সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
চীনে ছেলেকে গেমের নেশা থেকে ফেরাতে গিয়ে ৬০ বছরের মা নিজেই এখন গেমার
চীনে ছেলেকে গেমের নেশা থেকে ফেরাতে গিয়ে ৬০ বছরের মা নিজেই এখন গেমার

চীনের গুয়াংডং প্রদেশের মেইঝৌ শহরের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী ঝোং জুয়ানজুয়ান এখন ই-স্পোর্টস ও অনলাইন গেমিং জগতের এক পরিচিত নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'আন্টি জুয়ান' নামে জনপ্রিয়তা পাওয়া এই নারী প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শকের সামনে লাইভ-স্ট্রিমে গেম খেলেন। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (এসসিএমপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র চার বছর আগে ভিডিও গেমের দুনিয়ায় পা রাখা এই প্রবীণ নারী এখন তরুণ গেমারদের কাছেও এক বড় অনুপ্রেরণা।   প্রাথমিক গণ্ডি পেরোনো ঝোং জীবনের বেশির ভাগ সময় সেলস ও শিশু পরিচর্যার মতো খণ্ডকালীন কাজ করে প্রায় এক দশক আগে অবসর নেন। তবে তাঁর গেমিংয়ে আসার পেছনের গল্পটা বেশ চমকপ্রদ। প্রায় দুই দশক আগে তাঁর ছেলে যখন মাধ্যমিকের ছাত্র, তখন সে ভিডিও গেমসে মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ে।   পড়াশোনায় অবনতি হওয়ায় সে সময় ছেলেকে খুঁজতে স্থানীয় ইন্টারনেট ক্যাফেগুলোতে ছুটে বেড়াতেন তিনি। কিন্তু ২০২০ সালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে তাঁর ছেলে 'সোদে' যখন আবারও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাড়িতে গেম খেলতে শুরু করে, তখন ঝোং এক অভিনব সিদ্ধান্ত নেন। তরুণ প্রজন্মের গেমের প্রতি এই তীব্র আকর্ষণের কারণ বুঝতে তিনি নিজেই ভার্চুয়াল গেমিংয়ের জগতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে অবাক হলেও ছেলে অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে মাকে গেমের নিয়মকানুন শেখাতে শুরু করেন।   ৬০ বছর বয়সে এসে গেমের কলাকৌশল আয়ত্ত করা ঝোংয়ের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। বয়সজনিত কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে আসা এবং রিফ্লেক্স ধীর হওয়ায় শুরুতে তিনি গেমের চরিত্রকে সোজা হাঁটাতেও পারতেন না। দেয়ালে ধাক্কা খাওয়া বা ডিজিটাল সিঁড়ি বেয়ে ওঠার মতো প্রাথমিক কাজগুলোতেও তাকে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হতো।   কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি হাল ছাড়েননি। নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে ২০২২ সাল থেকে তিনি নিজের গেম খেলার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন। অত্যন্ত সাধারণ মানের কম্পিউটার ও সরঞ্জাম ব্যবহার করেও তাঁর চমৎকার দক্ষতা দ্রুতই দর্শকদের নজর কাড়ে।   ইতিমধ্যে অনলাইন গেমসে ৮ হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় কাটিয়ে ফেলা এই প্রবীণ নারীর সবচেয়ে পছন্দের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন কৌশলগত 'শুটিং গেম'। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি আন্তর্জাতিকভাবেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। সে সময় জনপ্রিয় শুটিং গেম 'কাউন্টার-স্ট্রাইক: গ্লোবাল অফেন্সিভ' (CS: GO)-এর একটি বিশেষ অনলাইন প্রদর্শনী ম্যাচে খেলার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রতিদিন তাঁর স্ট্রিম দেখতে আসা হাজার হাজার তরুণের কাছে 'আন্টি জুয়ান' আজ কেবল একজন গেমার নন, বরং ধৈর্য, একাগ্রতা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য উদাহরণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৫:১৯
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে হিন্দু মন্দিরে হা মলা, ইটের আঘাতে ভাঙল জানালার কাচ
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে হিন্দু মন্দিরে হা মলা, ইটের আঘাতে ভাঙল জানালার কাচ

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গ্রেটার ক্লিভল্যান্ড এলাকায় একটি হিন্দু মন্দিরে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে রিচমন্ড হাইটসের শ্রী স্বামীনারায়ণ ভাদতাল ধাম হিন্দু মন্দিরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। মাত্র কয়েক মুহূর্ত স্থায়ী এই হামলায় মন্দিরের জানালার কাচ চুরমার হয়ে যায়।   হামলার সময় মন্দিরের ভেতরে পুরোহিত ও বেশ কয়েকজন পুণ্যার্থী উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে উপাসনালয়ে এমন অপ্রত্যাশিত হামলায় স্থানীয় হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে চরম নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিয়েছে।   হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন (এইচএএফ) এবং কোয়ালিশন অব হিন্দুস অব নর্থ আমেরিকা (কোহনা) এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এইচএএফ ইতোমধ্যে বিষয়টি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং নাগরিক অধিকার সংস্থাগুলোকে অবহিত করে মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।   এইচএএফ-এর নির্বাহী পরিচালক সুহাগ শুক্লা এই হামলাকে সম্ভাব্য 'বিদ্বেষমূলক অপরাধ' বা হেট ক্রাইম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, অনলাইনে হিন্দু আমেরিকানদের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিদ্বেষ কীভাবে বাস্তবে সহিংসতার রূপ নিতে পারে, এই হামলাই তার প্রমাণ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে স্থানীয় পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত হামলার পেছনের উদ্দেশ্য বা এটি ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবর মাসটি 'হিন্দু হেরিটেজ মান্থ' হিসেবে পালিত হয় এবং আর দুই সপ্তাহ পরেই শুরু হতে যাচ্ছে নবরাত্রি উৎসব। ঠিক এমন সময়ে হামলার এই ঘটনা স্থানীয় হিন্দু কমিউনিটির মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। কোহনা অবিলম্বে রিচমন্ড হাইটসের মেয়র এবং স্থানীয় পুলিশকে এই হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু মন্দিরগুলোতে হামলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালে কুইন্সের শ্রী তুলসী মন্দিরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি ভাঙচুর, ২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার নেওয়ার্কে এসএমভিএস শ্রী স্বামীনারায়ণ মন্দিরে বিদ্বেষমূলক গ্রাফিতি এবং ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ায় বাপস (BAPS) মন্দিরেও ভাঙচুর ও অবমাননাকর বার্তা লেখার ঘটনা ঘটেছিল। ধারাবাহিক এসব ঘটনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বুকে হিন্দু ধর্মীয় সাইটগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে জোরালো দাবি তুলেছে অধিকার সংগঠনগুলো।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:৫৭
হলিউডে কর্মীর মন খারাপ ভেবে কাছে গেলেন টম ক্রুজ, নেটদুনিয়ায় প্রশংসা
হলিউডে কর্মীর মন খারাপ ভেবে কাছে গেলেন টম ক্রুজ, নেটদুনিয়ায় প্রশংসা

হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা টম ক্রুজ কেবল পর্দায় অ্যাকশন হিরো নন, বাস্তবেও যে তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল—তারই একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। কাজের ফাঁকে বিরতি নেওয়া এক অপরিচিত কিচেন কর্মীকে বিষণ্ণ ভেবে নিজে থেকেই তার খোঁজ নিতে এগিয়ে আসেন এই সুপারস্টার। ছোট্ট অথচ আন্তরিক এই ঘটনাটি নেটিজেনদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে।   জানা গেছে, ক্লেমেন্টিনা নামের ওই নারী কর্মী তার কাজের বিরতির সময় একা বসে মোবাইল ফোনে মগ্ন ছিলেন। ঘাড় নিচু করে ফোন স্ক্রল করার কারণে তাকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি কোনো কারণে বিপর্যস্ত। সেই পথ দিয়েই যাচ্ছিলেন টম ক্রুজ। মেয়েটির এমন ভঙ্গি দেখে তিনি আর নিজের গন্তব্যে এগিয়ে না গিয়ে থমকে দাঁড়ান এবং ফিরে এসে তার খোঁজ নেন। তিনি মেয়েটির হাতে হালকা টোকা দিয়ে জানতে চান, সবকিছু ঠিক আছে কি না।   আচমকা হলিউড তারকাকে সামনে দেখে রীতিমতো চমকে যান ওই কর্মী। তিনি টম ক্রুজকে জানান যে, তার মন খারাপ নয়; বরং তিনি কেবল আপন মনে ফোনে 'ডুমস্ক্রলিং' করছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে টম হাসিমুখে তার সাথে 'ফিস্ট বাম্প' করেন এবং সে যাত্রায় বিদায় নেন। তবে চমকের এখানেই শেষ ছিল না; কিছুক্ষণ পর তিনি আবারও ফিরে আসেন এবং ওই কর্মীর সাথে হাসিমুখে একটি ছবিও তোলেন।   পরবর্তীতে ক্লেমেন্টিনা নিজেই টিকটকে এই পুরো ঘটনার ভিডিও শেয়ার করেন, যা মুহূর্তেই ইন্টারনেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনরা টম ক্রুজের এই সাধারণ অথচ মানবিক আচরণের ব্যাপক প্রশংসা করছেন। ব্যস্ত জীবনে একজন অপরিচিত মানুষের প্রতি এমন ছোট একটি সহানুভূতির মুহূর্ত যে কারও দিনটি কতটা সুন্দর করে দিতে পারে, এই ঘটনাই যেন তার প্রমাণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:৩২
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এক বছরে ৮ হাজারের বেশি ধ র্ষণের অভিযোগ, শীর্ষে ইউনিভার্সিটি অব উটাহ
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এক বছরে ৮ হাজারের বেশি ধ র্ষণের অভিযোগ, শীর্ষে ইউনিভার্সিটি অব উটাহ

যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের অত্যন্ত উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে দেশটির বিভিন্ন ক্যাম্পাসে মোট ৮ হাজার ২২৭টি ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই তালিকায় সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে সল্টলেক সিটির পাবলিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব উটাহ।   সেখানে এক বছরে রেকর্ড ১৪৬টি ধর্ষণের অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মধ্যে ১২২টিই ঘটেছে আবাসিক হল বা ডর্মে। এই সংখ্যা তালিকায় থাকা দ্বিতীয় শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দ্বিগুণ।   ধর্ষণের এই জাতীয় তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডার, যেখানে ৯৬টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ৬৭টি অভিযোগ নিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি। এছাড়া শীর্ষ দশের তালিকায় থাকা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউসিএলএ, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান্তা ক্রুজ, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান্তা বারবারা, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব কানসাস এবং ইউনিভার্সিটি অব কেনটাকি। এই প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই উল্লেখযোগ্য হারে যৌন নিপীড়নের ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে।   নিউইয়র্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থাও অত্যন্ত হতাশাজনক। কলাম্বিয়া, কর্নেল এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির (এনওয়াইইউ) মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও যৌন সহিংসতার হার ব্যাপক। নিউইয়র্ক রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, ডেটিং সহিংসতা এবং স্টকিং—সব মিলিয়ে সামগ্রিক হিসাব প্রকাশ করা হয়।   এর মধ্যে ২০২৪ সালে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে ২৬২টি যৌন সহিংসতার অভিযোগ জমা পড়ে, যার মধ্যে ২১টি ছিল ধর্ষণের ঘটনা এবং এর সবগুলোই ঘটেছে আবাসিক হলে। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কলাম্বিয়ায় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হার সবচেয়ে শোচনীয়। ২৬২টি অভিযোগের মধ্যে মাত্র তিনটির তদন্ত হয়েছে এবং কেবল একটি ঘটনায় অভিযুক্তকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কলাম্বিয়ায় মোট ১ হাজার ২০২টি অভিযোগের মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ তদন্তের মুখ দেখেছে।   অন্যদিকে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে (এনওয়াইইউ) ২২৯টি অভিযোগের মধ্যে ২৮টি তদন্ত ও ১০টিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সানি অ্যালবানি এবং সানি বিংহামটনে যথাক্রমে ২১৭ এবং ১৯৮টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে গত বছর ১৬৬টি যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।   সেখানে ১৮টি ঘটনার তদন্ত শেষে তিনজনকে বহিষ্কারসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত কয়েকজনকে নিছক প্রবন্ধ লেখার শাস্তি দিয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার সুযোগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আইনি জটিলতা ও তীব্র তোপের মুখে পড়তে হয়।   গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসগুলোতে যৌন অপরাধের অভিযোগ প্রায় পাঁচগুণ বেড়েছে। তবে গবেষকদের মতে, এসব অভিযোগের মধ্যে মাত্র ২ থেকে ১০ শতাংশ ভুয়া হয়ে থাকে। 'থেরাপি নেশন'-এর রচয়িতা ও মনোবিজ্ঞানী জোনাথন আলপার্টের মতে, এই বিশাল সংখ্যাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। এগুলো কেবল নথিভুক্ত অভিযোগ, এর বাইরেও অসংখ্য ঘটনা রয়েছে যা সামাজিক সম্মান, বন্ধু বা পরিচিত গণ্ডি হারানোর ভয়ে কখনোই প্রকাশ পায় না।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:১৯
ফিলিস্তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের প্রধান ড. ইয়াসমিন খামিস আল-বুবো I ছবি: সংগৃহীত
গাজায় ইসরায়েলি হা মলায় প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের প্রধান ড. ইয়াসমিন

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলায় এবার প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের প্রধান ড. ইয়াসমিন খামিস আল-বুবো।   শনিবার ভোরে পশ্চিম গাজার একটি আবাসিক ভবনে চালানো এই হামলায় ড. ইয়াসমিনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজনই নারী বলে জানা গেছে।   ড. ইয়াসমিন খামিস আল-বুবো দীর্ঘ সময় ধরে ফিলিস্তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে, তিনি শুধু মাল্টিমিডিয়া বিভাগেই শিক্ষকতা করতেন না, বরং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ওই বিভাগের প্রধানের দায়িত্বও পালন করে আসছিলেন।   একজন মেধাবী শিক্ষাবিদ হিসেবে তাঁর কম্পিউটার সায়েন্স, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একাধিক উচ্চতর ডিগ্রি ছিল। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে ফিলিস্তিনের শিক্ষাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   শনিবার ভোরে চালানো ওই প্রাণঘাতী হামলায় ড. ইয়াসমিনের সঙ্গে তাঁর ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ মা হালুম মাহমুদ আল-বুবোও শাহাদাতবরণ করেন।   একই অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসরত অপর দুই খ্রিষ্টান ফিলিস্তিনিও এই হামলায় নিহত হন, যারা সম্পর্কে মা ও মেয়ে ছিলেন।   গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে বেসামরিক নাগরিক, নারী ও শিক্ষাবিদদের এভাবে প্রাণ হারানোর ঘটনা উপত্যকাটির মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহ চিত্রকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:২
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি তাদের অধিকার, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া জবাব রাশিয়ার
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি তাদের অধিকার, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া জবাব রাশিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে রাশিয়া জানিয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা করা ইরানের অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং তেহরান এটি ত্যাগ করতে বাধ্য নয়। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক মিখাইল উলিয়ানভ এই মন্তব্য করেন।   জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজের সাম্প্রতিক এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে উলিয়ানভ মার্কিন প্রশাসনের পারমাণবিক বিস্তার রোধ নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দাবি ছিল, ইরান আন্তর্জাতিক নিয়ম ভঙ্গ করে কোনো বিশ্বাসযোগ্য বেসামরিক উদ্দেশ্য ছাড়াই ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে।   মার্কিন দাবির বিরোধিতা করে উলিয়ানভ স্পষ্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের অবস্থান পারমাণবিক বিস্তার রোধের নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) কার্যক্রম সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভুল ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুন এবং ২০২৬ সালের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পরও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে। তেহরানের অভিযোগ, ওই সংঘাতগুলোতে তাদের বেসামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালানো হয়েছিল, যা সরাসরি আন্তর্জাতিক আইন ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (NPT) চরম লঙ্ঘন।   আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষপাতিত্ব এবং অবৈধ হামলার প্রতিবাদে ইরানের পার্লামেন্ট ইতোমধ্যে সর্বসম্মতিক্রমে আইন পাস করে আইএইএ-এর সাথে সব ধরনের সহযোগিতা স্থগিত করেছে। নতুন আইন অনুযায়ী, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (SNSC) অনুমোদন ছাড়া কোনো আইএইএ পরিদর্শককে ইরানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।   এনপিটি-র স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ইরান বারবার জোর দিয়ে বলেছে, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা পরিদর্শনে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির কোনো সামরিক ব্যবহারের প্রমাণ মেলেনি। ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা, বিশেষ করে স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের পারমাণবিক অধিকার ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে কোনো আলোচনা হবে না।   ইরানের এই অনড় অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে চীন ও রাশিয়া। সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ইরানবিষয়ক একটি খসড়া প্রস্তাবে এই দুই দেশ ভেটো প্রদান করে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া এক বক্তব্যে চীনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি সুন লেই পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইরানের ‘বৈধ অধিকারকে’ সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। চীন এই সঙ্কটের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৩:৪৯
ক্ষমা চাইতে বলায় ক্ষে পণাস্ত্র ছুড়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে জবাব দিলেন কিম জং উন  I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ক্ষমা চাইতে বলায় ক্ষে পণাস্ত্র ছুড়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে জবাব দিলেন কিম জং উন

দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানের জবাবে শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে পূর্ব সাগরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। গত মাসে দুই দেশের সীমান্তবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হওয়ার ঘটনায় সিউল পিয়ংইয়ংয়ের কাছে ক্ষমা দাবি করেছিল।   কিন্তু সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে উত্তর কোরিয়া শনিবার ভোরে পূর্ব উপকূলীয় ওনসান এলাকা থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে। তবে এর সুনির্দিষ্ট ধরন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য এখনও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ঘনিষ্ঠভাবে তথ্য বিনিময় করছে।   গত ২১ সেপ্টেম্বর ডিএমজেড-এর ভেতরে টহল দেওয়ার পথ পরিষ্কার করার সময় মাইন বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডের যৌথ তদন্তে বলা হয়েছে, সীমান্তের দক্ষিণ পাশে উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনের কারণেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছিল, যা ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।   দক্ষিণ কোরিয়া এই ঘটনার জন্য পিয়ংইয়ংকে দায়ী করে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি সীমান্তে মাইন পোঁতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল। তবে উত্তর কোরিয়া শুরু থেকেই এই দায় অস্বীকার করে আসছে। এমনকি শুক্রবার (২ অক্টোবর) উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘ঘৃণ্য’ বলে আখ্যা দিয়ে মাইন বিস্ফোরণের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগের জবাবে শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই উত্তর কোরিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। সিউলের সাবেক ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজ-এর প্রেসিডেন্ট ইয়াং মু-জিন ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, সিউল উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানালেও পিয়ংইয়ং কার্যত সংঘাতের পথই বেছে নিয়েছে।   ২০২৪ সালের শুরুতে কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়াকে তার দেশের ‘প্রধান শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকে সীমান্ত পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে পিয়ংইয়ং। এর অংশ হিসেবেই উত্তর কোরিয়ার সেনারা সীমান্ত এলাকায় মাইন পুঁতেছে এবং ট্যাংক চলাচল ঠেকাতে প্রতিবন্ধক নির্মাণ করেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৩:১৭
নিউইয়র্ক সিটিতে হ্যালোউইন ও শরৎকালীন উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণিল প্যারেড ও উৎসবমুখর পরিবেশ। ছবি: সংগৃহীত
হ্যালোউইনে নিউইয়র্কের ১৬০ সড়ক গাড়িমুক্ত, শিশুদের জন্য থাকছে মিষ্টি, খেলাধুলা ও নানা বিনোদন

নিউইয়র্ক সিটিতে এবারের হ্যালোউইন ও শরৎকালীন উৎসব উপলক্ষে পাঁচ বরোর রেকর্ড ১৬০টি সড়ক ও প্লাজা গাড়িমুক্ত রাখা হবে। অক্টোবরজুড়ে ‘ট্রিক অর স্ট্রিটস’ কর্মসূচির আওতায় এসব স্থানে শিশু ও পরিবারের জন্য মিষ্টি সংগ্রহ, মুখে ছবি আঁকা, খেলাধুলা, সরাসরি বিনোদন এবং বিভিন্ন পারিবারিক আয়োজন থাকবে। শহরের পরিবহন বিভাগ শিশুদের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজার পিস মিষ্টি বিতরণের পরিকল্পনাও করেছে।   নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এবং নিউইয়র্ক সিটি পরিবহন বিভাগের কমিশনার মাইক ফ্লিন ৩০ সেপ্টেম্বর এবারের কর্মসূচির ঘোষণা দেন। ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স, ব্রঙ্কস ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডজুড়ে অক্টোবর মাসে এসব আয়োজন হবে। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের ১৬০টি স্থান ‘ট্রিক অর স্ট্রিটস’ কর্মসূচির এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা।   কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন এলাকার সড়ক, প্লাজা ও অন্যান্য স্থান সাময়িকভাবে পথচারীবান্ধব উৎসবস্থলে পরিণত হবে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন, কমিউনিটি গ্রুপ ও বিদ্যালয়গুলোও আয়োজনে যুক্ত থাকবে। স্থানভেদে মিষ্টি সংগ্রহ, মুখে ছবি আঁকা, সরাসরি বিনোদন, খেলাধুলা এবং শিশু ও পরিবারের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম থাকবে।   এবারের আয়োজনে নতুন কিছু কার্যক্রমও যুক্ত হয়েছে। মিউনিসিপ্যাল আর্ট সোসাইটি অব নিউইয়র্কের সহযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে গাইডসহ হাঁটা ভ্রমণের আয়োজন করা হবে। এসব ভ্রমণে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইতিহাস, স্থাপত্য এবং জনসাধারণের ব্যবহারের স্থান সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের জানানো হবে।   এ ছাড়া স্ট্রিট ল্যাবের সহযোগিতায় নিউইয়র্কের নির্বাচিত সরকারি বিদ্যালয়ের সামনে হ্যালোউইনকেন্দ্রিক খেলাধুলা, সৃজনশীল কার্যক্রম এবং শিশুদের উপযোগী বিভিন্ন আয়োজন করা হবে। ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, ম্যানহাটন ও কুইন্সের একাধিক বিদ্যালয় এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।   পাঁচ বরোতে বড় পাঁচটি বিশেষ অনুষ্ঠানের সময়সূচিও প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক সিটি পরিবহন বিভাগ। ব্রুকলিনের হিলেল প্লাজায় ২২ অক্টোবর দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান হবে। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের ওয়াটার স্ট্রিটে ২৪ অক্টোবর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আয়োজন চলবে।   কুইন্সের অস্টিন স্ট্রিটে ২৫ অক্টোবর দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিশেষ অনুষ্ঠান নির্ধারণ করা হয়েছে। ম্যানহাটনের ক্যানাল ওপেন স্ট্রিট ও ডিভিশন প্লাজায় ২৮ অক্টোবর বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আয়োজন থাকবে। হ্যালোউইনের দিন ৩১ অক্টোবর ব্রঙ্কসের জেমস বাল্ডউইন প্লাজায় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান হবে।   নিউইয়র্ক সিটি পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, ‘ট্রিক অর স্ট্রিটস’ কর্মসূচির মাধ্যমে হ্যালোউইনের আগে এবং হ্যালোউইনের দিনে পথচারীদের জন্য অতিরিক্ত জায়গা তৈরি করা হয়। হ্যালোউইন শহরের সড়কগুলোর অন্যতম ব্যস্ত সময় হওয়ায় নির্দিষ্ট সড়ক ও প্লাজাকে গাড়িমুক্ত রেখে শিশু ও পরিবারকে উৎসবের জন্য জায়গা দেওয়াই কর্মসূচিটির অন্যতম উদ্দেশ্য।   এবারের কর্মসূচি গত বছরের তুলনায় আরও বড় হয়েছে। ২০২৫ সালে ‘ট্রিক অর স্ট্রিটস’ কর্মসূচির আওতায় নিউইয়র্ক সিটিতে ১৪৮টি গাড়িমুক্ত অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড ১৬০টি সড়ক ও প্লাজায় পৌঁছেছে।   মেয়র মামদানি জানিয়েছেন, এবারের কর্মসূচিতে শহরের ১৬০টি সড়ক ও প্লাজা মিষ্টি সংগ্রহ, খেলাধুলা, সংগীত ও অন্যান্য আনন্দের আয়োজনে ব্যবহৃত হবে। পরিবহন কমিশনার মাইক ফ্লিনও শিশুদের জন্য ১৬০টি গাড়িমুক্ত স্থান এবং প্রায় ৭৫ হাজার পিস মিষ্টি বিতরণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।   শহরের বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে প্রতিটি এলাকার আয়োজনের ধরন ভিন্ন হতে পারে। কোথাও সরাসরি বিনোদন ও খেলাধুলা থাকবে, আবার কোথাও শিশুদের সৃজনশীল কার্যক্রম কিংবা স্থানীয় এলাকা ঘুরে দেখার সুযোগ থাকবে। সব মিলিয়ে অক্টোবরজুড়ে পাঁচ বরোর বিভিন্ন এলাকায় হ্যালোউইন ও শরৎকালীন উৎসবের আয়োজন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।   নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৬০টি গাড়িমুক্ত সড়ক ও প্লাজাকে কেন্দ্র করে এবারের ‘ট্রিক অর স্ট্রিটস’ হবে এখন পর্যন্ত কর্মসূচিটির সবচেয়ে বড় আয়োজন। শিশু ও পরিবারের জন্য মিষ্টি, খেলাধুলা, মুখে ছবি আঁকা, বিনোদন ও অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি নতুন হাঁটা ভ্রমণ এবং বিদ্যালয়কেন্দ্রিক আয়োজনও যুক্ত হচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৩:১১
যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী সমকামীদের নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস, ‘গেইজ ফর প্যালেস্টাইন’ স্লোগান ঘিরে বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী সমকামীদের নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস, ‘গেইজ ফর প্যালেস্টাইন’ স্লোগান ঘিরে বিতর্ক

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সাম্প্রতিক এক প্রচারণামূলক বক্তৃতায় এলজিবিটিকিউ (LGBTQ) সম্প্রদায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে, ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সমকামীদের দেওয়া ‘গেইজ ফর প্যালেস্টাইন’ (Gays for Palestine) স্লোগানটিকে রীতিমতো উপহাসের ছলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।   ট্রাম্প বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমকামীদের সমর্থনের কোনো যৌক্তিকতা তিনি খুঁজে পান না। বিশ্বের ওই অংশে সমকামীদের প্রতি কেমন আচরণ করা হয়, সেদিকে ইঙ্গিত করে তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে প্রস্তাব দেন, সমকামীদের সেখানে আলোচনার জন্য পাঠানো উচিত। তিনি মন্তব্য করেন, "আমি আজ এটা দেখলাম এবং বললাম, একটু দাঁড়ান। গেইজ ফর প্যালেস্টাইন। আপনারা কি জানেন পৃথিবীর ওই অংশে সমকামীদের সঙ্গে তারা কী করে?! চলুন তাদের কোনো একদিন আলোচনার জন্য সেখানে পাঠাই। দেখবেন, তাদের আর কখনোই ফিরে পাওয়া যাবে না!"   ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির আধিপত্য ধরে রাখতে তিনি বেশ কিছু আর্থিক প্রণোদনারও ঘোষণা দিয়েছেন।   এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, মেডিকেয়ারের আওতাভুক্ত দুই কোটিরও বেশি আমেরিকানকে মাসিক প্রিমিয়ামের খরচ মেটাতে এককালীন ৯০ ডলার প্রদান। আগামী অক্টোবরের শুরুতেই এই অর্থ সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা চেকের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এর জন্য ‘মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড’ থেকে প্রায় ২০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।   পাশাপাশি, ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ (ACA)-এর আওতায় স্বাস্থ্য বীমা কেনা প্রায় দশ লাখ আমেরিকানকে অতিরিক্ত ফি ফেরত হিসেবে ৫০০ ডলার করে দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর বাইরে, রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ৫,০০০ ডলার করে দেওয়ার যে প্রস্তাব তিনি গত মাসে দিয়েছিলেন, তারও পুনরাবৃত্তি করেন এই বক্তৃতায়। তবে, অর্থনীতিবিদ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাঁর এই ৫,০০০ ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৩:১
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যার পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ বাবা-মায়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় তানভি। ছবি: সংগৃহীত
নেপালের বন্যায় নিখোঁজ বাবা-মা, ৩০ দিন পরও অপেক্ষায় মেয়ে

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছেন কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া ভারতীয় দম্পতি ভেঙ্কটরাম অন্নামদেবরা ও অনঘা অন্নামদেবরা। তাঁদের মেয়ে তানভি এখনো বাবা-মায়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। এতদিনেও তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য না পাওয়ার যন্ত্রণা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর একটাই প্রশ্ন, ‘কেন তাঁদেরই?’   ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। তীব্র স্রোত, ধ্বংসাবশেষ ও ভূমিধসে বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ওই সময় ভেঙ্কটরাম ও অনঘা ৬৭ সদস্যের একটি দলের সঙ্গে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় ছিলেন। দুর্যোগের পর তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।   বাবা-মা নিখোঁজ হওয়ার পর এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি পরিবার। তানভি তাঁর সাম্প্রতিক ভিডিওতে জানিয়েছেন, গত এক মাসে তাঁর জীবন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বাবা-মায়ের জন্য অপেক্ষা, তাঁদের নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং নিজের জীবনের বিভিন্ন দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে তাঁকে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলটির সর্বশেষ জানা অবস্থান ছিল নেপালের অভিবাসন কেন্দ্র ও ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজের আশপাশে। আকস্মিক বন্যায় ওই এলাকাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ভেঙ্কটরাম ও অনঘা ঠিক কোথায় রয়েছেন কিংবা তাঁদের কী ঘটেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।   বাবা-মায়ের নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তানভির সামনে ছিল নিজের চিকিৎসাবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ৩০ আগস্ট তাঁর এনইইটি-পিজি পরীক্ষা ছিল। বাবা-মায়ের কোনো সন্ধান না পেলেও তিনি পরীক্ষাকেন্দ্রে যান। পরে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, তিন ঘণ্টার পরীক্ষার প্রায় দেড় ঘণ্টা তিনি কেঁদেছেন। চোখের পানির কারণে প্রশ্নপত্র পড়তেও তাঁর সমস্যা হচ্ছিল।   মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা শেষ করেন তানভি। কারণ তাঁর বাবা চাইতেন তিনি পরীক্ষাটি দিন। বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকলেও বাবার সেই ইচ্ছার কথা মনে রেখেই তিনি পরীক্ষায় বসেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।   পরীক্ষার দিন পরিবারের ছোট একটি অভ্যাসও তাঁকে বাবা-মায়ের অনুপস্থিতি আরও গভীরভাবে অনুভব করায়। গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরীক্ষার আগে তাঁর মা সাধারণত তাঁকে দই ও চিনি খাওয়াতেন। বাবা তাঁকে শুভকামনা জানাতেন। কিন্তু ওই দিন দুজনের কেউই তাঁর পাশে ছিলেন না। পরিচিত সেই মুহূর্তের অনুপস্থিতি তাঁর কাছে বাবা-মাকে হারিয়ে ফেলার অনিশ্চয়তাকে আরও কঠিন করে তোলে।   নেপালের ওই দুর্যোগে শুধু তানভির পরিবার নয়, আরও বহু পরিবার প্রিয়জনের সন্ধানে অপেক্ষা করছে। কাঠমান্ডু পোস্টের ২৭ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোটেকোশি বন্যার পর তখন ৮২৬ জনের অবস্থান অজানা ছিল। তাঁদের মধ্যে ৫৯০ জন ছিলেন পর্যটক। ওই পর্যটকদের মধ্যে ৪৭৬ জন বিদেশি এবং ১১৪ জন নেপালি নাগরিক ছিলেন।   পরবর্তী সময়ে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। রয়টার্সের ১৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে নেপালের অংশে ৫ হাজার ১৩০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ এবং ১ হাজার ৩৮৬ জনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়। ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ, যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতি এবং দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্ত করার কার্যক্রম কঠিন হয়ে পড়ে।   দুর্যোগের পর বহু পরিবার হাসপাতাল, উদ্ধারকেন্দ্র এবং বিভিন্ন স্থানে নিজেদের স্বজনের সন্ধান চালিয়ে যেতে থাকে। পরিচয় শনাক্ত করার জন্য কিছু পরিবার ডিএনএ নমুনাও জমা দেয়। দিনের পর দিন কোনো নতুন তথ্য না পাওয়ায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হতে থাকে।   তানভির পরিবারও একই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। বাবা-মা কোথায় আছেন, তাঁরা বেঁচে আছেন কি না কিংবা তাঁদের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে, এসব প্রশ্নের কোনো নিশ্চিত উত্তর এখনো পরিবারের হাতে নেই। এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পরিবার তাঁদের নিখোঁজ হিসেবেই খুঁজে যাচ্ছে।   নিজের বক্তব্যে তানভি বারবার বাবা-মায়ের সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতিতে ফিরে গেছেন। জীবনের দীর্ঘ সময় পরিবারের দায়িত্ব পালন করার পর তাঁর বাবা-মা নিজেদের জন্য এই ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দের যাত্রাই শেষ পর্যন্ত তাঁদের পরিবারের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার ঘটনায় পরিণত হয়েছে।   বাবা-মায়ের কোনো খবর না পাওয়ার যন্ত্রণার মধ্যেই তানভির মনে বারবার ফিরে আসছে একটি প্রশ্ন, ‘কেন তাঁদেরই?’ একদিকে বাবা-মায়ের সন্ধানের অপেক্ষা, অন্যদিকে নিজের পড়াশোনা ও জীবনের দায়িত্ব চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, সবকিছুর মধ্যেই গত এক মাস কাটিয়েছেন তিনি।   এখনো ভেঙ্কটরাম অন্নামদেবরা ও অনঘা অন্নামদেবরার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো পরিণতির তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তাঁদের সন্ধান পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছে পরিবার। তানভিও বাবা-মায়ের ফিরে আসার আশা ধরে রেখেছেন। এক মাসের বেশি সময় ধরে কোনো নিশ্চিত খবর না পেলেও সেই অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১২:৫৭
ফ্লোরিডার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়া অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের কার্গো বিমান। ছবি: সংগৃহীত
বাতাসের তথ্য না জেনেই অবতরণ, মিয়ামিতে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজনের হয়ে পণ্য পরিবহনকারী একটি কার্গো বিমান রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়ার আগে পাইলটদের বাতাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের প্রাথমিক তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে। ৬ সেপ্টেম্বরের ওই দুর্ঘটনায় মাটিতে থাকা পাঁচজন নিহত এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। বিমানের দুই পাইলট সামান্য আহত হন। তবে তদন্তকারীরা এখনো দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণ করেননি।   দুর্ঘটনায় জড়িত উড়োজাহাজটি ছিল বোয়িং ৭৬৭-৩৩এ মডেলের কার্গো বিমান। ২১ এয়ারের পরিচালনায় বিমানটি অ্যামাজনের হয়ে পণ্য পরিবহন করছিল। এটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশে আসছিল। মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩০ নম্বর রানওয়েতে অবতরণের পর বিমানটি রানওয়ের শেষ প্রান্ত অতিক্রম করে মাটিতে থাকা দুটি যাত্রীবাহী যানবাহনে আঘাত করে। দুর্ঘটনার পর বিমানের ডান পাখায় আগুন ধরে যায় এবং উড়োজাহাজটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   প্রাথমিক তদন্তে বাতাসের তথ্য না পাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। বিমানটিকে অবতরণের অনুমতি দেওয়ার প্রায় চার মিনিট আগে অন্য একটি বিমান বাতাসের তথ্য জানতে চেয়েছিল। তখন নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বাতাস ১৯০ ডিগ্রি দিক থেকে ১৯ নট বেগে বইছে এবং দমকা বাতাসের গতি ২২ নট পর্যন্ত উঠছে। কিন্তু দুর্ঘটনায় পড়া কার্গো বিমানটি তখন ওই বেতার তরঙ্গে ছিল না। পরে বিমানটিকে অবতরণের অনুমতি দেওয়ার সময় পাইলটদের সেই বাতাসের তথ্য জানানো হয়নি।   জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড জানিয়েছে, পেছন দিকের বাতাসের প্রভাব থাকা অবস্থায় কোনো রানওয়েতে বিমানকে অবতরণের অনুমতি দেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রকের বাতাসের দিক ও গতি জানানো প্রয়োজন। কিন্তু এই বিমানটির অবতরণের অনুমতির সঙ্গে সেই তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে সংস্থাটি এখনো বলেনি যে বাতাসের তথ্য না পাওয়ার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।   বাতাসের পাশাপাশি অবতরণের সময় বিমানটির গতিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ককপিটের রেকর্ড অনুযায়ী, অবতরণের শেষ পর্যায়ে একজন পাইলট ফ্ল্যাপ ২০ ডিগ্রিতে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর অন্য পাইলট সতর্ক করেন যে বিমানটি অতিরিক্ত গতিতে এগোচ্ছে। এরপরও বিমানের অতিরিক্ত গতি নিয়ে আরও কয়েকবার মন্তব্য করা হয়।   বিমানটি রানওয়ের শুরু থেকে প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ ফুট সামনে গিয়ে প্রথমবার মাটি স্পর্শ করে। জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নাকের চাকা ও ডান পাশের প্রধান চাকা মাটি স্পর্শ করার সময় বিমানটির মাটির ওপর গতি ছিল প্রায় ১৫৮ নট। এরপর ১৪৬ নট গতিতে ব্রেক প্রয়োগ করা হয়। বাম পাশের প্রধান চাকা মাটি স্পর্শ করে প্রায় ১৩৪ নট গতিতে।   রেকর্ড করা তথ্যে আরও দেখা যায়, বিমানটির গতি যখন প্রায় ১২০ নটে নেমে আসে, তখন ব্রেক ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ইঞ্জিনের শক্তি এমন পর্যায়ে বাড়ানো হয়, যা আবার আকাশে ওঠার চেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কয়েক সেকেন্ড পর ইঞ্জিনের শক্তি আবার কমিয়ে ব্রেক প্রয়োগ করা হয়। তখন বিমানটির গতি ছিল প্রায় ১১৭ নট।   তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, রেকর্ড করা তথ্যে অবতরণের সময় বিমানের স্পিড ব্রেক কিংবা ইঞ্জিনের থ্রাস্ট রিভার্সার মোতায়েন হওয়ার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ব্রেক প্রয়োগ করা হয়েছিল। রেকর্ডিং শেষ হওয়ার সময় বিমানটির সর্বশেষ ধারণ করা গতি ছিল ৬৫ নট।   রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বিমানটি দুটি যানবাহনে আঘাত করে। এতে মাটিতে থাকা পাঁচজনের মৃত্যু হয় এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। বিমানে থাকা দুই ক্রু সদস্য সামান্য আহত হন। জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড দুর্ঘটনার পরদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ এবং দুর্ঘটনার বিভিন্ন দিক তদন্ত শুরু করে।   তদন্তে বিমানটির ককপিটের কথোপকথন ও উড্ডয়নসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণকারী দুটি যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ককপিটের কথোপকথন সংরক্ষণকারী যন্ত্রে দুই ঘণ্টার বেশি সময়ের ভালো মানের শব্দ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে উড্ডয়নসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণকারী যন্ত্রে প্রায় ৫৪ ঘণ্টার তথ্য এবং চার শতাধিক তথ্যসূচক সংরক্ষিত ছিল। এসব তথ্য দুর্ঘটনার শেষ মুহূর্তের ঘটনাপ্রবাহ পুনর্গঠনে ব্যবহার করছেন তদন্তকারীরা।   দুর্ঘটনার পর অ্যামাজন ২১ এয়ারের ব্যবহার স্থগিত করেছে। ২১ এয়ার জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের প্রাথমিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছে এবং তদন্তে যেসব তথ্য প্রতিষ্ঠিত হবে, তার ভিত্তিতে নিরাপত্তা উন্নত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। অ্যামাজনও চলমান তদন্তে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।   তবে জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড স্পষ্ট করেছে, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য প্রাথমিক এবং তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ নির্ধারণ করা হয় না। চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণের জন্য বিমানটির কার্যক্ষমতা, পাইলটদের সিদ্ধান্ত, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, আবহাওয়া এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় পরীক্ষা করা হচ্ছে।   ফলে বাতাসের তথ্য না দেওয়া, অবতরণের সময় অতিরিক্ত গতি, রানওয়ের অনেকটা সামনে গিয়ে মাটি স্পর্শ করা কিংবা শেষ মুহূর্তে আবার আকাশে ওঠার চেষ্টা - কোনো একটিকেই এখন দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ বলা যাচ্ছে না। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এসব ঘটনার সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণের সম্পর্ক নির্ধারণ করবে জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১২:৪১
বিদেশিদের বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের নতুন কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে আর্জেন্টিনা। ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনার নাগরিকত্বের নতুন পথ, ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারেই আবেদনের সুযোগ

বিদেশিদের বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের নতুন কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার। নতুন ব্যবস্থায় একজন বিদেশি আবেদনকারী সাড়ে ৩ লাখ মার্কিন ডলার সরাসরি জাতীয় কোষাগারে দিয়ে অথবা ৮ লাখ ডলারের বিশেষ সরকারি বন্ড কিনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে নির্ধারিত অর্থ দিলেই নাগরিকত্ব নিশ্চিত হবে না। পরিচয়, অর্থের উৎস, অপরাধের ইতিহাস ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।   আর্জেন্টিনা সরকার ২ অক্টোবর এই কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেয়। প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘আর্জেন্টিনা উইক’ বিনিয়োগ সম্মেলনে দেশটির অর্থমন্ত্রী লুইস কাপুতো এবং মন্ত্রিসভার প্রধান দিয়েগো সান্তিল্লি কর্মসূচিটি ঘোষণা করেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে, অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।   নতুন কর্মসূচিতে বিদেশি আবেদনকারীদের জন্য দুটি আর্থিক পথ রাখা হয়েছে। প্রথম পথে আর্জেন্টিনার জাতীয় কোষাগারে সাড়ে ৩ লাখ মার্কিন ডলারের সরাসরি অর্থ দিতে হবে। এই অর্থ ফেরতযোগ্য নয়। দ্বিতীয় পথে আবেদনকারী এই কর্মসূচির জন্য বিশেষভাবে তৈরি ৮ লাখ মার্কিন ডলারের সরকারি বন্ড কিনতে পারবেন।   আর্থিক শর্ত পূরণ করলেই অবশ্য আবেদন অনুমোদিত হবে না। প্রতিটি আবেদন কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যাবে। আবেদনকারীর পরিচয়, অর্থের উৎসের বৈধতা ও গতিপথ, সম্পদ ও আর্থিক অবস্থা, অপরাধের ইতিহাস, সুনামসংক্রান্ত তথ্য, অভিবাসন ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ঝুঁকিসহ বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা করা হবে।   আর্জেন্টিনা সরকার জানিয়েছে, অর্থপাচার প্রতিরোধ, সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকানো এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রচলিত মান অনুসরণ করা হবে। কর্মসূচির আওতায় দেওয়া সব অর্থ আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেন করতে হবে। আবেদনকারীর অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং তা বৈধ কি না, সেটিও যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।   নাগরিকত্বের জন্য বিনিয়োগ কর্মসূচি সংস্থা আবেদনগুলোর প্রাথমিক মূল্যায়নের নেতৃত্ব দেবে। যাচাই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সচিবালয়, আর্থিক তথ্য ইউনিট, জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ একাধিক সরকারি সংস্থা যুক্ত থাকবে। প্রয়োজনীয় যাচাই শেষ হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা জাতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের সুপারিশ পাঠাবে।   চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ২০২৫ সালে জারি করা সরকারি বিধান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিবেদন পাওয়ার পর জাতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আবেদন পর্যালোচনা করে নাগরিকত্ব দেওয়া অথবা আবেদন প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে বিনিয়োগের অর্থ দেওয়া নাগরিকত্ব পাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচিত হবে না।   নতুন কর্মসূচিতে মূল আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে চাইলে অতিরিক্ত ১ লাখ মার্কিন ডলার দিতে হবে। একইভাবে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী অবিবাহিত ও সন্তানহীন সন্তানের জন্য অতিরিক্ত ১ লাখ ডলার দিতে হবে।   ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার। সরকারি ঘোষণায় উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, একজন মূল আবেদনকারী, তাঁর স্বামী বা স্ত্রী এবং দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানসহ চার সদস্যের একটি পরিবার সরাসরি জাতীয় কোষাগারে অর্থ দেওয়ার পথ বেছে নিলে মোট ৫ লাখ মার্কিন ডলারে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবে।   এই কর্মসূচির আইনি ভিত্তি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল আগেই। ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনার নাগরিকত্বসংক্রান্ত আইনে পরিবর্তন এনে বিদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের আবেদন করার সুযোগ তৈরি করা হয়। ওই ব্যবস্থায় দেশে কতদিন বসবাস করেছেন, সেটিকে বিনিয়োগভিত্তিক এই আবেদনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে রাখা হয়নি।   পরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আরেকটি সরকারি বিধানের মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য বিনিয়োগ কর্মসূচির আবেদন যাচাই ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। সেখানে আবেদন গ্রহণ, বিনিয়োগ মূল্যায়ন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নিরাপত্তা যাচাই এবং জাতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।   সর্বশেষ ঘোষণায় সেই কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। একজন বিদেশির জন্য সরাসরি জাতীয় কোষাগারে সাড়ে ৩ লাখ ডলারের ফেরতযোগ্য নয় এমন অর্থ দেওয়া অথবা ৮ লাখ ডলারের বিশেষ সরকারি বন্ড কেনার দুটি বিকল্প রাখা হয়েছে।   সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটির লক্ষ্য বিদেশি পুঁজি আকর্ষণ এবং আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংযোগ আরও শক্তিশালী করা। এই কর্মসূচি থেকে পাওয়া অর্থ দেশের আর্থিক ও রাজস্ব অবস্থান আরও শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহারের কথা জানিয়েছে সরকার।   নতুন কর্মসূচির আবেদন প্রক্রিয়ায় আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আবেদনকারীর পরিচয় থেকে শুরু করে তাঁর অর্থের বৈধ উৎস এবং অপরাধের ইতিহাস পর্যন্ত যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মূল্যায়নের পরই জাতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।   ফলে সাড়ে ৩ লাখ ডলার দেওয়ার অর্থ সরাসরি আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট পাওয়া নয়। এটি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার একটি আর্থিক পথ। একইভাবে ৮ লাখ ডলারের বিশেষ সরকারি বন্ড কেনার পথ বেছে নিলেও আবেদনকারীকে নির্ধারিত সরকারি যাচাই-বাছাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হবে।   আর্জেন্টিনা সরকার জানিয়েছে, কর্মসূচিটি ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের মধ্যেই আবেদন গ্রহণের জন্য কার্যকর করা হবে। এর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশটির নাগরিকত্বের নতুন একটি আনুষ্ঠানিক পথ খুলছে, যেখানে বিনিয়োগের পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা যাচাই হবে নাগরিকত্ব পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১২:৩০
শনি গ্রহের বরফে ঢাকা রহস্যময় উপগ্রহ এনসেলাডাসের ভূপৃষ্ঠ ও বরফের ফাটল। ছবি: সংগৃহীত
শনির চাঁদে প্রাণের সম্ভাবনা, নতুন গবেষণায় মিলল আশাব্যঞ্জক তথ্য

শনি গ্রহের বরফে ঢাকা উপগ্রহ এনসেলাডাসে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন গবেষণায় আশাব্যঞ্জক তথ্য পাওয়া গেছে। পরীক্ষাগারে এনসেলাডাসের সম্ভাব্য সমুদ্রের মতো পরিবেশ তৈরি করে গবেষকেরা দেখেছেন, পৃথিবীর একটি বিশেষ ধরনের অণুজীব অত্যন্ত কঠিন পরিবেশেও টিকে থাকতে এবং মিথেন তৈরি করতে পারে। তবে এনসেলাডাসে সত্যিই প্রাণ রয়েছে, এমন কোনো সরাসরি প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।   ২০২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেসে’ প্রকাশিত গবেষণায় এনসেলাডাসের সমুদ্রের সম্ভাব্য রাসায়নিক পরিবেশ এবং সেখানে অণুজীবের টিকে থাকার বিষয়টি পরীক্ষা করা হয়। গবেষকেরা পরীক্ষাগারে উপগ্রহটির সমুদ্রের সম্ভাব্য পরিবেশ তৈরি করে পৃথিবীর একটি অণুজীব সেখানে কেমন আচরণ করে, তা পর্যবেক্ষণ করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশেও অণুজীবটি বৃদ্ধি পেতে এবং মিথেন উৎপাদন করতে সক্ষম।   গবেষণায় ‘মিথানোথার্মোকক্কাস ওকিনাওয়েনসিস’ নামের একটি অণুজীব ব্যবহার করা হয়। পৃথিবীর গভীর সমুদ্রের উষ্ণ জলীয় উৎসের কাছাকাছি এ ধরনের অণুজীব পাওয়া যায়। এটি হাইড্রোজেন ব্যবহার করে কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে মিথেন তৈরি করতে পারে। এনসেলাডাসের সম্ভাব্য সমুদ্রের পরিবেশে একই ধরনের প্রক্রিয়া সম্ভব কি না, সেটিই পরীক্ষার অন্যতম বিষয় ছিল।   গবেষকেরা পরীক্ষাগারে অত্যন্ত ক্ষারীয় পরিবেশ তৈরি করেন এবং সেখানে হাইড্রোজেনের উপস্থিতি রাখেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, অণুজীবটি এমন কঠিন পরিবেশেও বৃদ্ধি পেতে এবং মিথেন উৎপাদন করতে পারে। পরীক্ষিত পরিবেশে এটি প্রায় ১১ পিএইচ মাত্রা পর্যন্ত টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে। এই ফল এনসেলাডাসের সম্ভাব্য পরিবেশে পৃথিবীর কিছু অণুজীবের মতো জীব টিকে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে।   বিজ্ঞানীদের ধারণা, এনসেলাডাসের পাথুরে অভ্যন্তর এবং পানির মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে হাইড্রোজেন তৈরি হতে পারে। এই হাইড্রোজেন যদি উপগ্রহটির সমুদ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে উপস্থিত থাকে, তাহলে পৃথিবীর কিছু অণুজীবের মতো জীবের জন্য সেটি শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে। নতুন গবেষণায় পরীক্ষাগারে পাওয়া ফল সেই সম্ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।   এনসেলাডাসকে ঘিরে বিজ্ঞানীদের আগ্রহের অন্যতম কারণ এর বরফের নিচে তরল পানির সমুদ্র থাকার শক্তিশালী প্রমাণ। উপগ্রহটির দক্ষিণ মেরুর বরফের ফাটল দিয়ে পানীয় বাষ্প ও বরফের ক্ষুদ্র কণা মহাকাশে ছিটকে বেরিয়ে আসে। নাসার ক্যাসিনি মহাকাশযান এসব কণার মধ্য দিয়ে উড়ে গিয়ে সেগুলোর রাসায়নিক উপাদান বিশ্লেষণ করেছিল।   ক্যাসিনির সংগৃহীত তথ্য থেকে বিজ্ঞানীরা পানি, লবণ, জৈব যৌগ এবং অন্যান্য রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছেন। এসব তথ্যের কারণে বিজ্ঞানীদের ধারণা, এনসেলাডাসের বরফের নিচে শুধু তরল পানিই নয়, জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু রাসায়নিক উপাদানও থাকতে পারে। তবে এসব উপাদানের উপস্থিতি সেখানে প্রাণ থাকার সরাসরি প্রমাণ নয়।   ২০২৩ সালে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় এনসেলাডাস থেকে বেরিয়ে আসা বরফকণায় ফসফেট শনাক্ত করা হয়। ফসফরাস জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ওই গবেষণার ফল ইঙ্গিত দেয়, এনসেলাডাসের সমুদ্রে প্রাণের রাসায়নিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ফসফরাসের উপস্থিতি থাকতে পারে। এই তথ্যও উপগ্রহটির সমুদ্রকে প্রাণ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।   ২০২৫ সালে নাসার গবেষকেরা ক্যাসিনির সংগ্রহ করা তথ্য নতুনভাবে বিশ্লেষণ করে এনসেলাডাসের সমুদ্র থেকে সরাসরি বেরিয়ে আসা বরফকণায় আগে শনাক্ত না হওয়া বেশ কিছু জৈব যৌগের সন্ধান পান। এসব জৈব যৌগকে প্রাণের প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তবে এগুলোর উপস্থিতি এনসেলাডাসের ভেতরে জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়া চলার সম্ভাবনা তুলে ধরে।   ২০২৬ সালের নতুন গবেষণাগুলোতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। এনসেলাডাসের সমুদ্র থেকে বেরিয়ে আসা পানির কণা বরফে পরিণত হওয়ার সময় বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান একে অন্যের থেকে আলাদা হয়ে যেতে পারে। এর ফলে কিছু বরফকণায় জৈব পদার্থ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উপাদান তুলনামূলক বেশি ঘন হয়ে থাকতে পারে।   এই বিষয়টি ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এনসেলাডাসের বরফের নিচে থাকা সমুদ্রে সরাসরি পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু দক্ষিণ মেরুর ফাটল দিয়ে যে বরফকণা ও বাষ্প মহাকাশে বেরিয়ে আসে, সেগুলো সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেই ভেতরের সমুদ্রের রাসায়নিক পরিবেশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া কোনো তথ্যকেই এনসেলাডাসে প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। পরীক্ষাগারে পৃথিবীর একটি অণুজীব এনসেলাডাসের মতো পরিবেশে টিকে থাকতে পারা শুধু এটিই দেখায় যে ওই ধরনের পরিবেশে জীবনের কিছু ধরন টিকে থাকার সম্ভাবনা থাকতে পারে। বাস্তবে এনসেলাডাসের সমুদ্রে এমন কোনো জীব রয়েছে কি না, সেটি এখনো অজানা।   বিজ্ঞানীদের পরবর্তী লক্ষ্য এনসেলাডাস থেকে বেরিয়ে আসা বরফ ও বাষ্পের মধ্যে এমন রাসায়নিক বা জৈব চিহ্ন খুঁজে বের করা, যা সরাসরি জীবনের অস্তিত্বের দিকে ইঙ্গিত করতে পারে। ভবিষ্যতের কোনো মহাকাশ অভিযানে সেখানে জীবকোষ, নির্দিষ্ট জৈব অণু কিংবা শক্তিশালী জীবচিহ্ন শনাক্ত করা সম্ভব হলে পৃথিবীর বাইরে জীবনের সন্ধানে সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হিসেবে বিবেচিত হবে।   এখন পর্যন্ত এনসেলাডাসে কোনো প্রাণ পাওয়া যায়নি। তবে বরফের নিচে তরল পানির সমুদ্র, রাসায়নিক শক্তির সম্ভাব্য উৎস, ফসফরাস, জৈব যৌগ এবং পরীক্ষাগারে পৃথিবীর অণুজীবের এমন পরিবেশে টিকে থাকার সক্ষমতা শনির এই বরফময় উপগ্রহকে প্রাণ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। নতুন গবেষণার ফল সেই অনুসন্ধানে আরও একটি তথ্য যোগ করেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১২:১৫
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে প্রদর্শিত নতুন স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘আপলিফট’-এর দুর্যোগকালীন প্রস্তুত ঘর। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাকে বহনযোগ্য ঘরেই মিলবে বিছানা-বাথরুম-রান্নাঘর, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দ্রুত মানুষের থাকার ব্যবস্থা করতে ট্রাকে বহনযোগ্য ছোট আকারের প্রস্তুত ঘর তৈরি করেছে টেক্সাসের অস্টিনভিত্তিক নতুন প্রতিষ্ঠান ‘আপলিফট’। এসব ঘরে থাকার জায়গার পাশাপাশি রান্না, গোসল ও শৌচাগারের প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ঘরগুলো কারখানায় তৈরি করে প্রয়োজন অনুযায়ী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ট্রাকে নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে ব্যবহারের উপযোগী করে বসানো যাবে।   প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নির্মাণকাজ এবং স্বল্পমেয়াদি আবাসনের প্রয়োজন হলে দ্রুত থাকার ব্যবস্থা করা। বিশেষ করে বন্যা, ঝড়, দাবানল কিংবা অন্য কোনো দুর্যোগে মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থায়ী বাড়ি পুনর্নির্মাণের আগ পর্যন্ত এসব ছোট ঘর অস্থায়ী আশ্রয় হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। একই ঘর প্রয়োজন শেষে অন্য স্থানেও সরিয়ে নেওয়া যাবে।   ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত মার্কিন আবাসনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘রিয়েল্টর ডটকম’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় চার মাস আগে জরুরি আবাসনের এই প্রকল্প চালু করে আপলিফট। প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রাথমিক বিনিয়োগ পেয়েছে। এই বিনিয়োগের নেতৃত্ব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘অ্যান্ড্রিসেন হোরোভিৎস’।   আপলিফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা চার্লি নিটশেলম আগে মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর সঙ্গে ট্রেভর ও'লিয়ার মিলে নতুন এই উদ্যোগ শুরু করেন। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের লক্ষ্য এমন ছোট ঘর তৈরি করা, যা দ্রুত তৈরি করা যাবে, সহজে পরিবহন করা যাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার ব্যবহার করা সম্ভব হবে।   এই ঘরগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়ার সুবিধা। একটি সমতল পাটাতনযুক্ত বড় ট্রাকে একসঙ্গে দুই থেকে তিনটি ঘর বহন করা সম্ভব বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবহনের সময় ঘরগুলোকে ট্রাকের সঙ্গে নিরাপদে আটকে রাখার জন্য বিশেষ বাঁধন ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে এক জায়গায় প্রয়োজন শেষ হলে একই ঘর অন্য এলাকায় নিয়ে গিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে।   ঘরগুলোতে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নিচে এমন বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যা অসম জমিতেও ঘরটিকে সমতল ও স্থির রাখতে সহায়তা করে। প্রচলিত বাড়ির মতো সব সময় বড় ধরনের অবকাঠামোর ওপর নির্ভর না করেও যেন এগুলো ব্যবহার করা যায়, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে নকশা করা হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় বিদ্যুৎ ও পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   প্রাথমিক নকশা অনুযায়ী, প্রতিটি ক্ষুদ্র ঘরের আয়তন প্রায় ৬০ বর্গফুট। এত ছোট জায়গার মধ্যেই মানুষের থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঘুমানোর জায়গা, রান্নার ব্যবস্থা, গোসলের জায়গা এবং শৌচাগার। অল্প জায়গায় প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো একত্রে রাখাই এই নকশার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।   এই প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হতে পারে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর জরুরি আবাসনের ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়, বন্যা, দাবানল ও ঘূর্ণিঝড়ে মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব ঘটনার পর স্থায়ী বাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। সেই সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দ্রুত থাকার জায়গা তৈরি করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।   আপলিফটের পরিকল্পনা হলো, স্থায়ী বাড়ি পুনর্নির্মাণের অপেক্ষায় থাকা মানুষকে দ্রুত ছোট কিন্তু ব্যবহারযোগ্য একটি ঘরে থাকার সুযোগ দেওয়া। কারখানায় আগে থেকেই ঘর তৈরি করে রাখা গেলে দুর্যোগের পর প্রয়োজনীয় এলাকায় দ্রুত সেগুলো পাঠানো সম্ভব হতে পারে। প্রচলিত পদ্ধতিতে জমি প্রস্তুত, ভিত্তি তৈরি, কাঠামো নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ-পানির সংযোগসহ বিভিন্ন ধাপের পরিবর্তে প্রস্তুত ঘর সরাসরি নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।   তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা শুধু দুর্যোগের পর আশ্রয় দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নির্মাণ প্রকল্পে কর্মরত মানুষের অস্থায়ী আবাসন, প্রত্যন্ত এলাকায় স্বল্পমেয়াদি থাকার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ধরনের জরুরি আবাসনের প্রয়োজনেও এসব বহনযোগ্য ঘর ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।   ২০২৬ সালের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতায় ‘আপলিফট মাইক্রোহোম’ প্রথম স্থান অর্জন করে। ওই প্রতিযোগিতায় ৭৫টির বেশি দল আবেদন করেছিল। শেষ পর্যায়ে সাতটি দল প্রতিযোগিতা করে এবং আপলিফট এক লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার পায়।   প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি ঘটনা ঘটে সেপ্টেম্বর মাসে। রিয়েল্টর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরেই আপলিফট তাদের প্রথম ঘর একজন অর্থপ্রদানকারী গ্রাহকের কাছে বিক্রি করেছে। এর মাধ্যমে প্রকল্পটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যবহারেও প্রবেশ করেছে।   সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের আয়োজিত জাতীয় আবাসন উদ্ভাবন প্রদর্শনীতেও আপলিফটের ঘর প্রদর্শন করা হয়। ওয়াশিংটন ডিসির জাতীয় উদ্যান এলাকায় আয়োজিত ওই প্রদর্শনীতে নতুন ধরনের আবাসন প্রযুক্তি তুলে ধরা হয়। ২০২৬ সালের প্রদর্শনীর মূল বিষয় ছিল ‘আমেরিকায় তৈরি’।   প্রদর্শনীতে নতুন আবাসন প্রযুক্তির পাশাপাশি কারখানায় তৈরি ঘর, খণ্ডাংশভিত্তিক ঘর এবং ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ প্রযুক্তিতে তৈরি ঘরও প্রদর্শন করা হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, আবাসন শিল্পের প্রতিষ্ঠান, উদ্ভাবক, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন।   তবে আপলিফটের প্রযুক্তি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হিসেবে দেখার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বড় পরিসরে উৎপাদন, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় নির্মাণবিধি, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশে বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে আরও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে।   জরুরি আবাসন হিসেবে এসব ঘর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও জমির অনুমোদন, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা এবং পরিবহন ব্যবস্থার মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হবে। সীমিতসংখ্যক ঘর তৈরির পর্যায় থেকে বড় পরিসরে উৎপাদনে যাওয়া এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে কার্যকারিতা প্রমাণ করাই বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।   তারপরও বহনযোগ্য এই ছোট ঘর যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি ও অস্থায়ী আবাসনের ক্ষেত্রে নতুন একটি ধারণা সামনে এনেছে। একটি জায়গায় স্থায়ীভাবে বাড়ি নির্মাণের পরিবর্তে কারখানায় প্রস্তুত ঘর তৈরি করে ট্রাকে প্রয়োজনীয় এলাকায় পাঠানো গেলে দুর্যোগের পর দ্রুত আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই ঘর পরে অন্য এলাকায় নিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা গেলে এর ব্যবহারের পরিধিও বাড়তে পারে।   ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রাথমিক বিনিয়োগ, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতায় পুরস্কার এবং জাতীয় আবাসন উদ্ভাবন প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আপলিফটের উদ্যোগটি নতুন আবাসন প্রযুক্তির আলোচনায় এসেছে। তবে এসব ঘর কতটা কম খরচে বড় পরিসরে তৈরি করা যাবে, কত দ্রুত প্রয়োজনীয় এলাকায় পৌঁছানো যাবে এবং দীর্ঘ সময় বাস্তবে কতটা কার্যকর থাকবে, সেটিই হবে উদ্যোগটির পরবর্তী বড় পরীক্ষা।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১২:৪
বাংলাদেশের এক জেলের পেট থেকে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দীর্ঘ একটি জীবন্ত কুঁচে মাছ উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত
মাছ ধরতে গিয়ে ভয়াবহ বিপদ, শরীরে ঢুকে পেটের ভেতর অন্ত্র ফুটো করল জীবন্ত মাছ

বাংলাদেশের ৫৫ বছর বয়সী এক জেলের শরীরে জীবন্ত কুঁচে মাছ ঢুকে অন্ত্র ফুটো হয়ে যাওয়ার বিরল ঘটনা সামনে এসেছে। মাছ ধরার সময় পায়ুপথ দিয়ে মাছটি তাঁর শরীরে প্রবেশ করে এবং পরে বৃহদান্ত্রে ছিদ্র তৈরি করে। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি অস্ত্রোপচার করে চিকিৎসকেরা প্রায় ৬৫ সেন্টিমিটার দীর্ঘ জীবন্ত মাছটি বের করেন। ঘটনাটি নিয়ে চিকিৎসকদের লেখা গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক শল্যচিকিৎসাবিষয়ক একটি চিকিৎসা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।   গবেষণাপত্র অনুযায়ী, মাছ ধরার সময় ওই জেলের শরীরে জীবন্ত কুঁচে মাছটি প্রবেশ করে। পায়ুপথ দিয়ে মাছটি শরীরের ভেতরে চলে গেলেও শুরুতে তিনি বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। মাছটি নিজে থেকেই শরীর থেকে বের হয়ে আসবে বলে তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু কিছু সময় পর তাঁর পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়তে থাকে এবং শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।   হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তাঁকে পরীক্ষা করে পেটের ভেতরে গুরুতর প্রদাহের লক্ষণ দেখতে পান। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর অন্ত্রে ছিদ্র হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা বুঝতে পারেন, শরীরের ভেতরে প্রবেশ করা অস্বাভাবিক কোনো বস্তু অন্ত্রের দেয়ালে আঘাত করেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তাঁরা দ্রুত জরুরি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। কারণ অন্ত্রে ছিদ্র হলে পেটের ভেতরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং দ্রুত চিকিৎসা না পেলে পরিস্থিতি জীবনহানির কারণও হতে পারে।   অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা অত্যন্ত অস্বাভাবিক একটি দৃশ্য দেখতে পান। রোগীর বৃহদান্ত্রের একটি অংশে প্রায় পাঁচ সেন্টিমিটার আকারের ছিদ্র তৈরি হয়েছিল। সেই ছিদ্রের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় জীবন্ত কুঁচে মাছটি। চিকিৎসকেরা মাছটি শরীর থেকে বের করে আনেন। গবেষণাপত্রে মাছটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৫ সেন্টিমিটার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মাছটি শরীরে প্রবেশ করে অন্ত্র পর্যন্ত পৌঁছে সেখানে ছিদ্র তৈরি করায় ঘটনাটি চিকিৎসকদের কাছেও বিরল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।   অন্ত্রে ছিদ্র তৈরি হওয়ায় রোগীর পেটের ভেতরে গুরুতর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। এ কারণে শুধু মাছটি বের করাই যথেষ্ট ছিল না। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অন্ত্রেরও চিকিৎসা করেন। একই সঙ্গে রোগীর মলত্যাগের পথ সাময়িকভাবে শরীরের বাইরের দিকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এর মাধ্যমে অন্ত্রের ক্ষতিগ্রস্ত অংশকে সুস্থ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় এবং আরও জটিলতা তৈরির ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়।   চিকিৎসকদের মতে, জীবন্ত মাছ শরীরে প্রবেশ করে মানুষের অন্ত্র ফুটো করে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নথিতে এ ধরনের ঘটনা খুব কমই পাওয়া যায়। গবেষণাপত্রের লেখকেরা জানিয়েছেন, এর আগে বিদেশে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। ফলে বাংলাদেশের এই জেলের ঘটনাটিও চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি বিরল ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে।   ঘটনাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল রোগীর কাছ থেকে শুরুতেই মাছ প্রবেশের তথ্য না পাওয়া। তিনি প্রথম দিকে চিকিৎসকদের কাছে বিষয়টি জানাতে পারেননি বা জানাননি। ফলে তাঁর তীব্র পেটব্যথার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা সহজ ছিল না। পরে অস্ত্রোপচারের সময় শরীরের ভেতরে জীবন্ত মাছটির অবস্থান স্পষ্ট হয়। এ ধরনের অস্বাভাবিক ঘটনার ক্ষেত্রে রোগীর কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া রোগ নির্ণয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে চিকিৎসকেরা উল্লেখ করেছেন।   চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো অস্বাভাবিক দুর্ঘটনার পর তীব্র পেটব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া, জ্বর, বমি কিংবা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানানোও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা গোপন করা হলে বা প্রয়োজনীয় তথ্য না জানানো হলে রোগের প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে বেশি সময় লাগতে পারে এবং চিকিৎসাও বিলম্বিত হতে পারে।   গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ওই জেলের ক্ষেত্রে দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় গুরুতর জটিলতা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জীবন্ত মাছটি বের করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অন্ত্রের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং পরবর্তী সময়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন।   চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ঘটনাটি শুধু একটি অস্বাভাবিক দুর্ঘটনা নয়, জরুরি চিকিৎসায় রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস জানার গুরুত্বও তুলে ধরেছে। সাধারণ পেটব্যথার মতো উপসর্গের পেছনেও কখনো এমন বিরল কারণ থাকতে পারে, যা প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের ধারণার বাইরে থাকতে পারে। বাংলাদেশের ওই জেলের ক্ষেত্রে মাছ ধরার সময় শরীরে প্রবেশ করা জীবন্ত কুঁচে মাছ শেষ পর্যন্ত অন্ত্রে ছিদ্র তৈরি করেছিল। দ্রুত অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত গুরুতর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১১:৫৮
ইংল্যান্ডে দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকা আবাসিক বাড়ি দ্রুত বসবাসের উপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। ছবি: সংগৃহীত
ইংল্যান্ডে ছয় মাস বাড়ি খালি থাকলে দখল নিতে পারবে কাউন্সিল

ইংল্যান্ডে দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকা আবাসিক বাড়ি দ্রুত বসবাসের উপযোগী করতে স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা ব্যবহারের শর্ত সহজ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। প্রস্তাবিত সংস্কারে কোনো বাড়ি দুই বছরের পরিবর্তে ছয় মাস খালি থাকলেই সেটির ব্যবস্থাপনা নেওয়ার আদেশের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে এতে বাড়ির মালিকানা বদলাবে না।   হাউজিং, কমিউনিটিজ অ্যান্ড লোকাল গভর্নমেন্ট মন্ত্রণালয় ২৭ সেপ্টেম্বর এই সংস্কারের ঘোষণা দেয়। সরকারের ভাষ্য, বিদ্যমান আবাসন আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার এবং খালি বাড়ি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থেকে মারাত্মকভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়া ঠেকানোই এর লক্ষ্য।    এম্পটি ডুয়েলিং ম্যানেজমেন্ট অর্ডার বা ইডিএমওর মাধ্যমে কাউন্সিল দীর্ঘদিন খালি থাকা বাড়ির ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেটি আবার বসবাসের আওতায় আনতে পারে। এই ব্যবস্থাপনার মেয়াদ সর্বোচ্চ সাত বছর হতে পারে। পুরো সময় সম্পত্তির মালিকানা মূল মালিকের কাছেই থাকে।   পরিকল্পনায় আবেদন প্রক্রিয়াও সহজ করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে কাউন্সিলের হস্তক্ষেপের পক্ষে অসামাজিক আচরণ বা স্থানীয় কমিউনিটির সমর্থনসংক্রান্ত যেসব প্রমাণ দিতে হয়, তার কিছু শর্ত বাদ দিতে চায় সরকার। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে ইডিএমওর আবেদন করা সহজ হবে।   তবে ছয় মাস খালি থাকলেই কোনো বাড়ি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাউন্সিলের ব্যবস্থাপনায় চলে যাবে না। ঘোষণাটি ইডিএমওর জন্য যোগ্য হওয়ার সময়সীমা কমানো এবং আবেদন সহজ করার পরিকল্পনা। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে নতুন নিয়ম কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।    আইটিভি নিউজের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইংল্যান্ডে তিন লাখ তিন হাজার ১৮৫টি বাড়ি ছয় মাসের বেশি সময় খালি ছিল। হাউজিং সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেনার বলেছেন, বহু শিশু ও পরিবারের নিরাপদ বাসস্থানের প্রয়োজন থাকা অবস্থায় তিন লাখ দীর্ঘমেয়াদি খালি বাড়ি অব্যবহৃত রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।    খালি বাড়ি নিয়ে কাজ করা সংগঠন এম্পটি হোমস নেটওয়ার্ক পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তাদের মতে, শুধু সময়সীমা কমালেই কাউন্সিলগুলো এই ক্ষমতা বেশি ব্যবহার করতে পারবে না। বাড়ি মেরামত, আইনি প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনার জন্য দক্ষ কর্মী এবং পর্যাপ্ত অর্থের প্রয়োজন।   সংগঠনটি আরও বলেছে, দীর্ঘদিন খালি থাকা প্রতিটি বাড়ি ইডিএমওর উপযুক্ত নয়। কোনো বাড়িতে বড় বিনিয়োগ লাগতে পারে, আবার কোনো সম্পত্তির মালিকানা বা আইনি জটিলতা থাকতে পারে। তাই সংস্কারের বাস্তব ফল নির্ভর করবে কাউন্সিলগুলোর সক্ষমতা ও পরবর্তী বিস্তারিত নিয়মের ওপর।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১১:৩৭
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বড় আকারের হামলা অব্যাহত রাখার হুমকি দিয়ে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে রাশিয়া। ছবি: সংগৃহীত
কিয়েভে বড় হামলার হুমকি পুতিনের, কূটনীতিকদের শহর ছাড়তে বলল রাশিয়া

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বড় আকারের হামলা অব্যাহত রাখার হুমকি দিয়ে বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের শহর ছাড়তে বলেছে রাশিয়া। শনিবার, ৩ অক্টোবর রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন করে এই সতর্কবার্তা দেয়। কিয়েভের সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা বাড়ানোর মধ্যেই মস্কোর এই ঘোষণা এসেছে।   আরব নিউজে প্রকাশিত এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এর আগেও বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের কিয়েভ ছেড়ে যেতে এবং ইউক্রেন ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সবাই সেই সতর্কবার্তা অনুসরণ করেননি বলে দাবি করেছে মস্কো।    বিবৃতিতে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী বড় আকারের হামলা চালিয়ে যাবে বলে জানানো হয়। মস্কো এসব হামলাকে ‘প্রতিশোধমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সতর্কবার্তা উপেক্ষা করলে বিদেশি নাগরিকেরা প্রাণঘাতী বিপদের মুখে পড়তে পারেন বলেও দাবি করেছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   শনিবারই কিয়েভের দনিপ্রো নদীর ওপর নর্দার্ন ব্রিজ রুশ বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ভিতালি ক্লিচকো। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া।    এর আগের দুই দিনের হামলায় দনিপ্রো নদীর ওপর কিয়েভের ছয়টি সড়কসেতুর মধ্যে তিনটি পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ করতে হয় বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। রাজধানীর দুই অংশের মধ্যে চলাচলের জন্য এসব সেতু গুরুত্বপূর্ণ।    শুক্রবার মেয়র ক্লিচকো বলেন, সেতু ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে শহরকে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি নিয়ে চলতে হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, বেসামরিক এলাকায় ব্যাপক হামলার অনুমোদন দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধের নিয়ম লঙ্ঘন করছেন। ক্রেমলিন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১১:২১
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাটি অনুসন্ধানের মাধ্যমে আবার সামনে আনা দ্য কর্নেল ডেইলি সানের প্রধান সম্পাদক সোফিয়া দাস। ছবি: সংগৃহীত
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্যাং রেইপের অভিযোগ সামনে আনতে ভূমিকা রাখলেন মুসলিম শিক্ষার্থী সোফিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালিয়ে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এনেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন শিক্ষার্থী পত্রিকা দ্য কর্নেল ডেইলি সানের সাংবাদিক সেরিস কুসবা ও প্রধান সম্পাদক সোফিয়া দাসের। গত সেপ্টেম্বরে অভিযোগকারী সাবেক শিক্ষার্থী দেওয়ানি মামলা করার পর পত্রিকাটির প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।    মামলায় নিজের পরিচয় গোপন রাখতে ‘জেন ডো’ নাম ব্যবহার করেছেন ওই নারী। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের অক্টোবরে কর্নেলের চি ফাই ফ্র্যাটারনিটি হাউসে তাঁকে মাদক গ্রহণে বাধ্য করা হয় এবং যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়, ফ্র্যাটারনিটির সংশ্লিষ্ট সংগঠন এবং সাতজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি পক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন তিনি।   কর্নেল ডেইলি সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। সে সময় চি ফাইয়ের কর্নেল শাখাকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।    ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তির পরও অনুসন্ধান চালিয়ে যান কুসবা। সিএনএনকে তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত, অভিযুক্তদের অবস্থান এবং ফৌজদারি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন তিনি। অভিযোগকারী নারী ও তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা নিয়েও তথ্য সংগ্রহ করেন।   এই প্রস্তুতির কারণে দেওয়ানি মামলা দায়েরের পর দ্রুত বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারে পত্রিকাটি। ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত কুসবার প্রতিবেদন জাতীয় পর্যায়ে ঘটনাটির প্রতি মনোযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।    পত্রিকার প্রধান সম্পাদক সোফিয়া দাসেরও বিশ্ববিদ্যালয়ের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে সরব হন। তাঁর নেতৃত্বাধীন সম্পাদকীয় পর্ষদ কর্নেলের ভূমিকার সমালোচনা করে সম্পাদকীয় প্রকাশ করে। পরে কর্নেল কমিউনিটির সদস্যদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে জানানোর আহ্বানও জানান তিনি।   সোফিয়া কর্নেলে কম্পিউটার সায়েন্স ও দর্শন নিয়ে পড়ছেন। নিজের একটি কলামে তিনি মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এই ঘটনায় তাঁর ভূমিকা ছিল সম্পাদক হিসেবে সংবাদ প্রকাশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জবাব চাওয়ার প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেওয়া।    কর্নেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা কয়েক মাস ধরে টাইটেল নাইন তদন্ত চালিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সাসপেনশন ও বহিষ্কারসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ব্যক্তিগত শাস্তির বিস্তারিত প্রকাশ না করার কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা-সংক্রান্ত ফেডারেল আইনের কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। শুধু প্রবন্ধ লিখিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে, এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে তারা।    এদিকে ফৌজদারি তদন্ত পুনরায় চালুর পর নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য। ১ অক্টোবর গভর্নর ক্যাথি হোকুল অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের দপ্তরকে বিশেষ প্রসিকিউটর হিসেবে তদন্তের দায়িত্ব দেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরও নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।    অভিযুক্তদের কয়েকজন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দেওয়ানি মামলার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত এবং ফৌজদারি আদালতে অপরাধ প্রমাণ পৃথক বিষয়। সাতজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি; মামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১১:৫
সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার ফার্স্ট ভাইস মিনিস্টার পার্ক ইউন-জুর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশের উদ্যোগ

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ২ অক্টোবর সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি। বাংলাদেশ চুক্তিটি দ্রুত সম্পন্ন ও স্বাক্ষরের আশা প্রকাশ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এই চুক্তি নিয়ে পঞ্চম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দুই দেশ চুক্তির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা আরও এগিয়ে নিয়েছে। সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক ইউন-জু এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী লি ডু-হির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন হুমায়ুন কবির। বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে আরও বেশি বিনিয়োগ চেয়েছে। বিশেষ করে অর্ধপরিবাহী প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য, জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল, উচ্চমানের তৈরি পোশাক এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে কোরীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পণ্য সরবরাহব্যবস্থা, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সেবা খাতেও সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশি পণ্যের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় তুলে ধরা হয়। কর্মসংস্থানও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মসংস্থান অনুমতি ব্যবস্থার মাধ্যমে আরও বেশি দক্ষ ও আধাদক্ষ বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের প্রস্তাব ছিল বিস্তৃত। দুই পক্ষ সামরিক প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে। বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সদস্যদের বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণও জানিয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ জানিয়েছে যে দেশে একটি প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুযোগ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং শিল্প সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়াও বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটি প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ পারস্পরিকভাবে সম্মত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতার সুযোগ খুঁজে দেখার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। এদিকে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সার্বিকভাবে, সাম্প্রতিক আলোচনায় বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে বিনিয়োগ নেওয়া নয়; বরং বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিল্প, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ—একাধিক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা বাড়ানো। তবে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি এখনো চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়নি। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১০:৪৮
ক্যানসার আক্রান্ত চার সন্তানের বাবা কাইলার হেস ও তাঁর পরিবার এবং ইনসেটে নিঃস্বার্থ লিভার দাতা অ্যাবি কনলি। ছবি: সংগৃহীত
চার সন্তানের ক্যানসার আক্রান্ত বাবাকে নিজের লিভার দান করলেন এক অপরিচিত নারী, হতবাক পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়ায় চতুর্থ পর্যায়ের কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্ত চার সন্তানের বাবা কাইলার হেসের জন্য নিজের লিভারের অংশ দান করেছেন অ্যাবি কনলি নামের এক নারী। তাঁদের আগে ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাইলারের অসুস্থতার কথা জেনে ডোনার হওয়ার পরীক্ষা করান অ্যাবি। প্রতিস্থাপনের পর দুজনই সেরে উঠছেন বলে ৩০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে পিপল।    আইওয়ার পোল্ক সিটির বাসিন্দা কাইলারের ক্যানসার লিভারে ছড়িয়ে পড়েছিল। সিটি স্ক্যানে সেখানে ১৫টির বেশি টিউমার ধরা পড়ে। পরে মিনেসোটার রচেস্টারে চিকিৎসা নিতে যান তিনি। কয়েক মাসের চিকিৎসায় টিউমারগুলো ছোট হতে শুরু করলে লিভার প্রতিস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়।   অ্যাবির সন্তান ও কাইলারের সন্তানরা একই স্কুলে পড়ে। অনলাইনে এই পরিবারের পরিস্থিতি অনুসরণ করছিলেন অ্যাবি। সাহায্য করার ইচ্ছা থেকে তিনি মায়ো ক্লিনিকে পরীক্ষা করান এবং ডোনার হিসেবে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হন।   অ্যাবির নিজের পরিবারেও প্রতিস্থাপনের অপেক্ষার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর বাবা লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন এবং ২০২১ সালে মারা যান। বাবার সেই অভিজ্ঞতা কাইলারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে।    ডোনার পাওয়া গেছে জানলেও শুরুতে তাঁর পরিচয় জানতেন না কাইলার ও তাঁর স্ত্রী এমিলি। এমিলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অজ্ঞাত দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পরে অ্যাবি চিঠি দিয়ে নিজের পরিচয় প্রকাশ করেন। অস্ত্রোপচারের আগেই দুই পরিবারের মধ্যে যোগাযোগ হয়।   পিপলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিস্থাপনের পর কাইলার ও অ্যাবি দুজনই সুস্থ হওয়ার পথে রয়েছেন। চিকিৎসার সময় থাকার খরচ মেটাতে হেস পরিবার তহবিল সংগ্রহও শুরু করেছে।    মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, লিভার পুনরায় বেড়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে বলে সুস্থ জীবিত ব্যক্তি এর একটি অংশ দান করতে পারেন। তবে ডোনার ও গ্রহীতার উপযুক্ততা নির্ধারণে বিস্তারিত পরীক্ষা প্রয়োজন।    কোলোরেক্টাল ক্যানসার লিভারে ছড়িয়ে পড়া কিছু নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপন বিবেচনা করা হয়। মায়ো ক্লিনিক জানিয়েছে, ক্যানসার শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়েছে কি না এবং প্রচলিত অস্ত্রোপচারে তা সরানো সম্ভব কি না, এসব বিষয় সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ। তাই কাইলারের প্রতিস্থাপনকে সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত হওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১০:৪০