সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
তুন আইনের কারণে ইলিনয়ে মেডিকেইড সুবিধা হারিয়েছেন হাজারো বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্পের নতুন আইনে ইলিনয়ে মেডিকেইড হারালেন ৯ হাজার ৩০০ অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে নতুন ফেডারেল আইনের কারণে প্রায় ৯ হাজার ৩০০ অ-নাগরিকের মেডিকেইড স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে কার্যকর হওয়া এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে গ্রিন কার্ড না থাকা শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি এবং মানবপাচার থেকে বেঁচে যাওয়া কিছু বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীর ওপর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালে স্বাক্ষর করা এইচআর-১, যা ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত, তার আওতায় মেডিকেইডের যোগ্যতার নিয়ম বদলানোর ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   ইলিনয়ের স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারসেবা বিভাগ জানিয়েছে, যেসব অ-নাগরিক নতুন নিয়মের আওতায় আর পূর্ণ মেডিকেইডের যোগ্য নন, তাদের সর্বশেষ কভারেজের দিন ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। রাজ্য কর্তৃপক্ষ আগেই সম্ভাব্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিঠি পাঠিয়ে পরিবর্তনের বিষয়ে জানিয়েছিল। নতুন নিয়মটি ইলিনয় রাজ্য নিজে থেকে তৈরি করেনি, বরং ফেডারেল আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে রাজ্যকে তা বাস্তবায়ন করতে হয়েছে।   নতুন নিয়মে সব বৈধ অভিবাসী মেডিকেইড হারাচ্ছেন না। ১ অক্টোবর থেকে পূর্ণ মেডিকেইডের আওতায় থাকার জন্য প্রধানত গ্রিন কার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দা, নির্দিষ্ট কিউবান ও হাইতিয়ান অভিবাসী এবং ফ্রি অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের রাখা হয়েছে। এছাড়া ইলিনয়ে বৈধভাবে বসবাসকারী ১৯ বছরের কম বয়সী শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তিদের জন্য কিছু সুবিধা বহাল রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যভিত্তিক স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তিরাও সুবিধা পেতে পারেন।   এর ফলে বিশেষ করে এমন অভিবাসীরা সমস্যায় পড়েছেন, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থান থাকলেও এখনো গ্রিন কার্ড হয়নি। শরণার্থী ও আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতেও সাধারণত নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার নিয়ম অনুযায়ী, শরণার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে এক বছর থাকার পর এবং আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিরা আশ্রয়ের অনুমোদনের এক বছর পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার পরও গ্রিন কার্ড পেতে আরও সময় লাগতে পারে।   ইলিনয়ের পরিস্থিতি বোঝাতে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো কয়েকটি পরিবারের উদাহরণ তুলে ধরেছে। শিকাগো ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে ৬৬ বছর বয়সী তেরেসিতা ভি. মোরালেসের দীর্ঘদিনের সঙ্গী ইউগেন কুতার ঘটনা উঠে এসেছে। রোমানিয়া থেকে আসা কুতা ১৫ বছরেরও বেশি আগে গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এতে তিনি আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং কথা বলার সক্ষমতাও হারান। এরপর থেকে তিনি নার্সিং হোমে বসবাস করছেন এবং তার সার্বক্ষণিক পরিচর্যার খরচ মেটাতে মেডিকেইডের ওপর নির্ভর করছিলেন।   মোরালেস জানান, আগস্টে তার সঙ্গীর কাছে রাজ্য সরকারের পাঠানো একটি চিঠি আসে। সেখানে বলা হয়, তার ‘অ-নাগরিক’ অবস্থানের কারণে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর তিনি আর মেডিকেইডের যোগ্য থাকবেন না। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ও নার্সিং হোমের খরচ কীভাবে চালানো হবে, তা নিয়ে এরপর থেকে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন মোরালেস। ইলিনয় কোয়ালিশন ফর ইমিগ্র্যান্ট অ্যান্ড রিফিউজি রাইটসের স্বাস্থ্যনীতি ও ন্যায়বিচার বিভাগের পরিচালক এডিথ আভিলা হেসার পরিবারটিকে বিষয়টি মোকাবিলায় সহায়তা করার চেষ্টা করছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   মেডিকেইড হারানোর প্রভাব শুধু দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ওপর নয়, নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের ওপরও পড়তে পারে। কুক কাউন্টি হেলথের চিকিৎসক নিম্মি রাজাগোপাল জানিয়েছেন, মেডিকেইড হারাতে যাওয়া কিছু রোগী তাদের নিয়মিত ওষুধ কীভাবে সংগ্রহ করবেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কুক কাউন্টিতে ইলিনয়ের মেডিকেইড হারাতে যাওয়া মানুষের ৪০ শতাংশেরও বেশি বসবাস করেন এবং তাদের অনেকেই ইউক্রেনীয় ভাষাভাষী বলে কাউন্টি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   শিকাগো ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে মানবাধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে। লিগ্যাল কাউন্সিল ফর হেলথ জাস্টিসের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আন্দ্রেয়া কোভাচের মতে, অনেক অভিবাসী দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেইডের মাধ্যমে নিয়মিত চিকিৎসা, রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে আসছিলেন। কভারেজ বন্ধ হলে এসব সেবায় বাধা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   তবে মেডিকেইড হারানো ব্যক্তিদের জন্য কিছু বিকল্প ব্যবস্থা থাকছে। ফেডারেলভাবে অনুমোদিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো অনেক ক্ষেত্রে বিনা খরচে বা আয় অনুযায়ী কম খরচে চিকিৎসা দিতে পারে। জরুরি অবস্থায় ‘ইমার্জেন্সি মেডিকেইড’ সুবিধাও পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি নিয়মিত চিকিৎসা, প্রেসক্রিপশন ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার পূর্ণ বিকল্প নয়। ইলিনয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, শুধু অভিবাসনগত অবস্থানের কারণে মেডিকেইডের যোগ্য না থাকলেও জরুরি চিকিৎসার জন্য এই সুবিধা বহাল থাকবে।   কিছু শরণার্থী মেডিকেইডের বিকল্প হিসেবে ‘রিফিউজি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স’ পেতে পারেন। তবে এই কর্মসূচির সুবিধা সীমিত সময়ের জন্য দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত বা নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি মেডিকেইডের সমতুল্য নিরাপত্তা তৈরি করে না। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা তাই মেডিকেইড হারানো রোগীদের চিকিৎসা পুরোপুরি বন্ধ না করে বিকল্প স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অন্যান্য সহায়তা ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন।   ইলিনয়ের এই পরিবর্তন আসলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মেডিকেইড ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রথম ধাপগুলোর একটি। কেএফএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে নতুন ফেডারেল নিয়মে মেডিকেইড ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি বা সিএইচআইপির যোগ্যতা মূলত গ্রিন কার্ডধারী, নির্দিষ্ট কিউবান ও হাইতিয়ান অভিবাসী, সিওএফএ দেশের নাগরিক এবং কিছু বৈধভাবে বসবাসকারী শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তির মধ্যে সীমিত করা হয়েছে। এর ফলে গ্রিন কার্ড ছাড়া শরণার্থী ও আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিসহ আরও কয়েকটি বৈধ অভিবাসী গোষ্ঠী ফেডারেলভাবে অর্থায়িত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বাদ পড়েছেন।   কেএফএফের হিসাবে, শুধু মেডিকেইড ও সিএইচআইপির যোগ্যতা সীমিত করার বিধানই ২০৩৪ সালের মধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্যবিমাহীন করে তুলতে পারে। একই আইনের অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত পরিবর্তন ধরলে ২০৩৪ সালের মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসী স্বাস্থ্যবিমা হারাতে পারেন বলে কেএফএফের পূর্বাভাস।   ইলিনয়ে এখন নতুন নিয়মের বাস্তব প্রভাব শুরু হলেও বিষয়টি পুরোপুরি এখানেই শেষ নয়। যাদের অভিবাসনগত অবস্থান যাচাই করা নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রাজ্য অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ৯০ দিনের সময়ও দিতে পারে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারও যোগ্য অভিবাসনগত অবস্থান প্রমাণিত হলে তিনি নতুন নিয়ম অনুযায়ী কভারেজ ধরে রাখতে পারেন।   সূত্র: শিকাগো ট্রিবিউন, ইলিনয় স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারসেবা বিভাগ, কেএফএফ

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ২৩:৫১
মিয়ামি-ডেড কাউন্টিতে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের মজুরি নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ছবি: আমেরিকা বাংলা
নতুন আইনে মিয়ামির হাজারো কর্মীর মজুরি ঘণ্টায় ২২ ডলার থেকে নামতে পারে ১৫ ডলারে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নতুন আইনের প্রভাবে মিয়ামি-ডেড কাউন্টির হাজারো কর্মীর মজুরি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতদিন কাউন্টির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য নির্ধারিত ‘লিভিং ওয়েজ’ বা জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ন্যূনতম মজুরি বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর নতুন বিধানের কারণে ভবিষ্যতের সরকারি চুক্তিতে সেই বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না।   মিয়ামি-ডেড কাউন্টি ১৯৯৯ সাল থেকে ১ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের নির্দিষ্ট সেবা চুক্তির ক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য লিভিং ওয়েজ বাধ্যতামূলক করে আসছে। মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্দিষ্ট সেবা ও ছাড়পত্রভিত্তিক ব্যবসার ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল সরকারি অর্থে পরিচালিত কাজ করা কর্মীরা যেন স্থানীয় জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় অত্যন্ত কম মজুরি না পান এবং কর্মস্থলের কাছাকাছি জীবনযাপন করতে পারেন।   ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মিয়ামি-ডেডের লিভিং ওয়েজ ঘণ্টায় ১৮.৪০ ডলার, যদি কর্মী নির্ধারিত স্বাস্থ্যসুবিধা পান। স্বাস্থ্যসুবিধা না থাকলে হারটি ঘণ্টায় ২২.৫৩ ডলার। এই হার ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে এবং ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বা তার আগে দেওয়া পুরোনো চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকছে। কাউন্টির সরকারি নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বা তার পর দেওয়া নতুন চুক্তিতে ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী কাউন্টি আর নিজস্ব ন্যূনতম মজুরি বা সুবিধা বাধ্যতামূলক করতে পারবে না।   এর ফলে এখনই অধিকাংশ কর্মীর বেতন কমে যাচ্ছে না। যেসব কর্মী ইতোমধ্যে কাউন্টির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় কাজ করছেন, তাদের বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত লিভিং ওয়েজ পাওয়ার কথা। সমস্যা তৈরি হবে চুক্তিগুলো শেষ হওয়ার পর। তখন একই কাজের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হলে নতুন আইনের কারণে কাউন্টি আর ঠিকাদারকে ১৮.৪০ বা ২২.৫৩ ডলারের লিভিং ওয়েজ দেওয়ার শর্ত দিতে পারবে না।   ফ্লোরিডার ন্যূনতম মজুরি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ঘণ্টায় ১৫ ডলারে পৌঁছেছে। ২০২০ সালে রাজ্যের ভোটারদের অনুমোদিত সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে ধাপে ধাপে ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে এই পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে কোনো নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে যদি নিয়োগকর্তা নিজে থেকে বেশি মজুরি না দেয় এবং অন্য কোনো চুক্তিগত বা আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকে, তাহলে ১৫ ডলারই প্রযোজ্য ন্যূনতম মজুরি হবে।   হিসাবটি কর্মীদের জন্য বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। বর্তমানে স্বাস্থ্যসুবিধা ছাড়া ঘণ্টায় ২২.৫৩ ডলার পাওয়া একজন পূর্ণকালীন কর্মীকে ভবিষ্যতে ১৫ ডলারে নামিয়ে আনা হলে প্রতি ঘণ্টায় ৭.৫৩ ডলার কমে যাবে। সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা এবং বছরে ৫২ সপ্তাহ কাজের হিসাবে এতে বছরে প্রায় ১৫ হাজার ৬৬২ ডলার আয় কমতে পারে। তবে এই হিসাব সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ব্যবধান বোঝায়, কারণ নতুন আইন কোনো নিয়োগকর্তাকে কর্মীদের বেতন সরাসরি ১৫ ডলারে নামিয়ে দিতে বাধ্য করছে না।   মিয়ামি-ডেডের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কাউন্টির লিভিং ওয়েজের আওতায় থাকা কর্মীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, খাদ্যসেবা কর্মী, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীসহ বিভিন্ন ধরনের পেশার মানুষ রয়েছেন। মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কিছু চুক্তিভিত্তিক কর্মীও এই ব্যবস্থার আওতায় ছিলেন। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাউন্টির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ২০ হাজারের বেশি কর্মী এবং ফ্লোরিডার অন্যান্য স্থানীয় সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ আরও হাজারো কর্মী দীর্ঘমেয়াদে এই পরিবর্তনের প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন।   নতুন নিয়মের ভিত্তি তৈরি হয়েছে ২০২৪ সালে পাস হওয়া ফ্লোরিডার হাউস বিল ৪৩৩-এর মাধ্যমে। গভর্নর রন ডি স্যান্টিস ওই বছরের এপ্রিলে বিলে স্বাক্ষর করেন। তবে স্থানীয় সরকারের ঠিকাদারদের মজুরি নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত অংশটি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আইনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার নতুন চুক্তিতে ঠিকাদারদের মজুরি বা কর্মসংস্থান সুবিধা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না এবং মজুরি বা সুবিধার ভিত্তিতে কোনো ঠিকাদারকে বাড়তি সুবিধাও দিতে পারবে না।   আইনের সমর্থকেরা বলছেন, স্থানীয় সরকারের আলাদা আলাদা মজুরি শর্ত তুলে দিলে সরকারি চুক্তির ক্ষেত্রে ব্যবসাগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকারি কাজ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ফ্লোরিডা চেম্বার অব কমার্সও এই পরিবর্তনকে ব্যবসাবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে সমর্থন করেছে। তাদের যুক্তি, স্থানীয় পর্যায়ে আলাদা মজুরি কাঠামো না থাকলে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকারি চুক্তিতে অংশ নেওয়া সহজ হবে এবং সরকারের চুক্তি ব্যয় কমতে পারে।   তবে শ্রমিক সংগঠনগুলো এই আইনের বিরোধিতা করেছে। ৩২বিজে এসইআইইউ-এর ফ্লোরিডা পরিচালক হেলেন ও’ব্রায়েনের আশঙ্কা, ঠিকাদারদের মধ্যে কম দামে সরকারি কাজ পাওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হলে শ্রমিকদের মজুরি কমানোর প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তার ভাষায়, এতে একটি ‘নিচের দিকে প্রতিযোগিতা’ তৈরি হতে পারে, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো চুক্তি পাওয়ার জন্য শ্রমিকদের পারিশ্রমিক যতটা সম্ভব কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে।   মিয়ামি-ডেড কাউন্টির মেয়র দানিয়েলা লেভিন কাভাও আইনটির বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি গভর্নর ডি স্যান্টিসকে বিলটিতে ভেটো দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, এর ফলে কাউন্টির হাজারো কর্মজীবী পরিবারের আয় কমে যেতে পারে। তার মতে, স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে কাউন্টির নিজস্ব শ্রমবাজারের জন্য উপযুক্ত মজুরি নির্ধারণের সুযোগ থাকা উচিত।   এদিকে মিয়ামি-ডেডে জীবনযাত্রার ব্যয় ইতোমধ্যেই ফ্লোরিডার অনেক এলাকার তুলনায় বেশি। ইউনাইটেড ওয়েকে মিয়ামির ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাউন্টির ৫৬ শতাংশ পরিবার প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে আর্থিক চাপে রয়েছে। ২০২৬ সালের হিসাবে এমন পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৬৪ হাজার। এসব পরিবারের আয় অনেক ক্ষেত্রে দারিদ্র্যসীমার ওপরে হলেও আবাসন, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা ও পরিবহনসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে তাদের বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।   লিভিং ওয়েজ নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা রয়েছে। মিয়ামি-ডেড কাউন্টির বর্তমান ২২.৫৩ ডলারের হারও স্থানীয় জীবনযাত্রার পুরো ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয় বলে গবেষণাভিত্তিক হিসাব রয়েছে। এমআইটির লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটর অনুযায়ী, মিয়ামি-ডেডে সন্তানহীন একজন একক প্রাপ্তবয়স্কের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে ঘণ্টায় প্রায় ২৫.৯৮ ডলার আয় প্রয়োজন। অর্থাৎ নতুন আইনের ফলে পুরোনো লিভিং ওয়েজ ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে দুর্বল হলে উচ্চ ব্যয়ের এই অঞ্চলের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মীদের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে।   তবে আইনটির প্রভাব ধীরে ধীরে দেখা যাবে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর আগে দেওয়া চুক্তিগুলো নতুন আইনে বাতিল বা পরিবর্তিত হচ্ছে না। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে যে চুক্তিগুলো দেওয়া হবে, সেগুলোতেই মিয়ামি-ডেড কাউন্টির লিভিং ওয়েজ বাধ্যতামূলক করার ক্ষমতা থাকবে না। ফলে কর্মীদের মজুরি কমবে কি না, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে নতুন ঠিকাদারদের বেতন কাঠামো, শ্রমিক সংগঠনের চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাদের সিদ্ধান্তের ওপর।   সূত্র: মিয়ামি হেরাল্ড, মিয়ামি-ডেড কাউন্টি, ফ্লোরিডা সিনেট

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ২৩:৩৩
ইরানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরান থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরে পালিয়েছে মার্কিন বাহিনী: দাবি আইআরজিসির

ইরানের সীমান্ত থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে সরে গেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি। তার দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং আইআরজিসির শক্তির কারণেই যুক্তরাষ্ট্রকে এভাবে পিছু হটতে হয়েছে। তবে ফাদাভির এই বক্তব্যের স্বাধীন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।   ফাদাভি বলেন, “আমেরিকানরা পালিয়ে গেছে এবং আমাদের সীমান্ত থেকে ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে সরে গেছে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছায় নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সামরিক সক্ষমতা এবং আইআরজিসির স্থল ও নৌ শক্তির কারণে মার্কিন বাহিনীকে এমন অবস্থান নিতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে তিনি কোন মার্কিন ইউনিট বা ঘাঁটি থেকে ঠিক কত দূরে সরে গেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা সামরিক তথ্য দেননি।   ফাদাভি আরও দাবি করেন, বর্তমানে পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর এমনকি উত্তর ভারত মহাসাগরেও কোনো মার্কিন নৌযান নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী নিজেদের অবস্থান অনেকটা পেছনে সরিয়ে নিয়েছে।   তবে ফাদাভির বক্তব্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য সামরিক তথ্যের পুরোপুরি মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ বিমানবাহী রণতরী আরব সাগরে অবস্থান করে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকরে সহায়তা করছে। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেন্টকমের বাহিনী ১২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে বলে মার্কিন কমান্ড জানিয়েছে। এর অর্থ, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ উপস্থিতি অঞ্চলটিতে এখনও সক্রিয় রয়েছে, যদিও ফাদাভির দাবি করা নির্দিষ্ট ১ হাজার কিলোমিটার দূরত্বের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কার্যক্রমও সাম্প্রতিক সময়ে অব্যাহত রয়েছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জুলাই মাসে জানিয়েছিল, ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর অবরোধ পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে। এর আগে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চালানো প্রথম দফার অবরোধে ১৪০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং নয়টি জাহাজকে অচল করা হয়েছিল বলে জানিয়েছিল সেন্টকম। জুলাইয়ে অবরোধ পুনরায় কার্যকর হওয়ার পরও মার্কিন বাহিনী ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক চলাচল নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।   হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহও বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রণালির আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে হরমুজ ও আশপাশের জলসীমায় জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে এবং ২ অক্টোবরের পর প্রতিদিনই নতুন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি আবারও বাড়লেও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   এদিকে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়েও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি পুরোপুরি খুলবে না। কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ চললেও পরমাণু কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনও বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ফলে আইআরজিসির পক্ষ থেকে মার্কিন বাহিনী পিছু হটার দাবি সামনে এলেও অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌ তৎপরতা যে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তা মার্কিন সামরিক কমান্ডের প্রকাশ্য তথ্যেই দেখা যাচ্ছে।   সূত্র: প্রেস টিভি, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ২৩:১৮
নতুন আইনের পর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসীদের একাংশের মেডিকেড সুবিধা হারানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের নতুন আইনে মেডিকেইড সুবিধা হারাতে পারেন হাজারো বৈধ অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের একটি বড় অংশের জন্য মেডিকেড সুবিধা পাওয়ার নিয়ম আরও কঠোর হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের কর ও ব্যয়সংক্রান্ত নতুন আইনের অধীনে ১ অক্টোবর থেকে এসব পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়মে শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থীসহ বৈধভাবে বসবাসকারী কিছু অভিবাসী আর কেন্দ্রীয় অর্থায়নে মেডিকেড পাওয়ার যোগ্য থাকছেন না। কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু অক্টোবরেই নয়টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ২ লাখ ৮১ হাজারের বেশি অভিবাসীর মেডিকেড সুবিধা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।   নতুন বিধিনিষেধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করলেও সবার জন্য মেডিকেডের দরজা খোলা থাকছে না। ১ অক্টোবর থেকে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে মেডিকেড ও চিলড্রেনস হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রাম বা চিপের যোগ্যতা মূলত গ্রিন কার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দা, নির্দিষ্ট কিউবান ও হাইতিয়ান অভিবাসী, এবং ফ্রিলি অ্যাসোসিয়েটেড স্টেটসের আওতাভুক্ত কিছু বাসিন্দার মধ্যে সীমিত করা হয়েছে। যেসব অঙ্গরাজ্যে বৈধভাবে বসবাসকারী শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে, সেখানে কিছু ব্যতিক্রমও থাকছে।   এর ফলে শরণার্থী ও গ্রিন কার্ড না পাওয়া আশ্রয়প্রার্থীদের একটি অংশ বিশেষভাবে প্রভাবিত হতে পারেন। একইভাবে সাময়িক সুরক্ষা বা নির্দিষ্ট মানবিক কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কিছু অভিবাসীও নতুন ফেডারেল নিয়মে মেডিকেডের যোগ্যতা হারাতে পারেন। কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন বলছে, আগের নিয়মে এসব শ্রেণির অনেক মানুষ বৈধভাবে বসবাসের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারলেও নতুন আইনে তাদের যোগ্যতার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে।   তবে নতুন আইনে সব বৈধ অভিবাসীর মেডিকেড বন্ধ হচ্ছে না। গ্রিন কার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দারা নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করলে মেডিকেডের আওতায় থাকতে পারবেন। কিউবান ও হাইতিয়ানদের নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণি এবং মার্শাল আইল্যান্ডস, মাইক্রোনেশিয়া ও পালাউয়ের নাগরিকদের জন্যও বিশেষ বিধান রয়েছে। এ ছাড়া কিছু অঙ্গরাজ্য নিজেদের অর্থায়নে ফেডারেল নিয়মের বাইরে নির্দিষ্ট অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সুযোগ ধরে রাখতে পারে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অনিয়মিতভাবে বসবাসকারী অভিবাসীরা সাধারণত আগে থেকেই ফেডারেল অর্থায়নে পূর্ণ মেডিকেডের জন্য যোগ্য ছিলেন না। জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে সীমিত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কয়েকটি অঙ্গরাজ্য নিজস্ব অর্থ ব্যবহার করে অনিয়মিতভাবে বসবাসকারীসহ আরও বিস্তৃত অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকে। নতুন ফেডারেল আইনের প্রভাব তাই অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে।   নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোকে বিদ্যমান মেডিকেড গ্রহীতাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত যোগ্যতা নতুন করে যাচাই করতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্ভাব্যভাবে প্রভাবিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রথমে বিদ্যমান তথ্য ও স্বয়ংক্রিয় তথ্য যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের অভিবাসন মর্যাদা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেভ কর্মসূচি এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে যাচাই করা হবে।   তবে শুধু নতুন যোগ্যতার নিয়মই স্বাস্থ্যসেবা হারানোর কারণ হতে পারে না। প্রশাসনিক জটিলতার কারণেও কিছু মানুষ সুবিধা হারাতে পারেন বলে সতর্ক করেছে কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারা, সরকারি নোটিশ বুঝতে সমস্যা হওয়া বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দেওয়ার মতো কারণে যোগ্য ব্যক্তি হয়েও কেউ কেউ মেডিকেড থেকে বাদ পড়তে পারেন। অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপরও নতুন যাচাই ও পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া পরিচালনার বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।   এই পরিবর্তন শুধু মেডিকেডেই সীমাবদ্ধ নয়। নতুন আইনের বিভিন্ন বিধানের কারণে বৈধ অভিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় ভর্তুকি এবং মেডিকেয়ার সুবিধাতেও ভবিষ্যতে পরিবর্তন আসবে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের হিসাব অনুযায়ী, আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানের কারণে ২০৩৪ সালের মধ্যে গড়ে প্রায় ৮ লাখ মানুষ প্রতিবছর স্বাস্থ্যবিমা বাজারে ভর্তুকিযুক্ত বিমা গ্রহণ থেকে বাদ পড়তে পারেন। আর ২০২৫ সালের কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোর কারণে ২০৩৪ সালে প্রায় ১০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা হারাতে পারেন।   মেডিকেয়ারের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে কিছু বৈধ অভিবাসী প্রভাবিত হতে পারেন। নতুন আইনের সামগ্রিক পরিবর্তনের ফলে স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য তাদের বর্তমান অভিবাসন মর্যাদা, স্বাস্থ্যবিমার ধরন এবং অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব স্বাস্থ্যসেবা নীতির বিষয়গুলো নতুন করে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে কারও মেডিকেড বন্ধ হবে কি না, তা তার অভিবাসন মর্যাদা, বয়স, আয়, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং কোন অঙ্গরাজ্যে তিনি বসবাস করছেন, এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে।   কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নতুন বিধিনিষেধের প্রভাব শুধু স্বাস্থ্যবিমার কাগজপত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মেডিকেড হারানো ব্যক্তিদের চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ কারণে অঙ্গরাজ্যগুলোকে প্রভাবিত ব্যক্তিদের আগাম নোটিশ দেওয়া এবং নতুন যোগ্যতা সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যে ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ আইনে স্বাক্ষর করেন, তার স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত বিধান থেকেই এই পরিবর্তনের সূত্রপাত। সরকারের ব্যয় কমানো এবং ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্মসূচির যোগ্যতা কঠোর করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে আইনটি আনা হলেও এর প্রভাব বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের একটি অংশের ওপর সরাসরি পড়ছে। মেডিকেড ও চিপের নতুন যোগ্যতার নিয়ম ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে, আর স্বাস্থ্যবিমার অন্যান্য পরিবর্তন ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।   সূত্র: কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন, কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ২২:৫৯
প্রেমিকা অ্যালেক্সিস উইলকিন্সের সঙ্গে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের প্রেমিকা অ্যালেক্সিস উইলকিন্সকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেল

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) পরিচালক কাশ প্যাটেল দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ও কান্ট্রি সংগীতশিল্পী অ্যালেক্সিস উইলকিন্সের সঙ্গে বাগদান করেছেন। রোববার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তারা নিজেদের বাগদানের খবর জানান। উইলকিন্স একটি সাদাকালো ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি প্যাটেলের পাশে দাঁড়িয়ে হাতে পরা আংটি দেখান। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, “Went and got the law involved”, যার ভাবার্থ, ‘আইনকেও শেষ পর্যন্ত জড়িয়ে ফেললাম’। প্যাটেলও পরে ছবিটি নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন।   ২৭ বছর বয়সী উইলকিন্স ও ৪৬ বছর বয়সী প্যাটেলের সম্পর্ক শুরু হয় প্যাটেল এফবিআইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার আগেই। ২০২৫ সালে এফবিআই পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের সময় প্যাটেলের শপথ অনুষ্ঠানে উইলকিন্সও উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিভিন্ন সরকারি ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেছে। বাগদানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের এই সম্পর্ক এবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পর্যায়ে পৌঁছাল।   অ্যালেক্সিস উইলকিন্স কান্ট্রি সংগীতের পাশাপাশি রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবেও পরিচিত। ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম অ্যালবাম। রক্ষণশীল ঘরানার বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। নিজের ওয়েবসাইটে উইলকিন্স জানিয়েছেন, তিনি কান্ট্রি সংগীতের ঐতিহ্যকে সম্মান করেন এবং এর সঙ্গে সমসাময়িক বিষয় ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করার চেষ্টা করেন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতিও নজর কেড়েছে।   বাগদানের খবর প্রকাশের পর প্যাটেলের সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সরকারি বিমানে তার ভ্রমণ নিয়ে আগে থেকেই সমালোচনা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন কয়েকটি ভ্রমণে এফবিআইয়ের বিমান ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যেগুলোর সঙ্গে স্পষ্ট কোনো আইনশৃঙ্খলা বা তদন্তসংক্রান্ত দায়িত্বের সম্পর্ক জানা যায়নি। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়ার স্টেট কলেজে একটি পেশাদার কুস্তি অনুষ্ঠানে যাওয়ার ঘটনাটিও রয়েছে।   ওই অনুষ্ঠানে উইলকিন্স জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে প্যাটেল ও উইলকিন্সকে একসঙ্গে দেখা যায়। একটি ছবিতে উইলকিন্সের হাতে বড় আকারের সোনালি চ্যাম্পিয়নশিপ বেল্টও দেখা যায়। সরকারি সম্পদের ব্যবহার এবং এ ধরনের ব্যক্তিগত বা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে সরকারি বিমানের ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্যাটেল এর আগে সমালোচনার মুখে পড়েছেন।   উইলকিন্স চলতি বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’-এও সংগীত পরিবেশন করেন। ‘আমেরিকা ২৫০’ উদযাপনের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে কয়েকজন শিল্পী পরে নিজেদের সরিয়ে নেন। তাদের কেউ কেউ জানান, অনুষ্ঠানটি দলনিরপেক্ষ জাতীয় উদযাপন হবে বলে তারা ধারণা করেছিলেন। তবে পরে এর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।   কাশ প্যাটেল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এফবিআই পরিচালক হিসেবে তার ব্যক্তিগত জীবন ও সরকারি কর্মকাণ্ড তাই প্রায়ই জনসমক্ষে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। এবার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা অ্যালেক্সিস উইলকিন্সের সঙ্গে বাগদানের খবরও সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ২২:২১
তরুণদের মধ্যে বাড়ছে স্ট্রোকের প্রবণতা, কারণ খুঁজছেন গবেষকেরা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বয়স্কদের রোগ এখন তরুণদেরও, ৩০ বছরে দ্বিগুণ বেড়েছে স্ট্রোকের হার

সাধারণত বয়স্কদের রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও গত প্রায় তিন দশকে তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্ট্রোকের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেটার সিনসিনাটি ও নর্দার্ন কেনটাকি অঞ্চলের ওপর দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সীদের মধ্যে স্ট্রোকের হার ১৯৯৩-৯৪ সালের তুলনায় ২০২০ সালে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গবেষণাটি ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল ‘নিউরোলজি’-তে প্রকাশিত হয়।   গবেষণায় ১৯৯৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ওই অঞ্চলে ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী মানুষের প্রথমবারের স্ট্রোকের ২ হাজার ৭৬টি ঘটনা শনাক্ত করা হয়। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে স্ট্রোকের হার ১৯৯৩-৯৪ সালে ছিল ৩৩ দশমিক ৯টি। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬২ দশমিক ২টিতে। একই সময়ে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্ট্রোকের হার বরং কমেছে, যা তরুণদের ক্ষেত্রে দেখা যাওয়া বিপরীত প্রবণতাটিকে আরও গুরুত্ববহ করে তুলেছে।   গবেষকদের মতে, এই বৃদ্ধির বড় অংশই হয়েছে ইস্কেমিক স্ট্রোকের কারণে। এ ধরনের স্ট্রোক মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে ঘটে এবং এটি স্ট্রোকের সবচেয়ে সাধারণ ধরন। তরুণদের মধ্যে ইস্কেমিক স্ট্রোকের হার ১৯৯৩-৯৪ সালে প্রতি এক লাখে ২৩ দশমিক ৮টি থেকে বেড়ে ২০২০ সালে ৪৭ দশমিক ৩টিতে পৌঁছায়। অন্যদিকে মস্তিষ্কের ভেতরে রক্তক্ষরণ বা মস্তিষ্কের চারপাশে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের ক্ষেত্রে একই ধরনের বৃদ্ধি দেখা যায়নি।   তরুণদের মধ্যে স্ট্রোক বাড়ার পেছনে ঠিক কোন কারণ সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সময়ের সঙ্গে স্ট্রোকে আক্রান্ত তরুণদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্‌যন্ত্রের অনিয়মিত স্পন্দন এবং মাদক বা অন্যান্য নেশাজাতীয় পদার্থ ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব ঝুঁকির কারণের সঙ্গে স্ট্রোকের হার বৃদ্ধির সম্পর্ক দেখা গেলেও এগুলোই পুরো বৃদ্ধির কারণ, এমন সিদ্ধান্ত এই গবেষণা থেকে দেওয়া যায় না।   গবেষণাটিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের হার বাড়লেও স্ট্রোকের পর ৩০ দিনের মধ্যে মৃত্যুর হার সামান্য কমেছে। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ হার ছিল ১১ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২০ সালে নেমে আসে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে। অর্থাৎ আগের তুলনায় বেশি তরুণ স্ট্রোক থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বেঁচে যাচ্ছেন। তবে এর অর্থ একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক বা স্নায়বিক জটিলতা নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের সংখ্যাও বাড়তে পারে।   বস্টনের টাফটস মেডিকেল সেন্টারের ভাসকুলার নিউরোলজিস্ট ডা. মিশেল লেপার্ট বলেন, তরুণদের মধ্যে স্ট্রোক বাড়ার প্রবণতার বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তিনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো ঝুঁকির কারণের দিকে ইঙ্গিত করলেও বলেন, শুধু এসব কারণ দিয়ে পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা যায় না। তরুণদের মধ্যে হৃদ্‌রোগের হার একইভাবে না বাড়ায় বিষয়টি আরও গভীরভাবে বোঝার প্রয়োজন রয়েছে।   লেপার্ট আরও জানান, ৪৫ বছরের কম বয়সী নারীদের মধ্যেও স্ট্রোকের ঘটনা পুরুষদের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে, যা গবেষকদের জন্য বিশেষ আগ্রহের বিষয়। বিশেষ করে যেসব নারী অরা-সহ মাইগ্রেনে ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অরা-সহ মাইগ্রেন বলতে মাথাব্যথার আগে বা সঙ্গে দৃষ্টিতে ঝিলমিল, আলোর ঝলক বা অন্য ধরনের সাময়িক স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দেওয়াকে বোঝায়।   চিকিৎসকেরা বলছেন, তরুণ বয়স মানেই স্ট্রোকের ঝুঁকি নেই, এমন ধারণা বিপজ্জনক হতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরলসহ অনেক ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করা সম্ভব। তাই ২০, ৩০ বা ৪০-এর কোঠায় থাকা ব্যক্তিদেরও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।   স্ট্রোকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশন ‘বি ফাস্ট’ পদ্ধতির মাধ্যমে ভারসাম্য হারানো, চোখ বা দৃষ্টিতে হঠাৎ পরিবর্তন, মুখের এক পাশ ঝুলে পড়া, হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং কথা বলায় সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেয়। হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা বা নতুন কোনো স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিলেও তা উপেক্ষা না করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।   তবে গবেষকেরা এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, নতুন গবেষণাটি মূলত একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। গ্রেটার সিনসিনাটি ও নর্দার্ন কেনটাকির ওই পাঁচ-কাউন্টি এলাকার জাতিগত বৈচিত্র্য, শিক্ষা ও আর্থসামাজিক বৈশিষ্ট্য যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক জনসংখ্যার সঙ্গে তুলনামূলকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও এটিকে সরাসরি পুরো দেশের প্রতিটি তরুণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। গবেষণাটি বরং তরুণদের মধ্যে স্ট্রোক বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রবণতার শক্তিশালী ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং এর কারণ খুঁজতে আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।   সূত্র: ডব্লিউসিভিবি

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ২২:০
বছরে আড়াই লাখ ডলারের চাকরি ছেড়ে ম্যাচা ব্যবসায় নামেন মিশেল ইয়ং। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
‘টাকা নয়, শান্তি খুঁজছিলাম’: আড়াই লাখ ডলারের চাকরি ছেড়ে নিউইয়র্কে ক্যাফে দিলেন তরুণী

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে বছরে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের সফটওয়্যার প্রকৌশলীর চাকরি করতেন মিশেল ইয়ং। এই আয় দিয়ে ভ্রমণ, পছন্দের জিনিস কেনাকাটা কিংবা ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়, সবই সম্ভব ছিল। কিন্তু ভালো বেতনের এই চাকরিই একসময় তাঁর কাছে অর্থহীন মনে হতে শুরু করে। সারাদিন কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করলেও নিজের কাজের সঙ্গে কোনো উদ্দেশ্য বা অর্থ খুঁজে পাচ্ছিলেন না ২৯ বছর বয়সী এই তরুণী।   ২০২২ সালের দিকে নিজের পেশা নিয়ে ইয়ংয়ের অসন্তুষ্টি বাড়তে থাকে। তিনি বুঝতে পারেন, শুধু ভালো বেতনের কারণেই তিনি সফটওয়্যার প্রকৌশলীর চাকরিতে টিকে আছেন। শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তি খাত ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এখন ম্যানহাটনের লোয়ার ইস্ট সাইডে তাঁর নিজস্ব ম্যাচা ক্যাফে ‘ম্যাচা হাউস’। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে চালু হওয়া এই ক্যাফে থেকে ২০২৬ সালে নিজের জন্য প্রায় ৩৩ হাজার ডলার আয় করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর, যা আগের আয়ের তুলনায় প্রায় ৮৭ শতাংশ কম।   ইয়ংয়ের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে তাঁর শৈশবের আর্থিক বাস্তবতাও। সান ফ্রান্সিসকোতে জন্ম নেওয়া ইয়ং জীবনের প্রথম আট বছর পরিবারের আরও চার সদস্যের সঙ্গে চায়নাটাউনের একটি বেসমেন্ট স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। তিনি ১২ বছর বয়সে থাকাকালীন তাঁর বাবা পরিবার ছেড়ে চলে যান। এরপর তাঁর মা বাড়িতে ডে-কেয়ার ব্যবসা পরিচালনা করে ইয়ং ও তাঁর দুই বড় ভাইকে বড় করেন। অর্থের টানাটানি থাকলেও পরিবার তাঁকে কখনো নিজেদের বঞ্চিত মনে করতে দেয়নি বলে জানান তিনি।   তবে ছোটবেলার সেই অভিজ্ঞতা অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে ইয়ংয়ের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছিল। তাঁর ও দুই ভাইয়ের প্রধান লক্ষ্য ছিল এমন একটি অবস্থানে পৌঁছানো, যেখানে ভবিষ্যতে অর্থ নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না। স্কুলে গণিতে ভালো হওয়ায় বড় ভাইয়ের পরামর্শে সফটওয়্যার প্রকৌশলকে পেশা হিসেবে বেছে নেন ইয়ং। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন থেকে অ্যাপ্লাইড অ্যান্ড কম্পিউটেশনাল ম্যাথমেটিক্যাল সায়েন্সেস বিষয়ে স্নাতক শেষ করার আগেই নিউইয়র্কে প্রথম চাকরি পেয়ে যান তিনি।   চাকরির শুরুতেই বেতন ও বোনাস মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পারিশ্রমিক পেয়ে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন ইয়ং। ছোটবেলা থেকে সীমিত অর্থের মধ্যে বেড়ে ওঠা তাঁর কাছে এই অঙ্কটি ছিল অনেক বড়। পরবর্তী কয়েক বছরে তাঁর পারিশ্রমিক ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে বছরে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয় করছিলেন তিনি। কিন্তু আয় বাড়লেও কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়েনি। বরং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনের কাজ থেকে নিজের বিচ্ছিন্নতা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকে।   ২০২৩ সাল নাগাদ চাকরি ছাড়ার প্রস্তুতি শুরু করেন ইয়ং। তিনি রাইড শেয়ারিং, বিভিন্ন স্ট্রিমিং সেবা ও ভ্রমণের মতো খরচ কমিয়ে সঞ্চয় বাড়াতে থাকেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল এমন একটি আর্থিক নিরাপত্তা তৈরি করা, যাতে চাকরি ছেড়ে নতুন কিছু শুরু করলেও তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে না হয়। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে বন্ধুদের সঙ্গে নিউইয়র্কে ম্যাচা পান করার সময় তাঁর মনে হয়, শহরে ভালো মানের ম্যাচার দোকান খুব বেশি নেই। বাড়িতে বহু বছর ধরে ম্যাচা তৈরি করার অভিজ্ঞতা থেকে নিজের তৈরি পানীয় নিয়েও তাঁর আত্মবিশ্বাস ছিল।   নিজের ক্যাফে খোলার চিন্তা মাথায় এলেও সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছাড়েননি ইয়ং। বরং নতুন ব্যবসার প্রস্তুতি নিতে নিতে আগের চাকরিও চালিয়ে যান। ২০২৪ সালের শরতে ম্যাচা সম্পর্কে আরও জানতে জাপানে ভ্রমণ করেন তিনি। সেখানে ম্যাচা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রস্তুত ও পরিবেশনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা নেন। নিউইয়র্কে ফিরে ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত স্টারবাকসে কাজ শুরু করেন, যাতে ক্যাফে পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। এরপর সকালেই সফটওয়্যার প্রকৌশলীর চাকরির বৈঠকে যোগ দিতেন তিনি।   ইয়ং বলেন, পাঁচ বছর কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করার পর শারীরিকভাবে সক্রিয় এমন একটি নতুন কাজ শেখার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে আনন্দের ছিল। ২০২৫ সালের শুরুতে তিনি প্রযুক্তি খাতের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হন। ততদিনে তাঁর সঞ্চয়ের পরিমাণ ২ লাখ ডলারের বেশি হয়ে গিয়েছিল। এই অর্থ তিনি আগে বাড়ি কেনা বা উচ্চশিক্ষার মতো প্রচলিত কাজে ব্যবহার করার কথা ভেবেছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিজের স্বপ্নের ক্যাফে চালু করতে সেই সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ বিনিয়োগ করেন।   ক্যাফে খোলার কাজ অবশ্য প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কঠিন ছিল। ম্যানহাটনের একটি খালি দোকানকে ক্যাফেতে রূপ দিতে গিয়ে ঠিকাদারদের কাজের দেরি, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ শেষ না করা এবং শেষ মুহূর্তের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হন ইয়ং। উদ্বোধনের আগের রাতেও ক্যাফেতে পানি ঢুকে যায়। বন্ধুদের সহায়তায় তাঁকে রাতেই পানি পরিষ্কার করতে হয়। কেউ আসবাবপত্র জোড়া লাগিয়েছেন, কেউ পর্দা টাঙিয়েছেন, আবার কেউ দোকান গোছানোর কাজে সহযোগিতা করেছেন।   শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের জুলাইয়ে চালু হয় ম্যাচা হাউস। শুরুর দিকে ক্যাফের প্রায় প্রতিটি কাজ নিজেই করতেন ইয়ং। দিনের বড় একটি অংশ দোকানে কাটত এবং প্রায় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হতো তাঁকে। প্রতিটি পানীয়ও নিজ হাতে ম্যাচা দিয়ে তৈরি করতেন তিনি। কিছুদিন পর বুঝতে পারেন, একজন মানুষের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে এভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাঁর ভাই কয়েক সপ্তাহ সহযোগিতা করার পর ধীরে ধীরে কর্মী নিয়োগ শুরু করেন ইয়ং। বর্তমানে ক্যাফেটিতে প্রায় ১০ জন খণ্ডকালীন কর্মী কাজ করছেন।   ম্যাচা হাউসের ক্ষেত্রে ইয়ং পানীয়ের মান ও প্রস্তুত প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কফি সংস্কৃতিতে যে ধরনের যত্ন ও নির্ভুলতা দেখা যায়, ম্যাচার ক্ষেত্রেও একই ধরনের মান বজায় রাখতে চেয়েছেন তিনি। সীমিত সংখ্যক ম্যাচা পানীয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় পণ্যের মজুত ও পরিচালন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। ব্যবসা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি গোছানো হলেও ইয়ংয়ের কর্মঘণ্টা এখনও দীর্ঘ। তবে নিজের তৈরি ব্যবসাকে ধীরে ধীরে দাঁড় করানোর সুযোগ তাঁকে আগের চাকরির চেয়ে বেশি সন্তুষ্ট করছে।   ম্যাচা হাউসে নিজের জন্য আগের মতো বড় অঙ্কের আয় রাখছেন না ইয়ং। ২০২৬ সালে তাঁর ব্যক্তিগত আয় প্রায় ৩৩ হাজার ডলার হওয়ার কথা, যেখানে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে আয় ছিল প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ব্যবসার অর্থের একটি বড় অংশ তিনি আবার কর্মী নিয়োগ, পরিচালনা ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করছেন। সিএনবিসি মেক ইটের পর্যালোচনা করা নথি অনুযায়ী, শীতের মাসগুলোতে ব্যবসাটি প্রায় লাভ-ক্ষতির সমতায় ছিল। তবে প্রথম বছরেই ক্যাফেটি লাভজনক হওয়ার পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইয়ং।   ক্যাফে চালুর আগে নিজের জীবনযাত্রার খরচও কমিয়ে আনেন তিনি। ম্যানহাটনে মাসে ৩ হাজার ৩০০ ডলার ভাড়ার স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে একজন রুমমেটের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। ২০২৬ সালের মার্চে তাঁর মোট ব্যক্তিগত খরচ ছিল ২ হাজার ২৯১ ডলার। এর মধ্যে বাসাভাড়ায় তাঁর অংশ ছিল ১ হাজার ৭৫০ ডলার, খাবারে ২৫৮ ডলার এবং যাতায়াতে ১১২ ডলার। বাকি অর্থ তিনি প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি পণ্য, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, ফোন ও কয়েকটি সাবস্ক্রিপশন বাবদ ব্যয় করেন।   ইয়ংয়ের কোনো শিক্ষাঋণ, গাড়ির কিস্তি বা ক্রেডিট কার্ডের ঋণ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রায় ২৫ হাজার ডলারের শিক্ষাঋণ নিয়েছিলেন তিনি। তবে ইন্টার্নশিপের আয় দিয়ে পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই ঋণের বড় অংশ পরিশোধ করেন এবং চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর বাকি অর্থও শোধ করেন। বর্তমানে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যয়ের বড় অংশই প্রয়োজনীয় খাতে সীমাবদ্ধ। ব্যবসায় সময় দেওয়ার কারণে ভ্রমণ ও বিনোদনের মতো অতিরিক্ত খরচও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।   চাকরি ছাড়ার পর আয় ৮৭ শতাংশ কমে গেলেও সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই ইয়ংয়ের। তাঁর মতে, এখন তাঁর জীবনের মূল বিষয় কত টাকা আয় করছেন তা নয়, বরং প্রতিদিন কী করছেন সেটি। ম্যাচা তৈরি করা, ক্যাফে পরিচালনা করা এবং নিজের হাতে গড়ে তোলা একটি ব্যবসাকে এগিয়ে নেওয়ার মধ্যে তিনি এমন এক ধরনের তৃপ্তি পাচ্ছেন, যা আগের চাকরিতে পাননি। অর্থের পরিবর্তে কাজের অর্থবোধই এখন তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   ম্যাচা হাউস চালুর প্রায় এক বছর পর ব্যবসাটি আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাভাবিক ও গোছানোভাবে চলছে। ইয়ং এখন আর প্রতিদিন সকালে নিজে দোকান খুলতে বাধ্য নন এবং কর্মীদের একটি দল নিয়মিত কার্যক্রম সামলাচ্ছে। তারপরও ব্যবসাটি তাঁর জীবনের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে। ইয়ংয়ের কাছে সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো প্রথম বছরটি পার করতে পারা এবং ভবিষ্যতে আরও এক বছর ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি করা। তাঁর ভাষায়, জীবনের লক্ষ্য এখন শুধু বেশি অর্থ উপার্জন নয়, বরং প্রতিদিন এমন কিছু করা, যার সঙ্গে নিজের উদ্দেশ্য ও অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়।   সূত্র: সিএনবিসি মেক ইট, ইয়াহু ফাইন্যান্স

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ২১:৪৪
জীবন বাজি রেখে বিমান রক্ষা, ভারতীয় পাইলটকে বিশেষ সম্মান দিতে চান নেতানিয়াহু
জীবন বাজি রেখে বিমান রক্ষা, ভারতীয় পাইলটকে বিশেষ সম্মান দিতে চান নেতানিয়াহু

আকাশে উড়ন্ত বিমানে সহ-পাইলটের হামলার শিকার হয়েও ককপিটের দরজা খুলে যাত্রীদের সহায়তায় সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা ঠেকানো ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে ইসরায়েলে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁকে ‘সত্যিকারের নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করে আগামী বছরের ইসরায়েলি স্বাধীনতা দিবসের জাতীয় অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক মশাল জ্বালানোর আমন্ত্রণও জানিয়েছেন তিনি।   ৩ অক্টোবর নেতানিয়াহু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন মচ্ছরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ভারত ও ইসরায়েলের সাহসী জনগণের পাশাপাশি পুরো বিশ্বের কাছেই মচ্ছর একজন নায়ক। নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে ওই ফোনালাপের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। নেতানিয়াহু জানান, মচ্ছর ও নরেন্দ্র মোদিকে আগামী মে মাসে ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের জাতীয় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে দেখতে চান তিনি। অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বালনের দায়িত্ব সাধারণত ইসরায়েলি নাগরিকদের দেওয়া হলেও মচ্ছরের সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই বিশেষ সম্মান দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।   ঘটনাটি ঘটে ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে। উড়োজাহাজটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। মাঝ আকাশে ওমানের নাগরিক সহ-পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেন মচ্ছরের ওপর হামলা চালান। মচ্ছর গুরুতর আহত হলেও শেষ পর্যন্ত ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও ক্রুরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে।   হামলার বিষয়ে মচ্ছর নেতানিয়াহুকে জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে সহ-পাইলট নামাজ পড়ার জন্য সময় চেয়েছিলেন। বিষয়টি তাঁর কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়নি। সহ-পাইলট প্রার্থনায় ব্যস্ত থাকায় তিনি সম্মান দেখিয়ে সামনে তাকিয়ে ছিলেন এবং পেছনে কী ঘটছে তা খেয়াল করেননি। মচ্ছরের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মিনিট পর হঠাৎ তাঁর মাথার পেছনে প্রচণ্ড আঘাত লাগে। প্রথমে তিনি মনে করেছিলেন, সম্ভবত বিমানের কোনো গুরুতর সমস্যা হয়েছে। কিন্তু পরপর আরও আঘাত আসতে থাকায় তিনি বুঝতে পারেন, বিমানের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং ককপিটে থাকা সহ-পাইলটই তাঁকে আক্রমণ করছেন।   সংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্তকারীরা পরে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সহ-পাইলট ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে মচ্ছরের ওপর হামলা করেছিলেন। তবে হামলার উদ্দেশ্য ও এর পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আহত অবস্থায় মচ্ছর ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। তাঁর স্মৃতি পুরোপুরি পরিষ্কার না থাকলেও তিনি জানান, একপর্যায়ে দরজা খুলতে সক্ষম হলেও সহ-পাইলট সেটি আবার বন্ধ করে দেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, দরজা না খুলতে পারলে নিজের পাশাপাশি বিমানের অন্য সবার জীবনও চরম ঝুঁকিতে পড়বে।   মচ্ছর নেতানিয়াহুকে বলেন, তাঁর মনে হয়েছিল এটিই হয়তো বাঁচার শেষ সুযোগ। নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে তিনি আবার দরজার দিকে এগিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত সেটি খুলতে সক্ষম হন। দরজার বাইরে থাকা যাত্রী ও ক্রুরা তখন দ্রুত ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। এই ঘটনার সময় বিমানটি হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে নিচের দিকে নেমে যায়। পরে যাত্রী ও ক্রুদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অন্য পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুকে অবতরণ করান। ঘটনাটিতে মচ্ছর গুরুতর আহত হন এবং তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।   মচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। একই ঘটনায় ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারাও ভারতীয় পাইলটের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম হাসপাতালে মচ্ছরের সঙ্গে দেখা করে তাঁর সাহসিকতার জন্য প্রশংসা করেন বলে খালিজ টাইমস জানিয়েছে। এদিকে ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সহ-পাইলট কীভাবে এই ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেন এবং তাঁর অতীত সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো সতর্কতামূলক তথ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে তাঁর অতীত, হামলার উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে তদন্ত করছে।   ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার পূর্ণ উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। তবে গুরুতর আহত অবস্থায় ক্যাপ্টেন মচ্ছরের ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তই যাত্রী ও ক্রুদের দ্রুত হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করে এবং সম্ভাব্য বড় বিপর্যয় এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   সূত্র: এএফপি

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:৮
যুক্তরাষ্ট্রে বিবাহবিচ্ছেদের পরিবর্তিত আইনি কাঠামো নিয়ে সতর্ক করেছেন নিউইয়র্কের পারিবারিক আইনজীবী জ্যাকলিন হারুনিয়ান। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে বিবাহবিচ্ছেদের নিয়ম বদলাচ্ছে, গৃহিণীদের জন্য আইনজীবীর সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রে বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত কিছু ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন নিউইয়র্কের পারিবারিক আইনজীবী জ্যাকলিন হারুনিয়ান। বিশেষ করে যেসব স্বামী বা স্ত্রী সংসার ও সন্তান পালনের জন্য চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি সঙ্গীর আয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন, বিচ্ছেদের পর তাদের আর্থিক নিরাপত্তা আগের মতো নাও থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।   নিউইয়র্কভিত্তিক আইনজীবী হারুনিয়ান পারিবারিক আইন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তিনি নিউজউইককে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিবাহবিচ্ছেদের কাঠামো ধীরে ধীরে এমন একটি ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে, যেখানে প্রত্যেক স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা অর্থনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে একজন সঙ্গী আয় করেন আর অন্যজন ঘর ও সন্তান সামলান, এমন পুরোনো পারিবারিক কাঠামো থেকে বিচ্ছেদ হলে আগের মতো দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুরক্ষা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।   হারুনিয়ানের ভাষায়, “আইন বদলাচ্ছে। যারা আয় করেন, তারা তাদের অর্থের বেশি অংশ নিজেদের কাছে রাখতে পারবেন, আর নির্ভরশীল সঙ্গী সহায়তা পেলেও তা হয়তো স্বল্প সময়ের জন্য।” তাঁর মতে, গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের পারিবারিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আগে অনেক পরিবারে স্বামী ছিলেন প্রধান উপার্জনকারী এবং স্ত্রী সন্তান লালন-পালন ও ঘরের দায়িত্ব সামলাতেন। বিচ্ছেদের পর আদালত অনেক ক্ষেত্রে উপার্জন না করা সঙ্গীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভরণপোষণ ও সম্পদের অংশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করত।   কিন্তু এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। বাবারা সন্তান পালনে আগের তুলনায় বেশি সক্রিয় হচ্ছেন এবং যৌথ হেফাজত বা সন্তান পালনের দায়িত্ব সমানভাবে ভাগ করার দাবি করছেন। একই সময়ে নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ও আয়ও বেড়েছে। ফলে একসময় যে আর্থিক সমীকরণে স্বামী উপার্জন করতেন এবং স্ত্রী নির্ভরশীল ছিলেন, তা এখন আর সব পরিবারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   হারুনিয়ানের দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে কর্মজীবন থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকা স্বামী বা স্ত্রী, বিশেষ করে গৃহিণীরা, বিচ্ছেদের পর আগের তুলনায় কম ভরণপোষণ, কম আইনি খরচ এবং বৈবাহিক সম্পদের ক্ষেত্রে প্রত্যাশার চেয়ে কম অংশ পেতে পারেন। তবে এ বিষয়টি পুরো যুক্তরাষ্ট্রে একইভাবে কার্যকর হচ্ছে এমন ধারণা করা ঠিক নয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে বিবাহবিচ্ছেদের আইন মূলত অঙ্গরাজ্যভিত্তিক। টেক্সাসের পারিবারিক আইনজীবী হান্না হেমব্রি বেল নিউজউইককে বলেন, “একটি মাত্র আমেরিকান বিবাহবিচ্ছেদ ব্যবস্থা নেই।” তাঁর মতে, নিউইয়র্কে যে ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, টেক্সাস বা অন্য অঙ্গরাজ্যে তার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে।   টেক্সাসে বিবাহবিচ্ছেদের পর আদালতের মাধ্যমে স্বামী বা স্ত্রীকে দেওয়া আর্থিক সহায়তা সাধারণত সীমিত। বেলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে আদালত-নির্ধারিত ভরণপোষণ দেওয়া হলেও তা সাধারণত প্রয়োজন মেটানোর জন্য সীমিত সময়ের ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। টেক্সাসে এই ধরনের সহায়তার পরিমাণও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে।   একই সঙ্গে টেক্সাস ‘কমিউনিটি প্রপার্টি’ নীতির আওতায় পড়ে। অর্থাৎ বিবাহ চলাকালে উপার্জিত আয় ও অর্জিত সম্পদ সাধারণভাবে বৈবাহিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, কে সেই অর্থ উপার্জন করেছেন তার ওপর বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে না। ফলে উচ্চ আয়ের স্বামী বা স্ত্রী চাইলেই বিবাহকালীন সব সম্পদ নিজের কাছে রেখে দিতে পারবেন, এমন ধারণাও সঠিক নয়। তবে দুই আইনজীবী একটি বিষয়ে একমত, আর তা হলো আর্থিক নির্ভরশীলতা বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একজন ব্যক্তি যদি সন্তান লালন-পালন বা সংসারের দায়িত্ব পালনের জন্য দীর্ঘ সময় চাকরি বা পেশা থেকে দূরে থাকেন, বিচ্ছেদের পর নিজের আয় তৈরি করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।   হারুনিয়ান বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন তাদের নিয়ে, যারা সন্তান বড় করার জন্য পুরোপুরি কর্মজীবন ছেড়ে দেন। তাঁর মতে, সংসার চলাকালে একটি পরিবারে একজনের আয় দিয়ে অন্যজনের জীবনযাপন স্বাভাবিকভাবেই চলতে পারে। কিন্তু বিবাহবিচ্ছেদের পর সেই একই আর্থিক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন বজায় থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তিনি বলেন, “আজ আপনি হয়তো বাজার, খাবার ও জীবনযাত্রার খরচ বহন করতে পারছেন। কিন্তু বিচ্ছেদ হয়ে গেলে দীর্ঘ সময় একই মাত্রার আর্থিক সহায়তা পাওয়া নাও যেতে পারে।”   হারুনিয়ানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হলো, “আজীবন ভরণপোষণ” পাওয়ার ধারণাটিও অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত নয়। গৃহিণী বা গৃহস্বামী বিচ্ছেদের পর ভরণপোষণ পেতে পারেন, কিন্তু সেটিকে নিশ্চিত অধিকার হিসেবে ধরে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। এ কারণে বিচ্ছেদের কথা ভাবার আগেই প্রত্যেক সঙ্গীকে নিজের আইনি অধিকার, আর্থিক দায়িত্ব এবং সন্তানদের হেফাজত নিয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই আইনজীবী।   বিবাহের আগে করা চুক্তি বা প্রিনাপচুয়াল এগ্রিমেন্ট নিয়েও মানুষের মধ্যে কিছু ভুল ধারণা রয়েছে বলে মনে করেন হারুনিয়ান। তাঁর মতে, এ ধরনের চুক্তি মূলত বিবাহের আগে থাকা আলাদা সম্পদ, উত্তরাধিকার এবং নির্দিষ্ট আর্থিক অধিকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটিকে গৃহে থেকে সন্তান লালন-পালন করা সঙ্গীর জন্য পূর্ণাঙ্গ আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, ব্যবসার মালিকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিবাহের সময় কোনো ব্যবসা থেকে একজন সঙ্গী বিপুল আয় করলেও বিচ্ছেদের পর সেই ব্যবসা ও আয় থেকে অন্য সঙ্গীর প্রত্যাশা আগের মতো নাও হতে পারে। অবশ্য কোন সম্পদ বৈবাহিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং কে কতটা অংশ পাবেন, তা সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আইন ও মামলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।   তবে হারুনিয়ানের বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের সব পরিবারের জন্য একই নিয়ম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আইনজীবী হান্না হেমব্রি বেলের বক্তব্যও সে বিষয়টি স্পষ্ট করে। অঙ্গরাজ্যভেদে ভরণপোষণ, সম্পদ বণ্টন, সন্তানের হেফাজত এবং বিচ্ছেদের পর আর্থিক সহায়তার নিয়মে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, শুধু সামাজিক ধারণা বা পরিচিত কারও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে বিচ্ছেদের আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের পারিবারিক আইন সম্পর্কে পেশাদার পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যিনি দীর্ঘদিন কর্মজীবনের বাইরে থেকে সন্তান ও সংসারের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁর জন্য নিজের আর্থিক অবস্থান, সম্পদ, আয় এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিষয়টি আগে থেকেই বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারব্যবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর ভূমিকা যেমন বদলাচ্ছে, তেমনি বদলাচ্ছে সন্তান পালনের ধরন, যৌথ হেফাজতের প্রবণতা এবং বিচ্ছেদের পর আর্থিক সম্পর্কের কাঠামো। ফলে বহু বছর ধরে প্রচলিত ‘একজন আয় করবেন, অন্যজন সংসার সামলাবেন এবং বিচ্ছেদের পর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা পাবেন’ ধরনের সরল ধারণা এখন আর সব ক্ষেত্রে বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।   সূত্র: নিউজউইক

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ২০:৫৬
ন্যাশভিলের ওই মাকে মে মাসে আইসিই আটক করার পর লুইজিয়ানার একটি বন্দিশালায় রাখা হয়েছিল। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর ডিটেনশন ক্যাম্পে তিন মাস, অবশেষে সন্তানদের কাছে ফিরলেন অভিবাসী মা

লুইজিয়ানার একটি অভিবাসী আটক কেন্দ্র (ডিটেনশন সেন্টার) থেকে মুক্তি পাওয়ার পর অবশেষে নিজের দুই সন্তানের কাছে ফিরেছেন গুয়াতেমালা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী এক মা। গত ১৯ মে সকালে সন্তানদের নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে নিজ বাসা থেকে তাঁকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। দীর্ঘ প্রায় তিন মাস পর এক প্রতিবেশীর বাসায় সন্তানদের সঙ্গে তাঁর পুনর্মিলন ঘটে। তবে এই দীর্ঘ বিচ্ছেদে ওই মায়ের বুকের দুধ শুকিয়ে গেছে, ফলে তিনি আর তাঁর সন্তানদের স্তন্যপান করাতে পারছেন না। প্রতিশোধের ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই নারী জানিয়েছেন, তাঁর দুই বছর বয়সী বড় মেয়েটির ডাউন সিনড্রোম রয়েছে এবং সে ভেবেছিল তার মা তাকে চিরতরে ছেড়ে চলে গেছে। অন্যদিকে, এক বছর বয়সী ছোট শিশুটি মাকে দেখেই চিনতে পেরেছিল বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।   সন্তানদের কাছে ফিরে আসার এই আবেগঘন মুহূর্তটি ওই মায়ের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। তিনি বলেন, "আমার মনে হচ্ছিল আমি স্বপ্ন দেখছি। আমার মন আচ্ছন্ন হয়ে ছিল, কিন্তু যখনই আমি তাদের জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলাম এবং আদর করছিলাম, তখনও মনে হচ্ছিল এটা সত্যি নয়।" গত ১৪ আগস্ট বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনের হস্তক্ষেপে সাউথ লুইজিয়ানা আইসিই প্রসেসিং সেন্টার থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে তাঁর সঙ্গী এখনো ওকলাহোমার একটি ইমিগ্রেশন বন্দিশালায় আটক রয়েছেন।   এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের (ডিএইচএস) ইনস্পেক্টর জেনারেলের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা, সদ্য মা হওয়া এবং স্তন্যদানকারী নারীদের আটক না করার বিষয়ে আইসিই-এর নিজস্ব যে নীতিমালা রয়েছে, সংস্থাটি তা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে। নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে যে, কেবল জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বা ব্যতিক্রমী কোনো পরিস্থিতি ছাড়া এ ধরনের নারীদের আটক করা যাবে না। ওই নারীর কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও কেবল তাঁর সঙ্গীর বিরুদ্ধে থাকা পরোয়ানা তামিল করতে গিয়ে তাঁকেও আটক করা হয়। টেনেসি ইমিগ্র্যান্ট অ্যান্ড রিফিউজি রাইটস কোয়ালিশন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, কেনেডি হিউম্যান রাইটস সেন্টারসহ বেশ কয়েকটি প্রথম সারির সংগঠন এই অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছে।   দেশজুড়ে অভিবাসী ও প্রজনন অধিকার কর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে, আইসিই নিয়মিতভাবেই তাদের এই নীতিমালা লঙ্ঘন করছে। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে এই নিয়ম বাতিল করা হলেও ২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসন তা পুনরায় বহাল করে, যা বর্তমানেও কার্যকর রয়েছে। ডিএইচএস-এর এক মুখপাত্র এই অভিযোগের সরাসরি উত্তর না দিয়ে পূর্বের দেওয়া একটি বিবৃতিই পুনরায় পাঠিয়েছেন, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে স্তন্যদানকারী বা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের আটকের ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং আটককৃতদের যথাযথ চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই পরিবারের ওপর যে অমানবিক ও বেআইনি আঘাত হানা হয়েছে, তার মানসিক ক্ষত তাদের বছরের পর বছর বয়ে বেড়াতে হবে।   সন্তানদের কাছে ফিরে স্বস্তি পেলেও বর্তমানে চরম আর্থিক ও মানসিক অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন ওই মা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আটক থাকায় এবং নিজে গাড়ি চালাতে না পারায় তাঁর বড় মেয়ের চিকিৎসা ও থেরাপি ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে এক বন্ধুর ওপর নির্ভরশীল এই নারী বলেন, "আমার মনে হচ্ছে সব দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমি নিজেকে ফাঁদে আটকে পড়া অনুভব করছি এবং কোনো আলোর দেখা পাচ্ছি না।" তবুও ঈশ্বরের ওপর ভরসা রেখে তিনি বলেন, "আমরা সন্তানদের একটি সুন্দর জীবন দেওয়ার আশায় কঠোর পরিশ্রম করতে এই দেশে এসেছিলাম, নিজেদের দেশে যে কষ্ট পেয়েছি তার চেয়ে আরও বেশি কষ্ট ভোগ করার জন্য নয়।"

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ২০:২৯
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় পোষা প্রাণীর চিকিৎসার অনুদান চুরি করে গ্রেপ্তার মার্কিন নারী
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় পোষা প্রাণীর চিকিৎসার অনুদান চুরি করে গ্রেপ্তার মার্কিন নারী

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ভেটেরিনারি ক্লিনিক (পশুচিকিৎসালয়) থেকে শত শত ডলারসহ অনুদানের একটি বাক্স চুরির অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চুরির পরদিনই ওই নারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। 'পেটভেট৩৬৫ সাউথ হিলস' নামের ওই ক্লিনিক থেকে চুরি যাওয়া বাক্সটিতে 'ডেইজি ফান্ড'-এর অনুদান সংগ্রহ করা হচ্ছিল, যা মূলত আর্থিক সংকটে থাকা মালিকদের পোষা প্রাণীদের চিকিৎসায় সহায়তা করে থাকে।   গত ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) প্লেজেন্ট হিলস এলাকার ওই ক্লিনিকে এই চুরির ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত ওই নারী কাউন্টারের কাছে এসে অনুদানের বাক্সটি হাতে নেন। এরপর বাক্সটির গায়ে লাগানো ডেইজি ফান্ডের ব্যাখ্যামূলক ব্যানারটি খুলে একপাশে সরিয়ে রাখেন এবং বাক্সটি নিজের জ্যাকেটের নিচে লুকিয়ে ক্লিনিক থেকে বীরদর্পে বেরিয়ে যান।   ক্লিনিকের অন্যতম মালিক ডা. অ্যাশলে স্মিথ-মিলার জানান, চুরি যাওয়া বাক্সটিতে আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ ডলার ছিল। বাক্স থেকে ব্যানারটি সরিয়ে ফেলার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এর মানে হলো ওই নারী খুব ভালো করেই জানতেন যে তিনি কিসের টাকা চুরি করছেন। এটি আক্ষরিক অর্থেই পেটে লাথি মারার মতো একটি জঘন্য ও ন্যক্কারজনক কাজ।"   তবে এই চোরকে ধরতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ঘটনার পরদিন প্লেজেন্ট হিলস এলাকার রাস্তায় এক নারীকে ভিক্ষা করতে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয় এবং তারা তাকে ক্লিনিক চুরির সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে। সিবিএস পিটসবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওই নারীর বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে সম্পদ চুরির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।   চুরির ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অপরাধীকে ধরতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে ফুটেজটি শেয়ার করেছিল, যদিও তারা তখনো জানত না যে পুলিশ ইতোমধ্যে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। চুরি যাওয়া টাকা এখনো উদ্ধার না হলেও ডা. স্মিথ-মিলার আশা প্রকাশ করেছেন যে, অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার মাধ্যমে ডেইজি ফান্ডের বিষয়টি আরও বেশি মানুষের নজরে আসবে এবং অবলা প্রাণীদের চিকিৎসায় নতুন করে আরও অনুদান জমা পড়বে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ২০:১০
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় ব্লক পার্টিতে নির্বিচার গোলাগুলি, নিহত ২, আহত ৩৫
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় ব্লক পার্টিতে নির্বিচার গোলাগুলি, নিহত ২, আহত ৩৫

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি ব্লক পার্টিতে ভয়াবহ ও নির্বিচার গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন। দুলি কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, আটলান্টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা দক্ষিণের ভিয়েনা শহরের পাইন স্ট্রিটে রাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। একটি উৎসবমুখর জমায়েত মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে।   দুলি কাউন্টির শেরিফ ক্রেইগ পিভি নিহত দুজনকে শনাক্ত করেছেন। তারা হলেন ২১ বছর বয়সী জ্যাকুভিয়ন জ্যাকসন এবং ২৩ বছর বয়সী ম্যাকক্যালেব জ্যাকসন। এছাড়া আহত ৩৫ জনের বয়স ১৪ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল থেকে শুরু করে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে।   শেরিফ পিভি জানান, সপ্তাহান্তের এই ব্লক পার্টিতে প্রায় এক হাজার মানুষ আনন্দে মেতে উঠেছিলেন, কিন্তু হঠাৎ করেই গুলির শব্দে সেখানে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।   শেরিফ আরও জানান, গোলাগুলি শুরু হওয়ার সময় ব্লক পার্টির দুই প্রান্তেই পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন। গুলির শব্দ শোনার পরপরই আতঙ্কিত জনতার ভিড় ঠেলে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত হতাহতদের কাছে পৌঁছান, যদিও সে সময় আশেপাশে আরও গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল।   তবে এই ভয়াবহ হামলার পেছনে কী কারণ ছিল বা এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি। অপরাধীদের ধরতে এবং ঘটনার পেছনের কারণ জানতে জোর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৯:৪১
‘কিডনি বিক্রি করেও তোকে ডাক্তার বানাব’, বাবার স্বপ্ন পূরণ করে তুরস্কের খ্যাতিমান চিকিৎসক ছেলে
‘কিডনি বিক্রি করেও তোকে ডাক্তার বানাব’, বাবার স্বপ্ন পূরণ করে তুরস্কের খ্যাতিমান চিকিৎসক ছেলে

গুরুতর অসুস্থ বাবার জীবন বাঁচাতে লড়াই করছেন এক চিকিৎসক সন্তান। ৬০ বছর বয়সী বাবা হৃদরোগ ও কিডনি বিকল হয়ে ধুঁকছিলেন। নেপালে চিকিৎসা সম্ভব না হওয়ায় তাঁকে তুরস্কে নিয়ে যান ছেলে। টানা ২৫ দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে চোখ খোলেন বাবা।   ছেলেকে দেখে হাসিমুখে বলেন, "তুই আমাকে বাঁচিয়ে নিলি।" এই চিকিৎসক ছেলের নাম ডা. বিনোদ সাহ। বাবার জীবন বাঁচানোর এই মুহূর্তটি তাঁর কাছে অন্য যেকোনো সফল চিকিৎসার চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা এই মানুষটিই একসময় পড়াশোনায় অমনোযোগী এক দুষ্টু ছেলেকে জোর করে চিকিৎসক বানিয়েছিলেন।   ডা. বিনোদ সাহের শৈশব কেটেছে নেপালের সিরাহা জেলার গোলবাজারে। বইপত্রের চেয়ে খেলাধুলা আর দুষ্টুমিতেই তাঁর বেশি আগ্রহ ছিল। কিন্তু তাঁর দরিদ্র বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে চিকিৎসক বানাবেন। বাবা ছেলেকে কড়া শাসনে রাখতেন, এমনকি পড়াশোনার জন্য তাঁকে বোর্ডিং স্কুলেও পাঠিয়েছিলেন।   কিন্তু স্বাধীনচেতা বিনোদ মাত্র দুই মাস পরেই সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। তবে বাবা হাল ছাড়েননি। তিনি বলেছিলেন, "প্রয়োজনে কিডনি বিক্রি করে দেব, তবু তোকে ডাক্তার বানাব।" বাবার এই অদম্য জেদ আর কঠোর শাসনই শেষ পর্যন্ত বিনোদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।   এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবার অকৃতকার্য হলেও বাবার উৎসাহে দ্বিতীয়বার মেধা তালিকায় ২৩তম স্থান অধিকার করে তুরস্কে পড়ার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি পান বিনোদ। কিন্তু সেখানে গিয়েও তাঁকে নতুন সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয়। ভাষা না জানা এবং আর্থিক সংকটের মাঝেও তিনি তুর্কি ভাষা শিখে নেন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে টানা তিন বছর নিজের ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করেন।   পরবর্তীতে শিশু চিকিৎসায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে তিনি তুরস্কের হ্যাসেটেপ ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেন এবং নবজাতক চিকিৎসায় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গবেষক হিসেবে স্বীকৃতি পান। ২০১৫ ও ২০২৪ সালে তুরস্ক সরকার তাঁকে 'বর্ষসেরা চিকিৎসক' সম্মাননায় ভূষিত করে।   চিকিৎসক হিসেবে অসংখ্য শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছেন ডা. বিনোদ। একবার টানা ৪৮ মিনিট সিপিআর দিয়ে এক নবজাতককে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন তিনি। বিদেশে তুমুল সফল হলেও মাতৃভূমি নেপালের প্রতি তাঁর টান কখনোই কমেনি।   নেপালের শিশুদের জন্য আধুনিক চিকিৎসার আশায় ২০১৬ সালে দেশে ফিরে তিনি গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে দেশের প্রথম পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) প্রতিষ্ঠা করেন। তবে নেপালের চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক হস্তক্ষেপের কারণে তিনি পরবর্তীতে পুনরায় তুরস্কে ফিরে যান এবং সেখানে একটি আধুনিক শিশু ক্লিনিক গড়ে তোলেন।   জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রায় ডা. বিনোদ সাহ প্রমাণ করেছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে যেকোনো বাধাই জয় করা সম্ভব। যে বছর তিনি তুরস্কে তাঁর বাবার প্রাণ বাঁচান, সে বছরই তিনি বর্ষসেরা চিকিৎসকের পুরস্কার নিচ্ছিলেন। হুইলচেয়ারে বসে সেই দৃশ্য দেখে তাঁর বাবা বলেছিলেন, "এখন মারা গেলেও আমার কোনো আক্ষেপ নেই।   আমার ছেলে আমাকে বাঁচিয়েছে, আমার স্বপ্ন আজ সত্যি হয়েছে।" দুষ্টু ছেলে থেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসক হয়ে ওঠার এই যাত্রাকে বিনোদ তাঁর বাবার প্রতিই উৎসর্গ করেন। তাঁর ভাষায়, "স্বপ্ন দেখার চোখগুলো ছিল আমার বাবার, আর সেই স্বপ্ন পূরণের পথে হাঁটার পা ছিল আমার।"

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৯:১৯
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ডিপোর্টেশন নীতির জেরে বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন হাজারো শিশু, বড় হচ্ছে অন্যের হাতে
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ডিপোর্টেশন নীতির জেরে বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন হাজারো শিশু, বড় হচ্ছে অন্যের হাতে

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী এস্তেলা দিয়াজের সকাল শুরু হয় দুই বছর বয়সী শিশু ইবারের ডাকে। ইবার এস্তেলার নিজের সন্তান নয়। শিশুটির মা-বাবাকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) ভেনেজুয়েলায় বিতাড়িত করার পর থেকে বাধ্য হয়ে তাকে নিজের কাছে রেখে লালনপালন করছেন এস্তেলা।   শিশুটির মা মার্লিনকে যখন আটক করা হয়, তখন তিনি তার সন্তানের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন, কিন্তু মার্কিন প্রশাসন সেই অনুরোধ রাখেনি। এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তড়িঘড়ি করে অভিবাসী বিতাড়ন কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রে এমন এক নতুন পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা ও অমানবিক সংকটের জন্ম দিচ্ছে।   ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মূলত সীমান্ত অতিক্রমের সময় শিশুদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা করা হতো। তবে বর্তমান প্রশাসনের অধীনে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বসবাসরত পরিবারগুলোকেও দেশ থেকে তাড়ানোর অংশ হিসেবে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে।   ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের তথ্যমতে, সম্প্রতি প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার শিশু এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে, যাদের ৭১ শতাংশই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। এর মধ্যে ৩৫ হাজারের বেশি শিশুর অবস্থা ইবারের মতো, যাদের কাছে বর্তমানে বাবা বা মায়ের কেউই নেই।   কেবল সংখ্যা পূরণের নির্মম এক প্রতিযোগিতার কারণে এই শিশুদের তাদের অপরিচিত কিংবা অস্থায়ী অভিভাবকদের কাছে রেখে বাবা-মায়েদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।   ইবারের মা মার্লিনকে মুদি দোকানে যাওয়ার পথে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই আটক করেছিল পুলিশ এবং পরে আইসিই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। অথচ তার কাছে কাজের অনুমতিপত্র ও আশ্রয়ের আবেদন ছিল। আটক অবস্থায় তিনি কর্মকর্তাদের কাছে বারবার আকুতি জানিয়েছিলেন যেন তাকে তার দুই সন্তানের সঙ্গে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।   কিন্তু টানা তিন মাস বন্দি রাখার পর তাকে একাই ভেনেজুয়েলায় ফেরত পাঠানো হয়। এদিকে ইবার এবং তার সাত বছর বয়সী বড় ভাই আইজ্যাককে পরিচিতদের কাছে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাতে হয়। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে এস্তেলা নামের ওই মার্কিন নাগরিকের কাছে তাদের আশ্রয় মেলে।   অভিবাসন আইন ও পারিবারিক আইনের এই জটিল ফাঁদে পড়ে শত শত পরিবার আজ দিশেহারা। আইনি সহায়তার অভাবে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে হেরে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা অযোগ্য বা ঝুঁকিপূর্ণ অভিভাবকদের হাতে পড়ছে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী মানসিক আঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।   ইবারের মতো মার্কিন নাগরিক শিশুদের ক্ষেত্রে ভিসা বা পাসপোর্ট করে অন্য দেশে বাবা-মায়ের কাছে পাঠানো আরও বেশি সময়সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়া। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এক চরম অনিশ্চয়তা ও ভয়াবহ মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে বড় হতে বাধ্য হচ্ছে বাবা-মা হারানো এই হাজারো অবুঝ শিশু।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৯:০
যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলেকে অনুসরণের অভিযোগে এফবিআইয়ের হাতে চীনা নারী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলেকে অনুসরণের অভিযোগে এফবিআইয়ের হাতে চীনা নারী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এলএএক্স) থেকে এক সন্দেহভাজন চীনা গুপ্তচরকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই। ওয়ানিং "হেদার" ঝাং নামের ওই নারীর বিরুদ্ধে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ছেলের ওপর নজরদারি চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।   গত রোববার চীনের সাংহাইগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার আরভিনে রিয়েল এস্টেট এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন ৩৪ বছর বয়সী এই নারী।   এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেসের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স স্কোয়াডের এক সদস্যের দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়েছে, ঝাং এবং তার এক সহযোগী গত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটনের সিয়াটলে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা তাইওয়ানের এক শীর্ষ কর্মকর্তার পরিবারের শহরতলির বাড়ির ছবি তোলেন ও ভিডিও করেন।   মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রমতে, নজরদারির মূল লক্ষ্যবস্তু ছিলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলে টিং-ইউ লাই। তিরিশোর্ধ্ব এই প্রকৌশলী যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে বহুজাতিক ডাচ ইলেকট্রনিকস কোম্পানি ফিলিপসে কর্মরত।   ৩ অক্টোবর দায়ের করা অভিযোগে এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট কেভিন হোল্ট উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে কোনো সম্ভাব্য সংঘাতে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীন এই ধরনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নিকটাত্মীয়দের অবস্থান, বাড়ি এবং গাড়ির ছবিগুলো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।   অভিযোগপত্রে এই গুপ্তচরবৃত্তির রোমাঞ্চকর কিছু তথ্যও উঠে এসেছে। জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঝাং লাস ভেগাস থেকে সিয়াটলে যান এবং একটি কালো রঙের গাড়ি ভাড়া করে লক্ষ্যবস্তুর বাড়ির দিকে রওনা দেন। প্রতিবেশীর সিকিউরিটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ওই দিন সন্ধ্যায় টিং-ইউ, তার স্ত্রী এবং তাদের সন্তান বাড়িতে পৌঁছালে ঝাং ও তার সহযোগী তাদের ভিডিও ধারণ করছিলেন।   ঝাংয়ের আইক্লাউড অ্যাকাউন্ট তল্লাশি করে চীনা মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাটের কিছু বার্তাও উদ্ধার করেছে এফবিআই। সেখানে দেখা যায়, ঝাং চীনা সরকারের এক কর্মকর্তাকে টেক্সট করে লিখছেন, "তাকে দেখেছি। অল্পবয়সী ছেলে। এটাই সেই তরুণ।" এরপর তিনি গাড়ির দুটি লাইসেন্স প্লেটের নম্বর পাঠিয়ে নিশ্চিত করেন যে তিনি ভিডিও রেকর্ড করছেন।   এফবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে পড়ার সময় এক সহপাঠীর মাধ্যমে চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঝাংয়ের পরিচয় হয়। পরে ২০২৫ সালের জুনে চীনের চাংশায় এক গোপন বৈঠকে তিনি নজরদারির এই মিশন গ্রহণ করেন।   এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত চীনা ভিন্নমতাবলম্বী এবং গণতন্ত্রপন্থীদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি ও হয়রানি করার দায়ে বেশ কয়েকজন চীনা এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন প্রশাসন। তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসা বেইজিংয়ের এমন নজরদারির ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৮:৩২
যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হা মলার আশঙ্কা, সব বোমারু বিমান ফিরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হা মলার আশঙ্কা, সব বোমারু বিমান ফিরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত রয়্যাল এয়ারফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার আশঙ্কায় সেখান থেকে নিজেদের সব বোমারু বিমান প্রত্যাহার করে নিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী। রবিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছেন যে, ওই ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা মার্কিন বোমারু বিমানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   পেন্টাগনের এক মুখপাত্র জানান, অভিযানিক নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক গতিবিধির তথ্য নিশ্চিত করা না গেলেও, ফেয়ারফোর্ডে থাকা সব বোমারু বিমান ইতিমধ্যে নিজ ঘাঁটিতে ফিরে গেছে।   রবিবার ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে অন্তত ১০টি বি-১ বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে উড়াল দেয়। এর মধ্যে কয়েকটি বিমান নিয়মিত রোটেশনের অংশ হিসেবে মাত্র এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাজ্যে এসেছিল। এত দ্রুততম সময়ে বিমানগুলো প্রত্যাহারের ঘটনাই প্রমাণ করে যে, হুমকিটিকে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।   দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন কিছু গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই দ্রুত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, তিন সপ্তাহ আগের একটি নিরাপত্তা সতর্কতার অংশ হিসেবেই গত ২৪ ঘণ্টায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় কমান্ডারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।   গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে একটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনার পর, সেন্ট্রাল লন্ডন থেকে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত মোট ছয়জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার পর জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।   ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার সঙ্গে তেহরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুললেও ইরান তা সরাসরি অস্বীকার করেছে। লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ঘাঁটিটি কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অভিযানে মার্কিন বোমারু বিমান চলাচলের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।   ফেয়ারফোর্ড থেকে বোমারু বিমান প্রত্যাহার করা হলেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি বজায় রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি মোতায়েন করা বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট এবং ইউএসএস ম্যালকিন আইল্যান্ড উভচর যুদ্ধজাহাজ বহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোচ্ছে। সাত হাজারের বেশি নৌসেনা ও দুই হাজার মেরিন সেনাসহ এই বিশাল বহরটি অঞ্চলটিতে পৌঁছালে চলতি অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা তিনে পৌঁছাতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৮:৪
ইয়েমেনে হুতিদের ঠেকাতে সৌদি-সমর্থিত সরকারকে পাকিস্তানের বিপুল অ স্ত্র সহায়তা
ইয়েমেনে হুতিদের ঠেকাতে সৌদি-সমর্থিত সরকারকে পাকিস্তানের বিপুল অ স্ত্র সহায়তা

ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ঠেকাতে এবং হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান। গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে চারটি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ বোঝাই করে এই অস্ত্রের চালান পাঠায় ইসলামাবাদ।   শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা ইয়েমেনের চলমান বহুজাতিক সংঘাতে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাকিস্তানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই চালানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টারাও সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইয়েমেনে অবস্থান করে সরকারি সেনাদের সহায়তা করছেন।   হুতিদের লাগাতার হামলা মোকাবিলা এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ খর্ব করতে সৌদি আরব বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন কয়েকজন পশ্চিমা ও আরব কর্মকর্তা। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের তাইজ শহরের আশপাশে তীব্র লড়াই চলছে।   বৃহস্পতিবার হুতিরা তাইজ থেকে এডেনগামী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করে দিয়েছে। তাইজ শহরটি পুরোপুরি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে এডেন উত্তরের সরকারি এলাকাগুলো থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, যা সরকারের রসদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে। এর জবাবে সৌদি আরব হুতিদের ওপর বিমান হামলা জোরদার করেছে। হুতিদের দাবি অনুযায়ী, রাজধানী সানা, সাদা শহর এবং তাইজে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।   অন্যদিকে হুতিরাও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে রিয়াদ বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। পবিত্র মদিনা নগরীর মসজিদে নববিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী তাইবাহ কেন্দ্রে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে সৌদি জোট, যদিও হুতিরা তা অস্বীকার করেছে।   এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে গত আগস্টে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘মক্কা চুক্তি’র প্রথম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে ইয়েমেন যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের মতো মিত্রদের পাশাপাশি পাকিস্তান ও তুরস্কের এই অবস্থান হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের মরিয়া হয়ে মিত্র খোঁজারই অংশ।   এমনকি ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতেও সম্প্রতি আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনসুর বিন জায়েদকে রিয়াদে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৭:৪৭
রাবিতে ছাত্রদলের হামলায় গুরুতর আহত ৪ সাংবাদিক, পরিস্থিতি সামলাতে না পারার কথা জানালেন প্রক্টর
রাবিতে ছাত্রদলের হামলায় গুরুতর আহত ৪ সাংবাদিক, পরিস্থিতি সামলাতে না পারার কথা জানালেন প্রক্টর

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কর্মরত চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হওয়াসহ আরও অন্তত দশজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ অন্তত আটজন নেতাকর্মী এই হামলায় সরাসরি অংশ নেন।   প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ৮টার দিকে পরিবহন মার্কেট থেকে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক ও লোহার পাইপের মতো দেশীয় বস্তাভর্তি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জিয়াউর রহমান হল গেটে আসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের লক্ষ্য ছিল হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ওপর হামলা করা। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা অস্ত্র লুকিয়ে ফেলে।   তবে অস্ত্রসহ তাদের উপস্থিতির ভিডিও ধারণ করতে গেলে প্রক্টরের সামনেই দৈনিক সমকাল ও আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির ওপর চড়াও হয় তারা। একপর্যায়ে বিডিনিউজ প্রতিনিধিকেও বেধড়ক পেটানো হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভেতরে ঢুকিয়ে তালাবদ্ধ করে দেন।   পরে খবর পেয়ে অন্যান্য সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হলে দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। হামলায় আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথা ফেটে যায় এবং হামলাকারীরা সাংবাদিকদের পুঁতে ফেলারও হুমকি দেয়।   এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত হয় রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সেখানে রাকিবুল নামের একজনের সঙ্গে আহসান হাবীবের বাকবিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।   রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উভয়েই ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নেন। ছাত্রদলের এমন সশস্ত্র অবস্থানের সমালোচনা করে জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। মূলত এর জের ধরেই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হলের সামনে জড়ো হয়ে এই নারকীয় হামলা চালায় ছাত্রদলের ওই নেতাকর্মীরা।   ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও এই হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান নিজেদের অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের দ্বারা সম্ভব হয়নি এবং তারা ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও পুলিশ ভয়ে পালিয়ে যায় বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, এ ঘটনার বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেছেন, পুরো বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে অবহিত করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৭:৩১
ক্যারোলিনের পদত্যাগের পর হোয়াইট হাউসের উপ-প্রেসসচিব হলেন বেনি হারমনি
ক্যারোলিনের পদত্যাগের পর হোয়াইট হাউসের উপ-প্রেসসচিব হলেন বেনি হারমনি

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের হোয়াইট হাউসের নতুন উপ-প্রেসসচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক সাংবাদিক বেনি রে হারমনি। এর আগে তিনি ‘রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস’-এর হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেন হারমনি।   ট্রাম্প প্রশাসনে যোগ দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি পূর্ববর্তী কর্মস্থলে হোয়াইট হাউসের খবর সংগ্রহের সুযোগ পাওয়াকেও একটি বড় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।   তবে হোয়াইট হাউসে যোগ দেওয়ার আগে সম্প্রতি একটি বড় বিতর্কেও জড়িয়েছিলেন বেনি রে হারমনি। দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্ক নিহত হওয়ার পর তাঁকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন এই সাংবাদিক।   এর জেরে ‘রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস’ তাঁকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে তিনি নিজেই চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। তবে সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ট্রাম্প প্রশাসনে এমন গুরুত্বপূর্ণ এক পদে আসীন হলেন তিনি।   এদিকে, সদ্য পদত্যাগী ২৮ বছর বয়সী হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভিট গত মে মাসে দ্বিতীয় সন্তানের মা হন। এরপর জুলাইয়ে কাজে ফিরলেও মাত্র এক মাসের মাথায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।   লেভিট জানান, দ্বিতীয়বার মা হওয়ার পর কাজের প্রচণ্ড চাপ সামলে হোয়াইট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রয়োজনীয় সময়, শক্তি ও মনোযোগ দেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছিল। মাতৃত্ব ও পেশাগত জীবনের এই টানাপোড়েনের কারণে তাঁর আকস্মিক পদত্যাগের পরই নতুন নেতৃত্বের সন্ধানে নামে ট্রাম্প প্রশাসন এবং চূড়ান্তভাবে বেনি রে হারমনিকেই এই পদে বেছে নেওয়া হয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৬:৫৪
জাপানের ওকিনাওয়ায় নারী হ ত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তার
জাপানের ওকিনাওয়ায় নারী হ ত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তার

জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের একটি হোটেল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক মার্কিন মেরিন সেনাকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। রোববার (৪ অক্টোবর) পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   এর আগে, শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে নাহা শহরের একটি হোটেলের কক্ষ থেকে ৩৯ বছর বয়সী ওই নারীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীর মরদেহের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মাথা কামানো বিদেশি চেহারার এক ব্যক্তি ওই নারীর সঙ্গে হোটেল কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন।   পরবর্তীতে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি একাই ওই নারীর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহ উদ্ধারের পর দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ এবং ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে রোববার রাত ১টার দিকে শহরের রাস্তায় ঘোরাফেরা করার সময় ওই সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ বছর বয়সী ওই তরুণ মার্কিন সেনা ওকিনাওয়ার ফুতেনমা এয়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন।   এই ঘটনার পর টোকিওতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানানো হয়েছে, ওকিনাওয়ায় জাপানি নাগরিকের মৃত্যু ও মার্কিন মেরিন সেনাকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে।   ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে জাপানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ জানতে স্থানীয় পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৬:২৮