- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাড়ির বেসমেন্ট বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকে। বিশেষ করে অনেক বাংলাদেশি পরিবার বেসমেন্টে নিয়মিত কোনো পরিবারকে ভাড়া দিতে চান না। একই বাড়িতে দীর্ঘমেয়াদে অন্য পরিবার থাকলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, পার্কিং, শব্দ, যাতায়াতসহ নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বেসমেন্টটি সুন্দরভাবে সংস্কার করে স্বল্পমেয়াদি থাকার জন্য ভাড়া দেওয়া কিছু বাড়ির মালিকের জন্য বাড়তি আয়ের একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের আইন, এলাকার ব্যবহারবিধি, ভবন নির্মাণবিধি, বাড়ির মালিক সমিতির নিয়ম, বীমা এবং মর্টগেজের শর্ত যাচাই করা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি ভাড়ার তুলনায় স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার একটি সুবিধা হলো নমনীয়তা। বাড়ির মালিক নিজের সুবিধা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে বেসমেন্ট অতিথিদের জন্য উন্মুক্ত করতে পারেন এবং পরিবারের প্রয়োজন হলে সেটি খালি রাখতে পারেন। তবে স্থানীয় আইনে যদি নির্দিষ্ট সময়সীমা, অনুমতি বা অন্যান্য শর্ত থাকে, সেগুলো অবশ্যই মানতে হবে। জর্জিয়ার কামিংয়ের বাসিন্দা সুজানের অভিজ্ঞতা এ ধরনের সম্ভাবনার একটি উদাহরণ। আমেরিকা বাংলার সঙ্গে কথা বলার সময় সুজান জানান, তার বাড়ির বেসমেন্টটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে ছিল। নিজের একক পরিবারের বাড়িতে অন্য একটি পরিবারকে নিয়মিত ভাড়া দেওয়ার ব্যাপারে তিনি আগ্রহী ছিলেন না। কারণ দীর্ঘমেয়াদি ভাড়াটিয়া থাকলে পারিবারিক গোপনীয়তা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি মনে করতেন। পরে এক বন্ধুর কাছ থেকে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার বিষয়ে জানতে পারেন সুজান। এরপর তিনি নিজের এলাকার আইন ও নিয়মকানুন সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং এয়ারবিএনবির অতিথি রাখার প্রয়োজনীয়তাগুলোও যাচাই করেন। প্রয়োজনীয় মেরামত ও সংস্কার করে বেসমেন্টটি অতিথিদের থাকার উপযোগী করে তোলেন। তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আগে যে জায়গাটি বছরের পর বছর অব্যবহৃত ছিল, সেটিই এখন বাড়তি আয়ের একটি উৎস হয়ে উঠেছে। সুজানের কাছে বিষয়টি শুধু বাড়তি আয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে যেসব অতিথি তার বাড়িতে থেকেছেন, তাদের অনেকের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ নিজেদের এলাকার যোগাযোগের তথ্য দিয়ে গেছেন। এমনকি ভবিষ্যতে সুজান তাদের অঙ্গরাজ্যে গেলে নিজেদের বাড়িতে থাকার আমন্ত্রণও পেয়েছেন। ফলে বেসমেন্টটি তার কাছে বাড়তি আয়ের পাশাপাশি নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তবে সুজানের অভিজ্ঞতা অন্য বাড়ির মালিকের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য হবে এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার নিয়ম অঙ্গরাজ্য, শহর ও কাউন্টিভেদে ভিন্ন। কোনো এলাকায় লাইসেন্স বা অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে, আবার কোথাও এলাকার ব্যবহারবিধির কারণে নির্দিষ্ট ধরনের বেসমেন্ট ভাড়া দেওয়া নিষিদ্ধ হতে পারে। এয়ারবিএনবির নির্দেশনাতেও বলা হয়েছে, কোনো কোনো এলাকায় অতিথি গ্রহণের আগে নিবন্ধন, অনুমতি বা লাইসেন্সের প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে বেসমেন্টকে আলাদা থাকার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করার আগে স্থানীয় ভবন নির্মাণবিধি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। আলাদা প্রবেশপথ, জরুরি বহির্গমন, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, নিরাপদ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, ধোঁয়া শনাক্তকারী এবং কার্বন মনোক্সাইড শনাক্তকারীর মতো নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থানীয় নিয়মের আওতায় পড়তে পারে। শুধু ঘরটি সুন্দর করে সাজালেই সেটি অতিথিদের থাকার জন্য আইনগতভাবে প্রস্তুত হয়ে যায় না। বাড়িটি যদি বাড়ির মালিক সমিতির আওতায় থাকে, তাহলে সমিতির নিয়মও আগে দেখতে হবে। অনেক বাড়ির মালিক সমিতি স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ওপর আলাদা বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। একই সঙ্গে বাড়ির বীমা কোম্পানির সঙ্গেও কথা বলা জরুরি। কারণ স্বল্পমেয়াদি অতিথি থাকার ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বা সম্পত্তির ক্ষতির জন্য বীমার আওতা কী হবে, তা আগে পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া উচিত। মর্টগেজের শর্তও উপেক্ষা করা উচিত নয়। বাড়ির কোনো অংশ স্বল্পমেয়াদি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ঋণচুক্তিতে কোনো বিধিনিষেধ রয়েছে কি না, সেটি যাচাই করা দরকার। স্থানীয় আইন অনুমতি দিলেও ঋণচুক্তির কোনো শর্তের কারণে বাড়ির মালিক বেসমেন্ট ভাড়া দিতে নাও পারেন। কর ব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, বাড়ি বা বাড়ির কোনো অংশ ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে আয় ও খরচের হিসাব নির্ভর করে সম্পত্তিটি কীভাবে এবং কত দিন ব্যবহার করা হয়েছে তার ওপর। বিশেষ পরিস্থিতিতে বছরে ১৫ দিনের কম সময় বাড়ি ভাড়া দেওয়া হলে সেই ভাড়া থেকে পাওয়া অর্থের ওপর আলাদা কর-সুবিধা প্রযোজ্য হতে পারে। তবে ১৫ দিন বা তার বেশি সময় ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে আয় কীভাবে ঘোষণা করতে হবে, তা পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। জর্জিয়াতেও স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কর ও ফি প্রযোজ্য হতে পারে। তাই বেসমেন্ট ভাড়া দেওয়ার আগে শুধু কত টাকা আয় হতে পারে সেটি হিসাব করলেই হবে না; কর, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মেরামত, বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে। সবকিছু বিবেচনায় নিলে, বছরের পর বছর ফাঁকা পড়ে থাকা বেসমেন্ট কিছু বাড়ির মালিকের জন্য বাড়তি আয়ের সম্ভাব্য উৎস হতে পারে। সেই অর্থ বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবারের অতিরিক্ত খরচ কিংবা মর্টগেজের একটি অংশ পরিশোধে কাজে লাগানো যেতে পারে। আবার দীর্ঘমেয়াদি ভাড়াটিয়া রাখার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি অতিথি নেওয়ায় কিছু বাড়ির মালিক নিজেদের জীবনযাপনের সঙ্গে এটি তুলনামূলকভাবে সহজে মানিয়ে নিতে পারেন। তবে বেসমেন্ট এয়ারবিএনবিতে দেওয়ার আগে নিজের অঙ্গরাজ্য, কাউন্টি ও শহরের আইন, এলাকার ব্যবহারবিধি, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা অনুমতি, বাড়ির মালিক সমিতির নিয়ম, বীমা, মর্টগেজের শর্ত এবং করের বিষয়গুলো যাচাই করা জরুরি। প্রয়োজনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, বীমা কোম্পানি এবং কর বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা উচিত। আইনগত অনুমতি ও নিরাপত্তার সব শর্ত পূরণ করা গেলে, অব্যবহৃত বেসমেন্ট একটি বাড়তি আয়ের সম্ভাব্য উৎস হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারি-২০২৭-এর নিবন্ধন এখনো শুরু না হওয়ায় বিষয়টি গড়িয়েছে ফেডারেল আদালতে। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন চালুর জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার পর ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হয়েছে। বিচারক জিনসুক ওহতা আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে এ মামলায় সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ডিভি লটারির অপেক্ষায় থাকা সম্ভাব্য আবেদনকারীদের নজর এখন ওই সিদ্ধান্তের দিকে। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক রেড ঈগল ল’ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলাটি করে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, পররাষ্ট্র দপ্তর ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন চালু না করে আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। মামলায় আদালতের কাছে অন্তত ৩০ দিনের জন্য ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির নিবন্ধন চালুর নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। ডিভি লটারি কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ডাইভারসিটি ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কম হারে অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোর নাগরিকদের স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি চালু করা হয়। তবে কোন কোন দেশের নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন, সেই যোগ্যতার তালিকা প্রতিবছর আলাদাভাবে নির্ধারিত হয়। ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন শুরুর তারিখ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেনি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দপ্তর জানিয়েছিল, নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধনের তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে। একই সময়ে দপ্তর জানায়, নির্বাচিত আবেদনকারীদের ভিসা আবেদনের সময়সীমা ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত থাকবে। এদিকে মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন চালুর জন্য নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে এবং এখন নতুন করে ৩০ দিনের নিবন্ধন পর্ব চালু করা কার্যত অসম্ভব। সরকারের এই অবস্থানের সঙ্গে মামলাকারী প্রতিষ্ঠান একমত নয়। ২৪ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক ওহটা তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সর্বশেষ ডিভি-২০২৬ কর্মসূচিতে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করার যোগ্য ছিলেন না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশসহ ১৯টি দেশকে ডিভি-২০২৬ কর্মসূচির জন্য অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। আগের কয়েকটি ডিভি কর্মসূচিতেও বাংলাদেশ অযোগ্য দেশের তালিকায় ছিল। তবে ডিভি-২০২৭-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের যোগ্যতা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন শুরু করেনি এবং নতুন কর্মসূচির চূড়ান্ত যোগ্য দেশের তালিকাও প্রকাশ করেনি। ফলে আদালত যদি নিবন্ধন চালুর পথ খুলে দেন, তার পরও বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করবে ডিভি-২০২৭-এর সরকারি যোগ্যতার তালিকার ওপর। বর্তমানে ডিভি-২০২৭-এর জন্য কোনো নিবন্ধন চালু নেই। তাই আদালতের সিদ্ধান্তের আগে কেউ ডিভি-২০২৭-এর আবেদন গ্রহণের দাবি করলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির সরকারি তথ্য ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া তাদের নির্ধারিত সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। ১৪ অক্টোবরের সিদ্ধান্ত তাই শুধু নিবন্ধন আদৌ শুরু হবে কি না, সেই প্রশ্নেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; সম্ভাব্য বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্যও এটি পরবর্তী পরিস্থিতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে উঠতে পারে। তবে বাংলাদেশিদের জন্য আবেদনযোগ্যতা নিশ্চিত হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত উত্তর পেতে ডিভি-২০২৭-এর সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার সপ্তাহের শুরুতেই শক্তিশালী অবস্থান দেখিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে চলে আসে। নাসডাকও নতুন রেকর্ড স্পর্শ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাজারকে বিশেষভাবে শক্তিশালী করেছে। এনভিডিয়া ও ব্রডকমের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারও বেড়েছে। এদিকে বড় করপোরেট অধিগ্রহণের খবরও বাজারে প্রভাব ফেলেছে। শ্নাইডার ইলেকট্রিকের পিটিসি অধিগ্রহণের প্রস্তাবের পর পিটিসির শেয়ার একদিনে ৩৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে বাজারের সামনে ঝুঁকিও রয়েছে। জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি, সুদের হার এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় উদ্বেগ হিসেবে রয়ে গেছে। তবে সবকিছুই ইতিবাচক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের সুদ ৫ দশমিক ৩১ শতাংশে উঠেছে, যা ২০০২ সালের পর অন্যতম সর্বোচ্চ পর্যায়। সাধারণত বন্ডের সুদ বাড়লে শেয়ারবাজারে চাপ তৈরি হতে পারে। তারপরও বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে শক্তিশালী করপোরেট আয় এবং এআই খাতের সম্ভাবনাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তেলের বাজারেও ওঠানামা রয়েছে। সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের আশপাশে ছিল। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা এবং জি৭ দেশগুলোর সরবরাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ তেলের দামে কিছুটা চাপ তৈরি করেছে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্তও বড় সূচকগুলো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ প্রায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ, ডাও জোন্স ৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং নাসডাক প্রায় ১৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।
নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও পেনসিলভানিয়ার বাড়ির বাজারে ক্রেতাদের জন্য নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অনেক অঞ্চলে বাড়ির দাম বৃদ্ধির গতি কমে এলেও এই তিন রাজ্য নিয়ে গঠিত মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে বাড়ির দাম এখনো দ্রুত বাড়ছে। ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এই অঞ্চলে বাড়ির দাম ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। দেশের নয়টি আদমশুমারি অঞ্চলের মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ বার্ষিক বৃদ্ধি। শুধু এক বছরের হিসাবেই নয়, জুলাই মাসেও এই অঞ্চলের বাড়ির দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও পেনসিলভানিয়ার বাজারে মাসিক দাম বৃদ্ধির হার জাতীয় হারের প্রায় পাঁচ গুণ ছিল। এই পরিস্থিতি বিশেষ করে প্রথমবার বাড়ি কিনতে চাওয়া পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একজন ক্রেতা যদি মনে করেন জাতীয়ভাবে বাড়ির বাজার কিছুটা ঠান্ডা হচ্ছে, তাহলে নিউইয়র্ক বা নিউজার্সিতে এসে তিনি সেই সুবিধা নাও পেতে পারেন। দেশের অন্য কিছু অঞ্চলে বাড়ির দাম বৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে মাউন্টেন অঞ্চলে জুলাই মাসে বাড়ির দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। এক বছরে ওই অঞ্চলে দাম বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ৬ শতাংশ। এর বিপরীতে মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে এক বছরের বৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। এর অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্রে এখন এক ধরনের অভিন্ন আবাসন বাজার নেই। কোন রাজ্য বা অঞ্চলে বাড়ি কিনছেন তার ওপর ক্রেতার অভিজ্ঞতা অনেকটাই নির্ভর করছে।নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটি, লং আইল্যান্ড, উত্তর ও মধ্য নিউজার্সির অনেক এলাকায় বাড়ির দাম ইতোমধ্যেই তুলনামূলক বেশি। এর সঙ্গে বন্ধকের সুদ, সম্পত্তি কর, বাড়ির বিমা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় মাসিক ব্যয়ের চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে যারা ভাড়া বাসা থেকে নিজেদের বাড়িতে যেতে চান, তাদের জন্য ডাউন পেমেন্ট জোগাড় করাই বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বাড়ির দাম বাড়তে থাকলে একই পরিমাণ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে আগের তুলনায় কম দামের বাড়ি বেছে নিতে হতে পারে। অন্যদিকে যারা ইতোমধ্যে নিউইয়র্ক বা নিউজার্সিতে বাড়ির মালিক, তাদের সম্পত্তির বাজারমূল্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাড়ির মূল্য বৃদ্ধি মানেই হাতে নগদ অর্থ পাওয়া নয়। বাড়ি বিক্রি না করা পর্যন্ত সেই মূল্যবৃদ্ধি মূলত সম্পত্তির কাগুজে মূল্য হিসেবে থাকে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আঞ্চলিক গড় সব বাড়ির ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। ফেডারেল সূচকটি বৃহত্তর অঞ্চলের সামগ্রিক মূল্য পরিবর্তন দেখায়। নিউইয়র্কের একটি নির্দিষ্ট শহর বা নিউজার্সির একটি নির্দিষ্ট এলাকার বাড়ির দাম ঠিক ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে—এমন দাবি করা যাবে না। এ কারণে বাড়ি কেনার আগে স্থানীয় বাজারের তথ্য দেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই রাজ্যের দুটি শহরের মধ্যেও বাড়ির দাম, কর, স্কুল ব্যবস্থা, যাতায়াত সুবিধা এবং বিক্রির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা হতে পারে।
নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও নতুন ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। গভর্নর ক্যাথি হোকুল ঘোষণা করেছেন, ২৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী যোগ্য নিউইয়র্কবাসীরা আগে অন্য বিষয়ে কলেজ ডিগ্রি অর্জন করলেও এখন নির্দিষ্ট উচ্চ চাহিদার বিষয়ে বিনামূল্যে সহযোগী ডিগ্রি নিতে পারবেন। নতুন এই সুবিধা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া বসন্তকালীন শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। এর আওতায় স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের অনুমোদিত কর্মমুখী সহযোগী ডিগ্রি প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ থাকবে। টিউশন, ফি, বই ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের খরচও কর্মসূচির আওতায় দেওয়া হবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো যারা মাঝপথে ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চান, তাদের জন্য নতুন দরজা খুলে দেওয়া। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে যেসব পেশায় কাজের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে, সেসব ক্ষেত্রে নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করাই এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। নিউইয়র্কের প্রশাসন বলছে, আগে কলেজ ডিগ্রি থাকলে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী সরকারি এই বিনামূল্যের কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারতেন না। নতুন সিদ্ধান্তে সেই বাধা সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে একজন ব্যক্তি আগে ব্যবসা, সমাজবিজ্ঞান, মানবিক বা অন্য কোনো বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করলেও এখন নতুন উচ্চ চাহিদার ক্ষেত্রে সহযোগী ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন, যদি তিনি অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করেন। এর ফলে নিউইয়র্কে বসবাসকারী অনেক অভিবাসী ও দক্ষিণ এশীয় পরিবারের জন্যও সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যারা বিদেশে পড়াশোনা করেছেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে এসে নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে মিল রেখে চাকরি পাচ্ছেন না, তারা নতুন কোনো কর্মমুখী বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি সবার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনামূল্যের কলেজ সুবিধা নয়। আবেদনকারীকে নিউইয়র্কের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং অনুমোদিত উচ্চ চাহিদার সহযোগী ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে হবে। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্মসূচি অনুযায়ী আবেদন প্রক্রিয়াও আলাদা হতে পারে। নতুন সম্প্রসারণটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ নিউইয়র্ক সরকার এখন শ্রমবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবকে বড় বিষয় হিসেবে দেখছে। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে কিছু পুরোনো কাজের চাহিদা কমতে পারে, আবার সাইবার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত উৎপাদন, প্রযুক্তি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নতুন দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন বাড়তে পারে। এই বাস্তবতায় কর্মীদের শুধু আগের ডিগ্রির ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।গভর্নর হোকুলের প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চালু হওয়া রিকানেক্ট কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১৫ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী বিনামূল্যে কমিউনিটি কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। নতুন সম্প্রসারণের ফলে আরও কয়েক দশ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। আগের কর্মসূচিতে মূলত এমন প্রাপ্তবয়স্কদের লক্ষ্য করা হয়েছিল যাদের আগে কলেজ ডিগ্রি ছিল না। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে। ফলে ক্যারিয়ারের মাঝপথে থাকা একজন কর্মীও নতুন বিষয়ে পড়াশোনা করে নিজের পেশাগত অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করতে পারবেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্কে নার্সিংসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা পেশায় কর্মীর চাহিদা রয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রেও দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অন্যতম বড় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান নর্থওয়েল হেলথ আর্থিক চাপ সামলাতে সীমিতসংখ্যক পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বর্তমান কঠিন স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা অব্যাহত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নর্থওয়েল হেলথের পক্ষ থেকে কতজন কর্মী চাকরি হারাবেন বা কোন কোন বিভাগে পদ কমানো হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে কিছু কর্মীকে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা অন্য খালি পদে স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ সব কর্মীর ক্ষেত্রে সরাসরি চাকরি হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হবে না। নর্থওয়েল হেলথ নিউইয়র্কের সবচেয়ে বড় বেসরকারি নিয়োগদাতাদের একটি। প্রতিষ্ঠানটিতে ১ লাখের বেশি মানুষ কাজ করেন। লং আইল্যান্ডে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক হাসপাতাল রয়েছে এবং নিউইয়র্কের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তটি ব্যাপক ছাঁটাইয়ের কোনো ঘোষণা নয়। বরং কর্মী ও সম্পদের ব্যবহার আরও কার্যকর করার অংশ হিসেবে সীমিতসংখ্যক পদ কমানো হচ্ছে। নর্থওয়েল বলেছে, কর্মীদের ওপর এ ধরনের সিদ্ধান্তের প্রভাব তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যয় বাড়ছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম, কর্মীদের বেতন, ওষুধ, পরিচালন ব্যয় এবং বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের খরচ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ তৈরি করছে। একই সময়ে সরকারি স্বাস্থ্যবীমা ও বেসরকারি বিমা থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের যে অর্থ হাসপাতালগুলো পায়, সেটিও অনেক ক্ষেত্রে ব্যয়ের সঙ্গে সমান গতিতে বাড়ছে না। এই পরিস্থিতিতে বড় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মী কাঠামো, হাসপাতাল পরিচালনা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম নতুন করে পর্যালোচনা করছে।নর্থওয়েলের বর্তমান সিদ্ধান্তও সেই বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, রোগীদের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা ও কমিউনিটি সেবা চালু রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। নর্থওয়েলের জন্য এই সিদ্ধান্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কর্মীদের অন্য বিভাগে স্থানান্তরের সম্ভাবনা। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে যদি কোনো কর্মীর বর্তমান পদ বিলুপ্ত হয় কিন্তু একই ধরনের বা অন্য ধরনের খালি পদ থাকে, তাহলে তাকে সেই পদে নেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। এটি বিশেষ করে বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ১ লাখের বেশি কর্মী থাকা একটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বিভাগে নতুন পদ তৈরি হয় এবং কর্মীও অবসর নেন বা অন্য চাকরিতে চলে যান। ফলে একটি বিভাগে পদ কমলেও অন্য বিভাগে কর্মীর প্রয়োজন তৈরি হতে পারে। নর্থওয়েল হেলথের বর্তমান পরিস্থিতি নিউইয়র্কের চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে চাকরির সুযোগ এখনো বড় হলেও প্রতিষ্ঠানগুলো আগের তুলনায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষতার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে নার্সিং, চিকিৎসা সহায়তা, প্রযুক্তি, তথ্য ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন এবং রোগীসেবা সংশ্লিষ্ট পেশায় দক্ষ কর্মীদের চাহিদা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কিছু প্রশাসনিক বা কম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে কর্মীসংখ্যা পুনর্বিন্যাস হতে পারে। নর্থওয়েলের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না হওয়ায় এটিকে বড় ধরনের গণছাঁটাই হিসেবে চিহ্নিত করা এখনই ঠিক হবে না। প্রতিষ্ঠান নিজেই এটিকে সীমিতসংখ্যক পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে।
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা, ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি শুনানি শুরু করেছে। সোমবার অনুষ্ঠিত এই শুনানিকে শহরটির জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, এটি এআই নিয়ে শহর পর্যায়ে প্রথম বড় ধরনের নজরদারি শুনানিগুলোর একটি। শুনানিতে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের কাছ থেকে এআই ব্যবহারের নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের ওপর এআই প্রযুক্তির প্রভাব, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির জবাবদিহি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অনেক অংশে প্রবেশ করেছে। চাকরি খোঁজা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং, ব্যবসা, যোগাযোগ, ছবি তৈরি, ভিডিও সম্পাদনা এবং গ্রাহকসেবা—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, এর ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ তত বাড়ছে। বিশেষ করে ভুল তথ্য, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত, কর্মসংস্থানে প্রভাব এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের শুনানিতে এসব বিষয় নিয়েই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহির মুখোমুখি করা হচ্ছে। কাউন্সিল জানতে চাইছে, কোম্পানিগুলো তাদের এআই সিস্টেমের মাধ্যমে মানুষের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে এবং সম্ভাব্য ক্ষতি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এআইয়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো কর্মসংস্থান। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহার করে এমন কাজ স্বয়ংক্রিয় করা হচ্ছে, যেগুলো আগে মানুষ করতেন। একই সময়ে এআই নতুন ধরনের চাকরিও তৈরি করছে। নিউইয়র্কের মতো বড় শহরে এই পরিবর্তনের প্রভাব আরও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে প্রযুক্তি, অর্থনীতি, মিডিয়া, বিজ্ঞাপন, আইন, স্বাস্থ্যসেবা এবং আর্থিক খাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ কাজ করেন। এসব খাতে এআই ব্যবহারের মাত্রা দ্রুত বাড়ছে। কাউন্সিলের শুনানিতে তাই শুধু প্রযুক্তির সুবিধা নয়, এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি এআই ব্যবহার করে কর্মী নিয়োগ, ঋণ অনুমোদন, চাকরি বাতিল বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সেই সিদ্ধান্তের জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আরেকটি বড় বিষয় হলো ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা। মানুষ প্রতিদিন এআই অ্যাপ ও সেবায় বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করছেন। কেউ লিখছেন ব্যক্তিগত বার্তা, কেউ ছবি দিচ্ছেন, কেউ ব্যবসায়িক তথ্য ব্যবহার করছেন, আবার কেউ স্বাস্থ্য বা আর্থিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করছেন।এসব তথ্য কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং কারা সেগুলো ব্যবহার করতে পারছে, তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু প্রযুক্তি তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের এই শুনানির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশু ও তরুণদের নিরাপত্তা। স্কুল ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা লেখালেখি, গবেষণা, অনুবাদ এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কাজে এআই ব্যবহার করছে। কিন্তু একই সঙ্গে পরীক্ষায় প্রতারণা, ভুল তথ্য, অনুপযুক্ত কনটেন্ট এবং শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ফলে স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহারের জন্য কী ধরনের নিয়ম থাকা উচিত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে সেপ্টেম্বর মাসে আবারও ধীরগতির চিত্র দেখা গেছে। দেশটির নিয়োগদাতারা মাসটিতে মাত্র ২৯ হাজার নন-ফার্ম চাকরি যোগ করেছেন। একই সময়ে বেকারত্বের হার আগস্টের ৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। চাকরি সৃষ্টির এই সংখ্যা গত এক বছরের গড় মাসিক বৃদ্ধির তুলনায় বেশ কম। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের আগে ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪৫ হাজার নন-ফার্ম চাকরি বেড়েছিল। ফলে সেপ্টেম্বরে মাত্র ২৯ হাজার চাকরি যোগ হওয়া শ্রমবাজারের গতি কমে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। তবে সরকারি প্রতিবেদনে এটিও বলা হয়েছে যে সেপ্টেম্বর মাসে বড় বড় শিল্পখাতগুলোর বেশিরভাগেই কর্মসংস্থানে খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ এটি এমন কোনো প্রতিবেদন নয় যেখানে একসঙ্গে বিভিন্ন খাতে ব্যাপক চাকরি হারানোর চিত্র দেখা যাচ্ছে। বরং নতুন চাকরি তৈরির গতি তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়েছে। বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছালেও গত কয়েক মাসে এটি ৪ দশমিক ১ থেকে ৪ দশমিক ৩ শতাংশের একটি সংকীর্ণ সীমার মধ্যে রয়েছে। সেপ্টেম্বর শেষে প্রায় ৭ দশমিক ১ মিলিয়ন মানুষ বেকার ছিল বলে সরকারি তথ্য জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকায় চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে নতুন গ্র্যাজুয়েট, ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চাওয়া কর্মী এবং যারা সম্প্রতি চাকরি হারিয়েছেন, তাদের নতুন চাকরি পেতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে। তবে সব খাতে একই পরিস্থিতি নয়। স্বাস্থ্যসেবা খাতে সেপ্টেম্বরেও কর্মসংস্থান বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রায় ১৭ হাজার চাকরি যোগ হয়েছে। এর মধ্যে বহির্বিভাগীয় স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে, যদিও নার্সিং ও আবাসিক যত্নের কিছু প্রতিষ্ঠানে চাকরি কমেছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতের এই প্রবণতা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণের কারণে এই খাতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। ফলে সামগ্রিক শ্রমবাজার ধীর হলেও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশায় সুযোগ থাকতে পারে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের সংখ্যাও নজরে রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ২৭ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চাকরিহীন মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ছিল। মোট বেকার মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বেকারদের অংশ ছিল ২৭ দশমিক ১ শতাংশ। এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ দীর্ঘদিন বেকার থাকার ফলে একজন কর্মীর আর্থিক চাপ বাড়ার পাশাপাশি নতুন চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘ সময় চাকরি না থাকলে অনেকের সঞ্চয় কমে যায়, ঋণের চাপ বাড়ে এবং পরিবারের দৈনন্দিন খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও অন্যান্য বড় রাজ্যের উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে চাকরি হারানোর প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। বাড়িভাড়া, স্বাস্থ্যবীমা, গাড়ির কিস্তি, খাবার এবং শিশুদের দেখাশোনার খরচ অনেক পরিবারের বাজেটের বড় অংশ নিয়ে নেয়। বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও শ্রমবাজারের এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী কর্মীরা স্বাস্থ্যসেবা, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, নির্মাণ, খুচরা ব্যবসা, প্রযুক্তি, গুদাম ও বিভিন্ন সেবা খাতে কাজ করেন। কোনো খাতে নিয়োগ কমে গেলে এসব কর্মীর নতুন চাকরি খোঁজার সময় প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের দক্ষিণাঞ্চলে দিনদুপুরে সাত বছরের এক শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সকাল প্রায় ১১টা ৫৫ মিনিটে ইস্ট চ্যাথাম এলাকার সাউথ কটেজ গ্রোভ অ্যাভিনিউ ও ইস্ট ৮৬তম স্ট্রিটের কাছে ঘটনাটি ঘটে। শিশুটির নাম এডি মারি হার্নান্দেজ চ্যাকন। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি তার বড় বোনের সঙ্গে রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল। এ সময় এক নারী তাদের কাছে এগিয়ে এসে ধারালো একটি বস্তু বের করেন এবং শিশুটির পিঠে একাধিকবার আঘাত করেন। ঘটনাটি জনবহুল এলাকায় দিনের বেলায় ঘটায় আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা ওই নারীকে আটক করার চেষ্টা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন মানুষ সন্দেহভাজন নারীকে ধরে রাখার পর পুলিশ সেখানে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়। সংঘর্ষের সময় ওই নারীও আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। শিশুটিকে দ্রুত কমার চিলড্রেনস হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। কুক কাউন্টি মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয় পরে শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত করে। পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ এলাকাটি ঘিরে তদন্ত শুরু করে। আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।একটি নিরাপত্তা ক্যামেরার ছবিতে শিশুটিকে ঘটনার আগে একজন বয়স্ক নারীর হাত ধরে হাঁটতে দেখা যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে ওই নারী শিশুটির সঙ্গে কী সম্পর্কিত ছিলেন, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি। পুলিশ প্রথম দিকে জানিয়েছিল, সন্দেহভাজন নারী ও শিশুর মধ্যে কোনো পরিচয় ছিল কি না তা পরিষ্কার নয়। একইভাবে হামলার সম্ভাব্য কারণ বা উদ্দেশ্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। পরবর্তীতে শিকাগো পুলিশ ৪৮ বছর বয়সী শ্যাভন গেডেনের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনে। আদালতে তার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় সেই শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম ৭ অক্টোবর হওয়ার কথা রয়েছে। প্রসিকিউটরদের দেওয়া নতুন তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি তার কিশোরী বোনের সঙ্গে একটি দোকান থেকে বের হয়ে হাঁটছিল। তারা একটি মোবাইল ফোনের বিল পরিশোধ করতে গিয়েছিল বলে আদালতে বলা হয়েছে। ওই সময় সন্দেহভাজন নারীও কাছাকাছি একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনার পর চ্যাথাম এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও শিশুটির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। শিকাগোর দক্ষিণাঞ্চলে একটি শিশুর এভাবে প্রকাশ্য রাস্তায় প্রাণ হারানোর ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটির স্মরণে ঘটনাস্থলের কাছে জড়ো হয়েছেন। সেখানে ফুল, মোমবাতি ও অন্যান্য স্মৃতিচিহ্ন রেখে শিশুটির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পুলিশ সম্ভাব্য সব তথ্য যাচাই করছে, যাতে হামলার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল তা পরিষ্কার করা যায়। শিকাগোর এই ঘটনা আবারও জনবহুল এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে দিনের বেলায় রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় এমন হামলার ঘটনা অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নিরাপদ রাস্তা, দ্রুত পুলিশি প্রতিক্রিয়া এবং মানসিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার দিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলার উদ্দেশ্য বা সন্দেহভাজন নারীর মানসিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে মামলাটি আদালত ও পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের ছেলের ওপর চীনের হয়ে নজরদারি চালানোর অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। ৩৪ বছর বয়সী ওয়ানইং ‘হিদার’ ঝাংকে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চীনের সাংহাইগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ঝাং ক্যালিফোর্নিয়ার আরভাইনে বসবাস করেন এবং পেশায় রিয়েল এস্টেট এজেন্ট। মার্কিন কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগ এনেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চীনা কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলে ও তার পরিবারের ওপর নজরদারি চালান এবং তাদের ছবি, ভিডিও ও গাড়ির নম্বরসংক্রান্ত তথ্য চীনা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠান। মার্কিন ফেডারেল আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ঘটনাটির সূত্রপাত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। ওই সময় ঝাং এবং তার সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তি লাস ভেগাস থেকে সিয়াটলে যান। সেখানে তারা একটি কালো রঙের গাড়ি ভাড়া করে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের পরিবারের সদস্যের বাসার কাছে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ঝাং ও তার সহযোগী গাড়ির ভেতরে অপেক্ষা করছিলেন। পরে লক্ষ্য ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফেরার সময় তারা গাড়ি থেকে ফোন বের করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। এফবিআই সরাসরি আদালতের অভিযোগপত্রে লক্ষ্য ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি। তবে এফবিআইয়ের প্রকাশিত তথ্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের ভিত্তিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, লক্ষ্য ছিলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের ছেলে লাই টিং-ইউ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল এলাকায় বসবাস ও কাজ করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ঝাং নজরদারি চালানোর পর চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের কাছে ছবি, ভিডিও ও গাড়ির নম্বরের তথ্য পাঠান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঝাং এমন কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন যাতে তার কার্যক্রম সহজে শনাক্ত না হয়। একই সঙ্গে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করার বিষয়টি মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে নিবন্ধনও করেননি বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। এফবিআইয়ের তদন্তে ঝাংয়ের শিক্ষাজীবন ও চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও সামনে এসেছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তিনি বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে পড়াশোনা করেছিলেন। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ের একজন পরিচিত ব্যক্তি পরে চীনা সরকারের কর্মকর্তা হন এবং ২০২৫ সালেও তাদের যোগাযোগ ছিল। তবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা বা কারও সঙ্গে যোগাযোগ থাকাই গুপ্তচরবৃত্তির প্রমাণ নয়; এসব তথ্য মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ঝাংকে গ্রেপ্তারের সময় তিনি চীনের উদ্দেশে যাত্রা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, রোববার লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ঘটনাটির তীব্র নিন্দা করেছে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র কারেন কুও এটিকে ‘আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে দমন-পীড়নের’ একটি উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তাইওয়ানের নাগরিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া বা ক্ষতি করার মতো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তাইওয়ান মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে। তবে চীনের পক্ষ থেকে ঘটনাটির বিষয়ে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটি সম্পর্কে নিজেদের অবগত নয় বলে জানিয়েছে এবং ‘চীনা গুপ্তচর’ নিয়ে অতিরঞ্জিত প্রচারের মাধ্যমে চীনকে হেয় করার অভিযোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাসও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তাইওয়ান, সামরিক নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে উত্তেজনা রয়েছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে। অন্যদিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে তাইওয়ানের নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারের ওপর জোর দিয়ে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না রাখলেও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের প্রধান সরবরাহকারী। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রেসিডেন্টের পরিবারের সদস্যদের বাসস্থান, গাড়ি ও চলাফেরার তথ্য ভবিষ্যতে কোনো সংঘাতের পরিস্থিতিতে চীনের জন্য চাপ তৈরির কাজে ব্যবহারযোগ্য হতে পারে। এ কারণেই তদন্তকারীরা নজরদারির ঘটনাটিকে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে এটি তদন্তকারীদের দাবি, আদালতে এখনো তা প্রমাণিত হয়নি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে চীনের হয়ে কথিত গোপন তৎপরতার অভিযোগে সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলার মধ্যে সর্বশেষ ঘটনা। মার্কিন বিচার বিভাগ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী তাইওয়ানি, চীনা ও অন্যান্য ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর কথিত নজরদারি ও চাপ প্রয়োগের ঘটনায় একাধিক তদন্ত ও মামলা করেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওয়ানইং ‘হিদার’ ঝাং এখনো আদালতে দোষী সাব্যস্ত হননি। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ফেডারেল আদালতে প্রমাণিত হওয়া প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত একজন অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মামলাটি এখন তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। আদালতে পরবর্তী শুনানিতে প্রসিকিউশনকে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে এবং ঝাংয়ের পক্ষ থেকেও অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ থাকবে। মামলার পরবর্তী অগ্রগতি থেকেই বোঝা যাবে, মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগগুলো আদালতে কতটা প্রমাণিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় নিজেদের অপরাধের ইতিহাস গোপন অথবা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে বিদেশে জন্ম নেওয়া প্রায় ৪০ জন মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দেশটির বিচার বিভাগ। তবে এসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব ইতোমধ্যে বাতিল হয়ে গেছে, এমন নয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবেও গণ্য করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনের সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেন অথবা নিজের অতীতের অপরাধের তথ্য লুকিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে সরকার আদালতের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করতে পারে। চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র দুই সপ্তাহে ২৫টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ওই সময় পর্যন্ত মোট ১২৩টি দেওয়ানি মামলা করা হয়েছিল। এসব মামলায় বিভিন্ন ধরনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধের তথ্য গোপন, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, অভিবাসনসংক্রান্ত প্রতারণা, যৌন নির্যাতন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে অর্থ জালিয়াতি এবং মাদক পাচারের মতো অভিযোগ। জুলাই মাসে বিচার বিভাগ ১০ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার কথা জানায়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে সংঘটিত অপরাধের তথ্য গোপন করার অভিযোগ রয়েছে।একটি মামলায় কিউবায় জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি একটি ভুয়া চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনার মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি থেকে ৮ লাখ ৮৬ হাজার ডলারের বেশি অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে নিয়েছিলেন। পরে নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় তিনি ওই কর্মকাণ্ডের তথ্য গোপন করেন বলে অভিযোগ করা হয়।আরেকটি মামলায় মেক্সিকোতে জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি নাগরিকত্বের আবেদনে নিজের অপরাধের তথ্য প্রকাশ করেননি। পরে তিনি বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অপরাধ স্বীকার করেন। বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব মামলায় শুধু নাগরিকত্ব পাওয়ার পর কেউ অপরাধ করেছেন কি না, সেটিই বিবেচ্য নয়। মূল বিষয় হলো নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তিনি তার অপরাধ বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেছিলেন কি না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে সরকারের জন্য বিষয়টি প্রমাণ করা গুরুত্বপূর্ণ যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় প্রতারণা করেছেন অথবা এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন, যা প্রকাশ করা হলে তার নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠত। এই কারণে কোনো বিদেশে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি নাগরিকত্ব পাওয়ার পর অপরাধ করলেই তার নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।সরকার সাধারণত ফেডারেল আদালতে মামলা করে। আদালত সরকারের অভিযোগ, নথিপত্র এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেয়। আদালত সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব বহাল থাকে। চলতি বছরে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা বাড়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে এ ধরনের মামলা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এখন সরকার আরও বেশি সংখ্যক নাগরিকের নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় দেওয়া তথ্য পরীক্ষা করছে। জুন মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অক্টোবরের মধ্যে অন্তত ২৫০টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার লক্ষ্য নিয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, সরকারের এই কার্যক্রম কেবল ৪০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। এদিকে বিভিন্ন আইনজীবী ও অধিকারকর্মী নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ নাগরিকত্ব একজন মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, কাজ করা এবং অন্যান্য নাগরিক অধিকার ভোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলায় সরকার এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন অথবা আগের বহিষ্কারাদেশের তথ্য গোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি মামলায় ভারতের জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি অতীতে অন্য নামে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ ছিল। পরে ভিন্ন পরিচয় ও পরিবর্তিত ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে তিনি অভিবাসনের সুবিধা এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন বলে সরকারের অভিযোগ। আরেকটি মামলায় আদালত এক ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি অতীতে অন্য পরিচয়ে বহিষ্কারের আদেশ পাওয়ার পর নতুন পরিচয় ও পরিবর্তিত জন্মতারিখ ব্যবহার করে আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং পরে নাগরিকত্ব অর্জন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় নিজেদের অপরাধের ইতিহাস গোপন অথবা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে বিদেশে জন্ম নেওয়া প্রায় ৪০ জন মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দেশটির বিচার বিভাগ। তবে এসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব ইতোমধ্যে বাতিল হয়ে গেছে, এমন নয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবেও গণ্য করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনের সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেন অথবা নিজের অতীতের অপরাধের তথ্য লুকিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে সরকার আদালতের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করতে পারে। চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র দুই সপ্তাহে ২৫টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ওই সময় পর্যন্ত মোট ১২৩টি দেওয়ানি মামলা করা হয়েছিল। এসব মামলায় বিভিন্ন ধরনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধের তথ্য গোপন, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, অভিবাসনসংক্রান্ত প্রতারণা, যৌন নির্যাতন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে অর্থ জালিয়াতি এবং মাদক পাচারের মতো অভিযোগ। জুলাই মাসে বিচার বিভাগ ১০ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার কথা জানায়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে সংঘটিত অপরাধের তথ্য গোপন করার অভিযোগ রয়েছে।একটি মামলায় কিউবায় জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি একটি ভুয়া চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনার মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি থেকে ৮ লাখ ৮৬ হাজার ডলারের বেশি অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে নিয়েছিলেন। পরে নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় তিনি ওই কর্মকাণ্ডের তথ্য গোপন করেন বলে অভিযোগ করা হয়। আরেকটি মামলায় মেক্সিকোতে জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি নাগরিকত্বের আবেদনে নিজের অপরাধের তথ্য প্রকাশ করেননি। পরে তিনি বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অপরাধ স্বীকার করেন। বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব মামলায় শুধু নাগরিকত্ব পাওয়ার পর কেউ অপরাধ করেছেন কি না, সেটিই বিবেচ্য নয়। মূল বিষয় হলো নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তিনি তার অপরাধ বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেছিলেন কি না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে সরকারের জন্য বিষয়টি প্রমাণ করা গুরুত্বপূর্ণ যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় প্রতারণা করেছেন অথবা এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন, যা প্রকাশ করা হলে তার নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠত। এই কারণে কোনো বিদেশে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি নাগরিকত্ব পাওয়ার পর অপরাধ করলেই তার নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।সরকার সাধারণত ফেডারেল আদালতে মামলা করে। আদালত সরকারের অভিযোগ, নথিপত্র এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেয়। আদালত সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব বহাল থাকে। চলতি বছরে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা বাড়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে এ ধরনের মামলা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এখন সরকার আরও বেশি সংখ্যক নাগরিকের নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় দেওয়া তথ্য পরীক্ষা করছে। জুন মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অক্টোবরের মধ্যে অন্তত ২৫০টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার লক্ষ্য নিয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, সরকারের এই কার্যক্রম কেবল ৪০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই।এদিকে বিভিন্ন আইনজীবী ও অধিকারকর্মী নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ নাগরিকত্ব একজন মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, কাজ করা এবং অন্যান্য নাগরিক অধিকার ভোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলায় সরকার এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন অথবা আগের বহিষ্কারাদেশের তথ্য গোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।একটি মামলায় ভারতের জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি অতীতে অন্য নামে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ ছিল। পরে ভিন্ন পরিচয় ও পরিবর্তিত ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে তিনি অভিবাসনের সুবিধা এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন বলে সরকারের অভিযোগ। আরেকটি মামলায় আদালত এক ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি অতীতে অন্য পরিচয়ে বহিষ্কারের আদেশ পাওয়ার পর নতুন পরিচয় ও পরিবর্তিত জন্মতারিখ ব্যবহার করে আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং পরে নাগরিকত্ব অর্জন করেন।
যুক্তরাজ্যে ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে দেশটিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা নারী অভিবাসীদের ভয়াবহ যৌন সহিংসতার ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। তাঁর দাবি, উত্তর ফ্রান্স থেকে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টাকারী প্রায় সব নারীই যাত্রাপথে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। রোববার ‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিকস’ পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাহমুদ বলেন, উত্তর ফ্রান্সে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অভিবাসীদের একটি অংশ মানবপাচারকারী ও অপরাধী চক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব চক্র কারা নৌকায় উঠবে, কখন যাত্রা করবে এবং কীভাবে যুক্তরাজ্যে পৌঁছাবে, তার ওপর বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ রাখে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, এই ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন নারী ও শিশুরা। তাঁর দাবি, উত্তর ফ্রান্সে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা প্রায় প্রতিটি নারীই যাত্রার কোনো পর্যায়ে যৌন সহিংসতার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। কিছু পুরুষও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে ‘প্রায় সব নারী ধর্ষণের শিকার’—এই বক্তব্যকে কোনো সরকারি পরিসংখ্যান হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। এটি শাবানা মাহমুদের নিজস্ব মূল্যায়ন ও সতর্কতা। এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি, যা দিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া নারী অভিবাসীদের মধ্যে ধর্ষণের নির্দিষ্ট হার নিশ্চিত করা যায়। ফলে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্যকে দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ। মাহমুদ বলেন, যুক্তরাজ্যের সীমান্তে কারা প্রবেশ করবে তা মানবপাচারকারী চক্রের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। যুদ্ধ, নিপীড়ন বা অন্য কোনো গুরুতর সংকট থেকে পালিয়ে আসা মানুষকে অপরাধী চক্রের ওপর নির্ভর করে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে যাত্রা করতে হচ্ছে—এটি মানবিক ও নিরাপত্তা উভয় দিক থেকেই গুরুতর সমস্যা। ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পথটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা, খারাপ আবহাওয়া, শক্তিশালী স্রোত এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানবপাচারকারী চক্রের নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতা। ৫ অক্টোবরও ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়ার সময় নতুন করে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৯০ জন অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা সমস্যায় পড়ার পর উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছায়। দুজন ব্যক্তিকে গুরুতর অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পরে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। একই সময়ে অন্য একটি নৌকা থেকে প্রায় ১৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়। চ্যানেল পারাপারের এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলো যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের জন্য নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। কারণ বিপজ্জনক এই পথ দিয়ে মানুষের যাত্রা বন্ধ করা গেলেও যুদ্ধ, নিপীড়ন ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে আসা মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন থেকেই যাচ্ছে। শরণার্থী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, শুধু সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়ে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। যারা প্রকৃত অর্থে আশ্রয়ের প্রয়োজন নিয়ে ইউরোপে আসছেন, তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈধ পথ আরও বাড়াতে হবে। তা না হলে মানবপাচারকারী চক্রের ওপর নির্ভরশীলতা আরও বাড়তে পারে। যুক্তরাজ্য সরকার অবশ্য নতুন কিছু নিরাপদ ও বৈধ শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এসব কর্মসূচিতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে শরণার্থী অধিকারকর্মীদের মতে, বৈধ পথে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সুযোগের পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এদিকে চ্যানেল পাড়ি দেওয়া অভিবাসীদের নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে চালু থাকা ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ ব্যবস্থাও সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় নির্দিষ্ট কিছু আশ্রয়প্রার্থীকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর বিনিময়ে অন্য কিছু শরণার্থীকে বৈধ পথে যুক্তরাজ্যে নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। তবে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। চুক্তির আওতায় প্রায় দেড় হাজার মানুষকে ফেরত পাঠানো হলেও একই সময়ে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো মানুষের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। ফলে ছোট নৌকার যাত্রা বন্ধে এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিবাসন ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে। বিশেষ করে ছোট নৌকায় আসা অভিবাসীদের নিয়ে উগ্র ডানপন্থি ও অভিবাসনবিরোধী গোষ্ঠীগুলো নিয়মিত বিক্ষোভ করছে। ৫ অক্টোবর ইংল্যান্ডের গোসপোর্ট এলাকায় অভিবাসীদের আগমনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। ওই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাবানা মাহমুদ নিজেও উগ্র ডানপন্থি গোষ্ঠীর বিদ্বেষের কথা জানিয়েছেন। মুসলিম পরিচয়ের কারণে তিনি এসব গোষ্ঠীর কাছ থেকে বৈরিতা ও হুমকির আশঙ্কা করেন বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন। ব্রিটিশ সরকারের জন্য এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো একদিকে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা, অন্যদিকে প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য মানবিক ও নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে নারী আশ্রয়প্রার্থীদের যৌন সহিংসতার অভিযোগ বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। তবে এই অভিযোগের প্রকৃত মাত্রা কতটা, তা নির্ধারণ করতে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও গবেষণা প্রয়োজন। কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ছাড়া ‘প্রায় সব নারী ধর্ষণের শিকার’—এমন বক্তব্যকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের একটি অংশের জন্য মেডিকেইডের নতুন যোগ্যতার নিয়ম ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে এতদিন মেডিকেইডের আওতায় থাকা কিছু অভিবাসী এখন কভারেজ হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। তবে এই পরিবর্তন সব বৈধ অভিবাসীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ব্যক্তির ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, আয়, অঙ্গরাজ্য এবং অন্যান্য যোগ্যতার ওপর নির্ভর করছে তিনি মেডিকেইড সুবিধা পাবেন কি না। নতুন নিয়মের প্রভাব নিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে প্রবাসী কমিউনিটিতে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেইডের ওপর নির্ভর করে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের অনেকের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কভারেজ না থাকলে চিকিৎসার খরচ কীভাবে চালাবেন। মিশিগান থেকে সামসুল হক আমেরিকা বাংলাকে জানিয়েছেন, নতুন পরিবর্তনের মধ্যে তিনি তার মেডিকেইড কভারেজ হারিয়েছেন। সামসুল হকের একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে এবং নিয়মিত বেশ কয়েকটি ওষুধ সেবন করতে হয়। তার শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। কভারেজ হারানোর পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ কীভাবে চালাবেন, তা নিয়ে তিনি গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কভারেজ ফিরে পাওয়া যায় কি না কিংবা বিকল্প কোনো হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা করা সম্ভব কি না, তা জানতে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও সহায়তাকারী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। সামসুল হকের অভিজ্ঞতা সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে, একই পরিস্থিতিতে পড়া অন্য প্রবাসীদের করণীয় কী। কারণ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা একজন রোগীর জন্য হেলথ ইন্স্যুরেন্স কভারেজ হারানো মানে শুধু একটি সরকারি সুবিধা হারানো নয়। নিয়মিত ডাক্তার দেখানো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ চালিয়ে যাওয়াও তখন বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ২০২৫ সালে পাস হওয়া ফেডারেল ব্যয় আইনের মাধ্যমে মেডিকেইড ও শিশুদের স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচিতে বৈধ অভিবাসীদের যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন স্ট্যাটাস ফেডারেল অর্থায়নে পূর্ণ মেডিকেইড কভারেজের জন্য আর যোগ্য থাকছে না। তবে গ্রিন কার্ডধারীসহ নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী এখনো যোগ্য থাকতে পারেন এবং কিছু অঙ্গরাজ্যে নিজস্ব অর্থায়নে অতিরিক্ত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও রয়েছে। এ কারণে মেডিকেইড কভারেজ হারানোর বিষয়টি সবার জন্য এক নয়। একজন অভিবাসীর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, আয়, বয়স, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং তিনি কোন অঙ্গরাজ্যে বসবাস করছেন, তার ওপর যোগ্যতা নির্ভর করতে পারে। ফলে অন্য কারও কভারেজ বন্ধ হয়েছে শুনে নিজের কভারেজও বন্ধ হয়ে যাবে এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তবে যাদের কভারেজ ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের জন্য বিষয়টি জরুরি। বিশেষ করে যাদের নিয়মিত ওষুধ বা চিকিৎসার প্রয়োজন, তাদের কভারেজের বিকল্প খুঁজে বের করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অঙ্গরাজ্যের মেডিকেইড অফিস, হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেস, কমিউনিটি হেলথ সেন্টার এবং যোগ্য অভিবাসীদের সহায়তা করা বিভিন্ন সংগঠনের কাছ থেকে বিকল্পের তথ্য নেওয়া যেতে পারে। জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইমার্জেন্সি মেডিকেইডের সুযোগ থাকতে পারে। তবে এটি পূর্ণ মেডিকেইড কভারেজের বিকল্প নয় এবং সাধারণ চিকিৎসা বা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার সব খরচ এতে কভার হয় না। সামসুল হকের মতো যাদের নিয়মিত চিকিৎসা চলছে, তাদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কভারেজ হারানোর কারণটি নিশ্চিত করা এবং নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ও আয়ের ভিত্তিতে অন্য কোনো স্বাস্থ্যবীমা বা সরকারি স্বাস্থ্যসেবার জন্য যোগ্যতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা। মেডিকেইডের নতুন নিয়ম কার্যকর হলেও চিকিৎসার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে কভারেজ হারানো প্রবাসীদের জন্য এখন দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, নিজের যোগ্যতা যাচাই এবং বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থার সন্ধান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এখন গুরুত্বপূর্ণ অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সোমবার জানিয়েছেন, দুই দেশ আলোচনার এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে নতুন করে ছাড় দেওয়া বা নেওয়া উভয় পক্ষের জন্যই অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। দুই দেশের লক্ষ্য ছিল বাজারে প্রবেশের বাধা কমানো, বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ভারসাম্যসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ভারতের অর্থমন্ত্রী নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, আলোচনার বর্তমান অবস্থান থেকে আরও এগিয়ে যাওয়া দুই দেশের জন্যই কঠিন। তিনি অবশ্য এটাও জানিয়েছেন, আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি এবং সুযোগ থাকলে উভয় পক্ষই আবার সমঝোতার জায়গা খুঁজে দেখতে পারে। বাণিজ্য আলোচনার সবচেয়ে বড় জটিলতার একটি হলো শুল্ক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য শুল্ককে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ভারতও মার্কিন বাজারে বড় রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় এই নীতির প্রভাব দুই দেশের আলোচনায় পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রুশ তেল কেনার প্রশ্ন। ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার জ্বালানি আয়ের ওপর চাপ বাড়াতে চায় এবং রুশ তেল কেনা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার মতো পদক্ষেপও নিয়েছে। ফলে ভারতের জন্য বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ভারতের অবস্থান হলো, রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক হিসেবে ভারতকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে কিনতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে ভারতের অর্থনীতি, পরিবহন ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচেও তার প্রভাব পড়ে। রাশিয়া থেকে তুলনামূলক সুবিধাজনক দামে তেল কেনার সুযোগ ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপের কারণে দিল্লিকে এখন একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মার্কিন বাজারে বাণিজ্যিক সুবিধা—দুই দিকই বিবেচনা করতে হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ হলো দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যে ভারতের পক্ষে বড় উদ্বৃত্ত রয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ভারতের কাছ থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করে, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলকভাবে কম পণ্য আমদানি করে। ওয়াশিংটন এই ব্যবধান কমাতে চায়। ভারতের অর্থমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন যে বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য শুধু শুল্ক আরোপ করা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। আলোচনার মাধ্যমে উভয় দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে সমাধান খোঁজা উচিত বলে ভারতের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারও গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি বলেন, আলোচনা এখনো চলছে, তবে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও সময় প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের উইন্টার হ্যাভেনে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একটি স্কুলবাস উল্টে গিয়ে এক শিক্ষার্থীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। সোমবার, ৫ অক্টোবর সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয় এবং আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে ভয়াবহ স্কুলবাস দুর্ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে। পোল্ক কাউন্টি শেরিফ গ্র্যাডি জাডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় স্কুলবাসটিতে মোট ৩৯ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ৩৭ জন শিক্ষার্থী, বাসচালক এবং চালকের মেয়ে। বাসটি উইন্টার হ্যাভেন হাইস্কুলের দিকে যাচ্ছিল। স্থানীয় সময় সকাল ৬টার কিছু পর দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ি রাস্তার মাঝের বিভাজনরেখা অতিক্রম করে স্কুলবাসটির দিকে চলে আসে। গাড়িটি বাসের পেছনের দিকের কাছে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের প্রচণ্ডতায় বাসটির একটি চাকা খুলে যায় এবং বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে ছাদে পড়ে। এরপর বাসটি একটি জিপ গাড়ির সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় উইন্টার হ্যাভেন হাইস্কুলের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী নিহত হয়েছে। নিহত অন্য ব্যক্তি ছিলেন জিপ গাড়িটির চালক। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জিপ গাড়িটি দুর্ঘটনার পর আগুনে পুড়ে যায়। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী ও জরুরি সেবাকর্মীরা পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করেন। দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়া আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে সব আহত ব্যক্তির সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আহতের সংখ্যা ও তাদের অবস্থার বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য আসতে পারে। দুর্ঘটনার পর স্কুলবাসের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি উদ্ধারকারী দল দীর্ঘ সময় ধরে ঘটনাস্থলে কাজ করে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পোল্ক কাউন্টি পাবলিক স্কুলস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের জরুরি পরিস্থিতিতে বাস থেকে বের হওয়ার প্রশিক্ষণ আগেই দেওয়া হয়েছিল।কর্মকর্তাদের ধারণা, এই প্রশিক্ষণ দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের দ্রুত বাস থেকে বের হতে সহায়তা করেছে এবং আরও বড় প্রাণহানি এড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। শেরিফ গ্র্যাডি জাড দুর্ঘটনাটিকে অত্যন্ত ভয়াবহ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, একজন মেধাবী দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। শিক্ষার্থী হারানোর ঘটনায় স্কুল, পরিবার এবং স্থানীয় কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। স্কুলবাস দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ রাস্তার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি কীভাবে রাস্তার মাঝের রেখা অতিক্রম করল, সেটি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি। গাড়িটির চালক কেন রাস্তার মাঝের রেখা অতিক্রম করেছিলেন, তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন কি না এবং দুর্ঘটনার আগে কোনো যান্ত্রিক সমস্যা বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। দুর্ঘটনার সময় গাড়িগুলোর গতি কত ছিল, চালকদের দৃষ্টিসীমা কেমন ছিল এবং রাস্তার পরিস্থিতি কেমন ছিল—এসব বিষয়ও তদন্তের অংশ হতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলবাসে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। ফলে স্কুলবাস দুর্ঘটনা ঘটলে সেটি শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো কমিউনিটির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিশুদের নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। উইন্টার হ্যাভেনের এই দুর্ঘটনা আবারও দেখিয়েছে, কয়েক সেকেন্ডের একটি ভুল সিদ্ধান্ত কীভাবে বহু মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। একটি গাড়ি রাস্তার নির্ধারিত অংশ থেকে সরে যাওয়ার পর একটি স্কুলবাস, একটি জিপ এবং কয়েক ডজন মানুষের জীবন ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। দুর্ঘটনার পর অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্কুলবাসে সন্তানদের পাঠানো পরিবারের জন্য নিরাপদ পরিবহন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় ব্যস্ত সড়কগুলোতে দ্রুতগতির গাড়ি ও বিপরীত লেনে চলে যাওয়া যানবাহন বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।স্থানীয় কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দিতে চাইছেন না। তদন্তে চালকদের ভূমিকা, যানবাহনের অবস্থা, রাস্তার পরিস্থিতি এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ পরীক্ষা করা হবে। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাটিকে অত্যন্ত ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন। স্কুলবাস উল্টে যাওয়ার পর দ্রুত জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দুর্ঘটনার কারণে ওই এলাকার সড়ক চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। একই সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। এমন একটি দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অনেক শিক্ষার্থীর ওপর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য কাউন্সেলিং ও অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হতে পারে। নিহত দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু পুরো স্কুল কমিউনিটির জন্য সবচেয়ে বড় আঘাত। একজন কিশোরীর স্বাভাবিক স্কুলজীবন একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে যাওয়ায় সহপাঠী, শিক্ষক এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। অন্যদিকে জিপ গাড়ির চালকের মৃত্যুও দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়িয়েছে। একটি সংঘর্ষে একই সঙ্গে স্কুলবাসের শিক্ষার্থী এবং অন্য একটি গাড়ির চালক প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও কয়েকজনের চিকিৎসা এখনো চলছে।এই দুর্ঘটনার পর গাড়িচালকদের জন্যও সতর্কবার্তা সামনে এসেছে। রাস্তার নির্ধারিত লেন মেনে চলা, অতিরিক্ত গতি এড়িয়ে চলা এবং স্কুলবাস ও শিক্ষার্থীবাহী যানবাহনের আশপাশে বিশেষ সতর্ক থাকা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্কুলবাসের নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সড়কে অন্য যানবাহনের অসতর্কতা বা নিয়ন্ত্রণ হারানো গাড়ি অনেক সময় স্কুলবাসের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। উইন্টার হ্যাভেনের ঘটনাটি সেই ঝুঁকির একটি মর্মান্তিক উদাহরণ। এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য হলো দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ধারণ করা। কোন পরিস্থিতিতে গাড়িটি রাস্তার মাঝের রেখা অতিক্রম করেছিল, সংঘর্ষের আগে চালকের আচরণ কেমন ছিল এবং যানবাহনের গতি কত ছিল—এসব তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।এদিকে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসা এখন স্থানীয় কমিউনিটির প্রধান অগ্রাধিকার। স্কুল কর্তৃপক্ষও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। ৫ অক্টোবরের এই দুর্ঘটনা ফ্লোরিডার উইন্টার হ্যাভেনে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। একদিকে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু, অন্যদিকে জিপ চালকের প্রাণহানি এবং আরও কয়েকজনের আহত হওয়ার ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের নাড়া দিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ি রাস্তার মাঝের রেখা অতিক্রম করার পরই ভয়াবহ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
এক দিনেই সম্পদ বাড়ল ৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি, আর তাতেই আবার ট্রিলিয়নিয়ার হলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। সোমবার শেয়ারবাজার খোলার পর স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম বাড়ায় ফোর্বসের হিসাবে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ আবার এক ট্রিলিয়ন বা এক লাখ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। শুক্রবারের তুলনায় সোমবার সকালে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ৩০ দশমিক ৬ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৬০ কোটি ডলার। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, সোমবার মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এর মধ্য দিয়ে কয়েক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদা ফিরে পেলেন তিনি। তাঁর মালিকানাধীন ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিই এই উত্থানের প্রধান কারণ। সম্পদের এই বৃদ্ধি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে মাস্কের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। ফোর্বসের হিসাবে, দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যামাজনের জেফ বেজোসের সম্পদের পরিমাণ ৩৭১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুজনের সম্পদের ব্যবধান এখন কয়েকশ বিলিয়ন ডলার। মাস্ক প্রথমবার গত জুনে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হয়েছিলেন। স্পেসএক্স নাসডাকে শেয়ার লেনদেন শুরু করার পর কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বাড়লে তাঁর মোট সম্পদ প্রথমবারের মতো এক ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করে। তবে সেই অবস্থান বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কয়েক দিনের মধ্যেই স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম কমে গেলে মাস্কের সম্পদও এক ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়। এরপর সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম আবার বাড়তে থাকায় তাঁর সম্পদ ধীরে ধীরে সেই মাইলফলকের কাছাকাছি পৌঁছায়। বিশেষ করে টেসলার তৃতীয় প্রান্তিকের গাড়ি সরবরাহ বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যাওয়ার পর কোম্পানিটির শেয়ারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর ফলে শুক্রবার এক দিনেই মাস্কের সম্পদ প্রায় ৬১ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার বেড়েছিল বলে ফোর্বস জানিয়েছে। সোমবারও টেসলার শেয়ারের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকে। সকালের লেনদেনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১ শতাংশের বেশি বাড়ে। তবে মাস্ককে আবার এক ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের সীমায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে স্পেসএক্সের শেয়ারের উত্থান। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতিটি ১৬৭ ডলারে পৌঁছায়। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে কোম্পানিটিতে মাস্কের মালিকানার মূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এবং তাঁর মোট সম্পদ আবার এক ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা স্পর্শ করে। স্পেসএক্সের শেয়ারের সাম্প্রতিক উত্থানের পেছনে একাধিক ঘটনা রয়েছে। মরগ্যান স্ট্যানলির বিশ্লেষকেরা কোম্পানিটির শেয়ার অবমূল্যায়িত বলে মত দিয়েছেন। একই সঙ্গে গত সপ্তাহে প্রথমবার সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছেছে স্পেসএক্সের স্টারশিপ। স্পেসএক্সের ব্যবসায়িক অবস্থানের পাশাপাশি মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত কার্যক্রমও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর মাস্কও সেই ধারণাকে সমর্থন করেছেন। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাস্ক জানান, স্পেসএক্সের অধীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সএআইয়ের নাম পরিবর্তন করে স্পেসএক্সএসআই করা হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি গ্রক নামের চ্যাটবট পরিচালনা করে। তবে সোমবার সকাল পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি। গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের অন্যান্য শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মাস্ক। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিয়ে একটি নতুন স্বেচ্ছামূলক সমঝোতা সামনে আনা হয়। ওই সমঝোতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কিছু নির্দেশনা রাখা হয়েছে। তবে ট্রাম্প এটিকে নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রায় ৩০০ শব্দের ওই সমঝোতায় প্রযুক্তি খাতের ওপর বিস্তারিত নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়নি। ব্যবসায়িক সম্পদের নতুন মাইলফলকের পাশাপাশি চলতি মাসে আরেক কারণেও আলোচনায় থাকতে পারেন মাস্ক। তাঁকে নিয়ে নির্মিত প্রায় চার ঘণ্টার তথ্যচিত্র ‘মাস্ক’ চলতি মাসে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। তথ্যচিত্রটি প্রথমে নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসে সীমিত পরিসরে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ১৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এটি মুক্তি পাওয়ার কথা। নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনির তথ্যচিত্রটি মাস্ককে নিয়ে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে বলে প্রাথমিক পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। মাস্ক অবশ্য তথ্যচিত্রটির সমালোচনা করেছেন। সেখানে তাঁর সম্পর্কে করা কিছু দাবির বিরুদ্ধে নির্মাতার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। তবে সোমবার মাস্ককে ঘিরে সবচেয়ে বড় খবর তাঁর সম্পদের নতুন উত্থান। টেসলা এবং বিশেষ করে স্পেসএক্সের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে ফোর্বসের হিসাবে তাঁর মোট সম্পদ আবার এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। শেয়ারবাজারে কোম্পানিগুলোর মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে মাস্কের মোট সম্পদের হিসাবও ওঠানামা করতে পারে। ফলে এক ট্রিলিয়ন ডলারের এই সম্পদ নগদ অর্থ নয়, বরং তাঁর মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও অন্যান্য সম্পদের আনুমানিক বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা। তারপরও সোমবারের হিসাবে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে নতুন করে বিরল এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মাস্ক। শুক্রবারের তুলনায় এক দিনেই ৩০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার সম্পদ বৃদ্ধির পর আবারও ট্রিলিয়নিয়ার হয়েছেন ইলন মাস্ক। সূত্র: ফোর্বস
ইমিগ্রেশন, অস্ত্রের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, ভোটের নিয়ম এবং ধর্মীয় স্বাধীনতাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিয়ে সোমবার, ৫ অক্টোবর নতুন মেয়াদ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলাও এবার সর্বোচ্চ আদালতের সামনে আসছে। এসব মামলার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইন ও ফেডারেল সরকারের নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন মেয়াদের শুরুতেই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা বিবেচনা করছেন বিচারপতিরা। কলোরাডোর বোল্ডার থেকে আসা মামলাটিতে জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সানকর ও এক্সনমোবিল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য তাদের দায়ী করে করা মামলা ঠেকানোর চেষ্টা করছে। বোল্ডারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের একটি অংশ জ্বালানি শিল্পের বহন করা উচিত। এই ধরনের মামলায় কয়েকশ কোটি ডলারের সম্ভাব্য আর্থিক দায় জড়িত থাকতে পারে। অন্যদিকে জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয় এ ধরনের মামলার মাধ্যমে মোকাবিলা করা উচিত নয়। ট্রাম্প প্রশাসনও প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থানকে সমর্থন করছে। প্রশাসনের যুক্তি, এসব মামলার মাধ্যমে নির্গমন নিয়ন্ত্রণে আদালতকে ব্যবহার করে নতুন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করা হচ্ছে। অস্ত্রের অধিকার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নতুন মেয়াদে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক ডজন অঙ্গরাজ্যে এআর-১৫-এর মতো আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসব অস্ত্রকে সাধারণভাবে অ্যাসল্ট ওয়েপন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। নিষেধাজ্ঞার পক্ষে থাকা অঙ্গরাজ্যগুলোর বক্তব্য, গণগুলির ঘটনায় এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা অস্ত্র সহিংসতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে এসব আইনের বিরোধীরা বলছেন, এআর-১৫ ও একই ধরনের অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে মানুষের মালিকানায় রয়েছে এবং এগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীতে থাকা অস্ত্র রাখার অধিকারের পরিপন্থী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুপ্রিম কোর্ট অস্ত্রের অধিকার নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ওপর অঙ্গরাজ্যগুলোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মামলাটি ডিসেম্বরে বিবেচনা করার কথা রয়েছে। ইমিগ্রেশন নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা এবার সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসছে। এর একটি এমন অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর নীতি নিয়ে, যাঁদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসন এমন অভিবাসীদের তাঁদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন তৃতীয় দেশে পাঠিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় অভিবাসীদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর আগে সেখানে নির্যাতন বা নিপীড়নের ঝুঁকি নিয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ কতটা দিতে হবে, তা নিয়ে আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে। নিম্ন আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে অবস্থান নিয়েছে। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত তৃতীয় দেশে পাঠানোর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত কিছু অভিবাসীকে বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখার নীতি নিয়ে। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় এসব ব্যক্তিকে বন্ড শুনানি ছাড়াই আটক রাখা যেতে পারে। তবে এই প্রশ্ন বিবেচনা করা অধিকাংশ আপিল আদালত প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বন্ড শুনানি ছাড়া বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখা যাবে কি না, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম নিয়েও এবারের মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে। অ্যারিজোনায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের নথিপত্র দেখানোর নিয়ম নিয়ে আইনি বিরোধ সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসছে। একটি ব্যবস্থায় অঙ্গরাজ্যের নির্ধারিত ফরম ব্যবহার করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে হয়। আরেকটি ব্যবস্থায় যেসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে। এসব নিয়মের বৈধতা নিয়ে ডিসেম্বরে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মীয় অধিকারের প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ মামলা বিবেচনা করবেন বিচারপতিরা। কলোরাডোর সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত সর্বজনীন প্রাক-বিদ্যালয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারা ক্যাথলিক প্রাক-বিদ্যালয়গুলোর একটি মামলা নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসার কথা রয়েছে। সেন্ট মেরি ক্যাথলিক প্যারিশের বক্তব্য, ধর্মীয় বিশ্বাসভিত্তিক ভর্তি নীতির কারণে তাদের অঙ্গরাজ্যের সর্বজনীন প্রাক-বিদ্যালয় কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ওই ভর্তি নীতিতে এলজিবিটিকিউ প্লাস পরিবারের শিশুদের বাদ দেওয়ার বিষয় রয়েছে। অন্যদিকে কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের বক্তব্য, ধর্মীয় বিদ্যালয়গুলো সরকারি অর্থায়নের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে, তবে তাদের বৈষম্যবিরোধী আইন মেনে চলতে হবে। কর্মসূচিটি ২০২০ সালের একটি ব্যালট উদ্যোগের মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল এবং এতে অভিভাবকদের নির্বাচিত বিদ্যালয়ে প্রাক-বিদ্যালয় শিক্ষার জন্য সরকারি অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে নতুন মেয়াদে সুপ্রিম কোর্টের সামনে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বড় সাংবিধানিক ও নীতিগত প্রশ্ন এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির জন্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করার সুযোগ, আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা, অভিবাসীদের আটক ও তৃতীয় দেশে পাঠানোর নিয়ম, ভোটার নিবন্ধনে নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং সরকারি অর্থায়নে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ। তবে এসব মামলায় এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। নতুন মেয়াদের বিভিন্ন সময়ে বিচারপতিরা মামলাগুলোর যুক্তিতর্ক শুনবেন এবং পরে রায় দেবেন। ফলে মামলাগুলোর সম্ভাব্য ফলাফলকে এখনই নিশ্চিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত মামলাগুলোর সিদ্ধান্ত অভিবাসীদের আটক ও ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একইভাবে অস্ত্রের অধিকার নিয়ে মামলাটি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিষিদ্ধ করার ক্ষমতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। জলবায়ু মামলা, ভোটের নিয়ম এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নতুন মেয়াদের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে নজর থাকবে বিভিন্ন পক্ষের। আগামী কয়েক মাস ধরে পর্যায়ক্রমে এসব মামলার শুনানি হবে। এরপর বিচারপতিরা সিদ্ধান্ত দেবেন। ইমিগ্রেশন থেকে অস্ত্রের অধিকার, জলবায়ু থেকে ভোটের নিয়ম—যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নীতির আইনি সীমা কোথায় থাকবে, তার উত্তর নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে সুপ্রিম কোর্টের এই নতুন মেয়াদ। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
ভারতে অবস্থান করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একই ধরনের পরিস্থিতি বাংলাদেশের মাটিতে ভারতের বিরুদ্ধে তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফরে আসতেন কি না, তা জানতে চেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আশাবাদ জানিয়েছেন। সোমবার ৫ অক্টোবর ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনে বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হুমায়ুন কবির। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর এবং গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, দুই দেশের সম্পর্কে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় এবং সে জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে শীর্ষ পর্যায়ের সফরের আগে আলোচনার মাধ্যমে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ বন্ধ করা উচিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশও নিজের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেবে না। প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের কাছেও একই আচরণ প্রত্যাশা করে ঢাকা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী কখনো সফরের সম্ভাবনা নাকচ করেননি। প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে উপযুক্ত সময়ে দ্বিপক্ষীয় সফর আয়োজনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। তবে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি। নভেম্বরে সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, এমন সফরের তথ্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকেই জানানো উচিত। সরকারি পর্যায়ে আলোচনা চললেও হঠাৎ তারিখ নির্ধারণ করে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অবস্থান আগেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। গত ২২ আগস্ট তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। দুই পক্ষের প্রস্তুতি ও আলোচনায় অগ্রগতি হলে উপযুক্ত সময়ে সফর হতে পারে। ওই সময় শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টিও দুই দেশের চলমান আলোচনার অংশ বলে জানিয়েছিলেন তিনি। সোমবার গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও একই অবস্থান তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির। বর্তমান চুক্তি নবায়ন হবে, নাকি নতুন চুক্তি হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানাননি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই সরকার কাজ করবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর সামনে ছিল প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ারের একাধিক সুযোগ। এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি করেছেন, জনতা ব্যাংকে ছিলেন এক্সিকিউটিভ অফিসার। ৩৪তম বিসিএসেও কোয়ালিফাই করেছিলেন। তারপরও সেই পরিচিত পথ ছেড়ে নায়লা শারাফ বেছে নিয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা। বর্তমানে তিনি নেত্রকোণা সদরের পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর নায়লা প্রথমে এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। তবে অল্পদিনের মধ্যেই সেই চাকরি ছেড়ে দেন। পরে জনতা ব্যাংকে এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে যোগ দিলেও সেখানেও স্থায়ী হননি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তিনি প্রচলিত অর্থে আরও মর্যাদাপূর্ণ সরকারি চাকরির পথে যাননি। শেষ পর্যন্ত শিশুদের পড়ানোর মধ্যেই নিজের পছন্দের জায়গা খুঁজে নেন। নায়লার ভাষ্য, অর্থ বা বড় পদ তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য নয়। সাধারণ জীবন এবং নিজের কাজ থেকে পাওয়া মানসিক তৃপ্তিকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। আর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পান, সেটিই তাঁর কাছে বড় প্রাপ্তি। শুধু পাঠ্যবইয়ের পড়া শেষ করাই তাঁর লক্ষ্য নয়। শিক্ষার্থীদের জন্য নিজে হাতে ছবি আঁকা, বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেন তিনি। স্কুলের প্রান্তিক পরিবারের শিশুরাও যেন শহরের ভালো বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো মানসম্মত শিক্ষা পায়, সেই লক্ষ্যেই বাড়তি সময় দিয়ে কাজ করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের সততা, সাহস এবং নৈতিকতার বিষয়েও গুরুত্ব দেন নায়লা। কোন কাজ সঠিক আর কোনটি ভুল, তা যেন তারা নিজের বিবেক দিয়ে বুঝতে শেখে, সেই মানসিকতা তৈরির চেষ্টা করেন তিনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লীলা রানী ভৌমিকও নায়লার পাঠদানের ধরন, দায়িত্ববোধ এবং শিশুদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন। নায়লা নিজেও একসময় ভিকারুন্নিসা নূন স্কুলে পড়েছেন। সেখানকার শিক্ষা ও সুযোগের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি চান, প্রান্তিক এলাকার শিশুরাও যেন একইভাবে নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তোলার সুযোগ পায়। গত সাত বছর ধরে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। তবে বুয়েটের ডিগ্রি নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সিদ্ধান্ত সহজভাবে নেননি সবাই। পরিচিতজন ও স্বজনদের কাছ থেকেও নানা মন্তব্য শুনতে হয়েছে তাঁকে। তারপরও নিজের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন নায়লা। তাঁর কাছে বড় চাকরির পরিচয়ের চেয়ে শিশুদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সুযোগই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিজের পেশা সম্পর্কে নায়লার উপলব্ধিও স্পষ্ট। অন্য কোথাও কাজ করলে হয়তো বেশি অর্থ বা সামাজিক স্বীকৃতি পাওয়া যেত, কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা তিনি পান, সেটিই তাঁর কাছে আলাদা। সেই ভালোবাসা এবং শিশুদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগই তাঁকে এই পেশায় ধরে রেখেছে। সূত্র: ঢাকা পোস্ট