নেতারা। বুধবারও রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ ইন্ডিয়া জোটের নেতারা রাজপথে নামেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি হয়। পরে রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদের মধ্যেই দিল্লিতে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এদিকে বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিষয়টি ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন রয়েছে। ফলে রাজপথে বিক্ষোভের মাধ্যমে আদালতের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করা সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী আন্দোলনের দৃশ্য ব্যবহার করে বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এমনকি ভারতের অভ্যন্তরে অস্থিরতা তৈরিতে কিছু আন্তর্জাতিক শক্তি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন বিজেপির এই মুখপাত্র। তবে তাঁর এ দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রদীপ ভান্ডারি বলেন, ভারতের গণতন্ত্র শক্তিশালী ও নিরাপদ রয়েছে। তাঁর দাবি, কংগ্রেস নেতৃত্ব দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষমতায় ফেরার বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে বিজেপির এসব অভিযোগের বিষয়ে কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। বিরোধী দলগুলোর বক্তব্য, তাদের আন্দোলন নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে পরিচালিত হচ্ছে। রাহুল গান্ধীও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান জানিয়েছেন। ভারতের চলমান রাজনৈতিক সংঘাতে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপির নতুন অভিযোগ দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির তুলনাকে আবারও আলোচনায় এনেছে। তবে বাংলাদেশ ও নেপালের উদাহরণ দিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অরাজকতা তৈরির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটি বিজেপির রাজনৈতিক বক্তব্য। এ ধরনের পরিকল্পনার অস্তিত্ব স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে ভারতের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একদিকে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা, অন্যদিকে আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। ফলে আগামী দিনগুলোতে ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশন ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশে বিলাসবহুল গাড়ির তুলনায় বেশি শুল্ক ও কর দিতে হচ্ছে আমদানি করা মাল্টায়। বর্তমানে মাল্টা আমদানিতে মোট শুল্ক ও করের হার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অথচ টেসলা ও মার্সিডিজ বেঞ্জের নির্দিষ্ট মডেলসহ অন্তত ১৪৬টি শ্রেণির গাড়িতে এর চেয়ে কম শুল্ক ও কর আরোপ করা হচ্ছে। এই বৈষম্যমূলক করকাঠামোর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের ওপর পড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুল্ককাঠামো পর্যালোচনা করে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আমদানি করা মাল্টায় যে হারে শুল্ক ও কর আরোপ করা হচ্ছে, তা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের খাদ্যতালিকায় থাকা একটি ফলের ওপর বিলাসবহুল গাড়ির চেয়েও বেশি হারে কর আরোপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হিসাব অনুযায়ী, আমদানি পর্যায়ে প্রতি কেজি মাল্টার মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা হলেও এর ওপর শুল্ক ও কর দিতে হচ্ছে প্রায় ১০৭ টাকা। অর্থাৎ শুধু আমদানি মূল্য ও কর মিলিয়েই খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৯৪ টাকা। এর সঙ্গে পরিবহন, সংরক্ষণ, ব্যবসায়িক খরচ ও মুনাফা যোগ হয়ে খুচরা বাজারে দাম আরও বেড়ে যায়। সম্প্রতি সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে প্রতি কেজি মাল্টার দাম ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। পরে আমদানি ও সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমে প্রায় ৪০০ টাকায় নেমে আসে। অন্যদিকে বাংলাদেশে আমদানি করা টেসলার বৈদ্যুতিক গাড়িতে তুলনামূলক কম শুল্ক দিতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের হিসাবে ৫০ হাজার ডলার মূল্যের একটি টেসলা গাড়ির ওপর শুল্ক ও করের হার প্রায় ৮০ শতাংশ। একইভাবে ২৫ হাজার ডলার মূল্যের বিওয়াইডি বা সমজাতীয় বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৬৪ শতাংশ। মার্সিডিজ বেঞ্জের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার কমলাপুর অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো থেকে ২০২৬ সালে উৎপাদিত তিনটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি খালাস করে র্যাংগস মোটরস লিমিটেড। প্রতিটি গাড়ির বাজারমূল্য ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এসব গাড়ির আমদানিতে শুল্ক ও করের হার ছিল ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ। তবে সব ধরনের টেসলা বা মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ির ওপর একই হারে শুল্ক আরোপ করা হয় না। গাড়ির ধরন, ইঞ্জিনের ক্ষমতা, প্রযুক্তি, মূল্য এবং নির্ধারিত এইচএস কোড অনুযায়ী করের হার পরিবর্তিত হয়। মাল্টার ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে আমদানি করা মাল্টার মোট শুল্ক ও করের হার ছিল ৫৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে তা ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে। ২০২১-২২ অর্থবছরে এই হার দাঁড়ায় ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশে। ২০২২ সালের মে মাসে ডলার সংকটের মধ্যে ফল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করে তৎকালীন সরকার। এর ফলে মাল্টার ওপর মোট শুল্ক ও করের বোঝা প্রায় ১১৪ শতাংশে পৌঁছায়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাঝামাঝি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তা আরও বাড়িয়ে প্রায় ১৩৬ শতাংশ করা হয়। ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের পর ২০২৫ সালের মার্চে কিছু অতিরিক্ত শুল্ক কমানো হয়। এরপর ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে মাল্টার মোট শুল্ক ও করের হার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়, যা এখনো কার্যকর রয়েছে। বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল আলম প্রথম আলোকে জানান, বিশ্বের অন্য দেশে আমদানি করা তাজা ফলের ওপর এত বেশি শুল্ক আরোপের নজির বিরল। তাঁর মতে, বাংলাদেশে মাল্টার মতো ফলের ওপর বিলাসবহুল গাড়ির চেয়েও বেশি কর আরোপ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক জুনাইদুল হক জানান, আগে এক কনটেইনার মাল্টা আমদানিতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা শুল্ক ও কর দিতে হতো। বর্তমানে সেই খরচ বেড়ে ২৮ থেকে ২৯ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এতে আমদানিকারকদের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ক্রেতাদেরও বেশি দাম দিতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক তুলনাতেও বাংলাদেশের শুল্কহার অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে আমদানি করা কমলালেবুর কার্যকর গড় শুল্কহার ছিল ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। সে হিসাবে বাংলাদেশে মাল্টার ওপর মোট শুল্ক ও করের হার প্রায় ২৩ গুণ বেশি। প্রতিবেশী ভারতেও আমদানি করা কমলালেবুর ওপর মৌলিক শুল্ক ৩০ শতাংশ। অন্যান্য করসহ মোট করের বোঝা প্রায় ৩৩ শতাংশ। এদিকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দেওয়া এক চিঠিতে তাজা ফলের ওপর শুল্ক ও কর কমানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের মতে, তাজা ফল অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্যের অন্তর্ভুক্ত। তাই এসব পণ্যের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান নলেজ হাব ইনস্টিটিউট ট্রাস্টের সভাপতি খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রথম আলোকে বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতেই একসময় ফল আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। তাঁর মতে, রোগীদের খাদ্যতালিকায় ব্যবহৃত মাল্টার ওপর কিছু বিলাসবহুল গাড়ির চেয়েও বেশি শুল্ক ও কর আরোপের ঘটনা দেশের বিদ্যমান করকাঠামোয় ভারসাম্যের অভাব তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুল্ক আরোপের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়লেও এর একটি বড় অংশের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। কারণ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা পণ্যের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের সময় শুল্ক, কর এবং অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নেন। ফলে মাল্টার মতো একটি ফলের উচ্চমূল্য শুধু আমদানি ব্যবসার বিষয় নয়, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্যের সঙ্গেও জড়িত। এ পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের শুল্ককাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ভারতের তামিলনাড়ুতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা এক তরুণের ওমরাহ পালনের খরচ তাঁর হিন্দু পরিবার বহন করেছে বলে সামাজিক মাধ্যমে একটি ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচারিত বিবরণ অনুযায়ী, ছেলের ধর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে বাধা না দিয়ে পরিবার তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়েছে। এমনকি পবিত্র মক্কায় ওমরাহ পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ খরচও দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি আলোচনায় এসেছে। ছবিটি বিমানবন্দরে ওই তরুণকে বিদায় জানানোর মুহূর্তের বলে দাবি করা হচ্ছে। ছবির সঙ্গে দেওয়া বিবরণে বলা হয়েছে, পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি নিরাপদ যাত্রার জন্য প্রার্থনাও করেছেন। প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর একটি হিন্দু পরিবারে জন্ম নেওয়া তরুণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্ম পরিবর্তনের পরও পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় থাকে। পরিবারের সদস্যরা তাঁর নতুন ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখানোর সিদ্ধান্ত নেন। এরই ধারাবাহিকতায় তরুণটি ওমরাহ পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করলে পরিবার তাঁর যাতায়াতের খরচ বহন করে বলে দাবি করা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি ধর্মীয় সহাবস্থান ও পারিবারিক সম্প্রীতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যেও পারিবারিক সম্পর্ক এবং একে অন্যের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে প্রচারিত বিবরণে ওই তরুণ কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তামিলনাড়ুর কোন এলাকার বাসিন্দা তাঁরা, কবে ওই তরুণ ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং কখন ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন, সে সম্পর্কেও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে ভ্রমণের সম্পূর্ণ খরচ বহনের দাবিটিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বিমানবন্দরের ছবিটির মূল উৎস ও তোলার সময় সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি প্রশংসিত হলেও এর বিস্তারিত বিবরণ এখনো যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়ের পার্থক্য সত্ত্বেও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্পর্ক বজায় রাখার যে বার্তা ছবিটির মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, সেটিই মূলত সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
পানীয়তে অ জ্ঞা তে মা দক মেশানো হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করার জন্য বিশেষ ধরনের নেলপলিশ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের চার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। ২০১৪ সালে নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির চার শিক্ষার্থী মিলে তৈরি করা এই পরীক্ষামূলক নেলপলিশের নাম দেওয়া হয় ‘আন্ডারকভার কালার্স’। পানীয়তে নির্দিষ্ট কিছু মা দক উপস্থিত থাকলে নেলপলিশের রং বদলে যাওয়ার কথা ছিল। এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আনকেশ মাদান, স্টিফেন গ্রে, ট্যাসো ভন উইন্ডহেইম ও টাইলার কনফ্রে-ম্যালোনি। চারজনই নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের অভিজ্ঞতা থেকে তারা বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করা, যার মাধ্যমে কেউ নিজের পানীয় গ্রহণের আগে সেটিতে সম্ভাব্য ক্ষতিকর কোনো পদার্থ আছে কি না, তা সহজভাবে যাচাই করতে পারেন। পরিকল্পনাটি ছিল তুলনামূলকভাবে সহজ। নেলপলিশটি আঙুলে ব্যবহার করার পর পানীয়ের সংস্পর্শে আনলে নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতিতে এর রং পরিবর্তিত হওয়ার কথা ছিল। সে সময় পরীক্ষামূলকভাবে রোহিপনল, জ্যানাক্স ও জিএইচবির মতো পদার্থ শনাক্ত করার সক্ষমতা নিয়ে কাজ চলছিল। উদ্যোগটি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে আলোচনায় আসে। ‘আন্ডারকভার কালার্স’ শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পায়। পরে একজন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ ডলারের বিনিয়োগও আকর্ষণ করে। এর ফলে চার শিক্ষার্থীর উদ্ভাবনটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জায়গা করে নেয়। তবে শুরু থেকেই এটি একটি পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি ছিল। ২০১৪ সালে নেলপলিশটি সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে বিক্রির উপযোগী চূড়ান্ত পণ্য ছিল না। তখনও এর কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিল। ফলে এটিকে বাজারে সহজলভ্য কোনো প্রস্তুত পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। উদ্ভাবনটি আলোচনায় আসার পাশাপাশি সমালোচনারও মুখে পড়ে। সমালোচকদের একটি অংশ মনে করেছিল, এ ধরনের প্রযুক্তি সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকেই নিজের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব নেওয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাদের মতে, যৌ ন নি র্যা ত ন বা এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের মূল দায়িত্ব সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর নয়; অপরাধীকে প্রতিহত করা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য অবশ্য ছিল ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষকে সম্ভাব্য বিপদ শনাক্ত করার একটি উপায় দেওয়া। তাদের ধারণা ছিল, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি একটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পরবর্তী সময়ে ‘আন্ডারকভার কালার্স’ নেলপলিশের ধারণাটি আর বাজারজাত করা হয়নি। পরে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা ‘সিপচিপ’ নামে ভিন্ন ধরনের পানীয় পরীক্ষার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো পোস্টের মাধ্যমে নেলপলিশটিকে এখনো বাজারে পাওয়া যায় বা এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন দাবি সঠিক নয়। তবে প্রায় এক দশক আগে চার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর এই উদ্যোগ পানীয়তে অ জ্ঞা তে মা দক মেশানোর ঝুঁকি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছিল। একই সঙ্গে উদ্ভাবনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনে—প্রযুক্তি সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্তে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু যৌ ন নি র্যা ত নসহ কোনো অপরাধের দায় কখনোই সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর ওপর বর্তায় না।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবা নারীর কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও টিপসই নিয়ে জাল কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। ৪৩ বছর বয়সী ওই নারীর দাবি, তিনি কাউকে বিয়ে করেননি কিংবা বিয়েতে সম্মতিও দেননি। অথচ কয়েক দিন পর জানতে পারেন, তাঁর বিয়ে হয়ে গেছে বলে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি তাঁকে একটি কাবিননামাও দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলা ট্রিবিউনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার একটি গ্রামে। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, স্থানীয় আবদুস ছাত্তার ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে প্রথমে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি সংগ্রহ করেন। কয়েক দিন পর তাঁকে ডেকে একটি কাগজে টিপসই নেন। পরে সেই টিপসই ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে বিয়ের কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। প্রায় ১৩ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন ওই নারী। এরপর অন্যের জমিতে কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন। ছেলেদের বিয়ে দিয়েছেন, সংসারে নাতি-নাতনিও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একাই পরিবারের দায়িত্ব সামলানো এই নারী এখন নিজের অজান্তে বিয়ের কাগজ তৈরির অভিযোগ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিয়ের জন্য কোথাও যাননি এবং কোনো কাজির সামনেও উপস্থিত হননি। এমনকি যাঁর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই ব্যক্তির বিয়ের প্রস্তাবও তিনি আগে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের নাম উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এর আগেও একাধিকবার ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু নারীটি কখনো রাজি হননি। আবদুল কুদ্দুস নিজেও বিবাহিত। তাঁর স্ত্রী সুফিয়া খাতুন জানিয়েছেন, স্বামী তাঁকে আগে এ ধরনের কোনো বিয়ের কথা জানাননি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর কুদ্দুস দাবি করেন, তিনি কোর্ট ম্যারেজ করেছেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি তাঁদের কথা শোনেননি বলে জানান সুফিয়া। এদিকে কাবিননামায় আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ এবং এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। দলিলটিতে কাজি হিসেবে গোলাম মোস্তফা এবং সাক্ষী হিসেবে আবদুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের নাম রয়েছে। তবে সাক্ষী হিসেবে নাম থাকা সাইফুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি এমন কোনো বিয়েতে সাক্ষী হননি। অন্যদিকে কাজি গোলাম মোস্তফাও কাবিননামাটি জাল বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি এ ধরনের কোনো বিয়ে সম্পন্ন করেননি। এর আগেও ২০২০ সালে তাঁর নামে একই ধরনের জাল কাগজ তৈরি হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। বর্তমান ঘটনায় কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা আবদুস ছাত্তার নিজেকে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে তিনি পুরো অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ওই নারীর কাছ থেকে কোনো টিপসই নেননি। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক জানিয়েছেন, আবদুস ছাত্তার দলের কোনো পদধারী নেতা নন। বিগত নির্বাচনে তিনি একটি কেন্দ্র কমিটির সহযোগী সদস্য হিসেবে কাজ করেছিলেন। এর আগে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও জানান তিনি। ফজলুল হকের ভাষ্য, স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হওয়া উচিত। তবে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি সাজানো বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি। এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় দুই দফা সালিশ বৈঠক হয়েছে। গত সোমবার ও বুধবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস কেউই উপস্থিত ছিলেন না। সালিশে নেতৃত্ব দেওয়া মোহাম্মদ রুস্তম আলী জানিয়েছেন, শুক্রবার পর্যন্ত অভিযুক্তদের সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার না হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সালিশের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব না হলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানিয়েছেন, ঘটনাটি বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁদের নজরে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিধবা নারীর সম্মতি ছাড়া বিয়ের কাবিননামা তৈরির অভিযোগটি এখনো তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও। ফলে কাবিননামাটি কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং এতে কারা জড়িত, তা নির্ধারণে আনুষ্ঠানিক তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
অস্ট্রেলিয়ার পার্থে সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তাসনিম ঐশির মৃ ত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে এডিথ কোয়ান ইউনিভার্সিটিতে (ইসিইউ) পড়াশোনা করছিলেন। মাত্র তিন মাস আগে দেশ ছেড়ে যাওয়া এই তরুণীর আকস্মিক মৃ ত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও সাবেক সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তাসনিম ঐশি। সেখানে নতুন পরিবেশে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর পথচলা শুরু হয়েছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর মাত্র তিন মাসের মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর জীবন থেমে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। তবে পার্থের ঠিক কোন এলাকায় এবং কবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার সময় তাসনিম পথচারী ছিলেন, নাকি কোনো যানবাহনে অবস্থান করছিলেন, তাও জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ আ হ ত হয়েছেন কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাসনিম ঐশির মৃ ত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিচিতজন ও সহপাঠীদের মধ্যে গভীর শোকের কথা জানা গেছে। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে এমন মৃ ত্যুর খবর তাঁদের জন্য বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কোয়ান ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তাঁর মৃ ত্যুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে তাসনিমের ম র দে হ দেশে ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, অথবা অস্ট্রেলিয়াতেই তাঁর শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করা হবে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানা যায়নি। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়া তাসনিম ঐশির আকস্মিক মৃ ত্যুর খবর আবারও প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে।
ভারতের উত্তর প্রদেশের একটি গ্রামের কৃষিজমিতে কাজ করার ফাঁকে ইংরেজি শেখানোর ভিডিও তৈরি করেছিলেন যশোদা লোধি। ভিডিও ধারণের সময় স্বামীর বকুনিও শুনতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই ভিডিওই শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় বলিউড ও হলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাসের কাছে। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ভিডিওটি শেয়ার করেন প্রিয়াঙ্কা। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় আসেন গ্রামের এই ইংরেজি শিক্ষিকা। বুধবার (৭ অক্টোবর) ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমে যশোদার এই অভিজ্ঞতার খবর প্রকাশিত হয়। উত্তর প্রদেশের কৌশাম্বী জেলার বাসিন্দা যশোদা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ইংলিশ উইথ দেহাতি ম্যাডাম’ নামে পরিচিত। গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় ইংরেজি শেখানোর ভিডিও তৈরি করেন তিনি। বিশেষ করে যারা ইংরেজিতে কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন কিংবা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভাষাটি ভালোভাবে শেখার সুযোগ পাননি, তাঁদের জন্য সহজ ও ব্যবহারিক ইংরেজির পাঠ তুলে ধরেন যশোদা। তাঁর ভিডিওতে জটিল ব্যাকরণের পরিবর্তে দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত পরিস্থিতি এবং সাধারণ কথাবার্তার মাধ্যমে ইংরেজি শেখানোর চেষ্টা দেখা যায়। সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে যশোদা জানান, আগের দিন তিনি কৃষিজমিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। কাজের ফাঁকে সেখানেই একটি ইংরেজি শেখানোর ভিডিও রেকর্ড করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ভিডিও ধারণের সময় তাঁর স্বামী তাঁকে বকাঝকা করেন বলে জানান তিনি। এরপরও ভিডিওটি সম্পূর্ণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন যশোদা। ভিডিও প্রকাশের পর সেটি যে এত দূর পৌঁছে যাবে, তা কল্পনাও করেননি তিনি। জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে যশোদার ভিডিওটি শেয়ার করেন। বিষয়টি জানার পর আনন্দে অভিভূত হয়ে পড়েন যশোদা। পরে অনুসারীদের উদ্দেশে প্রকাশ করা আরেকটি ভিডিওতে পুরো অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রিয়াঙ্কা তাঁর ভিডিও শেয়ার করেছেন—এটি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যশোদা। একজন গ্রামের সাধারণ নারী হিসেবে নিজের ছোট একটি প্রচেষ্টা যে এত দূর পৌঁছাতে পারে, তা তিনি আগে কখনো ভাবেননি। তাঁর কাছে বিষয়টি শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর স্বীকৃতি নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার একটি বড় প্রাপ্তি। যশোদার জীবনযাত্রা অন্য অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কনটেন্ট নির্মাতার চেয়ে আলাদা। তিনি কোনো বড় শহরের নামকরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেননি। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। এরপর নিজের আগ্রহ ও চেষ্টায় ইংরেজি শেখেন তিনি। একসময় সেই শেখার অভিজ্ঞতাই অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথম দিকে সাধারণ ইংরেজি শব্দ, দৈনন্দিন কথোপকথন এবং সহজ বাক্য ব্যবহারের ভিডিও তৈরি করতেন যশোদা। ধীরে ধীরে ইংরেজিতে কথা বলার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বিষয়টিও তাঁর কনটেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। নিজের পরিচিত গ্রামীণ পরিবেশ থেকেই তিনি এসব ভিডিও তৈরি করতে থাকেন। তাঁর ভিডিওর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সহজ উপস্থাপনা। ইংরেজি শেখানোর জন্য কঠিন শব্দ বা জটিল ব্যাকরণ ব্যবহারের পরিবর্তে দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত পরিস্থিতি তুলে ধরেন তিনি। বাড়ির কাজ, কৃষিজমিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা কিংবা সাধারণ মানুষের কথাবার্তা থেকে উদাহরণ নিয়ে ইংরেজি বোঝানোর চেষ্টা করেন। এই পদ্ধতির কারণে বিশেষ করে হিন্দিভাষী এবং গ্রামীণ এলাকার মানুষের কাছে তাঁর ভিডিও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যারা ইংরেজি বলতে চান, কিন্তু ভুল হওয়ার ভয়ে কথা বলতে সাহস পান না, তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর চেষ্টা করেন যশোদা। প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ভিডিও শেয়ার করার পর তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। ৭ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, যশোদার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অনুসারীর সংখ্যা ৫ লাখ ৮৩ হাজার ছাড়িয়েছে। ইউটিউবেও তাঁর অনুসারী চার লাখের বেশি। আলোচিত ভিডিওটি এরই মধ্যে তিন কোটি ৪০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে এবং ১৮ লাখের বেশি লাইক সংগ্রহ করেছে। যশোদার কাজ শুধু প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নজরেই আসেনি। অভিনেত্রী মৃণাল ঠাকুর এবং অভিনেতা অভয় দেওল ও আর মাধবনও এর আগে তাঁর উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। পরিচিত অভিনয়শিল্পীদের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়ায় নিজের কাজের প্রতি আরও উৎসাহ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন যশোদা। তবে যশোদার এই পথচলা শুরু হয়েছিল একেবারেই সাধারণ পরিবেশ থেকে। নিজে ইংরেজি শেখার পর তিনি উপলব্ধি করেন, তাঁর মতো আরও অনেক মানুষ ভাষাটি শিখতে আগ্রহী। কিন্তু অনেকের কাছে ব্যয়বহুল কোর্স কিংবা প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহজভাবে শেখানোর উদ্যোগ নেন তিনি। ইংরেজি শেখানোর পাশাপাশি তাঁর নিজের জীবনযাত্রাও ভিডিওতে উঠে আসে। কখনো বাড়িতে, কখনো কৃষিজমিতে, আবার কখনো দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে ইংরেজিতে কথা বলেন তিনি। এই স্বাভাবিক উপস্থাপনাই তাঁকে অন্য অনেক কনটেন্ট নির্মাতার থেকে আলাদা করেছে। স্বামীর বকুনি খাওয়ার ঘটনাটি নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। তবে একটি ভিডিওর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাঁদের ব্যক্তিগত বা দাম্পত্য সম্পর্ক সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। যশোদা নিজেই ঘটনাটি তুলে ধরেছেন তাঁর কাজের স্বীকৃতি পাওয়ার অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা বোঝাতে। প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার স্বীকৃতি পাওয়ার পর যশোদার গল্প নতুন করে সামনে এনেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামূলক কনটেন্টের সম্ভাবনা। নিজের শেখা জ্ঞান অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে বড় প্রতিষ্ঠান কিংবা অত্যাধুনিক স্টুডিও সব সময় অপরিহার্য নয়। সাধারণ পরিবেশ থেকেও নিয়মিত শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরি করে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব—যশোদার অভিজ্ঞতা তার একটি উদাহরণ। কৃষিজমিতে কাজের ফাঁকে তৈরি করা একটি সাধারণ ভিডিও থেকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত অভিনেত্রীর নজরে আসা পর্যন্ত যশোদা লোধির এই যাত্রা এখন আলোচনার বিষয়। নিজের চেষ্টায় ইংরেজি শেখা গ্রামের এই নারী আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো মানুষের কাছে ইংরেজি শেখাচ্ছেন। আর প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি তাঁর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টাকে নতুন করে পরিচিতি এনে দিয়েছে।
চীনে মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত হয়ে নিজের তারুণ্যদীপ্ত চেহারার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন ৪১ বছর বয়সী এক বাবা। তাঁর মেয়ের বয়স ২১ বছর। কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠানে বাবা ও মেয়েকে একসঙ্গে দেখে অনেকেই তাঁদের ভাইবোন বলে ভুল করেন। আগস্টের শেষ দিকে চীনের গুয়াংডং প্রদেশের চাওঝৌ শহরে ধারণ করা একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে ওই বাবা নিজেই জানান, কীভাবে তিনি নিজের সুস্থতা ও তারুণ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেন। চীনা সংবাদমাধ্যম হাইবাও নিউজের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচিত ওই ব্যক্তির পারিবারিক নাম ঝেং। তাঁর জন্ম ১৯৮৬ সালে এবং মেয়ের জন্ম ২০০৫ সালে। অর্থাৎ বাবা ও মেয়ের বয়সের ব্যবধান মাত্র ২০ বছর। অল্প বয়সে বাবা হওয়ার পাশাপাশি নিজের চেহারা ও শারীরিক গঠনের কারণেও তিনি সহজে অন্যদের নজরে পড়েন। গত ২৮ আগস্ট মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে লাল রঙের টি শার্ট ও কালো প্যান্ট পরে হাজির হন ঝেং। লম্বা গড়ন, তরুণদের মতো পোশাক এবং বয়সের তুলনায় কম বয়সী দেখানোর কারণে তাঁকে দেখে অনেকেই অবাক হন। বিয়ের অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দর্শকদের একটি বড় অংশও প্রথমে বুঝতে পারেননি, তরুণ দেখতে ওই ব্যক্তিই কনের বাবা। তবে এ ধরনের অভিজ্ঞতা ঝেংয়ের কাছে নতুন নয়। তিনি জানান, মেয়ের সঙ্গে বাইরে বের হলে অপরিচিত মানুষেরা প্রায়ই তাঁদের ভাইবোন বলে মনে করেন। কখনো কখনো তাঁদের প্রেমিক-প্রেমিকাও মনে করা হয়। এমন ভুল বোঝাবুঝির সঙ্গে তিনি অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। এমনকি মেয়ের স্বামীও প্রথমবার শ্বশুরকে দেখে অবাক হয়েছিলেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঝেংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম পরিচয়ের সময় তাঁর জামাই ধারণা করতে পারেননি যে এত তরুণ দেখতে একজন মানুষ তাঁর হবু স্ত্রীর বাবা হতে পারেন। বিয়ের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, ৪১ বছর বয়সেও ঝেং এত তরুণ দেখান কীভাবে? তাঁর বিশেষ কোনো খাবার, ব্যায়াম কিংবা ত্বকের যত্নের পদ্ধতি রয়েছে কি না, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়। এ বিষয়ে ঝেং যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা বেশ সাধারণ। তাঁর দাবি, তিনি নিজের মানসিক অবস্থাকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন এবং খুব কমই রাগ করেন। দৈনন্দিন জীবনে অযথা উত্তেজনা বা মানসিক চাপ এড়িয়ে চলাকে তিনি গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস রয়েছে তাঁর। ঝেং জানান, তিনি দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমাতে পারেন। নিজের বিশ্রাম ও ঘুমের অভ্যাসকে সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করেন তিনি। নিয়মিত শরীরচর্চাও তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ। বিশেষ করে ব্যাডমিন্টন খেলতে পছন্দ করেন ঝেং। সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন এই খেলায় অংশ নেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, নিয়মিত খেলাধুলা শরীরকে সচল ও ফিট রাখতে সহায়তা করে। তবে ঝেংয়ের এসব অভ্যাসই যে তাঁর চেহারা অপেক্ষাকৃত তরুণ দেখানোর একমাত্র কারণ, তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। মানুষের চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ার ক্ষেত্রে বংশগত বৈশিষ্ট্য, জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যক্রম এবং পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু একজন ব্যক্তির অভিজ্ঞতা থেকে তারুণ্য ধরে রাখার নির্দিষ্ট কোনো সূত্র নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম, শারীরিক কার্যক্রম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রত্যেকের ঘুমের চাহিদা এক নয়। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। ফলে ঝেংয়ের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস সবার জন্য অনুসরণীয় কোনো নিয়ম নয়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তাঁর চেহারা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, কেউ আবার বাবা ও মেয়ের বয়সের তুলনামূলক কম ব্যবধান নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অনেকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে তাঁর নিয়মিত খেলাধুলা ও জীবনযাপনের অভ্যাস। ঘটনাটি নিয়ে গত ২৯ আগস্ট চীনের একাধিক সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি স্থান পায়। ভিয়েতনামভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ভিএনএক্সপ্রেস ৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে ঝেংয়ের বয়স, মেয়ের বিয়ের ভিডিও এবং তাঁর জীবনযাপনের অভ্যাস তুলে ধরে। চীনের গুয়াংডং প্রদেশের এই বাবার গল্প শেষ পর্যন্ত একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের ভিডিও থেকেই আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত হওয়া একজন বাবাকে প্রথম দেখায় অনেকে ভাই ভেবে ভুল করেছেন, আর সেই ঘটনাই তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত করে তুলেছে। ৪১ বছর বয়সী ঝেং অবশ্য নিজের তারুণ্য ধরে রাখার পেছনে কোনো বিশেষ কৌশলের কথা বলেননি। শান্ত থাকা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত ব্যাডমিন্টন খেলাকেই তিনি নিজের দৈনন্দিন অভ্যাস হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে মানুষের কৌতূহল থাকলেও বয়সের তুলনায় তরুণ দেখানোর পেছনে ঠিক কোন বিষয়টি কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
নিউইয়র্কে নতুন করে ড্রাইভার লাইসেন্স নিতে চান, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন বুঝতে পারছেন না? নতুন অভিবাসীসহ অনেকেরই প্রশ্ন থাকে, কী কী কাগজপত্র লাগবে, লিখিত পরীক্ষায় কত নম্বর পেতে হবে, ড্রাইভিং স্কুলে যাওয়া বাধ্যতামূলক কি না এবং রোড টেস্ট পাস করার পর কত দিনে লাইসেন্স পাওয়া যাবে। এসব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকলস বা ডিএমভির নিয়মে। ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ যাত্রীবাহী গাড়ির লাইসেন্স পেতে প্রথমে লার্নার পারমিট, এরপর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কোর্স এবং সবশেষে রোড টেস্ট সম্পন্ন করতে হয়। নিউইয়র্কে সাধারণ গাড়ি চালানোর জন্য ক্লাস ডি ড্রাইভার লাইসেন্স ব্যবহার করা হয়। আবেদন করার ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর হলেও ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে। তাঁরা সাধারণত জুনিয়র লার্নার পারমিট এবং পরে জুনিয়র লাইসেন্স পান। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরোতে অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। প্রথম ধাপ হলো লার্নার পারমিটের আবেদন। এজন্য আবেদনকারীকে নিজের পরিচয়, জন্মতারিখ এবং নিউইয়র্কে বসবাসের প্রমাণ জমা দিতে হয়। ডিএমভির আইডি ৪৪ নির্দেশিকায় কোন নথির জন্য কত পয়েন্ট পাওয়া যাবে, তা নির্ধারণ করা রয়েছে। সাধারণভাবে পরিচয়ের জন্য ছয় পয়েন্টের প্রমাণ প্রয়োজন। তবে আবেদনকারী স্ট্যান্ডার্ড, রিয়েল আইডি নাকি এনহ্যান্সড লাইসেন্স নিতে চান, তার ওপর অতিরিক্ত কাগজপত্রের শর্ত নির্ভর করে। নতুন অভিবাসীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিউইয়র্কের স্ট্যান্ডার্ড ড্রাইভার লাইসেন্সের আবেদন করতে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস থাকা বাধ্যতামূলক নয়। রাজ্যের গ্রিন লাইট আইনের অধীনে যোগ্য বাসিন্দারা নির্ধারিত পরিচয় ও বসবাসের প্রমাণ দিয়ে স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্সের আবেদন করতে পারেন। তবে রিয়েল আইডি ও এনহ্যান্সড লাইসেন্সের যোগ্যতা আলাদা। রিয়েল আইডির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আইনসম্মত অবস্থানের প্রমাণ প্রয়োজন এবং এনহ্যান্সড লাইসেন্স কেবল মার্কিন নাগরিকদের জন্য উপলভ্য। আবেদনের পর গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ভিশন টেস্ট এবং নলেজ টেস্ট। ভিশন টেস্টে আবেদনকারীর দৃষ্টিশক্তি গাড়ি চালানোর উপযোগী কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। সাধারণভাবে অন্তত এক চোখে ২০/৪০ দৃষ্টিশক্তি থাকতে হয়, যা প্রয়োজনে চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করে পূরণ করা যেতে পারে। যাঁদের গাড়ি চালানোর সময় চশমা ব্যবহার করতে হয়, তাঁদের লাইসেন্সে সেই শর্ত উল্লেখ থাকতে পারে। লিখিত বা নলেজ টেস্টে মোট ২০টি মাল্টিপল চয়েস প্রশ্ন থাকে। পরীক্ষায় পাস করতে অন্তত ১৪টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে। তবে শুধু ১৪টি সঠিক হলেই চলবে না। চারটি রোড সাইন প্রশ্নের মধ্যে কমপক্ষে দুটি সঠিক করা বাধ্যতামূলক। পরীক্ষায় ট্রাফিক আইন, রাস্তার চিহ্ন, নিরাপদ ড্রাইভিং, অ্যালকোহল ও ড্রাগের প্রভাবে গাড়ি চালানোর ঝুঁকি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম সম্পর্কে প্রশ্ন আসে। নিউইয়র্ক ডিএমভি বাংলা ভাষাসহ বিভিন্ন ভাষায় নলেজ টেস্ট দেওয়ার সুযোগ রাখে। ফলে ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দ নন, এমন অনেক বাংলাদেশি আবেদনকারী বাংলায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে এবং উপলভ্য থাকলে বাংলায় পরীক্ষা দিতে পারেন। ডিএমভির অফিসিয়াল ড্রাইভার্স ম্যানুয়াল ও প্র্যাকটিস প্রশ্ন পড়ে প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। পরীক্ষায় পাস করলে প্রথমে অস্থায়ী পারমিট দেওয়া হয় এবং পরে ছবিসহ পারমিট ডাকযোগে পাঠানো হয়। পারমিট পাওয়া মানেই একা গাড়ি চালানোর অনুমতি নয়। ডিএমভির নিয়ম অনুযায়ী, পারমিটধারীর সঙ্গে কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী এমন একজন সুপারভাইজিং ড্রাইভার থাকতে হবে, যাঁর সংশ্লিষ্ট ধরনের গাড়ি চালানোর বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির পার্কের রাস্তা, নির্দিষ্ট ব্রিজ ও টানেল এবং ডিএমভির রোড টেস্ট এলাকায় পারমিট নিয়ে গাড়ি চালানোর নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। বিশেষ করে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক সিটিতে আরও কঠোর নিয়ম মানতে হয়। সকাল পাঁচটা থেকে রাত নয়টার মধ্যে নির্ধারিত যোগ্য সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে এবং ডুয়াল ব্রেকযুক্ত গাড়িতে তাঁরা অনুশীলন করতে পারেন। রাত নয়টা থেকে সকাল পাঁচটা পর্যন্ত পাঁচটি বরোতে জুনিয়র পারমিট নিয়ে গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ। জুনিয়র লাইসেন্স পাওয়ার পরও সাধারণভাবে নিউইয়র্ক সিটির মধ্যে গাড়ি চালানো যায় না। তবে অনুমোদিত ড্রাইভার এডুকেশন কোর্স সম্পন্ন করে ১৭ বছর বয়সে পূর্ণ ক্লাস ডি লাইসেন্স পাওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। রোড টেস্ট দেওয়ার আগে পাঁচ ঘণ্টার প্রি লাইসেন্সিং কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুল থেকে এই কোর্স করা যায়। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ডিএমভি অনুমোদিত অনলাইন কোর্সের ব্যবস্থাও রয়েছে। সরাসরি কোর্স সম্পন্ন করলে সাধারণত এমভি ২৭৮ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, যার মেয়াদ এক বছর। অন্যদিকে অনুমোদিত ড্রাইভার এডুকেশন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা এমভি ২৮৫ সার্টিফিকেট ব্যবহার করতে পারেন। অনলাইন প্রি লাইসেন্সিং কোর্সের তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সরাসরি ডিএমভিতে পাঠায়। প্রচলিত ডিফেন্সিভ ড্রাইভিং বা ইন্স্যুরেন্স কমানোর কোর্স এই শর্ত পূরণের বিকল্প নয়। রোড টেস্টের আগে পর্যাপ্ত ড্রাইভিং প্র্যাকটিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ১৮ বছরের কম বয়সীদের অন্তত ৫০ ঘণ্টা সুপারভাইজড ড্রাইভিং সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক, যার মধ্যে কমপক্ষে ১৫ ঘণ্টা সূর্যাস্তের পর হতে হবে। এ ছাড়া মাঝারি থেকে ভারী ট্রাফিকে অন্তত ১০ ঘণ্টা অনুশীলন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীদের অভিভাবকের স্বাক্ষরসহ এমভি ২৬২ ফর্ম জমা দিতে হয়। তাঁদের পারমিট পাওয়ার পর অন্তত ছয় মাস অপেক্ষা করতে হয় রোড টেস্টের জন্য। অন্যদিকে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে একই ছয় মাস অপেক্ষার নিয়ম নেই। তবে নিরাপদে গাড়ি চালানোর দক্ষতা অর্জন না করে পরীক্ষা দেওয়া উচিত নয়। শুধু ফাঁকা রাস্তায় গাড়ি চালানোর অভ্যাস যথেষ্ট নয়। ইন্টারসেকশন, লেন চেঞ্জ, ট্রাফিক সিগন্যাল, প্যারালাল পার্কিং, থ্রি পয়েন্ট টার্ন এবং ব্যস্ত রাস্তায় নিরাপদে গাড়ি চালানোর অনুশীলন করা জরুরি। প্রস্তুতি শেষ হলে ডিএমভির অনলাইন রোড টেস্ট শিডিউলিং সিস্টেম অথবা অটোমেটেড ফোন নম্বর ৫১৮ ৪০২ ২১০০ ব্যবহার করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যায়। অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পারমিট নম্বর এবং প্রয়োজনীয় কোর্স সম্পন্ন করার তথ্য দিতে হয়। পরীক্ষার স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের বাসার কাছাকাছি লোকেশন বেছে নেওয়া সুবিধাজনক হলেও নির্দিষ্ট কাউন্টিতেই পরীক্ষা দিতে হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই। রোড টেস্টের দিন ছবিসহ লার্নার পারমিট, প্রযোজ্য কোর্স সার্টিফিকেট এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি সঙ্গে রাখতে হবে। গাড়িটি অবশ্যই বৈধভাবে রেজিস্টার্ড, ইন্স্যুরেন্স করা, ইন্সপেকশন সম্পন্ন এবং নিরাপদ অবস্থায় থাকতে হবে। গাড়ির দরজা, সিট বেল্ট, ব্রেক, সিগন্যাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ঠিকঠাক কাজ করতে হবে। আবেদনকারীর সঙ্গে কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী বৈধ লাইসেন্সধারী ড্রাইভার থাকতে হবে, যিনি গাড়িটি পরীক্ষাস্থলে নিয়ে আসতে পারবেন। রোড টেস্টে পরীক্ষক আবেদনকারীর গাড়ি নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং নিরাপদ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা যাচাই করেন। সাধারণত ডান ও বাঁ দিকে মোড় নেওয়া, ইন্টারসেকশনে গাড়ি চালানো, থ্রি পয়েন্ট টার্ন এবং প্যারালাল পার্কিংয়ের মতো বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হয়। তবে পরীক্ষা শুধু এসব ম্যানুভার ঠিকভাবে সম্পন্ন করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আশপাশের যানবাহন ও পথচারীদের প্রতি সতর্ক থাকা, সঠিক সময়ে সিগন্যাল দেওয়া, মিরর ও ব্লাইন্ড স্পট পরীক্ষা করা এবং রাস্তার পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপদ সিদ্ধান্ত নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। প্যারালাল পার্কিং করতে গিয়ে নতুন চালকেরা অনেক সময় সমস্যায় পড়েন। কার্বের কাছাকাছি নিরাপদে গাড়ি পার্ক করা, রিভার্স করার সময় চারপাশ পর্যবেক্ষণ এবং অন্য গাড়ির সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। একইভাবে স্টপ সাইনে সম্পূর্ণ থামা, পথচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং লেন পরিবর্তনের আগে যথাযথ পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পরীক্ষক মূলত দেখতে চান আবেদনকারী বাস্তব রাস্তায় দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালাতে সক্ষম কি না। রোড টেস্টে ব্যর্থ হলে পুনরায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সাধারণ ক্লাস ডি পারমিট ও লাইসেন্সের প্রাথমিক ফিতে দুটি রোড টেস্টের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত থাকে। দুবার ব্যর্থ হলে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত ফি দিতে হয়। তাই প্রতিবার পরীক্ষার আগে দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে অনুশীলন করা ভালো। রোড টেস্টে পাস করলে ডিএমভির নিয়ম অনুযায়ী ইন্টেরিম ড্রাইভার লাইসেন্স পাওয়া যায়। এরপর ছবিসহ স্থায়ী লাইসেন্স ডাকযোগে পাঠানো হয়। সাধারণভাবে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে লাইসেন্স হাতে পাওয়া এবং আইনগতভাবে গাড়ি চালানোর অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি এক নয়। পরীক্ষায় পাস করার পর ডিএমভির নির্দেশনা অনুযায়ী বৈধ ইন্টেরিম লাইসেন্স ব্যবহার করতে হবে। জুনিয়র লাইসেন্সধারীদের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধও বহাল থাকবে। লাইসেন্স নিতে মোট খরচ কত হবে, তা নির্ভর করে আবেদনকারীর বয়স, জন্মতারিখ, লাইসেন্সের ধরন এবং বসবাসের এলাকার ওপর। নিউইয়র্ক সিটিসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি কাউন্টিতে মেট্রোপলিটন কমিউটার ট্রান্সপোর্টেশন ডিস্ট্রিক্টের অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হয়। ডিএমভির আবেদন ফি ছাড়াও পাঁচ ঘণ্টার কোর্স, ড্রাইভিং লেসন এবং পরীক্ষার জন্য গাড়ি ব্যবহারের খরচ আলাদা হতে পারে। রিয়েল আইডি নিতে সাধারণ লাইসেন্স ফি ছাড়া অতিরিক্ত চার্জ নেই। তবে এনহ্যান্সড লাইসেন্স নিতে আরও ৩০ ডলার দিতে হয়। নতুন লাইসেন্সের আবেদনকারীদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড, রিয়েল আইডি এবং এনহ্যান্সড লাইসেন্সের পার্থক্য বোঝাও জরুরি। স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স নিউইয়র্কে বৈধভাবে গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়, কিন্তু সাধারণভাবে ফেডারেল পরিচয়পত্রের কাজে ব্যবহার করা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রে ডোমেস্টিক ফ্লাইটে ওঠার সময় রিয়েল আইডি, এনহ্যান্সড লাইসেন্স অথবা টিএসএ অনুমোদিত অন্য পরিচয়পত্র প্রয়োজন। এনহ্যান্সড লাইসেন্স নির্দিষ্ট স্থল ও সমুদ্র সীমান্ত অতিক্রমের ক্ষেত্রেও পরিচয় ও মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারযোগ্য। নিউইয়র্কে ড্রাইভার লাইসেন্স পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি তাই শুরু হয় সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত করার মাধ্যমে। এরপর নলেজ টেস্ট, ভিশন টেস্ট, লার্নার পারমিট, প্রি লাইসেন্সিং কোর্স এবং পর্যাপ্ত ড্রাইভিং প্র্যাকটিস শেষে রোড টেস্ট দিতে হয়। নতুন আবেদনকারীরা ডিএমভির অফিসিয়াল ড্রাইভার্স ম্যানুয়াল, আইডি ৪৪ নির্দেশিকা এবং বর্তমান ফি তালিকা অনুসরণ করলে ভুল কাগজপত্র জমা দেওয়া বা অপ্রয়োজনীয় খরচের ঝুঁকি কমাতে পারবেন। বিশেষ করে বাংলাদেশি নতুন অভিবাসীদের জন্য বাংলা ভাষায় পরীক্ষার সুযোগ, স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্সের যোগ্যতা এবং ডিএমভির ডকুমেন্ট সংক্রান্ত নিয়ম আগে থেকেই জানা উপকারী। তবে আবেদন করার আগে ডিএমভির সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া জরুরি, কারণ পরীক্ষার পদ্ধতি, ফি ও প্রশাসনিক নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে এক জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ ব্যাগ চু রির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে সন্দেহভাজন এক যুবকের গতিবিধি শনাক্ত করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে স্টেশনের যাত্রী বিশ্রামাগারে এ ঘটনা ঘটে। ব্যাগ উদ্ধারে রাত থেকেই সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ব্যাগ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী জার্মান নাগরিকের নাম কিরিল ল্যান্ডার উইবার। বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার উদ্দেশ্যে তিনি দেশে এসেছেন। নাটোরে আসার পর তাঁর সঙ্গে পরিচিত হওয়া এক যুবক কৌশলে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, বুধবার বগুড়ার বিভিন্ন স্থান ঘুরে সান্তাহার রেলস্টেশনে পৌঁছান ওই পর্যটক। সেখান থেকে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনে নাটোরের উদ্দেশে রওনা দেন। নাটোর থেকে অন্য ট্রেনে দর্শনা সীমান্ত হয়ে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। বিকেলে নাটোর স্টেশনে নেমে পরবর্তী ট্রেনের অপেক্ষায় যাত্রী বিশ্রামাগারে অবস্থান করছিলেন কিরিল। এ সময় হলুদ রঙের কটি পরা এক যুবক তাঁর সঙ্গে আলাপ শুরু করেন। পর্যটকের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি নিজেকে রেলওয়ের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। কথাবার্তার একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে পরিচিতি তৈরি হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই যুবকের কাছে ব্যাগ রেখে টিকিট কাটতে গিয়েছিলেন কিরিল। সেই সুযোগে যুবক ব্যাগটি নিয়ে সরে পড়েন বলে তাঁর অভিযোগ। ব্যাগের মধ্যে একটি ম্যাকবুক ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল। চু রির খবর পাওয়ার পর সান্তাহার রেলওয়ে থানার একাধিক দল রাতেই তদন্ত শুরু করে। স্টেশন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজে হলুদ কটি পরা এক যুবককে পর্যটকের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। একপর্যায়ে ওই যুবক নিজের পরনের কটি খুলে তার ভেতরে ব্যাগটি লুকিয়ে স্টেশন এলাকা থেকে চলে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ ব্যাগ উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজনের গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাঁকে আ ট ক এবং চু রি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। ব্যাগ হারিয়ে বিপাকে পড়েন ওই জার্মান পর্যটক। ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও ভ্রমণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম হারিয়ে স্টেশনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় পুলিশের কাছে যান। নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনসুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাটি রেলওয়ে পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত। তবে ভুক্তভোগী বিদেশি নাগরিক হওয়ায় সদর থানা পুলিশও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চু রি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটকের ল্যাপটপ শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। তবে ডিভাইসটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে কি না কিংবা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আ ট ক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ভ্রমণকালীন সেবা নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঐতিহাসিক স্থান, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকেরা বাংলাদেশে আসেন। তাঁদের নিরাপদ চলাচল এবং ব্যক্তিগত মালামালের সুরক্ষা নিশ্চিত করা পর্যটনবান্ধব পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও অন্যান্য যাত্রীসমাগমপূর্ণ স্থানে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে লেনদেন কিংবা ব্যক্তিগত মালামাল অন্যের কাছে রাখার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। পর্যটকেরা অনেক সময় স্থানীয় পরিবহনব্যবস্থা ও ভাষার সঙ্গে পরিচিত না থাকায় অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নাটোরের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সন্দেহভাজনের গতিবিধি শনাক্ত হওয়াকে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে পুলিশ। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলেও এখনো কোনো তথ্য নেই। চু রি যাওয়া ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও অন্যান্য জিনিসপত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিদেশি পর্যটকের ব্যাগ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনাই এখন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রধান লক্ষ্য।
ইয়েমেনে সং ঘা ত তীব্র হয়ে ওঠার মধ্যেই সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোট দ্রুত সক্রিয় হওয়ার পথে এগোচ্ছে। ৫ অক্টোবর রিয়াদে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে তিন দেশ সম্মিলিত প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের চুক্তি সই হয়েছিল চলতি বছরের ৭ আগস্ট। চুক্তির মূল বিষয় হলো, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আ ক্র ম ণকে তিন দেশের ওপর আ ক্র ম ণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে এর কিছুটা মিল রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৈঠকের পরও জোটটিকে পুরোপুরি কার্যকর সামরিক জোট হিসেবে বিবেচনা করার মতো সব কাঠামো এখনো তৈরি হয়নি। বরং সদস্য দেশগুলো এখন সেই কাঠামো বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। ৫ অক্টোবরের বৈঠকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও অংশ নেন। বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য সম্মত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ঠিক কত সেনা, কী ধরনের সরঞ্জাম বা কোন কোন ইউনিট সৌদি আরবে পাঠানো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। বৈঠকে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন এই সচিবালয়ের মাধ্যমে তিন দেশের সামরিক সমন্বয়, প্রস্তুতি ও যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ইয়েমেনের দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতি। ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে লড়াই আবার তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং এর আশপাশের অঞ্চল নিয়ে দুই পক্ষের লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে তাই আঞ্চলিক উদ্বেগও বাড়ছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী সম্প্রতি হুথিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পুনর্দখলের জন্য ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে অভিযান শুরু করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এই অভিযানে বিমান সহায়তা দিচ্ছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি জানিয়েছেন, অভিযানের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১০০টি যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছে এবং স্থলবাহিনীকে নিয়মিত বিমান সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি বাহিনী বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে এবং মক্কা বন্দরের কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনর্দখলের দাবি করেছে। ধুবাব বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকাতেও তাদের অগ্রগতির কথা জানানো হয়েছে। তবে হুথিরা সরকারি বাহিনীর সব দাবির সঙ্গে একমত নয়। একই সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেনের তায়েজের দিকে হুথিদের অগ্রসর হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সামরিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। ইয়েমেনের লড়াইয়ের প্রভাব এখন সৌদি আরবের ভূখণ্ডেও পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিরা সৌদি শহর, বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষে প ণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হা ম লার কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু ছিল গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্থাপনা। ৫ অক্টোবরের মক্কা জোটের বৈঠকেও সৌদি শহর ও বেসামরিক এবং অর্থনৈতিক স্থাপনায় হা ম লার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষভাবে পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে ঘিরে যেকোনো নিরাপত্তা হুমকিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে দেখছে তিন দেশ। জরুরি বৈঠকের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করার চেষ্টার নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের শহর এবং বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় চলমান হা ম লার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান ঘোষণা করা হয়েছে। তুরস্ক ইতোমধ্যে সৌদি আরবকে প্রযুক্তিগত ও প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়ার পথে এগিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, তুরস্কের সহায়তার মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন পরিচালনায় সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। পাকিস্তানও সৌদি আরবে আগে থেকেই সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। তবে মক্কা চুক্তির আওতায় এই সহায়তা ভবিষ্যতে কতটা বিস্তৃত হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও তুরস্ক বর্তমানে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা নজরদারি ও অন্যান্য সহায়তায় দুই দেশ যুক্ত থাকলেও ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি স্থল লড়াইয়ে সৌদি বাহিনীই প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এতে পাকিস্তান ও তুরস্ক কতদিন সরাসরি লড়াইয়ের বাইরে থাকতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অথচ ইয়েমেনের সংঘাতে সরাসরি বড় ধরনের সামরিক জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়িয়ে চলা। কারণ ইয়েমেনের ভূখণ্ডে সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, সৌদি আরবের শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের ওপর চাপ তত বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে, মাত্র কয়েক মাস আগে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোট এখন রাজনৈতিক ঘোষণা থেকে বাস্তব নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে এগোচ্ছে। তবে জোটটি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে তিন দেশের সামরিক সমন্বয়, বাহিনী মোতায়েনের পরিধি এবং ইয়েমেনের চলমান সং ঘা ত কতটা বিস্তৃত হয় তার ওপর। আপাতত সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকি এই নতুন জোটের জন্য প্রথম বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাশিয়ার রিয়াজান অঞ্চলে দেশটির অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইয়ানডেক্সের একটি বড় ডেটা সেন্টারে ড্রোন হা ম লার ঘটনা ঘটেছে। এতে ডেটা সেন্টারটিতে আ গু ন ধরে যায় এবং প্রতিষ্ঠানটিকে সাময়িকভাবে পুরো কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। রাশিয়ার কোনো ডেটা সেন্টারে ইউক্রেনীয় ড্রোনের এমন বড় হা ম লার ঘটনা এর আগে নিশ্চিতভাবে সামনে আসেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ইয়ানডেক্স জানিয়েছে, হা ম লার পর ডেটা সেন্টারের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সেবাগুলো পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভোক্তা সেবাগুলো চালু রয়েছে। ইয়ানডেক্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জেনারেটিভ মডেল ইয়ানডেক্সজিপিটিও এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানানো হয়েছে। ইয়ানডেক্স ক্লাউডের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ডেটা সেন্টারের একটি অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ কারণে গ্রাহকদের বিকল্প ডেটা সেন্টার ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ড্রোন হা ম লায় ঠিক কতটা ভৌত ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইউক্রেনের ডেটা অবকাঠামোর বিরুদ্ধেও রাশিয়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিক হা ম লা চালিয়েছে। ফলে ডেটা সেন্টার ও প্রযুক্তি অবকাঠামোকে ঘিরে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হা ম লার নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে। ইয়ানডেক্সের স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এবারের ড্রোন হা ম লা সেই সংঘাতকে আরও বিস্তৃত প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর দিকে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিকে একই সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়া ব্যাপক ক্ষে প ণাস্ত্র ও ড্রোন হা ম লা চালিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া এক রাতেই প্রায় ৭০টি ক্ষে প ণাস্ত্র এবং কয়েক ডজন শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে। হা ম লায় দেশটির শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উত্তর ইউক্রেনের চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকি শহরেই সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে রুশ ক্ষে প ণাস্ত্রের আঘাতে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত শহরটিতে নি হ তের সংখ্যা ২২ জনে পৌঁছেছে বলে ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে। রাজধানী কিয়েভেও একটি আবাসিক ভবনে রুশ হা ম লার পর আরও দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রয়টার্সের সর্বশেষ হিসাবে, ইউক্রেনজুড়ে ওই রুশ হা ম লায় অন্তত ৩২ জন নি হ ত হয়েছেন এবং ১০০ জনের বেশি আ হ ত হয়েছেন। এর আগে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা মৃতের সংখ্যা ২৫ ও পরে ২৮ জন বলে জানিয়েছিলেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। প্রিলুকিতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি বিভাগের কর্মীরা রাতভর কাজ করেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ১৫ জনকে জীবিত বের করে আনেন। শহরটিতে প্রায় ৫৫ জন আ হ ত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। জেলেনস্কি এই হা ম লাকে রাশিয়ার অন্যতম ভয়াবহ ও ‘জঘন্য’ আ ঘা ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঘটনাটি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্মদিনের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় তিনি বিষয়টি নিয়ে তীব্র মন্তব্যও করেন। জেলেনস্কি বলেন, শিশু ও সাধারণ মানুষকে হ ত্যা করাই যেন পুতিনের নিজের জন্য দেওয়া জন্মদিনের উপহার। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করেছে, তাদের হা ম লার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প অবকাঠামো। দেশটি উচ্চনির্ভুলতার স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথের ক্ষে প ণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে মস্কো জানিয়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী বলেছে, রাশিয়ার ছোড়া ৪৬টি জেটচালিত ড্রোনের ৮০ শতাংশের কিছু বেশি তারা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ইউক্রেনের জন্য ব্যালিস্টিক ক্ষে প ণাস্ত্র এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে বলে জেলেনস্কি জানিয়েছেন। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। একই দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের জন্য ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরোর একটি নতুন অর্থ ছাড় করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভূখণ্ডে পাল্টা আ ঘা ত চালিয়েছে। জেলেনস্কির দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার চারটি লক্ষ্যবস্তুতে আ ঘা ত হেনেছে। এর মধ্যে দুটি জ্বালানি স্থাপনা এবং একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ছিল। ইয়ানডেক্সের ডেটা সেন্টারে ড্রোন হা ম লা এবং ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষে প ণাস্ত্র ও ড্রোন হা ম লা একই সময়ে সংঘটিত হওয়ায় সংঘাতের নতুন দিক সামনে এসেছে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি এখন দুই পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামোও ক্রমেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সেবা ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।